WinningSeller
অনলাইন ব্যবসা শুরু১৫ মিনিটে পড়া যায়

অনলাইনে কসমেটিকস ব্যবসা শুরুর নিয়ম, নকল মাল আর রিঅ্যাকশনের ভয় ছাড়া

কোন কসমেটিকস দিয়ে শুরু করবেন, আসল মাল কার কাছ থেকে কিনবেন, ঔষধ প্রশাসনের নতুন নিয়মে আপনার কোন কাগজ লাগে, মেয়াদ আর গরম থেকে স্টক কীভাবে বাঁচাবেন, খোলা প্রোডাক্ট ফেরত আর রিঅ্যাকশন কীভাবে সামলাবেন, আর একটা অর্ডারে আসলে কত টাকা থাকে।

অনলাইনে কসমেটিকস ব্যবসা শুরুর নিয়ম, নকল মাল আর রিঅ্যাকশনের ভয় ছাড়া
এই লেখায় যা আছে
  1. অনলাইনে কসমেটিকস ব্যবসা কেমন, কার জন্য?
  2. কোন কসমেটিকস দিয়ে শুরু করবেন, স্কিনকেয়ার না মেকআপ?
  3. আসল কসমেটিকস কোথা থেকে কিনবেন, ইমপোর্টার, পাইকার না নিজে আমদানি?
  4. কসমেটিকস বেচতে কি লাইসেন্স লাগে, DGDA আর BSTI-র নিয়ম কী?
  5. মেয়াদ, ব্যাচ নম্বর আর গরম থেকে স্টক বাঁচাবেন কীভাবে?
  6. খোলা প্রোডাক্ট ফেরত নেবেন কি, রিঅ্যাকশন হলে কী বলবেন?
  7. কসমেটিক ব্যবসায় লাভ কেমন, একটা অর্ডারের হিসাব (উদাহরণ)
  8. পোস্ট আর অ্যাডে কোন কথা লিখলে বিপদ?
  9. আজ কোথা থেকে শুরু করবেন?

অনলাইনে কসমেটিকস ব্যবসা শুরু করার সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো ৬ থেকে ৮টা চেনা স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট দিয়ে শুরু করা। মাল কিনবেন ব্র্যান্ডের অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে, যেখানে ইনভয়েস আর ব্যাচ নম্বর পাবেন। এরপর স্টকের মেয়াদের দিকে চোখ রাখবেন, আর কারও রিঅ্যাকশন হলে তর্ক না করে তাঁর পাশে দাঁড়াবেন। এই ব্যবসা ভালো চলে, কারণ ফেস ওয়াশ বা লোশন মাখতে মাখতে শেষ হয়, আর খুশি কাস্টমার আবার আপনার কাছেই ফেরেন। কিন্তু উল্টো দিকটাও সত্যি। একটা নকল ক্রিম বা মেয়াদ পেরোনো কৌটা থেকে আসা একটা খারাপ রিভিউ, কষ্ট করে গড়া পেজের বিশ্বাস কয়েক দিনেই বসিয়ে দিতে পারে। তাই নিচে প্রতিটা ধাপের সাথে বলছি কেন করবেন, আর না করলে কী হারাবেন।

অনলাইনে কসমেটিকস ব্যবসা কেমন, কার জন্য?

একটা থ্রি-পিস কেউ মাসে মাসে কেনেন না, কিন্তু একটা ১০০ মিলির ফেস ওয়াশ দেড়-দুই মাসেই শেষ হয়ে যায়। জিনিসগুলো ছোট আর হালকা, তাই কুরিয়ার চার্জও কম পড়ে।

তবে কাপড় বা গ্যাজেটের সাথে একটা বড় তফাত আছে। কাস্টমার এই জিনিস নিজের মুখে, চোখের পাশে বা চুলে লাগাবেন। থ্রি-পিসের রং না মিললে মানুষ বিরক্ত হন। কিন্তু ক্রিম লাগিয়ে কারও গাল লাল হয়ে গেলে তিনি ভয় পান। তখন তিনি শুধু টাকা ফেরত চান না, রেগে গিয়ে পেজে লেখেন, স্ক্রিনশট দেন। তাই এই ব্যবসায় বিশ্বাসটাই আসল পুঁজি।

এই ব্যবসা তাঁর জন্য ভালো, যিনি নিজে স্কিনকেয়ার নিয়ে পড়েন আর বোঝেন। তেলতেলে ত্বকে কোন ফেস ওয়াশ মানায়, রোদে বেরোনোর আগে সানস্ক্রিন কতটুকু লাগাতে হয়, এসব যিনি কাস্টমারকে বুঝিয়ে বলতে পারেন, কাস্টমার তাঁর কাছেই বারবার আসেন। সপ্তাহে একবার বসে স্টকের মেয়াদ দেখার ধৈর্য যাঁর আছে, তিনিও এখানে ভালো করবেন।

কার জন্য না, সেটাও পরিষ্কার বলি। যিনি দ্রুত লাভের জন্য সবচেয়ে সস্তা পাইকারের মাল খোঁজেন, তাঁর জন্য এটা না। যিনি "রং ফর্সা হবে" ধরনের ক্রিম বেচে তাড়াতাড়ি অর্ডার বাড়াতে চান, তাঁর জন্যও না। এমন সেলার প্রথম মাসে হয়তো অর্ডার পান, কিন্তু তৃতীয় মাসে তাঁর দিন কাটে অভিযোগ সামলাতে সামলাতে।

কোন কসমেটিকস দিয়ে শুরু করবেন, স্কিনকেয়ার না মেকআপ?

