WinningSeller
অনলাইন ব্যবসা শুরু১৫ মিনিটে পড়া যায়

শীতকালে কি ব্যবসা করা যায়? কী বেচবেন, আর কবে কিনলে মাল আটকাবে না

শীতে অনলাইনে কোন জিনিস চলে, কোনটায় কী ঝুঁকি, অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কবে স্টক তুলবেন আর কবে থামবেন, ভারী কম্বল পাঠাতে কুরিয়ারে কত যায়, আর শীত শেষে মাল থেকে গেলে কী করবেন।

শীতকালে কি ব্যবসা করা যায়? কী বেচবেন, আর কবে কিনলে মাল আটকাবে না
এই লেখায় যা আছে
  1. শীতকালে কি ব্যবসা করা যায়, অনলাইনে কোন জিনিস চলে?
  2. শীতের কাপড়ের ব্যবসা, কোনটা দিয়ে শুরু করবেন?
  3. খেজুরের গুড় আর শীতের খাবার বেচতে কী সাবধানতা?
  4. শীতের মালের স্টক কবে তুলবেন, অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারির ক্যালেন্ডার
  5. বাচ্চাদের শীতের পোশাক আর কম্বল পাইকারি কোথায় পাওয়া যায়?
  6. ভারী কম্বল-জ্যাকেট কুরিয়ারে পাঠালে খরচ কত বাড়ে?
  7. হুডি না কম্বল, কোনটায় আসলে লাভ বেশি? (টাকায় উদাহরণ)
  8. শীত শেষে মাল থেকে গেলে কী করবেন?
  9. এই প্ল্যান কার জন্য না, আর আজ কোথা থেকে শুরু করবেন

শীতকালে কি ব্যবসা করা যায়, জানতে চাইলে সোজা উত্তর হলো, অনলাইনে শীতে তিন রকমের জিনিস ভালো চলে। সবার আগে গরম কাপড়, যেমন হুডি, জ্যাকেট, সোয়েটার, শাল, মাফলার, বাচ্চাদের শীতের সেট আর কম্বল। এর পাশে চলে শীতে ত্বকের যত্নের জিনিস, যেমন লোশন, লিপ বাম আর পেট্রোলিয়াম জেলি। আর আছে শীতের খাবার, মানে খেজুরের গুড়, পাটালি, পিঠার চালের গুঁড়া আর সরিষার মধু। এর সবগুলোই ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে বেচা যায়।

তবে শীতের ব্যবসায় কী বেচবেন, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো কবে কিনবেন আর কবে থামবেন। শীতের বেচাকেনা চলে মোটে তিন মাস। এক মাস দেরিতে নামলে মৌসুমের অর্ধেকটাই হাতছাড়া হয়ে যায়। আবার জানুয়ারির শেষে বেশি মাল হাতে থাকলে কষ্টের টাকাটা পুরো এক বছর ঘরের কোণে বস্তায় বসে থাকে। যিনি একবার এই ভুল করেছেন, তিনি জানেন গরমকালে ওই বস্তার দিকে তাকাতে কেমন লাগে। তাই নিচে প্রতিটা জিনিসের ঝুঁকি, অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারির একটা ক্যালেন্ডার, ভারী পার্সেলে কুরিয়ারের হিসাব আর শীত শেষের প্ল্যান একসাথে দিলাম, যাতে এই শীতের লাভটা লাভ হয়েই আপনার হাতে থাকে।

শীতকালে কি ব্যবসা করা যায়, অনলাইনে কোন জিনিস চলে?

এই তিন রকম জিনিসের প্রতিটায় ঝুঁকি আলাদা। তাই কোনটা দিয়ে শুরু করবেন ঠিক করার আগে দেখে নিন, কোন ঝুঁকিটা আপনি সামলাতে পারবেন আর কোনটা পারবেন না।

গরম কাপড়ের চাহিদা সবচেয়ে বেশি, আর লাভ রাখার সুযোগও এখানেই বেশি। কিন্তু এখানে ঝুঁকি হলো ওজন আর আকার। একটা হুডি আধা কেজির আশেপাশে থাকে, কিন্তু একটা ডাবল কম্বল বা ভারী জ্যাকেট সহজেই দুই-তিন কেজি হয়ে যায়। ওজন বাড়লে কুরিয়ার চার্জ বাড়ে, আর পার্সেল ফেরত এলে ক্ষতিটাও বড় হয়। এর সাথে সাইজের ঝামেলা তো আছেই। জ্যাকেট আর বাচ্চাদের সেট সাইজে না মিললে ফেরত আসে, শাল আর মাফলারে সেই ভয় প্রায় নেই।

