WinningSeller
মার্কেটিং ও ল্যান্ডিং পেজ১২ মিনিটে পড়া যায়

গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে

গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।

গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে
এই লেখায় যা আছে
  1. গুগল সার্চ কনসোল কি, কী দেখায়
  2. মালিকানা প্রমাণ, ডোমেইনের DNS না Analytics
  3. সাইটম্যাপ কি, সাবমিট করবেন যেভাবে
  4. একটা পেজ গুগলে আছে কি না, URL Inspection
  5. "Not indexed" দেখালে কী করবেন
  6. কোন সার্চে লোক আসছে, প্রথম মাসে কী দেখবেন (উদাহরণ)
  7. কখন সার্চ কনসোল নিয়ে সময় দেবেন না
  8. আজই করে ফেলুন

গুগল সার্চ কনসোল কি, এক কথায় বললে, এটা Google-এর একটা ফ্রি টুল, যেখানে আপনার ওয়েবসাইটের দিকে গুগলের চোখ দিয়ে তাকানো যায়। কোন সার্চে আপনার দোকান গুগলে দেখা গেছে, কতজন ক্লিক করেছেন, কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে আর কোনটা নেই, কেন নেই, সব এখানে দেখায়। দোকান গুগলে তোলার কাজ তিন ধাপের। সার্চ কনসোলে দোকানের মালিকানা প্রমাণ করুন, নিজের ডোমেইনের DNS-এ একটা TXT রেকর্ড বসিয়ে (WinningSeller-এর দেওয়া ঠিকানায় এটা আজ হয় না, কেন হয় না নিচে বলছি)। তারপর দোকানের sitemap.xml জমা দিন। আর নতুন জরুরি পেজ URL Inspection-এ দেখে দরকার হলে একবার Request indexing চাপুন।

দোকান বানিয়ে প্রথম সপ্তাহে প্রায় সবাই একই কাজ করেন। গুগলে দোকানের নাম লিখে খোঁজেন, কিছু আসে না, আর মন খারাপ হয়। পরদিন আবার খোঁজেন। আসলে নতুন দোকান গুগলে আসতে সময় লাগে, আর এই অপেক্ষার সময়ে অন্ধকারে না থেকে কোথায় তাকাবেন, সেটাই সার্চ কনসোল। দোকানে এসইও কেন দরকার আর প্রোডাক্টের নাম-বর্ণনায় কী লিখবেন, সেটা অনলাইন শপের এসইও-র লেখায় আছে। এখানে শুধু সার্চ কনসোল বসানো আর পড়ার কাজ, হাতে-কলমে।

গুগল সার্চ কনসোল কি, কী দেখায়

সার্চ কনসোল খোলা হয় search.google.com/search-console ঠিকানায়, একটা Google অ্যাকাউন্ট দিয়ে। ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ Search Console Help-এর পরিচয়ের পেজে এটাকে Google-এর একটা ফ্রি সার্ভিস বলা আছে। একই পেজে আরেকটা কথা লেখা, যেটা অনেকের ভুল ধারণা ভাঙে। গুগলের সার্চে আসার জন্য সার্চ কনসোলে সাইন আপ করা লাগে না। মানে এটা গুগলে ঢোকার দরজা না, গুগল আপনাকে কীভাবে দেখছে তার আয়না।

দোকানের মালিকের কাজে লাগে মূলত তিনটা রিপোর্ট। Performance রিপোর্টে দেখায় মানুষ কী লিখে খুঁজে আপনার পেজ দেখেছেন (Impressions), কতবার ক্লিক করেছেন (Clicks), দেখার মধ্যে কত ভাগ ক্লিক (CTR), আর গড়ে আপনার পেজ কত নম্বরে ছিল (Average position)। Pages রিপোর্টে, যার পুরো নাম Page indexing, দেখায় কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে আর কোনটা কেন নেই। আর Sitemaps রিপোর্টে দেখায় আপনার জমা দেওয়া সাইটম্যাপ গুগল পড়তে পেরেছে কি না।

