আপসেলিং এবং ক্রস সেলিং কি, নতুন অ্যাড ছাড়াই এক অর্ডারে বেশি লাভ
একই পার্সেলে দ্বিতীয় জিনিসটা গেলে তার জন্য নতুন অ্যাডের টাকা লাগে না, কুরিয়ার চার্জও সাধারণত একই থাকে। আপসেলিং আর ক্রস সেলিং কী, তাতে লাভ টাকায় কত বাড়ে, কনফার্ম কলে ঠিক কী বলবেন আর কখন একদম চাপ দেবেন না, সেটা এখানে উদাহরণ ধরে দেখানো হলো।

এই লেখায় যা আছে
- আপসেলিং এবং ক্রস সেলিং কি, একটা উদাহরণে
- এক পার্সেলে দুটো জিনিস গেলে লাভ বেশি কেন, টাকায়
- অর্ডার ফর্মে ১, ২, ৩ প্যাকের অফার সাজাবেন যেভাবে
- কনফার্ম কলে একটা জিনিস যোগের কথা কীভাবে বলবেন?
- "এত টাকার বেশি অর্ডারে ডেলিভারি ফ্রি", অঙ্কটা বের করবেন যেভাবে
- কোন প্রোডাক্টের সাথে কোনটা মানায়?
- কখন আপসেল করবেন না?
- আপসেল কাজ করছে কি না, কোন সংখ্যা দেখবেন?
- আজ কোথা থেকে শুরু করবেন
আপসেলিং এবং ক্রস সেলিং দুটোই একই অর্ডারকে বড় করার উপায়। আপসেলিং মানে কাস্টমার যে জিনিসটা কিনছেন, তাঁকে তার বড় প্যাক বা একটু ভালো মডেলটা নিতে বলা, যেমন এক বোতলের জায়গায় দুই বোতল। ক্রস সেলিং মানে সাথে কাজে লাগে এমন আরেকটা জিনিস যোগ করতে বলা, যেমন স্মার্টওয়াচের সাথে একটা বাড়তি স্ট্র্যাপ। দুটোতেই জিনিসগুলো যায় একটা পার্সেলে, আর অর্ডারটা আসে একটা অ্যাড থেকেই।
এটা কেন এত জরুরি, যিনি অ্যাড চালান তিনি ভালো জানেন। ধরুন রাত সাড়ে দশটায় Ads Manager খুলে দেখলেন, আজ দুই হাজার টাকা খরচ করে আটটা অর্ডার এসেছে, আর তার একটা-দুটো হয়তো দরজা থেকে ফেরতও আসবে। মনটা খচখচ করে, কারণ জানেন এই টাকা আর ফিরবে না। প্রতিটা অর্ডারের পেছনে অ্যাডের টাকা গেছে, প্রতিটা পার্সেলে প্যাকেট আর কুরিয়ার চার্জ যাবে। এই খরচগুলো আসে পার্সেল ধরে, পার্সেলের ভেতরে কয়টা জিনিস আছে সেটা দেখে না। তাই একই পার্সেলে দ্বিতীয় জিনিসটা গেলে তার দামের বড় অংশটাই আপনার লাভ হয়ে থাকে।
নিচে আগে টাকার হিসাবে দেখাব ফারাকটা কত বড়। তারপর দেখাব অর্ডার ফর্মের প্যাকে, কনফার্ম কলে আর ফ্রি ডেলিভারির সীমায় কীভাবে অর্ডার বড় করা যায়। কখন এসব একদম করবেন না, সেটাও বলব, কারণ ভুল সময়ে আপসেল করলে বাড়তি জিনিস তো দূরের কথা, আসল অর্ডারটাই হারাতে পারেন।
আপসেলিং এবং ক্রস সেলিং কি, একটা উদাহরণে
ধরুন আপনার পেজ থেকে একজন কাস্টমার ১,৪৯০ টাকার একটা স্মার্টওয়াচ অর্ডার করেছেন। তাঁকে আপনি তিন রকম কথা বলতে পারেন।
