ঈদে পাঞ্জাবি বেচবেন? পাইকারি কোথায়, কোন সাইজ কত পিস আর লাভ কত থাকে
পাঞ্জাবির বিক্রি ঘোরে ঈদকে ঘিরে। ঢাকায় পাঞ্জাবির পাইকারি কোথায় পাবেন, ঈদের কত আগে প্রথম লট তুলবেন, বুক আর লম্বা ধরে সাইজ চার্ট, প্রথম লটে কোন সাইজ কত পিস, আর ঈদের পরে বেঁচে যাওয়া মাল নিয়ে কী করবেন, টাকার হিসাবসহ।

এই লেখায় যা আছে
ধরুন শবে বরাতের কয়েক দিন আগের এক সকাল। আপনি কেরানীগঞ্জের একটা দোকানে দাঁড়িয়ে আছেন, পকেটে অনেক কষ্টে জমানো বিয়াল্লিশ হাজার টাকা। দোকানি একের পর এক পাঞ্জাবি নামাচ্ছেন, আর আপনার বুক ধুকপুক করছে।
ঢাকায় পাঞ্জাবি পাইকারি মার্কেট খুঁজলে সেলাররা সবার আগে এই কেরানীগঞ্জেই যান, কারণ বুড়িগঙ্গার ওপারে এখানে পাঞ্জাবি বানানোও হয়, পাইকারিও বিক্রি হয়। পুরান ঢাকার সদরঘাটের শরীফ মার্কেটও পাঞ্জাবির জন্য পরিচিত, আর নিজে বানাতে চাইলে কাপড় পাবেন ইসলামপুরে। তবে অনলাইনে পাঞ্জাবির ব্যবসায় লাভ-লোকসান ঠিক হয় সময় দিয়ে। ঈদুল ফিতরের প্রথম লট তুলতে হয় শবে বরাতের আগেই, শেষবার স্টক বাড়াতে হয় রমজানের মাঝামাঝি। আর সাইজ ঠিক করতে হয় বুক আর লম্বার ইঞ্চি মেপে, লেবেলের নম্বর দেখে না।
সেই সকালে ফিরি। সাদা, অফ-হোয়াইট, মেরুন, নেভি ব্লু, সবগুলোই সুন্দর লাগছে। কিন্তু কোন রং নেবেন, কোন সাইজ কয়টা? ভুল হলে এই টাকাটাই ঈদের পরে পলিতে মোড়া হয়ে ঘরের কোণে পড়ে থাকবে। দৃশ্যটা একটা উদাহরণ, তবে পাঞ্জাবি দিয়ে শুরু করা অনেকের কাছেই এই সকালটা চেনা। নিচে পুরো মৌসুমটা ধাপে ধাপে সাজিয়েছি, যাতে সেদিন দোকানে দাঁড়িয়ে আপনার হাতে একটা হিসাব থাকে।
পাঞ্জাবির ব্যবসা কেমন, বছরে কবে বিক্রি?
পাঞ্জাবি ছেলেদের কাপড়, কিন্তু এর বিক্রি চলে ঈদের ঘড়ি ধরে। অনেক সেলারের অভিজ্ঞতায় বছরের সবচেয়ে বড় বিক্রি আসে ঈদুল ফিতরের আগের দেড়-দুই মাসে। পাইকারি বাজারও একই ঘড়িতে চলে, কেরানীগঞ্জে ঈদের পাইকারি বেচাকেনা জমে শবে বরাতের পর থেকে। মানে আপনি যখন বেচতে শুরু করবেন, তার আগেই মাল ঘরে থাকতে হবে।
ঈদুল আজহায়ও পাঞ্জাবি চলে, তবে সাধারণত ফিতরের চেয়ে কম। ওই সময় অনেক পরিবারের বড় খরচটা যায় কোরবানির পশুতে, নতুন জামার বাজেট তখন ছোট থাকে। এর বাইরে শীতের বিয়ের মৌসুমে, পহেলা বৈশাখে আর জুমা-দাওয়াতের জন্য সারা বছর অল্প অল্প বিক্রি হয়। কিন্তু ঈদের বাইরের এই বিক্রি দিয়ে বড় স্টক টানা যায় না, এটা শুরুতেই মেনে নিন।
ভালো দিকটা হলো, পাঞ্জাবির কাস্টমার একবার সাইজ আর কাপড়ে খুশি হলে প্রতি ঈদে ফিরে আসতে পারেন। অনেকে বাবা আর ছেলের জন্য একসাথে নেন। ঝামেলাও কম না। সাইজ না মিললে পার্সেল ফেরত আসে। বিক্রির দিন হাতে গোনা কয়েকটা। আর একই কারখানার ডিজাইন দশটা পেজে উঠে গেলে দাম নিয়ে টানাটানি শুরু হয়।
তাই নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, ঈদের দুই মাস আগে স্টকে টাকা ঢুকিয়ে ঈদ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারবেন কি? যাঁর সংসার চলে প্রতি সপ্তাহের বিক্রির টাকায়, তিনি পাঞ্জাবিকে সারা বছরের অন্য কিছুর পাশে ঈদের বাড়তি আইটেম হিসেবে রাখুন।
ঈদের কত আগে মাল তুলবেন, একটা ক্যালেন্ডার
