ভ্যাট নিবন্ধন কাদের জন্য বাধ্যতামূলক? ৩০ লাখ, ৫০ লাখ আর BIN-এর হিসাব
বছরে ৩০ লাখ টাকার নিচে বিক্রি হলে ভ্যাটের কোনো রেজিস্ট্রেশন লাগে না, ৩০ থেকে ৫০ লাখে টার্নওভার কর, আর ৫০ লাখ ছাড়ালে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন। তবে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন আর মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টেও আইনে BIN চাওয়া হয়েছে। কোনটা আপনার লাগবে, টাকার হিসাবসহ দেখুন।

এই লেখায় যা আছে
- ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন, টার্নওভার কর আর BIN, তিনটার পার্থক্য কী?
- বছরে কত টাকা বিক্রি হলে কোনটা লাগে?
- নিজের ১২ মাসের বিক্রি কীভাবে গুনবেন, টাকায় একটা উদাহরণ
- ভ্যাট নিবন্ধন কাদের জন্য বাধ্যতামূলক, বিক্রি কম হলেও?
- বিক্রি কম, তবু BIN চাইছে কেন? ১ জুলাই ২০২৬-এর নতুন নিয়ম
- ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন করতে কি কি লাগে?
- vat.gov.bd-তে অনলাইনে আবেদন করবেন কীভাবে?
- রেজিস্ট্রেশনের পর নিয়মিত কী করতে হয়?
- ভুল করলে জরিমানা, আর কখন ভ্যাট কনসালট্যান্ট লাগবে
ধরুন জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ। ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে পৌরসভার অফিসে গেছেন, পেছনে আরও চার-পাঁচজন লাইনে দাঁড়িয়ে। কাউন্টারের ভাই ফাইলটা উল্টে জিজ্ঞেস করলেন, "BIN আছে?" তিন বছর ধরে পেজ চালাচ্ছেন, কেউ কোনোদিন এই নম্বরের কথা বলেনি। বুকের ভেতর একটু ধক করে ওঠে। ভ্যাট না দিয়ে কোনো অন্যায় করে ফেললাম না তো?
আগে সোজা উত্তরটা নিন। ভ্যাট নিবন্ধন কাদের জন্য বাধ্যতামূলক, ভ্যাট আইনে সেটা ঠিক হয় বিক্রির অঙ্ক দিয়ে। ১২ মাসে বিক্রি ৫০ লাখ টাকা ছাড়ালে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন লাগে। ৩০ লাখ ছাড়িয়ে ৫০ লাখ পর্যন্ত থাকলে লাগে টার্নওভার করের তালিকাভুক্তি। আর ৩০ লাখের নিচে থাকলে এ দুটোর কোনোটাই লাগে না। এর বাইরে কিছু কাজ আছে, যেমন নিজের নামে আমদানি, যেখানে বিক্রি যত কমই হোক রেজিস্ট্রেশন নিতে হয়। আর ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন একটা নিয়মে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন বা মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলার মতো কাজে BIN দেখানোর কথা আইনে লেখা হয়েছে।
নিচে প্রতিটা কথা আইনের কোন ধারায় লেখা, সেটা দেখিয়ে দিচ্ছি, সাথে টাকার একটা উদাহরণও থাকছে। পুরোটা পড়লে দেখবেন, বেশিরভাগ ছোট সেলারের এখনই কর দেওয়ার কিছু নেই। তবে BIN-এর নতুন নিয়মটা সবার জানা দরকার।
ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন, টার্নওভার কর আর BIN, তিনটার পার্থক্য কী?