লোশন আর লিপ বামের মতো জিনিস হালকা, তাই পাঠাতে খরচ কম পড়ে। কিন্তু লোশন আর লিপ বাম পাড়ার দোকানেও পাওয়া যায়, তাই দাম নিয়ে টানাটানি বেশি আর এক অর্ডারে লাভ থাকে কম। এখানে আসল ঝুঁকি হলো নকল মাল আর মেয়াদ। চেনা ইমপোর্টার বা ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে ইনভয়েসসহ না কিনলে একটা খারাপ রিঅ্যাকশনেই পেজের নাম খারাপ হয়ে যায়। একা এগুলো দিয়ে ব্যবসা দাঁড় করানো কঠিন, কাপড় বা খাবারের পাশে সাথের জিনিস হিসেবে রাখলে ভালো চলে।

শহরের মানুষ শীত এলেই গ্রামের গুড়-পাটালি খোঁজেন। ছোটবেলার শীতের সেই স্বাদের জন্য খাঁটি জিনিস পেলে অনেকে একটু বেশি দাম দিতেও রাজি থাকেন। কিন্তু এখানে ঝুঁকি হলো ভেজাল আর লাইসেন্স। এই দুটো নিয়ে নিচে আলাদা করে বলছি।

একজন তরুণ সেলার বাসার মেঝেতে বসে একটা হুডি কুরিয়ারের পলিতে ভরছেন, পাশে ভাঁজ করা ভারী কম্বল, খালি পলি আর ডিজিটাল ওজন মাপার যন্ত্রে রাখা একটা পার্সেল
হুডি আর মাফলার হালকা, কম্বল ভারী। প্যাক করার আগেই ওজনটা মেপে দেখুন, কুরিয়ার চার্জ ওখান থেকেই ঠিক হয়

শীতের কাপড়ের ব্যবসা, কোনটা দিয়ে শুরু করবেন?

প্রথম শীতে সবকিছু একসাথে বেচতে যাবেন না। দশ রকম জিনিস আনলে টাকা দশ জায়গায় ভাগ হয়ে যায়, আর কোনটা আসলে চলছে সেটাও বোঝা যায় না। শুরু করুন দুইটা জিনিস দিয়ে। একটা হবে সাইজের ঝামেলা ছাড়া, আরেকটা সাইজওয়ালা।

সাইজ ছাড়া জিনিসের মধ্যে শাল, মাফলার আর কানটুপি সবচেয়ে সহজ। এগুলো হালকা, তাই ঢাকার বাইরে পাঠালেও কুরিয়ার চার্জ এক কেজির ঘরেই থাকে। সাইজ না মেলার কারণে ফেরত আসে না বললেই চলে। দাম কম বলে কাস্টমারও বেশি ভাবেন না, আর একটার সাথে আরেকটা জুড়ে দেওয়াও সহজ।

সাইজওয়ালা জিনিসের মধ্যে ছেলেদের হুডি আর বাচ্চাদের শীতের সেট ভালো শুরু। হুডিতে সাইজের ঝামেলা জ্যাকেটের চেয়ে কম, কারণ ঢিলেঢালা জিনিস এক সাইজ এদিক-ওদিক হলেও অনেকে রেখে দেন। বাচ্চাদের সেটের একটা বড় সুবিধা আছে। বাচ্চা প্রতি বছর বড় হয়, তাই আগের বছরের কাপড় আর গায়ে লাগে না। যে বাবা-মা এ বছর আপনার কাছ থেকে কিনে খুশি হলেন, তাঁরা পরের শীতে বড় সাইজের জন্য আবার আপনার কাছেই আসতে পারেন। শুধু পাইকারের কাছ থেকে বয়স ধরে সাইজের চার্ট নিয়ে নেবেন, আর সেটা পেজে ও পোস্টে দিয়ে দেবেন।

কম্বল আর ভারী জ্যাকেট প্রথম শীতে না ধরাই ভালো, যদি না হাতে বাড়তি টাকা আর রাখার জায়গা থাকে। একটা কম্বলে অনেক বেশি টাকা আটকে যায়। কুরিয়ারেও খরচ বেশি পড়ে, আর না বিকোলে ঘরের অনেকটা জায়গা জুড়ে বসে থাকে। কেন, সেটা নিচে টাকায় দেখাচ্ছি।

একটা কথা মনে রাখবেন। যে জিনিস আপনি নিজে হাতে ধরে দেখেননি, তার অ্যাডে টাকা দেবেন না। শীতের কাপড়ে ছবি আর আসল জিনিসের পার্থক্য সবচেয়ে বেশি হয় কাপড়ের পুরুত্বে। ছবিতে মোটা দেখানো সোয়েটার হাতে পেয়ে পাতলা মনে হলে কাস্টমার রাগ করে ফেরত দেন, আর সেটা পেজে লিখেও দেন।

খেজুরের গুড় আর শীতের খাবার বেচতে কী সাবধানতা?

