এক ডিজাইনের পাঁচ রং, দশ সাইজ? প্রোডাক্ট ভ্যারিয়েন্ট সাজানোর নিয়ম
একটা জুতা তিন রঙে আর পনেরো সাইজে থাকলে সেটা পনেরোটা আলাদা প্রোডাক্ট না, একটা প্রোডাক্টের ভ্যারিয়েন্ট। নাম আর বানান কীভাবে লিখবেন, প্রতিটা রঙের ছবি কীভাবে দেবেন, সাইজ চার্ট কোথায় বসাবেন, আর কাস্টমার নিজের সাইজ নিজেই খুঁজে পাবেন কীভাবে, ভুল রঙের পার্সেলের খরচসহ।

এই লেখায় যা আছে
- প্রোডাক্ট ভ্যারিয়েন্ট কি, আলাদা প্রোডাক্ট বানাবেন কখন?
- অপশনের নাম আর মান লেখার নিয়ম, বানান এক রাখুন
- প্রতিটা রঙের নিজের ছবি, আর আলোয় রং বদলে যাওয়া
- ভুল রঙের পার্সেলে কত যায় (উদাহরণ)
- সাইজ চার্ট কোথায় বসাবেন
- ক্যাটাগরি আর ফিল্টার, কাস্টমার নিজের সাইজ খুঁজে পাবেন যেভাবে
- যে সাইজ শেষ, সেটা কী দেখাবেন
- আজই করে ফেলুন
প্রোডাক্ট ভ্যারিয়েন্ট মানে একই প্রোডাক্টের রং, সাইজ বা অন্য কোনো বাছাইয়ের একেকটা জোড়া। একটা লোফার কালো, বাদামি আর মেরুন রঙে, ৩৮ থেকে ৪২ পাঁচটা সাইজে এলে আপনার প্রোডাক্ট একটা, ভ্যারিয়েন্ট পনেরোটা। নিয়মটা সোজা। একই ডিজাইন হলে একটা প্রোডাক্ট বানান, তার ভেতরে "সাইজ" আর "রং" নামে দুটো অপশন দিন। প্রতিটা রঙের নিজের সত্যি ছবি দিন, আর পুরো দোকানে রং-সাইজের নাম একই বানানে লিখুন। তাহলে কাস্টমার একটা পেজেই নিজের রং আর সাইজ বেছে নিতে পারেন, আর ভুল রঙের পার্সেল যাওয়ার সুযোগ কমে।
ধরুন নতুন লট এসেছে। এক ডিজাইনের জুতা তিন রঙে, প্রতিটা রঙে পাঁচ সাইজ। পেজে পোস্ট দিলেন, কমেন্টে প্রশ্নের ঢল নামল। "মেরুনটা ৪০ আছে?", "কালোটার ছবি দেন", "এটা কি ছবির মতোই রং?" রাত এগারোটা পর্যন্ত একই উত্তর বারবার লিখছেন। ওয়েবসাইটে তুলতে গিয়েও একই দ্বিধা। পনেরোটা আলাদা প্রোডাক্ট বানাবেন, নাকি এক প্রোডাক্টে সব? নিচে পুরো সাজানোর নিয়মটা দিচ্ছি, যাতে কাস্টমার প্রশ্ন না করেই ঠিক জিনিসটা বেছে নিতে পারেন।
প্রোডাক্ট ভ্যারিয়েন্ট কি, আলাদা প্রোডাক্ট বানাবেন কখন?
