SKU কি? আর্টিকেল নম্বর দিলে ভুল সাইজ-রঙের পার্সেল আর যায় না
SKU মানে প্রতিটা সাইজ আর রঙের নিজের একটা ছোট কোড, আর আর্টিকেল নম্বর হলো পুরো ডিজাইনের নাম। দুটো ঠিকমতো বানালে প্যাকার, কাস্টমার আর কুরিয়ার সবাই একই জিনিস বোঝেন। কোড বানানোর নিয়ম, তাকে আর পার্সেলে কোথায় লিখবেন, আর একটা ভুল সাইজের পার্সেলের খরচ টাকায়।

এই লেখায় যা আছে
- SKU কি, আর্টিকেল নম্বর আর বারকোডের সাথে পার্থক্য কোথায়?
- কোন দোকানের কোড লাগে, কার এখনই লাগে না
- কোড বানানোর নিয়ম, আগে আর্টিকেল, পরে সাইজ আর রং
- তাক, পলি আর বাক্সে কোড লাগাবেন যেভাবে
- ফোনে আর ইনবক্সে আর্টিকেল নম্বরে কথা বলা
- ভুল সাইজের একটা পার্সেলে কত যায় (উদাহরণ)
- কোডের যে ভুলে পরে সব নতুন করে লিখতে হয়
- আজই করে ফেলুন
SKU মানে Stock Keeping Unit, মানে দোকানের প্রতিটা সাইজ আর রঙের আলাদা একটা ছোট কোড। আর্টিকেল নম্বর হলো পুরো ডিজাইনের নাম, যেটা দিয়ে আপনি, আপনার প্যাকার আর কাস্টমার একই জুতা বা একই পাঞ্জাবিকে চেনেন। ধরুন একটা লোফারের আর্টিকেল নম্বর SH-503। তাহলে তার ৩৮ সাইজ কালো জোড়ার SKU হতে পারে SH-503-38-BK, আর ৪০ সাইজ বাদামির SH-503-40-BR। কোডটা পলিতে, অর্ডারে আর পার্সেলের লেবেলে একই রকম লেখা থাকলে প্যাকিং টেবিলে "৩৮ দিতে গিয়ে ৪০ চলে গেল" ধরনের ভুল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
সন্ধ্যায় প্যাকিং চলছে, টেবিলে চল্লিশটা জুতার বাক্স। একই কাটের কালো আর গাঢ় বাদামি জোড়া টিউবলাইটের নিচে প্রায় এক রকম দেখায়, আর বাক্সের গায়ে পাইকারের হাতে লেখা "৩৯" কোনোটায় আছে, কোনোটায় নেই। এমন দিনে একটা ভুল পার্সেল যাবেই। তিন দিন পর ফোন আসবে, "ভাই, অর্ডার দিলাম কালো, এটা তো বাদামি।" এই লেখা সেই ফোনটা বন্ধ করার জন্য। কোড কীভাবে বানাবেন, কোথায় লিখবেন, কাস্টমারের সাথে কীভাবে কোডে কথা বলবেন, সব এক এক করে বলছি।
SKU কি, আর্টিকেল নম্বর আর বারকোডের সাথে পার্থক্য কোথায়?
