জুতার ব্যবসা করার নিয়ম, "টাইট হয়েছে" বলে পার্সেল ফেরত কমাবেন যেভাবে
অনলাইনে জুতা বেচতে গেলে আসল লড়াইটা সাইজের সাথে। কোন জুতা দিয়ে শুরু করবেন, প্রথম লটে কোন সাইজ কত জোড়া কিনবেন, কাস্টমারের পায়ের মাপ কীভাবে নেবেন, আর একজোড়ায় আসলে কত থাকে, টাকার হিসাবসহ।

এই লেখায় যা আছে
- জুতার ব্যবসায় লাভ কেমন, অনলাইনে কোন জুতা চলে?
- জুতার ব্যবসা করার নিয়ম, প্রথম লটে কোন সাইজ কত জোড়া কিনবেন?
- কাস্টমারের জুতার সাইজ কীভাবে মেলাবেন, EU-UK নম্বরে ভরসা কেন নেই?
- সাইজ না মিললে এক্সচেঞ্জ কীভাবে দেবেন?
- জুতার ছবি আর ভিডিওতে কী দেখাবেন?
- জুতা কোথা থেকে কিনবেন, পাইকার, কারখানা না ইমপোর্ট?
- বক্সসহ পাঠাবেন না বক্স ছাড়া, কুরিয়ার খরচে কী বদলায়?
- একজোড়া জুতায় আসলে কত থাকে (উদাহরণ)
- আজ কোথা থেকে শুরু করবেন?
জুতার ব্যবসা করার নিয়ম এক কথায় বললে, অনলাইনে জুতা বেচার আসল কাজ হলো সাইজ মেলানো। কোন জুতা বেচবেন সেটা পরের কথা। আগে ঠিক করুন কাস্টমারের পায়ের মাপ কীভাবে নেবেন, পেজে কোন সাইজ চার্ট দেবেন, আর সাইজ না মিললে কোন নিয়মে বদলে দেবেন। এরপর প্রথম লটে অল্প কয়েকটা ডিজাইন কিনুন। সব সাইজ সমান করে কিনবেন না, যে সাইজ বেশি চলে সেটা বেশি নেবেন। আর প্রতিটা জোড়ায় কুরিয়ার, ফেরত আর অ্যাডের খরচ ধরে দাম ঠিক করুন। এই কাজগুলো ঠিকঠাক হলে জুতায় লাভ ভালোই থাকে। না হলে লাভের টাকাটা কুরিয়ারের আসা-যাওয়াতেই চলে যায়।
জুতার সেলারদের একটা খুব চেনা কষ্ট আছে। ধরুন ঈদের আগের সপ্তাহে ৬০ জোড়া পাঠালেন। মনটা খুব ভালো লাগছে, মনে হচ্ছে এবার অ্যাডের টাকাটা উঠে এলো। দশ দিন পরে দেখলেন বারোটা পার্সেল ফিরে আসছে, আর প্রায় সবার কারণ একই, "পায়ে টাইট" নয়তো "একটু ঢিলা"। জুতাগুলো খারাপ ছিল না, শুধু সাইজটা মেলেনি। এই ঝামেলা গোড়া থেকে কীভাবে কমাবেন, সেটাই নিচে ধাপে ধাপে বলছি। শেষে একজোড়া জুতায় আসলে কত টাকা থাকে, তার পুরো হিসাবও দিয়েছি।
জুতার ব্যবসায় লাভ কেমন, অনলাইনে কোন জুতা চলে?