একটা প্রোডাক্টে দুই ধরনের জিনিস থাকে। কিছু কথা সব ভ্যারিয়েন্টে এক, যেমন ডিজাইন, কাপড়, বর্ণনা আর রিভিউ। আর কিছু কথা ভ্যারিয়েন্ট ভেদে আলাদা, যেমন রং, সাইজ, কখনো দাম আর স্টক। ভ্যারিয়েন্টের সুবিধা হলো প্রথম ধরনের কথাগুলো একবার লিখলেই হয়। একটা লিংক, একটা অ্যাড, একটা পেজে সব রং। কাস্টমার রং বদলে বদলে পাশাপাশি তুলনা করেন, অন্য পেজে খুঁজতে হয় না।
পনেরোটা আলাদা প্রোডাক্ট বানালে উল্টোটা হয়। দোকানের লিস্টে প্রায় একই রকম পনেরোটা কার্ড পাশাপাশি বসে, আর কাস্টমার স্ক্রল করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যান। একটা রঙের রিভিউ আরেকটা রঙের পেজে দেখায় না। আর অ্যাডের লিংক একটা রঙের পেজে গেলে বাকি দুই রঙের কাস্টমার ফিরে যান।
তাহলে আলাদা প্রোডাক্ট কখন বানাবেন? যখন জিনিস দুটো আসলে আলাদা ডিজাইন, শুধু রঙের তফাত না। সুতি আর লিনেনের একই কাটের পাঞ্জাবি দাম আর কাপড়ে এতটা আলাদা যে দুটো আলাদা প্রোডাক্ট হওয়াই ভালো। যে জিনিসের জন্য আলাদা ল্যান্ডিং পেজ আর আলাদা অ্যাড চালাবেন, সেটাও আলাদা প্রোডাক্ট। আর দুই পাইকারের কাছ থেকে আসা দুই মানের মাল কখনো এক প্রোডাক্টের রং বানিয়ে বেচবেন না। কাস্টমার এক রঙের মান দেখে আরেক রং নিলে অভিযোগ আসবেই।
কখন ভ্যারিয়েন্ট লাগে না
একটাই সাইজ, একটাই রং, এমন প্রোডাক্টে অপশন দেবেন না। আধা কেজির এক বয়াম মধুতে "সাইজ" অপশন খুলে তাতে একটাই মান "আধা কেজি" রাখলে কাস্টমারকে অযথা একটা বাছাই করতে হয়। যেটা কাস্টমার কখনো বেছে নেন না, সেটা অপশন না, বর্ণনার একটা লাইন।
আরেকটা ছোট কথা, যেটা অনেকে খেয়াল করেন না। রঙের লিস্টে প্রথমে যে রং লেখেন, পেজ খুললে সাধারণত সেটাই বাছা থাকে, আর প্রোডাক্টের প্রথম ছবিটাই দোকানের লিস্টে কার্ডের ছবি হয়। তাই যে রংটা সবচেয়ে বেশি চলে, সেটা রঙের লিস্টেও প্রথমে রাখুন, ছবির সারিতেও প্রথমে। আর অ্যাডে যে রঙের ছবি দিচ্ছেন, পেজ খুলেও যেন প্রথমে সেই রংটাই চোখে পড়ে। মেরুনের অ্যাড দেখে আসা কাস্টমার পেজে ঢুকে প্রথমেই কালো দেখলে এক মুহূর্ত থমকে যান, আর সেই মুহূর্তেই অনেকে ফিরে যান।

অপশনের নাম আর মান লেখার নিয়ম, বানান এক রাখুন
অপশনের নাম হলো "সাইজ" বা "রং"। মান হলো তার ভেতরের বাছাইগুলো, যেমন ৩৮, ৩৯, ৪০, বা কালো, মেরুন। শুনতে খুব সাধারণ, কিন্তু এখানেই প্রথম মাসে প্রায় সবাই একটা ভুল করেন। এক প্রোডাক্টে লেখেন "Size", আরেকটায় "সাইজ", তৃতীয়টায় "মাপ"। এক জুতায় রং "Black", আরেকটায় "কালো"।
