WinningSeller
মার্কেটিং ও ল্যান্ডিং পেজ১৩ মিনিটে পড়া যায়

ল্যান্ডিং পেজ ডেমো, কাপড় থেকে মধু, কোন পেজে কী আগে বসালে অর্ডার আসে

কাপড়, গ্যাজেট, কসমেটিকস, মধু-ঘি, খেলনা আর কিচেনের জিনিস, প্রতিটার ল্যান্ডিং পেজে কোন সেকশন আগে আসবে আর কেন। ডেমো দেখে নিজের পেজ সাজানোর নিয়ম, টাকার উদাহরণসহ।

ল্যান্ডিং পেজ ডেমো, কাপড় থেকে মধু, কোন পেজে কী আগে বসালে অর্ডার আসে
এই লেখায় যা আছে
  1. ল্যান্ডিং পেজ ডেমো দেখে কী শিখবেন, আর হুবহু কপি কেন করবেন না?
  2. ভুল জিনিস আগে বসালে অ্যাডের টাকা কোথায় যায় (উদাহরণ)
  3. কাপড় আর ফ্যাশনের পেজে কী আগে আসে?
  4. গ্যাজেটের পেজে স্পেক, বক্সে কী থাকে আর ওয়ারেন্টি কোথায় বসাবেন?
  5. কসমেটিকস আর বিউটির পেজে কী দেখাবেন, কী দাবি করবেন না?
  6. মধু, ঘি আর হার্বাল প্রোডাক্টের লম্বা সেলস পেজ কেমন হয়?
  7. খেলনা, গিফট আর ঘর-কিচেনের জিনিসের পেজ কেমন হবে?
  8. মেনু ছাড়া পেজ আর প্যাকেজ কার্ড কখন কাজে লাগে?
  9. ডেমো দেখে নিজের পেজ বানাবেন কীভাবে, তিন ধাপে

ল্যান্ডিং পেজ ডেমো খুঁজছেন মানে আপনি আসলে জানতে চান, আপনার প্রোডাক্টের পেজটা দেখতে কেমন হলে অর্ডার আসবে। সোজা উত্তরটা আগে দিই। পেজের রঙের চেয়ে অনেক বেশি কাজ করে কোন কথাটা আগে আসে। কাপড়ের পেজে বড় ছবির ঠিক পরেই সাইজ থাকা চাই। গ্যাজেটের কাস্টমার আগে খোঁজেন স্পেক, বক্সে কী থাকে আর ওয়ারেন্টি কত দিনের। কসমেটিকসের পেজে প্রথমেই বলতে হয় ভেতরে কী আছে আর কীভাবে লাগাবেন। আর মধু-ঘিয়ের পেজে কাস্টমার জানতে চান জিনিসটা কোথা থেকে আসে, আর আপনাকে কেন বিশ্বাস করবেন। নিচে প্রতিটা ধরনের প্রোডাক্টের ডেমো আলাদা করে দেখাচ্ছি, কোন সেকশন কোন সিরিয়ালে আর কেন।

একটা দৃশ্য ভাবুন। রাত এগারোটায় Ads Manager খুলে দেখলেন, আজ অ্যাডে ৬০০ টাকা গেছে, লিংকে ক্লিক এসেছে দুশোর বেশি, অথচ অর্ডার এসেছে দুটো। অ্যাড খারাপ না, প্রোডাক্টও ভালো। মানুষগুলো পেজে এসেছিলেন ঠিকই, কিন্তু যে কথাটা জানতে এসেছিলেন সেটা না পেয়ে চলে গেছেন। এই কষ্টটা যিনি একবার পেয়েছেন, তিনি জানেন ডলার স্পেন্ড করা টাকা কীভাবে চোখের সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায়।

ইউটিউবে বা ফ্রিল্যান্সারের কাছে যে ডেমো দেখেন, সেটা সাধারণত একটাই ডিজাইন, সব প্রোডাক্টের জন্য একই রকম। কিন্তু থ্রি-পিসের কাস্টমার আর স্মার্টওয়াচের কাস্টমারের মাথায় প্রশ্ন এক না। প্রতিটা পেজে যে সাতটা জিনিস থাকতেই হয়, সেগুলো এক প্রোডাক্টের ল্যান্ডিং পেজের লেখায় বিস্তারিত আছে, এখানে আবার বলব না। এখানে শুধু প্রোডাক্ট ধরে ফারাকটা দেখাব।

ল্যান্ডিং পেজ ডেমো দেখে কী শিখবেন, আর হুবহু কপি কেন করবেন না?

