বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে
ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।

এই লেখায় যা আছে
বিজনেস ক্যাপশন মানে ফেসবুকে প্রোডাক্টের ছবির নিচের সেই কয়েক লাইন, যেটা পড়ে মানুষ ঠিক করেন অর্ডার দেবেন কি না। ভালো সেল পোস্টের ক্যাপশনে পাঁচটা কথা থাকে। কী প্রোডাক্ট আর কার জন্য, একটা প্রমাণ, দাম, ডেলিভারির চার্জ আর সময়, আর অর্ডার করার একটা পরিষ্কার উপায়। আর সবচেয়ে দরকারি কথাটা থাকে প্রথম দুই লাইনে, কারণ ফোনে সাধারণত ওইটুকুই দেখায়। Selling caption for facebook লেখার এই নিয়ম কাপড়, খাবার, গ্যাজেট সব প্রোডাক্টেই এক।
পোস্টের ছবিটা তুলতে আধা ঘণ্টা লাগল, আলো ঠিক, ব্যাকগ্রাউন্ড পরিষ্কার। ক্যাপশনে লিখলেন "নতুন কালেকশন, ইনবক্স করুন"। এক ঘণ্টার মধ্যে ইনবক্সে চল্লিশটা মেসেজ, প্রায় সবগুলোতে একই কথা, "দাম কত?" উত্তর দিতে দিতে দুপুর পেরোল, আর অর্ডার এলো হাতে গোনা। অনেক সেলারের রোজকার দিন এমনই যায়। সমস্যাটা ছবিতে না, ক্যাপশনে।
প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশন কত বড় হবে
ফোনে ফেসবুক স্ক্রল করার সময় একটা পোস্টের ক্যাপশনের সাধারণত প্রথম দুই-তিন লাইন দেখায়, তারপর "আরও দেখুন"। মানুষ এই দুই লাইন পড়ে ঠিক করেন থামবেন কি না। তাই এখানে "আসসালামু আলাইকুম, প্রিয় কাস্টমার" বা "নতুন কালেকশন চলে এসেছে" ধাঁচের কথা দিয়ে জায়গা নষ্ট করবেন না। প্রথম লাইনে লিখুন প্রোডাক্টটা কী আর কার কাজে লাগে। দ্বিতীয় লাইনে লিখুন কেন আপনার থেকে নেবেন, বা দামটা।
"শীতের হুডি, ভেতরে নরম ফ্লিস, অফিস আর বাইক দুই জায়গাতেই চলে।" এই এক লাইনে মানুষ জানলেন জিনিসটা কী, কোন সময়ের, কার জন্য। তার পরের লাইনে "দাম ৯৫০ টাকা, M থেকে XXL"। এই দুই লাইন পড়েই যাঁর লাগবে তিনি থামবেন, আর যাঁর লাগবে না তিনি চলে যাবেন, যেটাও আপনার জন্য ভালো। ভুল মানুষের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ায় আপনার সময় যায় না।

পুরো ক্যাপশন কত বড় হবে? সেল পোস্টে ফোনে পাঁচ থেকে সাত লাইন, মোটামুটি ৪০ থেকে ৮০ শব্দ, যথেষ্ট। এর বেশি বিস্তারিত, যেমন মাপের টেবিল, কাপড়ের ধরন, ধোয়ার নিয়ম, এগুলো প্রোডাক্ট পেজে রাখুন। ক্যাপশনের কাজ মানুষকে থামানো আর অর্ডারের দিকে পাঠানো, সব কথা বলা না। প্রোডাক্ট পেজের লেখা কীভাবে সাজাবেন, সেটা প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লেখার নিয়মের লেখায় আলাদা করে আছে।
পোস্ট দেওয়ার আগে একটা কাজ করুন। নিজের ফোনে পোস্টটা প্রিভিউ করে দেখুন, "আরও দেখুন"-এর আগে ঠিক কোন কথাগুলো দেখা যাচ্ছে। কম্পিউটারে লিখে পোস্ট করলে লাইনগুলো যেখানে ভাঙে, ফোনে সেখানে ভাঙে না।
সেল পোস্টের বিজনেস ক্যাপশনে যা থাকতেই হবে
