অনলাইন ব্যবসার নামের তালিকা, আর নিজে নাম বানানোর ৬টা নিয়ম
কাপড়, কসমেটিকস, খাবার আর গ্যাজেটের পেজের জন্য নামের আইডিয়া, নিজে নাম বানানোর ৬টা নিয়ম, আর নামটা আগেই অন্য কেউ নিয়েছে কি না, সেটা ফেসবুক, ডোমেইন আর ট্রেডমার্কে পাঁচ মিনিটে দেখে নেওয়ার উপায়।

এই লেখায় যা আছে
- অনলাইন ব্যবসার নাম কেমন হলে কাস্টমার মনে রাখে?
- নাম বানানোর ৬টা নিয়ম
- অনলাইন ব্যবসার নামের তালিকা, প্রোডাক্ট ধরে
- বাংলা নাম না ইংরেজি নাম?
- নামটা আগে কেউ নিয়েছে কি না দেখবেন কীভাবে?
- দশটা নাম থেকে একটা বাছবেন কীভাবে? একটা উদাহরণ
- ফেসবুক পেজের নাম পরে চেঞ্জ করা যায় কি?
- নামের সাথে ডোমেইন মিলিয়ে নেবেন যেভাবে
- নাম ঠিক করার পর আজ কী করবেন?
অনলাইন ব্যবসার নামের তালিকা চাইলে নিচে প্রোডাক্ট ধরে সাজানো ১৮টা নাম পাবেন। যেমন কাপড়ের পেজের জন্য রঙলিপি, মধু-ঘির জন্য খাঁটিঘর, আর গ্যাজেটের জন্য গ্যাজেট গলি। তবে লিস্ট থেকে তুলে নেওয়া নাম প্রায়ই আগে থেকে অন্য কারো পেজে চলে। তাই নাম নেওয়ার আগে দুটো পরীক্ষা করে নিন। প্রথমটা হলো, ফোনে একবার বললেই কাস্টমার নামটা ঠিক বানানে লিখতে পারেন কি না। দ্বিতীয়টা হলো, ফেসবুকে, ডোমেইনে আর ট্রেডমার্কের খাতায় নামটা খালি আছে কি না। এই দুটো পার হলে নাম বাংলা না ইংরেজি, সেটা পরের কথা।
লিস্টের বাইরে নিজে নাম বানাতে চাইলে তার ৬টা নিয়ম, আর পাঁচ মিনিটে নামটা চেক করার উপায়ও নিচে আছে।
অনলাইন ব্যবসার নাম কেমন হলে কাস্টমার মনে রাখে?
ধরুন একজন কাস্টমার ফেসবুকের ফিডে আপনার পেজের নাম এক-দুই সেকেন্ডের জন্য দেখে অর্ডার দিলেন। পার্সেল পেয়ে প্রোডাক্টটা তাঁর ভালো লাগল। দুই মাস পরে আবার কিনতে চাইলে তিনি ফেসবুকে আপনার নাম লিখে খোঁজেন, অথবা পাশের বাসার কাউকে বলেন "ওই পেজটা থেকে নিয়েছিলাম"। ঠিক এই সময়ে নাম মনে না পড়লে, বা বানান ভুল লিখে অন্য পেজ চলে এলে, অর্ডারটা অন্য কেউ পেয়ে যায়।
তাই ভালো নামের কাজ একটাই, কাস্টমার যেন দ্বিতীয়বার আপনাকে খুঁজে পান। নামটা খুব সুন্দর বা খুব আলাদা হওয়ার দরকার নেই। "তানভীরের ঘি" খুব সাধারণ নাম, কিন্তু শুনলেই মনে থাকে। উল্টো দিকে "BD Online Shopping Zone 24" নামে চারটা ইংরেজি শব্দ আর একটা সংখ্যা, এর কোনোটাই মনে থাকে না। আর ফেসবুকে এমন নামের পেজ এত বেশি যে কাস্টমার খুঁজতে গেলে দশটা একই রকম পেজ পান।
নাম শুধু পেজে থাকে না। কনফার্ম কলে আপনি বলেন "আমি অমুক পেজ থেকে বলছি"। কুরিয়ারের লেবেলে দোকানের নাম যায়, bKash মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টে যায়, পরে ওয়েবসাইটের লিংকেও যায়। সব জায়গায় একই নাম দেখলে কাস্টমার ভরসা পান। পেমেন্টের নম্বরে নাম না মিললে কী হয়, সেটা bKash মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম লেখায় আলাদা করে বলা আছে। এখানে দেখাব নামটা বানাবেন কীভাবে।
