WinningSeller
মার্কেটিং ও ল্যান্ডিং পেজ১২ মিনিটে পড়া যায়

এআই দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি, ফ্রিল্যান্সার ছাড়াই আজকেই ল্যান্ডিং পেজ

এক প্রোডাক্ট বেচলে পুরো ওয়েবসাইট লাগে না, একটা ল্যান্ডিং পেজই যথেষ্ট। এআই-কে কোন তথ্য দেবেন, কোন প্রম্পটে লেখাবেন, আর পাবলিশের আগে কোন লাইন মিলিয়ে নেবেন, সেটা এখানে ধাপে ধাপে দেখানো আছে।

এআই দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি, ফ্রিল্যান্সার ছাড়াই আজকেই ল্যান্ডিং পেজ
এই লেখায় যা আছে
  1. এআই দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি বলতে আসলে কী হয়, আর কী হয় না?
  2. এক প্রোডাক্ট বেচলে পুরো ওয়েবসাইট না, ল্যান্ডিং পেজ কেন?
  3. এআই-কে কোন তথ্যগুলো দিতেই হবে?
  4. ধাপ ১: প্রোডাক্ট বাছুন, অথবা নাম, দাম আর ছবি দিন
  5. ধাপ ২: প্রোডাক্টটা কী আর কার জন্য, নিজের ভাষায়
  6. ধাপ ৩: অফার আর রং, তারপর লেখা তৈরি
  7. পাবলিশের আগে এআই-এর লেখার কোন লাইনগুলো মিলিয়ে দেখবেন?
  8. কোন কথা এআই লিখলেও কেটে দেবেন?
  9. কখন এআই না, নিজে টেমপ্লেট থেকে বানানো ভালো?

এআই দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়, কিন্তু এক প্রোডাক্ট বেচলে আপনার আসলে পুরো ওয়েবসাইট লাগে না, লাগে একটা ল্যান্ডিং পেজ। মানে এক প্রোডাক্টের একটা পেজ, যেখানে ছবি, দাম, কাস্টমারের প্রশ্নের উত্তর আর নিচে অর্ডার ফর্ম থাকে। এআই এই পেজের পুরো লেখাটা কয়েক মিনিটে লিখে দিতে পারে, যদি আপনি তাকে প্রোডাক্টের আসল তথ্য দেন। প্রথমে প্রোডাক্টটা কী, কারা কেনেন আর অফার কী, সেটা নিজের ভাষায় লিখে দেবেন। তারপর নিজের তোলা ছবি দেবেন। শেষে পাবলিশের আগে এআই-এর প্রতিটা লাইন পড়ে মিলিয়ে নেবেন।

পরিস্থিতিটা অনেক সেলারের চেনা। প্রোডাক্ট স্টকে এসে গেছে, অ্যাডের বাজেটও ঠিক করা আছে, ডলার কার্ডে টাকাও ভরে রেখেছেন। রাত এগারোটায় ল্যাপটপ খুলে পেজের লেখা লিখতে বসলেন, আর প্রথম লাইনটাই মাথায় আসছে না। ফ্রিল্যান্সারকে মেসেজ দিলেন, তিনি বললেন পরের সপ্তাহে দেবেন। এদিকে সিজন চলে যাচ্ছে, আর প্রতিটা দিন দেরিতে অর্ডার না আসা মানে স্টকের টাকা আটকে থাকা। নিচে দেখাচ্ছি কীভাবে এআই দিয়ে আজকেই একটা কাজের পেজ দাঁড় করাবেন, আর কোন জায়গায় এআই-কে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করবেন না।

এআই দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি বলতে আসলে কী হয়, আর কী হয় না?