ঈদের তারিখ চাঁদ দেখে ঠিক হয়, তাই হিসাবটা শুরু হয় আন্দাজ দিয়ে। ২০২৬ সালে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণায় ঈদুল ফিতর হয়েছিল ২১ মার্চ, আর ঈদুল আজহা ২৮ মে। চাঁদের বছর ইংরেজি বছরের চেয়ে ১০-১১ দিন ছোট, তাই ঈদ প্রতি বছর ওই কয়দিন এগিয়ে আসে। সেই হিসাবে ২০২৭ সালের ঈদুল ফিতর পড়ার কথা মার্চের প্রথম ভাগে, আর ঈদুল আজহা মে মাসের মাঝামাঝি। সরকারি ছুটির লিস্ট কোথায় ওঠে আর বারো মাসের বাকি মৌসুমগুলো কবে, সেটা সিজনাল ব্যবসার ক্যালেন্ডারে গুছিয়ে লেখা আছে।
আসল দিন ঠিক হবে চাঁদ দেখেই। তাই নিচের ক্যালেন্ডারটা তারিখ ধরে না, ঈদ থেকে পেছনের দিকে গুনে সাজিয়েছি।
ঈদের আড়াই-তিন মাস আগে বসে প্ল্যানটা করে ফেলুন। কোন ধরনের পাঞ্জাবি বেচবেন, রেডিমেড কিনবেন নাকি বানাবেন, আর মোট কত টাকা ঢালবেন, এখনই ঠিক করুন। বানাতে চাইলে এই সময়েই কাপড় কিনে কারিগরের সাথে কথা পাকা করুন। রমজান এলে কারিগরের হাতে বড় দোকানের কাজ জমে যায়, তখন ছোট সেলারের পঞ্চাশ পিসের কাজ পেছনে পড়ে।
প্রথম লট তুলে ফেলুন শবে বরাতের আগেই। প্রথম আলোর ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর রিপোর্টে কেরানীগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলেছেন, প্রতি বছর শবে বরাতের পরদিন থেকে পাইকারেরা আসতে শুরু করেন। ভিড়ের আগে গেলে পাইকার আপনার সাথে কথা বলার সময় পান, তাকে ডিজাইনের পুরো সেট থাকে, আর আপনি ছবি তুলে পোস্ট রেডি করার জন্য দুই-তিন সপ্তাহ হাতে পান। শবে বরাত থেকে ঈদুল ফিতর মোটামুটি দেড় মাস, তাই প্রথম লট ঘরে আনুন ঈদের ছয়-সাত সপ্তাহ আগে।

রমজানের প্রথম দশ দিন বেচুন, আর প্রতিদিন গুনে রাখুন। অ্যাড আর পোস্ট চলবে পুরোদমে। তবে এই দশ দিনের আসল কাজ হলো প্রতিদিন রাতে গুনে লেখা, কোন ডিজাইনের কোন সাইজ আগে ফুরাচ্ছে। এই সংখ্যাগুলোই ঠিক করে দেবে দ্বিতীয় লটে কী আনবেন।
দ্বিতীয় লট আনুন রমজানের দশ থেকে পনেরো তারিখের মধ্যে। শুধু যে সাইজ আর ডিজাইন চলছে, সেটাই আবার আনুন, নতুন কিছু না। এখানে দেরি করলে পস্তাবেন। বাসসের ২১ মার্চ ২০২৫-এর একটা রিপোর্টে পুরান ঢাকার এক পাইকারি ব্যবসায়ী বলেছেন, ২০ রমজানের পর তাঁদের পাইকারি বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। তখন পাইকারের দোকানে মাল থাকলেও আপনার দরকারি সাইজটা থাকবে, এমন ভরসা কম।
শেষ দশ দিনে অর্ডার সবচেয়ে বেশি আসে, আর কুরিয়ারেও পার্সেল জমে যায়। ঢাকার বাইরের অর্ডারের জন্য একটা শেষ দিন ঠিক করুন, ধরুন ঈদের সাত দিন আগে, আর ঢাকার ভেতরের জন্য আরেকটা। দিনগুলো নিজের কুরিয়ারের ঈদের নোটিশ দেখে বসাবেন, কারণ প্রতি বছর তারিখ আলাদা হয়। শেষ দিনটা পেজে, পোস্টে আর কনফার্মের ফোনে পরিষ্কার বলুন, কারণ ঈদের পরে পৌঁছানো পাঞ্জাবি অনেকেই দরজা থেকে ফেরত দেন।
শেষ দশ দিনের আরেকটা চাপ হাতের কাজ। ধরুন দিনে পঞ্চাশটা অর্ডার কনফার্ম হলো। প্রতিটার নাম, নম্বর, ঠিকানা আর টাকা কুরিয়ারের প্যানেলে আলাদা করে তুলতেই একটা বেলা চলে যায়, আর তাড়াহুড়োয় একটা অঙ্ক ভুল হলে পার্সেল ভুল দরজায় যায়।
ঈদুল আজহায় একই ক্যালেন্ডার খাটে, শুধু ছোট করে। লট ছোট রাখুন, আর ঈদুল ফিতরের পরে বেঁচে যাওয়া সাদামাটা সুতি পাঞ্জাবিগুলো এই ঈদের স্টকে আগে ধরুন।
রেডিমেড কিনবেন, নাকি কাপড় কিনে বানাবেন?