তিনটা শব্দ প্রায়ই গুলিয়ে যায়, অথচ তিনটার কাজ আলাদা।
আর্টিকেল নম্বর একটা ডিজাইনের নাম। জুতা আর কাপড়ের বাজারে এই শব্দটাই চলে। পাইকার বলেন "৫০৩ আর্টিকেলটা নতুন এসেছে", কাস্টমার ইনবক্সে লেখেন "৫০৩-এর ৩৮ লাল আছে?" এক ডিজাইনের যত রং আর যত সাইজই থাকুক, আর্টিকেল নম্বর একটাই।
SKU তার এক ধাপ নিচে। একটা ডিজাইন তিন রঙে আর পাঁচ সাইজে এলে আপনার হাতে পনেরোটা আলাদা জিনিস, কারণ ৩৮ কালো দিয়ে ৪১ বাদামির অর্ডার মেটানো যায় না। এই পনেরোটার প্রতিটার আলাদা কোড, সেটাই SKU। স্টক গোনেন SKU ধরে, প্যাক করেন SKU দেখে। SKU ধরে স্টকের খাতা কীভাবে রাখবেন, কোন কলাম লাগবে, সেটা ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্টের লেখায় বিস্তারিত আছে। এখানে আমরা কোডের নামকরণ আর কোড দিয়ে মানুষের সাথে কাজ করা নিয়ে কথা বলব।
বারকোড একটা ছাপা দাগের সারি, যেটা মেশিন পড়ে। সুপারশপের প্যাকেটে যে ১৩ অঙ্কের বারকোড দেখেন, সেটা আন্তর্জাতিক GS1 পদ্ধতির নম্বর, সাধারণত প্রস্তুতকারক নেন। সেটা আপনার নিজের কোড না, আর ফেসবুকে বা নিজের ওয়েবসাইটে বেচতে ওটা লাগে না। কুরিয়ারের লেবেলেও একটা বারকোড থাকে, কিন্তু সেটা পার্সেলের কনসাইনমেন্ট নম্বর, আপনার প্রোডাক্টের না।

কোন দোকানের কোড লাগে, কার এখনই লাগে না
কোড লাগবে কি না, সেটা প্রোডাক্টের সংখ্যার চেয়ে বেশি নির্ভর করে একটা প্রশ্নের ওপর। আপনার একই প্রোডাক্ট কি একাধিক সাইজে বা রঙে আছে? জুতা, শার্ট, পাঞ্জাবি, বোরকা, প্যান্ট বা বাচ্চাদের জামা, এগুলোতে উত্তর প্রায় সবসময় হ্যাঁ। এখানে প্রথম ডিজাইন থেকেই কোড দিন।
আরও তিনটা অবস্থায় কোড ছাড়া চলবে না। দোকানে প্যাক করেন একের বেশি মানুষ। দেখতে প্রায় এক রকম কিন্তু আলাদা দামের জিনিস আছে, যেমন একই চেহারার দুই মানের ঘড়ি। আর দিনে এত অর্ডার যায় যে প্যাকার প্রতিটা ছবি মিলিয়ে দেখার সময় পান না। এই তিন জায়গাতেই ভুলটা হয় চোখের, আর কোড চোখের ভুল ধরে।
কখন এখনই কোডে সময় দেবেন না
একটাই মধু, একটাই সাইজের বোতল, এমন দোকানে SKU বানানোর কিছু নেই। প্রোডাক্টের নামই যথেষ্ট। আবার যিনি এখনো উইনিং প্রোডাক্ট খুঁজছেন, সপ্তাহে সপ্তাহে প্রোডাক্ট বদলাচ্ছেন, তাঁর জন্যও পুরো কোডের ব্যবস্থা এখনই না। যেটা চলবে বলে মনে হচ্ছে, সেটার অর্ডার আসা শুরু হলে কোড দিন। আর বারকোডের স্টিকার প্রিন্টার কেনার চিন্তা আপাতত বাদ দিন। মার্কার আর মাস্কিং টেপেই প্রথম কয়েক হাজার পার্সেল চলে যায়।
কোড বানানোর নিয়ম, আগে আর্টিকেল, পরে সাইজ আর রং
কোডের একটা নিয়ম ঠিক করে নিন, তারপর সেটা আর বদলাবেন না। যে নিয়মটা বাংলাদেশের জুতা আর কাপড়ের দোকানে সবচেয়ে সহজে চলে, সেটা হলো আগে আর্টিকেল নম্বর, তারপর সাইজ, তারপর রং।