এআই ওয়েবসাইট বানায়, কথাটা শুনলে মনে হয় একটা বাটন চাপলেই দোকান রেডি। আসলে এআই এখানে একজন লেখকের কাজ করে। আপনি প্রোডাক্টের কথা বলেন, এআই সেটা থেকে হেডলাইন, সমস্যা আর সমাধানের কথা, সুবিধার লিস্ট আর প্রশ্নোত্তর লিখে দেয়। কিছু টুল সেকশনগুলো সাজিয়ে রং মিলিয়েও দেয়। এই কাজটা মানুষের হাতে লিখতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাগে, এআই করে কয়েক মিনিটে।

কিন্তু এআই আপনার প্রোডাক্ট চোখে দেখেনি। আপনার গুড় কোন গ্রামের, আপনার পাঞ্জাবির কাপড় কতটা মোটা, ঢাকার বাইরে পার্সেল কয় দিনে যায়, এগুলো সে জানে না। জানে না বলে থেমেও থাকে না, আন্দাজে সুন্দর করে লিখে ফেলে। ChatGPT-এর নিজের স্ক্রিনের নিচেই ছোট করে লেখা থাকে যে সে ভুল করতে পারে, তাই জরুরি তথ্য মিলিয়ে নিতে হবে। সেলারের জন্য এই ভুলের দাম অনেক বেশি। পেজে যা লেখা থাকে, কাস্টমার পার্সেল খুলে ঠিক সেটাই আশা করেন। না মিললে পার্সেল দরজা থেকেই ফেরত আসে, আর কুরিয়ার চার্জ যায় আপনার পকেট থেকে।

আরেকটা কথা পরিষ্কার করে বলি। এআই শুধু আপনার দেওয়া তথ্য থেকেই লিখতে পারে। আপনি যদি শুধু লেখেন "ভালো মানের গুড়", এআই লিখবে "উন্নত মানের খাঁটি গুড়, স্বাদে অতুলনীয়"। এমন লাইন কাস্টমার আরও একশোটা পেজে দেখেছেন, তাই পড়েও দেখবেন না। তথ্য যত আসল আর নির্দিষ্ট, পেজ তত জীবন্ত। ছবি তোলা, অর্ডার নেওয়া আর কুরিয়ারে পাঠানোর কাজও এআই করে না। ওগুলো আপনার প্ল্যাটফর্ম আর আপনার হাতের কাজ।

এক প্রোডাক্ট বেচলে পুরো ওয়েবসাইট না, ল্যান্ডিং পেজ কেন?

ফেসবুক অ্যাডে ক্লিক করে যিনি আসেন, তিনি একটা জিনিসের জন্যই এসেছেন, যেটা অ্যাডে দেখেছেন। তাঁকে যদি চল্লিশটা প্রোডাক্টের হোমপেজে নামান, তিনি খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত হয়ে চলে যাবেন। আপনার অ্যাডের ডলার খরচ হলো, অথচ অর্ডার এলো না। ল্যান্ডিং পেজে কাস্টমারকে শুধু একটা জিনিস নিয়েই ভাবতে হয়, নেবেন কি নেবেন না। মন ঠিক হলে একটু নিচে নামলেই অর্ডার ফর্ম পেয়ে যান। এজন্যই নতুন প্রোডাক্ট টেস্ট করার সময় বা একটা প্রোডাক্টে অ্যাড চালানোর সময় ল্যান্ডিং পেজই কাজের।

একটা ভালো ল্যান্ডিং পেজে কী কী থাকতে হয়, যেমন প্রথম স্ক্রিনেই প্রোডাক্ট আর দাম, কাস্টমারের ভাষায় সমস্যা আর সমাধান, আসল ছবি, প্রশ্নোত্তর আর পেজের ভেতরেই অর্ডার ফর্ম, সেটা এক প্রোডাক্টের ল্যান্ডিং পেজ নিয়ে লেখায় সাতটা ভাগে বিস্তারিত বলা আছে। এখানে সেগুলো আবার বলছি না। এই লেখার কাজ হলো সেই পেজের লেখাটা এআই দিয়ে কীভাবে লেখাবেন, আর এআই-এর লেখা কীভাবে চেক করে নেবেন।

পুরো ওয়েবসাইট কখন লাগে, সেটাও বলে রাখি। আপনার যদি অনেক প্রোডাক্ট থাকে আর পুরনো কাস্টমাররা ঘুরে ঘুরে দেখে কেনেন, তখন একটা স্টোর দরকার। তবে স্টোর থাকলেও অ্যাডের লিংক দেবেন সেই প্রোডাক্টের ল্যান্ডিং পেজে, হোমপেজে না।

এআই-কে কোন তথ্যগুলো দিতেই হবে?

