হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল না গ্রুপ? পুরনো কাস্টমারকে নতুন মালের খবর দিন
নতুন কালেকশনের খবর পুরনো কাস্টমারকে দিতে চান, কিন্তু চ্যানেল খুলবেন, গ্রুপ, না স্ট্যাটাস? কে কার নম্বর দেখে, কে উত্তর দিতে পারে, চ্যানেল খোলার ধাপ, কী পোস্ট দেবেন, গ্রুপের নিয়ম আর ঝুঁকি, আর এক মাসে কোনটায় কত সময় যায়, হিসাবসহ।

এই লেখায় যা আছে
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল হলো একমুখী নোটিশ বোর্ড। আপনি ছবি, ভিডিও, লিংক আর পোল দেন, ফলোয়াররা দেখেন আর রিঅ্যাক্ট দেন, কিন্তু উত্তর লিখতে পারেন না। ফলোয়াররা একে অপরকে দেখেন না, আপনার নম্বরও না। আপনি শুধু ফলোয়ারের প্রোফাইলের নাম দেখেন, আর যাঁর নম্বর আপনার ফোনে সেভ করা, তাঁর পুরো নম্বর। গ্রুপ হলো আড্ডার ঘর, সবাই সবার মেসেজ দেখেন, আর সাধারণত সদস্যদের নম্বরও। পুরনো কাস্টমারকে নতুন মালের খবর দিতে তাই চ্যানেলই নিরাপদ পথ। প্রতিটা পোস্টে প্রোডাক্টের কোড আর WhatsApp চ্যাটের লিংক দিন, যাতে আগ্রহী কাস্টমার এক চাপে আপনার ইনবক্সে আসেন। গ্রুপ রাখুন শুধু ছোট, বাছাই করা, রাজি হওয়া কাস্টমারদের জন্য।
নতুন কালেকশন দোকানে উঠল, চল্লিশটা নতুন ডিজাইন। পুরনো কাস্টমারদের মধ্যে অনেকে আগেও কিনেছেন, আপনাকে চেনেন, আবার কেনার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি তাঁদেরই। কিন্তু খবরটা দেবেন কোথায়? ফেসবুকের পোস্ট তাঁদের সবার কাছে পৌঁছায় না, আর বুস্টে টাকা লাগে। WhatsApp সবার ফোনে আছে। প্রশ্ন হলো এর কোন জিনিসটা কাজে লাগাবেন, আর কোনটা দোকানের ক্ষতি করবে।
চ্যানেল, গ্রুপ, ব্রডকাস্ট আর স্ট্যাটাস, কোনটা কী
WhatsApp-এ অনেককে একসাথে খবর দেওয়ার চারটা রাস্তা আছে। চারটার কাজ আলাদা, আর ভুলটা হয় একটার কাজ আরেকটা দিয়ে করাতে গিয়ে।
চ্যানেল। ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ WhatsApp Help Center-এর "About WhatsApp Channels" পেজে লেখা আছে, চ্যানেলের আপডেট একমুখী, কথোপকথন না। ফলোয়াররা উত্তর দিতে বা অ্যাডমিনকে মেসেজ দিতে পারেন না, শুধু ইমোজি রিঅ্যাক্ট আর পোলে ভোট। চ্যানেলের পোস্ট থাকে আলাদা Updates ট্যাবে, ব্যক্তিগত চ্যাটের ভিড়ে না। আর একটা জরুরি কথা, নোটিফিকেশন শুরুতে বন্ধ থাকে।
গ্রুপ। সবাই লিখতে পারেন, সবাই সবার লেখা দেখেন। Help Center অনুযায়ী একটা গ্রুপে ১,০২৪ জন পর্যন্ত রাখা যায়। মেম্বার লিস্ট খুললে সাধারণত সদস্যরা একে অপরের নম্বর দেখতে পান, বিশেষ করে যাঁদের নম্বর ফোনে সেভ নেই। WhatsApp ধীরে ধীরে ইউজারনেম চালু করছে, সেটা সবার কাছে এলে এই ছবি কিছুটা বদলাতে পারে, তবে আজকের হিসাবে ধরে নিন নম্বর দেখা যায়।