একটা ভালো ডেমো থেকে শেখার জিনিস একটাই, সিরিয়াল। প্রথম স্ক্রিনে কী আছে, দাম কোথায় আসে, অর্ডার ফর্ম কোথায়, আর ফর্মের আগে কাস্টমারের কোন ভয়টা ভাঙানো হয়েছে। রং, ফন্ট আর ডিজাইন আপনি পরে যেকোনো সময় বদলাতে পারবেন। কিন্তু সিরিয়াল ভুল হলে সুন্দর পেজ থেকেও অর্ডার আসে না।

ভালো ডেমো খোঁজার সবচেয়ে সহজ জায়গা Meta-র Ad Library। দেশ Bangladesh সিলেক্ট করে নিজের প্রোডাক্টের নাম লিখে খুঁজুন, এখন যে অ্যাডগুলো চলছে সেগুলো আসবে, আর প্রতিটায় লেখা থাকে কবে থেকে চলছে। যে অ্যাড দুই-তিন মাস ধরে চলছে, সেটা সম্ভবত অর্ডার আনছে, নইলে কেউ এত দিন টাকা ঢালত না। সেই অ্যাডের লিংকে ঢুকে পেজটা দেখুন।

ডেমো দেখার সময় হাতে একটা কাগজ রাখুন। পেজটা ওপর থেকে নিচে স্ক্রল করুন, আর প্রতিটা অংশের এক লাইনের নাম লিখুন। যেমন "বড় ছবি আর দাম", "সাইজ চার্ট", "কাস্টমারের স্ক্রিনশট", "অর্ডার ফর্ম"। তিন-চারটা পেজের লিস্ট পাশাপাশি রাখলে দেখবেন একই ধরনের প্রোডাক্টে সিরিয়ালটা প্রায় একই রকম। ওটাই শেখার জিনিস।

তবে হুবহু কপি করবেন না। অন্যের লেখা আর ছবি তাঁর নিজের জিনিস, অনুমতি ছাড়া নিলে সেটা চুরিই। তার ওপর একই ছবি তিনটা পেজে দেখলে কাস্টমার ধরে নেন কেউ একজন নকল, আর সেই সন্দেহটা সাধারণত নতুন পেজের ঘাড়েই পড়ে। সবচেয়ে বড় বিপদটা অবশ্য দাবিতে। ওই পেজে "৭ দিনে ফল" ধরনের যে কথা লেখা আছে, সেটা হয়তো তাঁর প্রোডাক্টেও সত্যি না, আপনার প্রোডাক্টে তো আরও না। সেই কথা বিশ্বাস করে যিনি অর্ডার করবেন, ফল না পেলে তিনি পার্সেল ফেরত দেবেন, নয়তো পেজে খারাপ রিভিউ দেবেন।

ভুল জিনিস আগে বসালে অ্যাডের টাকা কোথায় যায় (উদাহরণ)

সিরিয়ালের দাম কত, সেটা টাকায় দেখলে বোঝা সহজ। নিচের সংখ্যাগুলো একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের মাপা হিসাব না। নিজের অ্যাডের খরচ বসিয়ে একবার মিলিয়ে নিন।

ধরুন আপনি থ্রি-পিস বেচেন। দিনে ৫০০ টাকার অ্যাড চালাচ্ছেন, আর তাতে ২০০ জন পেজে আসছেন। তাহলে প্রতিজন ভিজিটরের পেছনে আপনার খরচ ২.৫০ টাকা। আপনার পেজে ওপরে লম্বা একটা গল্প, তারপর রিভিউ, তারপর অর্ডার ফর্ম, আর সাইজ চার্টটা একদম নিচে, ফর্মেরও পরে।

এবার ধরুন ২০০ জনের মধ্যে ৬০ জন আসলে সাইজটাই জানতে চেয়েছিলেন। তাঁদের ১০ জন ইনবক্সে জিজ্ঞেস করলেন, আর বাকি ৫০ জন দুই-তিন স্ক্রিন নেমে সাইজ না পেয়ে বেরিয়ে গেলেন। ৫০ জন × ২.৫০ টাকা = ১২৫ টাকা, প্রতিদিন। ত্রিশ দিনে ৩,৭৫০ টাকা চলে গেল শুধু একটা টেবিল ভুল জায়গায় থাকার কারণে। আর ইনবক্সে যে ১০ জন এলেন, তাঁদের উত্তর দিতে দিতে আপনার রাত বারোটা বাজল, তার মধ্যে কয়েকজন উত্তর পাওয়ার আগেই ঘুমিয়ে পড়লেন।

সাইজ চার্টটা ছবির ঠিক পরে নিয়ে এলে এই ৫০ জনের সবাই অর্ডার করবেন না, সেটা ঠিক। কিন্তু যিনি কিনতেই এসেছিলেন, তিনি অন্তত খোঁজার জিনিসটা পাবেন। অ্যাডের টাকা বাড়ানোর আগে পেজের সিরিয়াল ঠিক করা সবচেয়ে সস্তা কাজ।

কাপড় আর ফ্যাশনের পেজে কী আগে আসে?