এআই-এর লেখা ভালো হবে কি না, সেটা ঠিক হয়ে যায় এআই-কে লেখার আগেই। একজন অভিজ্ঞ কপিরাইটার কাজ শুরুর আগে আপনাকে কিছু প্রশ্ন করতেন, এআই-কেও সেই উত্তরগুলো আপনাকেই দিতে হবে। নিচের তথ্যগুলো একটা কাগজে বা মোবাইলের নোটে আগে লিখে ফেলুন।

  • প্রোডাক্টটা কী। লিখুন কী দিয়ে বানানো, কোথা থেকে আসে, দেখতে কেমন আর ওজন বা মাপ কত।
  • অন্যদের থেকে আলাদা কেন। বাজারের একই জিনিসের সাথে আপনারটার আসল পার্থক্যটা লিখুন।
  • কারা কেনেন, আর কোন কষ্ট থেকে। বয়স, পেশা আর এলাকা লিখুন, সাথে সেই ঝামেলার কথা, যেটা কাস্টমার আপনাকে নিজে বলেন।
  • কাস্টমার সাধারণত কী জিজ্ঞেস করেন। ইনবক্সে বারবার আসা প্রশ্নগুলো লিখুন, আর সেই ভয়টাও, যেটার কারণে অনেকে অর্ডার দেন না।
  • অফার, ডেলিভারির সময় আর ফেরতের নিয়ম। শুধু সেটুকুই লিখুন, যা আপনি সত্যিই দেন।

এই তথ্য কোথায় পাবেন, সেটাও আপনার হাতের কাছেই আছে। গত মাসের ইনবক্স খুলে দেখুন কাস্টমাররা কী জিজ্ঞেস করেছেন, আর কোন কথায় অর্ডার দিয়েছেন। কনফার্ম কলে কেউ যদি বলে থাকেন "বাজারের গুড়ে চিনি মেশানো থাকে বলে আপনার থেকে নিচ্ছি", সেই কথাটাই আপনার পেজের সবচেয়ে দামি লাইন। কারণ এটা কাস্টমারের নিজের ভাষা, আর পরের কাস্টমারও ঠিক এভাবেই ভাবেন।

তফাতটা একটা উদাহরণে দেখুন। নিচের প্রোডাক্ট আর তথ্যগুলো উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল তথ্য না। ধরুন আপনি যশোরের খেজুরের পাটালি গুড় বেচেন। দুর্বল তথ্য হলো "খাঁটি খেজুরের গুড়, খুব ভালো"। কাজের তথ্য হলো "যশোরের গাছির কাছ থেকে সরাসরি আনা, শীতের প্রথম রসের পাটালি। চিনি বা হাইড্রোজ মেশানো হয় না, তাই রং একটু কালচে। চা আর পিঠায় দেন বেশিরভাগ মানুষ। ঢাকার চাকরিজীবী পরিবার বেশি নেন, যাঁরা গ্রামের আসল গুড়ের স্বাদ মিস করেন।" দ্বিতীয়টা পেলে এআই এমন পেজ লেখে যেটা পড়ে মানুষের মনে হয়, এটা তো আমার কথাই বলছে।

ধাপ ১: প্রোডাক্ট বাছুন, অথবা নাম, দাম আর ছবি দিন

প্রথম ধাপে তিনটা জিনিস ঠিক করুন, প্রোডাক্টের নাম, দাম আর ছবি। নামটা এমনভাবে লিখুন যাতে মাপও বোঝা যায়, যেমন "খেজুরের পাটালি গুড় (১ কেজি)"। এতে কাস্টমার শুরুতেই জানেন কত টাকায় কতটুকু পাচ্ছেন, আর পরে "এত ছোট!" বলে পার্সেল ফেরত দেন না।

দামটা আপনি নিজে বসাবেন, এআই-কে দিয়ে লেখাবেন না। কারণটা সহজ। লেখার মাঝে দাম ঢুকে গেলে যেদিন দাম চেঞ্জ করবেন, সেদিন পেজের কোনো এক কোণে পুরনো দামটা থেকে যাবে। কাস্টমার পেজে এক দাম পড়ে ফর্মে আরেক দাম দেখলে মনে করেন আপনি ঠকাচ্ছেন। আগের দাম কেটে নতুন দাম দেখাতে চাইলে সেটাও শুধু তখনই দিন, যখন আগে সত্যিই ওই দামে বিক্রি করেছেন।