আর্টিকেল নম্বরে দুই-তিনটা ইংরেজি অক্ষর আর একটা সংখ্যা রাখুন। অক্ষরগুলো প্রোডাক্টের ধরন বোঝাবে, যেমন জুতার জন্য SH, পাঞ্জাবির জন্য PJ, শার্টের জন্য ST। সংখ্যাটা চলবে ক্রমে, নতুন ডিজাইন এলে পরের সংখ্যা। তারপর হাইফেন দিয়ে সাইজ, তারপর রঙের দুই অক্ষরের সংক্ষেপ। কালো BK, বাদামি BR, মেরুন MR, সাদা WH, নেভি NV। এই সংক্ষেপগুলো একটা কাগজে লিখে রাখুন, যাতে সবাই একই অক্ষর লেখেন।

কয়েকটা ছোট নিয়ম পরে অনেক ঝামেলা বাঁচায়। কোডে স্পেস দেবেন না, শুধু হাইফেন। O আর 0, I আর 1 দেখতে কাছাকাছি, তাই রঙের সংক্ষেপে O বা I রাখবেন না, যেমন অরেঞ্জের জন্য OR না লিখে NG লিখুন। কোড এমন ছোট রাখুন যেন ফোনে একবারেই বলা যায়, "এস এইচ পাঁচশো তিন, আটত্রিশ, কালো"। আর্টিকেল নম্বরটা ছয়-সাত অক্ষরের বেশি লম্বা হলে কেউ আর মুখে বলেন না, তখন সবাই আবার "ওই কালো লোফারটা" বলা শুরু করেন।
বাংলা অক্ষর কোডের ভেতরে না রাখার একটা খুব বাস্তব কারণ আছে। একটা SMS-এ বাংলা একটা অক্ষর থাকলেই পুরো মেসেজ বাংলার নিয়মে চলে যায়, আর তখন একটা SMS-এ ১৬০টার জায়গায় ৭০টা অক্ষর ধরে। কাস্টমারকে অর্ডারের SMS-এ কোড পাঠাতে চাইলে বাংলা কোড আপনার SMS খরচ বাড়াবে। আরেকটা কারণ, প্যাকার বা কুরিয়ারের হাবের লোক সাধারণত ইংরেজি কিবোর্ডে কোড টাইপ করে খোঁজেন। রঙের নাম কাস্টমারের সামনে বাংলায় থাকুক, "মেরুন" লিখুন। কোডের ভেতরে থাকুক MR।
তাক, পলি আর বাক্সে কোড লাগাবেন যেভাবে
কোড শুধু খাতায় থাকলে কোনো কাজে আসে না। প্যাকার যখন তাক থেকে জিনিস তোলেন, তখন কোডটা তাঁর চোখের সামনে থাকতে হবে।
মাল এসে পৌঁছানোর দিনই কাজটা করুন। পাইকারের বান্ডেল খুলে প্রতিটা পিস গুনুন, সাইজের ট্যাগ নিজের চোখে দেখুন, তারপর পলির গায়ে মার্কার দিয়ে বা মাস্কিং টেপে কোড লিখে তবেই তাকে তুলুন। পাইকারের প্যাকেটের লেখায় ভরসা করবেন না। পাইকারের প্যাকেটে লেখা L, ভেতরে আসলে M, এটা নতুন সেলারদের প্রায় সবারই প্রথম মাসে একবার হয়। জুতার বাক্সে কোডটা লিখুন সরু পাশে, যে পাশটা তাকে রাখলে সামনে থাকে। তাহলে বাক্স না টেনেই পড়া যায়।

প্যাকিং টেবিলের সামনের দেয়ালে এক পেজের একটা কোডের লিস্ট টেপ দিয়ে লাগিয়ে রাখুন। তাতে প্রতিটা আর্টিকেল নম্বরের পাশে প্রোডাক্টের নাম আর একটা ছোট ছবি থাকবে, নিচে রঙের সংক্ষেপগুলো। নতুন কেউ প্যাকিংয়ে বসলে প্রথম দিন এই লিস্টটাই তাঁর ট্রেনিং।
পার্সেলের ভেতরের ইনভয়েসে আর বাইরের লেবেলে প্রোডাক্টের নামের পাশে কোডটা থাকা জরুরি। প্যাক করা শেষে টেপ মারার আগে প্যাকার লেবেলের কোড আর হাতের জিনিসের কোড একবার মিলিয়ে নেবেন। এক সেকেন্ডের কাজ। ইনভয়েসে আর কী কী লিখবেন, সেটা পার্সেলের ইনভয়েস নিয়ে লেখায় আছে।