দোকানের ভেতরে এর দাম চোখে পড়ে ফিল্টারে। কাস্টমার "কালো" টিক দিলে "Black" লেখা জুতাগুলো আসে না, কারণ দোকানের কাছে ওগুলো আলাদা রং। WinningSeller-এর ফিল্টার কিছু কাজ নিজে থেকেই করে দেয়। Size, সাইজ আর মাপ এক "সাইজ" হয়ে যায়, Color, রং, রঙ আর কালার এক "রং" হয়ে যায়, আর বাংলা ৩৮ আর ইংরেজি 38 একই চিপে আসে। কিন্তু "কালো" আর "Black" অনুবাদ করে মেলানো কোনো সিস্টেমের কাজ না, ওটা আপনার।
তাই পুরো দোকান জুড়ে এই কয়েকটা নিয়ম রাখুন।
- অপশনের নাম সবসময় "সাইজ" আর "রং"। অন্য অপশন হলে, যেমন "কাপড়", সেটাও এক বানানে।
- রঙের নাম সেই শব্দে লিখুন, যেটা কাস্টমার মুখে বলেন। মেরুন, অফ-হোয়াইট, অ্যাশ, নেভি ব্লু। পাইকারের চালানের "C-07" কাস্টমারের কাছে অর্থহীন।
- একবার বাংলায় শুরু করলে সব প্রোডাক্টে বাংলা। অর্ধেক বাংলা আর অর্ধেক ইংরেজি হলে ফিল্টারে একই রং দুইবার আসে।
- মানের ভেতরে বাড়তি কথা রাখবেন না। "৩৮ (বড়)" বা "৪০ নতুন স্টক" লিখলে ফিল্টারে সেটা সাধারণ ৩৮ বা ৪০-এর পাশে আলাদা একটা চিপ হয়ে দাঁড়ায়, আর ৩৮ টিক দেওয়া কাস্টমার ওই জুতাটা আর দেখতে পান না। বাড়তি কথা বর্ণনায় লিখুন।
- সাইজ ছোট থেকে বড় ক্রমে দিন, যাতে বাটনগুলো সারিতে ঠিকমতো বসে।
রং বা সাইজের নাম কোডে কীভাবে ছোট করবেন, আর প্যাকিংয়ে কোড কীভাবে কাজে আসে, সেটা SKU আর আর্টিকেল নম্বরের লেখায় আলাদা করে বলেছি।
প্রতিটা রঙের নিজের ছবি, আর আলোয় রং বদলে যাওয়া
তিন রঙের জুতা, কিন্তু ছবি শুধু কালোটার। মেরুন রং বাছা কাস্টমার তখন কল্পনা করে নেন মেরুনটা দেখতে কেমন। পার্সেল খুলে তাঁর কল্পনার সাথে না মিললেই অভিযোগ, "ছবির মতো না"। অথচ ছবিই ছিল না। প্রতিটা রঙের অন্তত একটা নিজের ছবি দিন, শুধু কালার প্যালেটের ছোট গোল দাগ না।
ছবি তোলার নিয়মটা এখানে সবচেয়ে জরুরি। তিনটা রং তুলুন একই জানালার পাশে, একই দিনে, একই ঘণ্টায়। সকালের নরম আলোয় তোলা মেরুন আর রাতের হলুদ বাল্বের নিচে তোলা মেরুন ফোনের স্ক্রিনে দুই রকম দেখায়, প্রায়ই রাতেরটা খয়েরি হয়ে যায়। ফোনের বিউটি মোড আর ফিল্টার বন্ধ রাখুন, কারণ এগুলো রং চড়িয়ে দেয়। জানালার আলোয় সেটআপ কীভাবে সাজাবেন, সেটা মোবাইল দিয়ে প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফির লেখায় আছে।

সরকারি নিয়মও এই দিকেই বলে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১-এর ৩.২.২ অনুচ্ছেদে প্রোডাক্টের ছবি, ভিডিও, রং, আকৃতি আর মাপের তথ্য দিতে বলা হয়েছে, যাতে কাস্টমার জেনে-বুঝে কেনেন। ২০২৬ সালের অক্টোবরে নির্দেশিকার গেজেট কপিতে কথাটা এভাবেই লেখা আছে।