নতুন সেলারের জন্য স্কিনকেয়ার দিয়ে শুরু করাই সবচেয়ে নিরাপদ, মানে ফেস ওয়াশ, ময়েশ্চারাইজার, সানস্ক্রিন, বডি লোশন বা শ্যাম্পুর মতো জিনিস। এগুলোর রং বা শেড নিয়ে ঝামেলা নেই, প্রতিটা প্রোডাক্টের এক-দুইটা সাইজ থাকে, আর শেষ হলে কাস্টমারকে আবার কিনতে হয়। কোন ধরন কেমন, নিচের টেবিলে পাশাপাশি দিলাম।

ধরন সুবিধা ঝামেলা
স্কিনকেয়ার (ফেস ওয়াশ, সানস্ক্রিন, লোশন) শেষ হয়, তাই কাস্টমার আবার কেনেন মেয়াদ আর ত্বকে রিঅ্যাকশনের প্রশ্ন
মেকআপ (লিপস্টিক, ফাউন্ডেশন, কাজল) ছবি আর ভিডিওতে দেখানো সহজ একেক শেডে একেক স্টক, শেড না মিললে ফেরত
পারফিউম দাম বেশি, তাই অর্ডারপ্রতি টাকা বেশি নকলের ভয় সবচেয়ে বেশি, ছোট বোতলে ভেঙে বেচা যায় না
রং ফর্সাকারী ক্রিম চাহিদা আছে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি, অ্যাড আর আইনের ঝামেলা

মেকআপের সমস্যা হলো শেড। একটা লিপস্টিকের দশটা রং থাকলে আপনার স্টকও দশ ভাগ হয়ে যায়। কাস্টমার ফোনের স্ক্রিনে যে রং দেখেছেন, হাতে পেয়ে সেটা না মিললে পার্সেল ফেরত আসে। আর একবার খোলা লিপস্টিক আর কাউকে বেচা যায় না। মেকআপ রাখতে চাইলে শুরুতে দুই-তিনটা চলতি শেড রাখুন, সব শেড না।

পারফিউমে অনেকে বড় বোতল খুলে ছোট বোতলে ভরে "ডিক্যান্ট" বেচেন। Meta-র Commerce Policies অনুযায়ী খোলা বা ইউজ করা কসমেটিকস Facebook-এর Shop বা Marketplace-এ বেচা যায় না, আর বোতল খুলে ভরলে জিনিসটা তো খোলাই হয়ে গেল। তাই শুরুতে এই রাস্তায় যাবেন না।

শুরুর জন্য একটা সহজ নিয়ম ধরুন। এক বা দুইটা ব্র্যান্ড থেকে ৬ থেকে ৮টা স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট নিন, যেগুলো আপনি নিজে চেনেন আর ইনভয়েসসহ কিনতে পারবেন। দুই মাস চালিয়ে দেখুন কোনগুলো আবার অর্ডার আনছে। তারপর শুধু সেগুলোর স্টক বাড়ান, তাহলে টাকা আটকে থাকবে না অচল মালে।

আসল কসমেটিকস কোথা থেকে কিনবেন, ইমপোর্টার, পাইকার না নিজে আমদানি?

কসমেটিকস কেনার রাস্তা মোটামুটি তিনটা। কোনটায় যাবেন, সেটা ঠিক করে দেয় আপনার পুঁজি আর আপনি কতটা ঝুঁকি নিতে পারবেন।

সবচেয়ে নিরাপদ রাস্তা হলো ব্র্যান্ডের অনুমোদিত ইমপোর্টার বা ডিস্ট্রিবিউটর। দেশি ব্র্যান্ড হলে কোম্পানির নিজের ডিস্ট্রিবিউটর, আর বিদেশি ব্র্যান্ড হলে যিনি দেশে আনেন। এখানে দাম পাইকারি বাজারের চেয়ে একটু বেশি পড়তে পারে। কিন্তু আপনি পাবেন দোকানের নাম লেখা ইনভয়েস আর প্রতিটা চালানের ব্যাচ নম্বর। কাস্টমার কোনোদিন প্রশ্ন তুললে এই কাগজটাই আপনার ঢাল। প্রথম অর্ডার দেওয়ার আগে ডিস্ট্রিবিউটরকে কয়েকটা কথা জিজ্ঞেস করে নিন।

  • আপনি কি এই ব্র্যান্ডের অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর, কোম্পানির দেওয়া কোনো চিঠি দেখাতে পারবেন?
  • প্রতিটা চালানের ইনভয়েসে ব্যাচ নম্বর আর মেয়াদ লিখে দেবেন?
  • মেয়াদ শেষ হতে কমপক্ষে কত মাস বাকি থাকা মাল দেন?
  • নষ্ট বা ভাঙা মাল এলে বদলে দেন কি না?
  • কম পিসে নিলে কত পিস থেকে পাইকারি দাম পাব?