ফেরত আসা পার্সেলের বেলায় নিয়মটা উল্টো দিক থেকে খাটান। পার্সেল খুলে লেবেলের কোড আর ভেতরের জিনিসের কোড মেলান, তারপর তাকে তুলুন। অনেক সময় দেখা যায় কাস্টমার নিজের পুরনো জোড়াটা ঢুকিয়ে ফেরত দিয়েছেন, বা পথে বদলে গেছে। কোড না মেলালে সেই জোড়া স্টকে ঢুকে পরের কাস্টমারের কাছে চলে যায়।
WinningSeller-এ কোডটা কোথায় কোথায় যায়
WinningSeller-এ প্রোডাক্টের ফর্মে নামের ঠিক নিচে "আর্টিকেল নম্বর" ঘর আছে, প্রতিটা প্রোডাক্টে একটা। সাইজ আর রঙের অপশন থাকলে "SKU বানিয়ে দিন" বাটন চাপলে খালি SKU ঘরগুলো আর্টিকেল নম্বর, সাইজ আর রং দিয়ে ভরে যায়, যেমন SH-503-38-কালো। আগে নিজে যেটা লিখেছেন, বাটন সেটা বদলায় না। তাই রঙের নাম বাংলায় রেখে কোডে ইংরেজি সংক্ষেপ চাইলে খালি ঘরে নিজে SH-503-38-BK লিখে দিন, বাকিগুলো বাটনে ভরান।
কোডটা তারপর নিজে থেকেই সব জায়গায় চলে যায়। অর্ডারের পেজ, অর্ডার লিস্ট, ইনভয়েস, পার্সেল লেবেল আর অর্ডারের CSV-তে থাকে। Steadfast, Pathao, Carrybee আর Paperfly-তে পার্সেল বুক করলে আইটেমের বর্ণনায় কোড যায়। RedX আর eCourier-এ যায় আপনার নোটের পরে, জায়গা থাকলে। একটা কথা মনে রাখবেন। পার্সেল লেবেলের বারকোডটা কুরিয়ারের কনসাইনমেন্ট নম্বর বা অর্ডার নম্বর, আর্টিকেল নম্বর থেকে বারকোড বানানো হয় না। আর দোকান আপনাকে একই আর্টিকেল নম্বর দুই প্রোডাক্টে দিতে আটকায় না, নম্বর আলাদা রাখার দায়িত্বটা আপনার। অর্ডার আর কুরিয়ারের বাকি কাজগুলো ফিচারের পেজে এক জায়গায় দেখা যায়।
ফোনে আর ইনবক্সে আর্টিকেল নম্বরে কথা বলা
কোডের আসল লাভটা টের পাবেন কাস্টমারের সাথে কথায়। কাস্টমার ইনবক্সে লেখেন "লাল জুতাটা ৩৮ আছে?" আপনার পেজে লাল জুতা চারটা। কোনটার কথা বলছেন, সেটা বের করতে তিন-চারটা মেসেজ যায়, আর সেই ফাঁকে কাস্টমার অন্য পেজে চলে যান।
এজন্য ইনবক্সে অস্পষ্ট প্রশ্ন এলে প্রথমেই একটা স্ক্রিনশট চান। "ভাই, যে পোস্ট বা ছবিটা দেখে মেসেজ দিচ্ছেন, সেটার একটা স্ক্রিনশট দেবেন? এক মিনিটে সাইজ দেখে জানাচ্ছি।" ছবিতে আর্টিকেল নম্বর লেখা থাকলে সেখান থেকেই পড়ে নিন। সেজন্য প্রতিটা পোস্টের ক্যাপশনে আর ছবির কোণায় আর্টিকেল নম্বরটা রাখুন।

উত্তরেও কোডটা ফিরিয়ে দিন, যাতে কাস্টমার নিজের চোখে মিলিয়ে নিতে পারেন। "জি ভাই, SH-503, ৩৮ সাইজ, কালো, স্টকে আছে। দাম ১,৪৫০ টাকা, ঢাকার বাইরে ডেলিভারি চার্জ আলাদা।" কনফার্মের ফোনেও একই লাইন বলুন। কাস্টমার যদি তখন বলেন "না না, আমি তো বাদামিটা চেয়েছিলাম", তাহলে আপনি একটা ফেরত পার্সেলের পুরো খরচ বাঁচালেন। ভুল জিনিস চলে গেলে প্রমাণ মিলিয়ে কীভাবে সামলাবেন, সেটা ভুল প্রোডাক্ট বা মাল কম নিয়ে লেখায় আছে।
