WinningSeller
অর্ডার ও কুরিয়ার১০ মিনিটে পড়া যায়

ফেক অর্ডার আর কুরিয়ার রিটার্ন কমানোর ১২টা উপায় (ফ্রি ফ্রড চেকার সহ)

একটা ফেরত পার্সেলে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা যায়। ফ্রি কুরিয়ার ফ্রড চেকার দিয়ে নম্বরের রেকর্ড দেখা থেকে কনফার্ম কলের স্ক্রিপ্ট পর্যন্ত, ফেরত কমানোর ১২টা উপায়।

ফেক অর্ডার আর কুরিয়ার রিটার্ন কমানোর ১২টা উপায় (ফ্রি ফ্রড চেকার সহ)
এই লেখায় যা আছে
  1. ফেক অর্ডার কত রকম, আর কেন আসে
  2. একটা ফেরত পার্সেলে আসলে কত যায়
  3. ফ্রি কুরিয়ার ফ্রড চেকার: নম্বর দিয়ে আগের রেকর্ড দেখুন
    1. ফ্রড চেকার কখন ভুল বলে
  4. পাঠানোর আগে: ৬টা উপায়
    1. ১. প্রতিটা অর্ডারে কনফার্ম কল, একটা স্ক্রিপ্টে
    2. ২. নম্বরের কুরিয়ার রেকর্ড, প্রতিটা অর্ডারে নিজে থেকে
    3. ৩. সন্দেহ হলে ডেলিভারি চার্জ অগ্রিম
    4. ৪. অর্ডার ফর্মে পুরো ঠিকানা, নম্বর যাচাই
    5. ৫. পুরনো ঝামেলার নম্বর ব্লক লিস্টে
    6. ৬. ছবি আর বর্ণনায় সত্যি কথা
  5. পাঠানোর পরে: ৬টা উপায়
    1. ৭. কনফার্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কুরিয়ারে
    2. ৮. পাঠানোর পর একটা মেসেজ, ট্র্যাকিং লিংকসহ
    3. ৯. এলাকা ধরে কুরিয়ার বাছুন
    4. ১০. প্যাকেটের ভেতরে ইনভয়েস, বাইরে ভাঙবে না
    5. ১১. ফেরতের কারণ লিখে রাখুন, মাসে একবার পড়ুন
    6. ১২. পুরনো ক্রেতার কাছে বেশি বেচুন, নতুনের কাছে কম
  6. রিটার্ন রেট কীভাবে গুনবেন, আর কত হলে ঠিক আছে
  7. একটা উদাহরণ: খুলনার হাসানের মধুর দোকান
  8. শেষ কথা

সকালে ২০টা অর্ডার দেখে মন ভালো। সাত দিন পর কুরিয়ারের হিসাবে ৬টা "রিটার্ন"। প্রতিটায় যাওয়ার চার্জ গেল, প্যাকেট ছিঁড়ল, প্রোডাক্ট দশ দিন ঘুরে এলো, আর যে অ্যাডে ওই অর্ডার এসেছিল সেই টাকাটাও গেল। মাসে ৪০টা ফেরত মানে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা, নিঃশব্দে।

ফেক অর্ডার আর কুরিয়ার রিটার্ন পুরোপুরি শূন্য করা যায় না, কিন্তু অর্ধেকে নামানো যায়, আর বেশিরভাগটা পার্সেল পাঠানোর আগেই। এই লেখায় ১২টা উপায়, যার প্রথমটা একটা ফ্রি টুল: কুরিয়ার ফ্রড চেকার (অনেকে লেখেন ফ্রড চেকার বিডি, বা ইংরেজিতে fake order checker), যেখানে একটা মোবাইল নম্বর দিলেই দেখা যায় ওই নম্বরে আগে কতগুলো পার্সেল গেছে আর কতগুলো ফেরত এসেছে।

