WinningSeller
অনলাইন ব্যবসা শুরু১২ মিনিটে পড়া যায়

খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম

বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।

খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম
এই লেখায় যা আছে
  1. খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে
  2. প্রথম লট কোথা থেকে, কী কী নেবেন
  3. খেলনায় BSTI-র নতুন নিয়ম, ২০২৬ থেকে কী বদলাল
  4. ছোট পার্টস, ব্যাটারি আর বয়সের লেবেল
  5. প্যাকিংয়ের আগে প্রতিটা খেলনা চালিয়ে দেখা
  6. একটা লটে কত থাকে (উদাহরণ)
  7. মাপ বোঝানো ছবি আর ভিডিও
  8. ভাঙা আর ফেরত কমানোর প্যাকিং
  9. কখন খেলনার ব্যবসায় নামবেন না
  10. আজই করে ফেলুন

খেলনা ব্যবসার আইডিয়া খুঁজতে গিয়ে প্রথমে জানা দরকার, অনলাইনে কোন খেলনা আসলে বিক্রি হয়। অনলাইনে সেই খেলনাগুলোই চলে, যেগুলো ছবি আর ভিডিওতে বোঝানো যায়, পার্সেলে ভাঙে না, আর বাবা-মা বা মামা-চাচা উপহার হিসেবে দিতে পারেন। বিল্ডিং ব্লক, পাজল, শেখার খেলনা, রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি আর বয়স ধরে সাজানো গিফট সেট এই দলে পড়ে। মাল আসে মূলত পুরান ঢাকার চকবাজার থেকে। আর ২০২৬ সাল থেকে একটা নতুন কথা মাথায় রাখতে হবে, খেলনা এখন BSTI-র বাধ্যতামূলক তালিকায় আছে।

খেলনার ব্যবসায় খুশির মুহূর্তটা খুব চেনা। দুপুরে একজন বাবা ইনবক্সে লিখলেন, "ভাই, ছেলের জন্মদিন শুক্রবার, গাড়িটা বৃহস্পতিবারের মধ্যে পাব?" আর ভয়ের মুহূর্তটাও চেনা। পার্সেল পৌঁছানোর পরদিন ফোন আসে, "গাড়ি চলে না, বাচ্চা কাঁদছে।" এই লেখা দুটো মুহূর্তের মাঝখানের কাজ নিয়ে। কোন খেলনা তুলবেন, কোথা থেকে, নিরাপত্তার নিয়ম কী, পাঠানোর আগে কী দেখবেন, আর এক লটে আসলে কত টাকা থাকে।

খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে

খেলনা বাছার সময় নিজের পছন্দ দিয়ে না, তিনটা প্রশ্ন দিয়ে বাছুন। ছবিতে কি বোঝা যায় খেলনাটা কী করে? পার্সেলে কি টিকবে? আর দামটা কি কুরিয়ার চার্জের তুলনায় যথেষ্ট? ৮০ টাকার একটা প্লাস্টিকের বাঁশির সাথে কাস্টমারকে ৭০-৮০ টাকার ডেলিভারি চার্জ দিতে বললে তিনি কিনবেন না, আর আপনি নিজে দিলে লাভ থাকবে না। তাই অনলাইনে সাধারণত ৫০০ টাকার ওপরের খেলনা বা কয়েকটা মিলিয়ে একটা সেট ভালো কাজ করে।

বয়স ধরে ভাবলে কাজ সহজ হয়। এক থেকে তিন বছরের জন্য নরম খেলনা, বড় ব্লক আর শব্দ করা খেলনা, যেখানে ছোট খোলা অংশ নেই। তিন থেকে ছয় বছরের জন্য পাজল, ব্লক সেট, ছবি আঁকার সেট আর ছোট গাড়ি। ছয় বছরের ওপরে রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি, বানানো যায় এমন সেট, বোর্ড গেম আর ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলার জিনিস। বাবা-মা যখন ইনবক্সে লেখেন "চার বছরের ছেলের জন্য কী দেব", তখন আপনার উত্তর তৈরি থাকলেই অর্ডার হয়।

