WinningSeller
মার্কেটিং ও ল্যান্ডিং পেজ১১ মিনিটে পড়া যায়

ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে প্রোডাক্ট পেজে দেখান, এডিট ছাড়া রিয়েল ভিডিও

কাস্টমার বলছেন ছবি এডিট করা, আসল জিনিসটা দেখতে চান? মোবাইলে এক টেকে ষাট সেকেন্ডের একটা ভিডিও করে YouTube-এ Unlisted করে রাখুন, লিংকটা প্রোডাক্ট পেজে বসান। কী দেখাবেন, ধাপে ধাপে আপলোড, Public-Unlisted-Private-এর তফাত, আর কখন ভিডিও না দেওয়াই ভালো।

ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে প্রোডাক্ট পেজে দেখান, এডিট ছাড়া রিয়েল ভিডিও
এই লেখায় যা আছে
  1. এডিট ছাড়া ভিডিও কেন বিশ্বাস আনে, ছবির সাথে পার্থক্য কোথায়
  2. কী দেখাবেন, এক টেকে ৬০ সেকেন্ড
  3. মোবাইল দিয়ে ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করার নিয়ম, ধাপে ধাপে
  4. Public, Unlisted না Private, কোনটা দেবেন
  5. Shorts নাকি সাধারণ ভিডিও
  6. লিংক কপি করে প্রোডাক্ট পেজে বসানো
  7. ভিডিও থাকলে ফেরত কত কমতে পারে, একটা হিসাব (উদাহরণ)
  8. কখন ভিডিও দেবেন না
  9. আজই করে ফেলুন

ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করার নিয়মটা খুব সোজা। ফোনে YouTube অ্যাপ খুলুন, Create চাপুন, Video বেছে ভিডিওটা দিন, Next চেপে নাম লিখুন, কে কে দেখতে পারবেন সেটা বাছুন, তারপর আপলোড করুন। প্রোডাক্টের ভিডিওর বেলায় আসল প্রশ্ন অবশ্য আপলোড না, প্রশ্ন হলো কোন ভিডিও, আর কোথায় দেখাবেন। জবাবটা এমন। দিনের আলোয় এক টেকে, কোনো কাটাকাটি ছাড়া প্রোডাক্টটার ষাট সেকেন্ডের একটা ভিডিও করুন। YouTube-এ সেটা Unlisted করে রাখুন, যাতে লিংক থাকলে যে কেউ দেখতে পারেন কিন্তু সার্চে না আসে। তারপর লিংকটা প্রোডাক্টের পেজে বসান। যে কাস্টমার বলছিলেন "ছবি তো এডিট করা", তিনি অর্ডার বাটনের পাশেই আসল জিনিসটা দেখে নেবেন।

ইনবক্সে এমন মেসেজ প্রায় প্রতিদিনই আসে। "ভাই, ছবিতে তো সুন্দর, আসলে কেমন? একটা রিয়েল ভিডিও দেন।" আপনি ফোন হাতে তাকের কাছে যান, একটা ভিডিও করে পাঠান। পরের জনও একই কথা বলেন, আপনি আবার যান। বিশজনকে বিশবার একই ভিডিও পাঠানোর চেয়ে একবার ভালো করে বানিয়ে প্রোডাক্টের পেজে রেখে দেওয়া অনেক সহজ। কাস্টমার নিজেই দেখে নেন, প্রশ্নও করতে হয় না।

এডিট ছাড়া ভিডিও কেন বিশ্বাস আনে, ছবির সাথে পার্থক্য কোথায়

ছবি নিয়ে কাস্টমারের সন্দেহটা অযৌক্তিক না। ফেসবুকে প্রতিদিন তিনি এমন অনেক ছবি দেখেন, যেখানে আলো, ফিল্টার আর এডিটে জিনিসটা আসলের চেয়ে অনেক ভালো দেখায়। একবার ঠকলে পরের পেজের ছবিও তিনি আর বিশ্বাস করেন না, তা আপনি যত সৎভাবেই তুলুন।

