আপনার ছবি দিয়ে অন্যে বেচছে? ফেসবুক কপিরাইট রিপোর্ট আর নকল পেজের নিয়ম
আপনার তোলা ছবি দিয়ে আরেক পেজ বেচছে, বা আপনার নামে নকল পেজ খুলে অগ্রিম নিচ্ছে? ছবির মালিক কে, প্রমাণ রাখার নিয়ম, ফেসবুক কপিরাইট রিপোর্ট ফর্ম, নকল পেজের রিপোর্ট আর সেদিনই কাস্টমারকে সাবধান করার কাজ, ধাপে ধাপে।

এই লেখায় যা আছে
- নিজের তোলা প্রোডাক্টের ছবি-ভিডিওর মালিক কে?
- চুরি হয়েছে, প্রমাণ রাখবেন যেভাবে (আসল ফাইল, তারিখ, স্ক্রিনশট)
- ফেসবুক কপিরাইট রিপোর্ট ফর্ম পূরণ করবেন যেভাবে, ধাপে ধাপে
- আপনার নামে নকল পেজ, ইমপারসোনেশন রিপোর্ট আর কাস্টমারকে সাবধান করা
- উল্টো আপনার পোস্টে কপিরাইট রিপোর্ট এলে আপিল করবেন কখন
- প্রতিযোগীরা দল বেঁধে রিপোর্ট দিলে কী করবেন
- ছবি চুরি কমানোর ছোট অভ্যাস, ওয়াটারমার্ক কোথায় আর কতটা
- আজই করে ফেলুন, এক ঘণ্টার কাজ
নিজের তোলা প্রোডাক্টের ছবি বা ভিডিও অন্য পেজে দেখলে ফেসবুক কপিরাইট রিপোর্ট করতে পারেন শুধু আপনি, মানে ছবির মালিক বা তাঁর হয়ে অনুমতি পাওয়া কেউ। রিপোর্টের আগে নিজের আসল ফাইল আর চোরের পোস্টের লিংকসহ স্ক্রিনশট রেখে দিন। তারপর Meta-র কপিরাইট রিপোর্ট ফর্মে প্রতিটা পোস্টের লিংক আলাদা করে দিন। কেউ আপনার পেজের নাম আর লোগো দিয়ে নকল পেজ খুললে সেটার রিপোর্ট আলাদা, নকল পেজের Options থেকে Report Page। আর সেদিনই নিজের পেজে একটা পোস্ট পিন করুন, তাতে লিখুন কোনটা আসল পেজ আর কোন নম্বরে আপনি টাকা নেন। রিপোর্টে কত দিনে কাজ হবে তার ঠিক নেই, কিন্তু কাস্টমারকে সাবধান করাটা পুরোপুরি আপনার হাতে।
ধরুন দুপুরে বসে প্যাকিং করছেন, এমন সময় এক পুরনো কাস্টমারের মেসেজ এল। একটা স্ক্রিনশট, নিচে লেখা, "ভাই, এই পেজটা কি আপনাদের? ওরা তো ৩০০ টাকা কমে দিচ্ছে।" খুলে দেখলেন আপনার বারান্দায় তোলা সেই ছবিগুলোই, পেছনের চেনা কাপড়টা পর্যন্ত। রাগ ওঠে, সাথে ভয়ও হয়, কতজন ওখানে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছে কে জানে। এই মুহূর্তে ওই পোস্টে গিয়ে কমেন্টে ঝগড়া করাটাই সবচেয়ে বড় ভুল। কাজগুলো যে ক্রমে করবেন, নিচে সেভাবেই সাজিয়ে দিলাম।
নিজের তোলা প্রোডাক্টের ছবি-ভিডিওর মালিক কে?
