WinningSeller
অর্ডার ও কুরিয়ার১৫ মিনিটে পড়া যায়

ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন ২০২৬, কাস্টমারের নম্বর আগলে রাখবেন যেভাবে

ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এখন সংসদের আইন। খাতায় হাজার কাস্টমারের নম্বর-ঠিকানা থাকলে আইন কী চায়, কুরিয়ার-SMS-অ্যাডে কতটুকু দেবেন, টিমের কে কী দেখবেন, পুরনো শিট আর ফোন কী করবেন, সহজ ভাষায়।

ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন ২০২৬, কাস্টমারের নম্বর আগলে রাখবেন যেভাবে
এই লেখায় যা আছে
  1. ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এখন কোন অবস্থায়, কাদের ওপর খাটে
  2. অনলাইন শপের কোন তথ্য "ব্যক্তিগত উপাত্ত"
  3. কুরিয়ার, SMS আর অ্যাডে নম্বর দেওয়া, সীমা কোথায়
  4. টিমের কে কতটুকু দেখবে
  5. প্রিন্ট করা শিট, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আর পুরনো ফোন
    1. উদাহরণ, পুরনো লিস্ট হাতছাড়া হলে মাসে কত যায়
  6. কাস্টমার নিজের তথ্য মুছতে বললে
    1. কখন সব মুছবেন না
  7. স্টোরে একটা সহজ প্রাইভেসি নোট
  8. আজই করে ফেলুন

ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এখন আর অধ্যাদেশ নেই। সংসদ "ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন, ২০২৬" পাস করেছে, আর সেটাই এখন চালু। অনলাইন শপের জন্য এর মানে খুব সোজা। কাস্টমারের নাম, মোবাইল নম্বর আর ঠিকানা আইনের চোখে কাস্টমারের নিজের জিনিস, আপনার কাছে আমানত। যে কাজের জন্য নিয়েছেন, মানে অর্ডার কনফার্ম আর পার্সেল পৌঁছানো, সেই কাজে লাগান। অন্য কাজে লাগাতে হলে কাস্টমারের সম্মতি নিন। কুরিয়ার আর SMS কোম্পানিকে দরকারের বেশি দেবেন না। টিমের প্রত্যেকে শুধু নিজের কাজের তথ্য দেখবেন। কেউ নিজের তথ্য মুছতে বললে শুনবেন, আর দোকানে একটা ছোট প্রাইভেসি নোট রাখবেন।

ধরুন রাত এগারোটায় এক পুরনো কাস্টমার ফোন দিলেন। গলা একটু গরম। "ভাই, আপনার দোকান থেকে মধু নিয়েছিলাম, আজকে আরেকটা পেজ থেকে ফোন দিয়ে আমার নাম ধরে বলছে মধু লাগবে কি না। আমার নম্বর ওরা পেল কোথায়?" আপনি জানেন না। কিন্তু মনে পড়ে, দুই মাস আগে যে মডারেটর ছেলেটা কাজ ছেড়ে গেছে, তার ফোনে অর্ডারের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপটা এখনো আছে। দোকান একটু বড় হলে এমন রাত প্রায় সবার জীবনেই একবার আসে। আগে দেখে নিই আইনটা কী বলে, তারপর রোজকার কাজে নম্বর কোথায় কোথায় বের হয়ে যায় আর সেটা কীভাবে বন্ধ করবেন।

ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এখন কোন অবস্থায়, কাদের ওপর খাটে

২০২৬ সালের অক্টোবরে সরকারের আইনের ওয়েবসাইট bdlaws.minlaw.gov.bd-তে আইনটার পেজে যা লেখা আছে, তা মোটামুটি এমন। নাম "ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন, ২০২৬", নম্বর ২০২৬ সনের ৬৩ নং আইন, তারিখ ১০ এপ্রিল ২০২৬। এর ৪৪ ধারা ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ (৬১ নং) আর ২০২৬ সালের সংশোধন অধ্যাদেশ (২৩ নং) দুটোই বাতিল করেছে। ফেসবুকের সেলার গ্রুপে প্রায়ই পুরনো পোস্ট ঘুরে আসে, যেখানে লেখা "অধ্যাদেশ তো এখনো ড্রাফট"। পেজটা খুলে আইনের নম্বর আর তারিখ নিজের চোখে একবার দেখে নিন, দুই মিনিটের কাজ।

কবে থেকে খাটে, সেটাও আইনে লেখা। ১ ধারা বলছে, আইনটা ৬ নভেম্বর ২০২৫ থেকেই কার্যকর ধরা হবে। শুধু দুটো অংশ বাদ। প্রধান উপাত্ত কর্মকর্তা রাখার ২৩ ধারা, আর কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ, জরিমানা আর ক্ষতিপূরণের ৩১ থেকে ৩৫ ধারা। এগুলো চালু হবে আইন জারির ১৮ মাস পার হওয়ার পর, সরকার গেজেটে যে তারিখ দেবে সেদিন। মানে জরিমানার ধারা এখনো ঘুমিয়ে আছে, কিন্তু কাস্টমারের অধিকার আর আপনার দায়িত্বগুলো এখনই চালু।

