WinningSeller
মার্কেটিং ও ল্যান্ডিং পেজ১৭ মিনিটে পড়া যায়

ফেসবুক পিক্সেল সেটআপ আর Conversions API, ধাপে ধাপে (২০২৬)

Events Manager-এ পিক্সেল বানানো থেকে Conversions API, event_id আর Test events পর্যন্ত পুরো সেটআপ, বাটনের নামসহ। সাথে ক্যাশ অন ডেলিভারির সবচেয়ে দামি ভুলটা, মানে ফেক অর্ডারকে Purchase হিসেবে ফেসবুকে পাঠানো।

ফেসবুক পিক্সেল সেটআপ আর Conversions API, ধাপে ধাপে (২০২৬)
এই লেখায় যা আছে
  1. ফেসবুক পিক্সেল সেটআপ কেন দরকার, পিক্সেল আর Conversions API কী করে
  2. সেটআপের আগে যা হাতে রাখবেন, আর কাদের এখনই দরকার নেই
  3. ধাপ ১: Events Manager-এ পিক্সেল বানান
  4. ধাপ ২: ওয়েবসাইটে পিক্সেল বসান আর Conversions API চালু করুন
  5. ধাপ ৩: একই event_id দিন, নইলে এক অর্ডার দুবার গোনা হবে
  6. ধাপ ৪: Test events দিয়ে চেক করুন, অ্যাড চালানোর আগে
  7. COD-তে ফেক অর্ডারকে Purchase গুনলে অ্যাড কী শেখে
    1. টাকায় একটা উদাহরণ
    2. Purchase কখন পাঠাবেন, তিনটা উপায়ের তুলনা
  8. Event Match Quality কী, আর কম হলে কী করবেন
  9. আজ থেকে কী করবেন

ফেসবুক পিক্সেল সেটআপ মানে আপনার ওয়েবসাইটে ফেসবুকের একটা ছোট কোড বসানো। এই কোড ফেসবুককে জানায় কে প্রোডাক্ট দেখল, কে কার্টে নিল আর কে অর্ডার করল। Conversions API একই খবর পাঠায় আপনার ওয়েবসাইটের সার্ভার থেকে। সার্ভার মানে যে কম্পিউটারে আপনার ওয়েবসাইটটা চলে। তাই কাস্টমারের ফোনের ব্রাউজার খবরটা আটকে দিলেও সেটা হারায় না। পুরো কাজটা চার ধাপের। Events Manager-এ একটা পিক্সেল বানাবেন, ওয়েবসাইটে পিক্সেল আর Conversions API দুটোই চালু করবেন, দুই দিকের ইভেন্টে একই event_id দেবেন, তারপর Test events-এ চেক করবেন। ক্যাশ অন ডেলিভারির ব্যবসায় এর সাথে একটা পঞ্চম কাজও আছে, যেটা বেশিরভাগ গাইডে থাকে না। সেটা হলো Purchase ইভেন্ট ঠিক কখন পাঠাবেন, তা ঠিক করা।

Events Manager হলো ফেসবুকের সেই জায়গা, যেখানে আপনার ওয়েবসাইট থেকে আসা সব খবর জমা হয়। business.facebook.com-এ লগইন করে মেনু থেকে এটা খোলা যায়। নিচে প্রতিটা ধাপে বাটনের নাম দিয়েছি, ২০২৬ সালের অক্টোবরে Meta-র Business Help Centre-এ যেভাবে লেখা আছে সেভাবে। Meta মাঝে মাঝে মেনুর নাম চেঞ্জ করে, তাই কোনো বাটন একটু অন্য নামে দেখলে ঘাবড়াবেন না। কাজটা একই থাকে।

ফেসবুক পিক্সেল সেটআপ কেন দরকার, পিক্সেল আর Conversions API কী করে

ধরুন আপনার ল্যান্ডিং পেজে একজন কাস্টমার এলেন। তিনি মধুর বোতলটা দেখলেন, তারপর অর্ডার ফর্মে নাম আর নম্বর দিলেন। পিক্সেল এই প্রতিটা কাজের খবর ফেসবুকে পাঠায়, আর এই খবরগুলোকেই বলে ইভেন্ট। ফেসবুকের ভাষায় প্রোডাক্ট দেখার ইভেন্টের নাম ViewContent, কার্টে নেওয়ার নাম AddToCart, অর্ডার ফর্ম বা চেকআউট শুরু করার নাম InitiateCheckout, আর কেনা শেষ করার নাম Purchase।

ফেসবুক এই ইভেন্টগুলো দিয়ে দুটো কাজ করে। একটা হলো, কোন অ্যাড থেকে কয়টা বিক্রি এলো সেটা Ads Manager-এ দেখানো। Ads Manager হলো যেখানে আপনি অ্যাড চালান আর খরচ দেখেন। অন্য কাজটা আরও বড়। ফেসবুক এই ইভেন্টগুলো দেখে শেখে, আপনার অ্যাড কাকে দেখালে বিক্রি হবে। Meta-র হেল্প পেজেও এটা বলা আছে। যে ইভেন্টগুলো কোনো ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সাথে মেলে, সেগুলো দেখে ফেসবুক আপনার অ্যাড এমন মানুষকে দেখায় যাঁরা একই কাজ করবেন বলে মনে হয়। সোজা কথায়, আপনি যাকে "কাস্টমার" বলে ফেসবুককে চেনাবেন, ফেসবুক তাঁর মতো মানুষই খুঁজবে।

