বাই ওয়ান গেট ওয়ান মানে কি? ২টা কিনলে ১টা ফ্রি-তে লাভ থাকে কি না
বাই ওয়ান গেট ওয়ান মানে আসলে ৫০% ছাড়, আর ২টা কিনলে ১টা ফ্রি মানে ৩৩%। কোন প্রোডাক্টে এই অফারে লাভ থাকে, কোনটায় লস, কেনা দাম কত হলে চলে, আগের দাম বাড়িয়ে ফ্রি দেখানো কেন বিপদ, আর অফার কীভাবে শেষ করবেন, টাকার হিসাবসহ।

এই লেখায় যা আছে
বাই ওয়ান গেট ওয়ান মানে একটার দাম দিয়ে দুইটা পাওয়া। শুনতে ফ্রি, কিন্তু দোকানের হিসাবে এটা ৫০% ছাড়। আর "২টা কিনলে ১টা ফ্রি" মানে দুইটার দামে তিনটা, মানে প্রায় ৩৩% ছাড়। লাভ থাকবে কি না, তার একটা সহজ মাপকাঠি আছে। বিক্রির দাম থেকে প্যাকিং, অ্যাড আর ফেরতের খরচ বাদ দিয়ে যা থাকে, একটা প্রোডাক্টের কেনা দাম তার অর্ধেকের বেশি হলে বাই ওয়ান গেট ওয়ানে প্রতিটা অর্ডারেই লস।
পাশের পেজে "একটা কিনলে একটা ফ্রি" পোস্ট দেখলেন, কমেন্টে ভিড়। মন বলছে, আমিও দিই, নইলে কাস্টমার ওদিকে চলে যাবে। এই চাপটা প্রায় সব সেলার টের পান। কিন্তু ফ্রি কথাটা লেখার আগে একটা কাগজে পাঁচ মিনিটের হিসাব করলে অনেক সময় দেখা যায়, অর্ডার বাড়বে ঠিকই, শুধু প্রতিটা অর্ডারে টাকা যাবে আপনার পকেট থেকে।
বাই ওয়ান গেট ওয়ান মানে কি, আসলে কত পার্সেন্ট ছাড়
ফ্রি শব্দটা বাদ দিয়ে অফারটাকে ছাড় হিসেবে দেখুন, তাহলেই আসল ছবিটা বোঝা যায়। নিয়মটা সোজা। যতগুলো ফ্রি, তাকে মোট পিস দিয়ে ভাগ করুন। সেটাই ছাড়ের ভাগ।
এক কিনলে এক ফ্রি, মানে মোট দুই পিসের মধ্যে এক পিস ফ্রি। ১ ভাগ ২ মানে ৫০% ছাড়। দুই কিনলে এক ফ্রি, মানে তিন পিসের মধ্যে এক পিস ফ্রি। ১ ভাগ ৩ মানে প্রায় ৩৩%। তিন কিনলে এক ফ্রি হলে ছাড় ২৫%। তাই "বাই টু গেট ওয়ান" দেখতে ছোট অফার মনে হলেও আসলে বড় একটা ছাড়, আর "বাই ওয়ান গেট ওয়ান" তো দোকানের অর্ধেক দাম।

তিনটা প্রোডাক্টের দাম আলাদা হলে হিসাব একটু বদলায়। সাধারণত নিয়ম থাকে, সবচেয়ে কম দামেরটা ফ্রি। ধরুন একজন দুইটা ৪৯০ টাকার শার্ট আর একটা ৩৯০ টাকার শার্ট নিলেন। মোট দাম ১,৩৭০ টাকা, ফ্রি হলো ৩৯০ টাকারটা, তিনি দিলেন ৯৮০ টাকা। ছাড় দাঁড়াল ৩৯০ ভাগ ১,৩৭০, মানে প্রায় ২৮%। এই নিয়মটা পোস্টে আগে না লিখলে কনফার্মের ফোনে কাস্টমার বলবেন, "ভাই, দামিটাই তো ফ্রি দেওয়ার কথা।"
