WinningSeller
অনলাইন ব্যবসা শুরু১৫ মিনিটে পড়া যায়

উইনিং প্রোডাক্ট খুঁজে বের করার উপায়, আর ছোট বাজেটে টেস্টের হিসাব

ট্রেন্ডিং হলেই উইনিং না। ঢাকার পাইকারি মার্কেট, Facebook Ad Library আর সিজন থেকে আইডিয়া বের করে, ছোট বাজেটে টেস্ট করে, তিনটা নম্বর দেখে কীভাবে বুঝবেন কোন প্রোডাক্টে টাকা ঢালবেন।

উইনিং প্রোডাক্ট খুঁজে বের করার উপায়, আর ছোট বাজেটে টেস্টের হিসাব
এই লেখায় যা আছে
  1. উইনিং প্রোডাক্ট আসলে কী, আর ট্রেন্ডিং প্রোডাক্টের সাথে পার্থক্য কোথায়?
  2. উইনিং প্রোডাক্ট খুঁজে বের করার উপায়, আইডিয়া আসবে কোথা থেকে?
    1. ঢাকার পাইকারি মার্কেট ঘুরে দেখা
    2. Facebook Ad Library দিয়ে দেখা অন্যরা কী বেচছে
    3. সিজন আর উৎসবের ক্যালেন্ডার
    4. মানুষ যা নিয়ে অভিযোগ করে
  3. অ্যাড দেওয়ার আগে প্রোডাক্টটা কীভাবে চেক করবেন?
    1. ১. দামে জায়গা আছে কি না
    2. ২. ওজন, সাইজ আর ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি
    3. ৩. রিটার্ন হওয়ার ঝুঁকি
    4. ৪. কাস্টমার আবার কিনবেন কি না
    5. ৫. আইন আর Meta-র অ্যাডের নিয়মে আটকাবে কি না
  4. ছোট বাজেটে একটা প্রোডাক্ট টেস্ট করবেন কীভাবে?
  5. কোন তিনটা নম্বর দেখে বুঝবেন চালাবেন নাকি বন্ধ করবেন?
  6. একটা উদাহরণ, ৫,০০০ টাকার টেস্টের পুরো হিসাব
  7. উইনিং প্রোডাক্ট খুঁজতে গিয়ে যে ভুলগুলো বেশি হয়
  8. প্রোডাক্ট উইন করলে এরপর কী করবেন, আর এই পদ্ধতি কার জন্য না?

উইনিং প্রোডাক্ট হলো এমন প্রোডাক্ট, যেটা ফেসবুকে অ্যাড দিয়ে বেচলে অ্যাডের টাকা, রিটার্ন আর কুরিয়ার চার্জ বাদ দেওয়ার পরেও ডেলিভারি হওয়া অর্ডারে লাভ থাকে, আর সেই লাভ এক সপ্তাহ না, অনেক দিন টেকে। উইনিং প্রোডাক্ট খুঁজে বের করার উপায় আসলে তিনটা কাজ। প্রথমে ঢাকার পাইকারি মার্কেট, Facebook Ad Library, সিজন আর মানুষের অভিযোগ থেকে আইডিয়া জোগাড় করবেন। তারপর একটা ছোট চেকলিস্ট দিয়ে দুর্বল আইডিয়াগুলো বাদ দেবেন। শেষে বাকি এক-দুইটা প্রোডাক্ট অল্প টাকার অ্যাডে টেস্ট করবেন, আর তিনটা নম্বর দেখে ঠিক করবেন চালাবেন নাকি বন্ধ করবেন।

নিচে প্রতিটা ধাপ টাকার হিসাবসহ বলছি। এতে পরের প্রোডাক্টটা আন্দাজে না বেছে হিসাব করে বাছতে পারবেন।

উইনিং প্রোডাক্ট আসলে কী, আর ট্রেন্ডিং প্রোডাক্টের সাথে পার্থক্য কোথায়?

ইউটিউব আর ফেসবুক গ্রুপে যে প্রোডাক্টের ভিডিও ভাইরাল হয়, অনেকে সেটাকেই উইনিং বলে ফেলেন। কিন্তু যিনি ক্যাশ অন ডেলিভারিতে বেচেন, তাঁর হিসাব অন্য রকম। অ্যাডে টাকা দিলে অর্ডার আসে, কিন্তু তার কিছু ফোনে কনফার্ম হয় না। কনফার্ম হওয়া অর্ডারেরও কিছু পার্সেল দরজা থেকে ফেরত আসে। টাকা আসে শুধু বাকি যে পার্সেলগুলো ডেলিভারি হলো, সেগুলো থেকে।

তাই একটা প্রোডাক্টকে উইনিং বলার আগে চারটা জিনিস মিলতে হবে। অ্যাডে একটা অর্ডার আনতে যে খরচ হয়, সেটা আপনার লাভের মধ্যে থাকতে হবে। কাস্টমার ফোনে কনফার্ম করবেন, আর দরজায় ফেরত দেবেন কম। প্রোডাক্টটা আপনি বারবার একই মানে কিনতে পারবেন। আর বিক্রিটা দুই-তিন দিনের হুজুগে শেষ না হয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলবে।