নাম বানানোর ৬টা নিয়ম
নিচের ছয়টা নিয়ম একটা ছাঁকনির মতো। যত নাম মাথায় আসে, সবগুলো এই ছাঁকনি দিয়ে ছাঁকলে শেষে এক-দুইটা টিকে থাকে। সেটাই আপনার নাম।
১. ফোনে একবার বললেই যেন বোঝা যায়
অনলাইন ব্যবসার বড় অংশ চলে ফোনে। আপনি কনফার্ম কল দেন, আর ডেলিভারির দিন কুরিয়ারের রাইডারও কাস্টমারকে ফোন দিয়ে আপনার দোকানের নাম বলেন। তাই নামটা কানে শুনে বোঝার মতো হতে হবে।
পরীক্ষাটা খুব সহজ। একজন বন্ধুকে ফোন দিয়ে নামটা একবার বলুন, তারপর তাঁকে মেসেজে লিখে পাঠাতে বলুন। তিনি যদি জিজ্ঞেস করেন "কী বললেন?", অথবা অন্য বানানে লেখেন, তাহলে নামটা বাদ। এই পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি আটকায় যুক্তাক্ষরে ভরা শব্দ আর সংখ্যা মেশানো নাম। "Shop 24" ফোনে শুনে কেউ লিখবেন Shop24, কেউ লিখবেন Shop Twenty Four।
২. বাংলায় আর ইংরেজিতে বানান যেন একরকম থাকে
অনেক কাস্টমার ফেসবুকে বাংলা নাম খোঁজেন ইংরেজি অক্ষরে। এখানেই বেশিরভাগ বাংলা নাম গোলমাল করে। ধরুন নাম রাখলেন "বাড়ির স্বাদ"। কেউ খুঁজবেন Barir Shad লিখে, কেউ Barir Swad, কেউ Barir Shaad। তিনজন তিন রকম ফল পাবেন, আর তাঁদের কেউ কেউ আপনার পেজে পৌঁছাবেনই না।
তাই নাম ঠিক করার আগে সেটা ইংরেজি অক্ষরে লিখে দেখুন, একটার বেশি বানান দাঁড়ায় কি না। "রঙ" শব্দটা প্রায় সবাই Rong বা Rang লেখেন, দুটোই চলে। "স্বাদ", "ক্ষণ", "ঋতু" এমন শব্দে বানান অনেক রকম হয়। পুরোপুরি এড়ানো সবসময় যায় না, কিন্তু যত কম রকম বানান, তত ভালো।
৩. .com বা .com.bd ডোমেইনটা খালি থাকে
আজ হয়তো আপনার ওয়েবসাইট নেই, শুধু পেজ। কিন্তু ছয় মাস পরে নিজের অনলাইন স্টোর বানাতে চাইলে নামের ডোমেইনটাই লাগবে। তখন যদি দেখেন ডোমেইনটা অন্য কারো, তাহলে পেজের নাম হয় এক আর ওয়েবসাইটের লিংক হয় আরেক। তাই নাম ঠিক করার দিনেই ডোমেইনটা খালি কি না দেখে নিন, কেনা পরে হলেও চলে। কীভাবে দেখবেন, সেটা নিচে নাম চেক করার অংশে আছে।
৪. ফেসবুকে একই নামের পেজ বা ইউজারনেম নেই
ফেসবুক একই নামে একাধিক পেজ খুলতে দেয়, কিন্তু সেটা আপনার জন্য ভালো না। কাস্টমার ভুল পেজে গিয়ে অর্ডার দিতে পারেন। ওই পেজ থেকে কেউ ঠকলে আপনার নামেও বদনাম হয়।
পেজের ইউজারনেম, মানে facebook.com/ এর পরের অংশটা, প্রতিটা পেজের আলাদা হতে হয়। Meta-র হেল্প পেজে লেখা আছে, ইউজারনেম অন্তত পাঁচ অক্ষরের হতে হয়, আর তাতে শুধু ইংরেজি অক্ষর, সংখ্যা আর ফুলস্টপ চলে। মাঝে ফুলস্টপ দিলে বা বড় হাতের অক্ষরে লিখলে ফেসবুক সেটাকে নতুন ইউজারনেম ধরে না। মানে khatighor কেউ নিয়ে থাকলে Khati.Ghor আপনি আর পাবেন না। তাই আপনার নামের ইউজারনেমটা খালি কি না, সেটাও এখনই দেখে নিন।
