WinningSeller
অর্ডার ও কুরিয়ার১১ মিনিটে পড়া যায়

হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস একাউন্ট খোলার নিয়ম, পুরনো চ্যাট না হারিয়ে

ব্যবসার জন্য WhatsApp Business খুলবেন কোন নম্বরে, আর পুরনো নম্বরের চ্যাট না হারিয়ে কীভাবে সরাবেন, ধাপে ধাপে। বিজনেস প্রোফাইলে কী লিখবেন, কম্পিউটারে আর আরেকটা ফোনে একই নম্বর, ফেসবুক পেজের সাথে জোড়া, আর নম্বর হারালে কত টাকা যায়, হিসাবসহ।

হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস একাউন্ট খোলার নিয়ম, পুরনো চ্যাট না হারিয়ে
এই লেখায় যা আছে
  1. হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস একাউন্ট কি, সাধারণ WhatsApp থেকে পার্থক্য
  2. কোন নম্বরে খুলবেন, ব্যক্তিগত নম্বর কেন না
  3. ধাপে ধাপে খোলার নিয়ম, পুরনো চ্যাট রেখে
  4. বিজনেস প্রোফাইলে কী লিখবেন
  5. কম্পিউটারে আর একাধিক ফোনে একই নম্বর
  6. ফেসবুক পেজের সাথে জোড়া
  7. নম্বর হারালে বা ব্যান হলে কত যায় (উদাহরণ)
  8. আজই করে ফেলুন

হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস একাউন্ট খোলার নিয়ম আসলে পাঁচ মিনিটের কাজ। Play Store বা App Store থেকে "WhatsApp Business" অ্যাপটা নামান, যেটা সাধারণ WhatsApp থেকে আলাদা আর ফ্রি। অ্যাপ খুলে শর্তে রাজি হন, তারপর নম্বর দিন আর SMS-এ আসা ছয় অঙ্কের কোড বসান। শেষে দোকানের নাম, ক্যাটাগরি আর ছবি দিয়ে বিজনেস প্রোফাইল বানান। যে নম্বরে এখন সাধারণ WhatsApp চালান সেটাই দিলে অ্যাপ নিজে নম্বরটা চিনে নেয়, আর অনুমতি দিলে পুরনো চ্যাট আর ছবি সঙ্গে নিয়ে আসে। তবে শুরু করার আগে দুটো কাজ অবশ্যই করবেন। চ্যাটের ব্যাকআপ নেবেন, আর ঠিক করবেন নম্বরটা আসলে দোকানের কি না।

বেশিরভাগ সেলারের WhatsApp যাত্রা শুরু হয় ব্যক্তিগত নম্বর দিয়ে। প্রথম দিকে দুই-চারজন কাস্টমার, তারপর একদিন খেয়াল করেন মায়ের মেসেজ, অফিসের গ্রুপ আর পঞ্চাশজন কাস্টমারের অর্ডার একই লিস্টে মিশে আছে। রাত বারোটায় কাস্টমারের "ভাই, পার্সেল কই?" মেসেজটা চোখে পড়ে বন্ধুর জন্মদিনের শুভেচ্ছার ভিড়ে। এই লেখায় সেই জট খোলার কাজটা ধাপে ধাপে বলছি, যাতে পুরনো কাস্টমারের একটা চ্যাটও না হারায়।

হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস একাউন্ট কি, সাধারণ WhatsApp থেকে পার্থক্য

২০২৬ সালের অক্টোবরে WhatsApp Help Center-এর "About moving between WhatsApp Messenger and the WhatsApp Business app" পেজে প্রথম লাইনেই লেখা আছে, এ দুটো আলাদা অ্যাপ। সাধারণ WhatsApp-কে WhatsApp নিজে বলে WhatsApp Messenger। দুটোতেই মেসেজ, কল, ছবি, ভয়েস সবই চলে। পার্থক্যটা দোকানের কাজে।