একটা হলো আপসেল। "ভাই, এই ঘড়ির পাশে আরেকটা মডেল আছে যেটায় ফোনের কলও ধরা যায়, দাম ১,৯৯০ টাকা।" এখানে কাস্টমার একই জিনিস কিনছেন, শুধু বড় বা ভালোটা। মধু, তেল বা চায়ের মতো জিনিসে আপসেল মানে সাধারণত বড় প্যাক, এক কেজির জায়গায় দুই কেজি।
আরেকটা ক্রস সেল। "ঘড়ির সাথে একটা বাড়তি স্ট্র্যাপ নিতে পারেন, ২৯০ টাকা, অফিসে কালোটা আর বাইরে বাদামিটা পরলেন।" এখানে জিনিসটা আলাদা, কিন্তু প্রথম জিনিসের সাথেই কাজে লাগে। সুপারশপের ক্যাশ কাউন্টারের পাশে যে চকলেট আর চুইংগাম সাজানো থাকে, সেটাও ক্রস সেলিং।
আর আছে কম্বো অফার। "ঘড়ি আর স্ট্র্যাপ একসাথে নিলে ১,৭২০ টাকা।" কম্বো আসলে ক্রস সেলই, শুধু দামটা আগে থেকে ঠিক করা, তাই কাস্টমারকে আলাদা করে যোগ-বিয়োগ করতে হয় না।
রিপিট সেলের সাথে এটাকে গুলিয়ে ফেলবেন না। রিপিট সেল হলো পার্সেল পৌঁছানোর পরে একই কাস্টমারের কাছ থেকে নতুন একটা অর্ডার আনা, তাতে আরেকটা পার্সেল যায়। সেই কাজটা কীভাবে করবেন, সেটা পুরনো কাস্টমারকে আবার বিক্রির লেখায় পুরোটা আছে। এই লেখার বিষয় এর আগের ধাপ, মানে পার্সেল বের হওয়ার আগেই অর্ডারটাকে বড় করা।
আর একটা কথা শুরুতেই পরিষ্কার থাকুক। আপসেল কাস্টমারকে ঠকানো না, যদি জিনিসটা সত্যিই তাঁর কাজে লাগে আর দামটা আপনি খোলাখুলি বলেন। যে জিনিস তাঁর লাগবে না, সেটা গছিয়ে দিলে আজ ২০০ টাকা বেশি পাবেন, কিন্তু কাস্টমারটাকে হারাবেন।
এক পার্সেলে দুটো জিনিস গেলে লাভ বেশি কেন, টাকায়
নিচের সংখ্যাগুলো একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। নিজের দাম আর খরচ বসিয়ে একবার মিলিয়ে নিন।
ধরুন স্মার্টওয়াচটা আপনি কেনেন ৯০০ টাকায়, আর বক্স-প্যাকেটে যায় ৩০ টাকা। ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার দেন, আর কুরিয়ার ঠিক সেটাই কেটে রাখে, তাই ওটা হিসাবের বাইরে রাখলাম। গত মাসের হিসাবে প্রতিটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডারের পেছনে অ্যাডে গেছে ২৫০ টাকা। Steadfast-এর ওয়েবসাইটের শর্তে লেখা আছে, ডেলিভারি চার্জ বাদ দিয়ে বাকি টাকার ১% COD চার্জ কাটে, তাই ১,৪৯০ টাকায় যায় প্রায় ১৫ টাকা। তাহলে একটা ঘড়ির অর্ডারে আপনার হাতে থাকে ১,৪৯০ − ৯০০ − ৩০ − ২৫০ − ১৫ = ২৯৫ টাকা।
