WinningSeller
অনলাইন ব্যবসা শুরু১৬ মিনিটে পড়া যায়

পাইকারি মার্কেট কোথায়? কোন মাল কোন বাজারে, সাপ্লায়ার চেনার ৮ প্রশ্ন

মোবাইল এক্সেসরিজ, খেলনা, ব্যাগ, ঘড়ি, আতর, চামড়ার জিনিস, মসলা আর শুঁটকির পাইকারি মার্কেট ঢাকা, চট্টগ্রাম আর সিলেটের কোথায়, কোনটা কবে বন্ধ, কারখানা থেকে কখন কিনবেন, আর টাকা দেওয়ার আগে সাপ্লায়ারকে কোন ৮টা প্রশ্ন করবেন।

পাইকারি মার্কেট কোথায়? কোন মাল কোন বাজারে, সাপ্লায়ার চেনার ৮ প্রশ্ন
এই লেখায় যা আছে
  1. পাইকারি মার্কেট খোঁজার আগে কী ঠিক করবেন?
  2. ঢাকায় কোন মাল কোন পাইকারি মার্কেটে পাবেন?
  3. চট্টগ্রাম, সিলেট আর অন্য শহরে কোথায় কী?
  4. মোবাইল এক্সেসরিজ, খেলনা আর ঘরের জিনিস কোথায়?
  5. মার্কেটের বাইরে, কারখানা থেকে কিনবেন কখন?
  6. অনলাইনে পাইকারি কিনলে ঠকবেন না যেভাবে
  7. সাপ্লায়ার যাচাইয়ের ৮টা প্রশ্ন
  8. "উদ্যোক্তাদের পাইকারি ঠিকানা" বইয়ে ভরসা কতটা?

ধরুন প্রথম লটের ২০টা ইয়ারফোন তিন দিনেই শেষ। ইনবক্সে আরও ছয়জন "ভাই, কবে পাব?" লিখে বসে আছেন, আর যে চেনা ভাইয়ের কাছ থেকে এনেছিলেন তিনি ফোন ধরছেন না। প্রথম সেলের খুশিটা তখন টেনশনে বদলে যায়। রাতে শুয়ে শুয়ে আপনি গুগলে লিখলেন "পাইকারি মার্কেট কোথায়"। সোজা উত্তর হলো, মার্কেট ঠিক হয় প্রোডাক্ট দেখে। ঢাকায় মোবাইল এক্সেসরিজের জন্য গুলিস্তানের সুন্দরবন স্কয়ার আর হাতিরপুলের মোতালেব প্লাজা, কসমেটিকস, খেলনা আর স্কুলব্যাগের জন্য পুরান ঢাকার চকবাজার, কাপড়ের জন্য ইসলামপুর আর কেরানীগঞ্জ, ঘড়ির জন্য পাটুয়াটুলী। চট্টগ্রামে কাপড়ের জন্য টেরিবাজার, প্রায় সবকিছুর জন্য রিয়াজউদ্দিন বাজার, শুঁটকির জন্য আসাদগঞ্জ। আর মনে রাখবেন, পুরান ঢাকার বেশিরভাগ পাইকারি এলাকা শুক্রবার বন্ধ থাকে।

তবে ঠিকানা জানা কাজের অর্ধেক মাত্র। বাকি অর্ধেক হলো এমন একজন সাপ্লায়ার খুঁজে পাওয়া, যিনি এক মাস পরেও একই মাল একই মানে দেবেন। নতুন সেলাররা বেশিরভাগ আটকান এখানেই। তাই নিচে প্রোডাক্ট ধরে কোন বাজারে যাবেন সেটা বলছি, প্রতিটা নাম কোন পত্রিকা থেকে নিয়েছি সেটাও পাশে লিখে দিচ্ছি, আর শেষে দিচ্ছি টাকা দেওয়ার আগে সাপ্লায়ারকে করার মতো ৮টা প্রশ্ন।

পাইকারি মার্কেট খোঁজার আগে কী ঠিক করবেন?

মার্কেটে ঢোকার আগে তিনটা কথা কাগজে লিখে ফেলুন। কোন একটা প্রোডাক্ট কিনবেন, তার জন্য কত টাকা খরচ করবেন, আর কয় পিস বা কোন কোন রং-সাইজ নেবেন। এই তিন লাইন ছাড়া চকবাজারের গলিতে ঢুকলে সবকিছুই ভালো লাগে। বিকেলে বাসায় ফিরে দেখবেন ব্যাগে ছয় রকম জিনিস, অথচ যেটার জন্য গিয়েছিলেন সেটাই কম এনেছেন।

প্রোডাক্ট আগে ঠিক করার আরেকটা কারণ আছে। ঢাকার পাইকারি বাজার প্রোডাক্ট ধরে ভাগ করা। ঘড়ির পাইকার বসেন পাটুয়াটুলীতে, চার্জারের পাইকার গুলিস্তানে, চামড়ার মানিব্যাগের দোকান হাজারীবাগে। প্রোডাক্ট ঠিক না থাকলে আপনি সারাদিন ভুল এলাকায় ঘুরবেন, আর যে এলাকায় যাওয়ার কথা ছিল সেটা হয়তো সেদিন বন্ধ।