WhatsApp Business-এ একটা বিজনেস প্রোফাইল থাকে, যেখানে দোকানের নাম, ঠিকানা, ক্যাটাগরি, বর্ণনা, খোলার সময়, ইমেইল আর ওয়েবসাইট দেওয়া যায়। কাস্টমার আপনার নম্বরে চাপ দিলে এগুলো দেখেন, আর বোঝেন এটা একটা দোকান, কারও ব্যক্তিগত নম্বর না। এর সাথে আছে ক্যাটালগ, কুইক রিপ্লাই, লেবেল, গ্রিটিং আর অ্যাওয়ে মেসেজ। এই ফিচারগুলো দিয়ে কীভাবে অর্ডার নেবেন আর চ্যাট গুছিয়ে রাখবেন, সেটা হোয়াটসঅ্যাপে অর্ডার নেওয়ার লেখায় বিস্তারিত আছে, এখানে আবার বলছি না।

একটা ভুল ধারণা খুব কমন। অনেকে ভাবেন WhatsApp Business মানে টাকা দিয়ে নেওয়া কোনো সার্ভিস, বা বড় কোম্পানির সবুজ টিক। না, অ্যাপটা ফ্রি। বড় কোম্পানিগুলো যে WhatsApp দিয়ে হাজার হাজার মেসেজ পাঠায়, সেটা আলাদা জিনিস, WhatsApp Business Platform বা API, যেটা সাধারণত সফটওয়্যার কোম্পানির মাধ্যমে নিতে হয় আর তাতে মেসেজ প্রতি খরচ থাকে। একটা ফেসবুক পেজের দোকানের জন্য ফ্রি অ্যাপটাই যথেষ্ট।

কোন নম্বরে খুলবেন, ব্যক্তিগত নম্বর কেন না

সবচেয়ে জরুরি সিদ্ধান্ত এটাই, আর এখানে ভুল করলে পরে শোধরানো কঠিন। দোকানের WhatsApp খুলুন এমন একটা সিমে, যেটা আপনার নিজের NID-তে তোলা আর শুধু দোকানের কাজে চলে। সিমটা রাখুন দোকানের একটা আলাদা ফোনে।

ব্যক্তিগত নম্বর কেন না, তার তিনটা কারণ বলি। প্রথমত, কাজ বাড়লে একদিন একজন মডারেটর রাখবেন। তখন তাঁকে দোকানের চ্যাট দেখাতে গেলে আপনার পরিবারের সব চ্যাটও খুলে দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, ব্যক্তিগত নম্বর এক অ্যাপ থেকে আরেক অ্যাপে গেলে আপনার ব্যক্তিগত WhatsApp-টা আর সাধারণ অ্যাপে থাকে না, কারণ একই নম্বর একসাথে দুটো অ্যাপে চলে না। তৃতীয়ত, রাতে ঘুমের সময় ফোন সাইলেন্ট করলে দোকানের মেসেজও বন্ধ, আর দোকানের জন্য ফোন খোলা রাখলে বাড়ির শান্তি বন্ধ।

আরেকটা ভুল আরও দামি। ব্যস্ততার কারণে অনেকে স্টাফকে বলেন, "তোমার আইডি দিয়ে একটা সিম তুলে নাও।" সিম কেনা হলো দোকানের টাকায়, কিন্তু নম্বরটা আইনের চোখে স্টাফের। তিনি চলে গেলে সিম, নম্বর আর দুই বছরের কাস্টমারের চ্যাট সব তাঁর সাথে চলে যায়। কার নামে সিম রাখবেন, কর্পোরেট সিম কখন নেবেন আর কর্মী চলে গেলে নম্বরের কী হয়, সেটা কল সেন্টারের নম্বর নিয়ে লেখায় ধাপে ধাপে বলা আছে।

তাহলে পুরনো ব্যক্তিগত নম্বরটাই কি কখনো বিজনেসে সরাবেন না? সরাবেন একটা অবস্থায়। যদি নম্বরটা আসলে শুরু থেকেই দোকানের কাজে চলে, শত শত কাস্টমার ওটাই চেনেন, পার্সেলের স্টিকারে ওটাই ছাপা, আর আপনার ব্যক্তিগত কথা আরেকটা নম্বরে সরিয়ে নিতে পারেন। তখন নম্বর বদলানোর চেয়ে নম্বরটা বিজনেসে নিয়ে যাওয়াই ভালো, আর ব্যক্তিগত কথার জন্য নতুন একটা সিম নিন।

