WinningSeller
অর্ডার ও কুরিয়ার১৫ মিনিটে পড়া যায়

Carrybee মার্চেন্ট একাউন্ট খুলবেন? খোলার ধাপ, কত কাটে আর টাকা কবে আসে

Carrybee-তে মার্চেন্ট একাউন্ট খুলতে কী লাগে, রেজিস্ট্রেশন থেকে প্রথম পার্সেল পর্যন্ত কী করবেন, ওদের ক্যালকুলেটরে কোথায় কত চার্জ আসে, ফেরতে কী কাটে আর টাকা কবে আসে। যেখানে Carrybee-র দুই পেজে দুই রকম কথা লেখা, সেটাও খুলে বলা আছে।

Carrybee মার্চেন্ট একাউন্ট খুলবেন? খোলার ধাপ, কত কাটে আর টাকা কবে আসে
এই লেখায় যা আছে
  1. Carrybee কেমন কুরিয়ার, কোন এলাকায় যায়?
  2. Carrybee মার্চেন্ট একাউন্ট খুলতে কী লাগে?
  3. ধাপ ১: রেজিস্ট্রেশন
  4. ধাপ ২: স্টোর, পিকআপ আর পেমেন্টের তথ্য
  5. ধাপ ৩: প্রথম অর্ডার এন্ট্রি
  6. চার্জ কত, COD আর ফেরতে কী কাটে?
  7. টাকা কবে আসে, কোথায় দেখবেন?
  8. হাব, হেল্পলাইন আর সমস্যা হলে কোথায় জানাবেন?
  9. Carrybee কার জন্য ভালো, কার জন্য না?

ধরুন ঈদের আগের সপ্তাহ চলছে। দুপুর থেকে ৪০টা পার্সেল প্যাক করে বসে আছেন, অথচ যে কুরিয়ারে সবসময় পাঠান তাদের রাইডার সন্ধ্যাতেও এলেন না। ঠিক তখনই মনে হয়, একটা ব্যাকআপ কুরিয়ার থাকলে আজ এই টেনশনটা হতো না।

Carrybee মার্চেন্ট একাউন্ট খুলতে merchant.carrybee.com/register পেজে গিয়ে নিজের নাম, মোবাইল নম্বর আর ব্যবসার নাম লিখুন, শর্তে টিক দিয়ে জমা দিন। নম্বরে ৪ সংখ্যার একটা OTP আসবে, সেটা বসালেই একাউন্ট খুলে যায়। ফর্মে ট্রেড লাইসেন্স বা NID-র কোনো ঘর নেই। অক্টোবর ২০২৬-এ Carrybee-র নিজের ক্যালকুলেটরে ঢাকার ভেতরে আধা কেজির পার্সেলে চার্জ আসে ৬০ টাকা, আর অন্য জেলায় ১০৫ টাকা। তবে ফেরতের চার্জ আর টাকা পাওয়ার দিন নিয়ে ওদের দুই জায়গায় দুই রকম কথা লেখা আছে, তাই সেগুলো প্রথম পার্সেলের আগেই লিখিতভাবে জেনে নিন।

সেই রাতে হয়তো কোনো সেলার গ্রুপে লিখেছিলেন, "ভাই, ব্যাকআপ হিসেবে কোন কুরিয়ার রাখি?" নিচে কয়েকজন Carrybee-র নাম বললেন। নামটা আগেও শুনেছেন, কিন্তু মনের ভেতর একটা খচখচানি থেকেই যায়। নতুন জায়গায় কষ্টের টাকাগুলো আটকে যাবে না তো? নিচে যা বলছি, তার সব Carrybee-র ওয়েবসাইট, ওদের মার্চেন্ট টার্মস আর Google Play-র অ্যাপ পেজ পড়ে মিলিয়ে নেওয়া। মেনু বা বাটনের নাম মাঝে মাঝে চেঞ্জ হয়, তাই স্ক্রিনে অন্য নাম দেখলে সেটাই ধরবেন।

Carrybee কেমন কুরিয়ার, কোন এলাকায় যায়?

Carrybee চালায় CarryBee Express Limited নামের একটা কোম্পানি। Google Play-তে ওদের মার্চেন্ট অ্যাপের বিবরণে লেখা আছে, এটা US-Bangla Airlines-এর একটা প্রতিষ্ঠান। কাজটা অন্য অনলাইন কুরিয়ারের মতোই। আপনার বাসা বা দোকান থেকে পার্সেল তুলে নেয়, কাস্টমারের দরজায় পৌঁছে দেয়, ক্যাশ অন ডেলিভারির টাকা তুলে চার্জ কেটে আপনাকে পাঠায়।

ওদের ওয়েবসাইটে লেখা, Carrybee ৬৪ জেলায় গ্রাম পর্যন্ত হোম ডেলিভারি দেয়। সাথে লেখা আছে ৩৫ হাজারের বেশি মার্চেন্ট আর ২ কোটির বেশি ডেলিভারির কথা। এই সংখ্যাগুলো কোম্পানির নিজের দাবি, বাইরের কেউ মেপে দেখেছে এমন না। তবে ওদের রেট ক্যালকুলেটরে ৬৪টা জেলাই সিলেক্ট করা যায়, সেটা আমরা নিজে খুলে দেখেছি।

একাধিক দোকান বা গুদাম থাকলে প্রতিটা জায়গা থেকে পিকআপ নেয়, আর একই একাউন্ট থেকে একাধিক ব্যবসা চালানো যায় বলে ওয়েবসাইটে লেখা আছে। যাঁর একটা কাপড়ের পেজ আর একটা কসমেটিকসের পেজ, তাঁর জন্য এটা ছোট কিন্তু কাজের সুবিধা।

