WinningSeller
অনলাইন ব্যবসা শুরু১৫ মিনিটে পড়া যায়

ক্যাট ফুডের ব্যবসা, পাইকারি মাল থেকে মাসে মাসে একই কাস্টমারের অর্ডার

বিড়ালের খাবার পাইকারি কোথা থেকে তুলবেন, আসল প্যাকেট আর মেয়াদ কীভাবে চিনবেন, পশুখাদ্যের আইনে লাইসেন্সের প্রশ্ন, ভারী লিটারের কুরিয়ার খরচের পুরো হিসাব, আর একই কাস্টমারের কাছে মাসে মাসে রিফিল বেচার নিয়ম।

ক্যাট ফুডের ব্যবসা, পাইকারি মাল থেকে মাসে মাসে একই কাস্টমারের অর্ডার
এই লেখায় যা আছে
  1. পোষা প্রাণীর জিনিসের কাস্টমার কারা, কী কেনেন
  2. ক্যাট ফুড কোথা থেকে কিনবেন, আমদানিকারক, ডিস্ট্রিবিউটর না পাইকার
  3. আসল প্যাকেট, মেয়াদ আর খুচরা করে বেচা
  4. লাইসেন্স লাগে কি, পশুখাদ্যের নিয়ম
  5. গরম, পিঁপড়া আর খোলা বস্তা থেকে স্টক বাঁচানো
  6. লিটারের ওজন আর কুরিয়ার খরচ (উদাহরণ)
  7. মাসে মাসে রিফিল, কখন ফোন দেবেন
  8. কোন কথা লিখবেন না
  9. এই ব্যবসা কখন শুরু করবেন না
  10. আজই করে ফেলুন

বিড়ালের খাবার পাইকারি কিনে অনলাইনে বেচতে চাইলে মাল তুলুন ব্র্যান্ডের আমদানিকারক বা তাঁদের ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে, যাঁরা আসল সিল করা প্যাকেট, ক্যাশ মেমো আর লম্বা মেয়াদ দিতে পারেন। শুরু করুন অল্প কয়েকটা চালু ব্র্যান্ডের ড্রাই ফুড, কিছু ওয়েট ফুড আর লিটার দিয়ে। এই ব্যবসার লাভ আসে মাসে মাসে একই কাস্টমারের রিফিল অর্ডার থেকে, কারণ বিড়ালের খাবার শেষ হয় আর আবার কিনতেই হয়। মাল তোলার আগে ভারী লিটারের কুরিয়ার খরচ আর বড় বস্তা খুলে ভাগ করে বেচার নিয়মটা বুঝে নিন, কারণ নতুন সেলাররা সবচেয়ে বেশি টাকা হারান এই দুই জায়গায়।

ধরুন রাত সাড়ে দশটায় একটা ফোন এলো। "ভাই, কাল সকালের মধ্যে ক্যাট ফুডটা পাঠানো যাবে? বাসায় একদম শেষ, বিড়াল দুইটা খালি ডাকাডাকি করছে।" এই একটা ফোনেই ব্যবসাটার আসল চেহারা বোঝা যায়। কাস্টমারের চিন্তা দাম না, খাবারটা সময়মতো আসবে কি না। যে সেলার এই ভরসাটা দিতে পারেন, কাস্টমার তাঁর কাছেই বারবার ফেরেন।

পোষা প্রাণীর জিনিসের কাস্টমার কারা, কী কেনেন

শহরের ফ্ল্যাটে যাঁরা বিড়াল পোষেন, এই ব্যবসার কাস্টমার মূলত তাঁরাই। কেউ দামি জাতের বিড়াল কিনে এনেছেন, আবার অনেকে রাস্তা থেকে একটা ছানা তুলে এনেছিলেন, এখন বাসায় তিনটা। এঁদের বেশিরভাগ বিড়ালকে বাচ্চার মতো দেখেন। তাই প্রশ্ন করেন অনেক। "এটা কি ছানার জন্য, না বড় বিড়ালের?", "আমার বিড়াল তো মাছ ছাড়া খায় না, এটা খাবে?" এই প্রশ্নগুলোর ধৈর্য ধরে উত্তর দেওয়াই এই ব্যবসার অর্ধেক কাজ।

বিক্রির বড় অংশ হয় ড্রাই ফুডে, মানে শুকনো দানার খাবার। এরপর আসে ওয়েট ফুড, পাউচ বা ক্যানের নরম খাবার। তৃতীয়টা লিটার, বিড়ালের টয়লেটের বালির মতো জিনিস। লিটার বক্স, স্কুপ, খেলনা আর ক্যারিয়ার ব্যাগও চলে, তবে খাবারের মতো প্রতি মাসে না।