একটা ভাইরাল গ্যাজেটের পোস্টে হাজারটা কমেন্ট পড়তে পারে, অথচ ফোন করলে অর্ধেক মানুষ বলবেন "এমনি দেখছিলাম"। আবার রান্নাঘরের একটা সাধারণ জিনিস চুপচাপ মাসের পর মাস লাভ দিতে পারে, কারণ যিনি অর্ডার দেন তাঁর সত্যিই ওটা দরকার। আপনার জন্য উইনিং হলো এই দ্বিতীয়টা।

আর উইনিং প্রোডাক্ট চিরকাল উইনিং থাকে না। ভালো চললে অন্য সেলাররাও সেটা আনেন, তখন অ্যাডের খরচ বাড়ে। তাই প্রোডাক্ট খোঁজা একবারের কাজ না, এটা প্রতি মাসের অভ্যাস করে ফেলুন।

উইনিং প্রোডাক্ট খুঁজে বের করার উপায়, আইডিয়া আসবে কোথা থেকে?

শুরুতে হাতে আইডিয়ার একটা লম্বা লিস্ট থাকা দরকার, যাতে পরে ছেঁটে ফেলার মতো যথেষ্ট নাম থাকে। বাংলাদেশের একজন সেলারের জন্য চারটা জায়গা সবচেয়ে কাজে আসে।

ঢাকার পাইকারি মার্কেট ঘুরে দেখা

শুরু করুন পুরান ঢাকার চকবাজার দিয়ে। The Business Standard-এর একটা রিপোর্টে চকবাজারকে দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি হাব বলা হয়েছে। অনলাইন সেলাররা সাধারণত কসমেটিক্স, খেলনা আর প্যাকেজিংয়ের মাল খুঁজতে এখানেই যান। একই রিপোর্টে আশপাশের মার্কেটগুলোর কথাও আছে। ইসলামপুর কাপড়ের জন্য, আর নবাবপুর মেশিনারি ও ইলেকট্রনিক জিনিসের জন্য।

তৈরি পোশাক বেচতে চাইলে বুড়িগঙ্গার ওপারে কেরানীগঞ্জ ঘুরে আসুন। Dhaka Tribune কেরানীগঞ্জকে দেশি তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার বলেছে। থ্রি-পিস, জিন্স, পাঞ্জাবি, বাচ্চাদের কাপড়, সবই সেখানে বানানো আর বিক্রি হয়। চার্জার, লাইট, ছোট ফ্যানের মতো গ্যাজেট খুঁজলে গুলিস্তানের সুন্দরবন স্কয়ার সুপার মার্কেটের নাম সেলারদের মুখে প্রায়ই শুনবেন।

মৌচাক মার্কেট নিয়ে অনেকের একটা ভুল ধারণা আছে। মৌচাক মূলত খুচরা মার্কেট, সেখানে শাড়ি, থ্রি-পিস, গয়না আর কসমেটিক্সের দোকান বেশি। তাই ওখান থেকে পাইকারি দামে কেনার আশা করবেন না। তবে একটা কাজে মৌচাক খুব ভালো। মেয়েরা এখন কী কিনছেন, আর দোকানে সেটার দাম কত চাওয়া হচ্ছে, সেটা নিজের চোখে দেখতে পারবেন। আপনার কাস্টমার এই দামটা মাথায় রেখেই আপনার অ্যাড দেখবেন।

মার্কেটে প্রথম দিন কিছু কিনবেন না। একটা খাতায় বা ফোনের নোটে ১০ থেকে ১৫টা প্রোডাক্টের নাম লিখুন। প্রতিটার এক পিসের দাম আর এক ডজন বা ৫০ পিসের দাম আলাদা করে জেনে নিন। দোকানদারকে সরাসরি জিজ্ঞেস করুন, "ভাই, এখন কোনটা বেশি যাচ্ছে?" খুচরা দোকানিরা কোন জিনিস বারবার নিতে আসেন, সেটা পাইকার নিজের চোখে দেখেন। এই খবর আপনি কোনো সফটওয়্যারে পাবেন না। এলাকাভেদে মার্কেট বন্ধের দিন আলাদা, তাই যাওয়ার আগে খোঁজ নিয়ে যাবেন।

Facebook Ad Library দিয়ে দেখা অন্যরা কী বেচছে

Facebook Ad Library হলো Meta-র একটা ফ্রি পেজ। Meta-র transparency পেজ অনুযায়ী, Facebook আর Instagram-এ এখন যত অ্যাড চলছে, যে কেউ সেখানে সার্চ করে দেখতে পারেন।

কাজটা এভাবে করুন। ব্রাউজারে facebook.com/ads/library খুলুন। দেশ হিসেবে Bangladesh সিলেক্ট করুন, আর অ্যাড ক্যাটাগরিতে দিন All ads। তারপর সার্চ বক্সে প্রোডাক্টের নাম লিখুন। অথবা এমন শব্দ লিখুন যা বাংলাদেশি সেলাররা অ্যাডে লেখেন, যেমন "ক্যাশ অন ডেলিভারি" বা "সারা দেশে হোম ডেলিভারি"। প্রতিটা অ্যাডের কার্ডে লেখা থাকে অ্যাডটা কবে থেকে চলছে।

