শার্ট, প্যান্ট আর টি-শার্টের সাইজ চার্ট বানাবেন যেভাবে, ফেরত কমবে
সাপ্লায়ারের ট্যাগে M লেখা, অথচ কাস্টমার বলেন টাইট। টি-শার্ট, শার্ট আর প্যান্ট টেবিলে বিছিয়ে ফিতা দিয়ে মাপার নিয়ম, ইঞ্চিতে নিজের সাইজ চার্ট বানানো, কাস্টমারকে নিজের শার্ট মেপে সাইজ বাছতে শেখানো, আর একটা ভুল সাইজে কত টাকা যায়, হিসাবসহ।

এই লেখায় যা আছে
টি শার্ট সাইজ চার্ট বানাতে অন্য কোনো ওয়েবসাইটের চার্ট কপি করবেন না, আর সাপ্লায়ারের ট্যাগের S-M-L দেখেও লিখবেন না। নিজের স্টকের প্রতিটা সাইজের কয়েকটা পিস টেবিলে বিছিয়ে ফিতা দিয়ে মাপুন। টি-শার্ট আর শার্টে বুক, লম্বা, কাঁধ আর হাতা, প্যান্টে কোমর, হিপ আর লম্বা। মাপগুলো ইঞ্চিতে একটা টেবিলে লিখুন, এটাই আপনার সাইজ চার্ট। বাংলাদেশে সব দোকানের মানা এমন কোনো এক "স্ট্যান্ডার্ড" চার্ট নেই। এক কারখানার M আরেক কারখানার M-এর সমান হয় না, তাই আপনার চার্ট হবে শুধু আপনার মালের। সাথে কাস্টমারকে শেখান নিজের একটা শার্ট মেপে কীভাবে সাইজ বাছবেন।
এক্সচেঞ্জের ফোনটা প্রায় সবসময় এক রকম। "ভাই, M দিলেন, বুকে টাইট, বোতাম লাগালে টান পড়ে।" আপনি চার্ট দেখলেন, M-ই তো পাঠিয়েছেন। পরে প্যাকেট খুলে আরেকটা M মেপে দেখলেন, আগের লটের M-এর চেয়ে দেড় ইঞ্চি ছোট। সাপ্লায়ার কারখানা বদলেছেন, ট্যাগ বদলায়নি। এই লেখা সেই ফাঁকটা বন্ধ করার জন্য।
সাপ্লায়ারের M আর আপনার M এক না কেন
জামার গায়ের S, M, L-এর জন্য দেশে বাধ্যতামূলক কোনো সাইজের মানদণ্ড নেই। প্রতিটা কারখানা নিজের প্যাটার্ন অনুযায়ী কাটে। কেউ বিদেশের বায়ারের মাপে, কেউ দেশি দোকানের চাহিদায়, কেউ কাপড় বাঁচাতে একটু ছোট করে। ফলে দুই সাপ্লায়ারের M পাশাপাশি রাখলে বুকে দুই ইঞ্চি তফাত দেখা অস্বাভাবিক না।
আরও একটা জিনিস ঘটে, যেটা নতুন সেলার প্রথম মাসে টের পান না। একই সাপ্লায়ারের একই কার্টনের ভেতরেও মাপ একটু নড়ে। কাটার সময় কাপড়ের অনেক ভাঁজ একসাথে কাটা হয়, ওপরের আর নিচের ভাঁজে সামান্য তফাত থাকে। সেলাইয়ের মানুষ বদলালেও আধা ইঞ্চি এদিক-ওদিক হতে পারে। এজন্য একটা পিস মেপে পুরো লটের চার্ট বানানো ঝুঁকির।
কাস্টমারের দিক থেকে ব্যাপারটা আরও গোলমেলে। তিনি এতদিন যে দোকান থেকে কিনেছেন, সেখানে তাঁর সাইজ ছিল L। আপনার দোকানে এসে L নিলেন, আর পেলেন অন্য মাপ। তাঁর কাছে মনে হয় আপনি ভুল পাঠিয়েছেন। তাই কাস্টমারকে সাইজের নাম না, মাপ দেখিয়ে বিক্রি করতে হয়। "L" বললে তিনি নিজের মাথার L ভাবেন, "বুক ৪২ ইঞ্চি" বললে সবাই একই জিনিস বোঝেন।

