WinningSeller
অনলাইন ব্যবসা শুরু১৫ মিনিটে পড়া যায়

স্টক লটের মাল কোথায় পাওয়া যায়, আর ৩০০ শার্টের লটে আসলে কত থাকে

গার্মেন্টসের স্টক লট কোথায় পাবেন, কোন লট আইনের দিক থেকে ঝুঁকির, কেনার আগে কার্টন খুলে কী দেখবেন, বাসায় এনে A, B, C গ্রেডে বাছাই করবেন কীভাবে, আর বেঁচে যাওয়া মালসহ এক লটের পুরো টাকার হিসাব।

স্টক লটের মাল কোথায় পাওয়া যায়, আর ৩০০ শার্টের লটে আসলে কত থাকে
এই লেখায় যা আছে
  1. স্টক লট কি, মাল আসে কোথা থেকে
  2. কোন লট বেচা ঝুঁকির, বন্ডের মাল আর অন্যের ব্র্যান্ডের লেবেল
  3. স্টক লটের মাল কোথায় পাওয়া যায়, ঢাকায় কোথায় খুঁজবেন
  4. পিস দরে, কেজি দরে না মিক্সড লট
  5. লট কেনার আগে নিজ হাতে কী দেখবেন
  6. বাসায় এনে বাছাই, A, B আর C গ্রেড
  7. এক লটের পুরো হিসাব, বেঁচে যাওয়া মালসহ (উদাহরণ)
  8. "এক্সপোর্ট কোয়ালিটি" লেখার আগে
  9. কখন স্টক লট কিনবেন না
  10. আজই করে ফেলুন

স্টক লটের মাল কোথায় পাওয়া যায়, এক কথায় বললে লট ব্যবসায়ী, বায়িং হাউজ আর কারখানার পরিচিত লোকের কাছে, যাঁরা কারখানার বাতিল বা বাড়তি পোশাক তুলে ছোট ভাগে বেচেন। ঢাকায় খোঁজ শুরুর চেনা জায়গা মিরপুর-১১-এর পল্লবীর নান্নু মার্কেট আর বঙ্গবাজারের আশপাশের মার্কেট, আর মালের বড় অংশ আসে গাজীপুর, আশুলিয়া আর সাভারের কারখানা থেকে। নতুন সেলার হলে সরাসরি কারখানায় যাবেন না, একজন চেনা লট ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ছোট লট নিন। তবে লাভ-লোকসান ঠিক হয় অন্য দুটো জায়গায়। লটটা নিজের হাতে খুলে দেখে কিনছেন কি না, আর যে পিস শেষ পর্যন্ত বিক্রি হবে না, তার দামটা আগেই হিসাবে ধরেছেন কি না।

ধরুন এক রাতে পরিচিত একজন ফোন দিয়ে বললেন, "আশুলিয়ায় ছেলেদের শার্টের একটা লট আছে, ৩০০ পিস, অর্ডার বাতিলের মাল। পিস ১৮০ টাকা। কাল সকালের মধ্যে না নিলে অন্য পার্টি নিয়ে যাবে।" মাথায় সাথে সাথে হিসাব ঘুরতে থাকে। ৫৫০ টাকায় বেচলে পিসে ৩৭০ টাকা লাভ, ৩০০ পিসে লাখ টাকার বেশি! সে রাতে আর ঘুম আসে না, মনে হয় এবার বুঝি ভাগ্য খুলল। এই লেখাটা ওই রাতের জন্য, যাতে টাকা দেওয়ার আগে ওই ৩০০ শার্টের আসল হিসাবটা আপনার হাতে থাকে।

স্টক লট কি, মাল আসে কোথা থেকে

স্টক লট মানে রপ্তানির জন্য বানানো পোশাক, যা কোনো কারণে বিদেশে যায়নি, দেশেই থেকে গেছে। ঢাকা মেইলের ১১ মার্চ ২০২৬-এর এক প্রতিবেদনে তফাতটা সহজ করে বলা আছে। অতিরিক্ত উৎপাদন বা অর্ডার বাতিলের কারণে যে পোশাক থেকে যায় সেটা স্টক লট, আর সামান্য খুঁতের জন্য যা বিদেশে পাঠানো হয়নি সেটা রিজেক্ট। দেশ রূপান্তরের ১৪ মে ২০২৪-এর একটা লেখায় আরও কয়েকটা কারণ আছে, যেমন শিপমেন্ট বাতিল, শিপমেন্টে দেরি আর বারবার রি-চেকে আটকে যাওয়া।

বাজারে এই মালগুলো প্রায়ই মিশে এক লটে আসে। লট কেন বিক্রি হচ্ছে সেটা জিজ্ঞেস করুন, কারণ কারণ ধরে মালের চেহারা বদলায়। অর্ডার বাতিলের লট সাধারণত পরিষ্কার, এক-দুই ডিজাইনের, কার্টনে ভাঁজ করা। রিজেক্টের লটে প্রায় প্রতিটা পিসে খুঁত খুঁজতে হয়, কোথাও সেলাই বাঁকা, কোথাও হালকা দাগ। আর দেরিতে আটকে যাওয়া লটে অনেক সময় সিজনই পার হয়ে যায়, যেমন শীতের জ্যাকেট হাতে আসে চৈত্র মাসে।