পাঁচটা জিনিস। এই পাঁচটা থাকলে ইনবক্সের বেশিরভাগ প্রশ্ন আসার আগেই উত্তর পেয়ে যায়।
প্রোডাক্ট আর কার জন্য। নাম, রং-সাইজ বা ওজন, আর কে নেবেন। "ছেলেদের চামড়ার মানিব্যাগ, ৯টা কার্ডের ঘর" বলে দিলে মানুষ নিজের সাথে মিলিয়ে নেন।
একটা প্রমাণ। একটাই, কিন্তু সত্যি। "আসল গরুর চামড়া, কিনারায় হাতে সেলাই", বা "প্রতিটা পিস পাঠানোর আগে খুলে দেখি"। প্রমাণ মানে এমন কথা, যেটা কাস্টমার হাতে পেয়ে মিলিয়ে নিতে পারবেন। "সেরা কোয়ালিটি" কোনো প্রমাণ না, কারণ সবাই এটাই লেখেন।
দাম। টাকায়, পরিষ্কার করে। কেন দাম লেখা ভালো, সেটা পরের অংশে।
ডেলিভারি। চার্জ আর সময়, কাস্টমার যেভাবে জিজ্ঞেস করেন সেভাবে। "ঢাকায় ডেলিভারি ৭০ টাকা, ১-২ দিন। ঢাকার বাইরে ১৩০ টাকা, ২-৩ দিন। প্রোডাক্ট হাতে পেয়ে টাকা দেবেন।" অফিসের নোটিশের ভাষা না, মানুষ মুখে যেভাবে বলেন সেভাবে লিখুন।
অর্ডারের রাস্তা। একটা, দুইটা না। হয় একটা লিংক, যেখানে চাপলেই অর্ডার ফর্ম, নয়তো একটা ফোন নম্বর। "ইনবক্স, কমেন্ট, WhatsApp, কল, যেকোনো একটায়" লিখলে কাস্টমার চারটাই করেন, আর একই অর্ডার চার জায়গায় আসে।

এর সাথে একটা ছোট জিনিস যোগ করলে কাজ সহজ হয়, প্রোডাক্টের আর্টিকেল নম্বর, যেমন UB-503। কমেন্টে কেউ "৫০৩ টা আছে?" লিখলে আপনি আর মডারেটর দুজনেই বোঝেন কোন প্রোডাক্টের কথা। হ্যাশট্যাগ নিয়ে বেশি ভাববেন না। ফেসবুকে কেউ সাধারণত হ্যাশট্যাগ চেপে কেনার জিনিস খোঁজেন না। দোকানের নামে একটা নিজের হ্যাশট্যাগ রাখুন, যাতে পুরনো পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়, ব্যস। আর ইমোজি প্রতি লাইনে বড়জোর একটা। পাঁচটা ইমোজির ভিড়ে দামটাই চোখে পড়ে না।
ভাষা নিয়ে একটা কথা। ক্যাপশন লিখুন আপনার কাস্টমার যে ভাষায় ইনবক্সে লেখেন, সেভাবে। সাইজ, ডেলিভারি, অর্ডার, অফার, এই শব্দগুলো মানুষ ইংরেজিতেই বলেন, এগুলো বাংলা করতে যাবেন না। আবার পুরো ক্যাপশন ইংরেজিতে লিখলে মফস্বলের অনেক কাস্টমার দামটা খুঁজে পান না। দাম আর ডেলিভারির লাইনে সংখ্যা লিখুন অঙ্কে, যেমন ৯৫০, কথায় "নয়শো পঞ্চাশ" না, কারণ চোখ সংখ্যাটাই আগে খোঁজে।
অর্ডারের লিংকটা যেখানে যাবে, সেখানে কাস্টমার যেন সব একসাথে পান। WinningSeller-এ প্রতিটা প্রোডাক্টের নিজের পেজ থাকে, সেখানে ছবি, দাম, রং-সাইজ আর অর্ডারের বাটন একসাথে। প্রোডাক্টে "রিয়েল ভিডিও (YouTube)" ঘরে YouTube-এর লিংক দিলে অর্ডার বাটনের নিচে "এই প্রোডাক্টের এডিট ছাড়া রিয়েল ভিডিও দেখুন" বাটন আসে। দোকানের সার্চে আর্টিকেল নম্বর লিখলেও প্রোডাক্টটা আসে। তাই ক্যাপশনের শেষে শুধু একটা লিংক দিলেই চলে। দোকানের বাকি কাজ, যেমন অর্ডার থেকে কুরিয়ারে পাঠানো, কীভাবে চলে তা ফিচারের পেজে দেখে নিতে পারেন।
দাম লিখবেন, নাকি "ইনবক্সে"