কাদের ওপর খাটে? আইনের ভাষায় যিনি "উপাত্ত-জিম্মাদার", মানে যিনি কোনো উদ্দেশ্যে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে কাজ করেন। পেজ থেকে অর্ডার নিয়ে খাতায় নম্বর লেখা সেলারও এর মধ্যে পড়েন বলেই পড়া যায়। ২৪ ধারায় সম্মতি না নিয়েও কাজ করার কিছু ছাড় আছে, যেমন কারও ঘরোয়া কাজ, আদালতের আদেশ বা অপরাধ ঠেকানো। দোকানের অর্ডার এগুলোর কোনোটায় পড়ে না। আর যাঁর পক্ষে কাজটা অন্য কেউ করেন, যেমন কুরিয়ার বা SMS কোম্পানি, তাঁদের বলা হয়েছে "প্রক্রিয়াকারী"। তাঁদের কাজের দায়ও আপনার ঘাড়ে পড়ে (৮ ধারা)।

খাতা দেখার জায়গা কে? আইনের "কর্তৃপক্ষ" হলো জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৬-এর অধীনে তৈরি জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। সম্মতি নেওয়ার ধরন, কত দিন তথ্য রাখা যাবে, ফাঁস হলে কত সময়ের মধ্যে জানাতে হবে, এমন অনেক খুঁটিনাটি আইনে "প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে" লেখা। তিন-চার মাস পরপর bdlaws-এর ওই পেজে আর খবরে একবার খুঁজে দেখবেন প্রবিধান এসেছে কি না। এলে নিয়মের খুঁটিনাটি বদলাতে পারে।

অনলাইন শপের কোন তথ্য "ব্যক্তিগত উপাত্ত"

আইনের ২ ধারার সংজ্ঞায় নাম, বাবা-মায়ের নাম, শনাক্তকরণ নম্বর, মোবাইল নম্বর, মানুষ চেনা যায় এমন আর্থিক তথ্য আর লোকেশনের তথ্য, সবই ব্যক্তিগত উপাত্ত। অর্ডার ফর্মের নাম-নম্বর-ঠিকানা, কুরিয়ারের লেবেল, bKash-এ অগ্রিম পাঠানোর স্ক্রিনশটে যে নম্বর দেখা যায়, কল লিস্ট, রিপিট কাস্টমারের শিট, সবই এর মধ্যে।

এমন কিছু জিনিসও আছে যেগুলো সেলাররা তথ্য বলে ভাবেনই না। অর্ডারের নোটে লেখা থাকে "দুপুরে বাসায় কেউ থাকে না, পাশের ফার্মেসিতে দিবেন।" এটা বলে দেয় দুপুরে বাসাটা খালি থাকে। কেউ হোয়াটসঅ্যাপে লোকেশন পাঠান, যাতে রাইডার বাসা খুঁজে পান। দামি প্রোডাক্টে অগ্রিম না দিলে কিছু সেলার কাস্টমারের NID-র ছবি চেয়ে নেন। এই ছবিগুলো পরে বছরের পর বছর ফোনের গ্যালারিতে পড়ে থাকে।

কিছু তথ্য আবার আইনের চোখে "সংবেদনশীল", মানে আরও সাবধানে রাখার। স্বাস্থ্যের তথ্য তার একটা। ধরুন কেউ লিখলেন "ডায়াবেটিস আছে, সুগার ফ্রি কোনটা ভালো হবে?" এই কথাটা আর তাঁর নম্বর একসাথে আপনার শিটে থাকলে সেটা স্বাস্থ্যের তথ্য। রাইডারের জন্য কেউ হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন শেয়ার করলে সেটাও আইনের সংবেদনশীল লিস্টে পড়ে। পার্সেল পৌঁছে গেলে সেই চ্যাট থেকে লোকেশনটা মুছে দিন।

একটা অর্ডার শিটের নকশা, কলামে কাস্টমারের নাম, মোবাইল নম্বর, ঠিকানা, bKash লেনদেনের নম্বর আর অর্ডারের নোট, যেখানে নাম-নম্বর-ঠিকানার ঘরগুলো নীল দাগে আর "বাসায় কেউ থাকে না" লেখা নোটের ঘরটা লাল দাগে ঘেরা
নাম-নম্বর তো আছেই, অর্ডারের ছোট নোটটাও কারও ব্যক্তিগত তথ্য

নিজের চোখে একবার দেখার কাজটা এমন। আপনার অর্ডার শিট বা খাতাটা খুলুন, আর প্রতিটা কলামের পাশে প্রশ্ন করুন, "এটা দিয়ে কি একজন মানুষকে চেনা যায়?" যেগুলোতে হ্যাঁ, সেগুলোই আপনার দায়িত্ব। আর যে কলামটা আপনি কোনো কাজেই লাগান না, যেমন NID-র ছবি বা জন্মতারিখ, সেটা নেওয়াই বন্ধ করুন। যে তথ্য আপনার কাছে নেই, সেটা ফাঁসও হয় না।

কুরিয়ার, SMS আর অ্যাডে নম্বর দেওয়া, সীমা কোথায়

কুরিয়ারকে নাম, নম্বর আর ঠিকানা না দিলে পার্সেলই যায় না। কাস্টমার অর্ডার দিয়েছেন পার্সেল পাওয়ার জন্যই, তাই এই কাজটা আইনের ৫(৩) ধারার "চুক্তির অধীন কাজ"-এর ভেতরে পড়ে বলে পড়া যায়। সমস্যা হয় যখন দরকারের বেশি যায়। নতুন কুরিয়ারে অ্যাকাউন্ট খুলে অনেক সেলার KAM-কে হোয়াটসঅ্যাপে পুরো কাস্টমার লিস্টের Excel পাঠিয়ে দেন, "বাল্ক আপলোড করে দিয়েন" বলে। অথচ ধরুন সেদিন পাঠানোর কথা ৪০টা পার্সেল, দরকার ছিল শুধু সেই ৪০ জনের তথ্য।

