ফেসবুক বিজনেস পেজ খোলার নিয়ম ২০২৬, অনলাইন শপের পেজ সেটআপ ধাপে ধাপে
মোবাইল থেকে অনলাইন শপের ফেসবুক পেজ খোলার পুরো নিয়ম। কোন ক্যাটাগরি দেবেন, বায়োতে কী লিখবেন, প্রোফাইল আর কভার ছবি কোন সাইজে, কাকে কোন অ্যাক্সেস দেবেন, আর প্রথম পোস্টগুলো কী হবে।

এই লেখায় যা আছে
- ফেসবুক বিজনেস পেজ খোলার নিয়ম, শুরুর আগে কী কী লাগে?
- ধাপ ১: প্রোফাইল থেকে পেজ খোলা
- ধাপ ২: নাম, ক্যাটাগরি আর বায়ো
- ধাপ ৩: প্রোফাইল ছবি আর কভার ছবি, কোন সাইজে
- ধাপ ৪: ফোন নম্বর, ঠিকানা আর অ্যাকশন বাটন
- ধাপ ৫: দ্বিতীয় অ্যাডমিন আর টু-ফ্যাক্টর চালু
- পেজ খোলার পর প্রথম পোস্টগুলো কী হবে?
- নতুন পেজে যে ভুলে বিশ্বাস আর রিচ কমে
- আজ কোন কাজটা করবেন?
ফেসবুক বিজনেস পেজ খোলার নিয়ম এখন খুব সোজা, মোবাইল থেকে পাঁচ-দশ মিনিটেই হয়ে যায়। নিজের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে Menu-তে যাবেন, তারপর Pages, তারপর Create। এরপর পেজের নাম আর ক্যাটাগরি দেবেন, ছোট একটা বায়ো লিখবেন, তারপর ফোন নম্বর, প্রোফাইল ছবি আর কভার ছবি বসাবেন। পেজ খোলাটা আসলে সহজ অংশ। অনলাইন শপের পেজে আসল কাজ হলো কয়েকটা সেটিং ঠিকমতো করা, যাতে কাস্টমার প্রথম দেখাতেই ভরসা পান আর পরে পেজ হাতছাড়া না হয়।
নিচের ধাপ আর বাটনের নাম আমরা Meta-র নিজের হেল্প পেজ থেকে নিয়েছি, অক্টোবর ২০২৬-এ সেখানে যেমন লেখা আছে। ফেসবুক মাঝে মাঝে মেনুর জায়গা চেঞ্জ করে, তাই কোনো বাটন একটু অন্য জায়গায় দেখলে ঘাবড়াবেন না।
ফেসবুক বিজনেস পেজ খোলার নিয়ম, শুরুর আগে কী কী লাগে?
প্রথমে লাগবে নিজের একটা ফেসবুক প্রোফাইল। Meta-র "Set up your Facebook business Page" পেজে পরিষ্কার লেখা আছে, পেজ খুলতে প্রোফাইল লাগে। তবে আপনার প্রোফাইলের ছবি বা পোস্ট পেজে দেখায় না, যদি না আপনি নিজে শেয়ার করেন। প্রোফাইলটা আসল নামে আর আসল ছবিতে হওয়া জরুরি, কারণ এই প্রোফাইলই আপনার পেজের চাবি। ভুয়া নামের প্রোফাইল ফেসবুক আটকে দিলে তার সাথে পেজের চাবিও হারাবেন।
অনেকে ভাবেন, প্রোফাইলে প্রফেশনাল মোড চালু করলেই তো হলো। Meta-র হেল্প পেজ অনুযায়ী দোকান বা প্রোডাক্টের নামে পরিচিত হতে চাইলে পেজ খুলতে হয়, আর প্রফেশনাল মোড নিজের নামে কাজ করা ক্রিয়েটরদের জন্য। সেখানে এটাও লেখা আছে, প্রফেশনাল মোডে এখন Meta Business Suite চলে না। মানে পরে মডারেটর রাখতে বা অ্যাড চালাতে গেলে আটকে যাবেন।
পেজ খোলার আগে এই কয়েকটা জিনিস হাতের কাছে রাখুন, তাহলে মাঝপথে থেমে খুঁজতে হবে না।
- দোকানের নাম আগেই ঠিক করে রাখুন। নাম পরে চেঞ্জ করা যায়, কিন্তু তাতে পুরনো কাস্টমার গুলিয়ে ফেলেন। কেমন নাম কাস্টমার মনে রাখে আর একই নামের পেজ আছে কি না কীভাবে দেখবেন, সেটা অনলাইন ব্যবসার নাম নিয়ে লেখায় বিস্তারিত আছে।