অনেক সেলার এই তিনটাকে তিনটা আলাদা কাগজ ভাবেন, তাই ভয়টাও তিনগুণ লাগে। আসলে রাস্তা দুটো, আর নম্বর একটা।
বড় রাস্তাটা হলো ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন। এটা নিলে আপনি ভ্যাটের পুরো নিয়মে ঢুকে গেলেন। ভ্যাট আইন ২০১২-র ১৫(৩) ধারায় সাধারণ হার লেখা আছে ১৫%, আর কিছু প্রোডাক্টের কম হার আইনের তৃতীয় তফসিলে দেওয়া। মাল কেনার সময় যে ভ্যাট দিয়েছেন, বিক্রির ভ্যাট থেকে সেটা বাদ নিতে পারবেন, একে বলে রেয়াত। বদলে প্রতিটা বিক্রি আর কেনার কাগজ গুছিয়ে রাখতে হয়।
ছোট রাস্তাটা হলো টার্নওভার কর। এখানে লাভ-লোকসান কেউ দেখে না, মোট বিক্রির ওপর একটা হারে কর দেন। হিসাব সহজ, কিন্তু একটা ছাড় আপনি পাবেন না। আইনের ৬৩(৪) ধারায় লেখা আছে, টার্নওভার করে থাকলে কেনার সময়ের ভ্যাট বাদ নেওয়া যায় না। এই রাস্তার কাগজকে আইনে বলে তালিকাভুক্তি, অফিসের লোকজন বলেন এনলিস্টমেন্ট।
আর BIN হলো Business Identification Number, ভ্যাটের খাতায় আপনার ব্যবসার নম্বর। এটা তৃতীয় কোনো রেজিস্ট্রেশন না। ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন নিলেও BIN পাবেন, টার্নওভার করে তালিকাভুক্ত হলেও পাবেন। NBR-এর কমপ্লায়েন্স গাইডে লেখা আছে, ব্যবসা পরে টার্নওভার কর থেকে ভ্যাটে গেলেও নম্বরটা বদলায় না।
আরও দুটো নম্বরের সাথে BIN গুলিয়ে যায়, তাই এক লাইনে বলে রাখি। TIN হলো আয়করের নম্বর, আর DBID হলো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল ব্যবসার পরিচয়। তিনটা তিন অফিসের, একটা দিয়ে আরেকটার কাজ চলে না।
বছরে কত টাকা বিক্রি হলে কোনটা লাগে?
সীমা দুটো লেখা আছে ভ্যাট আইনের ২ ধারার সংজ্ঞায়। ২০২৬ সালের অক্টোবরে আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট bdlaws.minlaw.gov.bd-তে আইনের যে হালনাগাদ লেখা আছে, তাতে ২(৪৮) দফায় তালিকাভুক্তির সীমা ৩০ লাখ টাকা, আর ২(৫৭) দফায় রেজিস্ট্রেশনের সীমা ৫০ লাখ টাকা। দুটোই ১২ মাসের বিক্রি ধরে গোনা হয়। ওই পেজের নোট বলছে, এই অঙ্ক চালু হয়েছে ৯ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে। তার আগে রেজিস্ট্রেশনের সীমা ছিল ৩ কোটি, আর তালিকাভুক্তির ৫০ লাখ।
এই বদলটা কাগজে ছোট দেখালেও অনেক সেলারের ঘুম কেড়ে নেওয়ার মতো খবর। যিনি বছরে ৮০ লাখ টাকার মাল বেচেন, তিনি কিছুদিন আগেও টার্নওভার করের সহজ রাস্তায় ছিলেন। এখন আইন বলছে, তাঁকে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশনে যেতে হবে।
| ১২ মাসের বিক্রি | কী লাগবে | কর কত |
|---|---|---|
| ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত | কিছু না (নিচের বাধ্যতামূলক লিস্টে না পড়লে) | নেই |
| ৩০ লাখের বেশি, ৫০ লাখ পর্যন্ত | টার্নওভার করের তালিকাভুক্তি | বিক্রির ৪%, যতদিন না সরকার খাতভিত্তিক অঙ্ক ঠিক করে |
| ৫০ লাখের বেশি | ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন | সাধারণ হার ১৫%, কিছু প্রোডাক্টে কম |
৪% কোথা থেকে এলো, সেটাও বলি। অর্থ আইন ২০২৬ ভ্যাট আইনের ৬৩ ধারা নতুন করে লিখেছে, যেটা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে চালু। সরকার এলাকা আর ব্যবসার ধরন দেখে খাতভিত্তিক একটা নির্দিষ্ট অঙ্কের টার্নওভার কর ঠিক করে দিতে পারবে, যেটা ২ লাখ টাকার বেশি হবে না। সেই প্রজ্ঞাপন না আসা পর্যন্ত হার বিক্রির ৪%। আপনার খাতের প্রজ্ঞাপন এসেছে কি না, নিজের ভ্যাট সার্কেল অফিসে জিজ্ঞেস করে নিন।

