ফেসবুক বুস্ট করার নিয়ম, মোবাইল থেকে ধাপে ধাপে (অর্ডার আনার জন্য)
মোবাইল থেকে পেজের পোস্ট বুস্ট করার পুরো নিয়ম। কোন পোস্ট বেছে নেবেন, COD দোকানে মেসেজ না ওয়েবসাইট ভিজিট গোল দেবেন, অডিয়েন্স আর বাজেট কীভাবে ঠিক করবেন, VAT ধরে প্রথম বুস্টের হিসাব, আর কখন বুস্ট ছেড়ে Ads Manager-এ যাবেন।

এই লেখায় যা আছে
- ফেসবুক বুস্ট কী, আর অ্যাডের সাথে পার্থক্য কোথায়?
- বুস্ট করার আগে পেজে কী ঠিক রাখবেন?
- মোবাইল থেকে ফেসবুক বুস্ট করার নিয়ম, বাটনটা কোথায়
- ধাপ ১: কোন পোস্ট বুস্ট করবেন
- ধাপ ২: গোল (Goal) কোনটা দেবেন, মেসেজ না ওয়েবসাইট ভিজিট?
- ধাপ ৩: অডিয়েন্স, বয়স আর এলাকা
- ধাপ ৪: বাজেট আর কত দিন, প্রথম বুস্টের হিসাব টাকায়
- ধাপ ৫: পেমেন্ট দিয়ে পাবলিশ
- বুস্টের পর কোন সংখ্যা দেখবেন?
- কখন বুস্ট বন্ধ করে Ads Manager-এ যাবেন?
ফেসবুক বুস্ট করার নিয়ম আসলে পাঁচটা কাজ। পেজের যে পোস্টটা আগে থেকেই ভালো সাড়া পাচ্ছে, তার নিচের Boost post বাটনে চাপ দিন। তারপর গোল ঠিক করুন, কাকে দেখাবেন সেটা দিন, দিনে কত টাকা আর কত দিন চলবে সেটা বসান, আর পেমেন্ট মেথড দিয়ে Publish চাপুন। ক্যাশ অন ডেলিভারির দোকানে গোল সাধারণত দুটোর একটা হয়। ইনবক্সে অর্ডার নিলে মেসেজ গোল দিন, আর অর্ডার ফর্ম বা ল্যান্ডিং পেজ থাকলে ওয়েবসাইট ভিজিট গোল দিন। প্রথমবার ছোট বাজেটে চালান, ধরুন দিনে ৩০০ টাকা করে চার-পাঁচ দিন, আর বিলের সাথে ১৫% VAT যোগ হবে সেটা মাথায় রাখুন।
নিচে প্রতিটা ধাপ মোবাইলের স্ক্রিন ধরে বলছি। কোন ঘরে কী দিলে অর্ডার আসে আর কোথায় শুধু লাইক আসে, সেটাও বলব। মাঝখানে একটা বুস্টের হিসাব টাকায় কষে দেখাব, যাতে বুঝতে পারেন বুস্টটা আসলে লাভ দিচ্ছে কি না।
ফেসবুক বুস্ট কী, আর অ্যাডের সাথে পার্থক্য কোথায়?
বুস্ট মানে পেজে আগে থেকে থাকা একটা পোস্টকে টাকা দিয়ে আরও মানুষের কাছে পৌঁছানো। Meta-র হেল্প পেজেও এভাবেই বলা আছে। বুস্ট করা পোস্ট আসলে একটা অ্যাড, শুধু তফাত হলো ছবি আর লেখা নতুন করে বানাতে হয় না, পেজের পোস্টটাই অ্যাড হয়ে যায়। তাই পোস্টে আগে যত লাইক-কমেন্ট এসেছিল, সেগুলোও অ্যাডের সাথে দেখায়। নতুন মানুষ যখন দেখেন ৪০ জন কমেন্টে "দাম কত" জিজ্ঞেস করেছেন, তখন পোস্টটার ওপর তাঁর ভরসা বাড়ে।
Ads Manager হলো Meta-র পুরো অ্যাড বানানোর জায়গা। সেখানে একটা ক্যাম্পেইনের ভেতরে কয়েকটা আলাদা অ্যাড চালানো যায়, অডিয়েন্স ভাগ করে টেস্ট করা যায়, আর ওয়েবসাইটের পিক্সেল থেকে আসা ডেটা দিয়ে অ্যাডকে শেখানো যায়। বুস্টে এসবের বেশিরভাগ অপশন লুকানো থাকে। তাই বুস্ট মোবাইলেই কয়েক মিনিটে হয়ে যায়, কিন্তু অ্যাড কাকে কীভাবে দেখাবে সেটা আপনার হাতে কম থাকে।
নতুন সেলারের জন্য বুস্ট খারাপ কিছু না। একটা প্রোডাক্ট, একটা ভালো পোস্ট আর মাসে কয়েক হাজার টাকার বাজেট হলে বুস্টই যথেষ্ট। সমস্যা হয় যখন সবকিছু ডিফল্টে রেখে বুস্ট করা হয়। তখন টাকা চলে যায় লাইক আর ফলোয়ারে, অর্ডার আসে না। নিচের ধাপগুলো মেনে চললে এই ভুলটা আর হবে না।
বুস্ট করার আগে পেজে কী ঠিক রাখবেন?
