WinningSeller
অনলাইন ব্যবসা শুরু১২ মিনিটে পড়া যায়

থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম

থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।

থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম
এই লেখায় যা আছে
  1. থ্রিফট শপিং কি, কাস্টমার কেন কেনেন
  2. মাল আসে কোথা থেকে, আইন কী বলে
  3. একটা গাইট খুলে বাছাই, ভালো-মাঝারি-বাদ
  4. ধোয়া, সারানো আর ছবি তোলা
  5. কন্ডিশন কীভাবে লিখবেন, সত্যি করে
  6. গাইটের দাম থেকে এক পিসের দাম (উদাহরণ)
  7. কখন থ্রিফট ব্যবসা শুরু করবেন না
  8. আজই করে ফেলুন

থ্রিফট শপিং মানে আগে পরা, কিন্তু ভালো অবস্থার কাপড় কম দামে কেনা। বাংলাদেশে ফেসবুকের থ্রিফট পেজগুলো সাধারণত বিদেশ থেকে আসা পুরনো জ্যাকেট, সোয়েটার, শার্ট আর প্যান্ট ধুয়ে, বেছে, এক পিস এক পিস করে বেচে। থ্রিফট ব্যবসা করতে চাইলে চারটা জিনিস জানতে হয়। মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, একটা গাইট খুলে কীভাবে বাছাই করবেন, প্রতিটা পিস ধুয়ে কন্ডিশন কীভাবে সত্যি করে লিখবেন, আর গাইটের দাম থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন।

বিকেলে ফেসবুকে একটা থ্রিফট পেজের পোস্ট চোখে পড়ল। একটা জাপানি জিপার জ্যাকেট, নিচে সত্তরটা কমেন্ট, প্রথম কমেন্টেই লেখা "সোল্ড"। আপনি ভাবলেন, এই জ্যাকেট তো সদরঘাটে কয়েকশো টাকায় পাওয়া যায়। কথাটা অর্ধেক সত্যি। বাকি অর্ধেক হলো যে কাজটা চোখে পড়ে না। এক গাইট থেকে কোনটা বেচার মতো আর কোনটা না, তা বাছা, প্রতিটা পিস ধোয়া, দাগ খুঁজে বের করা, আর ছবির নিচে দাগটার কথা নিজেই আগে লিখে দেওয়া। থ্রিফট পেজের নাম আর ফেরত দুটোই এই কাজের ওপর দাঁড়ায়।

থ্রিফট শপিং কি, কাস্টমার কেন কেনেন

থ্রিফট শব্দটা এসেছে বিদেশের থ্রিফট শপ থেকে, যেখানে মানুষের দান করা বা বেচে দেওয়া পুরনো কাপড় কম দামে বিক্রি হয়। বাংলাদেশে শব্দটা একটু অন্য রকম মানে নিয়েছে। এখানে থ্রিফট বলতে মানুষ বোঝেন বিদেশ থেকে আসা পুরনো কাপড়, যেটা বেছে, ধুয়ে, ছবি তুলে অনলাইনে বেচা হয়। শীতের জ্যাকেট, হুডি, সোয়েটার, শার্ট আর প্যান্ট এর বড় অংশ।

কাস্টমার কেন কেনেন, সেটা বুঝলে কী বেচবেন তাও বোঝা যায়। প্রথম কারণ কাপড়। একটা ভালো বিদেশি জ্যাকেটের কাপড় আর সেলাই একই দামের নতুন দেশি জ্যাকেটের চেয়ে অনেক সময় ভালো হয়। দ্বিতীয় কারণ ব্র্যান্ড। চেনা ব্র্যান্ডের নতুন জিনিস যাঁর সাধ্যের বাইরে, তিনি সেটা থ্রিফটে খোঁজেন। তৃতীয় কারণ একটাই পিস। কলেজের ছেলেরা চান এমন জ্যাকেট, যেটা ক্লাসে আর কারো গায়ে নেই। আর চতুর্থ কারণ দাম, বিশেষ করে শীতে।

