প্রোডাক্টের দাম নির্ধারণ করবেন যেভাবে (কুরিয়ার, রিটার্ন আর অ্যাড ধরে)
পাইকারি দামের সাথে ৩০০ টাকা যোগ করলে কাগজে লাভ দেখায়, কিন্তু মাস শেষে হিসাব মেলে না। কুরিয়ার, ১% COD, ফেরত পার্সেল আর অ্যাডের খরচ ধরে কীভাবে দাম ঠিক করবেন, একটা থ্রি-পিসের উদাহরণে টাকায় টাকায় দেখানো হলো।

এই লেখায় যা আছে
- প্রোডাক্টের দাম নির্ধারণে কোন কোন খরচ ধরতে হয়?
- ডেলিভারি চার্জ কে দেবে, আর কুরিয়ার আসলে কত কাটে?
- রিটার্নের খরচ দামের মধ্যে ধরবেন কীভাবে?
- অ্যাড খরচ অর্ডারপ্রতি না, ডেলিভারিপ্রতি গুনবেন কেন?
- ৬৫০ টাকায় কেনা থ্রি-পিস কত টাকায় বেচবেন? একটা পুরো উদাহরণ
- ফ্রি ডেলিভারি দিলে লাভ কোথায় যায়?
- ছাড় দেবেন, নাকি দাম বাড়াবেন?
- ৯৯০ টাকা নাকি ১,০০০ টাকা, শেষের অঙ্কে কি বিক্রি বাড়ে?
- দাম ঠিক করার পর প্রতি মাসে কী দেখবেন?
প্রোডাক্টের দাম নির্ধারণ করার সহজ নিয়ম হলো, আগে হিসাব করুন একটা অর্ডার কাস্টমারের হাতে পৌঁছাতে আপনার পকেট থেকে কত টাকা বের হয়। তারপর তার ওপর যতটা লাভ চান সেটা বসান। এই খরচের মধ্যে থাকে কেনা দাম, প্যাকেজিং, কুরিয়ার চার্জের যে অংশটা কাস্টমার দেন না, কুরিয়ারের COD চার্জ, ফেরত আসা পার্সেলের খরচের ভাগ, আর ওই অর্ডারটা আনতে অ্যাডে যা গেছে তার ভাগ। পাইকারি দামের সাথে শুধু ৩০০ টাকা যোগ করে দাম বসালে কাগজে লাভ দেখায়, কিন্তু মাস শেষে হাতে টাকা থাকে না।
নিচে প্রতিটা খরচ কীভাবে গুনবেন সেটা একটা একটা করে বলছি। তারপর একটা থ্রি-পিসের পুরো হিসাব টাকায় দেখাব, যেটা আপনি নিজের সংখ্যা বসিয়ে খাতা-কলমে আবার করতে পারবেন।
প্রোডাক্টের দাম নির্ধারণে কোন কোন খরচ ধরতে হয়?
বেশিরভাগ নতুন সেলার শুধু কেনা দামটা দেখেন, কারণ ওটা নিজের হাতে গুনে দেওয়া টাকা। বাকি খরচগুলো আসে পরে, ছোট ছোট করে, কুরিয়ারের বিলে বা অ্যাডের কার্ডে। তাই মনে হয় ওগুলো এই প্রোডাক্টের খরচ না। অথচ প্রতিটা খরচই হয়েছে এই প্রোডাক্ট বেচতে গিয়ে।
হিসাবটা করবেন প্রতিটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডার ধরে, নেওয়া অর্ডার ধরে না। কারণটা সোজা। ক্যাশ অন ডেলিভারিতে টাকা আসে শুধু সেই পার্সেল থেকে, যেটা কাস্টমার রেখে দিয়েছেন। যে পার্সেল ফেরত এলো বা যে অর্ডার কনফার্ম কলেই বাতিল হলো, তাদের খরচও মেটাতে হয় ডেলিভারি হওয়া অর্ডারের টাকা দিয়েই। তাই প্রতিটা খরচ আমরা ডেলিভারি হওয়া একটা অর্ডারের ঘাড়ে ভাগ করে বসাব।
একটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডারের হিসাবে এই সাতটা লাইন থাকবে।
- কেনা দাম। পাইকারি দামের সাথে মাল আনার খরচও ধরবেন, যেমন ইসলামপুর থেকে ভ্যান ভাড়াটা প্রতি পিসে ভাগ করে।
- প্যাকেজিং। পলি, বক্স, টেপ, ইনভয়েস প্রিন্ট আর ভেতরে কোনো কার্ড দিলে সেটাও এই লাইনে যায়।
- কুরিয়ার চার্জের ঘাটতি। কুরিয়ার যত কাটে আর কাস্টমার যত ডেলিভারি চার্জ দেন, এই দুটোর পার্থক্যটা আপনার পকেট থেকে যায়।
- COD চার্জ। কাস্টমারের টাকা তুলে দেওয়ার জন্য কুরিয়ার একটা ছোট শতাংশ কেটে রাখে।
- রিটার্নের ভাগ। ফেরত পার্সেলগুলোর মোট খরচকে ডেলিভারি হওয়া অর্ডারগুলোর ওপর ভাগ করে এটা বের হয়।
- অ্যাডের ভাগ। মাসের অ্যাড খরচকে ডেলিভারি হওয়া অর্ডারের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে এটা পাবেন।
- লাভ। প্রতি অর্ডারে আপনি যতটা রাখতে চান, সেটা আগেই ঠিক করে একটা খরচের মতো বসিয়ে দেবেন। "যা বাঁচে তাই লাভ" ভাবলে প্রায়ই কিছুই বাঁচে না।
দোকান ভাড়া, স্টাফের বেতন আর ফোন বিল এই লিস্টে নেই, কারণ অর্ডার কম হোক বা বেশি, এগুলো একই থাকে। এগুলো আলাদা রাখুন, আর মাস শেষে দেখুন ডেলিভারি হওয়া অর্ডারের মোট লাভ দিয়ে এগুলো মেটে কিনা। না মিটলে বুঝবেন লাভের লাইনটা ছোট রাখা হয়েছে।
ডেলিভারি চার্জ কে দেবে, আর কুরিয়ার আসলে কত কাটে?