সীমা গোনার সময় সব টাকা ধরতে হয় না। একই সংজ্ঞায় লেখা আছে, ভ্যাট-মুক্ত (অব্যাহতি পাওয়া) জিনিসের বিক্রি, দোকানের নিজের পুরনো জিনিসপত্র বা যন্ত্র বেচার টাকা, পুরো ব্যবসা বা তার অংশ বেচার টাকা, আর ব্যবসা একেবারে বন্ধ করার সময়ের বিক্রি এই অঙ্কে ধরা হয় না। আপনার প্রোডাক্ট ভ্যাট-মুক্ত লিস্টে আছে কি না, সেটা আইনের প্রথম তফসিলে থাকে। নিজে আন্দাজ না করে একবার কনসালট্যান্টকে দেখিয়ে নিন।
নিজের ১২ মাসের বিক্রি কীভাবে গুনবেন, টাকায় একটা উদাহরণ
ভ্যাট আইনের ১২ মাস মানে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর না। এটা চলমান ১২ মাস। আইনের ৪(১) ধারায় লেখা আছে, আগের মাসের শেষ দিন পর্যন্ত পেছনের ১২ মাসের বিক্রি সীমা ছাড়ালে রেজিস্ট্রেশন লাগবে। আবার সামনের ১২ মাসে ছাড়াবে বলে আন্দাজ করা গেলেও লাগবে। টার্নওভার করের জন্য ১০ ধারায় বলা আছে, ১২ মাসের মধ্যে যেকোনো সময় ৩০ লাখ ছাড়ালে, ছাড়ানোর ৩০ দিনের মধ্যে eVAT সিস্টেমে আবেদন করতে হবে।
তাই প্রতি মাসের শেষে একবার পেছনের ১২ মাসের যোগফলটা দেখার অভ্যাস করুন। গুনবেন আসল বিক্রি, মানে যে পার্সেল ডেলিভারি হয়ে টাকা এসেছে। দরজা থেকে ফেরত আসা পার্সেল বিক্রি না, ওটা যোগফলে ঢুকবে না। ডেলিভারি চার্জের টাকা টার্নওভারে ধরবেন কি না, এই প্রশ্নটা কনসালট্যান্টকে করুন। ততদিন নিরাপদ দিক হলো ধরে হিসাব করা, তাতে সীমার কাছে পৌঁছানোর খবরটা আগে পাবেন।
এবার একটা দোকান ধরে দেখি। নিচের সংখ্যাগুলো একটা উদাহরণ, কোনো আসল দোকানের হিসাব না।
ধরুন রংপুরের রাশেদ ভাই পাঞ্জাবি বেচেন। মাসে গড়ে ২৫০টা পার্সেল ডেলিভারি হয়, প্রতিটায় গড়ে ১,২০০ টাকা। তাহলে মাসে বিক্রি ২৫০ × ১,২০০ = ৩,০০,০০০ টাকা। দশ মাসে যোগফল দাঁড়ায় ঠিক ৩০ লাখ। এগারো নম্বর মাসে যোগফল ৩০ লাখ ছাড়িয়ে যায়, আর তখন থেকেই ৩০ দিনের ঘড়ি চালু। পুরো ১২ মাসে বিক্রি দাঁড়ায় ৩৬ লাখ টাকা, যেটা টার্নওভার করের ভাগে পড়ে।
এখন করটা কত? তালিকাভুক্ত হওয়ার পরের এক বছরেও যদি মাসে ৩ লাখ করে বিক্রি চলে, বছরে বিক্রি ৩৬ লাখ। প্রজ্ঞাপনের নির্দিষ্ট অঙ্ক না আসা পর্যন্ত ৪% ধরলে ৩৬,০০,০০০ × ৪% = ১,৪৪,০০০ টাকা বছরে, মাসে গড়ে ১২,০০০ টাকা। এবার ধরুন সব খরচ বাদে রাশেদ ভাইয়ের হাতে বিক্রির ১৫% থাকে, মানে বছরে ৫,৪০,০০০ টাকা। ভাবুন একবার, সারা বছর খেটে যা থাকল, তার চার ভাগের এক ভাগেরও বেশি চলে যাচ্ছে করে।
এই জায়গাটাই সবচেয়ে বেশি মনে রাখার। টার্নওভার কর লাভ থেকে কাটে না, বিক্রি থেকে কাটে। আপনার মার্জিন যত পাতলা, করটা তত ভারী লাগবে। তাই বিক্রি ২৫ লাখের কাছে এলেই দাম ঠিক করার সময় এই ৪% হিসাবে ধরুন, পরে হঠাৎ লাভ উধাও হয়ে গেলে কষ্ট বেশি লাগে।

ব্যবসা বাড়লে পরের দাগটাও আসে। ধরুন ঈদের পর রাশেদ ভাইয়ের বিক্রি মাসে ৪,৫০,০০০ টাকায় স্থির হলো। তাহলে সামনের ১২ মাসে আন্দাজ ৫৪ লাখ, যেটা ৫০ লাখের বেশি। ৪(১) ধারার দ্বিতীয় অংশ অনুযায়ী তখন ভ্যাট রেজিস্ট্রেশনের কথা ভাবতে হবে, পেছনের ১২ মাস ৫০ লাখ না ছুঁলেও।
এই যোগফল বের করতে হলে প্রতিদিনের ডেলিভারি হওয়া বিক্রি আলাদা করে লিখে রাখতে হয়। শিটে কোন কলাম রাখবেন, সেটা অনলাইন ব্যবসার লাভ-ক্ষতির হিসাব রাখার লেখায় ধাপে ধাপে আছে।
ভ্যাট নিবন্ধন কাদের জন্য বাধ্যতামূলক, বিক্রি কম হলেও?
