হোয়াটসঅ্যাপ লিংক বানিয়ে ওয়েবসাইটে বসান, এক চাপেই মেসেজ আসবে
নম্বর সেভ না করেই কাস্টমার যেন এক চাপে আপনার WhatsApp-এ মেসেজ দিতে পারেন, সেই wa.me লিংক নিজে বানানোর নিয়ম। আগে থেকে লেখা মেসেজ, Messenger-এর m.me লিংক, ফেসবুকের চ্যাট প্লাগইন কেন নেই, বাটন কোথায় বসাবেন আর উত্তর দেরি হলে কত অর্ডার হারায়, টাকার হিসাবসহ।

এই লেখায় যা আছে
হোয়াটসঅ্যাপ লিংক হলো এমন একটা লিংক, যেটায় চাপ দিলে কাস্টমারের ফোনে সরাসরি আপনার নম্বরের WhatsApp চ্যাট খুলে যায়, নম্বর সেভ করতে হয় না। বানানো খুব সহজ। https://wa.me/ লিখে তার পরে ৮৮০ বসান, তারপর আপনার মোবাইল নম্বরের প্রথম শূন্যটা বাদ দিয়ে বাকি দশটা অঙ্ক। 01XXXXXXXXX নম্বরের লিংক তাই দাঁড়ায় https://wa.me/8801XXXXXXXXX। চাইলে লিংকের শেষে ?text= দিয়ে একটা মেসেজ আগে থেকে লিখে রাখা যায়, যেমন প্রোডাক্টের নাম। এই লিংকটাই ওয়েবসাইটের একটা বাটনের পেছনে বসালে সেটা হয়ে যায় WhatsApp বাটন। আর Messenger-এর জন্য একই কাজ করে m.me/পেজের-ইউজারনেম।
ধরুন রাত সাড়ে দশটা। একজন কাস্টমার আপনার ওয়েবসাইটে একটা পাঞ্জাবি দেখছেন, ৪২ সাইজে নীলটা আছে কি না জানতে চান। পেজে নম্বর লেখা আছে, কিন্তু সেটা কপি করে, সেভ করে, তারপর WhatsApp খুলে খুঁজে মেসেজ দেওয়ার ধৈর্য তাঁর নেই। তিনি ফেসবুকে ফিরে গিয়ে অন্য একটা পেজ দেখা শুরু করলেন। কোণে একটা বাটন থাকলে এই মানুষটা এক চাপে আপনার কাছে চলে আসতেন। নিচে পুরো কাজটা হাতে-কলমে বলছি, লিংক বানানো থেকে শুরু করে মেসেজ এলে প্রথম তিন লাইনে কী লিখবেন, সেটা পর্যন্ত।
হোয়াটসঅ্যাপ লিংক কী, wa.me দিয়ে নিজে বানাবেন যেভাবে
WhatsApp এই সুবিধার নাম দিয়েছে click to chat। ২০২৬ সালের অক্টোবরে WhatsApp Help Center-এর "How to use click to chat" পেজে নিয়মটা এভাবে লেখা আছে। লিংক হবে https://wa.me/ আর তার পরে পুরো আন্তর্জাতিক ফরম্যাটে নম্বর। নম্বর বসানোর সময় কোনো শূন্য, ব্র্যাকেট বা ড্যাশ রাখা যাবে না। লিংকটা ফোনেও কাজ করে, কম্পিউটারের WhatsApp Web-এও।
বাংলাদেশের নম্বরে এর মানে তিনটা কাজ। সামনে ৮৮০ বসাবেন। নম্বরের শুরুর ০ ফেলে দেবেন। আর প্লাস চিহ্ন, স্পেস বা মাঝের ড্যাশ সব মুছে দেবেন।
প্রথমবার প্রায় সবাই যে ভুলটা করেন, সেটা হলো সরাসরি https://wa.me/01XXXXXXXXX লিখে দেওয়া। দেখতে ঠিকই লাগে, কিন্তু এই লিংক বাংলাদেশের নম্বর হিসেবে খোলে না, কারণ WhatsApp-এর কাছে দেশের কোড ছাড়া নম্বরটা অসম্পূর্ণ। কেউ কেউ আবার +৮৮০ লিখে দেন, আর পেজের লেখা থেকে কপি করার সময় মাঝে একটা স্পেস থেকে যায়। ফল একই, কাস্টমার চাপ দিয়ে দেখেন "invalid" বা ভুল কোনো নম্বর। আর অভিযোগ করার বদলে তিনি চুপচাপ চলে যান।