ব্রডকাস্ট লিস্ট। একই মেসেজ আলাদা আলাদা চ্যাটে যায়, কেউ কাউকে দেখেন না, উত্তর আসে শুধু আপনার কাছে। শর্ত হলো কাস্টমারের ফোনে আপনার নম্বর সেভ থাকতে হবে। অফার পাঠিয়ে সরাসরি অর্ডার নেওয়ার জন্য এটাই সবচেয়ে কাজের, আর এর পুরো নিয়ম, কতজন আর কোন ভুলে নম্বর ব্যান হয়, সেটা হোয়াটসঅ্যাপ ব্রডকাস্টের লেখায় আলাদা করে আছে।
স্ট্যাটাস। ২৪ ঘণ্টার জন্য একটা ছবি বা ভিডিও, ফেসবুকের স্টোরির মতো। Help Center-এর "How to manage status privacy" পেজ অনুযায়ী ডিফল্টে আপনার সব কন্ট্যাক্ট সেটা দেখতে পান, আর চাইলে কাউকে বাদ দেওয়া বা নির্দিষ্ট কয়েকজনকে দেখানো যায়। খরচ নেই, ঝুঁকিও কম, কিন্তু পৌঁছায় শুধু তাঁদের কাছে যাঁরা আপনার নম্বর সেভ করেছেন আর আপনিও তাঁদেরটা।
| কেউ কারও নম্বর দেখেন? | কাস্টমার উত্তর দিতে পারেন? | নতুন পোস্টে নোটিফিকেশন | |
|---|---|---|---|
| চ্যানেল | না | না, শুধু রিঅ্যাক্ট আর পোল | শুরুতে বন্ধ |
| গ্রুপ | সাধারণত হ্যাঁ | হ্যাঁ, সবার সামনে | সাধারণত চালু |
| ব্রডকাস্ট | না | হ্যাঁ, শুধু আপনার কাছে | সাধারণ মেসেজের মতো |
| স্ট্যাটাস | না | হ্যাঁ, শুধু আপনার কাছে | না, নিজে খুলে দেখতে হয় |

হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল খোলার নিয়ম, ধাপে ধাপে
চ্যানেল খুলবেন দোকানের নম্বরের WhatsApp থেকে, ব্যক্তিগত নম্বর থেকে না। ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ Help Center-এর "How to create a WhatsApp Channel" পেজে লেখা আছে, WhatsApp Business অ্যাপ থেকেও চ্যানেলে যাওয়া যায়। দোকানের জন্য আলাদা নম্বরে WhatsApp Business কীভাবে খুলবেন, পুরনো চ্যাট না হারিয়ে, সেটা হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস একাউন্টের লেখায় আছে।
অ্যান্ড্রয়েডে কাজটা এরকম, Help Center-এর ধাপ ধরে। Updates ট্যাবে যান, চ্যানেলের পাশের প্লাস চিহ্নে চাপ দিন। Create channel চাপুন, তারপর Continue। চ্যানেলের নাম দিন। দোকানের নামই দিন, "রঙধনু ফ্যাশন, নতুন কালেকশন" ধরনের, যাতে খুঁজলে চেনা যায়। চাইলে একটা ছোট বর্ণনা আর একটা আইকন দিন, তারপর আবার Create channel চাপুন। এরপর কন্ট্যাক্টদের দাওয়াত পাঠানোর ধাপ আসে, চাইলে Skip করে পরে পাঠাতে পারেন।
বর্ণনায় তিনটা কথা লিখুন। এখানে কী পাবেন, কতবার পোস্ট আসবে, আর অর্ডার কীভাবে করবেন। যেমন "নতুন পাঞ্জাবি আর টি-শার্টের খবর, দিনে একটা পোস্ট। অর্ডার বা প্রশ্ন থাকলে পোস্টের লিংকে চাপ দিয়ে WhatsApp-এ মেসেজ দিন।" নাম, বর্ণনা আর আইকন পরে যেকোনো সময় বদলানো যায়।

