প্রোডাক্ট ক্যাটালগ ও প্রাইস লিস্ট বানানোর নিয়ম, পাইকার আর অফিসের জন্য
পাইকার, রিসেলার বা অফিসের লোক বলছেন "ক্যাটালগ আর রেট দেন"? প্রতিটা প্রোডাক্টে কী লিখবেন, খুচরা আর পাইকারি দাম কেন আলাদা ফাইলে, পরিমাণ ধরে দামের ধাপ টাকায়, PDF না লিংক, আর দাম বদলালে পুরনো কপি থামাবেন কীভাবে।

এই লেখায় যা আছে
প্রোডাক্ট ক্যাটালগ মানে আপনার বিক্রির প্রোডাক্টগুলোর একটা গোছানো তালিকা, যেখানে প্রতিটার ছবি, কোড, সাইজ, রং আর দাম এক জায়গায় থাকে। এর সাথে প্রাইস লিস্ট বলে দেয় কত পিস নিলে কত দাম। পাইকার, রিসেলার বা অফিসের কেনাকাটার লোক যখন বলেন "ক্যাটালগ আর রেট দেন", তাঁরা এই দুটোই চান, এমনভাবে যাতে আপনাকে ফোন না করেও কোড দেখে অর্ডার লিখে ফেলা যায়। নিচে আছে কী লিখবেন, খুচরা আর পাইকারি দাম কেন আলাদা ফাইলে, পরিমাণ ধরে দামের ধাপ টাকায়, আর দাম বদলালে পুরনো কপি কীভাবে থামাবেন।
সকালে দোকান খুলে ফোন হাতে নিলেন। গাইবান্ধার এক দোকানদার লিখেছেন, "ভাই, আপনার পোলো শার্টগুলোর পাইকারি রেট আর ক্যাটালগ দেন, ৫০-৬০ পিস নেব।" আপনি গ্যালারি থেকে চৌদ্দটা ছবি একটা একটা করে পাঠালেন, তারপর আলাদা মেসেজে দাম। আধা ঘণ্টা পরে উত্তর এলো, "সাত নম্বর ছবির নীলটার দাম কত?" কোনটা সাত নম্বর, আপনি নিজেও আর মেলাতে পারছেন না। একটা ঠিকঠাক ক্যাটালগ থাকলে এই কথোপকথন এক মেসেজেই শেষ হতো।
প্রোডাক্ট ক্যাটালগ কখন লাগে, পেজের লিংক কখন যথেষ্ট
যিনি এক পিস কিনবেন, তাঁর ক্যাটালগ লাগে না। তাঁর জন্য প্রোডাক্টের পোস্ট বা দোকানের লিংকই যথেষ্ট, কারণ তিনি একটা জিনিস দেখে, পছন্দ করে, অর্ডার দেন। ক্যাটালগ লাগে তখন, যখন একজন মানুষ একসাথে অনেক রকম জিনিস অনেক পিস করে কিনবেন, আর কেনার আগে তুলনা করবেন।
এমন মানুষ সাধারণত চার রকম। জেলা শহরের দোকানদার, যিনি আপনার কাছ থেকে মাল তুলে নিজের দোকানে বেচবেন। রিসেলার, যিনি আপনার ছবি আর কোড দেখিয়ে নিজের কাস্টমারের অর্ডার নেবেন। অফিসের অ্যাডমিন বা এইচআর-এর লোক, যিনি ঈদের উপহার বা ইউনিফর্মের জন্য পঞ্চাশজনের মাল একসাথে কিনবেন। আর মেলায় স্টলে দাঁড়িয়ে যিনি বলেন, "একটা লিস্ট দেন, পরে জানাব।"
এই মানুষগুলো কীভাবে ক্যাটালগ দেখেন, সেটা জানলে বানানোটা সহজ হয়। জেলা শহরের পাইকার সাধারণত দোকান বন্ধ করার পরে, দু-তিনজন সাপ্লায়ারের লিস্ট পাশাপাশি খুলে দাম মেলান। অনেকে প্রিন্ট করে কলম দিয়ে কোডে দাগ দেন, তারপর পার্টনারকে ফরোয়ার্ড করেন। মানে আপনার ক্যাটালগকে আপনার মুখের ব্যাখ্যা ছাড়াই একা দাঁড়াতে হয়। যে কথা আপনি ফোনে বলতেন, সেটা কাগজে লেখা থাকতে হবে।