ডেলিভারির সময় নিয়ে দুই জায়গায় দুই রকম লেখা পেলাম। ওয়েবসাইটের FAQ বলছে, পিকআপের পর ঢাকার ভেতরে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা লাগে। Google Play-র বিবরণ বলছে, ঢাকার ভেতরে একই দিনে আর ঢাকার বাইরে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে। কথাটা ছোট মনে হলেও আপনার জন্য বড়। কাস্টমারকে "কাল পাবেন" বললেন আর পার্সেল গেল পরশু, তখন ফোনটা আপনাকেই সামলাতে হয়। তাই প্রথম দুই সপ্তাহ নিজের পার্সেলগুলোর সময় নিজে দেখে নিন, তারপর কাস্টমারকে কথা দিন। দেশের বাকি অনলাইন আর বুকিং কুরিয়ারগুলোর সাথে এক নজরে মেলাতে চাইলে কুরিয়ার সার্ভিস লিস্টটা দেখে নিতে পারেন।

Carrybee মার্চেন্ট একাউন্ট খুলতে কী লাগে?

Carrybee-র রেজিস্ট্রেশন ফর্মে মাত্র তিনটা ঘর। আপনার নাম, মোবাইল নম্বর আর ব্যবসার নাম। ফেসবুক পেজের লিংক, ট্রেড লাইসেন্স বা NID চাওয়ার কোনো ঘর ফর্মে নেই। সাইন আপের জন্য কোনো ফি-র কথাও ওদের ওয়েবসাইট বা টার্মসে আমরা পাইনি। তাই যিনি সবে বাসা থেকে দিনে চার-পাঁচটা পার্সেল পাঠাচ্ছেন, তিনিও শুরু করতে পারবেন।

তবে বসার আগে এই কয়েকটা জিনিস হাতের কাছে রাখুন, কারণ পরে এগুলো চেঞ্জ করা ঝামেলার।

  • নিজের নামের এমন একটা মোবাইল নম্বর দিন, যেটা সবসময় আপনার পকেটে থাকে। OTP এই নম্বরে আসে, আর লগইনও হয় এই নম্বর দিয়ে। কর্মচারীর নম্বর দিলে আপনার টাকার হিসাবের চাবিটা তাঁর হাতে চলে যায়।
  • এমন একটা ইমেইল দিন, যেটা আপনি রোজ খোলেন। টার্মসে লেখা আছে, প্রতিবার টাকা পাঠানোর দিনই রেজিস্টার্ড ইমেইলে একটা পেমেন্ট স্টেটমেন্ট যায়। পুরনো, ভুলে যাওয়া ইমেইল দিলে টাকার হিসাব মেলানোর কাগজটাই হারাবেন।
  • ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্টের নম্বর দুবার মিলিয়ে লিখুন। টার্মসে পরিষ্কার লেখা, Carrybee আপনার দেওয়া একাউন্ট নম্বর চেক করে না। ভুল নম্বরে টাকা চলে গেলে সেই ক্ষতির দায় ওদের না।
  • পিকআপের পুরো ঠিকানা আর যিনি পার্সেল হাতে দেবেন তাঁর নম্বর রেডি রাখুন। রাইডার ঠিকানা খুঁজে না পেলে সেদিনের পিকআপটাই মিস হয়।

পেমেন্টের তথ্য নিয়ে একটু বেশি সাবধান হতে বলছি একটা কারণে। টার্মসে লেখা আছে, পেমেন্ট মেথড চেঞ্জ করতে চাইলে কোম্পানির অনুমতি লাগে, আর আবেদন করতে হয় অন্তত ১৫ কর্মদিবস আগে। মানে একবার ভুল দিলে প্রায় তিন সপ্তাহ টাকা ভুল জায়গায় যাওয়ার ভয় থাকে। প্রথমবারই দুবার মিলিয়ে বসান।

ধাপ ১: রেজিস্ট্রেশন

carrybee.com-এ গিয়ে Become a Merchant চাপুন, অথবা সরাসরি merchant.carrybee.com/register খুলুন। মোবাইলে করতে চাইলে Google Play বা App Store-এ CarryBee Merchant লিখে অ্যাপটা নামিয়ে নিন। দুই জায়গাতেই একই একাউন্ট চলে।

ফর্মে প্রথমে নিজের নাম লিখুন, NID-তে যেভাবে আছে সেভাবেই। পরে কোনো কাগজ মেলাতে হলে নামের বানান নিয়ে আর ঝামেলা হবে না। তারপর মোবাইল নম্বর, আর শেষে ব্যবসার নাম। ব্যবসার নামের ঘরে ফেসবুক পেজের নামটাই দিন। পরে সাপোর্টে ফোন দিলে বা KAM-এর সাথে কথা বললে এক নামে আপনাকে খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।

একজন তরুণ সেলার রাতে বিছানায় বসে মোবাইলে কুরিয়ারের মার্চেন্ট রেজিস্ট্রেশন ফর্ম পূরণ করছেন, পাশে টেপ মারা কয়েকটা পার্সেল রাখা
নাম, নম্বর আর ব্যবসার নাম, শুরুটা এটুকুই