কিছুদিন পর দেখবেন পুরনো কাস্টমাররা নিজেরাই নম্বরে কথা বলছেন, "আগের বার ৫০৩ নিয়েছিলাম, ওইটার মেরুন এসেছে?" রিপিট অর্ডার এভাবেই সহজ হয়। WinningSeller-এ কাস্টমার প্রোডাক্ট পেজে নামের নিচে "আর্টিকেল: SH-503" দেখেন, আর রং-সাইজ বাছলে সেখানে ওই ভ্যারিয়েন্টের SKU চলে আসে। কার্টে, চেকআউটে আর অর্ডারের পরের ধন্যবাদ পেজেও কোডটা থাকে, তাই তিনি স্ক্রিনশট দিলে কোডটা ছবিতেই পাবেন। দোকানের সার্চে কেউ "503" বা বাংলায় "৫০৩" লিখলেও প্রোডাক্টটা আসে। অ্যাডমিনের অর্ডার সার্চেও আর্টিকেল নম্বর বা SKU লিখে খুঁজলে সেই প্রোডাক্টের অর্ডারগুলো আসে।
ভুল সাইজের একটা পার্সেলে কত যায় (উদাহরণ)
"একটা ভুল হলে আর কী হবে" ভাবার আগে একবার টাকায় দেখে নিন। নিচের সব সংখ্যা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না, আর কুরিয়ারের চার্জগুলো ধরে নেওয়া। নিজের দাম আর নিজের কুরিয়ারের চার্জ বসিয়ে মিলিয়ে নিন।
উদাহরণ। একটা লোফার বেচেন ১,৪৫০ টাকায়, কিনতে পড়ে ৮২০ টাকা। প্রতিটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডারে অ্যাডে যায় গড়ে ২০০ টাকা, বাক্স আর পলিতে ২০ টাকা। ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার দেন। ঠিকঠাক গেলে এই অর্ডারে আপনার থাকে ১,৪৫০ − ৮২০ − ২০০ − ২০ = ৪১০ টাকা।
এবার ধরুন রাজশাহীর একজন কাস্টমার চেয়েছিলেন ৩৮, গেছে ৪০। রাইডারের সামনে বাক্স খুলে তিনি পার্সেল নিলেন না। ঢাকার বাইরের ডেলিভারি চার্জ ধরুন ১৩০ টাকা, যেটা এখন আপনাকেই দিতে হবে, কারণ ভুলটা আপনার। ফেরত আনার চার্জ ধরুন ৬৫ টাকা। তারপর ঠিক সাইজটা নতুন করে পাঠাতে আবার ১৩০ টাকা ডেলিভারি আর ২০ টাকার নতুন প্যাকিং। এখানে কাস্টমারের কাছে দ্বিতীয়বার চার্জ চাওয়া যায় না।
বাড়তি খরচ ১৩০ + ৬৫ + ১৩০ + ২০ = ৩৪৫ টাকা। অর্ডারে থাকল ৪১০ − ৩৪৫ = ৬৫ টাকা। মানে চারশো টাকার লাভের অর্ডার একটা ভুল সাইজে পঁয়ষট্টি টাকায় নেমে এলো। আর ফেরত আসা বাক্সটা যদি পথে চাপ খেয়ে দুমড়ে যায়, সেই জোড়া আর নতুন দামে বেচা কঠিন।
মাসে ছয়টা এমন ভুল হলে ৬ × ৩৪৫ = ২,০৭০ টাকা সোজা বেরিয়ে গেল। এর সাথে যোগ করুন কাস্টমারের সাত দিন অপেক্ষা আর পেজে একটা বিরক্ত কমেন্টের দাম, যেটা টাকায় মাপা যায় না। একটা মার্কার, এক রোল মাস্কিং টেপ আর এক বিকেলের কাজে এই খরচটা প্রায় পুরোটাই বাঁচে।

কোডের যে ভুলে পরে সব নতুন করে লিখতে হয়
কোড একবার ভুল ধাঁচে শুরু করলে ছয় মাস পর পুরো খাতা, সব পলি আর সব পোস্ট নতুন করে লিখতে হয়। শুরুর এই ভুলগুলো থেকে দূরে থাকুন।
কোডে বদলে যাওয়া জিনিস রাখা। দাম, পাইকারের নাম বা সিজন কোডে ঢোকাবেন না। "EID-1450" ধরনের কোড দাম বদলালেই মিথ্যা হয়ে যায়। পাইকার বদলালে পাইকারের নামের কোডও অর্থহীন। কোডে শুধু সেই কথা রাখুন যা প্রোডাক্টের সাথে চিরকাল থাকে, মানে ধরন, ডিজাইন, সাইজ আর রং।
