রিসেলার নিয়োগ, নিজের প্রোডাক্ট অন্যদের দিয়ে বেচাবেন যেভাবে লস ছাড়া
নিজের প্রোডাক্ট অন্যের পেজ দিয়ে বেচাতে চান? রিসেলার প্রাইস কত রাখবেন, ফেরতের চার্জ কে দেবে, অর্ডার কীভাবে আসবে, রিসেলারকে টাকা কবে দেবেন, আর কোন কাজটা করলে ব্যবসাটা এমএলএম হয়ে আইনের ঝুঁকিতে পড়ে, টাকার উদাহরণসহ।

এই লেখায় যা আছে
- রিসেলার মানে কি, ড্রপশিপিংয়ের সাথে পার্থক্য কোথায়?
- কোন প্রোডাক্টে রিসেলার রাখা লাভ, কোনটায় না?
- রিসেলার প্রাইস আর লাভ ভাগের হিসাব (উদাহরণ)
- রিসেলারের অর্ডার আসবে কীভাবে, পাঠাবে কে?
- ফেরত আর ফেক অর্ডারের দায় কার?
- রিসেলারের টাকা কবে আর কীভাবে দেবেন?
- রিসেলার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে কী লিখবেন, কী লিখবেন না
- "রেজিস্ট্রেশন ফি" আর এমএলএম, যেখানে আইনের ঝুঁকি
- আজ কোথা থেকে শুরু করবেন?
ধরুন রাত দশটায় ইনবক্স খুলে দেখলেন একটা মেসেজ, "ভাই, আপনার টি-শার্টগুলো আমি আমার পেজে বেচতে চাই, রিসেলার নেন?" এক বছর ধরে নিজের ডিজাইনের টি-শার্ট বেচছেন, আর আজ কেউ সেটা নিজের পেজে তুলতে চাইছেন। খুশি লাগারই কথা।
রিসেলার নিয়োগ মানে নিজের প্রোডাক্ট অন্য সেলারদের দিয়ে বিক্রি করানো। রিসেলার আপনার প্রোডাক্ট নিজের পেজে নিজের দামে বেচেন, অর্ডার এলে আপনাকে কাস্টমারের ঠিকানা পাঠান, আপনি পার্সেল পাঠান, আর মাঝের লাভটা তাঁর। লস ছাড়া এটা চালাতে চাইলে শুরুর আগেই পাঁচটা কথা লিখে ঠিক করে নিন। রিসেলার প্রাইস কত হবে, বাজারে সর্বনিম্ন কত টাকায় বেচতে হবে, ফেরতের চার্জ কে দেবেন, অর্ডার কোন ফরম্যাটে কখন আসবে, আর টাকা কবে পাবেন। আর একটা কাজ কখনো করবেন না, রিসেলার বানানোর জন্য কারও কাছ থেকে টাকা নেবেন না।
খুশির পরেই অবশ্য মাথায় প্রশ্ন ঘুরতে থাকে। কত টাকায় দেব? পার্সেল ফেরত এলে চার্জটা কে দেবে? টাকা কবে দেব? আর ও যদি আমার চেয়ে কম দামে বেচে দেয়? নিচে প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর টাকার হিসাব ধরে বলছি, যাতে রিসেলার বাড়লে আপনার লাভও বাড়ে, শুধু ঝামেলা না।

রিসেলার মানে কি, ড্রপশিপিংয়ের সাথে পার্থক্য কোথায়?
রিসেলার মানে যিনি অন্যের প্রোডাক্ট নিজের কাস্টমারের কাছে আবার বিক্রি করেন। বাংলাদেশে রিসেলার সাধারণত দুই রকম। এক দল কিছু পিস কিনে নিজের কাছে রাখেন, তারপর নিজেই পার্সেল পাঠান। এটা আসলে ছোট করে পাইকারি কেনা। আরেক দল কিছুই কেনেন না। তাঁরা শুধু ছবি নিয়ে নিজের পেজে পোস্ট দেন, অর্ডার এলে ঠিকানাটা আপনাকে পাঠান, আর আপনি পার্সেল পাঠান। ফেসবুকে "রিসেলার নেওয়া হচ্ছে" লেখা পোস্টগুলোর বেশিরভাগ এই দ্বিতীয় ধরনের।

এই দ্বিতীয় ধরনটাকেই রিসেলারের দিক থেকে দেখলে লোকে ড্রপশিপিং বলে। কাজ একটাই, আপনি দাঁড়িয়ে আছেন তার মালের দিকটায়। রিসেলার কীভাবে সাপ্লায়ার খুঁজবেন আর স্টক ছাড়া কীভাবে বেচবেন, সেটা ড্রপশিপিংয়ের লেখায় আছে। এই লেখাটা আপনার জন্য, যাঁর কাছে মাল আছে আর যিনি অন্যদের দিয়ে সেটা বেচাতে চান।
অনেকে জিজ্ঞেস করেন, "রিসেলারকে কি আগে কিছু মাল কিনে নিতে বলব?" শুরুতে না বলাই ভালো। নতুন রিসেলার টাকা আটকে রাখতে ভয় পান, মাল কিনতে না হলে সহজে রাজি হন। কেউ নিজে থেকে স্টক রাখতে চাইলে তখন পাইকারি দামে দিন।
কেন এটা করবেন, সেটাও মনে পরিষ্কার থাকা দরকার। নিজের পেজে প্রতিটা অর্ডারের পেছনে অ্যাডের টাকা যায়। মাস শেষে ডলার স্পেন্ডের হিসাব দেখে বুক ধড়ফড় করে, আর রাত জেগে ইনবক্সে বসে থাকতে হয়। রিসেলারের অর্ডারে অ্যাড চালানো, ইনবক্সে উত্তর দেওয়া আর কনফার্ম কলের কাজটা রিসেলার নিজেই করেন। আপনার কাজ শুধু প্যাক করে পাঠানো। বদলে প্রতি পিসে আপনি একটু কম লাভ রাখেন। যাঁর মাল ভালো কিন্তু অ্যাডে ঢালার মতো টাকা কম, তাঁর জন্য বিক্রি বাড়ানোর এটা একটা সস্তা রাস্তা।
কোন প্রোডাক্টে রিসেলার রাখা লাভ, কোনটায় না?