বুস্ট দেখে যিনি আগ্রহী হলেন, তিনি প্রথমে আপনার পেজে ঢোকেন বা ইনবক্সে মেসেজ দেন। পেজটা অগোছালো হলে বা মেসেজের উত্তর তিন ঘণ্টা পরে গেলে, বুস্টের টাকায় আনা মানুষটা অন্য পেজ থেকে কিনে ফেলেন। তাই টাকা খরচের আগে পেজের এই কয়েকটা জিনিস একবার দেখে নিন।
প্রোফাইল ছবি আর কভারে দোকানটা কী বেচে সেটা বোঝা যায় কি না, দেখুন। পেজের About অংশে মোবাইল নম্বর, ডেলিভারি কোন কোন এলাকায় যায়, আর ক্যাশ অন ডেলিভারি আছে কি না লেখা রাখুন। একটা পোস্ট পিন করে রাখুন, যেখানে ঢাকার ভেতরে আর বাইরে ডেলিভারি চার্জ কত আর অর্ডার কীভাবে দিতে হয় সেটা লেখা থাকবে। নতুন কাস্টমার প্রায় সবসময় এই তিনটা প্রশ্নই আগে করেন।
সবচেয়ে বড় কাজ হলো ইনবক্সের উত্তর। মেসেজ গোলের বুস্ট চালালে দিনে কয়েক ডজন মেসেজ আসতে পারে। সেই সময়টায় কে উত্তর দেবেন, ঠিক করে রাখুন। দাম, ডেলিভারি চার্জ আর অর্ডারের নিয়মের জন্য তিন-চারটা রেডি উত্তর ফোনের নোটে লিখে রাখলে প্রতিবার টাইপ করতে হয় না। আর বুস্ট চালু থাকা অবস্থায় পেজ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেলে রাখবেন না। যে মেসেজের উত্তর দেরিতে যায়, সেখান থেকে অর্ডার আসে অনেক কম। প্রায় সব সেলারই এটা নিজের ইনবক্সে দেখেছেন।
মোবাইল থেকে ফেসবুক বুস্ট করার নিয়ম, বাটনটা কোথায়
Facebook অ্যাপে প্রথমে নিজের প্রোফাইল থেকে পেজে সুইচ করুন। তারপর পেজের যে পোস্টটা বুস্ট করবেন, সেটা খুঁজে বের করুন। পোস্টের নিচে সাধারণত নীল রঙের Boost post বাটন থাকে, অ্যাপ বাংলায় থাকলে নামটা বাংলায় দেখাবে। বাটনে চাপ দিলে বুস্টের স্ক্রিন খোলে। নিচের পাঁচটা ধাপ ওই স্ক্রিনেই করতে হয়।
বাটন না দেখালে দুটো কারণ হতে পারে। হয় পেজে আপনার অ্যাড চালানোর অ্যাক্সেস নেই, নয়তো এই ধরনের পোস্ট বুস্ট করা যায় না। Meta-র হেল্প পেজে লেখা আছে, শেয়ার করা পোস্ট, অ্যালবাম, ড্রাফটে থাকা পোস্ট, আর একসাথে অনেক ছবি বা ছবি-ভিডিও মেশানো পোস্ট অনেক সময় বুস্ট করা যায় না। কপিরাইট করা গান বসানো রিলসও বুস্ট হয় না। এমন হলে প্রোডাক্টের সবচেয়ে ভালো ছবি বা ভিডিওটা দিয়ে নতুন একটা পোস্ট দিন, তারপর সেটা বুস্ট করুন।
কম্পিউটার থাকলে Meta-র দেওয়া রাস্তাটা এরকম। facebook.com-এ পেজে সুইচ করে বাঁ দিকের Ad Center-এ যান, তারপর Advertise, তারপর Boost Facebook content। এরপর যে পোস্ট চান, তার পাশের Boost post বাটনে ক্লিক করুন। বাকি ঘরগুলো মোবাইলের মতোই।
ধাপ ১: কোন পোস্ট বুস্ট করবেন
যে পোস্ট টাকা ছাড়াই মানুষ পছন্দ করেছে, সেটাই বুস্টের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ। Meta-র হেল্প পেজেও একই কথা বলা আছে। কোনো পোস্টে স্বাভাবিকভাবে বেশি কমেন্ট, শেয়ার বা মেসেজ এলে বুঝবেন ছবিটা আর কথাগুলো মানুষের কাছে পৌঁছেছে। বুস্ট সেই একই জিনিস আরও বেশি মানুষকে দেখায়। যে পোস্ট পেজের ফলোয়াররাই পছন্দ করেননি, টাকা দিয়ে অচেনা মানুষকে দেখালে সেটা সাধারণত আরও খারাপ করে।
