WinningSeller
অনলাইন ব্যবসা শুরু১৬ মিনিটে পড়া যায়

আতরের পাইকারি বাজার কোথায়, আর এক পার্সেলে আতর-টুপি বেচে কত থাকে

আতরের পাইকারি বাজার ঢাকা আর চট্টগ্রামে কোথায়, টুপি-জায়নামাজ কোথা থেকে আনবেন, আসল আতর কীভাবে চিনবেন, কোন সাইজের বোতলে কত দাম রাখবেন, কাচের বোতল কীভাবে পাঠাবেন, আর একটা অর্ডারে আসলে কত টাকা থাকে। সবকিছু টাকার উদাহরণসহ।

আতরের পাইকারি বাজার কোথায়, আর এক পার্সেলে আতর-টুপি বেচে কত থাকে
এই লেখায় যা আছে
  1. আতর আর টুপির ব্যবসা কেমন, কার জন্য?
  2. আতরের পাইকারি বাজার কোথায়, ঢাকা আর চট্টগ্রামে?
  3. টুপি, জায়নামাজ আর তসবিহ পাইকারি কোথায়?
  4. আসল আতর আর মেশানো আতর চিনবেন কীভাবে?
  5. কোন সাইজের আতরের বোতলে কত দাম রাখবেন?
  6. আতরের কাচের বোতল কুরিয়ারে পাঠাবেন কীভাবে, যাতে না ভাঙে?
  7. রমজান, ঈদ আর জুমায় কবে মাল তুলবেন, কবে অ্যাড দেবেন?
  8. এক অর্ডারে আসলে কত লাভ থাকে? (টাকার উদাহরণ)
  9. আতরের পোস্টে আর অ্যাডে কোন কথা লিখবেন না?
  10. আজ কোথা থেকে শুরু করবেন?

ধরুন বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে দশটা। সারাদিন পার্সেল বেঁধে সবে ফোনটা হাতে নিলেন, আর ইনবক্সে একজন লিখলেন, "ভাই, কাল জুমার আগে আতরটা পাব?" মনটা একটু খারাপ হয়ে যায়, কারণ আপনি জানেন পাবেন না। পার্সেল তো কুরিয়ারে উঠবে কাল সকালে। আতরের ব্যবসায় মাল কোথা থেকে আনছেন যতটা জরুরি, কবে পাঠাচ্ছেন সেটাও ততটাই জরুরি।

আগে সোজা উত্তরটা দিই। আতরের পাইকারি বাজার ঢাকায় মূলত চার জায়গায় বসে, পুরান ঢাকার মিটফোর্ডে, গুলিস্তানের খদ্দর মার্কেটে, চকবাজারে আর বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটে। চট্টগ্রামে খুঁজবেন রিয়াজউদ্দিন বাজার, আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ মার্কেট আর চকবাজার এলাকায়। টুপির সবচেয়ে বড় পাইকারিও ঢাকার চকবাজার আর খদ্দর মার্কেটেই পাবেন।

তবে মাল কেনা হলো কাজের অর্ধেক। বাকি অর্ধেক হলো আসল আতর চিনে নেওয়া, বোতলে ভাগ করে ঠিক দাম বসানো আর কাচের বোতল না ভেঙে কাস্টমারের হাতে পৌঁছানো। সেগুলোও একে একে বলছি, টাকার হিসাবসহ।

আতর আর টুপির ব্যবসা কেমন, কার জন্য?

এটা হইচইয়ের ব্যবসা না, ধীরে চলা স্থির একটা ব্যবসা। আতর একবার যিনি পছন্দ করেন, তিনি বোতল শেষ হলে আবার খোঁজেন। প্রথম আলো ২০২৫ সালের মার্চে আতর ব্যবসায়ীদের বরাতে লিখেছে, এখন শুধু রমজানে না, সারা বছরই কমবেশি আতর বিক্রি হয়, আর রমজানে বিক্রি জমে সাধারণত ১৫ রোজার পরে। মানে সারা বছর অল্প অল্প বিক্রি চলে, আর দুই ঈদের আগে একটা বড় ধাক্কা আসে।

এখানে মূল প্রোডাক্ট আতর, কারণ ছোট একটা বোতলে দাম ভালো থাকে আর জিনিসটা ফুরিয়ে যায়। টুপি, জায়নামাজ আর তসবিহ আসে সাথের জিনিস হয়ে। একা একটা টুপি পাঠিয়ে কুরিয়ার আর অ্যাডের খরচ ওঠানো কঠিন। কিন্তু আতরের পার্সেলে একটা টুপি ঢুকিয়ে দিলে অর্ডারের টাকা বাড়ে, অথচ অ্যাডের খরচ বাড়ে না। এই হিসাবটা নিচে টাকায় দেখাব।

কাপড়ের ব্যবসায় যাঁরা "সাইজ মেলেনি" বলে ফেরত আসা পার্সেলে ক্লান্ত, তাঁরা আতরে একটু স্বস্তি পাবেন। এখানে সাইজের ঝামেলা নেই, আর পার্সেলও হালকা, ছোট বক্সেই এঁটে যায়।

কিন্তু সবার জন্য এটা না, সেটাও বলে রাখি। অনলাইনে আতরের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কাস্টমার ঘ্রাণটা নাকে নিতে পারেন না। আপনাকে কথায় বোঝাতে হবে, আর কথা মিলতে হবে বোতল খোলার পরে। নিজের নাক যদি ঘ্রাণ আলাদা করতে না পারে, বা কাচ আর তেল প্যাক করার ধৈর্য না থাকে, তাহলে আগে অন্য কিছু ভাবুন। এক মাসেই বড় লাভ চাইলেও এটা আপনার ব্যবসা না।

আতরের পাইকারি বাজার কোথায়, ঢাকা আর চট্টগ্রামে?

