মোবাইল দিয়ে প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি, ঘরে বসে কম খরচে যেভাবে করবেন
সাধারণ Android ফোন, জানালার আলো আর এক টুকরা সাদা কাগজ দিয়ে কীভাবে প্রোডাক্টের এমন ছবি তুলবেন যা দেখে কাস্টমার ভরসা পান। জামা, কসমেটিকস, গ্যাজেট আর মধুর আলাদা নিয়ম, ফ্রি অ্যাপে এডিট, আর যে ভুলে ফেরত আসে।

এই লেখায় যা আছে
- মোবাইল দিয়ে প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফির সেটআপে কী লাগে, আর খরচ কত
- জানালার আলোয় প্রোডাক্টের ছবি কীভাবে তুলবেন
- ফোনের ক্যামেরায় কোন সেটিং ঠিক করবেন
- কোন প্রোডাক্টের ছবি কোন অ্যাঙ্গেলে তুলবেন
- ফোনেই ছবি এডিট করবেন কীভাবে, ফ্রি অ্যাপ দিয়ে
- প্রোডাক্ট পেজ আর ল্যান্ডিং পেজে কোন কোন ছবি লাগে
- যে ভুলগুলো দেখলে কাস্টমার ছবি বিশ্বাস করেন না
- কখন নিজে না তুলে ফটোগ্রাফার ডাকবেন
- আজ বিকেলে প্রথম সেশনটা কীভাবে করবেন
মোবাইল দিয়ে প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি করতে দামি ফোন বা স্টুডিও লাগে না। একটা সাধারণ Android ফোন, দিনের বেলায় একটা জানালা, আর এক টুকরা সাদা কাগজ থাকলেই এমন ছবি তোলা যায় যেটা দেখে কাস্টমার ভরসা পান। আসল কাজটা ফোনের না, আলোর। আলো ঠিক থাকলে কম দামি ফোনেও ছবি ঝকঝকে আসে, আর আলো ভুল হলে দামি ফোনেও ছবি ময়লা দেখায়।
নিচে প্রথমে বলছি ঘরে সেটআপটা কীভাবে বানাবেন আর ফোনের কোন সেটিং চেঞ্জ করবেন। তারপর বলছি জামা থেকে মধু পর্যন্ত কোন প্রোডাক্ট কোন অ্যাঙ্গেলে তুলবেন আর ফ্রি অ্যাপে কতটুকু এডিট করবেন। শেষে আছে সেই ভুলগুলো, যেগুলো দেখলে কাস্টমার ছবি দেখেই সন্দেহ করেন। পড়া শেষ করে আজ বিকেলেই প্রথম ছবিগুলো তুলে ফেলতে পারবেন।
মোবাইল দিয়ে প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফির সেটআপে কী লাগে, আর খরচ কত
বেশিরভাগ জিনিস আপনার ঘরেই আছে। যা কিনতে হবে, সেটাও স্টেশনারি দোকান আর অনলাইনে সহজে পাওয়া যায়। পুরো লিস্টটা এরকম।
- আপনার এখনকার ফোন। নতুন ফোন কেনার দরকার নেই। শুধু লেন্সটা পরিষ্কার থাকতে হবে, সেটা নিচে বলছি।
- সাদা পোস্টার পেপার বা আর্ট পেপার, বড় সাইজের দুই-তিনটা। একটা ব্যাকগ্রাউন্ড হবে, একটা আলো ফেরানোর কাজে লাগবে।
- একটা সাদা ফোম বোর্ড বা পিভিসি বোর্ড। না থাকলেও চলে, তবে কাগজের চেয়ে শক্ত আর অনেকদিন টেকে।
- জানালার পাশে একটা টেবিল বা চেয়ার, যার ওপর প্রোডাক্ট রাখবেন।
- একটা মোবাইল ট্রাইপড বা স্ট্যান্ড। না থাকলে কয়েকটা বই একটার ওপর আরেকটা রেখে তার ওপর ফোন হেলান দিয়ে রাখা যায়।
- স্কচটেপ বা কাপড় শুকানোর ক্লিপ, কাগজ আটকে রাখার জন্য।
খরচের কথা বলি। সাদা কাগজ সবচেয়ে সস্তা পথ, দোকান আর সাইজভেদে দাম একটু কমবেশি হয়। ফোম বা পিভিসি বোর্ড সাইনবোর্ডের দোকানে মাপমতো কেটে দেয়, সাইজ আর পুরুত্বভেদে কয়েকশো টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে। বাংলাদেশের অনলাইন গ্যাজেট দোকানগুলোতে ২০২৬ সালের অক্টোবরে ছোট মোবাইল ট্রাইপড কয়েকশো টাকা থেকে শুরু হতে দেখা যায়, লম্বা বা রিমোটওয়ালাগুলোর দাম বেশি। সব মিলিয়ে সাধারণত হাজার টাকার ভেতরে পুরো সেটআপ হয়ে যায়, আর ট্রাইপড বাদ দিলে খরচ আরও কমে।