টাকার হিসাবটা একটা উদাহরণে দেখি। নিচের সংখ্যাগুলো উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল দাম না। ধরুন আপনি মোবাইল এক্সেসরিজ দিয়ে শুরু করবেন, হাতে ১০,০০০ টাকা। পুরোটা মালে ঢালবেন না। ৮,০০০ টাকা রাখুন মালের জন্য, ১,০০০ টাকা যাতায়াত আর কার্টন-পলির জন্য, আর ১,০০০ টাকা হাতে রাখুন। প্রথম লটের কোনো জিনিস ভালো চললে সপ্তাহখানেকের মধ্যে আবার আনতে হবে, তখন এই টাকাটাই কাজে আসে।

৮,০০০ টাকা চার রকম জিনিসে ভাগ করুন, ধরুন দুই রকম চার্জার, এক রকম কেবল আর এক রকম ইয়ারফোন। কেন চার রকম? এক রকম জিনিসে সব টাকা দিলে সেটা না চললে পুরো টাকা আটকে যায়। আবার দশ রকম জিনিস নিলে কোনটা আসলে চলছে সেটাই বোঝা যায় না।

চায়ের কাপ আর মোবাইলের পাশে ছোট একটা খাতায় মার্কেটে ঢোকার আগের তিন লাইন, কী কিনব, কত টাকা আর কয় পিস, পাশে ১০,০০০ টাকা ভাগের হিসাব
মার্কেটে ঢোকার আগে এই তিনটা লাইন লেখা থাকলে অর্ধেক কাজ শেষ

আর একটা কথা, যেটা অনেকে দেরিতে বোঝেন। প্রথমবার মার্কেটে যাওয়ার আসল উদ্দেশ্য মাল কেনা না, একজন ভালো পাইকার খুঁজে পাওয়া। যে জিনিস চললে আবার একই জায়গা থেকে আনতে পারবেন না, সেটা দিয়ে শুরু করবেন না। কারণ আপনার অ্যাড যতদিন চলবে, কাস্টমার ততদিন ঠিক ওই জিনিসটাই চাইবেন। দোকানের নাম, নম্বর আর "এটা আবার পাওয়া যাবে কি না", এই তিনটা উত্তর নিয়ে ফিরতে পারলেই প্রথম দিনটা সফল।

ঢাকায় কোন মাল কোন পাইকারি মার্কেটে পাবেন?

নিচের টেবিলে প্রতিটা প্রোডাক্টের জন্য শুধু সেই জায়গাগুলো রেখেছি, যার কথা কোনো পত্রিকার রিপোর্টে বা বন্ধ মার্কেটের লিস্টে পেয়েছি। দোকান সরে যায়, নতুন মার্কেট হয়, তাই টেবিলটাকে শুরু করার ম্যাপ হিসেবে দেখুন, শেষ কথা হিসেবে না।

কী বেচবেন কোথায় খুঁজবেন কবে বন্ধ, কী খেয়াল রাখবেন
থান কাপড়, আনস্টিচড থ্রি-পিস, শাড়ি ইসলামপুর শুক্রবার বন্ধ
রেডিমেড পোশাক, বাচ্চাদের কাপড় কেরানীগঞ্জ বন্ধের দিন পাইকারকে ফোন করে জানুন
পাঞ্জাবি কেরানীগঞ্জ (রেডিমেড), নরসিংদীর বাবুরহাট (পাঞ্জাবির কাপড়) বাবুরহাট সপ্তাহে তিন দিন বসে
কসমেটিকস, ইমিটেশন গয়না, খেলনা চকবাজার, পাশের বেগমবাজার শুক্রবার বন্ধ, শনিবারেও কিছু দোকান বন্ধ পেতে পারেন
স্কুলব্যাগ আর অন্য ব্যাগ চকবাজার শুক্রবার বন্ধ, ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে ভিড়
মোবাইল এক্সেসরিজ, চার্জার, লাইট গুলিস্তানের সুন্দরবন স্কয়ার, নবাবপুর, হাতিরপুলের মোতালেব প্লাজা নবাবপুর আর গুলিস্তানের দক্ষিণ অংশ শুক্রবার, মোতালেব প্লাজা মঙ্গলবার বন্ধ
হাতঘড়ি আর দেয়ালঘড়ি পাটুয়াটুলী শুক্রবার বন্ধ, ভেতরের দোকানগুলো পাইকারি
আতর, টুপি, জায়নামাজ খদ্দর মার্কেট, চকবাজার ঈদের আগে ভিড় সবচেয়ে বেশি
চামড়ার মানিব্যাগ, বেল্ট, ব্যাগ হাজারীবাগ মঙ্গলবার এলাকার দোকান বন্ধ
জুতা বংশাল-সিদ্দিক বাজারের কারখানা, কিশোরগঞ্জের ভৈরব বংশাল শুক্রবার বন্ধ
মসলা, ডাল, তেল মৌলভীবাজার বন্ধের দিন পাইকারকে ফোন করে জানুন

কাপড়ের তিনটা জায়গা, মানে ইসলামপুর, কেরানীগঞ্জ আর বাবুরহাটে কী পাবেন আর প্রথমবার কত পিস নেবেন, সেটা ঢাকার পাইকারি কাপড়ের বাজারের লেখায় বিস্তারিত আছে। জুতার কারখানা কোথায় আর কোন সাইজ কত জোড়া কিনবেন, সেটা পাবেন জুতার ব্যবসার লেখায়। এখানে বাকিগুলোর কথা বলি।