একজন তরুণ সেলার দোকানের ছোট ডেস্কে বসে ল্যাপটপে Search Console-এর Overview দেখছেন, পর্দায় ক্লিকের একটা ছোট ঢেউখেলানো গ্রাফ, পাশে একটা খাতায় তিনটা সার্চের কথা লেখা
সপ্তাহে একবার দশ মিনিট, এর বেশি লাগে না

শুরুতে একটা জিনিস মেনে নিন। নতুন দোকানের প্রথম কয়েক সপ্তাহ Performance রিপোর্ট প্রায় ফাঁকা থাকে, শূন্য বা দুই-চারটা ইম্প্রেশন। এটা স্বাভাবিক। এই সময় রোজ ঘণ্টায় ঘণ্টায় রিপোর্ট খুলে টেনশন বাড়াবেন না। সপ্তাহে একদিন একটা নির্দিষ্ট সময়ে খুলুন, সংখ্যাগুলো খাতায় লিখে রাখুন। তিন-চার সপ্তাহ পরে খাতা দেখলেই বুঝবেন কোন দিকে যাচ্ছে।

মালিকানা প্রমাণ, ডোমেইনের DNS না Analytics

সার্চ কনসোল কাউকে আরেকজনের ওয়েবসাইটের তথ্য দেখায় না। তাই প্রথম কাজ হলো প্রমাণ করা যে দোকানটা আপনার। এখানে দুই রকম property থাকে, আর কোনটা নেবেন তার ওপর নির্ভর করে কীভাবে প্রমাণ করবেন।

Domain property মানে পুরো ডোমেইন একসাথে, যেমন apnarshop.com। ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ Search Console Help-এর property-র পেজে লেখা আছে, এটা www সহ সব সাবডোমেইন আর http-https দুটোই ধরে, আর এটা প্রমাণ করা যায় শুধু DNS রেকর্ড দিয়ে। URL-prefix property মানে শুধু একটা নির্দিষ্ট ঠিকানা দিয়ে শুরু হওয়া পেজ, যেমন https://www.apnarshop.com। এর জন্য প্রমাণের কয়েকটা পথ আছে, একটা HTML ফাইল আপলোড, পেজের head অংশে একটা meta ট্যাগ, Google Analytics, বা Google Tag Manager।

দুটো বাক্সের নকশা পাশাপাশি, বাঁয়ের বড় বাক্সে লেখা Domain, ভেতরে www, http আর https-এর তিনটা ছোট ঠিকানা আর নিচে DNS-এর চাবির চিহ্ন, ডানের ছোট বাক্সে লেখা URL-prefix, ভেতরে একটাই ঠিকানা আর নিচে ফাইল, ট্যাগ আর Analytics-এর তিনটা চিহ্ন
Domain সব ঠিকানা একসাথে ধরে, কিন্তু প্রমাণ শুধু DNS-এ

দোকান যদি নিজের ডোমেইনে চলে, তাহলে Domain property-ই নিন, অন্য কিছু ভাববেন না। কাজটা এরকম। সার্চ কনসোলে Add property চেপে Domain-এর ঘরে শুধু ডোমেইনটা লিখুন, https বা www ছাড়া। সে একটা লম্বা TXT রেকর্ড দেবে, google-site-verification দিয়ে শুরু। ডোমেইন যেখান থেকে কিনেছেন, সেখানে লগইন করে DNS-এর জায়গায় একটা নতুন TXT রেকর্ড যোগ করুন। Host-এর ঘর খালি রাখুন বা @ লিখুন, আর Value-তে রেকর্ডটা হুবহু পেস্ট করুন। তারপর সার্চ কনসোলে ফিরে Verify চাপুন। DNS-এর প্যানেল কোথায় থাকে, সেটা ডোমেইন কেনার লেখায় ধাপে ধাপে আছে।

