হোয়াটসঅ্যাপ ব্রডকাস্টে অফার পাঠাবেন যেভাবে, নম্বর ব্যান না খেয়ে
ব্রডকাস্টের অর্ধেক মেসেজ এক টিকে আটকে থাকে কেন, ২৫৬ জনের লিস্ট কীভাবে ভাগ করবেন আর কাস্টমারকে দিয়ে নম্বর সেভ করাবেন কীভাবে। সাথে রেডি অফার মেসেজ, টাকার হিসাব আর যে ভুলে দোকানের নম্বর ব্যান হয়।

এই লেখায় যা আছে
- হোয়াটসঅ্যাপ ব্রডকাস্ট কি, গ্রুপ আর চ্যানেলের সাথে পার্থক্য
- কাস্টমার নম্বর সেভ না করলে মেসেজ যায় না কেন?
- ব্রডকাস্ট লিস্টে কতজন, মাসে কত মেসেজ?
- কাস্টমারকে দিয়ে নম্বর সেভ করাবেন যেভাবে
- অফারের মেসেজে কী লিখবেন, কত দিন পর পর?
- ২৫৬ জনের একটা লিস্টে অফার পাঠালে হিসাব কেমন দাঁড়ায়
- কোন কাজে নম্বর ব্যান হয়?
- "হোয়াটসঅ্যাপ মার্কেটিং সফটওয়্যার" কেনার আগে
- SMS না হোয়াটসঅ্যাপ, কোনটা কখন?
ধরুন ঈদের দশ দিন আগের রাত। নতুন পাঞ্জাবির ছবি তোলা শেষ, মনটাও ভালো, তাই এক বছরের প্রায় ৫০০ জন কাস্টমারকে একসাথে হোয়াটসঅ্যাপে অফার পাঠিয়ে দিলেন। সকালে উঠে দেখলেন, অর্ধেকের বেশি মেসেজে শুধু একটা ধূসর টিক।
এর পেছনে হোয়াটসঅ্যাপ ব্রডকাস্টের একটা নিয়ম কাজ করে। ব্রডকাস্ট মানে একটা মেসেজ একসাথে অনেক কাস্টমারকে পাঠানো, আর প্রত্যেকে সেটা পান নিজের আলাদা চ্যাটে, যেন আপনি শুধু তাঁকেই লিখেছেন। WhatsApp Business অ্যাপে একেকটা ব্রডকাস্ট লিস্টে ২৫৬ জন পর্যন্ত রাখা যায়। কিন্তু মেসেজটা যায় শুধু তাঁদের কাছে, যাঁরা আপনার নম্বর নিজের ফোনে সেভ করেছেন। বাকিদের কাছে মেসেজ ওই এক টিকেই আটকে থাকে।
তাই অফার পাঠানোর আসল কাজটা শুরু হয় পাঠানোর অনেক আগে। কাস্টমারকে দিয়ে নম্বর সেভ করাতে হয়, আর তিনি অফার পেতে চান কি না সেটা জেনে নিতে হয়। তারপর মাসে অল্প কয়েকবার এমন মেসেজ পাঠাতে হয়, যেটা পেয়ে তিনি বিরক্ত হন না। কেনা নম্বরের লিস্ট আর বাল্ক সফটওয়্যার থেকেও দূরে থাকতে হয়, কারণ নম্বর ব্যান হয় বেশিরভাগ সময় ওখান থেকেই।
ওই রাতের গল্পে আরেকটা জিনিস ঘটে। যাঁদের কাছে মেসেজ পৌঁছাল, তাঁদের দুজন লিখলেন "কে আপনি?", আর একজন কিছু না বলে সোজা ব্লক করে দিলেন। এত যত্ন করে ছবি তোলার পর এটা দেখতে খারাপই লাগে। কেন এমন হয়, আর কীভাবে পাঠালে অর্ডার আসে অথচ নম্বরটা বিপদে পড়ে না, নিচে একটা একটা করে বলছি।
হোয়াটসঅ্যাপ ব্রডকাস্ট কি, গ্রুপ আর চ্যানেলের সাথে পার্থক্য
হোয়াটসঅ্যাপে একসাথে অনেককে কিছু জানানোর তিনটা রাস্তা আছে, ব্রডকাস্ট লিস্ট, গ্রুপ আর চ্যানেল। তিনটার কাজ আলাদা, আর ভুলটা বেশিরভাগ সময় হয় একটার কাজ আরেকটা দিয়ে করাতে গিয়ে।
ব্রডকাস্ট লিস্ট হলো আপনার ফোনে সেভ করা কিছু কন্ট্যাক্টের একটা লিস্ট। WhatsApp Help Center-এর "How to use broadcast lists" পেজ অনুযায়ী, যত খুশি লিস্ট বানানো যায়, আর প্রতিটা লিস্টে ২৫৬ জন পর্যন্ত রাখা যায়। লিস্টে মেসেজ পাঠালে প্রত্যেকে সেটা পান আপনার সাথে তাঁর আলাদা চ্যাটে। কাস্টমার রিপ্লাই দিলে সেটাও শুধু আপনি দেখেন, লিস্টের অন্য কেউ না। একজন আরেকজনের নম্বরও দেখেন না। একই পেজে লেখা আছে, ব্রডকাস্ট লিস্ট Windows, Mac বা WhatsApp Web-এ চলে না, ফোন থেকেই পাঠাতে হয়।
