বিজনেস স্লোগান, অনলাইন দোকানের এক লাইনের পরিচয় বানাবেন যেভাবে
পেজের নামের নিচে এক লাইন, যেটা বলে আপনি কী বেচেন আর কেন আপনার থেকে নেবেন। প্রতিশ্রুতি, প্রমাণ আর জায়গা, তিনভাবে বিজনেস স্লোগান বানানো, বাংলা না ইংরেজি, কাপড়-খাবার-গ্যাজেট-কসমেটিকসের নমুনা, কোথায় বসাবেন, আর ছাপার আগে পাঁচজন কাস্টমারকে দিয়ে যাচাই।

এই লেখায় যা আছে
বিজনেস স্লোগান মানে দোকানের নামের সাথে এক লাইনের একটা কথা, যেটা বলে আপনি কী বেচেন আর কেন মানুষ আপনার থেকেই নেবেন। ছোট অনলাইন দোকানের জন্য এটা বানানোর সহজ উপায় তিনটা। একটা প্রতিশ্রুতি দিন, একটা প্রমাণ দেখান, বা প্রোডাক্টটা কোথা থেকে আসে বলুন। লাইনটা তিন থেকে সাত শব্দের হোক, ফোনে একবার শুনেই যেন বলা যায়, আর এমন কিছু লিখবেন না যা প্রমাণ করতে পারবেন না। অনলাইন ব্যবসার স্লোগানে সুন্দর শব্দের চেয়ে সত্যি কথার জোর বেশি।
বড় ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনে নামের নিচে সুন্দর একটা লাইন দেখে অনেকের মনে হয়, আমার পেজেরও এমন একটা চাই। তারপর এক সন্ধ্যা বসে বিশটা লাইন লেখা হয়, সবগুলোতে "সেরা", "বিশ্বস্ত" আর "আপনার পাশে"। কোনোটাই মনে ধরে না, কারণ সেগুলো যেকোনো দোকানের হতে পারত। একটা ভালো স্লোগানের পরীক্ষা সোজা। এটা শুধু আপনার দোকানের গায়েই মানায়।
বিজনেস স্লোগান কী কাজ করে, আর কখন এখনই লাগবে না
একটা নতুন কাস্টমার আপনার পেজে আসেন অ্যাড বা শেয়ার করা পোস্ট থেকে। প্রথম কয়েক সেকেন্ডে তিনি দুটো জিনিস বুঝতে চান। এখানে কী পাওয়া যায়, আর এরা অন্যদের থেকে আলাদা কী। নাম প্রথম প্রশ্নের উত্তর সবসময় দেয় না। ধরুন দোকানের নাম "রঙলিপি"। নাম শুনে কেউ বোঝেন না এটা শাড়ি না পাঞ্জাবি। স্লোগান সেই ফাঁকটা ভরে। "রঙলিপি, ছেলেদের হাতে বোনা পাঞ্জাবি" শুনলে আর প্রশ্ন থাকে না।
দ্বিতীয় কাজটা মনে রাখানো। পার্সেলের পলিতে, কাস্টমারের হাতে যাওয়া ইনভয়েসে, পেজের কভারে একই লাইন বারবার দেখলে একসময় মানুষ নামটার সাথে কথাটা জুড়ে ফেলেন। তখন কেউ বন্ধুকে বলেন, "ওই যে পাঞ্জাবির পেজটা, যারা মাপ না মিললে বদলে দেয়।" এটাই স্লোগানের আসল ফল। মানুষ আপনার হয়ে আপনার কথাটা বলেন।

এখনই লাগবে না কখন? যদি এখনো ঠিক করতে না পারেন আপনি কী বেচবেন। প্রথম দুই-তিন মাসে অনেকে কয়েকটা প্রোডাক্ট পরীক্ষা করেন, পাঞ্জাবি থেকে জুতা, জুতা থেকে ঘড়ি। এই সময় স্লোগান বানিয়ে স্টিকার ছাপালে পরের মাসেই ফেলে দিতে হয়। আগে একটা প্রোডাক্টের ধরন ঠিক হোক, প্রথম একশো অর্ডার হোক, কাস্টমার কোন কথাটা বারবার বলেন শুনুন। এর আগে স্লোগানের পেছনে সময় দিতে আমি মানা করি, ওই সময়টা অর্ডার আর ডেলিভারিতে বেশি কাজে আসে। স্লোগানের সবচেয়ে ভালো কাঁচা মাল প্রায়ই সেখানেই থাকে।