প্রথমবারে Verify না হলে ঘাবড়াবেন না। Search Console Help-এর মালিকানা প্রমাণের পেজে লেখা আছে, নতুন রেকর্ড গুগলের কাছে পৌঁছাতে কয়েক মিনিট থেকে কয়েক দিন লাগতে পারে, আর না হলে এক-দুই দিন পরে আবার চেষ্টা করতে বলা আছে। তাই রেকর্ড বসিয়ে দিনের অন্য কাজে চলে যান, পরদিন সকালে Verify চাপুন।

এবার সোজা কথাটা বলি, কারণ এখানে ঘুরিয়ে বললে আপনার একটা সন্ধ্যা নষ্ট হবে। WinningSeller-এর দেওয়া ঠিকানায় (সাবডোমেইনে) চলা দোকান আজকের দিনে সার্চ কনসোলে ভেরিফাই করা যায় না। মার্চেন্টের দোকানে সার্চ কনসোলের meta ট্যাগ বসানোর কোনো ঘর নেই, আর HTML ফাইল আপলোড করারও উপায় নেই। Analytics বা Tag Manager দিয়ে প্রমাণ করতে Google চায় কোডটা পেজের head অংশে থাকুক। WinningSeller দোকান দ্রুত খোলার জন্য Google-এর ট্যাগ বসায় পেজের একদম শেষে, head-এ না। তাই ওই পথে চেষ্টা করলে Verify হবে না। নিজের ডোমেইন লাগিয়ে তার DNS-এ TXT রেকর্ড, আজকে এটাই একমাত্র পথ, আর এটা কাজ করে।

নিজের ডোমেইন না থাকলে কী হবে? দোকান তবুও গুগলে আসবে। শুধু সার্চ কনসোলের রিপোর্টগুলো আপনি দেখতে পাবেন না, কারণ WinningSeller-এর দেওয়া ঠিকানার DNS আপনার হাতে না। গুগল নিজেই দোকানের robots.txt থেকে সাইটম্যাপ খুঁজে নেয়, সেটা পরের অংশে বলছি। নিজের ডোমেইন সব প্ল্যানে নেই, কোন প্ল্যানে আছে সেটা দামের পেজে দেখে নিন। আর ডোমেইনটাকে "প্রধান ঠিকানা" করলে দোকানের পুরনো ঠিকানায় কেউ এলে নিজে থেকেই নতুন ডোমেইনে চলে যান, তাই আগে ছড়ানো লিংকগুলো নষ্ট হয় না।

সাইটম্যাপ কি, সাবমিট করবেন যেভাবে

সাইটম্যাপ হলো দোকানের জরুরি পেজগুলোর ঠিকানার একটা লিস্ট, গুগলের জন্য লেখা। গুগল সাধারণত এক পেজের লিংক ধরে আরেক পেজে যায়। নতুন দোকানে লিংক কম, তাই কিছু পেজ খুঁজে পেতে দেরি হয়। সাইটম্যাপ গুগলের হাতে পুরো লিস্টটা একবারে ধরিয়ে দেয়, আর প্রতিটা পেজ শেষ কবে বদলেছে সেটাও বলে।

WinningSeller-এ এই ফাইল আপনাকে বানাতে হয় না। প্রতিটা পাবলিশ করা দোকানে আপনার-ঠিকানা/sitemap.xml নিজে থেকেই থাকে। তাতে থাকে হোম পেজ, সব প্রোডাক্টের পেজ, চালু থাকা প্রতিটা ক্যাটাগরি, পাবলিশ করা ল্যান্ডিং পেজ আর চালু প্রতিটা প্রোডাক্ট, প্রতিটার শেষ বদলের তারিখসহ। নতুন প্রোডাক্ট চালু করলে বা ক্যাটাগরি বানালে লিস্টে নিজেই যোগ হয়। পাশে থাকে robots.txt, যেটা সার্চ ইঞ্জিনকে সাইটম্যাপের ঠিকানা বলে দেয়, আর চেকআউট, কার্ট, সার্চ আর অর্ডারের মতো পেজ থেকে দূরে থাকতে বলে। ওগুলো গুগলে আসার জিনিস না।