৫. অন্য কারো ব্র্যান্ড বা ট্রেডমার্কের নাম না
পরিচিত কোনো ব্র্যান্ডের নামে একটা অক্ষর চেঞ্জ করে, বা শেষে "BD" জুড়ে দিয়ে নাম রাখলে প্রথম দিকে বিক্রি সহজ মনে হয়। কিন্তু এটা সবচেয়ে দামি ভুল। ব্র্যান্ডের মালিক Facebook-এ অভিযোগ করলে পোস্ট বা পুরো পেজ সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। এক বছর ধরে ফলোয়ার আর রিভিউ জমানোর পর নাম চেঞ্জ করতে হলে সেই পরিশ্রমের বড় অংশ নষ্ট হয়।
শুধু বড় ব্র্যান্ড না, ছোট কোনো দোকানও নিজের নাম ট্রেডমার্ক করে রাখতে পারে। কারটা রেজিস্টার করা আছে, সেটা চোখে দেখে বোঝা যায় না। এজন্য নিচে চেক করার উপায়ে DPDT-র কথা আছে।
৬. প্রোডাক্টে আটকে যায় না, আর লম্বা না
"রংপুর থ্রি-পিস হাউস" নাম রেখে শুরু করলেন। এক বছর পরে পাঞ্জাবি আর বেডশিটও বেচতে চান। তখন নামটা আপনার নিজের ব্যবসার সাথেই আর মেলে না। তাই এমন নাম নিন, যেটা ব্যবসা বড় হলেও খাটে। প্রোডাক্টের নাম রাখতে চাইলে এমনভাবে রাখুন, যাতে পরে শেষের শব্দটা চেঞ্জ করা যায়।
লম্বাও রাখবেন না। দুই শব্দ সবচেয়ে ভালো, তিন শব্দ পর্যন্ত চলে। ইংরেজিতে লিখলে ১২ থেকে ১৫ অক্ষরের মধ্যে থাকলে ডোমেইন আর ইউজারনেম দুটোই ছোট থাকে। আরেকটা কথা জেনে রাখুন। Meta-র পেজের নামের গাইডলাইনে লেখা আছে, নামে স্লোগান বা বর্ণনা রাখা যাবে না, ® এর মতো চিহ্ন বা অপ্রয়োজনীয় দাঁড়ি-কমা চলবে না, আর সব বড় হাতের অক্ষরে লেখা যাবে না। শুধু একটা সাধারণ শব্দ (যেমন "Honey") বা শুধু একটা জায়গার নাম (যেমন "Rangpur") দিয়েও পেজের নাম হয় না।
অনলাইন ব্যবসার নামের তালিকা, প্রোডাক্ট ধরে
নিচের নামগুলো আমাদের বানানো উদাহরণ। লেখার সময় কয়েকটা নাম গুগলে খুঁজে দেখা হয়েছিল। যেমন "নকশিঘর" নামে আগে থেকেই কাপড়ের একটা দোকানের ওয়েবসাইট আছে, তাই সেটা লিস্টে রাখিনি। বাকিগুলো ফেসবুকে বা ডোমেইনে খালি কি না, আমরা দেখিনি। তাই এগুলো হুবহু নিয়ে নেবেন না। আইডিয়া হিসেবে নিন, তারপর নিচের পাঁচ মিনিটের চেকটা করুন।
| প্রোডাক্ট | বাংলা ধাঁচের নাম | ইংরেজি অক্ষরে |
|---|---|---|
| থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, কাপড় | রঙলিপি, সুতোর বাড়ি, তাঁতের ছোঁয়া | Ranglipi, Sutor Bari, Weavely |
| কসমেটিকস, স্কিনকেয়ার | ত্বকঘর, কোমল কেয়ার, সজীব ত্বক | Tokghor, Komol Care, Skinnest |
| মধু, ঘি, মসলা, শুকনা খাবার | খাঁটিঘর, চাকের মধু ঘর, গাওয়া ঘি বাড়ি | Khatighor, Chaker Modhu, Gawa Bari |
| মোবাইল এক্সেসরিজ, গ্যাজেট | গ্যাজেট গলি, চার্জ ঘর, তারবিহীন | Gadget Goli, Plugwala, Charge Ghor |