শার্ট আর টি-শার্ট মাপবেন যেভাবে, টেবিলে বিছিয়ে
মাপার জন্য লাগবে একটা দর্জির নরম ফিতা, একটা বড় সমান টেবিল আর একটা খাতা। মেঝেতে মাপবেন না, কার্পেট বা উঁচুনিচু মেঝেতে জামা টানটান থাকে না। টি-শার্ট হলে সামনের দিক ওপরে রেখে বিছান, ভাঁজ হাত দিয়ে সমান করুন, কিন্তু টেনে লম্বা করবেন না। শার্ট হলে আগে সব বোতাম লাগান, তারপর বিছান। বোতাম খোলা শার্টে বুকের মাপ প্রতিবার আলাদা আসে।
বুক। এক বগলের সেলাই থেকে আরেক বগলের সেলাই পর্যন্ত সোজা মাপুন। যে সংখ্যা পাবেন, সেটা দুই দিয়ে গুণ করুন। বিছানো অবস্থায় ২০ ইঞ্চি পেলে জামার বুক ৪০ ইঞ্চি। এটা জামার মাপ, গায়ের না। জামা গায়ের চেয়ে কয়েক ইঞ্চি বড় হয়, নইলে নড়াচড়া করা যায় না।
লম্বা। কাঁধের সবচেয়ে উঁচু বিন্দু, মানে যেখানে কলার কাঁধের সেলাইয়ে মিশেছে, সেখান থেকে সোজা নিচের কিনারা পর্যন্ত। শার্টে নিচটা গোল কাটা থাকলে সবচেয়ে নিচের বিন্দু পর্যন্ত মাপুন।
কাঁধ। এক কাঁধের সেলাই থেকে আরেক কাঁধের সেলাই পর্যন্ত, পেছনের দিক দিয়ে সোজা। টি-শার্টে এই মাপ কম লাগে, শার্টে বেশি, কারণ কাঁধ বেশি চওড়া বা সরু হলে শার্ট গায়ে বেমানান দেখায়।
হাতা। কাঁধের সেলাই থেকে হাতার শেষ পর্যন্ত। ফুল হাতা শার্টে কাফের কিনারা পর্যন্ত মাপুন, হাফ হাতায় হাতার নিচের কিনারা পর্যন্ত।

প্রতিটা সাইজের অন্তত তিনটা পিস মাপুন, একই কার্টনের আলাদা আলাদা জায়গা থেকে নিয়ে। তিনটার মাপ লিখে মাঝেরটা চার্টে দিন। তিনটার মধ্যে এক ইঞ্চির বেশি তফাত পেলে সেটা সাপ্লায়ারকে জানান, এমন লট কাস্টমারের কাছে গেলে অভিযোগ আসবেই। আর যে পিসটা মেপে চার্ট বানালেন, সেটা একটা পলিতে ভরে গায়ে "নমুনা, M, অক্টোবর লট" লিখে আলাদা রেখে দিন। পরে কেউ বললে "আপনার M ছোট", তখন হাতের কাছে প্রমাণ থাকবে।
প্যান্টের মাপ, কোমর আর লম্বা
প্যান্টের গায়ে সাধারণত সংখ্যা লেখা থাকে, ৩০, ৩২, ৩৪। এই সংখ্যা সাধারণত কোমরের ইঞ্চি বোঝায়। কিন্তু মেপে দেখলে অনেক লটে আধা থেকে এক ইঞ্চি এদিক-ওদিক পাওয়া যায়, আর স্ট্রেচ কাপড়ে তফাত আরও বেশি মনে হয়। তাই প্যান্টেও ট্যাগ না, ফিতা।
