ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ
ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।

এই লেখায় যা আছে
ওয়েবসাইটের মেনুতে রাখুন চার থেকে ছয়টা লিংক, সেই নামে যে নামে কাস্টমার জিনিসটা খোঁজেন, যেমন "ছেলেদের পাঞ্জাবি", "টি-শার্ট", "শীতের পোশাক"। হেডারে থাকবে লোগো, সার্চ আর ফোনে এক চাপে কথা বলার জন্য কল বা WhatsApp বাটন। ফুটার হলো দোকানের ভরসার কোণা। সেখানে ফোন নম্বর, ঠিকানা, ট্রেড লাইসেন্স বা DBID-এর মতো একটা নম্বর, কীভাবে টাকা দেওয়া যায়, আর চারটা পেজের লিংক রাখুন, আমাদের সম্পর্কে, যোগাযোগ, ডেলিভারি নীতি আর রিটার্ন নীতি। এই চার পেজের প্রতিটায় কী লিখবেন, সেটাও নিচে আছে।
ব্যাপারটা ছোট মনে হয়, কিন্তু টাকার সাথে সরাসরি জড়িত। ধরুন বিকেলে একজন কাস্টমার অ্যাড দেখে আপনার দোকানে এলেন। তিনি শীতের হুডি খুঁজছেন। মেনু খুলে দেখলেন চৌদ্দটা লিংক, তার অর্ধেক প্রোডাক্টের নাম, আর "Winter" কোথাও নেই। দুবার স্ক্রল করে তিনি ফেসবুকে ফিরে গেলেন। অ্যাডের টাকা খরচ হলো, অর্ডার এল না। আপনি জানতেও পারলেন না কেন।
হেডার, মেনু আর ফুটার, কোনটার কাজ কী
দোকানের প্রতিটা পেজে তিনটা জিনিস একই থাকে। ওপরে হেডার, তার ভেতরে বা নিচে মেনু, আর একদম নিচে ফুটার। মাঝখানের অংশ পেজ ভেদে বদলায়, কিন্তু এই তিনটা কাস্টমারের সাথে পুরো সময় থাকে। তাই এখানে একটা ভুল মানে প্রতিটা পেজে সেই ভুল।
হেডারের কাজ হলো কাস্টমারকে বলা তিনি কোথায় এসেছেন, আর তাঁকে দুটো রাস্তা দেখানো। খোঁজার রাস্তা, মানে সার্চ আর মেনু। আর কথা বলার রাস্তা, মানে কল বা WhatsApp। মেনুর কাজ কাস্টমারকে দুই চাপে প্রোডাক্ট পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া। আর ফুটারের কাজ সন্দেহ দূর করা। প্রথমবার যিনি আপনার দোকানে টাকা দিতে যাচ্ছেন, তিনি নিচে নেমে দেখেন দোকানের ঠিকানা আছে কি না, ফোন নম্বর আসল মনে হয় কি না, ফেরত দেওয়ার নিয়ম লেখা আছে কি না।
একটা জিনিস খেয়াল করুন। বাংলাদেশে বেশিরভাগ কাস্টমার দোকানে আসেন ফেসবুক থেকে, ফোনে। ফোনে মেনু থাকে তিন দাগের একটা বাটনের ভেতরে, আর ফুটার থাকে লম্বা স্ক্রলের একদম শেষে। ল্যাপটপে বসে মেনু সাজিয়ে সন্তুষ্ট হলে আপনার বেশিরভাগ কাস্টমার যা দেখছেন, সেটা আপনি দেখছেন না। তাই এই লেখার প্রতিটা কাজ ফোন হাতে নিয়ে করবেন।

ওয়েবসাইটের মেনুতে কী রাখবেন, কয়টা লিংক
মেনুতে রাখুন ক্যাটাগরি, প্রোডাক্ট না। পঞ্চাশটা প্রোডাক্টের দোকানে পঞ্চাশটা লিংক কেউ পড়েন না। কাস্টমার মাথায় একটা ভাগ নিয়ে আসেন, "ছেলেদের শার্ট দেখি" বা "বাচ্চার জন্য কিছু"। মেনু সেই ভাগগুলোই দেখাবে, আর ক্যাটাগরির পেজে গিয়ে তিনি প্রোডাক্ট বাছবেন।