আরেকটা জিনিস প্রথম লটে প্রায় সবাই টের পান দেরিতে। পোশাকটা বানানো হয়েছিল বিদেশি বায়ারের সাইজ চার্টে। ইউরোপ বা আমেরিকার জন্য বানানো M অনেক সময় আমাদের দেশের L-এর কাছাকাছি হয়, হাতাও লম্বা হতে পারে। তাই লেবেলের সাইজে ভরসা না করে ফিতা দিয়ে বুক আর লম্বা মেপে নিন। নইলে পরে "ভাই, সাইজ বড় হয়েছে" বলে পার্সেল ফেরত আসে।

কোন লট বেচা ঝুঁকির, বন্ডের মাল আর অন্যের ব্র্যান্ডের লেবেল

সস্তা লটের পেছনে কখনো কখনো এমন কিছু থাকে, যা শুধু টাকা না, পেজ আর মানসম্মান দুটোই বিপদে ফেলে। তিনটা জিনিস চিনে রাখুন।

প্রথমটা বন্ডের মাল। রপ্তানির অনেক কারখানা কাপড়, সুতা আর বোতামের মতো কাঁচামাল বন্ড সুবিধায় শুল্ক ছাড়া আনে, এই শর্তে যে তা দিয়ে বানানো মাল বিদেশে যাবে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে bdlaws.minlaw.gov.bd-তে কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ১১৭ আর ১১৮ ধারায় যা লেখা আছে, সহজ কথায় তা এরকম। ওয়্যারহাউসে রাখা মাল আইনে বলা পদ্ধতির বাইরে বের করা যায় না, আর ওই কাঁচামালে বানানো মাল দেশের ভেতরে বেচতে বের করলে সেই অংশের ওপর আমদানি শুল্ক আর কর দিতে হয়। মানে চুপচাপ বের হওয়া বন্ডের মাল আইনের চোখে শুল্ক না দেওয়া মাল। যিনি লট বেচছেন তিনি নিজেই যদি বলেন "বন্ডের মাল, এজন্য এত সস্তা", সেই লট নেবেন না।

দ্বিতীয়টা চুরির মাল। প্রথম আলো ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩-এ লিখেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রপ্তানির পোশাক চুরির চক্র কাভার্ড ভ্যান থেকে প্রতিটা কার্টনের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ মাল সরিয়ে নেয়। একই পত্রিকার ৭ জানুয়ারি ২০২৩-এর প্রতিবেদনে আছে, এমন চুরির পোশাক কম দামে অসাধু পোশাক ব্যবসায়ীদের হাতে যায়। তাই চারটা জিনিস একসাথে মিললে সরে আসুন। একদম নতুন সিল করা কার্টন, গায়ে বিদেশি বায়ারের শিপিং মার্ক, দাম বাজারের প্রায় অর্ধেক, আর যিনি বেচছেন তিনি কোনো ক্যাশ মেমো দিতে চান না। Meta-র Commerce Policies-এও চুরি করা বা বেআইনিভাবে পাওয়া জিনিস বেচা নিষেধ।

তৃতীয়টা লেবেল। স্টক লটের শার্টে প্রায়ই বিদেশি ব্র্যান্ডের নাম লেখা লেবেল থাকে, কোনোটা আধখানা কাটা। প্রথম আলোর ২০ মার্চ ২০২৫-এর প্রতিবেদনে নান্নু মার্কেটে নামী ব্র্যান্ডের ট্যাগ আর দাম লেখা পোশাক বিক্রির কথা আছে। দোকানে খোলাখুলি বিক্রি হচ্ছে দেখে অনেকে ভাবেন, অনলাইনে ব্র্যান্ডের নাম দিয়ে অ্যাড চালালেও সমস্যা নেই। সবচেয়ে বড় ভুলটা এখানেই।

২০২৬ সালের অক্টোবরে bdlaws.minlaw.gov.bd-তে ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯-এর ৭৪ ধারায় লেখা আছে, মিথ্যা ট্রেডমার্ক লাগানো মাল বিক্রির জন্য রাখলে ছয় মাস থেকে দুই বছরের জেল, অথবা ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা জরিমানা, অথবা দুটোই হতে পারে। একই ধারায় এটাও আছে যে যিনি বেচছেন তিনি যুক্তিসঙ্গত সাবধানতা নিয়েছিলেন, মাল কার কাছ থেকে এসেছে তা জানিয়েছেন, বা সরল বিশ্বাসে কাজ করেছেন, এটা দেখাতে পারলে তা তাঁর পক্ষে যায়। কোন লেবেলের ক্ষেত্রে শেষে কী হবে, তা ঠিক করেন আদালত। এটা আইনি পরামর্শ না, শুধু ঝুঁকিটা কত বড় সেটা দেখানো।

