WinningSeller
মার্কেটিং ও ল্যান্ডিং পেজ১৫ মিনিটে পড়া যায়

ফেসবুক রিলস ভিডিওর সাইজ কত, আর ভিউ থেকে অর্ডার আনার রিল বানাবেন যেভাবে

ফেসবুক রিলস ভিডিওর সাইজ 9:16, মাপ 1080×1920। কিন্তু ভিউ আসার পরও অর্ডার না এলে দোষ সাধারণত সাইজের থাকে না। প্রথম দুই সেকেন্ডে কী দেখাবেন, দাম কোথায় লিখবেন, কোন গানে বিপদ আর কোন রিলে বুস্টের টাকা দেবেন, সবটা মোবাইল দিয়েই করার নিয়ম।

ফেসবুক রিলস ভিডিওর সাইজ কত, আর ভিউ থেকে অর্ডার আনার রিল বানাবেন যেভাবে
এই লেখায় যা আছে
  1. ফেসবুক রিলস ভিডিওর সাইজ কত, কত সেকেন্ডের হবে?
  2. প্রোডাক্টের রিলে প্রথম দুই সেকেন্ডে কী দেখাবেন?
    1. একটা ২৫ সেকেন্ডের রিলের পুরো স্ক্রিপ্ট (উদাহরণ)
  3. কোন প্রোডাক্টে কোন শট নেবেন?
  4. মোবাইলে রিলস ভিডিও বানানোর নিয়ম, আলো আর স্ট্যান্ড
  5. CapCut-এ এডিট, বাংলা লেখা আর সাবটাইটেল
  6. রিলে গান দিলে কি কপিরাইট হয়?
  7. রিলের ক্যাপশনে কী লিখবেন, অর্ডার আসবে কীভাবে?
  8. কোন রিল বুস্ট করবেন, কখন?
  9. আজ কোন রিলটা বানাবেন?

ফেসবুক রিলস ভিডিওর সাইজ হবে খাড়া 9:16, মানে ফোন সোজা করে ধরে তোলা ভিডিও। পিক্সেলের হিসাবে সবচেয়ে চলতি মাপ 1080×1920, আর ফোনে 1080p ভিডিও খাড়া করে তুললে এই মাপটা এমনিতেই হয়ে যায়। প্রোডাক্টের রিল ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ডের রাখুন। প্রথম দুই সেকেন্ডেই প্রোডাক্টটাকে কাজ করতে দেখান। আর দাম বা অফারের লেখা স্ক্রিনের একদম ওপরে বা নিচে দেবেন না, কারণ ওখানে ফেসবুকের বাটন আর ক্যাপশন বসে লেখা ঢেকে দেয়।

সাইজ ঠিক করা আসলে কাজের সবচেয়ে সহজ অংশ। আসল কষ্টটা শুরু হয় তার পরে। ধরুন রাত এগারোটায় অনেক খেটে প্রথম রিলটা পোস্ট করলেন। সকালে উঠে দেখলেন কয়েকশো মানুষ দেখেছেন, অথচ একজনও দাম জিজ্ঞেস করেননি। তখন মনটা খারাপ হয়ে যায়, মনে হয় ভিডিও জিনিসটা হয়তো আপনার জন্য না। কিন্তু বেশিরভাগ সময় সমস্যাটা ক্যামেরায় বা আপনার চেহারায় থাকে না, থাকে রিলটা কীভাবে সাজানো হয়েছে তাতে। সাজানোটা শেখা যায়। নিচে সাইজ থেকে বুস্ট পর্যন্ত পুরো কাজটা সেভাবেই বলছি, যাতে পরের রিলটা দেখে মানুষ শুধু লাইক দিয়ে চলে না যান।

ফেসবুক রিলস ভিডিওর সাইজ কত, কত সেকেন্ডের হবে?

রিল দেখা হয় পুরো ফোনের স্ক্রিন জুড়ে, আর ফোনের স্ক্রিন খাড়া। তাই রিলের মাপও খাড়া, প্রস্থ আর উচ্চতার অনুপাত 9:16। ফোন আড়াআড়ি ধরে তোলা ভিডিও রিলে দিলে ওপরে-নিচে ফাঁকা জায়গা থাকে বা দুই পাশ কেটে যায়, আর প্রোডাক্টটা ছোট দেখায়। যে ভিডিও আপনি বিক্রির জন্য বানাচ্ছেন, সেখানে প্রোডাক্ট ছোট দেখানো মানে নিজের হাতে টাকা হাতছাড়া করা।

পিক্সেলের হিসাবে 1080×1920 সবচেয়ে চলতি মাপ। অক্টোবর ২০২৬-এ Meta-র Ads Guide-এ Reels অ্যাডের জন্য 1440×2560 পিক্সেল লেখা আছে। দুটোর অনুপাত একই, 9:16, শুধু দ্বিতীয়টায় ছবি বেশি পরিষ্কার আসে। সাধারণ একটা Android ফোনে 1080p-তে তোলা ভিডিওই প্রোডাক্টের রিলের জন্য যথেষ্ট, এর জন্য দামি ফোন খুঁজতে হবে না।