সমস্যা হলো পিক্সেল চলে কাস্টমারের ব্রাউজারে, মানে তাঁর ফোনের Chrome বা Facebook অ্যাপের ভেতরের ব্রাউজারে। কারও ফোনে অ্যাড ব্লকার থাকলে বা নেট দুর্বল হলে পিক্সেলের খবর মাঝপথেই হারিয়ে যায়। কিছু ব্রাউজার আবার প্রাইভেসির জন্য নিজে থেকেই এসব খবর আটকে দেয়, Meta-র ডেভেলপার গাইডেও এটা মানা হয়েছে।

Conversions API এই ফাঁকটা ভরে। API মানে এক সফটওয়্যার থেকে আরেক সফটওয়্যারে খবর পাঠানোর একটা রাস্তা। Conversions API আপনার ওয়েবসাইটের সার্ভার থেকে সরাসরি ফেসবুকে খবর পাঠায়, তাই কাস্টমারের ব্রাউজার কী করল তাতে কিছু যায় আসে না। Meta-র Conversions API best practices পেজে সোজাসুজি বলা আছে, পিক্সেল বন্ধ না করে তার পাশাপাশি Conversions API চালাতে, আর একই ইভেন্ট দুই দিক থেকেই পাঠাতে। ব্যাপারটা একটা চিঠি দুই রাস্তায় পাঠানোর মতো। একটা রাস্তা বন্ধ থাকলেও চিঠিটা পৌঁছায়। শুধু খেয়াল রাখতে হয়, দুটো চিঠি যেন দুবার গোনা না হয়। সেটা কীভাবে করবেন, ধাপ ৩-এ বলছি।

সেটআপের আগে যা হাতে রাখবেন, আর কাদের এখনই দরকার নেই

প্রথম জিনিসটা হলো একটা ওয়েবসাইট বা ল্যান্ডিং পেজ, যেখানে কাস্টমার নিজে অর্ডার ফর্ম পূরণ করেন। পিক্সেল শুধু সেই পেজের ভেতরে যা ঘটে সেটাই দেখতে পায়। আপনি যদি পুরো অর্ডার মেসেঞ্জারে নেন, পিক্সেল বসানোর মতো কোনো জায়গাই নেই। তাহলে আগে একটা প্রোডাক্টের জন্য একটা পেজ বানান। কী থাকলে সেই পেজ বিক্রি করে, সেটা এক প্রোডাক্টের ল্যান্ডিং পেজের লেখায় বিস্তারিত বলা আছে।

দ্বিতীয় জিনিসটা হলো আপনার Meta business portfolio-তে পুরো অ্যাক্সেস। business portfolio হলো আগের Business Manager, যেখানে আপনার পেজ, অ্যাড অ্যাকাউন্ট আর পিক্সেল একসাথে থাকে। Conversions API চালু করতে হলে পিক্সেলটা যে business portfolio-তে আছে, তাতে আপনার full control থাকতে হয়, Meta-র সেটআপের নির্দেশনায় এটা শর্ত হিসেবে দেওয়া আছে। অনেক দোকানের পেজ বা অ্যাড অ্যাকাউন্ট কোনো এজেন্সির পোর্টফোলিওতে থাকে। তাহলে পিক্সেলটা নিজের পোর্টফোলিওতে বানান, আর এজেন্সিকে শুধু অ্যাক্সেস দিন। এতে এজেন্সি চেঞ্জ করলেও পিক্সেলের এতদিনের শেখা ডেটা আপনার কাছেই থেকে যায়।

তৃতীয় জিনিসটা হলো ওয়েবসাইটে কোড বসানোর একটা উপায়। নিজের হাতে বানানো সাইট হলে একজন ডেভেলপার লাগবে। আর কোনো প্ল্যাটফর্মে দোকান হলে সাধারণত সেটিংসে Pixel ID আর টোকেন বসানোর ঘর থাকে, কোড ছুঁতেই হয় না। টোকেন জিনিসটা কী, ধাপ ২-এ বলছি।

এবার বলি কাদের এখনই দরকার নেই। যিনি এখনো শুধু পোস্ট বুস্ট করেন আর ইনবক্সে অর্ডার নেন, তাঁর আজকের কাজ পিক্সেল না, একটা অর্ডার ফর্মওয়ালা পেজ বানানো। আর মাসে অ্যাডের বাজেট যদি খুব কম হয়, পিক্সেল বসিয়ে রাখা ভালো, কিন্তু এর থেকে বড় কিছু আশা করবেন না। কারণ অল্প বাজেটে অর্ডারও অল্প আসে, আর ফেসবুক শেখার মতো যথেষ্ট ইভেন্ট পায় না। এই কথাটা নিচে COD-র অংশে সংখ্যা দিয়ে বুঝিয়েছি।

ধাপ ১: Events Manager-এ পিক্সেল বানান

Meta এখন পিক্সেলকে অনেক জায়গায় "ডেটাসেট" নামে দেখায়। নাম যা-ই হোক, ব্রাউজার আর সার্ভার দুই দিকের ইভেন্ট একই জায়গায় জমা হয়, আর দুই দিকেই একই ID লাগে। Meta-র ডেভেলপার গাইডেও বলা আছে, আগে থেকে পিক্সেল থাকলে ব্রাউজার আর সার্ভার দুই দিকের ইভেন্টে সেই একই Pixel ID দিতে। তাই পুরনো পিক্সেল থাকলে নতুন বানাবেন না। পুরনোটাতে এতদিনের শেখা ডেটা জমা আছে, আর নতুন পিক্সেল শুরু করে একদম শূন্য থেকে।