দুই ভাগে ভাগ করা একটা নকশা, বাঁ দিকে মেসেজে কুরিয়ারের লোককে পাঠানো দুই হাজার সারির পুরো কাস্টমার লিস্টের ফাইল লাল ক্রস চিহ্নে, ডান দিকে শুধু আজকের ৪০টা পার্সেলের নাম-নম্বর-ঠিকানার ছোট ফাইল সবুজ টিক চিহ্নে
কুরিয়ার পাবে শুধু আজকের পার্সেলের তথ্য, পুরো লিস্ট না

মনে রাখার নিয়ম একটাই। কুরিয়ার পাবে শুধু যে পার্সেল পাঠাচ্ছেন তার তথ্য। SMS কোম্পানি পাবে শুধু যাঁদের SMS পাঠাচ্ছেন তাঁদের নম্বর। এমন SMS প্যানেল বেছে নিন যেখানে পুরনো কন্টাক্ট গ্রুপ ডিলিট করা যায়, আর বছরে একবার হলেও সেখানে ঢুকে দেখুন কত পুরনো লিস্ট জমে আছে।

অ্যাডের ব্যাপারটা আলাদা। ডেলিভারির জন্য নেওয়া নম্বর Facebook-এ কাস্টম অডিয়েন্স বানাতে আপলোড করা মানে নম্বরটা নতুন একটা কাজে লাগানো। আইনের ১৬ ধারা বলছে, যে উদ্দেশ্যে তথ্য নেওয়া হয়েছিল তার বাইরে কাস্টমারের সম্মতি ছাড়া সেটা কাউকে দেওয়া যাবে না। অফারের SMS-এর বেলাতেও একই প্রশ্ন ওঠে। সবচেয়ে নিরাপদ রাস্তা হলো অর্ডার ফর্মে আলাদা একটা খালি টিক বক্স রাখা, "নতুন অফার আর কালেকশনের খবর SMS-এ পেতে চাই"। যিনি নিজে টিক দেবেন, শুধু তাঁকেই অফার পাঠাবেন। লিস্ট আপলোডের নিয়ম আর Meta কীভাবে নম্বর হ্যাশ করে, সেটা রিটার্গেটিং আর কাস্টম অডিয়েন্সের লেখায় বিস্তারিত আছে।

পুরনো কাস্টমারদের কী হবে, যাঁদের নম্বর আইন আসার আগেই নিয়েছেন? আইনের ৪০ ধারা বলছে, আগের তথ্য নিয়ে আগের উদ্দেশ্যেই কাজ চলতে পারে। উদ্দেশ্য বদলালে আগে কাস্টমারের সম্মতি নিতে হবে। মানে পুরনো লিস্টে হঠাৎ নতুন ধরনের মার্কেটিং শুরু করবেন না, আগে সম্মতিটা নিন। ফোনে কথা বলার সময় জিজ্ঞেস করে নেওয়াই সবচেয়ে সহজ, "নতুন কিছু এলে কি SMS দেব?"

টিমের কে কতটুকু দেখবে

আমার অভিজ্ঞতায় দোকান বড় হলে প্রথম যে ভুলটা প্রায় সবাই করেন, সেটা হলো সবাইকে সব দেওয়া। একটা Google Sheet আর একটা লগইন সবার হাতে থাকে। যিনি কনফার্ম কল দেন, যিনি প্যাকিং করেন, এমনকি যিনি শুধু অ্যাড চালান, সবার ফোনেই তিন বছরের পুরো কাস্টমার লিস্ট খোলা থাকে। তারপর একজন চলে গেলে কেউ জানে না তিনি কী কপি করে নিয়ে গেছেন।

কাজ ধরে ভাগ করুন। কনফার্ম কলের স্টাফের লাগে আজকের অর্ডারের নাম আর নম্বর, পুরো লিস্ট না। প্যাকিংয়ের ছেলের লাগে শুধু লেবেলটা, আর লেবেল তো কুরিয়ারের প্যানেল থেকেই প্রিন্ট হয়। অ্যাড যিনি চালান, তাঁর কোনো নম্বরই লাগে না। পুরো লিস্ট, কেনা দাম আর লাভের হিসাব থাকবে আপনার আর বড়জোর একজন বিশ্বস্ত মানুষের কাছে। মডারেটরকে পেজে কতটুকু অ্যাক্সেস দেবেন, সেটা মডারেটর আর কল সেন্টার টিমের লেখায় ধাপে ধাপে আছে।

একটা টেবিলের নকশা, সারিতে মালিক, কল দেওয়া স্টাফ, প্যাকিংয়ের ছেলে আর অ্যাড চালানো লোক, কলামে আজকের অর্ডারের নম্বর, পুরো কাস্টমার লিস্ট, কেনা দাম ও লাভ, প্রতিটা ঘরে সবুজ টিক বা লাল ক্রস
কাজ যার যেমন, তথ্যও তার তেমন