এবার সাজানোর নিয়মটা বলি। টেবিলটা জানালার পাশে এমনভাবে রাখুন যেন জানালা প্রোডাক্টের এক পাশে থাকে। সাদা কাগজটার এক মাথা টেবিলের ওপর বিছিয়ে দিন, আর অন্য মাথা পেছনের দেয়ালে বা একটা বাক্সে টেপ দিয়ে খাড়া করে লাগিয়ে দিন। মাঝখানে ভাঁজ না করে একটা গোল বাঁক রাখবেন। ফটোগ্রাফাররা এই বাঁককে সুইপ বলেন, আর এর কারণে প্রোডাক্টের পেছনে টেবিল আর দেয়ালের মাঝের দাগটা ছবিতে আসে না।
সাদা কেন, সেটাও বুঝে রাখা ভালো। রঙিন ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে রং প্রোডাক্টের গায়ে পড়ে, যেমন নীল দেয়ালের সামনে সাদা জামা একটু নীলচে দেখায়। সাদার সামনে প্রোডাক্টের আসল রং বোঝা যায়, আর পরে এডিট করার সময় সাদা কাগজটাই আপনার রং মেলানোর মাপকাঠি হয়।

জানালার আলোয় প্রোডাক্টের ছবি কীভাবে তুলবেন
প্রোডাক্টের ছবিতে সবচেয়ে বড় পার্থক্য আনে আলো। জানালা দিয়ে আসা দিনের আলো একদিক থেকে নরম করে পড়ে, তাই প্রোডাক্টের গড়ন বোঝা যায় আর রং ঠিক থাকে। ঘরের টিউবলাইট বা বাল্বের আলো সাধারণত ওপর থেকে পড়ে, তাই প্রোডাক্টের নিচে আর পাশে কালো ছায়া জমে। এর ওপর এসব আলো ছবির রং একটু হলুদ বা সবুজাভ করে দিতে পারে।
সরাসরি রোদে ছবি তুলবেন না। জানালা দিয়ে রোদ সোজা প্রোডাক্টের ওপর পড়লে কালো শক্ত ছায়া হয়, আর চকচকে প্যাকেটে সাদা ঝলক উঠে লেবেল পড়া যায় না। রোদ ঢুকলে জানালায় একটা পাতলা সাদা পর্দা টেনে দিন, অথবা ট্রেসিং পেপার টেপ দিয়ে লাগিয়ে দিন। এতে রোদটা ছড়িয়ে নরম হয়ে যায়। মেঘলা দিনের আলো এমনিতেই নরম, তাই প্রোডাক্টের ছবির জন্য মেঘলা দিন আসলে ভালো দিন।
ছবি তোলার সময় ঘরের সব লাইট বন্ধ রাখুন। জানালার আলো আর ঘরের বাল্ব বা টিউবের আলোর রং এক না। দুটো একসাথে পড়লে ছবির এক পাশ একরকম আর আরেক পাশ আরেক রকম রঙের দেখায়, যেমন এক পাশ নীলচে আর আরেক পাশ হলুদাভ। এই মিশ্র রং পরে কোনো অ্যাপেই পুরোপুরি ঠিক হয় না, কারণ এডিট পুরো ছবির রং একসাথে বদলায়।
এবার একটা রিফ্লেক্টর লাগবে। রিফ্লেক্টর মানে এমন কিছু, যেটাতে আলো লেগে আবার প্রোডাক্টের দিকে ফিরে আসে। জানালার উল্টো দিকে প্রোডাক্টের পাশে একটা সাদা বোর্ড বা কাগজ খাড়া করে দাঁড় করান। জানালার আলো এতে লেগে ফিরে এসে প্রোডাক্টের ছায়ার দিকটা হালকা করে দেয়। বোর্ড যত কাছে আনবেন, ছায়া তত কমবে। আরও জোরালো আলো চাইলে একটা কার্ডবোর্ডে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল মুড়ে নিন, তবে এটা খুব চকচকে প্রোডাক্টে ঝলক তুলতে পারে, তাই একবার তুলে দেখে নিন।
ফ্ল্যাশ বন্ধ রাখুন। ফোনের ফ্ল্যাশ সামনে থেকে একটা কড়া আলো ফেলে, তাতে প্রোডাক্ট চ্যাপ্টা দেখায় আর বোতল বা প্লাস্টিকের প্যাকেটে সাদা দাগ পড়ে। রাতে তুলতেই হলে একটা সাদা LED লাইট এক পাশে রেখে তার সামনে সাদা কাগজ ধরে আলোটা নরম করে নিন, কিন্তু দিনের আলোর মতো ফল আশা করবেন না।
