ব্লেজার পাইকারি মার্কেট কোথায়? শীত আর বিয়ের মৌসুমে অনলাইনে ব্যবসা
ব্লেজার পাইকারি কোথায় পাবেন, মিরপুরের কথা কতটা ঠিক, কেনার আগে সেলাই আর লাইনিং কীভাবে দেখবেন, শোল্ডার আর হাতার মাপ মিলিয়ে সাইজ, ভাঁজ ছাড়া কুরিয়ার, আর একটা ব্লেজারে কুরিয়ারসহ কত থাকে, হিসাবসহ।

এই লেখায় যা আছে
ব্লেজার পাইকারি মার্কেট খুঁজলে ঢাকায় খবরের কাগজে ব্লেজারের দোকানের জায়গা হিসেবে যে নামগুলো আসে, সেগুলো এলিফ্যান্ট রোড, গুলিস্তানের স্টেডিয়াম মার্কেট, নিউ মার্কেট, সদরঘাট আর কেরানীগঞ্জ, যদিও খবরে এগুলোর বেশিরভাগ খুচরা হিসেবে এসেছে, কোনটা পাইকারি দেয় তা দোকানে গিয়ে জিজ্ঞেস করতে হয়। অনেকে "মিরপুর" লিখে খোঁজেন। মিরপুরে শীতের পোশাকের বাজার আর কারখানা আছে ঠিকই, কিন্তু আলাদা করে ব্লেজারের পাইকারির খবর পাওয়া যায়নি। অনলাইনে ব্লেজার বেচতে বাজার চেনার পরে তিনটা জিনিস লাগে। সেলাই দেখে কেনা, শোল্ডার আর হাতার মাপ দিয়ে সাইজ বলা, আর এমনভাবে পাঠানো যাতে বিয়ের আগের দিন কাস্টমারের হাতে ভাঁজ-পড়া ব্লেজার না যায়।
নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ইনবক্সে একজন লিখলেন, "ভাই, ১৮ তারিখে বিয়ে, ৪২ সাইজের নেভি ব্লু ব্লেজার আছে? আমার শোল্ডার একটু চওড়া।" আপনার কাছে ৪২ লেবেলের দুইটা ডিজাইন, কিন্তু একটার শোল্ডার আরেকটার চেয়ে প্রায় এক ইঞ্চি ছোট, আর আপনি কোনোটাই মেপে দেখেননি। ব্লেজারের ব্যবসায় টাকা আটকায় ঠিক এখানেই। লেবেলের সংখ্যা আর গায়ের মাপের মাঝখানের এই ফাঁকটা যিনি বোঝেন, তাঁর ফেরত কম, আর বিয়ের মৌসুমে একই কাস্টমার বন্ধুকেও পাঠান।
ব্লেজার কখন চলে, কারা কেনেন
ব্লেজার আসলে তিন রকম মানুষের জিনিস। বিয়ে, গায়ে হলুদ আর বৌভাতে যাওয়া ছেলেরা, যাঁদের একটা ভালো ব্লেজার হলে পাঞ্জাবির বাইরে আরেকটা সাজ হয়। অফিসে যাঁরা ফরমাল পরেন, বিশেষ করে শীতে শার্টের ওপর। আর কলেজ-ভার্সিটির ছেলেরা, যাঁরা প্রেজেন্টেশন, ভাইভা বা অনুষ্ঠানের জন্য একটা কেনেন। তিন দলের চাওয়া আলাদা। বিয়ের ক্রেতা রং আর চকচকে ভাব চান, অফিসের ক্রেতা চান আরাম আর কম ভাঁজ, ছাত্র চান দাম।
মৌসুমটা ছোট আর ধারালো। প্রথম আলোর ১৬ জানুয়ারি ২০২৪-এর শীতের পোশাকের বাজার নিয়ে প্রতিবেদনে লেখা, শীতের পোশাকের মৌসুম শুরু হয় নভেম্বরে আর চলে জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত। বাংলাদেশে বিয়ের বড় মৌসুমও এই শীতকালেই। মানে আপনার হাতে মোটামুটি তিন মাস, আর সেই তিন মাসেই বছরের বেশিরভাগ ব্লেজার বিক্রি হয়।