- একটা লোগো আর একটা কভার ছবি বানিয়ে রাখুন। লোগো না থাকলে দোকানের নাম সুন্দর করে লেখা একটা ছবিও চলবে।
- কাস্টমার যে নম্বরে ফোন দেবেন, সেটা ঠিক করুন। পারলে ব্যবসার জন্য আলাদা একটা সিম নিন, তাহলে সেই নম্বরে WhatsApp Business-ও চালাতে পারবেন।
- দুই লাইনে নিজের দোকানের পরিচয় লিখে রাখুন। কী বেচেন, কোথায় ডেলিভারি দেন আর টাকা কীভাবে নেন, এটুকুই।
ধাপ ১: প্রোফাইল থেকে পেজ খোলা
Meta-র হেল্প পেজে মোবাইল অ্যাপ থেকে পেজ খোলার ধাপগুলো এভাবে লেখা আছে। বাটনের নাম ইংরেজিতেই রাখলাম, কারণ আপনার ফোনেও এগুলোই দেখবেন।
- ফেসবুক অ্যাপে লগইন করে Menu-তে চাপুন। Meta লিখেছে ওপরের বাঁ দিকে, তবে অনেক ফোনে এটা ডান দিকে বা নিচের সারিতে তিন দাগের আইকন হয়ে থাকে।
- Pages-এ চাপুন, তারপর Create।
- Create a new Page সিলেক্ট করে Next চাপুন।
- পেজের নাম লিখে Next চাপুন।
- ক্যাটাগরি সিলেক্ট করে Create চাপুন।
- বায়ো, ফোন নম্বর আর লোকেশন দিয়ে Next চাপুন।
- প্রোফাইল আর কভার ছবি দিয়ে Next চাপুন।
- বন্ধুদের ইনভাইট করার স্ক্রিনে Next, নোটিফিকেশনের সেটিং বেছে আবার Next, শেষে Done। এখনই কাউকে ইনভাইট করার দরকার নেই, কেন সেটা নিচে বলছি।
কোনো কোনো ফোনে মাঝখানে Public Page বেছে নিয়ে Get started চাপতে বলে। তখন সেটাই করুন, বাকি ধাপ একই থাকে।
কম্পিউটার থেকে খুললে রাস্তাটা আরও ছোট। Meta-র হেল্প পেজ অনুযায়ী বাঁ দিকের Pages-এ ক্লিক করুন, তারপর Create Page। এরপর Public Page সিলেক্ট করে Next, তারপর Get started। কম্পিউটারে মাঝখানে WhatsApp কানেক্ট করার একটা স্ক্রিনও আসে, এখনই না চাইলে Skip চাপুন।
বায়ো, ছবি আর ফোন নম্বর পরেও বসানো যায়, তাই এখানে আটকে থাকবেন না। শুধু নাম আর প্রথম ক্যাটাগরিটা ভেবে দিন, কারণ কাস্টমার এই দুটো সবার আগে দেখেন।
ধাপ ২: নাম, ক্যাটাগরি আর বায়ো
নামটা আগেই ঠিক করে রেখেছেন, তাই এখানে শুধু বানানটা খেয়াল করুন। পেজে, পরে বানানো ওয়েবসাইটে আর bKash মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টে একই বানানে একই নাম থাকলে কাস্টমার সব জায়গায় একই দোকান চিনতে পারেন।
ক্যাটাগরিতে অনেকে "Local business" জাতীয় একটা বড় নাম দিয়ে দেন, এটা ভুল। Meta-র "Best practices to choose a category" পেজে বলা আছে, পেজে সর্বোচ্চ তিনটা ক্যাটাগরি দেওয়া যায়, আর যত নির্দিষ্ট দেবেন তত ভালো। কারণ প্রথম ক্যাটাগরিটা পেজের নামের ঠিক নিচে দেখায়, আর মানুষ ফেসবুকে ওই ক্যাটাগরি দিয়ে সার্চ করলে আপনার পেজ আসতে পারে। Meta-র উদাহরণটাও এমন, মিষ্টির দোকান হলে "local business" না দিয়ে "bakery" বা "dessert shop" দিতে বলেছে।
ক্যাটাগরির ঘরে প্রোডাক্টের নাম ইংরেজিতে লিখুন, যেমন "clothing" বা "honey"। ফেসবুক তখন কাছাকাছি কয়েকটা ক্যাটাগরির লিস্ট দেখায়। আপনার প্রোডাক্টের সাথে সবচেয়ে বেশি মেলে এমনটা প্রথমে দিন, তারপর চাইলে আরও দুটো।