প্রথম মাসে প্রায় সবাই একটা ভুল করেন। দশ-বারোটা ব্র্যান্ড আর প্রতিটার কয়েকটা ফ্লেভার তুলে ফেলেন, ভাবেন বেশি অপশন থাকলে বেশি বিক্রি। বিড়াল কিন্তু খুব খুঁতখুঁতে। অনেক বিড়াল নতুন ব্র্যান্ড মুখেই তোলে না, তাই কাস্টমার যে ব্র্যান্ডে অভ্যস্ত, সেটাই খোঁজেন। ফলে কম চলা ফ্লেভারগুলো তাকে পড়ে থাকে, আর মেয়াদ ঘনিয়ে আসে। শুরুতে তিন-চারটা ব্র্যান্ড রাখুন, যেগুলোর নাম মানুষ নিজে থেকে জিজ্ঞেস করে। কোনগুলো, সেটা জানতে আপনার এলাকার বিড়াল পোষা মানুষদের ফেসবুক গ্রুপে কয়েক দিন শুধু পড়ুন, কেউ কী খোঁজেন আর কী নিয়ে অভিযোগ করেন।

কী বেচবেন না, সেটাও আগে ঠিক করে নিন। ২০২৬ সালের অক্টোবরে Meta-র Commerce Policies-এর প্রাণী বিষয়ক পেজে লেখা আছে, জীবিত প্রাণী, পোষা প্রাণীসহ, আর ওষুধ বা ভেটেরিনারি সার্ভিস ফেসবুকের শপ আর মার্কেটপ্লেসে বেচা যাবে না। খেলনা আর কলারের মতো প্রাণীর কাজে লাগার জিনিস চলে। তাই ক্রিমির ওষুধ বা ফ্লি ড্রপ কেউ চাইলে তাঁকে ভেটের কাছে পাঠান, নিজে বেচতে যাবেন না।

ক্যাট ফুড কোথা থেকে কিনবেন, আমদানিকারক, ডিস্ট্রিবিউটর না পাইকার

অনেক চালু ক্যাট ফুডের ব্র্যান্ড বাইরে থেকে আসে। সেই মাল হাত বদলায় মোটামুটি এভাবে। আমদানিকারক আনেন, ডিস্ট্রিবিউটর তাঁর কাছ থেকে নিয়ে দোকানে দোকানে দেন, পেট শপ বা পাইকার সেখান থেকে খুচরা বেচে। আপনি এই শিকলের যত ওপরের দিকে কিনতে পারবেন, দাম তত কম পড়বে, আর মালের উৎসও তত পরিষ্কার থাকবে।

কোন ব্র্যান্ড কে আনে, সেটা খুঁজতে প্যাকেটটাই সবচেয়ে ভালো সূত্র। আসল আমদানি করা প্যাকেটের গায়ে সাধারণত আমদানিকারকের নাম-ঠিকানার একটা স্টিকার থাকে। কাছের পেট শপে গিয়ে কয়েকটা প্যাকেট উল্টে দেখুন, ফোনে ছবি তুলে রাখুন। ঢাকার কাঁটাবনের মতো পোষা প্রাণীর দোকানপাড়ায় দোকানদারদের সাথে কথা বললেও সাধারণত জানা যায়, কোন ব্র্যান্ডের ডিস্ট্রিবিউটর কে।

ডিস্ট্রিবিউটরের সাথে প্রথম কথায় যা হয়, তা জেনে যান। অনেকে প্রথম অর্ডারে একটা ন্যূনতম পরিমাণ চান, কার্টন বা বস্তার হিসাবে। প্রাইস লিস্ট ডলারের রেটের সাথে বদলায়, তাই আজকের দাম তিন মাস পরেও থাকবে ধরে নেবেন না। এই চারটা কথা জিজ্ঞেস করুন, আর উত্তর লিখিত রাখুন।

  • ক্যাশ মেমো বা চালানে ব্যাচ নম্বর আর মেয়াদ লেখা থাকবে কি না
  • মেয়াদ কম আছে এমন মাল এলে ফেরত বা বদল হয় কি না
  • পশুখাদ্যের লাইসেন্সের কপি দেখাতে পারবেন কি না (নিচের লাইসেন্সের অংশে কারণটা আছে)
  • মাল তাঁরা পাঠাবেন, না গোডাউন থেকে আপনাকে তুলতে হবে
একজন সেলার ডিস্ট্রিবিউটরের গোডাউনে ক্যাট ফুডের কার্টনের পাশে দাঁড়িয়ে হাতের ক্যাশ মেমোর ব্যাচ নম্বর কার্টনের গায়ের নম্বরের সাথে মিলিয়ে দেখছেন, পেছনে তাকে সারি সারি কার্টন
মেমোর ব্যাচ নম্বর আর কার্টনের নম্বর মিলিয়ে তবেই মাল তুলুন

সবচেয়ে বড় ফাঁদটা হলো খুব সস্তা মাল। কেউ বলবেন "লাগেজের মাল, বাজারের চেয়ে তিনশো টাকা কম।" এমন প্যাকেটে প্রায়ই আমদানিকারকের স্টিকার থাকে না, মেয়াদ থাকে দুই-তিন মাস, আবার কখনো প্যাকেটটাই নকল। নামকরা ব্র্যান্ডের নাম বা লোগো দিয়ে বানানো নকল প্যাকেট বেচা ট্রেডমার্কের আইনে অপরাধ, আর একজন কাস্টমারের বিড়াল অসুস্থ হলে আপনার পেজের নাম শেষ। দাম যত কমই হোক, এই মাল ছোঁবেন না।

