WinningSeller
অনলাইন ব্যবসা শুরু১৬ মিনিটে পড়া যায়

সিজনাল ব্যবসা আইডিয়া, বারো মাসে কী বেচবেন আর কত আগে মাল তুলবেন

রোজা-ঈদ থেকে বৈশাখ, আম, বর্ষা, পূজা আর শীত পর্যন্ত কোন মাসে কী চলে, কত সপ্তাহ আগে মাল তুলবেন, কবে অ্যাড দেবেন, আর সিজন শেষে মাল থেকে গেলে কী করবেন। টাকার উদাহরণসহ বারো মাসের পুরো ক্যালেন্ডারটা এখানে পাবেন।

সিজনাল ব্যবসা আইডিয়া, বারো মাসে কী বেচবেন আর কত আগে মাল তুলবেন
এই লেখায় যা আছে
  1. সিজনাল ব্যবসা কেন লাভ আর কোথায় ঝুঁকি?
  2. জানুয়ারি থেকে মার্চ, স্কুল, শীতের শেষ আর রমজানের প্রস্তুতি
  3. রমজান আর ঈদুল ফিতর, কবে মাল, কবে অ্যাড
  4. এপ্রিল থেকে জুন, বৈশাখ, গরম আর আমের মৌসুম
  5. কোরবানির ঈদে কী চলে
  6. বর্ষাকালে কি ব্যবসা করা যায়?
  7. সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর, পূজা, শীত আর বছরের শেষ
  8. সিজন শেষে মাল থেকে গেলে কী করবেন?
  9. পুরো বছরটা এক টেবিলে, কোন মাসে কী করবেন?

ধরুন রমজানের শেষ সপ্তাহ, রাত এগারোটা বাজে। ইনবক্সে একের পর এক মেসেজ আসছে, "ভাই, সাদা পাঞ্জাবিটা L সাইজে আছে?" অথচ তাকে আছে মোটে ছয়টা, আর পাইকার বলে দিয়েছেন নতুন লট আসবে ঈদের পরে। আপনি ফোন হাতে বসে বসে দেখছেন, বছরের সবচেয়ে ভালো রাতের অর্ডারগুলো একটা একটা করে হাত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।

সিজনাল ব্যবসা আইডিয়া খুঁজতে গেলে আসল প্রশ্ন দুইটা, কোন মাসে কী বেচবেন আর কত আগে মাল তুলবেন। বাংলাদেশে অনলাইন সেলারের বছরটা মোটামুটি এভাবে ঘোরে। জানুয়ারিতে স্কুলের ব্যাগ আর টিফিন বক্স চলে, রোজায় পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, খেজুর আর আতর। এপ্রিলে বৈশাখের লাল-সাদা পোশাক আর গরমের সুতি কাপড় যায়, মে-জুনে আম-লিচু, আর কোরবানিতে ছুরি আর চপিং বোর্ড। বর্ষায় ছাতা-রেইনকোট, পূজায় শাড়ি-পাঞ্জাবি, আর শীতে গরম কাপড়ের খোঁজ পড়ে। প্রতিটা সিজনের মাল উৎসব বা আবহাওয়া আসার ছয় থেকে আট সপ্তাহ আগে ঠিক করে ফেলুন, আর অ্যাড পুরো জোরে চালান তিন-চার সপ্তাহ আগে থেকে।

কেন ঠিক এই সময়, সেটা নিচে মাস ধরে টাকার উদাহরণসহ খুলে বলছি, যাতে ওই রাতের আফসোসটা আপনার না হয়।

সিজনাল ব্যবসা কেন লাভ আর কোথায় ঝুঁকি?

সিজনের জিনিসে সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, চাহিদাটা আপনাকে বানাতে হয় না। আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামলে কাউকে বোঝাতে হয় না যে তাঁর একটা ছাতা দরকার। ঈদের তিন সপ্তাহ আগে বাবা-মায়েরা নিজেরাই বাচ্চার জামা খোঁজেন। মানুষ যখন নিজে থেকে খুঁজছেন, তখন অ্যাড দেখে অর্ডারও দেন তাড়াতাড়ি, এটা অনেক সেলারের অভিজ্ঞতা।

ঝুঁকিটাও ঠিক এখানেই। সিজনের জানালা ছোট, কোনোটা তিন সপ্তাহের, কোনোটা তিন মাসের। দেরিতে নামলে বিক্রির অর্ধেক দিন চলে যায়, আর তখন পাইকারের কাছে ভালো ডিজাইনও থাকে না। আবার বেশি তুললে সিজন শেষে মাল ঘরে পড়ে থাকে, আর সেই টাকা দিয়ে পরের সিজনের মাল কেনা যায় না। বৈশাখের লাল-সাদা শাড়ি পরের বৈশাখ পর্যন্ত এক বছর অপেক্ষা করে। আম তো এক সপ্তাহও অপেক্ষা করে না।

এই দুই ভুল থেকে বাঁচার সহজ নিয়ম হলো উৎসবের দিন থেকে উল্টো দিকে গোনা। উৎসব বা আবহাওয়া যেদিন আসছে, সেই দিনটাকে শূন্য দিন ধরুন। তারপর পেছনের দিকে এভাবে দাগ দিন।