একটা ব্যাপার মাথায় রাখুন। দোকান পাবলিশ না করা পর্যন্ত robots.txt সার্চ ইঞ্জিনকে পুরো দোকান থেকেই দূরে থাকতে বলে, আর সাইটম্যাপ থাকে খালি। এটা ইচ্ছা করেই, যাতে আধা বানানো দোকান গুগলে না ওঠে। তাই সাইটম্যাপ জমা দেবেন দোকান পাবলিশ করার পরে।

জমা দেওয়ার কাজ চার ধাপের। প্রথমে ব্রাউজারে নিজে একবার আপনার-ডোমেইন/sitemap.xml খুলে দেখুন, ভেতরে আপনার পেজগুলোর লিংক আসছে কি না। তারপর সার্চ কনসোলের বাঁ পাশে Sitemaps খুলুন। Add a new sitemap ঘরে সাইটম্যাপের পুরো ঠিকানা লিখুন, যেমন https://apnarshop.com/sitemap.xml, হোম পেজের ঠিকানা না। ঘরের সামনে আগে থেকেই দোকানের ঠিকানা লেখা থাকলে শুধু sitemap.xml লিখলেই হয়। শেষে Submit চাপুন।

একটা ফোনের পর্দার নকশা, Search Console-এর Sitemaps অংশ খোলা, ওপরে Add a new sitemap ঘরে sitemap.xml লেখা, নিচের লিস্টে সেই সাইটম্যাপের পাশে সবুজ রঙে Success আর পাওয়া পেজের সংখ্যা
Success মানে গুগল ফাইলটা পড়তে পেরেছে, সব পেজ লিস্টে উঠেছে তা না

কিছুক্ষণ পরে পাশে একটা অবস্থা দেখাবে। ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ Sitemaps report-এর হেল্প পেজে তিনটার মানে এভাবে লেখা আছে। Success মানে গুগল ফাইলটা পড়েছে, কোনো সমস্যা নেই। Has errors মানে পড়েছে, কিন্তু কিছু ভুল পেয়েছে, তবুও ঠিক থাকা লিংকগুলো সে নেবে। Couldn't fetch মানে ফাইলটাই আনতে পারেনি। নতুন জমা দেওয়ার পরপর Couldn't fetch দেখালেই ঘাবড়াবেন না। একদিন পরে দেখুন, তখনও থাকলে ঠিকানাটা আবার মিলিয়ে নিন।

একই পেজে আরেকটা জরুরি কথা আছে। সাইটম্যাপে থাকা পেজ গুগল পড়বে বা লিস্টে তুলবে, এমন কোনো গ্যারান্টি নেই। সাইটম্যাপ গুগলকে রাস্তা দেখায়, ঢুকিয়ে দেয় না। আর robots.txt-এর ভেতর থেকে পাওয়া সাইটম্যাপ গুগল খুঁজে পায় ঠিকই, কিন্তু এই রিপোর্টে সেটা দেখায় না। তাই নিজে একবার জমা দিলে রিপোর্টটা আপনার চোখের সামনে থাকে।

একটা পেজ গুগলে আছে কি না, URL Inspection

সার্চ কনসোলের একদম ওপরে একটা সার্চের ঘর আছে, ওটাই URL Inspection। সেখানে দোকানের যেকোনো পেজের পুরো ঠিকানা পেস্ট করলে বলে দেয় পেজটা গুগলের লিস্টে আছে কি না, শেষ কবে গুগল সেটা পড়েছে, আর না থাকলে কেন নেই।

নতুন একটা জরুরি পেজ, যেমন নতুন কালেকশনের ক্যাটাগরি বা অফারের ল্যান্ডিং পেজ, পাবলিশ করার পর এখানে দেখুন। লিস্টে না থাকলে Request indexing চাপুন। ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ URL Inspection-এর হেল্প পেজে লেখা আছে, চাপলে পেজটা গুগলের লাইনে যায়, কিন্তু লিস্টে আসবে তার গ্যারান্টি নেই। আর এই রিকোয়েস্টের প্রতিদিনের একটা সীমা আছে, তাই অনেক পেজের জন্য সাইটম্যাপই ভালো রাস্তা।