অর্ডার আনার জন্য বুস্ট করলে পোস্টে কয়েকটা জিনিস থাকতেই হবে। একটা পোস্টে একটাই প্রোডাক্ট রাখুন, পাঁচটা প্রোডাক্টের কোলাজ দেবেন না। মানুষ এক নজরে বুঝতে না পারলে স্ক্রল করে চলে যান। প্রোডাক্টের আসল ছবি বা হাতে ধরে তোলা ছোট ভিডিও দিন। দাম লিখে দিন, কারণ দাম না লিখলে অর্ধেক মেসেজ আসে শুধু "দাম কত" জানতে, আর সেই মেসেজের অনেকগুলো থেকেই অর্ডার আসে না। আর শেষ লাইনে লিখুন অর্ডার কীভাবে দেবেন, ইনবক্সে নাকি লিংকে।
অফারের পোস্ট বুস্ট করার আগে দেখে নিন অফারটা বুস্ট শেষ হওয়া পর্যন্ত চলবে কি না। "আজ রাত ১২টা পর্যন্ত" লেখা পোস্ট পাঁচ দিনের বুস্টে দিলে বাকি চার দিন মানুষ পুরনো অফার দেখবেন, আর ইনবক্সে এসে ঝগড়া করবেন।
ধাপ ২: গোল (Goal) কোনটা দেবেন, মেসেজ না ওয়েবসাইট ভিজিট?
এই একটা ঘরেই সবচেয়ে বেশি টাকা নষ্ট হয়। গোল মানে আপনি ফেসবুককে বলে দিচ্ছেন কোন কাজটা করবে এমন মানুষ খুঁজতে। "পোস্টে লাইক দেবে" এমন মানুষ খুঁজতে বললে ফেসবুক তাঁদেরই খুঁজবে, যাঁরা লাইক দেন। তাঁরা কেনেন কি না, সেটা ফেসবুক দেখবে না। Meta-র হেল্প পেজ অনুযায়ী আপনি চাইলে গোলটা ফেসবুকের ওপর ছেড়ে দিতে পারেন, আবার নিজেও বেছে নিতে পারেন। অর্ডারের জন্য নিজে বেছে নিন।
Meta-র হেল্প পেজে প্রতিটা গোলের জন্য ফলাফল কীভাবে গোনা হয় তা লেখা আছে। COD দোকানের দিক থেকে কোনটা কখন কাজে লাগে, নিচের টেবিলে দেখুন।
| গোল | কখন দেবেন | Meta ফলাফল হিসেবে কী গোনে |
|---|---|---|
| Get more messages | ইনবক্সে অর্ডার নেন, আর দ্রুত উত্তর দেওয়ার মানুষ আছে | কতগুলো নতুন কনভারসেশন শুরু হলো |
| Get more WhatsApp messages | অর্ডার নেন WhatsApp-এ, আর পেজের সাথে WhatsApp নম্বর জোড়া আছে | কতগুলো নতুন কনভারসেশন শুরু হলো |
| Get more website visitors | অর্ডার ফর্মওয়ালা ল্যান্ডিং পেজ বা নিজের ওয়েবসাইট আছে | লিংকে কতবার ক্লিক হলো |
| Get more post engagements, Page followers | বিক্রির জন্য না, শুধু পেজ চেনানোর জন্য | রিঅ্যাকশন, কমেন্ট বা নতুন ফলোয়ার |
মেসেজ গোলে একটা জিনিস জেনে রাখুন। Meta একটা কনভারসেশন গোনে তখন, যখন নতুন কেউ আপনাকে মেসেজ দেন, বা পুরনো কেউ অন্তত সাত দিন চুপ থাকার পর আবার মেসেজ দেন। তাই ৫০টা কনভারসেশন দেখে ভাববেন না ৫০টা অর্ডার এসেছে। এর মানে শুধু ৫০ জন মানুষ কথা শুরু করেছেন। তার মধ্যে কতজন নাম-ঠিকানা দিলেন, সেটা আপনাকে নিজে গুনতে হবে।
ওয়েবসাইট ভিজিট গোলে ইনবক্সের চাপ থাকে না, কাস্টমার নিজেই ফর্মে নাম, নম্বর আর ঠিকানা দেন। তবে এটা তখনই কাজ করে, যখন লিংকে গিয়ে মানুষ এক পেজেই প্রোডাক্ট, দাম আর অর্ডার ফর্ম পান। এমন পেজ কীভাবে সাজাবেন, সেটা এক প্রোডাক্টের ল্যান্ডিং পেজ নিয়ে লেখায় বিস্তারিত বলেছি। লিংকটা হোমপেজে দিলে মানুষ প্রোডাক্ট খুঁজতে খুঁজতেই চলে যান।