Facebook Ad Library-র সার্চের একটা সহজ নকশা, দেশ Bangladesh আর ক্যাটাগরি All ads সিলেক্ট করা, সার্চ বক্সে বাংলা শব্দ, নিচে তিনটা অ্যাডের কার্ড আর প্রতিটায় কবে থেকে চলছে সেই তারিখ
দেশ, ক্যাটাগরি আর একটা শব্দ দিলেই এখন চলা অ্যাডগুলো সামনে আসে

একই প্রোডাক্ট যদি কয়েকটা আলাদা পেজ একসাথে অ্যাড দিয়ে বেচে, তাহলে বুঝবেন ওটার চাহিদা আছে। আর কোনো অ্যাড কয়েক সপ্তাহ ধরে টানা চললে সেটা ভালো লক্ষণ। লোকসানের অ্যাড সাধারণত কেউ এত দিন চালান না।

সিজন আর উৎসবের ক্যালেন্ডার

বাংলাদেশে বছরের অনেকটা বিক্রি কয়েকটা উৎসব আর আবহাওয়ার সাথে বাঁধা। রোজার মাসে আর রোজার ঈদে পোশাক, জুতা, ইফতারের জিনিস আর ঘর সাজানোর জিনিস বেশি চলে। কোরবানির ঈদের আগে মাংস কাটার ছুরি, চপিং বোর্ড আর মসলা গুঁড়া করার মেশিনের চাহিদা বাড়ে। পহেলা বৈশাখের আগে লাল-সাদা পোশাকের অর্ডার আসে। শীত পড়লে শাল আর লোশন চলে, বর্ষা এলে ছাতা। আর জানুয়ারিতে স্কুল খোলার সময় ব্যাগ আর টিফিন বক্সের খোঁজ বাড়ে।

সিজনের প্রোডাক্টে আসল ব্যাপার হলো সময়। উৎসবের এক সপ্তাহ আগে অ্যাড শুরু করলে দেরি হয়ে যায়। টেস্ট করতে কয়েক দিন লাগে, স্টক আনতে কয়েক দিন, আর কুরিয়ারে কাস্টমারের হাতে পৌঁছাতে আরও কয়েক দিন। তাই উৎসবের চার থেকে ছয় সপ্তাহ আগে টেস্ট শুরু করুন। সিজন শেষ হলে বাড়তি মাল পরের বছর পর্যন্ত গুদামে পড়ে থাকে, তাই স্টক কিনবেন হিসাব করে।

মানুষ যা নিয়ে অভিযোগ করে

যে প্রোডাক্ট কারও একটা বিরক্তি দূর করে, সেটা বেচা সহজ। অ্যাডটা পড়েই মানুষ নিজের সমস্যাটা চিনে ফেলেন। এই সমস্যাগুলো পাবেন ফেসবুকের মায়েদের গ্রুপে, এলাকার গ্রুপে, বড় পেজের কমেন্টে আর অনলাইন মার্কেটপ্লেসের রিভিউতে। গরমে লোডশেডিং নিয়ে অভিযোগ বাড়লে রিচার্জেবল ফ্যানের খোঁজও বাড়ে। ছোট ফ্ল্যাটে কাপড় শুকানোর জায়গা নেই, রান্নাঘরে তেলাপোকা, এরকম প্রতিটা অভিযোগের পেছনে একটা প্রোডাক্টের আইডিয়া লুকিয়ে থাকে।

নিজের ইনবক্সেও অনেক আইডিয়া পড়ে থাকে। কাস্টমাররা যা জিজ্ঞেস করেন অথচ আপনি বেচেন না, সেগুলো লিখে রাখুন। একই জিনিস তিন-চারজন জিজ্ঞেস করলে সেটা লিস্টে তুলে ফেলুন।

অ্যাড দেওয়ার আগে প্রোডাক্টটা কীভাবে চেক করবেন?

আপনার লিস্টে এখন হয়তো ২০টা আইডিয়া জমেছে। সবগুলোতে অ্যাড দিলে টাকা শেষ হবে, কিন্তু কোনটা চলবে সেই উত্তর পাবেন না। তাই প্রতিটা আইডিয়াকে নিচের পাঁচটা প্রশ্ন দিয়ে চেক করুন। কোনো একটার উত্তর পরিষ্কার "না" হলে আইডিয়াটা বাদ দিন।

১. দামে জায়গা আছে কি না

প্রথমে হিসাব করুন, প্রোডাক্টটা আপনার ঘর পর্যন্ত আনতে মোট কত পড়ে। কেনা দাম, মার্কেট থেকে আনার ভাড়া আর প্যাকেজিং যোগ করুন। তারপর দেখুন কাস্টমার এটা কত টাকায় কিনতে রাজি, অন্য পেজে আর দোকানে কত দামে চলছে।

COD-তে অ্যাড দিয়ে বেচলে কেনা আর বেচার মাঝখানে অনেক খরচ ঢুকে যায়। অ্যাডের টাকা তো আছেই। সাথে আছে ফেরত আসা পার্সেলের কুরিয়ার চার্জ, আর যে অর্ডার কনফার্ম হলো না তার পেছনে খরচ হওয়া অ্যাডের টাকা। এজন্য অনেক সেলার একটা মোটা দাগের নিয়ম মানেন। ঘরে আনার খরচের আড়াই থেকে তিন গুণ দামে বেচতে না পারলে প্রোডাক্টটা অ্যাড দিয়ে টেকানো কঠিন। এটা কোনো আইন না, শুধু দুর্বল আইডিয়া ছেঁকে ফেলার একটা উপায়। দাম ঠিক করার পুরো হিসাব চাইলে প্রোডাক্টের দাম নির্ধারণের লেখাটা পড়ে নিন।