নতুন পিক্সেল বানানোর ধাপগুলো Meta-র হেল্প সেন্টারে এরকম দেওয়া আছে।

  1. Meta Events Manager খুলুন, বাঁ দিকের মেনুতে Connect data চাপুন, তারপর Web সিলেক্ট করে Connect চাপুন।
  2. পিক্সেলের একটা নাম দিন, যেমন দোকানের নাম, তারপর Create pixel চাপুন। এতে আপনার পিক্সেলের একটা নতুন ID তৈরি হবে।
  3. ওয়েবসাইটের লিংক লিখে Check চাপুন। আপনার প্ল্যাটফর্মের সাথে Meta-র সরাসরি কানেকশন থাকলে সেটা স্ক্রিনে আসবে, না থাকলে Next চাপুন।
  4. এরপর Get guidance আর Do it yourself এর মধ্যে একটা বেছে নিতে বলবে। Meta নিজে Get guidance নিতে বলে, কারণ সেটা স্ক্রিনে ধাপে ধাপে দেখিয়ে দেয়। কী করবেন আগে থেকে জানা থাকলে Do it yourself নিন।
  5. সেটআপের অপশনে শুধু Meta pixel only না নিয়ে Conversions API and Meta pixel সিলেক্ট করুন। এরপর কয়েকটা রাস্তা দেখাবে। দোকান যদি এমন প্ল্যাটফর্মে হয় যার সাথে Meta-র কানেকশন আছে, partner integration নিন। নিজের ডেভেলপার দিয়ে কাজ করালে Set up manually নিন। কিছু অ্যাকাউন্টে Meta-enabled Conversions API নামে আরেকটা অপশনও আসে।

পিক্সেল তৈরি হয়ে গেলে বাঁ দিকের Data sources মেনুতে (কিছু অ্যাকাউন্টে নাম Datasets) সেটার নাম দেখবেন। নামে চাপ দিয়ে Settings ট্যাবে গেলে পিক্সেলের ID আর মালিকের নাম পাবেন। ID হলো লম্বা একটা নম্বর। এটা কপি করে রাখুন, পরের ধাপে লাগবে।

ধাপ ২: ওয়েবসাইটে পিক্সেল বসান আর Conversions API চালু করুন

পিক্সেলের অংশটা সহজ। Meta-র ডেভেলপার গাইড বলে, পিক্সেলের base code ওয়েবসাইটের প্রতিটা পেজের <head> অংশে বসাতে হয়, যেসব পেজে আপনি কাস্টমারের কাজ মাপতে চান। base code হলো পিক্সেলের মূল কোডের টুকরা। আর <head> হলো প্রতিটা পেজের কোডের একদম ওপরের অংশ, যেটা কাস্টমার দেখতে পান না। কোনো প্ল্যাটফর্মে দোকান হলে আপনাকে এসব ভাবতে হবে না। Pixel ID-টা নির্দিষ্ট ঘরে বসালেই কোডটা নিজে থেকে প্রতিটা পেজে চলে যায়।

Conversions API-র জন্য লাগবে একটা access token। এটা লম্বা একটা গোপন কোড, যেটা দেখে ফেসবুক বোঝে খবরটা সত্যিই আপনার সার্ভার থেকে আসছে। টোকেন পেতে Events Manager-এ আপনার পিক্সেল খুলে Settings ট্যাবে যান। নিচে Conversions API নামে একটা অংশ পাবেন। সেখানে Set up manually এর নিচে Generate access token লিংকে চাপুন, তারপর পপআপে যা বলে সেভাবে এগোন। Meta-র ডেভেলপার গাইডে ধাপগুলো এভাবেই দেওয়া আছে। সেখানে এটাও বলা আছে যে এই রাস্তায় টোকেন নিলে Meta-র কাছে আলাদা কোনো অনুমতি (App Review) চাইতে হয় না।

টোকেনটাকে পাসওয়ার্ডের মতো যত্নে রাখবেন। যার কাছে এটা থাকে, সে আপনার পিক্সেলে নিজের ইচ্ছামতো ইভেন্ট পাঠাতে পারে। তাই এটা WhatsApp গ্রুপে বা কোনো ফ্রিল্যান্সারের ইনবক্সে খোলাখুলি পাঠাবেন না। শুধু আপনার ওয়েবসাইটের সেটিংসে বা ডেভেলপারের সার্ভারে বসান।

এবার ঠিক করুন কোন ইভেন্টগুলো পাঠাবেন। একটা সাধারণ ফেসবুক দোকানের জন্য এই পাঁচটাই যথেষ্ট।

  • PageView, যখন কেউ যেকোনো পেজ খোলেন।
  • ViewContent, যখন কেউ একটা প্রোডাক্ট বা ল্যান্ডিং পেজ দেখেন।
  • AddToCart, যখন কেউ কার্টে প্রোডাক্ট নেন।
  • InitiateCheckout, যখন কেউ অর্ডার ফর্ম বা চেকআউট শুরু করেন।
  • Purchase, যখন অর্ডারটাকে আপনি সত্যিকারের বিক্রি বলে মানছেন। এটা ঠিক কখন, সেটা নিয়ে নিচে পুরো একটা অংশ আছে।

Purchase ইভেন্টের সাথে দুটো জিনিস দিতেই হয়। একটা হলো value, মানে অর্ডারের মোট টাকা। আরেকটা currency, মানে কোন দেশের টাকা, আমাদের জন্য BDT। Meta-র পিক্সেল রেফারেন্সে এই দুটোকে Purchase-এর জন্য required, মানে বাধ্যতামূলক, বলা আছে। এগুলো না দিলে ফেসবুক বুঝতে পারে না কোন অ্যাড বেশি টাকার বিক্রি আনছে।