লিংক বানানোর পর পরীক্ষাটা নিজের ফোনে করবেন না। নিজের ফোনে নিজের নম্বরের লিংক খুললে WhatsApp অনেক সময় "message yourself" ধরনের চ্যাট খুলে দেয়, তাতে আসল ছবিটা বোঝা যায় না। বাসার অন্য কারও ফোন থেকে খুলুন, যাঁর ফোনে আপনার নম্বর সেভ করা নেই। একটা ছোট মেসেজ পাঠিয়ে দেখুন দোকানের ফোনে সেটা আসছে কি না। এক মিনিটের এই কাজটা না করে অনেকে মাসের পর মাস একটা মরা বাটন নিয়ে বসে থাকেন।
আরেকটা কথা শুরুতেই ঠিক করে নিন, লিংকে কোন নম্বর যাবে। ব্যক্তিগত নম্বর দিলে পরিবারের গ্রুপ, বন্ধুর মেসেজ আর কাস্টমারের অর্ডার একই লিস্টে মিশে যায়। রাতে একটা অর্ডারের মেসেজ ভাইয়ের ঈদের ছবির নিচে চাপা পড়ে, সকালে আর খুঁজে পান না। দোকানের জন্য আলাদা একটা সিমে WhatsApp Business খুলে সেই নম্বরটাই লিংকে দিন। ব্যক্তিগত নম্বরে এতদিন দোকান চালিয়ে থাকলে চ্যাট না হারিয়ে সেটা WhatsApp Business-এ সরানোর রাস্তাও আছে, তবে তার আগে চ্যাটের ব্যাকআপ নিয়ে রাখবেন।
লিংকে আগে থেকে মেসেজ লিখে রাখা
শুধু নম্বরের লিংকে চাপলে কাস্টমারের সামনে একটা খালি চ্যাট খোলে। তখন তিনি লেখেন "হাই" বা "price?", আর আপনাকে আবার জিজ্ঞেস করতে হয় কোন প্রোডাক্ট। এই এক প্রশ্ন-উত্তরেই পাঁচ মিনিট চলে যায়, আর অনেকে মাঝপথে উত্তর দেওয়াই বন্ধ করে দেন।
সমাধান হলো লিংকে মেসেজটা আগে থেকে লিখে রাখা। WhatsApp-এর ওই একই পেজে লেখা আছে, নম্বরের পরে ?text= দিয়ে URL-encode করা মেসেজ বসালে সেটা চ্যাটের লেখার ঘরে নিজে থেকেই বসে যায়। কাস্টমার শুধু পাঠান চাপেন। চাইলে আগে নিজের মতো বদলেও নিতে পারেন।
URL-encode কথাটা শুনে ভয় পাবেন না। লিংকের ভেতরে স্পেস রাখা যায় না, তাই স্পেসের জায়গায় লিখতে হয় %20। বাংলা অক্ষরও লিংকের ভেতরে এমন সংকেতে বদলে যায়। হাতে এটা করার দরকার নেই। গুগলে "URL encoder" লিখে খুঁজলে অনেক ফ্রি টুল পাবেন। সেখানে বাংলায় মেসেজটা বসিয়ে encode চাপুন, যে লম্বা লেখাটা আসবে সেটা ?text= এর পরে বসিয়ে দিন।
মেসেজে কী লিখবেন, সেটাই আসল কাজ। "হ্যালো" লিখে লাভ নেই। লিখুন যেটা আপনার উত্তর দেওয়া সহজ করে। প্রোডাক্ট পেজের বাটনে প্রোডাক্টের নাম আর কোড থাকুক, যেমন "এই প্রোডাক্টটা নিয়ে জানতে চাই, সুতি পাঞ্জাবি, কোড PJ-104"। তাহলে মেসেজ আসার সাথে সাথে আপনি জানেন কোন জিনিসের কথা হচ্ছে, স্ক্রিনশট চাইতে হয় না। হোমপেজের বাটনে একটা সাধারণ লাইন রাখুন।