আইনের একটা দিক আগেই জেনে রাখুন। সরকারের আইনের সাইট bdlaws.minlaw.gov.bd-তে ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ দণ্ডবিধির ২৯৪খ ধারা যেভাবে লেখা, তাতে কেনাবেচা বাড়ানোর জন্য কুপন, টিকিট, নম্বর বা অন্য যেকোনো উপায়ে টাকা বা জিনিসের পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাব শাস্তিযোগ্য, ছয় মাস পর্যন্ত জেল বা জরিমানা। ধারাটার ভাষা বেশ চওড়া। তাই লাকি ড্র, "স্ক্র্যাচ করে গিফট জিতুন" বা কুপনে পুরস্কার, এসব একদম দেবেন না। অফারটা লিখুন সোজা দামের ভাষায়, "তিনটা নিলে দুইটার দাম"। তবে আপনার নির্দিষ্ট অফারটা এই ধারার বাইরে কি না, সেই রায় আমি দিচ্ছি না, ওটা একজন আইনজীবীর কাজ। বড় বা নতুন ধাঁচের অফারের আগে তাঁর সাথে একবার কথা বলে নিন।
একটা ফ্রি দিলে লাভ থাকে কি, হিসাব (উদাহরণ)
উদাহরণ। এখানকার সব সংখ্যা বানানো, শুধু হিসাবের ধরন দেখানোর জন্য। নিজের সংখ্যা বসালে ফল আলাদা হবে। ধরুন আপনি ছেলেদের টি-শার্ট বেচেন ৪৯০ টাকায়। একটা শার্ট কিনতে পড়ে ১৯০ টাকা। পলি আর ট্যাগে এক পার্সেলে যায় ১৫ টাকা, তিনটা শার্টের বড় পলিতে ২০ টাকা। ডেলিভারি হওয়া প্রতিটা অর্ডারের পেছনে অ্যাডের খরচ ১৬০ টাকা। ফেরত আসা পার্সেলের খরচ ভাগ করে দিলে ডেলিভারি হওয়া প্রতিটা অর্ডারে আরও ৩০ টাকা। ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার দেন, আর হিসাব সহজ রাখতে ধরছি কুরিয়ার যা কাটে তা ওতেই মিটে যায়।
সাধারণ অর্ডার, এক পিস। ৪৯০ − ১৯০ − ১৫ − ১৬০ − ৩০ = ৯৫ টাকা। প্রতিটা ডেলিভারিতে হাতে থাকে ৯৫ টাকা। ছোট, কিন্তু লাভ।
বাই ওয়ান গেট ওয়ান। কাস্টমার দেন ৪৯০, পান দুইটা শার্ট। কেনা দাম এখন ১৯০ × ২ = ৩৮০ টাকা। ৪৯০ − ৩৮০ − ১৫ − ১৬০ − ৩০ = −৯৫ টাকা। মানে প্রতিটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডারে ৯৫ টাকা লস। যত বেশি অর্ডার, তত বেশি লস। এই অফারে অর্ডারের সংখ্যা দেখে খুশি হওয়ার কিছু নেই।
২টা কিনলে ১টা ফ্রি। কাস্টমার দেন ৯৮০, পান তিনটা। কেনা দাম ১৯০ × ৩ = ৫৭০ টাকা, পলি ২০ টাকা, অ্যাড আগের মতোই ১৬০ টাকা, কারণ একজন কাস্টমার আনতে অ্যাডের খরচ পিসের সংখ্যায় বাড়ে না। ফেরতের ভাগ ধরছি একটু বেশি, ৪০ টাকা, কারণ ৯৮০ টাকার পার্সেলে দরজায় "না" বলার সুযোগ একটু বেশি। ৯৮০ − ৫৭০ − ২০ − ১৬০ − ৪০ = ১৯০ টাকা। এক পিসের অর্ডারের দ্বিগুণ লাভ।
এবার আসল প্রশ্ন। এই ১৯০ টাকা কি সত্যিই বেশি? তিনজন আলাদা কাস্টমার একটা করে শার্ট নিলে লাভ হতো ৩ × ৯৫ = ২৮৫ টাকা। তাই ২টা কিনলে ১টা ফ্রি তখনই কাজের, যখন এই তিনটা শার্ট এমনিতে বিক্রি হতো না। মানে অফারটা নতুন পিস বেচছে, আপনার পুরনো বিক্রিকে সস্তায় দিয়ে দিচ্ছে না। যেখানে অ্যাডের খরচ বেশি, বা একটা রং-সাইজ গুদামে পড়ে আছে, সেখানে এই হিসাব আপনার পক্ষে যায়।