খেজুরের গুড় অনলাইনে বেচার আগে জেনে রাখুন, এই বাজারে ভেজালের খবর প্রতি শীতেই আসে। সমকালে ৫ জানুয়ারি ২০২৫-এর একটা প্রতিবেদনে নাটোরের গুরুদাসপুরের কথা আছে। সেখানে চিনি, হাইড্রোজ, রং, সোডা আর ফিটকিরি মিশিয়ে খেজুরের গুড় বানানোর কথা লেখা হয়েছে। বণিক বার্তায় ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২-এর আরেক প্রতিবেদনে রাজশাহীর বাঘায় একটা কারখানা ধরা পড়ার খবর আছে, যেখানে চিনি, চুন, ফিটকিরি, ডালডা আর হাইড্রোজ দিয়ে গুড় বানানো হচ্ছিল। আপনি যাঁর কাছ থেকে কিনছেন, তিনি যদি এমন মাল দেন, কাস্টমারের কাছে দোষটা যাবে আপনার পেজের নামে।

তাই গুড় কিনুন চেনা গাছির কাছ থেকে, পারলে একবার নিজে গিয়ে জ্বাল দেওয়াটা দেখে আসুন। প্রথম বছর অল্প কেজি দিয়ে শুরু করুন। জ্বাল দেওয়ার ছোট একটা ভিডিও পোস্টে দিন, কারণ কাস্টমারের সবচেয়ে বড় প্রশ্নই হলো "খাঁটি তো?"। যা প্রমাণ করতে পারবেন না, সেটা লিখবেন না। "১০০% খাঁটি" লিখে একবার ধরা খেলে সেই কাস্টমার আর ফেরেন না, সাথে আরও দশজনকে বলে দেন।

খাবার বেচতে কোন কাগজ লাগে, ট্রেড লাইসেন্স থেকে নিরাপদ খাদ্য রেজিস্ট্রেশন আর প্যাকেটের লেবেল পর্যন্ত, সেটা ফুড লাইসেন্সের লেখায় ধাপে ধাপে বলা আছে। শুরুর আগে একবার পড়ে নিন।

প্যাকিংয়েও আলাদা যত্ন লাগে। ঝোলা গুড় তরল, তাই মুখ শক্ত করে আটকানো বয়ামে ভরুন, মুখে টেপ দিন, তারপর দুই পরত পলিতে মুড়ে পাঠান। কুরিয়ারের বস্তায় অন্যের পার্সেলের নিচে চাপা পড়লে ঢিলা মুখের বয়াম থেকে গুড় বেরিয়ে পুরো পার্সেল নষ্ট হয়। পিঠার চালের গুঁড়ার বেলায় ভেজা গুঁড়া বেশিদিন রাখা যায় না, তাই আগে অর্ডার নিন, তারপর ভাঙান। সরিষার মধুও শীতের জিনিস, কারণ সরিষার ফুল ফোটে শীতে। মধু বেচলে কাস্টমারকে আগেই বলে রাখুন যে ঠান্ডায় মধু জমে যেতে পারে, যাতে তিনি জমা মধু দেখে ভেজাল ভেবে না বসেন।

শীতের মালের স্টক কবে তুলবেন, অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারির ক্যালেন্ডার

শীতের ব্যবসায় সবচেয়ে বেশি টাকা নষ্ট হয় ভুল সময়ে কেনার জন্য। ধরুন ডিসেম্বরের এক রাতে হঠাৎ ঠান্ডা নামল। সকালে ফোন খুলে দেখলেন ইনবক্সে চল্লিশটা মেসেজ, সবাই দাম জানতে চাইছেন, অথচ পাঠানোর মতো মাল হাতে নেই। ছুটে পাইকারের কাছে গিয়ে দেখলেন ভালো ডিজাইনগুলো শেষ, দামও বেড়ে গেছে। এই কষ্টটা এড়ানোর একটাই উপায়, আগে থেকে একটা ক্যালেন্ডার ধরে চলা।

ক্যালেন্ডারটা দাঁড়িয়ে আছে দুইটা তথ্যের ওপর। আবহাওয়া অধিদপ্তরের (BMD) বিজ্ঞানীদের ২০২৩ সালের একটা গবেষণায় দেশের শীতকাল ধরা হয়েছে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি। আর প্রথম আলোর ১৬ জানুয়ারি ২০২৪-এর একটা প্রতিবেদন বলছে, শীতের পোশাকের মৌসুমি ব্যবসা তিন মাসের, শুরু হয় নভেম্বরে আর চলে জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত। মানে কাস্টমার কিনতে শুরু করেন ঠান্ডা পুরো নামার আগেই। নিচের সময়গুলো এই দুটো মিলিয়ে বানানো একটা শুরুর প্ল্যান, আপনার এলাকা আর জিনিস দেখে এক-দুই সপ্তাহ আগে-পিছে করে নিন।