এর মানে আপনার পেজের আসল জিনিস হলো বাছাই করার চোখ। যে কেউ গাইট কিনতে পারেন। কিন্তু একশো পিসের ভেতর থেকে কোন পঁচিশটা মানুষ সত্যিই চাইবেন, সেটা যিনি ধরতে পারেন, তাঁর পেজে মানুষ বারবার ফিরে আসেন। পুরনো কাপড়ের এই ব্যবসা আর নতুন কাপড়ের এক্সপোর্টের বাড়তি মাল, মানে স্টক লট, এক জিনিস না। স্টক লট নতুন, ট্যাগসহ মাল, সেটার নিয়ম আলাদা, আর সেটা স্টক লটের ব্যবসার লেখায় বিস্তারিত আছে।

মাল আসে কোথা থেকে, আইন কী বলে

পুরনো কাপড় বাংলাদেশে আসে আমদানি করে, আর সেই আমদানির নিয়ম কড়া। ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে যে আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯ আছে (২৪ আগস্ট ২০২৬-এর গেজেট), তার অনুচ্ছেদ ৩০(৯)-এ "পুরাতন কাপড়" নিয়ে আলাদা নিয়ম লেখা। সেখানে বলা আছে, শুধু বাছাই করা আমদানিকারকরা আগে অনুমতি নিয়ে পুরনো কাপড় আনতে পারবেন, আর আনা যাবে শুধু ছয় রকম জিনিস। কম্বল, সোয়েটার, লেডিস কার্ডিগান, জিপার জ্যাকেটসহ ছেলেদের জ্যাকেট, ছেলেদের ট্রাউজার, আর সিনথেটিক ও ব্লেন্ডেড কাপড়ের শার্ট।

একই অনুচ্ছেদে আরও কয়েকটা শর্ত আছে। প্রতিটা আমদানিকারকের ভাগ সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকা, আর প্রতিটা জিনিসের ওজনের সীমা আলাদা করে বাঁধা। সারা দেশে মোট ৩ হাজার আমদানিকারক বাছা হয় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বের কমিটির সবার সামনে করা লটারিতে, জনসংখ্যা ধরে জেলার কোটায়। প্রতিটা চালানের সাথে রপ্তানিকারক দেশের চেম্বারের সনদ লাগে যে ভেতরে নিষিদ্ধ কোনো জিনিস নেই, আর কাস্টমস খেয়াল রাখে মাল যেন আমদানিকারকের নিজের জেলায় যায়।

এবার আপনার জন্য এর মানে কী, সেটা সোজা করে বলি। আপনি যদি দেশের পাইকারের কাছ থেকে কেনেন, আপনি আমদানিকারক নন, আর এই লটারি বা অনুমতির ঝামেলা আপনার না। কিন্তু তালিকাটা মনে রাখুন। তালিকায় ছেলেদের জ্যাকেট আর ট্রাউজার আছে, সিনথেটিক শার্ট আছে, মেয়েদের মধ্যে শুধু কার্ডিগান, কিন্তু মেয়েদের অন্য পোশাক, বাচ্চাদের কাপড় বা শাড়ির নাম নেই। গাইটে বা দোকানে তালিকার বাইরের জিনিস বেশি দেখলে পাইকারকে জিজ্ঞেস করুন মাল কোথা থেকে, আর একটা রসিদ চান। উত্তর পরিষ্কার না হলে সেই মাল নেবেন না। এর বাইরে কোনো আইনি প্রশ্ন থাকলে একজন আইনজীবীর সাথে কথা বলুন।

মাল কোথায় পাওয়া যায়, সেটা সরকারি তালিকায় নেই, খবরে আছে। The Business Standard (TBS)-এর ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫-এর একটা প্রতিবেদনে লেখা, এই কাপড় আসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে, বেশিরভাগ জাপান, তাইওয়ান, কোরিয়া আর চীন থেকে। চট্টগ্রামে বড় পাইকারি জায়গা খাতুনগঞ্জের আমিন মার্কেট, মাঝিরঘাট আর জহুরা মার্কেট। ঢাকায় সদরঘাটের নর্থব্রুক হল রোড আর বাংলাবাজারের মল্লিক টাওয়ার থেকে খুচরা দোকানিরা মাল তোলেন। ব্যবসায়ীরা মালের বস্তাকে বলেন "বেল" বা "গাইট", আর জিপার জ্যাকেটের এক গাইটের ওজন ৮০ থেকে ১০০ কেজি।