অনেকে দাম লেখেন না এই ভয়ে যে প্রতিযোগী দেখে ফেলবেন, বা ইনবক্সে এলে কথা বলে বেচা যাবে। প্রতিযোগী আপনার দাম এক মিনিটে জেনে নিতে পারেন, একটা ফেক আইডি থেকে মেসেজ দিয়ে। কিন্তু সাধারণ কাস্টমারের কাছে দাম না লেখা মানে একটা বাড়তি ধাপ। মেসেজ লিখতে হবে, উত্তরের অপেক্ষা করতে হবে। অনেকে সেই ধাপটাই নেন না, পরের পোস্টে চলে যান।
তাই বেশিরভাগ প্রোডাক্টে দাম লিখুন, আর কাস্টমার যেভাবে জিজ্ঞেস করেন সেভাবে। দাম লুকিয়ে বেশি বেচা যায়, এই ধারণা নিয়ে আমি কাউকে পোস্ট লিখতে দেখলে প্রথমেই সেটা বদলাতে বলি। "দাম ৮৯০ টাকা, ঢাকায় ডেলিভারি ৭০"। ছাড় থাকলে আগের দাম কেটে দেখান শুধু তখন, যখন সত্যিই আগে সেই দামে বেচেছেন। দাম না লেখার একটাই ভালো কারণ আছে। দাম যদি মাপ বা পরিমাণে অনেক বদলায়, যেমন অর্ডারমতো বানানো ফার্নিচার বা পাইকারি পরিমাণ। তখন "দাম শুরু ২,৫০০ টাকা থেকে, মাপ বললে ঠিক দাম জানাব" লিখুন, শুধু "ইনবক্স" না।
"দাম জানতে কমেন্ট করুন" লিখলে রিচ কমে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর ফেসবুকে পোস্ট করার সময়ের লেখার প্রশ্নোত্তরে আছে। ছোট উত্তর হলো, দামটা পোস্টে লিখে দিলে সেই ঝুঁকিই থাকে না।
নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর ক্যাপশন, চারটা নমুনা
নিচের চারটা ক্যাপশন নমুনা, এই লেখার জন্য বানানো। হুবহু না নিয়ে নিজের প্রোডাক্ট, দাম আর ভাষায় বদলে নিন। প্রতিটার পরে বলেছি কেন এভাবে লেখা।
নতুন মাল এলে।
শীতের হুডি এসেছে, ভেতরে নরম ফ্লিস, অফিস আর বাইক দুই জায়গাতেই চলে। দাম ৯৫০ টাকা, সাইজ M, L, XL, XXL। বুকের মাপ ছবির শেষ স্লাইডে দেওয়া। ঢাকায় ডেলিভারি ৭০ টাকা, বাইরে ১৩০, হাতে পেয়ে টাকা দেবেন। অর্ডার করতে নিচের লিংকে চাপুন। আর্টিকেল HD-210।
এখানে প্রথম লাইনেই জিনিস আর কাজ, দ্বিতীয় লাইনে দাম আর সাইজ। "বুকের মাপ শেষ স্লাইডে" কথাটা সাইজের প্রশ্ন আগেই থামায়।
অফারের সময়।
দুইটা চামড়ার মানিব্যাগ নিলে ১৫০ টাকা কম, শুধু এই শুক্রবার আর শনিবার। একটার দাম ৮৯০, দুইটা একসাথে ১,৬৩০ টাকা। বাবা আর ভাইয়ের জন্য একসাথে নেওয়ার সুযোগ। অফার শেষ শনিবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে। ডেলিভারি সারা দেশে, হাতে পেয়ে টাকা।
এখানে অফারটা দামের ভাষায়, "দুইটা নিলে ১৫০ টাকা কম", আর শেষের সময় লেখা। ৮৯০ × ২ = ১,৭৮০, তার থেকে ১৫০ কম মানে ১,৬৩০। হিসাবটা কাস্টমারকে নিজে করতে হয় না। আর অফারের শর্ত পোস্টেই লেখা, যা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১-এর ৩.১.১৭ অনুচ্ছেদও চায়, ফেসবুক পেজে কেনাবেচার শর্ত বাংলায় লিখে রাখা।
স্টকে ফিরলে।
যাঁরা ৪১ আর ৪২ সাইজ চেয়েছিলেন, এসে গেছে। সাদা স্নিকার্স, আর্টিকেল SN-118, দাম ১,৪৫০ টাকা। গতবার এই দুই সাইজ তিন দিনে শেষ হয়েছিল, এবারও সীমিত পিস। নিচের লিংকে সাইজ বেছে অর্ডার করুন।
