কোন প্রোডাক্টে লাভ, কোনটায় লস? প্রোডাক্টভিত্তিক লাভের হিসাব বের করুন
মাস শেষে মোট লাভ আছে, কিন্তু কোন প্রোডাক্ট টানছে আর কোনটা চুপচাপ লস দিচ্ছে, বোঝেন না? প্রোডাক্ট ধরে কোন সংখ্যা লিখবেন, কুরিয়ার, অ্যাড আর রিটার্নের খরচ কীভাবে ভাগ করবেন, তিন প্রোডাক্টের এক মাসের হিসাব আর লসের প্রোডাক্ট নিয়ে কী করবেন।

এই লেখায় যা আছে
- এক মাসের মোট লাভ কেন লুকিয়ে রাখে লসের প্রোডাক্ট
- Product wise profit বের করতে প্রোডাক্ট ধরে কোন সংখ্যাগুলো লিখবেন
- শুধু ডেলিভারড পিস কেন গুনবেন
- কুরিয়ার, অ্যাড আর রিটার্নের খরচ প্রোডাক্টে ভাগ করবেন যেভাবে
- মার্কআপ আর মার্জিন, একটা উদাহরণে
- তিন প্রোডাক্টের এক মাস (উদাহরণ)
- লস দেওয়া প্রোডাক্ট, দাম বাড়াবেন না বাদ দেবেন
- আজই করে ফেলুন
Product wise profit মানে প্রতিটা প্রোডাক্ট আলাদা করে কত লাভ দিল, তার হিসাব। মাসের মোট লাভ একটা সংখ্যা, আর সেই সংখ্যার ভেতরে একটা প্রোডাক্ট হয়তো সব টানছে, আরেকটা চুপচাপ লস দিচ্ছে। হিসাবটা বের করার নিয়ম সহজ। প্রতিটা প্রোডাক্টের শুধু ডেলিভারি হওয়া পিস ধরুন, বিক্রির টাকা থেকে কেনা দাম বাদ দিন, তারপর সেই প্রোডাক্টের কুরিয়ার, রিটার্ন আর অ্যাডের খরচ বাদ দিন। যা থাকে, সেটাই ওই প্রোডাক্টের আসল লাভ, আর অনেক সময় সেখানেই প্রথমবার দেখা যায় সবচেয়ে বেশি অর্ডার আনা প্রোডাক্টটা আসলে লস দিচ্ছে।
মাসের প্রথম সপ্তাহ। কুরিয়ারের টাকা এসেছে, খাতায় লাভ দেখাচ্ছে ভালোই। তবু মনে একটা খচখচানি থাকে। স্মার্টওয়াচটা এত অর্ডার আনে, অথচ হাতে টাকা সেই অনুপাতে বাড়ে না কেন? এই প্রশ্নের উত্তর মোট লাভে থাকে না, থাকে প্রোডাক্ট ধরে ভাঙা হিসাবে।
এক মাসের মোট লাভ কেন লুকিয়ে রাখে লসের প্রোডাক্ট
মোট লাভ গড়ের মতো কাজ করে। একটা প্রোডাক্ট ২২ হাজার টাকা লাভ দিল, আরেকটা ২ হাজার টাকা লস। মোটে দেখায় ২০ হাজার লাভ, আর মনে হয় সব ঠিক আছে। লসের প্রোডাক্টটা তখন ভালো প্রোডাক্টের লাভ খেয়ে বেঁচে থাকে, আর আপনি তার পেছনে অ্যাডের টাকা দিতেই থাকেন।
অনেক সেলারের সাথে যা হয়, লসের প্রোডাক্টটাই প্রায়ই দোকানের সবচেয়ে ব্যস্ত প্রোডাক্ট। অর্ডার বেশি আসে, ইনবক্সে প্রশ্ন বেশি, কুরিয়ারে পার্সেল বেশি যায়। তাই মনে হয় এটাই দোকানের তারকা। কিন্তু অর্ডার বেশি মানে লাভ বেশি না। দাম কম রেখে, অ্যাড বেশি দিয়ে অর্ডার আনা সবচেয়ে সহজ, আর সবচেয়ে দামি।
