WinningSeller
মার্কেটিং ও ল্যান্ডিং পেজ১১ মিনিটে পড়া যায়

ল্যান্ডিং পেজ দিয়ে এক প্রোডাক্ট বিক্রি: যে ৭টা জিনিস ছাড়া পেজ চলে না

ল্যান্ডিং পেজ কী, ফেসবুক অ্যাডে কেন বেশি অর্ডার আনে, আর যে ৭টা জিনিস না থাকলে পেজ থেকে অর্ডার আসে না। সাথে ২০ মিনিটে নিজে বানানোর ধাপ আর বাংলায় কপি লেখার নিয়ম।

ল্যান্ডিং পেজ দিয়ে এক প্রোডাক্ট বিক্রি: যে ৭টা জিনিস ছাড়া পেজ চলে না
এই লেখায় যা আছে
  1. ল্যান্ডিং পেজ কী, আর হোমপেজের সাথে পার্থক্য
  2. ফেসবুক অ্যাডে ল্যান্ডিং পেজ কেন বেশি অর্ডার আনে
  3. যে ৭টা জিনিস ছাড়া পেজ চলে না
    1. ১. প্রথম স্ক্রিনেই: কী, কার জন্য, কত টাকা
    2. ২. সমস্যা, তারপর সমাধান, কাস্টমারের ভাষায়
    3. ৩. প্রমাণ: আসল ছবি, আসল রিভিউ
    4. ৪. অফার, দাম আর ডেলিভারি চার্জ, পরিষ্কার
    5. ৫. প্রশ্নোত্তর: যে প্রশ্নগুলো ইনবক্সে আসে
    6. ৬. অর্ডার ফর্ম পেজের ভেতরেই, আর মোবাইলে আটকে থাকা বাটন
    7. ৭. পেজ খোলে ৩ সেকেন্ডে, আর পিক্সেল বসানো
  4. বাংলায় কপি লেখার নিয়ম
  5. WinningSeller-এ ২০ মিনিটে পেজ বানানো
  6. ধাপ ১: সেকশন সাজান (৫ মিনিট)
  7. ধাপ ২: লেখা আর ছবি বদলান (১০ মিনিট)
  8. ধাপ ৩: অর্ডার ফর্মে প্রোডাক্ট বাছুন (২ মিনিট)
  9. ধাপ ৪: ড্রাফটে দেখুন, তারপর প্রকাশ (৩ মিনিট)
  10. ধাপ ৫: অ্যাডের লিংকে এই পেজ
  11. পেজ প্রকাশের পর কী মাপবেন
  12. খরচ: ফ্রিল্যান্সার বনাম নিজে
  13. যে ভুলে পেজ থেকে অর্ডার আসে না
  14. একটা উদাহরণ: বগুড়ার তানভীরের ঘি-র পেজ
  15. শেষ কথা

ফেসবুক অ্যাডে দিনে ৫০০ টাকা যাচ্ছে, পেজে ভিজিটর আসছে, কিন্তু অর্ডার আসছে না। অ্যাড খারাপ না, প্রোডাক্টও না। বেশিরভাগ সময় সমস্যা হলো অ্যাডে ক্লিক করে কাস্টমার যেখানে নামছেন, সেই পেজটা।

ল্যান্ডিং পেজ মানে এক প্রোডাক্টের জন্য এক পাতার পেজ, যেখানে ওপরে বড় ছবি বা ভিডিও, মাঝে কেন কিনবেন আর অন্যরা কী বলেছেন, আর নিচে অর্ডার ফর্ম। মেনু নেই, অন্য প্রোডাক্ট নেই, কাস্টমারের সামনে একটাই সিদ্ধান্ত: নেব কি নেব না। এই পেজে ৭টা জিনিস থাকলে অর্ডার আসে; একটা বাদ পড়লেই কমে। এই লেখায় সেই ৭টা, বাংলায় কপি লেখার নিয়ম, আর কোড ছাড়া ২০ মিনিটে বানানোর ধাপ।