কোমর। বোতাম আর চেইন লাগিয়ে প্যান্টটা সামনের দিক ওপরে রেখে বিছান। কোমরবন্ধের ওপরের কিনারা বরাবর এক পাশ থেকে আরেক পাশ সোজা মাপুন, দুই দিয়ে গুণ করুন। কোমরে ইলাস্টিক থাকলে টান না দিয়ে একবার মাপুন, আর টেনে কতটা পর্যন্ত যায় সেটা আলাদা লিখুন।
লম্বা। দুই রকম লম্বা আছে, দুটোই কাজের। বাইরের লম্বা হলো কোমরবন্ধের ওপর থেকে পাশের সেলাই ধরে নিচের কিনারা পর্যন্ত। ভেতরের লম্বা হলো দুই পায়ের সংযোগের সেলাই থেকে ভেতরের সেলাই ধরে নিচ পর্যন্ত। কাস্টমারের কাছে ভেতরের লম্বাটা বেশি কাজের, কারণ পা কতটা লম্বা সেটা এখান থেকেই বোঝা যায়, কোমর কত উঁচুতে কাটা তার ওপর নির্ভর করে না।
হিপ। কোমর থেকে মোটামুটি সাত-আট ইঞ্চি নিচে, প্যান্টের সবচেয়ে চওড়া জায়গায় এক পাশ থেকে আরেক পাশ মাপুন, দুই দিয়ে গুণ করুন। জিন্স আর গ্যাবার্ডিনে এটা জরুরি, কারণ কোমর ঠিক হলেও হিপে টাইট হলে কাস্টমার ফেরত দেন।

প্যান্টে আরেকটা প্রশ্ন কাস্টমার প্রায়ই করেন, "নিচে কাটানো যাবে?" লম্বা প্যান্ট দর্জির কাছে ছোট করা যায়, ছোট প্যান্ট লম্বা করা প্রায় যায় না। তাই লম্বার মাপ পরিষ্কার লিখুন, আর কাস্টমারের লম্বা নিয়ে সন্দেহ থাকলে একটু লম্বাটা নিতে বলুন।
নিজের টি শার্ট সাইজ চার্ট বানানো, ইঞ্চিতে
আমি সোজাসুজি বলব, মাপা চার্ট ছাড়া রেডিমেড শার্ট বা প্যান্ট একটাও বেচবেন না। তিনটা পিসের মাঝের মাপগুলো এবার একটা টেবিলে বসান। কলামে সাইজ আর প্রতিটা মাপ, সারিতে প্রতিটা সাইজ। নিচে একটা টি-শার্ট লটের নমুনা চার্ট দিলাম, শুধু দেখানোর জন্য যে চার্ট দেখতে কেমন হয়। এই সংখ্যাগুলো একটা কাল্পনিক লটের, কোনো মানদণ্ড না। আপনার লট মেপে যা পাবেন, সেটাই লিখবেন।
| সাইজ | বুক (ইঞ্চি) | লম্বা (ইঞ্চি) | কাঁধ (ইঞ্চি) |
|---|---|---|---|
| M | ৩৯ | ২৭ | ১৭ |
| L | ৪১ | ২৮ | ১৮ |
| XL | ৪৩ | ২৯ | ১৯ |
| XXL | ৪৫ | ৩০ | ২০ |
চার্টের নিচে এক লাইন লিখুন, "সব মাপ জামা বিছিয়ে নেওয়া, ±০.৫ ইঞ্চি এদিক-ওদিক হতে পারে"। এই লাইনটা আপনাকে বাঁচায়। আধা ইঞ্চির তফাত নিয়ে কেউ ফোন দিলে আপনি বলতে পারেন, চার্টেই লেখা ছিল। আর ফিট লিখুন, রেগুলার না স্লিম। স্লিম ফিটের চার্ট আলাদা রাখুন, একই M-এ স্লিমের বুক আর কোমর সাধারণত সরু হয়।