ছবি দিন নিজের তোলা, অন্তত চার-পাঁচটা। একটা পুরো প্রোডাক্টের, একটা কাছ থেকে, একটা হাতে ধরে মাপ বোঝানোর, আর একটা প্যাকেটের। আসল ছবি দরকার, কারণ কাস্টমার ছবি দেখে বিশ্বাস করেন আর পার্সেল খুলে সেই জিনিসটাই খোঁজেন। মোবাইলে ঘরে বসে কীভাবে পরিষ্কার ছবি তুলবেন, সেটা মোবাইল দিয়ে প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফির লেখায় ধাপে ধাপে আছে। ছবির পেছনটা এআই দিয়ে সাজাতে পারেন, কিন্তু প্রোডাক্টটা যেন আসলের মতোই থাকে।

একজন তরুণ সেলার টেবিলে বসে মোবাইলে প্রোডাক্টের তথ্য লিখছেন, পাশে খেজুরের পাটালি গুড়ের কয়েকটা চাকা আর একটা নোটখাতা
এআই-কে লেখানোর আগে প্রোডাক্টের আসল তথ্যগুলো নিজের ভাষায় লিখে রাখুন

ধাপ ২: প্রোডাক্টটা কী আর কার জন্য, নিজের ভাষায়

এই ধাপটাই পুরো পেজের প্রাণ। প্রোডাক্টটা কী, কেন আলাদা, কারা কেনেন আর কোন কষ্ট থেকে কেনেন, এগুলো লিখবেন ঠিক যেভাবে ফোনে কাস্টমারকে বোঝান। বানান ভুল হলে বা ভাষা এলোমেলো হলে কিছু যায় আসে না, এআই সেটা গুছিয়ে নেবে। কিন্তু তথ্যটা ভুল হলে এআই সেটা আরও সুন্দর করে ভুল লিখবে।

হাতে করে কাজটা করতে চাইলে ChatGPT বা Gemini খুলে নিচের প্রম্পটটা কপি করুন, আর ব্র্যাকেটের জায়গায় নিজের তথ্য বসান।

তুমি বাংলাদেশের একজন অভিজ্ঞ অনলাইন সেলার, যে মুখের ভাষায় লেখে। আমার একটা প্রোডাক্টের ল্যান্ডিং পেজের লেখা লিখে দাও। পাঠক ফেসবুক অ্যাড থেকে মোবাইলে আসবেন।

প্রোডাক্টের নাম [ ]। এটা কী, কী দিয়ে বানানো, কোথা থেকে আসে [ ]। অন্যদের থেকে আলাদা কেন [ ]। কারা কেনেন [ ], তাঁদের কোন কষ্ট এটা মেটায় [ ]। কাস্টমাররা সাধারণত যা জিজ্ঞেস করেন [ ]। অফার [ ]। ডেলিভারি কত দিনে হয় [ ]। ফেরত বা বদলের নিয়ম [ ]।

এই সিরিয়ালে লেখো। একটা ছোট হেডলাইন, কাস্টমারের সমস্যা, সমাধান, পাঁচটা সুবিধা, কীভাবে খাবেন বা লাগাবেন, ছয়টা প্রশ্নোত্তর, আর অর্ডার করার এক লাইন।

আমি যা লিখিনি এমন কোনো সংখ্যা, রিভিউ, সার্টিফিকেট বা "হাজারো কাস্টমার" লিখবে না। দাম আর ডেলিভারি চার্জ লিখবে না। রোগ সারানো বা শরীরে কোনো ফলের কথা লিখবে না। "সেরা", "এক নম্বর", "অতুলনীয়" এমন শব্দ দেবে না।