বায়ো হলো নামের নিচের ছোট লেখাটা। Meta-র সেটআপ পেজ বলছে, বায়ো এক-দুই বাক্যে রাখুন। এই দুই বাক্যেই কাস্টমারের প্রথম প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে দিন। আপনি কী বেচেন, কোথায় ডেলিভারি দেন, আর টাকা কীভাবে দিতে হয়। একটা উদাহরণ দিলাম, নিজের প্রোডাক্ট বসিয়ে নিন।
"ঘরে জ্বাল দেওয়া খাঁটি গাওয়া ঘি আর ঘানির সরিষার তেল। সারা দেশে হোম ডেলিভারি, পার্সেল হাতে পেয়ে টাকা দিন।"
"বাংলাদেশের সেরা অনলাইন শপ" বা "১০০% অরিজিনাল" জাতীয় কথা বায়োতে লিখবেন না। সবাই এটাই লেখে, তাই কাস্টমারের চোখে এসব কথার আর কোনো দাম নেই। তার চেয়ে নির্দিষ্ট একটা কথা, যেমন "ঘরে জ্বাল দেওয়া", অনেক বেশি বিশ্বাস আনে।
পেজ খোলার পর একটা ইউজারনেমও ঠিক করে নিন, মানে facebook.com/ এর পরের অংশটা। ছোট আর দোকানের নামের সাথে মেলানো ইউজারনেম হলে লিংকটা প্যাকেটে, স্টিকারে আর SMS-এ দেওয়া সহজ হয়। ইউজারনেম বাছার নিয়মও নাম নিয়ে লেখাটায় আছে।
ধাপ ৩: প্রোফাইল ছবি আর কভার ছবি, কোন সাইজে
প্রোফাইল ছবিটা ফেসবুকের সব জায়গায় আপনার দোকানের মুখ। কমেন্টে, ইনবক্সে আর অ্যাডে এই ছোট গোল ছবিটাই দেখায়। Meta-র "Facebook Page profile picture and cover photo dimensions" হেল্প পেজ অনুযায়ী প্রোফাইল ছবি গোল করে কেটে দেখানো হয়। কম্পিউটারে এটা দেখায় ১৭৬ × ১৭৬ পিক্সেলে, স্মার্টফোনে ১৯৬ × ১৯৬ পিক্সেলে। সবচেয়ে ভালো মানের জন্য ৩২০ × ৩২০ পিক্সেলের ছবি দিতে বলা আছে।
গোল করে কাটা হয় বলে লোগোটা ছবির ঠিক মাঝখানে রাখুন, চারপাশে একটু ফাঁকা জায়গা রেখে, নইলে কোণের লেখা কেটে যাবে। আর প্রোফাইল ছবিতে প্রোডাক্ট না দিয়ে লোগো দিন। আজ ঘি বেচছেন, ছয় মাস পরে হয়তো মধুও বেচবেন। লোগো একই থাকলে কাস্টমার আপনাকে চিনতেই থাকবেন।
কভার ছবির জন্য Meta-র একই পেজে লেখা আছে, ৮৫১ পিক্সেল চওড়া আর ৩১৫ পিক্সেল উঁচু sRGB JPG ফাইল সবচেয়ে তাড়াতাড়ি লোড হয়, যদি ফাইলটা ১০০ কিলোবাইটের কম হয়। ছবি কমপক্ষে ৪০০ পিক্সেল চওড়া আর ১৫০ পিক্সেল উঁচু হতেই হবে। লোগো বা লেখা থাকা ছবিতে PNG দিলে ফল ভালো হতে পারে, এটাও সেখানে বলা আছে।
আসল ঝামেলাটা অন্য জায়গায়। Meta-র পেজ অনুযায়ী কম্পিউটারে কভার ছবি দেখায় ১৬:৯ মাপে, আর মোবাইলে ২.৪:১ মাপে। মানে একই ছবির কিনারা একেক ডিভাইসে একেকভাবে কেটে যায়। মোবাইলে প্রোফাইল ছবিটাও কভারের ওপর প্রায় ৪০ পিক্সেল চেপে বসে। তাই কভারের দরকারি জিনিস, যেমন প্রোডাক্ট বা "সারা দেশে ক্যাশ অন ডেলিভারি" লেখাটা, ছবির মাঝখানে রাখুন। কিনারার দিকে আর নিচের কোণে দরকারি কিছু রাখবেন না। আপলোডের পর নিজের ফোনে আর একটা কম্পিউটারে পেজটা খুলে দেখুন, কিছু কেটে গেছে কি না।

