ফেসবুক পেজ থেকে নিজের অনলাইন স্টোর: কেন লাগবে, আর কীভাবে ১০ মিনিটে
পেজে ইনবক্সের অর্ডার লিখতে লিখতে দিন শেষ? নিজের অনলাইন স্টোর কেন লাগে, পেজের সাথে কীভাবে চলে, আর ১০ মিনিটে কীভাবে বানাবেন, ধাপে ধাপে।

এই লেখায় যা আছে
- এফ-কমার্স কী, আর কোথায় গিয়ে আটকায়
- নিজের অনলাইন স্টোর থাকলে যে ৬টা জিনিস বদলায়
- পেজ বাদ যায় না: পেজ আর স্টোর একসাথে যেভাবে চলে
- ১০ মিনিটে ফেসবুক পেজ থেকে অনলাইন স্টোর
- ধাপ ১: অ্যাকাউন্ট (২ মিনিট)
- ধাপ ২: প্রথম তিনটা প্রোডাক্ট (৩ মিনিট)
- ধাপ ৩: ডিজাইন (১ মিনিট)
- ধাপ ৪: ডেলিভারি চার্জ (১ মিনিট)
- ধাপ ৫: কুরিয়ার (২ মিনিট, মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট থাকলে)
- ধাপ ৬: লিংকটা পেজে বসান (১ মিনিট)
- স্টোরের নাম আর ঠিকানা কী হবে
- কাস্টমারকে স্টোরে পাঠানোর ৫টা জায়গা
- স্টোর চালুর প্রথম সপ্তাহে যা করবেন
- নতুন স্টোরের সাধারণ ভুল
- একটা উদাহরণ: চট্টগ্রামের নুসরাতের পেজ থেকে স্টোর
- খরচ কত
- শেষ কথা
রাত ১১টা। ইনবক্সে ৩৭টা না-পড়া মেসেজ। কেউ দাম জানতে চেয়েছেন, কেউ "নেব" বলে আর উত্তর দেননি, একজন ঠিকানা দিয়েছেন কিন্তু মোবাইল নম্বরে ১০টা ডিজিট। সকালে কুরিয়ারের লোক আসবে, কয়টা পার্সেল যাবে আপনি নিজেও জানেন না। এটাই এফ-কমার্সের বাস্তব চেহারা, দিনে ২০টা অর্ডার পার হলে।
নিজের অনলাইন স্টোর মানে এই ইনবক্সের বাইরে একটা ঠিকানা, যেখানে কাস্টমার নিজে প্রোডাক্ট দেখে, নিজে নাম-নম্বর-ঠিকানা লিখে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে অর্ডার দেন, আর আপনার কাছে অর্ডারটা আসে একটা তালিকায়। ২০২৬ সালে এটা বানাতে ১০ মিনিট লাগে, কোডিং লাগে না, আর ফেসবুক পেজ বন্ধ করতে হয় না। এই লেখায় আগে কেন, তারপর কীভাবে, মিনিট ধরে।
এই লেখায় যা পাবেন
- এফ-কমার্স কী, আর ঠিক কোন জায়গায় গিয়ে আটকায়
- নিজের স্টোর থাকলে যে ৬টা জিনিস বদলায়
- পেজ আর স্টোর একসাথে কীভাবে চলে (পেজ বাদ যায় না)
- ১০ মিনিটে পেজ থেকে স্টোর: ৬টা ধাপ
- স্টোরের নাম আর ঠিকানা কী হবে
- কাস্টমারকে স্টোরে পাঠানোর ৫টা জায়গা
- স্টোর চালুর প্রথম সপ্তাহে কী করবেন
- নতুন স্টোরের সাধারণ ভুল আর তার ঠিক, আর খরচ
এফ-কমার্স কী, আর কোথায় গিয়ে আটকায়
এফ-কমার্স মানে ফেসবুক পেজ বা গ্রুপ থেকে বেচা। পোস্টে প্রোডাক্ট, কমেন্টে "দাম কত", ইনবক্সে অর্ডার, খাতায় লেখা, কুরিয়ারের অ্যাপে কপি-পেস্ট। বাংলাদেশে লাখো দোকান এভাবে চলে, আর শুরু করার জন্য এর চেয়ে সহজ কিছু নেই: পেজ খুলতে পাঁচ মিনিট, টাকা শূন্য।
আটকায় তিন জায়গায়, আর তিনটাই আসে একসাথে, দিনে ২০–৩০ অর্ডারের আশেপাশে।