Meta-র ফর্ম প্রথমেই জানতে চায় আপনি মালিক কি না, তাই এই উত্তরটা আগে পরিষ্কার থাকা দরকার। বাংলাদেশের কপিরাইট আইন, ২০২৩-এর ২ ধারায় শিল্পকর্মের সংজ্ঞায় ফটোগ্রাফি সরাসরি আছে, আর সাথে লেখা "শিল্পসুলভ গুণ থাকুক বা নাই থাকুক"। মানে সাদা কাগজের ওপর তোলা আপনার মধুর বয়ামের সাধারণ ছবিও আইনের চোখে একটা কাজ। একই ধারায় চলচ্চিত্রের সংজ্ঞায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বানানো কাজের কথাও আছে, তাই আপনার রিলের ভিডিওটাও এর বাইরে না। এগুলো ২০২৬ সালের অক্টোবরে bdlaws.minlaw.gov.bd-তে আইনটার যে লেখা আছে, সেখান থেকে মিলিয়ে নেওয়া।
আইনের ১৫ ধারা বলছে, যিনি কাজটা বানিয়েছেন তিনিই কপিরাইটের প্রথম মালিক। নিজের ফোনে নিজে তুললে মালিক আপনি। একই ধারায় আছে, কারও উদ্যোগে টাকার বিনিময়ে ছবি তোলা হলে, অন্য কোনো চুক্তি না থাকলে, যিনি টাকা দিয়েছেন তিনিই প্রথম মালিক। আপনার দোকানের স্টাফ চাকরির কাজ হিসেবে তুললেও, আলাদা চুক্তি না থাকলে, মালিক আপনি। তবু ঈদের আগে অনেক সেলার ফটোগ্রাফার ভাড়া করেন, দাম মুখে ঠিক হয়, কোথাও কিছু লেখা থাকে না। দাম ঠিক করার সময় মেসেজে এক লাইন লিখে নিন, "ছবিগুলো দোকানের, দোকান যেখানে খুশি দেবে"। পরে কথা উঠলে এই মেসেজটাই কাজে আসে।
রেজিস্ট্রেশন কি লাগবে? আইনের ৫৩ ধারায় রেজিস্ট্রেশনের কথা আছে, আর সেখানে লেখা মালিক আবেদন "করিতে পারিবেন"। মানে চাইলে করবেন। Meta-র "How copyright works" পেজেও লেখা, নিজে কিছু বানালে সাধারণত বানানোর মুহূর্ত থেকেই কপিরাইট আপনার। প্রতিটা প্রোডাক্টের ছবি রেজিস্ট্রি করার দরকার নেই।
এবার যে কথাটা অনেক সেলারকে প্রথমবার ধাক্কা দেয়। সাপ্লায়ারের দেওয়া ছবি আপনার না। পাইকার একই ছবি হয়তো আরও বিশটা পেজকে দিয়েছেন, তাই সেটা নিয়ে রিপোর্টও আপনি করতে পারবেন না। স্টক ছবি বা ব্র্যান্ডের ওয়েবসাইটের ছবিও আপনার না। আর কপিরাইট থাকে ছবিটার ওপর, প্রোডাক্টের ওপর না। কেউ একই প্রোডাক্ট কিনে এনে নিজে ছবি তুলে বেচলে সেটা সাধারণত চুরি না, সেটা প্রতিযোগিতা। ঘরে বসে নিজের ছবি কীভাবে তুলবেন, সেটা মোবাইল দিয়ে প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফির লেখায় আছে।
চুরি হয়েছে, প্রমাণ রাখবেন যেভাবে (আসল ফাইল, তারিখ, স্ক্রিনশট)
রাগের মাথায় প্রায় সবাই আগে ওই পোস্টে গিয়ে কমেন্ট করেন, "এটা আমার ছবি, চোর!" দশ মিনিট পরে দেখেন কমেন্ট ডিলিট, আধা ঘণ্টা পরে পোস্টটাই নেই। পরদিন একই ছবি আবার ফিরে আসে নতুন পোস্টে, আর আপনার হাতে কিছুই নেই। প্রথম কথাটা আমি সবাইকে একভাবেই বলি, চুপচাপ আগে প্রমাণ জমান, তারপর অন্য কাজ।
প্রথম কাজ আসল ফাইলটা খুঁজে আলাদা করা। ফোনের গ্যালারিতে ছবিটা খুলে তিন ডট বা "Details"/"Info" চাপলে সাধারণত তোলার তারিখ, সময় আর কোন ফোনে তোলা, সব দেখা যায়। ফেসবুক থেকে নামানো কপিতে এসব তথ্য সাধারণত থাকে না, তাই আপনার ফাইলটা আলাদা হয়ে যায়। আরেকটা জিনিস চোরের কাছে কখনো থাকে না। একটা প্রোডাক্টের আপনি সাধারণত একটু আগে-পরে দশ-বারোটা ছবি তোলেন, পোস্ট করেন দুটো। বাকি আটটা আপনার গ্যালারিতে আছে, চোরের কাছে নেই।