২. ওজন, সাইজ আর ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি

কুরিয়ার চার্জ সাধারণত ওজনের সাথে বাড়ে, কত বাড়ে সেটা আপনার কুরিয়ারের রেট চার্টে দেখে নিন। ৩০০ গ্রামের একটা জিনিস আর দুই কেজির একটা জিনিসের দাম যদি এক হয়, তাহলে দ্বিতীয়টায় প্রতিটা পার্সেলে আপনার লাভ কমবে। কাচের জিনিস, লিক করতে পারে এমন তরল, আর বড় বক্সের জিনিসে আরেকটা ঝুঁকি আছে। ঢাকার বাইরে কয়েক দিন ঘুরে ভাঙা অবস্থায় পৌঁছালে কাস্টমার পার্সেল নেবেন না, আর পুরো ক্ষতিটা যাবে আপনার পকেট থেকে।

৩. রিটার্ন হওয়ার ঝুঁকি

কিছু প্রোডাক্ট এমনিতেই বেশি ফেরত আসে। জুতা আর কাপড়ে সাইজের ঝামেলা থাকে। রঙের জিনিস অনেক সময় ছবিতে এক রকম আর হাতে আরেক রকম লাগে। আর "সাত দিনে ফল" টাইপের প্রোডাক্টে কাস্টমার যা আশা করেন, আসল ফল তার চেয়ে অনেক কম হয়। অনেক সেলারের অভিজ্ঞতা হলো, দাম যত বেশি, দরজায় "এখন টাকা নেই" শোনার সম্ভাবনাও তত বেশি। রিটার্ন কমানোর কৌশলগুলো ফেক অর্ডার আর রিটার্ন নিয়ে লেখাটায় বিস্তারিত বলেছি। কিন্তু প্রোডাক্ট বাছার সময়েই ঝুঁকিটা কম রাখতে পারলে সেটাই সবচেয়ে সস্তা।

৪. কাস্টমার আবার কিনবেন কি না

মধু, ঘি, চা বা কসমেটিক্সের মতো যে জিনিস ফুরিয়ে যায়, সেটা একই কাস্টমার আবার কেনেন। দ্বিতীয় অর্ডারে অ্যাডের টাকা লাগে না, তাই লাভ অনেক বেশি থাকে। কিন্তু একটা চপার বা একটা ঘড়ি মানুষ সাধারণত একবারই কেনেন। এমন প্রোডাক্টও চলতে পারে, তবে তখন প্রতিটা বিক্রির জন্য নতুন কাস্টমার আর নতুন অ্যাডের টাকা লাগবে। দুইটা প্রোডাক্টের হিসাব কাছাকাছি হলে যেটা মানুষ আবার কেনে, সেটাই বাছুন।

৫. আইন আর Meta-র অ্যাডের নিয়মে আটকাবে কি না

Meta-র Advertising Standards-এ অস্ত্র, তামাক, অ্যালকোহল আর ওষুধকে restricted লিস্টে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে অস্ত্র আর তামাক বিক্রির অ্যাড একদমই চলে না। Health and Wellness অংশে বলা আছে, ডায়েট, হেলথ আর ওজন কমানো বা বাড়ানোর প্রোডাক্টের অ্যাড শুধু ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের দেখাতে হবে। এই ধরনের প্রোডাক্টে অ্যাড রিজেক্ট হওয়ার, এমনকি অ্যাড অ্যাকাউন্ট আটকে যাওয়ার ঝুঁকিও বেশি। দেশের আইনের দিকটাও দেখে নিন। ওষুধ বেচতে লাইসেন্স লাগে, আর কিছু খাবার ও কসমেটিক্সে BSTI-র সার্টিফিকেশন লাগে। নামী ব্র্যান্ডের কপি প্রোডাক্ট সেই ব্র্যান্ডের নামে বেচলে অ্যাড আটকানোর ঝুঁকি তো আছেই, আইনি ঝামেলাতেও পড়তে পারেন।

ছোট বাজেটে একটা প্রোডাক্ট টেস্ট করবেন কীভাবে?

চেকলিস্ট পার হয়ে যে এক-দুইটা প্রোডাক্ট টিকে গেল, এবার সেগুলো টেস্ট করার পালা। মনে রাখবেন, টেস্টের সময় আপনার আসল কাজ বেশি বিক্রি করা না। আপনি একটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন। এই প্রোডাক্টে অ্যাড দিলে ডেলিভারি হওয়া অর্ডারে লাভ থাকে কি না?