এই লেখায় যা পাবেন

  • ল্যান্ডিং পেজ কী, দোকানের হোমপেজের সাথে পার্থক্য
  • ফেসবুক অ্যাডে ল্যান্ডিং পেজ কেন বেশি অর্ডার আনে
  • যে ৭টা জিনিস ছাড়া পেজ চলে না, ওপর থেকে নিচে
  • বাংলায় কপি লেখার নিয়ম, ভালো-খারাপ উদাহরণে
  • WinningSeller-এ ২০ মিনিটে পেজ বানানোর ৫টা ধাপ
  • পেজ প্রকাশের পর কী মাপবেন
  • খরচ: ফ্রিল্যান্সার বনাম নিজে
  • যে ভুলে পেজ থেকে অর্ডার আসে না

ল্যান্ডিং পেজ কী, আর হোমপেজের সাথে পার্থক্য

দোকানের হোমপেজ ল্যান্ডিং পেজ
কার জন্য যিনি ঘুরে দেখতে এসেছেন যিনি একটা নির্দিষ্ট অ্যাডে ক্লিক করেছেন
কী আছে মেনু, ক্যাটাগরি, অনেক প্রোডাক্ট, সার্চ, কার্ট এক প্রোডাক্ট, এক অফার, এক ফর্ম
বেরোনোর রাস্তা অনেক একটাই: অর্ডার করুন
কথা বলে কাকে সবাইকে অ্যাডে যে সমস্যার কথা ছিল, সেই মানুষকে
লিংক কোথায় পেজের About, গুগল অ্যাড, পোস্ট, WhatsApp
হোমপেজ আর ল্যান্ডিং পেজ পাশাপাশি মোবাইল স্ক্রিনে: বাঁয়ে মেনু আর একগাদা প্রোডাক্ট, ডানে এক প্রোডাক্ট, দাম আর ফর্ম
অ্যাড থেকে আসা মানুষ ডানেরটায় অর্ডার দেন

অ্যাডে লেখা "গরমে ঘামের গন্ধ? ২৪ ঘণ্টার রোল-অন"। কাস্টমার ক্লিক করে যদি নামেন এমন হোমপেজে যেখানে ৪০টা প্রোডাক্ট, তিনি খুঁজবেন, ঘুরবেন, চলে যাবেন। যদি নামেন এমন পেজে যেখানে ওপরেই সেই রোল-অনের ভিডিও আর "৪৫০ টাকা, ক্যাশ অন ডেলিভারি, নিচে অর্ডার করুন", তিনি স্ক্রল করে ফর্মে যান।

ফেসবুক অ্যাডে ল্যান্ডিং পেজ কেন বেশি অর্ডার আনে

তিনটা কারণ, আর তিনটাই কাস্টমারের মাথার ভেতরের ব্যাপার।

এক, অ্যাড আর পেজ একই কথা বলে। অ্যাডে যে ছবি, পেজের ওপরে সেই ছবি; অ্যাডে যে দাম, পেজে সেই দাম। মিলে গেলে কাস্টমার ভরসা পান, না মিললে পেছনে।

দুই, সিদ্ধান্ত একটা। মানুষ অনেক অপশনে সিদ্ধান্ত নেন না, পরে দেখবেন বলে চলে যান। এক প্রোডাক্টের পেজে "পরে" নেই।

তিন, ফর্ম পেজের ভেতরেই। কার্টে যোগ করুন → কার্ট দেখুন → চেকআউট → ঠিকানা, এই চার ধাপের প্রতিটায় কিছু মানুষ ঝরে যান। ল্যান্ডিং পেজে স্ক্রল করে নাম-নম্বর-ঠিকানা, একটা বাটন, শেষ।