এরপর দেখুন ফাইলগুলো যেন হারিয়ে না যায়। প্রায় সবাই এখানে একটা ভুল করেন। WhatsApp-এ নিজেকে বা ডিজাইনারকে পাঠিয়ে সেখান থেকে সেভ করেন, আর আসলটা ডিলিট করে দেন। WhatsApp-এ পাঠানো ছবি সাধারণত ছোট হয়ে যায়, ভেতরের তারিখের তথ্যও থাকে না। আসলগুলো মাস ধরে নাম দেওয়া একটা ফোল্ডারে রাখুন, যেমন "২০২৬-১০ পাঞ্জাবি", আর ল্যাপটপ বা Google Photos-এ একটা কপি রাখুন।
তারপর চোরের পোস্টের প্রমাণ নিন, লিংকসহ। পুরো স্ক্রিনের স্ক্রিনশট নিন, যাতে পেজের নাম, পোস্টের সময়, দাম আর কমেন্ট একসাথে দেখা যায়। এরপর পোস্টের তিন ডট থেকে "Copy link" চেপে লিংকটা ফোনের নোটে পেস্ট করুন, পাশে লিখুন কখন দেখলেন। রিপোর্ট ফর্মে লাগে ওই লিংক, পাঁচটা পোস্ট হলে পাঁচটা। চোর ভিডিও দিলে স্ক্রিন রেকর্ড করে রাখুন, পেজের নাম থেকে ভিডিও পর্যন্ত স্ক্রল করে। নিজের পেজে বা ওয়েবসাইটে ছবিটা প্রথম কবে উঠেছিল, সেই পোস্টের লিংকটাও পাশে রাখুন, ফর্মে এটাও চাইবে।
আর নকল পেজ যদি কাস্টমারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকে, যে কাস্টমার আপনাকে জানিয়েছেন তাঁর কাছ থেকে ওই চ্যাটের স্ক্রিনশট আর যে bKash নম্বরে টাকা গেছে সেটা চেয়ে রাখুন। পরের ধাপগুলোতে এটা লাগবে।
ফেসবুক কপিরাইট রিপোর্ট ফর্ম পূরণ করবেন যেভাবে, ধাপে ধাপে
আগে ঠিক করুন সমস্যাটা কোন ধরনের, কারণ Meta-তে একেকটার রাস্তা আলাদা।
| কী হয়েছে | কোন রিপোর্ট | কোথা থেকে |
|---|---|---|
| আপনার তোলা ছবি বা ভিডিও অন্যের পোস্টে | কপিরাইট রিপোর্ট | Meta-র কপিরাইট রিপোর্ট ফর্ম |
| আপনার পেজের নাম, লোগো দিয়ে আরেকটা পেজ | নকল পেজের (impersonation) রিপোর্ট | নকল পেজের Options থেকে Report Page |
| আপনার ব্র্যান্ডের নাম বা লোগো অন্যের প্রোডাক্টে | ট্রেডমার্ক রিপোর্ট | Meta-র আলাদা ট্রেডমার্ক ফর্ম |
ছোট পেজের রোজকার ঝামেলা বেশিরভাগই প্রথম দুটো, এখানে কপিরাইটের ফর্ম।
ফর্মে যাওয়ার আগে একবার সরাসরি বলুন। Meta-র হেল্প পেজেও এটা একটা রাস্তা হিসেবে আছে, যিনি পোস্ট করেছেন তাঁকে মেসেজ দেওয়া। নতুন ছোট পেজ অনেক সময় না বুঝেই ছবি নেয়, আর ভদ্র একটা মেসেজ পেলে সরিয়েও ফেলে। লিখুন, "ভাই, ছবিগুলো আমাদের নিজের তোলা, আজকের মধ্যে সরিয়ে দিলে খুশি হব।" তবে যে পেজ আপনার নাম নিয়ে টাকা তুলছে, তাকে মেসেজ দিয়ে সাবধান করে দেবেন না। সোজা রিপোর্টে যান।
ফর্মের লিংক পাবেন Meta-র কপিরাইট রিপোর্টের হেল্প পেজে। কয়েকটা লিংক কপি-পেস্ট করতে হয়, তাই ল্যাপটপে বসলে সুবিধা। ফর্ম খুললে শুরুতেই জানতে চাইবে আপনি নিজে মালিক, নাকি মালিকের হয়ে রিপোর্ট করছেন। ২০২৬ সালের অক্টোবরে Meta-র কপিরাইট হেল্প পেজে লেখা আছে, শুধু কপিরাইটের মালিক বা তাঁর অনুমতি পাওয়া প্রতিনিধিই রিপোর্ট করতে পারেন।
এরপর আসে নাম আর ইমেইল, এখানে একটু ভেবে দিন। একই হেল্প পেজে লেখা আছে, Meta নিয়মিত মালিকের নাম, রিপোর্টকারীর ইমেইল আর রিপোর্টের বিবরণ সেই মানুষটাকে দেয় যাঁর পোস্ট সরানো হলো। Meta নিজেই ব্যবসার বা প্রফেশনাল একটা ইমেইল দিতে বলে। তাই পার্সোনাল ইমেইল না দিয়ে দোকানের নামে খোলা আলাদা ইমেইলটা দিন।
তারপর লিখতে হয় আপনার কাজটা কী। ফেসবুক ইংরেজিতে চালালে ফর্মও ইংরেজিতে আসে, আর অনেকে এই ঘরে এসেই আটকে যান। তাই এক লাইনের বিবরণ আগে থেকে লিখে রাখুন, যেমন "Product photos of my shop, taken by me on my phone, first posted on my Page on 12 September 2026." এর নিচে আপনার আসল পোস্টের লিংকটা দিন, যেটা আগে সেভ করে রেখেছিলেন।