সময় কী করবেন কেন
অক্টোবরের শেষ দুই সপ্তাহ দুইটা জিনিস ঠিক করুন, দুই-তিনজন পাইকারের কাছ থেকে স্যাম্পল আনুন, ছবি-ভিডিও তুলুন, প্রোডাক্টের পেজ বানিয়ে রাখুন নভেম্বরে অ্যাড চালুর দিন যেন কিছু বাকি না থাকে
নভেম্বরের প্রথম দুই সপ্তাহ প্রথম লট ছোট করে কিনুন, অল্প বাজেটে অ্যাড দিয়ে দেখুন কোনটা চলে মৌসুম শুরু হয় নভেম্বরে, ভালো ডিজাইন আর দাম পাওয়া যায় শুরুতেই
নভেম্বরের শেষ থেকে ডিসেম্বরের শেষ যেটা চলছে সেটা দুই-তিন দফায় আবার কিনুন, যেটা চলছে না সেটা আর কিনবেন না ভরা মৌসুম, একবারে সব কিনলে টাকা আটকায়
জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ শেষ বড় কেনা, এরপর নতুন মাল না এর পরে কেনা মাল বেচার সময় তিন সপ্তাহও থাকে না
জানুয়ারির মাঝামাঝি স্টক গুনুন, শেষ তারিখ দিয়ে এক্সিট সেল শুরু করুন ঠান্ডা থাকতে থাকতে বেচলে ছাড় কম দিতে হয়
জানুয়ারির শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি বাকি মাল সবচেয়ে ঠান্ডা জেলায় অ্যাড দিয়ে বা অন্য সেলারকে দিয়ে ছাড়ুন, যা থাকে গুছিয়ে রাখুন পরের শীত পর্যন্ত টাকা আটকে রাখার চেয়ে এখন কম লাভে ছাড়া ভালো
অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারির একটা দেয়াল ক্যালেন্ডারের নকশা, অক্টোবরের শেষে স্যাম্পল আর ছবি, নভেম্বরের শুরুতে প্রথম ছোট লট, ডিসেম্বর পর্যন্ত দফায় দফায় রিস্টক, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে শেষ বড় কেনা আর তারপর এক্সিট সেল, আলাদা রঙের দাগে
স্যাম্পল অক্টোবরে, প্রথম লট নভেম্বরে, শেষ বড় কেনা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে

রিস্টক মানে এখানে ছোট ছোট দফায় কেনা। ডিসেম্বরে বিক্রি যত ভালোই চলুক, পুরো মৌসুমের মাল একবারে তুলবেন না। কোন সংখ্যায় নামলে আবার কিনবেন আর কত পিস কিনবেন, তার হিসাব ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্টের লেখায় আছে। শুধু মনে রাখবেন, সিজনের শুরুতে বিক্রি হঠাৎ কয়েক গুণ হয়ে যায়, তাই গত দুই সপ্তাহের গড় দিয়ে কিনলে মাল কম পড়বে।

আরেকটা কথা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওই গবেষণায় বলা আছে, রংপুর, রাজশাহী আর সিলেট বিভাগে সবচেয়ে বেশি ঠান্ডা পড়ে, কখনো কখনো ৩ ডিগ্রি বা তার নিচে নামে। তাই ঢাকায় যখন সবে হালকা শীত, তখনো এসব এলাকার কাস্টমারের কাছে গরম কাপড় দরকারি জিনিস। অ্যাড দেওয়ার সময় এই জেলাগুলোকে আলাদা করে দেখতে পারেন।

বাচ্চাদের শীতের পোশাক আর কম্বল পাইকারি কোথায় পাওয়া যায়?

প্রথম আলোর ১৬ জানুয়ারি ২০২৪-এর ওই প্রতিবেদনে শীতের পোশাকের বড় পাইকারি বাজার বলা হয়েছে ঢাকার বঙ্গবাজার আর গুলিস্তান এলাকাকে। এর বাইরে কেরানীগঞ্জ আর নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকাতেও শীতের পোশাকের পাইকারি ব্যবসা আছে। প্রতিবেদনটা বলছে, কেরানীগঞ্জ পোশাকপল্লি আর কামরাঙ্গীরচরে কম দামের শীতের পোশাক বানানো হয়। তাই বাচ্চাদের শীতের সেট আর হুডি খুঁজলে কেরানীগঞ্জ দিয়ে শুরু করতে পারেন। বঙ্গবাজারে যাওয়ার আগে একটা কথা মাথায় রাখবেন। ২০২৩ সালের আগুনের পর ওখানকার অনেক দোকান আশপাশের মার্কেটে ছড়িয়ে গেছে, তাই চেনা দোকানটা এখন কোথায় বসছে, আগে ফোন করে জেনে নিন। কোন মার্কেট কবে বন্ধ, প্রথমবার কত টাকা নিয়ে যাবেন আর কাপড়ের মান কীভাবে দেখবেন, সেটা ঢাকার পাইকারি কাপড়ের বাজারের লেখায় বিস্তারিত আছে।

কম্বলের বেলায় হিসাবটা একটু আলাদা। ওই প্রতিবেদনে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলেছেন, শৌখিন কম্বলের প্রায় পুরোটাই বিদেশ থেকে আসে, আর ত্রাণের কম্বল দেশেই বানানো হয়। সেখানে দামের যে হিসাব আছে, তাতে দেশি কম্বল বিক্রি হচ্ছিল ১৫০ থেকে ৭৫০ টাকায়, আর বিদেশি কম্বলের দাম শুরু ৮০০ টাকা থেকে, মান ভালো হলে ৮,০০০ টাকা পর্যন্ত। দামগুলো দুই বছর আগের, এ বছর বাজারে গিয়ে নিজে মিলিয়ে নেবেন। তবু এখান থেকে একটা জিনিস পরিষ্কার। একটা কম্বলে যত টাকা আটকায়, তাতে কয়েকটা মাফলার বা হুডি কেনা যায়।