এই লেখায় যা পাবেন

  • ফেক অর্ডার কত রকম, আর কোনটা আসলে ফেক না
  • একটা ফেরত পার্সেলের আসল খরচ, টাকায়
  • ফ্রি কুরিয়ার ফ্রড চেকার: কীভাবে কাজ করে, রায় কীভাবে দেয়, কখন ভুল বলে
  • পাঠানোর আগে ৬টা, পাঠানোর পরে ৬টা উপায়
  • কনফার্ম কলে যে ৫টা লক্ষণে সাবধান হবেন
  • রিটার্ন রেট কীভাবে গুনবেন, কত হলে ঠিক আছে
  • একজন মধু বিক্রেতার আগে-পরে

ফেক অর্ডার কত রকম, আর কেন আসে

সব ফেরত ফেক অর্ডার না। ফেরত আসা পার্সেল সাধারণত পাঁচ রকম, আর পাঁচটার পাঁচ রকম ওষুধ:

কী ঘটে কত ঘন (সাধারণত) আসল কারণ
ফোন ধরেন না, কুরিয়ার তিনবার চেষ্টা করে ফেরত আনে সবচেয়ে বেশি অর্ডার দেওয়ার মুহূর্তের ইচ্ছা, পরে ভুলে গেছেন, বা কাজে ব্যস্ত
দরজায় "লাগবে না" দ্বিতীয় মাঝের ৫–৭ দিনে মত বদল, টাকা নেই, বা অন্য জায়গা থেকে কিনে ফেলেছেন
ঠিকানা পাওয়া যায়নি তৃতীয় ইনবক্সের আধা ঠিকানা, ভুল থানা
প্রোডাক্ট দেখে ফেরত কম ছবির সাথে মেলেনি, সাইজ ভুল
ইচ্ছা করে ভুয়া অর্ডার সবচেয়ে কম, কিন্তু সবচেয়ে রাগের প্রতিযোগী, মজা, বা ছেলে অর্ডার দিয়েছে বাবা জানেন না

প্রথম দুটোই ফেরতের বড় অংশ, আর দুটোই পাঠানোর আগে ফোন করলে ধরা পড়ে। ইচ্ছাকৃত ভুয়া অর্ডার ধরা পড়ে নম্বরের রেকর্ডে।

একটা ফেরত পার্সেলে আসলে কত যায়

ঢাকার বাইরের একটা ১,২০০ টাকার অর্ডার ফেরত এলে:

  • কুরিয়ার চার্জ: যাওয়ার ১৩০ টাকার পুরোটা বা আধা, কুরিয়ারের চুক্তি অনুযায়ী, সাধারণত ৳৬৫–১৩০
  • প্যাকেজিং: পলি, বক্স, ইনভয়েস, ৳১৫–৩০
  • প্রোডাক্ট ৭–১০ দিন আটকে থাকা: এই সময়ে আরেকজন ক্রেতাকে দিতে পারতেন
  • অ্যাডে ওই অর্ডার আনতে যা গেছে: সাধারণত ৳১০০–৩০০
  • আপনার আর স্টাফের সময়: কনফার্ম, প্যাক, ফেরত বুঝে নেওয়া, স্টকে ফেরানো
একটা ফেরত পার্সেলের খরচের ভাগ: কুরিয়ার চার্জ, প্যাকেজিং, আটকে থাকা স্টক, অ্যাডের টাকা, সময়
একটা ফেরতে নগদ ২০০–৩০০ টাকা, অ্যাড ধরলে ৫০০-র কাছে

সব মিলিয়ে একটা ফেরতে সাধারণত ২০০ থেকে ৩০০ টাকা নগদ যায়, অ্যাড ধরলে ৫০০-র কাছে। মাসে ৪০টা ফেরত মানে একটা স্টাফের বেতন। এজন্যই ফেরত কমানো অ্যাড বাড়ানোর চেয়ে সহজ লাভ।

ফেরত কমানো হলো এমন একটা বিক্রি যেখানে অ্যাডের টাকা লাগে না, নতুন কাস্টমারও লাগে না।