ইনবক্সের অ্যাডের সাথে তুলনাটাও বলা দরকার। "Send Message" অ্যাডে মেসেজ আসে অনেক, কিন্তু প্রতিটা মেসেজে আপনার ৮–১০টা উত্তর লাগে, আর অর্ধেকের বেশি শেষ পর্যন্ত কেনেন না। ল্যান্ডিং পেজে যিনি ফর্ম পূরণ করেন, তিনি কিনতে এসেছেন; আপনার কাজ শুধু কনফার্ম কল। আর স্টোরে পিক্সেল থাকায় ফেসবুক জানে কে কিনলেন, তাই সেই রকম মানুষকে অ্যাড দেখায়, সময়ের সাথে একই টাকায় অর্ডার বাড়ে।

অ্যাড কাস্টমারকে দরজা পর্যন্ত আনে; ল্যান্ডিং পেজ ঠিক করে তিনি ঢুকবেন না ফিরে যাবেন।

যে ৭টা জিনিস ছাড়া পেজ চলে না

ওপর থেকে নিচে, যে ক্রমে কাস্টমার দেখেন।

মোবাইল স্ক্রিনে একটা ল্যান্ডিং পেজের ৭টা অংশ নম্বর দিয়ে চিহ্নিত: প্রথম স্ক্রিন, সমস্যা-সমাধান, প্রমাণ, অফার, প্রশ্নোত্তর, ফর্ম আর আটকে থাকা বাটন, ৩ সেকেন্ডে খোলা আর পিক্সেল
৭টা জিনিস, এই ক্রমে

১. প্রথম স্ক্রিনেই: কী, কার জন্য, কত টাকা

মোবাইলে পেজ খোলার পর স্ক্রল না করে যা দেখা যায়, সেটাই প্রথম স্ক্রিন। এখানে তিনটা জিনিস: প্রোডাক্টের একটা বড় ছবি বা ১৫–৩০ সেকেন্ডের ভিডিও, এক লাইনের হেডলাইন যেখানে প্রোডাক্ট কার কোন সমস্যা মেটায়, আর দাম। দাম লুকাবেন না; "দাম জানতে ইনবক্স করুন" ল্যান্ডিং পেজে সবচেয়ে বড় ভুল। সাথে একটা বাটন, "অর্ডার করুন", যেটা চাপলে নিচের ফর্মে নিয়ে যায়।

হেডলাইনের ধরন: সমস্যা + ফল। "পাবনার খাঁটি গাওয়া ঘি, যে ঘিয়ে ভাত খেলে ছোটবেলার গন্ধ পাবেন" চলে; "প্রিমিয়াম কোয়ালিটি ঘি" চলে না।

২. সমস্যা, তারপর সমাধান, কাস্টমারের ভাষায়

হেডলাইনের নিচে ৩–৫ লাইনে লিখুন কাস্টমার কী ঝামেলায় আছেন, আর এই প্রোডাক্ট সেটা কীভাবে সরায়। ফিচার না, ফল। "১০০% কটন" ফিচার; "সারাদিন অফিসে পরে থাকলেও ঘামে গায়ে লেগে থাকে না" ফল। প্রতিটা ফিচারের পাশে লিখুন "তাতে আপনার কী", সেটাই কপি।

৩. প্রমাণ: আসল ছবি, আসল রিভিউ

কাস্টমার আপনাকে চেনেন না। চেনেন অন্য কাস্টমারকে। ইনবক্সে যে রিভিউগুলো আসে, তার স্ক্রিনশট (নাম ঢেকে), কাস্টমারের পাঠানো প্রোডাক্ট হাতে ছবি, ডেলিভারির ভিডিও। নিজের তোলা ছবি, স্টক ছবি না; ঢাকার ঘরের আলোয় তোলা ছবিতে মানুষ বেশি ভরসা করেন, কারণ জিনিসটা সেরকমই পাবেন। ভুয়া রিভিউ বানাবেন না; এক মাসে ধরা পড়ে আর পেজের সব কথা মিথ্যা হয়ে যায়।