পাইকার যা-ই বলুক, বড় লট কেনার আগে কয়েকটা কাজ নিজে করুন। প্রতিটা ডিজাইনের একটা করে স্যাম্পল কিনে বাসায় একবার ধুয়ে দেখুন রং ওঠে কি না, রোঁয়া ওঠে কি না, আর মাপে ছোট হয় কি না। চেইন আর বাটন কয়েকবার টেনে দেখুন। কম্বল হলে ওজন মেপে লিখে রাখুন, কারণ ওই ওজনই ঠিক করবে প্রতিটা পার্সেলে কুরিয়ার কত নেবে। আর জিজ্ঞেস করে রাখুন, ডিসেম্বরে একই মাল আবার পাওয়া যাবে কি না, আর পাওয়া গেলে দাম কত হবে। প্রথম আলোর ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩-এর আরেক প্রতিবেদনে এক ব্যবসায়ী বলেছেন, পাইকারি বেচাকেনার বড় অংশ হয় শীতের শুরুতে। দেরিতে গেলে ভালো মাল আগেই অন্যের হাতে চলে যায়।

ভারী কম্বল-জ্যাকেট কুরিয়ারে পাঠালে খরচ কত বাড়ে?

শীতের ব্যবসায় কুরিয়ারের হিসাব অন্য সময়ের চেয়ে আলাদা, কারণ পার্সেল ভারী। অনেক সেলার ১ কেজির রেট মাথায় রেখে দাম ঠিক করেন, তারপর তিন কেজির কম্বল পাঠাতে গিয়ে দেখেন লাভ অর্ধেক হয়ে গেছে।

অক্টোবর ২০২৬-এ Pathao-র কুরিয়ার পেজে যে রেট লেখা আছে, সেটা দিয়ে দেখুন। ঢাকা থেকে অন্য জেলায় ১ কেজি পর্যন্ত চার্জ ১৩০ টাকা, ১ থেকে ২ কেজি ১৭০ টাকা, আর ২ কেজির পরে প্রতি কেজিতে ২৫ টাকা করে যোগ হয়। ঢাকার ভেতরে এই তিন ঘরে রেট ৭০ টাকা, ৯০ টাকা আর প্রতি কেজিতে বাড়তি ১৫ টাকা। VAT আর ১% COD চার্জ এর বাইরে। তাহলে একটা হুডি ঢাকার বাইরে যায় ১৩০ টাকায়, আর তিন কেজির একটা কম্বল যায় ১৯৫ টাকায়।

ফেরত এলে পার্থক্যটা আরও বড় হয়। Pathao-র পেজে লেখা আছে, ঢাকা মেট্রোর বাইরের অর্ডার ফেরত এলে ডেলিভারি চার্জের সাথে আরও ৫০% রিটার্ন চার্জ কাটে। মানে ঢাকার বাইরে থেকে একটা হুডি ফেরত এলে যায় ১৩০ আর ৬৫, মোট ১৯৫ টাকা। তিন কেজির কম্বল ফেরত এলে যায় ১৯৫ আর প্রায় ৯৮, মোট প্রায় ২৯৩ টাকা। অন্য কুরিয়ারে ভারী পার্সেলের রেট আলাদা, তাই যে কুরিয়ারে পাঠান তার রেট পেজে ২ আর ৩ কেজির ঘরটা একবার দেখে নিন।

এই হিসাব থেকে সবচেয়ে জরুরি যে কাজটা বের হয়, সেটা হলো ঢাকার বাইরের কম্বলের অর্ডারে ডেলিভারি চার্জটা অগ্রিম নেওয়া। ২৯৩ টাকার ঝুঁকি আপনার একার ঘাড়ে রাখার কোনো মানে নেই। অগ্রিম চাইলে কিছু অর্ডার হয়তো কমবে, কিন্তু যে অর্ডারগুলো থাকবে, সেগুলো ফেরত আসার ভয় অনেক কম।

এরপর দেখুন দুইটা জিনিস এক পার্সেলে পাঠানো যায় কি না। দুইটা তিন কেজির কম্বল আলাদা পাঠালে ঢাকার বাইরে যায় ৩৯০ টাকা। এক পার্সেলে ছয় কেজি পাঠালে যায় ১৭০ টাকা আর বাড়তি চার কেজির ১০০ টাকা, মোট ২৭০ টাকা। বাঁচানো ১২০ টাকার কিছুটা কাস্টমারকে ছাড় হিসেবে দিন, তাতে দুজনেরই লাভ। আর প্রথম পার্সেল পাঠানোর আগেই মার্চেন্ট সাপোর্টে জিজ্ঞেস করে নিন, বড় আর ফোলা প্যাকেট নিয়ে তাদের আলাদা কোনো নিয়ম আছে কি না। Pathao-র রেট পেজে এ নিয়ে কিছু লেখা নেই, তাই পরে বিল দেখে মন খারাপ করার চেয়ে আগে জেনে নেওয়া ভালো।