ফ্রি কুরিয়ার ফ্রড চেকার: নম্বর দিয়ে আগের রেকর্ড দেখুন

Steadfast (স্টেডফাস্ট), Pathao (পাঠাও) আর RedX (রেডএক্স) প্রতিটা পার্সেলের রেকর্ড রাখে: কোন নম্বরে গেল, ডেলিভারি হলো না ফেরত এলো। এই রেকর্ড শুধু আপনার দোকানের না, বাংলাদেশের যেকোনো দোকান থেকে ওই নম্বরে পাঠানো সব পার্সেলের। মানে যিনি গত মাসে পাঁচটা দোকানের পার্সেল ফেরত দিয়েছেন, তাঁর নম্বর দিলেই সেটা দেখা যায়।

WinningSeller-এর ফ্রি ফ্রড চেকারে একটা মোবাইল নম্বর লিখে বাটনে চাপলে কয়েক সেকেন্ডে দেখায়:

  • মোট পার্সেল, ডেলিভারি, ফেরত আর সফলতার হার (যেমন ১২টার ১০টা ডেলিভারি, ৮৩%)
  • একটা রায়: ভালো / সাবধান / ঝুঁকি বেশি / তথ্য নেই
  • কুরিয়ার ধরে আলাদা লাইন, যেখানে কুরিয়ার সংখ্যা দেয়; Steadfast-এর ১০০-র মধ্যে স্কোর আর Pathao-র রেটিংও
ফ্রি ফ্রড চেকারের ফলাফলের কার্ড: নম্বর আংশিক ঢাকা, রায় ভালো, কুরিয়ার ধরে লাইনে Steadfast-এর স্কোর ৮৬/১০০
নমুনা নম্বরে চেক; শুধু সংখ্যা দেখায়, নাম বা ঠিকানা কখনো না

রায়টা যেভাবে দেওয়া হয়, সেটা পাতাতেই লেখা থাকে, লুকানো কিছু নেই: ৮০% বা তার বেশি পার্সেল ডেলিভারি হলে ভালো, ৬০ থেকে ৭৯% হলে সাবধান, ৬০%-এর কম হলে ঝুঁকি বেশি। পার্সেলের সংখ্যা না থাকলে কুরিয়ারের স্কোর দেখা হয়। মাত্র দু-তিনটা পার্সেলের রেকর্ড থাকলে পাতাটা নিজেই বলে দেয় রায় পাকা না।

কী দেখায় না, সেটাও জরুরি: কারও নাম, ঠিকানা, বা কী কিনেছিলেন, কখনো না। শুধু সংখ্যা। নম্বরটাও আংশিক ঢেকে দেখানো হয় (01712-***678)। প্রতিটা ভিজিটর দিনে কয়েকটা চেক ফ্রি পান; দোকানের জন্য প্রতিটা অর্ডারে এটা দরকার, তার জন্য নিচের ২ নম্বর উপায়।

ফ্রড চেকার কখন ভুল বলে

তিনটা জায়গায় রায় না মিলতে পারে, জেনে রাখুন:

  • নতুন নম্বর, "তথ্য নেই"। যিনি জীবনে প্রথম অনলাইনে কিনছেন, তাঁর রেকর্ড নেই। এটা খারাপ লক্ষণ না; কনফার্ম কলটা একটু যত্নে করুন।
  • পরিবারের এক নম্বরে সবার অর্ডার। বাবার নম্বরে ছেলে, মেয়ে, মা সবাই অর্ডার দেন; একজনের দুটো ফেরত পুরো নম্বরের হার নামিয়ে দেয়। কলে বোঝা যায়।
  • কুরিয়ারের দোষে ফেরত। কিছু এলাকায় কুরিয়ার ফোন না করেই "কাস্টমার ধরেনি" লিখে ফেরত আনে; সেই ফেরত ক্রেতার রেকর্ডে যায়। ৬০–৭৯% হলে তাই "সাবধান", "বাতিল" না।