গোলের আশেপাশে আরও দু-একটা অপশন দেখবেন। Advantage+ creative চালু থাকলে ফেসবুক আপনার ছবি-লেখার কিছু ভিন্ন রূপ নিজে বানিয়ে দেখায়। প্রথম বুস্টে এটা বন্ধ রাখা ভালো, যাতে কাস্টমার ঠিক কী দেখছেন সেটা আপনি জানেন। আর Special Ad Category অপশনটা লাগে শুধু চাকরি, বাসা ভাড়া, লোন বা রাজনীতির অ্যাডে। প্রোডাক্ট বেচলে এটা বন্ধই রাখুন।
ধাপ ৩: অডিয়েন্স, বয়স আর এলাকা
এখানে দুটো রাস্তা থাকে। একটা হলো ফেসবুকের সাজেস্ট করা Advantage+ অডিয়েন্স, যেখানে ফেসবুক নিজেই ঠিক করে কাকে দেখাবে। অন্যটা হলো নিজে নতুন অডিয়েন্স বানানো, যেখানে এলাকা, বয়স, জেন্ডার আর আগ্রহ আপনি বসান।
পেজের বয়স যদি কয়েক মাস হয় আর আগে কিছু অর্ডার এসে থাকে, Advantage+ অডিয়েন্স দিয়ে একবার চেষ্টা করে দেখতে পারেন। একদম নতুন পেজে নিজে অডিয়েন্স বানানোই ভালো, কারণ তখন ফেসবুকের হাতে শেখার মতো তথ্য কম থাকে।
নিজে বানালে সবার আগে এলাকা ঠিক করুন, কারণ এখানে ভুল হলে পুরো টাকাই নষ্ট। আপনার কুরিয়ার যেখানে যায় না, সেখানে অ্যাড দেখানোর মানে নেই। শুধু ঢাকায় ডেলিভারি দিলে এলাকায় ঢাকা দিন। সারা দেশে পাঠালে Bangladesh দিন। তবে ঢাকার বাইরে রিটার্ন বেশি হলে শুরুতে ঢাকা আর আশেপাশের কয়েকটা জেলা দিয়ে চালান। আর এলাকার ঘরে যদি অন্য দেশ বসানো থাকে, সেটা সরিয়ে দিন। প্রবাসীরা অনেক সময় অ্যাড দেখে মেসেজ দেন, কিন্তু অর্ডার খুব কমই দেন, আর সেই মেসেজের পেছনেও আপনার টাকা যায়।
বয়স রাখুন যিনি আসলে টাকা দিয়ে কিনবেন, তাঁর বয়স ধরে। ছেলেদের পাঞ্জাবি বেচলে শুধু পুরুষ সিলেক্ট করা যায়, কিন্তু খেয়াল রাখবেন ঈদের আগে অনেক মা-বোনও ছেলের জন্য পাঞ্জাবি কেনেন। সন্দেহ থাকলে জেন্ডার খোলা রাখুন। আগ্রহের (interest) ঘরে দুই-তিনটা কাছাকাছি জিনিস দিন, দশটা না। অডিয়েন্স খুব ছোট করে ফেললে ফেসবুক একই মানুষকে বারবার দেখায়, আর খরচ বাড়ে।
ধাপ ৪: বাজেট আর কত দিন, প্রথম বুস্টের হিসাব টাকায়
বুস্টের স্ক্রিনে দুটো জিনিস বসাতে হয়, কত দিন চলবে আর দিনে কত টাকা। ফেসবুক কিছু সাজেস্ট করা অঙ্ক দেখায়, আপনি চাইলে নিজের অঙ্কও দিতে পারেন। পাশে ফেসবুক একটা আন্দাজও দেখায় যে এই টাকায় কতজনের কাছে পৌঁছাবে বা কতগুলো ফলাফল আসতে পারে। ওটা ফেসবুকের আন্দাজ মাত্র। এত মানুষ বা এত মেসেজ আসবেই, এমন কোনো কথা ফেসবুক দেয় না।
সর্বনিম্ন বাজেট কত, সেটা Meta সব দেশের জন্য এক অঙ্কে লিখে রাখেনি। ওদের হেল্প পেজে লেখা, এটা দেশ আর গোল ভেদে আলাদা হয়, আর কম দিলে স্ক্রিনেই ওয়ার্নিং দেখায়। Meta আরও লিখেছে, দিনের বাজেট আসলে পুরো সপ্তাহের একটা গড়। কোনো দিন একটু বেশি খরচ হতে পারে, কোনো দিন কম, তবে সপ্তাহে দিনের বাজেটের সাত গুণের বেশি যাবে না। তাই কার্ডে বা ব্যালান্সে সবসময় কিছু বাড়তি টাকা রাখুন।