স্লোগান আর পেজের বায়ো এক জিনিস না, এই গোলমালটাও অনেকে করেন। বায়োতে থাকে কাজের তথ্য, কী বেচেন, কোথায় ডেলিভারি, কীভাবে অর্ডার। স্লোগান সেই তথ্যের ভিড় থেকে একটা কথা আলাদা করে তুলে আনে, যেটা মানুষ মনে রাখবেন। বায়ো পড়েন যিনি আগ্রহী হয়েছেন, স্লোগান শোনেন সবাই, এমনকি যিনি এখনো কিছু কিনবেন বলে ঠিক করেননি।
প্রতিশ্রুতি, প্রমাণ আর জায়গা, তিনভাবে বানানো
প্রতিশ্রুতি। কাস্টমার আপনার থেকে কী নিশ্চিন্তে পাবেন, সেটা বলুন। "মাপ না মিললে বদলে দিই"। এই ধরনের স্লোগানের শক্তি সবচেয়ে বেশি, কিন্তু শর্তও সবচেয়ে কড়া। যা লিখবেন, তা আপনার দোকানের নিয়ম হতে হবে, প্রতিদিন, প্রতিটা কাস্টমারের জন্য। একবার কেউ বদলাতে চাইলেন আর আপনি গড়িমসি করলেন, তখন স্লোগানটাই আপনার বিরুদ্ধে প্রমাণ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রমাণ। আপনি কী করেন, যা অন্যরা করেন না, সেটা বলুন। "প্রতিটা পিস খুলে দেখে পাঠাই", বা "বোতলে ব্যাচের তারিখ লেখা"। প্রমাণের স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করেন, কারণ হাতে পেয়ে মিলিয়ে নেওয়া যায়। পার্সেল খুলে কাস্টমার যদি সত্যিই ব্যাচের তারিখ দেখেন, স্লোগানটা তখন তাঁর মাথায় গেঁথে যায়।
জায়গা। প্রোডাক্টটা কোথা থেকে আসে বা কে বানান, সেটা বলুন। "নরসিংদীর তাঁত থেকে সরাসরি", "সুন্দরবনের মৌয়ালের চাক থেকে"। খাবার, কাপড় আর হাতের কাজের জিনিসে জায়গার নাম নিজেই একটা ভরসা। শুধু জায়গাটা সত্যি হতে হবে। ঢাকার পাইকারি বাজার থেকে তোলা মালে অন্য জেলার নাম লিখবেন না।

কোনটা বাছবেন? যেটা আপনার ব্যবসায় সবচেয়ে সত্যি আর সবচেয়ে আলাদা। পাশের পাঁচটা পেজও যদি একই কথা বলতে পারে, তাহলে সেটা আলাদা না। খাতায় তিনটা কলাম করুন, প্রতিটায় নিজের দোকানের জন্য তিন-চারটা লাইন লিখুন। তারপর কাটুন সেগুলো, যেগুলো যেকোনো দোকানের হতে পারত।
বাংলা না ইংরেজি
আপনার কাস্টমার যে ভাষায় ইনবক্সে লেখেন, স্লোগান সেই ভাষায়। বেশিরভাগ ফেসবুক দোকানের কাস্টমার বাংলায় লেখেন আর বাংলায় কথা বলেন, তাই বাংলা স্লোগান তাঁরা মুখে আনতে পারেন। "Quality you can trust" ধাঁচের ইংরেজি লাইন শুনতে বড় লাগে, কিন্তু কেউ বন্ধুকে বলার সময় এটা বলেন না, আর এমন লাইন হাজারটা দোকানে আছে।