সংখ্যাটা চার থেকে ছয়ের মধ্যে রাখুন। এর বেশি হলে ফোনে মেনু খুললে স্ক্রল করতে হয়, আর নিচের লিংকগুলো প্রায় কেউ দেখেন না। দশটা ভাগ সত্যিই থাকলে কাছাকাছি ভাগগুলো জুড়ে দিন। "শার্ট", "টি-শার্ট" আর "পোলো" আলাদা না রেখে একটা "শার্ট ও টি-শার্ট" করুন।
নাম দিন কাস্টমারের মুখের ভাষায়। "Men's Apparel" না লিখে "ছেলেদের পোশাক"। "Seasonal" না লিখে "শীতের পোশাক"। কমেন্টে কাস্টমার যে শব্দে জিজ্ঞেস করেন, সেটাই সবচেয়ে ভালো নাম। একটা ছোট পরীক্ষা করুন। দোকানের ফোনে বাড়ির কাউকে দিয়ে বলুন, "একটা কালো হুডি খুঁজে বের করো।" তিনি কোথায় চাপ দেন, কোথায় থেমে যান, চুপচাপ দেখুন। আমি এটাকেই মাপকাঠি ধরি, প্রোডাক্টে পৌঁছাতে দুই চাপের বেশি লাগলে মেনু ঠিক নেই।
ক্রমটাও ভাবুন। যে ভাগ সবচেয়ে বেশি বিকোয়, সেটা প্রথমে। অফারের একটা আলাদা লিংক রাখতে পারেন, তবে অফার শেষ হলে সেটা সরাতে ভুলবেন না। শেষ হয়ে যাওয়া অফারের লিংকে চাপ দিয়ে খালি পেজ পেলে কাস্টমারের মনে হয় দোকানটা কেউ দেখাশোনা করে না।
WinningSeller-এ মেনু বানাতে লিংক টাইপ করতে হয় না। ডিজাইন থেকে "হেডার, মেনু ও ফুটার" পেজে গিয়ে "মেনুতে যোগ করুন" চাপলে নিজের পেজ, ক্যাটাগরি আর প্রোডাক্টের লিস্ট আসে, সেখান থেকে বেছে নিলেই হয়। "‘সব প্রোডাক্ট’ আর ক্যাটাগরিগুলো এমনিতেই দেখাও" টিক দেওয়া থাকলে সব ক্যাটাগরি মেনুতে নিজে থেকেই থাকে। ফেসবুক পেজের মতো বাইরের কোনো ঠিকানা দিতে চাইলে আলাদা একটা অপশন আছে, "নিজের লিংক (অ্যাডভান্সড)"।
হেডারে কল আর WhatsApp বাটন
COD-তে কেনা কাস্টমার অনেক সময় অর্ডারের আগে একবার মানুষের গলা শুনতে চান। "ভাই, এটা কি আসল লেদার?" "কাল পাব?" এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পেলে অর্ডার আসে, না পেলে আসে না। তাই হেডারে, যেখানে চোখ প্রথমে যায়, কথা বলার একটা রাস্তা রাখুন।
কোনটা রাখবেন, সেটা নির্ভর করে আপনার দিন কেমন যায় তার ওপর। দোকানে কেউ সারাদিন ফোন ধরতে পারলে কল বাটন রাখুন। কাস্টমার এক চাপে আপনার নম্বরে ফোন দেবেন, নম্বর টুকে রাখতে হবে না। একা চালান আর দিনে চাকরি করেন? তাহলে কল বাটন বিপদ। বাজতে থাকা ফোন কেউ না ধরলে কাস্টমার ধরে নেন দোকানটা ভুয়া। সেক্ষেত্রে শুধু WhatsApp রাখুন, যেখানে মেসেজটা অন্তত থেকে যায় আর আপনি পরে উত্তর দিতে পারেন।