কত দিন চালাবেন? এক দিনের বুস্ট দেখে কিছু বোঝা যায় না, কারণ প্রথম দিন ফেসবুক নিজেই খুঁজে বেড়ায় কাকে দেখালে কাজ হয়। আবার প্রথম বুস্টেই দুই সপ্তাহ দিলে খারাপ পোস্টে অনেক টাকা চলে যেতে পারে। তাই অনেক সেলার প্রথম বুস্ট চার থেকে সাত দিনের জন্য দেন। এই কয়দিনে বোঝা যায় পোস্টটা মানুষকে টানছে কি না, আবার খারাপ হলে ক্ষতিও বেশি হয় না।
এবার একটা উদাহরণ দেখুন। নিচের সংখ্যাগুলো বোঝানোর জন্য ধরে নেওয়া, কোনো আসল দোকানের হিসাব না। ধরুন আপনি ৯৫০ টাকার একটা পাঞ্জাবির পোস্ট মেসেজ গোলে বুস্ট করলেন, দিনে ৩০০ টাকা করে ৫ দিন।
বুস্টের টাকা ৩০০ × ৫ = ১,৫০০ টাকা। এর সাথে ১৫% VAT যোগ হলে মোট খরচ ১,৫০০ + ২২৫ = ১,৭২৫ টাকা। কার্ডে ডলারে বিল হলে ব্যাংকের রেট আর চার্জের জন্য আসল কাটা টাকা আরও একটু বেশি হতে পারে।
পাঁচ দিনে ধরুন ৬০টা কনভারসেশন এলো। তার মধ্যে ১৫ জন নাম-ঠিকানা দিলেন, ফোনে কনফার্ম হলো ১২টা, আর কুরিয়ার থেকে ডেলিভারি হলো ৯টা। তাহলে ফেসবুকের হিসাবে একটা মেসেজের খরচ ১,৭২৫ ÷ ৬০ = প্রায় ২৯ টাকা, শুনতে কম লাগে। কিন্তু আপনার আসল হিসাবে একটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডারের পেছনে অ্যাডে গেছে ১,৭২৫ ÷ ৯ = প্রায় ১৯২ টাকা।
এবার দেখুন একটা পাঞ্জাবিতে আপনার লাভ কত থাকে। কেনা দাম, প্যাকেট আর কুরিয়ার বাদ দিয়ে যদি ২৫০ টাকা থাকে, তাহলে অ্যাডের ১৯২ টাকা বাদে প্রতি অর্ডারে থাকছে ৫৮ টাকা, আর ফেরত আসা পার্সেলের খরচ তো এখনো ধরাই হয়নি। বুস্টটা "চলছে" মনে হলেও আসলে প্রায় লাভ ছাড়া চলছে। তাই মেসেজের খরচ দেখে খুশি হবেন না। বুস্ট আবার দেবেন কি না, সেটা ঠিক করুন ডেলিভারিপ্রতি খরচ দেখে।
ধাপ ৫: পেমেন্ট দিয়ে পাবলিশ
শেষ ধাপে Placements আর পেমেন্ট মেথড থাকে। Placements মানে অ্যাডটা কোথায় দেখাবে, Facebook, Instagram বা Messenger-এ। প্রথমবার ফেসবুকের ডিফল্টে রাখলেই চলে। তবে পেজের সাথে Instagram অ্যাকাউন্ট না থাকলে বা সেখানে ইনবক্স দেখার কেউ না থাকলে Instagram সরিয়ে দিন, নইলে সেখান থেকে আসা মেসেজ পড়ে থাকবে।
২০২৬ সালের অক্টোবরে Meta-র পেমেন্ট অপশনের পেজে বাংলাদেশের জন্য লেখা আছে Visa, Mastercard বা American Express কার্ড, আর PayPal। কার্ড দিয়ে দিতে চাইলে সাধারণত ডুয়েল কারেন্সি বা ইন্টারন্যাশনাল কার্ড লাগে। এর বাইরে The Business Standard ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ খবর দিয়েছে, LightCastle Partners আর Meta মিলে bKash দিয়ে অ্যাডের পেমেন্ট চালু করেছে, আর অ্যাড অ্যাকাউন্টের সেটিংস থেকে bKash অ্যাড করা যাবে। আপনার অ্যাকাউন্টে অপশনটা এসেছে কি না, Payment settings খুলে দেখে নিন।