প্রথম আলো ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ আতর কেনা নিয়ে একটা লেখা ছেপেছিল। সেখানে বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটকে দেশে আতর বিক্রির বড় কেন্দ্র বলা হয়েছে, যেখানে আতরের কয়েক ডজন দোকান আছে। একই লেখায় আছে, পুরান ঢাকার মিটফোর্ডে আতর আর পারফিউমের বড় পাইকারি বাজার গড়ে উঠেছে, আর গুলিস্তানের খদ্দর মার্কেটেও আতরের পাইকারি বেচাকেনা হয়।

চট্টগ্রামে দৈনিক চট্টলার খবর ২০২৬ সালের ২৭ মে লিখেছে, নগরীর টুপি-আতরের সবচেয়ে বড় পাইকারি ও খুচরা বাজার রিয়াজউদ্দিন বাজার, আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ মার্কেট আর চকবাজার এলাকায়।

পুরান ঢাকার একটা সরু গলিতে আতরের দোকান, তাকে সারি সারি ছোট কাচের বোতল, কাউন্টারে দাঁড়িয়ে একজন তরুণ সেলার দোকানির কাছ থেকে নমুনার বোতল শুঁকে দেখছেন
প্রথম দিন বড় কেনা না, শুধু নমুনা শুঁকে দেখা আর দোকানের নাম লিখে রাখা

প্রথমবার গিয়েই বড় অর্ডার দেবেন না। সেদিন কয়েকটা দোকান ঘুরে জনপ্রিয় পাঁচ-ছয়টা ঘ্রাণের ছোট নমুনা কিনুন, প্রতিটা দোকানের নাম আর ফোন নম্বর লিখে রাখুন, আর জিজ্ঞেস করুন পরে বেশি নিলে তোলায় বা বোতলে দর কত পড়বে। কেন এভাবে? নতুন মুখ দেখলে প্রথম দরটা সাধারণত একটু চড়া থাকে। তিন দোকানের দর পাশাপাশি লেখা থাকলে আপনি নিজেই বুঝবেন কোনটা ঠিক। নমুনাগুলো বাসায় নিয়ে কয়েক দিন হাতে মেখে দেখুন, তারপর টাকা ঢালুন।

রংপুর বা দিনাজপুরে বসে ব্যবসা করলে প্রতিবার ঢাকা যাওয়া সম্ভব না, দরকারও নেই। একবার গিয়ে দোকান আর মানুষটাকে চিনে আসুন, তারপর পরের মাল ফোনে অর্ডার দিয়ে কুরিয়ারে আনান। চকবাজার কবে বন্ধ থাকে আর পাইকারের কাছ থেকে ফোনে কীভাবে মাল আনাবেন, সেটা চকবাজার পাইকারি মার্কেটের লেখায় বিস্তারিত আছে।

টুপি, জায়নামাজ আর তসবিহ পাইকারি কোথায়?

প্রথম আলো ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল টুপি নিয়ে একটা রিপোর্ট করেছিল। সেখানে লেখা, দেশে টুপির সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার ঢাকার চকবাজার আর গুলিস্তানের খদ্দর মার্কেট। বায়তুল মোকাররম মার্কেটে পাইকারি আর খুচরা দুইভাবেই টুপি বিক্রি হয়। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজার আর বকশির হাট, সিলেটের হাজী কুদরত উল্লাহ মার্কেট আর শাহজালাল (র.)-এর মাজার এলাকা, আর কুমিল্লার কান্দিরপাড়ে পাইকারি দামে টুপি পাওয়া যায়।

দামের হিসাবটাও একই রিপোর্টে আছে। কারখানা থেকে এমব্রয়ডারি করা একটা টুপি পাইকারদের কাছে যায় ৩০ টাকায়, সাধারণ নকশার টুপি ২৬ থেকে ৩০ টাকায়। সেই টুপি খুচরায় বিক্রি হয় ৮০ থেকে ১০০ টাকা বা তার বেশিতে। কারখানা আছে কামরাঙ্গীরচরে ৩০টার বেশি, আর কেরানীগঞ্জ, মিরপুর আর লালবাগে। ঢাকার বাইরে বগুড়া, রংপুর, পঞ্চগড়সহ কয়েকটা জেলাতেও টুপি তৈরি হয় বলে একই রিপোর্টে আছে, তাই উত্তরবঙ্গে থাকলে কাছেই কারিগর খুঁজে দেখতে পারেন। দামগুলো ২০২৩ সালের, এখন একটু বেড়ে থাকতে পারে।