ভ্যাট আইনের ৪(২) ধারায় একটা লিস্ট আছে। এই লিস্টের কাজ যিনি করেন, তাঁকে বিক্রির অঙ্ক যা-ই হোক ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন নিতে হয়। লিস্টটা এরকম।
- যিনি সম্পূরক শুল্ক আছে এমন জিনিস বা সেবা বাংলাদেশে বিক্রি করেন, বানান বা আমদানি করেন
- যিনি টেন্ডারে, চুক্তিতে বা কাজের অর্ডারের (ওয়ার্ক অর্ডার) বিপরীতে মাল বা সেবা দেন
- যিনি আমদানি-রপ্তানির ব্যবসা করেন
- যিনি বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্রাঞ্চ, লিয়াজোঁ বা প্রজেক্ট অফিস খোলেন
- যিনি ভ্যাট এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ পান
- NBR নির্দিষ্ট কোনো এলাকা বা নির্দিষ্ট জিনিস বা সেবার জন্য যাঁদের নাম ঠিক করে দেয়
সেলারদের গ্রুপে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটা আসে, সেটা হলো "ভাই, আমি তো শুধু পেজে বেচি, আমারও কি লাগবে?" খেয়াল করুন, "অনলাইনে বিক্রি" বা "ই-কমার্স" কথাটা এই লিস্টে আলাদা করে লেখা নেই। মানে শুধু ফেসবুক পেজ বা ওয়েবসাইটে বেচছেন বলে বিক্রি কম হলেও রেজিস্ট্রেশন লাগবে, আইনের এই ধারায় এমন কিছু বলা নেই। তবে শেষ দফায় NBR-কে নির্দিষ্ট জিনিস বা এলাকার জন্য নিয়ম করার ক্ষমতা দেওয়া আছে। তাই নিজের প্রোডাক্টের জন্য আলাদা কোনো আদেশ আছে কি না, সার্কেল অফিসে একবার জিজ্ঞেস করে নেওয়াই ভালো।
অনলাইন সেলাররা সাধারণত দুটো জায়গায় না জেনে এই লিস্টে ঢুকে পড়েন। একটা হলো আমদানি। চায়না বা ইন্ডিয়া থেকে কার্গো এজেন্টের মাধ্যমে মাল আনলে অনেক সময় কাগজ থাকে এজেন্টের নামে। কিন্তু আপনি যদি নিজের নামে আমদানির লাইসেন্স করে নিজের নামে মাল খালাস করেন, তখন আপনি আমদানির ব্যবসায় পড়বেন। আরেকটা হলো কর্পোরেট অর্ডার। কোনো অফিস যদি ঈদের গিফট বক্সের জন্য আপনাকে লিখিত ওয়ার্ক অর্ডার দেয়, সেটা চুক্তির বিপরীতে সরবরাহ। এমন অর্ডার নিয়মিত নিলে আগে কনসালট্যান্টের সাথে কথা বলুন।

উল্টো দিকটাও জেনে রাখুন। NBR-এর কমপ্লায়েন্স গাইডে লেখা আছে, শুধু ভ্যাট-মুক্ত জিনিস বানালে বা বেচলে রেজিস্ট্রেশন বা তালিকাভুক্তি লাগে না। আর কেউ চাইলে বিক্রি কম থাকলেও নিজে থেকে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন নিতে পারেন, আইনের ৮ ধারায় এর সুযোগ আছে। কিন্তু নিলে রেজিস্টার্ড অন্য সবার মতো পুরো নিয়ম মানতে হয়। আর পরে দরকার না থাকলেও সেটা নিজে থেকে উঠে যায় না, ৯ ধারা অনুযায়ী বাতিলের জন্য আলাদা আবেদন করতে হয়।
বিক্রি কম, তবু BIN চাইছে কেন? ১ জুলাই ২০২৬-এর নতুন নিয়ম
এই অংশটা ছোট সেলারের জন্য সত্যিই একটা ধাক্কা, তাই একটু সময় নিয়ে পড়ুন। অর্থ আইন ২০২৬ ভ্যাট আইনের ৪ ধারায় নতুন একটা উপধারা (৩) যোগ করেছে, যেটা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে চালু। এতে বলা আছে, ওপরের সব কথা যা-ই থাকুক, নিচের কাজগুলোতে BIN বা তালিকাভুক্তির প্রমাণ দেখাতেই হবে।
- ব্যবসার নামে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কারেন্ট বা STD অ্যাকাউন্ট খোলা আর চালানো
- ব্যবসার জন্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে লোন নেওয়া
- ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন
- মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (MFS) মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলা
- কোনো ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য হওয়া বা সদস্যপদ নবায়ন