দোকানের নাম ইংরেজি হলেও স্লোগান বাংলা হতে পারে, আর অনেক সময় সেটাই ভালো মানায়। ইংরেজি শব্দ যেগুলো মানুষ এমনিতে বলেন, যেমন ডেলিভারি, সাইজ, অর্ডার, সেগুলো রেখে দিন, জোর করে বাংলা করবেন না। একটা পরীক্ষা করে নিন। স্লোগানটা বাংলা অক্ষরে আর ইংরেজি অক্ষরে, মানে বাংলিশে, দুইভাবে লিখে দেখুন। কাস্টমার কমেন্টে বা সার্চে যেভাবে লিখবেন, দুই রূপেই যেন পড়তে আর বুঝতে কষ্ট না হয়।
ছন্দ মিলিয়ে লিখলে মনে থাকে, এটা সত্যি। "মাপে মাপে, ঘরে ঘরে" ধাঁচের লাইন মুখে মুখে ঘোরে। কিন্তু ছন্দ মেলাতে গিয়ে অর্থ হারাবেন না। মিল আছে কিন্তু কিছু বলে না, এমন লাইনের চেয়ে মিল ছাড়া একটা পরিষ্কার কথা অনেক বেশি কাজের। আগে কথাটা ঠিক করুন, তারপর দেখুন শব্দ একটু এদিক-ওদিক করে ছন্দ আসে কি না।
কাপড়, খাবার, গ্যাজেট আর কসমেটিকসের নমুনা
নিচের লাইনগুলো এই লেখার জন্য বানানো নমুনা, কোনো চালু দোকানের না। হুবহু নেবেন না। ধাঁচটা দেখে নিজের দোকানের সত্যি কথা দিয়ে বানান, আর নেওয়ার আগে ফেসবুকে আর গুগলে লাইনটা খুঁজে দেখুন কেউ আগে থেকে চালান কি না।
কাপড়, যেমন ছেলেদের পাঞ্জাবি। প্রতিশ্রুতির ধাঁচে "মাপ না মিললে বদলে দিই"। প্রমাণের ধাঁচে "প্রতিটা সেলাই দুবার দেখে পাঠাই"। জায়গার ধাঁচে "নরসিংদীর তাঁত, সরাসরি আপনার হাতে"।
খাবার, যেমন মধু বা ঘি। প্রমাণের ধাঁচে "প্রতি বোতলে ব্যাচের তারিখ"। জায়গার ধাঁচে "সুন্দরবনের চাক থেকে, মাঝে কোনো হাত নেই"। খাবারে স্বাস্থ্যের কোনো দাবি স্লোগানে আনবেন না, যেমন রোগ সারানো বা ওজন কমানো। সেটা প্রমাণ করা কঠিন, আর অ্যাডের নিয়মেও আটকায়।
গ্যাজেট। প্রমাণের ধাঁচে "চালু করে দেখে, তারপর প্যাক"। প্রতিশ্রুতির ধাঁচে "বক্স খোলার ভিডিও, প্রতিটা পার্সেলে"। এটা লিখলে সত্যিই প্রতিটা পার্সেলের প্যাকিংয়ের ভিডিও রাখতে হবে।
কসমেটিকস। প্রমাণের ধাঁচে "যা মাখবেন, তার উপাদান লেবেলে বাংলায়"। প্রতিশ্রুতির ধাঁচে "সিল খোলা থাকলে ফেরত নিই"। ত্বক ফর্সা করা বা দাগ মুছে ফেলার মতো ফলের প্রতিশ্রুতি স্লোগানে দেবেন না।
খেয়াল করুন, প্রতিটা লাইনে এমন কিছু আছে যা কাস্টমার হাতে পেয়ে মিলিয়ে দেখতে পারেন। এটাই এই নমুনাগুলোর আসল শিক্ষা।
কত শব্দ, কোথায় বসবে
তিন থেকে সাত শব্দ। এর চেয়ে বড় হলে স্টিকারে পড়া যায় না, আর মানুষ মনে রাখেন না। একটা পরীক্ষা করুন। কাউকে ফোন করে লাইনটা একবার বলুন, তারপর তাঁকে আবার বলতে বলুন। তিনি যদি হুবহু বা প্রায় হুবহু বলতে পারেন, লাইনটা ঠিক মাপের। যদি বোঝাতে হয় "মানে আমরা বলতে চাচ্ছি…", তাহলে লাইনটা লম্বা বা ঘোলা।