পাঠানোর আগে: ৬টা উপায়

১. প্রতিটা অর্ডারে কনফার্ম কল, একটা স্ক্রিপ্টে

সবচেয়ে পুরনো, সবচেয়ে কার্যকর। অর্ডার আসার ১ ঘণ্টার মধ্যে ফোন, কারণ তখনো কেনার ইচ্ছাটা তাজা। স্ক্রিপ্ট ছোট:

"আসসালামু আলাইকুম, [দোকানের নাম] থেকে বলছি। আপনি [প্রোডাক্ট] অর্ডার করেছেন, দাম [দাম] আর ডেলিভারি চার্জ [৭০/১৩০], মোট [মোট]। ঠিকানাটা [থানা, জেলা], ঠিক আছে? কাল-পরশু কুরিয়ার ফোন দেবে, ফোনটা ধরবেন প্লিজ।"

তিনটা জিনিস হলো: মোট টাকাটা মুখে বলা হলো (দরজায় "এত টাকা!" থাকল না), ঠিকানা মিলল, আর কাস্টমার জানলেন কুরিয়ার ফোন দেবে। ফোন না ধরলে দুই ঘণ্টা পর আরেকবার, তারপর WhatsApp মেসেজ। তাতেও না, অর্ডার "হোল্ড", পাঠাবেন না।

WinningSeller-এ নতুন অর্ডার আসার সাথে সাথে "নতুন অর্ডার" তালিকায় থাকে, কনফার্ম করলে "কনফার্মড", ফোন না ধরলে "হোল্ড"; কে কখন কী করলো তার টাইমলাইন অর্ডারের ভেতরেই।

২. নম্বরের কুরিয়ার রেকর্ড, প্রতিটা অর্ডারে নিজে থেকে

ওপরের ফ্রি চেকারটা হাতে একটা একটা করে করা যায়, কিন্তু দিনে ৩০ অর্ডারে সেটা হয় না। WinningSeller-এ আপনার Steadfast বা Pathao অ্যাকাউন্টের API কী (অথবা Fraud BD-র কী) বসানো থাকলে নতুন অর্ডার এলেই ক্রেতার নম্বরের রেকর্ড অর্ডারের পাশে দেখায়: মোট কত, ডেলিভারি কত, ফেরত কত। বাড়তি কোনো খরচ নেই, আপনার নিজের অ্যাকাউন্ট দিয়েই। "আবার দেখুন" বাটনে চাপলে নতুন করে দেখে।

অর্ডার তালিকায় প্রতিটা নতুন অর্ডারের নম্বরের পাশে ক্রেতার কুরিয়ার রেকর্ড: ডেলিভারির হার শতাংশে, ভালো হলে সবুজ, খারাপ হলে লাল
কল করার আগেই জানা, কোন অর্ডারে সাবধান হতে হবে

নিয়মটা সহজ রাখুন: ৮০%-এর ওপরে, স্বাভাবিক কল। ৬০–৭৯%, কলে একটু বেশি সময়, ঠিকানা ভালো করে মেলান। ৬০%-এর নিচে, উপায় ৩।

৩. সন্দেহ হলে ডেলিভারি চার্জ অগ্রিম

ঝুঁকির নম্বরে পার্সেল পাঠাবেন না, বাতিলও করবেন না। বলুন, "আপনার এলাকায় ডেলিভারি চার্জটা অগ্রিম নিই, ১৩০ টাকা বিকাশে পাঠিয়ে দিন, বাকিটা পার্সেল পেয়ে।" সত্যিকারের ক্রেতা পাঠান, ভুয়া অর্ডার এখানেই শেষ। অনেক দোকান ঢাকার বাইরের সব অর্ডারেই এটা করে, আর তাতে ফেরত অর্ধেকের নিচে নামে; বিক্রি একটু কমে, কিন্তু লাভ বাড়ে।