প্রোডাক্ট ধরে হিসাব করলে তিনটা জিনিস চোখে পড়ে, যা মোট লাভে পড়ে না। কোন প্রোডাক্টের দাম কম রাখা হয়েছে। কোনটার রিটার্ন এত বেশি যে লাভ ধুয়ে যায়। আর কোনটা অ্যাডের টাকা খায় কিন্তু ফেরত দেয় না। পুরো মাসের লাভ-ক্ষতির খাতা কীভাবে রাখবেন, সেটা অনলাইন ব্যবসার হিসাব রাখার লেখায় আছে। এই লেখা সেই খাতাকে প্রোডাক্ট ধরে ভাঙার কাজ।
Product wise profit বের করতে প্রোডাক্ট ধরে কোন সংখ্যাগুলো লিখবেন
প্রতিটা প্রোডাক্টের জন্য একটা লাইন, আর তাতে সাতটা সংখ্যা। ডেলিভারি হওয়া পিস। বিক্রির টাকা, মানে প্রতি পিসের দাম × পিস। কেনা দাম, মানে প্রতি পিসের কেনা দাম × পিস। রিটার্ন আসা পিস। সেই প্রোডাক্টের কুরিয়ার খরচ। রিটার্নের খরচ। আর সেই প্রোডাক্টের অ্যাডের খরচ।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাদ পড়ে কেনা দাম। পাইকারের কাছ থেকে মাল আসে, মেমো ব্যাগে ঢোকে, আর কেনা দাম কোথাও লেখা হয় না। তিন মাস পরে মনে থাকে না ওই লটের টি-শার্ট ২৮০ টাকায় কিনেছিলেন না ৩১০ টাকায়। তাই নিয়মটা হলো, যেদিন কার্টন আসে, সেদিনই প্রতিটা প্রোডাক্টের কেনা দাম লিখে ফেলুন। কার্টন খোলার আগে।

সাইজ আর রঙে দাম আলাদা হলে কেনা দামও আলাদা লিখুন। ৪২ সাইজের পাঞ্জাবিতে কাপড় বেশি লাগে, পাইকার সেটার দাম ২০-৩০ টাকা বেশি নেন। সব সাইজে একই কেনা দাম ধরলে বড় সাইজের লাভ আসলের চেয়ে বেশি দেখায়।
WinningSeller-এ প্রোডাক্টের ফর্মে "কেনা দাম (৳)" ঘর আছে, আর সাইজ-রঙের ভ্যারিয়েন্ট থাকলে প্রতিটা ভ্যারিয়েন্টের আলাদা কেনা দাম বসানো যায়। এই ঘরটা শুধু মালিক আর অ্যাডমিন দেখতে পান, কর্মচারী না। অর্ডার আসার সময় সেই মুহূর্তের কেনা দাম অর্ডারের সাথে রেখে দেওয়া হয়, তাই পরে কেনা দাম বদলালেও পুরনো অর্ডারের হিসাব নড়ে না। পাইকারকে পারচেজ অর্ডার দিলে মাল আসার পর "প্রোডাক্ট এসেছে" চাপার সময় "প্রোডাক্টের কেনা দাম আপডেট করুন" টিক দিলে কেনা দাম নতুন লটের দামে বদলে যায়, আলাদা করে লিখতে হয় না।
শুধু ডেলিভারড পিস কেন গুনবেন
অর্ডার নেওয়া আর বিক্রি হওয়া এক জিনিস না। ক্যাশ অন ডেলিভারিতে নেওয়া অর্ডারের একটা অংশ ফেরত আসে, কেউ ফোন ধরেন না, কেউ দরজায় মত বদলান। টাকা আসে শুধু ডেলিভারি হওয়া পার্সেলের। তাই লাভের হিসাবে বিক্রি মানে ডেলিভারড পিস।
নেওয়া অর্ডার ধরে হিসাব করলে সবচেয়ে বেশি ভুল দেখায় সেই প্রোডাক্টকে, যার রিটার্ন বেশি। ধরুন একটা প্রোডাক্টের ৩৪টা অর্ডার গেল, ৯টা ফেরত এল। অর্ডার ধরে হিসাব করলে ৩৪ পিসের লাভ দেখাবে। আসলে লাভ হয়েছে ২৫ পিসে, আর বাকি ৯টায় হয়েছে উল্টো খরচ, যাওয়া-আসার চার্জ আর প্যাকেট নষ্ট।