এর মানে দুটো। স্টক তুলতে হবে মৌসুম শুরুর আগে, অক্টোবরের শেষে বা নভেম্বরের শুরুতে, যখন পাইকারের দোকানে ভিড় কম আর ভালো ডিজাইন বেশি। আর ফেব্রুয়ারিতে নতুন করে মাল তোলা যাবে না, কারণ যা থাকবে তা পরের নভেম্বর পর্যন্ত বসে থাকবে। শীতের পুরো ক্যালেন্ডার আর অন্য শীতের মালের কথা শীতকালের ব্যবসার আইডিয়ার লেখায় আছে।

ব্লেজার পাইকারি মার্কেট কোথায়, মিরপুর না অন্য জায়গা
এখানে সৎ উত্তরটা আগে দিই। ব্লেজারের জন্য আলাদা করে একটা নামকরা পাইকারি মার্কেটের কথা কোনো সরকারি বা নির্ভরযোগ্য তালিকায় পাওয়া যায়নি। যা পাওয়া যায়, তা খবরের কাগজের প্রতিবেদন, আর সেগুলো থেকেই একটা ছবি দাঁড়ায়।
The Daily Star-এর ১৭ নভেম্বর ২০২৪-এর ছেলেদের শীতের পোশাক নিয়ে লেখায় ব্লেজার কেনার জায়গা হিসেবে এলিফ্যান্ট রোড, গুলিস্তান স্টেডিয়াম মার্কেট আর নান্নু মার্কেটের নাম আছে, দাম ১,২০০ থেকে ৩,০০০ টাকা। এটা খুচরা দাম, পাইকারি না, তবে বাজার বুঝতে কাজে লাগে। Dhaka Tribune ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাণিজ্য মেলার ব্লেজারের স্টল নিয়ে লিখেছিল, সেখানকার বেশিরভাগ ব্যবসায়ীর দোকান নিউ মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, সদরঘাট আর কেরানীগঞ্জে, আর কিছু ব্লেজার দেশে বানানো, কিছু চীন, থাইল্যান্ড আর ভারত থেকে আনা।
কেরানীগঞ্জের নামটা আলাদা করে মনে রাখুন। প্রথম আলোর জানুয়ারি ২০২৪-এর ওই প্রতিবেদনে লেখা, কেরানীগঞ্জের পোশাকপল্লি আর কামরাঙ্গীরচরে কম দামের শীতের পোশাক তৈরি হয়। একই প্রতিবেদনে মিরপুর, গাজীপুর আর সাভারে শীতের পোশাকের বাজার আর কারখানার কথাও আছে। তাই "মিরপুরে ব্লেজার পাইকারি" কথাটা পুরো ভুল না, তবে নির্দিষ্ট মার্কেটের নাম কোনো খবরে পাওয়া যায়নি। যাওয়ার আগে চেনা কারো কাছ থেকে দোকানের নম্বর নিয়ে ফোন করে নিন। কেরানীগঞ্জে কীভাবে যাবেন আর কবে বন্ধ থাকে, সেটা ঢাকার পাইকারি কাপড়ের বাজারের লেখায় আছে।
পাইকারের দোকানে প্রথমবার গেলে একটা চাপ আসবেই, আগে থেকে জেনে যান। অনেক দোকান একটা ডিজাইনের সব সাইজ মিলিয়ে একটা "সেট" ধরে বেচতে চায়, যেমন ৩৮ থেকে ৪৪ পর্যন্ত একটা করে। সেটে আপনার না-চলা সাইজও ঢুকে পড়ে। দর কষাকষির সময় জিজ্ঞেস করুন, সাইজ বেছে নেওয়া যায় কি না, আর একটা ডিজাইন অল্প করে নিলে দাম কত বাড়ে। প্রথম লটে কয়েকটা ডিজাইন অল্প করে নিন, আর দুই সপ্তাহ পরে যেটা চলছে সেটা আবার তুলুন।
কাপড়, সেলাই আর লাইনিং যাচাই