সার্ভার থেকে যাওয়া ইভেন্টের সাথে কাস্টমারের কিছু তথ্যও যায়, যাতে ফেসবুক বুঝতে পারে মানুষটা কে। ফোন নম্বর, নাম আর ইমেইল SHA-256 নামের একটা নিয়মে হ্যাশ করে পাঠাতে হয়। হ্যাশ মানে নম্বরটাকে এমন একটা লম্বা কোডে বদলে ফেলা, যেটা থেকে আসল নম্বর আর ফেরত পাওয়া যায় না। ফেসবুক নিজের কাছে থাকা নম্বরগুলোও একইভাবে হ্যাশ করে মিলিয়ে দেখে। Meta-র ডেভেলপার গাইড বলে, নম্বর থেকে +, স্পেস বা ড্যাশের মতো চিহ্ন আর শুরুর শূন্য বাদ দিতে হবে, আর সামনে দেশের কোড থাকতেই হবে। বাংলাদেশের কোড 880, তাই 01712345678 নম্বরটা হ্যাশের আগে হবে 8801712345678। এই এক জায়গায় ভুল হলে ফোন নম্বর দিয়ে প্রায় কোনো অর্ডারই কারও ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সাথে মেলে না। ডেভেলপার দিয়ে কাজ করালে এই লাইনটা তাঁকে আলাদা করে বলে দিন।

কাস্টমারের IP অ্যাড্রেস আর user agent হ্যাশ ছাড়াই যায়। IP অ্যাড্রেস হলো কাস্টমারের ইন্টারনেট কানেকশনের নম্বর, আর user agent হলো তাঁর ফোন আর ব্রাউজারের পরিচয়। Meta-র গাইড অনুযায়ী ওয়েবসাইটের সার্ভার ইভেন্টে এই user agent (client_user_agent) দিতেই হয়।

ধাপ ৩: একই event_id দিন, নইলে এক অর্ডার দুবার গোনা হবে

পিক্সেল আর Conversions API দুই দিক থেকে একই ইভেন্ট পাঠালে ফেসবুকের কাছে দুটো খবর যায়। ফেসবুক যদি বুঝতে না পারে যে দুটো একই ঘটনা, তাহলে Ads Manager-এ একটা ViewContent দুটো হয়ে যায়, আর আপনার রিপোর্ট ফুলে ওঠে। ফোলা রিপোর্ট দেখে মনে হয় অ্যাড দারুণ চলছে, আর আপনি ভুল অ্যাডে বাজেট বাড়িয়ে ফেলেন।

এই দুবার গোনা আটকানোর কাজটাকে বলে deduplication, মানে ডুপ্লিকেট বাদ দেওয়া। এর জন্য লাগে event_id, মানে প্রতিটা ইভেন্টের নিজস্ব একটা নম্বর, অনেকটা অর্ডার নম্বরের মতো। Meta-র নিয়মটা সোজা। পিক্সেলের ইভেন্টের নাম আর সার্ভারের event_name এক হতে হবে, আর পিক্সেলের eventID আর সার্ভারের event_id হুবহু এক হতে হবে। দুটো মিললে ফেসবুক সাধারণত যেটা আগে পায় সেটা রাখে, অন্যটা বাদ দেয়। তবে দ্বিতীয় কপিটাকে প্রথমটার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছাতে হয়, Meta-র ডেভেলপার গাইডে এই সময়সীমা দেওয়া আছে।

বাস্তবে এর মানে হলো, কাস্টমার প্রোডাক্ট পেজ খুললে আপনার ওয়েবসাইট একটা আইডি বানাবে, ধরুন vc-8f3a91। ব্রাউজারের পিক্সেল এই আইডি দিয়ে ViewContent পাঠাবে, আর সার্ভারও ঠিক এই আইডি দিয়েই পাঠাবে। প্রতিটা নতুন ইভেন্টের আইডি আলাদা হবে, কিন্তু একই ইভেন্টের দুই কপির আইডি এক থাকবে।

Meta আরেকটা রাস্তাও রেখেছে। event_id না দিয়ে fbp বা external_id মিলিয়েও ডুপ্লিকেট বাদ দেওয়া যায়। এগুলো কী, নিচে Event Match Quality-র অংশে বলছি। কিন্তু Meta-র গাইডেই লেখা আছে, এই রাস্তা শুধু তখন কাজ করে যখন ব্রাউজারের ইভেন্ট আগে পৌঁছায় আর সার্ভারেরটা পরে। তাই event_id-ই নিরাপদ রাস্তা।

COD দোকানের জন্য এখানে একটা সূক্ষ্ম কথা আছে। আপনি যদি Purchase পাঠাতে চান অর্ডার কনফার্ম করার পরে, তাহলে থ্যাংক ইউ পেজ থেকে ব্রাউজারের পিক্সেল দিয়ে Purchase পাঠানো যাবে না। থ্যাংক ইউ পেজ হলো অর্ডার দেওয়ার পরে যে "ধন্যবাদ" পেজটা আসে। সেখানে পিক্সেল Purchase পাঠালে অর্ডার আসার মুহূর্তেই সব অর্ডার Purchase হয়ে যাবে, ফেক অর্ডারসহ, আর সার্ভারের দিকের সাবধানতা কোনো কাজে আসবে না। তাই Purchase তখন শুধু সার্ভার থেকে যাবে। এতে কোনো সমস্যা নেই। Meta-র হেল্প পেজেই বলা আছে, ব্রাউজার আর সার্ভার থেকে আলাদা আলাদা ইভেন্ট পাঠালে ডুপ্লিকেট বাদ দেওয়ার দরকারই পড়ে না।