- ব্যবসার জন্য বিদ্যুৎ বা গ্যাসের লাইন নেওয়া
- ব্যবসার নামে BRTA থেকে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন
একজন অনলাইন সেলারের জন্য প্রথম চারটাই রোজকার কাজ। bKash বা Nagad-এর মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট MFS-এর মধ্যে পড়ে, আর পেমেন্ট গেটওয়ের টাকা নিতে অনেকে ব্যবসার কারেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলেন। ট্রেড লাইসেন্স তো প্রতি বছরই নবায়ন করতে হয়, সেটার পুরো নিয়ম অনলাইন ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্সের লেখায় আছে।

এখানে একটা সৎ কথা বলা দরকার। যাঁর বিক্রি ৩০ লাখের নিচে, তিনি এই প্রমাণ কীভাবে দেখাবেন, আইনের এই উপধারায় তার সোজা উত্তর লেখা নেই। আইনে নিজে থেকে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন নেওয়ার সুযোগ আছে, কিন্তু সেটা নিলে ১৫% হারের পুরো নিয়মে ঢুকে যান। NBR-এর কমপ্লায়েন্স গাইডে লেখা আছে, নিজে থেকে শুধু ভ্যাট রেজিস্ট্রেশনই নেওয়া যায়, টার্নওভার করের তালিকাভুক্তি না। গাইডটা নতুন আইনের আগের লেখা, তাই এখানে NBR নতুন কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছে কি না, সেটা জানা দরকার।
তাই নবায়ন বা অ্যাকাউন্ট খোলার আগে একটু খোঁজ নিয়ে যান। নিজের ভ্যাট সার্কেল অফিসে জিজ্ঞেস করুন, ছোট ব্যবসার জন্য NBR কোনো আদেশ বা ব্যাখ্যা দিয়েছে কি না। যে অফিস বা ব্যাংকে যাচ্ছেন, তাদের কাছে ফোন করে জানুন তারা এখন কী কাগজ চাইছে। আর কখনো অন্যের BIN নিজের নামে চালাবেন না, বা টাকা নিয়ে "BIN করে দিই" বলা কারও হাতে নিজের তথ্য দেবেন না। ভুল তথ্যের BIN পরে বাতিল হলে আপনার নবায়ন আর অ্যাকাউন্ট দুটোই বিপদে পড়তে পারে।
ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন করতে কি কি লাগে?
এখানে একটা খুশির খবর আছে। NBR-এর কমপ্লায়েন্স গাইডে লেখা, নতুন আইনে রেজিস্ট্রেশন বা তালিকাভুক্তির জন্য কোনো কাগজ জমা দিতে হয় না। কোনো ফি নেই, আর একবার নিলে প্রতি বছর নবায়নও লাগে না। পুরো কাজটা একটা ফরমে, যার নাম মূসক-২.১।
তবে ফরমটা পূরণ করতে কিছু তথ্য হাতে রাখতে হয়। গাইডে ফরমের ঘরগুলোর যে বর্ণনা আছে, তাতে প্রথম ঘরটাই আপনার e-TIN। e-TIN না থাকলে আগে সেটা করে নিন। এরপর আসে ব্যবসার নাম আর ঠিকানা। ঠিকানার পোস্ট কোড খুব জরুরি, কারণ এই কোড দেখেই ঠিক হয় আপনি কোন ভ্যাট কমিশনারেটের আওতায় পড়বেন।
তারপর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। গাইডে পরিষ্কার লেখা আছে, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য না দিলে BIN তৈরিই হবে না। যে অ্যাকাউন্টে ব্যবসার লেনদেন হয়, সেটার তথ্য দিন। এরপর বছরের বিক্রির অঙ্ক দিতে হয়, যেটা দেখে ঠিক হয় আপনি ভ্যাট রেজিস্ট্রেশনে যাবেন না টার্নওভার করে। ওপরের উদাহরণের মতো আগে নিজের অঙ্কটা গুনে নিন, আন্দাজে লিখবেন না।
ঠিকানা নিয়ে একটা কথা না বললেই নয়। NBR-এর পুরনো ভ্যাট FAQ-তে লেখা আছে, আবাসিক এলাকায় রেজিস্ট্রেশন নেওয়া যাবে না, অথচ অনেক সেলার বাসা থেকেই ব্যবসা চালান। তাই বাসার ঠিকানা দেওয়ার আগে সার্কেল অফিসে কথা বলে নিন। আর যে ঠিকানাই দিন, সেটা যেন আসল হয়। আইনের ৯(৭) ধারায় বলা আছে, অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের পর কর্মকর্তা ঠিকানায় গিয়ে দেখতে পারেন, আর ঠিকানা না পেলে বা তথ্য মিথ্যা হলে রেজিস্ট্রেশন বাতিলের ব্যবস্থা নিতে পারেন।
vat.gov.bd-তে অনলাইনে আবেদন করবেন কীভাবে?
