WinningSeller
অনলাইন ব্যবসা শুরু১২ মিনিটে পড়া যায়

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত
এই লেখায় যা আছে
  1. অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা কেমন, কোন শাড়ি চলে
  2. তাঁতি আর পাইকার, কোথা থেকে কিনবেন
  3. কাপড় আর রং যাচাই, BSTI-র নিয়মসহ
  4. মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি
  5. দৈর্ঘ্য, ব্লাউজ পিস আর যত্নের কথা লেখা
  6. একটা লটে কত থাকে (উদাহরণ)
  7. কখন শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন না
  8. আজই করে ফেলুন

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করতে চাইলে প্রথম কাজ একটা ধরন বেছে নেওয়া, যেমন টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি, হাফ সিল্ক বা জামদানি, আর অল্প কয়েকটা ডিজাইনের ১৫ থেকে ২০টা শাড়ির একটা প্রথম লট। মাল আসে তাঁতিদের হাট, পাইকারি বাজার বা সরাসরি তাঁতির ঘর থেকে। এরপর তিনটা জিনিসে ব্যবসা দাঁড়ায় বা পড়ে যায়। রং আর কাপড় নিজের চোখে যাচাই করা, মডেল ছাড়াই এমন ছবি তোলা যাতে রং সত্যি দেখায়, আর মাপ, ব্লাউজ পিস আর যত্নের কথা পরিষ্কার লেখা, যাতে "এমন তো ভাবিনি" বলে শাড়ি ফেরত না আসে।

দুপুরে কুরিয়ারের রাইডার একটা পার্সেল ফেরত দিয়ে গেলেন। সাথে কাস্টমারের মেসেজ, "ছবিতে মেরুন দেখে নিলাম, এসেছে টকটকে লাল।" আপনি শাড়িটা হাতে নিয়ে জানালার পাশে দাঁড়ালেন। দিনের আলোয় সত্যিই লাল, আর ছবিটা তোলা হয়েছিল সন্ধ্যায় হলুদ বাল্বের নিচে। শাড়ির ব্যবসায় ফেরতের বড় অংশ এভাবেই আসে, শাড়ির দোষে না, ছবির দোষে। আর এটা শুরুর দিন থেকেই ঠেকানো যায়।

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা কেমন, কোন শাড়ি চলে

শাড়ি এমন জিনিস, যেটা মানুষ শুধু পরার জন্য কেনেন না, উপহার আর উৎসবের জন্যও কেনেন। মা-বোনের জন্য ঈদের শাড়ি, বিয়েতে দেওয়ার শাড়ি, পূজা আর পহেলা বৈশাখের শাড়ি, অফিসের অনুষ্ঠানের জন্য একটা হালকা সুতি। এর মানে আপনার ক্রেতার বড় অংশ এমন মানুষ, যিনি অন্যের জন্য কিনছেন, অনেক সময় ছেলেরাও। তাঁরা রং আর দাম দেখে সিদ্ধান্ত নেন, কাপড়ের খুঁটিনাটি কম বোঝেন, আর সেজন্য বিবরণে যা লেখেন, তার ওপরই ভরসা করেন।

অনলাইনে মোটামুটি চার ধরনের শাড়ি বেশি দেখা যায়। টাঙ্গাইলের সুতি তাঁত আর হাফ সিল্ক, যেগুলোর দাম তুলনামূলক কম আর রোজ পরার মতো। জামদানি, যেটা দামি আর উপহারের জিনিস। মিরপুরের কাতান আর বেনারসি, বিয়ের মৌসুমের শাড়ি। আর জর্জেট, শিফন বা প্রিন্টের কৃত্রিম সুতার শাড়ি, যেগুলো হালকা আর দামে সস্তা। দ্য ডেইলি স্টার বাংলার ২০২৪ সালের মার্চের একটা প্রতিবেদনে লেখা, হাতে বোনা টাঙ্গাইল শাড়ির দাম সাধারণ সুতির জন্য ৪০০ টাকার কাছাকাছি থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা বা তার বেশি পর্যন্ত যায়।

