ফেসবুক অ্যাড ক্যাম্পেইন কিভাবে সেট আপ করবেন, Ads Manager-এ ধাপে ধাপে
বুস্টের পরের ধাপ। Ads Manager-এ Sales ক্যাম্পেইন বানানোর পুরো নিয়ম, objective আর Purchase ইভেন্ট থেকে বাজেট, Advantage+ অডিয়েন্স, প্লেসমেন্ট আর অ্যাডের লেখা পর্যন্ত। সাথে লার্নিং ফেজের হিসাব টাকায়, আর প্রথম সাত দিনে কী চেঞ্জ করবেন না।

এই লেখায় যা আছে
- Ads Manager-এ ক্যাম্পেইন, অ্যাড সেট আর অ্যাড কী?
- ফেসবুক অ্যাড ক্যাম্পেইন কিভাবে সেট আপ করবেন, শুরুর আগে কী রেডি রাখবেন?
- ধাপ ১: objective হিসেবে Sales সিলেক্ট করুন
- ধাপ ২: বাজেট ক্যাম্পেইনে দেবেন, না অ্যাড সেটে?
- ধাপ ৩: অডিয়েন্স, এলাকা আর প্লেসমেন্ট
- ধাপ ৪: অ্যাডের ছবি বা ভিডিও, লেখা আর লিংক
- ধাপ ৫: পাবলিশ, রিভিউ আর লার্নিং ফেজ
- প্রথম সাত দিনে কোন সংখ্যা দেখবেন, কী বদলাবেন না?
ফেসবুক অ্যাড ক্যাম্পেইন কিভাবে সেট আপ করবেন, তার ছোট উত্তর হলো Ads Manager-এ তিনটা ঘর পর পর পূরণ করা। ক্যাম্পেইনে objective হিসেবে Sales সিলেক্ট করবেন। অ্যাড সেটে বলে দেবেন অর্ডার হয় আপনার ওয়েবসাইটে, কোন ইভেন্টকে রেজাল্ট ধরতে হবে, কোন এলাকায় দেখাবে আর দিনে কত টাকা খরচ হবে। আর অ্যাডে বসাবেন ছবি বা ভিডিও, লেখা আর ল্যান্ডিং পেজের লিংক। Publish চাপলে অ্যাড রিভিউতে যায়। চালু হওয়ার পর কয়েক দিন ফেসবুক শেখে কাকে দেখালে অর্ডার আসে, আর এই কয়দিন হাত না দেওয়াটাই সবচেয়ে কঠিন কাজ।
বুস্ট কীভাবে করবেন, আর কখন বুস্ট ছেড়ে Ads Manager-এ আসার সময় হয়, সেটা আছে ফেসবুক বুস্ট করার নিয়মের লেখায়। এই লেখা শুরু হচ্ছে সেখান থেকে। বাটনের নাম ইংরেজিতেই রাখলাম, কারণ স্ক্রিনে আপনি এগুলোই খুঁজবেন। অ্যাকাউন্ট ভেদে কিছু অপশন একটু অন্য জায়গায় থাকতে পারে, Meta নিজেই সেটা বলে।
Ads Manager-এ ক্যাম্পেইন, অ্যাড সেট আর অ্যাড কী?
Ads Manager-এর পুরো কাজটা তিন তলার একটা বাড়ির মতো। Meta এই তিন তলার নাম দিয়েছে campaign, ad set আর ad। একটা ক্যাম্পেইনের ভেতরে এক বা একাধিক অ্যাড সেট থাকে, আর প্রতিটা অ্যাড সেটের ভেতরে এক বা একাধিক অ্যাড। কোন তলায় কোন সিদ্ধান্ত হয়, সেটা জানা থাকলে পরে কোনো সংখ্যা খারাপ এলে বুঝবেন কোথায় হাত দিতে হবে।
ক্যাম্পেইন হলো ওপরের তলা। এখানে একটাই বড় সিদ্ধান্ত, অ্যাড দিয়ে আপনি কী চান। ফেসবুক এটাকে বলে objective। অ্যাড সেট মাঝের তলা। এখানে ঠিক হয় অ্যাড কারা দেখবেন, কোথায় দেখবেন, কত টাকা খরচ হবে আর কবে চলবে। অ্যাড হলো নিচের তলা, মানুষ যেটা চোখে দেখেন। ছবি বা ভিডিও, লেখা, হেডলাইন, বাটন আর লিংক সব এখানে বসে।
প্রথম ক্যাম্পেইনে এর বেশি কিছু বানাবেন না। একটা ক্যাম্পেইন, তার ভেতরে একটা অ্যাড সেট, আর সেই অ্যাড সেটে দুই-তিনটা অ্যাড। অনেকে শুরুতেই পাঁচটা অ্যাড সেটে পাঁচ রকম অডিয়েন্স বানিয়ে ফেলেন। তাতে বাজেট পাঁচ ভাগ হয়, আর কোনো ভাগেই ফেসবুক শেখার মতো যথেষ্ট অর্ডার পায় না।

ফেসবুক অ্যাড ক্যাম্পেইন কিভাবে সেট আপ করবেন, শুরুর আগে কী রেডি রাখবেন?