ব্লেজার দেখতে প্রায় একই রকম, কিন্তু টেকে না-টেকে সেলাই আর ভেতরের কাজে। দোকানে দাঁড়িয়েই কয়েকটা জিনিস হাতে-কলমে দেখা যায়, আর এই পাঁচ মিনিট আপনাকে পুরো লটের ঝামেলা থেকে বাঁচায়।
প্রথমে ব্লেজারটা একটা হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে সামনে থেকে দেখুন। দুই হাতা কি সমান লম্বা? দুই পকেটের ঢাকনা কি একই উচ্চতায়? ল্যাপেল, মানে কলারের ভাঁজটা কি দুই পাশে সমানভাবে গড়িয়ে নেমেছে? এরপর কাউকে পরিয়ে সামনেটা আটকে দিয়ে পেছনে তাকান। পিঠে কোনাকুনি টান পড়ে ভাঁজ উঠলে কাটিং ঠিক নেই, আর সেটা কোনো দর্জি পুরোপুরি সারাতে পারবেন না।
তারপর ভেতরটা উল্টে দেখুন। লাইনিং, মানে ভেতরের পাতলা কাপড়টা কোথাও টান টান হয়ে আছে কি না, সেলাইয়ের কিনারায় সুতা ঝুলছে কি না। ভেতরের পকেট আছে কি না দেখুন, কারণ ছেলেদের অনেকে ফোন আর মানিব্যাগের জন্য এটা খোঁজেন। বোতামগুলো একটু টেনে দেখুন শক্ত করে লাগানো কি না, আর একটা বাড়তি বোতাম দেওয়া আছে কি না। চেক ডিজাইনের ব্লেজারে সামনের দুই অংশ জোড়ার জায়গায় চেকের দাগ মিলেছে কি না, সেটাও একটা ভালো কাজের চিহ্ন।
কাপড়ের নাম লিখতে সাবধান হন। বাজারে পলিয়েস্টার, পলি-ভিসকস, উল মেশানো, ভেলভেট, নানা রকম কাপড় আছে। পাইকার মুখে "উলের" বললে চালানে লিখিয়ে নিন। চালানে না থাকলে পেজে শুধু যা চোখে দেখা যায় তাই লিখুন, যেমন "মোটা কাপড়, শীতে আরাম", কারণ "১০০% উল" লিখে অন্য কাপড় গেলে সেটা শুধু ফেরত না, ঠকানোর অভিযোগ।

সাইজ, মাপ আর অল্টার
ব্লেজারের লেবেলে সাধারণত ৩৮, ৪০, ৪২ এমন সংখ্যা থাকে, যেটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গায়ের বুকের মাপ ইঞ্চিতে। কিন্তু কোম্পানিভেদে একই লেবেলের ব্লেজারের আসল মাপ আলাদা। তাই প্রতিটা ডিজাইনের একটা পিস টেবিলে বিছিয়ে নিজে চারটা মাপ নিন। বুক, মানে দুই বগলের নিচ থেকে এপাশ-ওপাশ মেপে দুই দিয়ে গুণ। শোল্ডার, মানে এক কাঁধের সেলাই থেকে আরেক কাঁধের সেলাই। হাতা, কাঁধের সেলাই থেকে কব্জির শেষ পর্যন্ত। আর লম্বা, পেছনে কলারের নিচ থেকে নিচের কিনারা পর্যন্ত।
এই চারটার মধ্যে শোল্ডারটাই আসল। হাতা লম্বা হলে দর্জি ছোট করে দিতে পারেন, ঢিলা কোমর একটু চাপানো যায়, কিন্তু কাঁধ ছোট বা বড় হলে প্রায় কিছুই করার থাকে না। আমি তাই কাস্টমারকে শোল্ডার মিলিয়ে কিনতে বলি, আর হাতাকে ধরি দর্জির কাজ হিসেবে। কাস্টমারকে জিজ্ঞেস করুন, তাঁর যে শার্ট বা ব্লেজার গায়ে ঠিক লাগে, সেটার শোল্ডার আর হাতা মেপে পাঠাতে পারবেন কি না। গায়ের মাপের চেয়ে পরিচিত কাপড়ের মাপ বেশি নির্ভরযোগ্য। তিনটা পিস মেপে নিজের চার্ট বানানোর পুরো নিয়ম শার্ট-প্যান্টের সাইজ চার্টের লেখায় আছে, ব্লেজারেও একই কাজ খাটে।