অনলাইনে নিরাপদ রাস্তা সহজ। পোস্ট, অ্যাড, ক্যাপশন বা হ্যাশট্যাগে কোনো ব্র্যান্ডের নাম না, ছবিতে লেবেলের লেখাও না। Meta-র Commerce Policies-এর Third-party infringement অংশে ২০২৬ সালের অক্টোবরে লেখা আছে, কারও ট্রেডমার্ক, মানে নাম বা লোগো নকল করা জিনিস বেচা চলবে না। আর যে লটে বাইরে থেকে নতুন করে ব্র্যান্ডের লেবেল সেলাই করা, সেটা স্টক লট না, নকল মাল। ওটা কিনবেন না। নকল মাল বেচলে পেজের সাথে কী হয়, সেটা ঘড়ির ব্যবসার লেখায় "মাস্টার কপি" অংশে বিস্তারিত আছে।

স্টক লটের মাল কোথায় পাওয়া যায়, ঢাকায় কোথায় খুঁজবেন

প্রথম আলো ২০ মার্চ ২০২৫-এ মিরপুর-১১-এর পল্লবীর নান্নু মার্কেট নিয়ে লিখেছে, সেখানে প্রায় ১৭০টা দোকান। পোশাক আসে গাজীপুর, আশুলিয়া আর সাভারের কারখানা থেকে, আর ছোটখাটো খুঁতের জন্য বিদেশি বায়ার মাল না নিলে স্টক লট ব্যবসায়ীরা সেটা কিনে নেন। তবে মনে রাখুন, নান্নু মার্কেট মূলত খুচরা বাজার। ওই প্রতিবেদনেই এক ক্রেতা ট্যাগে ১,০৫০ আর ৬৫০ টাকা লেখা দুটো টি-শার্ট দরদাম করে ৫৫০ আর ৪০০ টাকায় কিনেছেন। খুচরার এই দামে কিনে অনলাইনে লাভ রাখা কঠিন। ওখানে যান কোন মাল চলছে দেখতে, আর দোকানিদের সাথে কথা বলে লট কোথা থেকে আসে সেই খোঁজ নিতে।

দ্বিতীয় জায়গা বঙ্গবাজার এলাকা। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলার ২৩ আগস্ট ২০২৬-এর এক লেখায় আছে, বঙ্গবাজারের বড় টান ছিল গার্মেন্টসের "এক্সপোর্ট সারপ্লাস"। ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিলের আগুনের পর বেশিরভাগ ব্যবসায়ী পাশের এনেক্সকো মার্কেট, সিটি প্লাজা, এস ইসলাম প্লাজা আর নগর প্লাজার মতো মার্কেটে সরে গেছেন। পুরনো ঠিকানায় দোকান না পেলে আশপাশের মার্কেটগুলো ঘুরুন।

তৃতীয় রাস্তা মানুষ। দেশ রূপান্তরের ওই ২০২৪ সালের লেখায় বলা আছে, লট পাওয়া যায় বায়িং হাউজ, গার্মেন্টস কারখানা আর ছোট লটে মাল বেচেন এমন লোকাল ব্যবসায়ীর কাছে, আর শুরুতেই সরাসরি কারখানা থেকে কেনা অনেক ঝামেলার। তাই প্রথম কয়েকটা লট এমন একজন লট ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নিন, যিনি বড় লট ভেঙে ২০০-৩০০ পিসের ভাগে দিতে রাজি।

গোডাউনের ভেতর ছাদ পর্যন্ত সাজানো বাদামি কার্টন, সামনে একজন তরুণ সেলার মাঝখানের একটা কার্টন খুলে শার্ট বের করে দেখছেন আর পাশে লট ব্যবসায়ী দাঁড়িয়ে আছেন
ওপরের কার্টনটা দেখানোর জন্যই সাজানো থাকে, মাঝখান থেকে খুলুন

প্রথমবার লট ব্যবসায়ীর গোডাউনে গেলে সাধারণত যা হয়, তিনি স্তূপের ওপরের কার্টন থেকে একটা ঝকঝকে শার্ট বের করে দেখাবেন, আর বলবেন "সব এক মাল, ভাই।" এই কথায় টাকা দেবেন না। জিজ্ঞেস করুন লটটা কোন কারখানার, কেন বিক্রি হচ্ছে, আর এটা পুরো লট নাকি আগে কেউ ভালো পিসগুলো বেছে নিয়ে গেছেন। বাছাই হয়ে যাওয়া লটের দাম পুরো লটের দামের সমান হতে পারে না। নিয়মিত রেডিমেড পাইকারি মাল চাইলে কেরানীগঞ্জ আর ইসলামপুর আলাদা জগৎ, সেটা ঢাকার পাইকারি কাপড়ের বাজারের লেখায় আছে।

চট্টগ্রামেও রপ্তানির কারখানা অনেক, কিন্তু সেখানে স্টক লটের নির্দিষ্ট কোনো বাজারের খবর আমরা কোনো পত্রিকায় পাকাভাবে পাইনি, তাই ঠিকানা দিলাম না। ওখানে থাকলে লোকাল কাপড়ের পাইকারদের কাছে খোঁজ নিন, আর মাল না দেখে কারও মুখের কথায় টাকা পাঠাবেন না।