চারটা জিনিস হাতে থাকলে কাজটা এক বসায় শেষ হয়। না থাকলে মাঝপথে আটকে যাবেন, অথবা অ্যাড চলবে কিন্তু টাকা যাবে ভুল জায়গায়।
প্রথমটা একটা ল্যান্ডিং পেজ বা প্রোডাক্ট পেজ, যেখানে কাস্টমার নিজে অর্ডার ফর্ম পূরণ করেন। Sales ক্যাম্পেইন চলে ওয়েবসাইটে কে অর্ডার দিলেন সেই খবরের ওপর, আর ইনবক্সের অর্ডারের খবর ফেসবুকের কাছে যায়ই না। লিংক দেবেন সেই প্রোডাক্টের পেজে, হোমপেজে না। হোমপেজে নামলে মানুষ প্রোডাক্ট খুঁজতে খুঁজতেই চলে যান।
দ্বিতীয়টা পিক্সেল, আর সেটা ঠিকমতো কাজ করছে তার প্রমাণ। পিক্সেল হলো ওয়েবসাইটে বসানো ফেসবুকের ছোট একটা কোড, যেটা জানায় কে প্রোডাক্ট দেখলেন আর কে অর্ডার করলেন। অ্যাড চালুর আগে Events Manager-এর Test events-এ একটা টেস্ট অর্ডার দিয়ে দেখে নিন Purchase যাচ্ছে কি না। পুরো সেটআপ, আর ক্যাশ অন ডেলিভারিতে Purchase ঠিক কখন পাঠাবেন, সেটা ফেসবুক পিক্সেল আর Conversions API সেটআপের লেখায় ধাপে ধাপে আছে।
তৃতীয়টা দুই-তিনটা আলাদা অ্যাড। একটা হতে পারে প্রোডাক্ট হাতে নিয়ে চালিয়ে দেখানোর ছোট ভিডিও, একটা পরিষ্কার ছবি, আর একটা সেই ছবির সাথে অন্য রকম হেডলাইন। শুরুতেই তিনটা কেন, সেটা ধাপ ৫-এর টেবিলে দেখবেন।
চতুর্থটা অ্যাড অ্যাকাউন্টে পেমেন্ট মেথড। প্রথম অ্যাড পাবলিশের আগে Meta এটা যোগ করতে বলবে। কোন কার্ডে টাকা দেওয়া যায় আর বিলে VAT কত যোগ হয়, সেটা বুস্টের লেখার পেমেন্টের ধাপে আছে, Ads Manager-এও নিয়ম একই।
এবার একটা সত্যি কথা। প্রথম দুটোর একটাও না থাকলে আজ Ads Manager-এ যাওয়ার দরকার নেই। ভালো একটা পোস্ট বুস্ট করে ইনবক্সে অর্ডার নেওয়াই এখনো আপনার জন্য সহজ রাস্তা।
ধাপ ১: objective হিসেবে Sales সিলেক্ট করুন
কম্পিউটারের ব্রাউজারে Ads Manager খুলে ওপরে বাঁ দিকের + Create বাটনে চাপ দিন। buying type জানতে চাইলে Auction রাখুন। এরপর ছয়টা objective দেখাবে, Awareness, Traffic, Engagement, Leads, App promotion আর Sales। Meta-র হেল্প পেজে Sales-এর কাজ লেখা আছে, যাঁদের কেনার সম্ভাবনা বেশি তাঁদের খুঁজে বের করা। ওয়েবসাইটে অর্ডার চাইলে এটাই আপনার objective। Sales সিলেক্ট করে Continue চাপুন।
অনেকে Traffic নেন, কারণ তাতে ক্লিক সস্তায় আসে। কিন্তু Traffic-এ ফেসবুক খোঁজে তাঁদের, যাঁরা লিংকে ক্লিক করেন। তাঁরা পরে অর্ডার দেন কি না, সেটা ফেসবুক দেখে না। তাই ক্লিক অনেক আসে, অথচ ফর্মে নাম লেখেন হাতে গোনা কয়েকজন।
Sales সিলেক্ট করলে স্ক্রিনে Advantage+ লেখা আর পাশে On দেখবেন। এর মানে ফেসবুকের AI নিজেই অডিয়েন্স, প্লেসমেন্ট আর বাজেট সামলাবে। পরে বাজেট, অডিয়েন্স বা প্লেসমেন্ট খুব সরু করলে সেখানে Advantage+ off দেখাবে। ক্যাম্পেইন তখনও চলবে, শুধু সেটা আর Advantage+ থাকবে না।