একটা গাইট খুলে বাছাই, ভালো-মাঝারি-বাদ

গাইট কেনা অনেকটা না দেখে কেনা। বাইরে থেকে শুধু ধরন বোঝা যায়, জ্যাকেট না সোয়েটার। ভেতরের প্রতিটা পিসের অবস্থা খোলার পরেই জানা যায়। তাই প্রথমবার পুরো গাইট না কিনে দোকানে পিস ধরে বেছে কেনা যায় কি না, জিজ্ঞেস করুন। TBS-এর ওই প্রতিবেদনেও লেখা, শার্ট আর স্টাইলিশ জ্যাকেট অনেকে পিস ধরে বেচেন। দাম পিসপ্রতি বেশি পড়বে, কিন্তু প্রথম মাসে বুঝে যাবেন কোন জিনিস আপনার পেজে চলে।

গাইট খোলার দিন মেঝেতে একটা বড় পরিষ্কার মাদুর বা পলিথিন বিছিয়ে নিন, আর হাতের কাছে তিনটা বস্তা রাখুন। প্রতিটা পিস খুলে আলোর দিকে ধরে দেখুন, তারপর তিন বস্তার একটায় রাখুন।

একজন যুবক ঘরের মেঝেতে বিছানো মাদুরের ওপর একটা খোলা কাপড়ের গাইট থেকে জ্যাকেট বের করে তিনটা আলাদা স্তূপে রাখছেন, পাশে তিনটা খোলা বস্তা, জানালা দিয়ে দিনের আলো
খোলার দিনই তিন ভাগ, ভালো, মাঝারি আর বাদ

প্রথম বস্তা ভালো। চেন ঠিকমতো চলে, কোনো দাগ বা ফুটো নেই, কাপড় ফেঁসে যায়নি, কলার আর হাতার কিনারা ঘষা খায়নি। এগুলোই আপনার পেজের মুখ, বেশি দামে যাবে। দ্বিতীয় বস্তা মাঝারি। ছোট একটা দাগ, একটা বোতাম নেই, হাতার কিনারায় হালকা ঘষা, বা চেন একটু শক্ত। ধুয়ে আর ছোটখাটো সারিয়ে এগুলো কম দামে বেচা যায়, দাগের কথা সামনে লিখে। তৃতীয় বস্তা বাদ। বড় ফুটো, না-ওঠা দাগ, ছত্রাকের কালো ফোঁটা, ছেঁড়া লাইনিং বা ভেতরের ফোম গুঁড়া হয়ে যাওয়া জ্যাকেট। এগুলো অনলাইনে তুলবেন না। ঝাড়ু-মোছার কাপড় হিসেবে বা কেজি দরে স্থানীয় কারো কাছে দিয়ে দিন। কোনো পিস নিয়ে দ্বিধা হলে আমি সেটাকে মাঝারিতে না রেখে বাদের বস্তায় রাখতে বলি, কারণ একটা সন্দেহের পিস দশটা ভালো পিসের সুনাম খেয়ে ফেলে।

প্রথম কয়েকটা গাইটে বাছাইয়ের হিসাব খাতায় লিখে রাখুন, কোন গাইটে কয়টা ভালো, কয়টা মাঝারি, কয়টা বাদ। তিন-চারটা গাইট পরে বুঝবেন কোন পাইকারের মাল ভালো আসে আর কোন ধরনের গাইট আপনার জন্য লাভের। এই সংখ্যাটাই পরের হিসাবের ভিত।