এক টেকের ভিডিওতে এই সন্দেহটা কাটে, কারণ সেখানে লুকানোর জায়গা কম। জিনিসটা হাতে ঘুরছে, আলো পড়ছে, ভাঁজ খুলছে, সব একটানা। কাস্টমার জানেন একটানা ভিডিওতে এডিট করে আকার বা রং বদলানো কঠিন। আকারও ভিডিওতে বেশি পরিষ্কার বোঝা যায়। একটা ঘড়ি কব্জিতে কতটা বড় দেখায়, একটা ব্যাগে বোতল ঢোকে কিনা, ছবিতে এসব আন্দাজ করতে হয়, ভিডিওতে চোখে দেখা যায়।

ভিডিওর কথা সরকারের নিয়মেও আছে। ২০২১ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যে ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা দিয়েছে, তার ৩.২.২ অনুচ্ছেদ বলছে, বাস্তবে সম্ভব হলে প্রোডাক্টের ছবির সাথে ভিডিওও দিতে হবে, যাতে কেনার আগেই কাস্টমার জিনিসটা চিনতে পারেন। ২০২৬ সালের অক্টোবরেও গেজেটের কপিতে লাইনটা এভাবেই আছে।

তবে একটা জিনিস পরিষ্কার রাখুন। এই ভিডিও বিক্রির রিল না। রিলের কাজ নতুন মানুষের মনোযোগ টানা, সেখানে গান, দ্রুত কাট আর লেখা চলে। রিল কীভাবে বানাবেন, সেটা ফেসবুক রিলস ভিডিওর লেখায় আছে। রিয়েল ভিডিওর কাজ উল্টো। যিনি কিনবেন প্রায় ঠিক করে ফেলেছেন, তাঁর শেষ সন্দেহটা মেটানো। তাই এখানে কাটাকাটি নেই, গান নেই, ফিল্টারও নেই।

কী দেখাবেন, এক টেকে ৬০ সেকেন্ড

ভিডিও করার আগে মাথায় একটা ছোট ক্রম ঠিক করে নিন, তারপর একবারে করুন। ক্রমটা মোটামুটি এমন।

প্রথম দুই সেকেন্ডে প্রোডাক্টের নাম আর আর্টিকেল নম্বর মুখে বলুন, "SH-503, কালো লোফার, ৩৯ সাইজ।" তাতে কাস্টমার বোঝেন ঠিক কোন জিনিসের ভিডিও দেখছেন, আর পরে ইনবক্সে কোডটা বলেই অর্ডার করতে পারেন। তারপর পুরো জিনিসটা হাতে ধরে একবার ঘুরিয়ে দেখান। হাতে ধরার কারণ আকার বোঝানো। হাতের পাশে রাখলে জুতা, ব্যাগ বা বোতল কত বড়, কাউকে বলে দিতে হয় না।

এরপর কাছ থেকে সেই জায়গাগুলো দেখান, যেটা নিয়ে এই প্রোডাক্টে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে। জুতার তলা হাতে বাঁকিয়ে দেখান, পাঞ্জাবির হাতার সেলাই আর বাটন, ব্যাগের চেইন খুলে-বন্ধ করে, ঘড়ির পেছনের দিক। কাপড়ে আলোর দিকে ধরে দেখান কতটা পাতলা। আর যদি কোনো ছোট খুঁত থাকে, যেমন একটা সুতা বেরিয়ে আছে বা রঙে সামান্য অসমান, সেটাও দেখিয়ে দিন। শুনতে উল্টো মনে হয়, কিন্তু নিজে থেকে খুঁত দেখালে কাস্টমার বাকি সব কথাও বিশ্বাস করেন। আর পার্সেল খুলে তিনি আর চমকান না।