WhatsApp-এ পাঠানোর মেসেজটা তৈরি রাখুন: "আপনার অর্ডার [প্রোডাক্ট], মোট [টাকা]। ডেলিভারি চার্জ ১৩০ টাকা এই বিকাশ পার্সোনাল নম্বরে পাঠালে আজই পার্সেল যাবে: 01XXXXXXXXX। বাকি [টাকা] পার্সেল হাতে পেয়ে।" টাকা এলে অর্ডারের নোটে ট্রানজেকশন আইডি লিখে কনফার্ম।

৪. অর্ডার ফর্মে পুরো ঠিকানা, নম্বর যাচাই

ইনবক্সের বদলে ফর্মে অর্ডার নিলে ঠিকানা আর নম্বর ছাড়া অর্ডার জমাই হয় না। ফর্মের ঠিকানার ঘরের নিচে একটা উদাহরণ লিখে দিন: "বাসা ১২, রোড ৩, ব্লক বি, মিরপুর ১০, ঢাকা"। আর কনফার্ম কলে ১১ ডিজিট পড়ে শোনান। WinningSeller-এর স্টোর আর ল্যান্ডিং পেজের অর্ডার ফর্ম এভাবেই বানানো; আর একই নম্বর থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে একই অর্ডার দুবার জমা হয় না, তাই "ভুলে দুবার চাপ পড়েছে" ফেরতটা আসে না।

৫. পুরনো ঝামেলার নম্বর ব্লক লিস্টে

যে নম্বর দুবার ফেরত দিয়েছে বা গালাগালি করেছে, তার তালিকা রাখুন। WinningSeller-এ ব্লক লিস্টে নম্বর তুলে রাখলে ওই নম্বরের অর্ডার আলাদা করে চিহ্নিত হয়, চোখ এড়ায় না।

৬. ছবি আর বর্ণনায় সত্যি কথা

"প্রোডাক্ট দেখে ফেরত" আসে প্রত্যাশা আর বাস্তবের ফারাকে। ছবিতে রং যা, হাতে তা-ই; সাইজ চার্ট ইঞ্চিতে; কাপড়ের ধরন লেখা; ভিডিওতে নিজের হাতে প্রোডাক্ট। অতিরঞ্জিত অ্যাডে অর্ডার বেশি আসে, ফেরতও বেশি আসে; হিসাব করলে সত্যি কথাই লাভজনক।

পাঠানোর পরে: ৬টা উপায়

৭. কনফার্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কুরিয়ারে

অর্ডার আর ডেলিভারির মাঝের প্রতিটা দিন মত বদলের দিন। আজ কনফার্ম, আজই বা কালই পিকআপ। এক ক্লিকে কুরিয়ারে পাঠানো গেলে এটা সহজ: কনফার্মড অর্ডারগুলোয় টিক দিয়ে Steadfast, Pathao বা RedX-এ একসাথে পাঠান, ইনভয়েস আর লেবেল বারকোডসহ একসাথে প্রিন্ট।

৮. পাঠানোর পর একটা মেসেজ, ট্র্যাকিং লিংকসহ

"আপনার পার্সেল আজ Steadfast-এ দেওয়া হয়েছে, ট্র্যাকিং: [লিংক]। ডেলিভারিম্যান ফোন দিলে ধরবেন, মোট [টাকা] রেডি রাখবেন।" WhatsApp বা SMS-এ। কাস্টমার মনে রাখেন, ফোন ধরেন, টাকা রেডি থাকে। কনসাইনমেন্ট নম্বর অর্ডারে নিজে থেকে বসে থাকলে লিংকটা কপি করা এক সেকেন্ডের কাজ।

৯. এলাকা ধরে কুরিয়ার বাছুন

প্রতিটা কুরিয়ারের কিছু থানায় হাব কাছে, ডেলিভারি দ্রুত; কিছু থানায় দূরে, পার্সেল চার দিন ঘোরে আর ফেরত আসে। নিজের ফেরতগুলো তিন মাস কুরিয়ার আর জেলা ধরে দেখুন। যেখানে একটা কুরিয়ারে ফেরত বেশি, সেখানে অন্যটা। তিনটারই অ্যাকাউন্ট থাকলে অর্ডার ধরে বাছা যায়।