প্রথম ঈদে নতুন হলে রেডিমেড কিনুন। কারণটা সময় আর ঝুঁকি। রেডিমেড পাঞ্জাবি হাতে নিয়ে দেখে, মেপে, সেদিনই কেনা যায়। সেলাই খারাপ হলে দোকানেই ধরা পড়ে। আর কোন ডিজাইন চলে, সেটা প্রথম মৌসুমে আপনি কম টাকার ঝুঁকিতে শিখে নেন।
রেডিমেডের দুর্বলতা হলো, একই ডিজাইন আরও অনেক পেজ বেচে। কাস্টমার স্ক্রিনশট পাঠিয়ে বলেন, "ভাই, ওই পেজে তো ১০০ টাকা কম।" শুনে মনটা দমে যায়, আর দামের লড়াইয়ে নামা ছাড়া পথ থাকে না। মাঝামাঝি একটা রাস্তা আছে। কেরানীগঞ্জে যিনি বানান, অনেক সময় তাঁর কাছ থেকেই কেনা যায়। এক ঈদে একটা ডিজাইন চললে পরের ঈদে সেটা নিজের রঙে বা একটু আলাদা গলার কাজে বানিয়ে দিতে বলুন। তখন ডিজাইনটা অনেকটাই আপনার নিজের হয়ে যায়।
নিজে বানানো মানে কাপড় কেনা, কারিগরকে দিয়ে কাটিং আর সেলাই করানো, আর লাগলে কম্পিউটার এমব্রয়ডারির দোকানে কাজ দেওয়া। লাভ হলো ডিজাইন আর কাপড় দুটোই আপনার বাছাই, অন্য পেজে হুবহু পাবেন না। ঝুঁকিও আছে। কাপড় কেনা থেকে প্যাকেট পর্যন্ত কয়েক সপ্তাহ লাগে। পঞ্চাশটা পাঞ্জাবির সবগুলো এক মাপে না হলে আপনার সাইজ চার্ট মিথ্যা হয়ে যায়। আর টাকাটা আটকে যায় বিক্রি শুরুর অনেক আগে।
কারিগরের মজুরি আর এমব্রয়ডারির রেট কাজ, কাপড় আর এলাকাভেদে এত আলাদা যে এখানে একটা সংখ্যা লিখলে সেটা ভুল পথ দেখাবে। দুই-তিনজন কারিগরের কাছ থেকে একই কাজের দাম নিয়ে মিলিয়ে দেখুন। আর বানাতে দিলে কয়েকটা কাজ অবশ্যই করুন।
- প্রতিটা সাইজের একটা করে স্যাম্পল আগে বানিয়ে নিন। নিজে পরে দেখুন, একবার ধুয়ে আবার মাপুন, কারণ সুতি কাপড় প্রথম ধোয়ায় একটু ছোট হতে পারে।
- সাইজ ধরে বুক, লম্বা আর হাতার মাপ ইঞ্চিতে একটা কাগজে লিখে কারিগরকে একটা কপি দিন, নিজের কাছে একটা রাখুন।
- কবে কত পিস দেবেন, সেটা তারিখসহ লিখে নিন। পুরো মাল একসাথে না নিয়ে আগে M আর L-এর ব্যাচটা চেয়ে নিন, যাতে বিক্রি তাড়াতাড়ি শুরু করা যায়।

পাঞ্জাবি পাইকারি মার্কেট ঢাকা, কোথায় কী
রেডিমেড পাঞ্জাবির জন্য প্রথমে যান কেরানীগঞ্জে। প্রথম আলোর ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর রিপোর্টে বলা আছে, আগানগর, কালীগঞ্জ আর খেজুরবাগ মিলিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে এখানে প্রায় ১৫ হাজার শোরুম আর ৫ হাজার ছোট-বড় কারখানা আছে। ওই মৌসুমে সেখানে পাঞ্জাবি পাইকারি বিক্রি হচ্ছিল ৪০০ থেকে ১,১০০ টাকায়। এটা এক মৌসুমের দাম, কাপড় আর কাজ বদলালে দামও বদলায়। কেরানীগঞ্জে কীভাবে যাবেন, কী মাথায় রাখবেন আর ঢাকার কোন কাপড়ের মার্কেট কবে বন্ধ, সেটা ঢাকার পাইকারি কাপড়ের বাজারের লেখায় বিস্তারিত আছে, তাই এখানে আবার লিখছি না।