ঢাকা শহরের ভেতরে কাস্টমারের জন্য একটা কাজের অফার হলো একবার হাতা ছোট করে দেওয়া, ফ্রি বা অল্প টাকায়। পাড়ার একজন দর্জির সাথে আগে থেকে রেট ঠিক করে রাখুন। অনেক কাস্টমার শুধু এই নিশ্চয়তার জন্যই অর্ডার দেন, কারণ অনলাইনে ব্লেজার কেনার সবচেয়ে বড় ভয় হাতা লম্বা হবে কি না।

সাইজ বদলের নিয়মও পেজে আগে থেকে লিখে রাখুন। যেমন "ট্যাগ আর ভাঁজ ঠিক থাকলে ডেলিভারির ৩ দিনের মধ্যে সাইজ বদল, যাওয়া-আসার কুরিয়ার চার্জ কাস্টমারের", বা প্রথম বদলের খরচ আপনি নিলে সেটাও লিখুন। নিয়ম না লেখা থাকলে বদলের সময় তর্ক হয়, আর বিয়ের ক্রেতার হাতে তর্ক করার সময় থাকে না।
WinningSeller-এ একটা ব্লেজারের সাইজ আর রং অপশন হিসেবে দিলে দোকানের সব প্রোডাক্টের লিস্ট, কালেকশন আর সার্চের পেজে সাইজ আর রংয়ের ফিল্টার নিজে থেকে চলে আসে। শুধু সব প্রোডাক্টে সাইজ একই নামে লিখবেন, কোথাও "৪২", কোথাও "42 Size" না। ল্যান্ডিং পেজে "টেবিল: সাইজ চার্ট, স্পেসিফিকেশন বা তুলনা" সেকশনে প্রতিটা সাইজের বুক, শোল্ডার, হাতা আর লম্বা একটা টেবিলে বসানো যায়, যাতে কাস্টমার নিজের শার্টের মাপের সাথে মিলিয়ে নেন। আর প্রোডাক্টের ফর্মে "রিয়েল ভিডিও (YouTube)" ঘরে একটা ভিডিওর লিংক দিলে প্রোডাক্ট পেজে "এই প্রোডাক্টের এডিট ছাড়া রিয়েল ভিডিও দেখুন" বাটন আসে। ব্লেজারের কাপড়ের ঝলক আর ঝুল ভিডিওতে যতটা বোঝা যায়, ছবিতে ততটা না। এই কাজগুলো কোথায় কীভাবে হয়, তার পুরো লিস্ট ফিচারের পেজে আছে।
ছবি, ম্যানিকিন না মডেল
ব্লেজারের ছবি তোলার সবচেয়ে ভালো উপায় একজন ছেলের গায়ে, কারণ কাঁধ আর ঝুল তখনই বোঝা যায়। চেনা কোনো বন্ধু বা ভাইকে পরিয়ে দিনের আলোয় সামনে থেকে, পাশ থেকে আর পেছন থেকে তিনটা ছবি তুলুন। একই মানুষকে সব ব্লেজারে রাখুন, আর ক্যাপশনে লিখে দিন তাঁর উচ্চতা আর কোন সাইজ পরেছেন, যেমন "মডেলের উচ্চতা ৫ ফুট ৮, পরেছেন ৪০"। এই একটা লাইন অনেক সাইজের প্রশ্ন কমায়।
মডেল না পেলে ম্যানিকিন, মানে পোশাকের দোকানের প্লাস্টিকের পুতুল। ম্যানিকিনে ব্লেজার সুন্দর দাঁড়ায়, ভাঁজ কম দেখায়, কিন্তু কাস্টমার বোঝেন না তাঁর গায়ে কেমন হবে। তাই ম্যানিকিনের ছবির সাথে মাপের টেবিলটা অবশ্যই দিন। হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে তোলা ছবি সবচেয়ে দুর্বল, কাঁধ ঝুলে পড়ে আর ব্লেজারটা আসলের চেয়ে খারাপ দেখায়।