ফোনের ক্যামেরায় কোন সেটিং ঠিক করবেন
এই অংশের বেশিরভাগ সেটিং একবার ঠিক করলে প্রতিবার আর করতে হয় না, শুধু লেন্স মোছাটা প্রতিবারের কাজ। ফোনের ব্র্যান্ডভেদে (Samsung, Xiaomi, Realme, Walton) অপশনের নাম একটু আলাদা হতে পারে, তবে প্রায় সব Android ফোনেই এগুলো আছে।
আগে লেন্সটা মুছুন। পকেটে আর হাতে থাকতে থাকতে লেন্সে আঙুলের তেলের দাগ পড়ে। তখন ছবি ঘোলা আসে আর আলোর চারপাশে একটা ধোঁয়াটে আভা দেখা যায়। নরম সুতি কাপড় বা চশমা মোছার কাপড় দিয়ে প্রতিবার ছবি তোলার আগে একবার মুছে নিন। ঘোলা ছবির খুব সাধারণ একটা কারণ এটা, আর ঠিক করতে কোনো খরচ নেই।
গ্রিড লাইন চালু করুন। ক্যামেরার Settings-এ Grid lines বা এরকম নামে একটা অপশন থাকে। চালু করলে স্ক্রিনে কয়েকটা সোজা দাগ আসে। এতে প্রোডাক্ট সোজা আছে কি না বোঝা যায়, আর ওপর থেকে জামার ছবি তোলার সময় ফোন মেঝের সমান্তরালে আছে কি না সেটাও ধরা যায়।
ফোকাস আর এক্সপোজার লক করুন। এক্সপোজার মানে ছবি কতটা উজ্জ্বল আসবে। স্ক্রিনে প্রোডাক্টের ওপর আলতো চাপ দিলে ফোন সেখানে ফোকাস করে। Samsung-সহ অনেক ফোনে প্রোডাক্টের ওপর আঙুল চেপে ধরে রাখলে স্ক্রিনে লক হওয়ার একটা লেখা আসে, যেমন AE/AF Lock। তখন ফোকাস আর উজ্জ্বলতা দুটোই আটকে যায়, আর হাত একটু নড়লেও আর চেঞ্জ হয় না। ব্র্যান্ডভেদে লেখাটা একটু আলাদা হতে পারে, কাজ একই।
সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে উজ্জ্বলতা একটু বাড়ান। ফোকাস করার পর বেশিরভাগ ফোনে পাশে একটা সূর্যের চিহ্ন বা স্লাইডার আসে। সাদা কাগজ খুব উজ্জ্বল বলে ফোন ভাবে ছবি বেশি আলো পাচ্ছে, তাই নিজে থেকে ছবিটা একটু অন্ধকার করে দেয়। ফলে সাদা কাগজ ধূসর দেখায়, আর প্রোডাক্টও মলিন লাগে। স্লাইডারটা একটু ওপরে টেনে দিন, যতক্ষণ না কাগজটা সাদা দেখায় কিন্তু প্রোডাক্টের কিনারা হারিয়ে যায় না।
জুম বাটনে চাপবেন না, ফোনটা কাছে নিন। আলাদা টেলিফটো লেন্স না থাকলে সাধারণ ফোনে ১x-এর বেশি জুম মানে ছবির একটা অংশ কেটে বড় করা, তাতে খুঁটিনাটি নষ্ট হয়। আবার ০.৫x বা আল্ট্রা-ওয়াইড লেন্স কাছ থেকে প্রোডাক্টের কিনারা বাঁকিয়ে দেয়, বোতল মোটা আর জামা বেঁকে যাওয়া দেখায়। মূল ১x ক্যামেরায় থাকুন, আর কাছে গিয়ে ছবি ঝাপসা হলে একটু পিছিয়ে তুলুন, পরে ক্রপ করে নেবেন।
বিউটি, ফিল্টার আর পোর্ট্রেট মোড বন্ধ রাখুন। বিউটি মোড ত্বকের সাথে কাপড়ের বুননও মসৃণ করে ফেলে। অনেক ফোনে AI বা Scene optimizer নামে একটা অপশন রং বাড়িয়ে দেয়, যাতে লাল জামা আরও টকটকে দেখায়, আর হাতে পেয়ে কাস্টমার অবাক হন। পোর্ট্রেট মোড পেছন ঝাপসা করতে গিয়ে প্রোডাক্টের কিনারাও কেটে ফেলে, বিশেষ করে স্বচ্ছ বোতল আর চুলের মতো সুতায়।
ফোন নড়তে দেবেন না। ট্রাইপডে রেখে ২ বা ৩ সেকেন্ডের টাইমার দিন, ফোনভেদে টাইমারের সময় আলাদা। টাইমার না চাইলে বেশিরভাগ Android ফোনে ভলিউম বাটন চাপলেও ছবি ওঠে, এতে স্ক্রিন চাপতে গিয়ে ফোন কাঁপে না। প্রতিটা অ্যাঙ্গেলে কয়েকটা করে ছবি তুলুন, পরে সবচেয়ে পরিষ্কারটা রাখবেন।