ধোয়া, সারানো আর ছবি তোলা

প্রতিটা পিস ধুয়ে তারপর বেচুন, কোনো ব্যতিক্রম ছাড়া। গাইটের কাপড় মাসের পর মাস বাঁধা অবস্থায় থাকে, অনেক সময় ভ্যাপসা গন্ধ আর ধুলা নিয়ে আসে। না ধুয়ে পাঠালে কাস্টমার প্যাকেট খুলেই গন্ধ পান, আর সেই প্রথম অনুভূতি থেকেই রিভিউ লেখেন। জ্যাকেটের গায়ের লেবেলে ধোয়ার নিয়মের চিহ্ন থাকলে সেটা মানুন। চামড়া, সোয়েড বা ভেতরে পালক ভরা জ্যাকেট সাধারণ সাবান-পানিতে নষ্ট হতে পারে, এগুলো আলাদা করে রাখুন আর লন্ড্রিতে জিজ্ঞেস করে নিন।

ধোয়ার পরে রোদে পুরো শুকিয়ে নিন, ভেজা অবস্থায় ভাঁজ করে রাখলে আবার গন্ধ ধরে। তারপর ভাপ দিন বা ভেজা কাপড় রেখে আয়রন করুন। ভাঁজ-পড়া জ্যাকেটের ছবি সস্তা দেখায়, ঠিক যেন পুরনো মাল, অথচ ভাপ দেওয়া একই জ্যাকেট দেখায় যত্নে রাখা জিনিসের মতো।

একজন যুবক হ্যাঙ্গারে ঝোলানো একটা ধূসর হুডিতে হাতে ধরা গার্মেন্ট স্টিমার দিয়ে ভাপ দিচ্ছেন, পেছনে একটা র‍্যাকে ধোয়া কয়েকটা জ্যাকেট ঝুলছে
ধোয়া, শুকানো, ভাপ, তারপর ছবি

ছোট সারাই নিজের হাতে বা পাড়ার দর্জিকে দিয়ে করিয়ে নিন। একটা বোতাম লাগানো, একটা আলগা সেলাই, চেনের টানার মাথা বদলানো, এসবে খরচ সামান্য, কিন্তু মাঝারি বস্তার একটা জ্যাকেট তখন ভালোর কাছাকাছি দামে যায়। যা সারানো যায় না, সেটা লুকাবেন না, কন্ডিশনে লিখবেন। সেটা পরের অংশে।

ছবি তুলুন জানালার পাশে দিনের আলোয়, হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে বা একটা ছেলেকে পরিয়ে। প্রতিটা পিসের সামনে, পেছনে, লেবেল আর যেকোনো দাগ বা খুঁতের কাছ থেকে একটা করে ছবি দিন। মোবাইলে আলো আর ব্যাকগ্রাউন্ড ঠিক করার পুরো নিয়ম মোবাইল দিয়ে প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফির লেখায় আছে। থ্রিফটের বাড়তি কাজ একটাই, প্রতিটা পিসের নিজের ছবি। একই রকম দশটা জ্যাকেটের একটা ছবি দিয়ে চালালে কাস্টমার যে পিস পাবেন, সেটা ছবির পিস না, আর থ্রিফটে সেটাই ফেরতের সবচেয়ে বড় কারণ।

জানালার পাশে দেয়ালের হুকে ঝোলানো একটা নেভি জিপার জ্যাকেট, সামনে একজন যুবক মোবাইল হাতে জ্যাকেটের ছবি তুলছেন, পাশে চেয়ারে ভাঁজ করা আরও কয়েকটা জ্যাকেট
প্রতিটা পিসের নিজের ছবি, অন্য পিসের না

WinningSeller-এ এই একটা-পিসের ঝামেলা সহজ করার উপায় আছে। প্রতিটা জ্যাকেটকে আলাদা প্রোডাক্ট বানিয়ে "স্টকের হিসাব রাখুন" চালু করে স্টক ১ দিলে, একজন অর্ডার করলেই সেই পিসের স্টক শেষ, আর দ্বিতীয়জন সেটা অর্ডার করতে পারেন না। প্রোডাক্টের ফর্মে নামের নিচে "আর্টিকেল নম্বর" দিন, যেমন TJ-041, তাহলে অর্ডার, ইনভয়েস আর পার্সেল লেবেলে কোডটা যায়, আর প্যাকিংয়ের সময় একই রকম দুটো জ্যাকেট গুলিয়ে যায় না। কোড কীভাবে সাজাবেন, সেটা প্রোডাক্ট কোড আর SKU-র লেখায় আছে। দোকানের প্রোডাক্টের লিস্টে "শুধু স্টকে থাকা প্রোডাক্ট" ফিল্টার নিজে থেকেই থাকে, তাই কাস্টমার বিক্রি হয়ে যাওয়া পিস সরিয়ে শুধু বাকিগুলো দেখতে পারেন। আর "রিয়েল ভিডিও (YouTube)" ঘরে একটা ছোট ভিডিওর লিংক দিলে প্রোডাক্ট পেজে "এই প্রোডাক্টের এডিট ছাড়া রিয়েল ভিডিও দেখুন" বাটন আসে, যেটা পুরনো কাপড়ে বিশ্বাস আনতে খুব কাজের। বাকি সব কাজ WinningSeller-এর ফিচারের তালিকায় একসাথে পাবেন।