শেখার খেলনা আর পাজলের একটা সুবিধা আছে। বাবা-মা এগুলোতে টাকা খরচ করতে কম দ্বিধা করেন, কারণ মনে হয় বাচ্চার কাজে লাগবে। রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি ভালো চলে, দামও ভালো, কিন্তু ফেরতও সবচেয়ে বেশি আসে এটা থেকেই, কারণ ব্যাটারি, চার্জার আর রিমোটের জোড়া, তিন জায়গায় গোলমাল হতে পারে। কাচের বা পাতলা প্লাস্টিকের শোপিস ধরনের খেলনা শুরুতে এড়িয়ে যান, পথে ভাঙে।

মৌসুমটাও হিসাবে রাখুন। ঈদের আগের দুই সপ্তাহ আর শীতের স্কুল ছুটিতে খেলনার চাহিদা বাড়ে, আর জন্মদিনের উপহার সারা বছর চলে। ঈদের মাল কিনতে ঈদের এক সপ্তাহ আগে গেলে পাইকারও ব্যস্ত, দামও চড়া। তাই মৌসুমের মাল তিন-চার সপ্তাহ আগে তুলে ছবি-ভিডিও রেডি করে রাখুন।

বসার ঘরের মেঝেতে একটা ছোট ছেলে রঙিন বিল্ডিং ব্লক দিয়ে একটা ঘর বানাচ্ছে, পাশে বসে তার বাবা একটা ব্লক এগিয়ে দিচ্ছেন, পাশে খোলা বাক্স
যে খেলনা বাবা-মা বাচ্চার সাথে খেলতে পারেন, সেটা উপহার হিসেবেও বেশি চলে

প্রথম লট কোথা থেকে, কী কী নেবেন

ঢাকায় খেলনার পাইকারির প্রধান জায়গা পুরান ঢাকার চকবাজার। কোন গলিতে, কোন মার্কেটে খেলনা পাবেন, ডজন না ৩-৬ পিসের প্যাকেটে বেচে, আর কোন দিন বন্ধ, সেটা চকবাজার পাইকারি মার্কেটের লেখায় প্রথম আলোর জুন ২০২৬-এর রিপোর্ট ধরে বলা আছে। অন্য শহরের পাইকারি বাজার আর সাপ্লায়ার যাচাইয়ের প্রশ্নগুলো পাবেন পাইকারি মার্কেটের পুরো লিস্টে। এখানে বলি প্রথম লটে কী নেবেন আর কী নেবেন না।

প্রথম লটে পাঁচ-ছয় রকমের বেশি খেলনা নেবেন না। দুটো দাম ধরে রাখুন, একটা ৫০০ টাকার কাছাকাছি সহজ উপহার, আর একটা ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকার বড় খেলনা। নতুন কোনো খেলনা, যেটা আগে কখনো বেচেননি, সেটার পুরো ডজন না নিয়ে দুই পিস আনুন। একটা নিজে খুলে দেখবেন, একটা দিয়ে ছবি-ভিডিও করবেন। চলে গেলে পরের বার ডজন নেবেন।

কেনার সময় পাইকারকে তিনটা কথা জিজ্ঞেস করুন। বক্সে কি আমদানিকারকের নাম-ঠিকানা আর বয়সের লেখা আছে? ব্যাটারি সাথে আসে, নাকি আলাদা? আর বাসায় গিয়ে নষ্ট পেলে বদলে দেবেন কি না। শেষ প্রশ্নের উত্তর বেশিরভাগ সময় "না" হয়, তাই ব্যাটারির খেলনা দোকানেই চালিয়ে দেখুন। আর বক্সটা ভালো করে দেখুন। খেলনার বক্স দুমড়ানো বা ছেঁড়া হলে উপহার হিসেবে সেটা আর বেচা যায় না, কাস্টমার পুরনো মাল ভেবে ফেরত দেন।

খেলনায় BSTI-র নতুন নিয়ম, ২০২৬ থেকে কী বদলাল

এই অংশটা নতুন, তাই একটু ধরে ধরে বলি। ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর BSTI-র ওয়েবসাইটের বাধ্যতামূলক তালিকার পেজে "নতুন ৭ টি" জিনিসের একটা তালিকা আছে। সেটা খুললে পাওয়া যায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন, এস. আর. ও. নং ২৩২-আইন/২০২৬, তারিখ ২২ জুন ২০২৬, আর বাংলাদেশ গেজেটে ছাপা ২৩ জুন ২০২৬-এ। তালিকার ৬ নম্বরে আছে Toys, মানে খেলনা, আর পাশে চারটা মান লেখা, BDS ISO 8124-এর ২, ৩, ৬ আর ১২ নম্বর অংশ (২০২৫)। একই তালিকায় Plastic Feeding Bottles, মানে বাচ্চার প্লাস্টিকের ফিডারও এসেছে।