তাই প্রথম প্রশ্নটা নিজেকে করুন। আপনার কাছে কি এমন কেউ মাসে অন্তত কয়েকবার মাল চান, যিনি দশ পিসের বেশি নেন? উত্তর হ্যাঁ হলে ক্যাটালগ বানানোর সময় হয়েছে। না হলে এই লেখার শেষের "কখন বানাবেন না" অংশটা আগে পড়ে নিন।
প্রতিটা প্রোডাক্টে কী লিখবেন
ক্যাটালগের প্রতিটা প্রোডাক্টের জন্য একটা আলাদা ঘর রাখুন, আর প্রতিটা ঘরে একই জিনিস একই জায়গায় লিখুন। চোখ একবার অভ্যস্ত হয়ে গেলে পাইকার দ্রুত পড়েন, আর ভুল কম হয়। একটা ঘরে যা থাকা দরকার, তা হলো এগুলো।
- একটা পরিষ্কার ছবি, সাদা বা হালকা ব্যাকগ্রাউন্ডে, যাতে রং বোঝা যায়
- প্রোডাক্টের কোড বা আর্টিকেল নম্বর, বড় করে, যেমন PL-210
- সাধারণ ভাষায় নাম, যেমন "হাফ হাতা সুতি পোলো শার্ট"
- কোন কোন সাইজ আর রং আছে
- কমপক্ষে কত পিস নিতে হবে, আর এক প্যাকেটে কত পিস আসে
- কত পিসে কত দাম, দুই বা তিনটা ধাপে
- স্টকে আছে, নাকি অর্ডার দিলে বানিয়ে দিতে কত দিন লাগবে
কোডটাই এখানে সবচেয়ে কাজের জিনিস। কোড থাকলে পাইকার লেখেন "PL-210 নীল, M দশটা, L দশটা", আর আপনি এক নজরে বোঝেন কী চাইছেন। কোড না থাকলে আসে "ওই যে কলারওয়ালা নীলটা", আর সেখান থেকেই ভুল মাল যায়। কোড কীভাবে বানাবেন যাতে পরে নিজেই না গুলিয়ে ফেলেন, সেটা প্রোডাক্ট কোড আর SKU-র লেখায় বিস্তারিত আছে।

কাপড় বা ম্যাটেরিয়ালের কথা লিখতে একটু সাবধান হন। সাপ্লায়ারের চালানে বা লেবেলে যা লেখা আছে, শুধু সেটুকুই লিখুন। মুখে শোনা "১০০% কটন" ক্যাটালগে লিখলে আর মাল অন্য রকম বের হলে পাইকার পুরো লট ফেরত দিতে চাইবেন, আর তাঁর দোকানের কাস্টমারের কাছে আপনার নামও খারাপ হবে।
প্রথম পেজটা আলাদা করে সাজান। সেখানে থাকবে দোকানের নাম, ফোন আর WhatsApp নম্বর, ক্যাটালগের তারিখ, আর বড় করে "এই দাম ৩১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত"। তার নিচে তিন-চার লাইনে কেনার শর্ত। কুরিয়ার চার্জ কে দেবেন, কত টাকা অগ্রিম লাগবে, কোন কোন মাধ্যমে টাকা নেন, আর কোন অবস্থায় মাল বদলে দেন, যেমন শুধু ফাটা বা ভুল সাইজ গেলে। শেষ পেজে লিখে দিন অর্ডার কীভাবে পাঠাবেন, একটা নমুনাসহ। এই একটা নমুনা লাইন দেখলে বেশিরভাগ পাইকার ঠিক সেই ধাঁচেই অর্ডার লেখেন।
খুচরা, পাইকারি আর অফিসের দাম আলাদা কেন