বেশিরভাগ সেলার ডেলিভারি চার্জটা কাস্টমারের কাছ থেকে আলাদা নেন। কাস্টমার যা দেন আর কুরিয়ার যা কাটে, এই দুটো সমান হলে ঝামেলা নেই। গোলমাল হয় যখন সস্তা দেখাতে কম চার্জ নেওয়া হয়, বা প্যাকেট ১ কেজি পার হওয়ার পরেও আগের চার্জটাই নেওয়া হয়।
২০২৬ সালের অক্টোবরে Steadfast-এর ওয়েবসাইটের রেট ক্যালকুলেটরে ঢাকা থেকে পাঠানো ১ কেজি পর্যন্ত পার্সেলের হোম ডেলিভারি চার্জ এরকম দেখাচ্ছে। ঢাকার ভেতরে ৭৫ টাকা, গাজীপুর বা নারায়ণগঞ্জের মতো সাবআর্বানে ১০৫ টাকা, আর ঢাকার বাইরে ১৩৫ টাকা। আধা কেজি পর্যন্ত হলে এগুলো হয় ৬৫, ১০৫ আর ১১৫ টাকা, আর ২ কেজি হলে প্রতিটায় ২০ টাকা বাড়ে। pathao.com-এর কুরিয়ার পেজে ১ কেজি পর্যন্ত ঢাকার ভেতরে ৭০ টাকা আর ঢাকা থেকে বাইরে ১৩০ টাকা লেখা আছে। দুই কুরিয়ারের রেটেই VAT আর ট্যাক্স ধরা নেই, আর আলাদা রেট ঠিক করা থাকলে বিল সেই রেটেই হয়।
COD চার্জ দুই সাইটেই ১% লেখা। Steadfast-এর শর্তে বলা আছে, কাস্টমারের দেওয়া টাকা থেকে আগে ডেলিভারি চার্জ বাদ যাবে, তারপর বাকিটার ওপর ১% কাটবে। Pathao-র রেট কার্ডে ১% লেখা থাকলেও ওদের প্রশ্নোত্তর অংশে ঢাকা মেট্রোর ভেতরে ০.৫% লেখা আছে। দুই জায়গায় দুই কথা থাকলে আপনার প্যানেলের বিলটাই আসল, তাই দাম ঠিক করার দিন একটা পার্সেলের আসল বিল খুলে দেখে নিন।
এবার দেখুন ঘাটতিটা কীভাবে তৈরি হয়। ধরুন আপনি Steadfast-এ পাঠান, আর ঢাকার বাইরের কাস্টমারের কাছ থেকে ডেলিভারি চার্জ নেন ১৩০ টাকা। Steadfast কাটে ১৩৫, তাই প্রতি অর্ডারে ৫ টাকা যায় আপনার পকেট থেকে। কেউ যদি সস্তা দেখাতে ১০০ টাকা নেন, তাহলে প্রতি অর্ডারে ঘাটতি ৩৫ টাকা, আর মাসে ৩০০টা ডেলিভারিতে সেটা দাঁড়ায় ১০,৫০০ টাকায়। ঘাটতিটা হিসাবে আলাদা লাইন করে রাখলে এটা আর চোখ এড়ায় না। আর ফ্রি ডেলিভারি দিলে এই ঘাটতি পুরো কুরিয়ার চার্জের সমান হয়ে যায়, সেটা নিচে আলাদা করে দেখাচ্ছি।
রিটার্নের খরচ দামের মধ্যে ধরবেন কীভাবে?