একই নম্বর দুই ডিজাইনে। পুরনো ডিজাইন শেষ হয়ে গেল, নতুন একটা এলো, তাকে পুরনো নম্বরটাই দিয়ে দিলেন। এরপর কাস্টমার ছয় মাস আগের অর্ডারের স্ক্রিনশট দিয়ে "এটাই আবার চাই" বললে আপনি আর বুঝবেন না কোনটা। নম্বর একবার খরচ হয়ে গেলে সেটা অবসরে যায়, আর কারও না।
পাইকারের কোড হুবহু নেওয়া। পাইকারের চালানে "C-07" লেখা মানে হয়তো তাঁর গুদামের সাত নম্বর রং। আপনার প্যাকার বা কাস্টমার এটা পড়ে কিছু বোঝেন না। পাইকারের কোড খাতার এক কলামে রাখুন, আবার কেনার সময় কাজে লাগবে। দোকানের কোড হবে আপনার নিজের নিয়মে।
মাঝপথে নিয়ম বদলানো। প্রথম বিশটা ডিজাইনে সাইজ আগে রং পরে, পরের দশটায় রং আগে। তখন খাতায় সাজালে একই ডিজাইনের সাইজগুলো পাশাপাশি আসে না, আর প্যাকার দুই নিয়মের মাঝে গুলিয়ে ফেলেন। নিয়ম বদলাতেই হলে এক বিকেলে সব কোড একসাথে বদলান, অর্ধেক করে রাখবেন না।
নতুন কেউ কোড শুরু করলে আমি একটা কাজই আগে করতে বলি। কোড বানানোর দিন একটা কাগজে নিয়মটা এক লাইনে লিখে প্যাকিং টেবিলে লাগিয়ে দিন। তিন মাস পর নিজেই ভুলে যাবেন কোন রঙের সংক্ষেপ কী রেখেছিলেন, তখন ওই কাগজটাই কাজে আসবে।
আজই করে ফেলুন
হাতে যা আছে, তা দিয়েই আজ এক ঘণ্টায় এগুলো সেরে ফেলা যায়।
- একটা কাগজে কোডের নিয়মটা লিখুন। ধরনের দুই অক্ষর, ডিজাইনের নম্বর, সাইজ, রঙের দুই অক্ষর। রঙের সংক্ষেপগুলোর লিস্টও নিচে লিখে ফেলুন।
- সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া তিনটা ডিজাইন বেছে প্রতিটাকে একটা আর্টিকেল নম্বর দিন।
- ওই তিন ডিজাইনের তাকের প্রতিটা পলি বা বাক্সে মাস্কিং টেপে পুরো কোড লিখুন, সাইজের ট্যাগ নিজের চোখে দেখে।
- পেজের যে পোস্টে ওই ডিজাইনগুলো আছে, তার ক্যাপশনের প্রথম লাইনে আর্টিকেল নম্বর যোগ করুন।
- ইনবক্সের সেভ করা উত্তরে একটা লাইন রাখুন, যেখানে অস্পষ্ট প্রশ্নে স্ক্রিনশট চাওয়া হয়।
- আজকের প্রতিটা পার্সেলের লেবেলে নামের পাশে কোডটা কলম দিয়ে লিখুন, আর টেপ মারার আগে হাতের জিনিসের সাথে মিলিয়ে নিন।
এক সপ্তাহ পর প্যাকিং টেবিলে দাঁড়িয়ে দেখবেন, কেউ আর "ওই কালোটা না বাদামিটা" জিজ্ঞেস করছে না। সবাই একটা নম্বর বলছে, আর পার্সেলে যাচ্ছে ঠিক সেই জিনিসটাই। কোডের পর পরের ধাপ হলো প্রোডাক্টের রং আর সাইজ দোকানে এমনভাবে সাজানো, যাতে কাস্টমার নিজেই ঠিকটা বেছে নেন। সেটা নিয়ে আলাদা করে লিখেছি প্রোডাক্ট ভ্যারিয়েন্ট সাজানোর লেখায়।
সাধারণ প্রশ্ন
SKU এর পূর্ণরূপ কী?
SKU মানে Stock Keeping Unit। দোকানের প্রতিটা আলাদা করে গোনা যায় এমন জিনিসের নিজের কোড, যেমন একটা জুতার ৩৮ সাইজ কালো জোড়া একটা SKU, ৩৯ সাইজ কালো আরেকটা। এক ডিজাইনের সব সাইজ-রং মিলিয়ে যে নম্বর, সেটাকে আমাদের দেশে বেশিরভাগ সেলার আর্টিকেল নম্বর বলেন।
আর্টিকেল নম্বর আর SKU কি একই জিনিস?
