WinningSeller
মার্কেটিং ও ল্যান্ডিং পেজ১২ মিনিটে পড়া যায়

লিংক ক্লিক বেশি, ল্যান্ডিং পেজ ভিউ কম? অ্যাডের টাকা যেখানে হারায়

অ্যাডে ১০০টা ক্লিকের টাকা দিলেন, অথচ পেজ দেখলেন অর্ধেক মানুষ? Link clicks আর Landing page views-এর এই ফাঁক কোথা থেকে আসে, আর মোবাইলে স্পিড টেস্ট করে ছবি হালকা করে কীভাবে সেটা কমাবেন, ধাপে ধাপে দেখিয়েছি।

লিংক ক্লিক বেশি, ল্যান্ডিং পেজ ভিউ কম? অ্যাডের টাকা যেখানে হারায়
এই লেখায় যা আছে
  1. Landing page views vs link clicks, পার্থক্য কী?
  2. দুটোর মধ্যে কত ফাঁক হলে চিন্তা করবেন?
    1. টাকায় একটা হিসাব
  3. ফাঁক বড় হয় কেন?
  4. মোবাইলে ওয়েবসাইট স্পিড টেস্ট করবেন যেভাবে
  5. ছবি আর ভিডিও হালকা করবেন যেভাবে
  6. ফেসবুকের ভেতরের ব্রাউজারে পেজ ঠিক খোলে কি না দেখবেন যেভাবে
  7. অ্যাডে Link clicks নাকি Landing page views, কোনটায় অপটিমাইজ করবেন?
  8. পেজ দ্রুত রাখার চেকলিস্ট

অ্যাডে Link clicks হলো কতবার মানুষ আপনার অ্যাডের লিংকে চাপ দিয়েছেন। Landing page views হলো তাঁদের মধ্যে কতজনের ফোনে পেজটা আসলেই খুলেছে, আর আপনার পিক্সেল সেটা গুনতে পেরেছে। ধরুন ১০০টা ক্লিকের টাকা দিলেন, পেজ দেখলেন ৪০ জন। বাকি ৬০ জনের টাকা আপনার অফার পড়ার আগেই চলে গেছে। এই ফাঁকের বেশিরভাগ আসে ধীর পেজ, ভারী ছবি, ঘুরে যাওয়া লিংক আর ঠিকমতো না বসা পিক্সেল থেকে। নিচে প্রতিটা কারণ ধরে ধরে দেখাচ্ছি, কীভাবে চিনবেন আর কীভাবে ঠিক করবেন।

রাত এগারোটায় Ads Manager খুলে অনেক সেলার একটা অদ্ভুত হিসাব দেখেন। ক্লিক এসেছে ভালোই, প্রতি ক্লিকের খরচও কম, অথচ অর্ডার আসেনি বললেই চলে। তখন সবাই আগে অ্যাডের ছবি বা লেখা চেঞ্জ করতে বসেন। কিন্তু অনেক সময় দোষটা অ্যাডের না। কাস্টমার আগ্রহ নিয়েই চাপ দিয়েছিলেন, পেজটাই তাঁর সামনে সময়মতো আসেনি।

Meta তাদের Business Help Center-এ Link clicks বলতে বোঝায় অ্যাডের ভেতরের লিংকে পড়া সেই ক্লিকগুলো, যেগুলো মানুষকে ফেসবুকের ভেতরে বা বাইরে কোনো জায়গায় নিয়ে গেছে। আর Landing page views হলো অ্যাডের লিংকে ক্লিক করার পর কতবার কারও ফোনে আপনার দেওয়া ওয়েবপেজটা পুরোপুরি লোড হয়েছে। এই দ্বিতীয় সংখ্যাটা Meta মূলত গোনে আপনার পেজে বসানো Meta Pixel থেকে।