মোবাইল এক্সেসরিজের জন্য সেলারদের মুখে প্রথম যে নামটা আসে, সেটা গুলিস্তানের সুন্দরবন স্কয়ার সুপার মার্কেট। The Daily Star-এর আগস্ট ২০২৫-এর একটা রিপোর্টে আছে, এর নিচতলায় ইলেকট্রনিক্সের খুচরা আর পাইকারি দোকান, আর ওপরের তলাগুলো মোবাইল এক্সেসরিজের পাইকারদের দখলে। তাই নিচতলায় দাম শুনেই ফিরে আসবেন না, সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠুন। হাতিরপুলের মোতালেব প্লাজার নাম বড় কোনো পত্রিকার রিপোর্টে আমরা পাইনি। তবু রাখলাম, কারণ মোবাইলের জিনিস যাঁরা বেচেন তাঁদের মুখে নামটা বারবার শোনা যায়।

ব্যাগ খুঁজলে সোজা চকবাজারে যান। প্রথম আলো ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫-এ চকবাজারকে দেশের সবচেয়ে বড় স্কুলব্যাগের পাইকারি বাজার বলেছে, যেখানে হাজারখানেক দোকানে ব্যাগ বিক্রি হয়। ঘড়ির জন্য পাটুয়াটুলী। The Business Standard অক্টোবর ২০২১-এ Bangladesh Watch Merchant Association-এর বরাতে লিখেছে, সেখানকার ১০টা মার্কেটে ৭০০ থেকে ৮০০ ঘড়ির ব্যবসায়ী আছেন। রাস্তার দিকের দোকানগুলো মূলত খুচরা বেচে, পাইকারি দাম পাবেন ভেতরের দোকানে।

আতর আর টুপির জন্য খদ্দর মার্কেট আর চকবাজারের নাম দিয়েছে The Business Standard বাংলা, মে ২০২১-এ। চামড়ার মানিব্যাগ আর বেল্টের জন্য হাজারীবাগ। একই পত্রিকার জুন ২০২৫-এর লেখায় বাজার সমিতির সভাপতি বলেছেন, সমিতিতে এখন ১৬০টা দোকান, আর বেশিরভাগ দোকানির নিজের কারখানা আছে। মসলা, ডাল আর তেলের জন্য মৌলভীবাজার, যাকে প্রথম আলো জুন ২০২৫-এ রাজধানীর সবচেয়ে বড় মসলার পাইকারি বাজার বলেছে।

এবার সবচেয়ে কাজের কথা, কোন দিন যাবেন না। অনেক পত্রিকা প্রতিদিন সকালে সেদিনের বন্ধ মার্কেটের লিস্ট ছাপে। desh.tv-র ২ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবারের লিস্টে চকবাজার, ইসলামপুরের কাপড়ের দোকান, বাবুবাজার, নয়াবাজার, শ্যামবাজার, বংশাল, নবাবপুর, পাটুয়াটুলী, সদরঘাট আর গুলিস্তানের দক্ষিণ অংশের দোকান বন্ধ বলা আছে। মানে শুক্রবার পুরান ঢাকায় পাইকারি কেনার প্ল্যান না করাই ভালো। ৬ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবারের লিস্টে আছে মোতালেব প্লাজা, নিউমার্কেট, গাউছিয়া, আর হাতিরপুল ও হাজারীবাগ এলাকার দোকান।

সুন্দরবন স্কয়ার, কেরানীগঞ্জ, খদ্দর মার্কেট আর মৌলভীবাজারের আলাদা বন্ধের দিন কোনো লিস্টে স্পষ্ট পাইনি। ওসব জায়গায় যাওয়ার আগের দিন পাইকারকে একটা ফোন দিয়ে নিন। চকবাজারের শনিবারের ঝামেলা আর কসমেটিকস কেনার সাবধানতা চকবাজারের লেখায় আলাদা করে বলা আছে।

পুরান ঢাকার একটা সহজ নকশা, যেখানে চকবাজার, ইসলামপুর, পাটুয়াটুলী, বংশাল, নবাবপুর আর গুলিস্তান পাশাপাশি দাগানো, প্রতিটার পাশে সেখানকার জিনিসের ছোট ছবি, যেমন ব্যাগ, থান কাপড়, ঘড়ি, জুতা আর চার্জার
পুরান ঢাকার বড় পাইকারি এলাকাগুলো কাছাকাছি, তাই এক দিনে দুই-তিনটা ঘোরা যায়, তবে শুক্রবারে না

ধরুন আপনি ঘড়ি আর মানিব্যাগ দুটোই বেচতে চান। তাহলে সকালে পাটুয়াটুলী সেরে দুপুরে হাজারীবাগ যান, তবে শুক্রবার বা মঙ্গলবারে না। বন্ধের দিন মিলিয়ে রাস্তা সাজালে একটা পুরো দিন আর ভাড়ার টাকা দুটোই বাঁচে।

চট্টগ্রাম, সিলেট আর অন্য শহরে কোথায় কী?