কভারে বেশি লেখা দেবেন না, কারণ ফোনের ছোট স্ক্রিনে সেটা পড়া যায় না। একটা পরিষ্কার প্রোডাক্টের ছবি আর এক লাইনের লেখাই যথেষ্ট।
ধাপ ৪: ফোন নম্বর, ঠিকানা আর অ্যাকশন বাটন
নতুন কাস্টমার পেজে ঢুকে প্রথমেই খোঁজেন, এই দোকানের সাথে কথা বলব কীভাবে। Meta-র সেটআপ পেজে ফোন নম্বর, ওয়েবসাইট আর ইমেইল দিতে বলা আছে। সবগুলো ঘর পূরণ করুন। ফোন নম্বর না থাকা পেজকে অনেকে ভয় পান, কারণ ঝামেলা হলে কাকে ধরবেন সেটা বুঝতে পারেন না।
ঠিকানার ব্যাপারে একটু সাবধান থাকুন। Meta-র পেজে লেখা আছে, ব্যবসার কোনো দোকান বা অফিস থাকলে ঠিকানা আর খোলার সময় দিন। আপনি যদি বাসা থেকে বেচেন আর কাস্টমারের আসার মতো দোকান না থাকে, বাসার পুরো ঠিকানা পেজে দেবেন না। অচেনা মানুষ বাসায় চলে আসতে পারেন, পরিবারের নিরাপত্তার কথাও ভাবতে হয়। তার বদলে বায়ো আর পিন করা পোস্টে লিখুন কোন কোন এলাকায় ডেলিভারি যায়। খোলার সময় দিলে সেই সময়টাই দিন, যখন সত্যিই কেউ ইনবক্সের উত্তর দেন।
এবার অ্যাকশন বাটন, মানে পেজের ওপরের দিকের বড় বাটনটা। কাস্টমার সবার আগে কোন কাজটা করবেন, এই বাটন সেটা ঠিক করে দেয়। Meta-র "Add an action button to your Facebook Page" হেল্প পেজ অনুযায়ী পেজে সুইচ করে Options, তারপর Add action button বা Edit action button চাপুন। একটা বাটন বেছে Next চাপুন, স্ক্রিনে যা চায় সেটা দিয়ে শেষে Save।
কোন বাটন দেবেন, সেটা ঠিক হয় আপনি অর্ডার কোথায় নেন তা দেখে। এখন সব অর্ডার ইনবক্সে বা WhatsApp-এ নিলে মেসেজ বা WhatsApp-এর বাটন দিন। WhatsApp বাটনের জন্য আগে পেজের সাথে WhatsApp কানেক্ট করতে হয়। Meta-র হেল্প পেজ অনুযায়ী পেজের Settings-এ গিয়ে Permissions-এর নিচে Linked accounts, তারপর WhatsApp। দেশের কোড বেছে WhatsApp Business নম্বর লিখুন, Send WhatsApp code চাপুন, কোডটা বসিয়ে Confirm চাপুন। এর জন্য ফোনে WhatsApp Business অ্যাপ থাকতে হয়।
নিজের ওয়েবসাইট বা অনলাইন স্টোর থাকলে বাটনটা দিন ওয়েবসাইটে যাওয়ার জন্য। Meta নিজেও ই-কমার্স পেজের জন্য এই কথা বলেছে, অ্যাকশন বাটন দিয়ে মানুষকে ওয়েবসাইটে পাঠান আর সেখানে পিক্সেল বসান। তাহলে কে কোন প্রোডাক্ট দেখে অর্ডার করলেন, সেই হিসাব অ্যাডের কাজে লাগে।
ধাপ ৫: দ্বিতীয় অ্যাডমিন আর টু-ফ্যাক্টর চালু
এই ধাপটাই সবাই বাদ দেন, আর পরে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পান এখানেই। পেজে শুধু আপনার প্রোফাইলের অ্যাক্সেস থাকলে সেই প্রোফাইল লক হলে, পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে বা ফোন হারালে পুরো দোকান আটকে যায়। আর Meta-র হেল্প পেজ অনুযায়ী পেজ চালু রাখতে অন্তত একজনের full control থাকতেই হবে। কেউ না থাকলে পেজ নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে ডিলিটের লাইনে চলে যায়।