এরপর একটা টিক বক্সে শর্ত মেনে নেওয়ার কথা আছে। টিক দেওয়ার আগে টার্মসটা একবার চোখ বুলিয়ে নিন। ফেরতের চার্জ, ক্লেইমের ১৫ দিনের সীমা আর পার্সেল খোলার ভিডিওর শর্ত, এই তিনটা জিনিস ওখানেই লেখা। নিচে প্রতিটা আলাদা করে বুঝিয়ে বলেছি, তবু নিজের চোখে একবার দেখে রাখা ভালো।

জমা দিলে নম্বরে ৪ সংখ্যার একটা OTP আসবে, সেটা বসান। Carrybee-র FAQ অনুযায়ী এরপর থেকে লগইন হয় merchant.carrybee.com/login পেজে, রেজিস্টার্ড নম্বর আর পাসওয়ার্ড দিয়ে। পাসওয়ার্ডটা নিজের কাছে রাখুন। স্টাফকে পার্সেল এন্ট্রির কাজ দিলেও মালিকের লগইন দিয়ে দেবেন না, কারণ এই লগইনেই আপনার পেমেন্টের সব তথ্য থাকে।

ধাপ ২: স্টোর, পিকআপ আর পেমেন্টের তথ্য

লগইনের পর প্যানেলে পিকআপের ঠিকানা আর টাকা নেওয়ার একাউন্ট বসাতে হবে। Carrybee-র প্যানেলের ভেতরের মেনু বাইরে থেকে দেখা যায় না, আর ওরা নিজেরাই লিখেছে প্যানেলে ভিডিও টিউটোরিয়াল দেওয়া আছে। তাই এখানে মেনুর নাম না বলে বলছি কোন ঘরে কী দেবেন আর কেন।

পিকআপের ঠিকানা এমনভাবে লিখুন যেন এলাকার বাইরের একজন মানুষও খুঁজে পান। বাড়ির নম্বর, রাস্তা, আর কাছের একটা চেনা জায়গা, যেমন মসজিদ, স্কুল বা কোনো বড় দোকান। ফোন নম্বর দিন তাঁর, যিনি সত্যিই রাইডারের হাতে পার্সেল দেবেন। আপনি অফিসে থাকলে আর বাসায় আপনার ভাই পার্সেল দিলে, নম্বরটা ভাইয়েরই দিন। দুটো দোকান বা একটা দোকান আর একটা গুদাম থাকলে প্রতিটা আলাদা স্টোর হিসেবে বসান, Carrybee প্রতিটা জায়গা থেকে পিকআপের কথা লিখেছে। Google Play-র বিবরণে নিজের সুবিধামতো সময়ে পিকআপ শিডিউল করার কথাও আছে।

টাকা নেওয়ার জন্য ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং, দুটোর কথাই টার্মসে আছে। কোন কোন মোবাইল ব্যাংকিং নেয়, সেটা নাম ধরে লেখা নেই, প্যানেলে যা দেখায় তার মধ্যে থেকে বাছবেন। ব্যাংকে টাকা যায় BEFTN দিয়ে, আর টার্মসে লেখা আছে সেখানে Bangladesh Bank-এর সাধারণ প্রসেসিং সময় লাগবে। মানে Carrybee যেদিন পাঠাল, ব্যাংকে টাকা দেখাতে তার পরেও একটু সময় লাগতে পারে।

যেটাই বাছুন, ব্যবসার টাকার জন্য আলাদা একটা একাউন্ট রাখুন। সংসারের খরচ আর কুরিয়ারের টাকা এক জায়গায় ঢুকলে মাস শেষে কোনটা লাভ আর কোনটা পুঁজি, আলাদা করা যায় না।

এখানে আরেকটা কাজ সেরে ফেলুন, যেটা অনেকে বাদ দেন। Google Play-র বিবরণে লেখা, প্রতিটা মার্চেন্টকে একজন KAM (Key Account Manager) দেওয়া হয়, কেউ অল্প পার্সেল পাঠালেও। তাঁকে প্রথম সপ্তাহেই এই চারটা প্রশ্ন করুন, আর উত্তরটা মেসেজে বা ইমেইলে লিখিত নিন।

  1. আমার একাউন্টে COD চার্জ কত পার্সেন্ট?
  2. ঢাকার ভেতরে আর ঢাকার বাইরে পার্সেল ফেরত এলে কত টাকা কাটে?
  3. টাকা কোন দিন আসবে, প্রতি কর্মদিবসে নাকি কয়েক দিন পর পর?
  4. ক্যালকুলেটরের রেটে কি VAT ধরা আছে, নাকি আলাদা যোগ হবে?

কেন লিখিত চাইছি, সেটা চার্জ আর পেমেন্টের অংশে পরিষ্কার হবে। ছোট কথায় বললে, এই চারটা বিষয়ে Carrybee-র পাবলিক পেজগুলো হয় চুপ, নয়তো একে অপরের সাথে মেলে না।

ধাপ ৩: প্রথম অর্ডার এন্ট্রি

Carrybee-র FAQ-তে প্রথম অর্ডারের কাজটা এভাবে লেখা। প্যানেলে লগইন করে Create Order চাপুন। কাস্টমারের তথ্য, পিকআপের ঠিকানা আর পার্সেলের তথ্য দিয়ে জমা দিন। শুনতে সহজ, কিন্তু প্রতিটা ঘরে একটা করে ফাঁদ আছে।