বাই ওয়ান গেট ওয়ানে কেনা দাম কত হলে লস হয় না, সেটাও বের করা যায়। বিক্রির দাম থেকে প্যাকিং, অ্যাড আর ফেরতের খরচ বাদ দিন। ৪৯০ − ১৫ − ১৬০ − ৩০ = ২৮৫ টাকা। এটা দুইটা শার্টের কেনা দামে ভাগ হবে, তাই এক পিসের কেনা দাম হতে হবে ২৮৫ ভাগ ২, মানে ১৪২ টাকার নিচে। মানে এই উদাহরণে কেনা দাম বিক্রির দামের প্রায় ২৯%-এর বেশি হলেই বাই ওয়ান গেট ওয়ান লসের। নিজের সংখ্যায় এই সীমাটা বের না করে অফার দেবেন না। এই একটা নিয়মই অনেক লস বাঁচায়।

অ্যাডের খরচ আর ফেরতের খরচ প্রতি ডেলিভারিতে কীভাবে ভাগ করবেন, সেটা প্রোডাক্টের দাম নির্ধারণের লেখায় ধাপে ধাপে আছে। সেখানের সংখ্যা এনে এই হিসাবে বসালেই আপনার নিজের উত্তর পাবেন।
কোন প্রোডাক্টে চলে, কোনটায় লস
যে প্রোডাক্টে এই অফার চলে, তার কয়েকটা মিল আছে। কেনা দাম বিক্রির দামের তুলনায় কম। মানুষ এমনিতেই একাধিক পিস কেনেন, যেমন মোজা, রুমাল, সাধারণ টি-শার্ট, বা চায়ের প্যাকেট আর সাবানের মতো লম্বা মেয়াদের জিনিস। আর জিনিসটা ফুরিয়ে যায়, তাই তিনটা নিলেও কাস্টমারের কাজে লাগে। এমন প্রোডাক্টে তিন পিস এক পলিতে যায়, ওজনও এক কেজির নিচে থাকে, তাই কুরিয়ারের চার্জ প্রায় একই থাকে।
যেখানে লস হয়, সেখানেও মিল আছে। কেনা দাম বেশি, যেমন ঘড়ি, জুতা বা গ্যাজেট। মাপের ঝামেলা আছে, যেমন জুতা বা প্যান্ট, যেখানে তৃতীয় জোড়ার মাপ না মিললে পুরো পার্সেল ফেরত আসে। ভারী জিনিস, যেখানে তিন পিসে ওজন এক কেজি পেরিয়ে যায় আর কুরিয়ার প্রতি কেজিতে বাড়তি নেয়। আর অল্প মেয়াদের খাবার, যেখানে তৃতীয় প্যাকেট খোলার আগেই মেয়াদ পেরিয়ে যেতে পারে। শেষেরটায় কাস্টমারের অভিযোগও আসে।
একটা ছোট কাজ করুন, এটা অনেকে বাদ দেন। তিন পিস একসাথে প্যাক করে একটা ডিজিটাল ওজনের মেশিনে মেপে দেখুন। কাগজে ৬০০ গ্রাম মনে হলেও বক্সসহ অনেক সময় এক কেজি পেরিয়ে যায়। আর তিনটা শার্ট ভাঁজ করে এক পলিতে ঢুকিয়ে দেখুন পলিটা ফেটে যায় কি না।

তিনটা আলাদা প্রোডাক্ট মিশিয়ে প্যাকেজ বানানো, যেমন শার্টের সাথে একটা টুপি, সেটা আলাদা কৌশল। তার নাম আপসেল বা কম্বো, আর অর্ডার ফর্মে এক, দুই, তিন প্যাকের কার্ড কীভাবে সাজাবেন, সেটা আপসেলিং আর ক্রস সেলিংয়ের লেখায় আছে। এখানে শুধু একই প্রোডাক্টের "এতগুলো নিলে এতগুলো ফ্রি"-র কথা।