১০. প্যাকেটের ভেতরে ইনভয়েস, বাইরে ভাঙবে না

ঠিক প্রোডাক্ট, ঠিক সাইজ, ইনভয়েসে কী আছে লেখা, আর এমন প্যাকেট যা ঢাকার বাইরে তিন দিন ঘুরেও ঠিক থাকে। ভাঙা বা ভেজা প্যাকেট দরজায় ফেরত আসে, আর সেটা আপনার দোষ।

১১. ফেরতের কারণ লিখে রাখুন, মাসে একবার পড়ুন

প্রতিটা ফেরতে এক লাইন: ফোন ধরেনি / লাগবে না / ঠিকানা / প্রোডাক্ট / ভুয়া। মাস শেষে গুনুন। "ফোন ধরেনি" বেশি হলে কনফার্ম কল আর মেসেজ (উপায় ১, ৮) ঠিক করুন; "ঠিকানা" বেশি হলে ফর্ম (উপায় ৪); "প্রোডাক্ট" বেশি হলে ছবি (উপায় ৬)। WinningSeller-এর হিসাব-নিকাশে প্রোডাক্ট ধরে রিটার্নের হার দেখা যায়, আর ফেরত আসা পার্সেলের দুই দিকের কুরিয়ার চার্জ খরচে যোগ হয়ে যায়, তাই আসল ক্ষতিটা চোখের সামনে থাকে।

১২. পুরনো ক্রেতার কাছে বেশি বেচুন, নতুনের কাছে কম

যিনি একবার পার্সেল নিয়েছেন আর টাকা দিয়েছেন, তিনি দ্বিতীয়বার ফেরত দেন খুব কম। নতুন ক্রেতার ফেরত ২০% হলে পুরনো ক্রেতার ৫%-ও হয় না। তাই মাসের বিক্রির যত বড় অংশ পুরনো ক্রেতা থেকে আসে, ফেরত তত কমে, আর অ্যাডের খরচও। WinningSeller-এর রিপিট সেল প্রতিদিন বলে দেয় আজ কাকে ফোন দিলে বিক্রি হবে, তিনি আগে কী নিয়েছিলেন আর ফোনে কী বলবেন।

রিটার্ন রেট কীভাবে গুনবেন, আর কত হলে ঠিক আছে

রিটার্ন রেট = ফেরত আসা পার্সেল ÷ কুরিয়ারে পাঠানো পার্সেল × ১০০

কনফার্ম না হওয়া অর্ডার এই হিসাবে নেই; সেগুলো পাঠানোই হয়নি। যা ধরা যায়, অভিজ্ঞ বিক্রেতাদের কথায়:

অবস্থা রিটার্ন রেট (সাধারণত)
ফোন না করে, ইনবক্সের ঠিকানায় পাঠানো ২০–৩০% বা বেশি
কনফার্ম কল আছে, ফ্রড চেক নেই ১২–২০%
কনফার্ম কল + নম্বরের রেকর্ড + ঝুঁকিতে অগ্রিম ৮–১২%
ওপরের সব + বেশিরভাগ বিক্রি পুরনো ক্রেতার ৫–৮%

প্রোডাক্ট আর এলাকায় ভেদ আছে: ঢাকার ভেতরে কম, দূরের উপজেলায় বেশি; ৫০০ টাকার জিনিসে কম, ৩,০০০ টাকার জিনিসে বেশি। নিজের নম্বরটা মাসে একবার দেখুন, আর ২% কমলেই সেটা টাকায় কত তা গুনুন। মাসে ৩০০ পার্সেলে ২% মানে ৬টা ফেরত কম, মানে প্রায় ১,৫০০ টাকা নগদ আর ৬টা বাড়তি ডেলিভারির লাভ।