একই শার্ট তিনজনের কাছে তিন দামে যায়, আর সেটা ঠকানো না। খুচরা দামের ভেতরে লুকিয়ে আছে অ্যাডের খরচ, কনফার্মের ফোন, এক পিসের কুরিয়ার আর ফেরতের ঝুঁকি। পাইকারি অর্ডারে অ্যাড লাগে না, ফেরত প্রায় আসে না, টাকার একটা অংশ আগে আসে, আর পঞ্চাশ পিস যায় একটা কার্টনে। খরচ কম, তাই দামও কম। অফিসের অর্ডার আবার আলাদা। সেখানে লোগো বসানো, অফিসে পৌঁছে দেওয়া, বিল আর কখনো ভ্যাট-ট্যাক্স কেটে রাখার হিসাব থাকে, তাই প্রতিটা অফিসকে আলাদা কোটেশন দিতে হয়। সেটা কীভাবে লিখবেন, অফিসের বাল্ক অর্ডার আর কোটেশনের লেখায় আছে।
তাই তিনটা দাম তিনটা আলাদা ফাইলে রাখুন, কখনো এক ফাইলে না। এখানে আমি কোনো ছাড় দিই না, কারণ এক ফাইলের দাম কোথায় গিয়ে পৌঁছায়, সেটা আপনার হাতে থাকে না। পাইকার আপনার লিস্ট তাঁর ভাগ্নেকে পাঠান, ভাগ্নে পাঠান বন্ধুকে, আর এক সপ্তাহ পরে একজন খুচরা কাস্টমার ইনবক্সে লেখেন, "ভাই, ৩৯০ টাকার রেট দেখলাম, আমাকে একটা দেন।" তখন পেজে লেখা ৫৫০ টাকা তাঁর কাছে ঠকানোর মতো দেখায়।

রিসেলারের বেলায়ও একই কথা। রিসেলার যদি ৪২০ টাকায় নেন আর দেখেন একজন পাইকার একই শার্ট ৩৬০ টাকায় পাচ্ছেন, তিনি পরের মাসে আর আপনার মাল বেচবেন না। রিসেলারের দাম আর লাভ ভাগ কীভাবে ঠিক করবেন, সেটা রিসেলার নিয়োগের লেখায় আলাদা করে আছে।
পরিমাণ ধরে দামের ধাপ (উদাহরণ)
পাইকারি প্রাইস লিস্টের মূল জিনিস হলো দামের ধাপ, মানে বেশি পিস নিলে প্রতি পিসে দাম কম। ধাপ দুই বা তিনটার বেশি রাখবেন না। সাত ধাপের টেবিল দেখলে পাইকার হিসাব করতে বসেন, আর আপনাকে ফোন দেন, যেটা আপনি এড়াতে চাইছিলেন।
উদাহরণ ধরি। নিচের সব দাম বোঝানোর জন্য ধরে নেওয়া, নিজের কেনা দাম বসিয়ে আবার কষে নিন। ধরুন একটা সুতি পোলো শার্ট কারখানা থেকে আপনার কেনা পড়ে ২৬০ টাকা। পাইকারি অর্ডারে প্রতি পিসে ভাঁজ করা, পলিতে ভরা আর কার্টনে সাজানোর খরচ ধরুন ১০ টাকা। মানে প্রতি পিসে আপনার খরচ ২৭০ টাকা। পেজে খুচরা দাম ৫৫০ টাকা।
এবার তিনটা ধাপ। ১০ থেকে ২৯ পিসে প্রতি পিস ৩৯০ টাকা, তাহলে প্রতি পিসে থাকে ৩৯০ − ২৭০ = ১২০ টাকা। ২০ পিস নিলে লাভ ২০ × ১২০ = ২,৪০০ টাকা। ৩০ থেকে ৯৯ পিসে ৩৬০ টাকা, প্রতি পিসে থাকে ৯০ টাকা। ৫০ পিসে লাভ ৫০ × ৯০ = ৪,৫০০ টাকা। ১০০ পিস বা তার বেশিতে ৩৩৫ টাকা, প্রতি পিসে থাকে ৬৫ টাকা। ১২০ পিসে লাভ ১২০ × ৬৫ = ৭,৮০০ টাকা।