ধাপ ৪: Test events দিয়ে চেক করুন, অ্যাড চালানোর আগে

সেটআপ শেষ মনে হলেও অ্যাড চালানোর আগে একবার নিজের চোখে দেখে নিন। Test events হলো Events Manager-এর একটা ট্যাব, যেখানে আপনার ওয়েবসাইট থেকে আসা ইভেন্ট সাথে সাথে দেখা যায়। Events Manager-এ বাঁ দিকের Data sources থেকে আপনার পিক্সেল সিলেক্ট করুন, তারপর Test events ট্যাবে যান।

ব্রাউজারের ইভেন্ট দেখতে ওই পেজে আপনার ওয়েবসাইটের লিংক লিখে Open website চাপুন। নতুন ট্যাবে সাইটটা খুলবে। এবার একজন কাস্টমারের মতো একটা প্রোডাক্ট দেখুন, কার্টে নিন, অর্ডার ফর্ম খুলুন। Test events পেজে ইভেন্টগুলো একটার পর একটা আসতে দেখবেন। Test events পেজটা খোলা থাকলেই শুধু এই টেস্টের কাজগুলো সেখানে ওঠে, Meta-র হেল্প পেজে এটা বলা আছে। তাই টেস্ট শেষ না হওয়া পর্যন্ত ট্যাবটা বন্ধ করবেন না।

সার্ভারের ইভেন্ট দেখতে একই ট্যাবে server events অংশে একটা টেস্ট কোড পাবেন, দেখতে অনেকটা TEST12345-এর মতো। এই কোডটা আপনার ওয়েবসাইটের সেটিংসে বা ডেভেলপারের কোডে test_event_code হিসেবে বসালে সার্ভার থেকে যাওয়া ইভেন্টগুলোও এই পেজে দেখা যায়। একটা ইভেন্ট দুই দিক থেকে এলে Test events দেখায় কোনটা গোনা হলো আর কোনটা ডুপ্লিকেট হিসেবে বাদ পড়ল। ধাপ ৩ ঠিকমতো হয়েছে কিনা, এখানেই বোঝা যায়।

টেস্ট ইভেন্টের একটা সহজ নকশা, একই ViewContent ইভেন্ট একই event_id নিয়ে একবার ব্রাউজার থেকে আর একবার সার্ভার থেকে এসেছে, একটা গোনা হয়েছে আর অন্যটা ডিডুপ্লিকেট হিসেবে বাদ পড়েছে
একই ইভেন্ট দুই দিক থেকে এসেছে, ফেসবুক গুনেছে একবার

Purchase চেক করতে নিজের নম্বর দিয়ে একটা টেস্ট অর্ডার দিন। তারপর যে নিয়মে Purchase যাওয়ার কথা, সেই কাজটা করুন। কনফার্মের পরে পাঠানোর নিয়ম হলে অর্ডারটা কনফার্ম করুন। এরপর দেখুন Test events-এ Purchase এলো কিনা, আর তার সাথে টাকার অঙ্ক আর BDT ঠিকমতো গেছে কিনা। কাজ শেষে টেস্ট অর্ডারটা ক্যানসেল করে দিন, যাতে ভুল করে কুরিয়ারে চলে না যায়।

Test events-এর ইভেন্টগুলো ওখানে বেশিক্ষণ থাকে না, আর Clear activity চাপলে সাথে সাথে মুছে যায়। আবার সেটআপের পরে নতুন ইভেন্ট Events Manager-এর মূল রিপোর্টে আসতে কিছুটা সময় লাগে, অনেক সময় আধা ঘণ্টার মতো। তাই রিপোর্টে সাথে সাথে কিছু না দেখলে অস্থির হবেন না, Test events-এ দেখা গেলেই যথেষ্ট।

COD-তে ফেক অর্ডারকে Purchase গুনলে অ্যাড কী শেখে

বেশিরভাগ গাইড বিদেশি দোকানের জন্য লেখা, যেখানে কাস্টমার কার্ডে আগেই টাকা দিয়ে দেন। সেখানে অর্ডার মানেই বিক্রি, তাই থ্যাংক ইউ পেজে Purchase পাঠানোই ঠিক। Meta-র পিক্সেল রেফারেন্সেও Purchase-এর মানে লেখা আছে, কেনা শেষ করে কনফার্মেশন পেজে পৌঁছানো। কিন্তু ক্যাশ অন ডেলিভারিতে অর্ডার মানে কাস্টমার শুধু কথা দিয়েছেন যে পার্সেল এলে টাকা দেবেন। এর মধ্যে কিছু কথা কখনোই টাকা হয় না।

আগেই বলেছি, ফেসবুক যাকে Purchase করতে দেখে, তাঁর মতো মানুষ খোঁজে। এখন ভাবুন, আপনার Purchase-এর তালিকায় এমন মানুষও আছেন যাঁরা অর্ডার দিয়ে আর ফোন ধরেন না, বা ডেলিভারিম্যান দরজায় গেলে বলেন "লাগবে না"। ফেসবুক তাঁদেরকেও আপনার আসল কাস্টমার ভেবে নেয়, আর ঠিক তাঁদের মতো আরও মানুষ খুঁজে আনে। ফলে অ্যাড যত চলে, ফেক অর্ডার তত বাড়ে। এটাই COD-র ফাঁদ।