রিটার্নের পিস তাই আলাদা কলামে রাখুন, লাভের কলামে না মিশিয়ে। পাশাপাশি দেখলে প্রতিটা প্রোডাক্টের রিটার্নের হার চোখে পড়ে। একটা প্রোডাক্টে যদি প্রতি চারটার একটা ফেরত আসে, সমস্যাটা প্রোডাক্টের ছবি, বর্ণনা বা সাইজে, অ্যাডে না।
WinningSeller-এর হিসাব-নিকাশে "প্রোডাক্টভিত্তিক লাভ" ট্যাব ঠিক এভাবেই গোনে। শুধু ডেলিভারড অর্ডার, আর কলামগুলো বিক্রি (পিস), বিক্রির টাকা, কেনা দাম, লাভ, লাভের হার আর রিটার্ন (পিস)। ওপরে "কোন সময়ের হিসাব" থেকে এই মাস, গত মাস বা নিজের তারিখ বেছে নেওয়া যায়। স্ক্রিনেই পরিষ্কার লেখা থাকে, ডেলিভারি চার্জ, অর্ডারের ডিসকাউন্ট, কুরিয়ার আর অ্যাডের খরচ এখানে ধরা হয়নি। মানে এই ট্যাবের "লাভ" হলো বিক্রির টাকা থেকে শুধু কেনা দাম বাদ দেওয়া লাভ। বাকি তিনটা খরচ নিচের নিয়মে আপনাকেই ভাগ করতে হবে। আর কোনো প্রোডাক্টের কেনা দাম লেখা না থাকলে লাভের ঘরে একটা ছোট দাগ (ড্যাশ) দেখায়, শূন্য না।
কুরিয়ার, অ্যাড আর রিটার্নের খরচ প্রোডাক্টে ভাগ করবেন যেভাবে
এখানেই বেশিরভাগ হিসাব ভুল হয়। সহজ রাস্তা হলো মাসের মোট কুরিয়ার আর অ্যাডের খরচ সব প্রোডাক্টে সমান ভাগ করা। কিন্তু সমান ভাগ মানে যে প্রোডাক্ট বেশি খরচ খায়, তার বোঝা অন্যদের ঘাড়ে চাপানো। তিনটা খরচ তিন নিয়মে ভাগ করুন।
কুরিয়ার ভাগ করুন পার্সেল ধরে। এক পার্সেলে এক প্রোডাক্ট গেলে সেই পার্সেলের পুরো চার্জ সেই প্রোডাক্টের। দুই প্রোডাক্ট একসাথে গেলে বিক্রির টাকার অনুপাতে ভাগ করুন, বা সহজ করতে অর্ধেক অর্ধেক। হালকা আর সস্তা প্রোডাক্টে কুরিয়ারের ভাগ বিক্রির তুলনায় অনেক বড় হয়, এটা এখানেই ধরা পড়ে।
রিটার্ন ধরুন সেই প্রোডাক্টে, যেটা ফেরত এসেছে। ফেরত পার্সেলে আপনার যা যায়, যাওয়ার চার্জ, কোনো কোনো কুরিয়ারে ফেরতের বাড়তি চার্জ, আর নষ্ট প্যাকেট, সবটা সেই প্রোডাক্টের খরচ। ফেরত আসা প্রোডাক্ট যদি আর বেচার মতো না থাকে, তার কেনা দামও লসের ঘরে যায়।
অ্যাড ভাগ করুন ক্যাম্পেইন ধরে। যে ক্যাম্পেইন স্মার্টওয়াচের, তার পুরো খরচ স্মার্টওয়াচে। প্রতিটা ক্যাম্পেইনের নামে প্রোডাক্টের নাম রাখলে কাজটা সহজ হয়। পেজের লাইক বাড়ানোর অ্যাড বা পুরো দোকানের অ্যাড, যেটা কোনো একটা প্রোডাক্টের না, সেটা বিক্রির টাকার অনুপাতে ভাগ করুন। অ্যাড ডলারে দিলে টাকায় বদলে নিন, এই লেখায় ১ ডলার = ১২২ টাকা ধরা হয়েছে। প্রতিটা ক্যাম্পেইন কত বিক্রি আনল, সেই হিসাব ROAS-এর লেখায় বিস্তারিত আছে।