একা সামলাতে না পারলে সাহায্য নিন। Help Center অনুযায়ী মালিক ছাড়া আরও ১৬ জন পর্যন্ত অ্যাডমিন রাখা যায়, যাঁরা পোস্ট দিতে, বদলাতে আর মুছতে পারেন। তবে জেনে রাখুন, Help Center-এর লেখা অনুযায়ী মালিক আর সব অ্যাডমিন একে অপরের ফোন নম্বর আর নাম দেখতে পান। দোকানের কর্মী ছাড়া কাউকে অ্যাডমিন করবেন না।
চ্যানেলের সাথে একটা লিংক আর একটা QR কোড আসে। এটাই ফলোয়ার আনার আসল হাতিয়ার। Help Center-এ "About creating a WhatsApp Channel" পেজে লেখা আছে, চ্যানেলের লিংক অন্য ওয়েবসাইট বা অ্যাপে শেয়ার করা যায়, আর মানুষ অ্যাপের ভেতরে চ্যানেলের ডিরেক্টরি থেকেও খুঁজে পান। কোথায় কোথায় লিংক বসাবেন, সেটা নিচে অনুমতির অংশে বলছি।
চ্যানেলে কী পোস্ট দেবেন, কতবার
চ্যানেলের কাজ একটাই, পুরনো কাস্টমারকে মনে করিয়ে দেওয়া যে আপনি আছেন আর নতুন কিছু এসেছে। তাই প্রতিটা পোস্ট হবে একটা প্রোডাক্ট বা একটা খবর, পরিষ্কার ছবি আর তিন লাইনের লেখা। প্রথম লাইনে কী, দ্বিতীয় লাইনে দাম আর সাইজ, তৃতীয় লাইনে কীভাবে অর্ডার।
এখানে সবচেয়ে কাজের অভ্যাস হলো প্রতিটা ছবির সাথে প্রোডাক্টের কোড দেওয়া। "আর্টিকেল UB-503, নীল সুতি পাঞ্জাবি, ১,২৫০ টাকা, ৩৮ থেকে ৪৪।" তাহলে কাস্টমার WhatsApp-এ এসে লেখেন "UB-503, 40 সাইজ", স্ক্রিনশট পাঠাতে হয় না, আপনাকেও জিজ্ঞেস করতে হয় না কোনটার কথা হচ্ছে। চ্যানেলে যেহেতু কেউ উত্তর দিতে পারেন না, প্রতিটা পোস্টের শেষে একটা লিংক রাখুন। হয় আপনার WhatsApp চ্যাটের wa.me লিংক, নয়তো দোকানে সেই প্রোডাক্টের পেজ।

কতবার পোস্ট দেবেন? দিনে একটা, বড়জোর দুটো। প্রতিদিন দশটা ছবি ঢাললে মানুষ চ্যানেল মিউট করেন না, কারণ নোটিফিকেশন এমনিই বন্ধ, তাঁরা সোজা আনফলো করেন। একটা সময় ঠিক করুন আর সেটা মানুন। বেশিরভাগ ক্রেতা কাজ শেষে ফোন হাতে নেন, তাই বিকেল বা সন্ধ্যার শুরুটা ভালো সময়। সপ্তাহে একদিন একটা পোল দিন, "পরের লটে কোন রং আনব?" এতে মানুষ চ্যানেলে ফেরেন, আর আপনি জানেন কী আনতে হবে। Help Center অনুযায়ী অ্যাডমিন চ্যানেলের গত ৩০ দিনের হিসাব দেখতে পান, কতজনের কাছে পৌঁছাল, কতজন ফলো আর আনফলো করলেন। তবে একই হেল্প পেজে লেখা, ১০০ জনের কম ফলোয়ার থাকলে এই হিসাব আসে না, আর সংখ্যা প্রায় এক সপ্তাহ পিছিয়ে থাকতে পারে। মাসে একবার দেখলেই যথেষ্ট।
নোটিফিকেশনের ব্যাপারটা আবার বলি, কারণ এখানেই সবাই হোঁচট খান। ফলোয়ার নিজে চালু না করলে আপনার পোস্টের খবর তাঁর ফোনে বাজে না। তাই নতুন ফলোয়ার এলে বা মাসে একবার পোস্টে বলে দিন, "নতুন মালের খবর সবার আগে পেতে চ্যানেলের ঘণ্টার চিহ্নে চাপ দিন।"