WinningSeller-এ প্রোডাক্টের ফর্মে রঙের অপশনের প্রতিটা রঙের পাশে "ছবি বাছুন" থাকে। আগে প্রোডাক্টের ছবিগুলো আপলোড করুন, তারপর প্রতিটা রঙের পাশে চেপে ওই ছবিগুলো থেকে একটা বেছে দিন। এক রঙের সব সাইজে একই ছবি দেখায়, তাই পনেরো ভ্যারিয়েন্টের জন্য তিনবার বাছলেই কাজ শেষ। কাস্টমার মেরুন বাছলে গ্যালারি নিজেই মেরুনের ছবিতে চলে যায়। কার্ট, চেকআউট, ধন্যবাদ পেজ আর আপনার অর্ডারেও থাকে মেরুনের ছবিটাই। ফলে প্যাকার অর্ডার খুলে ছোট ছবিটা দেখেই বোঝেন কোন রংটা যাবে। একটা জিনিস মনে রাখবেন। পরে রঙের নাম "লাল" থেকে "মেরুন" করলে ওই রঙের ছবিটা আবার বাছতে হয়। রং ছাড়া অন্য কোনো অপশনেও ছবি লাগলে, যেমন কাপড়ের ধরন, সেখানে "এই অপশনে ছবি দিন" সুইচটা চালু করে নিন।
ভুল রঙের পার্সেলে কত যায় (উদাহরণ)
"রঙটা একটু আলাদা, কী আর হবে" ভাবার আগে হিসাবটা দেখুন। নিচের সংখ্যাগুলো উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। কুরিয়ারের চার্জ ধরে নেওয়া। নিজের দাম বসিয়ে মিলিয়ে নিন।
উদাহরণ। একটা পাঞ্জাবি বেচেন ১,৬৫০ টাকায়, কিনতে পড়ে ৯৫০ টাকা। মাসের অ্যাড খরচ ডেলিভারি হওয়া অর্ডারে ভাগ করলে প্রতিটায় পড়ে ২২০ টাকা, প্যাকিং ২৫ টাকা, আর ডেলিভারি চার্জটা কাস্টমারের। পার্সেল ঠিকঠাক পৌঁছালে আপনার থাকে ১,৬৫০ − ৯৫০ − ২২০ − ২৫ = ৪৫৫ টাকা।
এবার খুলনার একজন কাস্টমার রাতের আলোয় তোলা ছবি দেখে "মেরুন" অর্ডার করলেন। পার্সেল খুলে দেখলেন রং অনেক উজ্জ্বল লাল, নিলেন না। খুলনা ঢাকার বাইরে, তাই ডেলিভারির ১৩০ টাকা আর ফেরত আনার ৬৫ টাকা (দুটোই ধরে নেওয়া) এখন আপনার ঘাড়ে। অ্যাডের ২২০ টাকা আর প্যাকিংয়ের ২৫ টাকা তো খরচ হয়েই গেছে। মোট ক্ষতি ১৩০ + ৬৫ + ২২০ + ২৫ = ৪৪০ টাকা। পাঞ্জাবিটা ফেরত আসে ভাঁজ নষ্ট হয়ে, আবার ইস্ত্রি করে নতুন পলিতে তুলতে হয়।
তার মানে একটা সফল অর্ডারে থাকে ৪৫৫ টাকা, আর একটা ভুল রঙের ফেরতে যায় ৪৪০ টাকা। একটা ফেরত প্রায় একটা পুরো সফল অর্ডারের লাভ মুছে দেয়। দশটা অর্ডারে একটা এমন ফেরত হলে বাকি নয়টার লাভ দাঁড়ায় ৯ × ৪৫৫ − ৪৪০ = ৩,৬৫৫ টাকা, মানে অর্ডার প্রতি ৩৬৫ টাকার মতো। প্রতিটা রঙের সত্যি ছবি তুলতে এক বিকেলই লাগে।

সাইজ চার্ট কোথায় বসাবেন
সাইজের বাটনের পাশে কাস্টমারের মাথায় একটাই প্রশ্ন থাকে, "আমার কোনটা লাগবে?" উত্তরটা যদি পেজের একেবারে নিচে বা আলাদা কোনো পেজে থাকে, তিনি সেটা খুঁজে পান না। তখন হয় আন্দাজে একটা সাইজ বাছেন, নয়তো ইনবক্সে জিজ্ঞেস করেন। আন্দাজের সাইজই পরে "টাইট হয়েছে" হয়ে ফেরত আসে।