নিজের চোখে দেখার কাজ এখানে দুটো। আপনার শিটের Share বাটন চাপুন আর দেখুন কতজনের ইমেইল সেখানে আছে। প্রায়ই দেখবেন, দুই বছর আগে কাজ ছেড়ে যাওয়া কারও ইমেইলও তখনো লিস্টে বসে আছে। এরপর খেয়াল করুন, কুরিয়ার বা SMS প্যানেলের একটাই লগইন কয়জন জানেন। প্রত্যেককে আলাদা লগইন না দিলে কে কী করেছেন, সেটা কোনোদিন জানতে পারবেন না।

WinningSeller-এ টিমের প্রত্যেকে নিজের লগইনে ঢোকেন, আর রোল চারটা, মালিক, অ্যাডমিন, ম্যানেজার আর স্টাফ। স্টাফ রোলের মানুষ অর্ডার কনফার্ম করে পাঠাতে পারেন, কিন্তু কেনা দাম আর লাভ দেখেন না, দোকানের সেটিং বা টিমেও হাত দিতে পারেন না। কাউকে টিম থেকে বাদ দিলে তিনি সাথে সাথে আর দোকানে ঢুকতে পারেন না। চাইলে একটা সুইচ চালু করতে পারেন, তখন মালিক ছাড়া টিমের কেউ নতুন ফোন বা ব্রাউজার থেকে লগইন করতে গেলে আগে মালিকের অনুমতি লাগে। সৎভাবে বলি, কল দিতে হয় বলে স্টাফ কাস্টমারের পুরো নম্বর দেখেন, আর অর্ডার লিস্ট CSV-তে নামানোর অপশনও তাঁদের আছে। তাই রোল দিলেই দোকান আইন মেনে চলছে, এমন না। কে কী নামাবেন আর কোথায় রাখবেন, সেই নিয়মটা আপনাকেই ঠিক করে দিতে হবে।

স্টাফকে আলাদা রোল দিয়ে দেখুনস্টাফ কেনা দাম আর লাভ দেখবেন না, প্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম

প্রিন্ট করা শিট, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আর পুরনো ফোন

আসল ফাঁসগুলো সাধারণত সফটওয়্যার থেকে হয় না, হয় দোকানের রোজকার অভ্যাস থেকে। প্রায় সব দোকানে নম্বর বের হয়ে যাওয়ার জায়গাগুলো একই রকম।

শুরু করা যাক প্রিন্ট করা শিট দিয়ে। অনেক দোকানে রাইডার বা পিকআপের জন্য পার্সেলের লিস্ট প্রিন্ট হয়, যার প্রতিটা সারিতে থাকে পুরো নাম, নম্বর আর ঠিকানা। কাজ শেষে কাগজটা চলে যায় দোকানের সামনের ময়লার ঝুড়িতে, সেখান থেকে ঠোঙা হয়ে বাজারে। শেয়ার করার শিটে নম্বর ঢেকে দিন, যেমন 017XX-XXX678, শেষ তিন অঙ্ক রাখলেই মেলানো যায়। আর কাজ শেষে কাগজ ছিঁড়ে কয়েক টুকরো করে ফেলুন।

এরপর আসে অর্ডারের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। "অর্ডার গ্রুপ" নামের একটা গ্রুপে দুই বছরের অর্ডারের স্ক্রিনশট জমে থাকে, আর গ্রুপের প্রত্যেকের ফোনে সেগুলোর কপি। কেউ কাজ ছাড়লে তাঁকে গ্রুপ থেকে বের করে দিলেও তাঁর ফোনে আগের সব ছবি থেকে যায়। তাই গ্রুপে disappearing messages চালু রাখুন, আর নতুন অর্ডার গ্রুপে না দিয়ে সরাসরি অর্ডারের খাতায় বা প্যানেলে তুলুন।

সবচেয়ে বেশি ভোগায় পুরনো আর চুরি যাওয়া ফোন। দোকানের কাজের সিম আর অ্যাপ যদি কোনো স্টাফের নিজের ফোনে থাকে, তিনি কাজ ছাড়লে ফোনটা তাঁর সাথেই চলে যায়। কাজের ফোন দোকানেই থাকুক, তাতে স্ক্রিন লক থাকুক। আর ফোন বিক্রির আগে ফ্যাক্টরি রিসেট দিন। চুরি গেলে সেদিনই ফোনে লগইন থাকা সব অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড বদলান। আইনের ২০ ধারা বলছে, তথ্য ফাঁসে কাস্টমারের বড় ক্ষতির সম্ভাবনা থাকলে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে, পদ্ধতি আর সময় প্রবিধানে ঠিক হবে। এমন হলে কী কী গেছে লিখে রাখুন আর একজন আইনজীবীর সাথে কথা বলুন।

দোকানের প্যাকিং টেবিলে বসে এক তরুণ সেলার কাজ শেষে পার্সেলের প্রিন্ট করা লিস্ট ছিঁড়ে টুকরো করছেন, পাশে ছাপানো লেবেল লাগানো কয়েকটা পার্সেল আর একটা স্ক্রিন লক করা ফোন
কাজ শেষে লিস্টটা ছিঁড়ে ফেলুন, ঝুড়িতে আস্ত কাগজ ফেলবেন না

উদাহরণ, পুরনো লিস্ট হাতছাড়া হলে মাসে কত যায়

নিচের সংখ্যাগুলো একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। নিজের সংখ্যা বসিয়ে একবার মিলিয়ে নিন।