| বাচ্চাদের জামা আর খেলনা | টুনটুনি কিডস, ছোট্ট সোনা, খুদে ঘর | Tuntuni Kids, Chotto Shona |
| ইসলামিক নাম (যেকোনো প্রোডাক্টে) | বরকত ঘর, নূর কালেকশন, সুন্নাহ শপ | Barakah Ghor, Noor Collection, Sunnah Shop |
লিস্টের নামগুলো চারটা সহজ ধাঁচে বানানো। নিজের নাম বানাতে চাইলে এই ধাঁচগুলো কাজে লাগান। প্রথম ধাঁচ হলো নিজের নাম আর প্রোডাক্ট, যেমন "তানভীরের ঘি"। এতে একজন মানুষের মুখ দেখা যায়, তাই কাস্টমার ভরসা পান। দ্বিতীয়টা হলো জায়গা আর প্রোডাক্ট, যেমন "চাঁপাইয়ের আমবাড়ি"। এটা কাজ করে যখন জায়গাটাই প্রোডাক্টের গুণ বোঝায়। শুধু জায়গার নাম দিয়ে পেজ হয় না, সেটা ওপরে বলেছি, কিন্তু জায়গা আর প্রোডাক্ট একসাথে চলে।
তৃতীয় ধাঁচ হলো দুইটা ছোট শব্দ জোড়া দেওয়া, যেমন রঙ আর লিপি মিলে "রঙলিপি"। এভাবে নতুন শব্দ বানালে সেটা অন্য কারো নেওয়া থাকার সম্ভাবনা কম। চতুর্থটা হলো একটা পরিচিত আদরের শব্দ, যেমন "টুনটুনি" বা "ছোট্ট সোনা"। এমন শব্দ মানুষের মনে একটা ছবি তৈরি করে, তাই সহজে মনে থাকে।
ইসলামিক নামে একটা বাড়তি সাবধানতা লাগে। "বরকত" শব্দটা কেউ Barakah লেখেন, কেউ Barkat, কেউ Borkot। "তাকওয়া" কেউ Taqwa লেখেন, কেউ Takwa। নিয়ম ২-এর কথা মনে রেখে একটা বানান বেছে নিন, তারপর পেজ, লোগো, প্যাকেট আর ডোমেইন, সব জায়গায় সেই একটাই লিখুন।
বাংলা নাম না ইংরেজি নাম?
এর কোনো একটা সঠিক উত্তর নেই। উত্তরটা নির্ভর করে আপনার কাস্টমার কারা, তার ওপর। সেলারদের অভিজ্ঞতায় ঢাকার তরুণ কাস্টমার সাধারণত ইংরেজি নাম সহজে নেন। জেলা শহর বা গ্রামের দিকের কাস্টমার, আর বয়সে একটু বড় কাস্টমার বাংলা নাম সহজে মনে রাখেন। মধু, ঘি, শাড়ি বা দেশি খাবারের মতো প্রোডাক্টে বাংলা নাম প্রায়ই বেশি আপন শোনায়।
ইংরেজি নাম নিলে এমন শব্দ নিন, যেটা সবাই সহজে উচ্চারণ করতে পারেন। "Exquisite Attire" শুনতে দামি, কিন্তু রংপুরের একজন কাস্টমার এটা ফোনে বলতেও পারবেন না, ফেসবুকে লিখে খুঁজতেও পারবেন না। বাংলা নাম নিলে নিয়ম ২ মেনে এমন শব্দ নিন, যার ইংরেজি বানান একটাই দাঁড়ায়।
অনেক সেলার মাঝামাঝি পথ নেন। তাঁরা বাংলা শব্দ বেছে নেন, কিন্তু পেজের নাম আর ডোমেইন লেখেন ইংরেজি অক্ষরে, যেমন Ranglipi। তারপর লোগোতে, প্যাকেটের স্টিকারে আর পোস্টে বাংলা বানানটাও লিখে দেন। এতে দুই ধরনের কাস্টমারই নামটা চিনতে পারেন।
একটা সত্যি কথা বলে রাখি। নাম ভালো হলেই বিক্রি হয় না। বিক্রি আসে প্রোডাক্ট ভালো হলে আর সময়মতো ডেলিভারি দিলে। ভালো নাম শুধু এটুকু করে যে, খুশি কাস্টমার আপনাকে আবার খুঁজে পান। তাই নাম নিয়ে এক সপ্তাহ বসে থাকবেন না। এক-দুই দিনে ঠিক করে কাজ শুরু করুন।
নামটা আগে কেউ নিয়েছে কি না দেখবেন কীভাবে?