কোন প্রোডাক্টের ছবি কোন অ্যাঙ্গেলে তুলবেন
সব প্রোডাক্টের জন্য নিয়ম এক না। জামা কিনতে গিয়ে কাস্টমার যা নিয়ে ভাবেন, মধু কিনতে গিয়ে ভাবেন অন্য কিছু নিয়ে। ছবিকে সেই নির্দিষ্ট চিন্তার উত্তর দিতে হয়।
জামাকাপড়, থ্রি-পিস আর শাড়ি
জামা কেনার আগে কাস্টমার সবচেয়ে বেশি জানতে চান গায়ে কেমন বসবে। এরপরই তিনি দেখেন কাপড়টা কেমন আর রংটা আসলে কী। তাই জামার জন্য দুই রকম ছবি লাগে। প্রথমটা ফ্ল্যাট লে, মানে জামা ইস্ত্রি করে মেঝেতে বা সাদা চাদরে বিছিয়ে একদম ওপর থেকে তোলা। চেয়ারে দাঁড়িয়ে ফোন মেঝের সমান্তরালে ধরুন, গ্রিড লাইন দেখে। ফোন হেলে থাকলে জামার ওপরের অংশ বড় আর নিচের অংশ ছোট দেখায়।
দ্বিতীয়টা গায়ে পরা ছবি। পরিবারের কেউ বা আপনি নিজে জানালার আলোয় একটা সাদামাটা দেয়ালের সামনে দাঁড়ান। এতে লম্বায় কতটুকু, ফিটিং কেমন, সেটা বোঝা যায়। শাড়ির বেলায় আঁচল আর পাড় আলাদা করে দেখান। সাথে একটা ক্লোজআপ দিন যেখানে কাপড়ের বুনন, এমব্রয়ডারি বা লেসের কাজ স্পষ্ট দেখা যায়। আর একটা ছবিতে মাপের ফিতা দিয়ে বুকের মাপ দেখান, তাহলে সাইজ নিয়ে ইনবক্সে প্রশ্ন কম আসে।
কসমেটিকস আর স্কিন কেয়ার
কসমেটিকস কিনতে গিয়ে কাস্টমার ভয় পান জিনিসটা নকল কি না, বা মেয়াদ পার হয়ে গেছে কি না। তাই লেবেল সামনে থেকে সোজা করে তুলুন যেন উপাদান, ওজন আর মেয়াদের তারিখ পড়া যায়। সিল আর ব্যাচ নম্বরের একটা ক্লোজআপ রাখুন। চকচকে বোতলে জানালার আলো একটা লম্বা সাদা দাগ হয়ে পড়ে। বোতলটা একটু ঘুরিয়ে দিন বা ফোন একটু সরান, যতক্ষণ না দাগটা লেবেল থেকে সরে যায়।
ক্রিম, লোশন বা লিপস্টিকের রং আর ঘনত্ব দেখাতে হাতের ওপর একটু লাগিয়ে দিনের আলোয় ছবি তুলুন। ক্যাপশনে লিখে দিন কোন রঙের ত্বকে তোলা, কারণ একই লিপস্টিক ফর্সা আর শ্যামলা ত্বকে আলাদা দেখায়। হাতে ধরা একটা ছবিও দিন, তাতে বোতলটা কত বড় সেটা বোঝা যায়।
গ্যাজেট আর ইলেকট্রনিক্স
গ্যাজেটে আঙুলের ছাপ সবচেয়ে বড় শত্রু। ছবি তোলার আগে চশমা মোছার কাপড় দিয়ে পুরো বডি মুছে নিন, কারণ ক্লোজআপে প্রতিটা দাগ দেখা যায় আর কাস্টমার ভাবেন পুরনো জিনিস। স্ক্রিন থাকলে সেটা চালু করে আসল ডিসপ্লে দেখান, অন্য জায়গা থেকে স্ক্রিনের ছবি বসিয়ে দেবেন না।
পোর্ট, বাটন আর চার্জিং পয়েন্টের ক্লোজআপ দিন, কারণ গ্যাজেটের কাস্টমার এগুলো খুঁটিয়ে দেখেন। বক্সে যা যা আসবে, যেমন চার্জার, তার, ম্যানুয়াল, সব সাদা কাগজে সাজিয়ে ওপর থেকে একটা ছবি তুলুন। ইয়ারবাডের কেস খোলা অবস্থায়, স্মার্টওয়াচ কবজিতে, আর পাওয়ার ব্যাংক হাতে ধরা অবস্থায় তুললে সাইজ বোঝা সহজ হয়। কালো চকচকে গ্যাজেটের গায়ে জানালা আর রিফ্লেক্টরের সাদা ঝলক পড়ে। ঝলক বেশি হলে রিফ্লেক্টর একটু দূরে সরান, আর গ্যাজেটের কিনারা অন্ধকারে মিশে গেলে কাছে আনুন।
খাবার, মধু আর ঘি
মধু, ঘি, সরিষার তেলের মতো স্বচ্ছ বা আধা-স্বচ্ছ জিনিসে একটা কৌশল খুব কাজে দেয়। বয়ামটা জানালা আর ফোনের মাঝখানে রাখুন, যেন আলো পেছন থেকে বয়ামের ভেতর দিয়ে আসে। এতে মধুর রং আর স্বচ্ছতা জ্বলজ্বল করে দেখা যায়। সামনেটা অন্ধকার লাগলে ফোনের পাশে সাদা বোর্ড ধরে আলো ফেরান।