ধাপে ধাপে খোলার নিয়ম, পুরনো চ্যাট রেখে

এই ধাপগুলো ২০২৬ সালের অক্টোবরে WhatsApp Help Center-এর "How to move your WhatsApp Messenger account to the WhatsApp Business app" পেজের অ্যান্ড্রয়েডের নিয়ম থেকে নেওয়া। আইফোনে ধাপ প্রায় একই, বাটনের জায়গা একটু আলাদা হতে পারে, আর অ্যাপের আপডেটে নামও একটু বদলায়।

শুরুর আগে, যেদিন সরাবেন সেদিন সকালে দুটো কাজ সেরে নিন। প্রথমত, সাধারণ WhatsApp-এ Settings থেকে Chats, তারপর Chat backup খুলে Google Drive-এ একটা ব্যাকআপ নিন, আর শেষ ব্যাকআপের সময়টা আজকের কি না দেখে নিন। WhatsApp নিজেও সরানোর আগে ব্যাকআপ নিতে বলে। দ্বিতীয়ত, ফোনে যথেষ্ট চার্জ আর ভালো ইন্টারনেট রাখুন। চ্যাট আর ছবি সরানোর মাঝপথে ফোন বন্ধ হলে ঝামেলা হয়।

  1. সাধারণ WhatsApp আপডেট করুন, তারপর Play Store থেকে WhatsApp Business নামান।
  2. WhatsApp Business খুলুন, শর্ত পড়ে Agree and continue চাপুন।
  3. অ্যাপ নিজে থেকেই সাধারণ WhatsApp-এ চালু নম্বরটা চিনে দেখায়। দোকানের নম্বর সেটাই হলে ওটাতে চাপ দিন। অন্য নম্বর চাইলে Use a different number চেপে নতুন নম্বর দিন।
  4. Continue, তারপর Allow চাপুন। এতে বিজনেস অ্যাপ আপনার পুরনো চ্যাট আর মিডিয়া নিতে পারে।
  5. SMS-এ আসা ছয় অঙ্কের কোড বসান।
  6. বিজনেস প্রোফাইল বানিয়ে Next চাপুন। প্রোফাইল পরেও বদলানো যায়।
একটা নকশা, তিনটা ধাপ বাম থেকে ডানে তীর দিয়ে জোড়া, প্রথমটায় একটা ফোনে Google Drive-এ চ্যাট ব্যাকআপ, মাঝেরটায় WhatsApp Business অ্যাপ নামানো, শেষেরটায় নম্বর মিলিয়ে চ্যাট নিয়ে আসার অনুমতি, প্রতিটার নিচে ছোট বাংলা লেবেল
আগে ব্যাকআপ, তারপর অ্যাপ, শেষে অনুমতি দিয়ে চ্যাট আনা

সরানো শেষে নিজের চোখে তিনটা জিনিস মিলিয়ে নিন। পুরনো কয়েকজন কাস্টমারের চ্যাট খুলে দেখুন ছবি আর ভয়েস মেসেজসহ এসেছে কি না। একটা চেনা নম্বর থেকে মেসেজ পাঠিয়ে দেখুন নতুন অ্যাপে আসছে কি না। আর সাধারণ WhatsApp অ্যাপটা খুললে এখন দেখবেন সেটা ওই নম্বর আর চালাচ্ছে না। এটাই স্বাভাবিক। ব্যক্তিগত কথার জন্য সেখানে অন্য নম্বর দিতে পারেন।

পরে মত বদলালে সাধারণ WhatsApp-এ ফেরা যায়, WhatsApp-এর পেজেই সেটা লেখা আছে। তবে ক্যাটালগের মতো শুধু বিজনেস অ্যাপের তথ্য ফেরত যায় না। তাই দুই সপ্তাহ চালিয়ে মনস্থির না করে ক্যাটালগে একশো প্রোডাক্ট তুলবেন না।