চট্টগ্রামে কাপড়ের প্রথম নাম টেরিবাজার। The Business Standard বাংলা সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ একে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাইকারি আর খুচরা কাপড়ের বাণিজ্যকেন্দ্র বলেছে। চট্টগ্রাম বা আশপাশের জেলার সেলার হলে কাপড়ের জন্য ঢাকায় আসার আগে টেরিবাজারটা একবার ঘুরে দেখুন। যাতায়াতের খরচ ধরলে হয়তো এটাই আপনার জন্য সস্তা পড়বে।

চট্টগ্রামের প্রায় সবকিছুর বাজার রিয়াজউদ্দিন বাজার। প্রথম আলো জুন ২০২৫-এ লিখেছে, দেড়শো বছরের পুরনো এই বাজারে সাড়ে তিন হাজারের বেশি দোকান। কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে মসলা, ইলেকট্রনিক্স, মোবাইল, কাপড়, জুতা, ঘর সাজানোর জিনিস আর স্টেশনারি পর্যন্ত সব এখানে বিক্রি হয়। বাজারটা এত বড় যে একদিনে পুরোটা দেখা যায় না, তাই যে জিনিস কিনবেন শুধু সেই অংশে যান।

শুঁটকি বেচতে চাইলে চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জ দেখুন, প্রথম আলোর লেখায় যার বানান আছাদগঞ্জ। পত্রিকাটি ৩ জুন ২০২৬-এ একে দেশের অন্যতম বড় শুঁটকির বাণিজ্যকেন্দ্র বলেছে, আর ব্যবসায়ী সমিতির হিসাবে সেখানে ৫০টা আড়ত আর ৩৩০টা দোকান আছে। শুঁটকিতে মানের ফারাক অনেক, আর পার্সেলে গন্ধ নিয়েও কাস্টমারের অভিযোগ আসে। তাই প্রথমবার কয়েক রকম অল্প অল্প এনে নিজে রান্না করে দেখুন, তারপর বড় লট তুলুন।

সিলেটের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার কালীঘাট। প্রথম আলো নভেম্বর ২০২৪-এ লিখেছে, সেখানে ছয়শো থেকে সাতশো পাইকারি দোকানে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ আর রসুন বিক্রি হয়। ঘরে রান্নার জিনিস বা আচার বানিয়ে বেচলে কাঁচামাল এখান থেকে আনা যায়।

রংপুর, রাজশাহী বা খুলনায় থাকলে কী করবেন? এসব শহরের পাইকারি বাজার নিয়ে নির্ভরযোগ্য, নতুন কোনো রিপোর্ট আমরা পাইনি, তাই নাম বানিয়ে দিচ্ছি না। সবচেয়ে সহজ উপায় হলো এলাকার খুচরা দোকানদারকে জিজ্ঞেস করা, তিনি মাল কোথা থেকে তোলেন। বেশিরভাগ দোকানি জেলা শহরের বড় বাজার থেকেই তোলেন, আর সেখানে না পেলে ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে আনান। দোকানের মালের কার্টনের গায়েও প্রায়ই পাইকার বা কারখানার নাম-নম্বর লেখা থাকে, ওটা দেখে রাখুন।

মোবাইল এক্সেসরিজ, খেলনা আর ঘরের জিনিস কোথায়?

এই তিন রকম জিনিস অল্প টাকায় শুরু করা যায়, তাই নতুন সেলারদের প্রশ্নও এগুলো নিয়েই বেশি। কিন্তু তিনটারই আলাদা ঝামেলা আছে।

মোবাইল এক্সেসরিজ দিয়ে শুরু করি। চার্জার, কেবল, ইয়ারফোন, ফোনের কভার আর পাওয়ার ব্যাংকের জন্য সেলাররা সাধারণত গুলিস্তানের সুন্দরবন স্কয়ারে যান। এখানে একই জিনিস অনেক দোকানে পাবেন, তাই প্রথম দোকানেই কিনে ফেলবেন না। অন্তত তিনটা দোকানে একই মডেলের দাম জিজ্ঞেস করুন, আর আপনি যত পিস নেবেন সেই সংখ্যাটা বলেই জিজ্ঞেস করুন, যেমন "২০ পিস নিলে কত পড়বে?"

দাম মেলানোর পর আসল কাজ হলো জিনিসটা দোকানেই চালিয়ে দেখা। এক্সেসরিজে ফেরত আর খারাপ রিভিউ বেশি আসে তিন কারণে। চার্জার বলে দ্রুত চার্জ হয় অথচ হয় না, কেবল দুই সপ্তাহে নষ্ট হয়ে যায়, আর ইয়ারফোনের এক পাশে শব্দ আসে না। তাই নিজের ফোন সাথে নিয়ে যান। চার্জারে লাগিয়ে দেখুন চার্জ হচ্ছে কি না, কেবলটা কয়েকবার বাঁকা করে দেখুন, ইয়ারফোন কানে দিয়ে দুই পাশ শুনুন।

শুধু দোকানের সাজানো স্যাম্পল দেখে ভরসা করবেন না, লটের প্যাকেট থেকে দুই-তিনটা খুলে দেখুন। দোকানেই খারাপ পিস ধরা পড়লে পাইকার সাথে সাথে বদলে দেন। বাসায় এসে ধরা পড়লে সেটা অনেক সময় আর হয় না, তখন লসটা পুরো আপনার।

গুলিস্তানের একটা ভিড়ের মার্কেটে কাউন্টারে দাঁড়িয়ে একজন যুবক সেলার নিজের ফোনে একটা চার্জার লাগিয়ে স্ক্রিনে চার্জ হচ্ছে কি না দেখছেন, পেছনে তাকে সাজানো ইয়ারফোন আর কেবলের প্যাকেট
চার্জার কেনার আগে নিজের ফোনে লাগিয়ে দোকানেই চালিয়ে দেখুন