চার্ট কোথায় বসাবেন, সেটা অর্ধেক কাজ। কাস্টমার সাইজের বাটনের কাছে দাঁড়িয়ে ভাবেন "আমার কোনটা লাগবে", তাই চার্ট থাকবে সেখানেই, ছবির ভেতরে ছোট লেখায় না, পড়া যায় এমন আসল লেখায়। কোথায় আর কীভাবে বসাবেন, রঙের অপশনের সাথে কীভাবে মেলাবেন, সেটা প্রোডাক্ট ভ্যারিয়েন্ট সাজানোর লেখায় বিস্তারিত আছে। এখানে শুধু একটা নিয়ম মনে রাখুন। চার্টে যে নামে সাইজ লিখলেন, প্রোডাক্টের সাইজ অপশনেও ঠিক সেই নাম দিন। চার্টে "XL" আর অপশনে "এক্সএল" থাকলে কাস্টমার দ্বিধায় পড়েন।
WinningSeller-এ নামের এই মিলটা আরও একটা কারণে জরুরি। দোকানের লিস্টের পেজে সাইজ দিয়ে ফিল্টার নিজে থেকেই আসে, আর সেই ফিল্টার বানানো হয় প্রোডাক্টের অপশন থেকে। Size, সাইজ বা মাপ নামের অপশন এক "সাইজ" দলে আসে, ৩৮ আর 38 একই চিপে। কিন্তু এক প্রোডাক্টে "XL" আর আরেকটায় "Extra Large" লিখলে দুটো আলাদা চিপ হয়ে যায়। আর ল্যান্ডিং পেজে "টেবিল: সাইজ চার্ট, স্পেসিফিকেশন বা তুলনা" নামে একটা সেকশন আছে। কলামের নাম | চিহ্ন দিয়ে লিখে দেন, যেমন "সাইজ | বুক | লম্বা | কাঁধ", তারপর প্রতিটা সাইজের সারি। টেবিলটা ফোনে পাশে সরিয়ে পড়া যায়। কোনো সাইজ শেষ হয়ে গেলে কাস্টমার সেই সাইজ বাছলে প্রোডাক্ট পেজে "স্টকে আসলে জানান" বক্স আসে, নম্বর রেখে যান, আর "স্টক রিকোয়েস্ট" মেনুতে লিস্টটা দেখে মাল এলে ফোন দিতে পারেন। ল্যান্ডিং পেজের অন্য সেকশনগুলো কী কী, সেটা WinningSeller-এর ফিচার দেখার পেজে আছে।

কাস্টমার নিজের শার্ট মেপে সাইজ বাছবেন যেভাবে
সবচেয়ে বড় ভুলটা হয় যখন কাস্টমারকে বলা হয় "আপনার বুকের মাপ কত?" তিনি ফিতা নিয়ে নিজের বুক মাপেন, কখনো জামার ওপর দিয়ে, কখনো টেনে, কখনো ঢিলা করে। সেই মাপ আপনার জামার মাপের সাথে মেলে না, কারণ আপনার চার্ট জামার মাপ, আর তিনি দিলেন গায়ের মাপ।
তার চেয়ে অনেক নির্ভরযোগ্য উপায় হলো কাস্টমারের নিজের একটা জামা মাপানো। ফোনে বা ইনবক্সে এভাবে বলুন। "ভাই, আপনার যে টি-শার্টটা গায়ে সবচেয়ে ঠিকঠাক বসে, ওটা বিছানায় বা টেবিলে বিছিয়ে এক বগলের নিচ থেকে আরেক বগলের নিচ পর্যন্ত মেপে আমাকে বলেন। আর কাঁধের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত লম্বাটাও। আমি আমাদের চার্টের সাথে মিলিয়ে সাইজ বলে দিচ্ছি।" তিনি বললেন বিছানো অবস্থায় ২০.৫ ইঞ্চি, মানে বুক ৪১। আপনার চার্টে L-এর বুক ৪১। সাইজ L, আর এই কথোপকথনটা অর্ডারের নোটে লিখে রাখুন।