নতুন হলে একটা ধরন দিয়ে শুরু করুন। চারটা ধরন একসাথে তুললে কোনোটারই সব রং রাখতে পারবেন না, আর পেজটা দেখতে হবে মিশ্র দোকানের মতো। টাঙ্গাইলের সুতি বা হাফ সিল্ক শুরুর জন্য ভালো, কারণ দাম কম, ঝুঁকি কম, আর সারা বছর চলে। জামদানি বা কাতানে যাবেন তখন, যখন কাপড় চেনার চোখ তৈরি হয়েছে, কারণ এই দুটোতেই নকলের ঝামেলা সবচেয়ে বেশি। কাপড়ের ব্যবসা শুরুর সাধারণ নিয়ম, কত টাকা আর কত পিস দিয়ে শুরু, সেটা অনলাইনে কাপড়ের ব্যবসার লেখায় আছে।

তাঁতি আর পাইকার, কোথা থেকে কিনবেন

টাঙ্গাইলের শাড়ি কেনার সবচেয়ে কাছের জায়গা তাঁতিদের হাট। দ্য ডেইলি স্টার বাংলার ২৫ মার্চ ২০২৪-এর প্রতিবেদনে লেখা, মূলত সাপ্তাহিক হাটে পাইকারি বিক্রি হয় টাঙ্গাইল সদরের করটিয়া আর বাজিতপুরে, আর কালিহাতী উপজেলার সল্লায়। একই প্রতিবেদনে দেলদুয়ার উপজেলাকে বলা হয়েছে টাঙ্গাইল শাড়ির রাজধানী, আর সেখানকার পাথরাইলে শাড়ির অনেক ব্যবসায়ী বসেন। ২০২৩ সালের মার্চের আরেকটা প্রতিবেদনে করটিয়া হাট বসার দিন লেখা মঙ্গলবার আর বুধবার, আর ক্রেতাদের মধ্যে অনলাইন বিক্রেতাদের কথাও আছে। দিন বদলাতে পারে, তাই যাওয়ার আগে চেনা কারো কাছে ফোন করে নিন।

একজন মাঝবয়সী পুরুষ তাঁতি একটা কাঠের হাতে চালানো তাঁতে বসে শাড়ি বুনছেন, সামনে রঙিন সুতার টানা, ঘরে জানালা দিয়ে দিনের আলো
হাটে বা তাঁতির ঘরে, কেনার আগে তাঁতটা একবার দেখে আসুন

হাটের বাইরে আরও দুটো রাস্তা আছে। নরসিংদীর বাবুরহাটের মূল হাটবার শুক্র আর শনিবার, ২০২৩ সালের অক্টোবরে দ্য ডেইলি স্টার বাংলায় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির কথায় রোববারও কিছু বেচাকেনার কথা আছে, আর পুরান ঢাকার ইসলামপুরে শাড়ি সারা সপ্তাহ পাওয়া যায়, শুক্রবার বাদে। দুই জায়গার রাস্তা, বন্ধের দিন আর প্রথমবার কত টাকা নিয়ে যাবেন, সব ঢাকার পাইকারি কাপড়ের বাজারের লেখায় আছে। তৃতীয় রাস্তা সরাসরি তাঁতির সাথে সম্পর্ক। একবার হাটে গিয়ে দু-একজন তাঁতির নম্বর রাখলে পরের বার তাঁরা নতুন ডিজাইনের ছবি WhatsApp-এ পাঠান, আপনি বেছে বিকাশে অগ্রিম দেন, তাঁরা কুরিয়ারে পাঠান। সম্পর্কটা দাঁড়াতে কয়েক মাস লাগে, কিন্তু দামের দিক থেকে এটাই সবচেয়ে ভালো।