দাম বাড়িয়ে ফ্রি দেখানো কেন বিপদ
এটা সবচেয়ে চেনা চালাকি। শার্টের দাম ৪৯০ থেকে বাড়িয়ে ৬৫০ করা হলো, তারপর লেখা হলো "২টা কিনলে ১টা ফ্রি"। হিসাব মেলে, কিন্তু কাস্টমার বোকা না। পুরনো পোস্টে ৪৯০ টাকা লেখা আছে, কারো ফোনে স্ক্রিনশট আছে, কমেন্টে কেউ একজন সেটা তুলে দেবেন। তারপর বাকি সবাই অফারটাকে ধোঁকা ভাববেন, আর পেজটাকেও।
আইনের দিকটাও আছে। বানানো "আগের দাম" দিয়ে কাস্টমারকে ভোলানো মানে মিথ্যা বিজ্ঞাপনের কাছাকাছি যাওয়া, আর ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৪ ধারায় এর শাস্তি অনূর্ধ্ব এক বছর জেল বা দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, বা দুটোই (১২ অক্টোবর ২০২৬-এ bdlaws.minlaw.gov.bd-তে দেখা)। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১-এর ৩.২.১১ অনুচ্ছেদ বলছে, কোনো অফার, ছাড় বা ফ্রি ডেলিভারি থাকলে সেটা প্রোডাক্টের বর্ণনায় পরিষ্কার করে লিখতে হবে। আর ৩.১.১৭ বলছে, ফেসবুক পেজেও কেনাবেচার শর্ত বাংলায় লিখে রাখতে হবে। নির্দেশিকার পুরো ছবিটা ডিজিটাল কমার্স নির্দেশিকার লেখায় পাবেন।
ফেসবুকে অ্যাড দিলে Meta-ও এটা দেখে। Meta-র Advertising Standards-এর "Prohibited Commercial Practices" পেজে (১২ অক্টোবর ২০২৬) নিষিদ্ধ কাজের উদাহরণের প্রথমেই আছে deceptive pricing, মানে ধোঁকার দাম। মানে আগের দাম বানিয়ে লেখা অ্যাড রিজেক্ট হতে পারে, আর বারবার হলে অ্যাড অ্যাকাউন্টও ঝুঁকিতে পড়ে।
তাহলে সৎ পথটা কী? "আগের দাম" ঘরে শুধু সেই দামটাই লিখুন, যে দামে আপনি সত্যিই কিছুদিন বেচেছেন। অফারের শর্ত পোস্টেই লিখুন, ছোট অক্ষরে নিচে না। কবে শুরু, কবে শেষ, কোন প্রোডাক্টে, দাম আলাদা হলে কোনটা ফ্রি, আর এক অর্ডারে কয়বার। কুপন আর ছাড়ের লুকানো শর্ত কীভাবে কাস্টমারের রাগ টানে, সেটা কুপন কোডের লেখায় আরও আছে।
কোড ছাড়া নিজে থেকে ছাড়, অটোমেটিক নিয়ম
হাতে হিসাব করে এই অফার চালানো ঝামেলার। ইনবক্সে কেউ চারটা নিলেন, কেউ পাঁচটা, কেউ দুই রঙের তিনটা। প্রতিবার মাথায় হিসাব, কোনটা ফ্রি, কত টাকা কাটবে। ব্যস্ত দিনে এখানেই ভুল হয়, আর ভুলটা সাধারণত আপনার বিপক্ষে যায়।