পিস দরে, কেজি দরে না মিক্সড লট

স্টক লট সাধারণত তিনভাবে বিক্রি হয়, আর প্রতিটার ঝুঁকি আলাদা।

পিস দরের লটে প্রতিটা শার্ট বা প্যান্টের একটা দাম ঠিক হয়, যেমন ১৮০ টাকা পিস। হিসাব সবচেয়ে সহজ, আর নতুনদের জন্য এটাই ভালো। দেশ রূপান্তরের ১৪ মে ২০২৪-এর লেখায় হাজার পিসের লটে পোলো শার্ট ১১০ টাকা, টি-শার্ট ১০০ টাকা আর জিন্স ২০০ থেকে ২২০ টাকা পিস ধরে উদাহরণ দেওয়া আছে। দাম দুই বছরের পুরনো আর মান ভেদে অনেক ওঠানামা করে, তাই শুধু আন্দাজ হিসেবে দেখুন। পিস দরে কিনলে একটা কার্টন খুলে পুরোটা গুনুন, তারপর কার্টনের সংখ্যা দিয়ে গুণ করুন। "কার্টনে ৫০ পিস" বলা থাকলেও খুলে ৪৪টা পাওয়া অস্বাভাবিক না।

কেজি দরের লটে মাল ওজন করে বিক্রি হয়, সাধারণত মিশ্র বা রিজেক্টের মাল। দাম দেখে খুশি হওয়ার আগে পিসের দামে নিয়ে আসুন। দাঁড়িপাল্লায় এক কেজি মাল তুলে গুনে দেখুন কয় পিস পড়ল। ধরুন ৪টা শার্ট, তাহলে কেজির দামকে ৪ দিয়ে ভাগ করলেই এক পিসের দাম। আর ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে মাল ওজনে ভারী হয়, তখন আপনি পানির দামও দিচ্ছেন, সাথে ছত্রাকের দাগের ঝুঁকিও কিনছেন।

একটা ঝুলন্ত দাঁড়িপাল্লায় এক কেজির বাটখারার পাশে ভাঁজ করা চারটা শার্ট, পাশে একজন যুবক আঙুলে গুনছেন আর মোবাইলের ক্যালকুলেটরে ভাগ করছেন
কেজির দাম যত কমই শোনাক, এক কেজিতে কয় পিস সেটা আগে গুনুন

মিক্সড লট মানে নানা আইটেম, নানা সাইজ, সব মিলিয়ে একটা দাম। এতে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, কারণ ভালো পিসগুলো সাধারণত ওপরের দিকে থাকে আর নিচে জমে থাকে ছোট বাচ্চাদের সাইজ, বেমানান রং আর খুঁতওয়ালা পিস। প্রথম দুই-তিন লটে হাত না পাকা পর্যন্ত মিক্সড লট কিনবেন না। খুব ইচ্ছা হলে একদম ছোট একটা নিন।

লট কেনার আগে নিজ হাতে কী দেখবেন

গোডাউনে সাধারণত টিউবলাইটের আলো থাকে, আর সেই আলোয় হালকা হলুদ দাগ চোখে পড়ে না। তাই কয়েকটা পিস হাতে নিয়ে দরজার বাইরে দিনের আলোয় দেখুন। সাথে নিয়ে যান একটা মাপার ফিতা, ফোনের টর্চ আর একটা ছোট খাতা। তারপর এই কাজগুলো করুন।

  1. ওপরের কার্টন বাদ দিয়ে এলোমেলো তিনটা কার্টন খুলুন। একটা স্তূপের মাঝখান থেকে, একটা নিচ থেকে, আর একটা অন্য স্তূপ থেকে। লটের আসল চেহারা থাকে ওখানেই।
  2. ৫০টা পিস আলাদা করে সাইজ গুনুন। খাতায় লিখুন S, M, L, XL কয়টা করে। ৫০টায় যদি ২০টাই S হয়, তাহলে বুঝবেন পুরো লটেই ছোট সাইজের পাহাড় আছে, যা বেচতে সময় লাগবে।
  3. ওই ৫০টায় খুঁত গুনুন। দাগ, ফাটা সেলাই, ভাঙা বোতাম বা না থাকা বোতাম, চেইন আটকে যাওয়া, কলারের ভেতরে ঘষা দাগ। ৫০টায় ৮টা খুঁতওয়ালা পেলে ধরে নিন পুরো লটের প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ এমন। দরদাম এই সংখ্যা ধরে করুন।
  4. নাক দিয়ে গন্ধ নিন। স্যাঁতসেঁতে বা ভ্যাপসা গন্ধ মানে মাল কোথাও ভিজেছে বা বহুদিন বন্ধ জায়গায় পড়ে ছিল। ধোয়ার পরেও এমন দাগ অনেক সময় যায় না।
  5. দুই কার্টনের একই রঙের শার্ট পাশাপাশি রাখুন। আলাদা ব্যাচের কাপড়ে শেড একটু আলাদা হয়, আর কাস্টমার দুটো একই রং অর্ডার দিয়ে আলাদা রং পেলে পার্সেল ফেরত দেন।
  6. ফিতা দিয়ে মাপুন। প্রতিটা সাইজের একটা করে পিসের বুক আর লম্বা মেপে খাতায় লিখুন। এই মাপই পরে আপনার পেজের সাইজ চার্ট হবে।
লট কেনার আগে ছয়টা কাজের লিস্ট, পাশে খাতায় ৫০ পিসের নমুনায় S সাইজ ২০টা আর খুঁতওয়ালা ৮টা গোনার দাগ
৫০ পিসের নমুনায় সাইজ আর খুঁত গুনুন, দিনের আলোয়