  • শূন্য দিনের ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ আগে ঠিক করুন কী বেচবেন। পাইকারের কাছ থেকে স্যাম্পল আনুন, আর প্রথম লটের টাকা আলাদা করে সরিয়ে রাখুন।
  • ৫ থেকে ৬ সপ্তাহ আগে প্রথম লট তুলুন। ছবি-ভিডিও করে অর্ডারের পেজ বানিয়ে ফেলুন, আর অল্প বাজেটে অ্যাড দিয়ে দেখুন কোন ডিজাইন মানুষ টানছে।
  • ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ আগে যেটা চলছে সেটা আবার তুলুন, আর অ্যাড পুরো জোরে চালান। বিক্রির আসল সময় এটাই।
  • শেষ ১০ দিনে নতুন মাল আর কিনবেন না। কুরিয়ারের শেষ পিকআপের তারিখ দেখে নিজের অর্ডার নেওয়ার শেষ দিন ঠিক করুন।

এই সময়গুলো শুরু করার একটা আন্দাজ, মেপে বের করা কোনো নিয়ম না। আর চীন বা ভারত থেকে মাল আনলে অর্ডার দিতে হবে আরও অনেক আগে, কারণ পথেই কয়েক সপ্তাহ চলে যায়।

একটা দেয়াল ক্যালেন্ডারে ঈদের দিনটা লাল কালিতে গোল করে ঘেরা, তার আগের সপ্তাহগুলোতে আলাদা রঙের দাগে লেখা স্যাম্পল আনা, প্রথম লট, পুরো অ্যাড আর শেষ পার্সেলের দিন
উৎসবের দিনটা শূন্য ধরুন, তারপর উল্টো দিকে গুনে দাগ দিন

দেরিতে নামলে কত টাকা যায়, একটা উদাহরণে দেখুন। নিচের সংখ্যাগুলো উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। ধরুন দুজন সেলার ঈদের জন্য ১০০টা করে একই পাঞ্জাবি তুলবেন, বেচবেন ১,০৫০ টাকায়। ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার দেন। হিসাব সহজ রাখতে রিটার্ন আর প্যাকেটের খরচ বাদ রাখলাম।

রফিক নামলেন ঈদের ছয় সপ্তাহ আগে। পাইকারের দোকানে তখন ভিড় কম, পিস পড়ল ৬০০ টাকা, মোট ৬০,০০০ টাকা। বেচার জন্য হাতে থাকল পুরো চার সপ্তাহ। ৮৫টা বিক্রি হলো, প্রতিটা অর্ডারে অ্যাডে গেল ১৫০ টাকা, মানে মোট ১২,৭৫০ টাকা। ঈদের পরে বাকি ১৫টা কেনা দামে ছেড়ে দিলেন। তাহলে ৮৫ × ১,০৫০ = ৮৯,২৫০ টাকা, সাথে ১৫ × ৬০০ = ৯,০০০ টাকা এলো। মাল আর অ্যাডের খরচ বাদ দিলে রফিকের হাতে থাকল ২৫,৫০০ টাকা।

সজীব নামলেন ঈদের দুই সপ্তাহ আগে। ততদিনে পাইকারের দামও উঠেছে, পিস পড়ল ৬৫০ টাকা, মোট ৬৫,০০০ টাকা। সবাই একসাথে অ্যাড চালাচ্ছেন বলে তাঁর প্রতি অর্ডারে অ্যাডে গেল ২০০ টাকা। কুরিয়ারের শেষ দিনের আগে বিক্রি হলো ৫০টা, তাতে এলো ৫২,৫০০ টাকা, আর অ্যাডে গেল ১০,০০০। বাকি ৫০টা ঈদের পরে ৬০০ টাকায়, মানে কেনা দামের নিচে ছাড়তে হলো, এলো ৩০,০০০। সব মিলিয়ে সজীবের হাতে থাকল ৭,৫০০ টাকা। তাও ওই ৫০টা পাঞ্জাবি বেচতে তাঁর কয়েক মাস লেগে গেল।

একই পাঞ্জাবি, একই দাম, তবু একজনের হাতে ২৫,৫০০ আর আরেকজনের হাতে ৭,৫০০। সজীব খাটুনি কিন্তু কম করেননি, বরং শেষ দুই সপ্তাহে রাত জেগে বেশিই খেটেছেন। পার্থক্যটা শুধু চার সপ্তাহের। সিজনাল ব্যবসায় সময়টাই আসলে আপনার মার্জিন।

জানুয়ারি থেকে মার্চ, স্কুল, শীতের শেষ আর রমজানের প্রস্তুতি

বছরটা শুরু হয় স্কুল দিয়ে। আমাদের স্কুলের নতুন বছর জানুয়ারিতে শুরু হয়, তাই ডিসেম্বরের শেষ থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত স্কুলব্যাগ, টিফিন বক্স, পানির বোতল আর পেন্সিল বক্সের খোঁজ বাড়ে। এগুলো ওজনে হালকা, আর সাইজ না মেলার ঝামেলা প্রায় নেই বলে রিটার্নও কম আসে। নতুন সেলারের জন্য তাই এটা ভালো একটা শুরু। স্কুলের জুতা বা ইউনিফর্মে সাইজ না মিললে পার্সেল ফেরত আসে, ওগুলো একটু অভিজ্ঞ হওয়ার পরে ধরুন। মাল তুলে ফেলুন ডিসেম্বরের মাঝামাঝির মধ্যে, কারণ স্কুল খোলার কয়েক সপ্তাহ পরেই এই কেনাকাটা থেমে যায়।