অ্যাক্সেস কয় রকম, আর কাকে কোনটা দেবেন
Meta-র "About Facebook Page access" হেল্প পেজে তিন রকম অ্যাক্সেসের কথা আছে। Facebook access with full control থাকলে মানুষটা পোস্ট, ইনবক্স, অ্যাড, সেটিং থেকে শুরু করে অন্যকে অ্যাক্সেস দেওয়া পর্যন্ত সব পারেন। Meta এখানে সাবধান করে লিখেছে, এমন মানুষ আপনাকেসহ যে কাউকে পেজ থেকে সরাতে পারেন, এমনকি পেজ ডিলিটও করতে পারেন। full control ছাড়া Facebook access দিলে মানুষটা পোস্ট, মেসেজ, কমেন্ট আর অ্যাড সামলাতে পারেন, কিন্তু সেটিং বা কারও অ্যাক্সেস চেঞ্জ করতে পারেন না। আর task access থাকলে তিনি ফেসবুকে পেজ হয়ে কাজ করতে পারেন না, কাজ করেন Meta Business Suite বা Ads Manager থেকে।
কাকে কোনটা দেবেন, তার জন্য নিচের নিয়মটা Meta-র না, অনেক সেলারের ঠেকে শেখা। প্রশ্ন একটাই, এই মানুষটার সাথে কাল ঝামেলা হলে আপনি কতটা বিপদে পড়বেন।
| মানুষ | কোন অ্যাক্সেস | কেন |
|---|---|---|
| আপনি নিজে | full control | পেজের মালিক আপনি |
| পরিবারের খুব বিশ্বস্ত একজন (ভাই, বাবা, স্বামী-স্ত্রী) | full control | আপনার প্রোফাইল আটকালে তিনি পেজ বাঁচাবেন |
| ইনবক্স আর কমেন্ট সামলানো মডারেটর | task access | কাজ চলবে, কিন্তু কাউকে সরাতে পারবেন না |
| অ্যাড চালানো এজেন্সি বা ফ্রিল্যান্সার | Business Suite থেকে পার্টনার অ্যাক্সেস, বা task access | শুধু অ্যাডের কাজ, পেজের চাবি না |
মডারেটরের task access-এ ঠিক কোন কোন কাজ দেবেন আর কাজ ছেড়ে গেলে সেদিনই কী করবেন, সেটা মডারেটর রাখার নিয়ম নিয়ে লেখায় বিস্তারিত আছে।
এজেন্সির কথা আলাদা করে বলি। অনেকে অ্যাড চালানোর জন্য এজেন্সিকে full control দিয়ে দেন, আর কাজ শেষে পেজ ফেরত পেতে ঝামেলায় পড়েন। Meta-র Business Help Center-এ লেখা আছে, কেউ নিজের Business Suite থেকে পার্টনার হিসেবে আপনার পেজে অ্যাক্সেস চাইতে পারে। তাই এজেন্সিকে বলুন রিকোয়েস্ট পাঠাতে, আপনি শুধু অ্যাপ্রুভ করবেন। পেজের মালিকানা আপনার কাছেই থাকবে।
দ্বিতীয় অ্যাডমিন যোগ করার রাস্তা
পেজে সুইচ করে ওপরে প্রোফাইল ছবিতে চাপুন, তারপর Settings and privacy, তারপর Settings। সেখান থেকে Page setup, তারপর Page access। People with Facebook access-এর পাশে Add new চাপুন, আর মানুষটার নাম বা ইমেইল লিখে খুঁজে বের করুন। তাঁকে full control দিতে চাইলে Allow this person to have full control সুইচটা চালু করুন, না চাইলে বন্ধ রাখুন। এরপর Give access চাপুন, নিজের ফেসবুক পাসওয়ার্ড দিয়ে Confirm করুন।
এরপর মানুষটার কাছে একটা ইনভাইট যায়। তিনি নিজে Accept না করা পর্যন্ত অ্যাক্সেস চালু হয় না। তাই কাজটা শেষ করে তাঁকে ফোন দিয়ে বলুন নোটিফিকেশনটা খুঁজে Accept করতে।