নতুন দোকানের মালিকেরা এখানে একটা ভুল খুব করেন। প্রতিদিন একই পেজে গিয়ে আবার Request indexing চাপেন, যেন চাপলেই তাড়াতাড়ি হবে। Google এমন কিছু বলে না। একই হেল্প পেজে সময়ের কথা বলা আছে, সাধারণত এক দিনের মতো, কখনো এক-দুই সপ্তাহ। একবার চেপে খাতায় তারিখ লিখে রাখুন, সাত দিন পরে আবার দেখুন।

আরেকটা কাজের অভ্যাস। প্রতিটা প্রোডাক্টের জন্য আলাদা করে রিকোয়েস্ট দেবেন না। একশ প্রোডাক্টের দোকানে একশবার চাপার দরকার নেই, সাইটম্যাপ সেই কাজটাই করছে। Request indexing রাখুন শুধু সেই কয়েকটা পেজের জন্য যেগুলো আপনার বিক্রির কেন্দ্রে।

"Not indexed" দেখালে কী করবেন

Pages রিপোর্ট খুলে প্রথমবার অনেকে ভয় পান। ওপরে দুটো সংখ্যা, Indexed আর Not indexed, আর দ্বিতীয়টা প্রায়ই বড়। মনে হয় দোকানে বড় কোনো গোলমাল। বেশিরভাগ সময় তা না। ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ Page indexing report-এর হেল্প পেজে Google নিজেই বলেছে, প্রায় সব সাইটেরই কিছু পেজ লিস্টের বাইরে থাকে, আর সাইটের প্রতিটা পেজ লিস্টে উঠবে এমন আশা করা ঠিক না। দেখার বিষয় হলো জরুরি পেজগুলো আছে কি না।

নিচে কারণগুলোর লিস্ট থাকে। দোকানের মালিকের চোখে সবচেয়ে বেশি পড়ে এই কয়েকটা, হেল্প পেজের ব্যাখ্যা ধরে।

Discovered - currently not indexed মানে গুগল পেজটার ঠিকানা পেয়েছে, কিন্তু এখনো পড়েনি। নতুন দোকানে এটা খুব সাধারণ। কিছু করার নেই, অপেক্ষা করুন, আর পেজটাকে হোম বা ক্যাটাগরি পেজ থেকে লিংক দিন।

Crawled - currently not indexed মানে পড়েছে, কিন্তু এখনো লিস্টে তোলেনি, পরে তুলতেও পারে। হেল্প পেজ বলে আবার জমা দেওয়ার দরকার নেই। প্রায় একই রকম দশটা প্রোডাক্টের পেজে একই দুই লাইনের বর্ণনা থাকলে এমন হয় বেশি। প্রতিটা পেজে নিজের আলাদা কথা লিখুন।

Page with redirect মানে ঠিকানাটা অন্য ঠিকানায় পাঠিয়ে দেয়। নিজের ডোমেইন লাগানোর পরে দোকানের পুরনো ঠিকানার পেজগুলো এখানে আসবে, কারণ সেগুলো নতুন ডোমেইনে চলে যায়। এটা ঠিকই আছে।

URL marked 'noindex' মানে পেজটা নিজেই গুগলকে বলছে লিস্টে না তুলতে। WinningSeller-এ সাইজ, রং বা দাম দিয়ে ফিল্টার করা লিস্টের পেজ ইচ্ছা করেই এমন থাকে, যাতে একই প্রোডাক্টের শত রকম ফিল্টার করা পেজ গুগলে না জমে। আসল লিস্টের পেজ ঠিকই লিস্টে যায়।

Alternate page with proper canonical tag আর Duplicate without user-selected canonical, এই দুটোকেও হেল্প পেজ ভুল হিসেবে দেখে না। একই জিনিসের একাধিক ঠিকানা থাকলে গুগল একটাকে আসল ধরে, বাকিগুলো এখানে রাখে।