প্রজ্ঞাপনে লেখা আছে, তালিকার জিনিস তার পাশে লেখা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড না মানলে তার বিক্রয়, বিতরণ আর বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ। প্রজ্ঞাপনেই লেখা, এটা কার্যকর হবে গেজেটে ছাপার পরের দুই মাস পেরোনোর পরদিন থেকে। ২৩ জুন থেকে গুনলে সেটা আগস্ট ২০২৬-এর শেষ দিক, মানে নিয়মটা এখন চালু। খেয়াল করুন, নিষেধটা শুধু বানানো বা আমদানির ওপর না, বিক্রি আর বিজ্ঞাপনের ওপরও। ফেসবুকে খেলনার অ্যাড চালানোও তো বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন। প্রজ্ঞাপনে শুধু "Toys" লেখা, কোন বয়সের বা কোন ধরনের খেলনা, সেটা আলাদা করে ভাগ করা নেই। বাংলা ট্রিবিউনের ৩ জুলাই ২০২৬-এর খবরেও এটাকে দেশে তৈরি আর আমদানি করা সব খেলনার নিয়ম হিসেবেই লেখা হয়েছে।

তাহলে সার্টিফিকেট কে নেবেন? যতটুকু জানা যায়, BSTI-র সার্টিফিকেশন মার্কের লাইসেন্স নেন দেশে যিনি জিনিসটা বানান। আর বাধ্যতামূলক তালিকার জিনিস বিদেশ থেকে এলে চালান ছাড়ের আগে BSTI পরীক্ষা করে ছাড়পত্র দেয়, এটা The Daily Star আর The Business Standard-এর আমদানি নিয়ে খবরেও এসেছে। আপনি যদি চকবাজার থেকে কিনে খুচরা বেচেন, সাধারণত লাইসেন্সটা আপনার নামে লাগে না। কিন্তু যে খেলনা বেচছেন সেটা মান মেনে এসেছে কি না, সেই প্রশ্ন থেকে আপনি পুরো বাদ, এমন ধরে নেবেন না, কারণ প্রজ্ঞাপনটা বিক্রি আর বিজ্ঞাপন নিয়েও কথা বলছে। তাই পাইকারের কাছে চান, দেশি খেলনা হলে বানানেওয়ালার BSTI লাইসেন্সের কপি বা বক্সে BSTI-র মার্ক, আর বিদেশি হলে আমদানিকারকের নাম-ঠিকানা আর ছাড়ের কাগজের কথা।

একটা জিনিস নিজে বানিয়ে বলবেন না। ওই চারটা মানের ভেতরে ঠিক কী কী পরীক্ষা আছে, সেটা না জেনে পেজে "BSTI মান মেনে তৈরি" বা "১০০% নিরাপদ" লিখবেন না। বক্সে মার্ক বা কাগজ থাকলে সেটার ছবি দিন। না থাকলে চুপ থাকুন, আর বয়সের কথাটা সৎভাবে লিখুন।

ছোট পার্টস, ব্যাটারি আর বয়সের লেবেল

মান-টান বাদ দিয়েও খেলনার নিরাপত্তায় কিছু কথা আছে, যেগুলো যেকোনো বাবা নিজের বাচ্চার বেলায় ভাবেন। প্রথমটা ছোট খুলে আসা অংশ। খুব ছোট বাচ্চা সবকিছু মুখে দেয়। তাই যে খেলনায় চাকা, চোখ, ছোট গুটি বা পুঁতি খুলে আসে, সেটা ৩ বছরের কম বাচ্চার জন্য না। পেজে আর ইনবক্সের উত্তরে এটা পরিষ্কার লিখুন, "এই সেটে ছোট অংশ আছে, ৩ বছরের নিচের বাচ্চার জন্য না।"