এবার একই কাস্টমার কনফার্ম কলে ২৯০ টাকার একটা বাড়তি স্ট্র্যাপ নিলেন, যেটা আপনি কেনেন ১২০ টাকায়। স্ট্র্যাপটা ঘড়ির বক্সেই ঢুকে যায়, তাই প্যাকেটের খরচ বাড়ল না। অ্যাডের টাকা আগেই খরচ হয়ে গেছে, এই স্ট্র্যাপের জন্য নতুন করে এক টাকাও লাগল না। অক্টোবর ২০২৬-এ Steadfast-এর রেট ক্যালকুলেটরে চার্জ বদলায় ওজনের ধাপে, আধা কেজি পর্যন্ত এক রেট আর ১ কেজি পর্যন্ত আরেক রেট। ঘড়ি আর স্ট্র্যাপ মিলেও ওজন আধা কেজির নিচে থাকে, তাই কুরিয়ার চার্জ একই রইল। বাড়তি খরচ শুধু স্ট্র্যাপের কেনা দাম ১২০ টাকা আর COD-এর প্রায় ৩ টাকা। স্ট্র্যাপ থেকে লাভ ২৯০ − ১২০ − ৩ = ১৬৭ টাকা।
পুরো ছবিটা এবার দেখুন। অর্ডারের টাকা বাড়ল ২৯০, মানে মোটামুটি ২০%। কিন্তু লাভ ২৯৫ টাকা থেকে হলো ৪৬২ টাকা, বাড়ল অর্ধেকেরও বেশি। এই ১৬৭ টাকা নতুন একটা অর্ডার থেকে আনতে হলে আরেকটা অ্যাডের টাকা, আরেকটা পার্সেল, আরেকটা কনফার্ম কল লাগত, আর সেই পার্সেল ফেরত আসার ঝুঁকিও থাকত। এখানে লেগেছে শুধু ফোনে বলা দুইটা লাইন।
হিসাবটা খাটে দুইটা শর্তে। দ্বিতীয় জিনিসটা একই পার্সেলে যেতে হবে, আর ওজনের ধাপ পার হওয়া চলবে না। Steadfast-এর ক্যালকুলেটরে আধা কেজি পার হলে চার্জ এক ধাপ বাড়ে, আর ১ কেজির পরে প্রতি কেজিতে ২০ টাকা যোগ হয়। বাড়তি জিনিসে ওজন ধাপ পার হলে সেই টাকাটা বাড়তি খরচে ধরবেন। আর নিজের প্রোডাক্টে ডেলিভারিপ্রতি অ্যাড খরচ কত, সেটা না জানলে প্রোডাক্টের দাম নির্ধারণের লেখায় যেভাবে হিসাব দেখানো আছে, সেভাবে আগে একবার বের করে নিন। এই সংখ্যাটা জানলেই বুঝবেন আপসেলে আপনি কতটা ছাড় দিতে পারেন।
অর্ডার ফর্মে ১, ২, ৩ প্যাকের অফার সাজাবেন যেভাবে
অর্ডার ফর্মই সেই জায়গা যেখানে কাস্টমার নিজে ঠিক করেন কয়টা নেবেন। তাই আপসেলের প্রথম কাজটা এখানেই হয়, ফোন ধরার আগেই। ফর্মে প্যাক কীভাবে দেখাবেন, কার্ডে কী লিখবেন আর কয়টা প্যাক রাখবেন, সেটা অর্ডার ফর্ম বানানোর লেখায় বিস্তারিত আছে। এখানে কথা শুধু একটা প্রশ্ন নিয়ে, প্রতিটা প্যাকের দাম কত রাখলে লাভ সত্যিই বাড়ে।
নিয়মটা এক লাইনের। বাড়তি প্রতিটা ইউনিটে যত টাকা ছাড় দেবেন, সেটা রাখুন একটা অর্ডারের অ্যাড খরচ আর প্যাকেটের খরচের যোগফলের চেয়ে কম। কারণ দ্বিতীয় বোতলটা নতুন অর্ডার হয়ে এলে এই দুটো খরচ আবার লাগত। একই পার্সেলে এলে লাগছে না, তাই বাঁচা টাকার একটা অংশ কাস্টমারকে ছাড় হিসেবে দিতে পারেন, পুরোটা না।