১. অর্ডার লেখা আপনার পুরো সময় খেয়ে ফেলে। একটা ইনবক্স অর্ডারে গড়ে ৮–১০টা মেসেজ লাগে: দাম, সাইজ, রং, ঠিকানা, নম্বর, ডেলিভারি চার্জ, কনফার্ম। দিনে ৩০ অর্ডার মানে ৩০০ মেসেজ, মানে ৪–৫ ঘণ্টা। এই সময়টা অ্যাড, প্রোডাক্ট বা নতুন কাস্টমারে যেত।
২. ভুল তথ্যে পার্সেল ফেরত আসে। ইনবক্সে কাস্টমার ঠিকানা লেখেন "মিরপুর ১০, বাসার সামনে মসজিদ"। থানা নেই, রোড নেই। কুরিয়ার ফোন করে, নম্বরে একটা ডিজিট কম, পার্সেল ফেরত, ১৩০ টাকা আপনার। ফর্মে নম্বর আর ঠিকানা না দিলে অর্ডার জমাই হয় না।
৩. পেজ আটকালে ব্যবসা শূন্য। ফেসবুক কারণ না বলে পেজ রেস্ট্রিক্ট করে, অ্যাড অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে, কখনো পেজই উড়িয়ে দেয়। আপিল করতে সপ্তাহ যায়। যাঁর সব কাস্টমার, সব অর্ডার আর সব রেকর্ড ইনবক্সে, তিনি সেদিন থেকে কিছুই করতে পারেন না। যাঁর স্টোর আছে, তিনি অন্য পেজ, WhatsApp বা পুরনো ক্রেতাদের ফোন থেকে অর্ডার নিতে থাকেন।
ফেসবুক পেজ ভাড়ার দোকান; নিজের স্টোর নিজের দোকান। ভাড়ার দোকানে ব্যবসা হয়, কিন্তু মালিক যেদিন তালা দেন সেদিন কিছু বলার থাকে না।

নিজের অনলাইন স্টোর থাকলে যে ৬টা জিনিস বদলায়
অর্ডার আসে তালিকায়, আপনার টাইপিং ছাড়া। কাস্টমার ফর্মে নাম, মোবাইল নম্বর, ঠিকানা আর কয়টা নেবেন লেখেন। আপনি দেখেন "নতুন অর্ডার" তালিকায়, ফোন করে কনফার্ম করেন, হয়ে গেল। মেসেঞ্জার, WhatsApp বা ফোনে যে অর্ডার আসে, সেটাও একই তালিকায় নিজে তুলে রাখেন, যাতে সব এক জায়গায়।
কুরিয়ারে পাঠানো এক ক্লিকে। কনফার্ম করা অর্ডারে টিক দিন, Steadfast, Pathao বা RedX বাছুন, পাঠান। নাম-ঠিকানা কপি করতে হয় না, কনসাইনমেন্ট নম্বর নিজে থেকে বসে, পার্সেল পৌঁছালে অর্ডার নিজে থেকে "ডেলিভারড"।
কল করার আগেই জানেন ক্রেতা কেমন। আপনার Steadfast বা Pathao অ্যাকাউন্ট জুড়ে দিলে নতুন অর্ডার এলেই ক্রেতার মোবাইল নম্বর দিয়ে দেখা যায় বাংলাদেশের যেকোনো দোকান থেকে তিনি কতগুলো পার্সেল নিয়েছেন আর কতগুলো ফেরত দিয়েছেন। ১০টার ৭টা ফেরত দেওয়া নম্বরে পার্সেল পাঠানোর আগে অগ্রিম চাইবেন। এটা ইনবক্সে সম্ভব না।
ফেসবুক অ্যাড শেখে আসল ক্রেতা থেকে। স্টোরে পিক্সেল আর Conversions API বসানো থাকে। অ্যাড থেকে কে অর্ডার করলেন তা ফেসবুক জানে, আর সেই রকম মানুষকেই অ্যাড দেখায়। ইনবক্সের অ্যাডে ফেসবুক শুধু জানে কে মেসেজ দিলেন, কে কিনলেন না। সময়ের সাথে একই টাকায় স্টোরের অ্যাডে অর্ডার বেশি আসে।
কাস্টমারের খাতা নিজে থেকে তৈরি হয়। প্রতিটা ক্রেতার নম্বরের নিচে কবে কী কিনেছেন, কতবার ফেরত দিয়েছেন। তিন মাস পর ঈদের কালেকশন এলে এই ৩০০ জনকে ফোন করতে অ্যাডের টাকা লাগে না। WinningSeller-এর রিপিট সেল এই কাজটাই করে: প্রতিদিন বলে আজ কাকে ফোন দিলে বিক্রি হবে।