এই কাজে আধা ঘণ্টার মতো লাগে। কেউ যদি কার্টন খুলতেই না দেন, শুধু ছবি আর ভিডিও পাঠিয়ে পুরো টাকা অগ্রিম চান, সেটাই আপনার উত্তর।

বাসায় এনে বাছাই, A, B আর C গ্রেড

লট ঘরে আনার পর প্রথম কাজ বিক্রি না, বাছাই। মেঝেতে একটা বড় চাদর বিছিয়ে দিনের আলোয় বসুন, আর প্রতিটা পিস দেখে তিনটা স্তূপে ভাগ করুন। প্রতিটা স্তূপে আলাদা রঙের স্টিকার বা সুতা বেঁধে দিন, যাতে পরে প্যাকিংয়ের সময় মিশে না যায়।

গ্রেড কেমন মাল কীভাবে বেচবেন
A কোনো খুঁত নেই, সাইজ আর রং ঠিক পুরো দামে, অনলাইনে, নিজের ছবি আর মাপসহ
B ছোট খুঁত, ধুলে বা সেলাই করলে ঠিক হয়, বা খুব হালকা দাগ কম দামে, খুঁতের ছবি দিয়ে, পরিষ্কার লিখে
C বড় দাগ, ফাটা কাপড়, সাইজ একদম বেমানান অনলাইনে না, ফুটপাতের দোকানির কাছে একসাথে

বাছাইয়ের সময় খাতায় সাইজ আর গ্রেড ধরে গুনে লিখুন, যেমন "A, M, নীল, ৩৪ পিস"। এই সংখ্যা না রাখলে দুই সপ্তাহ পরে কাস্টমার L চাইলে বুঝবেন না আছে কি না, আর পেজে "স্টক শেষ" লিখতে দেরি হবে।

তিন রঙের স্টিকার লাগানো ভাঁজ করা শার্টের তিনটা স্তূপের নকশা, A গ্রেড ২১০ পিস সবুজ, B গ্রেড ৬০ পিস হলুদ, C গ্রেড ৩০ পিস লাল, নিচে কোনটা কীভাবে বেচবেন
তিন স্তূপ, তিন রঙের স্টিকার, আর খাতায় সাইজ ধরে গোনা

একটা খরচ প্রায় সবাই প্রথম লটে ভুলে যান, সেটা বিক্রির আগের প্রস্তুতি। কার্টনে চেপে থাকা শার্টে ভাঁজের দাগ পড়ে, ইস্ত্রি করতে হয়, নতুন করে ভাঁজ করে পলিব্যাগে ভরতে হয়। B গ্রেডের কোনোটায় বোতাম লাগাতে হয়, কোনোটা দর্জির কাছে যায়। পিসপ্রতি খরচ ছোট, কিন্তু ৩০০ পিসে কয়েক হাজার টাকা।

এক লটের পুরো হিসাব, বেঁচে যাওয়া মালসহ (উদাহরণ)

শুরুর সেই ৩০০ শার্টের লটে ফিরে যাই। নিচের সব সংখ্যা একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। নিজের লটের সংখ্যা বসিয়ে একবার কষে দেখুন।

আগে কেনার দিকটা দেখি। ৩০০ শার্ট, পিস ১৮০ টাকা, মোট ৫৪,০০০ টাকা। গোডাউন থেকে বাসা পর্যন্ত পিকআপ ভাড়া ১,৫০০ টাকা। বাছাইয়ের পর দাঁড়াল A গ্রেড ২১০ পিস, B গ্রেড ৬০ পিস আর C গ্রেড ৩০ পিস। A আর B মিলে ২৭০ পিস ইস্ত্রি, ভাঁজ আর পলিব্যাগ, পিসপ্রতি ১২ টাকা ধরলে ৩,২৪০ টাকা। ঘরে তোলা পর্যন্ত খরচ ৫৪,০০০ + ১,৫০০ + ৩,২৪০ = ৫৮,৭৪০ টাকা।

এখানেই প্রথম ধাক্কাটা। বিক্রি করার মতো পিস তো ৩০০ না, ২৭০। তাহলে একটা ভালো পিসের আসল কেনা দাম ৫৮,৭৪০ ÷ ২৭০ = প্রায় ২১৮ টাকা, ১৮০ না।