হেডার যত ভরা, ফোনে তত গাদাগাদি। লোগো, সার্চ, কার্ট, কল, WhatsApp, আর একটা রঙিন অর্ডার বাটন একসাথে দিলে ছোট পর্দায় সব ছোট ছোট হয়ে যায়, আর বুড়ো আঙুলে ভুল জিনিসে চাপ পড়ে। লোগোর পাশে দুই-তিনটা জিনিস রাখুন, যেগুলো আপনার কাস্টমারের সবচেয়ে বেশি লাগে, বাকিগুলো বাদ দিন। অনেক প্রোডাক্টের দোকানে সার্চ জরুরি। একটা-দুটো প্রোডাক্টের দোকানে সার্চের দরকারই নেই।

হেডারের ওপরে এক লাইনের একটা ঘোষণাও রাখা যায়, যেমন "ঢাকার ভেতরে ৬০ টাকায় ডেলিভারি"। এটা কাজের, তবে একটা নিয়মে। লাইনে একটাই কথা থাকবে, আর কথাটা সত্যি না থাকলে সেদিনই লাইনটা বদলাবেন। ঈদের অফার শেষ হওয়ার দুই সপ্তাহ পরেও ওপরে "ঈদ অফার চলছে" লেখা থাকলে যিনি সেটা দেখে অর্ডার করবেন, তিনি দাম দেখে রেগে যাবেন।
WinningSeller-এর "হেডার, মেনু ও ফুটার" পেজে হেডারের তিন রকম ধরন ছবিতে দেখে বাছা যায়, "লোগো বামে, বড় সার্চ বক্স", "লোগো বামে, পাশে মেনু" আর "লোগো মাঝখানে, নিচে মেনু"। তারপর টিক দিয়ে ঠিক করেন সার্চ, কল বাটন, WhatsApp বাটন আর কার্ট থাকবে কি না। কল বাটনের জন্য সেটিংসে দোকানের ফোন নম্বর আর WhatsApp বাটনের জন্য WhatsApp নম্বর আগে দেওয়া লাগে। ঘোষণার লাইনটার নাম সেখানে "উপরে ঘোষণার লাইন", খালি রাখলে দেখায় না। থিম, রং আর প্রতিটা লেখার সাইজসহ দোকানের আর কী কী নিজে বদলানো যায়, সেটা ফিচারের লিস্টে আছে।
ওয়েবসাইটের ফুটারে কী লিখবেন, ভরসার কোণা
ফুটারে কাস্টমার আসেন একটা প্রশ্ন নিয়ে, "এই দোকানে টাকা দিলে কিছু গড়বড় হলে কাকে ধরব?" ফুটার সেই প্রশ্নের উত্তর দেয়। তাই এখানে সুন্দর কথার চেয়ে আসল তথ্য দামি।
প্রথমে যোগাযোগ। এমন একটা ফোন নম্বর দিন যেটা দোকানের সময়ে ধরা হয়, আর WhatsApp নম্বর। তারপর ঠিকানা। পুরো বাসার নম্বর দিতে না চাইলে অন্তত এলাকা আর শহর দিন, যেমন "মিরপুর ১০, ঢাকা"। শুধু একটা ফোন নম্বর আর কোনো ঠিকানা নেই, এমন দোকান দেখলে সাবধানী কাস্টমার পিছিয়ে যান।
তারপর একটা পরিচয়ের নম্বর। ট্রেড লাইসেন্স, VAT রেজিস্ট্রেশন, TIN, UBID (এখন DBID নামে চলে) বা পার্সোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্টের (PRA) নম্বর, এর যেকোনো একটা। ডিজিটাল কমার্স নির্দেশিকার লেখায় যেমন বলা আছে, নির্দেশিকার ৩.১.১২ অনুচ্ছেদ এর অন্তত একটার নম্বর দেখাতে বলে। ফুটারের একদম নিচের লাইনটা এর জন্য ভালো জায়গা, যেমন "ট্রেড লাইসেন্স নং ...", আপনার আসল নম্বর বসিয়ে।