গ্রুপে সবাই সবার মেসেজ দেখেন, আর সাধারণত সবার নম্বরও দেখা যায়। Help Center অনুযায়ী একটা গ্রুপে ১,০২৪ জন পর্যন্ত রাখা যায়। দোকানের জন্য গ্রুপ ঝুঁকির। একজন কাস্টমার ডেলিভারি দেরি নিয়ে রাগ ঝাড়লে সেটা বাকি সবাই পড়েন। আবার আপনার কাস্টমারের নম্বর অন্য সেলারও তুলে নিতে পারেন।
চ্যানেল হলো একমুখী নোটিশ বোর্ড। যাঁরা ফলো করেন তাঁরা আপডেট দেখেন আর রিঅ্যাক্ট দেন, কিন্তু চ্যাটে উত্তর দিতে পারেন না। নতুন কালেকশনের ছবি রাখার জন্য চ্যানেল ভালো জায়গা। কিন্তু সেখান থেকে সরাসরি অর্ডার নেওয়া যায় না।
| ব্রডকাস্ট লিস্ট | গ্রুপ | চ্যানেল | |
|---|---|---|---|
| কতজন | প্রতি লিস্টে ২৫৬ জন, লিস্ট যত খুশি | ১,০২৪ জন পর্যন্ত | যাঁরা ফলো করেন সবাই |
| কাস্টমার রিপ্লাই দিলে | শুধু আপনার চ্যাটে আসে | সবাই দেখেন | রিপ্লাই দেওয়া যায় না |
| কার কাছে পৌঁছায় | যাঁরা আপনার নম্বর সেভ করেছেন | যাঁরা গ্রুপে আছেন | যাঁরা ফলো করেছেন |
| অফার পাঠাতে | সবচেয়ে কাজের | ঝুঁকি বেশি | খবর দিতে ভালো, অর্ডার নিতে না |
অফার পাঠিয়ে অর্ডার নিতে চাইলে তাই ব্রডকাস্ট লিস্টই আসল জিনিস। কারণ কাস্টমার "আমার জন্য একটা M সাইজ রাখেন" লিখলে সেটা একান্তই আপনার আর তাঁর কথা থাকে।

কাস্টমার নম্বর সেভ না করলে মেসেজ যায় না কেন?
WhatsApp-এর Help Center-এ ব্রডকাস্ট লিস্টের পেজে নিয়মটা পরিষ্কার লেখা আছে। মেসেজ পাবেন শুধু সেই কন্ট্যাক্টরা, যাঁদের ফোনের অ্যাড্রেস বুকে আপনার নম্বর সেভ করা আছে। আপনি কাস্টমারের নম্বর সেভ করেছেন কি না, সেটা এখানে যথেষ্ট না। উল্টো দিকেও সেভ থাকতে হবে।
কারণটা বোঝা কঠিন না। এই নিয়ম না থাকলে যে কেউ এক লাখ নম্বর জোগাড় করে সবাইকে অ্যাড পাঠাত। WhatsApp ধরে নেয়, যিনি আপনার নম্বর নিজের ফোনে সেভ করেছেন, তিনি আপনাকে চেনেন আর আপনার কথা শুনতে রাজি। এই একটা নিয়মই WhatsApp-কে SMS-এর মতো স্প্যামে ভরে যাওয়া থেকে বাঁচায়। সেলার হিসেবে প্রথমে রাগ লাগে, কিন্তু নিয়মটা আপনার কাস্টমারকে অন্য সেলারের স্প্যাম থেকেও বাঁচায়।
আপনার ফোনে কাস্টমারের নম্বর আছে মানেই তাঁর ফোনে আপনার নম্বর আছে, এমন না। অনেক কাস্টমার অর্ডার দেন ফেসবুক পেজের ইনবক্স থেকে, আপনার নম্বর কোনোদিন হাতে নেননি। কেউ কুরিয়ারের ফোন ধরেছেন, আপনার না। এঁদের কাছে ব্রডকাস্ট একটা টিক পর্যন্ত গিয়ে থেমে থাকে।
কে পেলেন আর কে পেলেন না, সেটা নিজেই দেখে নিতে পারেন। ব্রডকাস্ট চ্যাটে পাঠানো মেসেজটা চেপে ধরে Info খুললে দেখা যায় কার কাছে Delivered হয়েছে আর কে Read করেছেন। ২৫৬ জনের লিস্টে যদি ৯০ জনের কাছে পৌঁছায়, তাহলে বাকি ১৬৬ জন আপনার নম্বর সেভ করেননি ধরে নিতে পারেন। পরের অংশের কাজ এঁদের দিয়ে নম্বর সেভ করানো।