WinningSeller-এর হিসাব-নিকাশে অ্যাড খরচ লেখার সময় "কোন ক্যাম্পেইন" ঘরে নাম দেওয়া যায়। অ্যাডের লিংকে একই নামে utm_campaign রাখলে "সারাংশ" ট্যাবে ক্যাম্পেইনভিত্তিক ফল দেখায়, কোন ক্যাম্পেইনে কত খরচ আর কত ডেলিভারড বিক্রি। তবে প্রোডাক্টের ট্যাবে অ্যাডের খরচ নিজে বসে না, ওপরের নিয়মে আপনাকেই বসাতে হয়।
মার্কআপ আর মার্জিন, একটা উদাহরণে
এই দুটো শব্দ গুলিয়ে অনেকে দাম ঠিক করতে গিয়ে ঠকেন। দুটোই লাভের শতাংশ, কিন্তু একটা গোনা হয় কেনা দামের ওপর, আরেকটা বেচা দামের ওপর।
একটা ৫০০ টাকার প্রোডাক্ট ধরি, কেনা দাম ৩০০ টাকা। লাভ ৫০০ − ৩০০ = ২০০ টাকা। মার্কআপ হলো লাভ ÷ কেনা দাম, মানে ২০০ ÷ ৩০০ = প্রায় ৬৬.৭%। মার্জিন হলো লাভ ÷ বেচা দাম, মানে ২০০ ÷ ৫০০ = ৪০%। একই ২০০ টাকা, শুধু কিসের ওপর ভাগ করলেন তার ওপর শতাংশ বদলায়।

ভুলটা হয় এভাবে। কেউ ঠিক করলেন "৪০% লাভ রাখব", তারপর ৩০০ টাকার কেনা দামে ৪০% যোগ করলেন, ৩০০ × ১.৪ = ৪২০ টাকা। তিনি ভাবছেন ৪০% মার্জিন, অথচ আসল মার্জিন ১২০ ÷ ৪২০ = প্রায় ২৮.৬%। এই ১১ শতাংশের ফাঁকেই কুরিয়ার আর অ্যাডের টাকা থাকার কথা ছিল।
WinningSeller-এর "প্রোডাক্টভিত্তিক লাভ" ট্যাবের "লাভের হার" হলো মার্জিন, মানে বিক্রির টাকার ওপর লাভের শতাংশ। দাম কত রাখবেন, কুরিয়ার, রিটার্ন আর অ্যাডের খরচ দামে কীভাবে ঢোকাবেন আর কত মার্জিন হলে ভালো, তার পুরো হিসাব প্রোডাক্টের দাম নির্ধারণের লেখায় আছে।
তিন প্রোডাক্টের এক মাস (উদাহরণ)
এবার পুরো হিসাবটা একটা মাসে কষে দেখি। দোকান, প্রোডাক্ট আর সংখ্যা সবই বোঝানোর জন্য বানানো, কোনো আসল দোকানের খাতা থেকে না। তিনটা প্রোডাক্ট, কটন পাঞ্জাবি, স্মার্টওয়াচ আর ৫০০ গ্রামের মধু।
পাঞ্জাবি বিক্রি ১,৪৫০ টাকা, কেনা ৭৮০ টাকা। মাসে ডেলিভারি ৬০ পিস, ফেরত ৮ পিস। স্মার্টওয়াচ বিক্রি ১,৮৫০ টাকা, কেনা ১,২৫০ টাকা। ডেলিভারি ২৫ পিস, ফেরত ৯ পিস। মধু বিক্রি ৬৫০ টাকা, কেনা ৩৮০ টাকা। ডেলিভারি ৭০ পিস, ফেরত ৪ পিস। প্রতিটা পার্সেলে একটা প্রোডাক্ট, ডেলিভারি হওয়া পার্সেলে কুরিয়ারের খরচ গড়ে ১০০ টাকা ধরা, আর প্রতিটা ফেরতে আপনার খরচ ১৩০ টাকা। অ্যাড পাঞ্জাবিতে ৯০ ডলার, স্মার্টওয়াচে ১১০ ডলার, মধুতে ৬০ ডলার।
| হিসাব | পাঞ্জাবি | স্মার্টওয়াচ | মধু |
|---|---|---|---|