একটা চুলের তেলের হিসাব ধরুন। এখানেও সংখ্যাগুলো উদাহরণ। ২০০ মিলির এক বোতল বেচেন ৫৫০ টাকায়, কেনা দাম ২২০ টাকা, প্যাকেটে যায় ২৫ টাকা, আর ডেলিভারিপ্রতি অ্যাড খরচ ২০০ টাকা। ঢাকার বাইরের পার্সেল ধরছি, যেখানে Steadfast-এর রেট ক্যালকুলেটরে অক্টোবর ২০২৬-এ আধা কেজি থেকে ১ কেজি পর্যন্ত পার্সেলের চার্জ ১৩৫ টাকা। তিন বোতল মিলে ওজন আধা কেজির বেশি কিন্তু ১ কেজির নিচে থাকছে ধরে নিচ্ছি।
| প্যাক | কাস্টমার দেন | আপনার খরচ | আপনার লাভ |
|---|---|---|---|
| ১ বোতল | ৫৫০ টাকা, ডেলিভারি চার্জ আলাদা | ৪৫০ টাকা | ১০০ টাকা |
| ২ বোতল | ১,০০০ টাকা, ডেলিভারি চার্জ আলাদা | ৬৭৫ টাকা | ৩২৫ টাকা |
| ৩ বোতল, ডেলিভারি ফ্রি | ১,৪০০ টাকা | ১,০৩৩ টাকা | ৩৬৭ টাকা |
খরচের ঘরে আছে তেলের কেনা দাম, প্যাকেট, অ্যাডের ২০০ টাকা আর ১% COD চার্জ। তিন বোতলের ঘরে এর সাথে আছে কুরিয়ারের ১৩৫ টাকা, কারণ ডেলিভারি ফ্রি দিলে ওটা আপনার পকেট থেকে যায়।
টেবিলটা খেয়াল করুন। দুই বোতলে কাস্টমার পুরো ১০০ টাকা ছাড় পেলেন, তবু আপনার লাভ ১০০ থেকে হলো ৩২৫ টাকা, তিন গুণেরও বেশি। কারণ ১০০ টাকার ছাড় রইল অ্যাড আর প্যাকেটের ২২৫ টাকার অনেক নিচে। কিন্তু তিন বোতলে গিয়ে লাভ বাড়ল মাত্র ৪২ টাকা, কারণ ফ্রি ডেলিভারির ১৩৫ টাকা বাড়তি বোতলের লাভের বেশিরভাগটা খেয়ে ফেলেছে। এখান থেকে দুইটা কাজের কথা বের হয়। মাঝের প্যাকটাই আপনার আসল লাভের প্যাক, কোণের ব্যাজটা তাই ওটাতেই দিন। আর সবচেয়ে বড় প্যাকে ফ্রি ডেলিভারি জুড়ে দেওয়ার আগে এভাবে একবার হিসাব করে নিন। নয়তো দেখবেন বড় প্যাক বেশি বিক্রি হচ্ছে, অথচ মাস শেষে টাকা বাড়েনি।

কনফার্ম কলে একটা জিনিস যোগের কথা কীভাবে বলবেন?
ক্রস সেলের সবচেয়ে ভালো সময় হলো কনফার্ম কল। কাস্টমার কেনার সিদ্ধান্ত এর মধ্যেই নিয়ে ফেলেছেন, এখন আপনার সাথে কথা বলছেন, আর পার্সেল এখনো বের হয়নি। এই তিনটা জিনিস একসাথে আর কখনো পাবেন না।
কিন্তু কাজটার একটা সিরিয়াল আছে, আর সেটা উল্টে গেলে বিপদ। আগে অর্ডারটা পুরো কনফার্ম করুন, মানে প্রোডাক্ট, মোট টাকা আর ঠিকানা। কাস্টমার "হ্যাঁ, ঠিক আছে" বলার পরে তবেই অফারের কথা তুলুন। শুরুতেই অফার বললে কাস্টমার মনে করেন ফোনটা বিক্রির জন্য, আর অনেকে তখন আসল অর্ডারটা নিয়েই দ্বিধায় পড়ে যান।
কনফার্ম হয়ে গেলে এভাবে বলতে পারেন।
"ভাই, অর্ডারটা কনফার্ম করে দিলাম, কাল কুরিয়ারে যাবে। আর একটা ছোট কথা বলি? ঘড়িটার সাথে কালো আর বাদামি রঙের বাড়তি স্ট্র্যাপ আছে, ২৯০ টাকা। একই পার্সেলে চলে যাবে, ডেলিভারি চার্জ আলাদা লাগবে না। একটা দিয়ে দিব?"