WinningSeller-এ এই কাজটা "কুপন" মেনু থেকে হয়। নতুন কুপনে "কীভাবে কাজ করবে" ঘরে "অটোমেটিক" বাছলে কাস্টমারকে কোনো কোড লিখতে হয় না, শর্ত পূরণ হলেই ছাড় লেগে যায়। "ছাড়ের ধরন"-এ "N টা কিনলে M টা ফ্রি" বেছে "কয়টা কিনলে" আর "কয়টা ফ্রি" লিখে দেন। তাড়া থাকলে "এক ক্লিকে বানান" থেকে "২টা কিনলে ১টা ফ্রি" চাপলেই নিয়মটা তৈরি হয়ে যায়। নিয়মটা প্রতি তিন পিসে সবচেয়ে কম দামেরটা ফ্রি করে, তাই কেউ পাঁচটা নিলে একটা ফ্রি পান, ছয়টা নিলে দুইটা। "কোন প্রোডাক্টে" ঘর থেকে শুধু বাছাই করা প্রোডাক্ট বা ক্যাটাগরিতে অফারটা দেওয়া যায়, আর "শুরু" আর "শেষ" ঘরে সময় দিয়ে রাখা যায়। নিয়মটা সেভ করে চালু করে নিলে তবেই কাজ শুরু করে।
কয়েকটা সীমাও জেনে রাখুন, এগুলো না জানলে প্রথম সপ্তাহেই গোলমাল হয়। একটা অর্ডারে একটাই ছাড় লাগে। কয়েকটা অটোমেটিক নিয়ম থাকলে যেটায় কাস্টমারের বেশি বাঁচে সেটা, আর কাস্টমার কোনো কোড লিখলে সেটা লাগে কেবল তখন, যদি সেটা বেশি হয়। দোকানের লোক নিজে যে অর্ডার লেখেন, যেমন ফোন বা ইনবক্সের অর্ডার, তাতে অটোমেটিক ছাড় নিজে বসে না, ওখানে ছাড়টা হাতে দিতে হয়। আর অর্ডার ফর্মের মোট টাকায় ফ্রি পিসের ছাড় আগে থেকে আলাদা লাইনে দেখায় না, ছাড় কাটে অর্ডার দেওয়ার সময়, আর ধন্যবাদ পেজে "ছাড়" লাইনে নিয়মের নাম, যেমন BUY2GET1, লেখা থাকে। তাই পেজে অফারটা কথায় লিখে দিন, "তিনটা নিলে দুইটার দাম, অর্ডারের পর মোট থেকে কেটে যাবে"। নিয়ম চালু করে নিজের ফোন থেকে একটা টেস্ট অর্ডার দিয়ে ধন্যবাদ পেজে ছাড়টা দেখে নিন।

অফার আর কুপনের বাকি নিয়মগুলো, যেমন এক মোবাইল নম্বর থেকে কতবার, বা কত টাকার অর্ডারে ফ্রি ডেলিভারি, নিচের বাটন থেকে এক জায়গায় দেখতে পারেন।
অফার শেষ করবেন যেভাবে
অফার শুরু করা সহজ, শেষ করাটাই কঠিন। শেষের দিন সকালে কেউ ইনবক্সে লিখবেন, "ভাই, কালকে দেখলাম, এখন অর্ডার দিলে পাব না?" এর উত্তর আগে থেকে ঠিক না থাকলে আপনি হয় কাউকে খুশি করতে নিয়ম ভাঙবেন, নয়তো রূঢ় শোনাবেন।
তাই অফার পোস্ট করার আগেই শেষের তারিখ আর সময় ঠিক করুন, আর পোস্টে লিখুন। "১৮ তারিখ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত" লেখা অফারে তর্ক কম হয়, "স্টক থাকা পর্যন্ত" লেখায় বেশি। শেষের ২৪ ঘণ্টা আগে একটা ছোট পোস্ট দিন যে কাল অফার শেষ। এতে শেষ দিনের অর্ডারগুলো আগে আসে, আর পরে কেউ অবাক হন না।
যে অর্ডার শেষ সময়ের আগে এসেছে, সেটা অফারেই দিন, কনফার্ম পরে হলেও। শেষ সময়ের পরে আসা অর্ডারে নরম করে বলুন, "আপু, অফারটা কাল শেষ হয়েছে। এখন একটা শার্ট ৪৯০ টাকা। পরের অফার এলে আপনাকে আগে জানাব।" আর অফার চুপচাপ বাড়াবেন না। বাড়াতে চাইলে পোস্ট দিয়ে বলুন যে অফার বাড়ল। নইলে যাঁরা তাড়াহুড়ো করে কিনেছিলেন, তাঁরা ঠকে যাওয়ার অনুভূতি নিয়ে থাকেন।