এরপর পেমেন্টের ধরন। ক্যাশ অন ডেলিভারি, bKash, কার্ড, যেটা যেটা সত্যি নেন শুধু সেগুলো। যে পেমেন্ট নেন না তার লোগো বসালে চেকআউটে গিয়ে কাস্টমার সেটা খুঁজবেন, না পেয়ে বিরক্ত হবেন। আর দোকান সম্পর্কে দুই লাইন লিখুন, সাধারণ কথা না, আসল কথা। "সুন্দর ও মানসম্মত পোশাক" কিছুই বলে না। "২০২২ থেকে মিরপুরের নিজের কারখানার সুতি পাঞ্জাবি, সারা দেশে ডেলিভারি" অনেক কিছু বলে, যদি সেটা সত্যি হয়।
শেষে নিয়মের পেজগুলোর লিংক, একটা কলামে। কলামের নাম দিন "নিয়মকানুন" বা "কেনার নিয়ম", ভেতরে ডেলিভারি নীতি, রিটার্ন নীতি, আর পারলে প্রাইভেসি নোট। পাশে আরেকটা কলাম "দোকান", তাতে আমাদের সম্পর্কে আর যোগাযোগ। অনলাইন পেমেন্টের গেটওয়ে নিতে চাইলে ফুটারে কিছু পেজ আর তথ্য না থাকলে আবেদনই আটকে যায়। কোন কোনটা, সেটা পেমেন্ট গেটওয়ের তুলনার লেখায় গেটওয়ের নিজের লিস্ট ধরে বলা আছে।

WinningSeller-এ ফুটারের প্রতিটা অংশ টিক দিয়ে চালু হয়। "যোগাযোগ" সেটিংসে দেওয়া ফোন, WhatsApp, ইমেইল, ঠিকানা আর খোলার সময় নিয়ে আসে। এর সাথে আছে "সোশ্যাল লিংক", "পেমেন্ট ব্যাজ", "দোকান সম্পর্কে দুই লাইন", "লিংকের কলাম" আর "একদম নিচের লাইন", যেটা খালি রাখলে শুধু © আর দোকানের নাম থাকে। ডানে মোবাইল প্রিভিউতে সাথে সাথে দেখা যায় কেমন দাঁড়াল, আর পছন্দ না হলে "আগের মতো করুন"। একটা কথা পরিষ্কার জেনে রাখুন। রিটার্ন বা ডেলিভারি নীতির লেখাটা আপনাকেই লিখতে হবে, প্ল্যাটফর্ম আপনার হয়ে নীতি বানিয়ে দেয় না, কারণ নিয়মটা আপনার ব্যবসার।
About, যোগাযোগ, ডেলিভারি আর রিটার্নের পেজ, প্রতিটায় কী
চারটা পেজ, প্রতিটা ছোট। এক বসায় চারটাই লেখা যায়। প্রতিটায় ঠিক কোন কথাগুলো থাকলে কাস্টমারের প্রশ্ন ফুরিয়ে যায়, সেটা একটা একটা করে বলছি।
আমাদের সম্পর্কে (About)। কে চালান, কবে থেকে, কী বিক্রি করেন, মাল কোথা থেকে আসে আর কোথা থেকে পাঠানো হয়। নিজের নাম আর একটা আসল ছবি দিলে ভরসা অনেক বাড়ে। একটা প্যারাগ্রাফ রাখুন দোকানের নিয়মের কথায়, যেমন "পাঠানোর আগে প্রতিটা পিস খুলে দেখি, দাগ বা ছেঁড়া থাকলে পাঠাই না"। এরকম একটা লাইন দশটা বিশেষণের চেয়ে বেশি কাজ করে।
যোগাযোগ। ফোন, WhatsApp, ইমেইল, ঠিকানা, আর কোন সময়ে উত্তর পাবেন। "সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা, শুক্রবার বন্ধ" লিখে দিলে কাস্টমার জানেন শুক্রবারের মেসেজের উত্তর শনিবার আসবে, আর রাগ করেন না। ফেসবুক পেজের লিংকও দিন।
ডেলিভারি নীতি। কোন এলাকায় কত চার্জ, কত দিনে পৌঁছায়, কোন কোন কুরিয়ারে পাঠান, আর অগ্রিম নেন কি না, নিলে কখন। চার্জের অঙ্কগুলো আপনার চেকআউটে যা দেখায় তার সাথে হুবহু মিলিয়ে লিখুন। পেজে এক দাম আর চেকআউটে আরেক দাম দেখলে কাস্টমার ভাবেন কোথাও লুকানো খরচ আছে।