এই দাম দেখে একটা জিনিস পরিষ্কার বোঝা যায়। ১০০ টাকার একটা টুপি একা অনলাইনে বেচলে অ্যাড আর প্যাকিংয়েই লাভটা খেয়ে ফেলে। টুপিতে লাভ আসে বেশি সংখ্যায় বেচে, আর আতরের সাথে জোড়া দিয়ে।

দোকানের কাউন্টারে ভাঁজ করা সাদা টুপির উঁচু স্তূপ, পাশে গোল করে রাখা কয়েকটা জায়নামাজ আর কাঠের তসবিহ, একজন লোকের হাত একটা টুপি তুলে সেলাই দেখছে
টুপি একা বেচলে লাভ থাকে কম, আতরের সাথে গেলে পার্সেলের দাম বাড়ে

জায়নামাজ আর তসবিহর দাম আছে প্রথম আলোর ২০২৪ সালের ৯ এপ্রিলের রিপোর্টে, বায়তুল মোকাররম থেকে। সেখানকার বেশিরভাগ জায়নামাজ তুরস্কের তৈরি। বিদেশি জায়নামাজ ৩০০ থেকে ৫ হাজার টাকা, তবে বেশি চলে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকার গুলো। দেশি পাতলা কাপড়ের জায়নামাজ পাওয়া যায় ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়, আর পাথর বা কাঠের তসবিহ ১০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। এগুলো খুচরা দাম, পাইকারি দর দোকানে বসেই ঠিক করবেন।

জায়নামাজ কেনার আগে একটা জিনিস হাতে নিয়ে দেখবেন, সেটা ওজন। মোটা জায়নামাজ ভারী আর ভাঁজ করলেও বড় হয়। কুরিয়ার চার্জ ওজন ধরে বাড়ে, তাই আতর আর টুপির সাথে একটা ভারী জায়নামাজ দিলে চার্জ এক ধাপ বেড়ে যেতে পারে। তসবিহ হালকা, তাই সাথে দেওয়ার জন্য এটাই সবচেয়ে সহজ।

আসল আতর আর মেশানো আতর চিনবেন কীভাবে?

এই প্রশ্নটাই সবাই সবচেয়ে বেশি করেন, তাই একটা সত্যি কথা আগে বলি। ঘরে বসে এমন কোনো টেস্ট নেই যেটা দিয়ে শতভাগ প্রমাণ হয় আতরটা খাঁটি। আসল আতরে সস্তা তেল মিশিয়ে পরিমাণ বাড়ালে সেটা ধরতে ল্যাব লাগে। তবে কয়েকটা কাজ করলে ঠকার ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

প্রথম আলোর ২০২৫ সালের লেখায় বায়তুল মোকাররমের একজন আতর ব্যবসায়ী দুটো পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ভালো আতর হয় গাঢ়। আর কোম্পানির নাম দেখে কিনতে হয়, কারণ বাজারে নকল আতর অনেক। তাই নামহীন বোতল বা হাতে লেখা লেবেলের মাল শুরুতে নেবেন না।

এরপর নিজের হাতে টেস্ট। কব্জির ভেতরের দিকে এক ফোঁটা দিন আর সময়টা লিখে রাখুন। এক ঘণ্টা, তিন ঘণ্টা আর ছয় ঘণ্টা পরে নাক দিয়ে দেখুন ঘ্রাণ কতটা আছে। পাতলা করা আতর শুরুতে কড়া লাগে, কিন্তু অল্প সময়েই মিলিয়ে যায়। লিখে রাখলে আরেকটা লাভ হয়। কাস্টমার যখন জিজ্ঞেস করবেন "কতক্ষণ থাকে ভাই?", আপনি আন্দাজে না বলে নিজের মাপা সময়টা বলতে পারবেন।

সাদা কাগজ বা টিস্যুতে এক ফোঁটা দিলে আরেকটা জিনিস বোঝা যায়। তেলের আতর কাগজে তেলতেলে একটা দাগ রেখে যায়। আর যেটা কয়েক মিনিটে শুকিয়ে দাগ ছাড়াই উড়ে যায়, শুরুতে স্পিরিটের মতো ঝাঁঝ দেয়, সেটা সম্ভবত অ্যালকোহল দেওয়া পারফিউম। ওটা নকল না, কিন্তু ওটাকে তেলের আতর বা "অ্যালকোহলমুক্ত" বলে বেচবেন না। মনে রাখবেন, দাগ থাকলেই আতর খাঁটি না, কারণ মেশানো তেলও দাগ রাখে।

দুটো আতরের বোতলের সামনে দুটো সাদা কাগজের ফালি, একটায় তেলের দাগ আর অন্যটা শুকনো, পাশে কব্জিতে মাখার ১, ৩ আর ৬ ঘণ্টা পরে ঘ্রাণ কতটা থাকল তার খাতা
কাগজের দাগ বলে আতর তেলের না অ্যালকোহলের, আর খাতার সময় বলে ঘ্রাণ কতক্ষণ থাকে