এরপর ক্যাম্পেইনের নাম দিন। Special Ad Categories-এ কিছু সিলেক্ট করবেন না, এটা বাসা ভাড়া, চাকরি, লোন বা রাজনীতির অ্যাডের জন্য। A/B test-ও প্রথম ক্যাম্পেইনে বন্ধ রাখুন।
objective-এর পরের আসল সিদ্ধান্তটা হয় অ্যাড সেটে গিয়ে। Conversion location হিসেবে Website রাখুন। Sales-এ app, Messenger আর WhatsApp-ও আছে, কিন্তু ওয়েবসাইটের অর্ডারের জন্য Website-ই ঠিক। এরপর আপনার পিক্সেল সিলেক্ট করুন, Meta অনেক জায়গায় একে dataset নামে দেখায়। conversion event হিসেবে Purchase দিন, আর performance goal রাখুন Maximize number of conversions।
একটা কথা মাথায় রাখুন। পিক্সেল যাঁদের নামে Purchase পাঠায়, ফেসবুক ঠিক তাঁদের মতো মানুষ খোঁজে। অর্ডার আসার সাথে সাথে Purchase গেলে ফেক অর্ডার দেওয়া মানুষও সেই দলে ঢোকেন, তাই চালুর আগে দেখে নিন আপনার Purchase কখন যাচ্ছে।
ধাপ ২: বাজেট ক্যাম্পেইনে দেবেন, না অ্যাড সেটে?
বাজেটের ঘরে দুটো অপশন পাবেন, Campaign budget আর Ad set budget। Campaign budget-কে Meta এখন Advantage+ campaign budget বলে। এতে পুরো ক্যাম্পেইনের জন্য একটা বাজেট দেন, আর কোন অ্যাড সেটে কত যাবে সেটা ফেসবুক ঠিক করে। Ad set budget-এ প্রতিটা অ্যাড সেটের বাজেট আপনি আলাদা বসান।
প্রথম ক্যাম্পেইনে অ্যাড সেট একটাই, তাই দুই রাস্তায় খরচ প্রায় একই হবে। সহজ রাখতে Campaign budget নিন। আলাদা বাজেট লাগে তখনই, যখন দুই অ্যাড সেটে নিজের হাতে আলাদা টাকা খরচ করতে চান, যেমন ঢাকা আর ঢাকার বাইরে।
এরপর Daily budget আর Lifetime budget-এর একটা সিলেক্ট করবেন। Meta-র বাজেটের পেজে লেখা, দৈনিক বাজেট আসলে এক সপ্তাহের গড়, কোনো এক দিনের কড়া সীমা না। ভালো সুযোগ দেখলে ফেসবুক কোনো দিন দৈনিক বাজেটের চেয়ে ৭৫% পর্যন্ত বেশি খরচ করে, অন্য দিন কম, তবে এক সপ্তাহে দৈনিক বাজেটের সাত গুণের বেশি না। Lifetime budget হলো পুরো সময়ের মোট টাকা। নিয়মিত চলবে এমন অ্যাডে Daily budget-ই সুবিধার। শুধু মনে রাখবেন, দিনে ১,০০০ টাকা দিলে কোনো দিন ১,৭৫০ টাকা পর্যন্ত কাটতে পারে, তাই কার্ডে সেই বাড়তি টাকা রাখুন।
বাজেট কত হলে ফেসবুক শিখতে পারে, একটা হিসাব
Sales ক্যাম্পেইনে বাজেটের পেছনে একটা হিসাব আছে, আর সেটা আসে learning phase থেকে। Meta-র হেল্প পেজ অনুযায়ী একটা অ্যাড সেট শেখার পর্ব সাধারণত পার হয় তখন, যখন শেষ বড় চেঞ্জের পরের এক সপ্তাহে প্রায় ৫০টা রেজাল্ট আসে। এখানে রেজাল্ট মানে Purchase।