হাটে প্রথম দিন সাধারণত যা হয়, সেটাও জেনে যান। ভিড়, তাড়াহুড়া আর একই রকম দেখতে শত শত শাড়ি। এখানে ভুলটা হয় আলো নিয়ে। দোকানের টিউবলাইটের নিচে যে রং দেখলেন, বাইরে রোদে সেটা আলাদা। তাই পছন্দের শাড়ি দোকানের বাইরে নিয়ে দিনের আলোয় একবার দেখুন, আর ফোনে একটা ছবি তুলে রাখুন, যাতে বাড়ি ফিরে বুঝতে পারেন কোনটা কোন রং।

কাপড় আর রং যাচাই, BSTI-র নিয়মসহ

প্রতিটা শাড়ি পুরোটা খুলে দেখুন, শুধু ভাঁজের ওপরের অংশ না। তাঁতের শাড়িতে বুননের ভুল প্রায়ই লুকিয়ে থাকে মাঝখানে, যেখানে ভাঁজ খুলে কেউ দেখে না। একটা সুতা ছুটে গিয়ে লম্বা দাগ, রঙের ছোপ, বা পাড়ের নকশা এক জায়গায় ভেঙে যাওয়া। দিনের আলোয় শাড়িটা দুই হাতে মেলে ধরুন, আলোর দিকে ধরলে পাতলা জায়গা বা ফুটো চোখে পড়ে। দেখতে পাঁচ মিনিট লাগে, আর ফেরতের খরচ বাঁচে পুরো একটা অর্ডারের।

রং ওঠে কি না, প্রতিটা নতুন লটে একটা শাড়ির কোণে পরীক্ষা করুন। একটা সাদা কাপড় সামান্য ভিজিয়ে শাড়ির এক কোণে জোরে ঘষুন। সাদা কাপড়ে রং লাগলে বিবরণে লিখুন "প্রথমবার আলাদা ধোবেন"। জরির কাজের শাড়িতে জরি কালচে হয়েছে কি না দেখুন, পুরনো স্টকে এটা প্রায়ই হয়।

এবার নামের কথা, কারণ শাড়ির নামেই সবচেয়ে বেশি ভুল লেখা হয়। ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের (DPDT) ওয়েবসাইটে ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই তালিকায় জামদানি শাড়ি আছে রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১ হিসেবে, টাঙ্গাইল শাড়ি ৩১ নম্বরে, আর মিরপুরের কাতান, সিলেটের মণিপুরী শাড়ি আর রাজশাহী সিল্কও আছে। মানে এই নামগুলো একটা নির্দিষ্ট জায়গা আর বোনার ধরনের সাথে বাঁধা। মেশিনে বোনা নকশাকে "জামদানি" বা পাওয়ার লুমের শাড়িকে "হাতে বোনা টাঙ্গাইল" লিখবেন না। নিজে বুঝতে না পারলে লিখুন "জামদানি নকশার শাড়ি" বা "টাঙ্গাইলে বানানো পাওয়ার লুমের শাড়ি"। পাইকারকে সরাসরি জিজ্ঞেস করুন, হাতে না মেশিনে, আর উত্তরটা চালানে লিখিয়ে নিন।

মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি

শাড়ির ছবি তুলতে মডেল লাগে না, আর অনেক ভালো পেজ মডেল ছাড়াই চলে। আসল কাজ তিনটা ছবি ঠিকঠাক তোলা। প্রথমটা পুরো শাড়ি বিছানায় বা মেঝেতে মেলে ওপর থেকে, যাতে বডি, পাড় আর আঁচল তিনটাই একসাথে দেখা যায়। দ্বিতীয়টা আঁচল আর পাড়ের কাছ থেকে, যাতে নকশা আর বুনন বোঝা যায়। তৃতীয়টা একটা কাঠের স্ট্যান্ডে বা দরজার ওপর দিয়ে ঝুলিয়ে, যাতে কাপড় কীভাবে ঝোলে আর ঢেউ খেলে, সেটা চোখে পড়ে।