এই চেকটা করতে পাঁচ থেকে দশ মিনিট লাগে। নাম ঠিক করার আগে প্রতিটা শর্টলিস্টের নামে এটা একবার করুন।
- গুগলে খুঁজুন। নামটা বাংলায় একবার আর ইংরেজি বানানে একবার লিখে খুঁজুন। সাথে "পেজ" বা "shop" জুড়ে আরেকবার খুঁজুন। একই ধরনের প্রোডাক্টের কোনো দোকান বা ওয়েবসাইট এলে নামটা বাদ।
- ফেসবুকে খুঁজুন। ফেসবুকের সার্চে নামটা লিখে Pages অংশটা দেখুন। তারপর ব্রাউজারে facebook.com/ এর পরে আপনার পছন্দের ইউজারনেম লিখে দেখুন, কোনো পেজ খোলে কি না। খুললে ইউজারনেমটা নেওয়া।
- ডোমেইন খুঁজুন। যেকোনো ডোমেইন কোম্পানির সার্চ বক্সে .com খালি কি না দেখুন। .com.bd-র জন্য BTCL-এর ডোমেইন পোর্টালে (bdia.btcl.com.bd) সার্চ করুন।
- ট্রেডমার্ক দেখুন। পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (DPDT, dpdt.gov.bd) ট্রেডমার্কের দেখাশোনা করে। ছোট করে শুরু করলে প্রথম তিনটা ধাপই যথেষ্ট। কিন্তু লোগো, প্যাকেট আর বড় স্টকে টাকা ঢালার আগে DPDT-তে সার্চের আবেদন করে নেওয়া ভালো।
- দুইজনকে ফোনে বলুন। নিয়ম ১-এর ফোনের পরীক্ষাটা দুইজনের ওপর করুন। দুইজনই ঠিক বানানে লিখলে নামটা পাস।

DPDT-র ওয়েবসাইটে ট্রেডমার্কের যে ফি-র লিস্ট দেওয়া আছে (২০২১ সালের ডিসেম্বরের গেজেট), সেখানে সার্চের আবেদন, মানে ফর্ম TM-4-এর ফি ২,০০০ টাকা লেখা। নিজের নাম ট্রেডমার্ক হিসেবে রেজিস্টার করার আবেদন, মানে ফর্ম TM-1-এর ফি ৫,০০০ টাকা। আবেদন করা যায় DPDT-র ওয়েবসাইটের "অনলাইন আবেদন" অংশ থেকে। এর সাথে ভ্যাট আলাদা লাগতে পারে, আর ফি পরে চেঞ্জও হতে পারে। তাই আবেদনের দিন ওয়েবসাইটে একবার মিলিয়ে নিন। কাজটা নিজে না বুঝলে এমন উকিল বা এজেন্ট দিয়ে করান, যিনি আগে ট্রেডমার্কের কাজ করেছেন। তাঁর ফি আলাদা।
শুরুর দিনেই ট্রেডমার্ক রেজিস্টার করার দরকার নেই। বেশিরভাগ ছোট পেজ প্রথম বছর এটা ছাড়াই চলে। কিন্তু যখন দেখবেন কাস্টমার আপনার নাম ধরে খুঁজে অর্ডার দিচ্ছেন, প্যাকেটে নাম ছাপাচ্ছেন, বা অন্য কেউ আপনার নাম নকল করতে শুরু করেছে, তখন রেজিস্টার করে নিন।
দশটা নাম থেকে একটা বাছবেন কীভাবে? একটা উদাহরণ
পুরো কাজটা একটা উদাহরণে দেখাই। উদাহরণটা বানানো, কোনো আসল দোকানের গল্প না। ধরুন রংপুরের তানভীর ঘি আর মধু বিক্রি করবেন। তিনি পনেরো মিনিট বসে খাতায় দশটা নাম লিখলেন। নামগুলো হলো তানভীরের ঘি, রংপুর ঘি হাউস, খাঁটিঘর, বাড়ির স্বাদ, Pure Ghee BD, মধু, Desi Organic Food Zone, ঘিওয়ালা, গাওয়া বাড়ি, আর চাকের মধু।
এবার ছয়টা নিয়ম দিয়ে ছাঁকা শুরু হলো।
- "মধু" প্রথমেই বাদ। Meta-র নিয়মে শুধু একটা সাধারণ শব্দ দিয়ে পেজের নাম হয় না।