যে ঘরে জানতে চায় কোন কনটেন্ট নিয়ে অভিযোগ, সেখানে পুরো পেজের লিংক দেবেন না। প্রতিটা পোস্টের লিংক আলাদা লাইনে দিন। পেজের লিংক দিলে যিনি রিপোর্টটা দেখবেন তিনি বুঝতে পারেন না কোন ছবি নিয়ে অভিযোগ, তাই কাজ ঝুলে থাকে। একটা পোস্টে আপনার ছবি আর অন্যের ছবি মেশানো থাকলে লিখে দিন কোনটা আপনার, যেমন "পোস্টের ৩ নম্বর ছবিটা"।
শেষে একটা ঘোষণায় টিক দিতে হয় যে দেওয়া তথ্য সত্যি আর আপনিই মালিক বা মালিকের হয়ে দিচ্ছেন। সই হিসেবে নিজের পুরো নাম লিখতে হয়। এই টিকটা হালকাভাবে দেবেন না, মিথ্যা দাবি করলে দায় আপনার।
জমা দেওয়ার পর একটা ইমেইল আসে, তাতে রিপোর্টের নম্বর থাকে। নম্বরটা প্রমাণের নোটে লিখে রাখুন। একই চোর পরে নতুন পোস্টে আবার ছবি দিলে ক্লান্ত না হয়ে আবার রিপোর্ট করবেন। Meta-র "How copyright works" পেজে লেখা আছে, কেউ বারবার অন্যের কপিরাইট ভাঙলে তার অ্যাকাউন্ট বন্ধ বা পেজ সরানো হতে পারে।

কখন রিপোর্ট করবেন না
ছবিটা আপনার না হলে কখনো না। সাপ্লায়ারের ছবি, ইন্টারনেট থেকে নেওয়া ছবি, বা যে ছবি আপনিও অন্য কোথাও থেকে নিয়েছিলেন, এগুলো নিয়ে রিপোর্ট করবেন না। প্রতিযোগী একই প্রোডাক্ট নিজে তুলে কম দামে বেচলেও না, ওটা দামের লড়াই, কপিরাইটের না। রাগ মেটাতে বা কাউকে নামাতে রিপোর্ট করাও না। মনে রাখবেন, আপনার নাম আর ইমেইল ওই মানুষের হাতে যাবে। তার ওপর Meta-র Community Standards-এর Inauthentic Behavior অংশে রিপোর্টের সিস্টেম দিয়ে কাউকে হয়রানি, ভয় দেখানো বা চুপ করানো পরিষ্কার নিষেধ। ২০২৬ সালের অক্টোবরে দেখা ওই পেজে শেষ বদলের তারিখ ১২ ডিসেম্বর ২০২৫। মিথ্যা রিপোর্টে নিজের পেজও বিপদে পড়তে পারে।
আপনার নামে নকল পেজ, ইমপারসোনেশন রিপোর্ট আর কাস্টমারকে সাবধান করা
এটা ছবি চুরির চেয়ে বেশি ভয়ের, কারণ টাকা যায় আপনার কাস্টমারের, দোষ পড়ে আপনার নামে। চেনা ধরনটা এমন। আপনার পেজের নাম একটু বদলে, যেমন শেষে একটা ডট বা "Official" জুড়ে, আপনার লোগো আর ছবি দিয়ে পেজ খোলে। তারপর আপনার পোস্টে যাঁরা "দাম কত" কমেন্ট করেন, তাঁদের ইনবক্সে নিজেই মেসেজ দেয়, কম দামের অফার দেখিয়ে ডেলিভারি চার্জ বা পুরো টাকা অগ্রিম চায়। টাকা যাওয়ার পর আর সাড়া নেই।
রিপোর্টের রাস্তাটা সোজা। ২০২৬ সালের অক্টোবরে Meta-র হেল্প পেজের "Report a Facebook profile or Page pretending to be you or someone else" অংশে যা লেখা আছে, সেই অনুযায়ী নকল পেজে গিয়ে কভার ছবির নিচে Options (তিন ডট) চাপুন, Report Page সিলেক্ট করে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন। অপশনের নাম মাঝে মাঝে বদলায়, খুঁজবেন অন্য ব্যবসা সেজে থাকার অপশনটা, আর চাইলে নিজের আসল পেজের লিংক দেবেন। ফেসবুকে লগইন করতে না পারলে একই হেল্প পেজে একটা কন্টাক্ট ফর্মের কথা আছে।
একটা জিনিস প্রায়ই ঘটে। নকল পেজ টের পেলে আপনার অ্যাকাউন্টকে ব্লক করে দেয়, তখন নিজের ফোন থেকে পেজটা আর খুঁজেই পান না। তাই রিপোর্টের আগে পেজের লিংক কপি করে প্রমাণের নোটে রাখুন। নকল পেজ আপনার ছবি দিয়ে পোস্ট দিলে সেই পোস্টগুলোর জন্য ওপরের কপিরাইট রিপোর্টও আলাদা করে করুন।