প্যান্টেও একই কৌশল। "আপনার যে প্যান্টটা কোমরে ঠিক বসে, বোতাম লাগিয়ে কোমরটা বিছিয়ে মাপুন।" প্রোডাক্টের বর্ণনাতেও এক লাইনে এই নিয়মটা লিখে দিন, "সাইজ নিয়ে সন্দেহ থাকলে নিজের একটা মাপমতো জামা বিছিয়ে মাপুন, চার্টের সাথে মেলান"। অনেক কাস্টমার নিজেই মেপে নেবেন, ইনবক্সে জিজ্ঞেসও করবেন না।
কনফার্মেশনের ফোনে শেষবার মিলিয়ে নিন। "ভাই, আপনি নীল টি-শার্ট নিচ্ছেন, L সাইজ, বুক ৪১ ইঞ্চি, ঠিক আছে?" এই এক লাইনে মাপটা আরেকবার কানে যায়। কাস্টমার "না না, আমি তো ঢিলা পরি" বললে সেখানেই XL করে দিন, পার্সেল যাওয়ার আগে। কোন সাইজ কত পিস তুলবেন, সেটা পাঞ্জাবির ক্ষেত্রে পাঞ্জাবির ব্যবসার লেখায় আলাদা করে বলা আছে, শার্টের লটেও একই ভাবনা খাটে।
একটা এক্সচেঞ্জে কত যায় (উদাহরণ)
সাইজ চার্টের পেছনে একটা বিকেল দেওয়া কেন দরকার, সেটা টাকায় দেখুন। অঙ্কগুলো ধরে নেওয়া, কারও দোকানের খাতা না। নিজের কুরিয়ারের চার্জ আর মাসের অর্ডার বসালেই আপনার আসল সংখ্যা বেরোবে।
উদাহরণ। ধরুন মাসে ২০০টা শার্ট আর টি-শার্ট বিক্রি হয়, বেশিরভাগ ঢাকার বাইরে। একটা সাইজ বদল মানে দুটো পার্সেল। পুরনোটা ফেরত আনা আর নতুনটা পাঠানো। ধরুন ফেরত আনতে কুরিয়ার নেয় ১৩০ টাকা, নতুনটা পাঠাতে আরও ১৩০ টাকা, আর নতুন প্যাকেট আর ইনভয়েসে ২০ টাকা। ভুলটা আপনার চার্টের হলে এই খরচ আপনার। মানে একটা বদলে ১৩০ + ১৩০ + ২০ = ২৮০ টাকা।
এখন ধরুন চার্ট ছাড়া ২০০ অর্ডারের ১৬টা সাইজের কারণে বদলাতে হয়, মানে একশতে আটটা। খরচ ১৬ × ২৮০ = ৪,৪৮০ টাকা। মাপা চার্ট আর কাস্টমারকে নিজের জামা মাপানোর অভ্যাসের পরে ধরুন বদল নামল ৬টায়। খরচ ৬ × ২৮০ = ১,৬৮০ টাকা। মাসে বাঁচল ৪,৪৮০ − ১,৬৮০ = ২,৮০০ টাকা। বছরে ২,৮০০ × ১২ = ৩৩,৬০০ টাকা।
এই হিসাবে আরও দুটো জিনিস ধরা হয়নি। কিছু কাস্টমার বদলান না, দরজাতেই পার্সেল ফেরত দেন, তখন পুরো ডেলিভারি আর ফেরতের চার্জ যায়, বিক্রিও যায়। আর যাঁর একবার সাইজ ভুল হয়েছে, তিনি পরের বার আপনার দোকান থেকে কিনতে দুবার ভাবেন। ফেরত পার্সেল নিয়ে কাস্টমার আর কুরিয়ারের সাথে ঝগড়া হলে কীভাবে সামলাবেন, সেটা ভুল বা কম প্রোডাক্ট নিয়ে বিরোধের লেখায় আছে।
কখন সাইজ চার্টে কাজ হয় না