টাকায় একটা উদাহরণ

ধরুন আপনি এক মাসে অ্যাডে ২০,০০০ টাকা খরচ করলেন, আর ওয়েবসাইটে ১০০টা অর্ডার এলো। Purchase যদি অর্ডার আসার সাথে সাথে যায়, Ads Manager দেখাবে প্রতিটা Purchase-এ খরচ ২০০ টাকা। দেখতে বেশ ভালো লাগে।

এবার আসল হিসাবটা ধরুন। ফোনে কনফার্ম করতে গিয়ে দেখলেন ২০টা অর্ডার ফেক, বা কাস্টমার ফোনই ধরছেন না। বাকি ৮০টা পাঠালেন, তার মধ্যে ১৫টা ফেরত এলো। হাতে টাকা এলো ৬৫টা অর্ডারের। তাহলে প্রতিটা আসল বিক্রিতে অ্যাডের খরচ ২০০ টাকা না, প্রায় ৩০৮ টাকা। ফেরত আসা ১৫টা পার্সেলের কুরিয়ার চার্জ এই হিসাবের বাইরে।

কিন্তু টাকার চেয়েও বড় ক্ষতিটা চোখে পড়ে না। ফেসবুককে আপনি ১০০ জনকে "কাস্টমার" বলে চিনিয়েছেন, যাঁদের ৩৫ জন কখনো টাকা দেননি। মানে ফেসবুক যা শিখেছে, তার প্রতি তিনটার একটা ভুল। পরের মাসে ফেসবুক ঠিক এই ৩৫ জনের মতো মানুষও খুঁজবে। ফেক অর্ডার আর রিটার্ন কমানোর বাকি উপায়গুলো ফেক অর্ডার আর রিটার্ন কমানোর লেখায় পাবেন। পিক্সেলের দিক থেকে কাজ একটাই। যাঁরা টাকা দেননি, তাঁদের Purchase হিসেবে ফেসবুকে পাঠানো বন্ধ করতে হবে।

তিনটা স্তম্ভে একই মাসের হিসাব, অর্ডার আসা ১০০টা, কনফার্ম হওয়া ৮০টা আর ডেলিভারি হওয়া ৬৫টা, পাশে প্রতিটা স্তরে অ্যাডের খরচ প্রতি অর্ডারে কত দাঁড়ায়
উদাহরণের হিসাব, অর্ডার ১০০টা হলেও টাকা এসেছে ৬৫টার

Purchase কখন পাঠাবেন, তিনটা উপায়ের তুলনা

কখন Purchase যায় ভালো দিক খারাপ দিক
অর্ডার আসার সাথে সাথে ফেসবুক সবচেয়ে তাড়াতাড়ি আর সবচেয়ে বেশি ইভেন্ট পায় ফেক আর ফেরত হওয়া অর্ডারও Purchase হিসেবে যায়
ফোনে কনফার্ম করার পরে ভুয়া অর্ডার বাদ পড়ে, আর খবর সাধারণত এক দিনের মধ্যে যায় কনফার্ম হওয়া কিছু অর্ডার তবুও ফেরত আসে
কুরিয়ার ডেলিভারি করার পরে শুধু টাকা দেওয়া কাস্টমাররা যান, তাই খবরটা সবচেয়ে পরিষ্কার খবর অর্ডারের ৩ থেকে ৭ দিন পরে যায়, তাই অ্যাড ধীরে শেখে

দেরির ব্যাপারটা হালকাভাবে নেবেন না। Meta পরামর্শ দেয় Conversions API-র ইভেন্ট ঘটার সাথে সাথে পাঠাতে, দেরি হলেও এক ঘণ্টার মধ্যে। খবর যত দেরিতে যায়, অ্যাডের কাজে তত কম লাগে। আরেকটা ব্যাপার হলো learning phase। নতুন অ্যাড চালু করলে বা বড় কিছু চেঞ্জ করলে ফেসবুক কিছুদিন শেখে, এই সময়টাকেই বলে learning phase। Meta-র হেল্প পেজ অনুযায়ী একটা ad set সাধারণত শেষ বড় এডিটের পরের এক সপ্তাহে প্রায় ৫০টা রেজাল্ট পেলে এই শেখা শেষ হয়। ad set হলো ক্যাম্পেইনের ভেতরের সেই অংশ, যেখানে আপনি বাজেট আর টার্গেট সেট করেন। ইভেন্ট কম গেলে বা দেরিতে গেলে এই শেখা শেষ হতে বেশি সময় লাগে।

তাই আমাদের পরামর্শ সহজ। বেশিরভাগ দোকানের জন্য "ফোনে কনফার্ম করার পরে" সবচেয়ে ভালো মাঝামাঝি রাস্তা। কারণ ভুয়া অর্ডারের বড় অংশ কনফার্ম কলেই ধরা পড়ে, আর খবরটাও এক দিনের মধ্যে চলে যায়। শর্ত একটাই। প্রতিটা অর্ডার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সত্যিই ফোন করে কনফার্ম করতে হবে, নাহলে খবর দেরিতে যায় আর এই রাস্তার সুবিধাটা থাকে না।