৪. অফার, দাম আর ডেলিভারি চার্জ, পরিষ্কার

এক জায়গায়: দাম, ডেলিভারি চার্জ (ঢাকার ভেতরে ৭০, বাইরে ১৩০, বা ফ্রি), ২টা নিলে কী ছাড়, আর অফারটা কতদিন। কাউন্টডাউন রাখলে সত্যিকারের তারিখে; যে কাউন্টডাউন রোজ রিসেট হয়, সেটা দ্বিতীয়বার আসা কাস্টমার ধরে ফেলেন। "ফ্রি ডেলিভারি" লেখা থাকলে অর্ডার বাড়ে, কিন্তু আগে হিসাব করুন ১৩০ টাকা দামের ভেতরে আছে কি না।

৫. প্রশ্নোত্তর: যে প্রশ্নগুলো ইনবক্সে আসে

গত এক মাসের ইনবক্স খুলুন; যে ১০টা প্রশ্ন বারবার এসেছে, সেগুলোই পেজের FAQ। সাইজ কীভাবে বুঝবো, আসল কি না, ফেরত দেওয়া যাবে কি না, কত দিনে পাবো, ক্যাশ অন ডেলিভারি আছে কি না। প্রতিটা উত্তর দু-লাইনে, সৎ। "ফেরত নেওয়া হয় না" লেখাটাও লিখুন, লুকিয়ে ফেরতের ঝামেলা বাড়ানোর চেয়ে ভালো।

৬. অর্ডার ফর্ম পেজের ভেতরেই, আর মোবাইলে আটকে থাকা বাটন

ফর্মে চারটা ঘর: নাম, মোবাইল নম্বর, পুরো ঠিকানা, আর এলাকা (ঢাকার ভেতরে/বাইরে, তাতে ডেলিভারি চার্জ নিজে থেকে বসে)। পরিমাণ বাছার ঘর, আর বড় একটা বাটন "ক্যাশ অন ডেলিভারিতে অর্ডার করুন"। ইমেইল চাইবেন না, পাসওয়ার্ড তো না-ই। ফর্মের ওপরে এক লাইন: "পার্সেল হাতে পেয়ে টাকা দেবেন।" আর মোবাইলে স্ক্রিনের নিচে একটা বাটন সব সময় আটকে থাকুক, যাতে পেজের যেখানেই থাকুন, এক চাপে ফর্মে।

WinningSeller-এর ল্যান্ডিং পেজে অর্ডার ফর্ম সেকশনটা এভাবেই বানানো: পেজের ভেতরেই ক্যাশ অন ডেলিভারি ফর্ম, মোবাইলে নিচে আটকে থাকা অর্ডার বাটন, আর একই নম্বর থেকে ১০ মিনিটে একই অর্ডার দুবার জমা হয় না।

৭. পেজ খোলে ৩ সেকেন্ডে, আর পিক্সেল বসানো

সবচেয়ে কম দেখা, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করা জিনিস। মোবাইল ডেটায় পেজ খুলতে ৬ সেকেন্ড লাগলে অ্যাডে ক্লিক করা অর্ধেক মানুষ পেজ দেখার আগেই চলে যান, আর আপনি ক্লিকের টাকা দিয়ে দিয়েছেন। কারণ প্রায় সবসময় একটাই: ৩ মেগাবাইটের ছবি। ছবি ছোট করে (WebP, ২০০ কিলোবাইটের নিচে) দিন; WinningSeller-এ ছবি নিজে থেকে কয়েক মাপে WebP হয়ে যায়, তাই এই চিন্তা নেই।

আর পিক্সেল: পেজ দেখা, অর্ডার শুরু আর অর্ডার, এই তিনটা ইভেন্ট ফেসবুকে না গেলে ফেসবুক শিখতে পারে না কে কেনেন। পিক্সেল আইডি আর Conversions API টোকেন একবার বসালে প্রতিটা ল্যান্ডিং পেজে নিজে থেকে কাজ করে।