প্রম্পটের প্রতিটা লাইনের পেছনে কারণ আছে। "মুখের ভাষায়" না লিখলে এআই প্রায়ই বইয়ের মতো ভারী বাংলা লেখে, যেটা মোবাইলে পড়তে কষ্ট হয়। "পাঠক মোবাইলে আসবেন" লিখলে লাইনগুলো ছোট হয়। আর শেষের নিষেধগুলো না দিলে এআই নিজে থেকেই "১০,০০০+ সন্তুষ্ট কাস্টমার" বা "১০০% গ্যারান্টি" লিখে ফেলে, কারণ ইন্টারনেটের হাজারো বিক্রির পেজে এমন লাইন থাকে আর এআই সেখান থেকেই শিখেছে।

কাস্টমারের কষ্টের ঘরটা খালি রাখবেন না। এআই-এর লেখা সবচেয়ে বেশি কাজ করে এই জায়গায়, কারণ মানুষ সুবিধার লিস্ট পড়ে কেনেন না, কেনেন যখন মনে হয় কেউ তাঁর সমস্যাটা বুঝেছে। গুড়ের উদাহরণে কষ্টটা হলো "টাকা দিয়েও বাজারে চিনি মেশানো গুড় খেতে হয়"। এক লাইনের এই কথা থেকেই এআই পুরো একটা সেকশন দাঁড় করাতে পারে।

ধাপ ৩: অফার আর রং, তারপর লেখা তৈরি

অফারের ঘরে শুধু সেটাই লিখুন যা এই মুহূর্তে সত্যিই দিচ্ছেন। যেমন "২ কেজি নিলে ডেলিভারি চার্জ লাগবে না" বা "ডেলিভারি ম্যানের সামনে খুলে দেখে নিতে পারবেন"। অফারের শেষ তারিখ থাকলে সেটা দিন, না থাকলে ঘরটা খালি রাখুন। বানানো কাউন্টডাউন একবার ধরা পড়লে কাস্টমার পেজের বাকি কথাও আর বিশ্বাস করেন না। আর আজ যিনি দেখলেন "আজ রাতেই শেষ", কাল আবার এসে একই কথা দেখলে তিনি আর ফেরেন না।

রঙের জন্য তিনটা রং ঠিক করে নিন। প্রধান রংটা হবে অর্ডার বাটনের রং। দ্বিতীয় রংটা বসবে অফারের অংশে। আর হাইলাইট রং দিয়ে ছোট ছোট জিনিস চোখে পড়ানো হয়। বাটনের রং পেজের বাকি অংশ থেকে আলাদা হতে হবে, কারণ মোবাইলে মানুষ পুরো পেজ পড়েন না, চোখ খোঁজে কোথায় চাপ দিতে হবে। হাতে বানালে এবার এআই-এর লেখা কপি করে কোনো টেমপ্লেটের ঘরে ঘরে বসান, ছবি দিন, আর অর্ডার ফর্মে প্রোডাক্টটা জুড়ে দিন।

হাতে করলে এই কাজে কয়েকটা ট্যাব আর অনেক কপি-পেস্ট লাগে। WinningSeller-এ পুরোটা এক জায়গায় হয়। "পেইজ ও ল্যান্ডিং" থেকে AI দিয়ে ৫ মিনিটে ল্যান্ডিং পেজ বাটন চাপলে ছয় ধাপের একটা স্ক্রিন খোলে। ওপরে যে প্রশ্নগুলোর কথা বললাম, সেগুলোই সেখানে একটা একটা করে আসে, প্রতিটা ঘরের নিচে উদাহরণও দেওয়া থাকে। দোকানের কোনো প্রোডাক্ট বেছে নিলে নাম, দাম আর ছবি নিজে থেকেই চলে আসে। রং না দিলে এআই প্রোডাক্ট দেখে মানানসই রং বেছে দেয়। শেষে "AI দিয়ে পেজ বানান" চাপলে সাধারণত আধা মিনিটের মধ্যে পেজটা অর্ডার ফর্মসহ ড্রাফট হয়ে খোলে। দাম বসে প্রোডাক্ট থেকে, আর ডেলিভারি চার্জ অর্ডার ফর্ম নিজেই দেখায়।

পাবলিশের আগে এআই-এর লেখার কোন লাইনগুলো মিলিয়ে দেখবেন?