কাস্টমারের নম্বরটা গুনে দেখুন ১১ অঙ্ক কি না। একটা অঙ্ক ভুল হলে রাইডার অন্য কাউকে ফোন দেবেন, আর পার্সেল ফেরত আসবে আপনার খরচে। ঠিকানায় থানা আর এলাকার নাম রাখুন, শুধু "মিরপুর" লিখলে রাইডারকে কাস্টমারের সাথে দশবার কথা বলতে হয়। COD-র ঘরে সেই টাকাটাই লিখুন যেটা কাস্টমারের হাত থেকে তুলতে হবে, মানে প্রোডাক্টের দাম আর কাস্টমার যে ডেলিভারি চার্জ দেবেন, দুটো মিলিয়ে।

ওজন সত্যি লিখুন। চার্জ ঠিক হয় ওজন ধরে, আর টার্মসে লেখা আছে পার্সেলের ভেতরের জিনিস দেওয়া তথ্যের সাথে না মিললে সেই অর্ডার বাতিল গণ্য হবে, ভুল তথ্যের দায় Carrybee নেবে না। আধা কেজি লিখে দেড় কেজি দিলে দুই দিক থেকেই ক্ষতি। চার্জ পরে ঠিকই কাটবে, আর কোনো ঝামেলা হলে আপনার দাবিটাও দুর্বল হয়ে যাবে।

মধু, তেল, ঘি বা কাচের জিনিস পাঠালে টার্মসের একটা লাইন মুখস্থ রাখুন। এমন পার্সেলে ভেতরে আর বাইরে, দুই জায়গাতেই যথেষ্ট বাবল র‍্যাপ দিতে হবে, আর বাইরে চোখে পড়ার মতো "fragile/liquid" স্টিকার লাগাতে হবে। না করলে ভাঙার দায় Carrybee নেবে না। এক বোতল মধু ভাঙলে প্রোডাক্টের দাম তো যায়ই, কুরিয়ার চার্জও যায়, আর যে কাস্টমার দুই দিন অপেক্ষা করলেন তিনি আর ফিরে আসেন না।

একজন ছেলে টেবিলে বসে মধুর কাচের বোতল প্রথমে বাবল র‍্যাপে মুড়িয়ে বাক্সে ঢোকাচ্ছেন, বাক্সের ওপরে লাল রঙের fragile স্টিকার লাগানো
কাচ বা তরল জিনিসে ভেতরে-বাইরে বাবল র‍্যাপ আর fragile স্টিকার, নইলে ভাঙার দায় আপনার

প্রথম পার্সেলটা জমা দেওয়ার পর যে নম্বরটা পাবেন, সেটা দিয়ে carrybee.com/track পেজে পার্সেল কোথায় আছে দেখা যায়। কাস্টমার "ভাই পার্সেল কই" বললে এই লিংক আর নম্বরটা পাঠিয়ে দিন। ফোনে দশ মিনিট বোঝানোর চেয়ে এটা অনেক কাজের।

দিনে পাঁচ-দশটা পার্সেলে হাতে এন্ট্রিই যথেষ্ট। ঝামেলা শুরু হয় যখন অর্ডার আসে ইনবক্সে, লেখা হয় খাতায়, তারপর আবার টাইপ হয় Carrybee-র প্যানেলে। প্রতিবার কপি করার সময় একটা অঙ্ক ভুলের সুযোগ থাকে। আর Carrybee-কে যদি দ্বিতীয় কুরিয়ার হিসেবে রাখেন, তাহলে রোজ দুটো প্যানেলে ঢুকে এন্ট্রি দিতে হয়, আর মাস শেষে দুই জায়গার টাকা আলাদা করে মেলাতে হয়।

এই জায়গায় WinningSeller কাজটা ছোট করে দেয়। এখানে Steadfast, Pathao, RedX, Paperfly, Carrybee আর eCourier, এই ছয়টা কুরিয়ার কানেক্ট করে রাখা যায়। Carrybee কানেক্ট করতে Carrybee থেকে পাওয়া Client ID, Client Secret আর Client Context একবার বসাতে হয়, আর কোন পিকআপ স্টোর থেকে পার্সেল যাবে সেটা সিলেক্ট করতে হয়। Carrybee প্রতিটা পার্সেলে জেলা আর জোন চায়, তাই অর্ডারে Carrybee-র নিজের লিস্ট থেকে এলাকাটা বেছে দিতে হয়। এরপর কনফার্ম করা অর্ডার এক ক্লিকে Carrybee-তে পার্সেল হয়ে যায়, অনেকগুলো একসাথেও পাঠানো যায়, আর পার্সেলের স্ট্যাটাস নিজে থেকে আপডেট হয়। বুক করা পার্সেল এখান থেকে বাতিল করলে Carrybee-কেও বাতিলের কথা জানানো হয়।

Carrybee আর অন্য কুরিয়ার এক প্যানেলে চালাননিজের অর্ডার দিয়ে চালিয়ে দেখুন, প্রথম মাস মাত্র ৯৯ টাকা, তারপর রেগুলার দাম

চার্জ কত, COD আর ফেরতে কী কাটে?