আরেকটা রাস্তা হলো পুরান ঢাকার চকবাজার আর বেগমবাজারের পাইকারি বাজার। এখানে প্রায় সব কিছু পাওয়া যায়, দামও কম। কিন্তু সব দোকান সমান না, আর এখানে নকল মাল ধরা পড়ার খবরও আছে। দোকানে দাঁড়িয়ে আসল-নকল আর মেয়াদ কীভাবে দেখবেন, সেটা ধাপে ধাপে লেখা আছে চকবাজার পাইকারি মার্কেটের লেখায়। ওখানে যাওয়ার আগে ওই অংশটা পড়ে যান, নইলে কম দামের লোভে এমন মাল তুলে আনবেন যার উৎস আপনি নিজেই জানেন না।

শেষ রাস্তা হলো নিজে বিদেশ থেকে আনা, তবে এটা শুরুতে না। আমদানি করতে গেলে আমদানির কাগজ লাগে, আর নিচের অংশে দেখবেন, ঔষধ প্রশাসনের নতুন নিয়মে প্রতিটা প্রোডাক্টের রেজিস্ট্রেশনেরও কথা আছে। ব্যবসা দাঁড়িয়ে গেলে, কোন প্রোডাক্ট মাসে কত চলে সেটা জানা হয়ে গেলে, তখন এই রাস্তার কথা ভাবুন।

কসমেটিকস বেচতে কি লাইসেন্স লাগে, DGDA আর BSTI-র নিয়ম কী?

এই প্রশ্নের উত্তর এখন বদলাচ্ছে, তাই একটু সময় নিয়ে বলি। ২০২৩ সালে ঔষধ ও কসমেটিকস্ আইন পাস হয়েছে, আর তারপর থেকে কসমেটিকস দেখভাল করে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, ছোট করে DGDA।

আইনের ৩১ ধারায় লেখা আছে, লাইসেন্স ছাড়া কেউ কসমেটিকস উৎপাদন, বিতরণ, আমদানি বা রপ্তানি করতে পারবেন না। ৩২ ধারায় একই চারটা কাজের জন্য প্রতিটা কসমেটিকসের রেজিস্ট্রেশনের কথা বলা আছে। খেয়াল করুন, এই দুই ধারায় "খুচরা বিক্রি" কথাটা নেই। লাইসেন্স কে পাবেন, ফি কত, এসব খুঁটিনাটি ঠিক হবে বিধিমালায়। আর ৩৩ ধারায় বলা আছে, বিধিমালা জারি হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে চালু ব্যবসাগুলোকে লাইসেন্স আর রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করতে হবে।

সেই বিধিমালার একটা ড্রাফট স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ জুন ২০২৬-এ মতামতের জন্য নিজেদের ওয়েবসাইটে দিয়েছে। নাম "কসমেটিকস্ (লাইসেন্স ও নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০২৬"। ড্রাফটে চার রকম লাইসেন্সের অধ্যায় আছে, পাইকারি, উৎপাদন, আমদানি আর রপ্তানি। পাইকারি লাইসেন্সটা কসমেটিকস বিতরণের জন্য। খুচরা দোকানের আলাদা লাইসেন্সের কোনো অধ্যায় আমরা ড্রাফটে পাইনি। ড্রাফটের ফি-র টেবিলে পাইকারি লাইসেন্স ১০,০০০ টাকা, আমদানি লাইসেন্স ১০,০০০ টাকা, আর আমদানি করা প্রতিটা কসমেটিকসের রেজিস্ট্রেশন ১৫,০০০ টাকা লেখা আছে।

তাহলে আপনার কী লাগবে? নিজের অবস্থা দেখে মিলিয়ে নিন।

আপনি যদি রেজিস্ট্রেশন করা ইমপোর্টার বা ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে কিনে সরাসরি কাস্টমারের কাছে বেচেন, তাহলে ড্রাফট অনুযায়ী DGDA-র আলাদা কোনো লাইসেন্স আপনার জন্য লেখা নেই। তখন আপনার মূল কাজ হলো কাগজসহ মাল কেনা। যদি অন্য দোকান বা অন্য পেজকে পাইকারি দেন, তাহলে আপনি বিতরণ করছেন, তখন পাইকারি লাইসেন্সের প্রশ্ন আসে। আর নিজে আমদানি করলে বা নিজে বানালে লাইসেন্স আর রেজিস্ট্রেশন দুটোই লাগবে।

মনে রাখবেন, এটা ড্রাফট, চূড়ান্ত হলে বদলাতে পারে। তাই শুরুর আগে জেলার ঔষধ প্রশাসন অফিসে গিয়ে বা ফোনে নিজের কাজটা বলে জিজ্ঞেস করুন, আর উত্তরটা তারিখসহ লিখে রাখুন। ট্রেড লাইসেন্স এর বাইরে, ওটা সব ব্যবসার জন্যই লাগে।