শীতের মালের জন্য জানুয়ারি হলো গুটিয়ে আনার মাস। নতুন শীতের কাপড় আর কিনবেন না, কারণ ফেব্রুয়ারিতে ঠান্ডা কমে এলে একই জ্যাকেট ছাড়তে বড় ছাড় দিতে হয়।

ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি আসে ফাল্গুন আর ভালোবাসা দিবস, তখন হলুদ-বাসন্তী পাঞ্জাবি, শাড়ি আর উপহারের জিনিস চলে। কিন্তু ২০২৭ সালে একটা হিসাব মাথায় রাখুন। চাঁদের বছর সূর্যের বছরের চেয়ে ১০-১১ দিন ছোট, তাই রোজা প্রতি বছর ইংরেজি ক্যালেন্ডারে ওই কয়দিন এগিয়ে আসে। ২০২৬ সালে রোজা শুরু হয়েছিল ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় ভাগে, সেই হিসাবে ২০২৭ সালে শুরু হওয়ার কথা ফেব্রুয়ারির প্রথম ভাগে। ফাল্গুনের দিনটা তাহলে রোজার মধ্যেই পড়ার কথা। রোজার মধ্যে হলুদ শাড়ি আর উপহারের বিক্রি কেমন হবে, আগে থেকে বলা কঠিন। তাই এবার ফাল্গুনের স্টক ছোট রাখুন।

সবচেয়ে বড় কথাটা টাকার। রোজা ফেব্রুয়ারির শুরুতে এলে ঈদের মাল ঠিক করার সময় পড়বে জানুয়ারির মাঝামাঝি। ঠিক তখন শীতের পার্সেলের টাকা কুরিয়ার থেকে আসছে, আর স্কুলের মালও বেচছেন। এক মাসে তিন সিজনের টাকা টানতে গেলে হাত খালি হয়ে যাওয়াটা খুব স্বাভাবিক।

রমজান আর ঈদুল ফিতর, কবে মাল, কবে অ্যাড

প্রথমে তারিখের কথা। রোজা আর ঈদের আসল তারিখ ঠিক হয় চাঁদ দেখে, আর ঘোষণা আসে বায়তুল মোকাররমে বসা জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি থেকে। সরকারি ছুটির লিস্ট ওঠে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে। ২০২৬ সালের লিস্টটা এসেছিল ২০২৫ সালের নভেম্বরে, আর ২০২৬ সালের অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত ২০২৭ সালের লিস্ট ওঠেনি। তাই এখনকার প্ল্যানটা আন্দাজে করুন, ঈদুল ফিতর ২০২৭ সালের মার্চের প্রথম ভাগে ধরে।

রোজার মাসে বিক্রি চলে দুই ভাগে। প্রথম দিকে চলে রোজা আর নামাজের জিনিস, যেমন খেজুর, জায়নামাজ, টুপি, তসবিহ আর আতর। মাঝামাঝি থেকে শুরু হয় ঈদের কেনাকাটা, পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, বাচ্চাদের জামা, জুতা, মেহেদি, কসমেটিক, আর ঘর সাজানোর জন্য বিছানার চাদর আর পর্দা। অনেকে বেতন আর বোনাস হাতে পাওয়ার পরে কেনেন, তাই শেষ দুই সপ্তাহে চাপ সবচেয়ে বেশি।

"ভাই, ঈদের মাল কবে তুলব?" এই প্রশ্নের সোজা উত্তর হলো, রোজা শুরুর আগেই। ঈদ যত কাছে আসে, পাইকারি বাজারে ভিড় তত বাড়ে, ভালো ডিজাইন আগে শেষ হয়, আর পাইকারের দামও শক্ত হয়ে যায়। প্রথম লট ছোট রাখুন, ধরুন যতটা বেচবেন ভাবছেন তার অর্ধেক। রোজার প্রথম সপ্তাহের বিক্রি দেখে দ্বিতীয় লট তুলুন, আর সেটা রোজার মাঝামাঝির আগেই, কারণ শেষ দশ দিনে পাইকারের দোকানে দরকারি সাইজটা পাওয়ার ভরসা কম। প্রথম লট যদি এক সপ্তাহেই শেষ হয়ে যায়, সেই স্বস্তিটা অন্যরকম, আর তখন দ্বিতীয় লটে সাহস করে বেশি তুলতে পারবেন। আপনি শুধু পাঞ্জাবি বেচলে শবে বরাত ধরে দিন গুনে পুরো হিসাবটা পাবেন পাঞ্জাবির ব্যবসার লেখায়।