জুতায় কেনা দাম আর বেচা দামের মাঝখানে জায়গা সাধারণত ভালোই থাকে। কিন্তু লাভটা আসলে ঠিক করে দেয় কয় জোড়া ফেরত আসে আর কয় জোড়া বদলাতে হয়। একটা জোড়া বদলাতে গেলে নতুনটা পাঠাতে একবার আর পুরনোটা আনতে আরেকবার কুরিয়ার চার্জ দিতে হয়। তাই একই দামের দুইটা জুতার মধ্যে যেটায় সাইজের ঝামেলা কম, সেটায় মাস শেষে বেশি টাকা থাকে।
এই চোখে দেখলে জুতার ধরনগুলো মোটামুটি এভাবে ভাগ করা যায়। নিচের কথাগুলো জুতার সেলারদের সাধারণ অভিজ্ঞতার কথা, কেউ মেপে বের করা হিসাব না।
- স্লাইড, স্যান্ডেল আর চপ্পল। সাইজ আধা নম্বর এদিক-ওদিক হলেও অনেকে পরে নেন, বিশেষ করে যেগুলোর ফিতা টেনে ছোট-বড় করা যায়। ওজন কম বলে বক্স ছাড়াও পাঠানো যায়। দাম কম বলে জোড়াপ্রতি লাভও কম, তাই অ্যাডের খরচ খুব হিসাব করে রাখতে হয়। নতুনদের শুরুর জন্য এটাই সবচেয়ে নিরাপদ।
- লোফার, ফর্মাল আর চামড়ার জুতা। এগুলোর দাম বেশি, তাই জোড়াপ্রতি লাভও বেশি থাকে। কিন্তু এখানে সাইজ একদম মিলতে হয়। আধা সাইজ টাইট হলে কাস্টমার রাখেন না, কারণ চামড়ার জুতা পায়ে কামড় দিলে সারা দিন কষ্ট পেতে হয়।
- কেডস আর স্নিকার্স। চাহিদা অনেক, বিশেষ করে কম বয়সী ছেলেদের মধ্যে। ঝুঁকি দুইটা। এক, নামী ব্র্যান্ডের নকল কপি বেচার লোভ, যেটা নিয়ে নিচে আলাদা করে সাবধান করেছি। দুই, একেক কারখানার সাইজ একেক রকম হয়।
- বাচ্চাদের জুতা। বাবা-মা অনেক সময় নিজেরাই বাচ্চার পায়ের মাপ জানেন না, তাই সাইজের ভুল বেশি হয়। ভালো দিকটাও বড়। বাচ্চার পা বাড়ে, তাই কয়েক মাস পরে একই পরিবার আবার কেনে।
- মেয়েদের হিল। দেখতে সুন্দর বলে ছবিতে ভালো চলে, কিন্তু হিলে পায়ের সামনের দিকে চাপ পড়ে বলে সাইজ একটু ভুল হলেই পরা যায় না। সাইজের নিয়ম পাকা না হওয়া পর্যন্ত এটা পরে ধরুন।
সহজ নিয়মটা হলো, যে জুতা পায়ে যত আঁটসাঁট হয়ে বসতে হয়, তার ফেরত আর বদল তত বেশি। প্রথম দুই-তিন মাস এমন ধরন দিয়ে শুরু করুন যেটায় সাইজের ঝুঁকি কম। এই সময়ে পায়ের মাপ নেওয়া আর বদলে দেওয়ার কাজটা হাতে বসে যাবে। তারপর দামি আর আঁটসাঁট জুতায় যান।
জুতার ব্যবসা করার নিয়ম, প্রথম লটে কোন সাইজ কত জোড়া কিনবেন?
প্রথমবার পাইকারের দোকানে ঢুকলে সব ডিজাইনই সুন্দর লাগে। এখানেই বেশিরভাগ নতুন সেলার টাকা আটকে ফেলেন। এক ধরনের জুতা থেকে দুই-তিনটা ডিজাইন নিন, তার বেশি না। কারণ আপনি এখনো জানেন না কোন ডিজাইন চলবে। অল্প ডিজাইনে অ্যাড দিলে এক-দুই সপ্তাহেই বোঝা যায় কোনটায় অর্ডার আসে, আর না চলা ডিজাইনে টাকা কম আটকায়।
এরপর আসে সাইজের প্রশ্ন। প্রতিটা সাইজ সমান সংখ্যায় কিনবেন না। মাঝের সাইজগুলো সবচেয়ে বেশি যায়, আর একদম ছোট আর একদম বড় সাইজ যায় কম। সব সাইজ সমান কিনলে মাঝের সাইজ আগে শেষ হয়ে যায়। তখন সেই সাইজের অর্ডার ফেরাতে হয়, আর কিনারার সাইজগুলো মাসের পর মাস তাকে পড়ে থাকে।
একটা উদাহরণ দিই। নিচের ভাগটা শুধু একটা আন্দাজ, কোনো জরিপ থেকে নেওয়া না। ধরুন ছেলেদের লোফারের একটা ডিজাইনের ১২ জোড়া কিনবেন, EU 39 থেকে 44 পর্যন্ত।
- 39 সাইজ ১ জোড়া, 40 সাইজ ২ জোড়া
- 41 সাইজ ৩ জোড়া, 42 সাইজ ৩ জোড়া
- 43 সাইজ ২ জোড়া, 44 সাইজ ১ জোড়া
কেনার আগে পাইকারকে জিজ্ঞেস করুন এই ডিজাইনের কোন সাইজ তাঁর দোকান থেকে বেশি যায়। তিনি রোজ বিক্রি করেন, তাঁর আন্দাজ আপনার চেয়ে ভালো। অনেক পাইকার এক ডিজাইন সাইজের একটা সেট ধরে বিক্রি করেন। সেট ভেঙে নিজের পছন্দমতো সাইজ নেওয়া যায় কি না, সেটাও জেনে নিন।
টাকার হিসাবটাও আগে দেখে রাখুন। এটাও একটা উদাহরণ ধরে বলছি। তিনটা ডিজাইনের প্রতিটা ১২ জোড়া করে নিলে মোট ৩৬ জোড়া। জোড়াপ্রতি ৬৫০ টাকা হলে স্টকে যায় ২৩,৪০০ টাকা। অ্যাডের টাকা এর বাইরে আলাদা রাখুন, কারণ কুরিয়ারের COD টাকা হাতে আসতে কয়েক দিন লাগে। ততদিন অ্যাড থামিয়ে রাখলে বিক্রিও থেমে যায়।
প্রথম লট বিক্রির সময় একটা খাতায় দুইটা জিনিস লিখে রাখুন। কোন সাইজ কয় জোড়া গেল, আর কোন সাইজ না থাকায় কয়টা অর্ডার ফিরিয়ে দিতে হলো। দ্বিতীয় লটের সাইজের ভাগ আন্দাজে না করে এই খাতা দেখে করবেন। দুই-তিন লট পরে নিজের কাস্টমারের সাইজের যে ছবিটা দাঁড়াবে, সেটা পাইকারের আন্দাজের চেয়েও বেশি কাজের।
কাস্টমারের জুতার সাইজ কীভাবে মেলাবেন, EU-UK নম্বরে ভরসা কেন নেই?