হুডি না কম্বল, কোনটায় আসলে লাভ বেশি? (টাকায় উদাহরণ)

এবার দুইটা জিনিস পাশাপাশি রেখে টাকায় দেখি, একটা ছেলেদের হুডি আর একটা ডাবল কম্বল। নিচের কেনা দাম, বিক্রির দাম, অ্যাডের খরচ আর ফেরতের সংখ্যা সব বানানো উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। কুরিয়ার চার্জ ওপরের Pathao-র রেট ধরে, সব অর্ডার ঢাকার বাইরের, আর VAT ও COD চার্জ ধরা হয়নি। নিজের দাম বসিয়ে একবার গুনে দেখুন।

হুডি। ধরুন কেনা দাম ৪৫০ টাকা, প্যাকেটে যায় ১৫ টাকা, বেচেন ৮৫০ টাকায়। ডেলিভারি চার্জ ১৩০ টাকা কাস্টমার দেন। তাহলে একটা হুডি ডেলিভারি হলে হাতে থাকে ৩৮৫ টাকা। এবার ২০টা অর্ডার ধরুন, প্রতিটার পেছনে অ্যাডে গেছে ১৫০ টাকা, মানে ৩,০০০ টাকা। ২০টার মধ্যে ৩টা ফেরত এলো। প্রতিটা ফেরতে কুরিয়ার আর রিটার্ন চার্জ মিলে ১৯৫ টাকা, সাথে নষ্ট প্যাকেট ১৫ টাকা, তিনটায় ৬৩০ টাকা। ১৭টা ডেলিভারি থেকে এলো ১৭ × ৩৮৫ = ৬,৫৪৫ টাকা। অ্যাড আর ফেরত বাদ দিলে থাকে ৬,৫৪৫ − ৩,০০০ − ৬৩০ = ২,৯১৫ টাকা।

কম্বল। ধরুন ওজন ৩ কেজি, কেনা দাম ১,১০০ টাকা, প্যাকেটে ৩০ টাকা, বেচেন ১,৮০০ টাকায়। পেজে ডেলিভারি চার্জ লেখা ১৩০ টাকা, কিন্তু কুরিয়ার কাটে ১৯৫, তাই বাকি ৬৫ টাকা আপনার পকেট থেকে যায়। একটা কম্বল ডেলিভারি হলে হাতে থাকে ১,৮০০ − ১,১০০ − ৩০ − ৬৫ = ৬০৫ টাকা। ২০টা অর্ডারে অ্যাডে গেল ২০০ টাকা করে, মানে ৪,০০০ টাকা। ৩টা ফেরত এলো, প্রতিটায় প্রায় ২৯৩ টাকা কুরিয়ার আর ৩০ টাকা প্যাকেট, তিনটায় প্রায় ৯৬৯ টাকা। ১৭টা ডেলিভারি থেকে এলো ১৭ × ৬০৫ = ১০,২৮৫ টাকা। বাকি থাকে ১০,২৮৫ − ৪,০০০ − ৯৬৯ = ৫,৩১৬ টাকা।

কাগজে কম্বলের লাভ প্রায় দ্বিগুণ দেখাচ্ছে। কিন্তু হিসাবটা এখানে থামালে ভুল হবে। ২০টা অর্ডার পাঠাতে হাতে অন্তত ২০ পিস লাগে। ২০টা হুডির স্টকে লাগে ৯,০০০ টাকা, আর ২০টা কম্বলের স্টকে লাগে ২২,০০০ টাকা। এবার ধরুন মৌসুম ভালো যাবে ভেবে দুই দিকেই ৩০ পিস করে কিনলেন, আর জানুয়ারির শেষে ১০টা করে রয়ে গেল। হুডিতে আটকাল ৪,৫০০ টাকা, কম্বলে ১১,০০০ টাকা। মানে কম্বলে যে ৫,৩১৬ টাকা লাভ দেখে খুশি হয়েছিলেন, তার দ্বিগুণেরও বেশি টাকা বস্তায় ভরে পরের শীত পর্যন্ত বসে থাকবে, আর ঘরের একটা কোণও দখল করে রাখবে।

তাই সিদ্ধান্তের নিয়মটা এমন রাখুন। হাতের টাকা যদি কম্বলের পুরো লট কিনে ফেলার পরেও অ্যাড আর সংসারের খরচের জন্য যথেষ্ট থাকে, তবেই কম্বল ধরুন, তাও প্রথম লট দশ-বারোটার বেশি না। নইলে প্রথম শীতটা হুডি, শাল আর মাফলার দিয়েই পার করুন। আর কোন জিনিসে আসলে লাভ থাকল, সেটা গুনবেন শুধু ডেলিভারি হওয়া অর্ডার থেকে। অর্ডার নেওয়ার দিনের খুশিটা আসল হিসাব না, কারণ ওই অর্ডারের কয়েকটা ফেরত আসবেই।

শীত শেষে মাল থেকে গেলে কী করবেন?

