ই-কমার্স ওয়েবসাইট বানাতে কত টাকা লাগে? ডেভেলপার বনাম প্ল্যাটফর্ম
ডেভেলপার দিয়ে বানালে ২৫ হাজার থেকে দেড় লাখ, নিজে WordPress-এ ৮ থেকে ২০ হাজার, প্ল্যাটফর্মে মাসে ৯৯৯ টাকা। প্রতিটা খাতের খরচ আর লুকানো খরচ, টেবিলসহ।

এই লেখায় যা আছে
- ই-কমার্স ওয়েবসাইট বানাতে আসলে কী কী লাগে
- রাস্তা ১: ডেভেলপার দিয়ে বানানো
- রাস্তা ২: নিজে WordPress আর WooCommerce-এ বানানো
- রাস্তা ৩: প্ল্যাটফর্মে (SaaS) বানানো
- তিন রাস্তা পাশাপাশি
- "ফ্রি ই-কমার্স ওয়েবসাইট" আসলে কতটা ফ্রি
- যে খরচগুলো ওয়েবসাইটের না, কিন্তু ব্যবসার
- একটা উদাহরণ: কুমিল্লার রাকিবের দুই হিসাব
- কোন রাস্তা কার জন্য
- শেষ কথা
"ভাই, একটা ই-কমার্স ওয়েবসাইট বানাতে কত নেবেন?" এই প্রশ্নের উত্তরে একজন বলেন ১৫ হাজার, আরেকজন ১ লাখ ২০ হাজার, আর ফেসবুকের অ্যাডে লেখা "ফ্রি ওয়েবসাইট"। তিনটাই সত্যি, কারণ তিনজন তিন জিনিস বেচছেন।
সোজা উত্তর, ২০২৬ সালের বাজারে: ডেভেলপার দিয়ে বানালে সাধারণত ২৫ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা এককালীন, সাথে বছরে ৫ থেকে ১৫ হাজার হোস্টিং-ডোমেইন-মেইনটেন্যান্স। নিজে WordPress আর WooCommerce-এ বানালে প্রথম বছরে ৮ থেকে ২০ হাজার, আর আপনার কয়েক সপ্তাহ। প্ল্যাটফর্মে (যেমন WinningSeller) প্ল্যান মাসে ৯৯৯ টাকা থেকে (প্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম), ডোমেইন ছাড়া আর কোনো খরচ নেই। নিচে প্রতিটা খাতের খরচ, লুকানো খরচ, আর কোন রাস্তা কার জন্য।
এই লেখায় যা পাবেন
- ই-কমার্স ওয়েবসাইটের খরচ আসলে কয়টা খাতে ভাগ হয়
- ডেভেলপার দিয়ে বানানোর আসল দাম, যেটা কোটেশনে লেখা থাকে না
- কোটেশন নেওয়ার আগে ডেভেলপারকে যে ৮টা প্রশ্ন করবেন
- নিজে WordPress-এ বানালে টাকায় আর সময়ে কত যায়
- প্ল্যাটফর্মের মাসিক ফি-তে কী কী থাকে আর কী থাকে না
- তিন রাস্তার পাশাপাশি তুলনা, এক টেবিলে
- "ফ্রি ওয়েবসাইট" আসলে কতটা ফ্রি
- একজন বিক্রেতার দুই রকম হিসাব, প্রথম বছরের

ই-কমার্স ওয়েবসাইট বানাতে আসলে কী কী লাগে
ওয়েবসাইট একটা জিনিস না, সাত-আটটা জিনিসের যোগফল। কোটেশন তুলনা করার আগে খাতগুলো চিনে নিন।
| খাত | কী জিনিস | সাধারণ খরচ (২০২৬) |
|---|---|---|
| ডোমেইন | আপনার ঠিকানা, যেমন sumaiyafashion.com | .com বছরে ৳১,২০০–১,৮০০; .com.bd বছরে ৳৮০০–১,৫০০ |
| হোস্টিং | যে কম্পিউটারে সাইটটা থাকে | শেয়ারড বছরে ৳২,৫০০–৬,০০০; VPS মাসে ৳১,০০০–৩,০০০ |
| ডিজাইন আর বানানো | পেজগুলো, প্রোডাক্ট পেজ, কার্ট, চেকআউট | এখানেই বড় পার্থক্য, নিচে |
| SSL | ঠিকানার পাশে তালা চিহ্ন, ছাড়া Chrome সতর্ক করে | ফ্রি (Let's Encrypt) থেকে বছরে ৳৩,০০০ |
| কুরিয়ার ইন্টিগ্রেশন | অর্ডার থেকে এক ক্লিকে Steadfast/Pathao/RedX-এ পাঠানো | ডেভেলপারে আলাদা ৳৫,০০০–২০,০০০, বা থাকে না |