  1. অল্প স্টক কিনুন। ১৫ থেকে ২০ পিস কিনলেই যথেষ্ট, অথবা এমন সাপ্লায়ার ঠিক করুন যিনি এক-দুই দিনের মধ্যে মাল দিতে পারবেন। প্রথমেই ১০০ পিস কিনলে টেস্ট ব্যর্থ হলে টাকাটা মালের মধ্যে আটকে যায়।
  2. নিজে ছবি তুলুন আর ছোট ভিডিও বানান। প্রোডাক্টটা হাতে নিয়ে আসল আলোতে তুলুন, আর ভিডিওতে দেখান সেটা কীভাবে কাজ করে। সত্যিকারের ছবিতে অর্ডার একটু কম এলেও ফেরত কম আসে।
  3. একটা অর্ডার ফর্ম রাখুন। ইনবক্সে অর্ডার নিলে গুনে রাখা কঠিন হয়, নাম-ঠিকানাও অর্ধেক আসে। এক প্রোডাক্টের জন্য একটা ল্যান্ডিং পেজ কীভাবে সাজাবেন, সেটা আলাদা লেখায় বলেছি।
  4. একটা ক্যাম্পেইনের ভেতরে দুই-তিনটা আলাদা অ্যাড চালান। একটায় ছবি দিন, একটায় ভিডিও, আর চাইলে আরেকটায় শুধু হেডলাইনটা বদলে দিন। বাজেট এমন রাখুন, যাতে ২০ থেকে ৩০টা অর্ডার আসার সুযোগ থাকে। আপনার আন্দাজ যদি হয় একটা অর্ডারে ১৫০ টাকা লাগবে, তাহলে বাজেট হবে ৩,০০০ থেকে ৪,৫০০ টাকা। ৫-৬টা অর্ডার দেখে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না, কারণ একটা ভালো বা খারাপ দিনেই তখন পুরো হিসাব উল্টে যায়।
  5. ৩ থেকে ৫ দিন অ্যাডে হাত দেবেন না। প্রতিদিন অডিয়েন্স বা বাজেট বদলালে Facebook অনেক সময় নতুন করে শেখা শুরু করে। তখন আপনি আর বুঝতে পারবেন না, কোন বদলের কারণে নম্বর বদলাল।
  6. প্রতিদিন রাতে নম্বরগুলো লিখে রাখুন। সেদিন অ্যাডে কত খরচ হলো, কয়টা অর্ডার এলো, কয়টা কনফার্ম হলো আর কয়টা কুরিয়ারে গেল, সব লিখুন। পরে কয়টা ডেলিভারি হলো আর কয়টা ফেরত এলো, সেটাও যোগ করবেন।

একটা জিনিস খেয়াল রাখবেন। আপনার পিক্সেল যদি অর্ডার জমা পড়ার সাথে সাথেই Purchase পাঠায়, তাহলে Ads Manager-এ যে "purchase" দেখছেন, সেটা আসলে ফর্ম জমা পড়ার সংখ্যা। এর মধ্যে ভুয়া অর্ডার আর কনফার্ম না হওয়া অর্ডারও আছে। তাই সিদ্ধান্ত নেবেন নিজের খাতার নম্বর দেখে। আর মেসেজ অ্যাড চালালে মেসেজ প্রতি খরচ গুনবেন না, গুনবেন কনফার্ম হওয়া অর্ডার প্রতি খরচ।

কোন তিনটা নম্বর দেখে বুঝবেন চালাবেন নাকি বন্ধ করবেন?

টেস্ট শেষে তিনটা নম্বর বের করুন। প্রতিটা নম্বর আলাদা একটা প্রশ্নের উত্তর দেয়।

অর্ডার প্রতি খরচ। মোট অ্যাড খরচকে মোট অর্ডার দিয়ে ভাগ করুন। এই নম্বর বলে আপনার অ্যাড আর অফার মানুষকে কতটা টানছে। ধরুন ৪,০০০ টাকার অ্যাডে ২৫টা অর্ডার এলো, তাহলে অর্ডার প্রতি খরচ ১৬০ টাকা।

কনফার্মেশন রেট। কনফার্ম হওয়া অর্ডারকে মোট অর্ডার দিয়ে ভাগ করে ১০০ দিয়ে গুণ করুন। এই নম্বর বলে অর্ডারগুলো কতটা সত্যি। রেট কম হলে সাধারণত দুইটার একটা ঘটেছে। হয় অ্যাডে এমন কিছু বলা হয়েছে যা প্রোডাক্টে নেই, নয়তো ফোনে মোট দাম শুনে কাস্টমার পিছিয়ে যাচ্ছেন।

রিটার্ন রেট। ফেরত আসা পার্সেলকে কুরিয়ারে পাঠানো পার্সেল দিয়ে ভাগ করে ১০০ দিয়ে গুণ করুন। এই নম্বর বলে, হাতে পাওয়ার পর কাস্টমার প্রোডাক্টটা রাখছেন কি না।

শেষ দুইটা রেটের এমন কোনো সংখ্যা নেই যেটা সবার জন্য "ভালো"। প্রোডাক্ট আর এলাকাভেদে এগুলো অনেক আলাদা হয়। তাই নিজের আগের প্রোডাক্টগুলোর সাথে তুলনা করুন। নতুন প্রোডাক্টের কনফার্মেশন আপনার স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম হলে, বা রিটার্ন অনেক বেশি হলে, সেটা বিপদের লক্ষণ।

এই তিন নম্বর মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একটা নম্বর বানানো যায়। আমরা এর নাম দিয়েছি ব্রেক-ইভেন অর্ডার খরচ। মানে, একটা অর্ডার আনতে অ্যাডে সর্বোচ্চ যত টাকা খরচ করলে আপনার লাভও হয় না, ক্ষতিও হয় না। হিসাবটা এরকম।