একটা কথা জেনে রাখুন। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি থেকে Meta জানাচ্ছে, পিক্সেল ছাড়াও Landing page views-এ অপটিমাইজ করা যায়। তখন পিক্সেলের ডেটা না পেলে Meta নিজের হিসাব দিয়ে সংখ্যাটা আন্দাজ করে নেয়। কিন্তু আন্দাজ আর আসল গোনা এক জিনিস না। পিক্সেল বসানো থাকলে সংখ্যাটা আসে সরাসরি আপনার পেজ থেকে, তাই নিচের সব হিসাব পিক্সেল বসানো পেজ ধরেই বলছি।

সহজ করে বললে, Link clicks গোনে কতবার আঙুল পড়ল, আর Landing page views গোনে কতজন আসলে পেজটা দেখতে পেলেন। একজন কাস্টমার চাপ দিলেন, তারপর সাদা স্ক্রিনে তিন-চার সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে ব্যাক বাটন চাপলেন। ফেসবুক আপনার কাছ থেকে ক্লিকের টাকা ঠিকই নিল, কিন্তু ভিউয়ের ঘরে কিছু যোগ হলো না। কারণ পেজ পুরো খোলার আগে পিক্সেল চালুই হয়নি।

এই দুটো সংখ্যা পাশাপাশি দেখতে Ads Manager-এ আপনার ক্যাম্পেইন বা অ্যাড সেট খুলুন। ওপরের Columns থেকে Customize columns-এ যান, সার্চ বক্সে লিখে Link clicks, Landing page views আর Cost per landing page view টিক দিন। তারপর Apply চাপুন। এরপর থেকে প্রতিটা অ্যাড সেটের পাশে তিনটা সংখ্যাই দেখবেন।

দুটোর মধ্যে কত ফাঁক হলে চিন্তা করবেন?

হিসাবটা খুব সহজ। Landing page views-কে Link clicks দিয়ে ভাগ করে ১০০ দিয়ে গুণ করুন। ৪০০ ক্লিকে ২৮০টা ভিউ হলে হার ৭০%। এই সংখ্যাটাই বলে দেয় আপনার কেনা ক্লিকের কত অংশ আসলে পেজ পর্যন্ত পৌঁছেছে।

কত হলে "ভালো", তার কোনো অফিসিয়াল সংখ্যা Meta দেয় না। নিচের টেবিলটা অনেক মার্কেটারের কাজ চালানোর মতো একটা আন্দাজ, মাপা নিয়ম না। প্রোডাক্ট, এলাকা আর প্লেসমেন্ট ভেদে এটা ওঠানামা করে।

১০০ ক্লিকে ভিউ কী বোঝায় কী করবেন
৮০ বা তার বেশি পেজ মোটামুটি ঠিকঠাক খুলছে ফাঁক নিয়ে না ভেবে পেজের লেখা আর অফারে মন দিন
৫০ থেকে ৮০ কিছু মানুষ অপেক্ষা না করে ফিরে যাচ্ছেন স্পিড টেস্ট করুন, ছবি হালকা করুন
৫০-এর নিচে পেজ খুব ধীর, লিংক ঘুরছে, বা পিক্সেলে সমস্যা আজই নিচের প্রতিটা ধাপ মিলিয়ে দেখুন

অন্যের সংখ্যার চেয়ে নিজের গত সপ্তাহের সংখ্যার সাথে মেলানো বেশি কাজের। হঠাৎ করে হার ৭৫% থেকে ৪৫%-এ নামলে বুঝবেন কিছু একটা বদলেছে। হয়তো পেজে নতুন একটা ভারী ছবি বসিয়েছেন, অথবা লিংকটা চেঞ্জ হয়েছে।

টাকায় একটা হিসাব

নিচের সংখ্যাগুলো একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। ধরুন একটা ক্যাম্পেইনে ২,০০০ টাকা গেল, ক্লিক এলো ৪০০টা। কিন্তু পেজ খুলল মাত্র ২০০ জনের ফোনে, মানে হার ৫০%। যাঁরা পেজ দেখেন, তাঁদের ১০০ জনে ৩ জন অর্ডার দেন ধরে নিলাম। তাহলে অর্ডার এলো ৬টা, আর একটা অর্ডারের পেছনে অ্যাডে গেল প্রায় ৩৩৩ টাকা।