ভরসা বাড়ে। "আমাদের ওয়েবসাইট sumaiyafashion.com" শুনলে কাস্টমার অন্য রকম ভাবেন। পেজের About-এ লিংক, গুগলে সার্চ করলে দোকান পাওয়া যায়, আর অর্ডার কনফার্মেশনে একটা ট্র্যাকিং লিংক।
পেজ বাদ যায় না: পেজ আর স্টোর একসাথে যেভাবে চলে
অনেকে ভাবেন স্টোর বানালে পেজ ছাড়তে হবে, বা দুটো আলাদা ব্যবসা চালাতে হবে। না। কাজ ভাগ হয়:
| কাজ | কোথায় |
|---|---|
| প্রোডাক্ট দেখানো, ভিডিও, অফারের পোস্ট | ফেসবুক পেজ |
| অ্যাড চালানো | ফেসবুক, কিন্তু লিংক স্টোর বা ল্যান্ডিং পেজে |
| কাস্টমারের প্রশ্নের উত্তর | ইনবক্স, WhatsApp, ফোন |
| অর্ডার নেওয়া | স্টোরের ফর্ম; ইনবক্সের অর্ডার অ্যাডমিনে তোলা |
| কনফার্ম কল, কুরিয়ার, ট্র্যাকিং | স্টোরের অ্যাডমিন |
| লাভ-ক্ষতির হিসাব, কুরিয়ারের পাওনা | স্টোরের অ্যাডমিন |
| পুরনো ক্রেতাকে আবার বিক্রি | অ্যাডমিনের রিপিট সেল তালিকা থেকে ফোন |
একটা অর্ডারের যাত্রা তখন এরকম: কাস্টমার ফেসবুকে অ্যাড দেখলেন → ল্যান্ডিং পেজে গেলেন → ফর্মে অর্ডার দিলেন → আপনার তালিকায় "নতুন অর্ডার", পাশে তাঁর কুরিয়ার রেকর্ড → আপনি ফোনে কনফার্ম → এক ক্লিকে Steadfast → পার্সেল পৌঁছালো, অর্ডার "ডেলিভারড", কাস্টমার লেভেল ১ → ২০ দিন পর রিপিট সেল তালিকায় তাঁর নাম।

ইনবক্স থাকল, কিন্তু অর্ডারের খাতা থাকল না।
১০ মিনিটে ফেসবুক পেজ থেকে অনলাইন স্টোর
হাতে রাখুন: পেজের লোগো, তিনটা প্রোডাক্টের ছবি আর দাম, আর যদি থাকে, কুরিয়ারের মার্চেন্ট প্যানেলের লগইন। সময়গুলো সত্যিকারের, এক সন্ধ্যায় মোবাইল থেকে করা যায়।
ধাপ ১: অ্যাকাউন্ট (২ মিনিট)
WinningSeller-এ "৯৯ টাকায় শুরু করুন"। নাম, মোবাইল নম্বর, ইমেইল, পাসওয়ার্ড আর দোকানের নাম। দোকানের নামটা পেজের নামের মতোই রাখুন। সাবমিট করার সাথে সাথে স্টোরের ঠিকানা তৈরি; কার্ড লাগে না, প্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম।
ধাপ ২: প্রথম তিনটা প্রোডাক্ট (৩ মিনিট)
অ্যাডমিনে প্রোডাক্ট → নতুন। ছবি (পেজ থেকে যেটা দিয়েছেন সেটাই), নাম, বিক্রির দাম, আর কেনা দাম। কেনা দামটা দিন, এটা কাস্টমার দেখেন না, কিন্তু মাস শেষে লাভের হিসাব এটা থেকেই হয়। সাইজ বা রং থাকলে ভ্যারিয়েন্টে। তিনটা দিয়ে শুরু, বাকিগুলো পরে।
ধাপ ৩: ডিজাইন (১ মিনিট)
৭টা রেডিমেড ডিজাইন থেকে একটা বেছে নিন, রং পেজের লোগোর সাথে মেলান। মোবাইলে কেমন দেখায় তা পাশেই। পরে যত খুশি বদলানো যায়, এখন থামবেন না।
ধাপ ৪: ডেলিভারি চার্জ (১ মিনিট)
দুটো জোন আগে থেকেই আছে: "ঢাকা সিটির ভেতরে" ৳৭০ আর "ঢাকা সিটির বাইরে" ৳১৩০। আপনার পেজে যা নেন, সেটা বসান। ফ্রি ডেলিভারি অফার করলে ০।
ধাপ ৫: কুরিয়ার (২ মিনিট, মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট থাকলে)