সব কাপড়ে মাপা চার্ট সমান কাজ দেয় না। ফ্রি সাইজের জিনিস, যেমন অনেক লুঙ্গি বা ঢিলা টি-শার্টের লটে, যেখানে একটাই মাপ, সেখানে চার্টের দরকার নেই। এক লাইনে মাপটা লিখে দিন, "বুক ৪৪ ইঞ্চি পর্যন্ত মানাবে", যদি সেটা মেপে দেখে থাকেন।
স্টক লটের মাল, যেখানে এক বস্তায় নানা ব্র্যান্ডের নানা মাপের পিস, সেখানে এক চার্ট বানানো যায় না। প্রতিটা পিসের মাপ আলাদা করে লিখতে হয়, প্রোডাক্টের নামে বা বর্ণনায়। এক প্রোডাক্টে বিশটা সাইজের অপশন বানাবেন না। কাজটা ঝামেলার, কিন্তু না করলে স্টক লটে ফেরত সবচেয়ে বেশি।
আর যেখানে কাস্টমার নিজের মাপে বানিয়ে নিচ্ছেন, যেমন অর্ডারে সেলাই করা পাঞ্জাবি বা শার্ট, সেখানে চার্ট না, কাস্টমারের মাপ নেওয়ার একটা ফর্ম লাগে। শেষে একটা সৎ কথা। খুব কম দামের জিনিস, যেখানে একটা বদলের খরচ প্রোডাক্টের লাভের চেয়ে বেশি, সেখানে চার্টের পাশাপাশি বদলের নিয়মটাও আগেই পরিষ্কার লিখুন, যাতে কাস্টমার জেনে কেনেন। কাপড়ের ব্যবসায় বদলের নিয়ম কীভাবে লিখবেন, সেটা অনলাইনে কাপড়ের ব্যবসার গাইডে আছে।
আজই করে ফেলুন
একটা দর্জির ফিতা, একটা খাতা আর আজ বিকেলের দুই ঘণ্টা।
- সবচেয়ে বেশি বিকোয় এমন একটা শার্ট বা টি-শার্টের প্রতিটা সাইজ থেকে তিনটা পিস বের করুন, কার্টনের আলাদা জায়গা থেকে।
- বোতাম লাগিয়ে টেবিলে বিছিয়ে বুক, লম্বা, কাঁধ আর হাতা মাপুন। খাতায় তিনটার মাপ লিখে মাঝেরটা নিন।
- প্যান্ট থাকলে কোমর, হিপ আর ভেতরের লম্বা মাপুন, কোমর আর হিপ দুই দিয়ে গুণ করে।
- ইঞ্চিতে টেবিল বানান, নিচে ±০.৫ ইঞ্চির লাইন আর ফিটের নাম লিখুন।
- প্রোডাক্টের সাইজ অপশনের নাম চার্টের নামের সাথে মিলিয়ে দেখুন, এক নাম সব জায়গায়।
- মাপা পিসগুলো লেবেল দেওয়া পলিতে আলাদা রাখুন।
- ইনবক্সের কুইক রিপ্লাইতে "নিজের জামা বিছিয়ে মাপুন" লাইনটা সেভ করুন।
সাইজ চার্ট একবারের কাজ না, প্রতিটা নতুন লটের কাজ। কিন্তু অভ্যাস হয়ে গেলে প্রতি লটে আধা ঘণ্টা লাগে, আর সেই আধা ঘণ্টা মাসের পর মাস ফেরতের ফোন কমিয়ে রাখে।
সাধারণ প্রশ্ন
টি শার্টের M সাইজে বুকের মাপ কত হয়?
এক কথায় বলা যায় না, কারণ সাপ্লায়ার আর কাট ভেদে M-এর মাপ আলাদা। অনেক রেগুলার ফিট লটে M-এর জামা বিছিয়ে মাপলে বুক ৩৮ থেকে ৪০ ইঞ্চির আশেপাশে পাওয়া যায়, কিন্তু এটা শুধু একটা ধারণা। আপনার নিজের লটের কয়েকটা পিস মেপে যা পাবেন, চার্টে সেটাই লিখুন।
শার্টের বুকের মাপ কীভাবে নেব?