এবার আসি BSTI-র কথায়। BSTI-র ওয়েবসাইটে জুন ২০২৫-এর ৩১৫টা বাধ্যতামূলক জিনিসের যে লিস্ট আছে, তাতে স্কিন ক্রিম, স্কিন লোশন, শ্যাম্পু, ফেস ওয়াশ, লিপস্টিক, কাজল, নেইল পলিশ, চুলের তেল, স্কিন পাউডার আর পেট্রোলিয়াম জেলির নাম আছে। এই জিনিসগুলো দেশে বানালে BSTI-র CM লাইসেন্স লাগে, আর বিদেশ থেকে এলে আমদানির সময় BSTI-র ছাড়পত্র লাগে। এটা মূলত যিনি বানান বা আনেন, তাঁর কাজ। আপনার কাজ হলো কেনার সময় দেখে নেওয়া যে দেশি জিনিসে BSTI-র চিহ্ন আছে। ওই লিস্টে সানস্ক্রিন, সিরাম বা পারফিউমের নাম আমরা খুঁজে পাইনি। তবে জানুয়ারি ২০২৬-এ ১৩টা আর জুন ২০২৬-এ ৭টা নতুন জিনিস লিস্টে যোগ হয়েছে, জানুয়ারির লিস্টে যেমন হেয়ার ডাই পাউডার আছে। তাই নতুন কোনো প্রোডাক্ট তোলার আগে BSTI-র ওয়েবসাইটে লিস্টটা একবার দেখে নিন।

একটা কথা খুব পরিষ্কার জেনে রাখুন। লাইসেন্স লাগুক বা না লাগুক, ২০২৩ সালের আইনের ৩৮ ধারায় জেনেশুনে নকল কসমেটিকস বিক্রি করা নিষেধ। ৩৭ আর ৩৯ ধারায় মিসব্র্যান্ডেড, মানে ভুল বা মিথ্যা লেবেলের কসমেটিকস, আর ভেজাল কসমেটিকস নিয়েও নিয়ম আছে। তাই খুচরা সেলার হলেও আইন আপনার ওপর খাটে।

মেয়াদ, ব্যাচ নম্বর আর গরম থেকে স্টক বাঁচাবেন কীভাবে?

কসমেটিকসে স্টক মানে শুধু কত পিস আছে তা না, কোন পিসের মেয়াদ কবে শেষ সেটাও। মেয়াদ পার হওয়া মাল বেচা আইনেও অপরাধ। ভোক্তা অধিকার আইন, ২০০৯-এর ৫১ ধারায় মেয়াদ উত্তীর্ণ জিনিস বিক্রি করা বা বিক্রির প্রস্তাব দেওয়ার শাস্তি এক বছর পর্যন্ত জেল, ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বা দুটোই। "পেজে পুরনো পোস্ট ছিল, খেয়াল করিনি" বললে পার পাবেন না।

এজন্য কেনার সময়েই নিজের একটা নিয়ম ঠিক করে নিন। যেমন, মেয়াদ শেষ হতে কমপক্ষে ১২ মাস বাকি না থাকলে সেই মাল নেবেন না। এটা আইনের কোনো সংখ্যা না, আপনার নিজের সুরক্ষা। কারণ আপনার স্টক শেষ হতে দুই-তিন মাস লাগতে পারে, আর কাস্টমারের হাতে গিয়েও জিনিসটা আরও কয়েক মাস চলবে। মেয়াদ শেষের কাছাকাছি একটা ক্রিম হাতে পেলে কাস্টমার ঠিকই ধরে ফেলেন, আর ভাবেন আপনি পুরনো মাল গছিয়ে দিলেন।

তিন তাকের একটা কসমেটিকসের র‍্যাকের নকশা, প্রতিটা তাকে ফেস ওয়াশ, সানস্ক্রিন আর ময়েশ্চারাইজারের সারি, তাকের গায়ে মেয়াদের মাস লেখা কাগজ, জানুয়ারি ২০২৭-এর সারিতে আগে বেচার দাগ, পাশে সামনে পুরনো আর পেছনে নতুন চালান রাখার নিয়ম
যে মালের মেয়াদ আগে শেষ, সেটা সামনে। প্রতিটা সারিতে মাস লিখে রাখলে এক নজরেই বোঝা যায়

তাকে মাল সাজানোর নিয়মটা সহজ। যে মালের মেয়াদ আগে শেষ, সেটা সামনে থাকবে আর আগে যাবে, নতুন চালান যাবে পেছনে, আর প্রতিটা সারিতে মেয়াদের মাস লেখা থাকবে। মাসের প্রথম দিন একবার দেখে নিন কোন মালের মেয়াদ তিন মাসের মধ্যে শেষ হচ্ছে। সেগুলোর কথা পুরনো কাস্টমারদের আগে বলুন, বা একটা ছোট অফার দিয়ে বের করে দিন। মেয়াদ পেরোনোর পর ফেলে দেওয়ার চেয়ে আগেভাগে একটু কম লাভে বেচে দেওয়া অনেক ভালো।