ডেলিভারির পরে পাঠানোর কথা তখনই ভাববেন, যখন দুটো জিনিস একসাথে সত্যি হয়। একটা হলো, আপনার একটা ad set থেকে সপ্তাহে ৫০টার বেশি অর্ডার ডেলিভারি হয়, ফলে দেরিতে হলেও ফেসবুক শেখার মতো যথেষ্ট খবর পায়। অন্যটা হলো, কনফার্ম করা অর্ডারেও আপনার ফেরত বেশি আসছে। আর COD দোকানে অর্ডার আসার সাথে সাথে Purchase পাঠাবেন না।

কনফার্মের পরে Purchase পাঠানো শুরু করলে Ads Manager-এ Purchase-এর সংখ্যা কমে যাবে, আর প্রতিটা Purchase-এর খরচ বেশি দেখাবে। এতে ঘাবড়াবেন না, কারণ ক্ষতিটা নতুন না। এতদিন সংখ্যাটা ফোলা ছিল, এখন আপনি সেটার আসল চেহারা দেখছেন। আপনার খাতার লাভ-ক্ষতির হিসাবের সাথেও এখন সংখ্যাটা মিলবে।

Event Match Quality কী, আর কম হলে কী করবেন

Conversions API দিয়ে যাওয়া ইভেন্টের জন্য Events Manager-এ Event Match Quality নামে একটা স্কোর থাকে। Meta-র হেল্প পেজ অনুযায়ী এটা ০ থেকে ১০ এর একটা স্কোর। এটা বলে, আপনার সার্ভার ইভেন্টের সাথে যাওয়া কাস্টমারের তথ্য দিয়ে ফেসবুক কতটা ভালোভাবে মানুষটাকে চিনতে পারছে। স্কোরটা হিসাব হয় শেষ ৪৮ ঘণ্টার ডেটা থেকে, আর এটা শুধু ওয়েবসাইটের সার্ভার ইভেন্টের জন্য দেখায়। স্কোর যত বেশি, তত বেশি অর্ডার ফেসবুক সঠিক মানুষের সাথে মেলাতে পারে, আর অ্যাড তত ভালো শেখে।

স্কোরটা দেখতে Events Manager-এ আপনার পিক্সেল খুলুন। যে ইভেন্টটা দেখতে চান তার পাশে View details চাপুন, তারপর Event matching ট্যাবে যান। কী পাঠালে স্কোর বাড়বে, সেই পরামর্শও Events Manager নিজেই দেখায়।

Meta-র তালিকায় কোন তথ্যের গুরুত্ব কত, সেটা জানলে বাংলাদেশের দোকানের জন্য কাজটা সহজ হয়। ইমেইল আর ক্লিক আইডির গুরুত্ব High। ফোন নম্বর, দেশ, external ID আর browser ID আছে Medium-এ। নাম, শহর আর পোস্টকোড পড়েছে Low-তে। আমাদের দেশে বেশিরভাগ অর্ডার ফর্মে ইমেইল চাওয়া হয় না, আর চাইলেও অনেকে দেন না। তাই আপনার ভরসা বাকিগুলো। এর কয়েকটা কুকিতে থাকে। কুকি হলো ব্রাউজারে রেখে দেওয়া ছোট একটা নোট, যেটা পরের বার পেজ খুললে আবার পড়া যায়।

  • ক্লিক আইডি। কেউ অ্যাডে ক্লিক করে এলে লিংকের সাথে fbclid নামে একটা কোড আসে। Meta-র গাইড অনুযায়ী এটা _fbc কুকিতে রেখে প্রতিটা সার্ভার ইভেন্টে fbc হিসেবে পাঠাতে হয়।
  • ব্রাউজার আইডি। পিক্সেল নিজেই _fbp কুকিতে একটা আইডি রাখে। সেটা সার্ভার ইভেন্টে fbp হিসেবে যায়।
  • ফোন নম্বর, ৮৮০ সহ। ধাপ ২-এ যে ৮৮০-র কথা বলেছি, সেই ভুলটা এই স্কোরেই সবচেয়ে বেশি ধরা পড়ে।
  • external ID। এটা আপনার নিজের সিস্টেমে কাস্টমারের একটা স্থায়ী নম্বর, যেমন কাস্টমার আইডি, যেটা হ্যাশ করে পাঠানো হয়।

স্কোর কম দেখলে প্রথমে দেখুন সার্ভার ইভেন্টে ফোন নম্বর ৮৮০ সহ যাচ্ছে কিনা, আর fbc ও fbp যাচ্ছে কিনা। আপনার হাতে থাকা সবচেয়ে কাজের তথ্য এগুলোই, আর ফরম্যাটের ছোট ভুলও এগুলোতেই সবচেয়ে বেশি হয়। এরপর পিক্সেলের Settings ট্যাব থেকে Automatic advanced matching চালু রাখুন। Meta-র হেল্প পেজ বলে, এটা চালু থাকলে পিক্সেল নিজেই ফর্মের নাম আর ইমেইলের মতো ঘর খুঁজে নেয়। তথ্যটা ব্রাউজারেই হ্যাশ হয়, আর মেলানো শেষে ফেসবুক সেটা ফেলে দেয়।

সাধারণ প্রশ্ন

ফেসবুক পিক্সেল আর Conversions API-র মধ্যে পার্থক্য কী?

পিক্সেল কাস্টমারের ব্রাউজার থেকে ফেসবুককে খবর পাঠায়, আর Conversions API একই খবর পাঠায় আপনার ওয়েবসাইটের সার্ভার থেকে। ব্রাউজার বা অ্যাড ব্লকার পিক্সেলের খবর আটকে দিতে পারে, কিন্তু সার্ভারের খবর সেভাবে আটকায় না। Meta নিজেই দুটো একসাথে চালাতে বলে, আর একই ইভেন্ট দুই দিক থেকে পাঠাতে বলে।

শুধু পিক্সেল বসালে কি চলবে না?