Steadfast, Pathao বা RedX-এর মার্চেন্ট প্যানেল থেকে API কী কপি করে কুরিয়ার পাতায় বসান, "সংযোগ পরীক্ষা" চাপুন। সবুজ হলে এখন থেকে অর্ডার এক ক্লিকে কুরিয়ারে যাবে, আর নতুন অর্ডারে ক্রেতার কুরিয়ার রেকর্ড দেখাবে। মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট না থাকলে এই ধাপ পরে; অর্ডার আসা আটকাবে না।

ধাপ ৬: লিংকটা পেজে বসান (১ মিনিট)
স্টোরের লিংক পেজের About-এ "Website" ঘরে, একটা পিন করা পোস্টে ("এখন সরাসরি অর্ডার করুন, ক্যাশ অন ডেলিভারি"), আর ইনবক্সের অটো-রিপ্লাইতে। পরের অ্যাড থেকে লিংক এখানে।
হয়ে গেল। মোট ১০ মিনিট, বাকি সময় প্রোডাক্ট তোলায়।
স্টোরের নাম আর ঠিকানা কী হবে
শুরুতে স্টোর চলে একটা সাবডোমেইনে (যেমন sumaiyafashion.winningseller.com-এর মতো ঠিকানায়)। এতে অর্ডার আসতে কোনো অসুবিধা নেই; ফেসবুক অ্যাড থেকে আসা কাস্টমার ঠিকানা দেখেন না, পেজ দেখেন।
নিজের ডোমেইন (sumaiyafashion.com) নেবেন কখন? যখন ব্র্যান্ডটা মুখে মুখে ছড়াতে শুরু করে, কাস্টমার গুগলে নাম লিখে খোঁজেন, বা প্যাকেটের গায়ে ঠিকানা ছাপতে চান। বছরে ১,২০০ থেকে ১,৮০০ টাকায় .com, নিজের নামে কিনবেন, আর WinningSeller-এ গ্রোথ প্ল্যান থেকে জুড়ে দেওয়া যায়। নামের নিয়ম একটাই: পেজের নাম, ডোমেইন আর বিকাশ মার্চেন্টের নাম এক; তিন জায়গায় তিন নাম হলে কাস্টমার সন্দেহ করেন।
কাস্টমারকে স্টোরে পাঠানোর ৫টা জায়গা
স্টোর বানালেই কাস্টমার আসেন না; লিংকটা তাঁদের চোখের সামনে রাখতে হয়, যেখানে যেখানে তাঁরা আপনাকে দেখেন।
- ফেসবুক অ্যাড। সবচেয়ে বড়টা। অ্যাডের বাটন "Shop Now", লিংক ল্যান্ডিং পেজে।
- পেজের About আর পিন করা পোস্ট। যিনি পেজে এসে ঘুরে দেখেন, তিনি লিংক পান।
- ইনবক্সের প্রথম উত্তর। "দাম কত?" এর উত্তরে দাম বলুন, সাথে "এখানে সরাসরি অর্ডার করতে পারেন, ক্যাশ অন ডেলিভারি: [লিংক]"। অটো-রিপ্লাইতেও।
- WhatsApp স্ট্যাটাস আর ব্রডকাস্ট। পুরনো ক্রেতারা এখানে।
- প্যাকেটের ভেতরের কার্ড। "পরের অর্ডারে ৫০ টাকা ছাড়, [লিংক]"। ডেলিভারি হওয়া প্রতিটা পার্সেল একটা বিজ্ঞাপন।
স্টোর চালুর প্রথম সপ্তাহে যা করবেন
- ইনবক্সের অর্ডারও অ্যাডমিনে তুলুন। প্রথম সপ্তাহে অর্ধেক কাস্টমার তবু ইনবক্সেই অর্ডার দেবেন। "নতুন অর্ডার" ফর্মে এক মিনিটে তুলে রাখুন; তাতে কুরিয়ার, স্টক আর হিসাব সব একসাথে থাকে। অভ্যাসটা এখানেই তৈরি হয়।
- পিক্সেল বসান। ফেসবুক Events Manager থেকে পিক্সেল আইডি আর Conversions API টোকেন নিয়ে ট্র্যাকিং পাতায়। "টেস্ট ইভেন্ট" বাটনে চেপে দেখুন ফেসবুক পাচ্ছে কি না।
- প্রথম ল্যান্ডিং পেজ। সবচেয়ে বেশি চলা প্রোডাক্টটার জন্য এক পাতার পেজ, অর্ডার ফর্মসহ, অ্যাড এখানে পাঠাবেন। কী কী থাকতে হয় তা আছে ল্যান্ডিং পেজের লেখায়।