| ফেসবুক পিক্সেল আর Conversions API | অ্যাড কোন অর্ডার আনলো তা ফেসবুককে জানানো | পিক্সেল সহজ; Conversions API আলাদা কাজ |
| ল্যান্ডিং পেজ | প্রতিটা প্রোডাক্টের আলাদা অ্যাডের পেজ | ফ্রিল্যান্সারে পেজপ্রতি ৳২,০০০–৫,০০০ |
| মেইনটেন্যান্স | আপডেট, ব্যাকআপ, ভাঙলে ঠিক করা | মাসে ৳২,০০০–৫,০০০ বা "ফোন ধরেন না" |
| আপনার সময় | শেখা, বসানো, ঠিক করা | সবচেয়ে কম গোনা খরচ |
এই খাতগুলো মাথায় রেখে তিনটা রাস্তা দেখা যাক।
রাস্তা ১: ডেভেলপার দিয়ে বানানো
ঢাকায় বা অনলাইনে একজন ফ্রিল্যান্সার বা ছোট এজেন্সি খুঁজে সাইট বানানো। কোটেশন সাধারণত এরকম:
| কী বানাবেন | এককালীন (সাধারণত) | কী পাবেন |
|---|---|---|
| WordPress + WooCommerce, রেডিমেড থিমে | ৳১৫,০০০–৪০,০০০ | চালু সাইট, প্রোডাক্ট আপলোড, বিকাশ/COD চেকআউট |
| WordPress, কাস্টম ডিজাইন | ৳৪০,০০০–৮০,০০০ | আপনার মতো করে ডিজাইন, একটু দ্রুত |
| কাস্টম কোড (Laravel/React) | ৳৮০,০০০–৩,০০,০০০+ | যা চান তা-ই, কিন্তু ডেভেলপার ছাড়া কিছু বদলানো যায় না |
কোটেশনে যা লেখা থাকে না, সেটাই আসল খরচ:
- প্রতিটা বদল টাকা। ডেলিভারি চার্জ ৭০ থেকে ৮০ করবেন? "ভাই ৫০০ টাকা দেন।" নতুন ল্যান্ডিং পেজ? ৩,০০০। ঈদের ব্যানার? ১,০০০। বছরে এগুলো মিলে ১০–২০ হাজার হয়ে যায়।
- হোস্টিং আর ডোমেইন ডেভেলপারের নামে। দ্বিতীয় বছরে নবায়নের সময় বুঝবেন সাইটটা আসলে কার। শুরুতেই নিজের নামে, নিজের ইমেইলে কিনুন।
- কুরিয়ার ইন্টিগ্রেশন আলাদা। বেশিরভাগ কোটেশনে অর্ডার আসবে, কিন্তু Steadfast-এ পাঠাতে হবে কপি-পেস্ট করে। API দিয়ে জুড়তে আলাদা ৫ থেকে ২০ হাজার, আর কুরিয়ার API বদলালে আবার।
- ভুয়া অর্ডার চেক, হিসাব, রিপিট সেল: নেই। এগুলো "অ্যাডভান্সড ফিচার", আলাদা প্রজেক্ট।
- সিকিউরিটি আপডেট। WordPress আর প্লাগইনে মাসে কয়েকবার আপডেট আসে। না করলে সাইট হ্যাক হয়ে জুয়ার লিংক বসে যায়; এটা বাংলাদেশে খুব সাধারণ ঘটনা। করলে মাঝে মাঝে কিছু ভাঙে।
- ডেভেলপার হারিয়ে যান। সবচেয়ে বেশি শোনা অভিযোগ। ছয় মাস পর নতুন কাউকে দিয়ে অন্যের কোড ঠিক করানো আরও দামি।
কোটেশনের অঙ্কটা ওয়েবসাইটের দাম না, ওয়েবসাইটের ডাউন পেমেন্ট।
ডেভেলপার দিয়ে বানানো খারাপ না। যাঁর এমন কিছু দরকার যা কোনো প্ল্যাটফর্মে নেই, যেমন নিজস্ব হোলসেল সিস্টেম বা ফ্যাক্টরির সাথে জোড়া, তাঁর জন্য এটাই রাস্তা। কিন্তু ফেসবুক পেজ থেকে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে প্রোডাক্ট বেচার দোকানের জন্য এটা দামি রাস্তা, আর দাম বছরে বছরে বাড়ে।
কোটেশন নেওয়ার আগে ডেভেলপারকে ৮টা প্রশ্ন
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর লিখিত নিন, WhatsApp-এ হলেও। যিনি সোজা উত্তর দেন না, তাঁর কোটেশন যত কমই হোক, নেবেন না।
- ডোমেইন আর হোস্টিং কার নামে, কার ইমেইলে কেনা হবে? (উত্তর: আপনার।)
- কোডের মালিক কে, আর কাজ শেষে আমাকে সব পাসওয়ার্ড দেবেন?