ধরুন দুই বছরে আপনার ২,০০০ জন কাস্টমার হয়েছেন, যাঁরা অন্তত একবার পার্সেল নিয়েছেন। প্রতি মাসে তাঁদের মধ্যে ১২০ জন আবার অর্ডার দেন। প্রতিটা রিপিট অর্ডারে খরচ বাদে হাতে থাকে ৩৫০ টাকা। তাহলে রিপিট কাস্টমার থেকে মাসে আসে ১২০ × ৩৫০ = ৪২,০০০ টাকা।

এবার ধরুন কাজ ছেড়ে যাওয়া একজন এই লিস্ট নিয়ে আরেকটা পেজে গেলেন, আর সেখান থেকে একই প্রোডাক্টের অফার দিয়ে ফোন দেওয়া শুরু হলো। প্রতি চারটা রিপিট অর্ডারের একটা যদি ওদিকে চলে যায়, তাহলে মাসে ৩০টা অর্ডার কম। মানে মাসে ৩০ × ৩৫০ = ১০,৫০০ টাকা কম আসে, ছয় মাসে ৬৩,০০০ টাকা। এই ক্ষতিটা কোনো কুরিয়ারের স্টেটমেন্টে দেখা যায় না। আপনি শুধু দেখবেন রিপিট অর্ডার কেন যেন কমে গেছে।

অনেকে ভাবেন, অ্যাড চালিয়ে নতুন কাস্টমার এনে ঘাটতিটা পূরণ করে ফেলবেন। ধরুন নতুন কাস্টমারের প্রতিটা অর্ডার আনতে অ্যাডে ১৫০ টাকা ডলার স্পেন্ড হয়। তাহলে হারানো ৩০টা অর্ডার পূরণ করলেও মাসে ৩০ × ১৫০ = ৪,৫০০ টাকা বাড়তি অ্যাড খরচ থেকেই যায়, ছয় মাসে ২৭,০০০ টাকা। আর পুরনো কাস্টমার আপনাকে চিনতেন, নতুন জনের পার্সেল ফেরত আসার ঝুঁকিও বেশি।

উল্টো দিকে এটা ঠেকানোর খরচ সামান্য। শিটে নম্বর ঢেকে দিতে আর কাজ শেষে কাগজ ছিঁড়তে দিনে কয়েক মিনিট লাগে। মাসে একবার Share লিস্ট আর টিমের অ্যাক্সেস দেখতে লাগে আধা ঘণ্টার মতো। টাকা প্রায় লাগেই না। আর টাকার বাইরেও একটা দাম আছে। যে কাস্টমার অচেনা পেজ থেকে নিজের নাম শুনে ফোন পান, তিনি রাগটা করেন আপনার ওপর, কারণ নম্বরটা তিনি আপনাকেই দিয়েছিলেন।

কাস্টমার নিজের তথ্য মুছতে বললে

ফোনটা সাধারণত এভাবে আসে। "ভাই, আমার নম্বরটা আপনাদের লিস্ট থেকে কেটে দেন, আর অফারের মেসেজ দিয়েন না।" অনেকে হেসে "আচ্ছা ভাই" বলে রেখে দেন, তারপর ভুলে যান। পরের ঈদে আবার SMS যায়, আর তখন কাস্টমার পেজে রাগ করে কমেন্ট করেন।

আইনের তৃতীয় অধ্যায়ে কাস্টমারের কয়েকটা অধিকার পরিষ্কার লেখা। তিনি জানতে চাইতে পারেন তাঁর কোন তথ্য আপনার কাছে আছে আর কার কার কাছে গেছে (১১ ধারা)। ভুল তথ্য ঠিক করাতে পারেন, আর ঠিক করার পর ৩০ দিনের মধ্যে আপনাকে সেটা তাঁকে জানাতে হবে (১২ ধারা)। আর যেকোনো সময় সম্মতি তুলে নিয়ে তথ্য মুছতে বলতে পারেন (১৩ ধারা)। ১০ ধারা বলছে অনুরোধটা লিখিত হবে, তাই ফোনে বললে বলুন, "ভাই, এই নম্বরে একটা মেসেজ দিয়ে দেন, আজকেই কেটে দিচ্ছি।" এতে আপনার কাছেও রেকর্ড থাকে।

সেদিনই তিনটা কাজ করুন। অফারের SMS আর কলের লিস্ট থেকে নম্বরটা সরান। খাতায় বা প্যানেলে তাঁর নামের পাশে লিখে দিন "যোগাযোগ করবেন না", যাতে টিমের অন্য কেউ ভুল করে আবার ফোন না দেন। আর একটা ছোট খাতায় এক লাইন লিখুন, কবে, কে, কী ডিলিট করলেন। আইনের ১৯ ধারা উপাত্ত নিয়ে করা কাজের রেকর্ড অন্তত ৫ বছর একটা রেজিস্টারে রাখতে বলে, তাই এই খাতাটা ফেলে দেবেন না। কাস্টমার পরে কখনো বললে "আমি তো মানা করেছিলাম", তারিখসহ লাইনটা দেখাতে পারবেন।

এক তরুণ দোকানদার কাউন্টারে বসে ফোনে কথা বলছেন আর একটা খাতায় এক লাইনের নোট লিখছেন
কবে, কার, কী ডিলিট হলো, এক লাইনে লিখে রাখলেই পরে আর তর্ক হয় না