এক পিসের প্রোডাক্ট কোডসহ সাজিয়ে দেখুনপ্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম

কন্ডিশন কীভাবে লিখবেন, সত্যি করে

থ্রিফটের পুরো ব্যবসা একটা জিনিসের ওপর দাঁড়িয়ে, কাস্টমার যা পড়লেন, হাতে ঠিক তাই পেলেন কি না। তাই কন্ডিশন লেখার কয়েকটা সোজা শব্দ ঠিক করুন, আর সব পোস্টে একই মানে ধরে রাখুন। যেমন "ইউজড, খুব ভালো অবস্থা" মানে কোনো দাগ বা খুঁত চোখে পড়ে না। "ইউজড, ভালো অবস্থা" মানে ছোট খুঁত আছে, ছবিতে দেখানো। "ইউজড, খুঁতসহ" মানে চোখে পড়ার মতো দাগ বা সারাই আছে, তাই দাম কম। পেজের পিন করা পোস্টে এই তিনটার মানে লিখে রাখুন।

একটা জ্যাকেটের হাতার কাছ থেকে তোলা ছবি, কিনারায় আধা সেন্টিমিটারের একটা ছোট সাদা দাগ, পাশে একটা মাপের ফিতা রাখা যাতে দাগের আকার বোঝা যায়, কোনো মানুষ নেই
খুঁতের ছবি পাশে ফিতা রেখে, যাতে আকারটা বোঝা যায়

সাইজের বেলায় পুরনো লেবেলে ভরসা করবেন না। বিদেশি লেবেলের M বাংলাদেশের M না-ও হতে পারে, আর বছরের পর বছর ধোয়ায় কাপড় ছোটও হয়। প্রতিটা পিস টেবিলে বিছিয়ে বুক, লম্বা আর হাতা মেপে ইঞ্চিতে লিখুন, লেবেলের সাইজ বন্ধনীতে। কাস্টমারকে বলুন তাঁর গায়ে ঠিক লাগে এমন একটা জ্যাকেট মেপে মিলিয়ে নিতে।

ফেরতের নিয়মটাও আগে থেকে লিখে দিন, কারণ একটাই পিস বলে বদলে দেওয়ার উপায় নেই। অনেক থ্রিফট পেজ লেখে, মাপ আর ছবি মিলিয়ে নিন, ছবিতে না দেখানো খুঁত থাকলে ফেরত নেওয়া হবে, সাইজ না লাগলে না। আপনি কোন নিয়ম রাখবেন সেটা আপনার সিদ্ধান্ত, কিন্তু যেটা রাখবেন সেটা অর্ডারের আগেই লেখা থাকতে হবে। আর ডেলিভারির সময় কাস্টমার রাইডারের সামনে খুলে দেখতে পারবেন কি না, সেটাও বলে দিন।

গাইটের দাম থেকে এক পিসের দাম (উদাহরণ)

এবার পুরো হিসাব। গাইটের দামের সীমা TBS-এর ডিসেম্বর ২০২৫-এর প্রতিবেদন থেকে, জিপার জ্যাকেটের গাইট ১৮,০০০ থেকে ৩৫,০০০ টাকা। নিচের সংখ্যাগুলো সেই সীমার ভেতরে বোঝানোর জন্য ধরে নেওয়া, নিজের গাইটের হিসাব বসিয়ে আবার কষে নিন। কুরিয়ারের সংখ্যা Steadfast-এর, ১২ অক্টোবর ২০২৬।