এবার লেখার জায়গার কথা। Meta-র Ads Guide-এর Reels পেজে বলা আছে, স্ক্রিনের ওপরের প্রায় ১৪%, নিচের ৩৫% আর দুই পাশের ৬% জায়গায় লেখা, লোগো বা দরকারি কিছু রাখবেন না। 1080×1920 ভিডিওতে এর মানে ওপরে প্রায় ২৭০ পিক্সেল, নিচে প্রায় ৬৭০ পিক্সেল আর দুই পাশে প্রায় ৬৫ পিক্সেল খালি রাখা। নিচের এই বড় অংশটায় পেজের নাম, ক্যাপশন, লাইক-কমেন্টের বাটন বসে, আর অ্যাড হলে অর্ডারের বাটনও সেখানেই আসে। দাম ওখানে লিখলে কাস্টমার সেটা পড়তেই পারবেন না। তাই দরকারি লেখা সবসময় স্ক্রিনের মাঝামাঝি, একটু ওপরের দিকে রাখবেন।

একটা খাড়া ফোনের স্ক্রিনের নকশা, ওপরের সরু পট্টি আর নিচের চওড়া অংশ ধূসর রঙে দাগানো, মাঝখানের খালি জায়গায় প্রোডাক্টের ছবি আর দামের লেখা
ধূসর অংশে ফেসবুকের বাটন আর ক্যাপশন বসে। দাম আর অফারের লেখা রাখুন মাঝখানের খালি জায়গায়

কত সেকেন্ডের হবে, এই প্রশ্নের উত্তর এখন একটু বদলেছে। Meta ২০২৫ সালের জুনে নিজের নিউজরুমে জানিয়েছে, ফেসবুকের সব ভিডিও সামনে রিল হিসেবেই শেয়ার হবে, আর রিলের দৈর্ঘ্য বা ফরম্যাটের কোনো বাধা থাকবে না। মানে চাইলে লম্বা রিলও দিতে পারবেন। কিন্তু দেওয়া যায় বলেই দেওয়া উচিত, ব্যাপারটা এমন না। প্রোডাক্টের রিলের কাজ একটাই। স্ক্রল করতে থাকা মানুষটাকে থামাতে হবে, আর বুঝিয়ে দিতে হবে জিনিসটা কী, কত টাকা আর কীভাবে পাবেন। এই কাজ ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ডেই হয়ে যায়। দেড় মিনিটের রিলে দাম আসে একদম শেষে, আর ততক্ষণে বেশিরভাগ মানুষ পরের ভিডিওতে চলে গেছেন। গ্যাজেট চালিয়ে দেখাতে বেশি সময় লাগলে ৪৫ সেকেন্ড পর্যন্ত যেতে পারেন, তার বেশি টানবেন না।

প্রোডাক্টের রিলে প্রথম দুই সেকেন্ডে কী দেখাবেন?

রিলের ফিডে মানুষের বুড়ো আঙুল খুব তাড়াতাড়ি চলে। প্রথম মুহূর্তে চোখে কিছু না আটকালে তিনি সরে যান, আর আপনার বাকি ২৮ সেকেন্ডের খাটুনি কেউ দেখেনই না। তাই প্রথম দুই সেকেন্ডে প্রোডাক্টের সবচেয়ে ভালো মুহূর্তটা দেখাবেন। প্রোডাক্টটা যে কাজের জন্য মানুষ কেনে, সেই কাজটা করতে দেখান।

কয়েকটা উদাহরণ দিই। মধু হলে চামচ থেকে মধু সরু সুতার মতো ধারায় পড়ছে, এটা দেখান। ট্রিমার হলে দেখান এক টানে দাড়ির লাইন সমান হয়ে গেল। পাঞ্জাবি হলে কাপড়ের কাজটা আলোয় ঝিলিক দিক, আর হাত দিয়ে কাপড়টা একটু নাড়ান। ঘি হলে গরম ভাতের ওপর এক চামচ দিন, ক্যামেরার সামনেই গলে যাক। এই দৃশ্যগুলো মানুষ আগে থেকেই চেনেন, তাই এক পলকেই বুঝে যান ভিডিওটা কী নিয়ে।

শুরুতে দোকানের লোগোর অ্যানিমেশন, "আসসালামু আলাইকুম, আজকে আমরা কথা বলব…" বা খালি টেবিলে প্রোডাক্টের ওপর ধীরে ধীরে জুম দেবেন না। এগুলো আপনার কাছে সুন্দর লাগে, কিন্তু কাস্টমারের কাছে মনে হয় সময় নষ্ট। সালাম দিতে চাইলে প্রোডাক্ট দেখানোর পরে দিন।