| বিক্রির টাকা | ৮৭,০০০ | ৪৬,২৫০ | ৪৫,৫০০ |
| কেনা দাম | ৪৬,৮০০ | ৩১,২৫০ | ২৬,৬০০ |
| কেনা দাম বাদে লাভ | ৪০,২০০ | ১৫,০০০ | ১৮,৯০০ |
| কুরিয়ার | ৬,০০০ | ২,৫০০ | ৭,০০০ |
| রিটার্নের খরচ | ১,০৪০ | ১,১৭০ | ৫২০ |
| অ্যাড | ১০,৯৮০ | ১৩,৪২০ | ৭,৩২০ |
| আসল লাভ | ২২,১৮০ | −২,০৯০ | ৪,০৬০ |
কীভাবে এল, এক লাইনে মিলিয়ে নিন। পাঞ্জাবির বিক্রি ৬০ × ১,৪৫০ = ৮৭,০০০, কেনা ৬০ × ৭৮০ = ৪৬,৮০০। কুরিয়ার ৬০ × ১০০ = ৬,০০০, রিটার্ন ৮ × ১৩০ = ১,০৪০, অ্যাড ৯০ × ১২২ = ১০,৯৮০। লাভ ৪০,২০০ − ৬,০০০ − ১,০৪০ − ১০,৯৮০ = ২২,১৮০ টাকা। স্মার্টওয়াচে ১৫,০০০ − ২,৫০০ − ১,১৭০ − ১৩,৪২০ = −২,০৯০ টাকা। মধুতে ১৮,৯০০ − ৭,০০০ − ৫২০ − ৭,৩২০ = ৪,০৬০ টাকা। তিনটা মিলিয়ে মাসের লাভ ২২,১৮০ − ২,০৯০ + ৪,০৬০ = ২৪,১৫০ টাকা।

টেবিল থেকে তিনটা জিনিস বের হয়। কেনা দাম বাদে লাভের সারিতে স্মার্টওয়াচ ১৫,০০০ টাকা দেখাচ্ছিল, মোটেই খারাপ না। সব খরচের পরে সেটা ২,০৯০ টাকা লস। কারণ দুটো, অ্যাড সবচেয়ে বেশি খেয়েছে, আর ৩৪টা পাঠানো পার্সেলের ৯টা ফেরত এসেছে, প্রায় চারটায় একটা। মধুর মার্জিন ভালো (প্রায় ৪১.৫%), কিন্তু প্রতি বোতলে আসল লাভ মাত্র ৪,০৬০ ÷ ৭০ = ৫৮ টাকা, কারণ ৬৫০ টাকার জিনিসে ১০০ টাকার কুরিয়ার বড় একটা কামড়। আর মাসের ২৪,১৫০ টাকা লাভের ২২,১৮০ টাকাই এসেছে পাঞ্জাবি থেকে, প্রায় ৯২%। দোকানটা আসলে চলছে একটা প্রোডাক্টের ওপর।
লস দেওয়া প্রোডাক্ট, দাম বাড়াবেন না বাদ দেবেন
লস দেখলেই বাদ দেওয়া সহজ সিদ্ধান্ত, আর অনেক সময় ভুল। আগে দেখুন লসটা কোথা থেকে আসছে। তিনটা জায়গার একটা সাধারণত দায়ী, দাম, রিটার্ন বা অ্যাড। আমি একবারে একটাই জিনিস বদলাতে বলি, যাতে পরের মাসে বোঝা যায় কোনটা কাজ করল।
দাম কম হলে দাম বাড়ান। ওপরের স্মার্টওয়াচে ১৫০ টাকা বাড়ালে আর ২৫ পিসই বিক্রি হলে লাভ বাড়ে ২৫ × ১৫০ = ৩,৭৫০ টাকা, তাতে −২,০৯০ থেকে দাঁড়ায় ১,৬৬০ টাকা লাভে। বিক্রি কিছু কমতে পারে, তাই এক মাস দেখুন। রিটার্ন বেশি হলে আগে ছবি, বর্ণনা আর কনফার্মের ফোন ঠিক করুন, কারণ প্রতিটা ফেরত এখানে ১৩০ টাকা আর একটা বিক্রি দুটোই খায়। অ্যাড বেশি খেলে ক্যাম্পেইনটা থামিয়ে নতুন ছবি বা নতুন অডিয়েন্সে ছোট বাজেটে চালান। সস্তা প্রোডাক্টে কুরিয়ার খেলে বান্ডেল করুন, যেমন মধুর দুই বোতলের প্যাক। এক পার্সেলে দুই বোতল গেলে দ্বিতীয় বোতলের ১০০ টাকার কুরিয়ার বেঁচে যায়।