পেজ যদি Meta Business Suite-এর business portfolio-তে থাকে, তাহলে Meta-র হেল্প পেজ অনুযায়ী অ্যাক্সেস দিতে হয় কম্পিউটারে Business Suite-এর Settings থেকে। সেখানে Pages-এ পেজটা বেছে Assign people চাপুন। নতুন সেলারের শুরুতেই business portfolio লাগে না। এজেন্সি বা একাধিক অ্যাড অ্যাকাউন্ট নিয়ে কাজ শুরু করলে তখন বানাবেন।
টু-ফ্যাক্টর চালু করুন, দুজনেরই
টু-ফ্যাক্টর চালু থাকলে অচেনা ফোন বা কম্পিউটার থেকে লগইনের সময় পাসওয়ার্ডের পরে আরেকটা কোড লাগে। তাই কেউ আপনার পাসওয়ার্ড জেনে গেলেও শুধু পাসওয়ার্ড দিয়ে ঢুকতে পারবে না। Meta-র হেল্প পেজ অনুযায়ী প্রোফাইল ছবিতে চেপে Settings and privacy, তারপর Settings, তারপর Accounts Center-এ যান। কিছু ফোনে এই জায়গাটার নাম এখন Meta Account দেখায়। সেখানে Password and security, তারপর Two-factor authentication।
কোড পাওয়ার তিনটা রাস্তা আছে, সিকিউরিটি কি, অথেনটিকেশন অ্যাপ আর SMS। অথেনটিকেশন অ্যাপটাই বেছে নিন। সিম বন্ধ হলে বা হারালে SMS-এর কোড আসে না, কিন্তু অ্যাপের কোড ফোনের ভেতরেই তৈরি হয়। এখানে ১০টা রিকভারি কোডও পাওয়া যায়, সেগুলো কাগজে লিখে ঘরে রেখে দিন।
যাঁকে full control দিচ্ছেন, তাঁর প্রোফাইলেও টু-ফ্যাক্টর চালু করিয়ে দিন। অনেক সময় পেজ হাতছাড়া হয় কোনো একজন অ্যাডমিনের দুর্বল প্রোফাইল দিয়ে, আর সেটা তাঁরটাও হতে পারে। তবু কোনোদিন পেজ হাতছাড়া হলে প্রথম এক ঘণ্টায় কী করবেন, সেটা আলাদা করে লেখা আছে ফেসবুক পেজ হ্যাক হলে করণীয় নিয়ে লেখায়।
পেজ খোলার পর প্রথম পোস্টগুলো কী হবে?
পেজ খুলেই বন্ধুদের ইনভাইট বা বুস্ট করবেন না। নতুন কেউ পেজে এসে প্রথমেই একটু নিচে স্ক্রল করে দেখেন, আগে কী পোস্ট হয়েছে। খালি পেজ দেখলে মনে হয় দোকানটা কাল খুলেছে, পরশু হয়তো থাকবে না। তাই মানুষ ডাকার আগে অন্তত ছয়-সাতটা পোস্ট দিয়ে রাখুন। Meta-র সেটআপ পেজও বলছে, পেজ সবচেয়ে ভালো চলে যখন নিয়মিত পোস্ট হয় আর ফলোয়ারদের সাথে কথা হয়।
প্রথম পোস্টটা হবে পিন করা পোস্ট, যেখানে অর্ডারের সব নিয়ম এক জায়গায় থাকবে। নতুন কাস্টমার প্রায় সবসময় আগে জানতে চান ডেলিভারি চার্জ কত, কয় দিনে পাবেন, আর অর্ডার করবেন কীভাবে। এই পোস্টে সবগুলোর উত্তর লিখে দিন, তাহলে ইনবক্সে একই প্রশ্নের উত্তর বারবার দিতে হবে না। যেমন ধরুন, "ঢাকার ভেতরে ডেলিভারি চার্জ ৭০ টাকা, ঢাকার বাইরে ১৩০ টাকা। অর্ডার করতে নাম, পুরো ঠিকানা আর মোবাইল নম্বর ইনবক্সে দিন।" টাকার অঙ্কগুলো উদাহরণ, নিজের কুরিয়ারের চার্জ বসিয়ে নিন।
এরপর প্রতিটা প্রোডাক্টের আলাদা পোস্ট দিন, নিজের তোলা আসল ছবি দিয়ে। প্রতিটা পোস্টে দাম, সাইজ বা ওজন আর ডেলিভারির কথা পরিষ্কার লিখুন। কমেন্টে "দাম ইনবক্সে" লেখার অভ্যাসটা বাদ দিন। অনেক কাস্টমার এটাকে চালাকি মনে করেন, আর দাম না জেনে ইনবক্সে আসতেই চান না।