প্রথম দুই সেকেন্ডের সাথে স্ক্রিনে পাঁচ-সাত শব্দের একটা লেখা দিন, যেটা কাস্টমারের মনের কথা বলে। যেমন "দাড়ি কাটতে আর সেলুনে যেতে হবে না" বা "গরম ভাতে এক চামচ, গন্ধেই বুঝবেন"। লেখাটা এমন হবে যেন শব্দ বন্ধ রেখে দেখলেও পুরো কথাটা বোঝা যায়। অনেকে অফিসে বসে, বাসে যেতে যেতে বা রাতে পাশের মানুষ ঘুমিয়ে থাকলে শব্দ বন্ধ রেখেই রিল দেখেন।

একটা ২৫ সেকেন্ডের রিলের পুরো স্ক্রিপ্ট (উদাহরণ)

নিচের স্ক্রিপ্টটা একটা ট্রিমারের উদাহরণ ধরে লেখা। দাম আর ডেলিভারি চার্জ ধরে নেওয়া সংখ্যা, আপনি নিজেরটা বসাবেন। প্রতিটা অংশ আলাদা শট হিসেবে তুলবেন, পরে এডিটে জোড়া দেবেন।

০ থেকে ২ সেকেন্ড। ক্লোজআপে ট্রিমার চলছে, আর এক টানে গালের লাইন সমান হয়ে গেল। স্ক্রিনে লিখে দিন "এক টানে দাড়ির লাইন সমান"।

২ থেকে ৮ সেকেন্ড। ট্রিমারটা হাতের তালুতে রাখুন, যাতে আকারটা বোঝা যায়। চার্জের পোর্টটাও দেখান। মুখে বলুন, "এক চার্জে কত মিনিট চলে, বক্সে যা লেখা আছে সেটাই বলছি।" বক্সে যা লেখা নেই, সেই দাবি কখনো করবেন না।

৮ থেকে ১৬ সেকেন্ড। প্রথমে ব্লেডটা কাছ থেকে দেখান। তারপর বক্সে যা যা আসে, যেমন চিরুনি, চার্জিং তার আর ব্রাশ, সেগুলো এক এক করে টেবিলে রাখুন। কাস্টমার সাধারণত এই প্রশ্নগুলোই ইনবক্সে করেন। ভিডিওতেই উত্তর দিয়ে দিলে মেসেজের চাপ কমে।

১৬ থেকে ২২ সেকেন্ড। প্রোডাক্ট হাতে নিয়ে দাম বলুন, স্ক্রিনেও লিখুন। "দাম ১,২৫০ টাকা, ঢাকায় ডেলিভারি চার্জ ৭০ টাকা, ঢাকার বাইরে ১২০ টাকা।" ক্যাশ অন ডেলিভারি থাকলে সেটাও বলে দিন।

২২ থেকে ২৫ সেকেন্ড। এবার অর্ডারের রাস্তাটা বলুন। "অর্ডার করতে ক্যাপশনের লিংকে যান, অথবা পেজে মেসেজ দিন।" শেষ ফ্রেমে প্রোডাক্ট আর দাম একসাথে দুই সেকেন্ড ধরে রাখুন।

অনেকে ভাবেন, দাম লুকিয়ে রাখলে বেশি মানুষ মেসেজ দেবেন। বাস্তবে দাম না জেনে অনেকেই মেসেজ দেওয়ার ঝামেলায় যান না, পরের ভিডিওতে চলে যান। দাম খোলাখুলি বললে যাঁরা মেসেজ দেন, তাঁরা দাম জেনেই দেন। তাই তাঁদের থেকে অর্ডার হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি, আর আপনাকেও সারাদিন "প্রাইস কত?" এর উত্তর দিতে হয় না।

কোন প্রোডাক্টে কোন শট নেবেন?

সব প্রোডাক্টের জন্য একই রকম ভিডিও চলে না। কাপড়ের কাস্টমার জানতে চান আসল রং আর ফিটিং কেমন। কসমেটিকস যিনি কেনেন, তাঁর মনে সবচেয়ে বড় ভয় নকলের। আর খাবার কিনতে গিয়ে মানুষ আগে বুঝতে চান জিনিসটা খাঁটি কি না। আপনার শটগুলো ঠিক এই ভয় আর প্রশ্নের উত্তর দেবে। নিচের টেবিলটা শুরু করার জন্য দিলাম, নিজের কাস্টমারের প্রশ্ন দেখে পরে সাজিয়ে নেবেন।

প্রোডাক্ট প্রথম শট (হুক) মাঝের শটগুলো না দেখালে যে প্রশ্ন আসবেই
কাপড় (পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস) কাপড় নাড়ানো, কাজের ক্লোজআপ গায়ে পরা অবস্থায় সামনে-পেছনে, কাপড়ের বুনন "আসল রং কি এমনই?", "সাইজ কত আছে?"
কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার হাতের পিঠে টেক্সচার লাগানো লেবেল, ইনগ্রেডিয়েন্ট আর মেয়াদের তারিখ ক্লোজআপে, সিল খোলা "আসল তো?", "মেয়াদ কবে পর্যন্ত?"
গ্যাজেট চালু করে কাজ করতে দেখানো হাতে নিয়ে আকার, পোর্ট, বক্সে যা আসে "চার্জ কতক্ষণ থাকে?", "ওয়ারেন্টি আছে?"
খাবার (মধু, ঘি, আচার) ঢালা, গলানো বা চামচে তোলা বয়ামের লেবেল, প্যাকিং, ঘন না পাতলা "খাঁটি কি না বুঝব কীভাবে?", "কত দিন থাকে?"