আসল প্যাকেট, মেয়াদ আর খুচরা করে বেচা

মাল দোকানে বা বাসায় আসার পর কার্টন খুলে আগে নিজের চোখে কয়েকটা জিনিস দেখুন। প্যাকেটের মুখের সিল ঠিক আছে কি না, আবার আঠা বা হিট দিয়ে নতুন করে আটকানো মনে হয় কি না। মেয়াদ প্যাকেটের গায়ে ছাপা আছে, নাকি ওপরে আলাদা স্টিকারে, আর স্টিকারের নিচে অন্য কোনো তারিখ ঢাকা পড়েছে কি না। একই লটের সব প্যাকেটে ব্যাচ নম্বর এক কি না, আর সেটা চালানের সাথে মেলে কি না। প্যাকেট হাতে নিয়ে দেখুন তেলতেলে বা ফোলা লাগে কি না। ওয়েট ফুডের ক্যান টোল খাওয়া বা ফুলে থাকলে সেটা আলাদা করে রাখুন, বেচবেন না।

একজন তরুণ সেলার স্টোররুমে দাঁড়িয়ে ফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বেলে ক্যাট ফুডের একটা প্যাকেটের গায়ে মেয়াদ আর ব্যাচ নম্বর দেখছেন, পাশের তাকে সিল করা আরও কয়েকটা প্যাকেট সাজানো
মাল এলে আগে সিল, মেয়াদ আর ব্যাচ নম্বর মিলিয়ে নিন

মেয়াদের হিসাবটা করবেন কাস্টমারের দিক থেকে। এক বিড়ালের বাসায় বড় একটা বস্তা শেষ হতে কয়েক মাস লেগে যেতে পারে। একটা সহজ নিয়ম রাখুন। কাস্টমার যত দিনে প্যাকেটটা শেষ করবেন বলছেন, মেয়াদ তার অন্তত দ্বিগুণ সময় বাকি না থাকলে বড় প্যাকেট দেবেন না, ছোটটা দিন। আর কনফার্মের ফোনেই মেয়াদের মাস-বছরটা মুখে বলে দিন। দরজায় প্যাকেট খুলে মেয়াদ দেখে যে কাস্টমার অবাক হন, তিনি পরের মাসে আর ফোন দেন না।

এবার সবচেয়ে চালু প্রশ্নটা। ১০ কেজির বস্তা কিনে আধা কেজি, এক কেজি করে জিপব্যাগে ভরে বেচা যায় কি না। অনেকেই এটা করেন, কারণ ছোট প্যাকেটে কাস্টমার বেশি পাওয়া যায় আর কেজিতে লাভও বেশি থাকে।

খোলা বস্তার আরেকটা সমস্যা হাতে-কলমেই টের পাবেন। একবার মুখ খুললে বাতাস ঢোকে, দানা নেতিয়ে যায়, আর গন্ধ পেয়ে পিঁপড়া আসে। শেষের দিকের দুই-তিন কেজি তখন বেচতে কষ্ট হয়।

লাইসেন্স লাগে কি, পশুখাদ্যের নিয়ম

২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর bdlaws.minlaw.gov.bd-তে মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন ২০১০-এর যে লেখা আছে, তার ২ ধারায় "পশু" মানে মানুষ ছাড়া সব স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি আর সরীসৃপও। মানে আইনের চোখে বিড়ালের খাবারও পশুখাদ্য। ৪ ধারায় বলা আছে, লাইসেন্স ছাড়া কেউ পশুখাদ্য উৎপাদন, আমদানি, বিপণন, বিক্রয় বা বিতরণ করতে পারবেন না। ৭ ধারায় লাইসেন্সের মেয়াদ এক বছর, আর ২০ ধারায় এই আইনের অপরাধে এক বছর পর্যন্ত জেল, ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা দুটোই হতে পারে।

কাগজে-কলমে "বিক্রয়" শব্দটা আছে বলে অনেকে ভয় পেয়ে যান। কিন্তু এর পরের ধাপটাও দেখুন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নীলফামারী জেলা অফিসের ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালের অক্টোবরে পশুখাদ্য বিধিমালা ২০১৩-এর বিধি ৪(১) ধরে লাইসেন্সের তিনটা ক্যাটাগরি লেখা আছে। ক্যাটাগরি-১ উৎপাদক বা প্রক্রিয়াজাতকারক, ক্যাটাগরি-২ আমদানিকারক বা রপ্তানিকারক, আর ক্যাটাগরি-৩ এমন বিক্রয়কারক, "যিনি গড়ে অন্যূন ১০ টন বা তদুর্ধ্ব পরিমাণ পশুখাদ্য বিক্রয় করেন"।

মাসে কয়েকশো কেজি বেচা ছোট অনলাইন দোকান এর কোনটায় পড়ে, সেটা পেজটা পড়ে পরিষ্কার হয় না। এখানে আন্দাজে কিছু বলব না, শেষ কথা প্রাণিসম্পদ অফিসের।

শুরুটা করুন যাঁর কাছ থেকে কিনছেন তাঁকে দিয়ে। তাঁর লাইসেন্সের কপি দেখতে চান। আমদানি করলে লাইসেন্স লাগে, এটা আইনে পরিষ্কার, তাই যে আমদানিকারক কপি দেখাতে পারেন না, তাঁর মালের উৎস নিয়েও প্রশ্ন থাকে।