WinningSeller-এ প্রতিটা প্রোডাক্টের ফর্মে "আর্টিকেল নম্বর" ঘর আছে, আর সেই নম্বর দোকানের প্রোডাক্ট পেজে দেখায়। দোকানের সার্চে "503" লিখলেই UB-503 আসে। তাই চ্যানেলের পোস্টে যে কোড দিলেন, কাস্টমার সেটা দিয়ে আপনার দোকানে নিজেই খুঁজে নিতে পারেন। আর দোকানে "সরাসরি কথা বলুন" চ্যাট বাটন চালু করে নিলে প্রোডাক্ট পেজ থেকে কেউ WhatsApp খুললে মেসেজে আগে থেকেই লেখা থাকে প্রোডাক্টের নাম, আর্টিকেল নম্বর আর পেজের লিংক। তবে WinningSeller আপনার হয়ে চ্যানেলে পোস্ট দেয় না, WhatsApp-এর মেসেজও পড়ে না। মেসেজ আসে আপনার নিজের WhatsApp-এ। চ্যাট বাটন আর আর্টিকেল নম্বর ছাড়া দোকানে আর কী আছে, সেটা এক পেজে সব ফিচারে পাবেন।
কাস্টমার গ্রুপ, নিয়ম আর ঝুঁকি
গ্রুপের একটা ভালো দিক আছে, সেটা অস্বীকার করব না। মানুষ একে অপরের প্রশ্ন আর উত্তর দেখেন, কেউ "গত মাসে নিয়েছিলাম, কাপড় ভালো" লিখলে সেটা দশটা বিজ্ঞাপনের চেয়ে বেশি কাজ করে। কিন্তু দোকানের জন্য ঝুঁকিটা বড়, আর সেটা আগে বুঝে নিন।
প্রথম ঝুঁকি নম্বর। দুইশো জন কাস্টমারের একটা গ্রুপ মানে দুইশোটা কেনা কাস্টমারের নম্বর এক জায়গায়, সবার চোখের সামনে। একজন প্রতিযোগী সেলার কাস্টমার সেজে গ্রুপে ঢুকলে পুরো লিস্টটা তাঁর। দ্বিতীয় ঝুঁকি অভিযোগ। একজনের পার্সেল দেরি হলে তিনি রাগ ঝাড়বেন গ্রুপে, আর বাকি একশো নিরানব্বই জন সেটা পড়বেন। সমস্যা হয়তো এক কুরিয়ারের এক দিনের, কিন্তু সবার মনে থাকবে "এই দোকানে দেরি হয়"।
তবুও গ্রুপ রাখতে চাইলে নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখুন। ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ Help Center-এর "How to change group admin settings" পেজ অনুযায়ী গ্রুপের Group permissions থেকে অ্যাডমিন ঠিক করতে পারেন কে মেসেজ দেবেন, কে নতুন মানুষ যোগ করবেন, আর কে দাওয়াতের লিংক শেয়ার করবেন। একই পেজে লেখা আছে, ৩৩ জনের কম সদস্যের গ্রুপে শুরুতে সবাই অন্যদের যোগ করতে আর লিংক পাঠাতে পারেন। তাই খোলার দিনই Add other members বন্ধ করুন, আর Approve new members চালু রাখুন, যাতে আপনি না দেখে কেউ ঢুকতে না পারেন।
দোকানের জন্য গ্রুপ সবচেয়ে ভালো কাজ করে যখন সেটা ছোট আর বিশেষ। যেমন পাইকারি কেনা রিসেলারদের গ্রুপ, যেখানে সবাই একে অপরকে চেনেন, বা কয়েকজন নিয়মিত কাস্টমারের আগে-খবর পাওয়ার গ্রুপ, সবার রাজি হওয়ার পরে। সাধারণ সব কাস্টমারের জন্য চ্যানেল।
কাউকে যোগ করার আগে অনুমতি