এবার টাকায় দেখুন। নিচের সংখ্যাগুলো বোঝানোর জন্য ধরে নেওয়া, কোনো আসল দোকানের হিসাব না। ধরুন Ads Manager-এর হিসাবে একটা Purchase আনতে ২০০ টাকার মতো লাগে। সপ্তাহে ৫০টা চাইলে অ্যাডে যাবে ৫০ × ২০০ = ১০,০০০ টাকা, মানে দিনে প্রায় ১,৪৩০ টাকা, VAT আলাদা। এর চেয়ে অনেক কম বাজেটে এই অ্যাড সেট পুরোপুরি শিখে উঠতে পারবে না।
বাজেট যদি দিনে ৫০০ টাকা হয়, সপ্তাহের ৩,৫০০ টাকায় Purchase আসবে মোটামুটি ১৭-১৮টা। তখন Delivery কলামে Learning limited দেখাবে। Meta নিজেই লিখেছে, এটা কোনো শাস্তি না, শুধু বোঝায় এই সেটআপে ফেসবুক ঠিকমতো শিখতে পারছে না। Meta-র দেওয়া একটা উপায় হলো বেশি ঘটে এমন ইভেন্ট নেওয়া। এক প্রোডাক্টের ল্যান্ডিং পেজে সাধারণত কার্ট থাকে না, সেখানে Purchase-এর কাছাকাছি ইভেন্ট হলো অর্ডার ফর্ম শুরু করা, যার নাম InitiateCheckout।
তাই সহজ একটা নিয়ম ধরুন। সপ্তাহের বাজেটকে একটা Purchase-এর আন্দাজি খরচ দিয়ে ভাগ করুন। ফল ৫০-এর কাছাকাছি হলে Purchase-ই রাখুন। ২৫-এর নিচে হলে হয় বাজেট বাড়ান, নয়তো InitiateCheckout দিয়ে শুরু করুন। তখন মনে রাখবেন, ফর্ম শুরু করা সবাই অর্ডার দেন না, তাই খাতার হিসাব আরও কড়া রাখতে হবে। মাঝামাঝি হলে Purchase দিয়েই চালান, কিছুদিন Learning limited দেখালেও ক্ষতি নেই।
এটা ক্যাম্পেইন চালানোর বাজেট। নতুন একটা প্রোডাক্ট চলবে কি না দেখতে কত টাকা আলাদা রাখবেন, আর কোন সংখ্যা দেখে চালাবেন বা বাদ দেবেন, সেটা উইনিং প্রোডাক্ট খোঁজা আর ছোট বাজেটে টেস্টের লেখায় পুরো হিসাবসহ আছে।
ধাপ ৩: অডিয়েন্স, এলাকা আর প্লেসমেন্ট
অ্যাড সেটের Audience অংশে Advantage+ audience আগে থেকেই চালু থাকে। এখানে কাকে অ্যাড দেখাবে, সেটা ফেসবুকের AI ঠিক করে আপনার পিক্সেলের ডেটা, আগের অর্ডার আর আগের অ্যাডে মানুষের সাড়া দেখে। আপনি বয়স, জেন্ডার বা আগ্রহ দিলে সেটা কড়া সীমা হয় না, সাজেশন হয়। ভালো ফল আসবে মনে হলে ফেসবুক এর বাইরের মানুষকেও দেখায়।
বুস্টে নিজে অডিয়েন্স বানিয়ে অভ্যস্ত থাকলে এটা শুনতে অস্বস্তি লাগে। কিন্তু পিক্সেল ঠিকমতো Purchase পাঠালে Advantage+ audience দিয়ে শুরু করাই ভালো, কারণ ফেসবুক তখন আপনার আসল কাস্টমারদের দেখে শেখে। পিক্সেলে এখনো খুব কম অর্ডার জমা থাকলে সাজেশনের ঘরে লিখে দিন আপনার কাস্টমার কেমন, যেমন বয়স ২২ থেকে ৪৫ আর দুই-তিনটা কাছাকাছি আগ্রহ।
তবে দুটো জিনিস নিজে ঠিক করতেই হবে, কারণ এগুলো সাজেশন না, সত্যিকারের সীমা। প্রথমটা এলাকা। Controls-এর ভেতরে Locations-এ Edit চাপুন। সারা দেশে ডেলিভারি দিলে Bangladesh রাখুন, শুধু ঢাকায় দিলে ঢাকা। Reach more people likely to respond to your ads সিলেক্ট না করলে ফেসবুক আপনার দেওয়া এলাকার বাইরে যায় না। COD দোকানে এটা সিলেক্ট করবেন না, কারণ যেখানে আপনার কুরিয়ার যায় না, সেখানকার ক্লিকও আপনার টাকায় কেনা।