পাইকারি কাপড়ের দোকানে একজন তরুণ সেলার তাক থেকে নামানো কয়েকটা পাঞ্জাবির কাপড় আর সেলাই হাতে নিয়ে দেখছেন, কাউন্টারের ওপাশে দোকানের মালিক দাঁড়িয়ে
রোজা শুরুর আগে স্যাম্পল দেখে প্রথম লটটা ছোট করে তুলুন

অ্যাড শুরু করবেন রোজার এক সপ্তাহ আগে, ছোট বাজেটে, যাতে বুঝতে পারেন কোন ডিজাইন টানছে। পুরো বাজেট ঢালবেন রোজার প্রথম তিন সপ্তাহে। শেষ সপ্তাহে ঢাকার বাইরের অর্ডার ঈদের আগে পৌঁছানো কঠিন হয়ে যায়। তখন অ্যাড কমিয়ে ঢাকার ভেতরের দিকে রাখুন, অথবা এমন জিনিসের অ্যাড দিন যেটা ঈদের পরেও কাজে লাগে।

ঈদের অফার পেজটা রোজার আগেই বানিয়ে রাখুন, কারণ রোজা শুরু হলে ছবি তোলা আর পেজ সাজানোর সময় পাবেন না। পেজে ঈদ কালেকশনের ছবি, সাইজ চার্ট আর দাম রাখুন। সাথে একটা পরিষ্কার লাইন দিন, "ঈদের আগে পেতে ঢাকার বাইরে অমুক তারিখের মধ্যে অর্ডার করুন।" এই এক লাইনই শেষ সপ্তাহের অনেক ঝগড়া আর রিটার্ন বাঁচায়। পেজটা একবার ভালো করে বানালে বৈশাখ বা পূজায় শুধু ছবি আর লেখা পাল্টে আবার চালাতে পারবেন।

সিজনের অফার পেজ টেমপ্লেট থেকে বানিয়ে রাখুনটেমপ্লেট থেকে বা AI দিয়ে ৫ মিনিটে, প্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম

এপ্রিল থেকে জুন, বৈশাখ, গরম আর আমের মৌসুম

পহেলা বৈশাখ প্রতি বছর ১৪ এপ্রিল, তাই এর তারিখ নিয়ে কোনো আন্দাজ লাগে না। লাল-সাদা শাড়ি, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, বাচ্চাদের সেট আর মাটির গয়নার বিক্রি এই দিনটা ঘিরে। ঝুঁকি হলো, ১৪ এপ্রিলের পরে এসবের চাহিদা প্রায় থাকে না, আর বৈশাখের ডিজাইন পুরো এক বছর অপেক্ষা করে। তাই বৈশাখের মাল তুলুন ছোট করে, আর অ্যাড দিন মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে।

"ভাই, গরমে কি ব্যবসা করা যায়?" এই প্রশ্নটা অনেকে এপ্রিল এলেই করেন। আবহাওয়া অধিদপ্তর (BMD) দেশের গরমকাল ধরে মার্চ থেকে মে। এই সময় চলে সুতির পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, লুঙ্গি আর সুতি-লনের থ্রি-পিস। সাথে চলে সানস্ক্রিন, ক্যাপ, রোদের ছাতা, পানির বোতল, আর লোডশেডিং বাড়লে রিচার্জেবল ফ্যান। ফ্যানের মতো ইলেকট্রনিক জিনিসে লাভ ভালো, কিন্তু খারাপ লট এলে একসাথে অনেক অভিযোগ আসে। প্রথমে অল্প কয়েক পিস এনে নিজে কয়েক দিন চালিয়ে দেখুন চার্জ কতক্ষণ থাকে, তারপর বড় লট তুলুন।

তারপর আসে আম, সিজনাল ফলের ব্যবসায় সবচেয়ে বড় নাম। প্রথম আলোর ১০ মে ২০২৬ তারিখের খবর অনুযায়ী, কাঁচা আম বাজারে আসা ঠেকাতে রাজশাহী জেলা প্রশাসন ২০২৬ সালে জাত ধরে আম পাড়ার তারিখ বেঁধে দিয়েছিল। গুটি আম ১৫ মে থেকে, হিমসাগর-খিরসাপাত ৩০ মে, ল্যাংড়া ১০ জুন, আর আম্রপালি-ফজলি ১৫ জুন থেকে। এই তারিখ বছর বছর আগে-পিছে হয়, তাই ২০২৭ সালের জন্য মে মাসের শুরুতে খবরটা দেখে নিন। সেই তারিখ ধরেই প্রি-অর্ডার নেওয়া শুরু করুন, আর কোন জাত কবে পাঠাতে পারবেন সেটা পেজে পরিষ্কার লিখে দিন।

"ভাই, চট্টগ্রামে আম পাঠাবেন?" এমন মেসেজ আসবেই, আর এখানেই নিয়মটা কাপড়ের থেকে আলাদা। আম আর লিচু পচনশীল। পার্সেল এক দিন আটকে গেলেই আম নষ্ট হতে শুরু করে, আর নষ্ট আম ফেরত এলে সেটা আর বেচাও যায় না। ফুটো করা কার্টনে কাগজ মুড়ে পাঠান, আর ঢাকার বাইরে অন্তত ডেলিভারি চার্জটা অগ্রিম নিন। "সবগুলো আম মিষ্টি" এমন কথা লিখবেন না, গাছের প্রতিটা আমের স্বাদ আপনার হাতে নেই। লিচুর মৌসুম আরও ছোট, কয়েক সপ্তাহের, তাই লিচুতে অ্যাড ঢালার আগে সাপ্লায়ার কত দিন মাল দিতে পারবেন সেটা জেনে নিন।