কাপড়ের রিলে সবচেয়ে বড় বিপদ রং। ঘরের বাল্বের আলোয় তোলা ভিডিওতে সাদা কাপড় হলদে আর নীল কাপড় বেগুনি দেখায়। তারপর পার্সেল খুলে কাস্টমার রাগ করে ফেরত দেন, আর যাওয়া-আসার কুরিয়ার চার্জটা আপনার ঘাড়ে পড়ে। তাই দিনের আলোয় তুলুন, আর গায়ে পরা অবস্থায় অন্তত তিন সেকেন্ড দেখান, যাতে লম্বায় কতটুকু সেটা বোঝা যায়।

কসমেটিকসে লেবেলের শটটা কখনো বাদ দেবেন না। ফোনটা লেবেলের কাছে নিয়ে দুই-তিন সেকেন্ড স্থির রাখুন, যাতে মেয়াদের তারিখ পড়া যায়। আর ভিডিওতে বা স্ক্রিনের লেখায় "সাত দিনে ফর্সা" বা "দাগ একদম চলে যাবে" জাতীয় কথা বলবেন না। এমন দাবি কাস্টমারকে ভুল আশা দেয়, আর Meta-র অ্যাডের নিয়মেও এগুলো ঝামেলা বাধাতে পারে।

খাবারের বেলায়ও একই কথা। মধু বা কালোজিরার তেল কোনো রোগ সারায়, এমন দাবি করবেন না। তার বদলে দেখান জিনিসটা কোথা থেকে আসে, আর কুরিয়ারে যাতে না ছড়ায় সেজন্য কীভাবে প্যাক করেন। এই সত্যি জিনিসগুলোই মানুষের মনে বিশ্বাস আনে।

মোবাইলে রিলস ভিডিও বানানোর নিয়ম, আলো আর স্ট্যান্ড

রিল তোলার জন্য নতুন ফোন কেনার দরকার নেই। যে ফোনে আপনি এখন প্রোডাক্টের ছবি তোলেন, সেটা দিয়েই চলবে। ভিডিও ভালো হবে কি না, সেটা ফোনের দামের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভর করে আলো কেমন, ফোনটা স্থির আছে কি না আর শব্দ পরিষ্কার আসছে কি না, তার ওপর।

আলোর নিয়ম ছবির মতোই। জানালার পাশে দিনের নরম আলোয় তুলুন, সরাসরি রোদে না, আর ঘরের লাইট বন্ধ রাখুন। জানালার আলো কীভাবে সাজাবেন আর সাদা কাগজ দিয়ে কীভাবে ব্যাকগ্রাউন্ড বানাবেন, সেটা মোবাইল দিয়ে প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফির লেখায় ধাপে ধাপে আছে। ভিডিওতেও ঠিক একই সেটআপ চলে।

ফোন স্থির রাখার জন্য একটা মোবাইল স্ট্যান্ড বা ছোট ট্রাইপড নিন। না থাকলে কয়েকটা মোটা বই একটার ওপর আরেকটা রেখে ফোন হেলান দিয়ে রাখুন। হাতে ধরে তোলা ভিডিও একটু একটু কাঁপে, আর কাঁপা ভিডিও দেখলে মনে হয় তাড়াহুড়োয় বানানো। তাছাড়া ফোন স্ট্যান্ডে থাকলে আপনার দুই হাত খালি থাকে, তখন প্রোডাক্টটা খুলে, চালিয়ে দেখাতে পারেন।

জানালার পাশে টেবিলে একটা ছোট ট্রাইপডে খাড়া করে রাখা ফোন, একজন তরুণ সেলার দুই হাতে একটা ট্রিমার চালিয়ে দেখাচ্ছেন
ফোন স্ট্যান্ডে, আলো জানালা থেকে। দুই হাত খালি থাকলে প্রোডাক্ট চালিয়ে দেখানো সহজ হয়

ফোনের ক্যামেরায় ভিডিও মোডে গিয়ে রেজোলিউশন 1080p আর 30fps সিলেক্ট করুন। তোলার আগে লেন্সটা কাপড় দিয়ে একবার মুছে নিন। পকেটে রাখা ফোনের লেন্সে প্রায় সবসময় আঙুলের দাগ থাকে, আর তাতে ভিডিও ঘোলা আসে। স্ক্রিনে প্রোডাক্টের ওপর আঙুল চেপে ধরে রাখলে অনেক ফোনে ফোকাস আর আলো আটকে যায়। তখন হাত নাড়ালেও ভিডিও বারবার ঝাপসা-পরিষ্কার হয় না।