জুতার ভেতরে একেক জায়গায় একেক নম্বর লেখা থাকে। কোথাও EU 42, কোথাও UK 8, আবার কোথাও শুধু 8। কাস্টমার "আমি ৮ নম্বর পরি" বললে আপনি বুঝতে পারেন না তিনি কোন ৮-এর কথা বলছেন। নিচের টেবিলটা Bata বাংলাদেশের ওয়েবসাইটের ছেলেদের সাইজ চার্ট থেকে নেওয়া, ২০২৬ সালের অক্টোবরে batabd.com-এ যেভাবে লেখা আছে।
| Bata সাইজ | EU | UK | চার্টে লেখা সেন্টিমিটার |
|---|---|---|---|
| 5 | 38 | 5 | 24.5 |
| 6 | 39/40 | 6 | 25.1 |
| 7 | 41 | 7 | 25.7 |
| 8 | 42 | 8 | 26.3 |
| 9 | 43 | 9 | 26.9 |
| 10 | 44 | 10 | 27.5 |
টেবিলটা খেয়াল করে দেখুন। EU 38 হলো সাইজ 5, কিন্তু EU 41 হলো সাইজ 7। মানে EU থেকে একটা নির্দিষ্ট সংখ্যা বিয়োগ করে দেশি সাইজ বের করার যে কথা অনলাইনে ঘোরে, সেটা সব সাইজে খাটে না। আর এটা শুধু একটা কোম্পানির চার্ট। ভৈরব বা পুরান ঢাকার কোনো কারখানার 42 আর Bata-র 42 এক মাপের হবে, এমন কোনো কথা নেই।
এই গোলমাল দুনিয়াজুড়েই আছে। এজন্য ISO 9407:2019 নামে একটা আন্তর্জাতিক মান আছে, যেখানে জুতার সাইজ লেখা হয় পায়ের দৈর্ঘ্য মিলিমিটারে, যার নাম Mondopoint। আপনাকে এই মান মেনে চলতে হবে না, শুধু কথাটা মাথায় রাখুন। জুতার নম্বর একেক কারখানায় একেক রকম, কিন্তু সেন্টিমিটার সবখানে এক। তাই আপনার আর কাস্টমারের কথা হবে সেন্টিমিটারে।
তাই কাজ দুইটা। প্রথম কাজ আপনার। প্রতিটা ডিজাইনের প্রতিটা সাইজের একজোড়া জুতার ভেতরের তলা, মানে ইনসোল, গোড়ালি থেকে আঙুলের মাথা পর্যন্ত মেপে সেন্টিমিটারে লিখুন। প্রোডাক্টের পেজে দামের ঠিক নিচে এই মাপটা দিন। পাইকারের লেবেলের ওপর ভরসা করবেন না, নিজের ফিতা দিয়ে মাপুন।
দ্বিতীয় কাজ কাস্টমারের, কিন্তু শিখিয়ে দেবেন আপনি। ইনবক্সে বা কনফার্মের ফোনে এভাবে বলতে পারেন।
"ভাই, একটা সাদা কাগজ মেঝেতে দেয়াল ঘেঁষে রাখেন। গোড়ালি দেয়ালে ঠেকিয়ে কাগজের ওপর দাঁড়ান, আর কাউকে দিয়ে পায়ের চারপাশে পেনসিল দিয়ে দাগ টানিয়ে নেন। তারপর গোড়ালির দাগ থেকে সবচেয়ে লম্বা আঙুলের দাগ পর্যন্ত স্কেল দিয়ে মেপে আমাকে সেন্টিমিটারে বলেন। দুই পা-ই মাপবেন, যেটা বড় সেটা বলবেন।"

মাপটা বিকেলে বা সন্ধ্যায় নিতে বলুন। অস্ট্রেলিয়ার পডিয়াট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (Australian Podiatry Association) পরামর্শ হলো দিনের শেষে পা মাপা, কারণ তখন পা সবচেয়ে বড় থাকে। সকালে মাপা পায়ের জুতা সন্ধ্যায় টাইট লাগে, আর সেই অভিযোগটা আসে আপনার কাছেই।
এবার মাপ মেলানোর নিয়মটা বলি। ওই একই সংগঠন বলছে, সবচেয়ে লম্বা আঙুল আর জুতার মাথার মাঝে মোটামুটি ১.৫ সেন্টিমিটার জায়গা থাকা ভালো। ধরুন কাস্টমারের পা ২৫ সেন্টিমিটার। তাহলে তাঁর জন্য সেই সাইজটা দেখুন যার ইনসোল আপনার মাপে সাড়ে ২৬ সেন্টিমিটারের কাছাকাছি। স্লাইড আর চপ্পলে এতটা কড়া হিসাব লাগে না, কিন্তু লোফার আর কেডসে লাগে।