ব্যাচ নম্বরও লিখে রাখুন। খাতায় বা শিটে চারটা ঘর রাখলেই চলে, প্রোডাক্ট, ব্যাচ নম্বর, মেয়াদ, আর কার কাছ থেকে কবে কিনলেন। কোনো কাস্টমার রিঅ্যাকশনের অভিযোগ করলে আপনাকে বলতে হবে ওই ব্যাচ কোথা থেকে এসেছিল। একই ব্যাচ নিয়ে দুইজন অভিযোগ করলে সেই ব্যাচের বাকি মাল সাথে সাথে আলাদা করে ফেলুন, আর ডিস্ট্রিবিউটরকে জানান। WinningSeller-এ সাপ্লায়ার আর পারচেজ অর্ডার রাখা যায়, তাই কোন চালান কোন পাইকারের কাছ থেকে কবে এলো, সেটা খুঁজতে খাতা ঘাঁটতে হয় না।

গরম কসমেটিকসের আরেক শত্রু। প্রায় সব কৌটার গায়েই লেখা থাকে ঠান্ডা আর শুকনো জায়গায় রাখতে। টিনের চালের ঘর, রোদ পড়া জানালার পাশ বা রান্নাঘরের পাশের তাক মাল রাখার জায়গা না। গরমে লিপস্টিক নরম হয়ে যায়, ক্রিম পাতলা হয়ে তেল আলাদা হয়ে যায়। খাটের নিচে বা আলমারির ভেতরে, যেখানে রোদ ঢোকে না, সেখানে রাখুন।

কৌটার গায়ে আরেকটা চিহ্ন খেয়াল করুন। একটা খোলা কৌটার ছবি আঁকা থাকে, পাশে 6M বা 12M লেখা। এর মানে খোলার পর ৬ বা ১২ মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। কাস্টমারকে এটা বুঝিয়ে বললে তিনি বোঝেন আপনি জিনিসটা সত্যিই চেনেন।

খোলা প্রোডাক্ট ফেরত নেবেন কি, রিঅ্যাকশন হলে কী বলবেন?

ফেরতের নিয়মটা অর্ডারের আগেই ঠিক করে পেজে লিখে রাখুন, আর কনফার্মেশন কলে একবার মুখে বলুন। বেশিরভাগ সেলার যা করেন, সেটাই যুক্তির কথা। সিল না খোলা প্রোডাক্ট ফেরত নেবেন। খোলা প্রোডাক্ট নেবেন না, কারণ একবার খোলা ক্রিম বা লিপস্টিক আর কাউকে বেচা যায় না। তবে ভুল প্রোডাক্ট গেলে, ভাঙা বা লিক করা গেলে, বা মেয়াদের ঝামেলা থাকলে খোলা হলেও দায়টা আপনার। তখন বদলে দিন বা টাকা ফেরত দিন।

কনফার্মেশন কলে এভাবে বলতে পারেন। "আপা, একটা কথা আগে বলে রাখি। পার্সেল হাতে পেয়ে সিল খোলার আগে প্রোডাক্টটা মিলিয়ে নেবেন। সিল খোলার পর আর ফেরত নিতে পারি না, কারণ খোলা জিনিস আর কাউকে দেওয়া যায় না। আর নতুন কিছু মুখে লাগানোর আগে হাতের কবজির ভেতরের দিকে একটু লাগিয়ে এক দিন দেখে নিবেন।" এই শেষ লাইনটাকে প্যাচ টেস্ট বলে। এটা বলে দিলে কাস্টমার বোঝেন আপনি শুধু বিক্রির কথা ভাবছেন না, তাঁর ত্বকের কথাও ভাবছেন।

এবার সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তটার কথা বলি। ধরুন রাত এগারোটায় ইনবক্সে একটা ছবি এলো। কাস্টমারের গালে লাল লাল দাগ, সাথে লেখা "আপনার ক্রিম মেখে এই অবস্থা।" বুকটা ধক করে ওঠে, প্রথমেই মনে হয় নিজেকে বাঁচাই। কিন্তু এই সময় তর্ক করলে বা "আমার মাল ১০০% অরিজিনাল" লিখলে কাস্টমার আরও রেগে যান, আর পোস্ট দেন।

তার বদলে এভাবে উত্তর দিন। "আপা, ছবিটা দেখে সত্যিই খারাপ লাগছে। এখনই ক্রিমটা লাগানো বন্ধ করুন আর পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। জ্বালা বা ফোলা বাড়লে দেরি না করে একজন চর্মরোগের ডাক্তার দেখান। কৌটার পেছনের ব্যাচ নম্বরটার একটা ছবি দিবেন? আমি ডিস্ট্রিবিউটরের সাথে কথা বলছি।"

এই কয়েক লাইনে চারটা কাজ হলো। আপনি তাঁর কষ্টটা মেনে নিলেন। ক্ষতি যেন না বাড়ে সেই কথা বললেন। নিজে ডাক্তারি না করে ডাক্তারের কাছে পাঠালেন। আর ব্যাচ নম্বর চেয়ে নিলেন, যেটা দিয়ে খাতা থেকে বের করবেন মালটা কার কাছ থেকে এসেছিল। এরপর টাকা ফেরত দেবেন কি না, সেটা আপনার সিদ্ধান্ত। তবে অনেক অভিজ্ঞ সেলার এমন ক্ষেত্রে তর্কে না গিয়ে টাকা ফেরত দেন, কারণ একটা খারাপ পোস্টের ক্ষতি একটা ক্রিমের দামের চেয়ে অনেক বেশি।