দ্বিতীয়টা ব্যাটারি। ব্যাটারির ঢাকনা কি স্ক্রু দিয়ে আটকানো, নাকি হাতে টানলেই খোলে, সেটা দেখুন। চ্যাপ্টা ছোট কয়েনের মতো ব্যাটারি যে খেলনায় থাকে, সেখানে ঢাকনা শক্ত করে আটকানো থাকা খুব জরুরি, কারণ ছোট বাচ্চা এটা গিলে ফেলতে পারে। ঢাকনা আলগা হলে সেই খেলনা ছোটদের জন্য বেচবেন না।

তৃতীয়টা গন্ধ আর রং। বক্স খুলে খুব কড়া রাসায়নিকের গন্ধ পেলে, বা হাতে ঘষলে রং উঠে আসলে, সেই লট নেবেন না। এটা কোনো ল্যাবের পরীক্ষা না, কিন্তু খারাপ মাল চেনার জন্য চোখ আর নাক অনেক কাজ দেয়। আর প্রতিটা লিস্টিংয়ে বয়স লিখুন, বক্সে যা লেখা আছে তা দেখে। বক্সে বয়স না থাকলে নিজে বিচার করে লিখুন, আর সন্দেহ হলে বয়সটা বাড়িয়ে লিখুন, কমিয়ে না।

একটা পরিষ্কার নকশা, চারটা কলামে বয়সের ভাগ, এক থেকে তিন বছর, তিন থেকে ছয়, ছয় থেকে নয় আর নয়ের ওপরে, প্রতিটার নিচে সেই বয়সের খেলনার ছোট ছবি, যেমন নরম খেলনা, পাজল, রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি আর বোর্ড গেম, প্রথম কলামে একটা সতর্ক চিহ্ন যে ছোট অংশ চলবে না
বয়স ধরে সাজালে বাবা-মায়ের প্রশ্নের উত্তর আগেই তৈরি

প্যাকিংয়ের আগে প্রতিটা খেলনা চালিয়ে দেখা

ব্যাটারির খেলনার ফেরতের সবচেয়ে বড় কারণ একটাই, বাক্স খুলে দেখা গেল চলে না। আর কাস্টমার তখন রাগ করেন খেলনার ওপর না, আপনার পেজের ওপর, কারণ বাচ্চার সামনে তাঁর মুখ ছোট হয়েছে। তাই নিয়মটা কড়া রাখুন, ব্যাটারির প্রতিটা খেলনা প্যাক করার আগে চালিয়ে দেখবেন। একটা লটের একটা পরীক্ষা করলে হবে না, প্রতিটা।

রিমোট কন্ট্রোল গাড়ির বেলায় কাজের ক্রমটা এমন। ব্যাটারি ঢোকান, গাড়ি আর রিমোট জোড়া লাগান, তারপর টেবিলে সামনে-পেছনে, ডানে-বামে চালান। চার্জ হওয়া গাড়ি হলে চার্জার লাগিয়ে দেখুন আলো জ্বলে কি না। শব্দ বা আলোর খেলনায় প্রতিটা সুইচ একবার চাপুন। দশটা খেলনা চালাতে পনেরো-বিশ মিনিট লাগে, আর একটা ফেরত পার্সেলে যে টাকা যায়, তার তুলনায় এটা কিছুই না।

চালিয়ে দেখার পর ব্যাটারি খুলে রাখুন। eCourier-এর শর্তের পেজে ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ লেখা আছে, ইলেকট্রনিক জিনিস থেকে সম্ভব হলে ব্যাটারি খুলে পাঠাতে। Steadfast-এর শর্তে বিপজ্জনক জিনিস পাঠানো নিষেধ, তবে ব্যাটারির কথা আলাদা করে লেখা নেই, তাই নিজের কুরিয়ারের অ্যাকাউন্ট ম্যানেজারকে একবার জিজ্ঞেস করে নিন। ব্যাটারি আলাদা ছোট জিপ ব্যাগে দিন, আর বাক্সের গায়ে লিখে দিন "ব্যাটারি ভেতরে আলাদা আছে"। অনেক কাস্টমার ভাবেন ব্যাটারি দেওয়া হয়নি, আর ফোন করেন।