দ্বিতীয়টা বয়স। Advantage+ audience-এ ১৮ বছরের নিচে কাউকে নেওয়া যায় না, আর Minimum age ২৫ পর্যন্ত বাড়ালেও Advantage+ off হয় না। আপনার কাস্টমাররা সাধারণত চাকরিজীবী বা সংসারী মানুষ হলে ন্যূনতম বয়স একটু বাড়িয়ে দিতে পারেন। কিন্তু জেন্ডার কড়া করে বেঁধে দেবেন না, ছেলেদের ট্রিমার বা পাঞ্জাবি বেচলেও না। এসব জিনিস অনেকেই উপহার হিসেবে অন্য কারও জন্য কেনেন।
এরপর Placements। এখানে ডিফল্টে Advantage+ placements থাকে, মানে অ্যাড Facebook, Instagram, Messenger নাকি অন্য কোথাও দেখাবে, ফেসবুক নিজে ঠিক করে। অনেকে তিন দিন পর দেখেন Instagram-এ প্রতি রেজাল্টের খরচ বেশি, আর সাথে সাথে Instagram বন্ধ করে দেন। Meta-র placement-এর পেজে উদাহরণ দিয়ে দেখানো আছে, এতে প্রায়ই উল্টো ফল হয়। ফেসবুক প্রতিটা জায়গায় আলাদা করে সস্তা খোঁজে না, পুরো অ্যাড সেটের গড় খরচ কম রাখতে সব জায়গার সস্তা সুযোগ একসাথে নেয়। Meta-র উদাহরণে তিনটা জায়গা খোলা রাখলে ৯টা রেজাল্ট আসে, Instagram বন্ধ করলে আসে ৮টা, আর প্রতিটার গড় খরচও বাড়ে। তাই প্রথম ক্যাম্পেইনে প্লেসমেন্টে হাত দেবেন না।
ধাপ ৪: অ্যাডের ছবি বা ভিডিও, লেখা আর লিংক
অ্যাড সেট শেষে Next চাপলে অ্যাডের তলায় আসবেন। প্রথমে Ad name, তারপর Identity, যেখানে আপনার Facebook পেজ আর থাকলে Instagram অ্যাকাউন্ট সিলেক্ট করবেন। কয়েকটা পেজ চালালে ভুল পেজ সিলেক্ট হয়ে থাকা খুব সাধারণ ভুল, তাই একবার দেখে নিন। ফরম্যাটে Single image or video রাখুন, এক প্রোডাক্টের জন্য এটাই সবচেয়ে সহজ।
এবার লেখা। Meta এই ঘরগুলোর নাম দিয়েছে primary text, headline আর description। Primary text হলো ছবির ওপরের লেখা, মানুষ এটাই আগে পড়েন। প্রথম দুই লাইনে বলুন প্রোডাক্টটা কী আর কার কোন ঝামেলা মেটায়, কারণ বাকি লেখা অনেক সময় "See more"-এর নিচে লুকিয়ে থাকে। তারপর দাম, ডেলিভারি চার্জ, ক্যাশ অন ডেলিভারি আছে কি না, আর বক্সে কী থাকছে। Headline ছবির নিচে মোটা অক্ষরে দেখায়, সেখানে প্রোডাক্টের নাম আর দাম দিন। একটা উদাহরণ দিচ্ছি, নিজের প্রোডাক্ট বসিয়ে নিন।
"দাড়ি সমান করতে আর সেলুনে বসে থাকতে হবে না। এক চার্জে প্রায় দেড় ঘণ্টা চলে, সাথে চারটা কম্ব। দাম ১,১৫০ টাকা, ঢাকায় ডেলিভারি ৭০ টাকা, ঢাকার বাইরে ১৩০ টাকা। পার্সেল হাতে পেয়ে টাকা দেবেন। নিচের বাটনে চাপ দিয়ে অর্ডার করুন।"
দাম, চার্জ আর ব্যাটারির সময় এখানে সবই উদাহরণ। অ্যাডে যা লিখবেন, প্রোডাক্টে ঠিক তা-ই থাকতে হবে, নইলে অর্ডারের সাথে ফেরতও বাড়বে।
লিংকের ঘরে প্রোডাক্টের ল্যান্ডিং পেজের লিংক দিন, আর নিজের ফোনে একবার খুলে দেখুন পেজ আসছে কি না। ভাঙা লিংকে অ্যাড চললে পুরো দিনের টাকা যায়, একটাও অর্ডার আসে না।