এবার জায়গা। ফেসবুক পেজের কভার ছবিতে নামের পাশে বা নিচে। পেজের বায়োতে প্রথম লাইন হিসেবে, পেজের নাম, ক্যাটাগরি আর বায়ো কীভাবে সাজাবেন তা ফেসবুক বিজনেস পেজ খোলার লেখায় আছে। পার্সেলের পলি বা বক্সের স্টিকারে লোগোর নিচে ছোট করে। আর লোগোর ভেতরে স্লোগান ঢোকাবেন না। ছোট মাপে, যেমন প্রোফাইল ছবিতে, তখন লেখাটা ঝাপসা হয়ে যায়। লোগো আর লেখা আলাদা রাখার কথা লোগো বানানোর লেখায় বলা আছে।
লেখার বাইরেও স্লোগান কাজে লাগে। কনফার্মের ফোনের শেষে মডারেটর একই কথাটা মুখে বলতে পারেন, যেমন "মাপ না মিললে জানাবেন, বদলে দেব"। পার্সেলের ভেতরের ধন্যবাদ কার্ডে লোগোর নিচে একই লাইন থাকতে পারে। যত জায়গায় একই কথা একইভাবে আসে, তত তাড়াতাড়ি কাস্টমার সেটা আপনার নামের সাথে জুড়ে নেন। আর প্রতিটা জায়গায় একই বানান রাখুন, এক জায়গায় "বদলে দিই" আর আরেক জায়গায় "পরিবর্তন করে দেওয়া হয়" লিখবেন না।
নিজের ওয়েবসাইট থাকলে সেখানেও লাইনটা থাকুক। WinningSeller-এ সেটিংসের "দোকানের পরিচয় ও সোশ্যাল লিংক" কার্ডে "এক লাইনে দোকানের পরিচয় (স্লোগান)" নামে আলাদা ঘর আছে, ১০০ অক্ষর পর্যন্ত। এখানে লিখলে লাইনটা দোকানের ফুটারে আর ইনভয়েসে দেখায়। ব্র্যান্ড কিটের "শেয়ার ছবি"-তে "লোগো আর নাম দিয়ে বানিয়ে দিন" চাপলে যে ছবি তৈরি হয়, যেটা ফেসবুক বা WhatsApp-এ দোকানের লিংক দিলে দেখায়, তাতেও নামের নিচে এই লাইন বসে। আর লম্বা পরিচয়ের জন্য ডিজাইন → "হেডার, মেনু ও ফুটার"-এ ফুটারের "দোকান সম্পর্কে দুই লাইন" ঘর আছে। দোকানের বাকি ফিচার এক জায়গায় দেখতে ফিচারের লিস্ট খুলে দেখুন।
পাঁচজন কাস্টমারকে দিয়ে যাচাই, ছাপার আগে (উদাহরণ)
স্লোগান ঠিক করার পরে সবচেয়ে বড় ভুলটা হয় ছাপাখানায়। এক হাজার স্টিকার, দুই হাজার পলি, সব নতুন লাইনে, কাউকে না শুনিয়ে। তারপর দুই সপ্তাহ পরে কেউ একজন বলেন, "ভাই, এটা পড়ে তো মনে হয় আপনারা দর্জির দোকান।" ততক্ষণে বান্ডিলগুলো ঘরের কোণে।
তাই ছাপার আগে পাঁচজনকে শোনান। সবচেয়ে ভালো হয় পাঁচজন সাম্প্রতিক কাস্টমার, যাঁরা আপনাকে চেনেন কিন্তু বন্ধু না। ফোনে বা মেসেজে শুধু স্লোগানটা বলুন, দোকানের নাম ছাড়া, আর জিজ্ঞেস করুন, "এটা শুনে কী মনে হয়, এরা কী বেচে?" তারপর জিজ্ঞেস করুন, "এই কথাটা কি আমাদের সাথে মেলে?" পাঁচজনের মধ্যে অন্তত তিনজন ঠিক জিনিসটা বললে লাইনটা কাজ করছে। দুজন বা তার কম হলে আবার খাতায় ফিরুন।

উদাহরণ। সংখ্যাগুলো বোঝানোর জন্য বানানো, আপনার এলাকার প্রেসে দাম আলাদা হবে। ধরুন প্রেস লোগো আর স্লোগানের স্টিকার ১,০০০ পিস ১,৫০০ টাকায় দেয়, মানে পিসপ্রতি দেড় টাকা, আর ১০০ পিস দেয় ৪০০ টাকায়, মানে পিসপ্রতি ৪ টাকা।
প্রথম পথ, সরাসরি ১,০০০ পিস। খরচ ১,৫০০ টাকা। এক মাসে ৩০০টা লাগানোর পরে কাস্টমারদের কথা শুনে স্লোগান বদলালেন। বাকি ৭০০টা আর কাজে আসে না। ৭০০ × ১.৫০ = ১,০৫০ টাকা ফেলে দিলেন, আর নতুন ১,০০০ পিসে আবার ১,৫০০ টাকা।