ফুটো করা কার্টনে কাগজে মোড়া আমের নকশা, পাশে ২০২৬ সালে রাজশাহীতে জাত ধরে আম পাড়ার তারিখ, গুটি ১৫ মে, হিমসাগর-খিরসাপাত ৩০ মে, ল্যাংড়া ১০ জুন, আম্রপালি-ফজলি ১৫ জুন
আম এক দিন আটকালেই নষ্ট হতে শুরু করে, তাই ফুটো কার্টনে কাগজ মুড়ে পাঠান

কোরবানির ঈদে কী চলে

চাঁদের হিসাবে কোরবানির ঈদ আসে ঈদুল ফিতরের দুই মাস দশ দিনের মতো পরে। ২০২৬ সালে এটা ছিল মে মাসের শেষে, তাই ২০২৭ সালে আসার কথা মে মাসের মাঝামাঝি। খেয়াল করুন, ঠিক এই সময়েই আমের মৌসুম শুরু হয়, তাই কুরিয়ারে দুই দিক থেকে চাপ পড়তে পারে। এই দুই সপ্তাহে ডেলিভারি এক-দুই দিন বেশি ধরে প্ল্যান করুন।

এই ঈদে কাপড়ের চেয়ে বেশি চলে রান্নাঘর আর মাংসের কাজের জিনিস। মানুষ খোঁজেন ছুরি-চাপাতির সেট, মাংস কাটার কাঠের গুঁড়ি বা মোটা চপিং বোর্ড, মসলা পেষার মেশিন, মসলার প্যাকেট, আর মাংস ভাগ করে রাখার ফ্রিজার ব্যাগ আর বক্স। বিক্রির জানালাটা খুব ছোট। মানুষ সাধারণত গরু-ছাগল কেনার কাছাকাছি সময়ে এগুলোর খোঁজ শুরু করেন, মানে ঈদের দশ-বারো দিন আগে থেকে। তাই অ্যাড শুরু করুন ঈদের দুই সপ্তাহের মতো আগে, আর মাল তুলুন তার আগের সপ্তাহেই।

ছুরি আর চাপাতি পাঠানোর আগে নিজের কুরিয়ারের নিষিদ্ধ জিনিসের লিস্টটা দেখে নিন। ধারালো দিকটা মোটা কার্ডবোর্ডে মুড়ে প্যাক করুন, যাতে ডেলিভারি ম্যানের হাত না কাটে আর প্যাকেট ফুঁড়ে বের না হয়।

রান্নাঘরের টেবিলে সাজানো একটা ছুরির সেট, কাঠের গুঁড়ি, ছোট মসলা পেষার মেশিন আর কয়েকটা ফ্রিজার বক্স, পাশে দাঁড়িয়ে একজন যুবক মোবাইলে এগুলোর ছবি তুলছেন
কোরবানির বিক্রি চলে দশ-বারো দিন, তাই ছবিগুলো মাল আসার দিনই তুলে রাখুন

এই সিজনের একটা ভালো দিকও আছে। ছুরি, গুঁড়ি বা ফ্রিজার বক্স নষ্ট হয় না, ডিজাইনও পুরনো হয় না, তাই কিছু বেঁচে গেলে পরের বছর মোটামুটি একই দামে বেচা যায়।

বর্ষাকালে কি ব্যবসা করা যায়?

আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবেই জুন থেকে সেপ্টেম্বর বর্ষাকাল, আর বছরের বেশিরভাগ বৃষ্টি হয় এই চার মাসে। বর্ষাকালে কি ব্যবসা করা যায়, তার উত্তর তাই খুঁজবেন মানুষের রোজকার ভোগান্তিতে। কাদা-পানিতে মানুষ যা নিয়ে বিরক্ত, সেটাই এই সময়ের প্রোডাক্ট। ছাতা, বাইক চালানো মানুষের রেইনকোট, রাবারের জুতা আর গামবুট, মোবাইল রাখার ওয়াটারপ্রুফ পাউচ, ব্যাগের রেইন কভার, ঘরের ভেতরে কাপড় শুকানোর স্ট্যান্ড আর মশারি ভালো চলে। এগুলোর বেশিরভাগ ওজনে হালকা, মেয়াদ পেরোনোর ভয়ও নেই, তাই নতুন সেলারের জন্য ঝুঁকিও কম।

বর্ষার বিক্রি অনেক সময় প্রথম জোরালো বৃষ্টির দিনেই লাফ দেয়। তখন মাল হাতে না থাকলে প্রথম দুই সপ্তাহের ভালো বিক্রিটা হাতছাড়া হয়ে যায়। তাই মে মাসের শেষেই প্রথম লট ঘরে রাখুন। আর আগস্টের পরে নতুন মাল তুলবেন না, কারণ সেপ্টেম্বরে বর্ষা গুটিয়ে আসে, আর তখন কেনা ছাতা পরের জুনের অপেক্ষায় বসে থাকে।