এখানে একটা নতুন খবরও জেনে রাখুন। Meta এপ্রিল ২০২৫-এ তাদের newsroom-এ জানিয়েছে, WhatsApp Business অ্যাপে "Business broadcasts" নামে একটা নতুন ধরনের মেসেজ আসছে, আর এটার জন্য টাকা দিতে হবে। WhatsApp-এর ব্যবসার ওয়েবসাইট whatsappbusiness.com-এর পেজে লেখা আছে, এটা দিয়ে নম্বর সেভ না করা কাস্টমারকেও মেসেজ পাঠানো যায়, আগে থেকে শিডিউল করা যায়, আর মেসেজে "অর্ডার" বা "কল" বাটন দেওয়া যায়। কিন্তু Help Center বলছে, ফিচারটা এখনো অল্প কিছু দেশে আছে। আপনার অ্যাপের Tools ট্যাবে Business broadcasts দেখা না গেলে বুঝবেন বাংলাদেশে আপনার অ্যাকাউন্টে এখনো আসেনি। আর এলেও, যাঁকে পাঠাবেন তিনি আপনাকে চেনেন কি না, সেই প্রশ্নটা থেকেই যায়।
ব্রডকাস্ট লিস্টে কতজন, মাসে কত মেসেজ?
প্রতিটা লিস্টে ২৫৬ জন রাখা যায়, আর লিস্ট বানানো যায় যত খুশি। তাই ৬০০ জন কাস্টমার থাকলে একটা বড় লিস্ট না, তিনটা ছোট লিস্ট বানাবেন। ভাগটা সংখ্যা দিয়ে করবেন না, করবেন কাস্টমার কী কিনেছেন সেটা দিয়ে। "মধু ও ঘি", "পাঞ্জাবি", "ঢাকার বাইরে" এমন নাম দিলে কোন অফার কোন লিস্টে যাবে সেটা নিয়ে আর ভাবতে হয় না।
এই ভাগের লাভটা টাকায় আসে। যিনি মধু কিনেছেন, তাঁকে পাঞ্জাবির অফার পাঠালে তিনি পড়েন না, অনেক সময় বিরক্ত হন। আর বিরক্ত কাস্টমারই একদিন ব্লক বাটনে চাপ দেন। যাঁর যে জিনিসে আগ্রহ, তাঁকে শুধু সেটার খবর দিলে কম মেসেজে বেশি রিপ্লাই আসে।
লিস্ট বানানো কয়েক মিনিটের কাজ। WhatsApp Business অ্যাপের চ্যাট পেজে ওপরের তিন ডটের মেনুতে New broadcast বা Broadcast lists অপশন থাকে। অ্যাপের ভার্সন অনুযায়ী জায়গাটা একটু এদিক-ওদিক হতে পারে। কন্ট্যাক্ট সিলেক্ট করুন, লিস্ট বানান, তারপর লিস্টের নামে চাপ দিয়ে একটা চেনা নাম দিয়ে দিন।
এবার মাসের প্রশ্ন। পুরনো ব্রডকাস্ট লিস্টে মাসে কয়টা মেসেজ পাঠানো যাবে, এমন নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা WhatsApp দেয়নি। তবে Help Center-এর "How to manage your business broadcasts" পেজে লেখা আছে, কিছু দেশে মাসিক ব্রডকাস্ট লিমিট ধীরে ধীরে চালু হচ্ছে। Meta-র এপ্রিল ২০২৫-এর ঘোষণাতেও আছে, একজন মানুষ কতগুলো মার্কেটিং মেসেজ পাবেন তার ওপর তারা লিমিট বসিয়েছে, যাতে ইনবক্স ভরে না যায়। সংখ্যাটা দেশ আর সময়ের সাথে বদলায়, তাই অ্যাপে কোনো লিমিটের নোটিশ দেখলে সেটাই মানবেন।
সত্যি কথা বললে, আসল লিমিট WhatsApp-এর কোনো সংখ্যা না, আপনার কাস্টমারের ধৈর্য। WhatsApp-এর Business Messaging Policy-তে লেখা আছে, মানুষ বিজনেসকে ব্লক বা রিপোর্ট করতে পারেন, আর সেই ফিডব্যাক দেখে WhatsApp বিজনেসের মেসেজ পাঠানোর পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে। মানে বেশি পাঠালে মেসেজ শুধু বিরক্তই করে না, আপনার নম্বরের ক্ষমতাও কমায়।
কাস্টমারকে দিয়ে নম্বর সেভ করাবেন যেভাবে