দ্বিতীয় পথ, আগে ১০০ পিস, ৪০০ টাকা। এক মাস পার্সেলে লাগিয়ে আর পাঁচজনকে শুনিয়ে লাইনটা পাকা করলেন, তারপর ১,০০০ পিস। এই ১০০ পিস বড় অর্ডারের রেটে নিলে পড়ত ১০০ × ১.৫০ = ১৫০ টাকা। মানে সাবধান হওয়ার বাড়তি খরচ ৪০০ − ১৫০ = ২৫০ টাকা। ২৫০ টাকার সাবধানতা বনাম ১,০৫০ টাকার ভুল। ছাপার আগে যাচাই সবসময় সস্তা।

স্টিকারের সাইজ, কাগজ আর কোথায় পাবেন, সেই পুরো কথা প্যাকেজিং ডিজাইনের লেখায় আছে।
যে কথা স্লোগানে লিখবেন না
"সেরা", "এক নম্বর", "দেশের সবচেয়ে বিশ্বস্ত"। এগুলো প্রমাণ করা যায় না, আর এত দোকান লেখে যে কেউ পড়েও দেখেন না। একই দলে পড়ে "১০০% অরিজিনাল", যদি আপনার কাছে আমদানির কাগজ বা ব্র্যান্ডের ডিলারশিপের প্রমাণ না থাকে। মনে রাখবেন, স্লোগানও বিজ্ঞাপনের অংশ। ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৪ ধারা মিথ্যা বিজ্ঞাপনে ক্রেতা ঠকানোকে শাস্তিযোগ্য বলে, জেল আর জরিমানা দুটোরই বিধান আছে (১২ অক্টোবর ২০২৬-এ bdlaws.minlaw.gov.bd-তে দেখা)।
অন্য ব্র্যান্ডের লাইনও না। বড় কোম্পানির পরিচিত স্লোগানের একটা শব্দ বদলে নিজের বানানো খুব চেনা চালাকি। ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ bdlaws.minlaw.gov.bd-তে ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯-এর ২ ধারায় "মার্ক"-এর সংজ্ঞায় নাম, শব্দ, অক্ষর, সংখ্যা আর এগুলোর যেকোনো মিশ্রণ ধরা আছে। মানে একটা লাইনও কারো রেজিস্টার করা মার্কের অংশ হতে পারে। কারো মার্ক রেজিস্টার করা আছে কি না, কীভাবে খুঁজবেন, তা অনলাইন ব্যবসার নামের লেখায় DPDT-র কথাসহ আছে। কোনো লাইন নিয়ে সন্দেহ থাকলে বড় করে ছাপার আগে একজন ট্রেডমার্কের আইনজীবীকে জিজ্ঞেস করুন।
আর এমন প্রতিশ্রুতি না, যা প্রতিদিন রাখতে পারবেন না। "২৪ ঘণ্টায় ডেলিভারি" লিখলেন, অথচ ঢাকার বাইরে পার্সেল যায় তিন দিনে। প্রতিটা দেরির পার্সেল তখন শুধু দেরি না, ভাঙা কথা। কাস্টমার রাগেন কথা ভাঙায়, দেরিতে ততটা না।
আরেকটা জিনিস এড়িয়ে যান, অন্যকে ছোট করে নিজেকে বড় দেখানো। "অন্যদের মতো ভেজাল না" ধাঁচের লাইন পড়ে কাস্টমারের মাথায় প্রথম আসে ভেজাল শব্দটাই। আর ধর্ম, রাজনীতি বা কোনো দলের কথা স্লোগানে আনবেন না, আপনার কাস্টমার সব দিকের মানুষ। স্লোগান নিজের কথা বলুক, অন্যের না।
আজই করে ফেলুন
- গত মাসে কাস্টমাররা আপনার দোকান নিয়ে কোন ভালো কথা বারবার বলেছেন, ইনবক্স আর রিভিউ দেখে খাতায় তিনটা লিখুন।