জানুয়ারির শেষে ঘরের কোণে না বিকানো জ্যাকেটের বস্তা দেখে বুকটা ভারী হয়ে যায়। ডলার স্পেন্ড করে যে মৌসুমটা টানলেন, তার লাভের বড় অংশ যেন ওই বস্তার ভেতরেই আটকে আছে। এই অবস্থায় পড়ার আগেই একটা তারিখ ঠিক করে রাখুন। ১৫ জানুয়ারির দিকে বসে স্টক গুনুন, আর দেখুন আগের দুই সপ্তাহে দিনে কয় পিস করে গেছে। ওই গতিতে জানুয়ারির শেষের মধ্যে কতটা যাবে, সেটা গুনলেই বুঝবেন কত পিস বাড়তি।

আটকে যাওয়া মাল ছাড়ার সাধারণ পথগুলো ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্টের ওই লেখার "যে মাল বিক্রি হয় না" অংশে কম ক্ষতি থেকে বেশি ক্ষতির দিকে সাজানো আছে। ভালো চলা জিনিসের সাথে জুড়ে দেওয়া, শেষ তারিখ দিয়ে ছাড়, আর শেষে কেনা দামের কাছাকাছি দামে অন্য সেলারকে দিয়ে দেওয়া, সবই শীতের মালেও খাটে। যেমন হুডির সাথে মাফলারটা একটু কম দামে দিলে অনেক সময় দুইটাই বেরিয়ে যায়।

শীতের মালে এর বাইরে দুইটা বাড়তি সুযোগ আছে। জানুয়ারির শেষে ঢাকায় ঠান্ডা কমে এলেও রংপুর, দিনাজপুর বা সিলেটের দিকে সাধারণত তখনো শীত থাকে। তাই ওই জেলাগুলোতে আলাদা করে ছোট বাজেটে অ্যাড দিলে বাকি সোয়েটার-জ্যাকেট বেরিয়ে যেতে পারে। আর এই শীতে যাঁরা আপনার কাছ থেকে বাচ্চার সেট বা হুডি নিয়েছেন, তাঁদের আগে একটা মেসেজ দিন। একবার যিনি পার্সেল রেখে খুশি হয়েছেন, তিনি দ্বিতীয়বার ফেরত দেন কম।

যা তবু থাকে, সেটা রাখার আগে ভেবে দেখুন। শীতের কাপড় নষ্ট হয় না, তাই রাখার জায়গা আর হাতে টাকা থাকলে পরের শীত পর্যন্ত রাখা যায়। শুকনো জায়গায় ভালো করে প্যাক করে রাখবেন, আর বর্ষার পরে একবার খুলে দেখবেন। কিন্তু গুড়, চালের গুঁড়া আর লোশনের মতো মেয়াদি জিনিস কখনো পরের বছরের জন্য রাখবেন না। ফেব্রুয়ারির মধ্যেই কম দামে হলেও ছেড়ে দিন, কারণ মেয়াদ পেরোনো খাবার একবার কাস্টমারের হাতে গেলে পেজের ওপর তাঁর বিশ্বাস আর ফেরে না।

এই প্ল্যান কার জন্য না, আর আজ কোথা থেকে শুরু করবেন

যিনি এখনো একটা অর্ডারও পাঠাননি, তাঁর জন্য শীতের মৌসুম দিয়ে ব্যবসা শুরু করা একটু ঝুঁকির। মৌসুম ছোট, শেখার সময় কম, আর ভুল করলে মাল এক বছর আটকে থাকে। আপনি নতুন হলে শাল বা মাফলারের মতো একটা হালকা জিনিস দিয়ে অল্প টাকায় শুরু করুন, আর এই শীতটাকে শেখার মৌসুম ধরুন। আর হাতের পুরো টাকা দিয়ে শীতের মাল কিনবেন না। জানুয়ারিতে স্টক আটকে গেলে অ্যাডের টাকাও থাকবে না, সংসারের খরচও টানাটানিতে পড়বে।

আজই যা করতে পারেন সেটা ছোট। কোন দুইটা জিনিস বেচবেন, ঠিক করে ফেলুন। এই সপ্তাহে পাইকারের কাছে গিয়ে বা ফোনে স্যাম্পল আনিয়ে নিন, বাসায় ধুয়ে, মেপে আর ওজন করে দেখুন। তারপর অক্টোবরের মধ্যে ছবি আর ভিডিও তুলে প্রতিটা জিনিসের জন্য একটা আলাদা পেজ বানিয়ে রাখুন, যাতে নভেম্বরের প্রথম দিনেই অ্যাড চালু করতে পারেন।