বিজনেস প্রোফাইলে কী লিখবেন

২০২৬ সালের অক্টোবরে WhatsApp Help Center-এর "How to edit your business profile" পেজে প্রোফাইলের ঘরগুলো লেখা আছে। দোকানের নাম আর ঠিকানা, ক্যাটাগরি, বর্ণনা, ইমেইল আর ওয়েবসাইট। ক্যাটাগরি সর্বোচ্চ তিনটা বাছা যায়, নিজের বানানো ক্যাটাগরি দেওয়া যায় না, মিল না পেলে Other Business। খোলার সময়ের জন্য তিনটা ধরন আছে, নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট সময়, সবসময় খোলা, আর অ্যাপয়েন্টমেন্টে।

প্রোফাইল ছবি দিন ঠিক সেই লোগো, যেটা ফেসবুক পেজে আছে। কাস্টমার পেজ থেকে এসে WhatsApp-এ একই ছবি দেখলে বোঝেন ঠিক জায়গায় এসেছেন। নাম দিন পেজের নামেই, বানান হুবহু মিলিয়ে। বর্ণনায় দুই লাইন লিখুন যে কী বেচেন, কোথা থেকে পাঠান আর কীভাবে টাকা নেন। যেমন, "ঢাকা থেকে সারা দেশে সুতি পাঞ্জাবি পাঠাই। ক্যাশ অন ডেলিভারি, ঢাকায় ১-২ দিনে ডেলিভারি।" এখানে "সেরা কোয়ালিটি" বা "১০০% অরিজিনাল" ধরনের কথা লিখবেন না, এগুলো কেউ বিশ্বাস করেন না।

খোলার সময়টা আসল সময়ই দিন, বাংলাদেশের সময়ে। এর একটা কাজের লাভ আছে। অ্যাওয়ে মেসেজ "বিজনেস আওয়ারের বাইরে" পাঠানোর অপশনটা কাজ করে এই সময় ধরেই। সময় না দিলে এই অপশনটা কাজ করে না, তখন অ্যাওয়ে মেসেজ কখন যাবে সেটা হাতে আলাদা করে ঠিক করতে হয়, আর অনেকে সেটা ভুলে যান।

একটা মোবাইল স্ক্রিনের নকশা, পুরো ভরা একটা WhatsApp বিজনেস প্রোফাইল, ওপরে দোকানের লোগো, তার নিচে দোকানের নাম, ক্যাটাগরি, দুই লাইনের বর্ণনা, খোলার সময় সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা আর ওয়েবসাইটের লিংক
লোগো আর নাম পেজের সাথে হুবহু মিলিয়ে

ওয়েবসাইটের ঘরে দোকানের ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজের লিংক দিন। একটা কথা মনে রাখবেন, ওই একই হেল্প পেজে লেখা আছে, দোকানের নাম আর ফোন নম্বর বদলানো যায় শুধু মোবাইলের বিজনেস অ্যাপ থেকে, কম্পিউটার থেকে না।

কম্পিউটারে আর একাধিক ফোনে একই নম্বর

দিনে পঞ্চাশটা চ্যাট ফোনে টাইপ করতে আঙুল ব্যথা হয়ে যায়। কম্পিউটারে একই নম্বর চালালে টাইপ করা অনেক দ্রুত, আর ঠিকানা কপি করে অর্ডারের খাতায় বসানোও সহজ। ২০২৬ সালের অক্টোবরে WhatsApp Help Center-এর "How to link a device" পেজে লেখা আছে, মূল ফোন দিয়ে একই অ্যাকাউন্ট চারটা পর্যন্ত ডিভাইসে লিংক করা যায়। মূল ফোনে মেনু থেকে Linked devices, তারপর Link a device চেপে কম্পিউটারের স্ক্রিনের QR কোড স্ক্যান করলেই হয়। দোকানের দ্বিতীয় একটা ফোনেও একই নম্বর এভাবে লিংক করা যায়, ওই ফোনে WhatsApp Business খুলে নম্বর না দিয়ে লিংক করার অপশনটা বাছতে হয়। অপশনটা চোখে না পড়লে দুই ফোনেই অ্যাপ আপডেট করে নিন।