ব্রেক-ইভেন অর্ডার খরচ = (ডেলিভারি প্রতি লাভ × ডেলিভারি হওয়া অর্ডার ÷ মোট অর্ডার) − (একটা ফেরতের খরচ × ফেরত আসা পার্সেল ÷ মোট অর্ডার)

এখানে ডেলিভারি প্রতি লাভ মানে, অ্যাডের খরচ ধরার আগে একটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডারে আপনার হাতে কত থাকে। এবার আপনার আসল অর্ডার প্রতি খরচকে এই নম্বরের সাথে মিলিয়ে দেখুন। আমাদের পরামর্শ হলো নিচের নিয়মটা মেনে চলা।

  • অর্ডার প্রতি খরচ ব্রেক-ইভেনের ৬০%-এর নিচে হলে প্রোডাক্টটা চালিয়ে যান, আর আস্তে আস্তে বাজেট বাড়ান।
  • ৬০% থেকে ১০০%-এর মধ্যে হলে ছবি, অফার বা দাম বদলে আরেকটা ছোট টেস্ট দিন। তবে শুধু তখনই দেবেন, যখন বুঝতে পারছেন সমস্যাটা কোথায়।
  • ১০০%-এর বেশি হলে বন্ধ করে দিন। এখানে প্রতিটা অর্ডারে আপনার পকেট থেকে টাকা যাচ্ছে।

৬০% কেন? কারণ টেস্টের নম্বর সবসময় একটু ভালো দেখায়। বাজেট বাড়ালে অর্ডার প্রতি খরচ সাধারণত কিছুটা বাড়ে। তা ছাড়া আপনার নিজের সময়, ফোনের বিল আর দোকান ভাড়া এই হিসাবে ধরা নেই। ৪০% জায়গা হাতে রাখলে এগুলো সামলানো যায়।

রিটার্নের পুরো হিসাব আসতে সময় লাগে। তার আগে আন্দাজ লাগলে আগের প্রোডাক্টের রিটার্ন রেট একটু বাড়িয়ে ধরে নিন।

একটা উদাহরণ, ৫,০০০ টাকার টেস্টের পুরো হিসাব

নিচের সব সংখ্যা উদাহরণ, কোনো আসল দোকানের না।

ধরুন আপনি রান্নাঘরের দুইটা প্রোডাক্ট টেস্ট করছেন, একটা সবজি কাটার চপার (ক) আর একটা পোর্টেবল ব্লেন্ডার (খ)। হিসাব সহজ রাখতে ধরে নিচ্ছি, দুইটারই ঘরে আনার খরচ প্যাকেজিংসহ ৩২০ টাকা, আর বিক্রির দাম ৮৫০ টাকা। ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার আলাদা দেন, তাই ডেলিভারি হওয়া পার্সেলের কুরিয়ার চার্জ সেখান থেকেই উঠে যায়। তাহলে অ্যাডের আগে প্রতিটা ডেলিভারিতে আপনার লাভ ৫৩০ টাকা। একটা পার্সেল ফেরত এলে ধরুন কুরিয়ার চার্জ আর নষ্ট প্যাকেজিং মিলে ১২০ টাকা যায়, আর প্রোডাক্টটা স্টকে ফিরে আসে। দুইটা প্রোডাক্টেই আপনি ৫,০০০ টাকা করে অ্যাড দিলেন।

হিসাব চপার (ক) ব্লেন্ডার (খ)
মোট অর্ডার, অর্ডার প্রতি খরচ ৪০টা, ১২৫ টাকা ২২টা, প্রায় ২২৭ টাকা
কনফার্ম হলো (কনফার্মেশন রেট) ৩২টা (৮০%) ১৫টা (প্রায় ৬৮%)
ফেরত এলো (রিটার্ন রেট) ৪টা (সাড়ে ১২%) ৪টা (প্রায় ২৭%)
ডেলিভারি হলো ২৮টা ১১টা
ডেলিভারি থেকে লাভ, অ্যাডের আগে ১৪,৮৪০ টাকা ৫,৮৩০ টাকা
ফেরতের খরচ ৪৮০ টাকা ৪৮০ টাকা
অ্যাড বাদ দিয়ে হাতে থাকল ৯,৩৬০ টাকা ৩৫০ টাকা

এবার ব্রেক-ইভেন অর্ডার খরচ বের করি। চপারে ৪০টা অর্ডারের মধ্যে ২৮টা ডেলিভারি হয়েছে আর ৪টা ফেরত এসেছে। ৫৩০ গুণ ২৮ ভাগ ৪০ করলে হয় ৩৭১ টাকা। এর থেকে ১২০ গুণ ৪ ভাগ ৪০, মানে ১২ টাকা বাদ দিলে ব্রেক-ইভেন দাঁড়ায় ৩৫৯ টাকা। আসল অর্ডার প্রতি খরচ ১২৫ টাকা, যা ব্রেক-ইভেনের ৩৫%-এর মতো। চপার পরিষ্কার উইনার।