রিটার্ন নীতি। কোন অবস্থায় ফেরত বা বদল নেন, কত দিনের মধ্যে জানাতে হবে, ফেরতের ডেলিভারি চার্জ কে দেবেন, আর টাকা ফেরত হলে কত দিনে কীভাবে। এখানে সবচেয়ে বড় ভুল হলো অন্য ওয়েবসাইট থেকে কপি করা। অন্যের নীতিতে এমন শর্ত থাকে যেটা আপনি মানেন না, যেমন "৩০ দিনের মধ্যে যেকোনো কারণে ফেরত"। ঝগড়ার দিন কাস্টমার ঠিক সেই লাইনটাই স্ক্রিনশট দিয়ে পাঠাবেন। আপনি আসলে যা করেন, শুধু সেটা নিজের ভাষায় লিখুন।

WinningSeller-এ এই চারটা পেজ বানান "পেইজ ও ল্যান্ডিং" মেনু থেকে, লেখা বসিয়ে পাবলিশ করুন। তারপর ফুটারের কলামে "লিংক যোগ করুন" চাপলে মেনুর মতোই নিজের পেজের লিস্ট আসে, সেখান থেকে বেছে নিন।
একটা কথা মনে রাখবেন, ডিজিটাল কমার্স নির্দেশিকা কেনাবেচার শর্ত বাংলায় লিখে রাখতে বলে, আর ফেসবুক পেজের কথাও সেখানে নাম ধরে বলা আছে। তাই ইংরেজিতে "Terms" লিখে দায় সারবেন না, বাংলায় লিখুন। কোন অনুচ্ছেদে কী আছে, সেটা ওপরের নির্দেশিকার লেখায় পাবেন। আইনি খুঁটিনাটি নিয়ে দ্বিধা থাকলে একজন আইনজীবীকে দেখিয়ে নিন, এই লেখা সেই জায়গা নেয় না।
মেনু গোলমালে কত ভিজিটর হারান (উদাহরণ)
একটা হিসাব করে দেখি, যাতে বোঝা যায় এক ঘণ্টার এই কাজের দাম কত। সংখ্যাগুলো বোঝানোর জন্য বানানো, কারও দোকানের খাতা থেকে নেওয়া না, তাই নিজের অ্যাডের খরচ বসিয়ে একবার কষে দেখুন।
উদাহরণ। ধরুন আপনার দোকানে মাসে ৩,০০০ জন আসেন ফেসবুকের অ্যাড থেকে, হোম পেজে। প্রতিটা ক্লিকে খরচ ৫ টাকা, মানে মাসে ৩,০০০ × ৫ = ১৫,০০০ টাকা। মেনুতে চৌদ্দটা লিংক, নামগুলো ইংরেজিতে। এই অবস্থায় ধরুন একশ জনে পনেরো জন কোনো প্রোডাক্ট না দেখেই ফিরে যান। তাহলে ৪৫০ জন, মানে ৪৫০ × ৫ = ২,২৫০ টাকার ক্লিক দরজা থেকেই ফেরত।
মেনু ছয়টা বাংলা নামের ক্যাটাগরিতে নামিয়ে আনার পর ধরুন ফেরেন একশ জনে দশ জন, মানে ৩০০ জন। বাড়তি ১৫০ জন এখন প্রোডাক্ট পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছেন। প্রোডাক্ট দেখা একশ জনে দুইজন অর্ডার করলে ১৫০ জনে ৩টা বাড়তি অর্ডার। একটা অর্ডারে হাতে থাকে ৩০০ টাকা, আর তিনটার একটা ফেরত এলে যায় ১৩০ টাকা। তাহলে ২ × ৩০০ = ৬০০, তার থেকে ১৩০ বাদ দিলে ৪৭০ টাকা বাড়তি লাভ, প্রতি মাসে। বছরে ৪৭০ × ১২ = ৫,৬৪০ টাকা।

অঙ্কটা বড় না, সেটা সৎভাবেই বলছি। কিন্তু খেয়াল করুন, এর জন্য অ্যাডে এক টাকাও বাড়তি লাগেনি। মানুষগুলো আপনার টাকাতেই এসেছিলেন, শুধু দরজার পাশে পথ খুঁজে পাননি। আর আসল লাভটা এই অঙ্কের বাইরে। যাঁরা প্রোডাক্ট পর্যন্ত পৌঁছান, তাঁদের কেউ কেউ পরে আবার আসেন। যিনি প্রথম দিনেই হারিয়ে যান, তিনি আর আসেন না।