এটাই পুরো লেখার সবচেয়ে দরকারি অংশ। নম্বর সেভ না হলে সবচেয়ে সুন্দর অফার মেসেজও কারও ফোনে পৌঁছায় না। আর কাস্টমার নিজে থেকে নম্বর সেভ করেন না, তাঁকে একটা কারণ দিতে হয়। নিচের চারটা জায়গায় একবার করে কথাটা বলুন। কয়েক সপ্তাহ পর ব্রডকাস্টের Info খুললে দেখবেন, Delivered-এর নিচে নামের সংখ্যা বাড়ছে।
- কনফার্ম কলের শেষে এক লাইন জুড়ে দিন। অর্ডার মিলিয়ে নেওয়ার পর বলুন, "ভাই, এই নম্বরটা আমাদের দোকানের নাম দিয়ে সেভ করে রাখবেন। পার্সেল নিয়ে কোনো কথা থাকলে এই নম্বরেই হোয়াটসঅ্যাপে পাবেন।" এখানে কাস্টমারের নিজের লাভটা আগে বলা হলো, তাই তিনি সেভ করেন। অফারের কথা এই কলে তুলবেন না।
- পার্সেলের ভেতরে একটা ছোট কার্ড রেখে দিন। কার্ডে থাকবে দোকানের নাম, হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর আর এক লাইন, "নম্বরটা সেভ করে 'হ্যাঁ' লিখে পাঠালে নতুন স্টক আর অফারের খবর আগে পাবেন।" পার্সেল খোলার সময় কাস্টমার সবচেয়ে খুশি থাকেন, তাই তখনকার অনুরোধটা বেশি কাজ করে।
- ডেলিভারির দুই-তিন দিন পর প্রথম হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজটা আলাদা করে দিন। লিখুন, "আসসালামু আলাইকুম, আমি [দোকানের নাম] থেকে বলছি। পার্সেল ঠিকমতো পেয়েছেন তো? নতুন অফারের খবর এই নম্বরে পেতে চাইলে নম্বরটা সেভ করে একটা 'হ্যাঁ' লিখে দিন।" যিনি "হ্যাঁ" লিখলেন, তিনিই আপনার লিস্টের মানুষ।
- ফেসবুক পেজ আর ওয়েবসাইটে এমন একটা বাটন রাখুন, যেটায় চাপলেই আপনার সাথে চ্যাট খোলে। WhatsApp-এর click to chat লিংক মানে wa.me/ এর পরে দেশের কোডসহ আপনার নম্বর, এটাই পেজের বাটনে আর ওয়েবসাইটে বসিয়ে দিন। কাস্টমার নিজে চ্যাট শুরু করলে কথা বলার রাস্তাটা তাঁর দিক থেকেই খোলে।

তৃতীয় পয়েন্টের "হ্যাঁ" কথাটা খেয়াল করুন। WhatsApp-এর Business Messaging Policy বলছে, কাউকে মেসেজ দিতে পারবেন তখনই, যখন তিনি নিজে আপনাকে নম্বর দিয়েছেন আর মেসেজ পেতে রাজি হয়েছেন। অর্ডারের সময় নম্বর দেওয়া মানে পার্সেলের খবর পেতে রাজি হওয়া, অফারের জন্য না। "হ্যাঁ" লিখে তিনি অফার পেতে রাজি হলেন, আর আপনার কাছে তার প্রমাণও থাকল। এমন রাজি হওয়া মানুষ সাধারণত ব্লক করেন না।
নম্বরের লিস্টটা কোথা থেকে নেবেন, সেটাও ঠিক করে রাখুন। শুধু ডেলিভারি হওয়া অর্ডারের কাস্টমার নিন, ফেরত দেওয়া বা ক্যানসেল করা নম্বর না। কুরিয়ারের প্যানেলে আগের পার্সেলের লিস্টে নাম আর নম্বর থাকে। WinningSeller-এ অর্ডারের লিস্ট "ডেলিভারি হয়েছে" দিয়ে ফিল্টার করে CSV ডাউনলোড করা যায়, Excel-এ বাংলা নামসহ খোলে। সেখান থেকে কার কাছে কার্ড গেছে আর কে "হ্যাঁ" বলেছেন, পাশে একটা কলামে লিখে রাখুন। অর্ডারের আর কী কী টুল আছে, ফিচারের পেজে দেখে নিতে পারেন। পুরনো কাস্টমারকে ফোনে কীভাবে আবার বিক্রি করবেন, সেই পুরো রুটিনটা রিপিট সেলের লেখায় আছে। ব্রডকাস্ট সেই কাজেরই একটা হাতিয়ার।
অফারের মেসেজে কী লিখবেন, কত দিন পর পর?