একজন যুবক সেলার টেবিলের ওপর একটা রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি চালিয়ে দেখছেন, হাতে রিমোট, পাশে খোলা খেলনার বক্স, ব্যাটারির প্যাকেট আর একটা খাতায় টিক দেওয়া লিস্ট
প্রতিটা গাড়ি চালিয়ে দেখে খাতায় টিক, তারপর প্যাক

প্রতিটা পরীক্ষার পর খাতায় বা ফোনে লিখে রাখুন, কোন খেলনা কবে চালিয়ে দেখলেন। কোনো কাস্টমার যদি বলেন চলে না, আপনি জানবেন আপনার টেবিলে সেটা চলেছিল, তখন প্রশ্ন আসে ব্যাটারি ঠিকমতো ঢুকিয়েছেন কি না। শান্তভাবে ফোনে একবার দেখিয়ে দিলেই অনেক সময় সমস্যা মিটে যায়।

একটা লটে কত থাকে (উদাহরণ)

উদাহরণ। নিচের সব দাম ধরে নেওয়া, কোনো দোকানের দাম না। হিসাবের ধরনটা দেখুন, অঙ্কগুলো নিজের বসান। ধরুন চকবাজার থেকে ১২টা রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি কিনলেন, পিস ৬৫০ টাকা, মোট ৭,৮০০ টাকা। আনার রিকশা-সিএনজি ৩০০ টাকা। তাহলে প্রতি পিস পড়ল ৮,১০০ ÷ ১২ = ৬৭৫ টাকা। বিক্রি করবেন ১,২৫০ টাকায়, ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার আলাদা দেবেন।

প্রতিটা ডেলিভারি হওয়া গাড়িতে খরচ টাকা
গাড়ির কেনা দাম, আনার খরচসহ ৬৭৫
ব্যাটারি ৪০
বাবল র‍্যাপ আর শক্ত কার্টন ৩৫
অ্যাড, প্রতি ডেলিভারি হওয়া অর্ডারে ১৮০
ফেরত পার্সেলের লোকসান, ভাগ করে ৫০
COD চার্জ, প্রায় ১% ১২
মোট খরচ ৯৯২
হাতে থাকে ২৫৮

এবার আসল শিক্ষাটা দেখুন। ধরুন দোকানে চালিয়ে না দেখে এনেছিলেন, আর বাসায় এসে একটা গাড়ি নষ্ট পেলেন, পাইকার বদলে দিলেন না। তাহলে ১১টা বেচে লাভ ১১ × ২৫৮ = ২,৮৩৮ টাকা, আর নষ্টটার ৬৭৫ টাকা বাদ দিলে থাকে ২,১৬৩ টাকা। মানে একটা নষ্ট গাড়ি প্রায় তিনটা গাড়ির লাভ খেয়ে ফেলল। আর সেই নষ্টটা যদি কাস্টমারের বাসায় গিয়ে ধরা পড়ত, তাহলে কুরিয়ারের যাওয়া-আসার চার্জ আর একজন রাগী কাস্টমার যোগ হতো।

ডেলিভারি চার্জের কথাও কাস্টমারকে পরিষ্কার বলুন। ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর Steadfast-এর ওয়েবসাইটের ক্যালকুলেটরে ঢাকা সিটি থেকে ঢাকার ভেতরে ২ কেজির হোম ডেলিভারি দেখিয়েছে ৯৫ টাকা, আর রংপুরে ১৫৫ টাকা, COD চার্জ আলাদা। বাক্সসহ একটা গাড়ি প্রায়ই এক কেজি ছাড়িয়ে যায়, তাই প্যাক করার পর ওজন করে চার্জটা বলুন, আন্দাজে না।

মাপ বোঝানো ছবি আর ভিডিও

খেলনার ছবিতে সবচেয়ে বড় গোলমাল মাপ নিয়ে। বক্সের ছবিতে গাড়িটা বিশাল দেখায়, হাতে পেয়ে কাস্টমার দেখেন হাতের তালুর সমান। তখন ফেরত, আর কমেন্টে "ছবিতে এক, হাতে আরেক"। তাই প্রতিটা খেলনার একটা ছবি তুলুন চেনা কোনো জিনিসের পাশে, যেমন এক লিটারের পানির বোতল। সবার বাসায় এই বোতল আছে, তাই এক নজরে মাপ বোঝা যায়। সাথে লেখায় সেন্টিমিটারে লম্বা-চওড়া দিন।