একটা নকশা, বাঁয়ে Pages রিপোর্টের মতো একটা লিস্ট, প্রতিটা কারণের পাশে রঙিন দাগ, সবুজ দাগে Page with redirect আর noindex লেখা "ঠিক আছে", হলুদ দাগে Discovered লেখা "অপেক্ষা করুন", লাল দাগে Not found 404 লেখা "দেখুন"
সব Not indexed সমস্যা না। লাল দাগগুলোই আসল কাজ

তাহলে কোনটা আসল সমস্যা? যেখানে আপনার বিক্রির জরুরি পেজ আটকে আছে। কোনো প্রোডাক্ট বা ক্যাটাগরির পেজ Not found (404) দেখালে বুঝবেন পেজটা মুছে ফেলেছেন বা ঠিকানা বদলেছেন, অথচ কোথাও পুরনো লিংক রয়ে গেছে। আর হোম পেজ বা প্রধান ক্যাটাগরি মাসের পর মাস লিস্টের বাইরে থাকলে সেটা নিয়ে ভাবার সময়। বাকিগুলো দেখে রাখুন, ঘুম নষ্ট করবেন না।

কোন সার্চে লোক আসছে, প্রথম মাসে কী দেখবেন (উদাহরণ)

দোকান কয়েক সপ্তাহ গুগলে থাকার পরে Performance রিপোর্টই সবচেয়ে কাজের। ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ এর হেল্প পেজ অনুযায়ী রিপোর্ট খুললে ডিফল্টে গত তিন মাসের হিসাব দেখায়, আর একদম সাম্প্রতিক দিনগুলোর সংখ্যা কয়েক ঘণ্টায় বদলাতে পারে। নিচের Queries ট্যাবে থাকে মানুষ কী লিখে খুঁজেছেন, আর Pages ট্যাবে কোন পেজ দেখা গেছে।

এখান থেকে সবচেয়ে কাজের খোঁজ হলো এমন সার্চ, যেখানে আপনার পেজ অনেকবার দেখা গেছে কিন্তু ক্লিক কম। মানে গুগল আপনাকে দেখাচ্ছে, কিন্তু আপনার শিরোনাম দেখে মানুষ চাপ দিচ্ছেন না। একটা বানানো হিসাবে দেখি, সংখ্যাগুলো কোনো দোকানের রিপোর্ট থেকে নেওয়া না।

উদাহরণ। ধরুন আপনি সুতি পাঞ্জাবি বেচেন। Queries ট্যাবে দেখলেন "সুতি পাঞ্জাবি দাম" সার্চে এক মাসে আপনার ক্যাটাগরির পেজ ১২,০০০ বার দেখা গেছে, ক্লিক ১২০টা। মানে CTR ১২০ ÷ ১২,০০০ = ১%। আপনার ক্যাটাগরির নাম ছিল শুধু "Panjabi"। আপনি নামটা বদলে করলেন "সুতি পাঞ্জাবি", আর ক্যাটাগরির বর্ণনার শুরুতে লিখলেন কোন দাম থেকে কোন দাম পর্যন্ত পাঞ্জাবি আছে। ধরুন পরের মাসে দেখা যাওয়া একই থাকল আর CTR হলো ২%, মানে ২৪০টা ক্লিক। বাড়তি ১২০ জন এলেন, একটা টাকাও না দিয়ে। এই ১২০টা ক্লিক ফেসবুক অ্যাডে কিনতে প্রতিটা ৫ টাকা ধরলে লাগত ১২০ × ৫ = ৬০০ টাকা। আর ক্লিক করে আসা একশ জনে দুইজন অর্ডার করলে বাড়তি ১২০ জনে প্রায় ২টা বাড়তি অর্ডার, প্রতিটায় ৩০০ টাকা হাতে থাকলে ৬০০ টাকা বাড়তি লাভ, প্রতি মাসে।