শব্দের জন্য ফ্যান বন্ধ করুন, রাস্তার দিকের জানালা লাগিয়ে দিন। কথা বলতে চাইলে ফোনের কাছাকাছি থেকে বলুন। তোলার সময় কথা গুলিয়ে গেলে চিন্তা করবেন না, পরে এডিটে আলাদা করে ভয়েস দেওয়া যায়। নিজের গলায় বাংলায় কথা বললে মানুষ বোঝেন এটা একজন আসল মানুষের দোকান, কোথাও থেকে কপি করা ভিডিও না।

প্রতিটা শট দরকারের চেয়ে দুই-তিন সেকেন্ড বেশি তুলুন, আর প্রতিটা অন্তত দুবার করে। এডিটে কাটার জায়গা পাবেন, আর একটা খারাপ হলে আরেকটা হাতে থাকবে। একদিন বিকেলে বসে তিন-চারটা প্রোডাক্টের সব শট তুলে ফেললে পুরো সপ্তাহের রিল হাতে চলে আসে, প্রতিদিন আর ক্যামেরা নিয়ে বসতে হয় না।

CapCut-এ এডিট, বাংলা লেখা আর সাবটাইটেল

ছোট আর সহজ রিল হলে Facebook অ্যাপের নিজের রিল এডিটরেই কাজ হয়ে যায়। সেখানে ক্লিপ কাটা, লেখা বসানো আর সাউন্ড দেওয়া যায়। তবে বাংলা সাবটাইটেল, নিজের ভয়েস আর কয়েকটা শট গুছিয়ে জোড়া দিতে চাইলে অনেক সেলার CapCut-এ এডিট করেন। নিচের ধাপগুলো মোবাইলের CapCut অ্যাপ ধরে লেখা। অ্যাপের ভার্সনভেদে বাটনের নাম বা জায়গা একটু আলাদা হতে পারে।

  1. New project-এ চাপুন আর শটগুলো স্ক্রিপ্টের সিরিয়ালে সিলেক্ট করুন। প্রথমে হুকের শট, শেষে দাম আর অর্ডারের শট রাখবেন।
  2. নিচের টুলবারে Ratio বা Format-এ গিয়ে 9:16 দিন। খাড়া করে তুললে সাধারণত এটা আগে থেকেই ঠিক থাকে, তবু একবার দেখে নিন।
  3. প্রতিটা ক্লিপের শুরু আর শেষের বাড়তি অংশ কেটে ফেলুন। ক্লিপে চাপ দিলে দুই পাশে সাদা দাগ আসে, সেটা টেনে ছোট করা যায়। হাত ঢোকানো বা ফোন ঠিক করার মতো মুহূর্তগুলো রাখবেন না।
  4. Text থেকে Add text দিয়ে বাংলা লেখা বসান। ফোনের বাংলা কিবোর্ডে লিখুন। কোনো ফন্টে যুক্তাক্ষর ভেঙে গেলে বা বাক্স দেখালে অন্য ফন্ট সিলেক্ট করুন। লেখা রাখুন স্ক্রিনের মাঝামাঝি, ওপরের সাইজের অংশে বলা খালি জায়গার ভেতরে।
  5. Captions থেকে Auto captions চালু করে দেখুন। বাংলা কথা ঠিকমতো ধরে কি না, সেটা অ্যাপ আর ভার্সনভেদে আলাদা। ধরলেও বানান ভুল থাকে, তাই প্রতিটা লাইন পড়ে ঠিক করুন। না ধরলে Text দিয়ে নিজে লিখে দিন।
  6. ভয়েস দিতে চাইলে Audio থেকে Record বা Voiceover-এ যান। শান্ত ঘরে, ফোন মুখের কাছে রেখে কথা বলুন।
  7. Export-এর আগে রেজোলিউশন 1080p আর 30fps দিন। শেষে CapCut নিজের কোনো এন্ডিং ক্লিপ জুড়ে দিলে সেটা ডিলিট করে দিন। আপনার রিল শেষ হবে আপনার দাম আর অর্ডারের ফ্রেমে।

সাবটাইটেলের পেছনে একটু সময় দিন। শব্দ বন্ধ রেখে যিনি দেখছেন, তাঁর কাছে আপনার পুরো কথাটাই ওই লেখা। এক লাইনে চার-পাঁচটা শব্দ রাখুন, আর একসাথে দুই লাইনের বেশি দেবেন না। ফোনের ছোট স্ক্রিনে লম্বা লাইন পড়ে শেষ করার আগেই সরে যায়।

রিলে গান দিলে কি কপিরাইট হয়?