খুচরার সাথে মিলিয়ে দেখুন। একটা খুচরা অর্ডারে ৫৫০ টাকা থেকে কেনা দাম ২৬০, প্যাকিং ১৫ আর অ্যাডে অর্ডারপ্রতি ধরুন ১২০ টাকা বাদ দিলে থাকে ১৫৫ টাকা, তার আগে COD চার্জ আর মাঝে মাঝে একটা ফেরতের খরচ। খুচরায় প্রতি পিসে লাভ বেশি দেখায়, কিন্তু ৫০ পিস খুচরা বেচতে ৫০টা আলাদা অর্ডার, ৫০টা ফোন আর ৫০টা পার্সেল লাগে, আর কয়েকটা ফেরতও আসে। পাইকারির ৫০ পিস যায় একদিনে, এক কার্টনে, টাকার অর্ধেক আগেই হাতে। তাই কম লাভের ধাপটাও আসলে খারাপ না।
ধাপ বানানোর সময় তিনটা নিয়ম মাথায় রাখুন। এক, সবচেয়ে নিচের ধাপেও প্রতি পিসে এমন একটা লাভ রাখুন যেটা একটা ভুল সাইজ বদলে দেওয়ার খরচ সামলাতে পারে। দুই, ধাপ গুনুন মোট পিস ধরে, কিন্তু প্রতিটা কোডে কমপক্ষে কয়েক পিস রাখুন, যেমন "প্রতি কোডে কমপক্ষে ৫ পিস"। নাহলে কেউ ৩০টা আলাদা ডিজাইনের একটা করে নিয়ে ৩৬০ টাকার ধাপ চাইবেন, আর আপনার প্যাকিংয়ের ঝামেলা খুচরার মতোই হবে। তিন, কুরিয়ার বা ট্রান্সপোর্টের খরচ দামের ভেতরে ঢোকাবেন না, আলাদা লিখুন "ডেলিভারি চার্জ ক্রেতার"। ৫০ পিসের কার্টনের ওজন জায়গাভেদে অনেক বদলায়, আর সেটা আপনার ধাপের লাভ খেয়ে ফেলতে পারে।
PDF, লিংক না WhatsApp ক্যাটালগ
ক্যাটালগ পাঠানোর তিনটা চেনা রাস্তা আছে, আর প্রতিটার কাজ আলাদা।
PDF হলো একটা স্থির ফাইল। প্রিন্ট করা যায়, ইন্টারনেট ছাড়াও খোলে, আর পাইকারি দাম রাখার জন্য এটাই ঠিক জায়গা, কারণ আপনি ঠিক করেন কাকে পাঠাবেন। দুর্বলতা হলো, পাঠানোর মুহূর্ত থেকেই এটা পুরনো হতে থাকে। কোনো রং শেষ হলে বা দাম বদলালে PDF সেটা জানে না, আর ফরোয়ার্ড হয়ে কোথায় যায় তাও আপনি জানেন না।
ওয়েবসাইটের লিংক উল্টো। সেটা সবসময় আজকের স্টক আর আজকের খুচরা দাম দেখায়, যত দূরেই ফরোয়ার্ড হোক। রিসেলার তাঁর কাস্টমারকে এই লিংক দেখাতে পারেন, অফিসের লোক বসের সাথে বসে ঘুরে দেখতে পারেন। কিন্তু লিংকে পাইকারি দাম রাখা যায় না, কারণ সেটা সবার জন্য খোলা।
WhatsApp Business অ্যাপের ক্যাটালগও কাজের, বিশেষ করে যাঁরা চ্যাটেই অর্ডার নেন। তবে সেখানেও দাম সবার জন্য একই দেখায়। WhatsApp-এ অর্ডার নেওয়ার পুরো নিয়ম আর এর ক্যাটালগ কীভাবে সাজাবেন, সেটা হোয়াটসঅ্যাপে অর্ডার নেওয়ার লেখায় আছে।
তাই কাজের ভাগটা এমন করুন। ছবি, কোড, সাইজ আর স্টকের জন্য পাঠান লিংক। পাইকারি দামের জন্য পাঠান এক-দুই পেজের ছোট একটা PDF প্রাইস লিস্ট, যেখানে শুধু কোড আর দামের ধাপ। ছবি তো লিংকেই আছে, তাই PDF ছোট থাকে, মোবাইল ডেটায় দ্রুত খোলে, আর দাম বদলালে শুধু এই ছোট ফাইলটাই নতুন করে বানাতে হয়।