নাম বদলালেই CTR দ্বিগুণ হবে, এমন কোনো কথা নেই। পেজ কত নম্বরে দেখাচ্ছে, পাশে কে আছে, সবকিছুর ওপর নির্ভর করে। কিন্তু দিকটা পরিষ্কার। যে শব্দে মানুষ খুঁজছেন, সেই শব্দ শিরোনামে থাকলে চাপ পড়ে বেশি। তাই প্রথম মাসের কাজ এটুকু। ক্লিক আনা তিনটা সার্চ খাতায় লিখুন, আর সেই শব্দগুলো প্রোডাক্ট আর ক্যাটাগরির নামে বসান। আর কোন ক্লিক শেষে অর্ডারে গড়াল, সেটা সার্চ কনসোল দেখায় না, সেটা দেখায় Google Analytics। দোকানে কীভাবে বসাবেন, সেটা গুগল অ্যানালিটিক্সের লেখায় আছে।

কখন সার্চ কনসোল নিয়ে সময় দেবেন না

সব দোকানের এখনই সার্চ কনসোল লাগে না। আপনার প্রায় সব অর্ডার যদি ফেসবুকের অ্যাড থেকে একটা ল্যান্ডিং পেজে আসে, আর দোকানে চার-পাঁচটার বেশি প্রোডাক্ট না থাকে, তাহলে আগে অ্যাড আর অর্ডার ফর্মে মন দিন। গুগল থেকে বিক্রি আসতে মাসের পর মাস লাগে, আর অল্প প্রোডাক্টের দোকানে গুগলে দেখানোর মতো পেজও কম।

যাঁরা মানুষ এলাকা ধরে খোঁজেন এমন দোকান চালান, যেমন শোরুম বা দোকানে এসে নেওয়ার ব্যবস্থা আছে, তাঁদের জন্য আগে কাজের জিনিস হলো Google Maps-এ দোকান তোলা। সেটা সার্চ কনসোল না, আলাদা একটা জিনিস, নাম Google Business Profile। কীভাবে খুলবেন, সেটা গুগল বিজনেস প্রোফাইলের লেখায় আছে।

আর একটা ভুলের কথা বলি। কেউ কেউ সার্চ কনসোল খুলে প্রতিদিন সংখ্যা দেখেন, সামান্য ওঠানামায় প্রোডাক্টের নাম বদলে দেন, আবার বদলান। এতে গুগল যা শিখছিল সেটা বারবার ভেঙে যায়। একটা বদল করুন, তারপর অন্তত তিন-চার সপ্তাহ অপেক্ষা করুন, তারপর বিচার করুন। এই ধৈর্য না থাকলে সার্চ কনসোল না খোলাই ভালো।

আজই করে ফেলুন

দোকান পাবলিশ করা থাকলে আর নিজের ডোমেইন লাগানো থাকলে এক ঘণ্টাতেই কাজটা হয়ে যায়।

  1. ব্রাউজারে আপনার-ডোমেইন/robots.txt আর আপনার-ডোমেইন/sitemap.xml খুলুন। দ্বিতীয়টায় আপনার প্রোডাক্টের লিংক আসছে কি না দেখুন।
  2. search.google.com/search-console-এ দোকানের Gmail দিয়ে ঢুকে Domain property-তে শুধু ডোমেইনটা লিখুন।
  3. যে TXT রেকর্ড দেয়, সেটা ডোমেইনের DNS-এ নতুন রেকর্ড হিসেবে যোগ করুন। পুরনো কোনো রেকর্ড মুছবেন না।
  4. Verify চাপুন। না হলে পরদিন আবার চাপুন।
  5. Sitemaps-এ sitemap.xml জমা দিন, আর একটা খাতায় তারিখ লিখে রাখুন।
  6. সবচেয়ে বেশি বিকোয় এমন একটা প্রোডাক্টের পেজ URL Inspection-এ দেখুন। লিস্টে না থাকলে একবার Request indexing চাপুন।
  7. ফোনে একটা রিমাইন্ডার দিন, প্রতি সপ্তাহে একই দিনে দশ মিনিট সার্চ কনসোল দেখার।

গুগল থেকে বিক্রি ধীরে আসে, কিন্তু একবার এলে প্রতিটা ক্লিকের জন্য আলাদা টাকা দিতে হয় না। আজকের এক ঘণ্টা সেই দরজাটা খুলে রাখে, আর সার্চ কনসোল দেখায় দরজা দিয়ে কে ঢুকছেন।

সাধারণ প্রশ্ন

গুগল সার্চ কনসোল কি ফ্রি?