Advantage+ creative-এর অংশটাও একবার খুলে দেখুন। এখানে Meta নিজে থেকে ছবির আলো ঠিক করা বা জায়গামতো ক্রপ করার মতো চেঞ্জ করতে পারে। Ad preview-এ দেখুন অ্যাডটা কেমন দাঁড়াল। যে চেঞ্জে প্রোডাক্ট আসলের চেয়ে অন্য রকম দেখায়, সেটা বন্ধ করুন। COD-তে কাস্টমার যা দেখে অর্ডার দেন, দরজায় সেটা না পেলে পার্সেল ফেরত দেন।
শেষে বাকি দুটো অ্যাড বানান। প্রথম অ্যাডটা Duplicate করে শুধু ছবি বা ভিডিও আর হেডলাইন চেঞ্জ করলেই হয়। তিনটাই পাবলিশের আগে বানিয়ে ফেলুন।
ধাপ ৫: পাবলিশ, রিভিউ আর লার্নিং ফেজ
সব ঘর পূরণ হলে আরেকবার দেখে নিন objective Sales আছে কি না, এলাকা ঠিক কি না, বাজেটে ভুল করে একটা শূন্য বেশি পড়েছে কি না, আর লিংক ঠিক পেজে যাচ্ছে কি না। তারপর নিচে ডান দিকে Publish চাপুন।
Publish চাপার পর অ্যাড রিভিউতে যায়। Meta অ্যাডের ছবি, লেখা, টার্গেটিং আর যে পেজে মানুষকে পাঠাচ্ছেন, সব তাদের Advertising Standards-এর সাথে মিলিয়ে দেখে। Delivery কলামে তখন দেখাবে In review। পাস করলে Active, না করলে Rejected, সাথে কোন নিয়মে আটকেছে তার নোটিফিকেশন। বেশিরভাগ অ্যাড এক দিনের মধ্যেই রিভিউ হয়।
Active হওয়ার পর Delivery কলামে কিছুদিন Learning লেখা থাকবে। এই সময়ে ফেসবুক খুঁজে বেড়ায় আপনার অ্যাড কাকে দেখালে সবচেয়ে ভালো ফল আসে। এই কয়দিন খরচ ওঠানামা করে, আর প্রতি রেজাল্টের খরচ সাধারণত বেশি থাকে। তাই প্রথম দুই দিনের সংখ্যা দেখে খুশি বা হতাশ হবেন না।
আসল কথা হলো, কোন চেঞ্জে এই শেখা আবার শূন্য থেকে শুরু হয়। Meta এগুলোকে বলে significant edit। আর কোন চেঞ্জে অ্যাড আবার রিভিউতে যায়, সেটা আরেকটা লিস্ট। দুটো একসাথে নিচের টেবিলে দিলাম, Meta-র learning phase আর ad review-এর হেল্প পেজ মিলিয়ে।
| কী চেঞ্জ করলেন | রিভিউ | লার্নিং |
|---|---|---|
| অডিয়েন্স বা এলাকা | আবার রিভিউতে যায় | নতুন করে শুরু হয় |
| ছবি, ভিডিও, লেখা বা লিংক | আবার রিভিউতে যায় | নতুন করে শুরু হয় |
| conversion event | আবার রিভিউতে যায় | নতুন করে শুরু হয় |
| চালু অ্যাড সেটে নতুন অ্যাড যোগ | নতুন অ্যাডটা রিভিউ হয় | নতুন করে শুরু হয় |
| বাজেট অল্প বাড়ানো বা কমানো | রিভিউ লাগে না | সাধারণত শুরু হয় না |
| বাজেট এক লাফে অনেক গুণ বাড়ানো | রিভিউ লাগে না | শুরু হতে পারে |
| অ্যাড সেট সাত দিন বা বেশি বন্ধ রাখা | রিভিউ লাগে না | আবার চালু করলে শুরু হয় |
এই টেবিলেই আছে শুরুতে তিনটা অ্যাড বানাতে কেন বলেছি। চালু অ্যাড সেটে পরে নতুন অ্যাড যোগ করাও significant edit, তাই তৃতীয় দিনে নতুন ভিডিও ঢোকালে শেখা আবার প্রথম থেকে শুরু হয়।
প্রথম সাত দিনে কোন সংখ্যা দেখবেন, কী বদলাবেন না?