"গতবার তিন দিনে শেষ হয়েছিল" লাইনটা লিখবেন শুধু তখনই, যদি সত্যিই তা হয়ে থাকে। সত্যি হলে এটা জোরালো প্রমাণ, বানানো হলে পুরনো কাস্টমারই ধরিয়ে দেবেন।
কাস্টমারের রিভিউ দিয়ে।
চট্টগ্রাম থেকে একজন ভাই পাঠিয়েছেন, তিন মাস ব্যাগটা রোজ অফিসে নেওয়ার পরের ছবি। সেলাই যেমন ছিল তেমনই আছে। অফিস ব্যাগ, আর্টিকেল BG-77, দাম ২,২৫০ টাকা। অর্ডারের লিংক নিচে।
রিভিউর পোস্টে কাস্টমারের অনুমতি নিন, তাঁর নাম-নম্বর ঢেকে দিন। আর রিভিউ নিজে বা দোকানের লোক দিয়ে লেখাবেন না। ডিজিটাল কমার্স নির্দেশিকার ৩.৪.৩ অনুচ্ছেদ বলছে, বিক্রেতা বা তাঁর কর্মী রিভিউ বা রেটিংয়ে অংশ নিতে পারবেন না।
ইনবক্সের প্রশ্ন কত কমে (উদাহরণ)
উদাহরণ। প্রশ্ন আর মিনিটের হিসাবটা কাল্পনিক, নিজের পেজে গুনলে সংখ্যা আলাদা হবে। ধরুন একই হুডির দুটো পোস্ট, দুই সপ্তাহে।
প্রথম পোস্টের ক্যাপশন "নতুন হুডি, দাম জানতে ইনবক্স করুন"। ১০০ জন ইনবক্সে বা কমেন্টে দাম জিজ্ঞেস করলেন। প্রতিটা উত্তরে, মেসেজ খোলা থেকে লিখে পাঠানো পর্যন্ত, গড়ে দেড় মিনিট। ১০০ × ১.৫ = ১৫০ মিনিট, মানে আড়াই ঘণ্টা শুধু একই কথা লিখতে। আর ব্যস্ত সময়ে উত্তর দেরিতে গেল বলে ধরুন ৩০ জন আর ফিরলেন না। তাঁদের প্রতি পাঁচজনে একজন কিনতেন ধরলে হারালেন ৬টা অর্ডার। একটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডারে হাতে ২৫০ টাকা থাকলে ৬ × ২৫০ = ১,৫০০ টাকা।
দ্বিতীয় পোস্টে ক্যাপশনে দাম, সাইজ, ডেলিভারি আর লিংক। এবার প্রশ্ন এলো ৩৫টা, প্রায় সবই রং বা মাপ নিয়ে, যেগুলো কথা বলে বেচার জন্য ভালো প্রশ্ন। ৩৫ × ১.৫ = ৫২.৫ মিনিট। আগের চেয়ে সাড়ে ৯৭ মিনিট কম, মানে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় বাঁচল, আর সেই সময়ে কনফার্ম কল বা প্যাকিং হলো।

নিজের পেজে এই হিসাবটা করা কঠিন না। এক সপ্তাহ দাম ছাড়া, পরের সপ্তাহ দামসহ পোস্ট দিন, আর প্রতিটা পোস্টে "দাম কত" প্রশ্ন কয়টা এলো, খাতায় গুনে রাখুন। সংখ্যাটা নিজের চোখে দেখলে আর তর্ক থাকে না।
যে কথা লিখলে রিপোর্ট আর অ্যাড রিজেক্ট
প্রথমটা "শেয়ার করুন, তিনজনকে ট্যাগ করুন, লাইক দিন"। ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ Meta-র Transparency Center-এর যে পেজে ফেসবুক কোন ধরনের পোস্টের রিচ কমায় তার লিস্ট আছে, সেখানে "engagement bait" নাম ধরে আছে। মানে যে পোস্ট সরাসরি লাইক, কমেন্ট, শেয়ার, ট্যাগ বা ভোট চায়। কারণ হিসেবে লেখা, মানুষ এমন স্প্যামি পোস্ট পছন্দ করেন না। অর্ডারের লিংক দেওয়া এর মধ্যে পড়ে না, সেটা লিখুন।