হ্যাঁ, হতে পারে, আর ব্যবসার রিলে ঝুঁকিটা বেশি। Facebook-এর মিউজিক গাইডলাইনে পরিষ্কার লেখা আছে, ব্যক্তিগত কাজের বাইরে, বিশেষ করে ব্যবসার কাজে গান দিতে হলে লাইসেন্স লাগবে। লাইসেন্স ছাড়া অন্যের গান থাকলে গানের মালিকের দাবিতে ভিডিও ব্লক, মিউট বা রিমুভ হতে পারে। আপনার প্রোডাক্টের রিল তো বিক্রির জন্যই বানানো, তাই এটা ব্যবসার কাজের মধ্যেই পড়ে।

এর মানে, এখনকার জনপ্রিয় বাংলা বা হিন্দি গানটা পেছনে দিয়ে প্রোডাক্টের রিল বানালে কয়েক রকম বিপদ হতে পারে। ভিডিওর শব্দ মিউট হয়ে যেতে পারে, রিলটা সরিয়ে দেওয়া হতে পারে, বা পেজে ওয়ার্নিং আসতে পারে। বুস্ট করতে গেলেও এমন রিল অনেক সময় আটকে যায়। যে রিলটা সবচেয়ে ভালো চলছে, ঠিক সেটাতেই টাকা দিতে না পারার কষ্টটা অনেক সেলার হাড়ে হাড়ে জানেন।

তাহলে গান কোথা থেকে দেবেন? সবচেয়ে সহজ জায়গা Meta-র নিজের Sound Collection, যেটা Meta-র ফ্রি গান আর সাউন্ডের লাইব্রেরি। তবে গানের চেয়েও অনেক সময় বেশি কাজ করে আপনার নিজের গলা। প্রোডাক্ট হাতে নিয়ে নিজে দুই লাইন বললে কাস্টমার একটা মানুষের সাথে কথা বলার অনুভূতি পান, যেটা কোনো গান দিতে পারে না। আর কিছু প্রোডাক্টের নিজের শব্দই যথেষ্ট। গরম তেলে পেঁয়াজ ছাড়ার শব্দ, ট্রিমারের গুনগুন বা মধুর বয়ামের ঢাকনা খোলার শব্দও স্ক্রল করা আঙুল থামিয়ে দেয়।

রিলের ক্যাপশনে কী লিখবেন, অর্ডার আসবে কীভাবে?

রিল দেখে কেউ আগ্রহী হলে তাঁর চোখ যায় নিচের ক্যাপশনে। ক্যাপশনের প্রথম লাইনটাই সবচেয়ে বেশি মানুষ পড়েন, কারণ বাকিটা "আরও দেখুন" চাপলে তবেই খোলে। তাই প্রথম লাইনেই প্রোডাক্টের নাম আর দাম দিন। দ্বিতীয় লাইনে লিখুন কার জন্য আর কেন, আর শেষে অর্ডার করার রাস্তা। ট্রিমারের উদাহরণে ক্যাপশনটা এমন হতে পারে।

রিচার্জেবল ট্রিমার, দাম ১,২৫০ টাকা। সারা দেশে ক্যাশ অন ডেলিভারি। অর্ডার করতে নিচের লিংকে যান, বা পেজে মেসেজ দিন।

অনেক পেজে লেখা থাকে "দাম জানতে কমেন্টে Price লিখুন"। এটা না করাই ভালো। Meta-র Transparency Center-এর engagement bait নিয়মে বলা আছে, যে পোস্ট সরাসরি কমেন্ট, লাইক বা শেয়ার চায়, Meta সেগুলো কম মানুষকে দেখায়। "Price লিখুন" ঠিক এই দলে পড়ে কি না, Meta আলাদা করে বলেনি, কিন্তু ঝুঁকিটা নেওয়ার কোনো দরকার নেই। দাম খোলাখুলি লিখে দিন, যিনি কিনতে চান তিনি এমনিতেই মেসেজ দেবেন।

রিলের ক্যাপশনের লিংক সবখানে চাপা যায় না, অ্যাপ আর দেখার জায়গাভেদে আলাদা দেখায়। তাই লিংকের সাথে পেজের মেসেজ বা ফোন নম্বরও রাখুন। কমেন্টে কেউ দাম বা সাইজ জিজ্ঞেস করলে সেখানেই উত্তর দিন, কারণ একজনের প্রশ্নের উত্তর আরও দশজন পড়েন। প্রশ্নগুলো একটা খাতায় লিখেও রাখুন, পরের রিলের মাঝের শটগুলো এখান থেকেই আসবে।

লিংকটা কোথায় নিয়ে যাবে, সেটাই আসল কথা। রিলে যিনি একটা ট্রিমার দেখে এলেন, তাঁকে যদি চল্লিশটা প্রোডাক্টের হোমপেজে নামান, তিনি খুঁজতে খুঁজতে বিরক্ত হয়ে চলে যান। তাঁকে নিয়ে যান শুধু ওই প্রোডাক্টের একটা পেজে, যেখানে ওপরেই সেই একই ভিডিও, তারপর দাম আর নিচে অর্ডার ফর্ম থাকে। এমন একটা পেজে কী কী থাকতে হয়, সেটা এক প্রোডাক্টের ল্যান্ডিং পেজের লেখায় বিস্তারিত আছে।

WinningSeller-এ এই কাজটা ল্যান্ডিং টেমপ্লেট দিয়ে করা যায়। রিলের ভিডিওটাই YouTube-এ Shorts হিসেবে আপলোড করে তার লিংকটা পেজের ভিডিও সেকশনে বসিয়ে দেন। পেজে প্রথমে শুধু ভিডিওর ছবিটা থাকে, কাস্টমার চাপ দিলে তবেই ভিডিও চলে, তাই পেজ খুলতে দেরি হয় না। ফলে রিলে যা দেখেছেন, পেজে এসেও কাস্টমার ঠিক সেটাই দেখেন, আর অর্ডার ফর্মটা একই পেজে নিচে থাকে।

কোন রিল বুস্ট করবেন, কখন?