একটা বিছানার ওপর মেলে দেওয়া একটা সবুজ-সোনালি তাঁতের শাড়ি, ওপর থেকে তোলা, একপাশে চওড়া আঁচল আর লম্বা পাড় পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, ঘরে কোনো মানুষ নেই
পুরো শাড়ি মেলে ওপর থেকে, বডি, পাড় আর আঁচল একসাথে

রংটাই এখানে সব। জানালার পাশে দিনের আলোয় তুলুন, সকাল বা বিকেলে, দুপুরের কড়া রোদে না। ঘরের হলুদ বাল্ব নিভিয়ে দিন, মিশ্র আলোয় লাল হয় মেরুন আর সবুজ হয় জলপাই। ফোনের বিউটি মোড আর ফিল্টার বন্ধ রাখুন। ছবি তোলার পরে শাড়িটা হাতে নিয়ে স্ক্রিনের পাশে ধরুন, চোখে দুটো এক রকম না লাগলে আবার তুলুন। মোবাইলে আলো আর ব্যাকগ্রাউন্ড সামলানোর পুরো নিয়ম মোবাইল দিয়ে প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফির লেখায় আছে।

একজন যুবক বিক্রেতা পাশে দাঁড়িয়ে একটা কাঠের স্ট্যান্ডে ঝোলানো লাল পাড়ের সাদা শাড়ির আঁচলটা দুই হাতে মেলে ধরে আছেন, শাড়িটা স্ট্যান্ডেই ঝুলছে, কেউ পরে নেই, সামনে ট্রাইপডে একটা মোবাইল, জানালার নরম আলো
স্ট্যান্ডে ঝুলিয়ে আঁচল মেলে ধরুন, ঝুলটা ছবিতে আসে

একটা ছোট ভিডিও এখানে ছবির চেয়ে বেশি কাজ করে। শাড়িটা স্ট্যান্ডে ঝুলিয়ে আস্তে নাড়লে কাপড় কতটা নরম, জরি কতটা ঝলমলে, সেটা ভিডিওতে বোঝা যায়। ভিডিও তুলে YouTube-এ আনলিস্টেড রেখে কীভাবে দেখাবেন, সেটা প্রোডাক্টের রিয়েল ভিডিওর লেখায় আছে।

একই ডিজাইনের পাঁচ রং থাকলে আরেকটা সমস্যা আসে। কাস্টমার সবুজ বাছলেন, কিন্তু পেজে ছবি একটাই, লালটার। WinningSeller-এ প্রোডাক্টের ফর্মে রঙের অপশনের প্রতিটা রঙের পাশে "ছবি বাছুন" থাকে। প্রতিটা রঙের নিজের ছবি বেছে দিলে কাস্টমার রং বাছার সাথে সাথে গ্যালারি সেই ছবিতে চলে যায়, আর কার্ট, চেকআউট আর অর্ডারেও সেই রঙের ছবিটাই থাকে। রঙের নাম পরে বদলালে, যেমন "লাল" থেকে "মেরুন", ছবিটা আবার বেছে দিতে হয়। প্রতিটা ডিজাইনের একটা আর্টিকেল নম্বর দিলে, যেমন TS-118, কোডটা অর্ডার, ইনভয়েস আর পার্সেল লেবেলে যায়, তাই কাছাকাছি দেখতে দুটো শাড়ি প্যাকিংয়ের সময় গুলিয়ে যায় না। আর "রিয়েল ভিডিও (YouTube)" ঘরে লিংক দিলে প্রোডাক্ট পেজে "এই প্রোডাক্টের এডিট ছাড়া রিয়েল ভিডিও দেখুন" বাটন আসে। অর্ডার থেকে কুরিয়ার পর্যন্ত বাকি কাজগুলো ফিচারের পেজে সাজানো আছে।