- Steadfast, Pathao আর RedX-এ অর্ডার থেকে এক ক্লিকে পাঠানো যাবে, নাকি কপি-পেস্ট?
- নতুন অর্ডারে ক্রেতার নম্বরের কুরিয়ার রেকর্ড দেখা যাবে?
- Facebook Pixel-এর সাথে Conversions API থাকবে?
- মোবাইল ডেটায় প্রোডাক্ট পেজ কত সেকেন্ডে খোলে? (৩-এর বেশি হলে অ্যাডের টাকা নষ্ট।)
- ছোট বদল, যেমন ডেলিভারি চার্জ বা ব্যানার, নিজে করতে পারবো, নাকি প্রতিবার আপনাকে ফোন?
- মাসিক মেইনটেন্যান্সে কী কী আছে, আর আপডেটে কিছু ভাঙলে কত দিনে ঠিক হবে?
রাস্তা ২: নিজে WordPress আর WooCommerce-এ বানানো
YouTube দেখে নিজে বানানো। টাকা কম, সময় বেশি।
| খাত | প্রথম বছর | পরের বছর থেকে |
|---|---|---|
| ডোমেইন .com | ৳১,৫০০ | ৳১,৫০০ |
| শেয়ারড হোস্টিং (দেশি বা বিদেশি) | ৳৩,০০০–৬,০০০ | একই, প্রায়ই প্রথম বছরের অফারের পর দ্বিগুণ |
| থিম (Astra/Flatsome-এর মতো) | ফ্রি থেকে ৳৭,০০০ | কিছু থিমে বছরে নবায়ন |
| প্লাগইন (পেজ বিল্ডার, কুরিয়ার, SMS) | ৳০–৬,০০০ | নবায়ন |
| মোট | ৳৮,০০০–২০,০০০ | ৳৫,০০০–১৫,০০০ |
টাকার হিসাবটা ভালো দেখালেও তিনটা জিনিস ধরুন।
সময়। একদম নতুন কারও প্রথম সাইট দাঁড় করাতে ২ থেকে ৪ সপ্তাহের সন্ধ্যা যায়। সেই সময়ে আপনি প্রোডাক্ট বেচছেন না, YouTube দেখছেন।
গতি। শেয়ারড হোস্টিংয়ে ১৫–২০টা প্লাগইনসহ WooCommerce সাইট মোবাইল ডেটায় খুলতে ৫–৮ সেকেন্ড লাগে। ফেসবুক অ্যাড থেকে আসা কাস্টমার ৩ সেকেন্ডে চলে যান। ধীর সাইটে অ্যাডের টাকা নষ্ট হয়, আর এটা আপনি টের পান না, শুধু দেখেন অর্ডার কম।
কুরিয়ার আর ফ্রড চেক। Steadfast বা Pathao-র WooCommerce প্লাগইন আছে, কিন্তু প্রতিটা আলাদা, আলাদা সেটিংস, আর মাঝে মাঝে কাজ বন্ধ। ক্রেতার নম্বর দিয়ে আগের পার্সেলের রেকর্ড দেখার ব্যবস্থা নিজে জোড়া লাগাতে হবে।
যিনি টেকনিক্যাল জিনিস শিখতে ভালোবাসেন আর প্রথম মাসে বিক্রি নিয়ে তাড়া নেই, তাঁর জন্য ভালো রাস্তা। যিনি দোকান চালাতে চান, তাঁর জন্য না।
রাস্তা ৩: প্ল্যাটফর্মে (SaaS) বানানো
প্ল্যাটফর্ম মানে এমন একটা সার্ভিস যেখানে অ্যাকাউন্ট খুললেই স্টোর তৈরি, আর সফটওয়্যার, হোস্টিং, আপডেট, কুরিয়ার, সব তাদের দায়িত্বে। আপনি মাসিক বা বাৎসরিক ফি দেন। বাংলাদেশে এখন কয়েকটা আছে; WinningSeller-এর দাম এরকম:
| প্ল্যান | মাসে | বছরে | কী আছে |
|---|---|---|---|