ভুল এড়াতে আরেকটা জিনিস মিলিয়ে নিন। কাস্টমারকে জিজ্ঞেস করুন, এখন যে জুতাটা পায়ে সবচেয়ে আরাম লাগে, তার ভেতরে কী লেখা আছে, আর সেটার ইনসোল কত সেন্টিমিটার। দুইটা উত্তর মিললে নিশ্চিন্তে পাঠান। না মিললে ফোনে আরেকবার কথা বলে নিন। কনফার্মের ফোনে শেষবার মুখে বলুন, "ভাই, আপনি ৪২ সাইজ নিচ্ছেন, ভেতরের মাপ ২৬.৫ সেন্টিমিটার, আপনার পা ২৫, ঠিক আছে তো?" এই এক লাইনে অনেক বদলের পার্সেল বাঁচে।
সাইজ না মিললে এক্সচেঞ্জ কীভাবে দেবেন?
যত সাবধানেই মাপুন, কিছু জোড়া বদলাতে হবেই। এক্সচেঞ্জের নিয়ম পেজে কীভাবে লিখবেন আর কত দিনের মধ্যে জানাতে হবে, সেটা অনলাইনে কাপড়ের ব্যবসার লেখায় বিস্তারিত আছে। জুতায় তার সাথে কয়েকটা কথা যোগ করতে হয়, কারণ একবার রাস্তায় পরা জুতা আর নতুন বলে বেচা যায় না।
শুরুতেই ট্রায়ালের নিয়মটা পরিষ্কার করে লিখুন। কাস্টমারকে বলুন জুতাটা ঘরের ভেতরে, কার্পেট বা চাদরের ওপর পরে দেখতে। তলায় ধুলা-দাগ লাগলে, ভেতরে ঘাম বা ভাঁজ পড়লে, আর বক্স ছিঁড়ে গেলে বদলানো যাবে না। কথাটা পেজে আর পার্সেলের ভেতরের কাগজে দুই জায়গাতেই লিখুন। নইলে একজন সারা দিন অফিসে পরে এসে বলবেন "সাইজ মেলেনি"।
বদলের কথা দেওয়ার আগে একবার দেখে নিন কাস্টমার যে সাইজটা চাইছেন সেটা স্টকে আছে কি না। কথা দিয়ে ফেলার পরে দেখলেন সেই সাইজ শেষ, তখন বদলের বদলে টাকা ফেরত দিতে হয়, আর কাস্টমারের মনও ভাঙে।
চার্জের বেলায় কাপড়ের মতোই নিয়ম, দোষ যার চার্জ তার। তবে জুতায় একটা মাঝামাঝি অবস্থা খুব বেশি আসে। কাস্টমার পায়ের মাপ দিয়েছিলেন, আর সেই মাপ দেখে সাইজটা আপনি নিজে বলে দিয়েছিলেন, তবু মেলেনি। এখানে ভুলটা আপনার হিসাবের, তাই দুই দিকের চার্জ নিজে নিয়ে নিন। ২৬০ টাকা গায়ে লাগবে ঠিকই, কিন্তু কাস্টমার বুঝবেন আপনি দায় নেন, আর পরের জোড়াটাও আপনার কাছ থেকেই কিনবেন।
ফেরত আসা জোড়াটা খুলে দেখে তবেই স্টকে তুলুন। আর প্রতিটা ডিজাইনের বদলের সংখ্যা আলাদা করে গুনুন। এখান থেকে একটা কাজের নিয়ম বের হয়। কোনো ডিজাইনের দশটা ডেলিভারির মধ্যে তিনটা বা তার বেশি "টাইট" বলে ফেরত এলে বুঝবেন ডিজাইনটা ছোট মাপের। তখন পেজে লিখে দিন "এই ডিজাইনটা একটু ছোট, নিজের মাপের এক সাইজ বড় নিন"। এক লাইনের এই সত্যি কথাটা পরের দশটা অর্ডারের বদল কমিয়ে দেয়।
WinningSeller-এ বদলের অর্ডারগুলোতে "এক্সচেঞ্জ" নামে একটা ট্যাগ দিয়ে রাখতে পারেন। মাস শেষে ট্যাগ ধরে ফিল্টার করলেই দেখা যায় কোন ডিজাইনে বদল বেশি হলো।
জুতার ছবি আর ভিডিওতে কী দেখাবেন?