এবার বিক্রির দিক। দুই মাসে অনলাইনে A গ্রেডের ১৭০ পিস ৫৫০ টাকায় ডেলিভারি হলো, আসে ৯৩,৫০০ টাকা। B গ্রেডের ৪৫ পিস ৩৫০ টাকায়, আসে ১৫,৭৫০ টাকা। C গ্রেডের ৩০ পিস একসাথে ফুটপাতের এক দোকানিকে ৮০ টাকা করে, ২,৪০০ টাকা। দুই মাস পরেও রয়ে গেল A-র ৪০ পিস আর B-র ১৫ পিস, বেশিরভাগ বড় সাইজের। এগুলো একসাথে এক দোকানদারকে দিলেন, A ১৫০ টাকা আর B ১০০ টাকা করে, আসে ৬,০০০ + ১,৫০০ = ৭,৫০০ টাকা। মোট বিক্রি ৯৩,৫০০ + ১৫,৭৫০ + ২,৪০০ + ৭,৫০০ = ১,১৯,১৫০ টাকা।

অনলাইনে বেচারও খরচ আছে, সেটা ভুললে চলবে না। ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার দিলেন, ধরুন একেকটা অর্ডারে একটা করে শার্ট। ডেলিভারি হওয়া ২১৫টা অর্ডারের প্রতিটার পেছনে অ্যাডে গেছে ১০০ টাকা, মোট ২১,৫০০ টাকা। মাঝে ৩০টা পার্সেল দরজা থেকে ফেরত এসেছে, প্রতিটায় আসা-যাওয়ার কুরিয়ার চার্জ মিলে ১২০ টাকা, মোট ৩,৬০০ টাকা। ফেরত আসা শার্ট আবার স্টকে উঠে পরে বিক্রি হয়েছে, তাই ওগুলো ওপরের বিক্রির ঘরেই ধরা আছে। ২৪৫টা পার্সেলের ফ্লায়ার আর লেবেল, প্রতিটা ১০ টাকা, ২,৪৫০ টাকা। মোট ২১,৫০০ + ৩,৬০০ + ২,৪৫০ = ২৭,৫৫০ টাকা। কুরিয়ারের ক্যাশ কালেকশন চার্জ এই উদাহরণে ধরা হয়নি, নিজের কুরিয়ারের রেট দেখে যোগ করে নেবেন।

সব মিলিয়ে শেষ হিসাবটা দাঁড়ায় ১,১৯,১৫০ − ৫৮,৭৪০ − ২৭,৫৫০ = ৩২,৮৬০ টাকা লাভ, দুই মাসের খাটুনিতে।

একটা খাতার পাতায় হাতে লেখা হিসাব, বাঁ দিকে কেনা, পিকআপ ভাড়া আর ইস্ত্রি-পলিব্যাগের খরচ, ডান দিকে A, B, C গ্রেড আর বেঁচে যাওয়া পিসের বিক্রি, নিচে অ্যাড আর ফেরতের খরচ বাদ দিয়ে শেষ লাভ গোল করে দাগানো
রাতের সেই 'লাখ টাকা' আর খাতার শেষ লাইনের তফাতটাই আসল শিক্ষা

এবার শুরুর রাতের হিসাবের দিকে তাকান। ৩০০ পিস × ৩৭০ টাকা = ১,১১,০০০ টাকা লাভ ভাবা হয়েছিল। আসল লাভ তার তিন ভাগের এক ভাগের মতো, আর ফারাকটা এসেছে C গ্রেড, বেঁচে যাওয়া বড় সাইজ, অ্যাড আর ফেরত পার্সেল থেকে। ওই ৫৫টা বেঁচে যাওয়া পিস একসাথে বেচতে না পারলে লাভ নামত ২৫,৩৬০ টাকায়, সাথে ঘরের কোণে একটা বস্তা। আমি যেকোনো লটের হিসাবে বেঁচে যাওয়া মালকে লটের দামেরই অংশ ধরি, আপনিও তাই ধরুন। কেনার দিনই ঠিক করে রাখুন, দুই মাস পরে যা থাকবে তা কার কাছে, কত টাকায় ছাড়বেন।

খাতাতেই এই হিসাব চলে, তবে লট একটার বেশি হলে খাতা জট পাকায়। WinningSeller-এ পুরো লটটা সাপ্লায়ারের নামে একটা পারচেজ অর্ডার হিসেবে লেখা যায়, প্রতিটা গ্রেড আর সাইজ একেকটা লাইন, আপনার ভাগ করে বসানো কেনা দামসহ। মাল রিসিভ করলে পিসগুলো স্টকে উঠে যায়, কেনা দামও প্রোডাক্টে বসে যায়, আর সাপ্লায়ারের কাছে কত বাকি সেটা গোনা শুরু হয় মাল আসার দিন থেকে। লাভ-ক্ষতি গোনা হয় শুধু ডেলিভারি হওয়া অর্ডার ধরে, ফেরত পার্সেলের আসা-যাওয়ার কুরিয়ার চার্জ খরচে ধরে। কোন পিসটা A আর কোনটা B, সেটা অবশ্য কোনো সফটওয়্যার বলে দেবে না, বাছাইটা আপনার হাতেই। বাকি কী কী করা যায়, ফিচারের পেজে দেখে নিন।