এই পেজ বানানোর কাজটা WinningSeller-এ ছোট হয়ে যায়। ল্যান্ডিং টেমপ্লেট থেকে, বা AI দিয়ে ৫ মিনিটে, প্রতিটা শীতের জিনিসের জন্য আলাদা ল্যান্ডিং পেজ বানানো যায়, যেখানে কাস্টমার সরাসরি অর্ডার দেন। অর্ডারের সময় শুধু ডেলিভারি চার্জটা অগ্রিম নেওয়ার অপশনও আছে, যেটা কম্বলের মতো ভারী জিনিসে সবচেয়ে কাজে আসে। জানুয়ারির এক্সিট সেলের জন্য একটা কুপন কোড বানিয়ে পুরনো কাস্টমারদের জানিয়ে দিতে পারেন। আর ডেলিভারি হওয়া অর্ডার থেকে লাভ-ক্ষতির হিসাব দেখে বুঝবেন হুডি না কম্বল, কোনটা আসলে টাকা দিল। বাকি ফিচারগুলো এখানে দেখে নিন।

সাধারণ প্রশ্ন

শীতকালে অনলাইনে কোন ব্যবসা সবচেয়ে ভালো চলে?

অনলাইনে শীতে সাধারণত গরম কাপড়ই সবচেয়ে বেশি চলে, যেমন হুডি, জ্যাকেট, সোয়েটার, শাল, মাফলার, বাচ্চাদের শীতের সেট আর কম্বল। এর পাশে চলে লোশন, লিপ বাম আর খেজুরের গুড়, পাটালি বা পিঠার চালের গুঁড়ার মতো শীতের খাবার। নতুন সেলারের জন্য হালকা আর সাইজের ঝামেলা কম এমন জিনিস দিয়ে শুরু করাই নিরাপদ।

শীতের কাপড়ের স্টক কবে কিনতে হয়?

অক্টোবরের শেষ দিকে স্যাম্পল এনে ছবি তুলে রাখুন, আর প্রথম লট কিনুন নভেম্বরের শুরুতে। প্রথম আলোর ২০২৪ সালের জানুয়ারির এক প্রতিবেদন বলছে, শীতের পোশাকের মৌসুমি ব্যবসা নভেম্বরে শুরু হয়ে চলে জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত। তাই জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের পরে নতুন করে বড় লট না কেনাই ভালো।

শীতের কাপড় পাইকারি কোথায় পাওয়া যায়?

প্রথম আলোর জানুয়ারি ২০২৪-এর এক প্রতিবেদনে ঢাকার বঙ্গবাজার আর গুলিস্তান এলাকাকে শীতের পোশাকের বড় পাইকারি বাজার বলা হয়েছে, সাথে কেরানীগঞ্জ আর নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকার কথাও আছে। ২০২৩ সালের আগুনের পর বঙ্গবাজারের অনেক দোকান আশপাশে সরে গেছে, তাই যাওয়ার আগে ফোনে খোঁজ নিন। প্রথমবার গেলে অল্প পিস স্যাম্পল নিন, বাসায় ধুয়ে আর মেপে দেখে তারপর বড় লট কিনুন।

খেজুরের রস কি অনলাইনে বেচা যায়?

কাঁচা রস বেচবেন না। IEDCR বলছে, বাদুড়ের কারণে কাঁচা খেজুরের রসে নিপাহ ভাইরাস ছড়াতে পারে, আর জ্বাল দেওয়া রস বা গুড় খাওয়া নিরাপদ। তাই অনলাইনে বেচুন গুড় আর পাটালি, রস না।

কম্বল কুরিয়ারে পাঠাতে কত টাকা লাগে?

চার্জ নির্ভর করে ওজন আর কোথায় যাবে তার ওপর। অক্টোবর ২০২৬-এ Pathao-র ওয়েবসাইটের রেট ধরলে ঢাকা থেকে অন্য জেলায় ৩ কেজির একটা পার্সেলে ১৯৫ টাকা পড়ে, VAT আর ১% COD চার্জ আলাদা। Pathao-তে ঢাকা মেট্রোর বাইরের পার্সেল ফেরত এলে এর অর্ধেক আবার রিটার্ন চার্জ কাটে।

শীত শেষে না বিকানো শীতের কাপড় কী করব?

জানুয়ারির মাঝামাঝি স্টক গুনে শেষ তারিখ দিয়ে এক্সিট সেল দিন, আর পুরনো কাস্টমারদের আগে জানান। যা তবু থাকে, সেটা কেনা দামের কাছাকাছি দামে অন্য সেলারকে দিন, নয়তো শুকনো জায়গায় ভালো করে প্যাক করে পরের শীত পর্যন্ত রাখুন। শুধু খাবার আর লোশনের মতো মেয়াদি জিনিস পরের বছরের জন্য রাখবেন না।

#শীতকালীন ব্যবসা#শীতের কাপড়ের ব্যবসা#খেজুরের গুড়#কম্বল পাইকারি#সিজনাল ব্যবসা#অনলাইন ব্যবসা

আরও পড়ুন

খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম

বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম

থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়