ধরুন একটা জ্যাকেটের গাইট কিনলেন ২৮,০০০ টাকায়, খুলে পেলেন ১০০ পিস। বাছাইয়ে দাঁড়াল ২৫টা ভালো, ৪৫টা মাঝারি আর ৩০টা বাদ। আনার ভাড়া ৮০০ টাকা, ৭০টা পিস ধোয়া-শুকানো-ভাপ মিলিয়ে পিসপ্রতি ২০ টাকা করে ১,৪০০ টাকা, আর ছোট সারাইয়ে ৭০০ টাকা। মোট খরচ ২৮,০০০ + ৮০০ + ১,৪০০ + ৭০০ = ৩০,৯০০ টাকা। বাদের ৩০টা পিস ৩০ টাকা করে দিয়ে দিলেন, ফেরত এলো ৯০০ টাকা। তাহলে বেচার মতো ৭০টা পিসের ঘাড়ে খরচ ৩০,০০০ টাকা।

এখন এই খরচ সব পিসে সমান ভাগ করবেন না, কারণ ভালো পিসের দাম মাঝারির প্রায় দ্বিগুণ। সহজ নিয়ম হলো, প্রতিটা ভালো পিসকে দুই ভাগ আর প্রতিটা মাঝারি পিসকে এক ভাগ ধরা। মোট ভাগ ২৫ × ২ + ৪৫ = ৯৫। এক ভাগের খরচ ৩০,০০০ ÷ ৯৫ = প্রায় ৩১৬ টাকা। তাহলে একটা ভালো পিসের খরচ প্রায় ৬৩২ টাকা, আর মাঝারির ৩১৬ টাকা।

একটা নকশা, বাঁয়ে একটা গাইটের ছবি আর তার নিচে মোট খরচ ৩০,৯০০ টাকা, মাঝে তিন রঙের তিনটা স্তূপ ভালো ২৫, মাঝারি ৪৫ আর বাদ ৩০, ডানে প্রতিটা ভালো পিসের খরচ ৬৩২ টাকা আর মাঝারির ৩১৬ টাকা
এক গাইট, তিন ভাগ, দুই রকম খরচ

ধরুন ভালো পিস বেচেন ১,৩৫০ টাকায়, মাঝারি ৬৯০ টাকায়, ঢাকার বাইরের ডেলিভারি চার্জ নেন ১৩০ টাকা। একটা ভালো পিসে কাস্টমার দেন ১,৪৮০ টাকা। Steadfast-এর রেট ক্যালকুলেটরে দেখা, ঢাকার বাইরে ১ কেজি পর্যন্ত চার্জ ১৩৫ টাকা, প্রতি বাড়তি কেজিতে ২০ টাকা বেশি। প্যাক করা জ্যাকেট ১ কেজির মধ্যে থাকলে কুরিয়ার কাটে ১৩৫ টাকা, আর টার্মসে লেখা COD চার্জ ১% কাটে ডেলিভারি চার্জ বাদে বাকি টাকার ওপর, মানে ১,৩৪৫ টাকার ১%, প্রায় ১৩ টাকা। পলি ১০ টাকা, আর অর্ডারপ্রতি অ্যাড ধরুন ১২০ টাকা। হাতে থাকে ১,৪৮০ − ৬৩২ − ১৩৫ − ১৩ − ১০ − ১২০ = ৫৭০ টাকা। মাঝারি পিসে কাস্টমার দেন ৮২০ টাকা, COD ৬৮৫ টাকার ১%, প্রায় ৭ টাকা। থাকে ৮২০ − ৩১৬ − ১৩৫ − ৭ − ১০ − ১২০ = ২৩২ টাকা।