লট কেনার দাম আর প্রতি পিসের লাভ একসাথে হিসাব করুনপ্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম

"এক্সপোর্ট কোয়ালিটি" লেখার আগে

পেজে "এক্সপোর্ট কোয়ালিটি" প্রায় সবাই লেখেন, কিন্তু এটা বাজারের কথা, কোনো সরকারি মান বা সার্টিফিকেট না। কাস্টমার কথাটা পড়ে একটা নিখুঁত শার্ট কল্পনা করেন। পার্সেল খুলে কলারে দাগ পেলে তিনি রেগে যান, আর রাগটা আসে কমেন্টে, সবার সামনে।

তাই কথাটা লিখলে সাথে সত্যিটাও লিখুন। কাপড় কী, নিজের মাপা বুক আর লম্বা, আর খুঁত থাকলে কোথায়। B গ্রেডের পোস্টে খুঁতটাই হোক প্রথম ছবি। একটা ক্যাপশন এমন হতে পারে।

"ছেলেদের ফুল হাতা কটন শার্ট, রপ্তানির অর্ডার বাতিলের মাল। B গ্রেড, বাঁ হাতার কাফে সামান্য দাগ, ছবিতে দেখুন। বুক ৪২ ইঞ্চি, লম্বা ৩০ ইঞ্চি, নিজে মাপা। দাম ৩৫০ টাকা।"

একজন যুবকের হাতে ধরা সাদা শার্টের ক্লোজআপ, আঙুল দিয়ে বোতামের পাশে ছোট হলুদ দাগ দেখানো, পেছনে সাদা দেয়াল আর জানালার আলো
খুঁতটাই প্রথম ছবি। লুকালে ফেরত আসে, দেখালে বিশ্বাস আসে

খুঁত দেখালে বিক্রি কমবে, এই ভয়টা স্বাভাবিক। আমার অভিজ্ঞতায় খুঁত লুকিয়ে বেচা পিসগুলোই দরজা থেকে সবচেয়ে বেশি ফেরত আসে। যিনি ছবি দেখে জেনেশুনে কেনেন, তিনি পার্সেল ফেরত দেন কম, আর পরের বার A গ্রেডের পোস্টেও আপনার কথা বিশ্বাস করেন। আর ছবিতে বা ক্যাপশনে লেবেলের ব্র্যান্ডের নাম কখনো দেখাবেন না। পোস্ট একটু চলতে শুরু করলেই কমেন্টে প্রশ্ন আসে, "ভাই, এটা কি অমুক ব্র্যান্ডের?" এখানে লোভে পড়ে "হ্যাঁ ভাই, অরিজিনাল" লিখবেন না। সোজা উত্তর দিন, "রপ্তানির কারখানার বাড়তি মাল, আমরা কোনো ব্র্যান্ডের নামে বেচি না, কাপড় আর মাপ ছবিতে দেখুন।" সাইজ চার্ট বানানো আর এক্সচেঞ্জের নিয়ম পেজে লেখার পুরো কাজ অনলাইনে কাপড়ের ব্যবসার গাইডে ধাপে ধাপে আছে।

কখন স্টক লট কিনবেন না

যে লট নিজের চোখে খুলে দেখার সুযোগ নেই, অচেনা কেউ শুধু ভিডিও পাঠিয়ে পুরো টাকা আগে চাইছেন, সেটা কিনবেন না। সিজন পার হয়ে যাওয়া লট, যেমন ফাল্গুনে শীতের জ্যাকেট, তখনই কিনবেন যখন আট-নয় মাস টাকা আটকে রাখার সামর্থ্য আছে আর রাখার জায়গা আছে।

সবচেয়ে বড় কথা, পুরো পুঁজি এক লটে ঢেলে দিলে অ্যাডের টাকা থাকে না। ওপরের উদাহরণে মাল বেচতে অ্যাডেই গেছে ২১,৫০০ টাকা। হাত খালি হলে মাল ঘরে পড়ে থাকে, আর সেই চাপে লোকে লোকসানে ছেড়ে দেন। এখনো একটাও অনলাইন অর্ডার না এসে থাকলে আগে কেরানীগঞ্জ বা ইসলামপুর থেকে অল্প কিছু নিয়মিত মাল এনে বেচা শিখুন, তারপর লটে আসুন। আর যিনি ক্যাশ মেমো দিতে চান না বা নিজেই "বন্ডের মাল" বলেন, তাঁর লট যত সস্তাই হোক, ছেড়ে দিন। নতুন সেলারদের আমি সবসময় একটা কথা বলি, প্রথম লটটা লাভের জন্য না, শেখার জন্য কিনুন। ছোট লটে ভুল করলে শিক্ষাটা সস্তায় হয়।