প্রতিটা রঙের নিজের ছবিসহ শাড়ি সাজানপ্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম

দৈর্ঘ্য, ব্লাউজ পিস আর যত্নের কথা লেখা

শাড়ির বিবরণে তিনটা প্রশ্নের উত্তর না থাকলে ইনবক্সে সেই প্রশ্নই বারবার আসে, আর উত্তর না মিললে ফেরত। প্রথম প্রশ্ন দৈর্ঘ্য। মুখে সবাই "বারো হাতের শাড়ি" বলেন, কিন্তু আসল মাপ শাড়িভেদে আলাদা। তাই প্রতিটা ডিজাইনের একটা শাড়ি টেপ দিয়ে মেপে মিটারে বা হাতে লিখুন, লেবেলে বা পাইকারের কথায় ভরসা না করে। চওড়াও লিখুন, কারণ লম্বা মানুষের জন্য এটা জরুরি।

দ্বিতীয় প্রশ্ন ব্লাউজ পিস। কিছু শাড়ির শেষে আলাদা রঙের ব্লাউজ পিস বোনা থাকে, যেটা কেটে নিতে হয়। কিছুতে থাকেই না। "ব্লাউজ পিস আছে, শাড়ির সাথে লাগানো, কেটে নিতে হবে" বা "ব্লাউজ পিস নেই", যেটা সত্যি, সেটা পরিষ্কার লিখুন। এই একটা লাইন না থাকার কারণে অনেক শাড়ি ফেরত আসে, কারণ কাস্টমার ধরে নিয়েছিলেন আলাদা ব্লাউজ পিস আসবে।

তৃতীয় প্রশ্ন যত্ন। সুতি তাঁতের শাড়ি সাধারণত মাড় দিয়ে শক্ত করে বিক্রি হয়, প্রথম ধোয়ায় নরম হয়ে যায় আর একটু ছোট হতে পারে। জরি বা কাতানের শাড়ি সাধারণ সাবান-পানিতে ধুলে জরি নষ্ট হতে পারে, তাই লিখে দিন "ড্রাই ওয়াশ করাবেন"। রং ছাড়ার ভয় থাকলে "প্রথমবার আলাদা ধোবেন"। এই কথাগুলো আগে লিখলে পরে অভিযোগ এলে আপনার হাতে উত্তর থাকে।

একটা শাড়ির পাড়ের একদম কাছ থেকে তোলা ছবি, সোনালি জরির বুনন আর পাশে একটা মাপের ফিতা, কাঠের টেবিলের ওপর, কোনো মানুষ নেই
পাড়ের কাছের ছবি আর ফিতার মাপ, প্রশ্ন অর্ধেক কমে

প্যাকিংয়ের সময়ও যত্নটা দেখা যায়। জরি বা কাজ ভেতরের দিকে রেখে ভাঁজ করুন, প্রতিটা ভাঁজে টিস্যু দিন, যাতে জরি আরেক ভাঁজে আটকে টান না খায়। তারপর একটা চ্যাপ্টা বক্সে বা মোটা পলিতে ভরে পানি থেকে বাঁচাতে আরেকটা পলিতে মুড়ে দিন। উপহারের অর্ডারে বক্সের ওপর একটা ছোট কার্ড অনেক কাস্টমারের মন জেতে, আর খরচ সামান্য।

একটা লটে কত থাকে (উদাহরণ)

এবার একটা লটের পুরো হিসাব। শাড়ির কেনা দাম, বেচার দাম আর অ্যাডের খরচ হিসাবটা দেখানোর জন্য বসানো, কোনো দোকানের খাতা থেকে নেওয়া না, তাই নিজের সংখ্যা বসিয়ে একবার কষে দেখুন। কুরিয়ারের সংখ্যা ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ Steadfast-এর রেট ক্যালকুলেটরে দেখা, ঢাকা থেকে ঢাকার বাইরে ১ কেজি পর্যন্ত হোম ডেলিভারি ১৩৫ টাকা, প্রতি বাড়তি কেজিতে ২০ টাকা বেশি, VAT আলাদা।