চামচ দিয়ে মধু পড়ার ছবি বা ঘিয়ের দানা দেখা যায় এমন ক্লোজআপ দিন, কারণ কাস্টমার ঘনত্ব দেখে খাঁটি কি না আন্দাজ করেন। লেবেলে ওজন আর ঢাকনার সিল যেন দেখা যায়। আর যে বয়ামে পাঠাবেন, প্লাস্টিক হোক বা কাচ, সেটার ছবিই দিন। আচার, শুঁটকি বা পিঠার মতো খাবার একটা বাটিতে রেখে ওপর থেকে বা হেলানো কোণে তুলুন, পাশে একটা চামচ বা কাপড় রাখলে ঘরোয়া লাগে।

ফোনেই ছবি এডিট করবেন কীভাবে, ফ্রি অ্যাপ দিয়ে
ভালো আলোয় তোলা ছবিতে এডিট লাগে খুব কম। এডিটের কাজ হলো ছবিকে আসল জিনিসের কাছাকাছি আনা, প্রোডাক্টকে আসলের চেয়ে সুন্দর বানানো না। এই কথাটা মাথায় রাখলে বাকিটা সহজ।
Snapseed হলো Google-এর ফ্রি ফটো এডিটিং অ্যাপ। ২০২৬ সালের মে মাসে Android-এ এর নতুন ভার্সন (4.0) এসেছে, আর 9to5Google-এর খবর অনুযায়ী এতে সাবস্ক্রিপশন, অ্যাড বা ওয়াটারমার্ক কিছুই নেই। নতুন ভার্সনে মেনু নতুন করে সাজানো হয়েছে। টুলগুলো এখন নিচের Tools ট্যাবে থাকে, আর সেখানে Refine আর Fix নামের দুটো ভাগে প্রোডাক্টের ছবির দরকারি টুলগুলো পাবেন। তাই পুরনো YouTube টিউটোরিয়ালের সাথে স্ক্রিন না মিললে ঘাবড়াবেন না। Crop, Perspective, White Balance, Healing আর Selective, এই টুলগুলো নতুন ভার্সনেও আছে।
প্রোডাক্টের ছবিতে Snapseed-এ এই ক্রমে কাজ করুন। প্রথমে Crop দিয়ে বাড়তি জায়গা কাটুন, আর ছবি হেলে থাকলে Perspective দিয়ে সোজা করুন। তারপর উজ্জ্বলতার টুলে গিয়ে (পুরনো ভার্সনে এর নাম Tune Image, নতুন ভার্সনে Brightness স্লাইডারটা খুঁজবেন) উজ্জ্বলতা একটু বাড়ান, যতক্ষণ না ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা দেখায়। এরপর White Balance দিয়ে রং মেলান। White Balance হলো সেই টুল, যেটা দিয়ে ছবির রং হলুদ বা নীলের দিকে হেলে থাকলে সোজা করা যায়। এখানে সাদা কাগজটাই মাপকাঠি, কাগজ যখন হলুদ বা নীল না লেগে সাদা লাগবে, তখন প্রোডাক্টের রংও আসলের কাছাকাছি থাকবে। শেষে Healing দিয়ে ব্যাকগ্রাউন্ডের ধুলা, সুতা বা চুল মুছে ফেলুন, আর শুধু এক জায়গা উজ্জ্বল করতে হলে Selective টুল আছে।
Google Photos বেশিরভাগ Android ফোনে আগে থেকেই থাকে। এতেও উজ্জ্বলতা, রং আর ক্রপের কাজ চলে। Google-এর নিজের ব্লগে ২০২৪ সালে জানানো হয়েছে, ওই বছরের ১৫ মে থেকে Magic Eraser সব ইউজারের জন্য ফ্রি। শর্ত হলো ফোনে Android 8.0 বা তার পরের ভার্সন আর অন্তত ৩ জিবি RAM থাকতে হবে। এটা দিয়ে পেছনের কোনো অপ্রয়োজনীয় জিনিস এক টানে মোছা যায়।
এক চাপে ব্যাকগ্রাউন্ড সরানোর অনেক অ্যাপ আছে। কাজে দেয়, কিন্তু ফ্রি ভার্সনে অনেক সময় ওয়াটারমার্ক থাকে বা ছবি ছোট হয়ে যায়, তাই সেভ করার আগে একবার দেখে নিন। আর জামার সুতা, মধুর স্বচ্ছ বয়াম বা চকচকে কিনারা এসব অ্যাপ অনেক সময় ভুলভাবে কাটে। ঘরে সাদা কাগজে ঠিকমতো তুললে এই অ্যাপের দরকারই পড়ে না।