কাপড়ের কাস্টমারের মনে দুটো ভয় কাজ করে। গায়ে লাগবে তো, আর রংটা ছবির মতো আসবে তো। কাপড়ের পার্সেল দরজা থেকে ফেরত আসার বড় কারণও এই দুটো। তাই কাপড়ের পেজ সাজাতে হয় এই দুই ভয় ভাঙানোর জন্য।

ওপরে থাকবে একটা বড়, লম্বা ছবি, যেখানে পুরো জামাটা পরা অবস্থায় মাথা থেকে পা পর্যন্ত দেখা যায়। ঠিক তার নিচে কয়েকটা ছবি পাশাপাশি দিন, সামনে থেকে, পেছন থেকে, আর কাছ থেকে তোলা কাপড়ের বুনন আর সেলাইয়ের ছবি। তারপর রঙের অপশন রাখুন, প্রতিটা রঙের নিজের আসল ছবিসহ। একটা রঙের ছবি দেখিয়ে বাকিগুলো শুধু নামে লিখলে কাস্টমার নিজের মতো কল্পনা করে নেন, আর পার্সেল খুলে মন খারাপ করেন।

এরপর আসবে সাইজ চার্ট, ইঞ্চিতে বুক, লম্বা আর কোমরের মাপ। মোবাইলে টেবিলটা যেন পাশে সরিয়ে পড়া যায়, কারণ কাস্টমারের বেশিরভাগই ফোনে দেখছেন। সাইজ চার্ট কীভাবে বানাবেন আর এক্সচেঞ্জের নিয়ম পেজে কীভাবে লিখবেন, সেটা অনলাইনে কাপড়ের ব্যবসার গাইডে আলাদা করে আছে। সাইজের পরে লিখে দিন কাপড়টা কী দিয়ে তৈরি, কীভাবে ধোবেন আর রোদে রং যায় কি না। তারপর অর্ডার করার তিনটা ছোট ধাপ, অর্ডার ফর্ম, আর একদম শেষে প্রশ্নোত্তর রাখুন।

পেজের একদম ওপরে চলন্ত লেখার একটা পটি রাখতে পারেন, যেখানে লেখা থাকবে "ক্যাশ অন ডেলিভারি" আর "সারা দেশে ডেলিভারি"। নতুন কালেকশনের অ্যাডে এটা কাস্টমারকে প্রথম সেকেন্ডেই জানিয়ে দেয় যে টাকা আগে দিতে হবে না।

মোবাইলে থ্রি-পিসের ল্যান্ডিং পেজের নকশা, বড় ছবি আর রঙের অপশনের ঠিক নিচে ইঞ্চিতে বুক, লম্বা আর কোমরের সাইজ চার্ট, পাশে কাপড়ের পেজের আটটা অংশের সিরিয়াল
কাপড়ের পেজে সাইজ চার্ট থাকুক ছবির কাছে, অর্ডার ফর্মের আগে

গ্যাজেটের পেজে স্পেক, বক্সে কী থাকে আর ওয়ারেন্টি কোথায় বসাবেন?

গ্যাজেটের কাস্টমার সংখ্যা মেলান। ব্যাটারি কত mAh, চার্জে কত ঘণ্টা চলে, পানিতে কতটা টেকে, কোন ফোনের সাথে চলে। তিনি সম্ভবত আরও দুটো পেজ খুলে রেখেছেন, আর আপনার পেজে সংখ্যাগুলো খুঁজছেন তুলনা করার জন্য। সংখ্যা না পেলে তিনি ধরে নেন আপনি কিছু লুকাচ্ছেন।