রিল পোস্ট করেই সাথে সাথে বুস্ট করবেন না। বুস্টের টাকা ডলার কার্ড থেকে কাটে, আর মাস শেষে ডলার স্পেন্ডের হিসাব মেলাতে গিয়ে অনেক সেলারের বুক ধড়ফড় করে। তাই রিলটাকে দুই-তিন দিন টাকা ছাড়া চলতে দিন, তারপর দেখুন মানুষ নিজে থেকে কোনটা পছন্দ করছেন। এই কয়েক দিন আপনাকে বিনা খরচে বলে দেয় কোন ভিডিওতে টাকা দিলে কাজ হবে। যে রিল ফ্রিতে কারও মন টানেনি, টাকা দিলেও সেটা মন টানবে না, শুধু আরও বেশি মানুষ এড়িয়ে যাবেন।

বুস্টের জন্য রিল বাছতে গেলে তিনটা জিনিস একসাথে মিলিয়ে দেখুন। প্রথমে রিলের Insights খুলে দেখুন মানুষ গড়ে কতক্ষণ দেখেছেন। প্রায় শেষ পর্যন্ত দেখা হলে বুঝবেন হুক আর গল্প দুটোই কাজ করছে। এরপর কমেন্টগুলো পড়ুন। দাম, সাইজ বা ঢাকার বাইরে যায় কি না, এমন আসল প্রশ্ন এসেছে কি না দেখুন, "নাইস" বা ইমোজির কমেন্ট এখানে গুনবেন না। শেষে দেখুন ওই রিল দেখে পেজে মেসেজ বা অর্ডার এসেছে কি না। তিনটাই মিললে সেই রিলটাই বুস্টের প্রথম দাবিদার।

একটা উদাহরণ দিই, সংখ্যাগুলো ধরে নেওয়া। ধরুন একই সপ্তাহে মধুর তিনটা রিল দিলেন। প্রথমটায় মানুষ গড়ে চার সেকেন্ড দেখেছেন, কমেন্টে শুধু লাইক। দ্বিতীয়টায় গড়ে এগারো সেকেন্ড দেখেছেন, পাঁচজন দাম জিজ্ঞেস করেছেন, আর দুটো অর্ডার এসেছে। তৃতীয়টায় গড়ে নয় সেকেন্ড, কিন্তু কেউ কোনো প্রশ্ন করেননি। এখানে ৫০০ টাকা দিয়ে শুরু করার জায়গা দ্বিতীয় রিল। প্রথমটা চুপচাপ ছেড়ে দিন। আর তৃতীয়টায় দাম কেন কেউ জিজ্ঞেস করল না, সেটা একবার ভাবুন। হয়তো দাম ভিডিওর এত শেষে ছিল যে কেউ সেখানে পৌঁছায়নি।

Meta-র Ads Guide-ও Reels অ্যাডের জন্য এই 9:16 মাপ আর ওপরে-নিচে খালি জায়গার নিয়মটাই বলে। মানে যে রিল আপনি ওপরের নিয়ম মেনে বানিয়েছেন, সেটা বুস্ট করতে গিয়ে নতুন করে কাটাছেঁড়া করতে হবে না। দাম আর অফারের লেখাও অ্যাডের বাটনের নিচে চাপা পড়বে না।

বুস্টের গোল, অডিয়েন্স আর বাজেট কীভাবে দেবেন, সেটা মোবাইল থেকে ফেসবুক বুস্ট করার লেখায় ধাপে ধাপে আছে। রিলের বেলায়ও ধাপগুলো একই। শুধু একটা কথা মনে রাখবেন। বুস্টের পর মেসেজ আসছে অথচ অর্ডার হচ্ছে না, এমন হলে দোষ রিলের না। তখন দাম, ডেলিভারি চার্জ আর ইনবক্সের উত্তরগুলো আগে খুঁটিয়ে দেখুন।

আজ কোন রিলটা বানাবেন?