যে কাস্টমাররা সত্যিই টাকা খুইয়েছেন, তাঁদের বলুন নিজের ঘটনা লিখে নিজেই পেজটা রিপোর্ট করতে, কারণ ঠকেছেন তো তাঁরাই। কিন্তু চেনা বিশজনকে ধরে "সবাই রিপোর্ট দাও" ক্যাম্পেইন করবেন না, ওপরের নিষেধটা মনে রাখবেন। পেইড Meta Verified-এ নকল পেজ থেকে সুরক্ষার একটা সুবিধা আছে, কাদের তা দরকার সেটা মেটা ভেরিফাইডের লেখায় আছে।
রিপোর্ট কবে কাজ করবে কেউ জানে না। আমার অভিজ্ঞতায় এমন ঝামেলায় রিপোর্টের চেয়ে আগে কাজ করে নিজের পেজের একটা পিন করা পোস্ট, ওটা আজ রাতেই কয়েকজনকে বাঁচায়। লেখাটা এমন রাখুন।
আমাদের নাম আর ছবি দিয়ে একটা নকল পেজ অগ্রিম টাকা নিচ্ছে। আমাদের আসল পেজ শুধু এটা। আমরা টাকা নিই শুধু 01XXXXXXXXX নম্বরে, অন্য কোনো নম্বরে টাকা পাঠাবেন না। ইনবক্সে কেউ আমাদের নামে কম দামের অফার দিলে আগে এই পেজে মেসেজ দিয়ে মিলিয়ে নিন।
সাথে নকল পেজের একটা স্ক্রিনশট দিন, তাতে "এটা আমাদের পেজ না" লিখে দাগিয়ে দিন। গালি দেবেন না, শুধু সত্যিটা বলুন। পেজের ইন্ট্রোতেও পেমেন্ট নম্বরটা এক লাইনে লিখে দিন। অর্ডার কনফার্মের ফোনে "আমরা শুধু এই নম্বরে টাকা নিই" বলতে পাঁচ সেকেন্ড লাগে, অথচ এই কথাটাই কাউকে নকল পেজে টাকা পাঠানো থেকে থামাতে পারে।

উদাহরণ, ঠকে যাওয়া কাস্টমার আপনার কাছে এলে
নিচের সংখ্যাগুলো একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। ধরুন আপনি ১,৪৫০ টাকায় একটা শার্ট বেচেন। কিনতে পড়ে ৭৮০ টাকা, প্যাকেটে যায় ২০ টাকা। নকল পেজ আপনার ছবি দিয়ে একই শার্ট ৮৯০ টাকায় দেখাল আর ১৫০ টাকা ডেলিভারি চার্জ অগ্রিম চাইল। দুই দিনে ১০ জন টাকা পাঠালেন, মানে তাঁদের মোট ১০ × ১৫০ = ১,৫০০ টাকা গেল। এই টাকা আপনার না, ফেরত দেওয়ার দায়ও আপনার না।
কিন্তু এঁরা রেগে আপনার আসল পেজেই আসেন, কারণ তাঁদের চোখে শার্টটা আপনার। ঝগড়া করলে বা উত্তর না দিলে তাঁরা কমেন্টে আর রিভিউতে আপনার নামেই লেখেন। আরেকটা রাস্তা আছে। ভদ্রভাবে বুঝিয়ে বলুন পেজটা নকল, আর যাঁর bKash স্ক্রিনশটে নকল পেজের নম্বরটা মেলে, তাঁকে আসল শার্টটা আসল দামে ফ্রি ডেলিভারিতে দেওয়ার অফার দিন।
ধরুন ১০ জনের ৪ জন নিলেন। প্রতিটা শার্টে আপনার থাকে ১,৪৫০ − ৭৮০ − ২০ = ৬৫০ টাকা, আর এঁরা নিজেরাই এসেছেন বলে অ্যাডের খরচ নেই। চার শার্টে ৪ × ৬৫০ = ২,৬০০ টাকা। ধরুন ফ্রি ডেলিভারির কুরিয়ার চার্জ প্রতিটায় ১০০ টাকা, যা আপনার পকেট থেকে যাবে, চারটায় ৪০০ টাকা। হাতে থাকে ২,৬০০ − ৪০০ = ২,২০০ টাকা, সাথে চারজন মানুষ যাঁরা দেখলেন আসল দোকান কেমন। অফারটা দেবেন শুধু নতুন অর্ডারে আর শুধু মেলানো স্ক্রিনশট দেখে, কারণ "আমিও ঠকেছি" বলে ফ্রি ডেলিভারি চাওয়ার মানুষও আসবে। হিসাবে না পোষালে অফার দেবেন না, ভদ্রভাবে সত্যিটা বলাই যথেষ্ট।
উল্টো আপনার পোস্টে কপিরাইট রিপোর্ট এলে আপিল করবেন কখন
একদিন সকালে নোটিফিকেশন এল, আপনার একটা পোস্ট কপিরাইট রিপোর্টের কারণে সরানো হয়েছে। বুক ধক করে ওঠে, কিন্তু আগে দেখুন কে রিপোর্ট করেছে। Meta-র হেল্প পেজ অনুযায়ী কপিরাইট রিপোর্টে কনটেন্ট সরানো হলে যে নোটিফিকেশন আসে, তাতে রিপোর্টকারীর নাম, ইমেইল বা রিপোর্টের অন্য বিবরণ থাকতে পারে। পেজের Page status-এও ভায়োলেশনটা জমা থাকে, সেখান থেকেও দেখে নিন। Page status কোথায় আর কী বোঝায়, সেটা পেজ রেস্ট্রিক্টেড হলে কী করবেন, সেই লেখায় পাবেন।
এরপর নিজেকে একটাই প্রশ্ন করুন, ছবিটা কার?