নদীর এপারে আছে সদরঘাটের শরীফ মার্কেট। বাসসের ২১ মার্চ ২০২৫-এর রিপোর্টে পুরান ঢাকার সদরঘাটের শরীফ মার্কেটকে পাঞ্জাবির জন্য পরিচিত বাজার বলা হয়েছে, আর ইসলামপুরকে পাইকারি ব্যবসার প্রধান কেন্দ্র। সদরঘাট আর কেরানীগঞ্জ নদীর দুই পাড়ে, তাই একদিনে দুটো জায়গাই ঘুরে দাম মেলানো যায়।
নিজে বানাতে চাইলে কাপড় কিনবেন ইসলামপুর বা বাবুরহাটে। থান কাপড়ের বড় বাজার পুরান ঢাকার ইসলামপুর। নরসিংদীর বাবুরহাটে পাঞ্জাবির কাপড়ও পাওয়া যায়, তবে হাট বসে সপ্তাহের নির্দিষ্ট কয়েকটা দিনে। দুটোর দিনক্ষণ ওপরের লিংকের লেখায় পাবেন।
চট্টগ্রামে থাকলে আগে টেরিবাজারটা ঘুরে আসুন। এটা চট্টগ্রামের পুরনো কাপড়ের বাজার, প্রতি ঈদের আগে এখানকার ভিড়ের খবর পত্রিকায় আসে। কোন দোকান অল্প পিসে পাইকারি দেয়, পরিচিত কারও কাছে জেনে নিয়ে যান। তাহলে ঢাকায় না এসেও শুরু করা যায়।
মিরপুর আর গুলিস্তানের নামও অনেকে পাঞ্জাবির পাইকারি বাজার হিসেবে খোঁজেন। এই দুই জায়গায় পাঞ্জাবির পাইকারি নিয়ে তারিখসহ নির্ভরযোগ্য কোনো রিপোর্ট আমরা পাইনি, তাই এখানে কিছু দাবি করছি না। পরিচিত সেলার বা দর্জির কাছে জেনে নিজে একবার ঘুরে আসুন।
যে মার্কেটেই যান, দাম জিজ্ঞেস করার আগে একটা প্রশ্ন করুন, রমজানের মাঝামাঝি এই ডিজাইন আবার পাওয়া যাবে কি না। আপনার দ্বিতীয় লট পুরোটাই এই উত্তরের ওপর দাঁড়িয়ে। পাইকারের ফোন নম্বর নিন, আর খোলাখুলি বলুন আপনি অনলাইনে বেচেন, ডিজাইন চললে আবার তাঁর কাছেই আসবেন। সেলাই আর গলার কাজ কাছ থেকে দেখুন। রংটা দোকানের বাতির নিচে না, দরজার কাছে দিনের আলোয় দেখুন। দোকানের সাদা বাতিতে অফ-হোয়াইট আর হালকা ক্রিম প্রায় একই দেখায়, অথচ ছবিতে আর কাস্টমারের হাতে তফাতটা ঠিকই ধরা পড়ে।

বুকের মাপ আর লম্বা ধরে সাইজ চার্ট
পাঞ্জাবির লেবেলে লেখা ৪০ বা ৪২ দোকানভেদে আলাদা জিনিস বোঝায়। কোথাও নম্বরটা লম্বার ইঞ্চি, কোথাও বুকের, আবার একই পাইকারের দুই লটে একই নম্বরের মাপ আলাদা হতে পারে। তাই কাস্টমারকে লেবেল না, ইঞ্চি দেখান। প্রতিটা সাইজের একটা পিস টেবিলে সমান করে বিছান। এক বগলের নিচ থেকে আরেক বগলের নিচ পর্যন্ত মেপে দুই দিয়ে গুণ করলে পাঞ্জাবির বুক পাবেন। কাঁধের সবচেয়ে উঁচু জায়গা থেকে নিচের কিনারা পর্যন্ত লম্বা, আর কাঁধের জোড়া থেকে হাতার শেষ পর্যন্ত হাতা।