কাস্টমার জুতা হাতে নিয়ে টিপে দেখতে পারছেন না। দোকানে গেলে তিনি তলা বাঁকিয়ে দেখেন, ভেতরে হাত ঢুকিয়ে দেখেন, আর পায়ে দিয়ে দুই পা হাঁটেন। অনলাইনে আপনার ছবি আর ভিডিওকে এই কাজগুলোই করে দেখাতে হবে। প্রতিটা ডিজাইনে অন্তত এই ছবিগুলো রাখুন।
- পাশ থেকে আর ওপর থেকে, পুরো জুতা, আসল রঙে
- তলার ছবি, যাতে খাঁজ আর রাবার বা সোলের ধরন বোঝা যায়
- ভেতরের ছবি, ইনসোল আর সাইজের লেখাসহ
- ইনসোলের পাশে মাপের ফিতা রেখে একটা ছবি, যেখানে সেন্টিমিটার পড়া যায়
- একজন মানুষের পায়ে পরা অবস্থায়, যাতে আকারটা বোঝা যায়
এর সাথে একটা দশ সেকেন্ডের ভিডিও করুন। প্রথম তিন সেকেন্ডে তলাটা হাতে বাঁকিয়ে দেখান, তারপর ভেতরের সাইজের লেখা, তারপর পায়ে দিয়ে কয়েক পা হাঁটা। তলা বাঁকানোর দৃশ্যটা জরুরি। কাস্টমারের সবচেয়ে বড় ভয় হলো তলা শক্ত কাঠের মতো, নাকি দুই সপ্তাহে খুলে যাবে। তিন সেকেন্ডের এই দৃশ্য সেই প্রশ্নের উত্তর দেয়, ইনবক্সে লম্বা ব্যাখ্যা লাগে না।

জুতা কোথা থেকে কিনবেন, পাইকার, কারখানা না ইমপোর্ট?
দেশে জুতা তৈরির দুইটা বড় জায়গার কথা খবরে বারবার এসেছে। The Business Standard ২০২২ সালের জানুয়ারির একটা রিপোর্টে পুরান ঢাকার বংশাল, সিদ্দিক বাজার, আলুবাজার, মালিটোলা আর আশেপাশের কয়েকটা লেনের নাম দিয়েছে, যেখানে ছোট-মাঝারি মিলিয়ে প্রায় ৫,০০০ জুতার কারখানা ছিল। একই রিপোর্টে এটাও লেখা, করোনার ধাক্কায় এর অন্তত অর্ধেক তখন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ঢাকার বাইরে আছে কিশোরগঞ্জের ভৈরব। The Business Standard-এর ২০২০ সালের জানুয়ারির রিপোর্টে বলা আছে, সেখানে অন্তত ২০টা গ্রামে ১০ হাজারের বেশি ছোট-বড় জুতার কারখানা গড়ে উঠেছে, আর ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের নানা জায়গা থেকে পাইকার কিনতে যান। প্রথম আলোর ইংরেজি সংস্করণের ২০২১ সালের অক্টোবরের রিপোর্টের শিরোনামে আছে, ভৈরবে দিনে প্রায় দুই লাখ জোড়া জুতা তৈরি হয়, যদিও সেই রিপোর্টেই বলা আছে এ নিয়ে কোনো জরিপ হয়নি। এই সংখ্যাগুলো কয়েক বছর আগের, এখনকার অবস্থা যাওয়ার আগে খোঁজ নিয়ে নিন।
তিনটা রাস্তার কোনটা কখন, সেটা এভাবে ভাবুন। শুরুতে পাইকারের দোকান থেকে কিনুন। দাম একটু বেশি পড়লেও অল্প জোড়া নেওয়া যায়, আর হাতে নিয়ে সেলাই আর তলা দেখে নেওয়া যায়। একটা ডিজাইন যখন মাসে নিয়মিত চলে, তখন কারখানায় সরাসরি যাওয়ার কথা ভাবুন। সেখানে জোড়াপ্রতি দাম কম পড়ে, কিন্তু বেশি জোড়া একসাথে নিতে হয়, আর মান ঠিক রাখার দায়িত্বও তখন আপনার।
চায়না থেকে আনার রাস্তাও আছে। ডিজাইন বেশি পাওয়া যায়, কিন্তু টাকা আটকে থাকে বেশি দিন, আর সাইজের মাপ দেশি কারখানার সাথে নাও মিলতে পারে। পুরো হিসাব চায়না থেকে প্রোডাক্ট আনার লেখায় আছে।
যেখান থেকেই কিনুন, প্রথমবার কয়েক জোড়া এনে নিজে এক সপ্তাহ পরে দেখুন। খেয়াল করুন তলা খুলে আসছে কি না, আর আঠার গন্ধটা যায় কি না। কাস্টমারের আগে এই খুঁতগুলো আপনার চোখে পড়া ভালো, নইলে সেটা পেজে খারাপ রিভিউ হয়ে ফিরে আসবে।
বক্সসহ পাঠাবেন না বক্স ছাড়া, কুরিয়ার খরচে কী বদলায়?