জানালার পাশে একটা ছোট মোবাইল স্ট্যান্ডে ফোন রাখা, একজন যুবক ক্যামেরার সামনে একটা বাদামি জুতা হাতে ধরে তলাটা বাঁকিয়ে দেখাচ্ছেন, দিনের আলো জুতার ওপর পড়ছে
জানালার আলো, হাতে প্রোডাক্ট, এক টেক। এর বেশি কিছু লাগে না

ভিডিও করার সময় কয়েকটা জিনিস খেয়াল রাখুন। জানালার পাশে দিনের আলোয় করুন, রাতের বাল্বের নিচে রং বদলে যায়। ফোনের বিউটি মোড বা ফিল্টার বন্ধ রাখুন। এগুলো ছবি মসৃণ করতে গিয়ে প্রোডাক্টের রঙেও হাত দেয়, তখন "রিয়েল" কথাটার আর মানে থাকে না। ফোনটা হাতে না রেখে স্ট্যান্ডে বা বইয়ের স্তূপে রাখুন, যাতে দুই হাত খালি থাকে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ফোন একই দিকে রাখুন। মাঝপথে ফোন ঘুরিয়ে খাড়া থেকে আড়াআড়ি করলে ভিডিওর অর্ধেকটা কাত হয়ে দেখায়।

আর ভিডিওতে গান দেবেন না। ঘরের স্বাভাবিক আওয়াজ আর নিজের গলায় দুই-এক লাইনই যথেষ্ট। কেন, সেটা নিচের সতর্কতায় বলছি।

মোবাইল দিয়ে ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করার নিয়ম, ধাপে ধাপে

YouTube-এ ভিডিও রাখতে একটা Google অ্যাকাউন্ট আর একটা চ্যানেল লাগে। প্রথমবার আপলোড করতে গেলে অ্যাপ চ্যানেলের নাম চাইতে পারে, দোকানের নামেই বানান। নিচের ধাপগুলো ২০২৬ সালের অক্টোবরে YouTube Help-এর Android অ্যাপের "Upload YouTube videos" পেজ মিলিয়ে লেখা। অ্যাপ মাঝে মাঝে বাটনের জায়গা বদলায়, তাই কোনো নাম ঠিক না মিললে কাছাকাছি নামটা খুঁজুন।

  1. YouTube অ্যাপ খুলুন, নিচের মাঝখানের Create (যোগ চিহ্ন) চাপুন, তারপর Video বাছুন।
  2. গ্যালারি থেকে ভিডিওটা বেছে Next চাপুন।
  3. নাম লিখুন। নামে প্রোডাক্টের নাম আর আর্টিকেল নম্বর দিন, যেমন "কালো লোফার SH-503, আসল ভিডিও"। YouTube Help অনুযায়ী নাম সর্বোচ্চ ১০০ অক্ষরের।
  4. কে দেখতে পারবেন, সেই ঘরে (Visibility) Unlisted বাছুন। কোনটা কেন, পরের অংশে বলছি।
  5. দর্শক নিয়ে প্রশ্নে "No, it's not made for kids" বাছুন। YouTube Help বলছে, প্রতিটা ভিডিওতে বলে দিতে হয় সেটা বাচ্চাদের জন্য বানানো কিনা। বড়দের জন্য প্রোডাক্টের ভিডিও বাচ্চাদের জন্য না, তাই সৎ উত্তর এটাই।
  6. শেষে আপলোড বাটন চাপুন। আপলোড শেষ হওয়া পর্যন্ত অ্যাপ বন্ধ করবেন না, মোবাইল ডাটায় হলে একটু বেশি সময় লাগে।
একটা ফোনের স্ক্রিনের নকশা, YouTube-এ আপলোডের বিস্তারিত দেওয়ার ঘর, ওপরে প্রোডাক্টের নাম আর আর্টিকেল নম্বর দিয়ে লেখা ভিডিওর নাম, তার নিচে কে দেখতে পারবেন সেই ঘরে Unlisted বাছা, নিচে বাচ্চাদের জন্য না অপশন বাছা
নামে আর্টিকেল নম্বর, দেখার ঘরে Unlisted, বাচ্চাদের প্রশ্নে না