তারপর একটা-দুইটা পোস্ট দিন, যেটা দেখায় পেজের পেছনে একজন আসল মানুষ আছেন। যেমন পার্সেল প্যাক করার ছোট একটা ভিডিও, ঘি জ্বাল দেওয়ার ছবি, বা আপনি কেন এই ব্যবসা শুরু করলেন সেই গল্প। নতুন পেজে এমন পোস্ট অফারের পোস্টের চেয়ে বেশি বিশ্বাস আনে।

শেষে একটা প্রশ্নোত্তরের পোস্ট দিন। ইনবক্সে যে প্রশ্নগুলো সবচেয়ে বেশি আসে, যেমন "পার্সেল খুলে দেখে টাকা দেওয়া যাবে?" বা "ছবির সাথে না মিললে কী হবে?", সেগুলোর উত্তর এক পোস্টে লিখে রাখুন। এই ছয়-সাতটা পোস্ট হয়ে গেলে তারপর বন্ধুদের ইনভাইট করুন, আর চাইলে ছোট বাজেটে প্রথম বুস্ট দিন।
নতুন পেজে যে ভুলে বিশ্বাস আর রিচ কমে
এই ভুলগুলো চুপচাপ ক্ষতি করে। প্রথমে টের পাবেন না, পরে দেখবেন পোস্ট কেউ দেখছে না বা পেজে সমস্যা আসছে।
লাইক আর ফলোয়ার কেনা
নতুন পেজে ফলোয়ার কম দেখলে অনেকের মন খারাপ হয়, তখন লাইক কেনার অফারে রাজি হয়ে যান। কিন্তু Meta-র Community Standards-এর Spam অংশে পরিষ্কার লেখা আছে, লাইক, শেয়ার, ভিউ বা ফলো কেনা-বেচা বা বিনিময় করা নিষেধ, এমনকি চেষ্টা করাও। টাকার হিসাবেও এটা লোকসান। কেনা লাইক আসে এমন অ্যাকাউন্ট থেকে, যারা আপনার কাছ থেকে কোনোদিন কিনবে না, পোস্টে রিঅ্যাকশনও দেবে না। আর কাস্টমার যখন দেখেন পেজে ১০ হাজার ফলোয়ার অথচ প্রতিটা পোস্টে দুই-তিনটা রিঅ্যাকশন, তিনি বুঝে ফেলেন কিছু একটা গোলমাল আছে।
"লাইক-শেয়ার করলে গিফট" পোস্ট
"পেজে লাইক দিন, পোস্ট শেয়ার করুন, ১০ জন পাবেন ফ্রি গিফট", এমন পোস্ট বাংলাদেশে খুব চলে। Meta-র একই Spam নিয়মে লেখা আছে, টাকা বা দামি কিছু দেওয়ার কথা বলে লাইক-শেয়ার চাওয়া নিষেধ। এতে পেজ বিপদে পড়তে পারে। তার চেয়ে যিনি সত্যিই কিনেছেন, তাঁকে ছোট একটা উপহার দিন।
ভুয়া রিভিউ আর বানানো কমেন্ট
বন্ধু-আত্মীয়কে দিয়ে রিভিউ লেখানো বা অন্য প্রোফাইল থেকে "দারুণ প্রোডাক্ট" কমেন্ট করানো অনেকে করেন। কাস্টমাররা এখন এসব চেনেন। একই ধরনের পাঁচটা রিভিউ একই দিনে এলে তাঁদের সন্দেহ বাড়ে, কমে না। প্রথম দিকে রিভিউ কম থাকাই স্বাভাবিক। যাঁদের পার্সেল ডেলিভারি হয়েছে, এক সপ্তাহ পরে তাঁদের ফোন দিন, আর ভালো লাগলে পেজে দুই লাইন লিখে দিতে বলুন।
অন্যের ছবি আর ভিডিও
সাপ্লায়ার বা বড় কোনো পেজের ছবি নামিয়ে পোস্ট করা সবচেয়ে সহজ, আবার সবচেয়ে ঝুঁকিরও। কাস্টমার ছবি দেখে অর্ডার দেন, পার্সেল খুলে অন্য জিনিস দেখলে রিটার্ন আসে, আর পেজে খারাপ রিভিউ পড়ে। ছবির আসল মালিক রিপোর্ট করলে সেটা কপিরাইটের ভায়োলেশন হয়, আর এমন ভায়োলেশন জমতে থাকলে পেজ রেস্ট্রিক্টেড হতে পারে। নিজের মোবাইলে তোলা ছবিই সবচেয়ে নিরাপদ।
আজ কোন কাজটা করবেন?