| স্টার্টার | ৳৯৯৯ | ৳৯,৯৯০ | ১০০ প্রোডাক্ট, মাসে ৩০০ অর্ডার, আপনি ছাড়া ২ জন স্টাফ, ৩টা ল্যান্ডিং পেজ, Steadfast/Pathao/RedX, পিক্সেল ও Conversions API, হিসাব-নিকাশ |
| গ্রোথ | ৳২,৪৯৯ | ৳২৪,৯৯০ | ১,০০০ প্রোডাক্ট, মাসে ১,৫০০ অর্ডার, ৫ জন স্টাফ, ২০টা ল্যান্ডিং পেজ, নিজের ডোমেইন |
| প্রো | ৳৫,৯৯৯ | ৳৫৯,৯৯০ | যত খুশি প্রোডাক্ট, অর্ডার আর ল্যান্ডিং পেজ, ১৫ জন স্টাফ |
| লাইফটাইম | একবারে ৳৯,৯৯৯ / ৳১৯,৯৯৯ / ৳৩৯,৯৯৯ | – | একবার পেমেন্ট, মাসে ৬০০ / ১,৫০০ / ৩,০০০ অর্ডার, নিজের ডোমেইন, সামনের আপডেট |
কার্ড লাগে না, প্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম। লাইফটাইম প্যাকেজে ৭ দিনের মানি-ব্যাক। পেমেন্ট বিকাশ, নগদ, রকেট বা ব্যাংকে; নিজে থেকে টাকা কাটা হয় না। পুরো তালিকা দামের পাতায়।

মাসিক ফি-তে কী কী ঢুকে আছে, সেটাই আসল তুলনা:
- হোস্টিং, SSL, ব্যাকআপ, আপডেট: আলাদা কিছু কিনতে হয় না
- ৭টা রেডিমেড ডিজাইন, এক ক্লিকে বদল; ছবি নিজে থেকে WebP-তে ছোট হয়, তাই কম নেটেও পেজ খোলে
- ক্যাশ অন ডেলিভারি চেকআউট আর প্রোডাক্ট পেজেই দ্রুত অর্ডার ফর্ম
- ২৪টা সেকশনের ল্যান্ডিং পেজ বিল্ডার, পেজের ভেতরেই অর্ডার ফর্ম
- Steadfast, Pathao, RedX: আপনার নিজের মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টে এক ক্লিকে বুকিং, স্ট্যাটাস নিজে থেকে আপডেট
- নতুন অর্ডারে ক্রেতার কুরিয়ার রেকর্ড (আপনার Steadfast বা Pathao অ্যাকাউন্ট দিয়ে, বাড়তি খরচ ছাড়া)
- পিক্সেল আর Conversions API, দুটোই
- হিসাব-নিকাশ: ডেলিভারি হওয়া অর্ডারের লাভ, ফেরতের চার্জ খরচে, ক্যাম্পেইন ধরে ROAS
- রিপিট সেল: কাকে আজ ফোন দিলে বিক্রি হবে
যা নেই, সেটাও বলা দরকার: স্টার্টার প্ল্যানে নিজের ডোমেইন নেই (সাবডোমেইনে চলে), সেটা গ্রোথ থেকে। আর নিজের কোড লিখে একদম আলাদা কিছু বানানো যায় না; যা আছে তা-ই সাজিয়ে নিতে হয়।
প্ল্যাটফর্ম বাছার সময় যা দেখবেন
সব প্ল্যাটফর্ম এক না। টাকা দেওয়ার আগে এই পাঁচটা নিজে পরীক্ষা করুন:
- মোবাইল ডেটায় প্রোডাক্ট পেজ কত সেকেন্ডে খোলে। নিজের ফোনে, Wi-Fi বন্ধ করে।
- কুরিয়ারে পাঠানো সত্যিই এক ক্লিকে কি না, নাকি "ইন্টিগ্রেশন আছে" মানে CSV ডাউনলোড।
- ক্রেতার কুরিয়ার রেকর্ড অর্ডারের পাশে দেখায় কি না, নাকি আলাদা পাতায় গিয়ে খুঁজতে হয়।
- ডেটা নিজের কাছে নেওয়া যায় কি না। অর্ডার আর কাস্টমারের তালিকা এক্সপোর্ট করা না গেলে আপনি আটকা।