এরপর একদিন নিজের উপজেলা বা জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে যান। সাথে নিন ট্রেড লাইসেন্স, NID আর একটা কাগজ, যাতে লেখা থাকবে কোন ব্র্যান্ড বেচেন, মাসে আন্দাজ কত কেজি যায়, আর খোলা বস্তা ভাগ করেন কি না। প্রথম দিনেই লিখিত উত্তর না-ও পেতে পারেন, তখন অন্তত কর্মকর্তার নাম আর তারিখটা খাতায় লিখে রাখুন।

আর ব্যাগে করে বিদেশ থেকে মাল এনে বেচার প্ল্যান থাকলে সেটা দিয়ে শুরু করবেন না। ওটা পুরোদস্তুর আমদানি, তার নিয়ম আলাদা আর ভারী।

গরম, পিঁপড়া আর খোলা বস্তা থেকে স্টক বাঁচানো

ক্যাট ফুডের স্টক নষ্ট করে মূলত গরম, স্যাঁতসেঁতে বাতাস আর পোকা। এর মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত আসে পিঁপড়া। একটা খোলা বস্তা মেঝেতে রাখলে এক দিনের মধ্যেই সারি বেঁধে চলে আসে, আর পিঁপড়া ঢোকা খাবার কোনো কাস্টমারকে পাঠানো যায় না।

মাল রাখুন মেঝে থেকে উঁচুতে, একটা প্লাস্টিকের প্যালেট বা র‍্যাকে। টিনের চালের নিচের ঘর বা রোদ পড়া দেয়ালের পাশে রাখবেন না, দুপুরে ওখানে সবচেয়ে গরম হয়। রান্নাঘরের পাশেও না, ওখানে পিঁপড়া আর তেলাপোকা আগে থেকেই থাকে। লিটার রাখুন খাবার থেকে আলাদা তাকে। লিটারের ধুলা আর গন্ধ খাবারের প্যাকেটে লাগে, আর বর্ষায় লিটারের ব্যাগ ভিজে বাতাস টেনে ফেটে যায়।

একটা ছোট স্টোররুমে প্লাস্টিকের প্যালেটের ওপর সিল করা ক্যাট ফুডের বস্তা সাজানো, কার্টনের পাশে মার্কার দিয়ে বড় করে মেয়াদের মাস লেখা, আলাদা তাকে লিটারের ব্যাগ রাখা
মেঝে থেকে উঁচুতে, লিটার আলাদা তাকে, আর মেয়াদের মাস দূর থেকে চোখে পড়ার মতো

একটা ছোট অভ্যাস অনেক টাকা বাঁচায়। প্রতিটা কার্টন বা বস্তার পাশে মার্কার দিয়ে বড় করে মেয়াদের মাস লিখে দিন, যাতে তাকের সামনে দাঁড়িয়েই দেখা যায়। প্যাক করার সময় আগে মেয়াদ শেষ হবে এমন মালটা আগে যায়, নতুনটা পেছনে। এই নিয়মটা আর মাসের শেষে স্টক গুনে মেলানোর পুরো পদ্ধতি ইনভেন্টরি মেলানোর লেখায় বিস্তারিত আছে।

ফেরত আসা প্যাকেটের সিলটা খুঁটিয়ে দেখুন। সিল খোলা বা আবার আটকানো মনে হলে সেটা আর কাউকে বেচবেন না, হিসাবে লোকসান লিখে দিন। আর ছবি তোলার জন্য বা "কাস্টমার দেখতে চেয়েছেন" বলে কখনো বস্তা খুলবেন না।

লিটারের ওজন আর কুরিয়ার খরচ (উদাহরণ)

এখানে এসেই অনেক নতুন সেলারের লাভ উধাও হয়ে যায়। খাবারের প্যাকেট হালকা, কিন্তু লিটারের ব্যাগ ৫ থেকে ১০ কেজির। আর কুরিয়ার চার্জ নেয় ওজন ধরে, প্যাকেটসহ। ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর Steadfast-এর ওয়েবসাইটের রেট ক্যালকুলেটরে ঢাকা সিটি থেকে সাধারণ পার্সেলের হোম ডেলিভারি দেখিয়েছে এমন। ঢাকা সিটির ভেতরে ১ কেজি ৭৫ টাকা আর ৬ কেজি ১৭৫ টাকা। ঢাকা থেকে রংপুরে ১ কেজি ১৩৫ টাকা, ২ কেজি ১৫৫ টাকা, ৬ কেজি ২৩৫ টাকা আর ৮ কেজি ২৫৫ টাকা। সাথে ১% COD চার্জ, যেটা ক্যালকুলেটর ধরে কাস্টমারের দেওয়া টাকা থেকে ডেলিভারি চার্জ বাদ দিয়ে বাকিটার ওপর। ক্যালকুলেটরের নিচেই লেখা আছে, এগুলো সাধারণ রেট, আলাদা চুক্তির মার্চেন্টের বিল হয় তাঁদের নিজের রেটে।