সবচেয়ে কাজের অভ্যাসটা হলো একটা রেফারেন্স বোতল রাখা। যে লটটা প্রথমবার ভালো লাগল, তার থেকে ৩ মিলি আলাদা করে রেখে দিন, গায়ে দোকানের নাম আর তারিখ লিখে। পরের বার মাল আনলে দুটো কাগজের ফালিতে পুরনো আর নতুনটা পাশাপাশি দিন। পাইকারের লট বদলায়, আর কাস্টমার এটা ঠিকই ধরেন। "আগেরবারের মতো না ভাই" কথাটা শোনার আগে আপনি নিজেই ধরতে পারবেন।

আর দামের দিকে চোখ রাখুন। প্রথম আলো ২০২৫ সালে লিখেছে, সবচেয়ে দামি কস্তুরি আতরের দাম প্রতি তোলা (১২ মিলি) ২০ হাজার টাকা, মানে মিলিতে ১,৬০০ টাকার বেশি। তাই কেউ "খাঁটি কস্তুরি" ৩ মিলি ১০০ টাকায় দিলে বুঝবেন ওটা আসল কস্তুরি হওয়ার কথা না। সস্তা আতর বেচায় দোষ নেই, দোষ হলো সস্তা জিনিসকে দামি নামে বেচা।

কোন সাইজের আতরের বোতলে কত দাম রাখবেন?

আতর বিক্রি হয় মিলি ধরে। প্রথম আলো ২০২৪ আর ২০২৫ দুই বছরের রিপোর্টেই লিখেছে, বায়তুল মোকাররমের বেশিরভাগ দোকান ৩ মিলির ছোট বোতলে ভরে আতর বেচে। ২০২৫ সালের রিপোর্টে সেখানকার দাম প্রতি মিলি ২০ থেকে ১২০ টাকা, আর বেশি চলে মিলিপ্রতি ২০-৩০ থেকে ৮০-১০০ টাকার আতর। পুরনো হিসাবের এক তোলা মানে ১২ মিলি, এটা বড় কেনার সময় কাজে লাগবে।

আমার পরামর্শ, অনলাইনে তিনটা সাইজ রাখুন। ৩ মিলি রাখুন নতুন কাস্টমারের জন্য, যিনি ঘ্রাণটা না শুঁকে বেশি টাকা দিতে চান না। ৬ মিলি হবে আপনার মূল সাইজ, পোস্টে আর অ্যাডে এটাকেই সামনে রাখুন। আর ১২ মিলি, মানে এক তোলা, রাখুন তাঁর জন্য যিনি আগে কিনে খুশি হয়েছেন। বড় বোতলে মিলিপ্রতি দাম একটু কম রাখবেন। কাস্টমার দেখবেন বড়টায় সাশ্রয়, আর আপনার অ্যাড, প্যাকিং আর কুরিয়ারের খরচ তো প্রতি অর্ডারে একই থাকে। ফলে বড় বোতলে আপনার হাতেও বেশি থাকে।

নিচের সংখ্যাগুলো একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল দর না। ধরে নিচ্ছি পাইকারি দরে আতর আপনার মিলিপ্রতি ২৫ টাকা পড়ে, আর রোল-অন বোতল সাইজভেদে ১০ থেকে ১৫ টাকা। নিজের দর বসিয়ে মিলিয়ে নিন।

সাইজ আপনার খরচ (আতর + বোতল) বিক্রির দাম অ্যাড-প্যাকিংয়ের আগে হাতে থাকে
৩ মিলি ৭৫ + ১০ = ৮৫ টাকা ২২০ টাকা ১৩৫ টাকা
৬ মিলি ১৫০ + ১২ = ১৬২ টাকা ৪০০ টাকা ২৩৮ টাকা
১২ মিলি (১ তোলা) ৩০০ + ১৫ = ৩১৫ টাকা ৭০০ টাকা ৩৮৫ টাকা

খেয়াল করুন, ৩ মিলিতে হাতে থাকে ১৩৫ টাকা। এর থেকে অ্যাড, বক্স আর বাবল র‍্যাপ গেলে প্রায় কিছুই থাকে না। তাই ৩ মিলি একা বেচার জন্য না। এটা দিন তিন ঘ্রাণের একটা "নমুনা সেট" হিসেবে, বা বড় অর্ডারের সাথে উপহার হিসেবে। যিনি নমুনা সেট থেকে একটা ঘ্রাণ পছন্দ করলেন, পরের বার ১২ মিলির কথা বলার মতো সবচেয়ে ভালো কাস্টমার তিনিই।

আতরের অর্ডার ফর্মের নকশা, ৩, ৬ আর ১২ মিলি বোতলের তিনটা অপশন ২২০, ৪০০ আর ৭০০ টাকা, সাথে আতর আর টুপির দুটো কম্বো
তিন সাইজের বোতল আর সাথের একটা টুপি, অর্ডার ফর্মে এগুলোই আলাদা আলাদা অপশন

এবার আসি কম্বোর কথায়, যেমন আতরের সাথে একটা টুপি, বা ঈদের আগে আতর, টুপি আর তসবিহ দিয়ে একটা উপহার বক্স। কম্বো কাজ করে কারণ অ্যাডের টাকা একবারই যায়, কিন্তু অর্ডারের অঙ্ক বাড়ে। কোন জিনিসের সাথে কোনটা মানায় আর কনফার্ম কলে কীভাবে একটা জিনিস যোগের কথা বলবেন, সেটা আপসেল আর ক্রস সেলের লেখায় আছে। একটা জিনিস মনে রাখবেন। কম্বোগুলো যদি অর্ডার ফর্মে পাশাপাশি আলাদা কার্ড হয়ে থাকে, যেমন "শুধু আতর ৬ মিলি" আর "আতর + টুপি", তাহলে কাস্টমার নিজেই বেছে নেন, আপনাকে ইনবক্সে বোঝাতে হয় না।

আতরের কাচের বোতল কুরিয়ারে পাঠাবেন কীভাবে, যাতে না ভাঙে?