এবার খেলনার কথা। খেলনার পাইকারির প্রধান জায়গা চকবাজার, আর কোন গলিতে, কোন মার্কেটে, কয় পিসের প্যাকেটে বিক্রি হয় সেটা চকবাজারের লেখায় আছে। এখানে শুধু অনলাইনের দিক থেকে একটা কথা বলি। বড় বক্সের খেলনা পার্সেলে জায়গা নেয় বেশি, পথে বক্স দুমড়ে যায়, আর উপহারের জিনিস দুমড়ানো বক্সে পৌঁছালে কাস্টমার নিতে চান না। তাই শুরুতে এমন খেলনা বাছুন যা ছোট, হালকা আর সহজে ভাঙে না। দোকানে কার্টনের দাম আর পিসের দাম আলাদা করে জিজ্ঞেস করুন, অনেক সময় পুরো কার্টন নিলে পিসপ্রতি দাম কম পড়ে।

ঘরের আর রান্নাঘরের জিনিসে এসে একটা সৎ কথা বলি। কিচেনের জিনিসের জন্য আলাদা কোনো নামকরা পাইকারি মার্কেটের নাম আমরা নির্ভরযোগ্য কোনো রিপোর্টে পাইনি। প্লাস্টিকের ঘরের জিনিসের জন্য চকবাজার এলাকাই ভরসা। The Business Standard আগস্ট ২০২৬-এ লিখেছে, পাশের ইসলামবাগে প্লাস্টিকের ছোট কারখানার বড় একটা গুচ্ছ গড়ে উঠেছে। কাচ আর সিরামিক পার্সেলে ভাঙে, তাই নতুন সেলার হলে প্লাস্টিক আর সিলিকনের কিচেন আইটেম দিয়ে শুরু করাই নিরাপদ।

মার্কেটের বাইরে, কারখানা থেকে কিনবেন কখন?

পাইকারের দোকান আসলে মাঝখানের একজন। জিনিসটা বানায় কোনো কারখানা বা উৎপাদক, পাইকার সেটা তুলে এনে আপনার কাছে বেচেন, আর মাঝখানে তাঁর লাভটা যোগ হয়। একটা প্রোডাক্ট যখন আপনার পেজে মাসের পর মাস নিয়মিত চলে, তখন সরাসরি বানানোর জায়গায় যাওয়ার কথা ভাবুন। এতে পিসপ্রতি দাম কমে, আর চলতি ডিজাইনটা বারবার একইরকম বানিয়ে নেওয়া যায়, এমনকি নিজের পছন্দের রঙেও।

কয়েকটা জিনিসে এই রাস্তা বেশ পরিষ্কার। রেডিমেড কাপড় আর পাঞ্জাবি কেরানীগঞ্জেই বানানো হয়, সেখানে অনেক সময় যিনি বানাচ্ছেন তাঁর কাছ থেকেই কেনা যায়। হাজারীবাগের বেশিরভাগ দোকানির নিজের কারখানা আছে, সেটা তো ওপরেই বললাম। জুতার জন্য পুরান ঢাকার বংশাল এলাকা আর ভৈরবের কারখানার কথা জুতার লেখায় পাবেন। মধু বা সরিষার তেলে মার্কেটের চেয়ে উৎস বেশি জরুরি, তাই কিনুন মৌচাষি বা এমন ঘানির মালিকের কাছ থেকে, যাঁর ঘানি নিজের চোখে দেখেছেন।

হাজারীবাগের একটা ছোট চামড়ার কারখানায় একজন বয়স্ক কারিগর টেবিলে বসে একটা মানিব্যাগ সেলাই করছেন, পাশে দাঁড়িয়ে একজন তরুণ সেলার হাতে একটা তৈরি মানিব্যাগ নিয়ে সেলাই দেখছেন
কারখানায় গেলে কে বানাচ্ছেন আর কীভাবে বানাচ্ছেন, নিজের চোখে দেখা যায়

তবে কারখানার রাস্তার দুটো দাম আছে, আগে থেকে জেনে রাখুন। একটা হলো পিসের সংখ্যা। কারখানা সাধারণত দোকানের চেয়ে অনেক বেশি পিস একসাথে চায়, আর প্রতিটা ডিজাইনে কমপক্ষে কত নিতে হবে সেটা আগেই বলে দেয়। আরেকটা হলো মানের দায়িত্ব, সেটা তখন পুরোটাই আপনার। দোকানে খারাপ পিস বেছে রেখে আসা যায়, কিন্তু কারখানায় বানাতে দিলে পুরো লট যেমন আসবে তেমনই নিতে হয়। তাই প্রথমবার কারখানায় একটা ছোট অর্ডার দিন, আর ডেলিভারির দিন নিজে গিয়ে গুনে, দেখে মাল নিন।

কারখানার খোঁজ প্রায়ই পাওয়া যায় বক্সের লেবেল বা কার্টনের গায়ে। তবে যে পাইকার প্রথম দিন থেকে আপনাকে মাল দিয়েছেন, তাঁকে হঠাৎ বাদ দেবেন না। ঈদের ভিড়ে কারখানা সময়মতো মাল না দিলে আপনাকে তাঁর কাছেই ফিরতে হবে। অনেক সেলার তাই চলতি জিনিস কারখানা থেকে নেন, আর নতুন জিনিস টেস্ট করেন পাইকারের কাছ থেকে।

অনলাইনে পাইকারি কিনলে ঠকবেন না যেভাবে

রংপুর বা সিলেট থেকে প্রতি মাসে ঢাকায় আসা সহজ না, বাসভাড়া আর পুরো একটা দিন দুটোই যায়। তাই অনেক পাইকার এখন ফেসবুক পেজ বা WhatsApp-এ ছবি দিয়ে অর্ডার নেন আর কুরিয়ারে মাল পাঠান। কিন্তু অনলাইনে পাইকারি কেনার সবচেয়ে বড় ভুলটা হয় দামে। পেজে পিসপ্রতি দাম কম দেখে মনে হয় সস্তা পেয়েছি, অথচ মাল হাতে আসার পর হিসাবটা উল্টে যায়।