Help Center-এর "How to change group privacy settings" পেজে লেখা আছে, ডিফল্টে গ্রুপের প্রাইভেসি সেটিং থাকে Everyone, মানে নম্বর জানা যে কেউ আপনাকে গ্রুপে যোগ করতে পারেন। অনেক কাস্টমার এটা কখনো বদলাননি। তাই তাঁদের না জিজ্ঞেস করেই আপনার গ্রুপে তুলে দেওয়া যায়। যায়, কিন্তু করবেন না।
কাস্টমার আপনাকে নম্বর দিয়েছেন পার্সেল পাওয়ার জন্য, আপনার গ্রুপে বসার জন্য না। না জিজ্ঞেস করে যোগ করলে অনেকে চুপচাপ বেরিয়ে যান, কেউ কেউ বিরক্ত হয়ে রিপোর্ট করেন, আর বারবার রিপোর্ট হলে দোকানের নম্বর ব্যানের ঝুঁকি বাড়ে। কাস্টমারের নম্বর কীভাবে আগলে রাখবেন আর কোন কাজে তাঁর সম্মতি লাগে, সেটা কাস্টমারের ডেটা সুরক্ষার লেখায় বলা আছে।
চ্যানেলের সুবিধা এখানেই। চ্যানেলে কাউকে যোগ করা যায় না, মানুষ নিজে লিংকে চেপে ফলো করেন। মানে সম্মতি নিজে থেকেই আছে। আপনার কাজ শুধু লিংকটা সঠিক জায়গায় রাখা। ডেলিভারির পরের ধন্যবাদের মেসেজে একটা লাইন, "নতুন মালের খবর পেতে আমাদের WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন", সাথে লিংক। পার্সেলের স্টিকারে বা ইনভয়েসের নিচে চ্যানেলের QR কোড। পার্সেল খোলার মুহূর্তে কাস্টমার সবচেয়ে খুশি থাকেন, তখনই ফলো করার সম্ভাবনা বেশি।

এক মাসে কোনটা থেকে কত অর্ডার (উদাহরণ)
চ্যানেল আর গ্রুপ পাশাপাশি টাকায় আর সময়ে দেখি। নিচের সব সংখ্যা ধরে নেওয়া, কোনো দোকানের মাপা ফল না। নিজের সংখ্যা বসিয়ে মিলিয়ে নিন।
উদাহরণ। ধরুন আপনার চ্যানেলে ৪০০ জন ফলোয়ার। নোটিফিকেশন বেশিরভাগের বন্ধ, তাই ধরুন প্রতিটা পোস্ট দেখেন চারজনে একজন, মানে ১০০ জন। যাঁরা দেখেন তাঁদের পঞ্চাশ জনে একজন লিংকে চেপে মেসেজ দেন, মানে পোস্টপ্রতি ২টা মেসেজ। মাসে ২০টা পোস্টে ৪০টা মেসেজ, চারজনে একজন অর্ডার করলে ১০টা অর্ডার। একটা ফেরত এলে ডেলিভারি ৯টা। একটায় হাতে থাকে ৩০০ টাকা, ফেরতের খরচ ১৩০ টাকা। তাহলে ৯ × ৩০০ = ২,৭০০, তার থেকে ১৩০ বাদ দিলে ২,৫৭০ টাকা। সময় লাগল পোস্টপ্রতি ১০ মিনিট, মাসে ২০ × ১০ = ২০০ মিনিট।
এবার ধরুন একই দোকানের ২০০ জনের একটা গ্রুপ। গ্রুপে নোটিফিকেশন সাধারণত চালু থাকে, তাই ধরুন প্রতিটা পোস্ট দেখেন দুজনে একজন, মানে ১০০ জন। মেসেজ আর অর্ডারের হার একই ধরলে ফলও একই, মাসে প্রায় ২,৫৭০ টাকা। কিন্তু সময়? পোস্টের ২০০ মিনিটের সাথে যোগ হয় গ্রুপ সামলানো, প্রশ্নের উত্তর সবার সামনে দেওয়া, অন্যের বিজ্ঞাপন মোছা। দিনে ১৫ মিনিট ধরলে মাসে ৩০ × ১৫ = ৪৫০ মিনিট। মোট ৬৫০ মিনিট। মানে প্রায় একই লাভের জন্য চ্যানেলের তিন গুণের বেশি সময়, সাথে নম্বর ছড়ানোর আর সবার সামনে অভিযোগের ঝুঁকি।