ছবিটা যদি আপনার নিজের তোলা হয়, আপিল করুন। Meta-র কপিরাইট পেজ বলছে, কনটেন্ট সরানো হলে নোটিফিকেশনেই আপিলের নিয়ম জানানো হয়। তার আগে Meta একটা পরামর্শও দেয়, যিনি রিপোর্ট করেছেন তাঁর সাথে সরাসরি কথা বলে মিটিয়ে নেওয়া। প্রায়ই দেখা যায় রিপোর্টকারী একই সাপ্লায়ারের আরেক সেলার, ভেবেছেন আপনি তাঁর ছবি নিয়েছেন। আসল ফাইলের তারিখ আর আগে-পরের ছবিগুলো দেখালে ভুলটা তিনি নিজেই বোঝেন। আপিলে যা লিখবেন আর যা জুড়বেন, ধরে নিন রিপোর্টকারীও তা দেখতে পারেন, তাই ব্যক্তিগত কিছু দেবেন না।
ছবিটা যদি সাপ্লায়ারের হয় আর আপনি অনুমতি নিয়েই দিয়ে থাকেন, তাহলে আগে সাপ্লায়ারের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিন। একটা মেসেজই যথেষ্ট, "আমার প্রোডাক্টের ছবি অমুক পেজ বিক্রির জন্য দিতে পারবে"। তারপর রিপোর্টকারীর সাথে কথা বলুন। খেয়াল রাখবেন, রিপোর্টটা সাপ্লায়ার নিজেও করে থাকতে পারেন।
আর ছবিটা যদি আপনি কোথাও থেকে নামিয়ে নিয়েছিলেন, তাহলে আপিল করবেন না। ছবিটা সরিয়ে নিজের তোলা ছবি দিন, আর পেজে ওই ধরনের বাকি পোস্টগুলোও একবার দেখে নিন। কারণটা ওপরে বলেছি, বারবার কপিরাইট ভাঙলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ বা পেজ সরানো হতে পারে।
আরেকটা ফাঁদ চিনে রাখুন। "Meta Support" বা "Copyright Team" নামে মেসেজ আসে, পেজ কপিরাইট ভেঙেছে, ২৪ ঘণ্টায় আপিল না করলে ডিলিট, সাথে একটা লিংক। আসল নোটিস মিলিয়ে নিন নিজের পেজের Page status-এ, মেসেজের লিংকে কখনো লগইন করবেন না। এই ধরনটা পেজ হ্যাক হলে করণীয়ের লেখায় বিস্তারিত আছে।
প্রতিযোগীরা দল বেঁধে রিপোর্ট দিলে কী করবেন
দাম নিয়ে কারও সাথে কমেন্টে লেগে গেল। দুই দিন পর ইনবক্সে কেউ লিখল, "রিপোর্ট দিয়ে পেজ নামিয়ে দেব।" এ সময় সেলাররা সবচেয়ে বেশি যে ভুল করেন, তা হলো ভয়ে একসাথে বিশটা পোস্ট ডিলিট করা, বা টাকা দিয়ে পাল্টা রিপোর্ট করানো।
মনে রাখুন, রিপোর্টের সিস্টেম দিয়ে কাউকে হয়রানি বা চুপ করানো Meta-র নিয়মেই নিষেধ। মানে নিয়ম ভাঙছে ওরা, আপনি না। তবে আপনার হাতে যেটা আছে, সেটা হলো নিজের পোস্টগুলো নিয়মের ভেতরে রাখা। নিয়ম মানা পোস্টে রিপোর্ট এলে রিভিউ চাওয়ার জোর থাকে, নিয়ম ভাঙা পোস্টে থাকে না।
তাই Page status খুলে দেখুন কোন কোন পোস্টে সত্যিই ভায়োলেশন এসেছে। অনেক সময় দেখা যায় নতুন কিছুই আসেনি, ভয়টাই বেশি ছিল। যেগুলোতে এসেছে শুধু সেগুলো নিয়ে ভাবুন। রোগ সারানোর দাবি, অন্যের ছবি বা ব্র্যান্ডের কপি থাকলে নিজেই ঠিক করে ফেলুন, কারণ দল বেঁধে রিপোর্ট সাধারণত এই দুর্বল জায়গাগুলোতেই লাগে। পোস্ট নিয়মের ভেতরে থাকলে রিভিউ চান। হুমকির মেসেজগুলোর স্ক্রিনশট রাখুন। আর পেজের সব অ্যাডমিনের টু-ফ্যাক্টর চালু আছে কি না দেখে নিন, কারণ ভয়ের মধ্যেই মানুষ ভুয়া লিংকে সবচেয়ে সহজে ক্লিক করেন।