একটা সমস্যা অনেকের সাথেই হয়। একটা ফোনে মেসেজ ঠিকঠাক বসে, আরেক ফোনে বাংলা অক্ষর ভেঙে আসে বা মেসেজের অর্ধেক কেটে যায়। প্রায় সবসময় কারণ একটাই, encode ঠিকমতো হয়নি। তাই অন্তত দুটো ফোনে খুলে দেখুন, একটা অ্যান্ড্রয়েড আর পারলে একটা আইফোন। মেসেজটাও ছোট রাখুন, এক-দুই লাইনে।
Messenger-এর লিংক, আর ফেসবুকের চ্যাট প্লাগইন কেন আর নেই
অনেক কাস্টমার WhatsApp চালান না, বা দোকানের সাথে কথা বলতে Messenger-ই পছন্দ করেন। তাঁদের জন্য লিংক হলো m.me/আপনার-পেজের-ইউজারনেম। ২০২৬ সালের অক্টোবরে Meta-র ডেভেলপার ডকুমেন্টেশনে m.me লিংক নিয়ে লেখা আছে, এটা Meta-র নিজের একটা লিংক সার্ভিস, যেটা মানুষকে Messenger-এ আপনার পেজের সাথে কথা শুরু করতে নিয়ে যায়। একই জায়গায় বলা আছে, এই লিংক ওয়েবসাইটে, ইমেইলে আর QR কোডে বসানো যায়।
আগে অনেক ওয়েবসাইটে একটা নীল চ্যাট বাবল দেখা যেত, ক্লিক করলে ওয়েবসাইটের ভেতরেই Messenger চ্যাট খুলত। ওটার নাম ছিল Messenger Chat Plugin। ২০২৪ সালের মে মাসে Meta এটা বন্ধ করে দিয়েছে, আর ওয়েবসাইটের জন্য এখন তাদের দেখানো রাস্তা ওই m.me লিংক। তাই কেউ যদি আপনাকে বলেন "ফেসবুকের চ্যাট বক্স ওয়েবসাইটে বসিয়ে দেব", জিজ্ঞেস করুন জিনিসটা আসলে কী। পুরনো কোড বসালে এখন সেটা কিছুই দেখায় না।
m.me লিংকে দুটো সীমা জেনে রাখুন। প্রথমত, পেজের একটা ইউজারনেম লাগবে। আপনার পেজের লিংক যদি এখনো facebook.com/profile.php?id= দিয়ে শুরু হয়, তাহলে m.me লিংক বানানোর মতো নাম আপনার নেই। আগে পেজে ইউজারনেম দিন, সেটা কীভাবে, ফেসবুক পেজের লিংক আর ইউজারনেমের লেখায় বিস্তারিত আছে। দ্বিতীয়ত, WhatsApp-এর মতো আগে থেকে লেখা মেসেজের ওপর এখানে ভরসা করবেন না। ধরে নিন কাস্টমারের সামনে খালি চ্যাট খুলবে, তাই উত্তর দেওয়ার সময় তাঁকে জিজ্ঞেস করে নিতে হবে কোন প্রোডাক্ট দেখছিলেন।
বাটন কোথায় বসাবেন, কোথায় না
চ্যাট বাটন সাধারণত স্ক্রিনের নিচের দিকে, ডান বা বাম কোণে ভাসমান থাকে। জায়গাটা ঠিক, কারণ মোবাইলে বুড়ো আঙুল ওখানেই সবচেয়ে সহজে যায়। কিন্তু ঠিক ওই জায়গাতেই প্রোডাক্ট পেজের "অর্ডার করুন" বাটনও থাকে, বিশেষ করে মোবাইলে নিচে আটকে থাকা অর্ডার বারে। দুটো একটার ওপর আরেকটা পড়লে যিনি অর্ডার করতে চাইছিলেন, তিনি চ্যাটে চলে যান। আর যিনি চ্যাট করতে চাইছিলেন, তাঁর আঙুল পড়ে অর্ডারে।