শার্টের সব বোতাম লাগিয়ে টেবিলে সমান করে বিছান। এক বগলের সেলাই থেকে আরেক বগলের সেলাই পর্যন্ত সোজা মাপুন, তারপর দুই দিয়ে গুণ করুন। এটাই জামার বুকের মাপ, গায়ের মাপ না।
প্যান্টের ৩২ সাইজ মানে কি কোমর ৩২ ইঞ্চি?
সাধারণত গায়ে লেখা সংখ্যাটা কোমরের ইঞ্চি বোঝায়, কিন্তু মেপে দেখলে অনেক লটে আধা থেকে এক ইঞ্চি এদিক-ওদিক পাওয়া যায়। তাই বোতাম লাগিয়ে প্যান্টের কোমর বিছিয়ে মাপুন, দুই দিয়ে গুণ করুন, আর চার্টে সেই মাপটাই দিন।
সাইজ চার্ট সেন্টিমিটারে দেব না ইঞ্চিতে?
বাংলাদেশে দর্জি আর কাস্টমার বেশিরভাগ ইঞ্চিতে কথা বলেন, তাই ইঞ্চিতে দিন। চাইলে পাশে সেন্টিমিটার রাখতে পারেন, এক ইঞ্চি মানে ২.৫৪ সেন্টিমিটার। দুটো একসাথে দিলে টেবিল যেন ফোনে পড়া যায়, সেটা খেয়াল রাখবেন।
কাস্টমার নিজের সাইজ না জানলে কী বলব?
গায়ের মাপ নিতে বলবেন না, ওটায় ভুল বেশি হয়। বলুন, "আপনার যে শার্টটা গায়ে ঠিক বসে, ওটা বিছিয়ে বগলের নিচ থেকে বগলের নিচ পর্যন্ত মেপে বলুন।" সেই মাপ আপনার চার্টের সাথে মিলিয়ে সাইজটা আপনি বলে দিন।
স্লিম ফিট আর রেগুলার ফিটের চার্ট কি আলাদা?
হ্যাঁ, আলাদা রাখুন। একই M সাইজে স্লিম ফিটের বুক আর কোমর সাধারণত রেগুলারের চেয়ে সরু হয়। দুটো একটা চার্টে মেশালে যিনি ঢিলা পরতে পছন্দ করেন, তিনি স্লিম ফিট পেয়ে টাইট বলে ফেরত দেবেন।
আরও পড়ুন
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল না গ্রুপ? পুরনো কাস্টমারকে নতুন মালের খবর দিন
নতুন কালেকশনের খবর পুরনো কাস্টমারকে দিতে চান, কিন্তু চ্যানেল খুলবেন, গ্রুপ, না স্ট্যাটাস? কে কার নম্বর দেখে, কে উত্তর দিতে পারে, চ্যানেল খোলার ধাপ, কী পোস্ট দেবেন, গ্রুপের নিয়ম আর ঝুঁকি, আর এক মাসে কোনটায় কত সময় যায়, হিসাবসহ।
প্রোডাক্ট ক্যাটালগ ও প্রাইস লিস্ট বানানোর নিয়ম, পাইকার আর অফিসের জন্য
পাইকার, রিসেলার বা অফিসের লোক বলছেন "ক্যাটালগ আর রেট দেন"? প্রতিটা প্রোডাক্টে কী লিখবেন, খুচরা আর পাইকারি দাম কেন আলাদা ফাইলে, পরিমাণ ধরে দামের ধাপ টাকায়, PDF না লিংক, আর দাম বদলালে পুরনো কপি থামাবেন কীভাবে।
পয়েন্ট ডেলিভারি কি? কুরিয়ার হাবে পার্সেল দেওয়া আর হাব থেকে নেওয়া
পয়েন্ট ডেলিভারি মানে কাস্টমার বাসায় না নিয়ে কুরিয়ারের কাছের হাব বা পয়েন্ট থেকে নিজে পার্সেল তোলেন। কোন কুরিয়ারে আছে, অক্টোবর ২০২৬-এ চার্জ কত, কাস্টমারের হাব খুঁজবেন কীভাবে, হাবে পড়ে থাকা পার্সেল আর রিটার্ন, আর ৫০টা পার্সেলের হিসাব।