তাই প্রথম স্ক্রিনে প্রোডাক্টের পরিষ্কার ছবি আর দামের পরেই তিন-চারটা বড় সংখ্যা বসান, শুধু সবচেয়ে জরুরিগুলো। যেমন একটা স্মার্টওয়াচে স্ক্রিনের মাপ, ব্যাটারি কত দিন চলে আর পানিতে টেকে কি না। এরপর "বক্সে যা যা থাকছে", ছবিসহ। এটা অনেকে বাদ দেন, আর পরে ফোন আসে "চার্জার তো দেননি"। কাস্টমার ধরে নিয়েছিলেন চার্জার থাকবে, আপনি জানতেন থাকবে না, মাঝখানে একটা পার্সেল ফেরত এলো।

তারপর পুরো স্পেসিফিকেশনের টেবিল, যার যার দরকার তিনি খুঁটিয়ে পড়বেন। আপনার একই প্রোডাক্টের দুটো মডেল থাকলে একটা তুলনার টেবিল দিন, কোনটায় কী আছে আর কী নেই। অন্য ব্র্যান্ডের সাথে তুলনা বানাবেন না, কারণ তাদের সংখ্যা আপনি নিজে মেপে দেখেননি। এরপর ৩০ সেকেন্ডের একটা ভিডিও দিন, যেখানে জিনিসটা চালু হচ্ছে আর কাজ করছে। শেষে ওয়ারেন্টির কথা পরিষ্কার করে লিখুন। কত দিনের, কোন সমস্যা কভার করে আর কোনটা করে না, আর নষ্ট হলে কাস্টমার কাকে ফোন করবেন। তারপর আসবে অর্ডার ফর্ম আর প্রশ্নোত্তর।

গ্যাজেটের পেজে লেখা কম রাখুন, সংখ্যা বেশি দিন। "অসাধারণ পারফরম্যান্স" লিখে এক লাইন খরচ করার চেয়ে "এক চার্জে ৫ দিন (রোজ নোটিফিকেশন চালু রেখে)" অনেক বেশি কাজ করে, যদি কথাটা সত্যি হয়।

কসমেটিকস আর বিউটির পেজে কী দেখাবেন, কী দাবি করবেন না?

কসমেটিকসের কাস্টমার জানতে চান তিনটা জিনিস। জিনিসটা আসল কি না, ভেতরে কী আছে, আর তাঁর স্কিনে কোনো সমস্যা করবে কি না। এখানে বড় বড় কথার চেয়ে খোলাখুলি কথা বেশি ভরসা দেয়।

পেজের ওপরে প্রোডাক্টের এমন পরিষ্কার ছবি রাখুন, যেখানে লেবেলের লেখা পড়া যায়। তারপর ভেতরের মূল ইনগ্রেডিয়েন্টগুলোর নাম দিন, আর প্রতিটা কী কাজ করে সেটা এক লাইনে সহজ ভাষায় বলুন। এরপর লাগানোর নিয়ম, সকালে না রাতে, কতটুকু নেবেন আর কতক্ষণ রাখবেন। তারপর টেক্সচার দেখান, হাতের ওপর একটু নিয়ে কাছ থেকে তোলা ছবি বা ছোট ভিডিও, কারণ কাস্টমার জানতে চান ক্রিমটা ঘন না পাতলা। তারপর একটা সাবধানতার অংশ রাখুন, কাদের আগে হাতের এক কোণে লাগিয়ে দেখা উচিত আর কোন অবস্থায় না লাগানোই ভালো। মেয়াদ আর ব্যাচ নম্বরের ছবিটাও কাছ থেকে দিন। এই অংশটা দেখলে কাস্টমার বোঝেন আপনি শুধু বেচতে চান না, তাঁর কথাও ভাবছেন।

দাবির জায়গায় খুব সাবধান থাকুন। "৭ দিনে ফর্সা", "দাগ চিরতরে দূর", এমন কথা লিখবেন না। ২০২৬ সালের অক্টোবরে Meta-র Transparency Center-এ Health and Wellness পলিসিতে লেখা আছে, অ্যাডে কারও চেহারা বা শরীর নিয়ে ছোট করে এমন কথা চলবে না। কোনো শর্ত বা সতর্কতা ছাড়া নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট ফলের কথা দেওয়াও সেখানে নিষেধ। একই জায়গার Personal Attributes পলিসি "আপনার কি ব্রণ আছে?" ধরনের সরাসরি প্রশ্নও আটকায়, কারণ তাতে মনে হয় অ্যাড যিনি দিচ্ছেন তিনি কাস্টমারের শরীরের কথা জানেন। অ্যাডের লিংক যে পেজে যায়, সেই পেজেও এমন কথা না রাখাই নিরাপদ।

আগে-পরের ছবি নিয়ে একটা কথা। Meta কসমেটিক প্রোডাক্টের অ্যাডে আগে-পরের ছবি পুরোপুরি বন্ধ করেনি, তবে সেই অ্যাড শুধু ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের দেখাতে হয়। তবু পেজে না রাখাই ভালো। সবার স্কিন এক না, একজনের ছবি দেখে অন্যজন একই ফল আশা করেন, আর না পেলে ঠকেছেন বলে মনে করেন।

মধু, ঘি আর হার্বাল প্রোডাক্টের লম্বা সেলস পেজ কেমন হয়?