আবেদন হয় ভ্যাটের অনলাইন সিস্টেমে, লিংক vat.gov.bd। NBR-এর ভ্যাট FAQ-তে লেখা ধাপগুলো নিজের ভাষায় বলছি। পেজের চেহারা মাঝে মাঝে বদলায়, তাই বাটনের নাম হুবহু না মিললে ঘাবড়াবেন না।
প্রথমে সাইটে নিজের একটা ইউজার আইডি আর পাসওয়ার্ড বানান। FAQ-তে লেখা আছে, আইডি বানানোর দায় যিনি বানাচ্ছেন তাঁর। তাই নিজের মোবাইল আর ইমেইল দিয়েই বানান, কর্মচারী বা কম্পিউটারের দোকানের ভাইয়ের নম্বরে না। পরে পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে বা রিটার্ন দিতে হলে এই আইডিই লাগবে।
এরপর সেই আইডি দিয়ে লগইন করে রেজিস্ট্রেশনের অপশন বেছে নিন, আর মূসক-২.১ ফরম পূরণ করুন। বিক্রি ৩০ থেকে ৫০ লাখের মধ্যে হলে ফরমে টার্নওভার করের তালিকাভুক্তি সিলেক্ট করবেন, ৫০ লাখের বেশি হলে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন। ভুল ঘর সিলেক্ট করলে পরে ঠিক করতে ঝামেলা পোহাতে হয়, তাই এখানে তাড়াহুড়ো করবেন না।

সব ঠিক থাকলে সিস্টেম থেকেই সনদ তৈরি হয়, আর সেটা আপনার ইমেইলেও যায়। NBR-এর গাইডে লেখা আছে, বিধিতে ৩ কার্যদিবস ধরা থাকলেও অনলাইনে ঠিক তথ্য দিলে সাথে সাথেই পেয়ে যেতে পারেন। টার্নওভার করের জন্য অর্থ আইন ২০২৬-এর নতুন ১০ ধারাতেও বলা আছে, আবেদন ঠিক থাকলে eVAT সিস্টেম নিজে থেকেই অনুমোদন দিয়ে সাথে সাথে সনদ দেবে। হাতে ধরে শিখতে চাইলে NBR-এর FAQ-তে www.nbrelearning.gov.bd সাইটের ভিডিও দেখে নিতে বলা আছে।
রেজিস্ট্রেশনের পর নিয়মিত কী করতে হয়?
সনদ পেয়ে অনেকে ভাবেন কাজ শেষ। আসলে কাজ শুরু হলো এখান থেকে। আইনের জরিমানার টেবিলের বেশিরভাগ ঘরই এই অংশের কাজ নিয়ে।
সবার আগে আসে রিটার্ন, মানে নিয়মিত বিক্রির হিসাব জমা দেওয়া। অর্থ আইন ২০২৬ ভ্যাট আইনের ৬৪ ধারা নতুন করে লিখেছে। এখন কর মেয়াদ মানে এক মাস, আর প্রতি তিন কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে হয়। ধরুন আপনার তিন মাস শেষ হলো সেপ্টেম্বরের শেষে, তাহলে রিটার্নের শেষ দিন ১৫ অক্টোবর। ১৫ তারিখ সরকারি ছুটি হলে পরের কাজের দিন। চাইলে প্রতি মাসেও রিটার্ন দিতে পারবেন, আইনে সেই সুযোগ রাখা আছে।
কোনো মাসে বিক্রি না হলেও রিটার্ন বাদ দেবেন না। একে বলে শূন্য রিটার্ন, আর আইনে এর জন্য ১৫ দিনের বদলে ২০ দিন সময় দেওয়া আছে। "বিক্রি তো হয়নি, কী জমা দেব" ভেবে চুপ থাকলে সেটাও দেরিতে রিটার্নের মধ্যে পড়ে। আর টার্নওভার করে থাকলে ৬৩(২) ধারা অনুযায়ী সেই সময়ের করটা রিটার্ন জমার আগেই জমা দিতে হয়।

এরপর আসে বিক্রির কাগজের কথা। রেজিস্ট্রেশন বা তালিকাভুক্তি থাকলে ভ্যাট আইনের নিয়মে কর চালানপত্র দিতে হয়। কোন ক্ষেত্রে সাধারণ ইনভয়েস চলে আর কোন ক্ষেত্রে মূসক-৬.৩ লাগে, সেটা ইনভয়েসের লেখার "ভ্যাট চালান কাদের দিতে হয়" অংশে বিস্তারিত আছে।
বাকি কাজগুলো ছোট, কিন্তু বাদ পড়লে জরিমানা গুনতে হয়। সনদ বা তার সত্যায়িত কপি দোকানে এমন জায়গায় টাঙিয়ে রাখুন যাতে সবার চোখে পড়ে। ঠিকানা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ব্যবসার কোনো তথ্য বদলালে NBR-এর FAQ অনুযায়ী ১৫ দিনের মধ্যে মূসক-২.৬ ফরমে জানাতে হয়। আর কেনা-বেচার সব কাগজ ৫ বছর রেখে দিন, NBR-এর FAQ-তে এই সময়টাই লেখা।