এটা কম্পিউটারে বসে ধরা যায় না, ফোনে নিজের হাতে দেখতে হয়। নিজের প্রোডাক্ট পেজটা ফোনে খুলুন আর ধীরে ধীরে ওপর থেকে নিচে স্ক্রল করুন। প্রতিটা জায়গায় দেখুন চ্যাট বাটন অর্ডার বাটন, সাইজ বাছার ঘর বা অর্ডার ফর্মের কোনো ঘরের ওপর পড়ছে কি না। চেকআউট আর পেমেন্টের পেজে চ্যাট বাটন একদমই রাখবেন না। কাস্টমার তখন টাকা দেওয়ার মুহূর্তে আছেন, এক চাপে তাঁকে অন্য অ্যাপে পাঠিয়ে দেওয়া মানে অর্ডারটা হাতছাড়া করার ঝুঁকি নেওয়া।

বাটনের লেখাতেও খেয়াল রাখুন। শুধু একটা আইকন থাকলে অনেকে বোঝেন না এটা কী, বিশেষ করে বয়স্ক কাস্টমাররা। "সরাসরি কথা বলুন" বা "WhatsApp-এ জিজ্ঞেস করুন" ধরনের দুই-তিন শব্দ থাকলে চাপ পড়ে বেশি। আর বাটন চালু করার আগের দিনই WhatsApp Business-এ অ্যাওয়ে মেসেজ সেট করে নিন। নইলে রাতে যিনি লিখবেন, তিনি কোনো সাড়া পাবেন না, আর ভাববেন দোকানটাই বন্ধ।
WinningSeller-এ এই বাটনটা হাতে কোড না লিখেই বসানো যায়। সেটিংসে "চ্যাট বাটন (WhatsApp + Messenger)" নামে একটা কার্ড আছে, সেখানে "দোকানে চ্যাট বাটন দেখান" চালু করে নিলে দোকানের সব পেজের কোণে একটা "সরাসরি কথা বলুন" বাটন আসে। WhatsApp নম্বরটা নেয় "দোকানের পরিচয়" কার্ড থেকে। Messenger-এর ঘরে পেজের লিংক বা ইউজারনেম দিলেই হয়, তবে profile.php?id= ধরনের লিংক সে নেয় না, আগে ইউজারনেম লাগে। আর দোকানের ফোন নম্বর দেওয়া থাকলে "কল করুন"-ও থাকে। বাটন ডান না বাম কোণে থাকবে, সেটাও আপনি ঠিক করেন। প্রোডাক্ট পেজ থেকে কেউ WhatsApp খুললে মেসেজে আগে থেকেই লেখা থাকে প্রোডাক্টের নাম আর পেজের লিংক, প্রোডাক্টে আর্টিকেল নম্বর দেওয়া থাকলে সেটাও। চেকআউট আর পেমেন্ট পেজে বাটনটা থাকে না, আর অর্ডার ফর্মের ওপর পড়লে নিজে থেকে সরে যায়। একটা সীমা পরিষ্কার জেনে রাখুন। মেসেজগুলো আসে আপনার নিজের WhatsApp আর ফেসবুক পেজের ইনবক্সে, WinningSeller-এর ভেতরে না। দোকানের বাকি কোন কোন কাজ এক জায়গা থেকে হয়, সেটা ফিচারের লিস্টে দেখে নিতে পারেন।
কেউ উত্তর না দিলে কত অর্ডার হারায় (উদাহরণ)
বাটন বসানো সহজ অংশ। কঠিন অংশ হলো প্রতিটা মেসেজের উত্তর সময়মতো দেওয়া। একটা হিসাব করে দেখি। নিচের সব সংখ্যা ধরে নেওয়া, কোনো দোকানের মাপা ফল না। নিজের সংখ্যা বসিয়ে মিলিয়ে নিন।
উদাহরণ হিসেবে ধরুন আপনি ১,২৫০ টাকায় সুতি পাঞ্জাবি বেচেন। কেনা, প্যাকেট আর অ্যাডের ভাগ বাদ দিয়ে একটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডারে হাতে থাকে ৩৫০ টাকা। একটা পার্সেল ফেরত এলে যায় ১৩০ টাকা। ওয়েবসাইটের বাটন থেকে সপ্তাহে ৪০টা মেসেজ আসে। এর ২৮টার উত্তর আপনি আধা ঘণ্টার মধ্যে দেন, আর এমন প্রতি চারজনে একজন অর্ডার করেন। মানে ২৮ ÷ ৪ = ৭টা অর্ডার। বাকি ১২টা আসে রাত এগারোটার পরে, উত্তর যায় পরদিন দুপুরে। এর মধ্যে একজনই অর্ডার করেন।