আগে জেনে রাখুন বোতল ভাঙলে ক্ষতিটা কার। ২০২৬ সালের অক্টোবরে Steadfast-এর শর্তে লেখা আছে, ভাঙা যায় এমন আর তরল জিনিস নষ্ট হলে তারা টাকা দেয় না। উদাহরণের লিস্টে পারফিউমের বোতলের নাম আলাদা করে লেখা আছে, আর দুর্বল প্যাকিংয়ের দায়ও তারা নেয় না। মানে বোতল ভাঙলে আতরের দাম তো যায়ই, সাথে কাস্টমারের বিশ্বাসটাও যায়।

আতরের বিপদ শুধু ভাঙা না, লিক করাও। রোল-অনের বল একটু ঢিলা থাকলে তেল চুইয়ে বের হয়, আর একই বক্সে সাদা টুপি থাকলে তাতে তেলের দাগ পড়ে যায়। ভাবুন তো, ঈদের টুপি খুলে কাস্টমার দেখলেন হলুদ দাগ। তিনি পুরো পার্সেলটাই ফেরত দিতে পারেন, আর তাঁকে দোষও দেওয়া যায় না। তাই আতরের জন্য আলাদা তিনটা কাজ করুন।

  1. বোতল ভরে ক্যাপ শক্ত করে লাগান, তারপর একটা টিস্যুর ওপর উল্টো করে আধা ঘণ্টা রেখে দিন। টিস্যু ভিজলে সেই বোতল পাঠাবেন না, বল বা ক্যাপ বদলে নিন।
  2. ক্যাপ আর বোতলের জোড়ায় এক পাক টেপ দিয়ে বোতলটা একটা ছোট জিপ ব্যাগে ভরুন। লিক হলেও তেল ব্যাগের ভেতরেই আটকে থাকবে।
  3. টুপি, জায়নামাজ বা তসবিহ রাখুন আলাদা পলিতে, বোতল থেকে দূরে।

এরপর বাবল র‍্যাপে মুড়ে শক্ত বক্সে বসানো আর বক্স ঝাঁকিয়ে দেখার কাজটা অন্য যেকোনো কাচের জিনিসের মতোই। বক্স কোথায় পাবেন আর কোন বক্সে কত খরচ, সেসবসহ পুরো নিয়মটা কুরিয়ারের জন্য প্যাকেজিংয়ের লেখায় আছে।

একজন তরুণ ছেলে টেবিলে বসে আতরের বোতল প্যাক করছেন, সামনে টেপ জড়ানো রোল-অন বোতল, একটা জিপ ব্যাগ, বাবল র‍্যাপের রোল আর একটা ছোট বাদামি বক্স, পাশে আলাদা পলিতে ভাঁজ করা টুপি
বোতল জিপ ব্যাগে, টুপি আলাদা পলিতে, যাতে একটা লিক পুরো পার্সেল নষ্ট না করে

স্প্রে পারফিউম রাখতে চাইলে আলাদা করে সাবধান হন। ওতে অ্যালকোহল থাকে, আর অ্যালকোহলে আগুন ধরে। Steadfast-এর শর্তে বিপজ্জনক জিনিস পাঠানো নিষেধ লেখা আছে, তাই স্প্রে পাঠানোর আগে আপনার কুরিয়ারকে জিজ্ঞেস করে নিন তারা নেয় কি না। তেলের আতরে এই প্রশ্ন সাধারণত ওঠে না।

প্রথম অর্ডার পাঠানোর আগে একটা ছোট কাজ করুন। অন্য জেলায় থাকা কোনো আত্মীয় বা বন্ধুকে একটা পার্সেল পাঠান, আর খুলে কী অবস্থায় পেলেন ছবি তুলে দিতে বলুন। একটা পার্সেলের খরচে এই টেস্ট আপনাকে অনেক ফেরত পার্সেলের কষ্ট থেকে বাঁচাবে।

রমজান, ঈদ আর জুমায় কবে মাল তুলবেন, কবে অ্যাড দেবেন?