একটা কাঠের টেবিলে একটা খেলনা ট্রাক রাখা, ঠিক পাশে একটা এক লিটারের পানির বোতল দাঁড় করানো, পেছনে সাদা দেয়াল, কোনো মানুষ নেই
এক লিটারের বোতলের পাশে রাখলে কাউকে আর মাপ জিজ্ঞেস করতে হয় না

ভিডিও খেলনায় ছবির চেয়েও বেশি কাজ করে, কারণ খেলনা চলে, আলো জ্বলে, শব্দ করে। এডিট ছাড়া এক মিনিটের একটা ভিডিও করুন। বক্স খুলছেন, ব্যাটারি ঢোকাচ্ছেন, খেলনা চলছে, আর শেষে বক্সে কী কী থাকছে দেখাচ্ছেন। বাবা-মা দেখেন জিনিসটা আসলেই চলে, আর বুঝে নেন কী কী পাবেন। এমন ভিডিও YouTube-এ আনলিস্টেড করে রাখা আর পেজে বসানোর নিয়ম রিয়েল প্রোডাক্ট ভিডিওর লেখায় আছে।

একই খেলনা কয়েক রঙে থাকলে প্রতিটা রঙের আলাদা ছবি তুলুন। WinningSeller-এ প্রোডাক্টের রঙের অপশনে প্রতিটা রঙের পাশে "ছবি বাছুন" দিয়ে সেই রঙের ছবি জুড়ে দেওয়া যায়, তাই কাস্টমার নীল বাছলে নীল গাড়িটাই দেখেন, আর অর্ডারেও নীলের ছবি যায়। "রিয়েল ভিডিও (YouTube)" ঘরে লিংক দিলে অর্ডার বাটনের নিচে "এই প্রোডাক্টের এডিট ছাড়া রিয়েল ভিডিও দেখুন" বাটন আসে। আর ল্যান্ডিং পেজের "খেলনা আর গিফট" টেমপ্লেটে "বাবা-মা যা আগে জানতে চান" অংশে বয়স, ছোট পার্টস, পরিষ্কার করার নিয়ম আর ব্যাটারির ঘর আগে থেকেই বানানো, আপনি শুধু সত্যি কথাটা বসাবেন। উপহারের একটা অংশও আছে, যেটা কাস্টমারকে বলে দেয় অর্ডার ফর্মে যাঁকে দেবেন তাঁর নাম-ঠিকানা লিখতে, আর ক্যাশ অন ডেলিভারিতে টাকা দেবেন যিনি হাতে নেবেন। আর কী কী করা যায়, ফিচারের পেজে একবার চোখ বুলিয়ে নিন।

ভাঙা আর ফেরত কমানোর প্যাকিং

খেলনার প্যাকিংয়ে আসল জিনিস দুটো, খেলনা আর তার বক্স। খেলনা না ভাঙলেও বক্স দুমড়ে গেলে উপহারটা আর উপহার থাকে না। তাই খেলনার বক্সটাকেই একটা দামি জিনিস ভেবে প্যাক করুন। বক্সের চার কোনায় কার্ডবোর্ডের কর্নার বা ভাঁজ করা কাগজ দিন, পুরো বক্স এক-দুই পাক বাবল র‍্যাপে মুড়ুন, তারপর একটু বড় শক্ত কার্টনে ঢোকান যাতে চারপাশে আঙুল দুয়েক জায়গা থাকে। সেই ফাঁক কাগজ বা বাবল র‍্যাপ দিয়ে ভরুন।

শুধু পলিতে মুড়ে বক্সওয়ালা খেলনা পাঠাবেন না। পলিতে বক্সের কোনা প্রথম হাবেই চ্যাপ্টা হয়। কার্টন বন্ধ করে একবার হালকা ঝাঁকিয়ে দেখুন ভেতরে কিছু নড়ে কি না। নড়লে আরও কাগজ দিন। কোন বক্স কত টাকায় পাবেন, ৩ প্লাই না ৫ প্লাই, আর ঝাঁকিয়ে পরীক্ষার পুরো নিয়ম কুরিয়ারের জন্য প্যাকেজিংয়ের লেখায় পাবেন।