প্রতিটা অংশ কেন আছে, সেটা বুঝে নিন, তাহলে নিজের প্রোডাক্টে নিজের মতো বলতে পারবেন। "একটা ছোট কথা বলি?" দিয়ে আপনি কথা বলার অনুমতি চাইছেন, এতে কাস্টমার চাপ বোধ করেন না। অফার থাকছে একটাই, কারণ তিনটা জিনিসের লিস্ট শুনলে মানুষ কোনোটাই বেছে নিতে পারেন না। দামটা বলছেন সোজাসুজি, যাতে পরে দরজায় অবাক হতে না হয়। আর "একই পার্সেলে, চার্জ আলাদা লাগবে না" হলো কাস্টমারের দিক থেকে আসল সুবিধা, পরে আলাদা কিনলে তাঁকে আবার ডেলিভারি চার্জ দিতে হতো।
কাস্টমার রাজি হলে নতুন মোট টাকাটা মুখে বলে দিন। "ঠিক আছে ভাই, তাহলে ঘড়ি ১,৪৯০ আর স্ট্র্যাপ ২৯০, ডেলিভারি চার্জসহ মোট এত টাকা। কুরিয়ার এই টাকাটাই নেবে।" এটা না বললে দরজায় কুরিয়ার যখন বেশি টাকা চায়, কাস্টমার ভাবেন ভুল হয়েছে বা ঠকানো হচ্ছে, আর পুরো পার্সেলটাই ফেরত দেন। রাজি না হলে বলুন, "আচ্ছা ভাই, কোনো সমস্যা নেই, ঘড়িটা কাল পাঠিয়ে দিচ্ছি।" ব্যস, ওখানেই শেষ। দ্বিতীয়বার জিজ্ঞেস করবেন না।

হ্যাঁ বলার পরে আসল কাজটা হলো অর্ডারটা ঠিক করা, কুরিয়ারে এন্ট্রি দেওয়ার আগেই। এজন্য কনফার্ম কলগুলো সারুন পার্সেল বুক করার আগে, পরে না। শিটে বা খাতায় চালালে অর্ডারের লাইনে জিনিস আর মোট টাকা দুটোই বদলান, আর স্টকের হিসাবেও একটা স্ট্র্যাপ কমান।
WinningSeller-এ অর্ডারটা কুরিয়ারে যাওয়ার আগ পর্যন্ত "অর্ডার এডিট" দিয়ে প্রোডাক্ট, দাম, ডিসকাউন্ট আর ডেলিভারি চার্জ বদলানো যায়। স্ট্র্যাপ যোগ করলে মোট টাকা নতুন করে হিসাব হয়, আর স্টক থেকে শুধু বাড়তি জিনিসটাই কমে। কে কী বদলালেন সেটা অর্ডারের টাইমলাইনে থেকে যায়, তাই টিমের কেউ ফোনে কী যোগ করলেন পরে দেখে নেওয়া যায়। পার্সেল কুরিয়ারে বুক হয়ে গেলে অর্ডার আর বদলানো যায় না, তখন শুধু নোট লেখা যায়।
"এত টাকার বেশি অর্ডারে ডেলিভারি ফ্রি", অঙ্কটা বের করবেন যেভাবে
ফ্রি ডেলিভারির সীমা হলো ক্রস সেলের সবচেয়ে চুপচাপ উপায়। আপনাকে কিছু বলতে হয় না, কাস্টমার নিজেই ভাবেন, "আর আড়াইশো টাকার কিছু নিলেই তো ডেলিভারি চার্জটা বাঁচে।" ফ্রি ডেলিভারি আপনার লাভ থেকে কতটা খায়, সেটা দামের লেখায় আলাদা করে দেখানো আছে। এখানে শুধু সীমার অঙ্কটা কীভাবে বের করবেন, সেই কথা।