সব প্রোডাক্টে রিসেলার পোষায় না। প্রথম শর্ত হলো দামের ভেতরে দুজনের লাভের জায়গা থাকতে হবে। আপনার খরচ, আপনার লাভ, রিসেলারের লাভ, আর রিসেলারের অ্যাডের খরচ, সব মিলিয়েও যেন বাজারের দামে বেচা যায়। যে প্রোডাক্টে আপনার নিজেরই লাভ ৫০-৬০ টাকা, সেখানে আরেকজনকে ভাগ দিলে কারও কিছু থাকে না।
রিসেলার সবচেয়ে ভালো চলে নিজের বানানো বা নিজের ব্র্যান্ডের জিনিসে। ধরুন আপনি নিজের ডিজাইনে পাঞ্জাবি বানান, বা নিজে মসলা গুঁড়া করে প্যাকেটে ভরেন। এমন জিনিসের দামটা আপনিই ঠিক করেন, আর হুবহু একই জিনিস বাজারে আরও দশজনের কাছে পাওয়া যায় না। যে প্রোডাক্ট চকবাজার বা ইসলামপুরে যে কেউ কিনতে পারে, সেখানে রিসেলার কয়েক দিন পরে সরাসরি পাইকারের কাছে চলে যান, আর আপনার নেটওয়ার্ক ভেঙে যায়।
কয়েকটা জায়গায় রিসেলার রাখবেন না। যে জিনিসে সাইজ বা রং মেলানো খুব কঠিন, যেমন জুতা, সেখানে ফেরত বেশি আসে, আর ফেরতের ঝগড়া দুই জায়গায় হয়। যে খাবার বা কসমেটিকসে মেয়াদ আর মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, সেখানে অন্যের পেজ কাস্টমারকে কী কথা দিচ্ছে আপনি দেখতে পান না, অথচ জিনিসটা আপনার। আর যে প্রোডাক্টের স্টক নিজেই প্রায় শেষ হয়ে যায়, সেখানে রিসেলার নিলে তাঁদের অর্ডার আটকাবে, তাঁরা কাস্টমারের কাছে ছোট হবেন।
রিসেলার প্রাইস আর লাভ ভাগের হিসাব (উদাহরণ)
রিসেলার প্রোগ্রামের পুরো খেলাটা আসলে দুইটা দামের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। প্রথমটা রিসেলার প্রাইস, মানে প্রতি পিসে আপনি রিসেলারের কাছ থেকে কত নেবেন। দ্বিতীয়টা সর্বনিম্ন বিক্রির দাম, যার কমে রিসেলার কাস্টমারের কাছে বেচতে পারবেন না। দুইটার মাঝের ফারাকটা রিসেলারের লাভ। নিজের দাম কীভাবে বের করবেন সেটা প্রোডাক্টের দাম নির্ধারণের লেখায় ধাপে ধাপে আছে, এখানে শুধু রিসেলারের ভাগটা দেখাই।
নিচের সংখ্যাগুলো একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। নিজের খরচ বসিয়ে একবার মিলিয়ে নিন।
ধরুন একটা টি-শার্ট বানাতে আপনার পড়ে ২৮০ টাকা, প্যাকেটে আরও ২০ টাকা, মোট ৩০০ টাকা। নিজের পেজে বেচেন ৬৫০ টাকায়, ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার আলাদা দেন। কুরিয়ার COD চার্জ ধরুন ১% কাটে, ৬৫০ টাকায় প্রায় ৭ টাকা। নিজের পেজে একটা ডেলিভারি আনতে অ্যাডে যায় ধরুন ১৮০ টাকা। তাহলে নিজের পেজের প্রতিটা ডেলিভারিতে থাকে ৬৫০ − ৩০০ − ৭ − ১৮০ = ১৬৩ টাকা।
এবার রিসেলার প্রাইস ধরুন ৪৫০ টাকা, আর সর্বনিম্ন বিক্রির দাম আপনার পেজের সমান, ৬৫০ টাকা। রিসেলারের প্রতিটা ডেলিভারিতে আপনার থাকে ৪৫০ − ৩০০ − ৭ = ১৪৩ টাকা, আর অ্যাডের এক টাকাও আপনার যায়নি। রিসেলারের হাতে আসে ৬৫০ − ৪৫০ = ২০০ টাকা, তার থেকে তাঁর নিজের অ্যাডের খরচ যাবে।