নিচের চার্টটা একটা উদাহরণ, কোনো পাইকারের আসল মাপ না। নিজের মাল মেপে সংখ্যাগুলো বসাবেন। শেষ কলামটা কাস্টমারকে একটা আন্দাজ দেওয়ার জন্য। আরামে বসার জন্য পাঞ্জাবির বুক সাধারণত শরীরের বুকের চেয়ে তিন-চার ইঞ্চি বেশি রাখা হয়, সেই হিসাব ধরে লেখা।
| সাইজ | পাঞ্জাবির বুক | পাঞ্জাবির লম্বা | মোটামুটি কার গায়ে হবে |
|---|---|---|---|
| S | ৩৮ ইঞ্চি | ৩৮ ইঞ্চি | শরীরের বুক ৩৪-৩৫, উচ্চতা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চির আশেপাশে |
| M | ৪০ ইঞ্চি | ৪০ ইঞ্চি | বুক ৩৬-৩৭, উচ্চতা ৫ ফুট ৫ ইঞ্চির আশেপাশে |
| L | ৪২ ইঞ্চি | ৪২ ইঞ্চি | বুক ৩৮-৩৯, উচ্চতা ৫ ফুট ৭ ইঞ্চির আশেপাশে |
| XL | ৪৪ ইঞ্চি | ৪৪ ইঞ্চি | বুক ৪০-৪১, উচ্চতা ৫ ফুট ৯ ইঞ্চির আশেপাশে |
| XXL | ৪৬ ইঞ্চি | ৪৬ ইঞ্চি | বুক ৪২-৪৩, উচ্চতা ৫ ফুট ১০ ইঞ্চির বেশি |
পোস্টের কমেন্টে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটা আসবে, সেটা হলো "ভাই, আমি ৫ ফুট ৬, কোন সাইজ নেব?" শুধু উচ্চতা দিয়ে এর ঠিক উত্তর হয় না, কারণ একই উচ্চতার দুজনের বুকের মাপ চার ইঞ্চি আলাদা হতে পারে। তাই কাস্টমার সাইজ নিয়ে দ্বিধায় থাকলে আন্দাজে বাছতে দেবেন না। ইনবক্সে বলুন, "ভাই, আপনার যে পাঞ্জাবিটা গায়ে সবচেয়ে ভালো বসে, ওটা বিছিয়ে বগলের নিচে এপাশ-ওপাশ আর কাঁধ থেকে নিচ পর্যন্ত মেপে আমাকে বলেন, আমি মিলিয়ে দিচ্ছি।" এক মিনিটের এই কাজে একটা এক্সচেঞ্জ বাঁচে।
পাঞ্জাবির অর্ডার অনেক সময় দেন বাসার অন্য কেউ, স্বামী, বাবা বা ছেলের জন্য। তিনি সাইজ ঠিক জানেন না, আন্দাজে L বলে দেন। কনফার্মের ফোনে জিজ্ঞেস করুন, যিনি পরবেন তাঁর উচ্চতা কত, আর তাঁর একটা পাঞ্জাবির বুকের মাপ পাওয়া যাবে কি না। ছোট ছেলেদের পাঞ্জাবির "৪-৫ বছর" লেবেলও কারখানাভেদে আলাদা হয়, তাই সেখানেও ইঞ্চি লিখুন আর বাচ্চার উচ্চতা জেনে নিন।
এক্সচেঞ্জের সাধারণ নিয়মগুলো অনলাইনে কাপড়ের ব্যবসার গাইডে বিস্তারিত আছে। পাঞ্জাবিতে এর সাথে ঈদের হিসাবটা যোগ করুন। ঈদের কয়েক দিন আগে এক্সচেঞ্জ চাইলে পুরনোটা ফেরত আসা আর নতুনটা পৌঁছানো, দুটোই ঈদের আগে হবে, এমন ভরসা কম। তাই পেজে আগে থেকেই লিখে রাখুন, ঈদের শেষ সপ্তাহে চাওয়া এক্সচেঞ্জ হবে ঈদের পরে। কথাটা আগে বললে কাস্টমার মেনে নেন, পরে বললে অজুহাত মনে হয়।
প্রথম লটে কোন সাইজ কত পিস?