মনে রাখবেন, রিঅ্যাকশন মানেই নকল মাল না। আসল জিনিসও কারও ত্বকে নাও মানাতে পারে। এজন্যই প্যাচ টেস্টের কথাটা আগে বলে রাখা এত জরুরি।

কসমেটিক ব্যবসায় লাভ কেমন, একটা অর্ডারের হিসাব (উদাহরণ)

নিচের সব সংখ্যা একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। নিজের দাম বসিয়ে একবার মিলিয়ে নিন।

ধরুন আপনি একটা ফেস ওয়াশ ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে ৩৮০ টাকায় কেনেন আর ৬৫০ টাকায় বেচেন। ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার দেন। কাগজে একটা পিসে লাভ ২৭০ টাকা, দেখে মনটা ভালো হয়ে যায়।

এবার খরচগুলো বসাই। প্যাকেট, বাবল র‍্যাপ আর টেপে যায় ২৫ টাকা। কুরিয়ারের COD চার্জ ধরুন ১%, মানে প্রায় ৭ টাকা। এই মাসে অ্যাডে গেছে ১,৫০০ টাকা, তাতে ১০টা অর্ডার এসেছে। তার মধ্যে ১টা পার্সেল ফেরত এলো, তাতে যাওয়া আর ফেরার চার্জ মিলে গেল ১৩০ টাকা। তাহলে ডেলিভারি হলো ৯টা।

প্রতিটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডারের ঘাড়ে অ্যাডের খরচ পড়ল ১,৫০০ ÷ ৯ = প্রায় ১৬৭ টাকা। ফেরতের খরচ পড়ল ১৩০ ÷ ৯ = প্রায় ১৪ টাকা। এবার হিসাবটা দাঁড়ায় ৬৫০ − ৩৮০ − ২৫ − ৭ − ১৬৭ − ১৪ = ৫৭ টাকা। কাগজের ২৭০ টাকা হাতে এসে দাঁড়াল ৫৭ টাকায়। প্রথমবার এই হিসাব করলে অনেকের মন দমে যায়, মনে হয় এত খেটে এই কটা টাকা? কিন্তু হিসাবটা এখানেই শেষ না। দাম ঠিক করার পুরো নিয়ম, মানে কুরিয়ার, রিটার্ন আর অ্যাড ধরে দাম কত রাখবেন, সেটা বিস্তারিত আছে প্রোডাক্টের দাম নির্ধারণের লেখায়।

এখানে একটা ভালো খবরও আছে। ফেরত আসা পার্সেলের সিল খোলা না থাকলে ফেস ওয়াশটা আবার স্টকে ওঠে। কাপড়ে ভাঁজ নষ্ট হয়, খাবার নষ্ট হয়, কিন্তু সিল করা কসমেটিকস ঠিকঠাক ফেরত এলে আবার বেচা যায়। শুধু মেয়াদটা আবার দেখে নিন।

আর আসল লাভটা আসে পরে। দেড় মাস পরে এই কাস্টমারকে ফোন দিয়ে আরেকটা ফেস ওয়াশ বেচলেন। এবার অ্যাডের এক টাকাও লাগল না। হিসাবটা হলো ৬৫০ − ৩৮০ − ২৫ − ৭ = ২৩৮ টাকা। প্রথম অর্ডারে ৫৭, দ্বিতীয়টায় ২৩৮। এজন্যই বলি, কসমেটিকসে প্রথম অর্ডারটা হলো কাস্টমার পাওয়ার খরচ, লাভ আসে দ্বিতীয়বার থেকে। যেদিন পুরনো কাস্টমার নিজে থেকে মেসেজ দিয়ে বলবেন "আগেরটাই আরেকটা পাঠান", সেদিন বুঝবেন ব্যবসাটা দাঁড়াচ্ছে।

ফোনটা কবে দেবেন, সেটা নিজে আন্দাজ না করে কাস্টমারকেই জিজ্ঞেস করুন। ডেলিভারির পরে খোঁজ নেওয়ার ফোনে বলুন, "আপা, এই ফেস ওয়াশটা আপনার সাধারণত কত দিন যায়?" উত্তরটা খাতায় তারিখসহ লিখে রাখুন, আর শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ আগে ফোন দিন। আগে দিলে কাস্টমারের কাছে তখনো অর্ধেক বোতল থাকে, আর দেরি করলে তিনি পাড়ার দোকান থেকেই কিনে ফেলেন।

একজন যুবক সেলার টেবিলে বসে একটা ফেস ওয়াশের বোতল বাবল র‍্যাপে মুড়িয়ে কুরিয়ারের পলিতে ভরছেন, পাশে খোলা খাতায় ব্যাচ নম্বর আর মেয়াদ লেখা
প্যাক করার আগে খাতায় ব্যাচ আর মেয়াদ লিখে রাখুন। অভিযোগ এলে এই এক লাইনই কাজে লাগে

পোস্ট আর অ্যাডে কোন কথা লিখলে বিপদ?