বাংলায় কপি লেখার নিয়ম

ল্যান্ডিং পেজের লেখা কথার মতো, বইয়ের মতো না। কয়েকটা নিয়ম, উদাহরণে:

এভাবে না এভাবে
আমাদের প্রিমিয়াম কোয়ালিটির প্রোডাক্টটি অত্যন্ত উন্নত মানের হাতে নিলেই বুঝবেন কাপড়টা কেমন, ছবির চেয়ে ভালো
অর্ডার করতে এখনই যোগাযোগ করুন নিচে নাম আর নম্বর দিন, পার্সেল পেয়ে টাকা দেবেন
১০০% অরিজিনাল গ্যারান্টেড নকল হলে পার্সেল ফেরত দিন, কুরিয়ার চার্জ আমরা দেব
সীমিত সময়ের অফার!!! ঈদের আগে, ২০ তারিখ পর্যন্ত: ২টা নিলে ডেলিভারি ফ্রি
আপনি আপনি, কিন্তু যেভাবে ফোনে বলেন

আরও তিনটা: সংখ্যা দিন (৫০০ গ্রাম, ৩ দিনে ডেলিভারি, ২,৪০০ জন নিয়েছেন, যদি সত্যি হয়); ইংরেজি শব্দ বাংলা হরফে যেমন মুখে বলেন (অর্ডার, ডেলিভারি, কুরিয়ার, না "ক্রয়" আর "সরবরাহ"); আর পুরো পেজটা একবার জোরে পড়ুন, যেখানে জিভ আটকায় সেখানে বদলান।

WinningSeller-এ ২০ মিনিটে পেজ বানানো

স্টোর থাকলে (না থাকলে ১০ মিনিটের এই ধাপগুলো আগে), অ্যাডমিনে পেজ → নতুন ল্যান্ডিং পেজ। পাঁচটা ধাপ, সময় ধরে।

ধাপ ১: সেকশন সাজান (৫ মিনিট)

২৪টা রেডিমেড সেকশন থেকে টেনে আনুন, ওপরের ৭টা জিনিসের ক্রমে: বড় ব্যানার (ছবি/ভিডিও + হেডলাইন + দাম + বাটন), প্রোডাক্ট হাইলাইট (সমস্যা-সমাধান), রিভিউয়ের স্ক্রিনশট, দামের তালিকা বা অফার, কাউন্টডাউন (চাইলে), প্রশ্নোত্তর, অর্ডার ফর্ম।

ধাপ ২: লেখা আর ছবি বদলান (১০ মিনিট)

প্রতিটা সেকশনে ক্লিক করে নিজের লেখা, নিজের ছবি। পাশে মোবাইল আর কম্পিউটারের প্রিভিউ, যা দেখছেন কাস্টমারও তা-ই দেখবেন। হেডলাইনটা আগে থেকে কাগজে লেখা থাকলে এই ধাপ অর্ধেক সময়ে হয়।

WinningSeller-এর পেজ বিল্ডার: বাঁয়ে সেকশনের তালিকা, মাঝে মোবাইল প্রিভিউতে অর্ডার ফর্ম, ডানে সেকশনের সেটিংস
টেনে সাজান, ক্লিক করে বদলান, পাশে সাথে সাথে দেখুন

ধাপ ৩: অর্ডার ফর্মে প্রোডাক্ট বাছুন (২ মিনিট)

কোন প্রোডাক্ট, কোন ভ্যারিয়েন্ট, ডেলিভারি জোন। অর্ডারগুলো স্টোরের বাকি অর্ডারের সাথে একই তালিকায় আসবে, আর অর্ডারে লেখা থাকবে কোন পেজ থেকে এলো।

ধাপ ৪: ড্রাফটে দেখুন, তারপর প্রকাশ (৩ মিনিট)