সব ঘর পূরণ করার আগেই আপলোডের পেজ বন্ধ হয়ে গেলে ভাববেন না যে সব গেছে। YouTube Help বলছে, এমন ভিডিও ড্রাফট হয়ে আপনার কনটেন্টের ঘরে থেকে যায়। কম্পিউটারে YouTube Studio খুলে Content-এ গেলে সেটা পাবেন, বাকি ঘরগুলো সেখান থেকেই পূরণ করা যায়।

Public, Unlisted না Private, কোনটা দেবেন

এই একটা সেটিং ভুল হলে পুরো কাজটা বৃথা যায়। তিনটার তফাত ২০২৬ সালের অক্টোবরে YouTube Help-এর "Change video privacy settings" পেজে যেভাবে লেখা আছে, সহজ করে বলছি।

Public ভিডিও YouTube-এ যে কেউ দেখতে পারেন। সার্চে আসে, পাশের ভিডিওর লিস্টে আসে, চ্যানেলে দেখায়। প্রোডাক্টের পেজেও চলে। সমস্যা হলো, অচেনা মানুষ কমেন্ট করেন, প্রতিযোগী আপনার সব প্রোডাক্টের ভিডিও এক জায়গায় দেখে ফেলেন, আর পুরনো স্টকের ভিডিও চ্যানেলে জমে থাকে।

Unlisted ভিডিও যাঁর কাছে লিংক আছে তিনিই দেখতে পারেন। YouTube-এর সার্চে আসে না, চ্যানেলের ভিডিওর ঘরেও দেখায় না, আর দেখার জন্য Google অ্যাকাউন্টও লাগে না। প্রোডাক্টের পেজে লিংক বসালে সেখানে চলে, ইনবক্সে লিংক পাঠালেও চলে। প্রোডাক্টের রিয়েল ভিডিওর জন্য এটাই সবচেয়ে মানানসই।

Private ভিডিও শুধু আপনি আর আপনি যাঁদের ইমেইল দিয়ে বেছে দেন তাঁরা দেখতে পারেন। লিংক পেলেও অন্য কেউ দেখতে পারেন না। তাই কাস্টমারকে দেখানোর ভিডিও কখনো Private রাখবেন না। নতুন সেলারদের সবচেয়ে চেনা ভুলটা এটাই। "নিজের ভিডিও, Private রাখি" ভেবে আপলোড করেন, আর পেজে কাস্টমার বাটন চেপে দেখেন ভিডিওটা চলছেই না।

তিনটা পাশাপাশি কার্ডের নকশা, প্রথমটা Public লেখা আর একটা খোলা গ্লোবের চিহ্ন, দ্বিতীয়টা Unlisted লেখা আর একটা লিংকের চিহ্ন, তৃতীয়টা Private লেখা আর একটা তালার চিহ্ন, প্রতিটার নিচে কে দেখতে পারেন তার ছোট বর্ণনা, মাঝেরটা সবুজ দাগে ঘেরা
প্রোডাক্টের ভিডিওর জন্য মাঝেরটা, Unlisted

আগে Public বা Private দিয়ে ফেলেছেন? পরে বদলানো যায়। YouTube অ্যাপে নিজের ছবিতে চাপুন, "Your videos"-এ যান, ভিডিওর পাশের তিন বিন্দুতে চেপে Edit, তারপর Visibility থেকে Unlisted বাছুন, পেছনের তীরে চেপে Save করুন।

আরেকটা সেটিং একবার দেখে নিন। YouTube Studio-তে প্রতিটা ভিডিওর "Allow embedding" নামে একটা টিক থাকে। YouTube Help-এর ভিডিও এম্বেড করার পেজে বলা আছে, এটা তুলে দিলে অন্য ওয়েবসাইটে ভিডিওটা আর বসানো যায় না। কোনো কারণে এটা বন্ধ থাকলে আপনার দোকানের পেজেও ভিডিও চলবে না, তাই টিকটা চালু রাখুন।