কসমেটিকসের অ্যাডে মানুষ সবচেয়ে বেশি ভুল করেন বড় দাবি দিয়ে। "৭ দিনে রং ফর্সা", "ব্রণ চিরতরে দূর" ধরনের লাইন লিখলে অর্ডার হয়তো দুই দিন বাড়ে। কিন্তু তারপর বিপদ আসে তিন দিক থেকে।

সবার আগে আইনের ঝামেলা। ২০২৩ সালের ঔষধ ও কসমেটিকস্ আইনের ৭১ ধারায় বলা আছে, কসমেটিকস যিনি বিক্রি করেন তিনিও মাখার পর কী ফল হবে তা নিয়ে ভুল বা অসত্য দাবির বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন না। ভোক্তা অধিকার আইনের ৪৪ ধারায় মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাকে ঠকানোর শাস্তি এক বছর পর্যন্ত জেল, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বা দুটোই।

এরপর আসে Meta। Meta-র Advertising Standards-এ কারও চেহারা বা শরীর নিয়ে মানুষকে ছোট করে দেখানো কথা চলে না। আর আগে-পরের ছবি দিয়ে কসমেটিক অ্যাড চালাতে হলে শুধু ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের টার্গেট করতে হয়। বারবার অ্যাড রিজেক্ট হলে পেজ বা অ্যাড অ্যাকাউন্ট রেস্ট্রিক্টেড হতে পারে। রোগ সারানোর দাবি কেন অ্যাডে একদম চলে না, আর পেজ আটকে গেলে কী করবেন, সেটা পেজ রেস্ট্রিক্টেড হওয়া নিয়ে লেখায় বিস্তারিত আছে।

আর সবচেয়ে কষ্টের হলো কাস্টমারের রাগ। আপনি সাত দিনের কথা বলেছেন, তিনি সাত দিন মেখে কিছুই দেখলেন না। এবার তিনি শুধু রিফান্ড চান না, সবার সামনে আপনাকে ঠগ বলেন। তাই নিচের লাইনগুলো পেজে বা অ্যাডে কখনো লিখবেন না।

  • "৭ দিনে ফর্সা", "১৫ দিনে দাগ গায়েব" জাতীয় নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট ফলের কথা।
  • "ব্রণ সারায়", "একজিমা ভালো করে" জাতীয় রোগ সারানোর দাবি।
  • "কালো মুখ নিয়ে আর লজ্জা নয়" জাতীয় চেহারা নিয়ে খোঁটা।
  • নিজে প্রমাণ দেখাতে না পারলে "১০০% অরিজিনাল" বা "ডাক্তারদের পরামর্শে বানানো"।

তার বদলে লিখুন প্রোডাক্টে কী আছে, কোন ত্বকের জন্য, দিনে কয়বার কীভাবে লাগাতে হয়, আর কত মিলি। সাথে লেবেলের পেছনের দিকের পরিষ্কার একটা ছবি দিন, যেখানে মেয়াদ, ব্যাচ আর আমদানিকারকের নাম পড়া যায়। যে কাস্টমার বুঝে কেনেন, তিনিই আবার ফেরেন।

আজ কোথা থেকে শুরু করবেন?

আজই সব মাল কিনতে হবে না। প্রথমে ঠিক করুন কোন ৬ থেকে ৮টা স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট দিয়ে শুরু করবেন। তারপর সেই ব্র্যান্ডের ডিস্ট্রিবিউটরকে ফোন দিয়ে ওপরের প্রশ্নগুলো করুন। একটা খাতা বা শিট খুলে প্রোডাক্ট, ব্যাচ, মেয়াদ আর কোথা থেকে কিনলেন, এই চারটা ঘর বানিয়ে ফেলুন। পেজে ফেরতের নিয়মটা দুই লাইনে লিখে দিন। আর জেলার ঔষধ প্রশাসন অফিসে একবার জিজ্ঞেস করে নিন আপনার কাজের জন্য কিছু লাগবে কি না।

এরপর যখন অর্ডার আসতে শুরু করবে, দুটো কাজ হাতে করতে গেলে ভুল হয়। একটা হলো সঠিক দিনে পুরনো কাস্টমারকে ফোন দেওয়া, আরেকটা হলো অচেনা নম্বর থেকে আসা অর্ডার আগে একবার দেখে নেওয়া। WinningSeller-এর ফলোআপ কল সিস্টেমে ডেলিভারি হওয়া কাস্টমার নিজে থেকেই কলের লিস্টে চলে আসেন, আর যিনি একটা নির্দিষ্ট দিনে ফোন দিতে বলেছেন, সেদিন তিনি লিস্টের একদম ওপরে থাকেন। ফলে "শেষ হওয়ার আগে একটা ফোন দিয়েন" বলা কাস্টমারের ফোনটা আর ভুলে যান না। আর প্রতিটা নতুন অর্ডারের নম্বর দিয়ে ফ্রড চেক করা যায়, মানে সেই নম্বরে আগে কুরিয়ারে কতগুলো পার্সেল ফেরত গেছে তা দেখা যায়। এই চেকটা চাইলে এখনই ফ্রি ফ্রড চেকারে একটা নম্বর দিয়ে দেখে নিতে পারেন।

সাধারণ প্রশ্ন

অনলাইনে কসমেটিকস ব্যবসা করতে কি লাইসেন্স লাগে?