পেজ তৈরি হয়ে গেলে উত্তেজনায় সাথে সাথে অ্যাডে লিংক দিতে মন চায়। একটু থামুন। দশ মিনিট পড়ে দেখলে যে ভুলগুলো ধরবেন, অ্যাড চালানোর পরে সেগুলো ধরা পড়লে প্রতিটার দাম দিতে হবে ফেরত পার্সেল আর নষ্ট ডলারে। পড়বেন মোবাইলে, কারণ আপনার কাস্টমারও মোবাইলেই পড়বেন। ল্যাপটপে যে হেডলাইন এক লাইনে দেখায়, মোবাইলে সেটা চার লাইন হয়ে যেতে পারে।

কোন লাইন কী মিলিয়ে দেখবেন না মেলালে কী হয়
হেডলাইন অ্যাডের ছবি আর কথার সাথে মিলছে কি না অ্যাড থেকে এসে মানুষ ভাবেন ভুল পেজে এসেছেন, ফিরে যান
প্রোডাক্টের বিবরণ ওজন, মাপ, উপাদান আর কোথা থেকে আসে, আপনার পাঠানো জিনিসের সাথে হুবহু পার্সেল খুলে অন্য জিনিস মনে হয়, দরজা থেকে ফেরত
প্রশ্নোত্তর ডেলিভারির দিন আর ফেরতের নিয়ম আপনার আসল নিয়মের সাথে কল সেন্টারে ঝগড়া, কাস্টমার স্ক্রিনশট দেখিয়ে কথা ধরেন
অফার অ্যাডের অফার আর পেজের অফার একই কি না কাস্টমার ভাবেন আপনি কথা ঘোরাচ্ছেন
অর্ডার বাটন আর ফর্ম চাপলে ফর্মে যায় কি না, প্রোডাক্ট আর দাম ঠিক আছে কি না অ্যাডের টাকা গেল, অর্ডার এলো না

শেষে পুরো পেজটা একবার জোরে পড়ুন। যে লাইন পড়তে গিয়ে জিভ আটকে যায়, বা যে লাইন আপনি কাস্টমারকে মুখে কখনো বলতেন না, সেটা নিজের ভাষায় সহজ করে লিখুন। তারপর নিজের ফোন থেকে একটা টেস্ট অর্ডার দিয়ে দেখুন অর্ডারটা ঠিক জায়গায় পৌঁছায় কি না।

মোবাইলে খেজুরের পাটালি গুড়ের ল্যান্ডিং পেজের ড্রাফট, রোগ সারানো, বানানো কাস্টমার সংখ্যা আর "এক নম্বর" লেখা লাইনগুলো লাল দাগে কাটা, পাশে পাবলিশের আগে মিলিয়ে দেখার পাঁচটা জায়গা
পাবলিশের আগে পুরো পেজ মোবাইলে পড়ুন, আর যে কথা সত্যি না সেটা কেটে দিন

কোন কথা এআই লিখলেও কেটে দেবেন?

কিছু লাইন আছে, যেগুলো এআই লিখলে পেজটা পড়তে বেশি "বিক্রির মতো" লাগে। মজার ব্যাপার হলো, ঠিক এই লাইনগুলোই আপনাকে বিপদে ফেলে। সবার আগে কাটবেন রোগ সারানো বা শরীরে ফলের কথা, যেমন "ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে" বা "সাত দিনে চুল পড়া বন্ধ"। এরপর খুঁজবেন এমন সংখ্যা যেটা আপনি দেননি, যেমন "১০,০০০+ সন্তুষ্ট কাস্টমার" বা "৯৮% মানুষ আবার কেনেন"। আপনার নেই এমন সার্টিফিকেট, পুরস্কার বা রিভিউয়ের কথা থাকলে সেটাও যাবে। "সেরা", "এক নম্বর", "জীবন বদলে দেবে" টাইপের বড় কথাও রাখবেন না। আর লেখার মাঝে কোথাও দাম বা ডেলিভারি চার্জ বসে থাকলে সেটা সরিয়ে দিন, কারণ একদিন না একদিন ওটা পুরনো হয়ে যাবে।