- প্রতিশ্রুতি, প্রমাণ আর জায়গা, তিন কলামে নিজের দোকানের জন্য তিনটা করে লাইন লিখুন, প্রতিটা সাত শব্দের মধ্যে।
- যেগুলো যেকোনো দোকানের হতে পারত, আর যেগুলোতে "সেরা" বা "এক নম্বর" আছে, সেগুলো কেটে দিন।
- বাকি দুই-তিনটা লাইন একজনকে ফোনে শোনান, তিনি হুবহু বলতে পারেন কি না দেখুন।
- সেরা লাইনটা ফেসবুক আর গুগলে খুঁজে দেখুন, আর কেউ চালান কি না।
- এই সপ্তাহে পাঁচজন সাম্প্রতিক কাস্টমারকে লাইনটা শোনান, আর তিনজন ঠিক বললে তবেই ছাপার কথা ভাবুন।
সাধারণ প্রশ্ন
বিজনেস স্লোগান কি?
বিজনেস স্লোগান হলো দোকানের নামের সাথে থাকা এক লাইনের কথা, যেটা বলে আপনি কী বেচেন আর কেন আপনার থেকেই নেবেন। নাম মনে রাখায়, স্লোগান কারণ দেয়। ছোট অনলাইন দোকানে এটা পেজের কভার, পার্সেলের পলি আর স্টিকারে সবচেয়ে বেশি কাজে আসে।
অনলাইন ব্যবসার স্লোগান কত শব্দের হওয়া উচিত?
তিন থেকে সাত শব্দ। ফোনে একবার শুনেই যেন কেউ হুবহু বলতে পারেন। সাত শব্দের বেশি হলে সেটা স্লোগান না, ছোট বিজ্ঞাপন হয়ে যায়, আর স্টিকারে পড়া যায় না।
স্লোগান বাংলায় দেব, নাকি ইংরেজিতে?
আপনার কাস্টমার যে ভাষায় ইনবক্সে লেখেন, সেই ভাষায়। বেশিরভাগ ফেসবুক দোকানের জন্য বাংলা ভালো কাজ করে, কারণ মানুষ তা মুখে বলতে পারেন। দোকানের নাম ইংরেজি হলেও স্লোগান বাংলা হতে পারে।
স্লোগানে "সেরা" বা "১ নম্বর" লেখা যায়?
না লেখাই ভালো। এটা প্রমাণ করা যায় না, সবাই লেখেন বলে কেউ বিশ্বাসও করেন না। আর প্রমাণ ছাড়া বড় দাবি নিয়ে কেউ অভিযোগ করলে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর মিথ্যা বিজ্ঞাপনের ধারা সামনে আসতে পারে।
অন্য ব্র্যান্ডের স্লোগানের মতো কিছু দেওয়া যায়?
না। ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯-এ মার্কের সংজ্ঞায় নাম আর শব্দও আছে, তাই একটা পরিচিত লাইন কারো রেজিস্টার করা মার্কের অংশ হতে পারে। ধাঁচ শিখুন, শব্দ নিজের রাখুন, আর বড় করে ছাপার আগে খুঁজে দেখুন লাইনটা আর কেউ চালান কি না।
স্লোগান কতদিন পরপর বদলানো উচিত?
যত কম, তত ভালো। অন্তত এক বছর একই স্লোগান রাখুন, যাতে মানুষ চিনতে শেখেন। বদলান শুধু তখন, যখন আপনার ব্যবসা সত্যিই বদলেছে, যেমন নতুন ধরনের প্রোডাক্ট বা নতুন প্রতিশ্রুতি।
আরও পড়ুন
ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ
ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।
গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে
গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।
বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে
ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।