না, তবে একটা আরেকটার ভেতরে থাকে। আর্টিকেল নম্বর পুরো ডিজাইনের, যেমন SH-503। SKU সেই ডিজাইনের একটা নির্দিষ্ট সাইজ আর রঙের, যেমন SH-503-38-BK। এক রং আর এক সাইজের প্রোডাক্ট হলে দুটো আলাদা রাখার দরকারই নেই।
SKU কি বাংলায় লেখা যায়?
লেখা যায়, কিন্তু আর্টিকেল নম্বরটা ইংরেজি অক্ষর আর সংখ্যায় রাখাই ভালো। বাংলা অক্ষর থাকলে SMS-এ জায়গা বেশি লাগে, আর প্যাকার বা কুরিয়ারের লোক ইংরেজি কিবোর্ডে কোড টাইপ করে খুঁজতে পারেন না। রঙের নাম কাস্টমারের জন্য বাংলায় থাকুক, কোডের ভেতরে ছোট ইংরেজি সংক্ষেপ দিন।
SKU আর বারকোড কি একই?
না। SKU আপনার নিজের বানানো কোড, যেটা দিয়ে আপনি স্টক চেনেন। সুপারশপের প্যাকেটে যে ১৩ অঙ্কের বারকোড ছাপা থাকে, সেটা আলাদা একটা আন্তর্জাতিক পদ্ধতির নম্বর, সাধারণত প্রস্তুতকারক নেন। ফেসবুকে বা নিজের ওয়েবসাইটে বেচতে ওই বারকোড লাগে না।
কয়টা প্রোডাক্ট হলে কোড দেওয়া শুরু করব?
সংখ্যার চেয়ে বড় কথা হলো একই প্রোডাক্টের সাইজ বা রং আছে কি না। একটা ডিজাইনও যদি তিন রঙে আর পাঁচ সাইজে থাকে, আজই কোড দিন। শুধু তিন-চারটা এক সাইজের প্রোডাক্ট হলে নামেই কাজ চলে, তবে প্রতিটার একটা আর্টিকেল নম্বর রাখলে ফোনে কথা বলতে সুবিধা হয়।
একই আর্টিকেল নম্বর দুইটা ডিজাইনে দিলে কী হয়?
প্যাকার আর কাস্টমার দুজনেই গুলিয়ে ফেলেন, আর পুরনো অর্ডার খুঁজতে গেলে দুই ডিজাইন একসাথে আসে। পুরনো ডিজাইন বন্ধ হয়ে গেলেও তার নম্বরটা আর কাউকে দেবেন না। নতুন ডিজাইনের জন্য সবসময় পরের নম্বরটা নিন।
আরও পড়ুন
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল না গ্রুপ? পুরনো কাস্টমারকে নতুন মালের খবর দিন
নতুন কালেকশনের খবর পুরনো কাস্টমারকে দিতে চান, কিন্তু চ্যানেল খুলবেন, গ্রুপ, না স্ট্যাটাস? কে কার নম্বর দেখে, কে উত্তর দিতে পারে, চ্যানেল খোলার ধাপ, কী পোস্ট দেবেন, গ্রুপের নিয়ম আর ঝুঁকি, আর এক মাসে কোনটায় কত সময় যায়, হিসাবসহ।
শার্ট, প্যান্ট আর টি-শার্টের সাইজ চার্ট বানাবেন যেভাবে, ফেরত কমবে
সাপ্লায়ারের ট্যাগে M লেখা, অথচ কাস্টমার বলেন টাইট। টি-শার্ট, শার্ট আর প্যান্ট টেবিলে বিছিয়ে ফিতা দিয়ে মাপার নিয়ম, ইঞ্চিতে নিজের সাইজ চার্ট বানানো, কাস্টমারকে নিজের শার্ট মেপে সাইজ বাছতে শেখানো, আর একটা ভুল সাইজে কত টাকা যায়, হিসাবসহ।
প্রোডাক্ট ক্যাটালগ ও প্রাইস লিস্ট বানানোর নিয়ম, পাইকার আর অফিসের জন্য
পাইকার, রিসেলার বা অফিসের লোক বলছেন "ক্যাটালগ আর রেট দেন"? প্রতিটা প্রোডাক্টে কী লিখবেন, খুচরা আর পাইকারি দাম কেন আলাদা ফাইলে, পরিমাণ ধরে দামের ধাপ টাকায়, PDF না লিংক, আর দাম বদলালে পুরনো কপি থামাবেন কীভাবে।