প্রতি পিসে আপনি ২০ টাকা কম পাচ্ছেন, এটা সত্যি। কিন্তু ১৮০ টাকার অ্যাডের ঝুঁকিটাও আর আপনার ঘাড়ে নেই। যাঁরা কখনো এক দিনে দুই হাজার টাকার অ্যাড পুড়িয়ে একটাও অর্ডার পাননি, তাঁরা জানেন এই ঝুঁকি সরে যাওয়ার দাম কত। দশজন রিসেলার মিলে মাসে ১০০টা ডেলিভারি আনলে আপনার হাতে আসে ১০০ × ১৪৩ = ১৪,৩০০ টাকা, আর এর জন্য আপনাকে একটাও অ্যাড চালাতে হয়নি।
এবার রিসেলারের দিক থেকে ভাবুন, কারণ তিনি না টিকলে আপনার নেটওয়ার্কও টিকবে না। ২০০ টাকার লাভ থেকে তাঁর অ্যাডে যদি ডেলিভারিপ্রতি ১৫০ টাকা যায়, তাঁর থাকে ৫০ টাকা। এই টাকায় কেউ বেশিদিন খাটেন না। তাই রিসেলার প্রাইস এমন রাখুন যেন অ্যাড চালানো রিসেলারের হাতেও কিছু থাকে। আর যাঁরা অ্যাড ছাড়া পরিচিত মানুষ বা নিজের গ্রুপে বেচেন, তাঁরা এই ২০০ টাকার পুরোটাই রাখতে পারেন।
সর্বনিম্ন দাম কেন এত জরুরি, সেটা একটা উদাহরণে বোঝা যায়। ধরুন একজন রিসেলার তাড়াতাড়ি বেচতে গিয়ে ৫৫০ টাকায় পোস্ট দিলেন। পরদিন আরেক রিসেলারের কাস্টমার কমেন্টে লিখলেন, "ওই পেজে তো ১০০ টাকা কম, এখানে বেশি কেন?" আপনার নিজের পেজের ৬৫০ টাকাও হঠাৎ কাস্টমারের চোখে বেশি লাগতে শুরু করে। একজনের ১০০ টাকা ছাড়ে সবার বিক্রি পড়ে যায়। তাই নিয়মটা প্রথম দিন থেকেই লিখে দিন। প্রথমবার কম দামে বেচলে একবার মনে করিয়ে দেবেন, দ্বিতীয়বার হলে তাঁর অর্ডার নেওয়া বন্ধ।
রিসেলারের অর্ডার আসবে কীভাবে, পাঠাবে কে?
রিসেলার যত বাড়ে, অর্ডারের মেসেজ তত এলোমেলো হয়। কেউ ভয়েস মেসেজে ঠিকানা বলেন, কেউ স্ক্রিনশট পাঠান, কেউ সাইজ লিখতে ভুলে যান। পাঁচজন রিসেলার হলেই দিনের অর্ধেক যায় মেসেজ পড়ে ঠিকানা তুলতে। তাই প্রথম দিনেই একটা বাঁধা ফরম্যাট দিন, আর বলে দিন এর বাইরে অর্ডার নেবেন না।
প্রতিটা অর্ডারের মেসেজে এই ছয়টা জিনিস এক লাইন করে থাকবে।
- রিসেলারের নাম বা পেজের নাম
- কাস্টমারের নাম আর ১১ অঙ্কের মোবাইল নম্বর
- পুরো ঠিকানা, থানা আর জেলাসহ
- কোন প্রোডাক্ট, সাইজ, রং আর কয় পিস
- কাস্টমারের কাছ থেকে মোট কত টাকা নিতে হবে, ডেলিভারি চার্জসহ
- রিসেলার কাস্টমারের সাথে ফোনে কথা বলে কনফার্ম করেছেন কি না

শেষ লাইনটা সবচেয়ে দরকারি। কাস্টমারকে চেনেন রিসেলার, কথা বলেছেন রিসেলার, তাই কনফার্ম কলটাও তাঁর কাজ। আপনি অচেনা নম্বর থেকে ফোন দিলে কাস্টমার ভাববেন অন্য দোকান, আর অর্ডারটাই বাতিল করে দিতে পারেন।
দিনে একটা কাটঅফ সময় দিন। ধরুন বিকেল ৪টার মধ্যে যে অর্ডার আসবে, সেদিনই প্যাক হয়ে কুরিয়ারে যাবে, তার পরেরগুলো পরদিন। এতে রিসেলার তাঁর কাস্টমারকে ঠিক দিনটা বলতে পারেন, আর আপনার প্যাকিংও এক সময়ে হয়।
পার্সেল পাঠাবেন আপনি, নিজের কুরিয়ার অ্যাকাউন্ট থেকে। এতে কুরিয়ারের COD টাকা আপনার কাছে আসে, আর কোন পার্সেল কোথায় আছে আপনি নিজের প্যানেলেই দেখতে পান। কাস্টমারের কাছ থেকে কুরিয়ার নেবে রিসেলারের বিক্রির দাম আর ডেলিভারি চার্জ, আপনার রিসেলার প্রাইস না। আর প্যাকেটের ভেতরে নিজের দোকানের লিফলেট, ভিজিটিং কার্ড বা পেজের নাম দেবেন না। কাস্টমারটা রিসেলারের, তাঁর অ্যাডের টাকায় এসেছেন। সেই কাস্টমারকে নিজের দিকে টানলে রিসেলার এক মাসেই টের পাবেন, আর আপনার কাছে আর কেউ ফিরবেন না।