অফার শেষে স্টক মিলিয়ে নিন। এই ধরনের অফারে এক রং বা এক সাইজ দ্রুত শেষ হয়, আর অন্যটা পড়ে থাকে। কোনটা কত পিস বেরোল দেখে পরের অর্ডারে কোনটা কম আনবেন ঠিক করুন। যে রং-সাইজ পড়ে রইল, সেটা নিয়ে আবার একই অফার না দিয়ে আগে দেখুন ছবি বা দামে সমস্যা ছিল কি না।
কখন বাই ওয়ান গেট ওয়ান দেবেন না
নতুন পেজে, যেখানে এখনো জানেন না একটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডারের পেছনে অ্যাডে কত যায়, সেখানে এই অফার দিয়ে শুরু করবেন না। হিসাব না জেনে ফ্রি দিলে মাস শেষে দেখবেন অর্ডার অনেক, টাকা নেই। আগে দুই-তিন সপ্তাহ সাধারণ দামে বেচে নিজের সংখ্যাগুলো জানুন। নিজের সংখ্যা না জেনে আমি কাউকে ফ্রি অফার দিতে বলি না।
কেনা দাম বিক্রির দামের অর্ধেকের কাছাকাছি হলে বাই ওয়ান গেট ওয়ান একদম না। তখন বড়জোর ২টা কিনলে ১টা ফ্রি, তাও ওপরের মতো হিসাব করে। আর যে প্রোডাক্টের নাম আপনার পেজের পরিচয়, যেটা মানুষ এমনিতেই পুরো দামে কেনেন, সেটায় বারবার ফ্রি দিলে মানুষ পুরো দামে কেনা বন্ধ করে অফারের অপেক্ষা করেন। ঈদের আগের সপ্তাহে কুরিয়ার যখন এমনিতেই চাপে, তখন তিন পিসের ভারী পার্সেলে দেরি আর ফেরত দুটোই বাড়ে। সেই সময়টাও বাদ রাখুন।
এমন অবস্থায় একটা ছোট টাকার ছাড় বা নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি অর্ডারে ফ্রি ডেলিভারি প্রায়ই কম খরচে একই কাজ করে। কোন অবস্থায় কোনটা, সেই তুলনা কুপনের লেখায় আছে।
আজই করে ফেলুন
- যে প্রোডাক্টে অফার দিতে চান, তার বিক্রির দাম, কেনা দাম, প্যাকিং, ডেলিভারিপ্রতি অ্যাডের খরচ আর ফেরতের ভাগ খাতায় লিখুন।
- বিক্রির দাম থেকে প্যাকিং, অ্যাড আর ফেরতের খরচ বাদ দিয়ে দুই দিয়ে ভাগ করুন। কেনা দাম এর কম হলে তবেই বাই ওয়ান গেট ওয়ান ভাবুন।
- একই হিসাবে ২টা কিনলে ১টা ফ্রি করে দেখুন, আর তিনজন আলাদা কাস্টমারের লাভের সাথে মিলিয়ে নিন।
- তিন পিস এক পলিতে প্যাক করে ওজন মাপুন, এক কেজি পেরোলে কুরিয়ারের রেট দেখে নিন।
- পোস্টের শর্ত লিখুন। শুরু আর শেষের তারিখ-সময়, কোন প্রোডাক্টে, কোনটা ফ্রি, আর দামের ভাষায় অফারটা, "তিনটা নিলে দুইটার দাম"।
- পুরনো পোস্টে এই প্রোডাক্টের দাম কত লেখা ছিল দেখে নিন। "আগের দাম" ঘরে শুধু সেই দামটাই রাখুন।
সাধারণ প্রশ্ন
বাই ওয়ান গেট ওয়ান মানে কি?