তিনটা কাছের ছবি আলাদা করে দিন, কারণ এগুলোই দামি ব্লেজারকে সস্তা থেকে আলাদা করে। লাইনিং আর ভেতরের পকেট, হাতার কিনারা, আর কাপড়ের বুনন একদম কাছ থেকে। ছবির আগে ব্লেজারটা ভাপ দিয়ে নিন, প্যাকেট থেকে বের করা ভাঁজ ছবিতে খুব চোখে পড়ে। আর জানালার পাশে দিনের আলোয় তুলুন, দোকানের হলুদ বাল্বে নেভি ব্লু কালো দেখায়, তখন "ছবিতে তো নীল ছিল না" বলে ফেরত আসে।
একটা ব্লেজারে কত থাকে, কুরিয়ারসহ (উদাহরণ)
এবার টাকার হিসাবটা কষে ফেলি। নিচের কেনা-বেচার দাম আর অ্যাডের খরচ শুধু হিসাবটা দেখানোর জন্য, আপনার পাইকারের দাম অন্য রকম হবে। কুরিয়ার চার্জ Steadfast-এর রেট ক্যালকুলেটর থেকে, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ঢাকা থেকে ঢাকার বাইরে হোম ডেলিভারি, VAT আলাদা। সেদিন ক্যালকুলেটরে দেখা, ১ কেজি পর্যন্ত চার্জ ১৩৫ টাকা, তারপর প্রতি বাড়তি কেজিতে ২০ টাকা বেশি, মানে ২ কেজি পর্যন্ত ১৫৫ টাকা।
ধরুন একটা ব্লেজার কিনলেন ১,৩৫০ টাকায়। পেজে দাম ২,৪৫০ টাকা, আর ঢাকার বাইরের ডেলিভারি চার্জ নেন ১৩০ টাকা। কাস্টমার দেন মোট ২,৫৮০ টাকা।
প্রথম পথ, ভাঁজ করে টিস্যু দিয়ে মাপের পলিতে প্যাক। প্যাকিং খরচ ধরুন ১৫ টাকা, ওজন ধরুন ৯৫০ গ্রাম, ১ কেজির মধ্যে, তাই কুরিয়ার কাটে ১৩৫ টাকা। Steadfast-এর টার্মসে লেখা, COD চার্জ ১% কাটে ডেলিভারি চার্জ বাদে বাকি টাকার ওপর, মানে (২,৫৮০ − ১৩৫) = ২,৪৪৫ টাকার ১%, প্রায় ২৪ টাকা। হাতে থাকে ২,৫৮০ − ১,৩৫০ − ১৫ − ১৩৫ − ২৪ = ১,০৫৬ টাকা। প্রতি অর্ডারে অ্যাডে গেছে ধরুন ২৫০ টাকা। তাহলে থাকে ৮০৬ টাকা।
দ্বিতীয় পথ, গার্মেন্ট ব্যাগ আর শক্ত বক্স। প্যাকিং খরচ ধরুন ৬০ টাকা, আর ওজন ধরুন ১.৩ কেজি, ১ কেজি পেরিয়ে যায়, তাই কুরিয়ার কাটে ১৫৫ টাকা। COD (২,৫৮০ − ১৫৫) = ২,৪২৫ টাকার ১%, প্রায় ২৪ টাকা। হাতে থাকে ২,৫৮০ − ১,৩৫০ − ৬০ − ১৫৫ − ২৪ = ৯৯১ টাকা, অ্যাডের পরে ৭৪১ টাকা। মানে বক্সের জন্য প্রতি ব্লেজারে ৬৫ টাকা কম থাকে।
এবার সাইজ বদলের খরচ। ধরুন প্রতি পাঁচটা ব্লেজারে একটা বদলাতে হয়, আর সেই বদলের যাওয়া-আসার খরচ আপনি নেন, মোটামুটি দুইবারের ডেলিভারি চার্জ, ২ × ১৩৫ = ২৭০ টাকা। পাঁচটায় ভাগ করলে প্রতি ব্লেজারে গড়ে ৫৪ টাকা। পলির পথে তাহলে থাকে ৮০৬ − ৫৪ = ৭৫২ টাকা। এখান থেকে নিয়মটা বের হয়। সাধারণ অর্ডারে ভালো করে ভাঁজ করা পলিই যথেষ্ট, আর বিয়ের অর্ডারে বা দাম তিন হাজারের ওপরে হলে বক্সের খরচটা দামে যোগ করে দিন। আর মাপ ঠিকমতো বললে বদল যত কমে, এই ৫৪ টাকাও তত কমে।