বাদ দেবেন কখন? একটা জিনিস বদলে এক মাস চালানোর পরেও আসল লাভ শূন্যের নিচে থাকলে। তখন নতুন স্টক তুলবেন না, আর হাতে যা আছে সেটা কেনা দামের কাছাকাছি দামে বা বান্ডেলে বের করে দিন। পড়ে থাকা স্টক কীভাবে চিনবেন আর কী করবেন, সেটা ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্টের লেখায় আছে।

এবার কখন কিছুই করবেন না, সেটাও বলি। কোনো প্রোডাক্টের মাসে দশটার কম পিস ডেলিভারি হলে তার সংখ্যা দিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন না। দুটো রিটার্ন বা একটা বড় অর্ডারে সব ওলটপালট হয়ে যায়। এমন প্রোডাক্ট দুই-তিন মাস মিলিয়ে দেখুন। নতুন প্রোডাক্টের প্রথম মাসেও তাড়াহুড়া করবেন না, কারণ শুরুর অ্যাডে শেখার খরচ বেশি থাকে। আর ঈদ বা পূজার মাসের সংখ্যা সাধারণ মাসের সাথে মেলাবেন না।
একটা অভ্যাস করুন। প্রতি মাসে লিস্টের নিচের তিনটা প্রোডাক্ট দেখুন, ওপরের তিনটা না। ওপরের তিনটা দেখতে ভালো লাগে, কিন্তু টাকা বাঁচে নিচের তিনটা দেখে। WinningSeller-এর "প্রোডাক্টভিত্তিক লাভ" ট্যাব লাভ বেশি থেকে কম সাজিয়ে দেখায়, আর কেনা দাম না থাকা প্রোডাক্টগুলো একদম শেষে থাকে, তাই নিচের দিকেই চোখ দিন।
আজই করে ফেলুন
হাতে অর্ডার লিস্ট আর অ্যাড ম্যানেজার থাকলে নিচের কাজগুলো এক বসাতেই হয়ে যায়।
- দোকানের সবচেয়ে বেশি চলা পাঁচটা প্রোডাক্টের কেনা দাম একটা কাগজে লিখুন, সাইজ বা রঙে আলাদা হলে আলাদা করে।
- গত মাসে এই পাঁচটার কয়টা পিস ডেলিভারি হয়েছে আর কয়টা ফেরত এসেছে, অর্ডার লিস্ট বা কুরিয়ারের প্যানেল থেকে গুনুন।
- গত মাসের অ্যাড ম্যানেজার খুলে প্রতিটা ক্যাম্পেইন কোন প্রোডাক্টের, পাশে লিখুন, আর ডলারকে ১২২ দিয়ে গুণ করে টাকায় আনুন।
- ওপরের টেবিলের মতো পাঁচ লাইনের একটা টেবিল বানিয়ে প্রতিটার আসল লাভ বের করুন।
- যেটা শূন্যের নিচে বা সবচেয়ে কম, তার জন্য একটাই বদল ঠিক করুন, দাম, রিটার্ন কমানো, অ্যাড বা বান্ডেল, আর ক্যালেন্ডারে এক মাস পরের একটা দিনে লিখে রাখুন "আবার দেখব"।
- অ্যাড ম্যানেজারে প্রতিটা ক্যাম্পেইনের নামের শুরুতে প্রোডাক্টের নাম বসিয়ে দিন, পরের মাসের ভাগ সহজ হবে।
সাধারণ প্রশ্ন
প্রোডাক্টভিত্তিক লাভ কীভাবে হিসাব করব?
প্রতিটা প্রোডাক্টের ডেলিভারি হওয়া পিস গুনুন, বিক্রির টাকা থেকে সেই পিসগুলোর কেনা দাম বাদ দিন। তারপর সেই প্রোডাক্টের কুরিয়ার চার্জ, রিটার্নের খরচ আর তার অ্যাডের খরচ বাদ দিন। যা থাকে, সেটা ওই প্রোডাক্টের আসল লাভ।
মার্কআপ আর মার্জিনের পার্থক্য কী?