Carrybee তাদের রেট কোনো টেবিলে লিখে রাখেনি। FAQ-তে লেখা, চার্জ নির্ভর করে কোথায় যাবে, পার্সেলের সাইজ আর ওজনের ওপর, আর দাম জানতে হবে ওদের ক্যালকুলেটর থেকে। আমরা অক্টোবর ২০২৬-এ carrybee.com/calculator-এ পিকআপ ঢাকা ধরে কয়েকটা জায়গার চার্জ বের করেছি, নিচে দিলাম।

ওজন ঢাকা থেকে ঢাকায় ঢাকা থেকে গাজীপুর বা নারায়ণগঞ্জ ঢাকা থেকে অন্য জেলায় (চট্টগ্রাম, রংপুর, সিলেট)
২০০ গ্রাম ৪৯ টাকা ৮০ টাকা ৯৯ টাকা
আধা কেজি ৬০ টাকা ৮৫ টাকা ১০৫ টাকা
১ কেজি ৭০ টাকা ১০০ টাকা ১২৫ টাকা
২ কেজি ৯০ টাকা ১২৫ টাকা ১৫০ টাকা
৩ কেজি ১১০ টাকা ১৫০ টাকা ১৭০ টাকা

ক্যালকুলেটরে শুধু জেলা বাছা যায়, থানা বা জোন না। তাই আপনার প্যানেলে কোনো কোনো এলাকায় চার্জ একটু আলাদা আসতে পারে। ক্যালকুলেটরে VAT ধরা আছে কি না, সেটাও কোথাও লেখা নেই। ১ কেজির রেটগুলো Steadfast, Pathao আর RedX-এর রেটের খুব কাছাকাছি, পাশাপাশি দেখতে চাইলে কোন কুরিয়ার ভালো, সেই তুলনার লেখাটা খুলে রাখুন।

ঢাকার বাইরে যাঁর দোকান, তাঁর জন্য একটা মজার জিনিস পেলাম। ক্যালকুলেটরে পিকআপ রংপুর আর ডেলিভারিও রংপুর দিলে ১ কেজিতে আসে ৭০ টাকা, ঢাকার ভেতরের সমান। রংপুর থেকে ঢাকায় ১ কেজি আসে ১১০ টাকা। অথচ রংপুর থেকে পাশের জেলা কুড়িগ্রামে আধা কেজিতেই আসে ১২৫ টাকা। কাছের জেলা মানেই কম চার্জ না। তাই নিজের শহর থেকে যেসব জেলায় বেশি পার্সেল যায়, সেগুলো ক্যালকুলেটরে একবার বসিয়ে দেখে নিন।

ভারী পার্সেলের হিসাবও আলাদা করে দেখবেন। ক্যালকুলেটরে ৫ কেজির পার্সেল ঢাকার ভেতরে ১৫০ টাকা, আর ঢাকা থেকে রংপুরে ২২০ টাকা। চাল, তেল বা মধুর কার্টন যাঁরা পাঠান, তাঁদের দামের মধ্যে এই চার্জটা আগে থেকে ধরা না থাকলে লাভের অনেকটা কুরিয়ারেই চলে যায়।

এবার COD চার্জ। টার্মসে লেখা আছে, Carrybee-র সার্ভিস ফি-র মধ্যে ডেলিভারি চার্জ আর COD চার্জ দুটোই আছে, আর কত সেটা ওয়েবসাইটে দেওয়া থাকবে। কিন্তু অক্টোবর ২০২৬-এ ওয়েবসাইট বা ক্যালকুলেটরের কোথাও COD-র পার্সেন্ট আমরা পাইনি। এটা ছোট ব্যাপার না। একটা উদাহরণ ধরুন, আসল হিসাব না। মাসে ২০০টা পার্সেলে কাস্টমার গড়ে ১,২০০ টাকা করে দিলে, ১% COD চার্জ মানে মাসে ২,৪০০ টাকা। তাই KAM-কে প্রথম প্রশ্নটা এটাই করবেন।

ফেরতের চার্জ নিয়ে Carrybee-র দুই জায়গার কথা মিলছে না। মার্চেন্ট টার্মসে লেখা, পার্সেল ফেরত এলে ডেলিভারি চার্জ তো দিতেই হবে, সাথে ডেলিভারি চার্জের ৫০% রিটার্ন চার্জ। আবার Google Play-তে অ্যাপের বিবরণে লেখা, ঢাকার ভেতরে কোনো রিটার্ন চার্জ নেই, আর ঢাকার বাইরে রিটার্ন চার্জ কম।

টাকায় দেখলে পার্থক্যটা বোঝা যায়। ধরুন ঢাকা থেকে রংপুরে ১ কেজির একটা পাঞ্জাবি পাঠালেন, কাস্টমার দরজা থেকে ফিরিয়ে দিলেন। টার্মস ধরলে আপনার যায় ১২৫ টাকা ডেলিভারি চার্জ আর তার অর্ধেক ৬২.৫০ টাকা, মোট ১৮৭.৫০ টাকা। মাসে এমন ১০টা ফেরত মানে প্রায় ১,৮৭৫ টাকা, প্যাকেট আর অ্যাডের খরচ ছাড়াই। ঢাকার ভেতরে ১ কেজির পার্সেলে টার্মস ধরলে ৭০ আর ৩৫, মোট ১০৫ টাকা। অ্যাপের কথা ঠিক হলে সেখানে বাড়তি ৩৫ টাকা লাগবে না।

একটা খোলা হিসাবের খাতায় হাতে লেখা ঢাকা থেকে রংপুরে ১ কেজির ফেরত পার্সেলের হিসাব, ডেলিভারি চার্জ ১২৫ টাকা, ফেরতের চার্জ ৬২.৫০ টাকা, নিচে মোট ১৮৭.৫০ টাকা লাল দাগে ঘেরা, খাতার ওপর একটা কলম
টার্মস ধরলে রংপুরের একটা ফেরত পার্সেলে যায় ১৮৭.৫০ টাকা