রিসেলারের অর্ডার নিজের পেজের অর্ডারের সাথে মিশে গেলে মাসের শেষে কার টাকা কত, সেটা বের করা প্রায় অসম্ভব। অর্ডার কীভাবে এক লিস্টে রাখবেন, তার পুরো দিনের রুটিন আছে অর্ডার ম্যানেজমেন্টের লেখায়। রিসেলারের বেলায় বাড়তি নিয়ম একটাই, প্রতিটা অর্ডারের গায়ে লেখা থাকবে কোন রিসেলারের।
প্রতিদিন পাঁচ-ছয়জনের মেসেজ থেকে হাতে ঠিকানা তোলা বেশ খাটুনির কাজ, ভুলও হয়। WinningSeller-এ রিসেলারের মেসেজ থেকে ম্যানুয়াল অর্ডার তুলতে পারেন, আর প্রতিটা লাইনের দাম নিজে বসাতে পারেন। ফলে কাস্টমারের কাছ থেকে কত নিতে হবে, সেটা রিসেলারের দামেই থাকে। স্মার্ট পেস্টে পুরো মেসেজটা পেস্ট করলে নাম, নম্বর আর ঠিকানা নিজে থেকে ঘরে বসে যায়, আপনি শুধু একবার মিলিয়ে নেন। প্রতিটা অর্ডারে রিসেলারের নামে একটা ট্যাগ দিয়ে দিন, যেমন "রিসেলার রাকিব"। তারপর ৬টা কুরিয়ারের যেটায় চান, এক ক্লিকে পার্সেল বুক হয়ে যায়।
ফেরত আর ফেক অর্ডারের দায় কার?
রিসেলার প্রোগ্রামে সবচেয়ে বেশি সম্পর্ক ভাঙে এই প্রশ্নে। আপনি ভাবেন রিসেলার ভালো করে কনফার্ম করেননি, রিসেলার ভাবেন আপনার প্যাকিং বা কুরিয়ার দেরি করেছে। তাই নিয়মটা ঘটনার আগে লিখে ফেলুন, ঘটনার পরে না।
সাধারণ নিয়মটা এমন রাখা যায়। কাস্টমার পার্সেল না নিলে ফেরতের কুরিয়ার চার্জ দেবেন রিসেলার, কারণ অর্ডারটা তিনি কনফার্ম করেছেন। আপনার দিক থেকে ভুল হলে, মানে ভুল সাইজ গেল, ছেঁড়া প্রোডাক্ট গেল বা আপনি দুই দিন দেরিতে কুরিয়ারে দিলেন, তখন চার্জ আপনার। ফেরত মাল আপনার কাছেই ফিরবে। আর চার্জটা রিসেলারের কাছ থেকে আলাদা করে চাইবেন না, তাঁর পরের পেমেন্ট থেকে কেটে রাখবেন।
কেন রিসেলারের ঘাড়ে, সেটা একটা উদাহরণে দেখুন। এটাও একটা উদাহরণ, আসল হিসাব না। একজন রিসেলারের ১০টা অর্ডারের ৩টা ফেরত এলো, প্রতিটা ফেরতে ঢাকার বাইরের চার্জ ধরুন ১৩০ টাকা।
| ১০টা অর্ডার, ৩টা ফেরত | ফেরতের চার্জ আপনি দিলে | ফেরতের চার্জ রিসেলার দিলে |
|---|---|---|
| ৭টা ডেলিভারিতে আপনার ভাগ | ৭ × ১৪৩ = ১,০০১ টাকা | ১,০০১ টাকা |
| ৩টা ফেরতের চার্জ, ৩৯০ টাকা | আপনার থেকে যায় | রিসেলারের থেকে যায় |
| আপনার হাতে থাকে | ৬১১ টাকা | ১,০০১ টাকা |
| রিসেলারের হাতে থাকে | ১,৪০০ টাকা | ১,০১০ টাকা |
ফেরত আসা ৩টা পার্সেলের প্যাকেট, মানে ৩ × ২০ = ৬০ টাকা, দুই কলামেই আপনার যায়, তাই সেটা টেবিলে আলাদা দেখাইনি। আসল ফারাকটা ৩৯০ টাকায়। ফেরতের চার্জ আপনি দিলে রিসেলারের গায়ে আঁচড়ও লাগে না, তাই ফোন করে ভালো করে কনফার্ম করার গরজও তাঁর থাকে না। যত বেশি ফেরত, আপনার লস তত বড়। আর চার্জটা তাঁর হলে তিনি নিজেই সাবধানে অর্ডার নেন। দুই পক্ষের লাভ তখন একই দিকে চলে।