এবার ছবি হালকা করে, লিংক ঠিক করে পেজটা দ্রুত করলেন। একই ২,০০০ টাকায় একই ৪০০ ক্লিক এলো, কিন্তু এবার পেজ খুলল ৩২০ জনের ফোনে। একই ৩% হারে অর্ডার আসে মোটামুটি ৯ থেকে ১০টা। একটা অর্ডারের অ্যাড খরচ নেমে আসে ২১০ টাকার কাছাকাছি। অ্যাড, ছবি, দাম কিছুই চেঞ্জ করেননি, শুধু পেজটা সময়মতো খুলেছে।

মাসের হিসাবে ধরলে ব্যাপারটা আরও গায়ে লাগে। ধরুন মাসে ৩০,০০০ টাকার ডলার স্পেন্ড করেন। ধীর পেজে সেই টাকায় অর্ডার আসত মোটামুটি ৯০টা, দ্রুত পেজে আসে ১৪৪টার মতো। মাঝের ৫০টারও বেশি অর্ডার এতদিন সাদা স্ক্রিনেই হারিয়ে যাচ্ছিল, আর আপনি ভাবছিলেন অ্যাডটাই খারাপ।

ফাঁক বড় হয় কেন?

প্রথমেই একটা জিনিস আলাদা করে নিন। কিছু ফাঁক আসল ক্ষতি, মানে কাস্টমার সত্যিই পেজ দেখেননি। আর কিছু ফাঁক শুধু গোনার ভুল, মানে কাস্টমার পেজ দেখেছেন কিন্তু পিক্সেল সেটা ধরতে পারেনি। দুটোর চিকিৎসা আলাদা, তাই কোনটা হচ্ছে আগে বুঝতে হবে।

ধীর পেজ। এটাই সবচেয়ে বড় কারণ। ফেসবুকে স্ক্রল করা মানুষ এক জায়গায় বেশিক্ষণ অপেক্ষা করেন না। সাদা স্ক্রিন দেখলে তাঁর মনে হয় লিংকটা কাজ করছে না, তিনি ফিরে গিয়ে আবার স্ক্রল শুরু করেন। মফস্বলে বা চলন্ত বাসে নেট দুর্বল থাকলে এই অপেক্ষা আরও লম্বা হয়।

ভারী ছবি আর ভিডিও। ফোনের ক্যামেরায় তোলা একটা ছবি সাধারণত কয়েক মেগাবাইটের হয়। এমন পাঁচ-ছয়টা ছবি সরাসরি পেজে বসালে মোবাইল ডেটায় পুরো পেজ নামতে অনেকক্ষণ লাগে। পেজের ভেতরে নিজে থেকে চালু হওয়া ভিডিও আর GIF আরও ভারী।

লিংক ঘুরে যাওয়া। অ্যাডে দেওয়া লিংক যদি সরাসরি পেজে না গিয়ে আগে অন্য কোনো লিংকে যায়, তারপর সেখান থেকে আসল পেজে আসে, প্রতিটা ঘোরায় সময় যায়। এটাকে বলে রিডাইরেক্ট। লিংক ছোট করার সার্ভিস দিয়ে বানানো লিংক, পুরনো ডোমেইন থেকে নতুন ডোমেইনে পাঠানো, অথবা www ছাড়া লিংক থেকে www-ওয়ালা লিংকে পাঠানো, এর সবই রিডাইরেক্ট। দুর্বল নেটে একেকটা ঘোরাতেই কাস্টমারের আরও কিছুটা ধৈর্য খরচ হয়।

পিক্সেলের সমস্যা। পেজে পিক্সেল নেই, ভুল পিক্সেল বসানো, অথবা অ্যাড সেটে অন্য পিক্সেল সিলেক্ট করা থাকলে ভিউ শূন্য বা খুব কম দেখাবে। কাস্টমার তখনো আসছেন, শুধু গোনা হচ্ছে না। কারও ফোনে অ্যাড ব্লকার থাকলেও ব্রাউজারের পিক্সেল আটকে যেতে পারে। পিক্সেল ঠিক বসেছে কি না দেখার পুরো নিয়ম পিক্সেল আর Conversions API সেটআপের লেখায় ধাপে ধাপে আছে।