তাই সাইজ চার্ট বসান প্রোডাক্টের বর্ণনার একেবারে প্রথম অংশে, সাইজের বাটনের কাছাকাছি। ছবির ভেতরে ছোট টেবিল না দিয়ে লেখায় দিন। ফোনে ছবির ছোট লেখা জুম না করে পড়া যায় না, আর অনেক মানুষ জুম করেন না। মাপগুলো নিজের ফিতায় মেপে ইঞ্চিতে লিখুন, পাইকারের ট্যাগ দেখে না। এক পাইকারের M আরেক পাইকারের M-এর সমান হয় না।
প্রতিটা প্রোডাক্টের জন্য নতুন চার্ট বানাতে হবে না। একই কাট আর একই কারখানার সব প্রোডাক্টে একটা চার্টই চলে। শুধু কাট বদলালে চার্টও বদলান, যেমন স্লিম ফিট আর রেগুলার ফিটের শার্ট। কাপড়ের বুক-কোমর-লম্বার মাপ কীভাবে নেবেন, সেটা অনলাইনে কাপড়ের ব্যবসার গাইডে আছে। জুতায় সাইজ নম্বরের চেয়ে পায়ের দৈর্ঘ্য সেন্টিমিটারে দেওয়া বেশি কাজের, সেই নিয়মটা জুতার ব্যবসার লেখায় পাবেন।

ক্যাটাগরি আর ফিল্টার, কাস্টমার নিজের সাইজ খুঁজে পাবেন যেভাবে
ক্যাটাগরি আর ফিল্টারের কাজ আলাদা, আর দুটো গুলিয়ে ফেললে দোকান জট পাকিয়ে যায়। ক্যাটাগরি বলে জিনিসটা কী, যেমন লোফার, স্যান্ডেল, পাঞ্জাবি। ফিল্টার বলে কাস্টমারের কোনটা লাগবে, যেমন ৩৮ সাইজ, কালো রং, দেড় হাজার টাকার মধ্যে। তাই "৩৮ সাইজের জুতা" নামে কালেকশন বানাবেন না। জুতা নতুন এলে প্রতিবার সেটা হাতে ওই কালেকশনে তুলতে হবে, আর একদিন ভুলে যাবেন।
ফিল্টার কাজ করে আপনার অপশনের নাম আর মান থেকে। ওপরের বানানের নিয়মগুলো ঠিক থাকলে ফিল্টারও ঠিক থাকে। WinningSeller-এ সব প্রোডাক্ট, কালেকশন আর সার্চের পেজে ফিল্টার আপনা থেকেই আসে, আলাদা কিছু সেটআপ লাগে না। কম্পিউটারে বাম পাশে থাকে, ফোনে "ফিল্টার" বাটন চাপলে নিচ থেকে একটা শিট খোলে। সাইজ আর রঙের সাথে থাকে "শুধু স্টকে থাকা প্রোডাক্ট" আর "কম দাম / বেশি দাম"। একটা কাজের কথা হলো, কাস্টমার ৩৮ সাইজ আর কালো একসাথে বাছলে শুধু সেই জুতাগুলোই আসে, যার ৩৮ সাইজের কালো জোড়া আসলেই আছে। কালো আছে ৪০-এ আর ৩৮ আছে শুধু বাদামিতে, এমন জুতা আসে না।

গুগলের দিকটাও মাথায় রাখুন। ফিল্টারের প্রতিটা জোড়া একেকটা আলাদা লিংক বানায়, আর এমন লিংক হাজারটা হয়ে যেতে পারে। Google Search Central-এর ফিল্টার করা পেজ নিয়ে গাইডে (শেষ আপডেট ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, দেখা হয়েছে ২০২৬ সালের অক্টোবরে) বলা আছে, এমন অসংখ্য লিংক সার্চ ইঞ্জিনের সময় নষ্ট করে আর নতুন পেজ খুঁজে পেতে দেরি করায়। এজন্য WinningSeller-এ ফিল্টার করা পেজ গুগলে ইনডেক্স হয় না, আসল লিস্টের পেজটা হয়। আপনার কিছু করতে হয় না।
নিজের দোকানে একবার পরীক্ষা করে নিন। ফোনে দোকান খুলে প্রোডাক্টের লিস্টে যান, ফিল্টার খুলে একটা সাইজ আর একটা রং টিক দিন। যে জুতা আসা উচিত সেটা এলো কিনা দেখুন। রঙের সারিতে একই রং দুইবার দেখলে, যেমন "কালো" আর "Black", বুঝবেন কোন প্রোডাক্টে বানান ঠিক করতে হবে।