বর্ষায় কুরিয়ারের দিকটা আলাদা করে ভাবুন। রাস্তায় পানি জমলে ডেলিভারি এক-দুই দিন পিছিয়ে যায়, আর ভেজা পার্সেল খুলে কোনো কাস্টমার খুশি হন না। প্রতিটা পার্সেল পলিতে মুড়ে টেপ দিয়ে বন্ধ করুন, আর কাগজের ইনভয়েসটা ভেতরে রাখুন। কাস্টমারকে আগে থেকেই বলে রাখুন যে বৃষ্টির দিনে এক দিন দেরি হতে পারে। আগে বলে রাখলে মানুষ রাগ করেন কম, পার্সেলও ফেরত দেন কম।

বৃষ্টির মধ্যে রেইনকোট পরা একজন ডেলিভারি ম্যান বাইকের পেছনের বাক্স থেকে পলিতে মোড়া একটা পার্সেল বের করছেন, রাস্তায় পানি জমে আছে
বর্ষায় প্রতিটা পার্সেল পলিতে মুড়ুন। ভেজা প্যাকেট খুলে কেউ খুশি হন না

সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর, পূজা, শীত আর বছরের শেষ

দুর্গাপূজার তারিখ পঞ্জিকা ধরে বছর বছর আগে-পিছে হয়, সাধারণত সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অক্টোবরের মধ্যে পড়ে। পূজার আগে শাড়ি, পাঞ্জাবি, বাচ্চাদের নতুন জামা, শাঁখা-পলা আর উপহারের জিনিসের বিক্রি বাড়ে। নিয়মটা ঈদের মতোই, ওপরের সেই উল্টো দিকে গোনার হিসাব। শুধু কুরিয়ারের পূজার ছুটির নোটিশ দেখে নিজের শেষ দিনটা ঠিক করবেন।

অক্টোবর-নভেম্বর হলো শীতের প্রস্তুতির সময়, আর শীতের বিক্রি চলে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত। কোন শীতের জিনিস দিয়ে শুরু করবেন আর কবে কতটা তুলবেন, সেই পুরো হিসাব সপ্তাহ ধরে আছে শীতকালে কী ব্যবসা করা যায়, সেই লেখায়।

ডিসেম্বর মাসটা ছোট ছোট কয়েকটা উপলক্ষে ভরা। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের আগে লাল-সবুজ টি-শার্ট, পাঞ্জাবি আর পতাকার খোঁজ থাকে। শীতে বিয়ের দাওয়াত বাড়ে, তাই উপহারের জিনিস আর ভালো পাঞ্জাবির চাহিদাও বাড়ে।

কিন্তু ডিসেম্বরের আসল কাজ বিক্রি না, পরের বছরের টাকার হিসাব। ওপরে দেখলেন, ২০২৭ সালে স্কুলের মাল, শীতের শেষ আর ঈদের প্রথম লট প্রায় একসাথে পড়ছে। ডিসেম্বরের কোনো এক সন্ধ্যায় এক কাপ চা নিয়ে বসুন, আর লিখে ফেলুন ঈদের প্রথম লটে কত টাকা লাগবে, আর শীতের কোন মাল জানুয়ারির শুরুতে ছেড়ে দিলে সেই টাকাটা হাতে আসে। এই এক ঘণ্টার হিসাবই জানুয়ারির টানাটানি থেকে আপনাকে বাঁচাবে।

সিজন শেষে মাল থেকে গেলে কী করবেন?

সিজন শেষে কিছু মাল প্রায় সবারই থেকে যায়, এতে লজ্জার কিছু নেই। ঘরের কোণে ছাতার বাক্সগুলো দেখলে মনে হয় টাকাগুলো চোখের সামনেই বসে আছে, অথচ ধরা যাচ্ছে না। ক্ষতিটা হয় তখন, যখন সেই মাল মাসের পর মাস পড়ে থাকে আর আপনার পরের সিজনের টাকা আটকে রাখে।

তাই সিজন শেষ হওয়ার দুই সপ্তাহ আগে একদিন বসে স্টক গুনুন। তারপর দেখুন গত এক-দুই সপ্তাহে দিনে গড়ে কয় পিস গেছে, আর সেই গড়কে সিজনের বাকি দিন দিয়ে গুণ করুন। হাতের মাল থেকে এই সংখ্যাটা বাদ দিলে যা থাকে, সেটাই আপনার বাড়তি মাল। এরপর প্রতিটা বাড়তি জিনিস নিয়ে নিজেকে তিনটা প্রশ্ন করুন।

  • পরের সিজনে কি এটা একই দামে বিকাবে? সাধারণ কালো ছাতা বা কোরবানির ছুরি বিকাবে। কিন্তু "ঈদ মোবারক" লেখা প্যাকেট, এ বছরের ট্রেন্ডের ডিজাইন বা বৈশাখের প্রিন্ট পরের বছর পুরনো লাগতে পারে।
  • রেখে দিলে কি নষ্ট হবে? আম, খাবার আর মেয়াদ লেখা কসমেটিক কখনো রাখবেন না। কাপড় আর ছাতা রাখা যায়, যদি শুকনো জায়গা থাকে।
  • এই টাকা আটকে থাকলে কি পরের সিজনের মাল কিনতে টান পড়বে? পড়লে কম লাভে হলেও এখনই ছেড়ে দিন।