প্রথমে গত মাসের ডেলিভারি হওয়া অর্ডারগুলোর টাকার অঙ্ক পাশাপাশি লিখুন, পঞ্চাশটা হলেও চলবে। দেখুন বেশিরভাগ অর্ডার কোন অঙ্কের আশেপাশে জমে আছে। এরপর আপনার সবচেয়ে বেশি চলা ছোট জিনিসটা ধরুন, যেটা প্রায় যে কেউ সাথে নিতে পারেন। সীমাটা রাখুন বেশিরভাগ অর্ডারের অঙ্ক আর সেই ছোট জিনিসের দাম যোগ করে।
একটা কসমেটিকসের দোকান ধরুন। সংখ্যাগুলো আবারও উদাহরণ। বেশিরভাগ অর্ডার আসে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকার মধ্যে। সবচেয়ে চলা ছোট জিনিস একটা লিপ বাম, দাম ২৫০ টাকা, কেনা দাম ১১০ টাকা। তাহলে সীমা দাঁড়ায় ৮৫০ যোগ ২৫০, মানে ১,১০০ টাকা। এবার মিলিয়ে দেখুন। লিপ বাম থেকে লাভ প্রায় ১৩৮ টাকা। ঢাকার বাইরের পার্সেলে Steadfast-এর রেটে আপনি কুরিয়ারকে দেবেন আধা কেজির নিচে ১১৫ টাকা, ১ কেজি পর্যন্ত ১৩৫ টাকা। মানে বাড়তি লাভ থেকে চার্জ দেওয়ার পর থাকে মাত্র ৩ থেকে ২৩ টাকা, বাইরের অর্ডারে এই সীমা প্রায় শূন্যে দাঁড়িয়ে আছে। এমন হলে দুইটা পথ আছে। সীমাটা একটু ওপরে, ধরুন ১,২০০ টাকায় তুলুন, অথবা ফ্রি ডেলিভারি দিন শুধু ঢাকার ভেতরে, যেখানে চার্জ কম।
সীমাটা বেশিরভাগ অর্ডারের ঠিক ওপরে রাখার আরেকটা কারণ আছে। যাঁরা এমনিতেই সীমার বেশি টাকার অর্ডার দিতেন, তাঁদের দেওয়া ফ্রি ডেলিভারি আপনার শুধু খরচ, ওখানে কোনো বাড়তি বিক্রি হয়নি। তাই সীমা এত নিচে রাখবেন না যে প্রায় সবাই এমনিতেই সেটা পার হয়ে যান। আবার এত ওপরেও রাখবেন না যে কেউ সেটা ছোঁয়ার চেষ্টাই না করেন। আর সীমার কথাটা দাম যেখানে লেখা ঠিক সেখানেই লিখুন, যাতে কাস্টমার অর্ডার দেওয়ার আগেই দেখেন।
নিজের ওয়েবসাইট থাকলে এই কাজটা WinningSeller-এ কুপন দিয়ে করা যায়। কুপনের সুইচটা আগে নিজে চালু করুন, কারণ শুরুতে ওটা বন্ধ থাকে। তারপর ফ্রি ডেলিভারির একটা কুপন বানিয়ে তাতে সর্বনিম্ন অর্ডার ১,১০০ টাকা বসান। তখন অর্ডার ফর্মে "কুপন কোড" ঘর আসে, আর কোডটা আপনি পেজে বা অ্যাডে লিখে দেন। অর্ডার জমা হওয়ার সময় সিস্টেম নিজে আবার মিলিয়ে দেখে সীমা পার হয়েছে কি না, তাই কেউ ফাঁকি দিয়ে কম টাকায় ফ্রি ডেলিভারি নিতে পারেন না। একটা জিনিস খেয়াল রাখবেন। একই নম্বর থেকে কুপনটা কতবার নেওয়া যাবে, সেটা শুরুতে ১ থাকে, তাই সবসময়ের অফার হলে সংখ্যাটা বাড়িয়ে নিন। বাকি ফিচারগুলো এখানে দেখে নিন।
কোন প্রোডাক্টের সাথে কোনটা মানায়?