একটা প্রোডাক্টের সব ছবিতে একই এডিট রাখুন, আর সব ছবি একই মাপে কাটুন, যেমন সবগুলো চৌকো। তাহলে প্রোডাক্ট পেজে ছবিগুলো পাশাপাশি সাজানো দেখায়। ফেসবুক অ্যাডের ছবির জন্য Meta-র অ্যাড গাইডে ২০২৬ সালের অক্টোবরে Facebook Feed-এ ৪:৫ মাপ (১৪৪০ x ১৮০০ পিক্সেল) রেকমেন্ড করা আছে। তাই তোলার সময় প্রোডাক্টের চারপাশে একটু ফাঁকা রাখুন, যেন একই ছবি থেকে চৌকো আর লম্বা দুটোই কাটা যায়।
প্রোডাক্ট পেজ আর ল্যান্ডিং পেজে কোন কোন ছবি লাগে
একটা ছবিতে সব প্রশ্নের উত্তর হয় না। ইনবক্সে কাস্টমার যা যা জিজ্ঞেস করেন, তার প্রতিটার জন্য একটা ছবি থাকলে প্রশ্ন কম আসে, আর কাস্টমার তাড়াতাড়ি অর্ডারের সিদ্ধান্ত নেন। সাধারণত ৫ থেকে ৭টা ছবিতে কাজ হয়ে যায়, এই ক্রমে।
- প্রথম ছবি, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে পুরো প্রোডাক্ট সামনে থেকে। এটাই প্রোডাক্ট লিস্টে আর শেয়ার করলে দেখা যায়, তাই সবচেয়ে পরিষ্কারটা এখানে দিন।
- আরও দুই-তিন দিক থেকে। পাশ, পেছন, আর ভেতর যদি দেখার মতো কিছু থাকে।
- ক্লোজআপ। কাপড়ের বুনন, কসমেটিকসের লেবেল, গ্যাজেটের পোর্ট, মধুর ঘনত্ব।
- হাতে ধরা বা গায়ে পরা ছবি। এতে সাইজ বোঝা যায়, যেটা শুধু সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে বোঝা যায় না।
- প্যাকেটে কী কী আসবে। বক্স, বয়াম, সাথের জিনিস, ঠিক যেভাবে পার্সেলে যাবে।
- মাপের ছবি বা সাইজ চার্ট, জামা আর জুতার জন্য দরকারি।
- কাস্টমারের পাঠানো আসল ছবি, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর নাম ঢেকে।
ল্যান্ডিং পেজে নিয়মটা একটু আলাদা। সেখানে ওপরে একটা বড় ছবি বা ছোট ভিডিও থাকে, আর সেটা অ্যাডের ছবির সাথে মিলতে হয়, নাহলে কাস্টমার ভাবেন ভুল জায়গায় এসেছেন। পুরো পেজটা কীভাবে সাজাবেন, সেটা ল্যান্ডিং পেজের ৭টা জিনিস নিয়ে লেখায় ধাপে ধাপে আছে। একই জানালার পাশে বসে ফোনে ২০ সেকেন্ডের একটা ভিডিও তুলে রাখলে সেটাও সেখানে কাজে লাগবে।
যে ভুলগুলো দেখলে কাস্টমার ছবি বিশ্বাস করেন না
কাস্টমার আপনাকে চেনেন না, প্রোডাক্টও হাতে ধরে দেখতে পারেন না। তাঁর কাছে ছবিটাই দোকান। নিচের ভুলগুলো ছবি দেখার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সন্দেহ জাগায়।
| ভুল | কাস্টমার মনে মনে কী ভাবেন | কী করবেন |
|---|---|---|
| অন্য পেজ বা বিদেশি সাইটের ছবি | "দশটা পেজে একই ছবি, আসল জিনিস কি এদের কাছে আছে?" | অন্তত একটা নিজের হাতে তোলা ছবি দিন |
| ফিল্টারে রং বদলানো | হাতে পেয়ে "ছবির সাথে মেলে না" | ফিল্টার বন্ধ, White Balance দিয়ে সাদা কাগজ মেলান |
| বিছানার চাদর বা এলোমেলো ঘর পেছনে | "ঘরে বসে কোনোরকমে চালায়" | সাদা কাগজের সুইপ |
| ঝাপসা বা অন্ধকার ছবি | "কিছু লুকাচ্ছে" | লেন্স মুছুন, জানালার আলো, ফোকাস লক |
| প্রোডাক্টের ওপর বড় লোগো বা লেখা | প্রোডাক্টই ঠিকমতো দেখা যায় না | লোগো ছোট করে কোণে দিন |
| সাইজ বোঝার কোনো ছবি নেই | "ছোট না বড়, কে জানে" | হাতে ধরা বা গায়ে পরা একটা ছবি |