ভুল করলে জরিমানা, আর কখন ভ্যাট কনসালট্যান্ট লাগবে
জরিমানার অঙ্কগুলো লেখা আছে ভ্যাট আইনের ৮৫ ধারার টেবিলে। bdlaws.minlaw.gov.bd-তে ২০২৬ সালের অক্টোবরে যা লেখা, তাতে সময়মতো রেজিস্ট্রেশন বা তালিকাভুক্তির আবেদন না করলে ১০ হাজার টাকা। সনদ দোকানে না টাঙালে, তথ্য বদলের খবর না দিলে বা চালানপত্র না দিলেও জরিমানা ধরা আছে ১০ হাজার টাকা করে। সময়মতো রিটার্ন না দিলে জরিমানা ২ হাজার টাকা। ইচ্ছা করে কর এড়ালে জরিমানা ফাঁকি দেওয়া করের অর্ধেক থেকে পুরোটা পর্যন্ত। আর একই ধারায় বলা আছে, জরিমানা দিলেও বকেয়া কর আর সুদ আলাদা দিতে হয়।
ভয় দেখাতে বলছি না। একটা রিটার্ন মিস করার দাম ২ হাজার টাকা, চার কোয়ার্টার মিস করলে বছরে ৮ হাজার, অথচ কাজটা তিন মাসে মাত্র একবার।
কনসালট্যান্ট সবার লাগে না। বিক্রি ৩০ লাখের নিচে, শুধু দেশের পাইকারি থেকে কিনে বেচেন, আমদানি বা কাজের অর্ডার নেই, তাহলে এই লেখা আর সার্কেল অফিসের একটা ফোনেই আপনার কাজ চলে। কিন্তু নিচের যেকোনো একটা মিললে একজন ভ্যাট কনসালট্যান্ট নিন, অন্তত প্রথম রিটার্ন পর্যন্ত। বিক্রি ৫০ লাখ ছাড়িয়েছে বা ছাড়াবে, কারণ তখন ১৫% হার, রেয়াত আর চালানের পুরো হিসাব আসে। নিজের নামে আমদানি করেন, বা কোম্পানিকে ওয়ার্ক অর্ডারে মাল দেন। আপনার প্রোডাক্টের কিছু ভ্যাট-মুক্ত আর কিছু না, বা কম হারের তফসিলে পড়ে। কিংবা ভ্যাট অফিস থেকে কোনো চিঠি বা নোটিশ এসেছে। নোটিশের উত্তর নিজে আন্দাজে লিখবেন না।
কনসালট্যান্ট নেওয়ার সময় তিনটা জিনিস আগে ঠিক করুন। ফি কত আর সেটা কোন কোন কাজের জন্য, লিখে নিন। vat.gov.bd-র আইডি আর পাসওয়ার্ড নিজের কাছে রাখুন, প্রতিটা রিটার্ন জমা হলে তার কপি নিজের ইমেইলে চেয়ে নিন। আর প্রতি তিন মাসে নিজে একবার লগইন করে দেখুন রিটার্ন সত্যিই জমা হয়েছে কি না। কাগজ আপনার নামে, দায়ও আপনার।
আজ কোথা থেকে শুরু করবেন? গত ১২ মাসের ডেলিভারি হওয়া বিক্রির যোগফলটা বের করুন, কুরিয়ারের প্যানেল আর খাতা মিলিয়ে। ২৫ লাখের নিচে হলে এখনই কিছু করতে হবে না, শুধু প্রতি মাসের শেষে যোগফলটা দেখুন। ২৫ থেকে ৩০ লাখের মধ্যে হলে e-TIN আর ব্যবসার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রেডি করুন, আর দাম ঠিক করার সময় ৪% হিসাবে ধরুন। ৩০ লাখ ছাড়িয়ে গেলে ৩০ দিনের ঘড়ি আগেই চালু হয়ে গেছে, এই সপ্তাহেই আবেদনটা সেরে ফেলুন। আবেদনে কোনো ফি নেই, আর একবার করে ফেললে কাউন্টারের ওই প্রশ্নে বুকটা আর ধক করে উঠবে না।
এই যোগফল প্রতি মাসে খাতা ঘেঁটে বের করতে মন না চাইলে একটা সহজ রাস্তা আছে। WinningSeller-এর লাভ-ক্ষতির রিপোর্ট আয় গোনে শুধু ডেলিভারি হওয়া অর্ডার থেকে, তাই যেকোনো সময়ের আসল বিক্রির অঙ্ক এক জায়গায় পেয়ে যান। প্রতিটা অর্ডারের ইনভয়েসও প্যানেল থেকেই প্রিন্ট করা যায়। ভ্যাটের রিটার্ন অবশ্য এটা জমা দেয় না, সেটা আপনাকে বা আপনার কনসালট্যান্টকে vat.gov.bd-তেই করতে হবে। বাকি ফিচারগুলো এখানে দেখে নিন।
সাধারণ প্রশ্ন
অনলাইন ব্যবসার জন্য কি ভ্যাট নিবন্ধন লাগে?