আপনার একাউন্টে কোনটা খাটবে, তা লিখিত না জেনে হাজারখানেক পার্সেল পাঠাবেন না। আর যেটাই খাটুক, প্রথম ফেরত পার্সেলের পর প্যানেলে আসলে কত কাটল সেটা নিজের চোখে মিলিয়ে নিন।

তবে ফেরতের চার্জ কমানোর সবচেয়ে সস্তা কাজটা করতে হয় পার্সেল পাঠানোর আগেই। কাস্টমারের নম্বরে আগের পার্সেলগুলো ডেলিভারি হয়েছিল নাকি ফেরত গিয়েছিল, সেটা দেখে নিলে ১৮৭.৫০ টাকার ভয়টা অনেকখানি কমে।

পাঠানোর আগে কাস্টমারের নম্বরটা ফ্রিতে চেক করুননম্বর দিলেই আগের ডেলিভারি আর ফেরতের হিসাব

টাকা কবে আসে, কোথায় দেখবেন?

টাকা কবে আসবে, এখানেও Carrybee-র দুই জায়গার কথা মেলে না। মার্চেন্ট টার্মসে লেখা, ওরা সপ্তাহে পাঁচ দিন টাকা দেয়, প্রতিটা কর্মদিবসে, COD-র টাকা থেকে সার্ভিস ফি কেটে। আর Google Play-র বিবরণে লেখা, ইনভয়েস তৈরির পর প্রতি ৬ কর্মদিবসে একবার পেমেন্ট আসে, ব্যাংকের ছুটির দিন বাদে।

এই দুই কথার মাঝে আপনার স্টক কেনার টাকা ঝুলে আছে। একটা উদাহরণ ধরুন। আপনার দিনে গড়ে ১৫টা পার্সেল ডেলিভারি হয়, আর প্রতিটায় কাস্টমার গড়ে ১,০০০ টাকা দেন। টাকা প্রতি কর্মদিবসে এলে Carrybee-র কাছে যেকোনো সময় মোটামুটি এক-দুই দিনের টাকা থাকে, মানে ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। আর ৬ কর্মদিবস পর পর এলে সেটা এক লাখ টাকার কাছাকাছি চলে যেতে পারে। ওই টাকাটা দিয়েই আপনার পরের সপ্তাহের মাল কেনার কথা, আর অ্যাডের ডলার কেনার কথা।

দুই সারির ছক, এক সারিতে বারোটা কর্মদিবসের প্রতিদিন টাকা আসার টিক, আরেক সারিতে ছয় কর্মদিবস পর পর একটা করে টিক, নিচে Carrybee-র কাছে আটকে থাকা টাকা ১৫ থেকে ৩০ হাজার বনাম প্রায় ১ লাখ
প্রতিদিন না ছয় দিনে একবার, এই পার্থক্যেই পরের সপ্তাহের মাল কেনার টাকা আটকে যায়

তাই KAM-এর কাছে আগে লিখিত জেনে নিন আপনার পেমেন্ট সাইকেল কী। তারপর প্রথম দুই-তিন সপ্তাহ খাতায় টুকে রাখুন কোন দিনের ডেলিভারির টাকা কোন দিন এলো। কাগজের কথা আর বাস্তবের মধ্যে পার্থক্য থাকলে সেটা এভাবেই ধরা পড়ে। টাকা আটকে থাকলে স্টক আর অ্যাড কীভাবে চালাবেন, সেই পুরো হিসাব আছে ক্যাশ অন ডেলিভারির ক্যাশ ফ্লো নিয়ে এই লেখায়।

টাকার হিসাব দেখার জায়গা দুটো। Google Play-র বিবরণ অনুযায়ী অ্যাপেই পেমেন্টের তথ্য দেখা যায়। আর টার্মস অনুযায়ী প্রতিবার টাকা পাঠানোর দিনই রেজিস্টার্ড ইমেইলে পেমেন্ট স্টেটমেন্ট যায়। প্রতিটা স্টেটমেন্ট হাতে এলে নিজের ডেলিভারি হওয়া পার্সেলের লিস্টের সাথে মেলান। একটা পার্সেলের টাকা বাদ পড়লে সেটা সেদিনই ধরুন, কারণ অভিযোগ জানানোর সময় সীমিত, সেটা নিচের অংশে বলছি।

হাব, হেল্পলাইন আর সমস্যা হলে কোথায় জানাবেন?

Carrybee-র ওয়েবসাইটে হাব বা অফিসের কোনো পাবলিক লিস্ট আমরা পাইনি। সাধারণত এটা লাগেও না, কারণ রাইডার আপনার ঠিকানা থেকেই পার্সেল তুলে নেন। কোনো পার্সেল কোনো হাবে আটকে আছে মনে হলে, বা নিজে গিয়ে পার্সেল দিতে চাইলে, KAM-কে জিজ্ঞেস করুন কাছের হাব কোথায়।

যোগাযোগের নম্বরগুলো এক জায়গায় রেখে দিন। ওয়েবসাইট আর টার্মসে হেল্পলাইন দেওয়া আছে 09613555111। ওয়েবসাইটে WhatsApp নম্বর আছে +8801701208118, আর ফেসবুক পেজ carrybee.express। carrybee.com/contact-us পেজে একটা মেসেজ পাঠানোর ফর্মও আছে।