প্রথম লটে সব সাইজ সমান সমান আনবেন না। অনেক সেলারের অভিজ্ঞতায় পাঞ্জাবিতে মাঝের সাইজগুলো, মানে M, L আর XL, সবচেয়ে বেশি চলে। একেবারে ছোট আর বড় সাইজ চলে কম। তবে এটা এলাকা আর কাস্টমারভেদে বদলায়, তাই প্রথম লট দিয়েই নিজের হিসাবটা শিখে নিন।
একটা উদাহরণ ধরুন, মাপা কোনো নিয়ম না। স্টকের জন্য রেখেছেন ৬৫ হাজার টাকা। পিসপ্রতি গড়ে ৭০০ টাকা ধরলে প্রথম লটে ৬০ পিস তুলুন, তাতে যাবে ৬০ × ৭০০ = ৪২,০০০ টাকা। বাকি ২৩ হাজার টাকা ছুঁয়েও দেখবেন না, ওটা দ্বিতীয় লটের। ৬০ পিস ৪টা ডিজাইনে ভাগ করুন, প্রতিটার ১৫ পিস। প্রতিটা ডিজাইনে S ১টা, M ৪টা, L ৫টা, XL ৩টা আর XXL ২টা।
৪টা ডিজাইন কেন? একটা ডিজাইনে ৬০ পিস নিলে সেটা না চললে পুরো টাকা আটকে যায়। আবার ১৫টা ডিজাইনে ৪ পিস করে নিলে কোনটা আসলে চলল বোঝাই যায় না, কারণ প্রতিটা সাইজ একবার বিক্রি হয়েই শেষ। চারটার মধ্যে দুটো রাখুন নিরাপদ রঙে, যেমন সাদা বা অফ-হোয়াইট আর একটা গাঢ় রং। বাকি দুটোয় একটু সাহস দেখাতে পারেন।
এরপর রমজানের প্রথম সপ্তাহ-দশ দিনের গোনাটা কাজে লাগবে। ধরুন ২ নম্বর ডিজাইনের L আট দিনে শেষ, অথচ ৪ নম্বরের একটাও যায়নি। তাহলে ২৩ হাজার টাকার বড় অংশ যাবে ২ নম্বরের M, L আর XL-এ, আর ৪ নম্বর আর আনবেন না। এই সিদ্ধান্তটা নেওয়ার মতো টাকা হাতে রাখাটাই প্রথম লটের সবচেয়ে বড় কৌশল।
ছবি তুলুন গায়ে পরিয়ে। হ্যাঙারে ঝোলানো পাঞ্জাবিতে ফিটিং বোঝা যায় না, আর কাস্টমার বুঝতে পারেন না লম্বাটা হাঁটুর কোথায় পড়বে। পরিচিত কোনো ছেলে বা ভাইকে পরিয়ে দিনের আলোয় সামনে, পাশ থেকে আর গলার কাজের কাছ থেকে ছবি তুলুন। ছবির নিচে লিখে দিন, "মডেলের উচ্চতা ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি, পরেছেন L"। এই এক লাইন দেখে কাস্টমার নিজের সাথে মিলিয়ে নেন।

বানানো মাল অনেক সময় দুই জায়গায় থাকে, কিছু কারিগরের ঘরে, কিছু আপনার বাসায়। WinningSeller-এ একাধিক ওয়্যারহাউস রাখা যায়। কোন জায়গায় কোন সাইজের কত পিস আছে আর মোট কত, দুটোই দেখা যায়, আর কারিগরের ঘর থেকে বাসায় মাল আনলে সেই সরানোটাও লেখা থাকে। ফলে মাঝ রমজানে "L আর কয়টা আছে" জানতে কাউকে ফোন দিতে হয় না। বাকি ফিচারগুলো এখানে দেখে নিন।
একটা পাঞ্জাবিতে কত লাভ (উদাহরণ)
নিচের সব সংখ্যা একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। কেনার দামটা ওপরের রিপোর্টের ৪০০ থেকে ১,১০০ টাকার ভেতরের একটা সংখ্যা। নিজের দাম বসিয়ে একবার মিলিয়ে নিন।
ধরুন একটা সুতি পাঞ্জাবি কিনলেন ৭০০ টাকায়। মার্কেটে যাওয়া-আসা আর মাল আনার ভ্যান মিলিয়ে ১,২০০ টাকা গেল, ৬০ পিসে ভাগ করলে পিসপ্রতি ২০ টাকা। পলি, ট্যাগ আর একটা ধন্যবাদের কার্ডে আরও ১৫ টাকা। তাহলে আপনার আসল কেনা দাম ৭৩৫ টাকা।
বেচছেন ১,৩৫০ টাকায়, ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার দেন। কুরিয়ার যদি COD টাকার ১% কাটে, তাহলে যায় সাড়ে ১৩ টাকা, ধরুন ১৪ টাকা। ঈদের আগে সবাই অ্যাড চালান বলে খরচ বাড়ে, তাই ধরুন প্রতিটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডারের পেছনে অ্যাডে গেল ২০০ টাকা। আর ১০টা পার্সেলের ১টা ফেরত এলে সেই ফেরতের ১৫০ টাকা চার্জ বাকি ৯টার ঘাড়ে ভাগ হয়, পিসপ্রতি প্রায় ১৭ টাকা।
১,৩৫০ − ৭৩৫ − ১৪ − ২০০ − ১৭ = ৩৮৪ টাকা। একটা পাঞ্জাবিতে হাতে থাকল ৩৮৪ টাকা। শুনতে ভালো লাগছে। এবার পুরো লটটা দেখুন।