কুরিয়ার চার্জ ওজনের ধাপ ধরে কাটে, আর জুতার বক্স অনেক সময় পার্সেলটাকে পরের ধাপে ঠেলে দেয়। ২০২৬ সালের অক্টোবরে pathao.com-এর কুরিয়ার পেজে যে রেট লেখা আছে, তাতে ঢাকা থেকে অন্য জেলায় আধা কেজি পর্যন্ত ১১০ টাকা, আধা থেকে এক কেজি ১৩০ টাকা, আর এক থেকে দুই কেজি ১৭০ টাকা। একই শহরের ভেতরে ধাপগুলো ৬০, ৭০ আর ৯০ টাকা। পেজে লেখা আছে এই দামের মধ্যে VAT আর ট্যাক্স ধরা নেই।
এর মানে টাকায় কী দাঁড়ায়, দেখুন। একজোড়া লোফার পলিতে মুড়ে এক কেজির নিচে থাকলে ঢাকার বাইরে চার্জ ১৩০ টাকা। শক্ত বক্সে ভরে এক কেজি পার হলেই সেটা ১৭০ টাকা। প্রতি পার্সেলে ৪০ টাকা বাড়তি, আর মাসে ২০০ পার্সেলে সেটা ৮,০০০ টাকা। আপনার জুতা আর বক্সের ওজন কত সেটা কোনো চার্টে পাবেন না, রান্নাঘরের ওজন মাপার যন্ত্রে বক্স, জুতা আর পলি একসাথে মেপে নিন।
কোন জুতা কীভাবে পাঠাবেন, তার একটা সহজ ভাগ আছে। চামড়ার জুতা, লোফার আর দামি কেডস বক্সেই পাঠান। বক্স ছাড়া এগুলো কুরিয়ারের বস্তায় চাপা খেয়ে আকার হারায়, আর দামি জুতা দোমড়ানো অবস্থায় পেলে কাস্টমার ঠকেছেন ভাবেন। স্লাইড, চপ্পল আর রাবারের স্যান্ডেল বক্স ছাড়া মোটা পলিতে পাঠাতে পারেন। ভেতরে একটু কাগজ গুঁজে দিন, যাতে আকার ঠিক থাকে।
পাইকারের কাছে পাতলা বক্স আছে কি না জিজ্ঞেস করুন। একই জুতা ভারী কার্টনের বদলে হালকা বক্সে নিলে অনেক সময় ওজনের ধাপ বাঁচে। আর প্যানেলে ওজন কম লিখবেন না, কুরিয়ার নিজে মাপলে আসল ওজনের চার্জই কাটবে।
একজোড়া জুতায় আসলে কত থাকে (উদাহরণ)
এবার পুরো হিসাবটা একসাথে দেখি। নিচের সংখ্যাগুলো একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। কুরিয়ারের চার্জগুলো ওপরের Pathao রেট থেকে নেওয়া। বাকিগুলোর জায়গায় নিজের সংখ্যা বসিয়ে নিন।
ধরুন আপনি ছেলেদের একটা লোফার পাইকারের কাছ থেকে ৬৫০ টাকায় কেনেন, আর বেচেন ১,২৯০ টাকায়। ঢাকার বাইরের কাস্টমার ১৩০ টাকা ডেলিভারি চার্জ আলাদা দেন, যেটা দিয়ে কুরিয়ারের চার্জটা মেটে। এবার ডেলিভারি হওয়া একজোড়ার খরচ গুনুন।
কেনা দাম ৬৫০ টাকা। মার্কেট থেকে আনার ভাড়া জোড়াপ্রতি ২০ টাকা, আর পলি-টেপে ১০ টাকা। কাস্টমারের দেওয়া ১,৪২০ টাকার ওপর Pathao-র ১% COD চার্জ মানে প্রায় ১৪ টাকা। ডেলিভারি হওয়া প্রতিটা অর্ডারের পেছনে অ্যাডের খরচ ধরুন ২০০ টাকা।
এবার ফেরত আর বদলের খরচটা ধরি। ধরুন দশটা অর্ডারের একটা দরজা থেকেই ফেরত এলো। Pathao-র পেজ অনুযায়ী ঢাকার বাইরের ফেরতে ডেলিভারি চার্জের সাথে আরও ৫০% রিটার্ন চার্জ যোগ হয়, মানে ১৩০ আর ৬৫ মিলে ১৯৫ টাকা। বাকি ৯টা ডেলিভারির ঘাড়ে ভাগ করলে জোড়াপ্রতি প্রায় ২২ টাকা। আর ৯টা ডেলিভারির একটায় সাইজ বদলাতে হলো, দুই দিকের চার্জ ২৬০ টাকা আপনি দিলেন। সেটা ৯ ভাগে জোড়াপ্রতি প্রায় ২৯ টাকা। এখানে ধরে নিয়েছি ফেরত আনাটাও সাধারণ পার্সেলের রেটে হয়, আপনার কুরিয়ারের নিয়ম প্যানেলে দেখে নিন।