ভুল করে পড়া ক্লিক আর অ্যাড-পেজের অমিল। কিছু প্লেসমেন্টে, বিশেষ করে Audience Network-এ, আঙুল লেগে যাওয়া ক্লিক বেশি হয় বলে অনেক মার্কেটারের অভিজ্ঞতা। আবার অ্যাডে এক দাম আর পেজে আরেক দাম দেখলে কাস্টমার পেজ খোলার সাথে সাথেই চলে যান। দ্বিতীয় সমস্যাটা ঠিক করার চেকলিস্ট এক প্রোডাক্টের ল্যান্ডিং পেজের লেখায় আছে।

মোবাইলে ওয়েবসাইট স্পিড টেস্ট করবেন যেভাবে

প্রথম টেস্টটা করুন নিজের হাতে, কোনো টুল ছাড়া। ফোনের WiFi বন্ধ করে মোবাইল ডেটা চালু করুন, কারণ আপনার বেশিরভাগ কাস্টমার মোবাইল ডেটাতেই অ্যাড দেখেন। তারপর ফেসবুক অ্যাপ থেকে পেজের লিংকটা খুলুন, আর গুনুন চাপ দেওয়ার পর থেকে প্রোডাক্টের ছবি, দাম আর অর্ডার বাটন স্ক্রিনে আসতে কয় সেকেন্ড লাগল। তিনবার করুন, দিনের আলাদা সময়ে।

অফিসে বা দোকানে বসে নিজের দামি ফোনে টেস্ট করলে পেজ দ্রুতই মনে হবে। কিন্তু রংপুরের একজন কাস্টমার হয়তো তিন বছরের পুরনো ফোনে দুর্বল নেটে আপনার পেজ খুলছেন। সম্ভব হলে অন্য জেলায় থাকা কোনো আত্মীয় বা বন্ধুকে লিংকটা পাঠিয়ে বলুন, অন্য অপারেটরের সিমে খুলে দেখে কয় সেকেন্ড লাগল জানাতে।

দ্বিতীয় টেস্টটা Google-এর ফ্রি টুল PageSpeed Insights দিয়ে। ফোন বা কম্পিউটারের ব্রাউজারে pagespeed.web.dev খুলুন, পেজের পুরো লিংক দিয়ে Analyze চাপুন। রেজাল্ট এলে Mobile ট্যাবটা দেখুন, Desktop না। এই টুল ইচ্ছা করে একটা ধীর ফোন আর ধীর নেট ধরে নিয়ে পরীক্ষা করে, তাই সংখ্যাটা আপনার নিজের ফোনের চেয়ে খারাপ দেখাতে পারে। ঘাবড়াবেন না, এটাই আপনার দুর্বল-নেটের কাস্টমারের অভিজ্ঞতার কাছাকাছি।

রেজাল্টে কয়েকটা ইংরেজি নাম দেখবেন। সবচেয়ে দরকারি হলো LCP, মানে পেজের সবচেয়ে বড় জিনিসটা, সাধারণত প্রোডাক্টের প্রথম ছবি বা বড় হেডিং, স্ক্রিনে আসতে কত সময় লাগল। Google-এর web.dev সাইটে লেখা আছে, ভালো পেজে LCP হওয়া উচিত ২.৫ সেকেন্ডের মধ্যে। সেখানে আরও দুটো মাপ দেওয়া আছে। কোনো কিছুতে চাপ দিলে পেজ সাড়া দিতে ২০০ মিলিসেকেন্ডের বেশি নেওয়া উচিত না (INP), আর লোড হওয়ার সময় লেখা-ছবি লাফিয়ে সরে যাওয়ার মাপ (CLS) থাকা উচিত ০.১ বা তার কম। নতুন পেজে ওপরের আসল ইউজারদের অংশে অনেক সময় "No data" দেখায়, কারণ এখনো যথেষ্ট ভিজিটর আসেনি। তখন নিচের ল্যাব টেস্টের অংশটাই দেখুন।