এর মানে দুজন মানুষ একই নম্বরের চ্যাট দুই জায়গা থেকে দেখতে পারেন, একজন ফোনে আর একজন কম্পিউটারে। এখানে একটা নিয়ম আগে থেকে ঠিক করুন, কোন চ্যাট কে ধরবেন। নইলে একই কাস্টমার দুজনের কাছ থেকে দুই রকম উত্তর পান, একজন বলেন চার্জ ৮০ আর আরেকজন বলেন ১০০। লেবেল দিয়ে ভাগ করে নিন, যে চ্যাটে যিনি প্রথম উত্তর দিলেন, শেষ পর্যন্ত তিনিই থাকবেন।

একজন যুবক ডেস্কে ল্যাপটপে WhatsApp Web খুলে একটা কাস্টমারের চ্যাটে উত্তর টাইপ করছেন, পাশে স্ট্যান্ডে দোকানের মূল ফোন চার্জে লাগানো
একই নম্বর ল্যাপটপে, মূল ফোনটা টেবিলেই চার্জে

একই পেজে আরেকটা শর্ত লেখা আছে, যেটা ঈদের ছুটিতে অনেককে বিপদে ফেলে। লিংক করা ডিভাইস চালু রাখতে প্রতি ১৪ দিনে অন্তত একবার মূল ফোনে WhatsApp খুলতে হয়। দোকানের ফোন অফিসে রেখে দুই সপ্তাহের ছুটিতে গেলেন, ফিরে দেখলেন কম্পিউটারের WhatsApp লগআউট হয়ে আছে। তাই লম্বা ছুটির আগে মূল ফোনটা হয় সঙ্গে নিন, নয়তো কাউকে বলে যান মাঝে একবার চালু করে WhatsApp খুলতে।

নিরাপত্তার জন্য two-step verification চালু করুন, WhatsApp-এর Settings থেকে Account-এর ভেতরে পাবেন। ছয় অঙ্কের একটা PIN দেয় এটা, যাতে কেউ আপনার সিম তুলে নিলেও শুধু SMS কোড দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে না পারেন। PIN-টা ফোনে লিখে রাখবেন না, আলাদা কাগজে বা আপনার কাছে রাখুন। আর মাঝে মাঝে Linked devices খুলে দেখুন অচেনা কোনো কম্পিউটার লিংক করা আছে কি না, থাকলে সেটা লগআউট করে দিন।

ফেসবুক পেজের সাথে জোড়া

পেজের সাথে WhatsApp জুড়লে দুটো লাভ। পেজে WhatsApp বাটন দেখানো যায়, আর পরে চাইলে এমন অ্যাড চালানো যায় যেটায় চাপ দিলে কাস্টমার সরাসরি আপনার WhatsApp-এ আসেন। সেই অ্যাড কীভাবে চালাবেন, সেটা আলাদা কাজ, এখানে শুধু জোড়ার নিয়মটা বলছি।

২০২৬ সালের অক্টোবরে Meta Business Help Centre-এর "Connect your Facebook Page to WhatsApp" পেজে কম্পিউটার থেকে জোড়ার ধাপ এভাবে লেখা আছে। ফেসবুকে নিজের প্রোফাইল ছবিতে চাপ দিয়ে See all profiles থেকে পেজে ঢুকুন। পেজের ছবিতে চাপ দিয়ে Settings খুলুন। Permissions অংশে Linked accounts, তারপর WhatsApp। দেশের কোড বেছে WhatsApp Business নম্বরটা দিন, Send WhatsApp code চাপুন। WhatsApp-এ আসা কোডটা বসিয়ে Confirm চাপুন।

একটা এরর অনেকের সামনে আসে, "WhatsApp number is linked to another Facebook business"। এর মানে নম্বরটা আগেই অন্য কোনো ফেসবুক বিজনেসের সাথে জোড়া, হয়তো আগের কোনো এজেন্সি বা পুরনো পেজের সাথে। তখন সেখান থেকে নম্বরটা সরাতে হয়। সেই অ্যাক্সেস না থাকলে আগের মানুষটার সাথে কথা বলুন।