খাবার আর হার্বাল প্রোডাক্টে কাস্টমারের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন বিশ্বাস। বাজারে ভেজালের গল্প সবাই শুনেছেন, তাই তিনি ধরে নেন আপনিও হয়তো সেরকম। এখানে পেজ দুই রকম হয়, আর কোনটা নেবেন সেটা প্রোডাক্ট কতটা চেনা তার ওপর নির্ভর করে।

মধু, ঘি, চাল বা মসলার মতো চেনা জিনিসে ছোট আর ঘরোয়া পেজ ভালো চলে। সিরিয়ালটা হলো জিনিসটা কোথা থেকে আসে, কীভাবে চিনবেন, আর কীভাবে খাবেন। মধু হলে লিখুন কোন এলাকার, কোন মাসের, কে সংগ্রহ করেন। ঘি হলে লিখুন কোন দুধ থেকে কীভাবে জ্বাল দেওয়া হয়। তারপর জার বা প্যাকেটের কাছ থেকে তোলা ছবি দিন, যেখানে লেবেল পড়া যায়। লেবেলে কী থাকা লাগে আর কোন কাগজ দরকার, সেটা ফুড লাইসেন্সের লেখায় দেখে নিন।

হার্বাল বা নতুন ধরনের প্রোডাক্টে ফেসবুক অ্যাডের চেনা লম্বা সেলস পেজটা বেশি চলে। আপনি নিজেও ফিডে দেখেছেন। ওপরে সবুজ পটি, হলুদ বড় বাটন আর একটা ভিডিও থাকে, তার নিচে লাল একটা হাইলাইট লাইন। এরপর একে একে আসে "আপনি জানেন কি?" ধরনের একটা অংশ, টিক দেওয়া "কেন নেবেন" লিস্ট, প্যাকেটের কাছের ছবি, কাস্টমারের রিভিউর স্ক্রিনশট আর ভিডিও, অফারের দাম, ক্যাশ অন ডেলিভারির কথা, আর একদম নিচে প্যাকেজ বাছাইয়ের কার্ডসহ অর্ডার ফর্ম। পেজটা লম্বা কারণ কাস্টমারকে বোঝাতে সময় লাগে। আর মাঝে মাঝে বাটন রাখা হয়, যাতে যিনি মাঝপথেই রাজি হয়ে গেছেন তাঁকে পুরোটা নামতে না হয়।

মোবাইলের স্ক্রিনে একটা হার্বাল প্রোডাক্টের লম্বা সেলস পেজ, ওপরে সবুজ পটি আর হলুদ বড় অর্ডার বাটন, নিচের দিকে তিনটা প্যাকেজ কার্ড পাশাপাশি
হার্বাল প্রোডাক্টের চেনা লম্বা পেজ। বাটন মাঝে মাঝে, প্যাকেজ কার্ড একদম নিচে

লম্বা পেজের সবচেয়ে বড় ফাঁদ হলো দাবি। "ডায়াবেটিস ভালো হয়", "গ্যাস্ট্রিক চিরতরে শেষ", এমন কথা লিখবেন না। Meta-র Health and Wellness পলিসিতেই বলা আছে, ডায়াবেটিসের মতো যে রোগ সারে না, সেটা সারানোর দাবি অ্যাডে চলবে না। আর রিভিউর স্ক্রিনশট বা ভিডিও রাখবেন শুধু আসল কাস্টমারের, তাঁর অনুমতি নিয়ে, নাম ঢেকে। আসল রিভিউ না থাকলে সেকশনটা বাদ দিন। WinningSeller-এর "হার্বাল প্রোডাক্ট" টেমপ্লেটটা এই লম্বা পেজের সিরিয়ালেই সাজানো, আর সেখানে রিভিউ আর ভিডিওর অংশ কাস্টমার দেখতেই পান না, যতক্ষণ না আপনি আসল রিভিউ আর ভিডিও বসাচ্ছেন। ফাঁকা বা বানানো রিভিউ নিয়ে পেজ পাবলিশ হয়ে যাওয়ার ভয়টা তাই থাকে না।

খেলনা, গিফট আর ঘর-কিচেনের জিনিসের পেজ কেমন হবে?