কেন কাটবেন, সেটা টাকার হিসাবেই বোঝা যায়। যে কাস্টমার "সাত দিনে চুল পড়া বন্ধ" পড়ে অর্ডার দিলেন, তিনি সাত দিন পরে ফল না পেলে আপনাকে প্রতারক ভাবেন। পরের বার তিনি তো কিনবেনই না, পেজে খারাপ রিভিউও দিতে পারেন। আর বিষয়টা শুধু কাস্টমারের না। Meta-র Advertising Standards পেজে লেখা আছে, অ্যাড রিভিউতে অ্যাডের ছবি, ভিডিও আর লেখার পাশাপাশি অ্যাডের ল্যান্ডিং পেজটাও দেখা হয়। মানে পেজে বাড়িয়ে বলা কথা থাকলে অ্যাডও আটকে যেতে পারে।

WinningSeller-এর এআই এই কাটাকুটির বড় অংশ নিজেই করে। এআই লেখা শেষ করার পরে প্রতিটা লাইন আবার চেক হয়। যে লাইনে টাকার অঙ্ক, আপনার না দেওয়া কোনো সংখ্যা, বানানো রিভিউ বা সার্টিফিকেট, শরীরে ফলের কথা কিংবা "সেরা" টাইপের বড় কথা থাকে, সেই লাইন পেজে ওঠে না। তবু শেষবার পড়ার দায়িত্বটা আপনার। এআই ধরে নেয় আপনি যা লিখেছেন সব সত্যি। আপনি যদি ভুল করে "ঢাকায় ১ দিনে ডেলিভারি" লেখেন, পেজেও সেটাই যাবে।

কখন এআই না, নিজে টেমপ্লেট থেকে বানানো ভালো?

এআই সব জায়গায় সবচেয়ে ভালো রাস্তা না। কয়েকটা অবস্থায় নিজে বানানোই ভালো, অথবা অন্তত এআই-এর আগে অন্য কাজটা সেরে নেওয়া ভালো।

সবচেয়ে বড় কথা, আপনি যদি এখনো জানেন না আপনার কাস্টমার কে, কেন কেনেন আর কোন প্রশ্নে আটকে যান, তাহলে এআই-কে দেওয়ার মতো তথ্য আপনার হাতে নেই। তখন এক-দুই সপ্তাহ ইনবক্সে আর কনফার্ম কলে কাস্টমারের কথা শুনুন, প্রশ্নগুলো লিখে রাখুন। তারপর এআই-এর কাছে যান। খালি হাতে গেলে এআই খালি কথাই লিখবে।

আবার ধরুন, কোনো অ্যাডের লেখা বা পোস্টে আগে ভালো অর্ডার এসেছিল। সেই লেখাটা ফেলে দেবেন না, ওটাই টেমপ্লেটে বসান। কাস্টমার যে কথায় সাড়া দিয়েছেন, সেটার চেয়ে ভালো লেখা এআই সাধারণত দিতে পারে না।

কাপড়ের বেলায় হিসাবটা আবার আলাদা। একই পাঞ্জাবির পাঁচটা সাইজ আর চারটা রং থাকলে পেজের আসল কাজ হলো সাইজ চার্ট আর রঙের ছবি গুছিয়ে দেখানো, লেখার কাজ সেখানে কম। এমন প্রোডাক্টে কাপড়ের জন্য বানানো রেডি টেমপ্লেট থেকে শুরু করলে সময় বাঁচে। কোন প্রোডাক্টের পেজ দেখতে কেমন হলে ভালো চলে, সেটা দেখতে চাইলে প্রোডাক্ট অনুযায়ী ল্যান্ডিং পেজ ডেমোর লেখাটা কাজে আসবে।

WinningSeller-এ দুই রাস্তাই খোলা। ল্যান্ডিং টেমপ্লেট থেকে নিজে পেজ বানাতে পারেন, আবার এআই-এর বানানো পেজও পরে নিজের মতো সাজাতে পারেন। প্রতিটা লেখা, প্রতিটা সেকশন আর বাটনের রং-সাইজ আলাদা করে চেঞ্জ করা যায়, আর মোবাইলের প্রিভিউতে সাথে সাথে দেখে নিতে পারেন কেমন লাগছে। পেজের তিনটা রংও পরে পেজের সেটিংস থেকে চেঞ্জ করা যায়। কী কী ফিচার আছে, পুরোটা সব ফিচারের পেজে দেখে নিতে পারেন।