আজই করে ফেলুন

  1. একটা খাতার এক পাতায় তিনটা ঘর বানান, কেনা, প্রস্তুতি আর বিক্রি। যে লট নিয়ে ভাবছেন, তার সংখ্যা বসিয়ে ওপরের উদাহরণের মতো একবার কষে দেখুন, C গ্রেড আর বেঁচে যাওয়া পিস ধরে।
  2. যে লট ব্যবসায়ীর সাথে কথা হয়েছে, তাঁকে ফোন দিয়ে তিনটা প্রশ্ন করুন। লট কোন কারখানার, কেন বিক্রি হচ্ছে, আর ক্যাশ মেমো দেবেন কি না।
  3. গোডাউনে যাওয়ার ব্যাগে আজই একটা মাপার ফিতা, ছোট খাতা আর কয়েকটা রঙিন স্টিকার রাখুন।
  4. আপনার পেজের সব পোস্ট আর ক্যাপশন একবার খুঁজে দেখুন কোথাও কোনো ব্র্যান্ডের নাম বা হ্যাশট্যাগ আছে কি না। থাকলে আজই সরিয়ে দিন।
  5. কাছের ফুটপাত বা ছোট দোকানের দুইজন দোকানির নম্বর জোগাড় করুন, যাঁরা C গ্রেড আর বেঁচে যাওয়া পিস একসাথে নিতে পারেন। লট কেনার আগেই এই দরজাটা খোলা রাখুন।

সাধারণ প্রশ্ন

স্টক লট কি?

স্টক লট মানে রপ্তানির জন্য বানানো পোশাক, যা কোনো কারণে বিদেশে যায়নি। অর্ডার বাতিল, শিপমেন্টে দেরি বা অর্ডারের চেয়ে বেশি বানানো হলে এই মাল কারখানায় থেকে যায়। সামান্য খুঁতের জন্য যা বাদ পড়ে, বাজারে সেটাকে বলে রিজেক্ট, আর অনেক লটে এই দুই রকম মাল মিশে থাকে।

স্টক লটের মাল কোথায় পাওয়া যায়?

লট ব্যবসায়ী, বায়িং হাউজ আর কারখানার পরিচিত লোকের কাছে, যাঁরা কারখানা থেকে বড় লট তুলে ছোট ভাগে বেচেন। ঢাকায় খোঁজ শুরু করার চেনা জায়গা মিরপুর-১১-এর পল্লবীর নান্নু মার্কেট আর বঙ্গবাজারের আশপাশের মার্কেট। মালের বড় অংশ আসে গাজীপুর, আশুলিয়া আর সাভারের কারখানা থেকে।

স্টক লট ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা লাগে?

কোনো বাঁধা অঙ্ক নেই, নির্ভর করে লটে কয় পিস আর পিসের দাম কত তার ওপর। লটের দামের বাইরে যাতায়াত, ইস্ত্রি, পলিব্যাগ আর অ্যাডের টাকা আলাদা করে রাখুন, আর বেঁচে যাওয়া পিসের জন্য কিছু লোকসান ধরে রাখুন। প্রথমবার পুরো পুঁজি এক লটে না ঢেলে ছোট একটা লট দিয়ে হাত পাকান।

স্টক লটের মাল কেনা কি বৈধ?

সব লট এক রকম না। কাগজসহ বিক্রি হওয়া বাতিল বা বাড়তি মাল এক কথা, আর শুল্ক না দিয়ে বের হওয়া বন্ডের মাল, চুরির মাল বা নকল ব্র্যান্ড লেবেলের মাল আরেক কথা। যাঁর কাছ থেকে কিনছেন, তাঁর কাছ থেকে নাম-ঠিকানাসহ ক্যাশ মেমো নিন, আর বড় লটের আগে একজন আইনজীবীর সাথে কথা বলে নিন। এই উত্তর আইনি পরামর্শ না।

কেজি দরে লট কেনা কি ভালো?

অভিজ্ঞ হলে কেজির লটে দাম কম পড়তে পারে, কিন্তু নতুনদের জন্য পিস দরের লটই নিরাপদ। কেজি দরে কিনলে আগে এক কেজিতে কয় পিস পড়ছে গুনে পিসের দামে নিয়ে আসুন। ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে মাল ওজনে ভারী হয়, তখন আপনি পানির দামও দিচ্ছেন।

এক্সপোর্ট কোয়ালিটি মানে কি?

সাধারণত বোঝানো হয় পোশাকটা রপ্তানির জন্য বানানো হয়েছিল। এটা বাজারের কথা, কোনো সরকারি মান বা সার্টিফিকেট না। তাই পেজে শুধু এই কথা লিখে বসে থাকবেন না, কাপড়, মাপ আর খুঁত থাকলে সেটা ছবিসহ পরিষ্কার লিখুন।

#স্টক লট#গার্মেন্টস স্টক লট#স্টক লট ব্যবসা#এক্সপোর্ট কোয়ালিটি#শার্ট পাইকারি#অনলাইনে কাপড়ের ব্যবসা

আরও পড়ুন

খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম

বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম

থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়