কখন এত সাজানোর দরকার নেই
সব দোকানের পুরো মেনু লাগে না। আপনি যদি একটা বা দুটো প্রোডাক্ট বিক্রি করেন, আর প্রায় সব কাস্টমার অ্যাড থেকে সরাসরি একটা ল্যান্ডিং পেজে আসেন, তাহলে মেনু সাজাতে সময় দেবেন না। ল্যান্ডিং পেজে কাস্টমারকে অন্য কোথাও পাঠানোর রাস্তা যত কম, অর্ডার ফর্মে মন তত বেশি। সেখানে লোগো, একটা কথা বলার রাস্তা আর নিচে ঠিকানা ও নিয়মের লিংকই যথেষ্ট।
দোকান এখনো একদম নতুন, চার-পাঁচটা প্রোডাক্ট, কোনো ক্যাটাগরি নেই? তাহলেও মেনু নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। "সব প্রোডাক্ট" একটা লিংকই যথেষ্ট। আগে বিক্রি শুরু করুন, প্রোডাক্ট বাড়লে ভাগ করবেন। শুধু ফুটারের চারটা জিনিস প্রথম দিন থেকেই রাখুন, কারণ ভরসার প্রশ্ন প্রথম কাস্টমারেরও থাকে।
আরেকটা ফাঁদ হলো বারবার বদলানো। প্রতি সপ্তাহে মেনু উল্টেপাল্টে দিলে পুরনো কাস্টমার যেখানে অভ্যস্ত ছিলেন সেখানে গিয়ে জিনিস পান না। একবার ভেবে বানান, তারপর মাসে একবার দেখুন। মেনুর রং আর লোগোর মাপ নিয়েও একই কথা, রং বাছার নিয়ম ওয়েবসাইটের কালার কম্বিনেশনের লেখায় আর হেডারের লোগোর সঠিক মাপ লোগো সাইজের লেখায় আছে।
আজই করে ফেলুন
একটা ফোন, একটা খাতা আর এক ঘণ্টা সময়। এর বেশি কিছু লাগবে না।
- নিজের দোকান ফোনে খুলুন, মোবাইল ডাটায়। মেনু খুলে গুনুন কয়টা লিংক, আর সবচেয়ে বেশি বিকোয় এমন একটা প্রোডাক্টে পৌঁছাতে কয়টা চাপ লাগে।
- মেনুর লিংক ছয়টার বেশি হলে কাছাকাছি ভাগ জুড়ে দিন, আর প্রতিটা নাম কাস্টমারের মুখের বাংলায় লিখুন।
- হেডারে কথা বলার রাস্তা ঠিক করুন। ফোন ধরার মানুষ না থাকলে কল বাটন সরিয়ে WhatsApp রাখুন।
- ফুটারে ফোন, এলাকাসহ ঠিকানা, ট্রেড লাইসেন্স বা DBID-এর নম্বর, আর যে যে পেমেন্ট সত্যি নেন শুধু সেগুলো আছে কি না দেখুন।
- চারটা পেজ লিখুন, আমাদের সম্পর্কে, যোগাযোগ, ডেলিভারি নীতি আর রিটার্ন নীতি। ডেলিভারি চার্জ চেকআউটের সাথে মিলিয়ে।
- ফুটার আর মেনুর প্রতিটা লিংক নিজে একবার চেপে দেখুন, কোনোটা খালি পেজে যায় কি না।
- বাড়ির কাউকে ফোন দিয়ে একটা প্রোডাক্ট খুঁজতে বলুন, আর চুপচাপ দেখুন কোথায় আটকান।
দোকানের মেনু আর ফুটার এমন জিনিস যেটা কেউ প্রশংসা করে না, কিন্তু ভুল থাকলে সবাই টের পায়। একবার ঠিক করে রাখুন, তাহলে অ্যাডের টাকায় আসা মানুষগুলো দরজায় ঘুরে ফেরত না গিয়ে প্রোডাক্ট পর্যন্ত পৌঁছাবেন।
সাধারণ প্রশ্ন
ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখা ভালো?