খেলনার পেজ যিনি পড়ছেন, তিনি বাচ্চা না, বাবা-মা। তাঁদের প্রশ্নগুলো আলাদা। কত বছরের বাচ্চার জন্য, কী দিয়ে বানানো, ধারালো কোনা আছে কি না, ব্যাটারি লাগে কি না আর সেটা বক্সে আছে কি না। এই চারটা প্রশ্নের উত্তর রঙিন চারটা কার্ডে প্রথম দুই স্ক্রিনের মধ্যে রাখুন। তারপর রঙের অপশন দেখান, আর তার পরে উপহার পাঠানোর নিয়মটা লিখুন।

উপহারের অংশে একটা কথা পরিষ্কার লিখতেই হবে। ক্যাশ অন ডেলিভারিতে উপহার পাঠালে টাকা দেবেন যিনি পার্সেল হাতে পাবেন। ধরুন কেউ ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ভাতিজার জন্মদিনে একটা খেলনা পাঠালেন, আর ডেলিভারি ম্যান গিয়ে ভাইয়ের কাছে টাকা চাইলেন। লজ্জার একটা মুহূর্ত, আর অনেক সময় পার্সেলটাও ফেরত আসে। তাই উপহারের পেজে লিখে দিন, আগে টাকা দিয়ে পাঠাতে চাইলে কীভাবে দেবেন।

ঘর আর কিচেনের জিনিস, যেমন সবজি কাটার যন্ত্র, পানির ফিল্টার বা স্টোরেজ বক্স, বিক্রি হয় একটা চেনা ঝামেলা দেখিয়ে। সিরিয়ালটা হলো ঝামেলাটা কী, এই জিনিস সেখানে কী কাজ করে, তারপর একটা ডেমো ভিডিও। এই ধরনের প্রোডাক্টে ভিডিওটাই আসল সেলসম্যান, কারণ কাজ করতে না দেখলে মানুষ বিশ্বাস করেন না একটা যন্ত্রে এক মিনিটে পেঁয়াজ কুচি হয়। ভিডিওর পরে চালানোর ধাপ আর মাপ লিখুন, কত লিটার, কত ইঞ্চি, কোন চুলায় চলে। একদম শেষে ১টা বা ২টা নেওয়ার প্যাকেজ কার্ড রাখুন। "কী করে" লিখুন, "জীবন বদলে দেবে" লিখবেন না।

মেনু ছাড়া পেজ আর প্যাকেজ কার্ড কখন কাজে লাগে?

অ্যাডে ক্লিক করে যিনি এলেন, তিনি একটা প্রোডাক্ট দেখতে এসেছেন। পেজের ওপরে দোকানের পুরো মেনু থাকলে তিনি "সব প্রোডাক্ট" বা "অফার" চেপে অন্য জায়গায় ঘুরতে চলে যান, আর যে প্রোডাক্টের জন্য আপনি টাকা দিলেন সেটার কথা ভুলে যান। তাই অ্যাডের ল্যান্ডিং পেজে মেনু সরিয়ে দেওয়াই সাধারণত ভালো। তবে নিচে রিটার্ন পলিসি আর যোগাযোগের লিংক রাখুন। কাস্টমার এগুলো খোঁজেন, আর না পেলে সন্দেহ করেন।

মেনু রেখে দিন যখন পেজে আসা মানুষ একটা প্রোডাক্ট কিনতে আসেননি, ঘুরে দেখতে এসেছেন। যেমন পুরনো কাস্টমারকে পাঠানো ঈদের কালেকশনের লিংক। সেখানে মেনু থাকলে তিনি আরও কিছু দেখেন, আর সেটাই আপনি চান।

প্যাকেজ কার্ড কাজে লাগে যখন একই প্রোডাক্ট কয়েক রকম পরিমাণে বেচেন। ৫০০ গ্রাম, ১ কেজি আর ২ কেজি মধু, অথবা ১টা আর ২টা চপার। প্রতিটা প্যাকেজ আলাদা একটা বড় কার্ডে থাকে, নিজের দাম আর এক লাইনের একটা কথাসহ, যেমন "পরিবারের জন্য"। কাস্টমারকে মনে মনে গুণ-ভাগ করতে হয় না, আঙুল দিয়ে একটা কার্ড ছুঁলেই হয়। একটাই জিনিস, একটাই দাম হলে কার্ডের দরকার নেই, সাধারণ পরিমাণের ঘরই যথেষ্ট। আর কার্ডে যে দাম লেখা, অর্ডারে ঠিক সেটাই আসতে হবে। পেজে এক দাম আর ফোনে আরেক দাম বললে কাস্টমার মনে করেন ঠকানো হচ্ছে।