এই ১২ জনকেও সময়মতো উত্তর দিলে চারজনে একজন হিসেবে ১২ ÷ ৪ = ৩টা অর্ডার হতো। পেলেন ১টা, হারালেন ২টা। সপ্তাহে ২টা মানে মাসে চার সপ্তাহে ৮টা অর্ডার। এই ৮টার একটা ফেরত আসত ধরলে ডেলিভারি হতো ৭টা। হারানো লাভ ৭ × ৩৫০ = ২,৪৫০ টাকা, ফেরতের খরচ ১৩০ টাকা বাদ দিলে ২,৩২০ টাকা। প্রতি মাসে।

সংখ্যাটা বড় না মনে হতে পারে। কিন্তু খেয়াল করুন, এই টাকা হারাতে আপনাকে কোনো অ্যাডের খরচ বাড়াতে হয়নি। মানুষগুলো নিজে থেকেই এসেছিলেন। সমাধানও তাই টাকার না, রুটিনের। রাতের মেসেজের জন্য একটা অ্যাওয়ে মেসেজ রাখুন, যেটা বলে কাল সকাল কয়টায় উত্তর যাবে। আর সকালে সবার আগে রাতের মেসেজগুলো শেষ করুন, তারপর অন্য কাজ। যতদিন এই রুটিন দাঁড়ায়নি, বাটন বসিয়ে বাড়তি মেসেজ টেনে আনবেন না। আগে রুটিন, তারপর বাটন।
মেসেজ এলে প্রথম তিন লাইনে কী লিখবেন
বাটন থেকে আসা কাস্টমার সাধারণত একটা নির্দিষ্ট প্রশ্ন নিয়ে আসেন। স্টকে আছে কি না, ডেলিভারি চার্জ কত, কয় দিনে পাবেন। প্রথম উত্তরেই সেই প্রশ্নের জবাব দিন। "জি ভাই, বলুন" লিখে বসে থাকবেন না, এতে কথা এক ধাপ পিছিয়ে যায়।
প্রথম লাইনে সালাম আর ধন্যবাদ, ছোট করে। দ্বিতীয় লাইনে প্রশ্নের সরাসরি উত্তর, টাকার অঙ্কসহ। তৃতীয় লাইনে অর্ডারের পরের ধাপটা বলুন। পুরো উত্তরটা দাঁড়ায় এমন।
"আসসালামু আলাইকুম ভাই, মেসেজ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। নীল পাঞ্জাবিটা ৪২ সাইজে আছে, দাম ১,২৫০ টাকা, ঢাকার ভেতরে ডেলিভারি চার্জ ৮০ টাকা। নিতে চাইলে আপনার নাম, পুরো ঠিকানা আর ফোন নম্বর এক মেসেজে পাঠিয়ে দিন।"
ডেলিভারি চার্জের অঙ্কটা অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইটের চেকআউটের সাথে মিলিয়ে লিখবেন। চ্যাটে এক দাম আর ওয়েবসাইটে আরেক দাম দেখলে কাস্টমার ভাবেন কোথাও লুকানো খরচ আছে, আর তর্ক শুরু হয়। এই তিন লাইন WhatsApp Business-এর কুইক রিপ্লাইতে সেভ করে রাখুন, প্রতিবার শুধু দাম আর সাইজ বদলে দেবেন। দাম নিয়ে দর-কষাকষি বা রাগী কাস্টমারের সাথে কী বলবেন, সেই লাইনগুলো কাস্টমারের সাথে কথা বলার লেখায় পাবেন।
চ্যাট থেকে অর্ডার লেখার সময় একটা নিয়ম রাখুন। ঠিকানা আর নম্বর পাওয়ার পরে পুরো অর্ডারটা এক মেসেজে আবার লিখে কাস্টমারকে পাঠান, প্রোডাক্ট, সাইজ, মোট টাকা আর ঠিকানাসহ। তিনি "ঠিক আছে" লিখলে তবেই অর্ডার খাতায় তুলুন। চ্যাটের অর্ডার কোথায় কোথায় হারায় আর লিস্ট কীভাবে রাখবেন, সেটা হোয়াটসঅ্যাপে অর্ডার নেওয়ার নিয়মের লেখায় ধাপে ধাপে বলা আছে।