ক্রস সেলের জিনিস বাছার সময় নিজেকে চারটা প্রশ্ন করুন। শুরুতেই দেখুন, জিনিসটা কি আসল প্রোডাক্টের সাথেই কাজে লাগে, বা তার পরের ঝামেলাটা মেটায়? খেলনার সাথে ব্যাটারি এমন জিনিস, কারণ ব্যাটারি না থাকলে বাচ্চার খেলনাটা সেদিন চলবেই না।
এরপর দেখুন দামটা আসল প্রোডাক্টের চেয়ে অনেক কম কি না। শুরুতে একটা সহজ নিয়ম ধরে নিতে পারেন, বাড়তি জিনিসের দাম আসল জিনিসের তিন ভাগের এক ভাগের মধ্যে রাখুন। ছোট অঙ্কে হ্যাঁ বলা সহজ, ফোনেও ভেবে দেখার সময় লাগে না। ১,৪৯০ টাকার ঘড়ির সাথে ২৯০ টাকার স্ট্র্যাপ সহজে চলে, কিন্তু ১,২০০ টাকার একটা ব্লুটুথ স্পিকারের কথা তুললে কাস্টমার আসল অর্ডার নিয়েই ভাবতে বসেন।
তারপর ভাবুন, জিনিসটা কি হালকা, আর একই বক্সে ঢুকে যায়? ভারী বা ভাঙার মতো জিনিস হলে ওজনের চার্জ বাড়ে, প্যাকিংও আলাদা লাগে, তখন ওপরের হিসাবটা আর খাটে না। শেষ প্রশ্নটা সবচেয়ে সোজা, জিনিসটা কি এখনই স্টকে আছে? বাড়তি জিনিসের জন্য আসল পার্সেল দুই দিন আটকে থাকলে কাস্টমারের বিরক্তিই বাড়ে।
এই চার প্রশ্নে টিকে যায় এমন কয়েকটা জোড়া দেখুন, নিজের দোকান ধরে মিলিয়ে নিন।
- পাঞ্জাবির সাথে আতর বা টুপি
- শাড়ির সাথে পেটিকোট বা ব্লাউজ পিস
- স্মার্টওয়াচের সাথে বাড়তি স্ট্র্যাপ বা চার্জার
- মোবাইল কভারের সাথে স্ক্রিন প্রটেক্টর
- জুতার সাথে মোজা বা জুতা পরিষ্কারের ছোট কিট
- রিমোট কন্ট্রোল খেলনার সাথে বাড়তি ব্যাটারি
নিজের জোড়া খুঁজতে আপনার পুরনো অর্ডারই সবচেয়ে ভালো জায়গা। গত দুই-তিন মাসে যে অর্ডারগুলোতে কাস্টমার নিজে থেকেই দুইটা জিনিস নিয়েছেন, সেগুলো আলাদা করে দেখুন। কোন জোড়া বারবার আসছে, সেটাই আপনার প্রথম অফার। ইনবক্সের প্রশ্নও কাজে লাগে। "এটার সাথে কী লাগবে?" বা "চার্জার কি সাথে দেন?" এমন প্রশ্ন যত বেশি আসে, সেই জিনিসটা তত ভালো ক্রস সেল।
কখন আপসেল করবেন না?