বাজারের ক্যালেন্ডারটা আগে বুঝুন। প্রথম আলোর ২০২৩ সালের টুপির রিপোর্টে আছে, কারখানাগুলোতে শবে বরাত থেকে জোরেশোরে টুপি বানানো চলে মোটামুটি ২০ রোজা পর্যন্ত। আর ২০২৫ সালের আতরের রিপোর্ট বলছে, দোকানে আতরের বিক্রি জমে ১৫ রোজার পরে।

কোরবানির ঈদেও এই বাজার ঘুমায় না। দৈনিক চট্টলার খবরের ২০২৬ সালের মে মাসের রিপোর্টে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা বলেছেন, কোরবানির ঈদে পোশাকের চেয়ে টুপি আর সুগন্ধির চাহিদা বেশি থাকে। তাই বছরে আপনি দুটো বড় মৌসুম পাচ্ছেন।

কিন্তু অনলাইন সেলারের হিসাবটা আলাদা। দোকানদার ২০ রোজার পরে বেচলেও চলে, কারণ কাস্টমার নিজে হেঁটে আসেন। আপনার পার্সেল কুরিয়ারে যায়, ঢাকার বাইরে পৌঁছাতে কয়েক দিন লাগে, আর ঈদের আগে কুরিয়ারেও ভিড় থাকে। তাই শবে বরাতের মধ্যেই পাইকারের সাথে দর ঠিক করে মাল তুলে ফেলুন, কারণ মৌসুমের ভিড়ে ভালো লট আগে শেষ হয়। অ্যাড চালু করুন রমজানের প্রথম দশ দিনেই। আর পেজে আগে থেকে লিখে দিন, ঢাকার বাইরে কোন তারিখের পরের অর্ডার ঈদের আগে পৌঁছাবে বলে কথা দিতে পারছেন না। শেষ মুহূর্তে "ঈদের আগে পৌঁছাবে তো?" কথাটা দিয়ে যে অর্ডার নেবেন, দেরি হলে তার অনেকগুলোই দরজা থেকে ফেরত আসবে।

সারা বছরের ছোট মৌসুম হলো প্রতি সপ্তাহের জুমা, কারণ অনেকেই জুমার নামাজের আগে আতর মাখেন। তাই আতরের পোস্ট বা অ্যাড দিন সপ্তাহের শুরুতে, ধরুন শনি থেকে সোমবারের মধ্যে। তাহলে পার্সেল বৃহস্পতিবারের মধ্যে পৌঁছানোর সময় পায়, আর বৃহস্পতিবার রাতে কাউকে "পাবেন না ভাই" বলার কষ্টটাও কমে।

ঈদের অফারে ছাড় দিতে চাইলে হুট করে দেবেন না, আগে থেকে শেষ তারিখসহ ঠিক করে রাখুন। যেমন ধরুন, রমজানের শেষ দশ দিন ৮০০ টাকার বেশি অর্ডারে ফ্রি ডেলিভারি। শেষ তারিখ না থাকলে ঈদের পরেও কাস্টমার একই ছাড় চাইবেন, আর না দিলে মন খারাপ করবেন।

ঈদের ফ্রি ডেলিভারি কুপন শেষ তারিখসহ আগেই বানিয়ে রাখুনকুপন, অর্ডার ফর্ম আর কুরিয়ার এক জায়গায়

এক অর্ডারে আসলে কত লাভ থাকে? (টাকার উদাহরণ)

এখানেও সব সংখ্যা একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। বোতলের খরচ ওপরের টেবিল থেকে নিলাম, আর ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার দেন বলে ধরছি।

প্রতিটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডার আনতে অ্যাডে গেছে ১২০ টাকা। ডলার কার্ডে অ্যাড চালালে মাসের ডলার স্পেন্ড টাকায় বদলে ডেলিভারি হওয়া অর্ডারের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করুন, নিজের সংখ্যাটা পেয়ে যাবেন। অনেক কুরিয়ার COD-এর টাকার ওপর ছোট একটা চার্জ কাটে, সেটা ধরলাম ৫ টাকা। আর ১০টা পার্সেলে ১টা ফেরত আসে, প্রতিটা ফেরতে কুরিয়ার চার্জ আর নষ্ট প্যাকেট মিলে ১৩০ টাকা যায়। সেই ১৩০ টাকা দশটা অর্ডারে ভাগ করলে প্রতি অর্ডারে পড়ে ১৩ টাকা।

প্রথমে ধরুন কেউ শুধু ৬ মিলির একটা আতর নিলেন ৪০০ টাকায়। আতর আর বোতলে গেছে ১৬২ টাকা, প্যাকিংয়ে ৩০, অ্যাডে ১২০, COD চার্জ ৫ আর ফেরতের ভাগ ১৩। সব মিলিয়ে খরচ ৩৩০ টাকা, হাতে থাকে ৭০ টাকা। একটা অর্ডারের পেছনে কল, প্যাকিং আর কুরিয়ারের দৌড়ের পরে ৭০ টাকা, শুনে বুকটা একটু দমেই যায়।

এবার একই কাস্টমার ৬ মিলি আতরের সাথে একটা টুপিও নিলেন, দাম ৫৫০ টাকা। টুপি পাইকারি দরে ধরলাম ৪৫ টাকা, আর আলাদা পলি লাগে বলে প্যাকিং ৩৫। খরচ দাঁড়াল ১৬২ + ৪৫ + ৩৫ + ১২০ + ৫ + ১৩ = ৩৮০ টাকা, হাতে থাকে ১৭০ টাকা। অ্যাড একই, পার্সেলও একটাই, কিন্তু লাভ দ্বিগুণের বেশি।

আর কেউ যদি ১২ মিলি আতর আর একটা টুপি নেন ৮৫০ টাকায়, খরচ হয় ৩১৫ + ৪৫ + ৩৫ + ১২০ + ৫ + ১৩ = ৫৩৩ টাকা। তখন হাতে থাকে ৩১৭ টাকা।