- "Desi Organic Food Zone" বাদ গেল ফোনের পরীক্ষায়। বন্ধু লিখলেন "Deshi Organik Food Jone"।
- "বাড়ির স্বাদ" বাদ গেল বানানের নিয়মে, কারণ ইংরেজিতে এর তিন রকম বানান দাঁড়ায়।
- "তানভীরের ঘি", "রংপুর ঘি হাউস", "ঘিওয়ালা" আর "চাকের মধু" বাদ গেল নিয়ম ৬-এ। তানভীর ঘি আর মধু দুটোই বেচবেন, তাই শুধু একটা প্রোডাক্টের নাম তাঁর ব্যবসার সাথে মেলে না।
- "Pure Ghee BD" একই কারণে বাদ। তার ওপর এটা নাম কম, বর্ণনা বেশি।
বাকি থাকল দুইটা, খাঁটিঘর আর গাওয়া বাড়ি। দুইটাতেই পাঁচ মিনিটের চেক চালানো হলো। ধরুন গাওয়া বাড়ি নামে ফেসবুকে ঘির একটা পেজ পাওয়া গেল, তাই সেটা বাদ। খাঁটিঘর নামে গুগলে বা ফেসবুকে একই ধরনের কোনো দোকান এলো না, ইউজারনেমও খালি, আর ধরুন .com ডোমেইনটাও খালি পাওয়া গেল। তানভীরের নাম হলো খাঁটিঘর।

তবে খাঁটিঘরেও একটা ছোট সমস্যা থেকে যায়। "ঘর" শব্দটা কেউ ghor লেখেন, কেউ ghar। এটা পুরোপুরি এড়ানো যায় না। তানভীর ঠিক করলেন সব জায়গায় Khatighor লিখবেন। পেজের ইউজারনেম, ডোমেইন, প্যাকেটের স্টিকার, কুরিয়ারের মার্চেন্ট নাম, সবখানে একই বানান থাকবে। হাতে টাকা থাকলে ghar বানানের ডোমেইনটাও কিনে মূল সাইটে রিডাইরেক্ট করে রাখা যায়, তবে শুরুতে এটা জরুরি না।
এই উদাহরণ থেকে যেটা বোঝার, নাম ঠিক করতে বেশি নাম ভাবতে হয় না, নিয়ম ধরে কাটতে হয়। দশটা নাম লিখে নিয়ম ধরে কাটলে আধা ঘণ্টায় কাজ শেষ হয়। আর মাথায় নাম ঘুরিয়ে রাখলে সেটা এক সপ্তাহেও শেষ হয় না।
ফেসবুক পেজের নাম পরে চেঞ্জ করা যায় কি?
যায়, তবে বিনা খরচে না। পেজে নাম চেঞ্জ করার মতো অ্যাক্সেস থাকলে আপনি নাম চেঞ্জের রিকোয়েস্ট পাঠাতে পারেন। অক্টোবর ২০২৬-এ Meta-র হেল্প পেজে কম্পিউটার থেকে ধাপগুলো এভাবে লেখা আছে। প্রোফাইল ছবিতে ক্লিক করে See all profiles থেকে পেজটা বেছে নিন। তারপর পেজের ছবিতে ক্লিক করে Settings and privacy, তারপর Settings, তারপর Page setup-এ যান। সেখানে Name সিলেক্ট করে পেজের নামের পাশে Edit চাপুন, নতুন নাম লিখে Review change চাপুন, পাসওয়ার্ড দিয়ে Request change চাপুন। ফেসবুক মাঝে মাঝে এই মেনুর নাম চেঞ্জ করে, তাই আপনার স্ক্রিনে একটু অন্যরকম দেখাতে পারে।
সব সময় অপশনটা পাবেন না। Meta-র একই হেল্প পেজে লেখা আছে, কিছুদিন আগে আপনি বা অন্য কেউ নাম চেঞ্জ করে থাকলে, অথবা পেজে কোনো লিমিট থাকলে, নাম চেঞ্জ করা না-ও যেতে পারে। ঠিক কত দিন অপেক্ষা করতে হয়, সেটা সেখানে লেখা নেই। আর নতুন নামটাকেও ওপরের গাইডলাইন মানতে হবে।