একজন তরুণ সেলার দোকানে বসে হাতে ফোন নিয়ে স্টপওয়াচ চালিয়ে দেখছেন, ফেসবুক অ্যাপ থেকে খোলা তাঁর ল্যান্ডিং পেজে প্রোডাক্টের ছবি আর অর্ডার বাটন আসতে কত সেকেন্ড লাগে
আগে নিজের হাতে টেস্ট। মোবাইল ডেটায়, ফেসবুক অ্যাপ থেকে, সেকেন্ড গুনে

PageSpeed Insights নিচের দিকে নিজেই বলে দেয় কোন জিনিসটা পেজ ধীর করছে। সেখানে বারবার যদি ছবির কথা আসে, মানে image বা images শব্দওয়ালা লাইন, তাহলে পরের অংশটা আপনার জন্য।

ছবি আর ভিডিও হালকা করবেন যেভাবে

ফোনের স্ক্রিনে দেখানোর জন্য একটা ছবি চওড়ায় ১২০০ থেকে ১৬০০ পিক্সেলের বেশি লাগে না। ক্যামেরার আসল ছবি প্রায়ই এর দুই-তিন গুণ চওড়া। তাই আপলোডের আগে ছবিটা ছোট করে নিন। Google-এর ফ্রি টুল Squoosh (squoosh.app) ব্রাউজারেই চলে। ছবি দিন, Resize চালু করে চওড়া ১২০০ বা ১৬০০ পিক্সেল করুন, ফরম্যাট WebP বা JPG দিন, কোয়ালিটি ৭৫ থেকে ৮০-এর মধ্যে রাখুন। চেষ্টা করুন প্রতিটা ছবি যেন ২০০ কিলোবাইটের নিচে থাকে।

সবচেয়ে বেশি যত্ন নিন প্রথম ছবিটার। কাস্টমার পেজ খুলে প্রথম যে ছবিটা দেখেন, সেটা দেরিতে এলে পুরো পেজটাই ধীর মনে হয়। ওই ছবিতে লেখা বসাতে চাইলে ছবির ভেতরে না বসিয়ে পেজের লেখা হিসেবে দিন। লেখা ছবির চেয়ে অনেক দ্রুত আসে, আর ছবিও হালকা থাকে।

ভিডিও কখনো সরাসরি পেজে আপলোড করবেন না। YouTube-এ আপলোড করে লিংক বসান, যাতে কাস্টমার চাপ দিলে তবেই ভিডিও চালু হয়। GIF বসাবেন না, ছোট একটা GIF-ও অনেক সময় কয়েকটা ছবির সমান ভারী হয়। আর ছবির স্লাইডারে দশটা ছবি না রেখে সবচেয়ে কাজের তিন-চারটা রাখুন। বেশি ছবি মানে বেশি অপেক্ষা, অথচ কাস্টমার শেষ পর্যন্ত দেখেনও না।

WinningSeller-এ এই কাজের বড় অংশ নিজে থেকেই হয়। ছবি আপলোড করলে সিস্টেম সেটার কয়েকটা WebP কপি বানিয়ে রাখে, ৩২০ থেকে ১৪৪০ পিক্সেল পর্যন্ত কয়েক মাপে। ফোন তার স্ক্রিনের মাপে যেটা লাগে সেটাই নামায়, বড়টা না। পেজের প্রথম ছবিটা আগে আসে, বাকিগুলো আসে কাস্টমার নিচে স্ক্রল করলে। তবুও শুরুতে ঝাপসা বা অপ্রয়োজনে বিশাল ছবি না দেওয়াই ভালো, কারণ ভালো ছবি তোলার কাজটা কোনো সিস্টেম আপনার হয়ে করে দেয় না।