Shorts নাকি সাধারণ ভিডিও

২০২৬ সালের অক্টোবরে YouTube Help-এ লেখা আছে, Shorts সর্বোচ্চ তিন মিনিট লম্বা হতে পারে। আর অ্যাপ থেকে আপলোড করা ভিডিও তিন মিনিট বা তার কম, আর খাড়া বা চারকোনা হলে নিজেই Short হিসেবে যায়। মানে ফোন খাড়া করে তোলা ষাট সেকেন্ডের ভিডিও আলাদা কিছু না করলেই Short হয়ে যাবে।

তাহলে কোনটা নেবেন? প্রোডাক্টের দিকে তাকিয়ে ঠিক করুন। জুতা, ঘড়ি, বোতল, পাঞ্জাবি ঝুলিয়ে দেখানো, এসব খাড়া ফ্রেমে ভালো ধরে। আর বেশিরভাগ কাস্টমার ভিডিওটা দেখবেন ফোনেই, ফোন খাড়া করে। বিছানার চাদর, পর্দা বা লম্বা শাড়ির পুরো বিস্তার দেখাতে চাইলে আড়াআড়ি ফ্রেম ভালো, কারণ খাড়া ফ্রেমে দুই পাশ কেটে যায়।

যেটাই নিন, পুরো ভিডিও একই দিকে রাখুন। আর দুটোরই লিংক কাজ করে। WinningSeller-এ Shorts-এর লিংক দিলে ভিডিওটা খাড়া জানালায় চলে, সাধারণ ভিডিও চলে চওড়া জানালায়।

লিংক কপি করে প্রোডাক্ট পেজে বসানো

আপলোড শেষ হলে ভিডিওটা খুলুন, নিচের Share চাপুন, তারপর Copy link। লিংকটা দেখতে হবে youtube.com বা youtu.be দিয়ে শুরু হওয়া একটা লাইনের মতো।

এবার এই লিংকটা যেখানে কাস্টমার প্রশ্নটা করেন, ঠিক সেখানে রাখুন। ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনের শেষ লাইনে "আসল ভিডিও দেখুন" লিখে লিংক দিন। ইনবক্সে "রিয়েল ভিডিও দেন" মেসেজের জন্য একটা সেভ করা উত্তর বানিয়ে রাখুন, লিংকসহ। আর সবচেয়ে বড় জায়গা হলো প্রোডাক্টের পেজ, অর্ডার বাটনের কাছে। কাস্টমার শেষ সিদ্ধান্তটা সেখানেই নেন।

WinningSeller-এ এই কাজটা এক ঘরের। প্রোডাক্টের ফর্মে "রিয়েল ভিডিও (YouTube)" ঘরে লিংকটা পেস্ট করে সেভ করুন। দোকানে অর্ডার আর কার্ট বাটনের ঠিক নিচে একটা বাটন আসে, "এই প্রোডাক্টের এডিট ছাড়া রিয়েল ভিডিও দেখুন"। সাতটা প্রোডাক্ট ডিজাইনের সবগুলোতেই আসে, আর ওই প্রোডাক্টের ল্যান্ডিং পেজে অর্ডার ফর্মের ওপরে। কাস্টমার চাপলে ভিডিওটা দোকানের ভেতরেই চলে, ফোনে পুরো স্ক্রিন জুড়ে। YouTube-এ চলে গিয়ে আর ফিরে না আসার ভয় থাকে না। বাটনের লেখা নিজের মতো করতে চাইলে ডিজাইন থেকে "লেখা ও বার্তা" অংশে গিয়ে বদলে নিন। প্রোডাক্ট পেজের বাকি সাজসজ্জা কী কী আছে, সেটা ফিচারের পেজে দেখা যায়।