বিক্রির অঙ্কের ওপর নির্ভর করে। ভ্যাট আইনে ১২ মাসে ৫০ লাখ টাকার বেশি বিক্রি হলে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন, আর ৩০ লাখের বেশি কিন্তু ৫০ লাখ পর্যন্ত হলে টার্নওভার করের তালিকাভুক্তি লাগে। ফেসবুক পেজে বা ওয়েবসাইটে বিক্রি করছেন বলে আলাদা কোনো সীমা নেই। তবে নিজের নামে আমদানি বা কাজের অর্ডারে কোম্পানিকে মাল দেওয়ার মতো কিছু কাজে বিক্রি যত কমই হোক রেজিস্ট্রেশন লাগে।
বিআইএন কি, BIN নাম্বার কোথায় পাব?
BIN মানে Business Identification Number, ভ্যাটের খাতায় আপনার ব্যবসার নম্বর। ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন বা টার্নওভার করের তালিকাভুক্তি, যেটাই নিন, vat.gov.bd-তে আবেদন পাস হলে সনদের সাথে এই নম্বর পাবেন। NBR-এর গাইডে লেখা আছে, পরে টার্নওভার কর থেকে ভ্যাটে গেলেও নম্বরটা বদলায় না।
টার্নওভার কর কি, হার কত?
টার্নওভার কর হলো ছোট ব্যবসার কর, যেটা লাভের ওপর না, মোট বিক্রির ওপর ধরা হয়। অর্থ আইন ২০২৬ অনুযায়ী সরকার খাতভিত্তিক নির্দিষ্ট অঙ্ক ঠিক করতে পারবে, যেটা ২ লাখ টাকার বেশি হবে না। সেই প্রজ্ঞাপন না আসা পর্যন্ত হার বিক্রির ৪%।
ভ্যাট নিবন্ধন করতে কি কি লাগে, ফি কত?
NBR-এর কমপ্লায়েন্স গাইডে লেখা আছে, নতুন আইনে রেজিস্ট্রেশন বা তালিকাভুক্তির জন্য কোনো কাগজ জমা দিতে হয় না, কোনো ফি নেই, আর প্রতি বছর নবায়নও লাগে না। তবে মূসক-২.১ ফরমে e-TIN, ব্যবসার ঠিকানা ও পোস্ট কোড, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য আর বছরের বিক্রির অঙ্ক দিতে হয়। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য না দিলে BIN তৈরিই হয় না।
ট্রেড লাইসেন্স নবায়নে কি এখন BIN লাগে?
আইনে লাগে। অর্থ আইন ২০২৬ ভ্যাট আইনের ৪ ধারায় নতুন একটা উপধারা যোগ করেছে, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, ব্যবসার কারেন্ট অ্যাকাউন্ট আর MFS-এর মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলার সময় BIN বা তালিকাভুক্তির কাগজ দেখাতে হবে। আপনার এলাকার অফিস এটা কতটা কড়াকড়ি করছে, নবায়নের আগে ফোন করে জেনে নিন।
ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন না করলে কী জরিমানা?
ভ্যাট আইনের ৮৫ ধারায় সময়মতো রেজিস্ট্রেশন বা তালিকাভুক্তির আবেদন না করলে ১০ হাজার টাকা জরিমানার কথা লেখা আছে। সময়মতো রিটার্ন না দিলে ২ হাজার টাকা, আর কর ফাঁকি ধরা পড়লে ফাঁকি দেওয়া করের অর্ধেক থেকে পুরোটা পর্যন্ত। জরিমানা দিলেও বকেয়া কর আর সুদ আলাদা দিতে হয়।
আরও পড়ুন
খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম
বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।
থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম
থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।