ধরুন ঈদের আগে ৬০ পিসের ৫১টা বিক্রি হলো। তাতে লাভ এলো ৫১ × ৩৮৪ = ১৯,৫৮৪ টাকা। বাকি ৯টা ঘরে পড়ে আছে, যার পেছনে গেছে ৯ × ৭৩৫ = ৬,৬১৫ টাকা। মানে মৌসুমের লাভের প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ এখন পলিতে মোড়া হয়ে আলমারিতে বসে আছে। ওই ৯টা যতদিন না বেচছেন, লাভটা পুরো হাতে আসেনি।

ছাড়ের হিসাবটাও একবার করুন। ঈদের অফারে ১০% ছাড় দিলে প্রতিটায় ১৩৫ টাকা কমে, লাভ নেমে আসে আড়াইশো টাকার মতো। মানে মাত্র দশ পার্সেন্টের ছাড়টা লাভের এক-তৃতীয়াংশের বেশি খেয়ে ফেলল। তাই ঈদের আগে, যখন মানুষ এমনিতেই কিনছেন, বড় ছাড় দেবেন না। ছাড়ের আসল জায়গা ঈদের পরে, সেটা নিচে বলছি।
আরেকটা কথা খেয়াল করেছেন? কেনা দামের পরেই সবচেয়ে বড় খরচ অ্যাড। গত ঈদের খুশি কাস্টমারকে ফোন দিয়ে যে অর্ডার আসে, তাতে এই ২০০ টাকা লাগে না। তাই প্রতি ঈদের কাস্টমারের নাম আর নম্বর একটা শিটে রাখুন, পরের ঈদে সবার আগে তাঁদের ফোন দেবেন।
ঈদের পরে বেঁচে যাওয়া পাঞ্জাবি কী করবেন?
ঈদের পরের দিন থেকে পাঞ্জাবির চাহিদা হঠাৎ পড়ে যায়। ঘরে যা থেকে গেল, সেটা দেখে মন খারাপ হওয়াটা স্বাভাবিক। তবু প্রথম সপ্তাহেই একটা প্ল্যান করুন, কারণ প্রতিটা দিন দেরি মানে টাকাটা আরও আটকে থাকা।
প্রথমে মালটা দুই ভাগ করুন। সাদামাটা সুতি পাঞ্জাবি, এক রঙের, হালকা কাজের, এগুলো সারা বছর জুমা আর দাওয়াতে চলে, আর ঈদুল আজহা মাত্র দুই মাসের মতো পরে। এগুলো ভালো করে ভাঁজ করে পলিতে ভরে শুকনো জায়গায় রেখে দিন। ভারী এমব্রয়ডারি বা সেই বছরের ট্রেন্ডের রঙের পাঞ্জাবি পরের বছর পুরনো দেখাতে পারে। এগুলো আটকে না রেখে বের করে দেওয়াই ভালো।
বের করার প্রথম জায়গা পুরনো কাস্টমার। যিনি ঈদে আপনার কাছ থেকে নিয়ে খুশি হয়েছেন, তাঁকে ফোন বা SMS-এ বলুন, "ভাই, আপনার সাইজের দুটো ডিজাইন এখনো আছে, জুমার জন্য নিলে এবার ডেলিভারি চার্জ লাগবে না।" নতুন কাস্টমারের জন্য অ্যাডে টাকা ঢালার আগে এখানে চেষ্টা করুন। বাবা-ছেলের সেট বা একসাথে দুটো নিলে কম দাম, এমন অফারও কাজ করে, কারণ দুটো পাঞ্জাবি এক পার্সেলে গেলে প্যাকেট আর কুরিয়ারের খরচ একবারই যায়।
ছাড় দিতে চাইলে পেজে সবার জন্য দাম কেটে না দিয়ে একটা কুপন কোড বানান, যেমন JUMMA100, আর সেটা শুধু পুরনো কাস্টমারদের পাঠান। তাতে পেজে সবাই দাম কমতে দেখেন না, আর পরের ঈদে আপনার আসল দামটা ঠিক থাকে। কুপনের একটা শেষ তারিখও দিয়ে দিন, তাহলে কাস্টমার "পরে নেব" বলে ফেলে রাখেন না।
শেষ উপায় হলো কেনা দামে বা তার একটু ওপরে ছেড়ে দেওয়া। নিজের জন্য একটা সীমা ঠিক করুন, ধরুন ঈদের পরের ৩০ দিন। এর মধ্যে না গেলে কেনা দামে ছেড়ে দিন, কারণ ওই টাকা দিয়েই পরের ঈদের প্রথম লট উঠবে। কেনা দামে বেচতে বুকটা একটু চিনচিন করবে, এটা সবারই করে। কিন্তু এক বছর আলমারিতে পড়ে থাকা পাঞ্জাবিও একটা লোকসান, শুধু খাতায় দেখা যায় না।
আর ঈদের রাতে, যত ক্লান্তই থাকুন, খাতায় কয়েকটা লাইন লিখে রাখুন। কোন ডিজাইনের কোন সাইজ সবার আগে শেষ হয়েছিল, কোন দিন অর্ডার সবচেয়ে বেশি এসেছিল, কোন দিনের পরে ঢাকার বাইরের অর্ডার নেওয়া বন্ধ করেছিলেন, আর কয় পিস বেঁচে গেল। পরের ঈদে কেরানীগঞ্জের দোকানে দাঁড়িয়ে যখন আবার বুক ধুকপুক করবে, তখন এই লাইনগুলোই আপনাকে বলে দেবে কী নেবেন। সেদিন আর আন্দাজে কিনতে হবে না।
সাধারণ প্রশ্ন
ঢাকায় পাঞ্জাবির পাইকারি মার্কেট কোথায়?