হ্যাঁ, পুরো ফ্রি। Google-এর নিজের হেল্প পেজে এটাকে ফ্রি সার্ভিস বলা আছে। খুলতে শুধু একটা Google অ্যাকাউন্ট লাগে, আর মালিকানা প্রমাণ করতে হয়।

সার্চ কনসোল ছাড়া কি ওয়েবসাইট গুগলে আসে না?

আসে। Google-এর হেল্প পেজে পরিষ্কার লেখা আছে, গুগলের সার্চে আসার জন্য সার্চ কনসোলে সাইন আপ করা লাগে না। সার্চ কনসোল শুধু দেখায় গুগল আপনার দোকানকে কীভাবে দেখছে, আর সমস্যা কোথায়।

সাইটম্যাপ কি?

সাইটম্যাপ হলো একটা ফাইল, যেখানে দোকানের সব জরুরি পেজের ঠিকানা এক লিস্টে থাকে, যাতে গুগল সহজে খুঁজে পায়। সাধারণত এর ঠিকানা হয় আপনার-ডোমেইন/sitemap.xml। WinningSeller-এর প্রতিটা পাবলিশ করা দোকানে এটা নিজে থেকেই থাকে।

সাইটম্যাপ সাবমিট করলেই কি সব পেজ গুগলে আসবে?

না। Google-এর Sitemaps report-এর হেল্প পেজে লেখা আছে, সাইটম্যাপে থাকা পেজ গুগল পড়বে বা লিস্টে তুলবে, এমন কোনো গ্যারান্টি নেই। সাইটম্যাপ শুধু পেজগুলো খুঁজে পাওয়া সহজ করে।

Request indexing কতবার চাপা যায়?

প্রতিদিনের একটা সীমা আছে, Google-এর URL Inspection-এর হেল্প পেজে সেটা বলা আছে। একই পেজে বারবার চাপলে কাজ তাড়াতাড়ি হয়, এমন কিছু Google বলে না। নতুন পেজে একবার চাপুন, তারপর কয়েক দিন অপেক্ষা করুন।

নিজের ডোমেইন ছাড়া কি সার্চ কনসোলে দোকান যোগ করা যায়?

WinningSeller-এর দেওয়া ঠিকানায় (সাবডোমেইনে) চলা দোকান আজ সার্চ কনসোলে ভেরিফাই করা যায় না। meta ট্যাগের ঘর নেই, HTML ফাইল রাখা যায় না, আর দোকানের Google ট্যাগ পেজের head-এ বসে না বলে Analytics বা Tag Manager দিয়েও হয় না। এতে দোকান গুগলে আসা আটকায় না, শুধু রিপোর্টগুলো দেখতে পাবেন না। নিজের ডোমেইন লাগালে DNS দিয়ে Domain property ভেরিফাই হয়।

#গুগল সার্চ কনসোল#সাইটম্যাপ#sitemap.xml#গুগল ইনডেক্স#URL Inspection#এসইও

আরও পড়ুন

ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ

ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে

ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।

·১০ মিনিটে পড়া যায়

কাউন্টডাউন টাইমার দিলে অর্ডার বাড়ে? সত্যি অফারে টাইমার বসানোর নিয়ম

ল্যান্ডিং পেজে "অফার শেষ হতে বাকি" টাইমার তখনই অর্ডার বাড়ায়, যখন অফারটা সত্যিই শেষ হয়। নির্দিষ্ট সময়ের টাইমার আর প্রতিবার নতুন করে শুরু হওয়া টাইমারের পার্থক্য, আইন আর ফেসবুকের নিয়ম, পেজে কোথায় বসাবেন, শেষ হলে কী করবেন, আর ৪৮ ঘণ্টার একটা অফারের হিসাব।

·১০ মিনিটে পড়া যায়