ধরুন টাঙ্গাইলের হাট থেকে পাঁচটা ডিজাইনের ২০টা হাফ সিল্ক শাড়ি কিনলেন, গড়ে ৭০০ টাকা করে, মোট ১৪,০০০ টাকা। যাওয়া-আসা আর খাওয়া মিলিয়ে খরচ ১,২০০ টাকা। প্রতিটা শাড়ির টিস্যু, বক্স আর পলিতে যায় ৩৫ টাকা। পেজে দাম ১,৩৫০ টাকা, ঢাকার বাইরের ডেলিভারি চার্জ নেন ১৩০ টাকা।

একটা শাড়িতে কাস্টমার দেন ১,৪৮০ টাকা। প্যাক করা শাড়ি ১ কেজির নিচে, তাই কুরিয়ার কাটে ১৩৫ টাকা। Steadfast-এর টার্মসে লেখা COD চার্জ ১% কাটে ডেলিভারি চার্জ বাদে বাকি টাকার ওপর, মানে ১,৩৪৫ টাকার ১%, প্রায় ১৩ টাকা। অর্ডারপ্রতি অ্যাড ধরুন ১০০ টাকা। হাতে থাকে ১,৪৮০ − ৭০০ − ৩৫ − ১৩৫ − ১৩ − ১০০ = ৪৯৭ টাকা।

কিন্তু লটের সব শাড়ি একই গতিতে চলে না। ধরুন ১৬টা পুরো দামে বিক্রি হলো, আর যে দুই রং চলল না, তার ৪টা শেষে ৯০০ টাকায় ছেড়ে দিলেন। তখন কাস্টমার দেন ১,০৩০ টাকা, COD ৮৯৫ টাকার ১%, প্রায় ৯ টাকা, আর প্রতিটায় থাকে ১,০৩০ − ৭০০ − ৩৫ − ১৩৫ − ৯ − ১০০ = ৫১ টাকা। লটের মোট লাভ ১৬ × ৪৯৭ + ৪ × ৫১ = ৭,৯৫২ + ২০৪ = ৮,১৫৬ টাকা। যাতায়াতের ১,২০০ টাকা বাদে ৬,৯৫৬ টাকা। এর মধ্যে রঙের অমিলে একটা শাড়ি ফেরত এলে কুরিয়ার, প্যাকিং আর অ্যাড মিলিয়ে আরও প্রায় ২৭০ টাকা যায়, থাকে ৬,৬৮৬ টাকা।

একজন যুবক টেবিলে বসে একটা ভাঁজ করা শাড়ির মাঝে সাদা টিস্যু রেখে সেটা একটা চ্যাপ্টা বক্সে ঢোকাচ্ছেন, পাশে আরও কয়েকটা ভাঁজ করা শাড়ি আর একটা ছোট ডিজিটাল স্কেল
ভাঁজে টিস্যু, চ্যাপ্টা বক্স, তারপর ওজন

এই হিসাব থেকে দুটো শিক্ষা বের হয়। প্রথমত, দুইটা না-চলা রং পুরো লটের লাভ থেকে প্রায় ১,৮০০ টাকা কেড়ে নিল, কারণ পুরো দামে গেলে ওই ৪টায় থাকত প্রায় ২,০০০ টাকা, গেল ২০৪। তাই প্রথম লটে প্রতিটা ডিজাইনের সব রং না নিয়ে দুই-তিনটা চেনা রং নিন। দ্বিতীয়ত, একটা ফেরত মানে প্রায় ২৭০ টাকা, আর ফেরতের বড় কারণ রং আর ব্লাউজ পিস। ওপরের ছবি আর বিবরণের নিয়ম মানলে এই সংখ্যাটাই সবচেয়ে বেশি কমে।