বাই ওয়ান গেট ওয়ান মানে একটার দাম দিয়ে দুইটা পাওয়া। দোকানের হিসাবে এটা দুইটা প্রোডাক্টে ৫০% ছাড়। কাস্টমারের কাছে "ফ্রি" শুনতে ভালো লাগে, কিন্তু আপনার পকেট থেকে যায় পুরো একটা প্রোডাক্টের কেনা দাম।
buy 2 get 1 free মানে কত পার্সেন্ট ছাড়?
তিনটা প্রোডাক্টের দাম দিয়ে না, দুইটার দাম দিয়ে তিনটা পাওয়া যায়, তাই ছাড় তিন ভাগের এক ভাগ, মানে প্রায় ৩৩%। তিনটার দাম আলাদা হলে সাধারণত সবচেয়ে কম দামেরটা ফ্রি হয়, তখন ছাড় ৩৩%-এর একটু কম পড়ে।
বাই ওয়ান গেট ওয়ান অফারে কি লাভ থাকে?
শুধু তখনই, যখন একটা প্রোডাক্টের কেনা দাম বিক্রির দামের অনেক কম। অ্যাড, প্যাকিং আর ফেরতের খরচ বাদ দিয়ে যা থাকে, তার অর্ধেকের নিচে কেনা দাম হলে লাভ থাকে, নইলে প্রতিটা অর্ডারে লস। লেখার উদাহরণে ৪৯০ টাকার টি-শার্টে কেনা দাম ১৪২ টাকার নিচে না হলে এই অফার লোকসানের।
অফারের আগে দাম বাড়িয়ে ফ্রি দেখালে কি সমস্যা?
হ্যাঁ। কাস্টমার পুরনো পোস্টের স্ক্রিনশট রাখেন, আর এটা ধরা পড়লে পেজের বিশ্বাস যায়। ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৪ ধারায় মিথ্যা বিজ্ঞাপনে ক্রেতাকে ঠকানোর শাস্তি আছে, আর Meta-র বিজ্ঞাপনের নিয়মে প্রতারণামূলক দাম নিষেধ।
২টা কিনলে ১টা ফ্রি অফারে কোন প্রোডাক্টটা ফ্রি দেব?
একই দামের প্রোডাক্ট হলে কোনো সমস্যা নেই। দাম আলাদা হলে সবচেয়ে কম দামেরটা ফ্রি দিন, আর সেটা পোস্টে আগেই লিখে দিন। নইলে কাস্টমার সবচেয়ে দামিটা ফ্রি চাইবেন, আর তর্ক হবে কনফার্মের ফোনে।
ফোনে বা ইনবক্সে নেওয়া অর্ডারেও কি অফারটা দিতে হবে?
হ্যাঁ, অফার যতদিন চলছে, সবাইকে একই নিয়মে দিন। WinningSeller-এ অটোমেটিক ছাড় দোকানের লোকের হাতে লেখা অর্ডারে নিজে বসে না, তাই ফোনের অর্ডারে ছাড়টা হাতে বসিয়ে মোট টাকা মিলিয়ে নিন। অন্য সফটওয়্যার বা খাতায় হিসাব রাখলেও একই কথা।
আরও পড়ুন
ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ
ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।
গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে
গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।
বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে
ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।