একটা উদাহরণ: খুলনার হাসানের মধুর দোকান

ধরা যাক খুলনার হাসান সুন্দরবনের মধু বেচেন, মাসে ২৫০ অর্ডার, ৯৫০ টাকার কেজি। আগে ইনবক্স থেকে খাতায়, খাতা থেকে কুরিয়ার। মাসে ৬০–৭০টা ফেরত, প্রায় ২৬%। ফেরতের কুরিয়ার চার্জ আর ভাঙা বোতল মিলে মাসে ১৫ হাজারের ওপরে ক্ষতি, আর তিনি ভাবতেন "মধুর ব্যবসায় এরকমই হয়।"

তিনটা জিনিস বদলালেন। অর্ডার ফর্মে নিলেন, তাই ঠিকানার ফেরত প্রায় শূন্য। নতুন অর্ডারে নম্বরের রেকর্ড দেখা শুরু করলেন; যাঁদের ৬০%-এর নিচে, তাঁদের ১৩০ টাকা বিকাশে অগ্রিম। আর প্রতিটা অর্ডারে ছোট্ট কনফার্ম কল, মোট টাকাটা মুখে বলে।

দ্বিতীয় মাসে ২৪০ পাঠানো পার্সেলে ফেরত ২৮টা, প্রায় ১২%। তৃতীয় মাসে পুরনো ক্রেতাদের ফোন করে ঘি-র নতুন ব্যাচ বেচা শুরু করলেন; সেই অর্ডারগুলোয় ফেরত ৩টা। মাসে যে ১৫ হাজার যেত, তার ১০ হাজার এখন লাভের ঘরে, অ্যাডে এক টাকা না বাড়িয়ে।

সাধারণ প্রশ্ন

কুরিয়ার ফ্রড চেকার কী?

একটা মোবাইল নম্বর দিলে কুরিয়ারের রেকর্ড থেকে দেখায় ওই নম্বরে আগে কতগুলো পার্সেল গেছে, কতগুলো ডেলিভারি হয়েছে আর কতগুলো ফেরত এসেছে। বাংলাদেশের যেকোনো দোকান থেকে পাঠানো পার্সেল ধরা হয়, শুধু আপনারটা না। WinningSeller-এর ওয়েবসাইটে এটা ফ্রি।

ফ্রড চেকারে কী কী দেখায়, আর কী দেখায় না?

মোট পার্সেল, ডেলিভারি, ফেরত আর সফলতার হার, সাথে ভালো / সাবধান / ঝুঁকি বেশি রায়। কারও নাম, ঠিকানা বা কী কিনেছিলেন, এগুলো কখনো দেখায় না। নম্বরটাও আংশিক ঢেকে দেখানো হয়।

ফেক অর্ডারে আসলে কত টাকা যায়?

ঢাকার বাইরের একটা পার্সেল ফেরত এলে কুরিয়ারভেদে যাওয়ার চার্জের পুরোটা বা আধা আপনার, সাথে প্যাকেজিং, আর প্রোডাক্টটা ৭ থেকে ১০ দিন আটকে থাকা। সব মিলিয়ে সাধারণত ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, আর ওই অর্ডার আনতে অ্যাডে যা গেছে সেটা আলাদা।

ক্যাশ অন ডেলিভারিতে কত শতাংশ ফেরত স্বাভাবিক?

অভিজ্ঞ বিক্রেতারা বলেন ফোনে কনফার্ম না করে পাঠালে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ফেরত আসে; কনফার্ম কল, ফ্রড চেক আর ঠিকানা যাচাই করলে ১০ শতাংশের নিচে নামানো যায়। প্রোডাক্ট আর এলাকায় ভেদ আছে।

ক্রেতার রেকর্ডে ফেরত বেশি হলে কি অর্ডার বাতিল করবো?

না, অগ্রিম চাইবেন। ডেলিভারি চার্জটা (সাধারণত ১৩০ টাকা) বিকাশে পাঠাতে বলুন। সত্যিকারের ক্রেতা পাঠাবেন, আর যিনি ফেক, তিনি ওখানেই থেমে যাবেন। এতে ভালো ক্রেতা হারান না, ফেরতও খান না।

Steadfast, Pathao আর RedX-এর নিজস্ব ফ্রড চেক আছে না?