একজন তরুণ সেলার প্যাকিং টেবিলে একটা খেলনার বক্স বাবল র‍্যাপে মুড়ছেন, বক্সের কোনায় কার্ডবোর্ডের কর্নার লাগানো, পাশে একটা খোলা শক্ত কার্টন আর টেপের রোল
বক্সটাই উপহার, তাই কোনা বাঁচিয়ে মুড়ুন

কনফার্ম কলেও ফেরত কমে। কল করে বলুন, "ভাই, গাড়িটা আমরা চালিয়ে দেখে পাঠাচ্ছি, ব্যাটারি বক্সের ভেতরে আলাদা প্যাকেটে আছে। রাইডারের সামনে বক্সটা একবার দেখে নেবেন।" যিনি উপহার পাঠাচ্ছেন, তাঁকে জিজ্ঞেস করুন পার্সেল কে হাতে নেবেন আর টাকা কে দেবেন। উপহারের পার্সেলে প্রায়ই দেখা যায় যিনি হাতে নিচ্ছেন তিনি জানতেনই না টাকা দিতে হবে, আর পার্সেল ফেরত আসে।

কখন খেলনার ব্যবসায় নামবেন না

যদি শুধু সবচেয়ে সস্তা খেলনা দিয়ে দামের লড়াই করতে চান, তাহলে অনলাইনে এই ব্যবসা আপনার জন্য না। ১০০-১৫০ টাকার খেলনায় কুরিয়ার আর অ্যাডের খরচ মেটে না, আর ফেরতের একটা পার্সেলেই কয়েকটার লাভ যায়। এমন খেলনা মেলা বা দোকানে বেচাই ভালো।

যে খেলনার উৎস জানেন না, বক্সে কোনো আমদানিকারক বা বানানেওয়ালার নাম নেই, সেই লট দিয়েও শুরু করবেন না। খেলনা এখন BSTI-র বাধ্যতামূলক তালিকায়, তাই উৎসহীন মাল বেচা আগের চেয়ে ঝুঁকির। আর ঈদের আগের সপ্তাহে প্রথমবার খেলনা তুলতে যাবেন না। তখন দাম বেশি, কুরিয়ার ব্যস্ত, আর চালিয়ে দেখার সময় পাবেন না। প্রথম লটটা শান্ত সময়ে তুলুন। খেলনার ব্যবসায় ভুল করে শেখার সবচেয়ে সস্তা সময় এটাই, তাই আমি প্রথম লটের জন্য এটাকেই নিয়ম বলি।

আজই করে ফেলুন

  1. তিনটা বয়সের দল ঠিক করুন, আর প্রতিটা দলের জন্য দুটো করে খেলনার নাম লিখুন যেটা আপনি বেচতে চান।
  2. BSTI-র ওয়েবসাইটে বাধ্যতামূলক তালিকার পেজটা খুলে "নতুন ৭ টি" তালিকাটা নিজের চোখে দেখুন, আর নিকটস্থ BSTI অফিসের ফোন নম্বর খাতায় তুলুন।
  3. চকবাজারে যাওয়ার আগে পাইকারকে জিজ্ঞেস করার তিনটা প্রশ্ন ফোনের নোটে লিখে রাখুন, বক্সে কী লেখা, ব্যাটারি সাথে কি না, নষ্ট হলে বদল কি না।
  4. ওপরের টেবিলে নিজের কেনা দাম, অ্যাডের খরচ আর বিক্রির দাম বসিয়ে দেখুন একটা খেলনায় কত থাকে।
  5. বাসার এক লিটারের পানির বোতলটা আলাদা করে রাখুন, ছবি তোলার দিন কাজে লাগবে।
  6. নিজের কুরিয়ারের অ্যাকাউন্ট ম্যানেজারকে মেসেজ দিন, ব্যাটারির খেলনা পাঠানোর কোনো আলাদা নিয়ম আছে কি না।

সাধারণ প্রশ্ন

অনলাইনে কোন খেলনা বেশি চলে?

যে খেলনা ছবিতে আর ভিডিওতে বোঝানো যায়, পার্সেলে ভাঙে না আর উপহার হিসেবে দেওয়া যায়, সেগুলোই বেশি চলে। যেমন বিল্ডিং ব্লক, পাজল, শেখার খেলনা, রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি আর বয়স ধরে সাজানো গিফট সেট। খুব সস্তা প্লাস্টিকের খেলনা কুরিয়ার চার্জের তুলনায় লাভ রাখে না, আর কাচ বা পাতলা প্লাস্টিকের খেলনা পথে ভাঙে।

খেলনা বিক্রি করতে কি BSTI লাইসেন্স লাগে?