নিজের ফোনে লিংকটা খুলুন, Wi-Fi বন্ধ করে মোবাইল ডেটায়। একটা টেস্ট অর্ডার দিন, কনফার্ম কলের মতো করে পড়ুন। ঠিক লাগলে প্রকাশ। ভুল হলে Ctrl+Z।

ধাপ ৫: অ্যাডের লিংকে এই পেজ

প্রতিটা ক্যাম্পেইনের জন্য আলাদা পেজ বা আলাদা লিংক রাখলে হিসাবে দেখা যায় কোন ক্যাম্পেইনে ১ টাকা খরচে কত টাকার বিক্রি এলো (লিংকে utm_campaign দিলেই)। একই প্রোডাক্টের দুটো পেজ, দুই হেডলাইনে, দুটো অ্যাডে এক সপ্তাহ। যেটায় অর্ডার বেশি, সেটা থাকবে। এটাই "টেস্ট", বড় কোনো ব্যাপার না।

পেজ প্রকাশের পর কী মাপবেন

পেজ বানানো অর্ধেক কাজ; বাকি অর্ধেক সপ্তাহে একবার তিনটা সংখ্যা দেখা।

সংখ্যা কীভাবে পাবেন কত হলে ঠিক আছে (সাধারণত) কম হলে কোথায় হাত দেবেন
ভিজিটর থেকে অর্ডার (%) অর্ডার ÷ পেজ ভিজিট (ফেসবুক অ্যাডের "landing page views" আর অর্ডার তালিকা) ২–৫% প্রথম স্ক্রিন, দাম, ফর্মের ঘর
প্রতি অর্ডারে অ্যাডের খরচ অ্যাডে খরচ ÷ ওই পেজের অর্ডার প্রোডাক্টের লাভের অর্ধেকের নিচে অ্যাডের ছবি-টার্গেট, বা পেজ
কনফার্ম হার কনফার্মড ÷ পেজের অর্ডার ৭৫%-এর ওপরে পেজে দাম-চার্জ পরিষ্কার কি না; ফোন করার সময়

WinningSeller-এর হিসাব-নিকাশে অ্যাডের লিংকে utm_campaign থাকলে ক্যাম্পেইন ধরে ROAS আর প্রতি ডেলিভারিতে অ্যাডের খরচ দেখা যায়, আর অর্ডারে লেখা থাকে কোন পেজ থেকে এসেছে; তাই দুটো পেজের তুলনা এক পাতায়।

খরচ: ফ্রিল্যান্সার বনাম নিজে

ফ্রিল্যান্সার / এজেন্সি WinningSeller-এ নিজে
প্রথম পেজ ৳২,০০০–৫,০০০ (সাধারণত) প্ল্যানে ধরা
পরের প্রতিটা পেজ আবার ৳২,০০০–৫,০০০ স্টার্টারে ৩টা, গ্রোথে ২০টা, প্রোতে যত খুশি
দাম বা ছবি বদলানো প্রতিবার ৳৫০০–১,০০০, আর অপেক্ষা নিজে, এক মিনিটে
অর্ডার কোথায় যায় আলাদা শিটে বা ইমেইলে, কুরিয়ারে কপি-পেস্ট স্টোরের অর্ডার তালিকায়, এক ক্লিকে কুরিয়ারে
পিক্সেল বসিয়ে দিতে হয়, Conversions API প্রায়ই না আছে, দুটোই
কাস্টম অ্যানিমেশন, একদম আলাদা ডিজাইন হ্যাঁ না, রেডিমেড সেকশনের ভেতরে

বছরে ১০টা প্রোডাক্ট নামালে ফ্রিল্যান্সারে ২০–৫০ হাজার টাকা শুধু পেজে; প্ল্যানের ভেতরে সেটা শূন্য। পুরো দামের তালিকা এখানে, আর ওয়েবসাইটের পুরো খরচের হিসাব এই লেখায়।