VAT-এর কথাটাও এখানে মাথায় রাখুন। Meta-র হেল্প পেজে লেখা, জুন ২০২১ থেকে অ্যাকাউন্টের ঠিকানা বাংলাদেশে হলে আর BIN নম্বর দেওয়া না থাকলে ওরা বিলের সাথে বাংলাদেশের হারে VAT যোগ করে। The Business Standard-এর ২০২১ সালের খবর অনুযায়ী এই হার ১৫%। তাই বাজেট বসানোর সময়ই মনে মনে ১৫% যোগ করে নিন।
সব ঠিক থাকলে Publish চাপুন। এরপর অ্যাডটা রিভিউতে যায়। Meta-র হেল্প পেজে লেখা, বেশিরভাগ অ্যাড ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিভিউ হয়, কখনো বেশি সময়ও লাগে। চালু হয়ে গেলে প্রথম দুই-তিন দিন অডিয়েন্স বা ছবি চেঞ্জ করবেন না। Meta-র নিয়মে অডিয়েন্স, ছবি, লেখা বা লিংক চেঞ্জ করলে অ্যাড আবার রিভিউতে যায়। শুধু বাজেট বা সময় চেঞ্জ করলে নতুন রিভিউ হয় না।
বুস্টের পর কোন সংখ্যা দেখবেন?
বুস্ট চালু হলে পেজের Ad Center-এ গিয়ে ফলাফল দেখা যায়। সেখানে রিচ, কত টাকা খরচ হলো, আর আপনার গোলের ফলাফল দেখায়। মেসেজ গোলে দেখাবে কয়টা কনভারসেশন শুরু হলো, ওয়েবসাইট গোলে কয়টা লিংক ক্লিক হলো। ফেসবুকের কাছে এটাই ফলাফল। কিন্তু আপনার ব্যবসার ফলাফল হলো কয়টা পার্সেল ডেলিভারি হলো, আর সেটা Ad Center কখনো দেখাবে না।
তাই বুস্ট চলার কয়দিন প্রতিদিন রাতে একটা খাতা বা শিটে চারটা সংখ্যা লিখুন। সেদিন বুস্টে কত টাকা গেল, কয়জন নাম-ঠিকানা দিলেন, কয়টা অর্ডার ফোনে কনফার্ম হলো, আর কয়টা কুরিয়ারে পাঠালেন। পার্সেল ডেলিভারি হতে কয়েক দিন লাগে, তাই ডেলিভারি আর ফেরতের সংখ্যা পরে যোগ করুন। তারপর ওপরের উদাহরণের মতো ভাগ করে বের করুন, একটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডারের পেছনে অ্যাডে কত টাকা গেল।

বুস্ট চলার মাঝখানে, ধরুন তিন দিনের মাথায়, শুধু একটা জিনিস দেখুন। মেসেজ আসছে, কিন্তু কেউ নাম-ঠিকানা দিচ্ছেন না, এমন হলে বাকি দিনগুলোর টাকা বাঁচাতে বুস্ট থামিয়ে দিন। পুরো সিদ্ধান্তটা নিন পার্সেলগুলো ডেলিভারি হওয়ার পরে। ডেলিভারিপ্রতি অ্যাডের খরচ যদি একটা অর্ডারে আপনার লাভের চেয়ে অনেক কম হয়, পোস্টটা আবার বুস্ট করুন। লাভের কাছাকাছি বা বেশি হলে ছবি, দাম লেখার ধরন বা অডিয়েন্স চেঞ্জ করে নতুন পোস্ট দিয়ে আবার চেষ্টা করুন। "অনেক কম" মানে ঠিক কতটা, আর কোন তিনটা সংখ্যা দেখে একটা প্রোডাক্ট চালাবেন নাকি একেবারে বাদ দেবেন, সেটা উইনিং প্রোডাক্ট খোঁজা আর ছোট বাজেটে টেস্টের লেখায় পুরো হিসাবসহ আছে।
একটা ভুল খুব বেশি হয়। অনেকে বুস্ট চলার সময় প্রতিদিন রিচ দেখে খুশি বা মন খারাপ করেন। রিচ বলে কতজন দেখেছেন, কতজন কিনেছেন সেটা বলে না। এক লাখ মানুষের কাছে পৌঁছে তিনটা অর্ডার আসার চেয়ে বিশ হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে বিশটা অর্ডার আসা অনেক ভালো।
কখন বুস্ট বন্ধ করে Ads Manager-এ যাবেন?