আমার চোখে এই পুরো ঝামেলার সবচেয়ে বড় শিক্ষাটা এখানেই। পেজ কয়েক দিন ধাক্কা খেলে বা অ্যাড বন্ধ থাকলে আপনার বিক্রি পুরো থেমে যাবে কি না, সেটা ঠিক হয় ঝামেলার আগেই। যে দোকানের নিজের ওয়েবসাইটের লিংক আছে, আর যাঁদের কাছে আগে ডেলিভারি হয়েছে তাঁদের নম্বরের লিস্ট আছে, সে পেজ ছাড়াও পুরনো কাস্টমারকে ফোন বা SMS দিয়ে অর্ডার নিতে পারে। WinningSeller এখানে রিপোর্ট করে দেয় না, পেজও ফিরিয়ে দেয় না। যা করে তা হলো, আপনার নিজের স্টোরের লিংকে পেজ বন্ধ থাকলেও অর্ডার আসে, আর অর্ডারের লিস্ট থেকে ডেলিভারি হওয়া কাস্টমারদের CSV ফাইলে নামিয়ে রাখা যায়।
ছবি চুরি কমানোর ছোট অভ্যাস, ওয়াটারমার্ক কোথায় আর কতটা
সৎভাবে বলি, ছবি চুরি পুরো বন্ধ করার উপায় নেই। আপনি পারেন চুরিটা কঠিন করতে, আর প্রমাণটা সহজ রাখতে।
ওয়াটারমার্ক দিয়ে শুরু করি, কারণ বেশিরভাগ সেলার এটা ভুল জায়গায় দেন। ছবির নিচের কোণে ছোট করে পেজের নাম দিলে দেখতে সুন্দর লাগে, কিন্তু চোর দুই সেকেন্ডে ক্রপ করে কেটে ফেলে। কাটা কঠিন হয় যখন পেজের নামটা প্রোডাক্টের এক কিনারা ছুঁয়ে হালকা করে বসানো থাকে, তখন ক্রপ করলে প্রোডাক্টের একটা অংশও কেটে যায়। এতটা হালকা দেবেন যেন প্রোডাক্ট পরিষ্কার দেখা যায় আর নামটাও পড়া যায়। প্রোডাক্টের মাঝখানে বড় করে লোগো দেবেন না, তাতে কাস্টমার ভাবেন কিছু লুকাচ্ছেন। আর এটাও জেনে রাখুন, এখন অ্যাপ দিয়ে ওয়াটারমার্ক তুলে ফেলা যায়। ওয়াটারমার্ক চোরকে একটু দেরি করায়, আটকায় না। আসল ভরসা আপনার আসল ফাইল।

ওয়াটারমার্কের চেয়ে ভালো কাজ দেয় ছবির ভেতরে নিজের চিহ্ন রাখা। নিজের দোকানের প্যাকেট, হাতে লেখা পেজের নামের ছোট একটা কার্ড, বা প্রতিবার একই কাপড়ের ব্যাকগ্রাউন্ড। এগুলো তুলতে গেলে ছবিটাই নষ্ট হয়। ভিডিওতে শুরুর দুই-তিন সেকেন্ডে মুখে পেজের নামটা বলে দিন, বা কার্ডটা ফ্রেমে রাখুন।
নতুন প্রোডাক্টের ছবি প্রথমে নিজের পেজে বা ওয়েবসাইটে দিন, তারপর রিসেলার বা গ্রুপে পাঠান। রিপোর্টের সময় "কে আগে দিয়েছে" প্রশ্নে এই তারিখটাই আপনার পক্ষে কথা বলে। আর মাসে একবার নিজের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া প্রোডাক্টের ছবি দিয়ে Google Lens-এ সার্চ করুন, দেখবেন আর কোথায় কোথায় ছবিটা ঘুরছে। চোর বড় হওয়ার আগেই ধরা পড়ে।

আজই করে ফেলুন, এক ঘণ্টার কাজ
হাতে যা আছে তা দিয়েই এখনই এগুলো করে ফেলুন।
- ফোনের গ্যালারিতে "২০২৬-১০" নামে একটা ফোল্ডার খুলে এই মাসের প্রোডাক্টের আসল ছবিগুলো সেখানে সরান, আর Google Photos বা ল্যাপটপে একটা কপি রাখুন।
- দোকানের নামে আলাদা একটা ইমেইল খুলুন, কপিরাইট রিপোর্ট আর এমন কাজে সেটাই দেবেন।
- নিজের পেজে আসল পেজ আর একটাই পেমেন্ট নম্বর লিখে একটা পোস্ট পিন করুন, আর পেজের ইন্ট্রোতেও নম্বরটা লিখে দিন।
- সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া তিনটা প্রোডাক্টের ছবি Google Lens-এ দিয়ে দেখুন অন্য কোথাও আছে কি না। পেলে আগে লিংক আর স্ক্রিনশট রাখুন, তারপর রিপোর্ট করুন।