আজ একটাই রিল বানান, আপনার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া প্রোডাক্টের। একটা কাগজে পাঁচ লাইনে লিখে ফেলুন প্রথম দুই সেকেন্ডে কী দেখাবেন, মাঝে কোন দুটো প্রশ্নের উত্তর দেবেন, দাম কত আর অর্ডার কোথায় হবে। বিকেলে জানালার পাশে ফোন স্ট্যান্ডে বসিয়ে শটগুলো দুবার করে তুলুন। রাতে CapCut-এ জোড়া দিয়ে বাংলা লেখা বসান, আর গান দিন Facebook-এর নিজের লাইব্রেরি থেকে। তারপর তিন দিন অপেক্ষা করে Insights দেখুন।

প্রথম রিল নিখুঁত হবে না, হওয়ার দরকারও নেই। নিজের গলা শুনে লজ্জা লাগবে, ফ্রেম একটু বাঁকা হবে, এগুলো সবারই হয়। তৃতীয়-চতুর্থ রিলে এসে নিজেই টের পাবেন হাত বসে গেছে। আর যেদিন কোনো রিলের নিচে প্রথমবার কেউ লিখবেন "ভাই, ঢাকার বাইরে দেন?", সেদিন বুঝবেন খাটুনিটা বৃথা যায়নি।

রিল থেকে আসা কাস্টমারকে একটা গোছানো পেজে নামাতে চাইলে WinningSeller-এ AI দিয়ে ৫ মিনিটে ল্যান্ডিং পেজ বানিয়ে তাতে রিলের ভিডিওটাই বসানো যায়, আর অর্ডার এলে এক ক্লিকে কুরিয়ারে পাঠানো যায়। আর কী কী আছে, সব ফিচারের লিস্টে দেখে নিতে পারেন।

সাধারণ প্রশ্ন

ফেসবুক রিলস ভিডিওর সাইজ কত?

ফেসবুক রিলস ভিডিওর সাইজ খাড়া 9:16, আর সবচেয়ে চলতি মাপ 1080×1920 পিক্সেল। ফোন সোজা করে ধরে 1080p-তে তুললে এই মাপটা এমনিতেই হয়ে যায়। অক্টোবর ২০২৬-এ Meta-র Ads Guide-এ Reels অ্যাডের জন্য 1440×2560 লেখা আছে, এটাও 9:16, শুধু ছবি বেশি পরিষ্কার।

ফেসবুক রিল কত সেকেন্ডের হতে পারে?

Meta ২০২৫ সালের জুনে জানিয়েছে, ফেসবুকে রিলের দৈর্ঘ্য বা ফরম্যাটের কোনো বাধা থাকবে না। তবে প্রোডাক্ট বিক্রির রিল ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ডে রাখাই ভালো। কাস্টমার স্ক্রল করতে করতে দেখেন, তাই লম্বা ভিডিওর শেষে দাম আর অর্ডারের কথা পর্যন্ত অনেকে পৌঁছান না।

রিলে কোন গান দিলে কপিরাইট হবে না?

Meta-র নিজের Sound Collection থেকে গান বা সাউন্ড নিন, অথবা নিজের গলায় কথা বলুন। জনপ্রিয় বাংলা বা হিন্দি গান ব্যবসার রিলে দিলে Facebook-এর মিউজিক গাইডলাইন অনুযায়ী ভিডিও মিউট, ব্লক বা রিমুভ হতে পারে। এমন রিল বুস্ট করতে গেলেও অনেক সময় আটকে যায়।

রিলস ভিডিও বানানোর জন্য কোন অ্যাপ ভালো?

শুরুতে Facebook অ্যাপের নিজের রিল এডিটরই যথেষ্ট, এতে ক্লিপ কাটা, লেখা বসানো আর সাউন্ড দেওয়া যায়। বাংলা সাবটাইটেল আর নিজের ভয়েস একসাথে দিতে চাইলে অনেক সেলার CapCut-এ এডিট করেন। তবে CapCut-এর ভেতরের গান ব্যবসার রিলে না দেওয়াই নিরাপদ।

রিল ভিডিও আপলোড করলে ঝাপসা হয়ে যায় কেন?

বেশিরভাগ সময় ভিডিওটা কম রেজোলিউশনে তোলা বা এক্সপোর্ট করা হয়েছিল বলে এমন হয়। অনেক বেশি জুম করে তুললে বা দুর্বল নেটে আপলোড দিলেও ঝাপসা আসে। 1080p-তে তুলুন, CapCut থেকেও 1080p-তে এক্সপোর্ট করুন, আর Wi-Fi বা ভালো নেটে আপলোড দিন।

রিল থেকে কি সরাসরি অর্ডার আসে?

রিল নিজে অর্ডার নেয় না, রিল কাস্টমারকে আগ্রহী করে তোলে। অর্ডারটা আসে পরের ধাপে, পেজের মেসেজে, ফোনে বা অর্ডার ফর্মে। তাই রিলের শেষে আর ক্যাপশনে দাম আর অর্ডারের রাস্তা পরিষ্কার করে লিখে দিন।

#ফেসবুক রিলস#রিলস ভিডিও#প্রোডাক্ট ভিডিও#CapCut#ভিডিও এডিটিং#ফেসবুক মার্কেটিং

আরও পড়ুন

ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ

ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে

গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে

ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।

·১০ মিনিটে পড়া যায়