উদাহরণ (সংখ্যাগুলো বোঝানোর জন্য বানানো, কোনো দোকানের আসল হিসাব না।) ধরুন রংপুরের একজন কাস্টমার ৫ কেজির এক ব্যাগ লিটার অর্ডার দিলেন। আপনার কেনা পড়ে ৫২০ টাকা, বেচেন ৭৫০ টাকায়। মোটা পলি আর টেপে যায় ১৫ টাকা, প্যাক করার পর ওজন দাঁড়াল ৬ কেজি। ঢাকার বাইরের সব অর্ডারে আপনি ডেলিভারি চার্জ নেন ১৩০ টাকা, যেমন অনেক পেজ নেয়।

কাস্টমার দিলেন ৭৫০ + ১৩০ = ৮৮০ টাকা। কুরিয়ার কাটল ৬ কেজির ২৩৫ টাকা, আর বাকি ৬৪৫ টাকার ১% COD ৬ টাকা। আপনার হাতে থাকল ৮৮০ − ৫২০ − ১৫ − ২৩৫ − ৬ = ১০৪ টাকা। এবার এই অর্ডারটা যদি অ্যাড থেকে এসে থাকে, আর একটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডারে অ্যাডে গড়ে ১২০ টাকা যায়, তাহলে আসলে লোকসান ১৬ টাকা। আর পার্সেলটা ফেরত এলে অন্তত যাওয়ার চার্জটা সাধারণত আপনার ঘাড়েই পড়ে, মানে এক ফেরতেই কয়েকটা ব্যাগের লাভ শেষ।

ডিজিটাল স্কেলে প্যাক করা লিটারের ব্যাগ, স্কেলে ৬ কেজি দেখাচ্ছে, পাশে ঢাকা থেকে রংপুরের কুরিয়ার রেট আর তিনটা হিসাবের কার্ড, লিটার একা পাঠালে ১০৪ আর ২০৩ টাকা, খাবারের সাথে এক পার্সেলে ৩১৮ টাকা থাকে
লিটারের ব্যাগ প্যাক করে মাপুন, ১ কেজির রেটে ডেলিভারি চার্জ ঠিক করবেন না

এটা ঠিক করার দুটো সৎ রাস্তা আছে। প্রথমটা হলো লিটারের ডেলিভারি চার্জ আলাদা করে লেখা। ধরুন ঢাকার বাইরে লিটারে ডেলিভারি চার্জ নিলেন ২৩০ টাকা, আর সেটা পেজে আর অর্ডার ফর্মে আগেই পরিষ্কার লিখলেন। কাস্টমার দেবেন ৯৮০ টাকা, COD ৭ টাকা। হাতে থাকবে ৯৮০ − ৫২০ − ১৫ − ২৩৫ − ৭ = ২০৩ টাকা। কেউ কেউ এই চার্জ শুনে অর্ডার দেবেন না, সেটা মেনে নিন। লোকসানের অর্ডার নেওয়ার চেয়ে না পাওয়াই ভালো।

দ্বিতীয় রাস্তাটা এর চেয়েও ভালো কাজ করে। লিটার একা না পাঠিয়ে খাবারের সাথে এক পার্সেলে পাঠান। ধরুন একই কাস্টমার লিটারের সাথে দেড় কেজির একটা খাবারের প্যাকেটও নিলেন, যেটা বেচেন ১,০৫০ টাকায়, কেনা ৮৫০ টাকা। দুটো একসাথে প্যাক করলে ওজন ৮ কেজি, কুরিয়ার চার্জ ২৫৫ টাকা, প্যাকিং ২০ টাকা। আপনি ডেলিভারি চার্জ নিলেন ১৮০ টাকা। কাস্টমার দেবেন ৭৫০ + ১,০৫০ + ১৮০ = ১,৯৮০ টাকা, COD ১৭ টাকা। হাতে থাকবে ১,৯৮০ − ৫২০ − ৮৫০ − ২০ − ২৫৫ − ১৭ = ৩১৮ টাকা।

একই দুটো জিনিস আলাদা দুই পার্সেলে গেলে কী হতো? লিটারে থাকত ওপরের ১০৪ টাকা। খাবারের পার্সেল প্যাক করে ২ কেজি, কুরিয়ার ১৫৫, ডেলিভারি চার্জ ১৩০, প্যাকিং ১০, COD ১০। তাতে থাকত ১,১৮০ − ৮৫০ − ১০ − ১৫৫ − ১০ = ১৫৫ টাকা। দুটো মিলে ২৫৯ টাকা। মানে এক পার্সেলে পাঠালে আপনার ৫৯ টাকা বেশি থাকে, আর কাস্টমারও ডেলিভারিতে ৮০ টাকা কম দেন। তাই ঢাকার বাইরের কাস্টমারকে বলুন, "লিটারটা খাবারের সাথে একসাথে নিলে ডেলিভারিতে সাশ্রয় হবে।" দাম ঠিক করার পুরো সূত্র, অ্যাড আর ফেরতের খরচসহ, প্রোডাক্টের দাম নির্ধারণের লেখায় পাবেন।