যে ভুলে পেজ থেকে অর্ডার আসে না

  • দাম নেই, "ইনবক্স করুন" আছে। ল্যান্ডিং পেজের উদ্দেশ্যই ইনবক্স এড়ানো।
  • অ্যাডের ছবি আর পেজের ছবি আলাদা। কাস্টমার ভাবেন ভুল জায়গায় এসেছেন।
  • প্রথম স্ক্রিনে শুধু লোগো আর "স্বাগতম"। কেউ স্বাগতম পড়তে আসেননি।
  • ফর্ম আলাদা পেজে, বা ফর্মে ৮টা ঘর। প্রতিটা বাড়তি ঘরে মানুষ ঝরে।
  • ডেস্কটপে বানিয়ে মোবাইলে না দেখা। ৯০%-এর বেশি ভিজিটর মোবাইলে; প্রকাশের আগে নিজের ফোনে খুলুন।
  • একটা পেজ সব প্রোডাক্টের জন্য। তাহলে সেটা হোমপেজ, ল্যান্ডিং পেজ না।
  • প্রকাশের পর আর না দেখা। মাসে একবার: কত ভিজিটর, কত অর্ডার, কোন ক্যাম্পেইন থেকে। ২% এর নিচে অর্ডার হলে প্রথম স্ক্রিন আর দাম দেখুন।

একটা উদাহরণ: বগুড়ার তানভীরের ঘি-র পেজ

ধরা যাক বগুড়ার তানভীর গাওয়া ঘি বেচেন, ৫০০ গ্রাম ৯৫০ টাকা। অ্যাড পাঠাতেন পেজের ইনবক্সে; দিনে ৬০০ টাকায় ২৫–৩০টা মেসেজ, অর্ডার ৪–৫টা, আর সারাদিন উত্তর লেখা।

একটা ল্যান্ডিং পেজ বানালেন। ওপরে নিজের হাতে ঘি গলানোর ২০ সেকেন্ডের ভিডিও, হেডলাইন "বগুড়ার গাওয়া ঘি, গরম ভাতে এক চামচ দিলেই বুঝবেন কেন দাদিরা এটাই খেতেন", নিচে "৫০০ গ্রাম ৯৫০ টাকা, ২টা নিলে ডেলিভারি ফ্রি"। মাঝে ইনবক্সের ৬টা রিভিউর স্ক্রিনশট, "নকল মনে হলে পার্সেল ফেরত দিন" লেখা, ইনবক্সের ৮টা প্রশ্নের উত্তর, আর ফর্ম।

একই ৬০০ টাকার অ্যাড পেজে পাঠানোর পর প্রথম সপ্তাহে দিনে ৭–৯টা অর্ডার ফর্মে, মেসেজ নেমে এলো ৫–৬টায়। তাঁর দিনের তিন ঘণ্টা ফিরে এলো। দ্বিতীয় সপ্তাহে একই পেজের কপি বানিয়ে হেডলাইন বদলে ("রান্নার ঘি না, খাওয়ার ঘি") দ্বিতীয় অ্যাড; সেটায় অর্ডার আরও কিছু বেশি, তাই সেটাই থাকল। ফর্মের অর্ডারে পুরো ঠিকানা থাকায় ঠিকানার ফেরত কমল, আর প্রতিটা অর্ডারের পাশে ক্রেতার কুরিয়ার রেকর্ড দেখে সন্দেহের নম্বরে অগ্রিম চাওয়া শুরু।

ভালো ল্যান্ডিং পেজ কাস্টমারকে কিছু বোঝায় না; ইনবক্সে যে কথাগুলো আপনি রোজ ৩০ বার লেখেন, সেগুলো একবার সাজিয়ে রাখে।

সাধারণ প্রশ্ন

ল্যান্ডিং পেজ কী?