যে সাইজ শেষ, সেটা কী দেখাবেন
ঈদের আগে মাঝের সাইজগুলো, যেমন ৪০, সবার আগে ফুরিয়ে যায়। জুতা আর পাঞ্জাবির সেলাররা এই ছবিটা ভালোই চেনেন। তখন অনেকে ৪০-এর ভ্যারিয়েন্টটাই মুছে দেন, যাতে কেউ অর্ডার না করে। এটা করবেন না। মুছে দিলে কাস্টমার ভাবেন এই জুতা ৪০-এ কখনো ছিলই না, আর অন্য পেজে খোঁজা শুরু করেন। নতুন লট এলে আবার ভ্যারিয়েন্ট বানাতে হয়, রঙের ছবিও আবার মেলাতে হয়।
তার চেয়ে ওই ভ্যারিয়েন্টের স্টক শূন্য করে দিন। সরকারের নির্দেশিকাও এটাই চায়। ৩.২.৯ অনুচ্ছেদে বলা আছে, যে প্রোডাক্ট হাতে নেই তার পাশে পরিষ্কার করে "স্টকে নেই" লিখতে হবে। WinningSeller-এ স্টক শূন্য হলে সেই সাইজ বাছলে "স্টক শেষ" দেখায়, আর নিচে "স্টকে আসলে জানান" নামে ছোট একটা বক্স আসে। কাস্টমার সেখানে নিজের মোবাইল নম্বর রেখে যান। কারা কোন সাইজের জন্য অপেক্ষা করছেন, সেই লিস্ট আসে "স্টক রিকোয়েস্ট" মেনুতে। মাল এলে লিস্ট দেখে ফোন দিন। নিজের SMS অ্যাকাউন্ট কানেক্ট করে "স্টকে আসলে কাস্টমারকে SMS" চালু করে নিলে স্টক আসার পর একটা SMS নিজে থেকেই যায়, খরচটা যায় আপনার SMS ব্যালেন্স থেকে।
এই লিস্টের আরেকটা লাভ আছে। আবার কেনার সময় কোন সাইজ কত জোড়া আনবেন, তার একটা সত্যি হিসাব দেয় এটা। পনেরোজন ৪০ চেয়ে নম্বর রেখে গেলে পরের লটে ৪০ বেশি আনবেন, আন্দাজে না।
আজই করে ফেলুন
আজ সন্ধ্যার মধ্যেই এগুলো শেষ করা যায়, নতুন কিছু কিনতে হবে না।
- দোকানের সব প্রোডাক্টে অপশনের নামগুলো একবার দেখুন। "Size", "মাপ" যা আছে, সব "সাইজ" করুন, রংও এক ভাষায় আনুন।
- "৩৮ (বড়)" ধরনের বাড়তি কথা লেখা মানগুলো ঠিক করুন, বাড়তি কথা বর্ণনায় সরান।
- সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া প্রোডাক্টের প্রতিটা রঙের একটা করে ছবি তুলুন, একই জানালার পাশে, একই ঘণ্টায়।
- আসল প্রোডাক্ট ফোনের স্ক্রিনের পাশে ধরে রং মিলিয়ে দেখুন, না মিললে আবার তুলুন।
- সাইজ চার্টটা ছবি থেকে বের করে বর্ণনার একেবারে ওপরে লেখায় বসান।
- যে সাইজ শেষ, সেটা মুছে না দিয়ে স্টক শূন্য করুন।
- ফোনে দোকান খুলে একটা সাইজ আর একটা রং একসাথে টিক দিন, আর একটা রং বেছে কার্টে দিয়ে দেখুন কার্টের ছোট ছবিটা সেই রঙের কি না।

রং আর সাইজ একবার ঠিকমতো সাজানো হয়ে গেলে কমেন্টের প্রশ্নগুলো ধীরে ধীরে কমে আসে। "মেরুনটার ছবি দেন" লেখার আগেই কাস্টমার রংটা টিপে নিজে দেখে নেন। আর আপনি রাত এগারোটায় একই উত্তর বারবার লেখার বদলে পরের লটের হিসাব করতে বসেন।
সাধারণ প্রশ্ন
প্রোডাক্ট ভ্যারিয়েন্ট মানে কি?