এই নম্বরটাই আপনার ওয়েবসাইটের চ্যাট বাটনে যাবে। WinningSeller-এ সেটিংসের "দোকানের পরিচয়" কার্ডে WhatsApp নম্বরটা দিন, তারপর "চ্যাট বাটন (WhatsApp + Messenger)" কার্ডে বাটনটা চালু করে নিলে দোকানের সব পেজের কোণে "সরাসরি কথা বলুন" বাটন আসে। প্রোডাক্ট পেজ থেকে কেউ চাপ দিলে মেসেজে প্রোডাক্টের নাম আর লিংক আগে থেকে লেখা থাকে। সোজা কথায় বলি, WinningSeller আপনার WhatsApp-এর চ্যাট পড়ে না, রাখেও না। মেসেজ আসে আপনার ফোনের WhatsApp Business-এই। দোকান চালানোর বাকি কাজগুলো, যেমন কুরিয়ার বুকিং আর ফ্রড চেক, কীভাবে এক জায়গায় হয় সেটা ফিচারের পেজে দেখতে পারেন। বাটন কোথায় বসাবেন আর কোথায় না, সেটা ওয়েবসাইটে WhatsApp বাটন বসানোর লেখায় আছে।

নম্বর হারালে বা ব্যান হলে কত যায় (উদাহরণ)

দোকানের WhatsApp নম্বর হারানোর রাস্তা কয়েকটা। সিম হারাল আর নিজের নামে না থাকায় তোলা গেল না। স্টাফের নামে ছিল, তিনি চলে গেলেন। বা না জেনে কোনো "মড" করা WhatsApp অ্যাপ চালালেন, অনুমতি ছাড়া শত শত মানুষকে একসাথে অফার পাঠালেন, আর নম্বর ব্যান হয়ে গেল। ব্রডকাস্টে কোন কাজে নম্বর ব্যানের ঝুঁকি বাড়ে, সেটা আলাদা বিষয়, তবে নিয়মটা সহজ, অপরিচিত মানুষকে না জিজ্ঞেস করে কোনো গ্রুপে তুলবেন না আর একসাথে অনেককে একই মেসেজ পাঠাবেন না।

এর দাম কত, একটা হিসাব করি। সংখ্যাগুলো বানানো উদাহরণ, নিজের দোকানের সংখ্যা বসিয়ে একবার কষে নিন।

ধরুন আপনার নম্বরে ৪০০ জন পুরনো কাস্টমারের চ্যাট আছে। প্রতি মাসে এঁদের ৩০ জন নিজে থেকেই আবার মেসেজ দেন, নতুন কালার এসেছে কি না, আরেকটা লাগবে, এক্সচেঞ্জ হবে কি না। এর ১২ জন অর্ডার করেন। ১১টা ডেলিভারি হয়, ১টা ফেরত আসে। ডেলিভারি হওয়া অর্ডারে লাভ ৩০০ টাকা, ফেরতে যায় ১২০ টাকা। মাসে হাতে থাকে ১১ × ৩০০ − ১২০ = ৩,১৮০ টাকা। এই টাকার জন্য কোনো অ্যাডের খরচ লাগেনি, মানুষগুলো নিজেই এসেছেন।

একজন তরুণ দোকান মালিক টেবিলে দুটো ফোন পাশাপাশি রেখে বসে আছেন, একটা পুরনো আর একটা নতুন, নতুন ফোনে WhatsApp Business সেটআপের স্ক্রিন খোলা, পাশে একটা সিমের কভার আর খাতায় লেখা নম্বর
নতুন ফোন, পুরনো চ্যাট, আর নিজের নামের সিম