কখন চ্যাট বাটন না রাখাই ভালো
চ্যাট বাটন সব দোকানের জন্য না। কয়েকটা অবস্থায় এটা যা আনে, তার চেয়ে বেশি নিয়ে যায়।
আপনি যদি একা দোকান চালান আর দিনের বেলা আরেকটা চাকরি করেন, তাহলে সময়মতো উত্তর দেওয়ার মানুষ নেই। তখন বাটন শুধু অপেক্ষায় থাকা কাস্টমারের সংখ্যা বাড়ায়, আর তাঁরা বিরক্ত হয়ে চলে যান। এই অবস্থায় বরং প্রোডাক্ট পেজে দাম, সাইজ আর ডেলিভারি চার্জ এত পরিষ্কার লিখুন যে প্রশ্ন করার দরকারই না পড়ে।
এক প্রোডাক্টের ল্যান্ডিং পেজে, যেখানে অ্যাড থেকে মানুষ আসেন আর সরাসরি অর্ডার ফর্ম পূরণ করেন, চ্যাট বাটন অনেক সময় মনোযোগ ভাঙায়। কাস্টমার অর্ডার না করে "দাম কত?" লিখে চলে যান, অথচ দামটা পেজেই লেখা ছিল। এমন পেজে কয়েক দিন বাটন চালু আর কয়েক দিন বন্ধ রেখে অর্ডারের সংখ্যা মিলিয়ে দেখুন। আর যদি আপনার প্রায় সব কাস্টমার ফেসবুকের ইনবক্স থেকেই আসেন, ওয়েবসাইটে খুব কম মানুষ যান, তাহলে আগে ওয়েবসাইটে লোক আনার কাজ করুন, বাটন পরে।
আজই করে ফেলুন
হাতের ফোন আর আধা ঘণ্টা সময় দিয়েই এই কাজগুলো হয়ে যায়।
- দোকানের WhatsApp নম্বরটা নিয়ে https://wa.me/880 লিখে শূন্য বাদ দিয়ে বাকি অঙ্ক বসান, লিংকটা একটা নোটে রেখে দিন।
- অন্য কারও ফোন থেকে লিংকটা খুলে একটা মেসেজ পাঠান, দোকানের ফোনে আসছে কি না দেখুন।
- সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় এমন একটা প্রোডাক্টের নাম আর কোড দিয়ে ?text= সহ আরেকটা লিংক বানান, দুটো ফোনে বাংলা ঠিক আসছে কি না মিলিয়ে নিন।
- ফেসবুক পেজের লিংক দেখুন। profile.php?id= থাকলে আজই একটা ইউজারনেম দিন, তারপর m.me লিংক বানান।
- WhatsApp Business-এ অ্যাওয়ে মেসেজ আর ওপরের তিন লাইনের উত্তরটা কুইক রিপ্লাই হিসেবে সেভ করুন।
- নিজের প্রোডাক্ট পেজ ফোনে খুলে ওপর থেকে নিচে স্ক্রল করুন, চ্যাট বাটন কোথাও অর্ডার বাটনের ওপর পড়ছে কি না দেখুন।

এই লিংকের কাজ শুধু ওয়েবসাইটের বাটনে শেষ না। পার্সেলের স্টিকারে, ইনভয়েসের নিচে, ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে। যেখানেই কাস্টমার আপনাকে খুঁজতে পারেন, সেখানে এক চাপের রাস্তাটা রেখে দিন।
সাধারণ প্রশ্ন
হোয়াটসঅ্যাপ লিংক কিভাবে বের করে?
আলাদা করে বের করার কিছু নেই, নিজেই বানাতে হয়। https://wa.me/ লিখে তার পরে দেশের কোড ৮৮০ আর নম্বরের প্রথম শূন্য বাদ দিয়ে বাকি অঙ্কগুলো বসান, যেমন 01XXXXXXXXX নম্বরের লিংক হবে https://wa.me/8801XXXXXXXXX। প্লাস চিহ্ন, স্পেস বা ড্যাশ রাখবেন না।
নম্বর সেভ না করে কি WhatsApp-এ মেসেজ দেওয়া যায়?