একই প্রোডাক্টের সাইজ, রং বা অন্য কোনো বাছাইয়ের একেকটা জোড়াকে ভ্যারিয়েন্ট বলে। একটা শার্ট তিন রঙে আর চার সাইজে এলে তার ভ্যারিয়েন্ট বারোটা, কিন্তু প্রোডাক্ট একটাই। কাস্টমার একটা পেজে এসে নিজের রং আর সাইজ বেছে নেন।
প্রতিটা রঙের জন্য আলাদা প্রোডাক্ট বানানো কি ভুল?
ডিজাইন একই হলে সাধারণত ভুল। তখন দোকানের লিস্ট ভরে যায় প্রায় একই রকম কার্ডে, কাস্টমার তুলনা করতে পারেন না, আর একটা অ্যাডে সব রং দেখানো যায় না। তবে ডিজাইন, কাপড় বা দাম অনেকটা আলাদা হলে আলাদা প্রোডাক্ট বানানোই ঠিক।
রঙের নাম বাংলায় লিখব না ইংরেজিতে?
কাস্টমার যে শব্দে রং বলেন সেটাই লিখুন, আর পুরো দোকানে একই ভাষা রাখুন। এক প্রোডাক্টে "মেরুন" আর আরেকটায় "Maroon" লিখলে ফিল্টারে দুটো আলাদা রং হয়ে যায়। বাংলায় শুরু করলে বাংলাতেই চালিয়ে যান।
এক সাইজ শেষ হয়ে গেলে ভ্যারিয়েন্ট মুছে দেব?
না, স্টক শূন্য করে রাখুন। মুছে দিলে কাস্টমার বোঝেন না ওই সাইজ কখনো ছিল কি না, আর আবার এলে নতুন করে বানাতে হয়। স্টক শূন্য থাকলে পেজে "স্টক শেষ" দেখায়, আর আপনি জানতে পারেন কারা ওই সাইজটা খুঁজছিলেন।
সাইজ চার্ট ছবিতে দেব না লেখায়?
লেখায় দিন, প্রোডাক্টের বর্ণনার একেবারে ওপরে। ছবির ভেতরের ছোট লেখা ফোনে জুম না করে পড়া যায় না, আর অনেকে জুম করেন না। মাপ নেওয়ার নিয়ম বোঝাতে পাশে একটা ছবি দিতে পারেন।
ভ্যারিয়েন্টের দাম কি আলাদা রাখা যায়?
হ্যাঁ, বড় সাইজের কাপড় বেশি লাগলে বড় সাইজের দাম একটু বেশি রাখতেই পারেন। শুধু খেয়াল রাখুন পোস্ট আর অ্যাডে যে দাম লিখছেন, সেটা যেন সবচেয়ে কম দামের ভ্যারিয়েন্টের সাথে মেলে, আর বেশি দামের সাইজগুলোর কথা বর্ণনায় পরিষ্কার লেখা থাকে।
আরও পড়ুন
ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ
ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।
গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে
গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।
বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে
ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।