ছোট দোকানে চার থেকে ছয়টা। কাস্টমার যেভাবে খোঁজেন সেভাবে ক্যাটাগরির নাম দিন, যেমন "ছেলেদের পাঞ্জাবি" বা "শীতের পোশাক"। প্রতিটা প্রোডাক্ট মেনুতে তুলবেন না, তাতে ফোনের মেনু লম্বা হয়ে যায় আর আসল জিনিস খুঁজে পাওয়া যায় না।
ওয়েবসাইটের ফুটারে কী কী থাকা উচিত?
ফোন নম্বর, WhatsApp, দোকানের ঠিকানা, ট্রেড লাইসেন্স বা DBID-এর মতো একটা নম্বর, কোন কোন উপায়ে টাকা দেওয়া যায়, আর আমাদের সম্পর্কে, যোগাযোগ, ডেলিভারি নীতি ও রিটার্ন নীতির পেজের লিংক। ফুটারে কাস্টমার মূলত খোঁজেন দোকানটা আসল কি না, আর ঝামেলা হলে কাকে ধরবেন।
অনলাইন দোকানে About Us পেজ কি সত্যিই লাগে?
লাগে। প্রথমবার কেনার আগে অনেক কাস্টমার দেখতে চান দোকানের পেছনে কে আছেন, কোথা থেকে মাল পাঠানো হয়। ছোট করে আসল কথা লিখলেই হয়, কে চালান, কবে থেকে, কী বিক্রি করেন আর কোথা থেকে ডেলিভারি যায়।
রিটার্ন পলিসি কি অন্য ওয়েবসাইট থেকে কপি করা যায়?
কপি করবেন না। অন্যের নীতিতে এমন শর্ত থাকে যেটা আপনি মানেন না, আর ঝগড়ার সময় কাস্টমার ঠিক সেই লাইনটাই দেখাবেন। আপনি আসলে যা করেন, কত দিনের মধ্যে, কোন অবস্থায় আর ডেলিভারি চার্জ কে দেবেন, সেটুকু নিজের ভাষায় লিখুন।
হেডারে কল বাটন আর WhatsApp বাটন দুটোই দেব?
ফোন ধরার মানুষ থাকলে দুটোই দিন, কারণ অনেক COD কাস্টমার অর্ডারের আগে একবার কথা বলে নিতে চান। কল ধরার কেউ না থাকলে শুধু WhatsApp রাখুন। বাজতে থাকা ফোন কেউ না ধরলে কাস্টমার দোকানটাকেই সন্দেহ করেন।
মেনু বদলালে কি গুগলে পুরনো পেজ হারিয়ে যায়?
মেনু বদলালে পেজের ঠিকানা বদলায় না, তাই পেজগুলো যেমন ছিল তেমনই থাকে। সমস্যা হয় যখন কোনো পেজ মুছে ফেলেন বা ক্যাটাগরির নাম আর ঠিকানা বদলান। তখন পুরনো লিংকে এলে কাস্টমার খালি পেজ দেখেন, তাই বদলের পরে ফুটার আর মেনুর প্রতিটা লিংক একবার চেপে দেখুন।
আরও পড়ুন
গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে
গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।
বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে
ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।
কাউন্টডাউন টাইমার দিলে অর্ডার বাড়ে? সত্যি অফারে টাইমার বসানোর নিয়ম
ল্যান্ডিং পেজে "অফার শেষ হতে বাকি" টাইমার তখনই অর্ডার বাড়ায়, যখন অফারটা সত্যিই শেষ হয়। নির্দিষ্ট সময়ের টাইমার আর প্রতিবার নতুন করে শুরু হওয়া টাইমারের পার্থক্য, আইন আর ফেসবুকের নিয়ম, পেজে কোথায় বসাবেন, শেষ হলে কী করবেন, আর ৪৮ ঘণ্টার একটা অফারের হিসাব।