একটা উদাহরণে দেখি। নিচের সংখ্যাগুলো উদাহরণ, কোনো দোকান বা পেজের আসল দাম না। ধরুন আপনার ৫০টা চার্জার দরকার।

মার্কেটে গিয়ে কিনলে পিসপ্রতি দাম পড়ল ১২০ টাকা, ৫০টায় ৬,০০০ টাকা। যাওয়া-আসায় গেল ৪০০ টাকা। দোকানে দাঁড়িয়ে চালিয়ে দেখেছেন, তাই দুটো খারাপ পিস সাথে সাথে বদলে নিয়েছেন। মোট খরচ ৬,৪০০ টাকা, ভালো পিস ৫০টা, তাই প্রতিটা ভালো পিসের দাম ১২৮ টাকা।

অনলাইনের একটা পেজে একই চার্জার পিসপ্রতি ১০৫ টাকা, ৫০টায় ৫,২৫০ টাকা। কুরিয়ার আর কন্ডিশনের চার্জ মিলে গেল আরও ২৫০ টাকা। পার্সেল খুলে দেখলেন ৮টা চলে না, আর পেজ বলছে "পাঠানোর সময় ঠিক ছিল ভাই"। মোট খরচ ৫,৫০০ টাকা, ভালো পিস ৪২টা, তাই প্রতিটা ভালো পিসের দাম প্রায় ১৩১ টাকা।

কাগজে ১৫ টাকা সস্তা জিনিসটা আসলে ৩ টাকা দামি পড়ল। এর সাথে আছে সময় নষ্ট, ফোনে ঝগড়া, আর পুরো টাকা অগ্রিম দিলে মালই না আসার ভয়। তাই দাম মেলানোর নিয়ম একটাই, পিসের দাম না, ভালো পিসের দাম গুনুন। মানে মোট খরচকে ভাগ করুন যতগুলো পিস আসলে বেচতে পারবেন তত দিয়ে।

দুই কলামে ৫০টা চার্জারের হিসাব, মার্কেট থেকে কিনলে ভালো পিস ১২৮ টাকা আর অনলাইন পেজ থেকে কিনলে ৮টা নষ্ট হয়ে ভালো পিস প্রায় ১৩১ টাকা
পিসের দাম না, ভালো পিসের দাম গুনলেই আসল সস্তাটা ধরা পড়ে

এই ১৩১ টাকাই আপনার প্রোডাক্টের আসল কেনা দাম, আর খাতায় বা সফটওয়্যারে এটাই লিখবেন। ১০৫ টাকা লিখে রাখলে প্রতিটা অর্ডারে লাভ বেশি দেখাবে, যে লাভ আসলে কোনোদিন পকেটে আসবে না। মাস শেষে তখন হিসাব মেলে না, টাকাটা কোথায় গেল বোঝাই যায় না।

কেনা দাম ধরে প্রতিটা অর্ডারের আসল লাভ দেখুনডেলিভারি হওয়া অর্ডার থেকেই লাভ-ক্ষতির হিসাব

তবু কয়েকটা নিয়ম মানলে অনলাইনেও ঝুঁকি অনেক কমে। প্রথমে একটা-দুইটা পিস স্যাম্পল আনান, তারপর প্রথম অর্ডার ছোট রাখুন। অর্ডারের আগে ভিডিও কলে বলুন আপনার লটের জিনিসটাই ক্যামেরার সামনে চালিয়ে দেখাতে, স্টুডিওর ছবি না। পুরো টাকা অগ্রিম না দিয়ে অর্ধেক অগ্রিম আর বাকিটা কুরিয়ারের কন্ডিশনে দিতে বলুন। পার্সেল খোলার সময় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটা ভিডিও করুন, কম বা খারাপ মাল এলে এটাই আপনার প্রমাণ। পেজের বয়স, কমেন্ট আর আগের কাস্টমারদের কথা পড়ে পাইকার চেনার নিয়মগুলো কাপড়ের লেখায় বলা আছে, অন্য জিনিসেও সেগুলো একইভাবে খাটে।

একজন তরুণ সেলার বাসায় বসে মোবাইলে পাইকারের সাথে ভিডিও কলে কথা বলছেন, স্ক্রিনে পাইকার একটা চার্জার ক্যামেরার সামনে ধরে চালিয়ে দেখাচ্ছেন
অর্ডারের আগে ভিডিও কলে আপনার লটের জিনিসটাই চালিয়ে দেখাতে বলুন

সাপ্লায়ার যাচাইয়ের ৮টা প্রশ্ন

মার্কেটে হোক বা অনলাইনে, নতুন সাপ্লায়ারকে টাকা দেওয়ার আগে এই ৮টা প্রশ্ন করুন। উত্তরগুলো খাতায় লিখে রাখুন। পরে ঝামেলা হলে "আপনি তো বলেছিলেন" বলার জন্য লেখা কথাই কাজে আসে, মুখের কথা না।

১. দোকান বা কারখানাটা ঠিক কোথায়, গিয়ে দেখা যাবে? যিনি ঠিকানা দিতে চান না বা ঘুরিয়ে বলেন, তাঁর সাথে বড় লেনদেন করবেন না। ঢাকায় পরিচিত কেউ থাকলে একবার গিয়ে দেখে আসতে বলুন।