- ফোনের নোটে "প্রমাণ" নামে একটা নোট খুলুন, প্রতিটা চুরির লিংক, দেখার সময় আর রিপোর্ট নম্বর সেখানে লিখবেন।
- পেজের সব অ্যাডমিনের টু-ফ্যাক্টর চালু আছে কি না দেখে নিন।
একটা কথা মনে রাখবেন। এই লেখা আদালত বা মামলার পথ নিয়ে না। চুরি বা প্রতারণা বড় হলে, বা কেউ আপনার ব্র্যান্ডের নামে ব্যবসা খুলে বসলে, একজন আইনজীবীর সাথে কথা বলুন। Meta-র ফর্ম আর মেনুর নামও মাঝে মাঝে বদলায়, এখানে যা লিখেছি তা ২০২৬ সালের অক্টোবরে মেলানো, কিছু না মিললে Meta-র হেল্প পেজটাই শেষ কথা। রোজকার ছোট চুরিতে ওপরের কাজগুলোই যথেষ্ট, আর যত আগে শুরু করবেন, চুরির দিন তত কম ছুটতে হবে।
সাধারণ প্রশ্ন
ফেসবুকে কপিরাইট রিপোর্ট কে করতে পারেন?
শুধু কপিরাইটের মালিক, অথবা মালিকের হয়ে কাজ করার অনুমতি যাঁর আছে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে Meta-র কপিরাইট হেল্প পেজে এটা পরিষ্কার লেখা আছে। অন্য কারও ছবি চুরি হতে দেখলে আপনি রিপোর্ট করবেন না, যাঁর ছবি তাঁকে জানিয়ে দেবেন।
কপিরাইট রেজিস্ট্রেশন না থাকলে কি রিপোর্ট করা যায়?
যায়। কপিরাইট আইন, ২০২৩-এর ১৫ ধারায় যিনি কাজটা বানিয়েছেন তিনিই প্রথম মালিক, আর ৫৩ ধারায় রেজিস্ট্রেশনের আবেদন মালিক "করিতে পারিবেন" লেখা, মানে চাইলে করবেন। নিজের তোলা প্রোডাক্টের ছবির জন্য আসল ফাইল আর আগে পোস্ট করার লিংকই সাধারণত আপনার বড় প্রমাণ।
কপিরাইট রিপোর্ট করলে যার বিরুদ্ধে করলাম সে কি আমার নাম জানবে?
সাধারণত জানবে। Meta-র হেল্প পেজে লেখা আছে, তারা নিয়মিত মালিকের নাম, রিপোর্টকারীর ইমেইল আর রিপোর্টের বিবরণ পোস্টদাতাকে দেয়। তাই নিজের পার্সোনাল ইমেইলের জায়গায় দোকানের আলাদা একটা ইমেইল দিন।
সাপ্লায়ারের দেওয়া ছবি অন্য পেজ দিলে কি আমি রিপোর্ট করতে পারব?
না। ছবিটা সাপ্লায়ারের, আপনার না, আর একই ছবি সাধারণত তিনি অনেককেই দিয়েছেন। এই ঝামেলা থেকে বাঁচার রাস্তা একটাই, নিজের প্রোডাক্ট নিজে তুলে পোস্ট করা।
ফেসবুকে রিপোর্ট করলে কত দিনে পোস্ট বা নকল পেজ সরে?
বাঁধা কোনো সময় নেই, Meta-র হেল্প পেজেও কোনো সময় লেখা নেই। কোনোটা তাড়াতাড়ি সরে, কোনোটা সরে না। তাই রিপোর্ট করে বসে না থেকে সেদিনই নিজের পেজে কাস্টমারদের সাবধান করুন।
নকল পেজ রিপোর্ট করতে কি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট লাগে?
অ্যাকাউন্ট থাকলে নকল পেজে গিয়ে কভার ছবির নিচের Options থেকে Report Page চাপলেই হয়। অ্যাকাউন্টে লগইন করতে না পারলে Meta-র হেল্প পেজে একটা আলাদা কন্টাক্ট ফর্মের কথা আছে, সেটা দিয়েও জানানো যায়।
আরও পড়ুন
ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ
ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।
গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে
গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।
বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে
ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।