ভাঁজের কৌশলটা শিখে নিন, কারণ এটাই ভাঁজ-পড়া ব্লেজারের অভিযোগ কমায়। ব্লেজার উল্টো করে ধরে এক কাঁধ ভেতরের দিকে ঠেলে দিন, তারপর আরেক কাঁধ সেটার ভেতরে ঢুকিয়ে দিন। এতে লাইনিং বাইরে থাকে আর সামনের কাপড়ে ভাঁজ পড়ে না। লম্বালম্বি একবার ভাঁজ করে মাঝে টিস্যু দিন। আর বিয়ের অর্ডারে কাস্টমারকে দিন গুনে সময়টা বলুন। ঢাকার বাইরে কুরিয়ারে সাধারণত দুই-তিন দিন বা তার বেশি লাগে, তাই অনুষ্ঠানের অন্তত পাঁচ দিন আগে অর্ডার না পেলে সেটা পরিষ্কার করে বলুন।
কখন ব্লেজারের ব্যবসায় নামবেন না
ঘরে ব্লেজার ঝুলিয়ে রাখার জায়গা না থাকলে শুরু করবেন না। ব্লেজার স্তূপ করে রাখলে ভাঁজ বসে যায়, আর স্যাঁতসেঁতে ঘরে কয়েক মাসে লাইনিংয়ে গন্ধ আর দাগ ধরে। একটা র্যাক, কয়েকটা চওড়া কাঁধের হ্যাঙ্গার আর একটা কাপড়ের ঢাকনা, এটুকু না থাকলে ব্লেজার না, অন্য কিছু দিয়ে শুরু করুন।
মৌসুমের মাঝখানে, মানে জানুয়ারিতে প্রথমবার শুরু করবেন না। তখন ছবি তুলে পেজ দাঁড় করাতে দুই সপ্তাহ যায়, আর ততদিনে বেচাকেনা পড়তে থাকে। যে মাল থেকে যায়, তা পুরো এক বছর টাকা আটকে রাখে, আর পরের শীতে রং বা কাটিং পুরনো হয়ে যেতে পারে। শীতের বাইরেও বিক্রি চাইলে পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-ব্লেজারের থ্রিফট ব্যবসা অন্য রকম একটা রাস্তা, সেটার নিয়ম থ্রিফট ব্যবসার লেখায় আছে।
আর মাপ নেওয়া, ভাপ দেওয়া আর সাইজ বদলানোর ঝামেলা নিজে নিতে না চাইলে এই ব্যবসা আপনার জন্য না। ব্লেজার এমন জিনিস, যেখানে সেলারের মাপের ফিতাই আসল পুঁজি। যিনি পাইকারের ছবি নিয়ে লেবেলের সাইজ বলে বেচতে চান, তাঁর ফেরতের খরচ প্রথম মৌসুমেই লাভ খেয়ে ফেলে।
আজই করে ফেলুন
মৌসুম শুরুর আগে আজই এই কাজগুলো শুরু করা যায়।
- নিজের বা পরিবারের কারো একটা ব্লেজার বা ফরমাল শার্ট টেবিলে বিছিয়ে বুক, শোল্ডার, হাতা আর লম্বা মাপুন। কাস্টমারকে মাপ বোঝাতে এটাই আপনার প্রথম উদাহরণ।
- পেজের জন্য চার ঘরের একটা সাইজ টেবিলের ছক বানিয়ে রাখুন, প্রতিটা ডিজাইনের মাপ পরে এখানে বসবে।
- পাড়ার একজন দর্জির সাথে কথা বলে জেনে নিন, একটা ব্লেজারের হাতা ছোট করতে কত নেন আর কত দিনে দেন।
- যে পাইকারের কাছে যাবেন, তাঁকে ফোন করে জিজ্ঞেস করুন সাইজ বেছে নেওয়া যায় কি না, আর দোকান কবে খোলা।
- সাইজ বদলের নিয়ম তিন লাইনে লিখে ফেলুন, কত দিনের মধ্যে, কোন অবস্থায়, আর কুরিয়ার চার্জ কার।
- একটা পুরনো ব্লেজার বা জ্যাকেট কাঁধ উল্টে ভাঁজ করে পলিতে ভরে মেপে দেখুন ওজন কত দাঁড়ায়।
সাধারণ প্রশ্ন
ব্লেজার পাইকারি মার্কেট কোথায়?