ঔষধ ও কসমেটিকস্ আইন, ২০২৩-এর ৩১ আর ৩২ ধারায় কসমেটিকস উৎপাদন, বিতরণ, আমদানি আর রপ্তানির জন্য ঔষধ প্রশাসনের লাইসেন্স আর রেজিস্ট্রেশনের কথা বলা আছে। জুন ২০২৬-এ স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ যে ড্রাফট বিধিমালা দিয়েছে, তাতে পাইকারি, উৎপাদন, আমদানি আর রপ্তানির লাইসেন্সের কথা আছে, খুচরা দোকানের আলাদা লাইসেন্সের অধ্যায় নেই। তবে বিধিমালা এখনো ড্রাফট, তাই শুরুর আগে জেলার ঔষধ প্রশাসন অফিসে নিজের কাজটা বলে জেনে নিন। ট্রেড লাইসেন্স আলাদা কথা, ওটা সব ব্যবসাতেই লাগে।

কসমেটিকস ব্যবসায় লাভ কেমন?

কেনা দাম আর বেচা দামের ফারাক দেখে যত লাভ মনে হয়, অ্যাড, প্যাকেট, COD চার্জ আর ফেরতের খরচ বাদ দিলে প্রথম অর্ডারে তার অনেক কম থাকে। আসল লাভ আসে একই কাস্টমারের দ্বিতীয় আর তৃতীয় অর্ডার থেকে, কারণ সেখানে অ্যাডের টাকা লাগে না। তাই যে প্রোডাক্ট মাখতে মাখতে শেষ হয়ে যায়, সেটা দিয়েই শুরু করা ভালো।

কত টাকা দিয়ে অনলাইনে কসমেটিকস ব্যবসা শুরু করা যায়?

এটা নির্ভর করে কয়টা প্রোডাক্ট রাখবেন তার ওপর। উদাহরণ হিসেবে ধরুন, ৮টা প্রোডাক্টের প্রতিটা ৬ পিস করে নিলেন, গড়ে ৪০০ টাকা করে কেনা, তাতে স্টকে যায় ১৯,২০০ টাকা। সাথে প্রথম মাসের অ্যাডে ৫,০০০ আর প্যাকেটে ১,০০০ টাকা ধরলে মোট দাঁড়ায় প্রায় ২৫ হাজার টাকা। নিজের দাম বসিয়ে একবার গুনে নিন।

খোলা কসমেটিকস কি ফেরত নেওয়া উচিত?

বেশিরভাগ সেলার সিল না খোলা প্রোডাক্ট ফেরত নেন, খোলা প্রোডাক্ট নেন না, কারণ খোলা ক্রিম আর কাউকে বেচা যায় না। Meta-র Commerce Policies-এও খোলা বা ইউজ করা কসমেটিকস বেচা নিষেধ। তবে ভুল প্রোডাক্ট, ভাঙা বা মেয়াদের ঝামেলা থাকা মাল গেলে খোলা হলেও দায়টা আপনার। নিয়মটা অর্ডারের আগেই পেজে লিখে রাখুন আর কনফার্মেশন কলে মুখে বলে দিন।

মেয়াদ পার হওয়া কসমেটিকস বেচলে কী হয়?

ভোক্তা অধিকার আইন, ২০০৯-এর ৫১ ধারায় মেয়াদ উত্তীর্ণ কিছু বিক্রি করা বা বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া অপরাধ। শাস্তি এক বছর পর্যন্ত জেল, ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বা দুটোই। আইনের চেয়েও বড় ক্ষতি হয় পেজের, কারণ একটা খারাপ রিভিউ অনেক নতুন কাস্টমারকে থামিয়ে দেয়।

কসমেটিকস আসল কিনা কীভাবে বুঝব?

কেনার সময় দেখুন মেয়াদ আর ব্যাচ নম্বর আছে কি না, বিদেশি মালে আমদানিকারকের স্টিকার আছে কি না, সিল ঠিক আছে কি না, আর পাইকার মেমো দিচ্ছেন কি না। নামি ব্র্যান্ডের জিনিস অস্বাভাবিক কম দামে পেলে খুশি না হয়ে আগে সন্দেহ করুন। সবচেয়ে নিরাপদ হলো ব্র্যান্ডের অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর বা ইমপোর্টারের কাছ থেকে কেনা, যিনি ইনভয়েস দেন।

#কসমেটিকস ব্যবসা#স্কিনকেয়ার#DGDA#BSTI#মেয়াদ#রিপিট কাস্টমার#অনলাইন ব্যবসা

আরও পড়ুন

খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম

বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম

থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়