নিয়ম যা-ই হোক, নাম চেঞ্জের আসল খরচ কাস্টমারের দিকে। যাঁরা পুরনো নাম মনে রেখেছেন, তাঁরা খুঁজে আপনাকে পান না। ছাপানো প্যাকেট আর স্টিকার নষ্ট হয়। আর কোনো কোনো কাস্টমার নাম চেঞ্জ দেখে ভাবেন পেজটা হাতবদল হয়েছে। তাই চেঞ্জ করতেই হলে শুরুর দিকে একবার করুন, যখন ফলোয়ার কম। বারবার চেঞ্জ করবেন না। নাম চেঞ্জ করার পর কয়েক সপ্তাহ পোস্টে লিখে দিন "আগের নাম অমুক, এখন আমরা তমুক", যাতে পুরনো কাস্টমার গুলিয়ে না ফেলেন।
নামের সাথে ডোমেইন মিলিয়ে নেবেন যেভাবে
সবচেয়ে ভালো হলো পেজের ইউজারনেম আর ডোমেইন হুবহু এক হওয়া, যেমন facebook.com/khatighor আর khatighor.com। তাহলে কাস্টমারকে একটাই জিনিস মনে রাখতে হয়। পোস্টে বা প্যাকেটের স্টিকারে লিংক লিখতেও সুবিধা হয়।
.com আর .com.bd-র মধ্যে পার্থক্যটা জেনে রাখুন। .com যে কেউ যেকোনো ডোমেইন কোম্পানির কাছ থেকে কিনতে পারেন। .com.bd চালায় BTCL, আর এর নিয়ম ঠিক করে BTRC-র ডোমেইন গাইডলাইন। সেই গাইডলাইনে লেখা আছে, .com.bd পায় শুধু কমার্শিয়াল প্রতিষ্ঠান। ডোমেইনের নামটাও হতে হয় আপনার ব্যবসার নাম, তার সংক্ষেপ, নিজের ট্রেডমার্ক, বা যে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস আপনি দেন তার নাম। আবেদনের সাথে NID আর ট্রেড লাইসেন্সের মতো কাগজ জমা দিতে হয়, সেগুলো চেক করার পরে ডোমেইন চালু হয়। ঠিক কোন কাগজ লাগবে, কেনার আগে BTCL-এর পোর্টালে দেখে নিন। ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া বাসা থেকে শুরু করলে তাই .com সহজ।
ডোমেইনের নামে শুধু ইংরেজি অক্ষর, সংখ্যা আর হাইফেন (-) চলে, আর হাইফেন শুরুতে বা শেষে বসে না। BTRC-র গাইডলাইনে .bd ডোমেইনের জন্য এটাই লেখা। চলে বলেই হাইফেন নেবেন না। ফোনে "খাঁটি হাইফেন ঘর ডট কম" বললে অর্ধেক মানুষ হাইফেন বাদ দিয়ে লেখেন, আর অন্য কারো সাইটে চলে যান।
.com খালি না পেলে নাম ফেলে দেওয়ার আগে কয়েকটা অপশন দেখুন। নামের শেষে ছোট একটা শব্দ জুড়তে পারেন, যেমন khatighorbd.com বা khatighorshop.com। ট্রেড লাইসেন্স থাকলে .com.bd নিতে পারেন। কিন্তু .com-এ যদি একই প্রোডাক্টের অন্য কোনো দোকান চলে, তাহলে নামটাই বাদ দিন। কারণ আপনার কাস্টমার গুগলে নাম লিখলে আগে ওদের সাইটটাই পাবেন।
ডোমেইনে বছরে কত খরচ, আর হোস্টিং-সহ পুরো ওয়েবসাইটের হিসাব ই-কমার্স ওয়েবসাইট বানাতে কত টাকা লাগে লেখায় টেবিলে দেওয়া আছে। এখানে শুধু একটা কথা মনে রাখুন। ডোমেইন সবসময় নিজের নামে, নিজের ইমেইলে কিনবেন, ডেভেলপার বা অন্য কারো অ্যাকাউন্টে না।
নাম ঠিক করার পর আজ কী করবেন?