প্রথম সপ্তাহে আপনার কাজ দুই জায়গায় সংখ্যা দেখা, Ads Manager-এ আর নিজের খাতায়। Ads Manager-এ রোজ একবার এই কলামগুলো দেখুন।
- Delivery। Learning, Learning limited নাকি Active লেখা আছে দেখুন। Learning limited দেখালে ধাপ ২-এর হিসাবটা আবার মিলিয়ে নিন।
- Results আর Cost per result। কয়টা Purchase এলো, আর একটার পেছনে কত গেল। এটা পিক্সেলের হিসাব, কুরিয়ার থেকে টাকা আসার হিসাব না।
- Last significant edit। কলামটা না থাকলে Columns থেকে যোগ করুন। ৫০টা রেজাল্ট গুনবেন এই তারিখ থেকে।
খাতায় রোজ রাতে লিখুন সেদিন অ্যাডে কত গেল, কয়টা অর্ডার এলো, কয়টা ফোনে কনফার্ম হলো আর কয়টা কুরিয়ারে গেল। পরে ডেলিভারি আর ফেরতের সংখ্যা পাশে বসান। চালাবেন নাকি থামাবেন, সেটা ঠিক করবেন একটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডারের পেছনে অ্যাডে কত গেল সেটা দেখে, Cost per result দেখে না।
মাঝপথে চেঞ্জ করলে কত টাকা যায়
এটাও উদাহরণ, সংখ্যাগুলো ধরে নেওয়া। ধরুন দিনে ১,৫০০ টাকা বাজেটে ক্যাম্পেইন চালু করলেন। তিন দিনে খরচ হলো ৪,৫০০ টাকা, Purchase এলো ২০টা, মানে একটা Purchase-এ ২২৫ টাকা। চতুর্থ দিন সকালে মনে হলো খরচ বেশি যাচ্ছে। তাই অডিয়েন্সে দুটো আগ্রহ যোগ করলেন, সাথে একটা নতুন ভিডিও ঢুকিয়ে দিলেন।
দুটোই significant edit। ৫০টা রেজাল্ট গোনা হয় শেষ significant edit-এর পর থেকে, তাই আগের ২০টা Purchase এই গোনায় আর ধরা হয় না। মানে প্রথম তিন দিনের ৪,৫০০ টাকার বড় অংশ গেল এমন শেখার পেছনে, যা আর কাজে আসবে না। এবার আবার এক সপ্তাহের শেখা, যেখানে ৫০টা রেজাল্ট পেতে এই হারে আরও ৫০ × ২২৫ = ১১,২৫০ টাকার মতো লাগবে। এক সকালের অস্থিরতার দাম তাই কয়েক হাজার টাকা।
তাহলে প্রথম সাত দিনে হাত দেবেন কখন? শুধু এই চারটা ক্ষেত্রে।
- অ্যাড Rejected হয়েছে। নোটিফিকেশনে যে নিয়মের কথা বলেছে, সেটা ঠিক করে আবার পাবলিশ করুন।
- ল্যান্ডিং পেজ খুলছে না, বা অর্ডার ফর্ম কাজ করছে না। ওয়েবসাইট ঠিক করা অ্যাডের চেঞ্জ না, তাই এতে শেখা নষ্ট হয় না। সাথে সাথে ঠিক করুন।
- কনফার্ম কলে বেশিরভাগ অর্ডার ভুয়া বের হচ্ছে। অ্যাড থামিয়ে দেখুন Purchase কখন যাচ্ছে, আর অ্যাডের লেখায় এমন কিছু আছে কি না যা প্রোডাক্টে নেই।
- দুই-তিন দিনের বাজেট খরচ হয়েছে, অথচ লিংকে প্রায় কেউ আসছে না। তার মানে ছবি বা প্রথম লাইনটাই মানুষকে থামাতে পারছে না। নতুন ছবি নিয়ে নতুন করে শুরু করুন।
এর বাইরে সাত দিন অপেক্ষা করুন।

সাত দিন পর অ্যাড ভালো চললে বাজেট বাড়ান অল্প অল্প করে। Meta-র উদাহরণে বাজেট ১০০ ডলার থেকে ১০১ ডলার করলে শেখা আবার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম, কিন্তু ১০০ থেকে ১,০০০ ডলার করলে হতে পারে। তাই দিনে ১,৫০০ টাকা থেকে এক লাফে ১৫,০০০ না করে কয়েক দিন পর পর একটু একটু বাড়ান, আর প্রতিবার খাতায় দেখুন ডেলিভারিপ্রতি খরচ কোন দিকে যাচ্ছে।
WinningSeller-এ এই প্রস্তুতির কাজগুলো এক জায়গায় হয়। AI দিয়ে পাঁচ মিনিটে এক প্রোডাক্টের ল্যান্ডিং পেজ বানানো যায়। Facebook Pixel আর Conversions API সেটিংসে বসালেই চলে, আর চাইলে Purchase পাঠানো যায় পার্সেল ডেলিভারি হওয়ার পরে, যাতে ফেক অর্ডার ফেসবুকের কাছে কাস্টমার হিসেবে না যায়। অ্যাডের খরচ লিখে রাখলে ডেলিভারি হওয়া অর্ডার থেকে আসল লাভ-ক্ষতিও সেখানেই দেখা যায়। কী কী আছে, সব ফিচারের পেজে দেখে নিতে পারেন।
আজকের কাজ ছোট। Events Manager খুলে দেখুন Purchase ঠিকমতো আসছে কি না। তারপর একটা প্রোডাক্টের জন্য তিনটা অ্যাড রেডি করুন, আর ধাপ ২-এর হিসাবে নিজের বাজেট বসিয়ে দেখুন সপ্তাহে কয়টা Purchase আসতে পারে। এই তিনটা হয়ে গেলে কাল এক বসায় পুরো ক্যাম্পেইনটা বানিয়ে ফেলতে পারবেন।
সাধারণ প্রশ্ন
ক্যাম্পেইন, অ্যাড সেট আর অ্যাডের পার্থক্য কী?