এই হিসাবের আসল শিক্ষা অঙ্কে না, দিকে। চ্যানেলে ফলোয়ার বাড়াতে পারলে আপনার সময় প্রায় বাড়ে না, ৪০০ থেকে ১,০০০ হলেও পোস্ট দিতে সেই দশ মিনিটই লাগে। গ্রুপ বড় হলে সামলানোর সময়ও বাড়ে।
কখন এসব না করাই ভালো
চ্যানেল বা গ্রুপ খোলা সহজ, চালিয়ে যাওয়া কঠিন। কয়েকটা অবস্থায় শুরুই না করা ভালো।
আপনার যদি সপ্তাহে নতুন কিছু না আসে, মাসে একবার নতুন লট, তাহলে চ্যানেলে দেওয়ার মতো পোস্ট থাকবে না। দুই সপ্তাহ চুপ থাকা চ্যানেল মানুষ আনফলো করে দেন। এমন দোকানের জন্য নতুন লট এলে ব্রডকাস্ট লিস্টে একটা মেসেজ আর পুরনো কাস্টমারকে ফোন করা অনেক বেশি কাজের। কাকে কবে ফোন দেবেন আর কী বলবেন, সেটা পুরনো কাস্টমারকে আবার বিক্রির লেখায় আছে।
আপনার কাস্টমার যদি এখনো একশো জনের কম হন, তাহলে চ্যানেলের পেছনে সময় দেওয়ার আগে নতুন কাস্টমার আনুন। পঞ্চাশ জনের চ্যানেলে দিনে একটা পোস্ট আপনাকে খাটায় বেশি, ফেরত দেয় কম। আর একা দোকান চালালে গ্রুপ একদম না। গ্রুপে প্রশ্ন জমে, উত্তর না পেলে সবাই দেখেন উত্তর আসেনি, আর সেটা চুপ থাকা চ্যানেলের চেয়েও খারাপ দেখায়।
আজই করে ফেলুন
দোকানের WhatsApp নম্বরের ফোন আর আধা ঘণ্টা।
- দোকানের নম্বর থেকে একটা চ্যানেল খুলুন, নাম দোকানের নামে, বর্ণনায় কী পাবেন, কতবার পোস্ট আর কীভাবে অর্ডার।
- সবচেয়ে বেশি বিকোয় এমন একটা প্রোডাক্টের ছবি দিয়ে প্রথম পোস্ট দিন, সাথে কোড, দাম, সাইজ আর WhatsApp চ্যাট বা দোকানের লিংক।
- চ্যানেলের লিংক কপি করে ডেলিভারির পরের ধন্যবাদের মেসেজে একটা লাইন যোগ করুন।
- চ্যানেলের QR কোড সেভ করে পরের বার স্টিকার বা ইনভয়েস ছাপানোর সময় বসান।
- আগে থেকে কোনো কাস্টমার গ্রুপ থাকলে Group permissions-এ Add other members বন্ধ করুন আর নিয়মের মেসেজ পিন করুন।
- ফোনে রিমাইন্ডার দিন, প্রতিদিন একই সময়ে একটা পোস্ট।
পুরনো কাস্টমার আপনাকে একবার বিশ্বাস করেছেন। চ্যানেল সেই বিশ্বাসটা ধরে রাখার সস্তা উপায়, তাঁর নম্বর কারও সামনে না খুলে, তাঁকে বিরক্ত না করে। দিনে দশ মিনিট দিন, আর বাকিটা নতুন মালের ছবিই বলে দেবে।
সাধারণ প্রশ্ন
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল কিভাবে খুলে?
WhatsApp-এর Updates ট্যাবে গিয়ে চ্যানেলের পাশের প্লাস চিহ্ন চাপুন, তারপর Create channel আর Continue। নাম দিন, চাইলে ছোট বর্ণনা আর একটা ছবি, তারপর আবার Create channel। WhatsApp Business অ্যাপ থেকেও চ্যানেল খোলা যায়।
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে কি অ্যাডমিনের নম্বর দেখা যায়?