ফেসবুকের ভেতরের ব্রাউজারে পেজ ঠিক খোলে কি না দেখবেন যেভাবে

ফেসবুক অ্যাপে কেউ লিংকে চাপ দিলে পেজটা সাধারণত Chrome-এ খোলে না, খোলে ফেসবুকের নিজের ভেতরের ব্রাউজারে। আপনার কাস্টমারও পেজটা ওখানেই দেখেন। তাই শুধু Chrome-এ টেস্ট করে থেমে যাওয়া ভুল। কোনো পেজ Chrome-এ ঠিক চলে, অথচ ফেসবুকের ভেতরে বাটন কাজ করে না বা ফর্ম আটকে যায়, এমনও হয়।

টেস্ট করার সহজ উপায় হলো নিজের প্রোফাইলে একটা পোস্ট দিন, প্রাইভেসি রাখুন Only me, আর পোস্টে পেজের লিংকটা দিন। এবার ফেসবুক অ্যাপ থেকে সেই লিংকে চাপ দিন। পারলে একটা Android আর একটা iPhone দুটোতেই দেখুন। খেয়াল করুন এই কয়টা জিনিস। বাংলা লেখা ঠিকঠাক দেখাচ্ছে কি না, অর্ডার বাটনে চাপ দিলে ফর্মে যাচ্ছে কি না, ফর্মে নাম-নম্বর লিখে একটা টেস্ট অর্ডার যাচ্ছে কি না, আর কোনো পপআপ পুরো স্ক্রিন ঢেকে দিচ্ছে কি না।

একই টেস্টে রিডাইরেক্টও ধরা পড়ে। পেজ খোলার সময় ওপরের অ্যাড্রেস বারে লিংকটা খেয়াল করুন। আপনি যে লিংক দিয়েছিলেন আর শেষে যে লিংকে পেজ খুলল, দুটো আলাদা হলে মাঝখানে লিংক ঘুরেছে। তখন অ্যাডে সরাসরি শেষের লিংকটাই বসান, লিংক ছোট করার সার্ভিস বাদ দিন।

WinningSeller-এ নিজের ডোমেইনকে মেইন অ্যাড্রেস করে রাখলে একটা কথা মনে রাখবেন। দোকানের পুরনো সাবডোমেইনের লিংকে কেউ এলে সিস্টেম তাঁকে আপনার নিজের ডোমেইনে পাঠিয়ে দেয়, যাতে পুরনো লিংক থেকে আসা কোনো কাস্টমার হারিয়ে না যান। কিন্তু অ্যাডের লিংকে এই এক ধাপ ঘোরাও বাড়তি সময়। তাই অ্যাডে সবসময় নিজের ডোমেইনের লিংকটাই দিন।

দুটো ফোনে একই ল্যান্ডিং পেজ, একটায় ফেসবুক অ্যাপের ভেতরের ব্রাউজারে আরেকটায় আলাদা ব্রাউজারে, দুটোর ওপরের অ্যাড্রেস বার দাগ দিয়ে দেখানো, পাশে লিংক ঘুরেছে কি না বোঝার দুটো উদাহরণ
কাস্টমার পেজটা দেখেন ফেসবুকের ভেতরেই। টেস্টও করুন ওখানে, আর অ্যাড্রেস বারটা খেয়াল করুন

Traffic objective দিয়ে ক্যাম্পেইন চালালে অ্যাড সেটে একটা Performance goal সিলেক্ট করতে হয়। সেখানে কয়েকটা অপশনের মধ্যে দুটো হলো Maximize number of link clicks আর Maximize number of landing page views। লিংক ক্লিকে ফেসবুক খোঁজে এমন মানুষ, যাঁরা চাপ দেন। তাঁদের অনেকে চাপ দিয়েই ফিরে যান। ল্যান্ডিং পেজ ভিউতে ফেসবুক খোঁজে এমন মানুষ, যাঁরা পেজ খোলা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। তাই ক্লিক একটু দামি পড়লেও ভিজিটর ভালো আসে।