ফেক অর্ডার ঠেকাতে পাঠানোর আগে প্রতিটা অর্ডারের নম্বর একবার চেক করে নিন। ফ্রি ফ্রড চেকারে নম্বরটা দিলে দেখা যায় ওই নম্বরে আগে কয়টা পার্সেল নেওয়া হয়েছে আর কয়টা ফেরত গেছে। রেকর্ড খারাপ হলে রিসেলারকে বলুন ডেলিভারি চার্জটা অগ্রিম নিয়ে নিতে। এতে আসল কাস্টমার সাধারণত রাজি হন, আর মজা করে অর্ডার দেওয়া মানুষ সরে পড়েন।
সাথে প্রতিটা রিসেলারের ফেরতের হার আলাদা করে দেখুন। কারও দুই সপ্তাহ ধরে দশে তিনটার বেশি ফেরত এলে রাগ না দেখিয়ে তাঁর সাথে বসুন, জিজ্ঞেস করুন কাস্টমারকে কী বলে কনফার্ম করছেন। অনেক সময় দেখা যায় তিনি ফোনই করছেন না। তাতেও ফেরত না কমলে তাঁর অর্ডার কিছুদিন বন্ধ রাখুন।
কাস্টমারের দিক থেকে আরেকটা কথা মনে রাখুন। কাস্টমার কিনেছেন রিসেলারের পেজ থেকে, তাই অভিযোগ করবেন তাঁকেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১-এর ৩.৪.২ অনুচ্ছেদে লেখা আছে, কাস্টমারের অভিযোগ পাওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সমাধানের ব্যবস্থা করে তাঁকে জানাতে হবে। জিনিসটা আপনার হাতে, তাই রিসেলার আপনার কাছে চেঞ্জ বা ফেরতের কথা নিয়ে এলে এক দিনের মধ্যে উত্তর দিন। আপনি দেরি করলে কাস্টমারের রাগটা পড়ে রিসেলারের ঘাড়ে, আর তিনি আপনার প্রোডাক্ট বেচা ছেড়ে দেন।
রিসেলারের টাকা কবে আর কীভাবে দেবেন?
রিসেলারের সাথে সম্পর্কটা টেকে টাকার দিনে। একটু ভাবুন তো, আপনি কারও মাল বেচে দিলেন, নিজের অ্যাডের টাকা খরচ করলেন, আর টাকার দিন এসে শুনলেন "ভাই, আর দুইটা দিন"। কেমন লাগবে? কথা দিয়ে সময়মতো টাকা দিলে রিসেলার আপনার প্রোডাক্টের পোস্ট বেশি দেন। দেরি করলে তিনি চুপচাপ আরেক সাপ্লায়ারের দিকে তাকান। তাই নিয়মটা সহজ রাখুন, আর কখনো ভাঙবেন না।
টাকা দেবেন শুধু সেই পার্সেলের, যেটা ডেলিভারি হয়েছে আর যার টাকা কুরিয়ার আপনাকে দিয়ে দিয়েছে। প্যানেলে "ডেলিভারড" দেখেই টাকা দেবেন না। মাঝে মাঝে কাস্টমার অর্ধেক মাল রাখেন, বা ভুল করে রিটার্ন দেখায়, তখন হিসাব আবার বদলায়। কুরিয়ারের টাকা হাতে আসার পর দিলে আপনাকে কখনো পকেট থেকে আগে টাকা দিতে হয় না।
সপ্তাহে একটা দিন ঠিক করুন। ধরুন প্রতি রবিবার আপনি সেই সব পার্সেলের হিসাব দেবেন, যেগুলোর টাকা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কুরিয়ার থেকে এসেছে। প্রতিটা রিসেলারকে টাকার সাথে একটা ছোট স্টেটমেন্ট পাঠান। ধরুন রাকিবের এই সপ্তাহে ১২টা পার্সেল ডেলিভারি হলো, প্রতিটায় ২০০ টাকা, মোট ২,৪০০ টাকা। ২টা ফেরত এসেছে, তাতে কাটা গেল ২ × ১৩০ = ২৬০ টাকা। রবিবার রাকিব পাবেন ২,১৪০ টাকা, সাথে প্রতিটা অর্ডারের নম্বর আর কোনটা ফেরত, সেই লিস্ট। এই সংখ্যাগুলোও উদাহরণ।

টাকা পাঠান bKash বা ব্যাংকে, যেটায় রিসেলার চান, কিন্তু সবসময় একই নম্বরে। ট্রানজেকশনের স্ক্রিনশট স্টেটমেন্টের সাথে রেখে দিন। ছয় মাস পরে কেউ বললে "মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহের টাকা পাইনি", তখন আপনার কাছে উত্তর থাকবে, তর্ক থাকবে না।