দ্বিতীয়টা কাস্টমারের শরীর বা জীবন নিয়ে প্রশ্ন, বিশেষ করে অ্যাডে। "আপনার কি চুল পড়ে?", "আপনি কি মোটা?" ধাঁচের লাইন। ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ Meta-র Advertising Standards-এ লেখা আছে, অ্যাডে কারো স্বাস্থ্য, বয়স, ধর্ম বা আর্থিক অবস্থার মতো ব্যক্তিগত দিক ধরে নেওয়া বা ইঙ্গিত করা যাবে না। তাদের নিজের নিষেধের উদাহরণেই আছে "Do you have diabetes?" ধাঁচের প্রশ্ন। একই কথা "আমাদের তেলে ৭ দিনে চুল গজাবে" ধাঁচের লাইনে। Meta-র Health and Wellness নিয়মে সতর্কতার কথা ছাড়া নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট ফলের প্রতিশ্রুতি, আর চেহারা নিয়ে কাউকে ছোট করার কথা নিষেধ। এই লাইনগুলো বদলে লিখুন জিনিসটা কী দিয়ে বানানো আর কীভাবে লাগাতে হয়।
তৃতীয়টা প্রমাণ ছাড়া বড় দাবি। "১০০% অরিজিনাল", "বাজারের সেরা", "এক নম্বর"। প্রমাণ না থাকলে এগুলো মিথ্যা বিজ্ঞাপনের ঘরে পড়তে পারে, আর কাস্টমার অভিযোগ করলে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৪ ধারার কথা ওঠে (শাস্তির পুরো কথা bdlaws.minlaw.gov.bd-তে ধারাটায় আছে)। আর অন্য ব্র্যান্ডের নাম লিখে "অমুক ব্র্যান্ডের মতো" বললে ব্র্যান্ডের মালিক রিপোর্ট করতে পারেন। পোস্টারে কোন কথা লিখলে বিপদ, তা অফার পোস্টার ডিজাইনের লেখায় আরও আছে।
কখন সেল পোস্ট দেবেন না
মাল হাতে না থাকলে সেল পোস্ট দেবেন না। "অর্ডার নিচ্ছি, মাল আসবে পরের সপ্তাহে" যদি দিতেই হয়, ক্যাপশনের প্রথম লাইনেই প্রি-অর্ডার কথাটা লিখুন, শেষে ছোট করে না। নইলে প্রথম লাইন পড়ে যিনি অর্ডার দিলেন, তিনি চার দিন পরে রেগে ফোন করবেন।
দাম এখনো ঠিক না হলেও না। "দাম পরে জানাব" লিখে পোস্ট দিলে ইনবক্সের প্রশ্নগুলো জমা হয়, আর দাম শুনে বেশিরভাগ মানুষ চলে যান, এতক্ষণ অপেক্ষার রাগসহ। যে প্রোডাক্ট বোঝাতে লম্বা কথা লাগে, যেমন কোনো যন্ত্র কীভাবে চলে, সেটা শুধু ছবি আর ক্যাপশনে বেচতে যাবেন না। একটা ছোট রিল বা ভিডিও দিন, ক্যাপশন রাখুন ছোট। রিলের ক্যাপশন কেমন হবে, সেটা ফেসবুক রিলসের লেখায় আলাদা অংশে আছে। আর পেজ রেস্ট্রিক্টেড থাকলে বা সম্প্রতি কোনো পোস্টে ভায়োলেশন এলে নতুন সেল পোস্টের আগে সেটা মিটিয়ে নিন।

আজই করে ফেলুন
- পেজের শেষ পাঁচটা সেল পোস্ট খুলুন। প্রতিটার ক্যাপশনে পাঁচটা ভাগের কোনটা নেই, পাশে লিখুন।
- যে পোস্টে দাম নেই, সেখানে এডিট করে দাম আর ডেলিভারি চার্জ যোগ করুন।
- পরের পোস্টের প্রথম দুই লাইন আলাদা করে লিখুন, তারপর ফোনে প্রিভিউ করে দেখুন "আরও দেখুন"-এর আগে কী দেখা যায়।
- "শেয়ার করুন, ট্যাগ করুন" বা "আপনার কি" দিয়ে শুরু হওয়া লাইন থাকলে মুছে দিন।
- প্রতিটা প্রোডাক্টের একটা ছোট আর্টিকেল নম্বর ঠিক করুন, আর ক্যাপশনের শেষে লিখুন।
- ফোনের নোটসে "ক্যাপশন" নামে একটা ফাইল খুলুন। যে ক্যাপশনে বেশি অর্ডার আসে, সেটা ওখানে কপি করে রাখুন।
সাধারণ প্রশ্ন
বিজনেস ক্যাপশন কেমন হওয়া উচিত?