২. জিনিসটা আপনি নিজে বানান, আমদানি করেন, নাকি অন্যের কাছ থেকে তোলেন? যত হাত ঘুরে আসে, দাম তত বেশি, আর পরের লট একই মানের হবে কি না সেটাও তত বড় প্রশ্ন।

৩. এক মাস পরে ঠিক এই জিনিসটা আবার পাওয়া যাবে? অনলাইন সেলারের কাছে এই প্রশ্নটা দামের চেয়েও জরুরি। পোস্ট চললে অর্ডার আসতেই থাকবে, তখন মাল না পেলে সব অর্ডার বাতিল করতে হবে, আর কাস্টমার আপনার পেজের ওপর ভরসা হারাবেন।

৪. সবচেয়ে কম কয় পিস নিতে হবে, আর এক লটে রং বা মডেল মেশানো যাবে? প্রথম লটে কয়েক রং মিশিয়ে নিতে পারলে একই টাকায় বেশি জিনিস টেস্ট করা যায়।

৫. খারাপ বা ভুল পিস এলে কী করবেন, আর কয় দিনের মধ্যে জানাতে হবে? বদলে দেবেন, টাকা ফেরত দেবেন, নাকি কিছুই না, সেটা কেনার আগেই শুনে নিন। "দেখে নেবেন ভাই" মানে সাধারণত কিছুই না।

৬. টাকা কীভাবে নেবেন, আর দোকানের নাম-ঠিকানাসহ মেমো দেবেন? পুরো অগ্রিম, অর্ধেক অগ্রিম নাকি কন্ডিশনে, সেটা পরিষ্কার করুন। মেমো ছাড়া পরে কোনো অভিযোগ টেকে না।

৭. দামের সাথে কী কী ধরা আছে, পাঠানোর খরচ কে দেবে? কার্টন, প্যাকেট আর বাস বা কুরিয়ারে বুক করার চার্জ আলাদা কি না জিজ্ঞেস করুন। এই ছোট খরচগুলোই চুপচাপ ভালো পিসের দাম বাড়িয়ে দেয়।

৮. আর কোন অনলাইন সেলার আপনার কাছ থেকে নেন, একজনের নম্বর দেবেন? ভালো পাইকার সাধারণত দুই-একজন নিয়মিত কাস্টমারের নম্বর দিতে দ্বিধা করেন না। কসমেটিকস বা খাবারের মতো জিনিস হলে এর সাথে মেয়াদ, ব্যাচ নম্বর আর আমদানিকারকের নাম দেখতে চাইবেন।

সিদ্ধান্তের নিয়মটা সহজ রাখুন। ১, ৫ আর ৬ নম্বর প্রশ্নের কোনো একটায় পরিষ্কার উত্তর না পেলে টাকা দেবেন না, দাম যত কমই হোক। আর "এই দাম শুধু আজকে" বলে কেউ তাড়া দিলে সেটাকে বিপদের সংকেত ধরুন। ভালো পাইকারের দরকার নিয়মিত কাস্টমার, এক দিনের খদ্দের না।

সাপ্লায়ার দুই-তিনজন হয়ে গেলে কার কাছে কী অর্ডার দিলেন, কতটা এলো আর কত টাকা বাকি, সেটা মাথায় রাখা কঠিন হয়ে যায়। খাতায় রাখার নিয়ম আর অর্ধেক মাল এলে কী লিখবেন, সেটা পারচেজ অর্ডারের লেখায় ধাপে ধাপে আছে। WinningSeller-এ সাপ্লায়ার আর পারচেজ অর্ডার রাখা যায়। মাল এলে "স্টকে তুলুন" চাপলে স্টকে পিস যোগ হয়, আর সাপ্লায়ারের খাতায় ঠিক যতটা এসেছে ততটার টাকাই বাকি লেখা হয়।

সাপ্লায়ারের বাকি আর মাল আসার হিসাব রাখুনপ্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম

"উদ্যোক্তাদের পাইকারি ঠিকানা" বইয়ে ভরসা কতটা?

অনেকে গুগলে "উদ্যোক্তাদের পাইকারি ঠিকানা" বা এর পিডিএফ খোঁজেন। এই ধরনের নামে কয়েকটা ই-বুক আর অ্যাপ বাজারে আছে, যেমন "উদ্যোক্তাদের প্রথম ঠিকানা"। কোনো একটা বই ভালো না খারাপ, সেটা আমরা বলছি না। তবে যেকোনো ঠিকানার লিস্ট, বই হোক বা এই লেখার টেবিল হোক, কতটা ভরসা করবেন সেটা বোঝার একটা উপায় আছে।

একটা লিস্ট আপনাকে বলতে পারে কোন এলাকায় যেতে হবে। কিন্তু কোন দোকান ভালো মাল দেয়, কে খারাপ পিস বদলে দেয়, আর কে এক মাস পরেও একই মাল রাখে, সেটা কোনো লিস্ট বলতে পারে না। আর লিস্ট পুরনো হয়। বঙ্গবাজারের কথাই ধরুন। The Business Standard আগস্ট ২০২৬-এ লিখেছে, ২০২৩ সালের আগুনের পর সেখানকার অনেক ব্যবসায়ী এখনো আশপাশের মার্কেট, মিরপুর আর নিউমার্কেটে ছড়িয়ে আছেন। আগুনের আগে ছাপা কোনো লিস্ট হাতে নিয়ে গেলে আপনি হয়তো এমন দোকান খুঁজবেন যেটা আর সেখানে নেই।