যায়, wa.me লিংক ঠিক এই কাজের জন্যই। WhatsApp Help Center-এর "How to use click to chat" পেজে লেখা আছে, লিংকে চাপ দিলে নম্বর ফোনবুকে সেভ না থাকলেও সেই মানুষের সাথে চ্যাট খুলে যায়। শর্ত একটাই, ওই নম্বরে WhatsApp চালু থাকতে হবে।
WhatsApp লিংকে আগে থেকে মেসেজ লিখে রাখা যায়?
যায়। নম্বরের পরে ?text= লিখে মেসেজটা দিন, তবে স্পেস আর বাংলা অক্ষর URL-encode করে বসাতে হয়, যেমন স্পেসের জায়গায় %20। কাস্টমার লিংকে চাপলে মেসেজটা লেখার ঘরে বসে থাকে, পাঠানোর আগে তিনি চাইলে বদলাতে পারেন।
ফেসবুক মেসেঞ্জার চ্যাট প্লাগইন কি এখনো ওয়েবসাইটে বসানো যায়?
না। ২০২৪ সালের মে মাসে Meta ওয়েবসাইটের ওই চ্যাট প্লাগইন বন্ধ করে দিয়েছে। এখন ওয়েবসাইট থেকে Messenger-এ আনতে হয় m.me লিংক দিয়ে, যেটা কাস্টমারের ফোনে Messenger অ্যাপ খুলে আপনার পেজের চ্যাটে নিয়ে যায়।
m.me লিংক কাজ করছে না কেন?
সবচেয়ে কমন কারণ হলো পেজের কোনো ইউজারনেম নেই, লিংকটা profile.php?id= দিয়ে বানানো। পেজের সেটিংস থেকে আগে একটা ইউজারনেম দিন, তারপর m.me/ইউজারনেম লিখে দুটো আলাদা ফোন থেকে খুলে দেখুন।
ব্যক্তিগত নম্বর দিয়ে কি ওয়েবসাইটে WhatsApp বাটন দেওয়া ঠিক?
না দেওয়াই ভালো। পরিবারের গ্রুপ আর কাস্টমারের অর্ডার এক অ্যাপে মিশে গেলে অর্ডার চোখ এড়িয়ে যায়, আর কর্মীকে দিয়ে চ্যাট সামলাতে গেলে আপনার ব্যক্তিগত চ্যাটও খুলে দিতে হয়। দোকানের জন্য আলাদা একটা সিমে WhatsApp Business খুলে সেই নম্বর বাটনে দিন।
আরও পড়ুন
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল না গ্রুপ? পুরনো কাস্টমারকে নতুন মালের খবর দিন
নতুন কালেকশনের খবর পুরনো কাস্টমারকে দিতে চান, কিন্তু চ্যানেল খুলবেন, গ্রুপ, না স্ট্যাটাস? কে কার নম্বর দেখে, কে উত্তর দিতে পারে, চ্যানেল খোলার ধাপ, কী পোস্ট দেবেন, গ্রুপের নিয়ম আর ঝুঁকি, আর এক মাসে কোনটায় কত সময় যায়, হিসাবসহ।
শার্ট, প্যান্ট আর টি-শার্টের সাইজ চার্ট বানাবেন যেভাবে, ফেরত কমবে
সাপ্লায়ারের ট্যাগে M লেখা, অথচ কাস্টমার বলেন টাইট। টি-শার্ট, শার্ট আর প্যান্ট টেবিলে বিছিয়ে ফিতা দিয়ে মাপার নিয়ম, ইঞ্চিতে নিজের সাইজ চার্ট বানানো, কাস্টমারকে নিজের শার্ট মেপে সাইজ বাছতে শেখানো, আর একটা ভুল সাইজে কত টাকা যায়, হিসাবসহ।
প্রোডাক্ট ক্যাটালগ ও প্রাইস লিস্ট বানানোর নিয়ম, পাইকার আর অফিসের জন্য
পাইকার, রিসেলার বা অফিসের লোক বলছেন "ক্যাটালগ আর রেট দেন"? প্রতিটা প্রোডাক্টে কী লিখবেন, খুচরা আর পাইকারি দাম কেন আলাদা ফাইলে, পরিমাণ ধরে দামের ধাপ টাকায়, PDF না লিংক, আর দাম বদলালে পুরনো কপি থামাবেন কীভাবে।