দুজন স্টাফ একই লিস্ট থেকে ফোন দিলে একজনের লেখা খাতা আরেকজন প্রায়ই দেখেন না, আর পরদিন অফারের ফোনটা চলে যায়। WinningSeller-এ কাস্টমারের প্রোফাইলে "এই কাস্টমারকে আর অফারের ফোন দেবেন না" নামে একটা সুইচ আছে। যে স্টাফ ফোনটা ধরলেন, তিনিই সেটা চালু করতে পারেন। চালু থাকলে স্টাফরা তাঁকে আর অফারের কলের লিস্টে তুলতে পারেন না, আর দোকান থেকে পাঠানো SMS-ও তাঁর নম্বরে যায় না। তিনি নিজে আবার অর্ডার দিলে কনফার্মের ফোনটা অবশ্য যাবে, কারণ সেটা তাঁর নিজের অর্ডারের জন্য। সুইচটা বন্ধ করতে পারেন শুধু ম্যানেজার বা তার ওপরের কেউ, তাই বিক্রির তাড়ায় কেউ চুপচাপ খুলে দিতে পারেন না। তবে এটা নম্বর মুছে দেয় না, শুধু যোগাযোগ বন্ধ রাখে।

মানা করা কাস্টমারকে আলাদা রাখুনকাস্টমারের প্রোফাইলে একটা সুইচ

কখন সব মুছবেন না

সবকিছু ডিলিট করে দেওয়াও সবসময় ঠিক না। কাস্টমারের পার্সেল যদি এখনো কুরিয়ারে থাকে, রিটার্ন বা রিফান্ড যদি ঝুলে থাকে, তাহলে অর্ডারের রেকর্ড এখনই মুছবেন না। মুছলে টাকা ফেরত দেওয়ার সময় নিজেই বিপদে পড়বেন। হিসাবের খাতা, ভ্যাট বা ট্যাক্সের কাগজে যে বিক্রির রেকর্ড রাখতে হয়, সেটাও না। আইনের ১৩(৩) ধারা আইনি বাধ্যবাধকতার জন্য রাখা তথ্য না মোছার সুযোগ রেখেছে। এমন হলে কাস্টমারকে বলুন, "অফারের লিস্ট থেকে আপনার নম্বর কেটে দিয়েছি। শুধু অর্ডারের হিসাবটা খাতায় থাকবে, কারণ ওটা আমাদের রাখতে হয়।" সাধারণত মানুষ এতেই শান্ত হন, কারণ তিনি আসলে চেয়েছিলেন ফোনটা যেন আর না আসে।

স্টোরে একটা সহজ প্রাইভেসি নোট

আইনের ১৫ ধারা বলছে, কাস্টমারকে জানাতে হবে দোকানটা কার, আপনি কী তথ্য নেন আর কী কাজে লাগান, তিনি নিজের অধিকার কীভাবে চাইবেন, আর আপনার সাথে সহজে যোগাযোগ করবেন কীভাবে। শুনতে ভারী লাগে, কিন্তু একটা ছোট দোকানের জন্য এটা কয়েক লাইনের কাজ।

প্রথম মাসে প্রায় সবাই যে ভুলটা করেন, সেটা হলো অন্য কোনো বড় ওয়েবসাইটের লম্বা ইংরেজি প্রাইভেসি পলিসি কপি করে বসিয়ে দেওয়া। সেখানে এমন কুকি, এমন দেশের আইন আর এমন সার্ভিসের কথা থাকে, যার কোনোটাই আপনার দোকানে নেই। এটা কেউ পড়েন না, আর যা লেখা তা সত্যিও না। তার চেয়ে নিজের ভাষায় ছয়-সাত লাইন লিখুন, যার প্রতিটা কথা আপনার দোকানে সত্যি। নিচেরটা একটা নমুনা, নিজের দোকান অনুযায়ী বদলে নিন।

আমরা [দোকানের নাম], ফেসবুক পেজ [পেজের নাম]। অর্ডার নিতে আমরা আপনার নাম, মোবাইল নম্বর আর ঠিকানা নিই। এগুলো লাগে অর্ডার কনফার্ম করতে আর পার্সেল পৌঁছাতে। পার্সেলের জন্য কুরিয়ারকে আর অর্ডারের SMS-এর জন্য SMS কোম্পানিকে শুধু ততটুকু দিই, যতটুকু তাদের লাগে। আপনার তথ্য কারও কাছে বিক্রি করি না। অফারের SMS পাবেন শুধু আপনি রাজি থাকলে, আর না চাইলে একটা মেসেজ দিলেই বন্ধ। নিজের তথ্য দেখতে, ঠিক করতে বা মুছতে চাইলে 01XXXXXXXXX নম্বরে মেসেজ দিন।

নোটটা রাখুন দুই জায়গায়। ওয়েবসাইট থাকলে আলাদা একটা পেজে, আর অর্ডার ফর্মের ঠিক নিচে এক লাইনে, যেমন "অর্ডার দিলে এই অর্ডারের জন্য আমরা আপনাকে ফোন দেব। আমাদের প্রাইভেসি নোট পড়ুন।" ফর্ম ছেড়ে চলে যাওয়া মানুষের নম্বর নিয়ে আলাদা সাবধানতা লাগে, সেটা ইনকমপ্লিট অর্ডারের লেখার "কাস্টমারের তথ্য নিয়ে যে সীমা মানবেন" অংশে আছে।