এবার নম্বরটা হারালেন। পুরনো কাস্টমাররা মেসেজ দিচ্ছেন এমন নম্বরে, যেটা আর আপনার না। নতুন নম্বরটা সবাইকে জানাতে ধরুন তিন মাস লাগল। তিন মাসে হারানো লাভ ৩ × ৩,১৮০ = ৯,৫৪০ টাকা। পার্সেলের ১,০০০টা স্টিকার পুরনো নম্বরসহ ছাপা ছিল, নতুন করে ছাপাতে প্রতিটা দেড় টাকা ধরলে আরও ১,৫০০ টাকা। মোট ৯,৫৪০ + ১,৫০০ = ১১,০৪০ টাকা। আর তিন মাস পরেও যাঁরা পুরনো নম্বরে মেসেজ দিয়ে উত্তর পাননি, তাঁদের অনেকে আর ফেরেন না।

তুলনায় নিজের নামে একটা সিম, Google Drive-এ নিয়মিত ব্যাকআপ আর two-step verification, তিনটা মিলে খরচ প্রায় কিছুই না। আমার কাছে নিয়মটা পরিষ্কার। অ্যাডের বাজেট এক টাকা বাড়ানোর আগে এই তিনটা কাজ শেষ করুন।

আজই করে ফেলুন

আজ রাতে ঘুমানোর আগেই এগুলো সেরে ফেলা যায়, শুধু দোকানের ফোনটা হাতে নিন।

  1. দোকানের কাজে চলা নম্বরটা কার NID-তে তোলা, অপারেটরের অ্যাপ বা কাস্টমার কেয়ার থেকে দেখে নিন।
  2. সাধারণ WhatsApp-এ Chats থেকে Chat backup খুলে আজকের তারিখে একটা Google Drive ব্যাকআপ নিন।
  3. WhatsApp-এর ভেতরে সেভ করা কন্টাক্টগুলো ফোনের কন্টাক্ট লিস্টে সরিয়ে নিন।
  4. WhatsApp Business নামিয়ে নম্বর সরান, তারপর পুরনো দুই-তিনজন কাস্টমারের চ্যাট খুলে মিলিয়ে দেখুন।
  5. প্রোফাইলে পেজের লোগো, হুবহু একই নাম, দুই লাইনের বর্ণনা আর আসল খোলার সময় দিন।
  6. two-step verification চালু করে PIN ফোনের বাইরে লিখে রাখুন, আর কম্পিউটারে WhatsApp Web লিংক করুন।

নম্বরটা একবার ঠিকঠাক দাঁড়িয়ে গেলে এটাই হয়ে ওঠে আপনার দোকানের সবচেয়ে পুরনো সম্পদ। পেজ বদলাতে পারে, ওয়েবসাইট বদলাতে পারে, কিন্তু কাস্টমারের ফোনে সেভ করা এই নম্বরটা বছরের পর বছর আপনাকে অর্ডার এনে দেবে।

সাধারণ প্রশ্ন

হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস একাউন্ট কি?

WhatsApp Business হলো ছোট ব্যবসার জন্য বানানো WhatsApp-এর আলাদা একটা অ্যাপ, ফ্রিতে নামানো যায়। এতে সাধারণ WhatsApp-এর সব কাজের সাথে বিজনেস প্রোফাইল, ক্যাটালগ, কুইক রিপ্লাই, লেবেল আর অ্যাওয়ে মেসেজের মতো দোকানের কাজের ফিচার থাকে। কাস্টমার আপনার প্রোফাইলে দোকানের নাম, ঠিকানা, খোলার সময় আর ওয়েবসাইট দেখতে পান।

একই নম্বরে কি সাধারণ WhatsApp আর WhatsApp Business দুটোই চালানো যায়?

একসাথে না। WhatsApp Help Center-এ লেখা আছে, দুটো আলাদা অ্যাপ, আর একই নম্বর একই সময়ে দুটো অ্যাপে চালানো যায় না। নম্বর এক অ্যাপ থেকে আরেক অ্যাপে সরানো যায়। একই ফোনে দুটো অ্যাপ চালাতে চাইলে দুটো আলাদা নম্বর লাগবে।

সাধারণ WhatsApp থেকে বিজনেসে গেলে কি পুরনো চ্যাট থাকে?