অন্য পেজের ছবি নেওয়ার আরেকটা ঝুঁকি আছে। যাঁর ছবি, তিনি Facebook-এ কপিরাইট রিপোর্ট করতে পারেন, আর তাতে আপনার পোস্ট সরে যেতে পারে। অনেক সময় কাস্টমার কমেন্টেই লিখে দেন "এটা তো অমুক পেজের ছবি", আর সেই কমেন্ট বাকিরাও পড়েন।
একটা ভুলের দাম, টাকায়
ধরুন আপনি মাসে ১৫০টা থ্রি-পিস পাঠান। ফোনের ফিল্টারে মেরুন রং টকটকে লাল দেখাচ্ছে, আর মাসে ৮ জন কাস্টমার "রং মেলেনি" বলে পার্সেল ফেরত দিলেন। ফেক অর্ডার আর রিটার্ন নিয়ে আমাদের লেখায় হিসাব করা আছে, একটা ফেরত পার্সেলে সাধারণত ২০০ থেকে ৩০০ টাকা নগদ যায়। তাহলে ৮টা ফেরতে মাসে ১,৬০০ থেকে ২,৪০০ টাকা।
এর সাথে যোগ করুন ওই ৮টা অর্ডার আনতে অ্যাডে যা গেছে। ধরুন প্রতিটায় ১৫০ টাকা, তাহলে আরও ১,২০০ টাকা। সব মিলিয়ে মাসে ২,৮০০ থেকে ৩,৬০০ টাকা যাচ্ছে শুধু একটা ফিল্টারের কারণে, খারাপ কমেন্টের ক্ষতি বাদেই। অথচ ঠিক করতে লাগে এক বিকেল, জানালার পাশে বসে ছবিগুলো আবার তোলা।
কখন নিজে না তুলে ফটোগ্রাফার ডাকবেন
সব সময় নিজে তোলাই ঠিক, এমন না। কিছু ক্ষেত্রে একজন প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফারের টাকা আসলেই উঠে আসে।
রুপা, সোনার প্রলেপ বা পাথরের গয়না আর চকচকে ঘড়ি ঘরে তোলা কঠিন, কারণ এগুলোর গায়ে আয়নার মতো চারপাশের সব কিছু দেখা যায়, ঘর, জানালা, এমনকি আপনার ফোনও। একসাথে ১০০টার বেশি প্রোডাক্ট নিয়ে নতুন স্টোর চালু করলে বা নিজের ব্র্যান্ডের কাপড়ের জন্য মডেল নিয়ে আউটডোর শুট লাগলে পেশাদার শুট সময় বাঁচায়। বড় ফার্নিচার তোলার মতো জায়গা আর আলো সাধারণত ঘরে থাকে না, তাই সেখানেও ফটোগ্রাফার ডাকাই ভালো।
কিন্তু ফটোগ্রাফারের ছবি এলেও প্রতিদিনের পোস্ট, স্টক আপডেট আর নতুন রঙের ছবি ফোনে তোলাই চলবে। আর সাপ্লায়ারের ছবি দিয়ে কোনো প্রোডাক্ট এক-দুই সপ্তাহ টেস্ট করছেন, সেটাও ঠিক আছে, যদি অনুমতি থাকে। অর্ডার আসা শুরু হলে নিজের ছবি তুলে নিন, কারণ তখন ফেরতের হিসাবটা আপনার ঘাড়ে।
আজ বিকেলে প্রথম সেশনটা কীভাবে করবেন
আজ এমন একটা প্রোডাক্ট বেছে নিন যেটা সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়, বা যেটা নিয়ে ইনবক্সে প্রশ্ন সবচেয়ে বেশি আসে। জানালার পাশে সাদা কাগজের সুইপ বানান, ঘরের লাইট বন্ধ করুন, লেন্স মুছুন, গ্রিড লাইন চালু করুন। তারপর ওপরের লিস্ট ধরে ৫ থেকে ৭টা ছবি তুলুন, Snapseed-এ শুধু ক্রপ, উজ্জ্বলতা আর White Balance ঠিক করুন।
পুরনো ছবি আর নতুন ছবি পাশাপাশি রেখে দেখুন। পার্থক্যটা নিজের চোখে দেখলে বাকি প্রোডাক্টগুলোর ছবি তোলার ইচ্ছা নিজেই আসবে। আর এক সপ্তাহ পরে খেয়াল করুন ইনবক্সে "রিয়েল ছবি দেন" ধরনের প্রশ্ন কমেছে কি না।
নতুন ছবিগুলো দিয়ে নিজের একটা স্টোর সাজাতে চাইলে WinningSeller-এ থিম আর প্রোডাক্ট পেজের ডিজাইন নিজের মতো চেঞ্জ করা যায়। প্রোডাক্টের ভিডিও থাকলে সেটা YouTube থেকে পেজে বসানো যায়। আর একটা প্রোডাক্টের জন্য AI দিয়ে ৫ মিনিটে ল্যান্ডিং পেজ বানিয়ে তাতে নিজের তোলা ছবিগুলো দেওয়া যায়। কী কী আছে, সব ফিচারের লিস্টে দেখে নিতে পারেন।
সাধারণ প্রশ্ন
মোবাইল দিয়ে কি সত্যিই প্রোডাক্টের ভালো ছবি তোলা যায়?