Steadfast একটা স্কোর দেয়, Pathao একটা রেটিং, RedX-এর প্যানেলেও রেকর্ড দেখা যায়; প্রতিটা শুধু নিজের পার্সেল ধরে। WinningSeller-এ আপনার Steadfast বা Pathao অ্যাকাউন্ট জুড়ে দিলে নতুন অর্ডারে এগুলো নিজে থেকে দেখায়, আর Fraud BD কী দিলে সব কুরিয়ারের রেকর্ড একসাথে।

শেষ কথা

ফেক অর্ডার নিয়ে রাগ করে লাভ নেই; এটা ক্যাশ অন ডেলিভারির ব্যবসার খরচ, আর খরচ কমানো যায়। ১২টার মধ্যে আজ তিনটা করুন: পরের অর্ডারটায় কনফার্ম কল স্ক্রিপ্ট ধরে, ফোনে মোট টাকা বলে; তার নম্বরটা ফ্রি কুরিয়ার ফ্রড চেকারে দেখে নিন; আর ফেরতের কারণের খাতাটা আজ থেকে।

প্রতিটা অর্ডারে এই কাজগুলো নিজে থেকে হোক, সেটা চাইলে WinningSeller চালিয়ে দেখুন (প্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম): অর্ডারের পাশে ক্রেতার কুরিয়ার রেকর্ড, এক ক্লিকে Steadfast/Pathao/RedX, আর হিসাবে ফেরতের আসল ক্ষতি। ফেসবুক পেজ থেকে সেখানে যাওয়ার ধাপগুলো এই লেখায়, আর পুরো ব্যবসাটা সাজানোর গাইড এখানে।

#ফেক অর্ডার#ফ্রড চেকার#কুরিয়ার রিটার্ন#ক্যাশ অন ডেলিভারি#Steadfast#Pathao#RedX

আরও পড়ুন

হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল না গ্রুপ? পুরনো কাস্টমারকে নতুন মালের খবর দিন

নতুন কালেকশনের খবর পুরনো কাস্টমারকে দিতে চান, কিন্তু চ্যানেল খুলবেন, গ্রুপ, না স্ট্যাটাস? কে কার নম্বর দেখে, কে উত্তর দিতে পারে, চ্যানেল খোলার ধাপ, কী পোস্ট দেবেন, গ্রুপের নিয়ম আর ঝুঁকি, আর এক মাসে কোনটায় কত সময় যায়, হিসাবসহ।

·১১ মিনিটে পড়া যায়

শার্ট, প্যান্ট আর টি-শার্টের সাইজ চার্ট বানাবেন যেভাবে, ফেরত কমবে

সাপ্লায়ারের ট্যাগে M লেখা, অথচ কাস্টমার বলেন টাইট। টি-শার্ট, শার্ট আর প্যান্ট টেবিলে বিছিয়ে ফিতা দিয়ে মাপার নিয়ম, ইঞ্চিতে নিজের সাইজ চার্ট বানানো, কাস্টমারকে নিজের শার্ট মেপে সাইজ বাছতে শেখানো, আর একটা ভুল সাইজে কত টাকা যায়, হিসাবসহ।

·১১ মিনিটে পড়া যায়

প্রোডাক্ট ক্যাটালগ ও প্রাইস লিস্ট বানানোর নিয়ম, পাইকার আর অফিসের জন্য

পাইকার, রিসেলার বা অফিসের লোক বলছেন "ক্যাটালগ আর রেট দেন"? প্রতিটা প্রোডাক্টে কী লিখবেন, খুচরা আর পাইকারি দাম কেন আলাদা ফাইলে, পরিমাণ ধরে দামের ধাপ টাকায়, PDF না লিংক, আর দাম বদলালে পুরনো কপি থামাবেন কীভাবে।

·১১ মিনিটে পড়া যায়