সারাজীবন বুস্ট দিয়ে চলবে, এমন না। ব্যবসা একটু বড় হলে বুস্টের এই সহজ ভাবটাই আপনার হাত বেঁধে দেয়। নিচের তিনটা কথার দুটো আপনার সাথে মিলে গেলে Ads Manager শেখার সময় হয়েছে।
- একই প্রোডাক্টে প্রতি সপ্তাহে টাকা দিচ্ছেন। নিয়মিত খরচ হলে অ্যাড একটু ভালো করলেও মাস শেষে অনেক টাকা বাঁচে। Ads Manager-এ একটা ক্যাম্পেইনের ভেতরে দুই-তিনটা ছবি বা ভিডিও একসাথে চালিয়ে দেখা যায় কোনটা কম খরচে অর্ডার আনছে। বুস্টে প্রতিটা পোস্ট আলাদা বুস্ট, তাই তুলনা করা কঠিন।
- নিজের ওয়েবসাইট বা ল্যান্ডিং পেজে অর্ডার নেন। তখন ওয়েবসাইটের পিক্সেল থেকে ফেসবুক জানতে পারে কে আসলে অর্ডার দিলেন, আর Sales ক্যাম্পেইন সেই রকম মানুষ খোঁজে। এর জন্য পিক্সেল ঠিকমতো বসানো থাকতে হয়, সেটা ফেসবুক পিক্সেল আর Conversions API সেটআপের লেখায় ধাপে ধাপে বলেছি। ফেক অর্ডারকে Purchase গুনলে অ্যাড কী ভুল শেখে, সেটাও ওখানে আছে।
- মাসে অ্যাডের খরচ আপনার লাভের বড় একটা অংশ হয়ে গেছে। তখন প্রতিটা টাকার হিসাব দরকার, কোন অডিয়েন্সে বা কোন জায়গায় খরচ বেশি যাচ্ছে। Ads Manager-এ এই ভাগগুলো আলাদা করে দেখা যায়।
উল্টো দিকটাও বলি। মাসে দুই-তিন হাজার টাকার বাজেট, একটা-দুইটা প্রোডাক্ট আর ইনবক্সে অর্ডার নিলে Ads Manager শেখার পেছনে এখনই সময় দেওয়ার দরকার নেই। ভালো পোস্ট, ঠিক গোল আর নিজের খাতার হিসাব দিয়ে বুস্টেই কাজ চলে। জটিল টুল খারাপ পোস্টকে ভালো বানাতে পারে না।
যখন ওয়েবসাইট আর পিক্সেলের ধাপে যাবেন, তখন WinningSeller-এ এই কাজগুলো এক জায়গায় পাবেন। AI দিয়ে পাঁচ মিনিটে এক প্রোডাক্টের ল্যান্ডিং পেজ বানানো যায়, Facebook Pixel আর Conversions API সেটিংসে বসানো যায়, আর চাইলে Purchase পাঠানো যায় পার্সেল ডেলিভারি হওয়ার পরে, যাতে ফেক অর্ডার ফেসবুকের হিসাবে বিক্রি হিসেবে না ঢোকে। অ্যাডের খরচ লিখে রাখলে ডেলিভারি হওয়া অর্ডার থেকে আসল লাভ-ক্ষতিও সেখানেই দেখা যায়। কী কী আছে, সব ফিচারের পেজে দেখে নিতে পারেন।
আজকের কাজ ছোট। পেজের শেষ এক মাসের পোস্টগুলো দেখুন, কোনটায় টাকা ছাড়াই সবচেয়ে বেশি মেসেজ বা কমেন্ট এসেছিল। সেটার লেখায় দাম আর অর্ডারের নিয়ম আছে কি না দেখে নিন, তারপর ছোট বাজেটে চার-পাঁচ দিনের একটা বুস্ট দিন। আর আজ রাত থেকেই খাতায় চারটা সংখ্যা লেখা শুরু করুন।
সাধারণ প্রশ্ন
ফেসবুক বুস্ট করতে সর্বনিম্ন কত টাকা লাগে?