ব্লেজার কেনার জায়গা হিসেবে খবরের কাগজে যে নামগুলো আসে, সেগুলোর বেশিরভাগ খুচরা দোকান, পাইকারি বাজার হিসেবে আলাদা করে লেখা না। নামগুলো হলো এলিফ্যান্ট রোড, গুলিস্তানের স্টেডিয়াম মার্কেট, নিউ মার্কেট, সদরঘাট আর কেরানীগঞ্জ। কেরানীগঞ্জে কম দামের শীতের পোশাক তৈরি হয় বলে প্রথম আলো লিখেছে। মিরপুরে শীতের পোশাকের বাজার আর কারখানা আছে, তবে আলাদা করে ব্লেজারের পাইকারি মার্কেটের কোনো খবর পাওয়া যায়নি, তাই যাওয়ার আগে ফোন করে খোঁজ নিন।
ব্লেজারের ব্যবসা কোন মাসে শুরু করব?
শীতের পোশাকের বেচাকেনা সাধারণত নভেম্বরে শুরু হয়ে জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত চলে, প্রথম আলোর জানুয়ারি ২০২৪-এর একটা প্রতিবেদনে এমনটাই লেখা। তাই অক্টোবরের শেষে স্যাম্পল কিনে ছবি তুলে রাখুন, আর নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পোস্ট শুরু করুন। ফেব্রুয়ারির পরে নতুন স্টক তুলবেন না।
একটা ব্লেজারে কত টাকা লাভ থাকে?
কেনা দাম, বেচার দাম আর অ্যাডের খরচের ওপর নির্ভর করে। এই লেখার উদাহরণে ১,৩৫০ টাকায় কেনা ব্লেজার ২,৪৫০ টাকায় ঢাকার বাইরে বেচলে কুরিয়ার, COD, প্যাকিং আর অ্যাড বাদে প্রায় ৮০০ টাকা থাকে। সাইজ বদলের খরচ ধরলে সেটা আরও কিছুটা কমে।
ব্লেজারের ৪০ বা ৪২ সাইজ মানে কী?
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটা গায়ের বুকের মাপ, ইঞ্চিতে। কিন্তু কোম্পানিভেদে একই লেবেলের ব্লেজারের মাপ আলাদা হয়, তাই লেবেলে ভরসা না করে প্রতিটা ডিজাইনের বুক, শোল্ডার, হাতা আর লম্বা নিজে মেপে পেজে লিখুন।
ব্লেজার কুরিয়ারে পাঠালে ভাঁজ পড়ে না?
ঠিকমতো ভাঁজ করলে পড়ে খুব কম। দুই কাঁধ ভেতরের দিকে উল্টে একটা কাঁধ আরেকটার ভেতরে ঢুকিয়ে লম্বালম্বি ভাঁজ করুন, মাঝে টিস্যু দিন, তারপর মাপের পলিতে বা বক্সে ভরুন। বিয়ের অর্ডারে গার্মেন্ট ব্যাগ আর বক্স দিলে ভালো, কিন্তু ওজন বাড়ে, সেটা দামে ধরুন।
অনলাইনে কেনা ব্লেজার গায়ে না লাগলে কী করব?
সেলার হিসেবে আগে থেকেই সাইজ বদলের নিয়ম লিখে দিন, যেমন ভাঁজ আর ট্যাগ ঠিক থাকলে ৩ দিনের মধ্যে বদল, যাওয়া-আসার কুরিয়ার চার্জ কে দেবেন সেটাসহ। শোল্ডার মিললে আর শুধু হাতা লম্বা হলে বদলের চেয়ে দর্জির কাছে হাতা ছোট করানো সস্তা পড়ে।
আরও পড়ুন
খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম
বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।
থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম
থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।