ফেরত আসা পার্সেল এক টাকাও আনে না, কিন্তু খরচ ঠিকই করিয়ে যায়। Steadfast-এর শর্তে লেখা আছে, তাদের হাতে দেওয়া প্রতিটা পার্সেলের ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে, পার্সেল ডেলিভারি হোক বা বাতিল, তবে ফেরত আনার জন্য আলাদা চার্জ নেই। কিন্তু ওদের বিজনেস পেজের প্রশ্নোত্তরে লেখা রিটার্ন চার্জ আলাদা, তাই প্রথম ফেরতের পরে প্যানেলের হিসাবটা দেখে নিন। Pathao-র পেজে লেখা আছে, ঢাকার বাইরের পার্সেল ফেরত এলে ডেলিভারি চার্জের সাথে আরও ৫০% রিটার্ন চার্জ লাগে। এর ওপর প্যাকেটটা আর কাজে লাগে না, আর কখনো প্রোডাক্টটাই ভিজে বা ভাঁজ খেয়ে ফেরত আসে।
এই খরচ দামের ভেতরে আনতে একটা ছোট হিসাব লাগবে। কুরিয়ার প্যানেল থেকে দেখুন শেষ দুই-তিন মাসে কতগুলো পার্সেল পাঠিয়েছেন আর কতগুলো ফেরত এসেছে। একটা ফেরতে কত টাকা যায় সেটাকে ফেরতের সংখ্যা দিয়ে গুণ করুন। যা এলো, সেটাকে ডেলিভারি হওয়া অর্ডারের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করুন, পাঠানো পার্সেল দিয়ে না। কারণ ফেরতের খরচটা শেষ পর্যন্ত ডেলিভারি হওয়া অর্ডারগুলোই বহন করে।
একটা উদাহরণ দেখুন। ধরুন ঢাকার বাইরে ১০০টা পার্সেল পাঠালেন, তার মধ্যে ২০টা ফেরত এলো আর ৮০টা ডেলিভারি হলো। Steadfast-এ একটা ফেরতে ১৩৫ টাকা কুরিয়ার চার্জ গেল, সাথে ২৫ টাকার প্যাকেজিং, মোট ১৬০ টাকা। ২০টা ফেরতে গেল ২০ গুণ ১৬০, মানে ৩,২০০ টাকা। এই টাকাটা ৮০টা ডেলিভারি হওয়া অর্ডারকে মেটাতে হবে, তাই ৮০ দিয়ে ভাগ করলে আসে ৪০ টাকা। মানে প্রতিটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডারের দামে ৪০ টাকা রাখতে হবে শুধু ফেরতের খরচ তুলতে।
রিটার্ন রেট বদলালে এই সংখ্যা কত দ্রুত বদলায়, সেটা দেখলে চমকে যাবেন। ১০০টায় ১০টা ফেরত এলে খরচ হয় ১০ গুণ ১৬০, মানে ১,৬০০ টাকা। সেটা ৯০টা ডেলিভারিতে ভাগ হয়ে প্রতি অর্ডারে পড়ে প্রায় ১৮ টাকা। ৩০টা ফেরত এলে খরচ হয় ৪,৮০০ টাকা, আর সেটা মাত্র ৭০টা ডেলিভারিতে ভাগ হয়ে প্রতি অর্ডারে পড়ে প্রায় ৬৯ টাকা। মানে রিটার্ন ১০% থেকে ৩০% হলে প্রতি অর্ডারে এই খরচ প্রায় চার গুণ হয়ে যায়। তাই অনেক সময় দাম বাড়ানোর চেয়ে ফেরত কমিয়ে লাভ বাড়ানো সহজ। কনফার্ম কল, নম্বরের আগের রেকর্ড দেখা আর অগ্রিম ডেলিভারি চার্জ নেওয়ার কাজগুলো ফেক অর্ডার আর রিটার্ন কমানোর এই লেখায় ধাপে ধাপে বলা আছে।
নতুন শুরু করলে নিজের রিটার্নের হিসাব হাতে থাকবে না। তখন একটু সাবধানী সংখ্যা ধরুন, যেমন ২০%। প্রথম মাস শেষে নিজের আসল সংখ্যা দিয়ে হিসাবটা আবার করবেন।
অ্যাড খরচ অর্ডারপ্রতি না, ডেলিভারিপ্রতি গুনবেন কেন?