প্রথম দুই লাইনে প্রোডাক্টের নাম আর কেন নেবেন, তারপর একটা প্রমাণ, দাম, ডেলিভারির চার্জ আর সময়, আর অর্ডার করার একটা পরিষ্কার উপায়। ছোট বাক্য, ফোনের স্ক্রিনে পড়ার মতো। সুন্দর শব্দের চেয়ে কাজের তথ্য বেশি অর্ডার আনে।
ফেসবুক পোস্টে দাম লেখা কি ভালো?
বেশিরভাগ প্রোডাক্টে হ্যাঁ। দাম লেখা থাকলে যাঁর বাজেটে মেলে না তিনি ইনবক্সে সময় নষ্ট করেন না, আর যাঁর মেলে তিনি সরাসরি অর্ডারের কথা বলেন। দাম না লিখে "ইনবক্সে জানুন" লিখলে প্রশ্ন বাড়ে, অর্ডার সাধারণত বাড়ে না।
ফেসবুক ক্যাপশন কত বড় হওয়া উচিত?
সেল পোস্টে মোটামুটি ৪০ থেকে ৮০ শব্দ যথেষ্ট, মানে ফোনে পাঁচ-সাত লাইন। ফোনে সাধারণত প্রথম দুই-তিন লাইনই দেখায়, বাকিটা "আরও দেখুন" চাপলে আসে। তাই দরকারি কথা ওপরে রাখুন, বিস্তারিত দিন প্রোডাক্ট পেজে।
সেল পোস্টে হ্যাশট্যাগ দিলে কি রিচ বাড়ে?
ফেসবুকে কেউ সাধারণত হ্যাশট্যাগ চেপে কেনার জিনিস খোঁজেন না, তাই দশটা হ্যাশট্যাগে বিক্রি বাড়ে না। দোকানের নামে একটা নিজস্ব হ্যাশট্যাগ রাখতে পারেন, যাতে পুরনো পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়। এর বেশি দিলে ক্যাপশন শুধু ভারী দেখায়।
সেল পোস্টে "শেয়ার করুন, ট্যাগ করুন" লিখলে কি সমস্যা?
Meta-র Transparency Center-এ যে ধরনের পোস্টের রিচ কমানো হয়, তার মধ্যে "engagement bait" আছে, মানে যে পোস্ট সরাসরি লাইক, কমেন্ট, শেয়ার, ট্যাগ বা ভোট চায়। তাই সেল পোস্টে এভাবে চাইবেন না। অর্ডারের রাস্তা বলা আলাদা জিনিস, সেটা লিখুন।
অন্যের ক্যাপশন কপি করা যায়?
ধাঁচটা শিখতে পারেন, হুবহু লেখা কপি করবেন না। অন্যের লেখায় তাঁর দোকানের প্রমাণ আর প্রতিশ্রুতি থাকে, যেটা আপনার প্রোডাক্টে সত্যি না-ও হতে পারে। আর একই লাইন দশ পেজে দেখলে কাস্টমার কোনোটাকেই আলাদা করে মনে রাখেন না।
আরও পড়ুন
ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ
ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।
গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে
গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।
কাউন্টডাউন টাইমার দিলে অর্ডার বাড়ে? সত্যি অফারে টাইমার বসানোর নিয়ম
ল্যান্ডিং পেজে "অফার শেষ হতে বাকি" টাইমার তখনই অর্ডার বাড়ায়, যখন অফারটা সত্যিই শেষ হয়। নির্দিষ্ট সময়ের টাইমার আর প্রতিবার নতুন করে শুরু হওয়া টাইমারের পার্থক্য, আইন আর ফেসবুকের নিয়ম, পেজে কোথায় বসাবেন, শেষ হলে কী করবেন, আর ৪৮ ঘণ্টার একটা অফারের হিসাব।