এক প্রোডাক্ট বা এক অফারের জন্য এক পাতার ওয়েবপেজ, যেখানে মেনু বা অন্য প্রোডাক্ট নেই, শুধু ছবি, কেন কিনবেন, দাম আর অর্ডার ফর্ম। ফেসবুক অ্যাড থেকে কাস্টমারকে এখানে পাঠানো হয়, কারণ একটা সিদ্ধান্তের পেজে অর্ডার বেশি আসে।

ল্যান্ডিং পেজ আর ওয়েবসাইটের পার্থক্য কী?

ওয়েবসাইট মানে পুরো দোকান, সব প্রোডাক্ট, ক্যাটাগরি, সার্চ, কার্ট। ল্যান্ডিং পেজ সেই দোকানের ভেতরের এক পাতা, একটা প্রোডাক্টের জন্য, অ্যাডের জন্য বানানো। দুটোই লাগে; অ্যাড যায় ল্যান্ডিং পেজে, দোকান থাকে বাকিদের ঘুরে দেখার জন্য।

ল্যান্ডিং পেজ বানাতে কত খরচ?

ফ্রিল্যান্সার দিয়ে বানালে পেজপ্রতি সাধারণত ২,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা, আর প্রতিটা বদলে আবার টাকা। WinningSeller-এর স্টার্টার প্ল্যানে (মাসে ৯৯৯ টাকা) ৩টা ল্যান্ডিং পেজ, গ্রোথে ২০টা, প্রোতে যত খুশি, নিজে বানানো, বদল নিজের হাতে।

ল্যান্ডিং পেজে কি কোডিং লাগে?

না। পেজ বিল্ডারে রেডিমেড সেকশন টেনে সাজানো হয়: ব্যানার, ভিডিও, রিভিউ, প্রশ্নোত্তর, অর্ডার ফর্ম। লেখা আর ছবি ক্লিক করে বদলানো, পাশে সাথে সাথে প্রিভিউ।

একটা প্রোডাক্টের জন্য কয়টা ল্যান্ডিং পেজ লাগে?

শুরুতে একটা। পরে একই প্রোডাক্টের দুটো পেজ দুই রকম হেডলাইনে বানিয়ে দুটো অ্যাডে পাঠালে দেখা যায় কোনটায় অর্ডার বেশি। প্রতিটা অ্যাড ক্যাম্পেইনের আলাদা পেজ আর আলাদা লিংক থাকলে অর্ডারে লেখা থাকে কোন পেজ থেকে এলো।

শেষ কথা

ল্যান্ডিং পেজ কোনো ডিজাইনের জাদু না। এক প্রোডাক্ট, এক কথা, একটা ফর্ম, আর ৭টা জিনিস ঠিক জায়গায়: প্রথম স্ক্রিনে কী-কার-কত, সমস্যা-সমাধান, প্রমাণ, পরিষ্কার অফার, ইনবক্সের প্রশ্নের উত্তর, পেজের ভেতরে ফর্ম, আর দ্রুত পেজে পিক্সেল।

আজকের কাজ: আপনার সবচেয়ে বেশি চলা প্রোডাক্টটার জন্য কাগজে ৭টা জিনিস লিখুন, বিশেষ করে হেডলাইনটা, সমস্যা + ফল ধরে। তারপর WinningSeller-এ অ্যাকাউন্ট খুলে ২০ মিনিটে পেজটা দাঁড় করান; কার্ড লাগে না, প্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম। পরের অ্যাডটা ইনবক্সে না, এই পেজে পাঠান, আর এক সপ্তাহ পর অর্ডারের সংখ্যা মেলান। পেজ থেকে যে অর্ডার আসবে, তার ফেরত কমানোর উপায় এই লেখায়, আর পুরো ব্যবসাটা সাজানোর গাইড এখানে।

#ল্যান্ডিং পেজ#ফেসবুক অ্যাড#অর্ডার ফর্ম#কনভার্শন#পেজ বিল্ডার

আরও পড়ুন

ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ

ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে

গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে

ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।

·১০ মিনিটে পড়া যায়