ব্রডকাস্ট মেসেজ কাস্টমার পান আলাদা চ্যাটে, তাই লিখবেন যেন একজনকে লিখছেন। "সম্মানিত কাস্টমারবৃন্দ" দিয়ে শুরু হওয়া মেসেজ দেখলেই মানুষ বোঝেন এটা সবার জন্য, তখন আর মন দিয়ে পড়েন না। ভালো একটা অফার মেসেজে পাঁচটা জিনিস থাকে।
প্রথম লাইনে দোকানের নাম আর তিনি আগে কী কিনেছিলেন সেটা লিখুন, তাহলে কাস্টমার এক নজরে আপনাকে চিনবেন। তারপর বলুন একটাই প্রোডাক্ট বা একটাই অফারের কথা, পুরো দোকানের লিস্ট পাঠাবেন না। এরপর লিখুন কেন এখনই, যেমন নতুন স্টক এসেছে, ঈদের আগে ডেলিভারির শেষ দিন কাছে, বা সাইজ কম আছে। তারপর এক লাইনে বলুন কীভাবে অর্ডার করবেন। একদম শেষে একটা সম্মানের লাইন রাখুন, যিনি আর এমন খবর চান না তিনি কী লিখবেন।
একটা উদাহরণ দেখুন। প্রোডাক্ট আর দাম নিজের মতো বদলে নেবেন।
আসসালামু আলাইকুম ভাই, [দোকানের নাম] থেকে বলছি। গত রমজানে আপনি আমাদের থেকে সাদা পাঞ্জাবি নিয়েছিলেন। এবার ঈদের জন্য সুতি কাপড়ের নতুন পাঁচটা রং এসেছে, সাথে ছবি দিলাম। দাম ১,৪৫০ টাকা, আর আগের কাস্টমারদের জন্য ডেলিভারি চার্জ লাগবে না। ঈদের আগে ডেলিভারি পেতে বৃহস্পতিবারের মধ্যে সাইজ আর রং লিখে রিপ্লাই দিন। এমন খবর আর না চাইলে শুধু "না" লিখে দিন, আর পাঠাব না।

শেষ লাইনটা দেখে অনেকে ভয় পান, ভাবেন "না" লেখার রাস্তা দেখালে মানুষ চলে যাবে। আসলে যিনি "না" লিখতেন না, তিনি চুপচাপ ব্লক করতেন। আর ব্লকটাই WhatsApp গোনে, আপনার বিরুদ্ধে। কেউ "না" লিখলে সাথে সাথে তাঁকে লিস্ট থেকে বাদ দিন। Policy-তেও আছে, কেউ যোগাযোগ বন্ধ করতে বললে, হোয়াটসঅ্যাপে হোক বা বাইরে, সেটা মানতেই হবে।
মেসেজে অর্ডার এলে একটা নতুন ঝামেলা শুরু হয়। পঞ্চাশ জন একসাথে সাইজ আর ঠিকানা লিখতে থাকলে চ্যাটের ভেতরে অর্ডার হারায়, ঠিকানা অর্ধেক আসে। এজন্য অনেক সেলার মেসেজে রিপ্লাইয়ের বদলে প্রোডাক্টের অর্ডার ফর্মের লিংক দেন। চ্যাট থেকে অর্ডার না হারানোর পুরো নিয়ম আর রেডি মেসেজ হোয়াটসঅ্যাপে অর্ডার নেওয়ার লেখায় আছে। নিজের অর্ডার ফর্মওয়ালা প্রোডাক্ট পেজ থাকলে ব্রডকাস্টে শুধু লিংকটা দিলেই চলে, ঠিকানা কাস্টমার নিজের হাতে ঘর ভরে লেখেন।
কত দিন পর পর পাঠাবেন, তার কোনো অফিসিয়াল সংখ্যা নেই। শুরু করার জন্য একটা নিরাপদ নিয়ম হলো মাসে দুই থেকে চারবার, মানে সপ্তাহে একবারের বেশি না। এটা আমাদের মাপা সংখ্যা না, শুধু একটা সাবধানী শুরু। প্রতিটা মেসেজে সত্যিকারের কোনো খবর থাকবে, নতুন স্টক, উপলক্ষ, বা আগের কাস্টমারের জন্য আলাদা সুবিধা। পাঠাবেন দিনের বেলায় বা সন্ধ্যায়, রাত দশটার পরে না। জুমার নামাজের সময়টাও বাদ দিন।

২৫৬ জনের একটা লিস্টে অফার পাঠালে হিসাব কেমন দাঁড়ায়