ব্লেন্ডারে একই হিসাবে ব্রেক-ইভেন আসে প্রায় ২৪৩ টাকা, আর আসল খরচ ২২৭ টাকা, মানে ব্রেক-ইভেনের প্রায় ৯৩%। কাগজে লোকসান নেই, ৩৫০ টাকা লাভ। কিন্তু একবার ভাবুন, ৫,০০০ টাকা অ্যাডে দিয়ে আর ২২ জনকে ফোন করে আপনার হাতে থাকল মাত্র ৩৫০ টাকা। এটাকে আসলে লাভ বলা যায় না। কনফার্মেশন কল থেকে যদি পরিষ্কার কোনো কারণ পান, যেমন সবাই দাম শুনে পিছিয়ে যাচ্ছেন, তাহলে সেটা ঠিক করে আরেকটা ছোট টেস্ট দিতে পারেন। কারণ বুঝতে না পারলে বন্ধ করে দিন।

চপারের টেস্টের হিসাব তিন ধাপে, ৪০টা অর্ডার থেকে ৩২টা কনফার্ম, সেখান থেকে ২৮টা ডেলিভারি, পাশে অ্যাড খরচ ৫,০০০ টাকা আর হাতে থাকা ৯,৩৬০ টাকা
উদাহরণের চপার, ৪০টা অর্ডার থেকে ২৮টা ডেলিভারি, আর সেখানেই আসল হিসাব

খেয়াল করুন, ব্লেন্ডারের সমস্যা শুধু বেশি অর্ডার খরচ না। কনফার্মেশন আর রিটার্ন চপারের মতো হলে ২২৭ টাকা খরচেও ভালো লাভ থাকত। কম কনফার্মেশন আর বেশি রিটার্ন মিলেই প্রোডাক্টটার লাভ প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। এজন্যই তিনটা নম্বর একসাথে দেখতে হয়।

উইনিং প্রোডাক্ট খুঁজতে গিয়ে যে ভুলগুলো বেশি হয়

ভিডিও দেখে একসাথে ১০০ পিস কিনে ফেলা। কেউ ইউটিউবে বলল "এটা এখন উইনিং", আর আপনি টেস্ট না করেই বড় স্টক তুলে ফেললেন। প্রোডাক্ট না চললে পুরো টাকা মালের মধ্যে আটকে থাকে, পরের প্রোডাক্ট টেস্ট করার টাকাও থাকে না।

একসাথে পাঁচটা প্রোডাক্টে অল্প অল্প টাকা দেওয়া। প্রতিটায় ১,০০০ টাকা দিলে কোনোটাতেই এত অর্ডার আসে না যে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। তার চেয়ে এক বা দুইটা প্রোডাক্টে ঠিকমতো টাকা দিন।

দাম কমিয়ে প্রোডাক্টকে উইনিং বানানোর চেষ্টা। দাম কমালে অর্ডার হয়তো বাড়ে, কিন্তু প্রতিটা অর্ডারে লাভ কমে বলে ব্রেক-ইভেন অর্ডার খরচও কমে যায়। অনেক সময় এভাবেই একটা উইনিং প্রোডাক্ট লোকসানের প্রোডাক্ট হয়ে যায়।

রিটার্নের হিসাব আসার আগেই বাজেট দশ গুণ করে ফেলা। প্রথম তিন দিনের অর্ডার দেখে বাজেট বাড়ালেন, এক সপ্তাহ পর দেখলেন অর্ধেক পার্সেল ফেরত আসছে। ততদিনে অ্যাডের টাকাটা কিন্তু চলে গেছে।

প্রোডাক্ট উইন করলে এরপর কী করবেন, আর এই পদ্ধতি কার জন্য না?

একটা প্রোডাক্ট টেস্টে পাস করলে বাজেট একবারে না বাড়িয়ে ধাপে ধাপে বাড়ান। প্রতিবার বাড়ানোর পর কয়েক দিন অর্ডার প্রতি খরচের দিকে চোখ রাখুন। খরচ ব্রেক-ইভেনের কাছাকাছি চলে এলে থামুন। স্টকের জন্য একজন সাপ্লায়ারের ওপর ভরসা করবেন না, দ্বিতীয় একজনের খোঁজ রাখুন, কারণ ভালো চলা প্রোডাক্ট বাজারে হঠাৎ শেষ হয়ে যেতে পারে। আর যাঁরা প্রোডাক্ট হাতে পেয়ে টাকা দিয়েছেন, তাঁদের নম্বর আলাদা করে রাখুন। পরের প্রোডাক্টটা অ্যাড ছাড়াই আগে এঁদেরকে অফার করবেন।

এই পদ্ধতি সবার জন্য না, সেটাও বলে রাখি। ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা হারালে যদি আপনার ব্যবসা টলে যায়, তাহলে অ্যাডে টেস্ট না করে আগে পরিচিতদের মধ্যে আর নিজের পেজের পুরনো ফলোয়ারদের মধ্যে বেচে দেখুন। আবার আপনি যদি নিজের হাতে বানানো জিনিস বা নিজের এলাকার বিশেষ কোনো খাবার বেচেন, তাহলে পাইকারি মার্কেট আর Ad Library আপনার তেমন কাজে আসবে না। তবে টেস্ট আর তিন নম্বরের হিসাবটা তখনও একইভাবে কাজ করবে।