এজন্য Traffic চালাতে হলে landing page views-এর গোলটাই নিন। মনে রাখবেন, এটা সবচেয়ে ভালো কাজ করে যখন পেজে পিক্সেল ঠিকমতো বসানো থাকে। পিক্সেল ছাড়া ফেসবুক শুধু আন্দাজ করতে পারে কার পেজ খুলেছে, পাকা খবর পায় না। আর ধীর পেজে এই গোল নিলে ফেসবুক কম মানুষ খুঁজে পায়, ফলে প্রতি ভিউয়ের খরচ বেড়ে যায়। আগে পেজ দ্রুত করুন, তারপর গোল।

তবে আপনার আসল লক্ষ্য তো অর্ডার, ভিজিটর না। পিক্সেল আর Conversions API থেকে Purchase ঠিকমতো গেলে Sales objective সাধারণত বেশি অর্ডার আনে, কারণ তখন ফেসবুক খোঁজে কেনার সম্ভাবনা বেশি এমন মানুষ। Sales ক্যাম্পেইন কীভাবে ধাপে ধাপে বানাবেন, সেটা ফেসবুক অ্যাড ক্যাম্পেইন সেটআপের লেখায় আছে। Sales চালালেও Landing page views কলামটা চালু রাখুন। পেজে কোনো সমস্যা হলে সবার আগে ওখানেই ধরা পড়ে।

পেজ দ্রুত রাখার চেকলিস্ট

নতুন অ্যাড চালুর আগে, আর পেজে বড় কোনো চেঞ্জের পরে, এই লিস্ট ধরে একবার মিলিয়ে নিন।

  • মোবাইল ডেটায় ফেসবুক অ্যাপ থেকে খুলে ছবি, দাম আর অর্ডার বাটন কয়েক সেকেন্ডেই আসছে।
  • PageSpeed Insights-এর Mobile ট্যাবে LCP ২.৫ সেকেন্ডের কাছাকাছি বা কম, না হলে কোন জিনিসটা দায়ী সেটা পড়ে নিয়েছেন।
  • প্রতিটা ছবি ২০০ কিলোবাইটের নিচে, প্রথম ছবিটা সবচেয়ে হালকা আর পরিষ্কার।
  • পেজে কোনো ভিডিও নিজে থেকে চালু হয় না, GIF নেই, স্লাইডারে তিন-চারটার বেশি ছবি নেই।
  • অ্যাডের লিংক সরাসরি আসল পেজে যায়, মাঝে কোনো ঘোরা নেই।
  • পিক্সেল বসানো আছে, Test events-এ PageView আসছে, আর অ্যাড সেটে সেই পিক্সেলটাই সিলেক্ট করা।
  • Ads Manager-এ Link clicks আর Landing page views পাশাপাশি দেখছেন, আর হারটা প্রতি সপ্তাহে নোট করছেন।

এর প্রতিটা কাজ নিজের হাতেই করা যায়, আর করা উচিতও। তবে WinningSeller-এ বানানো ল্যান্ডিং পেজে এর কয়েকটা শুরু থেকেই ঠিক করা থাকে। টেমপ্লেটগুলো বানানো হয়েছে পেজের কোড ১০০ কিলোবাইটের নিচে রাখার হিসাব ধরে। YouTube ভিডিওর জায়গায় প্রথমে শুধু একটা ছবি থাকে, প্লেয়ারটা আসে কাস্টমার চাপ দিলে। ফেসবুক পিক্সেল লোড হয় পেজের লেখা আর ছবি চলে আসার পরে, যাতে পিক্সেলের জন্য কাস্টমারকে বসে থাকতে না হয়। আর Conversions API চালু করলে ব্রাউজারে আটকে যাওয়া ইভেন্টও সার্ভার থেকে ফেসবুকে পৌঁছায়, অথচ একই ঘটনা দুবার গোনা হয় না। এতে ভিউয়ের সংখ্যা ফুলিয়ে দেখানো হয় না, শুধু পেজটা হালকা থাকে। অর্ডার আসবে কি না, সেটা শেষ পর্যন্ত আপনার ছবি আর অফারের ওপরেই। বাকি ফিচারগুলো এখানে দেখে নিন।