চলবে, কিন্তু কিছু ইভেন্ট হারাবেন। যেসব কাস্টমারের ব্রাউজারে পিক্সেল লোড হয় না, তাঁদের অর্ডারের খবর ফেসবুক পায়ই না। তাতে অ্যাড কম শেখে আর রিপোর্টে বিক্রি কম দেখায়। Conversions API সেই ফাঁকটা ভরে।

পিক্সেল ঠিকমতো কাজ করছে কিনা কীভাবে বুঝব?

Events Manager-এ আপনার পিক্সেল খুলে Test events ট্যাবে যান। ওয়েবসাইটের লিংক দিয়ে Open website চাপুন, তারপর একটা প্রোডাক্ট দেখুন আর কার্টে নিন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ইভেন্টগুলো ওই পেজে এলে বুঝবেন পিক্সেল কাজ করছে।

ক্যাশ অন ডেলিভারিতে Purchase ইভেন্ট কখন পাঠানো উচিত?

বেশিরভাগ দোকানের জন্য ফোনে অর্ডার কনফার্ম করার পরে পাঠানোই সবচেয়ে ভালো। অর্ডার আসার সাথে সাথে পাঠালে ফেক অর্ডারও Purchase হিসেবে যায়, আর ফেসবুক ওরকম মানুষই বেশি খুঁজে আনে। ডেলিভারির পরে পাঠালে খবরটা সবচেয়ে পরিষ্কার হয়, কিন্তু কয়েক দিন দেরিতে যায় বলে অ্যাড ধীরে শেখে।

Ads Manager-এ একটা অর্ডার দুবার দেখাচ্ছে কেন?

সাধারণত পিক্সেল আর Conversions API দুই দিক থেকে একই ইভেন্ট গেছে, কিন্তু দুটোর event_id মেলেনি। দুই দিকের event_name আর event_id হুবহু এক হলে ফেসবুক একটাকেই গোনে। কোন ইভেন্ট বাদ পড়ল আর কোনটা গোনা হলো, সেটা Test events-এ দেখা যায়।

শুধু ইনবক্সে অর্ডার নিলে কি পিক্সেল লাগবে?

পিক্সেল কাজ করে ওয়েবসাইট বা ল্যান্ডিং পেজে। অর্ডার যদি পুরোটাই মেসেঞ্জারে হয়, পিক্সেল সেই অর্ডার দেখতেই পায় না। পিক্সেলের সুবিধা পেতে হলে আগে একটা ল্যান্ডিং পেজে অর্ডার ফর্ম লাগবে।

আজ থেকে কী করবেন

আজকের কাজ তিনটা। প্রথমে Events Manager খুলে দেখুন আপনার পিক্সেলে Conversions API চালু আছে কিনা, না থাকলে ধাপ ২ করুন। তারপর নিজের ফোন থেকে Test events খুলে একটা প্রোডাক্ট দেখুন আর একটা টেস্ট অর্ডার দিন, আর মিলিয়ে নিন যে প্রতিটা ইভেন্ট একবারই গোনা হচ্ছে। আর সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো, আপনার Purchase এখন কখন যাচ্ছে সেটা খুঁজে বের করা। যদি অর্ডার আসার সাথে সাথে যায়, আজই সেটা চেঞ্জ করুন।

WinningSeller-এ এই সেটআপের জন্য কোড লাগে না। অ্যাডমিনের "ফেসবুক, TikTok ও Google ট্র্যাকিং" পেজে Pixel ID, Conversions API Access Token আর টেস্টের সময় Test event code বসালেই কাজ শুরু হয়। তখন ব্রাউজার আর সার্ভার দুই দিক থেকে একই event ID দিয়ে PageView, ViewContent, AddToCart আর InitiateCheckout যায়। Purchase কখন যাবে সেটা আপনি বেছে নেন, অর্ডার আসার সাথে সাথে, স্টাফ কনফার্ম করার পরে, নাকি কুরিয়ার ডেলিভারি করার পরে। কনফার্ম বা ডেলিভারির নিয়ম বেছে নিলে Purchase যায় শুধু সার্ভার থেকে, তাই থ্যাংক ইউ পেজ থেকে ফেক অর্ডার Purchase হয়ে যায় না। একটা অর্ডারের Purchase একবারই যায়, আর আপনি নিজে হাতে তোলা অর্ডার Purchase হিসেবে যায় না, কারণ সেগুলো কোনো অ্যাড থেকে আসেনি। ফোন নম্বর আর নাম হ্যাশ করেই পাঠানো হয়। আর "টেস্ট ইভেন্ট পাঠান" বাটনে চাপলে Test events-এ সাথে সাথে দেখা যায় কানেকশন ঠিক আছে কিনা। বাকি সব ফিচার ফিচারের পেজে দেখতে পারেন।

শেষে একটা কথা বলে রাখি। পিক্সেল নিজে বিক্রি আনে না, এটা শুধু ফেসবুককে আপনার কাস্টমার চেনায়। তাই যত্ন করে ঠিক মানুষগুলোকেই চেনান, মানে যাঁরা পার্সেল হাতে নিয়ে টাকা দেন।

#ফেসবুক পিক্সেল#Conversions API#Events Manager#ফেসবুক অ্যাড#ক্যাশ অন ডেলিভারি#ট্র্যাকিং

আরও পড়ুন

ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ

ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে

গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে

ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।

·১০ মিনিটে পড়া যায়