ডেলিভারির নিয়মটাও জেনে রাখুন। টার্মস অনুযায়ী Carrybee কাস্টমারের কাছে সর্বোচ্চ তিনবার ডেলিভারির চেষ্টা করে। তিনবারেও না নিলে পার্সেলটা ফেরতের পথে চলে আসে। Google Play-র বিবরণে লেখা আছে, কোনো পার্সেল ফেরত পাঠানোর আগে মার্চেন্টকে আলাদা করে জানানো হয়। এই নোটিফিকেশনটা হেলায় ফেলবেন না। তখনই কাস্টমারকে নিজে একটা ফোন দিন। অনেক সময় দেখা যায় কাস্টমার শুধু রাইডারের ফোন ধরতে পারেননি, আপনার এক ফোনেই পার্সেলটা বেঁচে যায়, সাথে ওপরের রংপুরের উদাহরণের ১৮৭.৫০ টাকাও।

পার্সেল হারালে বা ভেঙে গেলে টার্মসের তিনটা শর্ত মাথায় রাখুন। অভিযোগ জানাতে হবে KAM, হেল্পলাইন বা contact-us পেজ দিয়ে, Carrybee পার্সেলটা আপনার কাছ থেকে নেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে। ক্ষতিপূরণ পাবেন ইনভয়েসের দাম, জিনিসটার বাজারদাম আর ১০,০০০ টাকা, এই তিনটার মধ্যে যেটা সবচেয়ে কম। আর ক্লেইমের সাথে পার্সেল খোলার ভিডিও লাগবে।

একজন লোক টেবিলে মোবাইল দাঁড় করিয়ে ভিডিও চালু রেখে ফেরত আসা একটা পার্সেল কাঁচি দিয়ে খুলছেন, পার্সেলের লেবেল ক্যামেরার দিকে ফেরানো
লেবেলসহ পুরো খোলাটা এক টানা ভিডিওতে রাখুন

Carrybee কার জন্য ভালো, কার জন্য না?

যাঁরা একটা কুরিয়ারের ওপর পুরো ব্যবসা দাঁড় করিয়ে রেখেছেন, তাঁদের জন্য Carrybee দ্বিতীয় কুরিয়ার হিসেবে ভালো একটা অপশন। ঈদের ভিড়ে বা কোনো কারণে মূল কুরিয়ারের পিকআপ বন্ধ থাকলে পার্সেলগুলো বসে থাকে না। যাঁর দুটো দোকান বা দোকান আর গুদাম আলাদা, তাঁর জন্য প্রতিটা জায়গা থেকে পিকআপের সুবিধাটা কাজের। আর নতুন সেলার যিনি কুরিয়ারের কারও সাথে সরাসরি কথা বলার মানুষ খুঁজছেন, তাঁর জন্য প্রতিটা মার্চেন্টকে KAM দেওয়ার কথাটা বড় ভরসা, যদি সেটা সত্যিই পান।

কার জন্য এখনই না? যাঁর হাতে নগদ টাকা খুব টানা, আর যিনি প্রতিদিনের ডেলিভারির টাকা দিয়েই পরের দিনের মাল কেনেন, তিনি পেমেন্ট সাইকেলটা লিখিত না জেনে মূল কুরিয়ার বদলাবেন না। আবার যিনি চার্জের পুরো লিস্ট ওয়েবসাইটে লেখা না দেখলে স্বস্তি পান না, তাঁকে মেনে নিতে হবে যে Carrybee-র COD আর ফেরতের চার্জ জানতে ফোন করে কথা বলতেই হবে।

প্যাক করা পার্সেলের দুটো স্তূপের ড্রয়িং, বড় স্তূপটা মূল কুরিয়ারের আর ছোট স্তূপটা নতুন কুরিয়ারে প্রথম মাসে ২০ থেকে ৩০টা পার্সেল টেস্টের, পাশে মাস শেষে মেলানোর চারটা জিনিসের লিস্ট
একবারে সব না, প্রথম মাসে অল্প কিছু পার্সেল দিয়ে নতুন কুরিয়ার টেস্ট করুন

একবারে পুরো ব্যবসা নতুন কুরিয়ারে সরাবেন না। প্রথম মাসে ২০ থেকে ৩০টা পার্সেল পাঠান, ঢাকার ভেতরে আর বাইরে দুই রকমই। তারপর দেখুন কয়দিনে পৌঁছাল, কয়টা ফেরত এলো, ফেরতে কত কাটল আর টাকা কবে এলো। একটা সাধারণ শিটে দুই কুরিয়ারের পার্সেল পাশাপাশি লিখে কীভাবে মেলাবেন, সেই পুরো নিয়মটা ওপরে বলা কুরিয়ার তুলনার লেখাতেই আছে।

আজকের কাজ তিনটা। একাউন্টটা খুলুন আর পেমেন্টের তথ্য দুবার মিলিয়ে বসান। KAM-কে ওপরের চারটা প্রশ্ন করে উত্তর লিখিত নিন। তারপর প্রথম পার্সেলটা পাঠিয়ে carrybee.com/track-এ নিজে চোখ রাখুন। প্রথম ডেলিভারির টাকাটা যেদিন একাউন্টে ঢুকবে, সেদিন বুঝবেন ব্যাকআপ কুরিয়ার থাকার স্বস্তিটা আসলে কেমন।

সাধারণ প্রশ্ন

Carrybee মার্চেন্ট একাউন্ট খুলতে কি ট্রেড লাইসেন্স বা NID লাগে?

Carrybee-র রেজিস্ট্রেশন ফর্মে ট্রেড লাইসেন্স বা NID-র কোনো ঘর নেই, শুধু নিজের নাম, মোবাইল নম্বর আর ব্যবসার নাম চায়। নম্বরে আসা ৪ সংখ্যার OTP বসালেই একাউন্ট খোলে। পরে Carrybee-র লোক কোনো কাগজ চাইলে দিতে হতে পারে, তাই NID-র ছবি হাতের কাছে রাখুন।

Carrybee-তে ঢাকার ভেতরে ডেলিভারি চার্জ কত?