শিল্প মন্ত্রণালয়ের ২২ জুন ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপনে (এস. আর. ও. নং ২৩২-আইন/২০২৬) খেলনা বাধ্যতামূলক তালিকায় এসেছে। মান না মানা খেলনার বিক্রি, বিতরণ আর বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন সেখানে নিষেধ। লাইসেন্স সাধারণত নেন দেশে যিনি বানান, আর আমদানির চালান ছাড় হয় BSTI-র পরীক্ষার পর। আপনি খুচরা বেচলেও যে খেলনা বেচছেন সেটা মান মেনেছে কি না, পাইকারের কাছ থেকে কাগজ চেয়ে নিন, আর নিজের ক্ষেত্রে কী লাগবে BSTI-র অফিসে জিজ্ঞেস করুন।

খেলনার পাইকারি বাজার কোথায়?

ঢাকায় খেলনার পাইকারির প্রধান জায়গা পুরান ঢাকার চকবাজার। প্রথম আলোর জুন ২০২৬-এর লেখা অনুযায়ী ১ নম্বর গলি, ফ্রেন্ডশিপ মার্কেট, মদিনা আশিক টাওয়ার আর বিসমিল্লাহ টাওয়ার মিলে এই বাজার, আর শুক্রবার এখানকার মূল মার্কেট বন্ধ থাকে। যাওয়ার আগে দিনটা মিলিয়ে নিন।

খেলনার ব্যবসায় কত টাকা লাগে?

অল্প দিয়েই শুরু করা যায়। একটা ভালো চলা খেলনার ডজন খানেক পিস, ব্যাটারি, প্যাকিংয়ের জিনিস আর প্রথম কয়েক দিনের অ্যাড মিলিয়ে দশ-পনেরো হাজার টাকায় পরীক্ষা করা যায়। এক লটে সব টাকা না ঢেলে নতুন খেলনার দুই পিস এনে আগে দেখুন চলে কি না।

ব্যাটারির খেলনা কুরিয়ারে পাঠানো যায়?

সাধারণত যায়, তবে কুরিয়ারের নিয়ম আগে দেখে নিন। eCourier-এর শর্তের পেজে লেখা আছে, ইলেকট্রনিক জিনিস থেকে সম্ভব হলে ব্যাটারি খুলে আলাদা প্যাক করতে। খেলনা চালিয়ে দেখার পর ব্যাটারি খুলে আলাদা ছোট প্যাকেটে দিন, আর বাক্সে লিখে দিন কোন সাইজের ব্যাটারি লাগবে।

খেলনার দোকানের পেজে বয়স লেখা কেন জরুরি?

বাবা-মা কেনার আগে প্রথমেই জানতে চান খেলনাটা কত বছরের বাচ্চার জন্য। বয়স না লিখলে ভুল বয়সের বাচ্চার জন্য অর্ডার হয়, তারপর ফেরত আসে। আর ছোট খুলে আসা অংশ থাকলে ৩ বছরের কম বাচ্চার জন্য সেটা বিপদের, তাই পেজে পরিষ্কার লিখুন।

#খেলনা ব্যবসার আইডিয়া#বাচ্চাদের খেলনা ব্যবসা#খেলনা পাইকারি#BSTI খেলনা#রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি#অনলাইন ব্যবসা

আরও পড়ুন

থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম

থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

কাজু-কাঠবাদামের ব্যবসা, বাদাম পাইকারি কিনে প্যাকেটে বেচার নিয়ম

শীত আর রোজার আগে বাদাম-কিশমিশের চাহিদা বাড়ে। কোন জিনিস দিয়ে শুরু করবেন, বাদাম পাইকারি কোথায় আর প্রথম লটে কতটা, কাজুর গ্রেড আর তাজা মাল চেনা, ২৫০ আর ৫০০ গ্রামের প্যাকের আসল হিসাব, লেবেল আর গিফট প্যাক।

·১৩ মিনিটে পড়া যায়