WinningSeller-এ এই কাজের কয়েকটা অংশ সহজ হয়ে যায়। নতুন প্রোডাক্টের জন্য AI দিয়ে ৫ মিনিটে একটা ল্যান্ডিং পেজ বানিয়ে টেস্ট শুরু করা যায়। অ্যাড খরচের হিসাব আর ডেলিভারি হওয়া অর্ডার থেকে লাভ-ক্ষতি একই জায়গায় দেখা যায়, আলাদা করে খাতা মেলাতে হয় না। আর Facebook Pixel ও Conversions API-তে চাইলে Purchase পাঠানো যায় ডেলিভারির পরে। এতে Facebook ভুয়া অর্ডার থেকে শেখে না, আসল ক্রেতার মতো মানুষ খোঁজে। কোন কোন ফিচার আছে, পুরো লিস্ট এখানে দেখতে পারেন, আর নিজে চালিয়েও দেখতে পারেন (প্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম)।

আজ একটা কাজই করুন। একটা খাতা খুলে Ad Library আর নিজের ইনবক্স ঘেঁটে ১০টা প্রোডাক্টের আইডিয়া লিখুন। তারপর প্রতিটাকে ওপরের পাঁচটা প্রশ্ন দিয়ে চেক করুন। যে এক-দুইটা টিকে যাবে, এই সপ্তাহেই সেগুলোর টেস্ট বাজেট ঠিক করে ফেলুন।

সাধারণ প্রশ্ন

উইনিং প্রোডাক্ট বলতে আসলে কী বোঝায়?

উইনিং প্রোডাক্ট হলো সেই প্রোডাক্ট, যেটা ফেসবুকে অ্যাড দিয়ে বেচলে অ্যাডের খরচ, রিটার্ন আর কুরিয়ার চার্জ বাদ দেওয়ার পরেও ডেলিভারি হওয়া অর্ডারে লাভ থাকে, আর সেই লাভ কয়েক সপ্তাহ ধরে টেকে। অনেক লাইক বা কমেন্ট পেলেই উইনিং হয় না। টাকা আসে শুধু ডেলিভারি হওয়া পার্সেল থেকে, তাই হিসাবও করতে হয় সেখান থেকে।

একটা প্রোডাক্ট টেস্ট করতে কত টাকার অ্যাড লাগে?

নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক নেই, এটা নির্ভর করে আপনার প্রোডাক্টে একটা অর্ডার আনতে কত খরচ হয় তার ওপর। মোটামুটি এমন বাজেট রাখুন, যাতে ২০ থেকে ৩০টা অর্ডার আসার সুযোগ থাকে। ধরুন আপনার আন্দাজ একটা অর্ডারে ১৫০ টাকা লাগবে, তাহলে বাজেট রাখুন ৩,০০০ থেকে ৪,৫০০ টাকা।

Facebook Ad Library কি ফ্রি, আর এতে কী দেখা যায়?

হ্যাঁ, পুরোপুরি ফ্রি। facebook.com/ads/library-তে গিয়ে দেশ Bangladesh আর ক্যাটাগরি All ads দিয়ে যেকোনো শব্দ লিখে সার্চ করলে এখন চলা অ্যাডগুলো দেখা যায়, সাথে অ্যাডটা কবে থেকে চলছে সেই তারিখ। তবে সাধারণ প্রোডাক্টের অ্যাডে কত টাকা খরচ হলো বা কত বিক্রি হলো, সেটা দেখায় না।

ঢাকার কোন পাইকারি মার্কেটে কী পাওয়া যায়?

পুরান ঢাকার চকবাজার আর তার আশপাশে প্রায় সব কিছুর পাইকারি পাওয়া যায়, অনলাইন সেলাররা সাধারণত কসমেটিক্স, খেলনা আর প্যাকেজিংয়ের জিনিস এখান থেকে কেনেন। কাপড়ের জন্য ইসলামপুর আর তৈরি পোশাকের জন্য বুড়িগঙ্গার ওপারে কেরানীগঞ্জ পরিচিত। ছোট গ্যাজেটের জন্য অনেকে গুলিস্তানের সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটে যান, আর মৌচাক মূলত খুচরা মার্কেট, ওখানে দাম আর চাহিদা দেখতে যাওয়া যায়।

ট্রেন্ডিং প্রোডাক্ট বেচলে কি লাভ বেশি?

সবসময় না। যে প্রোডাক্ট সবাই একসাথে বেচছে, সেখানে অ্যাডের খরচ বাড়ে আর দাম নিয়ে টানাটানি শুরু হয়। ট্রেন্ডিং প্রোডাক্ট টেস্ট করতে পারেন, কিন্তু অর্ডার প্রতি খরচ, কনফার্মেশন আর রিটার্নের হিসাব না মিললে সেটা আপনার জন্য উইনিং না।

কয় দিনে বোঝা যায় একটা প্রোডাক্ট চলবে কি না?

অর্ডার প্রতি খরচ আর কনফার্মেশন রেট সাধারণত ৩ থেকে ৫ দিনের অ্যাডেই একটা ধারণা দেয়। রিটার্ন রেট জানতে হলে পাঠানো পার্সেলগুলোর ডেলিভারি শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়, ঢাকার বাইরে যাতে এক সপ্তাহ বা তার বেশিও লাগতে পারে। তাই পুরো সিদ্ধান্ত নিতে মোটামুটি দুই সপ্তাহ লাগে।

#উইনিং প্রোডাক্ট#প্রোডাক্ট রিসার্চ#পাইকারি মার্কেট#Facebook Ad Library#ফেসবুক অ্যাড#ক্যাশ অন ডেলিভারি

আরও পড়ুন

খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম

বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম

থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়