চার রকম অর্ডারে টাকার ভাগ, শুধু ৬ মিলিতে হাতে ৭০ টাকা, টুপির কম্বোতে ১৭০, ১২ মিলি আর টুপিতে ৩১৭ আর পুরনো কাস্টমারের অর্ডারে ১৯০ টাকা
অ্যাড একবার, পার্সেল একটা, কিন্তু কম্বোতে হাতে থাকে দ্বিগুণের বেশি

হিসাবটা খেয়াল করলে দেখবেন, অ্যাডের ১২০ টাকা প্রতিটা অর্ডারে চুপচাপ বসে থাকে। তাই এই ব্যবসায় আসল খেলা হলো এক পার্সেলে অর্ডারের অঙ্ক বাড়ানো। ফ্রি ডেলিভারি দিলে চার্জটা এই লাভ থেকেই কাটবে, তাই ফ্রি ডেলিভারি দিন বড় বোতল বা বড় কম্বোতে, একা ৬ মিলিতে কখনো না।

আর সবচেয়ে মিষ্টি হিসাবটা আসে পুরনো কাস্টমার থেকে। যিনি গত মাসে ৬ মিলি নিয়েছিলেন, তাঁর বোতল শেষ হওয়ার আগে একটা ফোন দিলেন, আর তিনি আবার নিলেন। এবার অ্যাডে এক টাকাও যায়নি। খরচ ১৬২ + ৩০ + ৫ + ১৩ = ২১০ টাকা, আর হাতে থাকে ১৯০ টাকা। প্রথম অর্ডারের ৭০ টাকা আর দ্বিতীয় অর্ডারের ১৯০ টাকা, এই ফারাকটাই বলে দেয় আতরের ব্যবসায় কোন কাস্টমারকে যত্ন করতে হবে।

আতরের পোস্টে আর অ্যাডে কোন কথা লিখবেন না?

আতরের পোস্টে অনেকে বড় বড় কথা লেখেন, কারণ ঘ্রাণ তো ছবিতে দেখানো যায় না। কিন্তু কথা না মিললে কাস্টমার শুধু রিফান্ড চান না, কমেন্টে সবার সামনে বলে দেন। তার ওপর ভোক্তা অধিকার আইন, ২০০৯-এর ৪৪ ধারায় মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষ ঠকানোর শাস্তি লেখা আছে এক বছর পর্যন্ত জেল, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বা দুটোই। তাই এই লাইনগুলো পোস্টে রাখবেন না।

  • প্রমাণ বা পাইকারের কাগজ ছাড়া "১০০% খাঁটি" বা "অরিজিনাল"।
  • লেবেলে বা পাইকারের লিখিত কথায় না থাকলে "অ্যালকোহলমুক্ত"।
  • রোগ বা শরীরের উপকারের দাবি, যেমন "মাথাব্যথা কমায়" বা "ঘুম ভালো হয়"।
  • বড় ব্র্যান্ডের নাম দিয়ে "অরিজিনাল" লেখা, যখন জিনিসটা শুধু ওই ঘ্রাণের কাছাকাছি।
  • ধর্মীয় দাবি, যেমন "এই আতর মাখলে সওয়াব বেশি"। ধর্মের কথা দিয়ে বিক্রি বাড়ানোর চেষ্টা করবেন না।

তার বদলে লিখুন যা আপনি নিজে মেপেছেন। ঘ্রাণটা ফুলের, মিষ্টি, নাকি কাঠের মতো ভারী, সেটা লিখুন। আপনার নিজের টেস্টে হাতে কত ঘণ্টা ছিল, বোতলে কত মিলি আছে, আর আতরটা তেলের না অ্যালকোহলের, সেটাও লিখে দিন। আর যত মিলি লিখবেন, বোতলে ঠিক ততটাই ভরবেন। কথা দেওয়া পরিমাপের চেয়ে কম দেওয়াকে ভোক্তা অধিকার আইন অধিকারবিরোধী কাজ বলেছে, আর কাস্টমারও বোতল উঁচু করে ঠিকই দেখেন।

আজ কোথা থেকে শুরু করবেন?

এই সপ্তাহে বড় টাকা ঢালবেন না। তিনটা দোকান ঘুরে পাঁচ-ছয়টা ঘ্রাণের ৩ মিলি নমুনা কিনুন, আর তিন দিন হাতে মেখে সময় লিখুন। যে তিনটা ঘ্রাণ সবচেয়ে বেশি সময় থাকে আর আপনার নিজেরও ভালো লাগে, সেগুলো দিয়েই শুরু করুন। সাথে বিশ-ত্রিশটা টুপি নিন, আর অন্য জেলার এক বন্ধুকে একটা টেস্ট পার্সেল পাঠান। প্রথম মাসে লক্ষ্য একটাই, প্রতিটা অর্ডারের পরে হাতে কত থাকল সেটা গুনে দেখা।