WinningSeller-এ মেনু সরানো পেজ সেটিংসের একটা টিক, "মেনু ছাড়া পেইজ"। টিক দিলে ওপরে মেনু, লোগো বা ঘোষণা বার কিছুই থাকে না, আর একদম নিচে এক লাইনে দোকানের নাম আর মেনুর ফুটার লিংকগুলো (যেমন পলিসি পেজ) থাকে। অর্ডার ফর্ম, মোবাইলের নিচের অর্ডার বাটন আর পিক্সেল আগের মতোই কাজ করে। অর্ডার ফর্মে প্রোডাক্টের প্রতিটা ভ্যারিয়েন্ট আলাদা দামসহ বড় কার্ডে দেখানো যায়, আর কার্ডের দাম আসে প্রোডাক্ট থেকে, তাই কার্ডে এক দাম আর অর্ডারে আরেক দাম হওয়ার সুযোগ থাকে না।

ডেমো দেখে নিজের পেজ বানাবেন কীভাবে, তিন ধাপে

প্রথম ধাপ, প্রোডাক্টের ধরন মিলিয়ে একটা ডেমো বাছুন। ওপরের যে অংশটা আপনার প্রোডাক্টের সাথে মেলে, সেখানকার সিরিয়ালটা কাগজে লিখুন। তারপর ইনবক্সের প্রশ্নগুলো মিলিয়ে দেখুন, আপনার কাস্টমারের প্রথম প্রশ্নটা ওপরের দিকে আছে কি না। না থাকলে সেই সেকশনটা ওপরে তুলুন।

দ্বিতীয় ধাপ, প্রতিটা সেকশনে নিজের আসল তথ্য আর নিজের ছবি বসান। যেটা আপনার কাছে নেই, যেমন রিভিউ বা ভিডিও, সেই সেকশন ফাঁকা বা বানানো রাখবেন না, আপাতত বাদ দিন। ছবি কম থাকলে আগে ছবি তুলুন, তারপর পেজ। একটা ভালো সিরিয়ালে ঝাপসা ছবি বসালে পুরো পেজটাই সস্তা দেখায়।

তৃতীয় ধাপ, নিজের ফোনে কাস্টমার হয়ে পড়ুন। মোবাইল ডেটায় পেজটা খুলুন, আর ভাবুন আপনি প্রথমবার এই দোকানে এসেছেন। প্রথম দুই স্ক্রিনে দাম আর সবচেয়ে বড় প্রশ্নের উত্তর পাচ্ছেন কি না দেখুন। তারপর পরিবারের এমন কাউকে পেজটা দিন যিনি প্রোডাক্টটা চেনেন না, আর জিজ্ঞেস করুন কোথায় আটকালেন। তিনি যেখানে থামলেন, ঠিক সেখানেই আপনার কাস্টমারও থামবেন।

পুরো কাজটা হাতে করতে চাইলে ওপরের তিন ধাপই যথেষ্ট, কোনো টুল না কিনেও। সিরিয়াল ঠিক হওয়ার পরের সপ্তাহে একই অ্যাড বাজেটে ইনবক্সে "সাইজ কত?" প্রশ্ন কমে আসছে কি না, সেটা খেয়াল করুন। ওটাই প্রথম লক্ষণ যে পেজ এখন কাস্টমারের কথা বলছে।

WinningSeller-এ কাজটা আরও ছোট হয়ে যায়। "পেইজ ও ল্যান্ডিং" থেকে "নতুন ল্যান্ডিং পেইজ" চাপলে "একটি টেমপ্লেট দিয়ে শুরু করুন" অংশে এখন ১৪টা টেমপ্লেট আসে, প্রতিটার নিচে এক লাইনে লেখা পেজটা কেমন। এই লেখার ডেমোগুলোর মতো করেই সাজানো আছে "ফ্যাশন কালেকশন", "গ্যাজেট লঞ্চ", "বিউটি রিচুয়াল", "খাঁটি পেজ", "খেলনা আর গিফট" আর "ঘর আর কিচেন"। যে তথ্য শুধু আপনি জানেন, যেমন কাপড়ের মাপ বা ওয়ারেন্টির দিন, সেগুলোর জায়গায় [ ] ব্র্যাকেট রাখা থাকে, আর কোনো ব্র্যাকেট রয়ে গেলে পাবলিশের আগে মনে করিয়ে দেয়। রং পছন্দ না হলে "পেইজের লুক" চেঞ্জ করলে শুধু চেহারা বদলায়, আপনার লেখা আর সেকশন যেমন ছিল তেমনই থাকে। বাকি ফিচারগুলো এখানে দেখে নিন।