সাধারণত থাকে। একই নম্বর দিয়ে WhatsApp Business চালু করার সময় অ্যাপ চ্যাট আর মিডিয়া নেওয়ার অনুমতি চায়, সেটা দিলে পুরনো চ্যাট চলে আসে। তবে WhatsApp নিজেই আগে ব্যাকআপ নিয়ে রাখতে বলে, আর WhatsApp-এর ভেতরে সেভ করা কন্টাক্ট সরানোর আগে ফোনের কন্টাক্টে নিয়ে নিতে বলে।

WhatsApp Business কি কম্পিউটারে চালানো যায়?

যায়। মূল ফোন থেকে Linked devices খুলে QR কোড স্ক্যান করলে কম্পিউটারে WhatsApp Web বা ডেস্কটপ অ্যাপে একই নম্বর চলে। WhatsApp Help Center অনুযায়ী মূল ফোন দিয়ে চারটা পর্যন্ত ডিভাইস লিংক করা যায়, তবে প্রতি ১৪ দিনে অন্তত একবার মূল ফোনে WhatsApp খুলতে হয়।

WhatsApp Business থেকে আবার সাধারণ WhatsApp-এ ফেরা যায়?

যায়, তবে সব আসে না। WhatsApp-এর হেল্প পেজে লেখা আছে, ক্যাটালগের মতো শুধু বিজনেস অ্যাপের ফিচারের তথ্য সাধারণ WhatsApp-এ যায় না। তাই ক্যাটালগে অনেক প্রোডাক্ট তোলার আগেই ঠিক করে নিন কোন অ্যাপে থাকবেন।

স্টাফের নামে তোলা সিমে কি WhatsApp Business খোলা ঠিক?

না। সিম যাঁর NID-তে, আইনের চোখে নম্বরটাও তাঁর। তিনি চাকরি ছাড়লে সিম, নম্বর আর সেই নম্বরের সব কাস্টমারের চ্যাট তাঁর সাথেই চলে যেতে পারে। দোকানের WhatsApp খুলুন নিজের NID-তে তোলা দোকানের সিমে।

#হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস#WhatsApp Business#বিজনেস প্রোফাইল#WhatsApp Web#অনলাইন শপ

আরও পড়ুন

হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল না গ্রুপ? পুরনো কাস্টমারকে নতুন মালের খবর দিন

নতুন কালেকশনের খবর পুরনো কাস্টমারকে দিতে চান, কিন্তু চ্যানেল খুলবেন, গ্রুপ, না স্ট্যাটাস? কে কার নম্বর দেখে, কে উত্তর দিতে পারে, চ্যানেল খোলার ধাপ, কী পোস্ট দেবেন, গ্রুপের নিয়ম আর ঝুঁকি, আর এক মাসে কোনটায় কত সময় যায়, হিসাবসহ।

·১১ মিনিটে পড়া যায়

শার্ট, প্যান্ট আর টি-শার্টের সাইজ চার্ট বানাবেন যেভাবে, ফেরত কমবে

সাপ্লায়ারের ট্যাগে M লেখা, অথচ কাস্টমার বলেন টাইট। টি-শার্ট, শার্ট আর প্যান্ট টেবিলে বিছিয়ে ফিতা দিয়ে মাপার নিয়ম, ইঞ্চিতে নিজের সাইজ চার্ট বানানো, কাস্টমারকে নিজের শার্ট মেপে সাইজ বাছতে শেখানো, আর একটা ভুল সাইজে কত টাকা যায়, হিসাবসহ।

·১১ মিনিটে পড়া যায়

প্রোডাক্ট ক্যাটালগ ও প্রাইস লিস্ট বানানোর নিয়ম, পাইকার আর অফিসের জন্য

পাইকার, রিসেলার বা অফিসের লোক বলছেন "ক্যাটালগ আর রেট দেন"? প্রতিটা প্রোডাক্টে কী লিখবেন, খুচরা আর পাইকারি দাম কেন আলাদা ফাইলে, পরিমাণ ধরে দামের ধাপ টাকায়, PDF না লিংক, আর দাম বদলালে পুরনো কপি থামাবেন কীভাবে।

·১১ মিনিটে পড়া যায়