Ads Manager আপনাকে দেখায় মেসেজপ্রতি বা অর্ডারপ্রতি খরচ। ওই সংখ্যা দেখে দাম ঠিক করলে ভুল হবে, কারণ সব অর্ডার টাকা আনে না। কিছু অর্ডার কনফার্ম কলেই বাতিল হয়, কিছু পার্সেল দরজা থেকে ফেরত আসে। অ্যাডের টাকা কিন্তু ওগুলোর পেছনেও খরচ হয়েছে।
ধরুন এক মাসে একটা প্রোডাক্টের অ্যাডে কার্ডে বা এজেন্সিকে মোট ১২,০০০ টাকা দিলেন। অর্ডার এলো ১১৫টা। কনফার্ম কলে ১৫টা বাতিল হলো, পাঠালেন ১০০টা, আর ডেলিভারি হলো ৮০টা। ১২,০০০ টাকাকে ১১৫টা অর্ডার দিয়ে ভাগ করলে অর্ডারপ্রতি অ্যাড খরচ আসে প্রায় ১০৪ টাকা। কিন্তু টাকা এসেছে মাত্র ৮০টা অর্ডার থেকে, তাই আসল হিসাব হলো ১২,০০০ ভাগ ৮০, মানে ১৫০ টাকা। দামের হিসাবে বসবে ১৫০, ১০৪ না। এই ৪৬ টাকার ফারাক না ধরলে খাতায় প্রতি অর্ডারে লাভ ৪৬ টাকা বেশি দেখাবে, যে টাকাটা আসলে নেই।
অ্যাডের খরচ ডলারে না, টাকায় গুনুন। কার্ডের বিলে বা এজেন্সিকে আসলে যত টাকা দিয়েছেন সেটাই আপনার সংখ্যা, কারণ ডলারের রেট, ব্যাংকের চার্জ আর VAT মিলে বেশি টাকা যায়। পোস্ট বুস্টের টাকাও এই হিসাবে ঢুকবে। একাধিক প্রোডাক্ট বেচলে প্রতিটার অ্যাড খরচ আলাদা রাখুন, না হলে লাভের প্রোডাক্টটা লোকসানের প্রোডাক্টকে চুপচাপ টেনে নিয়ে যাবে।
৬৫০ টাকায় কেনা থ্রি-পিস কত টাকায় বেচবেন? একটা পুরো উদাহরণ
এটা একটা বানানো উদাহরণ, কোনো আসল দোকানের হিসাব না। নিজের সংখ্যা বসিয়ে একই ধাপে হিসাবটা করে নেবেন।
ধরুন আপনি ঢাকায় বসে মেয়েদের থ্রি-পিস বেচেন। পাইকারি দাম ৬২০ টাকা, আর দোকানে আনার খরচ ভাগ করলে পিসপ্রতি ৩০ টাকা পড়ে, তাই আপনার কেনা দাম ৬৫০ টাকা। প্যাকেজিংয়ে যায় ২৫ টাকা, আর প্যাকেটসহ ওজন ১ কেজির নিচে থাকে। অর্ডারটা ঢাকার বাইরের, Steadfast-এ হোম ডেলিভারি যাবে, চার্জ ১৩৫ টাকা। কাস্টমারের কাছ থেকে ডেলিভারি চার্জ নেন ১৩০ টাকা। রিটার্নের ভাগ ৪০ টাকা আর অ্যাডের ভাগ ১৫০ টাকা ধরছি, ওপরের দুই অংশে যেভাবে বের করেছি।
আপনি এখন থ্রি-পিসটা বেচছেন ৯৫০ টাকায়, আর ভাবছেন পিসে ৩০০ টাকা লাভ থাকছে। ধাপে ধাপে দেখি আসলে কত থাকে।
ধাপ ১, দরজায় কত টাকা ওঠে। কাস্টমার দেন প্রোডাক্টের দাম আর ডেলিভারি চার্জ মিলিয়ে, ৯৫০ যোগ ১৩০, মানে ১,০৮০ টাকা।
ধাপ ২, কুরিয়ার কত রেখে দেয়। প্রথমে Steadfast রাখে তার ডেলিভারি চার্জ, ১৩৫ টাকা। তারপর কাটে COD চার্জ। এটা পুরো ১,০৮০ টাকার ওপর না, ডেলিভারি চার্জ বাদ দিয়ে বাকি ৯৪৫ টাকার ওপর ১%। ১০০ টাকায় ১ টাকা ধরলে ৯৪৫ টাকায় হয় প্রায় ৯ টাকা। তাহলে ১,০৮০ থেকে ১৩৫ আর ৯ বাদ দিয়ে আপনার হাতে আসে ৯৩৬ টাকা। Steadfast-এর নিজের ক্যালকুলেটরে ১,০৮০ টাকার COD বসালেও ৯৩৬ টাকাই দেখায়।
ধাপ ৩, বাকি খরচগুলো একটা একটা করে বাদ দিন। ৯৩৬ থেকে কেনা দাম ৬৫০ গেলে থাকে ২৮৬। প্যাকেজিংয়ের ২৫ গেলে থাকে ২৬১। রিটার্নের ভাগ ৪০ গেলে থাকে ২২১। অ্যাডের ভাগ ১৫০ গেলে শেষে থাকে ৭১ টাকা।
মানে আপনি ভেবেছিলেন ৩০০ টাকা লাভ, আসলে থাকছে ৭১ টাকা। মাসে ৮০টা ডেলিভারি হলে মোট লাভ ৮০ গুণ ৭১, মানে ৫,৬৮০ টাকা। এই টাকায় দোকান ভাড়া আর নিজের খরচ চলবে না।