তিনটার উত্তরই আপনার পক্ষে গেলে মাল গুছিয়ে রেখে দিন। একটাও উল্টো গেলে সিজন থাকতে থাকতেই ছাড়ুন, কারণ সিজন পুরো শেষ হয়ে গেলে একই মাল ছাড়তে আরও বড় ছাড় দিতে হয়।

ছাতার স্টক গোনার হিসাবের পাতা, ২০০টা ছাতার ৬০টা বাকি আর আটকে আছে ১৩,২০০ টাকা, পাশে বাড়তি মাল নিয়ে তিনটা প্রশ্ন আর মাল ছাড়ার পথ
সিজন শেষের দুই সপ্তাহ আগে গুনে ফেলুন, তখনো ছাড়ার সময় থাকে

একটা উদাহরণে দেখুন, এটাও উদাহরণ, আসল হিসাব না। ধরুন বর্ষায় ২০০টা ছাতা তুলেছিলেন ২২০ টাকা করে, মোট ৪৪,০০০ টাকা। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে গুনে দেখলেন ৬০টা বাকি, মানে ১৩,২০০ টাকার মাল। সাধারণ ছাতা প্রথম দুই প্রশ্নে পাস করে, আটকায় তৃতীয়টায়। রেখে দিলে এই টাকা পরের জুন পর্যন্ত, মানে প্রায় নয় মাস আটকে থাকবে, অথচ ঠিক এখনই আপনার পূজা আর শীতের মাল কেনার কথা। অন্য একজন সেলার যদি ৬০টা একসাথে ২০০ টাকা করে নিতে রাজি হন, আপনি পাবেন ১২,০০০ টাকা। লস হলো ১,২০০ টাকা, কিন্তু হাতে চলে এলো ১২,০০০ টাকা, যেটা দিয়ে শীতের প্রথম লটের বড় একটা অংশ উঠে যায়।

ছাড়ার পথগুলো কম ক্ষতি থেকে বেশি ক্ষতির দিকে সাজান। প্রথমে পুরনো কাস্টমারদের জানান, তারপর চলতি জিনিসের সাথে জুড়ে দিন, তারপর শেষ তারিখ দিয়ে ছাড় দিন, আর একদম শেষে অন্য সেলারকে কেনা দামের কাছাকাছি দিয়ে দিন। প্রতিটা ধাপ ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্টের লেখার "যে মাল বিক্রি হয় না" অংশে বিস্তারিত আছে। ছাড় দেওয়ার সময় কুপন কোডে একটা শেষ তারিখ আর প্রতি নম্বরে একবারের লিমিট বসান। নইলে সিজনের ছাড় সিজনের পরেও চলতে থাকে, আর একই মানুষ বারবার কোডটা কাজে লাগান। ছাড়ের অঙ্কটা বসানোর আগে কেনা দাম আর কুরিয়ার খরচ মিলিয়ে একবার দেখে নিন, কোথায় গিয়ে লস শুরু হয়।

সিজন শেষের ছাড়ে শেষ তারিখ আর লিমিট বসিয়ে কুপন বানানপ্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম

পুরো বছরটা এক টেবিলে, কোন মাসে কী করবেন?

ওপরের সব কথা এক টেবিলে রাখলাম। ২০২৭ সালের রোজা আর দুই ঈদের সময়টা চাঁদের হিসাবে আন্দাজ, আসল তারিখ এলে মিলিয়ে নেবেন।

সময় যা বেচবেন পরের সিজনের জন্য যা গোছাবেন
ডিসেম্বর-জানুয়ারি শীতের কাপড়, স্কুলের ব্যাগ আর টিফিন বক্স, বিয়ের উপহার ঈদের পাইকার, স্যাম্পল আর টাকার হিসাব
ফেব্রুয়ারি-মার্চ খেজুর, জায়নামাজ, আতর, তারপর ঈদের পোশাক বৈশাখের ছোট লট
এপ্রিল বৈশাখের লাল-সাদা, সুতির কাপড়, গরমের জিনিস রিচার্জেবল ফ্যানের টেস্ট লট, আমের সাপ্লায়ার
মে গরমের জিনিস, আম, কোরবানির জিনিস বর্ষার প্রথম লট
জুন-আগস্ট ছাতা, রেইনকোট, গামবুট, শেষের জাতের আম পূজা আর শীতের পাইকার, স্যাম্পল আর ছবি
সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পূজার শাড়ি-পাঞ্জাবি, বর্ষার বাকি মাল ছাড়া শীতের প্রথম লট
নভেম্বর শীতের কাপড় ডিসেম্বরের উপলক্ষ আর স্কুলের মাল

আপনি নতুন হলে প্রথম বছরেই সবগুলো সিজন ধরতে যাবেন না। প্রতিটা সিজনে নতুন করে পাইকার খুঁজতে হয়, ছবি তুলতে হয়, অ্যাড বানাতে হয়, আর একা মানুষের পক্ষে বারো মাস এই দৌড় সামলানো কঠিন। দুই-তিনটা সিজন বেছে নিন, আর পাশে সারা বছর চলে এমন একটা জিনিস রাখুন, যাতে দুই সিজনের মাঝের মাসেও অর্ডার আসে।