একটা প্রোডাক্ট পেজের নকশা, ওপরে জুতার ছবি, তার নিচে দাম আর সাইজের বাটন, তার নিচে বড় অর্ডার বাটন আর কার্ট বাটন, ঠিক তার নিচে একটা প্লে চিহ্নসহ এই প্রোডাক্টের এডিট ছাড়া রিয়েল ভিডিও দেখুন বাটন
অর্ডার বাটনের ঠিক নিচে, যেখানে কাস্টমার শেষ সিদ্ধান্তটা নেন

কয়েকটা সীমাও জেনে রাখুন। ঘরটা শুধু YouTube-এর লিংক নেয়, সাধারণ ভিডিও বা Shorts। প্লেলিস্টের লিংক বা ফোন থেকে ভিডিও ফাইল সরাসরি আপলোড হয় না। আর কেউ ভিডিও চালালে সেটা Facebook Pixel বা অন্য কোনো অ্যাডের পিক্সেলে পাঠানো হয় না, তাই অ্যাড অপটিমাইজেশনে এর কোনো হিসাব যাবে না।

ভিডিও থাকলে ফেরত কত কমতে পারে, একটা হিসাব (উদাহরণ)

ভিডিওতে কতটা ফেরত কমবে, সেটা কেউ আগে থেকে বলতে পারে না। প্রোডাক্ট, দাম আর আপনার ছবি কতটা সৎ, তার ওপর নির্ভর করে। তাই নিচের হিসাবটা শুধু বোঝার জন্য। সব সংখ্যা উদাহরণ, কোনো দোকানের মাপা ফল না, আর কুরিয়ারের চার্জ ধরে নেওয়া।

উদাহরণ। একটা জুতা ১,২৫০ টাকায় বেচেন। একশোটা পার্সেলে বারোটা ফেরত আসে, কাস্টমার দরজায় খুলে বলেন "ছবির মতো না"। প্রতিটা এমন ফেরতে আপনার যায় ঢাকার বাইরের ডেলিভারি চার্জ ১৩০ টাকা, ফেরত আনার চার্জ ৬৫ টাকা, প্যাকিং ২০ টাকা, আর ওই অর্ডারের পেছনের অ্যাড খরচ ১৮০ টাকা। মোট ১৩০ + ৬৫ + ২০ + ১৮০ = ৩৯৫ টাকা। বারোটা ফেরতে ১২ × ৩৯৫ = ৪,৭৪০ টাকা।

ধরুন রিয়েল ভিডিও দেওয়ার পর এমন ফেরত বারো থেকে আটে নামল। চারটা ফেরত কম মানে ৪ × ৩৯৫ = ১,৫৮০ টাকা বাঁচল, প্রতি একশো পার্সেলে। ভিডিওটা বানাতে লেগেছে একটা ফোন আর বিশ মিনিট।

এখানে একটা সৎ কথা আছে। ভিডিও দেখে কিছু মানুষ অর্ডারই করবেন না, কারণ তাঁরা যা ভেবেছিলেন জিনিসটা তা না। এটা ক্ষতি মনে হতে পারে, কিন্তু আসলে লাভ। যিনি ভিডিও দেখে পিছিয়ে গেলেন, তিনি অর্ডার করলে পার্সেলটা দরজা থেকে ফেরত আসত, আর ওই ৩৯৫ টাকা আপনার যেত। ভুল কাস্টমারের অর্ডার না পাওয়াও একটা বাঁচানো টাকা।

কখন ভিডিও দেবেন না

ভিডিও সবসময় সাহায্য করে না। কিছু অবস্থায় না দেওয়াই ভালো, বা আগে অন্য কাজ সারতে হয়।