ধাপ ৪, এবার উল্টো দিক থেকে দাম বের করুন। ধরুন আপনি প্রতিটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডারে ২০০ টাকা লাভ রাখতে চান। প্রথমে সেই খরচগুলো যোগ করুন যেগুলো দামের ওপর নির্ভর করে না। কেনা দাম ৬৫০, প্যাকেজিং ২৫, রিটার্নের ভাগ ৪০ আর অ্যাডের ভাগ ১৫০, সব মিলিয়ে ৮৬৫ টাকা। এর সাথে কুরিয়ারের ঘাটতি ৫ টাকা যোগ করলে হয় ৮৭০, আর চাওয়া লাভ ২০০ যোগ করলে হয় ১,০৭০। বাকি থাকল COD চার্জ। এটা দামের ওপর কাটে বলে দাম না জেনে ঠিকঠাক বলা যায় না, তাই মোটামুটি দামের ১% ধরে নিন। ১,০৭০ টাকার ১% প্রায় ১১ টাকা। তাহলে দাম হওয়া উচিত অন্তত ১,০৮১ টাকা, আর একটু ওপরে গোল করে আমরা ধরলাম ১,০৯০ টাকা।
ধাপ ৫, নতুন দামে হিসাবটা আবার মিলিয়ে দেখুন। এবার কাস্টমার দেন ১,০৯০ যোগ ১৩০, মানে ১,২২০ টাকা। কুরিয়ার রাখে ডেলিভারি চার্জ ১৩৫, আর বাকি ১,০৮৫ টাকার ১%, প্রায় ১১ টাকা। আপনার হাতে আসে ১,০৭৪ টাকা। এখান থেকে ধাপ ৪-এর সেই ৮৬৫ টাকার খরচ বাদ দিলে লাভ থাকে ২০৯ টাকা। চেয়েছিলেন ২০০, ওপরে গোল করার কারণে ৯ টাকা বেশি থাকল।
| খাত | ৯৫০ টাকায় বেচলে | ১,০৯০ টাকায় বেচলে |
|---|---|---|
| কাস্টমার দরজায় দেন (দাম + ১৩০) | ১,০৮০ | ১,২২০ |
| Steadfast-এর ডেলিভারি চার্জ | −১৩৫ | −১৩৫ |
| COD চার্জ (১%) | −৯ | −১১ |
| আপনার হাতে আসে | ৯৩৬ | ১,০৭৪ |
| কেনা দাম | −৬৫০ | −৬৫০ |
| প্যাকেজিং | −২৫ | −২৫ |
| রিটার্নের ভাগ | −৪০ | −৪০ |
| অ্যাডের ভাগ | −১৫০ | −১৫০ |
| ডেলিভারি হওয়া অর্ডারে আসল লাভ | ৭১ | ২০৯ |

১,০৯০ টাকা দামে লাভ ২০৯ টাকা, মানে দামের প্রায় ১৯%। সহজ করে বললে, প্রতি ১০০ টাকা দামে আপনার কাছে থাকে প্রায় ১৯ টাকা। দামটা কেনা দামের প্রায় ১.৭ গুণ হয়েছে, কিন্তু এই গুণটা মুখস্থ করার জিনিস না। আপনার রিটার্ন কম হলে বা অ্যাডে কম খরচ হলে গুণটা কমবে, বেশি হলে বাড়বে।
খেয়াল করুন, এই হিসাব ঢাকার বাইরের অর্ডারের। সেলারদের অভিজ্ঞতায় ঢাকার ভেতরে ফেরত সাধারণত কম আসে, তাই একই দামে ঢাকার অর্ডারে লাভ একটু বেশি থাকে। দাম ঠিক করবেন বেশি খরচের রুট, মানে ঢাকার বাইরের হিসাব ধরে।
ফ্রি ডেলিভারি দিলে লাভ কোথায় যায়?
"ফ্রি ডেলিভারি" দেখলে কাস্টমার খুশি হন, কিন্তু কুরিয়ার তো ১৩৫ টাকা ঠিকই কাটে, আর টাকাটা যায় আপনার দামের ভেতর থেকে। তাই এটাকে অফার ভাববেন না, এটা দাম দেখানোর একটা ধরন।
ওপরের থ্রি-পিসে ফিরে যাই। দাম ১,০৯০ রেখে ফ্রি ডেলিভারি দিলে দরজায় ওঠে শুধু ১,০৯০ টাকা। কুরিয়ার কাটে ১৩৫, আর বাকি ৯৫৫ টাকার ১%, প্রায় ১০ টাকা। হাতে আসে ৯৪৫ টাকা, আর ৮৬৫ টাকার খরচ বাদ দিলে লাভ থাকে ৮০ টাকা। মানে শুধু "ফ্রি ডেলিভারি" লিখে দেওয়ায় লাভ ২০৯ থেকে নেমে ৮০ টাকায় এলো।
ফ্রি ডেলিভারি দিয়েও একই ২০৯ টাকা লাভ রাখতে চাইলে দাম রাখতে হবে ১,২২০ টাকা। তখন দরজায় ওঠে ১,২২০, কুরিয়ার কাটে ১৩৫ আর ১১, হাতে আসে আবার সেই ১,০৭৪। এখানে মজার ব্যাপারটা দেখুন। "১,০৯০ টাকা, ডেলিভারি ১৩০" আর "১,২২০ টাকা, ফ্রি ডেলিভারি", দুটোতেই কাস্টমারের পকেট থেকে ঠিক ১,২২০ টাকা যায়, আর আপনার লাভও একই থাকে। পার্থক্য শুধু দেখানোয়। কোনটায় বেশি অর্ডার আসবে সেটা আপনার প্রোডাক্ট আর কাস্টমারের ওপর নির্ভর করে, তাই দুটোই চালিয়ে দেখতে হবে।