রেডিমেড পাঞ্জাবির জন্য সেলাররা সাধারণত যান বুড়িগঙ্গার ওপারে কেরানীগঞ্জে, যেখানে পাঞ্জাবি বানানো আর পাইকারি বিক্রি দুটোই হয়। পুরান ঢাকার সদরঘাটের শরীফ মার্কেটও পাঞ্জাবির জন্য পরিচিত। নিজে বানাতে চাইলে কাপড় পাবেন ইসলামপুরে। চট্টগ্রামের সেলাররা আগে টেরিবাজারটা ঘুরে দেখতে পারেন।
ঈদের কত আগে পাঞ্জাবির স্টক তুলতে হয়?
ঈদুল ফিতরের প্রথম লট তুলুন শবে বরাতের আগেই, মানে ঈদের ছয়-সাত সপ্তাহ আগে, কারণ এরপর পাইকারি বাজারে ভিড় শুরু হয়। দ্বিতীয় লট আনুন রমজানের ১০ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে, শুধু যে সাইজ আর ডিজাইন চলছে সেগুলো। বাসসের একটা রিপোর্টে পুরান ঢাকার এক পাইকার বলেছেন, ২০ রমজানের পর তাঁদের পাইকারি বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়।
পাঞ্জাবির ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা লাগে?
বাঁধা কোনো অঙ্ক নেই, নির্ভর করে কত পিস আর কোন দামের পাঞ্জাবি নেবেন তার ওপর। উদাহরণ হিসেবে, পিসপ্রতি ৭০০ টাকা ধরলে ৬০ পিসের প্রথম লটে ৪২ হাজার টাকা লাগে, তার সাথে দ্বিতীয় লট আর অ্যাডের টাকা আলাদা রাখতে হয়। হাতে কম টাকা থাকলে ২০-৩০ পিস দিয়ে প্রথম ঈদটা শেখার জন্য চালান।
পাঞ্জাবির ৪০ বা ৪২ সাইজ মানে কী?
দোকানভেদে নম্বরটা কখনো পাঞ্জাবির লম্বা বোঝায়, কখনো বুকের মাপ, আর এক কারখানার ৪২ আরেক কারখানার ৪২-এর সমান না-ও হতে পারে। তাই লেবেলের নম্বরে ভরসা না করে নিজে মেপে বুক আর লম্বা ইঞ্চিতে লিখুন। কাস্টমারকে বলুন তাঁর গায়ে ভালো বসে এমন একটা পাঞ্জাবি মেপে মিলিয়ে নিতে।
ঈদের পরে কি পাঞ্জাবি বিক্রি হয়?
হয়, তবে অনেক কম, মূলত জুমা, দাওয়াত আর বিয়ের মৌসুমে। সাদামাটা সুতি পাঞ্জাবি ঈদুল আজহা পর্যন্ত রেখে দেওয়া যায়। ভারী কাজের ট্রেন্ডি ডিজাইন ঈদের পরের মাসেই পুরনো কাস্টমারদের অফার দিয়ে বের করে দেওয়া ভালো।
পাঞ্জাবির ছবি কি গায়ে পরিয়ে তুলতে হবে?
হ্যাঁ, গায়ে পরানো ছবিতে কাস্টমার ফিটিং আর লম্বা বুঝতে পারেন, হ্যাঙারের ছবিতে পারেন না। দিনের আলোয় সামনে, পাশ থেকে আর গলার কাজের কাছ থেকে ছবি তুলুন। ছবির নিচে মডেলের উচ্চতা আর তিনি কোন সাইজ পরেছেন, সেটা লিখে দিন।
আরও পড়ুন
খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম
বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।
থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম
থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।