কখন শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন না

দিনের আলোয় শাড়ি মেলে ছবি তোলার জায়গা না থাকলে, আর পাইকারের দেওয়া ছবি দিয়েই চালাতে চাইলে শুরু করবেন না। ওই একই ছবি আরও অনেক পেজে ঘোরে, রংও প্রায়ই মেলে না, আর শাড়িতে রঙের অমিল মানেই ফেরত।

উৎসবের ঠিক আগের সপ্তাহে প্রথমবার শুরু করবেন না। ঈদ, পূজা বা পহেলা বৈশাখের আগের সপ্তাহে হাটে আর পাইকারের দোকানে ভিড় সবচেয়ে বেশি, ভালো ডিজাইন আগেই শেষ, আর আপনার পেজ দাঁড় করানোর সময়ও থাকে না। উৎসবের অন্তত এক মাস আগে প্রথম লট তুলুন, ছবি তুলুন, আর কয়েকটা অর্ডার দিয়ে হাত পাকান।

আর কাপড় চেনার আগে দামি শাড়িতে টাকা ঢালবেন না। জামদানি, কাতান বা খাঁটি সিল্কে একটা ভুল কেনা মানে কয়েক হাজার টাকা, আর নকল চিনতে চোখ লাগে, যেটা কয়েকটা লট হাতে নাড়াচাড়া না করে তৈরি হয় না। আমি তাই শুরুতে কম দামের সুতি বা হাফ সিল্ক দিয়ে হাত পাকাতে বলি। দামি শাড়ি আসবে পরে, যখন আপনার পেজে ফিরে আসা কাস্টমার আছেন।

আজই করে ফেলুন

প্রথম লট কেনার আগে আজই এই কাজগুলো সেরে রাখুন।

  1. বাসায় থাকা একটা শাড়ি পুরো মেলে টেপ দিয়ে লম্বা আর চওড়া মাপুন, আর ব্লাউজ পিস আছে কি না দেখুন। বিবরণ লেখার এটাই প্রথম নমুনা।
  2. সেই শাড়িটা জানালার পাশে দিনের আলোয় তিনভাবে ছবি তুলুন, মেলে, কাছ থেকে আর ঝুলিয়ে, তারপর স্ক্রিনের পাশে ধরে রং মিলিয়ে দেখুন।
  3. কোন ধরন দিয়ে শুরু করবেন ঠিক করুন, আর পাঁচটা ডিজাইনের দুই-তিনটা করে রঙের একটা কেনার তালিকা বানান।
  4. টাঙ্গাইলের হাট বা ইসলামপুরে চেনা কাউকে ফোন করে জেনে নিন হাট বা দোকান কবে খোলা।
  5. বিবরণের জন্য একটা ছক লিখে রাখুন, ধরন, হাতে না মেশিনে, দৈর্ঘ্য, চওড়া, ব্লাউজ পিস, যত্ন।
  6. যে শাড়ি কিনবেন, তা BSTI-র তালিকার কোনো ধরনে পড়ে কি না দেখে পাইকারকে BSTI মার্কের কথা জিজ্ঞেস করার প্রশ্নটা লিখে রাখুন।

সাধারণ প্রশ্ন

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা লাগে?

অল্প করে শুরু করলে কয়েকটা ডিজাইনের ১৫ থেকে ২০টা শাড়ি দিয়েই শুরু করা যায়। এই লেখার উদাহরণে গড়ে ৭০০ টাকার ২০টা শাড়ি, যাতায়াত আর প্যাকিং মিলিয়ে ১৬ হাজার টাকার মতো লাগে। অ্যাডের টাকা আলাদা রাখুন।

টাঙ্গাইল শাড়ির পাইকারি হাট কোথায়?