মোবাইল স্ক্রিনে একটা অনলাইন শপের অর্ডার ফর্মের নকশা, নাম-নম্বর-ঠিকানার ঘরের নিচে "অফারের খবর SMS-এ পেতে চাই" লেখা একটা খালি টিক বক্স আর তার নিচে প্রাইভেসি নোটের ছোট লিংক
অফারের টিক বক্স খালি থাকবে, কাস্টমার চাইলে নিজে টিক দেবেন

নোট লেখার পর একবার জোরে পড়ুন, আর প্রতিটা লাইনে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, "এটা কি আমি সত্যিই করি?" "কারও কাছে বিক্রি করি না" লিখে পরের মাসে কোনো এজেন্সিকে লিস্ট দিলে নোটটাই আপনার বিরুদ্ধে প্রমাণ হয়ে দাঁড়াবে। আর আইনের ৫(৪) ধারা বলছে, কাস্টমার সম্মতি দিয়েছিলেন কি না, সেটা প্রমাণের দায় আপনার। তাই অফারের টিক কে দিলেন আর কবে, সেটা অর্ডারের সাথে রেখে দিন।

কারা এখনই এত কিছু নিয়ে মাথা ঘামাবেন না? যাঁর দোকানে দিনে পাঁচ-দশটা অর্ডার আর টিম বলতে নিজে, তাঁর জন্য প্রধান উপাত্ত কর্মকর্তা, অডিট বা আইনজীবী দিয়ে লম্বা পলিসি লেখানো এখন দরকার নেই। প্রধান উপাত্ত কর্মকর্তার কথা আইনে বলা আছে বড় "গুরুত্বপূর্ণ উপাত্ত-জিম্মাদার"-এর জন্য, আর সেই ২৩ ধারা এখনো চালুই হয়নি। ছোট সেলারদের আমি সবসময় বলি, আগে দোকানের রোজকার অভ্যাস ঠিক করুন, কাগজের পলিসি পরে। আপনার জন্য নিচের ছয়টা কাজই যথেষ্ট শুরু। হাজার হাজার নম্বর নিয়ে বড় মার্কেটিং শুরু করার আগে বা টিম পাঁচ-ছয়জন ছাড়ালে একবার আইনজীবীর সাথে বসুন।

আজই করে ফেলুন

হাতে যা আছে তা দিয়েই এই কাজগুলো আজ এক ঘণ্টায় হয়ে যায়।

  1. অর্ডার শিটের Share লিস্ট খুলুন। যিনি এখন আর টিমে নেই, তাঁর ইমেইল সরান। যে লগইন কারও সাথে শেয়ার করা, তার পাসওয়ার্ড বদলান।
  2. ফোনের গ্যালারিতে NID খুঁজুন। অগ্রিমের জন্য নেওয়া কাস্টমারের NID-র ছবি বা পুরনো স্ক্রিনশট থাকলে ডিলিট করুন, আর আজ থেকে NID চাওয়া বন্ধ করুন।
  3. অর্ডারের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মেম্বার লিস্ট দেখুন। কাজ ছেড়ে যাওয়া কাউকে বের করুন, আর গ্রুপে disappearing messages চালু করুন।
  4. "যোগাযোগ করবেন না" লিস্ট বানান। যাঁরা কোনোদিন অফার বন্ধ করতে বলেছেন, তাঁদের নম্বর এক জায়গায় তুলুন, আর পরের প্রতিটা অফারের আগে এই নম্বরগুলো বাদ দিন।
  5. প্রাইভেসি নোটটা লিখে ফেলুন। ওপরের নমুনা থেকে নিজের দোকানের মতো ছয়-সাত লাইন লিখুন, পেজের About-এ বা ওয়েবসাইটে বসান।
  6. একটা তারিখ ঠিক করুন। যেমন "শেষ অর্ডারের দেড় বছর পর অফারের লিস্ট থেকে নম্বর ডিলিট", আর প্রতি মাসের এক তারিখে সেটা করে খাতায় লিখুন কে করলেন। কত দিন রাখবেন সেটা এখন আপনার সিদ্ধান্ত, প্রবিধান এলে সেটা মিলিয়ে নেবেন।

টিম আর অর্ডার এক জায়গায় রাখতে চাইলে WinningSeller-এর সব ফিচার এক পেজে দেখে নিন। তবে মনে রাখবেন, কোনো সফটওয়্যার একা আপনার দোকানকে আইন মেনে চলা দোকান বানাতে পারে না। কাস্টমারের নম্বরটা আসলে তাঁর ভরসা, আর সেই ভরসা রাখে দোকানের মানুষের রোজকার অভ্যাস।

সাধারণ প্রশ্ন

ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ কি এখনো চালু আছে?

না, অধ্যাদেশটা আর নেই। সংসদ "ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন, ২০২৬" (২০২৬ সনের ৬৩ নং আইন) পাস করেছে, আর সেই আইনের ৪৪ ধারা ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ আর ২০২৬ সালের সংশোধন অধ্যাদেশ দুটোই বাতিল করেছে। অধ্যাদেশের অধীনে যা করা হয়েছিল, সেটা নতুন আইনের অধীনে করা বলে ধরা হবে।

ছোট ফেসবুক পেজের সেলারের ওপরও কি এই আইন খাটে?