মাস শেষে এই হিসাব খাতায় মেলাতে মেলাতে রাত পার হয়ে যায়। WinningSeller-এর লাভ-ক্ষতির হিসাবে আয় ধরা হয় শুধু ডেলিভারি হওয়া অর্ডার থেকে, আর প্রতিটা পার্সেলের কুরিয়ার চার্জ, COD চার্জ আর ফেরত এলে দুই দিকের চার্জ নিজে থেকেই খরচের ঘরে বসে। কেনা দামটা প্রোডাক্টে লিখে রাখলেই হয়।

এই মাসে আসলে কত লাভ থাকল, দেখে নিনডেলিভারি হওয়া অর্ডার ধরে লাভ-ক্ষতি

মাসে মাসে রিফিল, কখন ফোন দেবেন

ক্যাট ফুডের আসল সুবিধা এখানেই। কাস্টমার একবার খুশি হলে প্রতি মাসে আবার কিনবেন, কাজ শুধু ঠিক সময়ে মনে করিয়ে দেওয়া। আমি এখানে একটা কথাই বারবার বলি, এই ব্যবসায় নতুন কাস্টমার খোঁজার চেয়ে পুরনো কাস্টমারকে ঠিক দিনে ফোন দেওয়া বেশি জরুরি। খাবার শেষ হওয়ার পরে ফোন দিলে দেরি হয়ে যায়, কারণ রাতে বিড়াল না খেয়ে থাকবে এই ভয়ে কাস্টমার ততক্ষণে পাশের দোকান থেকে কিনে ফেলেছেন।

কবে শেষ হবে, সেটা নিজে কখনো আন্দাজ করবেন না। প্রথম ডেলিভারির পরের খোঁজ নেওয়ার ফোনে দুটো প্রশ্ন করুন। "বাসায় বিড়াল কয়টা?" আর "এই প্যাকেটটা আপনাদের সাধারণত কয় দিন যায়?" ধরুন তিনি বললেন দুইটা বিড়াল, দেড় কেজি প্রায় তিন সপ্তাহ যায়। তাহলে ডেলিভারির ১৬-১৭ দিন পরের তারিখে পরের ফোনটা রাখুন। পাঁচটা বিড়ালের বাসা আর একটা বিড়ালের বাসার হিসাব এক না, আর বড় বাসাগুলোই আপনার সবচেয়ে ভালো কাস্টমার। তাঁরা প্রায়ই বড় বস্তা নেন।

নতুন কাস্টমারের বেলায় আরেকটা জিনিস প্রায়ই হয়। বিড়াল নতুন খাবার মুখে তোলে না, আর কাস্টমার পুরো প্যাকেটটা নিয়ে বিপদে পড়েন। তাই প্রথম অর্ডারে বড় বস্তা না গছিয়ে ছোট প্যাকেট দিন, ব্র্যান্ডের নিজের ছোট সাইজ থাকলে সেটাই। আর বলে দিন পুরনো খাবারের সাথে অল্প অল্প মিশিয়ে কয়েক দিনে বদলাতে, অনেক প্যাকেটের গায়েও এটা লেখা থাকে। বিড়াল খেলে তবেই পরের বার বড় প্যাকেটের কথা বলুন।

একটা কিশোর ছেলে বাসার মেঝেতে বসে ছোট একটা বাটিতে নতুন ক্যাট ফুডের দানা দিচ্ছে, একটা ছাই রঙের বিড়াল নাক এগিয়ে শুঁকে দেখছে, পাশে ছোট একটা প্যাকেট
প্রথমে ছোট প্যাকেট, বিড়াল খেলে তবেই বড় বস্তা

খাবার আর লিটারের শেষ হওয়ার দিন সাধারণত আলাদা। দুই দিন দুটো পার্সেল না পাঠিয়ে খাবারের রিফিলের ফোনেই জিজ্ঞেস করুন, "লিটার কতটুকু আছে, সাথে দিয়ে দিই?" ওপরের হিসাবে দেখলেন, এক পার্সেলে আপনারও লাভ, কাস্টমারেরও। ফোনে ঠিক কী বলবেন, কাস্টমার "ভেবে দেখি" বললে কী উত্তর দেবেন, সেই পুরো স্ক্রিপ্ট পুরনো কাস্টমারকে আবার বিক্রির লেখায় আছে।

খাতায় বা শিটে এই কলামগুলো রাখলেই চলে। কাস্টমারের নাম আর নম্বর, বিড়াল কয়টা, কোন খাবার আর কোন সাইজ, শেষ ডেলিভারির তারিখ, এক প্যাকেট কয় দিন যায়, আর পরের ফোনের তারিখ। প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময়ে শিটটা পরের ফোনের তারিখ ধরে সাজিয়ে আজকের নামগুলোয় ফোন দিন।

খোলা খাতায় হাতে আঁকা রিফিল লিস্টের নকশা, কলামে কাস্টমারের নাম, বিড়াল কয়টা, খাবারের সাইজ, শেষ ডেলিভারি, কয় দিন যায় আর পরের ফোনের তারিখ, আজকের তারিখের সারিতে গোল দাগ
এক প্যাকেট কয় দিন যায়, এই একটা ঘরই পরের ফোনের তারিখ ঠিক করে দেয়