না। WhatsApp Help Center অনুযায়ী ফলোয়াররা চ্যানেলের অ্যাডমিনের প্রোফাইলের নাম, ছবি বা ফোন নম্বর দেখেন না। ফলোয়াররাও একে অপরকে দেখেন না, কে আর কে ফলো করছেন সেটা কেউ জানতে পারেন না।
চ্যানেলে কাস্টমার কি মেসেজ দিতে পারেন?
না, চ্যানেল একমুখী। ফলোয়াররা ইমোজি দিয়ে রিঅ্যাক্ট করতে আর পোলে ভোট দিতে পারেন, কিন্তু উত্তর লিখতে বা অ্যাডমিনকে মেসেজ দিতে পারেন না। তাই প্রতিটা পোস্টে আপনার WhatsApp চ্যাট বা দোকানের লিংক দিয়ে দিন।
হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সর্বোচ্চ কতজন রাখা যায়?
WhatsApp Help Center অনুযায়ী একটা গ্রুপে ১,০২৪ জন পর্যন্ত রাখা যায়। তবে দোকানের জন্য সংখ্যার চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো গ্রুপে সবাই সবার মেসেজ দেখেন, আর একজনের অভিযোগ বাকি সবার চোখে পড়ে।
চ্যানেলের পোস্ট কি ফলোয়ারদের নোটিফিকেশনে যায়?
নিজে থেকে যায় না। WhatsApp Help Center-এ লেখা আছে, চ্যানেলের নোটিফিকেশন শুরুতে বন্ধ থাকে, ফলোয়ার নিজে চালু করলে তবেই পান। তাই ফলোয়ারদের একবার বলে দিন চ্যানেলের ঘণ্টার চিহ্নে চাপ দিতে।
কাস্টমারকে না জিজ্ঞেস করে গ্রুপে যোগ করা কি ঠিক?
না। অনেকের WhatsApp-এ এখনো ডিফল্ট সেটিং থাকে, যাতে নম্বর জানা যে কেউ তাঁকে গ্রুপে যোগ করতে পারেন। পারা আর উচিত এক না। না জিজ্ঞেস করে যোগ করলে অনেকে বিরক্ত হয়ে বেরিয়ে যান, কেউ কেউ রিপোর্টও করেন।
আরও পড়ুন
শার্ট, প্যান্ট আর টি-শার্টের সাইজ চার্ট বানাবেন যেভাবে, ফেরত কমবে
সাপ্লায়ারের ট্যাগে M লেখা, অথচ কাস্টমার বলেন টাইট। টি-শার্ট, শার্ট আর প্যান্ট টেবিলে বিছিয়ে ফিতা দিয়ে মাপার নিয়ম, ইঞ্চিতে নিজের সাইজ চার্ট বানানো, কাস্টমারকে নিজের শার্ট মেপে সাইজ বাছতে শেখানো, আর একটা ভুল সাইজে কত টাকা যায়, হিসাবসহ।
প্রোডাক্ট ক্যাটালগ ও প্রাইস লিস্ট বানানোর নিয়ম, পাইকার আর অফিসের জন্য
পাইকার, রিসেলার বা অফিসের লোক বলছেন "ক্যাটালগ আর রেট দেন"? প্রতিটা প্রোডাক্টে কী লিখবেন, খুচরা আর পাইকারি দাম কেন আলাদা ফাইলে, পরিমাণ ধরে দামের ধাপ টাকায়, PDF না লিংক, আর দাম বদলালে পুরনো কপি থামাবেন কীভাবে।
পয়েন্ট ডেলিভারি কি? কুরিয়ার হাবে পার্সেল দেওয়া আর হাব থেকে নেওয়া
পয়েন্ট ডেলিভারি মানে কাস্টমার বাসায় না নিয়ে কুরিয়ারের কাছের হাব বা পয়েন্ট থেকে নিজে পার্সেল তোলেন। কোন কুরিয়ারে আছে, অক্টোবর ২০২৬-এ চার্জ কত, কাস্টমারের হাব খুঁজবেন কীভাবে, হাবে পড়ে থাকা পার্সেল আর রিটার্ন, আর ৫০টা পার্সেলের হিসাব।