ইনবক্সে একেকজনকে কম্বো বোঝাতে বোঝাতে ক্লান্ত হয়ে গেলে নিজের ওয়েবসাইট কাজটা অনেক হালকা করে দেয়। WinningSeller-এ অর্ডার ফর্মের প্রতিটা ভ্যারিয়েন্ট আলাদা প্যাকেজ কার্ড হয়ে দেখায়, ছবি আর দামসহ, যেমন "শুধু আতর" আর "আতর + টুপি"। রমজানের কুপনে শুরু আর শেষের তারিখ বসিয়ে রাখা যায়, আর মিনিমাম অর্ডারের শর্তও দেওয়া যায়। অর্ডার কনফার্ম হলে Steadfast, Pathao, RedX-সহ ছয়টা কুরিয়ারে এক ক্লিকে পার্সেল বুক হয়, আর লাভ-ক্ষতির হিসাব হয় শুধু ডেলিভারি হওয়া অর্ডার ধরে। নিজের আতর দিয়েই আগে চালিয়ে দেখতে পারেন (প্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম)।

শেষে একটা কথা। আতরের ব্যবসায় প্রথম মাসের লাভ দেখে হতাশ হবেন না। যে কাস্টমার একবার আপনার আতর মেখে জুমায় গেলেন আর পাশের মানুষ জিজ্ঞেস করলেন "ভাই, কোন আতর?", তিনিই আপনার আসল পুঁজি।

সাধারণ প্রশ্ন

ঢাকায় আতরের পাইকারি বাজার কোথায়?

ঢাকায় আতরের বড় পাইকারি জায়গা হলো পুরান ঢাকার মিটফোর্ড, গুলিস্তানের খদ্দর মার্কেট, চকবাজার আর বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেট। প্রথম আলো ২০২৫ সালের মার্চে বায়তুল মোকাররমকে দেশে আতর বিক্রির বড় কেন্দ্র বলেছে, আর মিটফোর্ডে আতর-পারফিউমের বড় পাইকারি বাজারের কথা লিখেছে। প্রথমবার গেলে কয়েকটা দোকান ঘুরে দাম মিলিয়ে নিন।

চট্টগ্রামে আতর আর টুপির পাইকারি কোথায় পাব?

চট্টগ্রামে খুঁজবেন রিয়াজউদ্দিন বাজার, আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ মার্কেট আর চকবাজার এলাকায়। দৈনিক চট্টলার খবর ২০২৬ সালের মে মাসে এই তিন জায়গাকে নগরীর টুপি-আতরের সবচেয়ে বড় পাইকারি ও খুচরা বাজার বলেছে। টুপির জন্য প্রথম আলোর ২০২৩ সালের একটা রিপোর্টে বকশির হাটের নামও আছে।

আসল আতর চেনার সহজ উপায় কী?

ঘরে বসে কোনো টেস্টে শতভাগ প্রমাণ হয় না, তবে কয়েকটা কাজে ঠকার ঝুঁকি অনেক কমে। হাতে এক ফোঁটা দিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে ঘ্রাণ কতক্ষণ থাকে দেখুন, প্রথম ভালো লটের একটা নমুনা রেখে দিয়ে নতুন লটের সাথে মেলান, আর নামি আতর খুব সস্তায় পেলে সন্দেহ করুন। চেনা দোকান আর কোম্পানির নাম দেখে কেনাও জরুরি।

আতর কুরিয়ারে পাঠালে ভাঙলে টাকা কে দেয়?

বেশিরভাগ সময় টাকাটা আপনারই যায়। ২০২৬ সালের অক্টোবরে Steadfast-এর শর্তে লেখা আছে, ভাঙা যায় এমন আর তরল জিনিস নষ্ট হলে তারা টাকা দেয় না, আর সেই লিস্টে পারফিউমের বোতলের নাম আলাদা করে আছে। তাই প্যাকিংটাই আপনার একমাত্র বিমা।

আতর বিক্রি করতে কি লাইসেন্স লাগে?

ট্রেড লাইসেন্স তো সব ব্যবসাতেই লাগে। ২০২৩ সালের ঔষধ ও কসমেটিকস্ আইনে আতরের নাম ধরে কিছু লেখা নেই, আর ২০২৬ সালের অক্টোবরে BSTI-র বাধ্যতামূলক লিস্টে আমরা আতর বা পারফিউমের নাম পাইনি। নিজের লেবেলে বোতলজাত করলে বা নিজে আমদানি করলে জেলার ঔষধ প্রশাসন অফিসে জিজ্ঞেস করে নিন।

টুপি পাইকারি মার্কেট কোথায়?

প্রথম আলো ২০২৩ সালের এপ্রিলে লিখেছে, দেশে টুপির সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার ঢাকার চকবাজার আর গুলিস্তানের খদ্দর মার্কেট। বায়তুল মোকাররম মার্কেটে পাইকারি আর খুচরা দুটোই চলে। ঢাকার বাইরে সিলেটের হাজী কুদরত উল্লাহ মার্কেট আর কুমিল্লার কান্দিরপাড়েও পাইকারি দামে টুপি বিক্রি হয় বলে একই রিপোর্টে আছে।

#আতরের পাইকারি বাজার#আতর ব্যবসা#টুপি পাইকারি মার্কেট#জায়নামাজ পাইকারি#আতর টুপির ব্যবসা#ঈদের ব্যবসা

আরও পড়ুন

খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম

বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম

থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত

অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।

·১২ মিনিটে পড়া যায়