একটা উদাহরণে টাকার হিসাবটা দেখি। নিচের সংখ্যাগুলো বোঝানোর জন্য ধরা, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। নিজের রিপ্লাই আর অর্ডারের সংখ্যা বসিয়ে মিলিয়ে নিন।
ধরুন আপনি মধু বিক্রি করেন। "মধু ও ঘি" লিস্টে ২৫৬ জন আছেন, এর মধ্যে ১৮০ জন আপনার নম্বর সেভ করেছেন। আপনি নতুন খাঁটি ঘি-র অফার পাঠালেন, আগের কাস্টমারদের জন্য ডেলিভারি চার্জ ফ্রি। ১৮০ জনের মধ্যে ২০ জন রিপ্লাই দিলেন, আর তাঁদের থেকে ৮টা অর্ডার হলো।
আধা কেজি ঘি ৭৫০ টাকা, কিনতে পড়ে ৪৫০ টাকা, প্যাকেটে আরও ২০ টাকা। ডেলিভারি চার্জটা এবার আপনি দিচ্ছেন, ধরুন ৮০ টাকা। তাহলে প্রতিটা ডেলিভারিতে হাতে থাকে ৭৫০ − ৪৫০ − ২০ − ৮০ = ২০০ টাকা। ৮টার মধ্যে একটা ফেরত এলো, তাতে গেল ধরুন ১২০ টাকা। ৭টা ডেলিভারি থেকে এলো ৭ × ২০০ = ১,৪০০ টাকা, ফেরতের খরচ বাদে থাকে ১,২৮০ টাকা। অ্যাডে এক টাকাও যায়নি।
একই ৮টা অর্ডার যদি অ্যাড থেকে আনতে হতো, আর প্রতিটায় ধরুন ২০০ টাকা ডলার স্পেন্ড যেত, তাহলে অ্যাডেই যেত ১,৬০০ টাকা। ডেলিভারি চার্জ ফ্রি না দিলেও সেই হিসাবে লাভ প্রায় থাকত না। পুরনো কাস্টমারের কাছে এক মেসেজে যা এলো, নতুন কাস্টমারের কাছে সেটা আনতে অ্যাডের পেছনে দৌড়াতে হয়।
এবার উল্টো দিকটাও দেখুন। এই ১৮০ জনই আপনার পুঁজি। প্রতি সপ্তাহে তিনটা করে মেসেজ দিয়ে যদি এঁদের ২০ জন ব্লক করেন, তাহলে শুধু ২০টা নম্বর হারালেন না। ব্লক আর রিপোর্ট বাড়লে WhatsApp পুরো নম্বরের মেসেজ পাঠানোর ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। তখন বাকি ১৬০ জনের কাছেও যাওয়ার রাস্তা সরু হয়ে যায়। একটা বেশি মেসেজের লোভে পুরো লিস্টটা ঝুঁকিতে ফেলবেন না।
কোন কাজে নম্বর ব্যান হয়?
শুধু ব্রডকাস্ট পাঠালে নম্বর ব্যান হয় না। ব্যান হয় যখন মেসেজ পাওয়া মানুষেরা বিরক্ত হয়ে ব্লক আর রিপোর্ট করেন, অথবা যখন আপনি WhatsApp-এর নিয়মের বাইরের কোনো টুল চালান। WhatsApp-এর নিজের পেজগুলো থেকে মূল কারণগুলো এমন।
- অচেনা বা কেনা নম্বরে মেসেজ পাঠালে বিপদ সবচেয়ে বেশি। Business Messaging Policy-র প্রথম শর্তই হলো, মানুষ নিজে নম্বর দিয়েছেন আর মেসেজ পেতে রাজি হয়েছেন। ফেসবুক গ্রুপ থেকে তোলা বা টাকা দিয়ে কেনা নম্বরে পাঠালে এই শর্তটাই ভাঙে।
- অনেকে ব্লক বা রিপোর্ট করলে WhatsApp ধরে নেয়, আপনার মেসেজ মানুষ চায় না। একই Policy-তে আছে, বেশি নেগেটিভ ফিডব্যাক পেলে WhatsApp মেসেজ পাঠানোর ক্ষমতা কমাতে বা অ্যাক্সেস বন্ধ করতে পারে। ঘন ঘন অফার, রাতের মেসেজ আর "না" বলার পরও পাঠানো, এগুলোই ব্লক বাড়ায়।