মার্কআপ গোনা হয় কেনা দামের ওপর, মার্জিন গোনা হয় বেচা দামের ওপর। ৩০০ টাকায় কিনে ৫০০ টাকায় বেচলে লাভ ২০০ টাকা, মার্কআপ ২০০ ÷ ৩০০ = প্রায় ৬৬.৭%, আর মার্জিন ২০০ ÷ ৫০০ = ৪০%। একই লাভ, দুই রকম শতাংশ।
লাভের হিসাবে নেওয়া অর্ডার ধরব, নাকি ডেলিভারি হওয়া অর্ডার?
শুধু ডেলিভারি হওয়া অর্ডার। নেওয়া অর্ডারের একটা অংশ ফেরত আসে, আর ফেরত আসা পার্সেলে লাভ না হয়ে উল্টো খরচ হয়। নেওয়া অর্ডার ধরে হিসাব করলে যে প্রোডাক্টে রিটার্ন বেশি, সেটাকে আসলের চেয়ে ভালো দেখায়।
অ্যাডের খরচ কোন প্রোডাক্টে কত ধরব?
যে ক্যাম্পেইনে যে প্রোডাক্ট বিক্রি হয়েছে, তার খরচ সেই প্রোডাক্টে ধরুন। সব প্রোডাক্টে সমান ভাগ করবেন না, কারণ তাতে বেশি অ্যাড খাওয়া প্রোডাক্টের লস অন্য প্রোডাক্টের ঘাড়ে চলে যায়। পেজের সাধারণ অ্যাডের মতো যে খরচ কোনো একটা প্রোডাক্টের না, সেটা বিক্রির টাকার অনুপাতে ভাগ করুন।
লস দেওয়া প্রোডাক্ট কি সাথে সাথে বাদ দেব?
না, আগে কারণটা দেখুন। দাম কম, রিটার্ন বেশি, নাকি অ্যাড বেশি খাচ্ছে, তিনটার একটা সাধারণত দায়ী। একটা জিনিস বদলে এক মাস দেখুন, তারপরও লস হলে বাদ দিন বা স্টক ক্লিয়ার করুন।
কত দিন পরপর প্রোডাক্টভিত্তিক লাভ দেখব?
মাসে একবার যথেষ্ট, মাস শেষের প্রথম সপ্তাহে। প্রতিদিন দেখলে কয়েকটা অর্ডারের ওঠানামায় ভুল সিদ্ধান্ত হয়। যে প্রোডাক্টের মাসে দশটার কম পিস ডেলিভারি হয়, তার সংখ্যা দুই-তিন মাস মিলিয়ে দেখুন।
আরও পড়ুন
উপায় মার্চেন্ট একাউন্ট লাগবে কি? খোলার নিয়ম, চার্জ আর পেমেন্ট নেওয়া
কয়েকজন কাস্টমার উপায়ে টাকা দিতে চান। উপায় মার্চেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম কী, upaybd.com-এ কী লেখা আছে আর কী নেই, কোন কাগজ সাথে রাখবেন, চার্জ আর লিমিটের হিসাব, আর কখন চতুর্থ ওয়ালেট না খুলে একটা পেমেন্ট লিংক পাঠানোই ভালো।
রকেট মার্চেন্ট একাউন্ট কীভাবে খুলবেন? কাগজ, চার্জ আর কখন লাগে
কিছু কাস্টমার bKash না, Rocket-এ টাকা দিতে চান। রকেট মার্চেন্ট একাউন্ট কী, Dutch-Bangla Bank নিজে কী লিখেছে আর কী লেখেনি, শাখায় কী কাগজ আর কোন প্রশ্নগুলো নিয়ে যাবেন, ১২ অঙ্কের নম্বরের ফাঁদ আর মাসের খরচের হিসাব।
অনলাইন ব্যবসায়ীর আয়কর রিটার্ন, ই-রিটার্নে ব্যবসার আয় দেখাবেন যেভাবে
ফেসবুকে বা ওয়েবসাইটে ব্যবসা করেন, TIN আছে, রিটার্ন দিতে হবে কি? NBR-এর ২০২৬-২৭ সালের নির্দেশিকা আর ই-রিটার্নের FAQ ধরে কারা দেবেন, কবে দিলে কী হয়, ব্যবসার আয় কোন ঘরে যায়, কোন কাগজ রাখবেন আর কখন আয়কর আইনজীবীর কাছে যাবেন।