তাই যেকোনো লিস্টের একটা ঠিকানা পেলে আগে ফোন করে দেখুন দোকানটা এখনো আছে কি না। যাওয়ার দিন সকালে পত্রিকার বন্ধ মার্কেটের লিস্টটা একবার দেখে নিন, আর কেনার আগে ওপরের ৮টা প্রশ্ন করুন। টাকা দিয়ে কেনা "যাচাই করা সাপ্লায়ারের নম্বর"-এর বেলাতেও একই নিয়ম।

আজকের কাজটা ছোট রাখুন। কোন একটা প্রোডাক্ট দিয়ে শুরু করবেন সেটা লিখুন, ওপরের টেবিল থেকে তার মার্কেটটা বের করুন, আর বন্ধের দিন মিলিয়ে এই সপ্তাহে একটা দিন ঠিক করুন। সাথে নিজের ফোন, একটা খাতা আর ৮টা প্রশ্ন নিয়ে যাবেন। প্রথমবার গলির ভিড়ে একটু দিশেহারা লাগবে, দরদাম করতে গিয়ে অস্বস্তিও লাগবে, এটা প্রায় সবারই হয়। কিন্তু সেদিন যদি একজন ভালো পাইকারের নম্বর নিয়েও ফেরেন, ব্যবসার শুরুতে এর চেয়ে দামি জিনিস খুব কমই আছে।

সাধারণ প্রশ্ন

ঢাকায় পাইকারি মার্কেট কোথায় কোথায় আছে?

প্রোডাক্ট ধরে আলাদা আলাদা জায়গায়। কাপড়ের জন্য ইসলামপুর আর কেরানীগঞ্জ, কসমেটিকস, খেলনা আর স্কুলব্যাগের জন্য চকবাজার, মোবাইল এক্সেসরিজের জন্য গুলিস্তানের সুন্দরবন স্কয়ার আর হাতিরপুলের মোতালেব প্লাজা, ঘড়ির জন্য পাটুয়াটুলী, চামড়ার জিনিসের জন্য হাজারীবাগ, আর মসলার জন্য মৌলভীবাজার। লেখার টেবিলে প্রোডাক্ট ধরে পুরো লিস্টটা আছে।

মোবাইল এক্সেসরিজের পাইকারি মার্কেট ঢাকায় কোথায়?

সবচেয়ে বেশি নাম আসে গুলিস্তানের সুন্দরবন স্কয়ার সুপার মার্কেটের। The Daily Star-এর আগস্ট ২০২৫-এর রিপোর্ট বলছে, সেখানকার ওপরের তলাগুলো মোবাইল এক্সেসরিজের পাইকারদের দখলে। হাতিরপুলের মোতালেব প্লাজাও সেলারদের চেনা জায়গা, তবে সেটা মঙ্গলবার বন্ধ থাকে।

পুরান ঢাকার পাইকারি মার্কেট কবে বন্ধ থাকে?

বেশিরভাগ শুক্রবার বন্ধ থাকে। desh.tv-র ২ অক্টোবর ২০২৬-এর লিস্টে শুক্রবার বন্ধের মধ্যে চকবাজার, ইসলামপুরের কাপড়ের দোকান, বাবুবাজার, নয়াবাজার, বংশাল, নবাবপুর আর পাটুয়াটুলীর নাম আছে। চকবাজারে শনিবারেও কিছু দোকান বন্ধ পেতে পারেন, তাই পুরো দিন ঘুরতে চাইলে রবিবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে যান।

চট্টগ্রামে পাইকারি বাজার কোথায়?

কাপড়ের জন্য টেরিবাজার, যাকে The Business Standard বাংলা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কাপড়ের বাণিজ্যকেন্দ্র বলেছে। মোবাইল, ইলেকট্রনিক্স, জুতা, মসলা থেকে স্টেশনারি পর্যন্ত প্রায় সবকিছুর জন্য রিয়াজউদ্দিন বাজার। শুঁটকির জন্য আসাদগঞ্জ।

অনলাইনে পাইকারের কাছ থেকে কেনা কি নিরাপদ?

চেনা পাইকারের কাছ থেকে হলে চলে, অচেনা পেজের বেলায় সাবধান থাকতে হয়। প্রথমে একটা-দুইটা স্যাম্পল আনিয়ে দেখুন, প্রথম অর্ডার ছোট রাখুন, আর পুরো টাকা অগ্রিম না দিয়ে অর্ধেক অগ্রিম আর বাকিটা কুরিয়ারের কন্ডিশনে দিতে বলুন। পার্সেল খোলার সময় ভিডিও করে রাখুন।

নতুন সাপ্লায়ার আসল না ভুয়া, বুঝব কীভাবে?

টাকা দেওয়ার আগে তিনটা জিনিস পরিষ্কার জেনে নিন। দোকান বা কারখানাটা কোথায়, খারাপ পিস এলে কী করবেন, আর টাকা কীভাবে নেবেন ও মেমো দেবেন কি না। এর কোনোটায় উত্তর ঘোরালে বা "আজকেই শেষ" বলে তাড়া দিলে টাকা দেবেন না।

#পাইকারি মার্কেট#পাইকারি বাজার#মোবাইল এক্সেসরিজ পাইকারি#সাপ্লায়ার#সোর্সিং#অনলাইন ব্যবসা

আরও পড়ুন

খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম

বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম

থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়