আজ শুধু একটা কাজ করুন। Ads Manager খুলে আপনার চালু অ্যাড সেটগুলোর পাশে Link clicks আর Landing page views কলাম দুটো বসান, আর হারটা হিসাব করুন। ৮০-এর নিচে হলে ওপরের লিস্ট ধরে প্রথম দুটো টেস্ট আজ রাতেই করে ফেলুন। যে টাকা এতদিন সাদা স্ক্রিনে হারাচ্ছিল, সেটা ফেরানোর এটাই সবচেয়ে সস্তা রাস্তা।

সাধারণ প্রশ্ন

Landing page views আর Link clicks-এর পার্থক্য কী?

Link clicks হলো অ্যাডের লিংকে কতবার চাপ পড়েছে। Landing page views হলো তাঁদের মধ্যে কতজনের ফোনে আপনার পেজটা আসলেই খুলেছে আর পিক্সেল সেটা গুনতে পেরেছে। দুটোর মাঝের ফাঁকটা হলো সেই ক্লিক, যার টাকা দিয়েছেন কিন্তু কাস্টমার আপনার অফার দেখেননি।

Landing page views কেন Link clicks-এর চেয়ে কম হয়?

সবচেয়ে বড় কারণ ধীর পেজ। কাস্টমার অপেক্ষা না করে ফিরে যান, পিক্সেল চালু হওয়ার আগেই। এর বাইরে ভারী ছবি, লিংক এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরে যাওয়া, পেজে পিক্সেল না থাকা আর ভুল করে পড়া ক্লিকেও ফাঁক বাড়ে।

কত শতাংশ ল্যান্ডিং পেজ ভিউ হলে ভালো ধরা যায়?

Meta এর কোনো অফিসিয়াল সংখ্যা দেয় না। অনেক মার্কেটার মোটামুটি ধরে নেন, ১০০ ক্লিকে ৭০ থেকে ৮০টার বেশি ভিউ হলে চলে, আর ৫০-এর নিচে নামলে পেজ বা পিক্সেলে সমস্যা খুঁজতে হয়। নিজের আগের সপ্তাহের সাথে মিলিয়ে দেখাই সবচেয়ে কাজের।

ল্যান্ডিং পেজ ভিউ শূন্য দেখাচ্ছে কেন?

বেশিরভাগ সময় এর মানে পিক্সেল ঠিকমতো কাজ করছে না, কাস্টমার আসছেন না এমন না। পেজে পিক্সেল বসানো আছে কি না, আর অ্যাড সেটে সেই পিক্সেলটাই সিলেক্ট করা আছে কি না দেখুন। Events Manager-এর Test events দিয়ে একবার চেক করে নিন।

অ্যাডে Link clicks নাকি Landing page views-এ অপটিমাইজ করব?

Traffic objective চালালে Landing page views নিন, কারণ তখন ফেসবুক খোঁজে তাঁদের, যাঁরা পেজ খোলা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। তবে আপনার লক্ষ্য যদি অর্ডার হয়, আর পিক্সেল থেকে Purchase ঠিকমতো যায়, তাহলে Sales objective সাধারণত ভালো কাজ করে।

মোবাইলে ওয়েবসাইটের স্পিড টেস্ট কীভাবে করব?

Google-এর ফ্রি টুল PageSpeed Insights (pagespeed.web.dev) খুলে পেজের লিংক দিন, তারপর Mobile ট্যাবের রেজাল্ট দেখুন। সাথে নিজের ফোনে মোবাইল ডেটায় ফেসবুক অ্যাপ থেকে লিংকটা খুলে গুনুন, দাম আর অর্ডার বাটন আসতে কয় সেকেন্ড লাগে।

#ল্যান্ডিং পেজ ভিউ#লিংক ক্লিক#ফেসবুক অ্যাড#ওয়েবসাইট স্পিড#পেজ স্পিড টেস্ট#পিক্সেল

আরও পড়ুন

ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ

ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে

গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে

ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।

·১০ মিনিটে পড়া যায়