WinningSeller-এ দোকানের প্রতিটা ক্যাটাগরির পেজ নিজেই এমন একটা ক্যাটালগের কাজ করে, যেটা সবসময় আজকের স্টক দেখায়। প্রোডাক্টের ফর্মে নামের নিচে "আর্টিকেল নম্বর" দিলে কাস্টমার প্রোডাক্ট পেজেই কোডটা দেখেন, আর দোকানের সার্চে "210" লিখলেই প্রোডাক্টটা আসে। সাইজ, রং, দাম আর "শুধু স্টকে থাকা প্রোডাক্ট" ফিল্টার সব প্রোডাক্ট, কালেকশন আর সার্চের পেজে নিজে থেকেই থাকে, তাই রিসেলার শুধু স্টকের মাল ছেঁকে দেখতে পারেন। সীমাটাও সোজা করে বলি। WinningSeller নিজে PDF ক্যাটালগ বানায় না, আর দোকানে খুচরার পাশে আলাদা পাইকারি দাম রাখার ব্যবস্থাও নেই। পাইকারি প্রাইস লিস্ট আপনাকে আলাদা ফাইলেই পাঠাতে হবে। বাকি কী কী আছে, ফিচারের পেজে দেখে নিতে পারেন।
Canva-তে ক্যাটালগ বানানো, আর দাম বদলালে নতুন কপি
ডিজাইনের জন্য বড় সফটওয়্যার লাগে না। Canva-র ফ্রি অ্যাকাউন্টে ক্যাটালগ আর প্রাইস লিস্টের টেমপ্লেট আছে, আর Google Slides দিয়েও একই কাজ হয়। প্রথম কপিটা এক বিকেলে এভাবে বানিয়ে ফেলা যায়।
- Canva-তে "catalog" বা "price list" লিখে খুঁজুন, আর A4 মাপের একটা সাদামাটা টেমপ্লেট নিন। খুব রঙিন টেমপ্লেটে প্রোডাক্টের রং চাপা পড়ে।
- প্রথম পেজে দোকানের নাম, নম্বর, তারিখ আর "এই দাম কবে পর্যন্ত" বসান।
- প্রতিটা ক্যাটাগরির জন্য আলাদা পেজ রাখুন, এক পেজে ছয় থেকে আটটা প্রোডাক্ট। একটা পেজ সাজিয়ে সেটাকেই কপি করে বাকিগুলো বানান, তাহলে সব ঘর একই জায়গায় থাকে।
- ছবি বসানোর আগে ফোনে ছোট করে নিন। বড় ছবিতে ফাইল ভারী হয়।
- Download থেকে PDF নামান, তারপর নিজের ফোনে মোবাইল ডেটায় খুলে দেখুন। কোড আর দাম আঙুল দিয়ে বড় না করেই পড়া যাচ্ছে কি না, সেটাই আসল পরীক্ষা।

এবার সবচেয়ে বেশি অবহেলার কাজটা, দাম বদলানো। ফাইলের নামে তারিখ আর ভার্সন রাখুন, যেমন "দোকান-পাইকারি-অক্টোবর২০২৬-v2"। দাম বদলালে পুরনো ফাইল এডিট করে একই নামে আবার পাঠাবেন না, কারণ পাইকারের ফোনে দুটো একই নামের ফাইল থাকলে তিনি পুরনোটাই খুলবেন। নতুন ফাইল বানান, প্রথম পেজে লিখুন "এর আগের সব দাম বাতিল", আর একটা সাধারণ খাতা বা শিটে লিখে রাখুন কাকে কোন ভার্সন পাঠিয়েছেন। দাম বদলের দিন সেই লিস্ট ধরে প্রত্যেককে নতুন ফাইল পাঠান।
কখন ক্যাটালগ বানাবেন না
সবার জন্য ক্যাটালগ দরকারি না, আর ভুল সময়ে বানালে সেটা সময় নষ্ট। আপনার সব বিক্রি যদি খুচরা হয়, আর মাসে একজনও দশ পিসের বেশি না চান, তাহলে দোকানের লিংক আর ভালো ছবিই যথেষ্ট। ক্যাটালগের সময়টা প্রোডাক্টের ছবি আর বিবরণ ঠিক করায় দিন।