আজকের কাজটা ছোট। খাতায় দশটা নাম লিখুন। ছয়টা নিয়ম দিয়ে কাটুন, বাকি দুই-তিনটায় পাঁচ মিনিটের চেক চালান। যেটা টিকে যায়, সেটার বাংলা আর ইংরেজি বানান একটা কাগজে লিখে রাখুন, যাতে আপনি আর আপনার সাথে যাঁরা কাজ করেন, সবাই একই বানান লেখেন। তারপর আজই পেজের ইউজারনেমটা নিয়ে নিন।
নাম আর ডোমেইন ঠিক হয়ে গেলে WinningSeller-এ অনলাইন স্টোর বানিয়ে নিজের ডোমেইন জুড়ে দিতে পারেন। সেখানে ব্র্যান্ড কিটে লোগো আপলোড করলে লিংক শেয়ারের ছবিটা লোগো থেকেই তৈরি হয়ে যায়, আর লোগোর রং দেখে দোকানের রং বেছে নেওয়া যায়। এতে নাম আর চেহারা সবখানে এক থাকে। কী কী আছে, সব ফিচার এখানে দেখে নিন। আর নামের পরে প্রোডাক্ট, কুরিয়ার, পেমেন্ট আর অ্যাড, পুরো ব্যবসাটা ধাপে ধাপে সাজাতে চাইলে অনলাইন ব্যবসা শুরুর পুরো গাইডটা পড়ে নিন।
সাধারণ প্রশ্ন
অনলাইন ব্যবসার জন্য কেমন নাম ভালো?
যে নাম ফোনে একবার শুনেই কাস্টমার বানান করে লিখতে পারেন, আর বাংলা থেকে ইংরেজিতে লিখলে একটাই বানান দাঁড়ায়, সেটাই ভালো নাম। সাথে দেখে নিন ফেসবুকে একই নামের পেজ নেই, ডোমেইনটা খালি, আর নামটা কোনো ব্র্যান্ডের নামের কাছাকাছি না। দুই শব্দের মধ্যে রাখতে পারলে সবচেয়ে ভালো।
ফেসবুক পেজের নাম কয়বার চেঞ্জ করা যায়?
Meta তাদের হেল্প পেজে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা লেখেনি। তবে সেখানে লেখা আছে, কিছুদিন আগে নাম চেঞ্জ করা হলে আবার করার অপশন না-ও পেতে পারেন। তাই একবার ভেবেচিন্তে চেঞ্জ করুন, বারবার না।
অন্য পেজের নামের সাথে মিলে গেলে কি সমস্যা হবে?
ফেসবুক একই নামে দুইটা পেজ খুলতে দেয়, কিন্তু কাস্টমার ভুল পেজে গিয়ে অর্ডার দিতে পারেন, আর একটার খারাপ রিভিউ আরেকটার গায়ে লাগে। নামটা যদি কারো রেজিস্টার করা ট্রেডমার্ক হয়, তাহলে মালিক অভিযোগ করতে পারেন। তাই শুরুতেই এমন নাম নিন, যেটা আর কারো নেই।
ব্যবসার নাম ট্রেডমার্ক করতে কত টাকা লাগে?
DPDT-র ওয়েবসাইটে যে ফি-র লিস্ট দেওয়া আছে (২০২১ সালের গেজেট), সেখানে ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশনের আবেদন ফি ৫,০০০ টাকা আর আগে থেকে খুঁজে দেখার (সার্চ) আবেদন ফি ২,০০০ টাকা লেখা। ভ্যাট আলাদা লাগতে পারে, আর উকিল বা এজেন্ট দিয়ে করালে তাঁর ফি আলাদা। শুরুর দিনেই এটা না করলেও চলে, তবে ব্র্যান্ড দাঁড়ালে করে নেওয়া ভালো।
বাংলা নাম ভালো, না ইংরেজি নাম?
যে নাম আপনার কাস্টমার সহজে মুখে বলতে আর লিখতে পারেন, সেটাই ভালো, ভাষা যেটাই হোক। বাংলা শব্দ নিলে এমন শব্দ নিন যার ইংরেজি বানান একটাই হয়। ইংরেজি শব্দ নিলে এমন শব্দ নিন যেটা জেলা শহরের মানুষও সহজে উচ্চারণ করতে পারেন।
.com না .com.bd, কোন ডোমেইন নেব?
বেশিরভাগ সেলারের জন্য .com সহজ, কারণ যে কেউ কিনতে পারেন আর মানুষ এটাই আগে টাইপ করেন। BTRC-র গাইডলাইনে .com.bd পায় শুধু কমার্শিয়াল প্রতিষ্ঠান, আর NID-সহ কাগজ চেক করার পরে তবে চালু হয়। দুটো খালি থাকলে আর ট্রেড লাইসেন্স থাকলে দুটোই নিয়ে রাখতে পারেন।
আরও পড়ুন
খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম
বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।
থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম
থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।