- প্রতিটা অর্ডারে ফোন। ফর্মে অর্ডার এলেও ফোন করে কনফার্ম করুন; তাতে ভুয়া অর্ডার আর ফেরত দুটোই কমে। ফোন না ধরলে "হোল্ড", পাঠাবেন না।
- প্রথম ফেরতটা পড়ুন। কেন ফিরলো? ফোন ধরেননি, ঠিকানা ভুল, নাকি "লাগবে না"? তিনটার তিন রকম সমাধান, এই লেখায়।
নতুন স্টোরের সাধারণ ভুল
| ভুল | কী হয় | ঠিক |
|---|---|---|
| ৫০টা প্রোডাক্ট তুলে তারপর চালু করা | চালুই হয় না | ৩টা দিয়ে চালু, বাকি পরে |
| অ্যাড পাঠানো হোমপেজে | কাস্টমার ঘুরে চলে যান | এক প্রোডাক্টের ল্যান্ডিং পেজে |
| কেনা দাম না লেখা | মাস শেষে লাভ অজানা | প্রোডাক্ট তোলার সময়ই কেনা দাম |
| কুরিয়ার API না বসানো | কপি-পেস্ট চলতেই থাকে | ধাপ ৫, দুই মিনিট |
| ইনবক্সের অর্ডার আলাদা খাতায় | দুই জায়গায় হিসাব | সব অর্ডার অ্যাডমিনে |
| স্টাফকে মালিকের লগইন দেওয়া | কেনা দাম আর লাভ সবাই দেখে | স্টাফের আলাদা অ্যাক্সেস |
একটা উদাহরণ: চট্টগ্রামের নুসরাতের পেজ থেকে স্টোর
ধরা যাক চট্টগ্রামের নুসরাত স্কিনকেয়ার বেচেন, পেজে ১৮ হাজার ফলোয়ার, দিনে ২৫–৩০ অর্ডার, একজন ছোট বোন ইনবক্স সামলায়। রাতে দুজন মিলে খাতা থেকে Steadfast-এর অ্যাপে অর্ডার তোলেন, দেড় ঘণ্টা। মাসে ২০–২৫টা পার্সেল ফেরত আসে, বেশিরভাগ "ফোন ধরেনি" আর "ঠিকানা পাওয়া যায়নি"।
এক শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি স্টোর বানালেন। প্রথম সপ্তাহে অর্ডারের ৪০% ফর্মে এলো, বাকি ইনবক্সে, যেগুলো বোন অ্যাডমিনে তুলল। কুরিয়ারে পাঠানো দেড় ঘণ্টা থেকে ১০ মিনিট। তৃতীয় সপ্তাহে অ্যাডের লিংক ল্যান্ডিং পেজে দেওয়ার পর ফর্মের অর্ডার ৭০%। ঠিকানা ভুলের ফেরত প্রায় শূন্য, কারণ ফর্মে পুরো ঠিকানা না দিলে অর্ডার হয় না। "ফোন ধরেনি" ফেরত কমল কনফার্ম কলে, আর যে নম্বরের কুরিয়ার রেকর্ডে ৫টার ৪টা ফেরত, তাঁদের কাছে ডেলিভারি চার্জ অগ্রিম চাওয়ায়।
দ্বিতীয় মাসে তিনি পেজ চালান আগের মতোই। শুধু রাতের দেড় ঘণ্টাটা এখন নতুন প্রোডাক্টের ভিডিও বানানোয় যায়।
ইনবক্স কথা বলার জায়গা, অর্ডার নেওয়ার জায়গা না। দুটো আলাদা করলেই দিনে তিন ঘণ্টা ফেরত আসে।
খরচ কত
কার্ড লাগে না, প্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম। স্টার্টারের রেগুলার দাম মাসে ৳৯৯৯ (বছরে একবারে ৳৯,৯৯০): ১০০ প্রোডাক্ট, মাসে ৩০০ অর্ডার, আপনি ছাড়া ২ জন স্টাফ, ৩টা ল্যান্ডিং পেজ, তিন কুরিয়ার, পিক্সেল, হিসাব। মাসে ৩০০-র বেশি অর্ডার বা নিজের ডোমেইন লাগলে গ্রোথ ৳২,৪৯৯। একবারে নেওয়ার লাইফটাইম ডিলও আছে। পুরো তুলনা দামের পাতায়, আর ডেভেলপার দিয়ে বানানোর সাথে হিসাব মেলানো আছে এই লেখায়।
সাধারণ প্রশ্ন
এফ-কমার্স কী?