যে মাল প্রতিদিন বদলায়, তার PDF ক্যাটালগ বানাবেন না। একটাই পিসের মাল, যেমন পুরনো বিদেশি জ্যাকেট, বা প্রতি সপ্তাহে নতুন লট, এসবের PDF পাঠানোর পরদিনই অর্ধেক মাল শেষ হয়ে যায়, আর পাইকার শেষ হওয়া কোড চেয়ে বসেন। এখানে শুধু লিংক পাঠান। যে মালের কেনা দাম ডলারের রেটের সাথে ঘনঘন ওঠানামা করে, তার দুই সপ্তাহের দাম লিখে দেবেন না। সেখানে এক লাইনের মেসেজে "আজকের রেট, পরশু পর্যন্ত" পাঠানোই নিরাপদ।
আর কমপক্ষে কত পিস, কত অগ্রিম আর কে ডেলিভারি চার্জ দেবেন, এই তিনটা ঠিক না করে ক্যাটালগে হাত দেবেন না। সুন্দর ডিজাইনের ক্যাটালগ পাঠিয়ে পরে শর্ত নিয়ে দর কষাকষি করলে পাইকারের কাছে আপনাকে অগোছালো দেখায়। প্রথম পাইকারি অর্ডারে কেউ বাকিতে মাল চাইলে সমস্যাটা ক্যাটালগের না, সেটা আগে মিটিয়ে নিন।
আজই করে ফেলুন
এক ঘণ্টা হাতে থাকলে আজই এগুলো সেরে ফেলুন।
- যে দশটা প্রোডাক্ট সবচেয়ে বেশি চলে, তার প্রতিটার একটা কোড ঠিক করুন আর খাতায় লিখুন।
- প্রতিটার কেনা দাম আর প্যাকিং খরচ যোগ করে প্রতি পিসের খরচ বের করুন, তারপর দুই বা তিনটা পাইকারি ধাপ বসান, প্রতিটায় লাভ কত থাকে পাশে লিখে।
- কমপক্ষে কত পিস, কত অগ্রিম আর ডেলিভারি চার্জ কার, এই তিনটা শর্ত এক লাইনে করে লিখে ফেলুন।
- Canva বা Google Slides-এ প্রথম পেজ আর একটা প্রোডাক্টের পেজ বানিয়ে PDF করুন, আর নিজের ফোনে মোবাইল ডেটায় খুলে দেখুন।
- ফাইলের নামে তারিখ আর v1 লিখুন, আর একটা শিটে "কাকে কোন ভার্সন" কলাম খুলে রাখুন।
- যে পাইকার বা অফিস শেষবার রেট চেয়েছিলেন, তাঁকে নতুন ফাইলটা পাঠিয়ে জিজ্ঞেস করুন কোন তথ্য খুঁজে পেতে কষ্ট হলো।
সাধারণ প্রশ্ন
প্রোডাক্ট ক্যাটালগ কি?
প্রোডাক্ট ক্যাটালগ হলো আপনার বিক্রির প্রোডাক্টগুলোর একটা গোছানো তালিকা, যেখানে প্রতিটার ছবি, কোড, সাইজ, রং আর দাম এক জায়গায় থাকে। পাইকার, রিসেলার বা অফিসের কেনাকাটার লোক এটা দেখে কোড ধরে অর্ডার লেখেন। সাধারণত এটা একটা PDF বা একটা ওয়েবসাইটের লিংক।
প্রাইস লিস্টে কী কী লিখতে হয়?
প্রতিটা প্রোডাক্টের কোড, নাম, সাইজ আর রং, কমপক্ষে কত পিস নিতে হবে, আর কত পিসে কত দাম। প্রথম পেজে দোকানের নাম, ফোন নম্বর, তারিখ আর "এই দাম কবে পর্যন্ত" লিখুন। ডেলিভারি চার্জ কে দেবেন আর কত অগ্রিম লাগবে, সেটাও সেখানেই লিখে দিন।
ফ্রিতে প্রোডাক্ট ক্যাটালগ বানানোর উপায় কী?