সাধারণ প্রশ্ন

ল্যান্ডিং পেজ ডেমো কোথায় দেখব?

সবচেয়ে ভালো জায়গা Meta-র Ad Library, যেখানে দেশ Bangladesh সিলেক্ট করে প্রোডাক্টের নাম লিখলে এখন চলা অ্যাড আর সেগুলোর লিংক দেখা যায়। যে অ্যাড অনেক দিন ধরে চলছে সেটা সাধারণত অর্ডার আনে, তাই সেগুলোর লিংকে ঢুকে পেজ দেখুন। নিজের প্রোডাক্টের মতো জিনিস বেচে এমন তিন-চারটা পেজের সেকশনের সিরিয়াল কাগজে লিখে মিলিয়ে নিন। কোনো পেজ বিল্ডারে টেমপ্লেট থাকলে সেগুলোও এক ধরনের ডেমো।

অন্যের ল্যান্ডিং পেজ হুবহু কপি করা কি ঠিক?

না। সেকশনের সিরিয়াল দেখে শেখা যায়, কিন্তু অন্যের লেখা, ছবি আর রিভিউ কপি করা চুরি। আর তাঁর পেজে যে দাবি আছে সেটা আপনার প্রোডাক্টে সত্যি না হলে কাস্টমার ঠকবেন, পার্সেলও ফেরত আসবে।

ল্যান্ডিং পেজ কত লম্বা হওয়া উচিত?

প্রোডাক্ট যত দামি বা যত অচেনা, পেজ তত লম্বা হতে পারে। চেনা আর কম দামের জিনিসে ছোট পেজই ভালো। হার্বাল বা নতুন ধরনের প্রোডাক্টে কাস্টমারকে বোঝাতে অনেকটা জায়গা লাগে, তাই সেখানে লম্বা সেলস পেজ চলে, আর মাঝে মাঝে অর্ডারের বাটন রাখতে হয়।

রিভিউ না থাকলে নতুন পেজে কী দেখাব?

রিভিউর সেকশনটা আপাতত বাদ দিন, বানানো রিভিউ বসাবেন না। তার জায়গায় নিজের তোলা আসল ছবি, প্রোডাক্ট কাজ করছে এমন একটা ছোট ভিডিও আর ক্যাশ অন ডেলিভারির কথা পরিষ্কার করে লিখুন। প্রথম কয়েকজন কাস্টমার খুশি হলে তাঁদের অনুমতি নিয়ে সেই মেসেজের স্ক্রিনশট বসান।

মেনু ছাড়া ল্যান্ডিং পেজ কি ভালো?

অ্যাড থেকে আসা কাস্টমারের জন্য সাধারণত ভালো, কারণ মেনু থাকলে তিনি অন্য পেজে ঘুরতে চলে যান আর অর্ডারের কথা ভুলে যান। তবে পেজের একদম নিচে রিটার্ন পলিসি আর যোগাযোগের লিংক রেখে দিন, যাতে কাস্টমার চাইলে খুঁজে পান।

এক ল্যান্ডিং পেজে কয়েকটা প্যাকেজ রাখা যায়?

হ্যাঁ, একই প্রোডাক্টের ১টা, ২টা বা ৩টার প্যাকেজ আলাদা কার্ডে রাখা যায়, প্রতিটায় নিজের দাম লেখা থাকে। কাস্টমারকে মনে মনে যোগ-বিয়োগ করতে হয় না বলে বাছাই সহজ হয়। তবে কার্ডে যে দাম লেখা, অর্ডারে ঠিক সেই দামই আসতে হবে।

#ল্যান্ডিং পেজ ডেমো#ল্যান্ডিং পেজ ডিজাইন#সেলস পেজ#সাইজ চার্ট#প্যাকেজ কার্ড#ফেসবুক অ্যাড

আরও পড়ুন

ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ

ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে

গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে

ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।

·১০ মিনিটে পড়া যায়