আজকের কাজ তিনটা। পেজটা খুলে নাম, ক্যাটাগরি, বায়ো, ফোন নম্বর, প্রোফাইল ছবি আর কভার বসিয়ে ফেলুন। তারপর পরিবারের একজন বিশ্বস্ত মানুষকে full control দিন, আর আপনার ও তাঁর দুজনের প্রোফাইলেই টু-ফ্যাক্টর চালু করুন। এরপর বন্ধুদের ইনভাইট করার আগে পিন করা পোস্টসহ ছয়-সাতটা আসল পোস্ট দিয়ে রাখুন।
পেজ গোছানো হলে পরের ধাপ এমন একটা জায়গা, যেখানে কাস্টমার নিজেই অর্ডার দেন আর পেজ আটকালেও যেটা আপনার হাতে থাকে। WinningSeller-এ নিজের ডোমেইনে অনলাইন স্টোর বানানো যায়, আর AI দিয়ে ৫ মিনিটে একটা প্রোডাক্টের ল্যান্ডিং পেজ বানানো যায়। স্টোরের লিংকটাই পেজের অ্যাকশন বাটনে বসাতে পারেন, আর Facebook Pixel ও Conversions API সেখানেই চালু করা যায়। বাকি ফিচারগুলো এখানে দেখে নিন।
সাধারণ প্রশ্ন
ফেসবুক বিজনেস পেজ খুলতে কি টাকা লাগে?
না, পেজ খুলতে কোনো টাকা লাগে না। Meta-র Business Help Center-এ লেখা আছে, ফেসবুক পেজের সাথে কিছু প্রফেশনাল টুলও ফ্রি পাওয়া যায়। টাকা লাগে শুধু যখন বুস্ট বা অ্যাড চালাবেন।
প্রোফাইল ছাড়া কি ফেসবুক পেজ খোলা যায়?
না, পেজ খুলতে নিজের একটা ফেসবুক প্রোফাইল লাগে। Meta লিখেছে, প্রোফাইল আর পেজ ফেসবুকে আলাদা জিনিস, আর আপনি নিজে শেয়ার না করলে প্রোফাইলের কিছু পেজে দেখায় না। প্রোফাইলটা আসল নামে রাখুন, কারণ এই প্রোফাইলই পেজের চাবি।
প্রফেশনাল মোড চালু করব, নাকি আলাদা পেজ খুলব?
দোকান বা ব্র্যান্ডের জন্য আলাদা পেজ খুলুন। Meta-র হেল্প পেজ অনুযায়ী ব্যবসা বা প্রোডাক্টের জন্য পেজ, আর নিজের নামে ক্রিয়েটর হতে চাইলে প্রফেশনাল মোড। প্রফেশনাল মোডে এখন Meta Business Suite চলে না, আর কয়েকজন মিলে চালানোর মতো অ্যাক্সেসও দেওয়া যায় না।
ফেসবুক পেজের কভার ফটোর সাইজ কত?
Meta-র হেল্প পেজ অনুযায়ী কভার ফটো সবচেয়ে তাড়াতাড়ি লোড হয় ৮৫১ পিক্সেল চওড়া আর ৩১৫ পিক্সেল উঁচু sRGB JPG ফাইলে, যদি ফাইলটা ১০০ কিলোবাইটের কম হয়। ছবি কমপক্ষে ৪০০ × ১৫০ পিক্সেল হতে হবে। লোগো বা লেখা থাকলে PNG দিলে ভালো দেখায়।
পেজে আরেকজনকে অ্যাডমিন বানালে কি সে আমাকে বের করে দিতে পারবে?
যাঁকে full control দেবেন, তিনি পারবেন। Meta লিখেছে, full control থাকা মানুষ অন্যদের অ্যাক্সেস দিতে পারেন, আপনাকেসহ যে কাউকে পেজ থেকে সরাতে পারেন, এমনকি পেজ ডিলিটও করতে পারেন। তাই full control দিন শুধু পরিবারের একজন বিশ্বস্ত মানুষকে, আর মডারেটরকে task access।
পেজ খুলেই কি বুস্ট করা উচিত?
না, আগে পেজে অন্তত ছয়-সাতটা আসল পোস্ট দিন, আর পিন করা পোস্টে ডেলিভারি চার্জ ও অর্ডারের নিয়ম লিখুন। খালি পেজে বুস্টের টাকায় মানুষ এলে তাঁরা কিছু না দেখে ফিরে যান। পেজ গোছানো হলে তারপর ছোট বাজেটে বুস্ট শুরু করুন।
আরও পড়ুন
ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ
ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।
গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে
গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।
বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে
ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।