কিন্তু গাইটের আসল লাভ ঠিক হয় শেষের পিসগুলোতে। ধরুন ২৫টা ভালোই বিক্রি হলো, মাঝারির ৪৫টার মধ্যে ৩৫টা, আর ১০টা পড়ে রইল। লাভ ২৫ × ৫৭০ + ৩৫ × ২৩২ = ১৪,২৫০ + ৮,১২০ = ২২,৩৭০ টাকা। পড়ে থাকা ১০টার খরচ ১০ × ৩১৬ = ৩,১৬০ টাকা এখান থেকে বাদ দিলে গাইটে থাকে ১৯,২১০ টাকা। মানে মাঝারি পিস যত বেশি পড়ে থাকে, লাভ তত দ্রুত কমে। তাই নতুন গাইট কেনার আগে আগের গাইটের মাঝারিগুলো বান্ডেল অফারে বা কম দামে শেষ করুন।

কখন থ্রিফট ব্যবসা শুরু করবেন না

প্রতিটা পিস ধোয়া, শুকানো আর ভাপ দেওয়ার জায়গা আর সময় না থাকলে শুরু করবেন না। থ্রিফটে মাল কেনা সহজ অংশ। আসল সময় যায় প্রতিটা পিস হাতে নিয়ে কাজ করতে, আর সেই কাজ বাদ দিলে পেজটা "পুরনো মালের দোকান" হয়ে যায়, থ্রিফট পেজ না।

একই জিনিস বারবার বেচতে চাইলে এই ব্যবসা আপনার জন্য না। থ্রিফটে প্রতিটা পোস্ট একবারের। যে জ্যাকেট ভাইরাল হলো, সেটা আর একটাও নেই। যাঁরা একটা প্রোডাক্টে অ্যাড চালিয়ে মাসভর একই জিনিস বেচতে চান, তাঁদের জন্য নতুন মালই ভালো। শীতের নতুন কাপড়ের মৌসুম আর পাইকারির হিসাব শীতকালের ব্যবসার লেখায় আছে।

হাতে মোটে কয়েক হাজার টাকা থাকলে পুরো গাইট দিয়ে শুরু করবেন না। এক গাইটের টাকা কয়েক মাস ধরে একটু একটু করে ফেরে, আর প্রথম গাইটেই যদি বাদ বেশি পড়ে, পুরো পুঁজি আটকে যায়। আগে পিস ধরে বিশ-ত্রিশটা কিনে দেখুন আপনার পেজে কী চলে। আর মাল কোথা থেকে এসেছে সেই প্রশ্নে পাইকার যদি এড়িয়ে যান, সেখান থেকে কিনবেন না, যত সস্তাই হোক।

আজই করে ফেলুন

গাইট কেনার আগেই, ঘরে বসে আজ এগুলো করে ফেলুন।

  1. নিজের আলমারির একটা পুরনো জ্যাকেট বা শার্ট নিয়ে ধুয়ে, ভাপ দিয়ে, সামনে-পেছনে-লেবেল-খুঁত মিলিয়ে চারটা ছবি তুলুন। এটাই আপনার ছবির নমুনা।
  2. সেই পিসটা টেবিলে বিছিয়ে বুক, লম্বা আর হাতা মাপুন, আর লেবেলের সাইজের সাথে মিলিয়ে দেখুন।
  3. কন্ডিশনের তিনটা শব্দ আর তাদের মানে লিখে পিন করার জন্য একটা পোস্ট রেডি করুন।
  4. ফেরতের নিয়ম তিন লাইনে লিখুন, কোন অবস্থায় ফেরত নেবেন আর কোন অবস্থায় না।
  5. সদরঘাট বা চট্টগ্রামের একজন পাইকারের নম্বর জোগাড় করে জিজ্ঞেস করুন পিস ধরে বেছে কেনা যায় কি না, আর মাল কোথা থেকে আসে।
  6. বাছাইয়ের হিসাবের জন্য খাতায় একটা ছক বানান, গাইটের দাম, ভালো, মাঝারি, বাদ আর বিক্রি।

সাধারণ প্রশ্ন

থ্রিফট শপিং কি?

থ্রিফট শপিং মানে আগে পরা, কিন্তু ভালো অবস্থার কাপড় কম দামে কেনা। বাংলাদেশে ফেসবুকের থ্রিফট পেজগুলো সাধারণত বিদেশ থেকে আসা পুরনো জ্যাকেট, সোয়েটার, শার্ট আর প্যান্ট ধুয়ে, বেছে, এক পিস এক পিস করে বেচে। কাস্টমার কেনেন ভালো কাপড়, চেনা ব্র্যান্ড আর এমন ডিজাইনের জন্য, যেটা আর কারো গায়ে দেখবেন না।

বাংলাদেশে পুরনো কাপড় আমদানি কি বৈধ?