জিনিসটা যদি ছবির চেয়ে সত্যিই খারাপ দেখায়, ভিডিও দিলে বিক্রি কমবে। তখন সমস্যাটা ভিডিও না, ছবি। আগে ছবি সৎ করুন, দরকার হলে প্রোডাক্ট বা পাইকার বদলান। আসল জিনিস দেখে যে প্রোডাক্ট বিক্রি হয় না, ছবির জোরে সেটা বেচলে শেষে ফেরতের খরচে টাকা যায়। ঘরে বসে ছবি কীভাবে সৎ রাখবেন, সেটা মোবাইলে প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফির লেখায় আছে।

ভিডিওর লট আর পাঠানোর লট আলাদা হলেও না। নতুন লটে রং একটু আলাদা এসেছে, অথচ পেজে পুরনো লটের ভিডিও। কাস্টমার ঠিক ভিডিওর রঙটাই আশা করবেন। লট বদলালে ভিডিওও নতুন করুন, পুরনোটা সরিয়ে দিন।

ভিডিওর পেছনে অন্য কারও পার্সেল, লেবেলে লেখা নাম-ঠিকানা বা ফোন নম্বর দেখা গেলে সেটা আপলোড করবেন না। কাস্টমারের তথ্য এভাবে বাইরে যাওয়া আপনার পেজের জন্যও বিপদ। ভিডিও করার আগে টেবিলটা খালি করে নিন।

আর খাবারের প্রোডাক্টে খালি হাতে খাবার ধরে দেখানো ভিডিও উল্টো ফল দেয়। মধু, ঘি বা আচারে বয়াম, সিল আর লেবেল দেখান, ভেতরের জিনিস চামচে নিয়ে দেখান, হাতে না। প্যাকিংয়ের সময় পার্সেলের প্রমাণ হিসেবে যে ভিডিও রাখবেন, সেটা আবার আলাদা জিনিস। সেটা নিজের কাছে রাখার জন্য, পেজে দেখানোর জন্য না। ওই নিয়ম ভুল প্রোডাক্ট নিয়ে অভিযোগের লেখায় আছে।

আজই করে ফেলুন

সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া একটা প্রোডাক্ট দিয়ে আজই শুরু করুন। এক ঘণ্টার কাজ।

  1. দিনের আলো থাকতে থাকতে জানালার পাশে একটা টেবিল খালি করুন, ফোনটা স্ট্যান্ডে বা বইয়ের স্তূপে রাখুন।
  2. ক্যামেরার সেটিংয়ে বিউটি বা স্কিন স্মুথ ধরনের কিছু চালু থাকলে বন্ধ করুন।
  3. একবার মহড়া দিন, তারপর এক টেকে ভিডিও করুন। প্রথমে আর্টিকেল নম্বর বলুন, তারপর হাতে ঘুরিয়ে আকার, তারপর কাছ থেকে খুঁটিনাটি, খুঁত থাকলে সেটাও।
  4. YouTube অ্যাপে আপলোড করুন, নামে আর্টিকেল নম্বর দিন, Unlisted বাছুন।
  5. লিংকটা মোবাইল ডাটায়, Wi-Fi বন্ধ করে, অন্য একটা ফোনে খুলে দেখুন চলে কিনা।
  6. লিংকটা প্রোডাক্টের পেজে আর ইনবক্সের সেভ করা উত্তরে বসান।
একজন যুবকের হাত ক্যামেরার খুব কাছে একটা সাদা পাঞ্জাবির হাতা উল্টে ভেতরের সেলাই দেখাচ্ছে, পেছনে জানালার আলো
সেলাইয়ের ভেতরের দিক। কাস্টমার দোকানে গেলে ঠিক এটাই উল্টে দেখতেন

ভিডিও কমেন্ট বন্ধ রাখতে চাইলে, বা পরে কোনো অচেনা কমেন্ট আসা শুরু হলে, YouTube Studio থেকে ওই ভিডিওর কমেন্ট বন্ধ করে দিতে পারেন। আপনার কাস্টমার তো প্রশ্ন করবেন ইনবক্সেই। প্রথম ভিডিওটা হয়ে গেলে বাকিগুলো সহজ লাগবে, আর কিছুদিন পর দেখবেন "রিয়েল ভিডিও দেন" মেসেজের জবাবে আপনি শুধু একটা লিংক পাঠাচ্ছেন, বা সেটাও লাগছে না। সাজানো পেজে কোন জিনিস কোথায় বসালে অর্ডার আসে, তার আরও উদাহরণ প্রোডাক্ট ধরে ল্যান্ডিং পেজ ডেমোর লেখায় দেখে নিন।

সাধারণ প্রশ্ন

আনলিস্টেড ভিডিও মানে কি?