Canva-র ফ্রি অ্যাকাউন্টে ক্যাটালগ আর প্রাইস লিস্টের অনেক টেমপ্লেট আছে, বানিয়ে PDF করে নামানো যায়। Google Slides দিয়েও একই কাজ হয়, প্রতিটা স্লাইডে কয়েকটা প্রোডাক্ট বসিয়ে PDF করে নিলেই চলে। আসল কাজটা ডিজাইন না, সঠিক কোড আর দাম।
PDF ক্যাটালগ কত বড় হলে ভালো?
যত ছোট রাখা যায়, তত ভালো, কারণ বেশিরভাগ পাইকার মোবাইল ডেটায় ফাইল খোলেন। প্রতিটা ক্যাটাগরির আলাদা ফাইল করুন, এক ফাইলে ১০ থেকে ১৫ পেজের বেশি না। ছবি ছোট করে নিলে ফাইল কয়েক MB-এর মধ্যে থাকে, পাঠানোর আগে নিজের ফোনে একবার খুলে দেখুন।
পাইকারি দাম কি ফেসবুক পেজে দেওয়া উচিত?
না। পেজের পোস্ট বা কমেন্টে পাইকারি দাম দিলে খুচরা কাস্টমার সেটা দেখেন, আর এক পিসও সেই দামে চান। পাইকারি প্রাইস লিস্ট শুধু ইনবক্সে বা WhatsApp-এ, যে পাইকার চেয়েছেন, তাঁকেই পাঠান।
ক্যাটালগের দাম বদলালে কী করব?
পুরনো ফাইলটা এডিট করে একই নামে আবার পাঠাবেন না। নতুন তারিখ আর নতুন ভার্সন নম্বর দিয়ে নতুন ফাইল বানান, প্রথম পেজে লিখুন আগের সব দাম বাতিল। যাঁদের পুরনো কপি পাঠিয়েছিলেন, তাঁদের প্রত্যেককে নতুনটা পাঠিয়ে এক লাইনে জানিয়ে দিন।
আরও পড়ুন
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল না গ্রুপ? পুরনো কাস্টমারকে নতুন মালের খবর দিন
নতুন কালেকশনের খবর পুরনো কাস্টমারকে দিতে চান, কিন্তু চ্যানেল খুলবেন, গ্রুপ, না স্ট্যাটাস? কে কার নম্বর দেখে, কে উত্তর দিতে পারে, চ্যানেল খোলার ধাপ, কী পোস্ট দেবেন, গ্রুপের নিয়ম আর ঝুঁকি, আর এক মাসে কোনটায় কত সময় যায়, হিসাবসহ।
শার্ট, প্যান্ট আর টি-শার্টের সাইজ চার্ট বানাবেন যেভাবে, ফেরত কমবে
সাপ্লায়ারের ট্যাগে M লেখা, অথচ কাস্টমার বলেন টাইট। টি-শার্ট, শার্ট আর প্যান্ট টেবিলে বিছিয়ে ফিতা দিয়ে মাপার নিয়ম, ইঞ্চিতে নিজের সাইজ চার্ট বানানো, কাস্টমারকে নিজের শার্ট মেপে সাইজ বাছতে শেখানো, আর একটা ভুল সাইজে কত টাকা যায়, হিসাবসহ।
পয়েন্ট ডেলিভারি কি? কুরিয়ার হাবে পার্সেল দেওয়া আর হাব থেকে নেওয়া
পয়েন্ট ডেলিভারি মানে কাস্টমার বাসায় না নিয়ে কুরিয়ারের কাছের হাব বা পয়েন্ট থেকে নিজে পার্সেল তোলেন। কোন কুরিয়ারে আছে, অক্টোবর ২০২৬-এ চার্জ কত, কাস্টমারের হাব খুঁজবেন কীভাবে, হাবে পড়ে থাকা পার্সেল আর রিটার্ন, আর ৫০টা পার্সেলের হিসাব।