আর নিজের হিসাবেও রিসেলারের টাকাটা আলাদা খরচ হিসেবে লিখুন। কাস্টমার যে ৬৫০ টাকা দিলেন, তার পুরোটা আপনার আয় না। রিসেলারের ২০০ টাকা বাদ দিয়ে তবেই আপনার আসল লাভ বোঝা যায়।
WinningSeller-এ অর্ডারের লিস্ট রিসেলারের ট্যাগ দিয়ে ফিল্টার করে CSV-তে নামানো যায়, এক রিসেলারের অর্ডারগুলো আলাদা হয়ে আসে, সেখান থেকেই স্টেটমেন্ট বানানো যায়। লাভ-ক্ষতি গোনা হয় শুধু ডেলিভারি হওয়া অর্ডার থেকে। রিসেলারকে যে টাকা দিলেন, সেটা হিসাবের খাতায় খরচ হিসেবে একটা এন্ট্রি দিয়ে রাখলে মাসের শেষের লাভটা আসল সংখ্যা দেখায়।
রিসেলার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে কী লিখবেন, কী লিখবেন না
রিসেলার নিয়োগের পোস্টটা আসলে একটা চুক্তির শুরু। যা লিখবেন, রিসেলার সেটাই মনে রাখবেন, আর ঝামেলা হলে সেই পোস্টের স্ক্রিনশটই দেখাবেন। তাই ওপরের সব নিয়ম পোস্টেই খোলাখুলি লিখে দিন। কোন কোন প্রোডাক্ট দিচ্ছেন, রিসেলার প্রাইস আর সর্বনিম্ন দাম কত, ফেরতের চার্জ কে দেবেন, অর্ডার কোন ফরম্যাটে আর বিকেল কয়টার মধ্যে পাঠাতে হবে, আর টাকা কোন বারে পাবেন। ছবি আর ভিডিও আপনি দেবেন কি না, সেটাও লিখে দিন। আর একটা লাইন বড় করে লিখুন, "রিসেলার হতে কোনো টাকা লাগে না।"
যা লিখবেন না, সেটাও সমান জরুরি। "মাসে ৩০ হাজার টাকা ইনকাম গ্যারান্টি" লিখবেন না। আয় নির্ভর করে রিসেলার কত বেচতে পারেন তার ওপর, আপনি সেটা কথা দিতে পারেন না। "রেজিস্ট্রেশন ফি মাত্র ৫০০ টাকা" লিখবেন না। "একজন নতুন রিসেলার আনলে আপনি কমিশন পাবেন" লিখবেন না। শেষের দুটো কেন বিপদের, সেটা নিচের অংশে আইনের লেখা ধরে বলছি।
সবাইকে একসাথে নেবেন না। প্রথমে পাঁচ থেকে দশজন নিন, দুই সপ্তাহ চালিয়ে দেখুন অর্ডার কেমন আসছে আর আপনার প্যাকিং সামলাতে পারছে কি না। যিনি রিসেলার হতে চান, তাঁর পেজের লিংক চেয়ে নিন। পেজে আসল পোস্ট আর কাস্টমারের কমেন্ট আছে কি না দেখুন। নতুন খোলা খালি পেজের চেয়ে যিনি আগে থেকে কিছু বেচছেন, তাঁর অর্ডার সাধারণত বেশি টেকে।
ওপরের নিয়মগুলো একটা কাগজে লিখে দুজনেই সই করুন, অথবা অন্তত লিখিত মেসেজে রিসেলারের "রাজি" নিয়ে রাখুন। এর একটা আইনি দিকও আছে। ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১-এর ৩.২.৯ অনুচ্ছেদে বলা আছে, বিক্রির জন্য দেখানো জিনিস সেলারের বা তাঁর সাথে চুক্তি করা মানুষ বা প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকতে হবে, নইলে পাশে "স্টকে নেই" লিখতে হবে। রিসেলারের হাতে মাল নেই, আছে আপনার কাছে। আপনার সাথে লেখা একটা চুক্তি থাকলে তাঁর পোস্টের পেছনে একটা ভিত থাকে।
"রেজিস্ট্রেশন ফি" আর এমএলএম, যেখানে আইনের ঝুঁকি
ফেসবুকে কিছু "রিসেলার প্রোগ্রাম" দেখবেন, যেখানে যোগ দিতে টাকা লাগে, আর নতুন মানুষ আনলে কমিশন। প্রথমে এটা লোভনীয় লাগে। রিসেলারের টাকায় আপনার হাতে নগদ আসে, আর রিসেলাররা নিজেরাই আরও রিসেলার আনেন। কিন্তু এখানে এসে সৎ রিসেলার ব্যবসা আর এমএলএমের মাঝের দাগটা পার হয়ে যায়। আমরা আইনজীবী না, তাই এখানে নিজেদের রায় দিচ্ছি না, শুধু আইনের লেখায় কী আছে সেটা বলছি।