টাঙ্গাইল সদরের করটিয়া আর বাজিতপুরে, আর কালিহাতীর সল্লায় সাপ্তাহিক হাটে পাইকারি বিক্রি হয়, ২০২৪ সালের মার্চে দ্য ডেইলি স্টার বাংলায় এমনটাই লেখা। ২০২৩ সালের আরেকটা প্রতিবেদনে করটিয়া হাট বসার দিন লেখা মঙ্গলবার আর বুধবার। দিন বদলাতে পারে, যাওয়ার আগে ফোন করে নিন।

শাড়ি বিক্রি করতে কি BSTI লাগে?

কয়েক রকম শাড়ির জন্য BSTI-র মান বাধ্যতামূলক। ২০২৬ সালের অক্টোবরে BSTI-র তালিকায় পাওয়ার লুমের সুতি শাড়ি, ছাপা সিল্কের শাড়ি, জামদানি শাড়ি আর ২০২৬ সালে নতুন যোগ হওয়া কৃত্রিম সুতার শাড়ির নাম আছে। লাইসেন্স নেন যিনি বানান বা আমদানি করেন, তবে মার্ক ছাড়া মাল বেচলে ঝামেলা বিক্রেতারও হতে পারে, তাই কেনার সময় BSTI মার্ক দেখে নিন আর দরকারে কাছের BSTI অফিসে জিজ্ঞেস করুন।

আসল জামদানি কীভাবে চিনব?

হাতে বোনা জামদানির নকশা কাপড়ের ভেতরেই বোনা থাকে, তাই উল্টো পিঠেও নকশা দেখা যায় আর লম্বা ঝুলে থাকা কাটা সুতা সাধারণত থাকে না। মেশিনের নকল জামদানির উল্টো পিঠে প্রায়ই আলগা সুতা কাটা দেখা যায়। নিজে বুঝতে না পারলে "জামদানি" শব্দটা লিখবেন না, শুধু "জামদানি নকশার শাড়ি" লিখুন।

শাড়ির ছবি কি মডেল ছাড়া তোলা যায়?

যায়, আর অনেক পেজ এভাবেই তোলে। পুরো শাড়ি বিছানায় মেলে দিয়ে ওপর থেকে একটা ছবি, আঁচল আর পাড়ের কাছ থেকে আলাদা ছবি, আর একটা স্ট্যান্ডে ঝুলিয়ে ঢেউ খেলানো ঝুলের ছবি। সাথে একটা ছোট ভিডিও দিলে কাপড়ের নড়াচড়া বোঝা যায়।

শাড়ি কুরিয়ারে কীভাবে প্যাক করব?

জরি বা কাজ ভেতরের দিকে রেখে ভাঁজ করুন, মাঝে টিস্যু দিন, যাতে জরি আরেক ভাঁজে আটকে টান না খায়। তারপর একটা চ্যাপ্টা বক্স বা মোটা পলিতে ভরে পানি থেকে বাঁচাতে আরেকটা পলিতে মুড়ে দিন। প্যাকের পরে ওজন মেপে নিন।

#অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা#শাড়ির ব্যবসা#টাঙ্গাইল শাড়ি পাইকারি#জামদানি শাড়ি#তাঁতের শাড়ি#BSTI

আরও পড়ুন

খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম

বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম

থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

কাজু-কাঠবাদামের ব্যবসা, বাদাম পাইকারি কিনে প্যাকেটে বেচার নিয়ম

শীত আর রোজার আগে বাদাম-কিশমিশের চাহিদা বাড়ে। কোন জিনিস দিয়ে শুরু করবেন, বাদাম পাইকারি কোথায় আর প্রথম লটে কতটা, কাজুর গ্রেড আর তাজা মাল চেনা, ২৫০ আর ৫০০ গ্রামের প্যাকের আসল হিসাব, লেবেল আর গিফট প্যাক।

·১৩ মিনিটে পড়া যায়