- বাল্ক মেসেজ, অটো মেসেজ বা বদলানো অ্যাপ চালালে আপনি সরাসরি নিয়ম ভাঙছেন। WhatsApp-এর Terms of Service-এ বাল্ক মেসেজিং, অটো-মেসেজিং আর অটো-ডায়ালিং নিষেধ। Help Center-এর "About unsupported apps" পেজে বলা আছে, GB WhatsApp-এর মতো বদলানো অ্যাপ চালালে অ্যাকাউন্ট কিছুদিনের জন্য বা একেবারে ব্যান হতে পারে।
- অনুমতি ছাড়া কাউকে গ্রুপে ঢুকিয়ে অফার দেওয়াও স্প্যাম। মানুষ বেরিয়ে যান, অনেকে রিপোর্টও করেন।
ব্যানের আগে অনেক সময় একটা ওয়ার্নিং আসে। Help Center-এর "About restricted accounts" পেজ অনুযায়ী, অ্যাকাউন্ট রেস্ট্রিক্টেড হলে আগে যাঁদের সাথে চ্যাট বা কল হয়েছে তাঁদের সাথে কথা চালানো যায়। কিন্তু নতুন কারও সাথে চ্যাট শুরু করা, নতুন গ্রুপ বানানো বা গ্রুপে নতুন মানুষ যোগ করা যায় না। নির্দিষ্ট সময় পার হলে রেস্ট্রিকশন নিজেই উঠে যায়। এই নোটিশ পেলে সেটাকে শেষ সুযোগ ধরুন, আর অফার পাঠানো পুরোপুরি থামিয়ে দিন।

"হোয়াটসঅ্যাপ মার্কেটিং সফটওয়্যার" কেনার আগে
ফেসবুকে প্রায়ই অ্যাড দেখবেন, "এক ক্লিকে ১০ হাজার মানুষকে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ, নম্বর সেভ ছাড়াই"। ছোট সেলারের কাছে কথাটা লোভনীয়, কারণ ২৫৬ জনের লিস্ট আর নম্বর সেভের ঝামেলা দুটোই যেন এক ধাক্কায় চলে যায়। কেনার আগে একটু থামুন।
এমন অনেক সফটওয়্যার কাজ করে আপনার নিজের নম্বরের WhatsApp Web খুলে, মানুষের হয়ে অটোমেটিক একটার পর একটা মেসেজ পাঠিয়ে। WhatsApp-এর Terms of Service ঠিক এই কাজটাকেই নিষেধ করে। Business Messaging Policy-তেও লেখা আছে, অনুমতি ছাড়া অনেক মানুষকে মেসেজ দিলে WhatsApp অ্যাক্সেস কমাতে বা বন্ধ করতে পারে। আর ঝুঁকিটা সফটওয়্যার কোম্পানির না, আপনার। ব্যান হয় আপনার দোকানের নম্বর।
অফিসিয়াল রাস্তাও আছে, নাম WhatsApp Business Platform। এটা চলে Meta-র অ্যাপ্রুভ করা পার্টনারের মাধ্যমে। মেসেজের টেমপ্লেট আগে Meta-কে দিয়ে অ্যাপ্রুভ করাতে হয়, আর প্রতিটা মেসেজ ধরে টাকা লাগে। রেট দেশভেদে আলাদা, whatsappbusiness.com-এর pricing পেজে দেখা যায়। দিনে কয়েকশো অর্ডার সামলানো বড় ব্র্যান্ডের জন্য এটা ভাবার মতো। মাসে কয়েকশো কাস্টমারের দোকানের জন্য অ্যাপের ব্রডকাস্ট লিস্টই যথেষ্ট, আর তাতে টাকাও লাগে না।
কোনো সফটওয়্যার বা সার্ভিসের কথা তবু ভাবলে, টাকা দেওয়ার আগে এই প্রশ্নগুলো করুন।
- মেসেজ কি Meta-র অফিসিয়াল WhatsApp Business Platform দিয়ে যায়, নাকি আমার ফোনের WhatsApp Web খুলে?
- মেসেজের টেমপ্লেট কি Meta অ্যাপ্রুভ করে, আর প্রতি মেসেজের Meta চার্জ কত, লিখিতভাবে দেবেন?
- আমার নম্বর ব্যান হলে আপনারা কী দায় নেবেন?
শেষ প্রশ্নের উত্তরে "কিছু হবে না ভাই, সবাই চালায়" শুনলে বুঝে নিন উত্তরটা কী।
SMS না হোয়াটসঅ্যাপ, কোনটা কখন?