হ্যাঁ, অনলাইন দোকানের জন্য যেকোনো চলনসই Android ফোনই যথেষ্ট। ছবি ভালো হবে কি না সেটা বেশিরভাগ নির্ভর করে আলো, ব্যাকগ্রাউন্ড আর ফোন স্থির রাখার ওপর। দামি ফোনে অন্ধকার ঘরে তোলা ছবির চেয়ে সাধারণ ফোনে জানালার আলোয় তোলা ছবি বেশি পরিষ্কার আসে।
প্রোডাক্টের ছবি তোলার জন্য দিনের কোন সময়টা ভালো?
যে সময়ে জানালা দিয়ে সরাসরি রোদ ঢোকে না কিন্তু ঘরে ভালো আলো থাকে, সেটাই সবচেয়ে ভালো। আপনার জানালা কোন দিকে তার ওপর নির্ভর করে এটা সকাল বা বিকেল হতে পারে। মেঘলা দিনের আলো নরম হয়, ছায়া কম পড়ে, তাই প্রোডাক্টের ছবির জন্য মেঘলা দিন আসলে ভালো।
সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়া কি ছবি তোলা যাবে?
যাবে, তবে প্রথম ছবিটা সাদা বা হালকা একরঙা ব্যাকগ্রাউন্ডে রাখাই ভালো, কারণ তাতে প্রোডাক্টের আসল রং বোঝা যায়। বাকি ছবিগুলোতে কাঠের টেবিল, রান্নাঘর বা গায়ে পরা অবস্থা দেখাতে পারেন। শুধু খেয়াল রাখবেন পেছনে যেন বিছানার চাদর, এলোমেলো জিনিস বা রঙিন দেয়াল না থাকে।
প্রোডাক্টের ছবি এডিট করার ভালো ফ্রি অ্যাপ কোনটা?
Google-এর Snapseed ফ্রি, আর তাতে Crop, Perspective, White Balance, Healing-এর মতো দরকারি সব টুল আছে। ফোনে থাকা Google Photos দিয়েও উজ্জ্বলতা ঠিক করা আর Magic Eraser দিয়ে পেছনের ছোট দাগ মোছা যায়। শুরুতে এই দুটোই যথেষ্ট।
সাপ্লায়ার বা অন্য পেজের ছবি দিয়ে কি বিক্রি করা যায়?
অন্য পেজের ছবি না বলে নেওয়া ঠিক না, যাঁর ছবি তিনি Facebook-এ কপিরাইট রিপোর্ট করতে পারেন। সাপ্লায়ার অনুমতি দিলে তাঁর ছবি দিয়ে শুরু করা যায়, কিন্তু সাথে অন্তত একটা নিজের হাতে তোলা আসল ছবি দিন। কাস্টমার ওই ছবিটা দেখেই বোঝেন জিনিসটা আপনার কাছে সত্যিই আছে।
ফেসবুক অ্যাডের জন্য ছবি কোন মাপে দেব?
২০২৬ সালের অক্টোবরে Meta-র অ্যাড গাইডে Facebook Feed-এর ছবির অ্যাডের জন্য ৪:৫ মাপ, মানে ১৪৪০ x ১৮০০ পিক্সেল, রেকমেন্ড করা আছে। তাই ছবি তোলার সময় প্রোডাক্টের চারপাশে একটু ফাঁকা জায়গা রাখুন, যেন পরে চৌকো আর লম্বা দুই মাপেই কাটা যায়।
আরও পড়ুন
ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ
ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।
গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে
গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।
বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে
ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।