কাস্টমার একশো ছাড়ালে শিট সামলানো কঠিন হয়। তখন WinningSeller-এর ফলোআপ কল সিস্টেম এই কাজটা করে। পার্সেল ডেলিভারি হলে কাস্টমার নিজে থেকেই অফারের কল লিস্টে চলে আসেন, আপনার ঠিক করা দিন পরে (শুরুতে ৭ দিন দেওয়া থাকে)। তবে এই দিনের সংখ্যাটা পুরো দোকানের জন্য একটাই, প্রোডাক্ট ধরে আলাদা না। তাই ফোনে কাস্টমার যে তারিখ বলেন, ফোন রাখার পর "কবে আবার ফোন দেবেন?" ঘরে সেই তারিখটা বেছে রাখুন, সেদিন তিনি আবার লিস্টে উঠে আসবেন। কে কতবার কিনেছেন সেটাও কার্ডেই দেখা যায়। বাকি ফিচারগুলো এখানে দেখে নিন।

কাকে কবে রিফিলের ফোন দেবেন, লিস্ট নিজে থেকেই তৈরি হোকপ্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম

কোন কথা লিখবেন না

বিড়ালের মালিকরা ভয় পান বিড়াল অসুস্থ হবে, আর এই ভয়টা কাজে লাগিয়ে অনেক পেজ এমন কথা লেখে, যা পরে বিপদ ডাকে। পোস্টের নিচে প্রায়ই এমন কমেন্ট আসে, "ভাই, এটা খাওয়ালে কি কিডনির সমস্যা ঠিক হবে?" বিক্রির লোভে এখানে "হ্যাঁ" বলে ফেলাটাই সবচেয়ে বড় ভুল।

রোগ সারানো বা ঠেকানোর কোনো দাবি নিজে থেকে লিখবেন না। "কিডনি ভালো রাখে", "লোম পড়া একদম বন্ধ", "পেটের সমস্যা সারায়", এই ধরনের কথা ব্র্যান্ডের প্যাকেটে লেখা থাকলে হুবহু তুলে দিতে পারেন, নিজে থেকে বাড়িয়ে না। কাস্টমার অসুস্থ বিড়ালের কথা বললে সোজা বলুন, "ভাই, এটা আগে ভেটকে দেখান।"

ব্র্যান্ডের লোগো দিয়ে নিজের পেজ সাজাবেন না, নিজেকে "অফিসিয়াল ডিস্ট্রিবিউটর"ও লিখবেন না, যদি না ব্র্যান্ডের লিখিত অনুমতি থাকে। এটা ট্রেডমার্কের ঝামেলা ডাকে, আর ব্র্যান্ড রিপোর্ট করলে পেজও আটকাতে পারে।

প্রমাণ ছাড়া "১০০% অরিজিনাল" লেখার চেয়ে আমদানিকারকের স্টিকার আর মেয়াদের পরিষ্কার ছবি দিন। কাস্টমার এটাই বেশি বিশ্বাস করেন।

আর বিড়ালের ছানা বিক্রি বা "অ্যাডপশনে দিচ্ছি, সামান্য খরচ" ধরনের পোস্ট দেবেন না। ওপরে বলেছি, Meta-র নিয়মে জীবিত প্রাণী বেচা নিষেধ। এক পোস্টের জন্য পুরো পেজের ঝুঁকি নেবেন না।

এই ব্যবসা কখন শুরু করবেন না

আপনার কাস্টমার যদি বেশিরভাগ ঢাকার বাইরে হন, আর লিটারের আসল ডেলিভারি চার্জ নিতে মন সায় না দেয়, তাহলে লিটার দিয়ে শুরু করবেন না। শুধু খাবার দিয়ে শুরু করুন, লিটার দিন খাবারের সাথে এক পার্সেলে।

মাল রাখার মতো ঠান্ডা, শুকনো জায়গা না থাকলেও এখনই শুরু করবেন না। টিনের চালের এক রুমে খাবারের বস্তা আর গরম মিলে লোকসান আসবে চুপচাপ, ফেরত আর অভিযোগ হয়ে। আর পুঁজি যদি এত কম হয় যে আসল প্যাকেট কেনা সম্ভব না, শুধু খোলা বস্তা ভাগ করে চালানোর প্ল্যান, তাহলে আগে প্রাণিসম্পদ অফিসের উত্তরটা নিন।

শুধু সবার চেয়ে কম দামে বেচে বাজার ধরবেন ভাবলেও থামুন। ব্র্যান্ডের মালে দাম প্রায় সবার কাছেই কাছাকাছি, আর বড় পেট শপের সাথে দামের লড়াইয়ে ছোট সেলার টেকেন না। আমার অভিজ্ঞতায় ছোট সেলারের আসল জোর দাম না, সময়মতো ডেলিভারি আর ঠিক সময়ে রিফিলের ফোন।