দুটো একে অপরের শত্রু না, দুটোর কাজ আলাদা। SMS পৌঁছায় যেকোনো ফোনে, ইন্টারনেট না থাকলেও, নম্বর সেভ না থাকলেও। কিন্তু প্রতিটা SMS-এ টাকা লাগে, লেখা যায় অল্প, ছবি যায় না, আর উত্তর আসে কম। হোয়াটসঅ্যাপ ব্রডকাস্টে আলাদা চার্জ নেই, ছবি আর ভিডিও যায়, কাস্টমার সাথে সাথে চ্যাটে প্রশ্ন করতে পারেন। কিন্তু যায় শুধু নম্বর সেভ করা মানুষের কাছে।
তাই একটা সহজ ভাগ করে নিন। অর্ডার কনফার্ম আর পার্সেল পাঠানোর খবর যাবে SMS-এ, কারণ এটা সবার কাছে পৌঁছাতে হবে। অফার আর নতুন স্টকের খবর যাবে হোয়াটসঅ্যাপ ব্রডকাস্টে, তাঁদের কাছে যাঁরা "হ্যাঁ" বলেছেন। আর ঈদের মতো বড় উপলক্ষে, যাঁরা হোয়াটসঅ্যাপে নেই, তাঁদের কাছে একটা অফারের SMS। কোন SMS সার্ভিস নেবেন আর এক SMS-এ কত খরচ, সেটা বাল্ক SMS-এর লেখায় হিসাবসহ আছে।
WinningSeller-এ অর্ডারের SMS যায় আপনার নিজের SMS অ্যাকাউন্ট দিয়ে, BulkSMSBD, Alpha SMS বা MiM SMS। সেটিংসে চালু করে নিলে অর্ডার এলে, কনফার্ম হলে, পার্সেল কুরিয়ারে গেলে আর ডেলিভারি হলে কাস্টমার নিজে থেকেই খবর পান। তাতে আপনার হোয়াটসঅ্যাপটা পার্সেলের খবরে ভরে যায় না, ওটা থাকে কাস্টমারের সাথে কথা আর অফারের জন্য।
আজ রাতে শুরু করার কাজ একটাই। কাল যে পার্সেলগুলো যাবে, সেগুলোর ভেতরে নম্বর সেভ করার একটা ছোট কার্ড রেখে দিন। এক মাস পর যেদিন কোনো পুরনো কাস্টমার নিজে থেকে লিখবেন "ভাই, নতুন কিছু এলো?", সেদিন বুঝবেন লিস্টটা আসলে আপনার দোকানের সবচেয়ে দামি জিনিস।
সাধারণ প্রশ্ন
হোয়াটসঅ্যাপ ব্রডকাস্ট লিস্টে কতজন রাখা যায়?
একটা ব্রডকাস্ট লিস্টে ২৫৬ জন পর্যন্ত রাখা যায়, WhatsApp Help Center-এর "How to use broadcast lists" পেজে এটাই লেখা। লিস্ট যত খুশি বানানো যায়। তাই ৬০০ কাস্টমার থাকলে প্রোডাক্ট বা এলাকা ধরে তিনটা লিস্ট বানিয়ে নিন।
নম্বর সেভ না করলে কি ব্রডকাস্ট মেসেজ যায়?
সাধারণ ব্রডকাস্ট লিস্টের মেসেজ যায় না। মেসেজ পৌঁছায় শুধু তাঁদের কাছে, যাঁরা আপনার নম্বর নিজের ফোনে সেভ করেছেন। WhatsApp Business অ্যাপের নতুন পেইড ফিচার "Business broadcasts" সেভ না করা কাস্টমারের কাছেও যায় বলে WhatsApp লিখেছে, তবে এটা এখনো সব দেশে আসেনি।
ব্রডকাস্ট পাঠালে কি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ব্যান হয়?
শুধু ব্রডকাস্ট পাঠালে হয় না, ব্যান বা রেস্ট্রিকশন আসে কাস্টমারের ব্লক আর রিপোর্ট থেকে। WhatsApp-এর Business Messaging Policy-তে লেখা আছে, বেশি নেগেটিভ ফিডব্যাক পেলে মেসেজ পাঠানোর ক্ষমতা কমানো বা পুরো অ্যাক্সেস বন্ধ করা হতে পারে। যাঁরা নিজে থেকে রাজি হয়েছেন শুধু তাঁদের পাঠালে এই ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
হোয়াটসঅ্যাপ ব্রডকাস্ট কি ফ্রি?
WhatsApp Business অ্যাপের সাধারণ ব্রডকাস্ট লিস্ট দিয়ে পাঠাতে আলাদা কোনো চার্জ লাগে না, শুধু ইন্টারনেটের খরচ। Meta এপ্রিল ২০২৫-এ জানিয়েছে, অ্যাপের নতুন "Business broadcasts" একটা পেইড ফিচার। কোনো কোনো দেশে মাসিক লিমিটও ধীরে ধীরে চালু হচ্ছে, তাই নিজের অ্যাপে কী দেখাচ্ছে সেটা দেখে নিন।
কাস্টমার কি বুঝবেন মেসেজটা অনেককে গেছে?
না, ব্রডকাস্টের মেসেজ প্রত্যেকে পান আলাদা চ্যাটে, যেন শুধু তাঁকেই লিখেছেন। কে কে লিস্টে আছেন সেটা কেউ দেখেন না, আর তাঁর রিপ্লাইও শুধু আপনার কাছে আসে। এজন্য মেসেজটা এমনভাবে লিখুন, যেন একজন মানুষকে লিখছেন।
সপ্তাহে কয়বার অফার পাঠানো ঠিক?
শুরুতে মাসে দুই থেকে চারবারের বেশি না, মানে সপ্তাহে একবারের মতো। এটা কোনো অফিসিয়াল নিয়ম না, কাস্টমার যেন বিরক্ত না হন সেজন্য একটা নিরাপদ শুরু। রিপ্লাই কমে গেলে বা কেউ "আর পাঠাবেন না" বললে আরও কম পাঠান।
আরও পড়ুন
ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ
ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।
গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে
গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।
বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে
ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।