সব যোগ করলে ৬৫০ + ২০ + ১০ + ১৪ + ২০০ + ২২ + ২৯ = ৯৪৫ টাকা। বেচা দাম থেকে বাদ দিলে ১,২৯০ − ৯৪৫ = জোড়াপ্রতি প্রায় ৩৪৫ টাকা থাকে।
এবার দেখুন সাইজের ভুল কতটা খায়। ৯টা ডেলিভারির একটার বদলে তিনটায় বদল লাগলে বদলের খরচ দাঁড়ায় ৭৮০ টাকা, জোড়াপ্রতি প্রায় ৮৭ টাকা। তখন হাতে থাকে প্রায় ২৮৭ টাকা। জুতাও বদলায়নি, দামও বদলায়নি। শুধু সাইজ মেলানোয় একটু ঢিলেমি হয়েছে, আর তাতেই প্রতি জোড়া থেকে প্রায় ৫৮ টাকা চলে গেল। মাসে ২০০ জোড়া বেচলে সেটা প্রায় ১১,৬০০ টাকা, মানে ৬৫০ টাকা দরে প্রায় ১৭ জোড়া নতুন জুতার কেনা দাম। আর ভারী বক্সের জন্য পার্সেল এক কেজি পার হয়ে ১৭০ টাকার ধাপে গেলে, অথচ কাস্টমারের কাছে নেন ১৩০, তাহলে আরও ৪০ টাকা কমে যায়।
ফেরতের খরচ কমানোর আরেকটা সহজ উপায় হলো দামি জোড়া পাঠানোর আগে নম্বরটা চেক করা। আগে কয়বার পার্সেল নিয়েছে আর কয়বার ফেরত দিয়েছে, সেটা ফ্রি ফ্রড চেকারে নম্বর দিয়ে দেখা যায়। আগে অনেক ফেরত দেওয়া নম্বরে ডেলিভারি চার্জটা অগ্রিম চান। আর এই হিসাবটা নিজের প্রোডাক্টে বসিয়ে দাম ঠিক করার পুরো নিয়ম আছে প্রোডাক্টের দাম নির্ধারণের লেখায়।
আজ কোথা থেকে শুরু করবেন?
আজই স্টক কেনার দরকার নেই। প্রথমে ঠিক করুন কোন ধরনের জুতা দিয়ে শুরু করবেন, আর ওপরের কারণগুলো মিলিয়ে দেখুন সেটায় সাইজের ঝুঁকি কতটা। তারপর বাসার কয়েকজনের পা ওপরের নিয়মে মেপে দেখুন। কাস্টমারকে শেখানোর আগে নিজে একবার করলে বুঝবেন কোথায় ভুল হয়। পাইকারের কাছে গেলে প্রতিটা সাইজের একজোড়া হাতে নিয়ে ইনসোল মেপে খাতায় লিখুন। এই খাতাটাই আপনার প্রথম সাইজ চার্ট।
নিজের ওয়েবসাইট থেকে জুতা বেচলে WinningSeller-এ থিম আর প্রোডাক্ট পেজের ডিজাইন নিজে সাজানো যায়, তাই প্রতিটা সাইজের সেন্টিমিটারের মাপটা দামের কাছেই চোখে পড়ার মতো জায়গায় রাখতে পারবেন। কাস্টমার অর্ডারের আগেই মাপটা দেখে নেন, ইনবক্সে একই প্রশ্ন বারবার আসে না।
জুতার ব্যবসা শুরুতে একটু ধৈর্যের কাজ। প্রথম মাসে কয়েকটা বদলের পার্সেল আসবেই, তাতে মন খারাপ করবেন না। প্রতিটা বদল থেকে শিখুন কোন ডিজাইন ছোট মাপের, কোন কাস্টমার মাপ দিতে ভুল করেন। দুই-তিন মাস পরে দেখবেন বদলের পার্সেল কমে এসেছে, আর একই বিক্রিতে হাতে আগের চেয়ে বেশি টাকা থাকছে। যেদিন খেয়াল করবেন পুরো সপ্তাহে একটা পার্সেলও "টাইট" বলে ফেরত আসেনি, সেদিন বুঝবেন খাটুনিটা বৃথা যায়নি।
সাধারণ প্রশ্ন
জুতার ব্যবসায় লাভ কেমন?