আজই করে ফেলুন

এক ঘণ্টা সময় আর হাতের ফোনটাই এর জন্য যথেষ্ট।

  1. Steadfast-এর ওয়েবসাইটের রেট ক্যালকুলেটরে নিজের শহর থেকে আপনার মূল কাস্টমারদের জেলায় ১, ৬ আর ৮ কেজির চার্জ বের করে খাতায় লিখুন। প্যাকেটসহ ওজন ধরবেন।
  2. কাছের পেট শপে গিয়ে তিনটা চালু ব্র্যান্ডের প্যাকেট উল্টে আমদানিকারকের স্টিকার, ব্যাচ নম্বর আর মেয়াদের ছবি তুলে রাখুন। এখান থেকেই ডিস্ট্রিবিউটরের খোঁজ শুরু।
  3. bdlaws.minlaw.gov.bd-তে মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন ২০১০-এর ৪ আর ১৩ ধারা নিজে একবার পড়ুন, আর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ফোন নম্বর জোগাড় করুন।
  4. পরিচিত যাঁরা বিড়াল পোষেন, এমন পাঁচজনকে জিজ্ঞেস করুন কোন খাবার কেনেন, কোথা থেকে, আর এক প্যাকেট কয় দিন যায়। উত্তরগুলো লিখে রাখুন।
  5. ওপরের লিটারের উদাহরণে নিজের কেনা দাম, বেচা দাম আর ডেলিভারি চার্জ বসিয়ে দেখুন একটা লিটারের পার্সেলে আসলে কত থাকে।

সাধারণ প্রশ্ন

বাংলাদেশে বিড়ালের খাবার পাইকারি কোথায় পাওয়া যায়?

সবচেয়ে ভালো জায়গা ব্র্যান্ডের আমদানিকারক বা তাঁদের ডিস্ট্রিবিউটর, কারণ সেখানে আসল সিল করা প্যাকেট, ক্যাশ মেমো আর লম্বা মেয়াদ পাওয়া যায়। কোন ব্র্যান্ড কে আনে, সেটা প্যাকেটের গায়ের আমদানিকারকের স্টিকার থেকে জানা যায়। শুরুতে ন্যূনতম অর্ডার বড় হলে কাছের বড় পেট শপ থেকে কার্টন ধরে কিনে শুরু করুন, তবে মেমো আর ব্যাচ নম্বর মিলিয়ে নেবেন।

ক্যাট ফুড বিক্রি করতে কি লাইসেন্স লাগে?

মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন ২০১০-এর ৪ ধারায় লাইসেন্স ছাড়া পশুখাদ্য আমদানি, বিপণন আর বিক্রয় নিষেধ বলা আছে, আর আইনের সংজ্ঞায় বিড়ালও "পশু"। তবে বিধিমালার ক্যাটাগরিগুলো পড়ে ছোট অনলাইন সেলারের বেলায় ঠিক কী লাগে তা পরিষ্কার না। তাই নিজের উপজেলা বা জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে লিখিতভাবে জিজ্ঞেস করে নিন, আর আমদানিকারকের লাইসেন্সের কপি দেখে মাল তুলুন।

বড় বস্তা থেকে ভাগ করে খুচরা ক্যাট ফুড বেচা যায়?

অনেকে বেচেন, কিন্তু আইনের ১৩ ধারায় বাজারে ছাড়া পশুখাদ্যের প্যাকেট বায়ুনিরোধ হতে হবে আর গায়ে প্রস্তুতকারক, ওজন, উপাদান, লট নম্বর, উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ লেখা থাকতে হবে। হাতে লেখা জিপব্যাগে এর প্রায় কিছুই থাকে না। ছোট সাইজ চাইলে এমন ব্র্যান্ড রাখুন যাদের নিজেরই ছোট প্যাকেট আছে।

বিড়ালের লিটারের ডেলিভারি চার্জ কত পড়ে?

ওজনের ওপর নির্ভর করে। ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর Steadfast-এর রেট ক্যালকুলেটরে ঢাকা থেকে রংপুরে ৬ কেজির হোম ডেলিভারি দেখিয়েছে ২৩৫ টাকা, আর ঢাকা সিটির ভেতরে ১৭৫ টাকা। ১ কেজির রেট দেখে লিটারের ডেলিভারি চার্জ ঠিক করলে প্রতি পার্সেলে লোকসান হতে পারে।

ক্যাট ফুডের ব্যবসায় লাভ কেমন?

এক প্যাকেটে লাভ সাধারণত বেশি থাকে না, আর ব্র্যান্ডের দাম আমদানিকারক ঠিক করে দেন বলে দাম বাড়িয়ে লাভ করার সুযোগও কম। লাভ আসে একই কাস্টমারের বারবার অর্ডার থেকে, যেখানে অ্যাডের টাকা লাগে না। কত থাকবে, সেটা নিজের কেনা দাম, ডেলিভারি চার্জ আর ফেরত ধরে হিসাব করে দেখুন।

ফেসবুকে বিড়ালের বাচ্চা বিক্রি করা যায়?

ফেসবুকের শপ আর মার্কেটপ্লেসে না। Meta-র Commerce Policies-এ জীবিত প্রাণী, পোষা প্রাণীসহ, বেচা নিষেধ। খাবার, লিটার, খেলনা আর কলারের মতো প্রাণীর কাজে লাগার জিনিস বেচা যায়।

#ক্যাট ফুড#বিড়ালের খাবার পাইকারি#বিড়ালের লিটার#পোষা প্রাণীর জিনিস#রিফিল অর্ডার#অনলাইন ব্যবসা

আরও পড়ুন

খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম

বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম

থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়