- দাম বাড়লে কী হয়। লেখা দাম, লুকানো কমিশন নেই, আর বছরে একবারে নিলে ছাড়।
তিন রাস্তা পাশাপাশি
| বিষয় | ডেভেলপার | নিজে WordPress | প্ল্যাটফর্ম (WinningSeller স্টার্টার) |
|---|---|---|---|
| প্রথম বছরের খরচ | ৳৩০,০০০–১,৫০,০০০+ | ৳৮,০০০–২০,০০০ | ৳৯,৯৯০ (বছরে একবারে) + ডোমেইন নিলে ৳১,৫০০ |
| দ্বিতীয় বছর থেকে | ৳৫,০০০–১৫,০০০ + প্রতিটা বদলের ফি | ৳৫,০০০–১৫,০০০ | ৳৯,৯৯০ |
| চালু হতে | ২–৮ সপ্তাহ | ২–৪ সপ্তাহ (আপনার সন্ধ্যা) | এক সন্ধ্যা |
| কুরিয়ার এক ক্লিকে | আলাদা টাকা, বা নেই | প্লাগইন, নিজে বসাতে হয় | আছে, তিনটাই |
| ক্রেতার কুরিয়ার রেকর্ড (ফ্রড চেক) | সাধারণত নেই | নিজে জুড়তে হয় | আছে |
| ল্যান্ডিং পেজ | পেজপ্রতি ৳২,০০০–৫,০০০ | পেজ বিল্ডার প্লাগইনে নিজে | ৩টা (গ্রোথে ২০, প্রোতে যত খুশি) |
| পিক্সেল + Conversions API | পিক্সেল হ্যাঁ, CAPI আলাদা | প্লাগইন | আছে |
| লাভ-ক্ষতির হিসাব | নেই | নেই | আছে |
| ভাঙলে কে ঠিক করে | ডেভেলপার, ফোন ধরলে | আপনি | প্ল্যাটফর্ম |
| নিজের ডোমেইন | হ্যাঁ | হ্যাঁ | গ্রোথ থেকে |
| যা খুশি কাস্টম | হ্যাঁ | অনেকটা | না |
"ফ্রি ই-কমার্স ওয়েবসাইট" আসলে কতটা ফ্রি
গুগলে "ই কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি ফ্রি" লিখলে অনেক কিছু আসে। ফ্রি সাধারণত তিন রকম:
- ফ্রি ট্রায়াল। কয়েক দিন ফ্রি, তারপর ফি। এটা ঠিক আছে, যতক্ষণ ফি-টা আগে থেকে লেখা আছে।
- ফ্রি, কিন্তু তাদের সাবডোমেইন আর ব্র্যান্ডিংয়ে, সীমিত প্রোডাক্টে। শেখার জন্য ভালো; ব্যবসা দাঁড়ালে পেইড প্ল্যানে যেতে হয়।
- ফ্রি, কিন্তু প্রতি অর্ডারে কমিশন। মাসে ৩০০ অর্ডারে ২% কমিশন মানে ৩ লাখ টাকার বিক্রিতে ৬,০০০ টাকা, স্টার্টার প্ল্যানের ছয় গুণ।
WinningSeller-এ প্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম। প্রতিটা প্ল্যানের দাম দামের পাতায় আগে থেকেই লেখা।
যে খরচগুলো ওয়েবসাইটের না, কিন্তু ব্যবসার
ওয়েবসাইটের দাম নিয়ে যত চিন্তা, ব্যবসার আসল খরচ অন্য জায়গায়। মাসে ২০০ অর্ডারের একটা দোকানে সাধারণত:
- ফেসবুক অ্যাড: ৳২০,০০০–৪০,০০০
- ফেরত আসা পার্সেলের কুরিয়ার চার্জ: ২০% ফেরতে ৳৪,০০০–৫,০০০
- প্যাকেজিং: ৳৩,০০০
- ওয়েবসাইট: ৳৯৯৯