২০২৬ সালের অক্টোবরে bdlaws.minlaw.gov.bd-তে থাকা মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এর ২ ধারায় মাল্টি-লেভেল মার্কেটিংয়ের মানে লেখা আছে মোটামুটি এমন। দুই বা তার বেশি স্তরের নেটওয়ার্ক বানিয়ে কমিশন বা লাভের ভাগ দেওয়ার পরিকল্পনায় চালানো বিক্রির কাজ। একই আইনের ৪ ধারা বলছে, লাইসেন্স ছাড়া এই কাজ চালানো যাবে না। আর ২৪ ধারায় এর শাস্তি লেখা আছে পাঁচ থেকে দশ বছরের জেল আর ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা।
একই আইনের ১৫ ধারায় পিরামিডের মতো বিক্রি পুরোপুরি নিষেধ। ধারার ব্যাখ্যায় পিরামিড বলতে বোঝানো হয়েছে এমন ব্যবস্থা, যেখানে কমিশনের আশায় আগে ফি দিয়ে ঢুকতে হয়, আর কমিশন নির্ভর করে আরও অনেক মানুষ জুড়তে পারার ওপর। এর শাস্তিও ২৬ ধারায় পাঁচ থেকে দশ বছরের জেল আর ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। আর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১-এর ৩.১.৩ অনুচ্ছেদে সোজা লেখা আছে, ডিজিটাল কমার্স বা ই-কমার্সের মাধ্যমে এমএলএম বা নেটওয়ার্ক ব্যবসা চালানো যাবে না।

আইনের এই লেখা থেকে একজন সাপ্লায়ারের জন্য কাজের নিয়মটা দাঁড়ায় এরকম। নেটওয়ার্ক রাখুন এক স্তরে, মানে আপনি, রিসেলার আর কাস্টমার। রিসেলার আয় করবেন শুধু আসল কাস্টমারের কাছে প্রোডাক্ট বেচে। যোগ দিতে কোনো ফি নেবেন না। আর একজন রিসেলার আরেকজনকে আনলে তাঁকে কোনো কমিশন দেবেন না।
সৎ পথে চললে একটা বাড়তি লাভও আছে। যে রিসেলার এক টাকাও না দিয়ে যোগ দিয়েছেন, তিনি আপনাকে বিশ্বাস করেন। কারণ তাঁর হারানোর কিছু নেই, আর আপনি তাঁর কাছ থেকে কিছু নিচ্ছেন না, বরং তাঁকে দিচ্ছেন। এই বিশ্বাস থেকেই রিসেলার বছরের পর বছর আপনার প্রোডাক্ট বেচেন।
আজ কোথা থেকে শুরু করবেন?
আজই বিশজন রিসেলার খুঁজতে নামবেন না। আগে একটা কাগজে আপনার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া একটা প্রোডাক্টের হিসাব করুন। তৈরি বা কেনার খরচ, প্যাকেট, কুরিয়ারের COD চার্জ, তারপর রিসেলার প্রাইস আর সর্বনিম্ন দাম। দেখুন মাঝের ফারাক থেকে অ্যাড চালানো রিসেলারের হাতে কিছু থাকে কি না। থাকলে ছয় লাইনের অর্ডার ফরম্যাট, ফেরতের নিয়ম আর টাকার দিন লিখে একটা পোস্ট দিন, আর প্রথম পাঁচজনকে নিয়ে দুই সপ্তাহ চালান।
হাতে খাতা আর শিট দিয়েও এটা চলে, যতদিন রিসেলার কম। বিশজন রিসেলার আর দিনে পঞ্চাশটা অর্ডার হলে কে কোন অর্ডার দিলেন আর কার কত পাওনা, সেটা মেলাতেই সন্ধ্যা পার হয়ে যায়। তখন অর্ডার, ট্যাগ, কুরিয়ার আর লাভ-ক্ষতি এক জায়গায় রাখলে কাজটা সহজ হয়। WinningSeller-এ এগুলো এক প্যানেলেই থাকে, আর রিসেলারের প্রতিটা অর্ডার তাঁর ট্যাগ ধরে আলাদা দেখা যায়।
সাধারণ প্রশ্ন
রিসেলার মানে কি?