কেনা আর বেচার দামের মাঝে জুতায় জায়গা ভালোই থাকে, কিন্তু আসল লাভ ঠিক করে কয় জোড়া ফেরত আসে আর কয় জোড়া বদলাতে হয়। এই লেখার উদাহরণে ৬৫০ টাকায় কেনা একজোড়া লোফার ১,২৯০ টাকায় বেচে সব খরচ বাদে প্রায় ৩৪৫ টাকা থাকে, আর সাইজের বদল তিনগুণ হলে সেটা নেমে আসে প্রায় ২৮৭ টাকায়। নিজের দাম আর খরচ বসিয়ে একবার হিসাবটা কষে নিন।
কত টাকা দিয়ে অনলাইনে জুতার ব্যবসা শুরু করা যায়?
ছোট করে শুরু করলে শুধু স্টকের জন্য ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকাতেও হয়, তবে এটা একটা উদাহরণ ধরে বলা। ধরুন তিনটা ডিজাইনের প্রতিটা ১২ জোড়া করে নিলেন, জোড়াপ্রতি ৬৫০ টাকা হলে স্টকে যায় ২৩,৪০০ টাকা। এর বাইরে অ্যাড, প্যাকেট আর ফেরতের খরচের জন্য আলাদা টাকা রাখুন, কারণ কুরিয়ারের টাকা হাতে আসতে কয়েক দিন লাগে।
পাইকারি জুতা কোথায় পাওয়া যায়?
ঢাকায় পুরান ঢাকার বংশাল, সিদ্দিক বাজার, আলুবাজার এলাকায় জুতার অনেক কারখানা আর দোকান আছে, The Business Standard-এর ২০২২ সালের একটা রিপোর্টে এই নামগুলো আছে। ঢাকার বাইরে কিশোরগঞ্জের ভৈরব দেশের বড় জুতা তৈরির এলাকা, সেখানে সারা দেশ থেকে পাইকার কিনতে যান। প্রথমবার অল্প কিনে মান দেখে নিন।
জুতার EU সাইজ থেকে বাংলাদেশি সাইজ কীভাবে বের করব?
সব জায়গায় খাটে এমন কোনো সহজ বিয়োগের নিয়ম নেই। Bata বাংলাদেশের সাইজ চার্টে EU 38 হলো সাইজ 5, কিন্তু EU 41 হলো সাইজ 7। তাই নম্বরের চেয়ে সেন্টিমিটারের মাপ ধরুন, নিজের প্রতিটা সাইজের ভেতরের তলা মেপে পেজে লিখে দিন।
জুতা বদলাতে কুরিয়ার চার্জ কে দেবে?
আপনি ভুল সাইজ পাঠালে দুই দিকের চার্জ আপনার। কাস্টমার নিজে মাপ দিয়ে ভুল সাইজ বেছে থাকলে সাধারণত চার্জটা কাস্টমার দেন। নিয়মটা অর্ডারের আগেই পেজে লিখে রাখুন, যাতে পরে তর্ক না হয়।
বাচ্চাদের জুতা অনলাইনে বেচা কি লাভজনক?
লাভজনক হতে পারে, তবে বড়দের জুতার চেয়ে এখানে সাইজের ঝুঁকি বেশি, কারণ বাবা-মা অনেক সময় বাচ্চার পায়ের মাপ জানেন না, আর বয়স দিয়ে সাইজ মেলে না। ভালো দিক হলো বাচ্চার পা বাড়ে বলে কয়েক মাস পর আবার কিনতে হয়। পায়ের মাপ সেন্টিমিটারে নিয়ে অর্ডার নিলে এটা ভালো চলতে পারে।
আরও পড়ুন
খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম
বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।
থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম
থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।