ওয়েবসাইট এই তালিকার সবচেয়ে ছোট অঙ্ক। তাই প্রশ্নটা "সবচেয়ে সস্তা ওয়েবসাইট কোনটা" না, বরং "কোন ওয়েবসাইটে ফেরত কমে আর অ্যাডের টাকা কম নষ্ট হয়"। যে স্টোরে ক্রেতার কুরিয়ার রেকর্ড দেখা যায়, পেজ দ্রুত খোলে, আর পিক্সেল ঠিকমতো কাজ করে, সেটা মাসে ৯৯৯ টাকার বদলে ১০–১৫ হাজার টাকা বাঁচায়। ফেরত কমানোর পুরো পদ্ধতি এই লেখায়।
সস্তা ওয়েবসাইট আর সস্তায় চলা ওয়েবসাইট এক জিনিস না; ফারাকটা দেখা যায় ফেরতের খাতায়।
একটা উদাহরণ: কুমিল্লার রাকিবের দুই হিসাব
ধরা যাক কুমিল্লার রাকিব মোবাইল অ্যাক্সেসরিজ বেচেন, ফেসবুক পেজে মাসে ১৫০ অর্ডার। ওয়েবসাইট বানাতে চান। দুটো কোটেশন পেলেন।
হিসাব ১, ডেভেলপার: WordPress সাইট ৩৫,০০০ টাকা, হোস্টিং-ডোমেইন বছরে ৬,০০০, কুরিয়ার প্লাগইন বসানো ৮,০০০। চালু হলো ৫ সপ্তাহ পর। প্রথম তিন মাসে চারটা ল্যান্ডিং পেজ (১২,০০০) আর গোটা দশেক ছোট বদল (৫,০০০)। প্রথম বছর: প্রায় ৬৬,০০০ টাকা। ক্রেতার কুরিয়ার রেকর্ড দেখার ব্যবস্থা নেই, হিসাব Excel-এ।
হিসাব ২, প্ল্যাটফর্ম: WinningSeller গ্রোথ বছরে ২৪,৯৯০ (১৫০ অর্ডার স্টার্টারেই চলত, কিন্তু নিজের ডোমেইন আর ২০টা ল্যান্ডিং পেজ চাইলেন), ডোমেইন ১,৫০০। চালু হলো সেই রাতেই। ল্যান্ডিং পেজ নিজে বানান ২০ মিনিটে, বদল নিজেই। প্রথম বছর: ২৬,৪৯০ টাকা। সাথে ফ্রড চেক, হিসাব, রিপিট সেল।

পার্থক্য ৪০ হাজার টাকা, আর পাঁচ সপ্তাহ। সেই ৪০ হাজার অ্যাডে গেলে, ২০০ টাকায় একটা অর্ডার ধরলে, ২০০টা বাড়তি অর্ডার।
কাস্টম সাইট দরকার হলে হিসাবটা অন্য রকম হতো। কিন্তু ফেসবুক থেকে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে বেচা দোকানের দরকার একই জিনিস: দ্রুত পেজ, অর্ডার ফর্ম, কুরিয়ার, ফ্রড চেক, পিক্সেল, হিসাব। সেটা বানিয়ে রাখা আছে।
কোন রাস্তা কার জন্য
- একদম নতুন, প্রথম ১০০ অর্ডার এখনো হয়নি: প্ল্যাটফর্ম (প্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম)। ওয়েবসাইটে এক টাকাও এককালীন খরচ না।
- পেজে মাসে ১০০–১,০০০ অর্ডার, একা বা ছোট টিম: প্ল্যাটফর্ম, বছরে একবারে নিলে দুই মাস ফ্রি পড়ে। সময়টা অ্যাড আর প্রোডাক্টে দিন।
- টেকনিক্যাল শিখতে ভালো লাগে, তাড়া নেই: নিজে WordPress। শেখা হবে, খরচ কম।
- ব্যবসার ধরনই আলাদা (হোলসেল, সাবস্ক্রিপশন, ফ্যাক্টরির সাথে জোড়া): ডেভেলপার, কিন্তু ডোমেইন-হোস্টিং নিজের নামে আর কোডের মালিকানা লিখিত চুক্তিতে।
সাধারণ প্রশ্ন
ই-কমার্স ওয়েবসাইট বানাতে সবচেয়ে কম কত টাকা লাগে?