আজ একটা কাজ করুন। যে প্রোডাক্টটায় সামনের সপ্তাহে অ্যাড চালাবেন, সেটার জন্য ওপরের পাঁচটা তথ্য দশ মিনিট সময় নিয়ে লিখে ফেলুন, ইনবক্সের পুরনো প্রশ্ন দেখে দেখে। এই কাগজটা হাতে থাকলে এআই দিয়ে হোক বা নিজে, পেজের লেখা আর আটকাবে না। আর রাত এগারোটায় ফাঁকা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বসে থাকতে হবে না।

সাধারণ প্রশ্ন

এআই দিয়ে কি ফ্রিতে ওয়েবসাইট বানানো যায়?

লেখার কাজটা ফ্রিতেই হয়, ChatGPT বা Gemini-এর ফ্রি অ্যাকাউন্টে পেজের লেখা লিখিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু লেখা থাকলেই ওয়েবসাইট হয় না। পেজটা কোথাও বসাতে হয়, নিচে অর্ডার ফর্ম লাগে, আর অর্ডারগুলো কোথাও জমা হতে হয়। এই অংশের জন্য কোনো প্ল্যাটফর্ম বা ডেভেলপার লাগে।

এআই-এর লেখা ল্যান্ডিং পেজ দিয়ে কি ফেসবুক অ্যাড চালানো যায়?

যায়, যদি পেজের প্রতিটা কথা সত্যি হয়। Meta-র Advertising Standards পেজে লেখা আছে, অ্যাড রিভিউতে অ্যাডের ছবি আর লেখার সাথে অ্যাডের ল্যান্ডিং পেজটাও দেখা হয়। তাই এআই যদি রোগ সারানোর কথা বা বানানো রিভিউ লিখে দেয়, সেগুলো কেটে তবেই অ্যাডে লিংক দিন।

এআই কি প্রোডাক্টের ছবিও বানিয়ে দেবে?

ল্যান্ডিং পেজে নিজের তোলা আসল ছবিই দিন। কাস্টমার ছবি দেখে অর্ডার দেন, পার্সেল খুলে সেই জিনিসটাই আশা করেন। এআই দিয়ে ছবির পেছনের দৃশ্য বা আলো সাজানো যায়, কিন্তু প্রোডাক্টটা আসলের মতোই থাকতে হবে।

এআই দিয়ে ল্যান্ডিং পেজ বানাতে কি কোডিং জানা লাগে?

না। আপনি এআই-কে বাংলায় প্রোডাক্টের কথা লিখে দেন, আর এআই পেজের লেখা লেখে। পেজ বানানোর টুল বা টেমপ্লেটে সেই লেখা বসালেই হয়। কোডের কাজটা টুলের, আপনার কাজ সঠিক তথ্য দেওয়া আর শেষে পড়ে মিলিয়ে নেওয়া।

এআই-এর লেখা কি হুবহু রেখে দেওয়া যায়?

না পড়ে রাখবেন না। এআই আপনার প্রোডাক্ট চোখে দেখেনি, তাই ভুল ওজন, ভুল ডেলিভারির দিন বা এমন অফার লিখে ফেলতে পারে যেটা আপনি দেন না। পুরো পেজটা একবার মোবাইলে জোরে পড়ুন, আর প্রতিটা তথ্য আপনার আসল প্রোডাক্ট আর নিয়মের সাথে মিলিয়ে নিন।

বাংলায় এআই কি ভালো লেখে?

ঠিকঠাক তথ্য দিলে বেশ ভালো লেখে, তবে প্রায়ই বইয়ের ভাষায় লেখে আর "সেরা", "অতুলনীয়" এমন বড় বড় শব্দ দেয়। প্রম্পটে লিখে দিন মুখের ভাষায় লিখতে। তারপর যেখানে পড়তে জিভ আটকায়, সেই লাইনগুলো নিজে সহজ করে নিন।

#এআই দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি#এআই ল্যান্ডিং পেজ#ল্যান্ডিং পেজ#ChatGPT#ফেসবুক অ্যাড#প্রোডাক্ট পেজ

আরও পড়ুন

ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ

ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে

গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।

·১২ মিনিটে পড়া যায়

বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে

ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।

·১০ মিনিটে পড়া যায়