Unlisted ভিডিও যাঁর কাছে লিংক আছে তিনি দেখতে পারেন, কিন্তু YouTube-এর সার্চে বা আপনার চ্যানেলের ভিডিওর ঘরে সেটা আসে না। দেখার জন্য কাস্টমারের Google অ্যাকাউন্টও লাগে না। প্রোডাক্টের ভিডিও দোকানের পেজে দেখানোর জন্য এটাই সবচেয়ে সুবিধার।

Private আর Unlisted ভিডিওর পার্থক্য কী?

Private ভিডিও শুধু আপনি আর আপনি যাঁদের বেছে দেন তাঁরা দেখতে পারেন, লিংক পেলেও অন্য কেউ দেখতে পারেন না। Unlisted ভিডিও লিংক থাকলে যে কেউ দেখতে পারেন। তাই কাস্টমারকে দেখাতে চাইলে Private দেবেন না।

ইউটিউবে শর্ট ভিডিও আপলোড করার নিয়ম কী?

ফোনে খাড়া বা চারকোনা ভিডিও তুলুন, তিন মিনিট বা তার কম রাখুন, তারপর YouTube অ্যাপে Create চেপে Video বেছে আপলোড করুন। ২০২৬ সালের অক্টোবরে YouTube Help-এ লেখা আছে, তিন মিনিট বা কম আর খাড়া বা চারকোনা হলে ভিডিওটা নিজেই Short হিসেবে যায়।

প্রোডাক্টের ভিডিওতে গান দেওয়া যায়?

না দেওয়াই ভালো। YouTube-এর Content ID সব আপলোড মিলিয়ে দেখে, আর গানের মালিক চাইলে ভিডিওটা কিছু দেশে বা সব জায়গায় আটকে দিতে পারেন। ঘরের স্বাভাবিক আওয়াজ বা নিজের গলায় দুই লাইন বলাই প্রোডাক্ট ভিডিওর জন্য সবচেয়ে ভালো।

ভিডিও কত সেকেন্ডের হওয়া উচিত?

প্রোডাক্ট দেখানোর জন্য ত্রিশ থেকে ষাট সেকেন্ডই যথেষ্ট। এর মধ্যে আকার, আসল রং, সেলাই বা কাজের খুঁটিনাটি আর কোনো খুঁত থাকলে সেটা দেখানো যায়। লম্বা হলে কাস্টমার মাঝপথে ছেড়ে দেন, আর দরকারি অংশটা দেখা হয় না।

ফেসবুকে ভিডিও আপলোড না করে YouTube কেন?

ফেসবুকের ভিডিও ফেসবুকের ভেতরেই ভালো চলে, নিজের ওয়েবসাইটের প্রোডাক্ট পেজে বসাতে YouTube সহজ। YouTube-এর লিংক যে কোনো জায়গায় দেওয়া যায়, আর ভিডিও চালাতে আপনার ওয়েবসাইটের সার্ভারে চাপ পড়ে না। ফেসবুকের রিলের জন্য আলাদা ভিডিও বানানোই ভালো, কারণ ওখানে কাজটা আলাদা।

#ইউটিউবে ভিডিও আপলোড#আনলিস্টেড ভিডিও#প্রোডাক্ট ভিডিও#রিয়েল ভিডিও#YouTube Shorts#প্রোডাক্ট পেজ

আরও পড়ুন

ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ

ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে

গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে

ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।

·১০ মিনিটে পড়া যায়