প্ল্যাটফর্মে বানালে প্ল্যান মাসে ৯৯৯ টাকা থেকে (প্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম)। নিজের ডোমেইন নিলে বছরে আরও ১,২০০ থেকে ১,৮০০ টাকা। ডেভেলপার দিয়ে বানালে সাধারণত ২৫ হাজার টাকার নিচে ভালো কিছু হয় না।
ডেভেলপার দিয়ে ওয়েবসাইট বানালে পরে আর খরচ নেই?
আছে। হোস্টিং আর ডোমেইন প্রতি বছর, কিছু বদলাতে চাইলে প্রতিবার ডেভেলপারের ফি, আর সিকিউরিটি আপডেট না করলে সাইট হ্যাক হওয়ার ঝুঁকি। অনেকের বড় সমস্যা: ডেভেলপার ছয় মাস পর ফোন ধরেন না।
ফ্রি ই-কমার্স ওয়েবসাইট কি সত্যিই ফ্রি?
ফ্রি মানে সাধারণত ফ্রি ট্রায়াল, অথবা ফ্রি কিন্তু তাদের ব্র্যান্ডিং আর সাবডোমেইনে, অথবা ফ্রি কিন্তু প্রতি অর্ডারে কমিশন। মাসিক ফি দেওয়া প্ল্যানে সব হিসাব আগে থেকে জানা থাকে।
WordPress আর WooCommerce দিয়ে নিজে বানানো যায় না?
যায়, প্রথম বছরে ৮ থেকে ২০ হাজার টাকায়। কিন্তু সময় লাগে অনেক, কুরিয়ার আর ফ্রড চেকের জন্য আলাদা প্লাগইন বা ডেভেলপার লাগে, আর সাইট ভাঙলে ঠিক করার দায়িত্ব আপনার।
নিজের ডোমেইন কি জরুরি?
শুরুতে না, সাবডোমেইনেই অর্ডার আসে। ব্র্যান্ড দাঁড়াতে শুরু করলে নিজের .com নিন, বছরে ১,২০০ থেকে ১,৮০০ টাকা। WinningSeller-এ গ্রোথ প্ল্যান থেকে নিজের ডোমেইন যোগ করা যায়।
শেষ কথা
ই-কমার্স ওয়েবসাইট বানাতে কত টাকা লাগে, তার উত্তর "কোন রাস্তা" প্রশ্নের উত্তরে লুকানো। ফেসবুক পেজ থেকে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে বেচা বেশিরভাগ দোকানের জন্য ২০২৬ সালে সঠিক অঙ্কটা মাসে ৯৯৯ টাকা, এককালীন শূন্য, আর চালু হতে এক সন্ধ্যা।
আজকের কাজ: WinningSeller-এ ফ্রি অ্যাকাউন্ট খুলে নিজের তিনটা প্রোডাক্ট তুলে দেখুন স্টোরটা কেমন দাঁড়ায়। এতে এক টাকাও লাগে না; ভালো না লাগলে কিছু হারালেন না, কিন্তু ডেভেলপারকে ৩৫ হাজার দেওয়ার আগে নিজের চোখে দেখা হলো কী দরকার আর কী না। পেজ থেকে স্টোরে যাওয়ার ধাপগুলো এখানে, আর পুরো ব্যবসাটা সাজানোর গাইড এখানে।
আরও পড়ুন
খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম
বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।
থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম
থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।