ঢাকা আর ঢাকার বাইরে এক দামে ফ্রি দিলে দাম ধরবেন বাইরের ১৩৫ টাকার খরচ ধরে, না হলে বাইরের প্রতিটা অর্ডারে লোকসান হবে। আরেকটা কথা, অনেক সেলারের অভিজ্ঞতা হলো কাস্টমারকে কিছু দিতে না হলে হুট করে দেওয়া অর্ডারও বাড়ে, আর তার একটা অংশ দরজা থেকে ফেরত আসে। তাই ফ্রি ডেলিভারি চালুর পর অর্ডারের সংখ্যা না দেখে ডেলিভারি হওয়া অর্ডার আর রিটার্ন রেট দেখবেন।
একটা মাঝামাঝি পথও আছে। দুই পিস একসাথে নিলে, বা ধরুন ২,০০০ টাকার বেশি অর্ডার হলে, তবেই ডেলিভারি ফ্রি দিন। তখন কুরিয়ার, প্যাকেজিং আর অ্যাডের খরচ দুই পিসে ভাগ হয়, তাই ফ্রি ডেলিভারির টাকাটা সহজে উঠে আসে। শুধু খেয়াল রাখবেন, ওজন ১ কেজি পার হলে Steadfast-এর চার্জ ২০ টাকা বাড়ে।
ছাড় দেবেন, নাকি দাম বাড়াবেন?
বিক্রি কমলে প্রথমেই মাথায় আসে ছাড় দেওয়ার কথা। কিন্তু ছাড়ের প্রতিটা টাকা সরাসরি আপনার লাভ থেকে যায়, কারণ কেনা দাম, কুরিয়ার আর অ্যাডের খরচ তো একই থাকে।
থ্রি-পিসে ১০% ছাড় দিলে কী হয় দেখুন। ১,০৯০ টাকার ১০% হলো ১০৯ টাকা, তাই দাম দাঁড়ায় ৯৮১ টাকা। কাস্টমার দেন ৯৮১ যোগ ১৩০, মানে ১,১১১ টাকা। কুরিয়ার কাটে ১৩৫, আর বাকি ৯৭৬ টাকার ১%, প্রায় ১০ টাকা। হাতে আসে ৯৬৬ টাকা, আর ৮৬৫ বাদ দিলে লাভ থাকে ১০১ টাকা। কাস্টমার ছাড় পেলেন ১০৯ টাকা, আর আপনার লাভ ২০৯ থেকে নেমে এলো ১০১-এ, মানে প্রায় অর্ধেক। আগের সমান মোট লাভ পেতে এখন প্রায় দ্বিগুণ অর্ডার ডেলিভারি করতে হবে।
এবার উল্টোটা দেখুন। ধরুন ওপরের সেলার দাম ৯৫০ থেকে বাড়িয়ে ১,০৯০ করলেন, আর এতে অর্ডার কিছুটা কমল। একই ১২,০০০ টাকার অ্যাডে এখন ১০০টার বদলে ৮০টা পার্সেল যায়। আগের মতোই ২০% ফেরত আসে, মানে ১৬টা ফেরত আর ৬৪টা ডেলিভারি। অ্যাডের ১২,০০০ টাকা এবার ৬৪টা অর্ডারে ভাগ হয়, তাই অ্যাডের ভাগ বেড়ে হয় প্রায় ১৮৮ টাকা। রিটার্নের ভাগ আগের মতোই ৪০ টাকা থাকে, কারণ ১৬টা ফেরতের খরচ ১৬ গুণ ১৬০, মানে ২,৫৬০ টাকা, আর সেটা ৬৪ দিয়ে ভাগ করলে ৪০ হয়। এখন হাতে আসা ১,০৭৪ থেকে কেনা দাম ৬৫০, প্যাকেজিং ২৫, রিটার্নের ভাগ ৪০ আর অ্যাডের ভাগ ১৮৮ বাদ দিলে লাভ থাকে ১৭১ টাকা। মাসে ৬৪টা ডেলিভারিতে সেটা প্রায় ১১ হাজার টাকা। আগের দামে ৮০টা ডেলিভারিতে পেতেন ৫,৬৮০ টাকা। মানে কম অর্ডারে প্রায় দ্বিগুণ লাভ, সাথে প্যাক করা, কল করা আর ফেরত সামলানোর কাজও কম।
তাই নিয়মটা সোজা। আসল লাভ টার্গেটের নিচে থাকলে ছাড় না দিয়ে আগে দাম বাড়ান, আর এক-দুই সপ্তাহ পর পুরো হিসাবটা আবার করুন। দাম বাড়ালে অর্ডার কতটা কমবে সেটা আগে থেকে কেউ বলতে পারে না, তাই পরে আবার হিসাব করাটাই আসল কাজ। ভালো ছবি আর পরিষ্কার সাইজ চার্ট বাড়তি দামের পেছনে কাস্টমারকে একটা কারণ দেয়।
তাহলে ছাড় কখন দেবেন? পুরনো স্টক আটকে আছে আর সেই টাকায় নতুন মাল তুলতে হবে, তখন ছাড় দিয়ে মাল বের করে দেওয়াই ভালো। পুরনো কাস্টমারকে ছোট একটা কুপন দেওয়াও ঠিক আছে, কারণ তাঁকে আনতে নতুন করে অ্যাডের টাকা লাগে না।
৯৯০ টাকা নাকি ১,০০০ টাকা, শেষের অঙ্কে কি বিক্রি বাড়ে?