ক্যাম্পেইনে ঠিক করেন অ্যাড দিয়ে কী চান, যেমন Sales। অ্যাড সেটে ঠিক করেন কারা দেখবেন, কোথায় দেখবেন, কত টাকা খরচ হবে আর কবে চলবে। অ্যাডে থাকে মানুষ যা চোখে দেখেন, মানে ছবি বা ভিডিও, লেখা আর লিংক। একটা ক্যাম্পেইনে কয়েকটা অ্যাড সেট, আর একটা অ্যাড সেটে কয়েকটা অ্যাড রাখা যায়।
ওয়েবসাইটে অর্ডারের জন্য Sales নাকি Traffic objective দেব?
Sales দিন। Traffic-এ ফেসবুক খোঁজে তাঁদের, যাঁরা লিংকে ক্লিক করেন, আর Sales-এ খোঁজে তাঁদের, যাঁদের কেনার সম্ভাবনা বেশি। তবে Sales ঠিকমতো কাজ করে তখনই, যখন ওয়েবসাইটের পিক্সেল থেকে Purchase ইভেন্ট ফেসবুকে পৌঁছায়।
Advantage+ চালু রাখব, নাকি নিজে অডিয়েন্স বানাব?
পিক্সেল ঠিকমতো অর্ডারের খবর পাঠালে Advantage+ চালু রেখেই শুরু করুন, তবে এলাকা নিজে ঠিক করে দিন। বয়স আর আগ্রহ সাজেশন হিসেবে দিতে পারেন। কয়েক সপ্তাহ চালিয়ে নিজের খাতার হিসাব দেখে তবেই ঠিক করুন অডিয়েন্স হাতে বেঁধে দেবেন কি না।
ফেসবুক অ্যাডের লার্নিং ফেজ কত দিন থাকে?
নির্দিষ্ট কোনো দিন নেই। Meta-র হেল্প পেজ অনুযায়ী শেষ বড় চেঞ্জের পরের এক সপ্তাহে প্রায় ৫০টা রেজাল্ট এলে সাধারণত অ্যাড সেট learning phase থেকে বের হয়। রেজাল্ট এর চেয়ে অনেক কম এলে Delivery কলামে Learning limited দেখায়।
Learning limited দেখালে কি অ্যাড বন্ধ করে দেব?
না, Meta নিজেই লিখেছে এটা কোনো শাস্তি না। এর মানে শুধু, এই সেটআপে ফেসবুক শেখার মতো যথেষ্ট রেজাল্ট পাচ্ছে না। বাজেট বাড়ানো, অডিয়েন্স বড় করা বা বেশি ঘটে এমন ইভেন্ট সিলেক্ট করা, Meta এই উপায়গুলোর কথা বলে। খাতার হিসাবে ডেলিভারি হওয়া অর্ডারে লাভ থাকলে অ্যাড চালু রাখতে পারেন।
একটা অ্যাড সেটে কয়টা অ্যাড রাখব?
শুরুতে দুই-তিনটাই যথেষ্ট, যেমন একটা ভিডিও, একটা ছবি আর একটা ভিন্ন হেডলাইন। Meta-র হেল্প পেজে বলা আছে, অনেক বেশি অ্যাড বানালে সিস্টেম প্রতিটা থেকে কম শেখে। আর চালু অ্যাড সেটে নতুন অ্যাড যোগ করলে learning phase আবার শুরু হয়, তাই সবগুলো পাবলিশের আগেই বানিয়ে ফেলুন।
আরও পড়ুন
ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ
ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।
গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে
গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।
বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে
ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।