ধরুন ঈদের শেষ সপ্তাহে দিনে দেড়শো অর্ডার আসছে। তখন প্রতিটা বাঁচানো ক্লিক মানে রাতের ঘুমের খানিকটা ফেরত পাওয়া। এই ভিড় সামলাতে WinningSeller-এ কয়েকটা জিনিস হাতের কাছে থাকে। ঈদের রাশে বাছাই করা অনেকগুলো অর্ডারের স্ট্যাটাস একসাথে চেঞ্জ করা যায়, "কল ধরেনি" বা "হোল্ড" ট্যাগ দিয়ে অর্ডার আলাদা রাখা যায়, আর ছয়টা কুরিয়ারে এক ক্লিকে পার্সেল বুক হয়। সিজন শেষে ডেলিভারি হওয়া অর্ডার থেকে লাভ-ক্ষতি দেখে বুঝবেন কোন সিজন আসলে টাকা দিল, আর পরের বছর কোনটায় বেশি নামবেন। বাকি ফিচারগুলো এখানে দেখে নিন।

সাধারণ প্রশ্ন

গরমে কি ব্যবসা করা যায়?

গরমে অনলাইনে সুতির পাঞ্জাবি, টি-শার্ট আর থ্রি-পিস, সানস্ক্রিন, ক্যাপ, পানির বোতল আর রিচার্জেবল ফ্যান ভালো চলে। মে-জুনে এর সাথে যোগ হয় আম আর লিচু। ফ্যানের মতো ইলেকট্রনিক জিনিস আগে অল্প কয়েক পিস এনে নিজে চালিয়ে দেখুন, তারপর বড় লট তুলুন।

রমজানে কি ব্যবসা করা যায়?

হ্যাঁ, রমজান অনলাইন সেলারের বছরের সবচেয়ে বড় মাস। প্রথম দিকে খেজুর, জায়নামাজ, টুপি, তসবিহ আর আতর চলে, মাঝামাঝি থেকে ঈদের পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, বাচ্চাদের জামা, জুতা আর মেহেদির বিক্রি বাড়ে। মাল তুলবেন রোজা শুরুর আগেই, কারণ ঈদ যত কাছে আসে পাইকারি বাজারে ভালো ডিজাইন তত কমে আর দামও শক্ত হয়।

ঈদের আগে কবে থেকে অ্যাড দেওয়া শুরু করব?

ঈদুল ফিতরে রোজা শুরুর এক সপ্তাহ আগে ছোট বাজেটে টেস্ট শুরু করুন, আর রোজার প্রথম তিন সপ্তাহে পুরো বাজেট দিন। শেষ সপ্তাহে ঢাকার বাইরের পার্সেল ঈদের আগে পৌঁছানো কঠিন, তাই তখন অ্যাড কমিয়ে আনুন। কোরবানির ঈদে বিক্রির সময় ছোট, সেখানে অ্যাড শুরু করুন ঈদের দুই সপ্তাহের মতো আগে।

২০২৭ সালে রোজা আর ঈদ কবে?

চাঁদের বছর সূর্যের বছরের চেয়ে ১০-১১ দিন ছোট, তাই রোজা প্রতি বছর একটু এগিয়ে আসে। সেই হিসাবে ২০২৭ সালে রোজা শুরু হওয়ার কথা ফেব্রুয়ারির প্রথম ভাগে, ঈদুল ফিতর মার্চের প্রথম ভাগে আর কোরবানির ঈদ মে মাসের মাঝামাঝি। আসল তারিখ ঠিক হবে চাঁদ দেখে, আর সরকারি ছুটির লিস্ট আসবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট mopa.gov.bd-তে।

সিজনাল ব্যবসায় প্রথমবার কত মাল তুলব?

যতটা বেচবেন বলে ভাবছেন, প্রথম লটে তার অর্ধেকের মতো তুলুন। প্রথম সপ্তাহের বিক্রি দেখে দ্বিতীয় লট তুলুন। এতে চলা ডিজাইনে মাল ফুরায় না, আর না চলা ডিজাইনে টাকা আটকে থাকে কম।

সিজনাল ব্যবসা কি সারা বছর চালানো যায়?

যায়, যদি এক জিনিসে আটকে না থেকে সিজন ধরে জিনিস পাল্টান, যেমন বৈশাখে কাপড়, বর্ষায় ছাতা, শীতে গরম কাপড়। তবে প্রথম বছরেই সব সিজন ধরতে যাবেন না। দুই-তিনটা সিজন বেছে নিন, আর পাশে সারা বছর চলে এমন একটা জিনিস রাখুন, যাতে দুই সিজনের মাঝের মাসেও অর্ডার আসে।

#সিজনাল ব্যবসা#সিজনাল ব্যবসা আইডিয়া#ঈদের ব্যবসা#গরমের ব্যবসা#বর্ষার ব্যবসা#স্টক প্ল্যান

আরও পড়ুন

খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম

বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম

থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়