ফেসবুক পেজ বা গ্রুপ থেকে প্রোডাক্ট বেচা, যেখানে অর্ডার আসে ইনবক্স, কমেন্ট বা ফোনে। বাংলাদেশে বেশিরভাগ অনলাইন দোকান এভাবেই শুরু হয়। সমস্যা শুরু হয় দিনে ২০–৩০ অর্ডারের পর, যখন সব হাতে লেখা আর সম্ভব থাকে না।
অনলাইন স্টোর বানালে কি ফেসবুক পেজ বন্ধ করে দেব?
না। পেজ থাকবে অ্যাড আর কাস্টমারের সাথে কথা বলার জায়গা হিসেবে। স্টোর হবে অর্ডার নেওয়ার জায়গা। অ্যাড আর পোস্টের লিংক স্টোরে যাবে, ইনবক্সে যিনি অর্ডার দেবেন তাঁরটাও স্টোরের অ্যাডমিনে তুলে রাখবেন।
কাস্টমার কি ওয়েবসাইটে অর্ডার দিতে পারবেন? অনেকে তো ইনবক্সেই বলতে চান।
ক্যাশ অন ডেলিভারির ফর্মে শুধু নাম, মোবাইল নম্বর আর ঠিকানা লাগে, বিকাশের চেয়ে সহজ। যাঁরা ইনবক্সে বলতে চান, তাঁদের স্টোরের লিংক দিন বা নিজে অর্ডারটা তুলে দিন। কিছুদিনেই বেশিরভাগ অর্ডার ফর্মে আসতে থাকে।
অনলাইন স্টোর বানাতে কী কী লাগে?
নাম, মোবাইল নম্বর, ইমেইল আর দোকানের নাম। প্রোডাক্টের ছবি আর দাম তো আপনার পেজেই আছে। কোডিং, ডোমেইন বা হোস্টিং কেনা, কিছুই লাগে না; নিজের ডোমেইন পরে চাইলে যোগ করা যায়।
খরচ কত?
WinningSeller-এ কার্ড লাগে না, প্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম। স্টার্টারের রেগুলার দাম মাসে ৯৯৯ টাকা বা বছরে ৯,৯৯০। বড় দোকানের জন্য গ্রোথ আর প্রো, আর একবারে নেওয়ার লাইফটাইম ডিল আছে।
শেষ কথা
ফেসবুক পেজ আপনাকে এতদূর এনেছে; সেটা থাকবে। কিন্তু অর্ডারের খাতা, কপি-পেস্টের কুরিয়ার আর "ফোন ধরেনি" ফেরতের দিন শেষ হওয়ার কথা দিনে ২০ অর্ডারেই। নিজের অনলাইন স্টোর সেই কাজগুলো সরিয়ে নেয়, আর পেজ আটকালেও ব্যবসা চলে।
আজ রাতের কাজ: ১০ মিনিট বের করুন, ওপরের ৬টা ধাপ। তিনটা প্রোডাক্ট, একটা ডিজাইন, লিংকটা পেজের About-এ। কাল সকালে প্রথম অর্ডারটা আসুক তালিকায়, ইনবক্সে না। ৯৯ টাকায় শুরু করুন, আর পুরো ব্যবসাটা ধাপে ধাপে সাজাতে পড়ুন অনলাইন ব্যবসা শুরুর পুরো গাইড।
আরও পড়ুন
খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম
বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।
থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম
থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।