রিসেলার মানে যিনি আপনার প্রোডাক্ট নিজের পেজ বা পরিচিত মানুষের কাছে নিজের দামে বিক্রি করেন। অর্ডার এলে তিনি আপনাকে কাস্টমারের ঠিকানা পাঠান, আপনি পার্সেল পাঠান, আর আপনার ঠিক করা রিসেলার প্রাইসের ওপরে যা থাকে সেটা তাঁর লাভ। অনেক রিসেলার মাল কিনে রাখেন না, তাই তাঁর দিক থেকে কাজটা ড্রপশিপিংয়ের মতো।
রিসেলার হতে কি টাকা দিতে হয়?
সৎ রিসেলার প্রোগ্রামে যোগ দিতে কোনো টাকা লাগে না। রিসেলার তাঁর লাভ পান শুধু আসল কাস্টমারের কাছে বিক্রি থেকে। যোগ দিতে ফি চাইলে আর নতুন মানুষ জোগাড় করলে কমিশনের কথা বললে সেটা পিরামিডের দিকে যায়, যেটা মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং আইন, ২০১৩-এর ১৫ ধারায় নিষেধ।
রিসেলার প্রাইস কত রাখা উচিত?
আগে নিজের খরচ আর লাভ ধরে রিসেলার প্রাইস ঠিক করুন, তারপর বাজারে বিক্রির একটা সর্বনিম্ন দাম দিন। দুইয়ের মাঝের ফারাকটা রিসেলারের লাভ, আর সেটা এমন হতে হবে যেন অ্যাডের খরচ বাদ দিয়েও তাঁর হাতে কিছু থাকে। ফারাক খুব কম হলে রিসেলার দুই সপ্তাহেই হাল ছেড়ে দেন।
রিসেলারের পার্সেল ফেরত এলে চার্জ কে দেবে?
সাধারণত যিনি অর্ডারটা কনফার্ম করেছেন, মানে রিসেলার। কাস্টমারকে তিনিই চেনেন আর তিনিই কথা বলেছেন। চার্জটা তাঁর পরের পেমেন্ট থেকে কেটে রাখুন, আর নিয়মটা শুরুতেই লিখে দিন, যাতে পরে তর্ক না হয়।
রিসেলারকে টাকা কবে দেব?
পার্সেল ডেলিভারি হওয়ার পর, যখন কুরিয়ার সেই পার্সেলের টাকা আপনাকে দিয়ে দিয়েছে। সপ্তাহে একটা নির্দিষ্ট দিন ঠিক করুন, আর প্রতিটা পেমেন্টের সাথে একটা স্টেটমেন্ট দিন, কোন অর্ডারে কত এলো আর ফেরতের জন্য কত কাটা হলো।
রিসেলার আমার চেয়ে কম দামে বেচলে কী করব?
শুরুতেই সর্বনিম্ন বিক্রির দাম লিখে দিন, আর প্রথমবার কম দামে বেচলে একবার মনে করিয়ে দিন। দ্বিতীয়বার হলে তাঁর অর্ডার নেওয়া বন্ধ রাখুন। একজন কম দামে বেচলে বাকি সব রিসেলারের বিক্রি পড়ে যায়, আর আপনার নিজের পেজের দামও কাস্টমারের চোখে বেশি লাগে।
আরও পড়ুন
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল না গ্রুপ? পুরনো কাস্টমারকে নতুন মালের খবর দিন
নতুন কালেকশনের খবর পুরনো কাস্টমারকে দিতে চান, কিন্তু চ্যানেল খুলবেন, গ্রুপ, না স্ট্যাটাস? কে কার নম্বর দেখে, কে উত্তর দিতে পারে, চ্যানেল খোলার ধাপ, কী পোস্ট দেবেন, গ্রুপের নিয়ম আর ঝুঁকি, আর এক মাসে কোনটায় কত সময় যায়, হিসাবসহ।
শার্ট, প্যান্ট আর টি-শার্টের সাইজ চার্ট বানাবেন যেভাবে, ফেরত কমবে
সাপ্লায়ারের ট্যাগে M লেখা, অথচ কাস্টমার বলেন টাইট। টি-শার্ট, শার্ট আর প্যান্ট টেবিলে বিছিয়ে ফিতা দিয়ে মাপার নিয়ম, ইঞ্চিতে নিজের সাইজ চার্ট বানানো, কাস্টমারকে নিজের শার্ট মেপে সাইজ বাছতে শেখানো, আর একটা ভুল সাইজে কত টাকা যায়, হিসাবসহ।
প্রোডাক্ট ক্যাটালগ ও প্রাইস লিস্ট বানানোর নিয়ম, পাইকার আর অফিসের জন্য
পাইকার, রিসেলার বা অফিসের লোক বলছেন "ক্যাটালগ আর রেট দেন"? প্রতিটা প্রোডাক্টে কী লিখবেন, খুচরা আর পাইকারি দাম কেন আলাদা ফাইলে, পরিমাণ ধরে দামের ধাপ টাকায়, PDF না লিংক, আর দাম বদলালে পুরনো কপি থামাবেন কীভাবে।