শর্তসাপেক্ষে বৈধ। আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯-এর অনুচ্ছেদ ৩০(৯) অনুযায়ী লটারিতে বাছাই করা আমদানিকারকরা আগে অনুমতি নিয়ে শুধু কম্বল, সোয়েটার, লেডিস কার্ডিগান, ছেলেদের জ্যাকেট, ছেলেদের ট্রাউজার আর সিনথেটিক বা ব্লেন্ডেড কাপড়ের শার্ট আনতে পারেন। আপনি দেশের পাইকার থেকে কিনলে আমদানিকারক নন, তবে পাইকারকে জিজ্ঞেস করে নিন মাল কোথা থেকে এসেছে।

থ্রিফটের মাল কোথায় পাওয়া যায়?

The Business Standard-এর ডিসেম্বর ২০২৫-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের আমিন মার্কেট, মাঝিরঘাট আর জহুরা মার্কেট বড় পাইকারি জায়গা। ঢাকায় সদরঘাটের নর্থব্রুক হল রোড আর বাংলাবাজারের মল্লিক টাওয়ারের নাম আছে। শুরুতে পুরো গাইট না কিনে পিস ধরে বেছে কেনা যায় কি না, দোকানে জিজ্ঞেস করুন।

একটা গাইটে কত পিস থাকে, দাম কত?

একই প্রতিবেদনে জিপার জ্যাকেটের এক গাইটের ওজন লেখা ৮০ থেকে ১০০ কেজি, দাম ১৮,০০০ থেকে ৩৫,০০০ টাকা, আর সোয়েটার ও ছোট কাপড়ের গাইট ১৫,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকা। পিসের সংখ্যা কাপড়ের ধরন আর ওজনের ওপর নির্ভর করে, তাই কেনার আগে পাইকারকে জিজ্ঞেস করুন গাইটে মোটামুটি কয় পিস আর কোন ধরনের মাল।

থ্রিফটের কাপড় কি ধুয়ে বেচতে হয়?

হ্যাঁ, প্রতিটা পিস। গাইটের কাপড় অনেক দিন বাঁধা অবস্থায় থাকে, প্রায়ই ভ্যাপসা গন্ধ আর ধুলা থাকে। ধুয়ে, শুকিয়ে, ভাপ দিয়ে তারপর ছবি তুলুন, আর পেজে লিখে দিন "ধোয়া আর আয়রন করা অবস্থায় পাঠানো হয়"।

থ্রিফট পেজের নাম কী দেব?

ছোট, উচ্চারণে সহজ আর কাপড়ের সাথে মেলে এমন নাম দিন, যেটা ফেসবুকে আগে কেউ নেয়নি। কোনো বিদেশি ব্র্যান্ডের নাম বা লোগো নিজের পেজের নামে বসাবেন না, মালে ব্র্যান্ড থাকলেও। নাম ঠিক করার আগে ফেসবুক আর ডোমেইন দুটোতেই খুঁজে দেখুন খালি আছে কি না।

#থ্রিফট শপিং#থ্রিফট শপ বিডি#পুরনো বিদেশি কাপড়#থ্রিফট জ্যাকেট#শীতের কাপড়#অনলাইন ব্যবসা

আরও পড়ুন

খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম

বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

কাজু-কাঠবাদামের ব্যবসা, বাদাম পাইকারি কিনে প্যাকেটে বেচার নিয়ম

শীত আর রোজার আগে বাদাম-কিশমিশের চাহিদা বাড়ে। কোন জিনিস দিয়ে শুরু করবেন, বাদাম পাইকারি কোথায় আর প্রথম লটে কতটা, কাজুর গ্রেড আর তাজা মাল চেনা, ২৫০ আর ৫০০ গ্রামের প্যাকের আসল হিসাব, লেবেল আর গিফট প্যাক।

·১৩ মিনিটে পড়া যায়