৯৯০ টাকা দেখলে মন প্রথমে পড়ে "নয়শো", যদিও ফারাক মাত্র ১০ টাকা। Anderson আর Simester-এর ২০০৩ সালের একটা গবেষণায় আমেরিকার একটা কাপড়ের ক্যাটালগে একই জামা আলাদা দামে বেচে দেখা হয়েছিল, আর ৯ দিয়ে শেষ হওয়া দামে বেশি বিক্রি হয়েছিল, তার চেয়ে কম দামের চেয়েও।
তবে ওটা আমেরিকার ক্যাটালগ, বাংলাদেশের ফেসবুক পেজ না। আমাদের বাজার নিয়ে এমন গবেষণা আমাদের চোখে পড়েনি। তাছাড়া COD-তে কাস্টমার শেষে যে সংখ্যাটা শোনেন সেটা ডেলিভারিসহ মোট টাকা। ৯৯০ টাকার জিনিস তখন হয়ে যায় ১,১২০ টাকা, আর "নয়শো" থাকে না।
এজন্য অনেকে দামটা এমনভাবে রাখেন যাতে ডেলিভারিসহ মোট টাকা গোল হয়, যেমন ১,০৭০ যোগ ১৩০, মানে ১,২০০ টাকা। কনফার্ম কলে "সব মিলিয়ে বারোশো টাকা" বলা সহজ, আর দরজায় ভাংতি নিয়ে টানাটানিও কমে। থ্রি-পিসের দাম ১,০৭০ রাখলে Steadfast-এর হিসাবে হাতে আসে ১,০৫৪ টাকা, আর লাভ ২০৯ থেকে নেমে হয় ১৮৯। এই ২০ টাকার বদলে কল সহজ হলে আর ফেরত একটু কমলে লেনদেনটা খারাপ না।
কোনটা ভালো চলবে, সেটা চালিয়ে দেখেই ঠিক করুন। এক সপ্তাহ এক দাম, পরের সপ্তাহে আরেক দাম রেখে ডেলিভারি হওয়া অর্ডার আর লাভ মিলিয়ে দেখুন। তবে ওপরের সাতটা লাইন ঠিক না থাকলে শেষের অঙ্ক বদলে কোনো লাভ নেই।

দাম ঠিক করার পর প্রতি মাসে কী দেখবেন?
দাম একবার ঠিক করলেই কাজ শেষ না, কারণ যে সংখ্যাগুলো দিয়ে দাম বানিয়েছেন সেগুলো বদলায়। কুরিয়ার রেট বদলায়, ঈদের আগে অ্যাড দামি হয়, পাইকারও দাম বাড়ান। তাই মাসে একবার রিটার্ন রেট, ডেলিভারি হওয়া অর্ডারপ্রতি অ্যাড খরচ আর ডেলিভারি হওয়া অর্ডারপ্রতি আসল লাভ দেখে নিন। এর কোনোটা অনেকটা নড়ে গেলে ওপরের পাঁচ ধাপের হিসাবটা আবার করুন।
এই হিসাব সবার জন্য একভাবে খাটে না। যিনি পুরো টাকা অগ্রিম নিয়ে বেচেন, তাঁর COD চার্জ লাগে না, ফেরতের খরচও প্রায় থাকে না। যিনি পাইকারি বেচেন, তাঁর অ্যাডের ভাগ অনেক ছোট। আর যিনি এখনো প্রথম মাসে আছেন, তাঁর হাতে নিজের সংখ্যা নেই। তাঁকে আন্দাজে শুরু করে প্রথম মাস শেষে হিসাবটা আবার করতে হবে।
খাতায় এটা করা যায়, শুধু একটু ধৈর্য লাগে। WinningSeller-এ প্রোডাক্টের কেনা দাম আর অ্যাডের খরচ বসিয়ে রাখলে ডেলিভারি হওয়া অর্ডার ধরে লাভ-ক্ষতির হিসাব নিজে থেকেই তৈরি হয়, আর ফেরত পার্সেলের কুরিয়ার চার্জও খরচের ঘরে ওঠে। কুপন, শুধু ডেলিভারি চার্জ অগ্রিম নেওয়ার অপশন আর ছয়টা কুরিয়ারে এক ক্লিকে পার্সেল পাঠানোর ব্যবস্থাও আছে। পুরোটা ফিচারের পেজে দেখে নিতে পারেন। আর ঝুঁকির নম্বরে অগ্রিম চাওয়ার আগে কাস্টমারের আগের রেকর্ড দেখতে ফ্রি ফ্রড চেকার কাজে লাগাতে পারেন।
সাধারণ প্রশ্ন
অনলাইনে প্রোডাক্টের দাম কি কেনা দামের দ্বিগুণ রাখা উচিত?