সব দেশের জন্য এক অঙ্কের কোনো সর্বনিম্ন বাজেট Meta লিখে রাখেনি। ওদের হেল্প পেজে লেখা আছে, সর্বনিম্ন বাজেট দেশ আর গোল ভেদে আলাদা হয়। বাজেটের ঘরে এর চেয়ে কম দিলে ফেসবুক নিজেই ওয়ার্নিং দেখায়, তাই আপনার জন্য আসল সংখ্যাটা বুস্টের স্ক্রিনেই পাবেন। এর সাথে VAT যোগ হবে, সেটা হিসাবে রাখুন।
bKash দিয়ে কি ফেসবুক বুস্টের টাকা দেওয়া যায়?
খবর অনুযায়ী এখন যায়, তবে নিজের অ্যাকাউন্টে মিলিয়ে নিন। The Business Standard ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ খবর দিয়েছে যে LightCastle Partners আর Meta মিলে বাংলাদেশের ব্যবসার জন্য bKash-এ অ্যাডের পেমেন্ট চালু করেছে। তবে অক্টোবর ২০২৬-এ Meta-র নিজের পেমেন্ট অপশনের পেজে বাংলাদেশের জন্য এখনো কার্ড আর PayPal-ই লেখা। তাই নিজের অ্যাড অ্যাকাউন্টের Payment settings খুলে দেখুন bKash অপশনটা এসেছে কি না।
বুস্টের টাকায় কি VAT লাগে?
হ্যাঁ, লাগে। Meta-র হেল্প পেজে লেখা, জুন ২০২১ থেকে অ্যাড অ্যাকাউন্টের ঠিকানা বাংলাদেশে হলে আর BIN নম্বর দেওয়া না থাকলে ওরা বিলের সাথে বাংলাদেশের হারে VAT যোগ করে, আর সেই হার ১৫%। তাই ১,০০০ টাকার বুস্টে আসলে ১,১৫০ টাকার মতো ধরে রাখুন, কার্ডের ব্যাংক চার্জ থাকলে সেটা আলাদা।
বুস্ট রিভিউ হতে কত সময় লাগে?
Meta-র হেল্প পেজে লেখা, বেশিরভাগ অ্যাড ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিভিউ হয়ে যায়, তবে কিছু ক্ষেত্রে বেশি সময় লাগতে পারে। তাই ঈদ বা অফারের বুস্ট শেষ মুহূর্তে না দিয়ে আগের দিন দিন।
চলতি বুস্টে কি বাজেট বা অডিয়েন্স চেঞ্জ করা যায়?
যায়। Meta-র হেল্প পেজ অনুযায়ী শুধু বাজেট বা সময় চেঞ্জ করলে নতুন রিভিউ হয় না, কিন্তু অডিয়েন্স, ছবি, লেখা বা লিংক চেঞ্জ করলে অ্যাডটা আবার রিভিউতে যায়। তাই প্রথম দুই-তিন দিন হাত না দেওয়াই ভালো।
বুস্ট নাকি Ads Manager, কোনটা দিয়ে শুরু করব?
একটা পোস্ট, একটা প্রোডাক্ট আর ছোট বাজেট হলে বুস্ট দিয়েই শুরু করা যায়, কাজটা মোবাইলে পাঁচ মিনিটের। একই প্রোডাক্টে কয়েকটা ছবি বা ভিডিও পাশাপাশি টেস্ট করতে চাইলে, আর ওয়েবসাইটে পিক্সেল থাকলে Ads Manager-এ যাওয়ার সময় হয়েছে।
আরও পড়ুন
ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ
ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।
গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে
গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।
বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে
ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।