অক্টোবর ২০২৬-এ carrybee.com-এর ক্যালকুলেটরে ঢাকা থেকে ঢাকায় আধা কেজির পার্সেলে ৬০ টাকা আর ১ কেজিতে ৭০ টাকা আসে। ঢাকা থেকে অন্য জেলায় একই ওজনে আসে ১০৫ আর ১২৫ টাকা। ক্যালকুলেটরে COD চার্জ আর VAT আলাদা করে দেখানো নেই, তাই আপনার একাউন্টে আসল রেট কত সেটা প্যানেলে বা আপনার KAM-এর কাছে মিলিয়ে নিন।

Carrybee থেকে COD-র টাকা কবে পাওয়া যায়?

Carrybee-র মার্চেন্ট টার্মসে লেখা আছে, প্রতিটা কর্মদিবসে টাকা পাঠানো হয়, সপ্তাহে পাঁচ দিন। কিন্তু Google Play-তে ওদের অ্যাপের বিবরণে লেখা, ইনভয়েস তৈরির পর প্রতি ৬ কর্মদিবসে একবার পেমেন্ট। আপনার একাউন্টে কোনটা খাটবে, সেটা প্রথম পার্সেলের আগেই লিখিতভাবে জেনে নিন।

Carrybee merchant login কীভাবে করব?

merchant.carrybee.com/login পেজে গিয়ে রেজিস্ট্রেশনের মোবাইল নম্বর আর পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন, Carrybee-র FAQ-তে এভাবেই লেখা আছে। মোবাইলে চালাতে চাইলে Google Play বা App Store থেকে CarryBee Merchant অ্যাপটা নামিয়ে একই নম্বর আর পাসওয়ার্ড দিন। পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে লগইন পেজ থেকেই নতুন পাসওয়ার্ড সেট করার অপশন আছে।

Carrybee হেল্পলাইন নম্বর কত?

Carrybee-র ওয়েবসাইট আর মার্চেন্ট টার্মসে হেল্পলাইন নম্বর দেওয়া আছে 09613555111। ওয়েবসাইটে একটা WhatsApp নম্বরও আছে, +8801701208118, আর ফেসবুক পেজ carrybee.express। কোনো পার্সেলের অভিযোগ হলে KAM, হেল্পলাইন বা carrybee.com/contact-us ফর্মে জানান, পার্সেল Carrybee-র হাতে যাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে।

Carrybee-তে পার্সেল হারালে বা ভাঙলে কত টাকা পাওয়া যায়?

মার্চেন্ট টার্মস অনুযায়ী ইনভয়েসের দাম, জিনিসটার বাজারদাম আর ১০,০০০ টাকা, এই তিনটার মধ্যে যেটা সবচেয়ে কম, তার বেশি পাবেন না। ক্লেইমের সাথে পার্সেল খোলার ভিডিও দিতে হয়, ভিডিও না থাকলে ক্লেইম বাতিল। আর কাচ বা তরল জিনিস ঠিকমতো বাবল র‍্যাপে না মুড়লে ভাঙার দায় Carrybee নেয় না।

#Carrybee#ক্যারিবি কুরিয়ার#Carrybee merchant account#Carrybee merchant login#কুরিয়ার চার্জ#ক্যাশ অন ডেলিভারি

আরও পড়ুন

হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল না গ্রুপ? পুরনো কাস্টমারকে নতুন মালের খবর দিন

নতুন কালেকশনের খবর পুরনো কাস্টমারকে দিতে চান, কিন্তু চ্যানেল খুলবেন, গ্রুপ, না স্ট্যাটাস? কে কার নম্বর দেখে, কে উত্তর দিতে পারে, চ্যানেল খোলার ধাপ, কী পোস্ট দেবেন, গ্রুপের নিয়ম আর ঝুঁকি, আর এক মাসে কোনটায় কত সময় যায়, হিসাবসহ।

·১১ মিনিটে পড়া যায়

শার্ট, প্যান্ট আর টি-শার্টের সাইজ চার্ট বানাবেন যেভাবে, ফেরত কমবে

সাপ্লায়ারের ট্যাগে M লেখা, অথচ কাস্টমার বলেন টাইট। টি-শার্ট, শার্ট আর প্যান্ট টেবিলে বিছিয়ে ফিতা দিয়ে মাপার নিয়ম, ইঞ্চিতে নিজের সাইজ চার্ট বানানো, কাস্টমারকে নিজের শার্ট মেপে সাইজ বাছতে শেখানো, আর একটা ভুল সাইজে কত টাকা যায়, হিসাবসহ।

·১১ মিনিটে পড়া যায়

প্রোডাক্ট ক্যাটালগ ও প্রাইস লিস্ট বানানোর নিয়ম, পাইকার আর অফিসের জন্য

পাইকার, রিসেলার বা অফিসের লোক বলছেন "ক্যাটালগ আর রেট দেন"? প্রতিটা প্রোডাক্টে কী লিখবেন, খুচরা আর পাইকারি দাম কেন আলাদা ফাইলে, পরিমাণ ধরে দামের ধাপ টাকায়, PDF না লিংক, আর দাম বদলালে পুরনো কপি থামাবেন কীভাবে।

·১১ মিনিটে পড়া যায়