না, এমন কোনো বাঁধা গুণ নেই। কেনা দামের সাথে প্যাকেজিং, কুরিয়ারের ঘাটতি, COD চার্জ, ফেরতের ভাগ, অ্যাডের ভাগ আর আপনার লাভ যোগ করলে যা আসে, সেটাই আপনার দাম। এই লেখার উদাহরণে ৬৫০ টাকায় কেনা থ্রি-পিসের দাম এসেছে ১,০৯০ টাকা, মানে প্রায় ১.৭ গুণ। আপনার অ্যাড খরচ আর রিটার্ন রেট আলাদা হলে গুণটাও আলাদা হবে।
Steadfast আর Pathao-তে COD চার্জ কত?
২০২৬ সালের অক্টোবরে দুই কুরিয়ারের ওয়েবসাইটেই মূলত ১% লেখা আছে। Steadfast কাস্টমারের দেওয়া টাকা থেকে আগে ডেলিভারি চার্জ বাদ দেয়, তারপর বাকিটার ১% কাটে। Pathao-র সাইটের এক জায়গায় আবার ঢাকা মেট্রোর ভেতরে ০.৫% লেখা আছে। দুই কুরিয়ারের রেটেই VAT আর ট্যাক্স ধরা নেই, আর আলাদা চুক্তি থাকলে বিল সেই রেটে হয়, তাই নিজের প্যানেলের বিল একবার দেখে নিন।
ফেরত আসা পার্সেলের কুরিয়ার চার্জ কে দেয়?
আপনি দেন, কাস্টমার কিছুই দেন না। Steadfast-এর শর্তে লেখা আছে, তাদের হাতে দেওয়া প্রতিটা পার্সেলের ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে, পার্সেল ডেলিভারি হোক বা বাতিল, তবে ফেরত আনার জন্য তারা আলাদা চার্জ নেয় না। ওদের বিজনেস পেজে অবশ্য রিটার্ন চার্জ আলাদা লেখা, তাই প্রথম ফেরতের বিলটা দেখে নিন। Pathao-র কুরিয়ার পেজে লেখা আছে, ঢাকার বাইরে থেকে পার্সেল ফেরত এলে ডেলিভারি চার্জের সাথে আরও ৫০% রিটার্ন চার্জ লাগে, ঢাকা মেট্রোর ভেতরে লাগে না।
ফ্রি ডেলিভারি দিলে কি বিক্রি বাড়ে?
অর্ডার বাড়তে পারে, কিন্তু কুরিয়ারের টাকাটা তখন আপনার দামের ভেতর থেকে যায়। একই দামে ফ্রি ডেলিভারি দিলে উদাহরণের থ্রি-পিসে লাভ ২০৯ টাকা থেকে নেমে ৮০ টাকায় আসে। তাই ফ্রি ডেলিভারি দিলে দামটা ডেলিভারি চার্জের সমান বাড়িয়ে নিন। তারপর শুধু অর্ডারের সংখ্যা না দেখে ডেলিভারি হওয়া অর্ডার আর লাভ মিলিয়ে দেখুন।
প্রফিট মার্জিন কত হলে ভালো?
সব প্রোডাক্টের জন্য একটা ঠিক শতাংশ নেই। আসল প্রশ্ন হলো, মাসে যতগুলো অর্ডার ডেলিভারি হয়, তার লাভ দিয়ে দোকান ভাড়া, স্টাফের বেতন আর আপনার নিজের সংসার চলে কিনা। না চললে দাম, অ্যাড খরচ বা রিটার্নের মধ্যে কোনো একটা ঠিক করতে হবে।
অ্যাড খরচ বেড়ে গেলে দাম বাড়াবো, নাকি অ্যাড বন্ধ করবো?
আগে দেখুন ডেলিভারি হওয়া অর্ডারপ্রতি অ্যাড খরচ কত দাঁড়াচ্ছে, শুধু মেসেজপ্রতি খরচ দেখবেন না। ফেরত বেশি হওয়ার কারণে এটা বেড়ে থাকলে কনফার্ম কল দিলে আর ঠিকানা ঠিকমতো নিলেই অনেকটা কমে যায়। অ্যাড আর ফেরত দুটো ঠিক রাখার পরেও লাভ না থাকলে তখন দাম বাড়ানোই ঠিক কাজ।
আরও পড়ুন
খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম
বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।
থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম
থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।