আইনের ১ ধারা পড়লে খাটে বলেই মনে হয়, কারণ যিনিই বাংলাদেশের ভেতরে কারও ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে কাজ করেন তাঁর কথা বলা আছে, আর ছোট দোকানের জন্য আলাদা ছাড় চোখে পড়েনি। ২৪ ধারায় সম্মতি ছাড়া কাজ করার যে ছাড়গুলো আছে, সেগুলো ঘরোয়া কাজ, আদালতের আদেশ বা অপরাধ ঠেকানোর মতো ক্ষেত্রের জন্য, দোকানের অর্ডার সেখানে পড়ে না। নিজের দোকানের ঠিক অবস্থা জানতে একজন আইনজীবীর সাথে কথা বলুন।

আইন না মানলে জরিমানা কত?

আইনের ৩২ আর ৩৩ ধারায় অনধিক ২৫ লাখ টাকা প্রশাসনিক জরিমানার কথা আছে, আর বড় "গুরুত্বপূর্ণ উপাত্ত-জিম্মাদার" হলে অনধিক ৫০ লাখ। তবে অভিযোগ, জরিমানা আর ক্ষতিপূরণের ধারাগুলো (৩১ থেকে ৩৫) আইন জারির ১৮ মাস পরে সরকার গেজেটে যে তারিখ দেবে, সেদিন থেকে চালু হবে, তাই ২০২৬ সালের অক্টোবরে সেগুলো চালু না। বাকি আইন অবশ্য ৬ নভেম্বর ২০২৫ থেকেই কার্যকর ধরা হয়েছে।

অর্ডারের জন্য নম্বর নিতে কি কাস্টমারের আলাদা অনুমতি লাগে?

অর্ডার পৌঁছানোর জন্য নম্বর-ঠিকানা কাজে লাগানো আইনের ৫(৩) ধারার "চুক্তির অধীন কাজ"-এর ভেতরে পড়ে বলে পড়া যায়, যদিও খুঁটিনাটি প্রবিধানে ঠিক হবে। কিন্তু একই নম্বরে অফারের SMS পাঠানো বা অ্যাডের জন্য আপলোড করা আলাদা উদ্দেশ্য। সেখানে কাস্টমারের পরিষ্কার সম্মতি নিয়ে রাখাই নিরাপদ রাস্তা।

কাস্টমার নম্বর ডিলিট করতে বললে কি সব রেকর্ড মুছে ফেলতে হবে?

অফারের লিস্ট থেকে সেদিনই সরিয়ে দিন, আর তাঁকে আর ফোন বা SMS দেবেন না। কিন্তু ভ্যাট-ট্যাক্স বা অন্য কোনো আইনের কারণে যে রেকর্ড রাখতে হয়, আইনের ১৩(৩) ধারা সেটা ডিলিট না করার সুযোগ রেখেছে। কোনটা রাখছেন আর কেন, সেটা কাস্টমারকে ভদ্রভাবে জানিয়ে দিন।

কাস্টমারের লিস্ট চুরি হলে কী করব?

আগে ক্ষতি থামান। যে ফোন বা অ্যাকাউন্টে লিস্ট ছিল তার পাসওয়ার্ড বদলান, সেই মানুষের অ্যাক্সেস সরান, আর কী কী গেছে লিখে রাখুন। আইনের ২০ ধারা বলছে কাস্টমারের বড় ক্ষতির সম্ভাবনা থাকলে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে, পদ্ধতি প্রবিধানে ঠিক হবে। তখন একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

#ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন#উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ#কাস্টমারের তথ্য#প্রাইভেসি নোট#টিম রোল#অনলাইন শপ

আরও পড়ুন

হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল না গ্রুপ? পুরনো কাস্টমারকে নতুন মালের খবর দিন

নতুন কালেকশনের খবর পুরনো কাস্টমারকে দিতে চান, কিন্তু চ্যানেল খুলবেন, গ্রুপ, না স্ট্যাটাস? কে কার নম্বর দেখে, কে উত্তর দিতে পারে, চ্যানেল খোলার ধাপ, কী পোস্ট দেবেন, গ্রুপের নিয়ম আর ঝুঁকি, আর এক মাসে কোনটায় কত সময় যায়, হিসাবসহ।

·১১ মিনিটে পড়া যায়

শার্ট, প্যান্ট আর টি-শার্টের সাইজ চার্ট বানাবেন যেভাবে, ফেরত কমবে

সাপ্লায়ারের ট্যাগে M লেখা, অথচ কাস্টমার বলেন টাইট। টি-শার্ট, শার্ট আর প্যান্ট টেবিলে বিছিয়ে ফিতা দিয়ে মাপার নিয়ম, ইঞ্চিতে নিজের সাইজ চার্ট বানানো, কাস্টমারকে নিজের শার্ট মেপে সাইজ বাছতে শেখানো, আর একটা ভুল সাইজে কত টাকা যায়, হিসাবসহ।

·১১ মিনিটে পড়া যায়

প্রোডাক্ট ক্যাটালগ ও প্রাইস লিস্ট বানানোর নিয়ম, পাইকার আর অফিসের জন্য

পাইকার, রিসেলার বা অফিসের লোক বলছেন "ক্যাটালগ আর রেট দেন"? প্রতিটা প্রোডাক্টে কী লিখবেন, খুচরা আর পাইকারি দাম কেন আলাদা ফাইলে, পরিমাণ ধরে দামের ধাপ টাকায়, PDF না লিংক, আর দাম বদলালে পুরনো কপি থামাবেন কীভাবে।

·১১ মিনিটে পড়া যায়