আপসেল সবসময় লাভ আনে না। কয়েকটা জায়গায় এটা উল্টো ক্ষতি করে, আর সেই ক্ষতিটা বাড়তি বিক্রির চেয়ে অনেক বড়।
কাস্টমারের গলায় দ্বিধা শুনলে সেদিন শুধু অর্ডারটা কনফার্ম করুন। যিনি নিজের অর্ডার নিয়েই দ্বিধায় আছেন, তাঁকে আরেকটা জিনিসের কথা বললে তিনি পুরো অর্ডার বাতিল করার একটা ভদ্র অজুহাত পেয়ে যান। একই কথা খাটে সেই নম্বরে, যার আগের রেকর্ডে ফেরত বেশি। এমন অর্ডারে মোট টাকা বাড়ানো মানে দরজায় ফেরতের ঝুঁকিও বাড়ানো, আর ফেরত এলে বাড়তি জিনিসটার প্যাকেটও নষ্ট হয়। এমন জায়গায় বরং ডেলিভারি চার্জটা অগ্রিম চাওয়ার কথা ভাবুন।
প্রথমবার কেনা ক্যাশ অন ডেলিভারির কাস্টমারের মোট টাকা হুট করে অনেক বাড়াবেন না। তিনি অ্যাডে ৫৫০ টাকা দেখে অর্ডার দিয়েছেন। ফোনে কথায় কথায় অর্ডারটা ১,৮০০ টাকা হয়ে গেলে দরজায় টাকা গোনার সময় অনেকে পিছিয়ে যান। এজন্যই বাড়তি জিনিসের দাম ছোট রাখার কথা ওপরে বলেছি।
পার্সেল কুরিয়ারে চলে গেলে আর কিছু যোগ করতে যাবেন না। বুক হওয়া পার্সেলে জিনিস ঢোকানো আর COD-এর টাকা বদলানো দুটোই ঝামেলার, আর ভুলের সুযোগ বাড়ে। কথাটা তুলে রাখুন পার্সেল পৌঁছানোর পরের ফোনের জন্য। WinningSeller-এর ফলোআপ কলে এক লাইনের একটা অফার লিখে রাখা যায়, আর অফারটা শুধু তাঁদের দেখানো যায় যাঁরা ওই প্রোডাক্টটা আগে কেনেননি। মানে ঘড়ির কাস্টমারকে স্ট্র্যাপের কথা বলার কাজটা ডেলিভারির পরেও হারায় না।
আর আসল প্রোডাক্ট নিয়ে কোনো অভিযোগ ঝুলে থাকলে, যেমন সাইজ ভুল গেছে বা দেরি হচ্ছে, তখন অফারের কথা মুখেও আনবেন না। আগে সমস্যাটা মেটান। কষ্টে থাকা কাস্টমারকে বিক্রির কথা বললে তিনি ভাবেন আপনি শুধু টাকাই চেনেন।
আপসেল কাজ করছে কি না, কোন সংখ্যা দেখবেন?
মাস শেষে চারটা সংখ্যা দেখলেই বুঝবেন আপসেল আপনার টাকা বাড়াচ্ছে, নাকি শুধু কাজ বাড়াচ্ছে। সব হিসাব করবেন শুধু ডেলিভারি হওয়া অর্ডার ধরে, কারণ ফোনে হ্যাঁ বলে দরজায় ফেরত দেওয়া অর্ডার বিক্রি না।
সবার আগে দেখুন গড় অর্ডারের টাকা। মাসে ডেলিভারি হওয়া সব অর্ডারের মোট টাকাকে ডেলিভারি হওয়া অর্ডারের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করুন। ধরুন মাসে ১২০টা অর্ডার ডেলিভারি হলো, মোট ১,৬২,০০০ টাকার। তাহলে গড় অর্ডার ১,৩৫০ টাকা। আপসেল শুরুর আগের মাসের সাথে এই সংখ্যাটা মেলান।
এরপর গুনুন, কয়টা অর্ডারে একের বেশি জিনিস গেছে। ১২০টার মধ্যে ১৮টায় দুই বা তার বেশি জিনিস থাকলে হার ১৫%। এটা মাসে মাসে বাড়লে বুঝবেন প্যাক আর কনফার্ম কলের লাইন কাজ করছে।
কনফার্ম কলের হিসাবটাও রাখুন। কতজনকে অফারটা বলা হলো, আর কতজন হ্যাঁ বললেন। একশো জনকে বলে দুইজন হ্যাঁ বললে অফারটা হয়তো ভুল জিনিসের, বা দামটা বেশি। জিনিসটা বদলে আরেক মাস দেখুন।
শেষের সংখ্যাটাই সবচেয়ে জরুরি। যে অর্ডারে আপসেল হয়েছে, সেগুলোর ফেরতের হার আর বাকি অর্ডারের ফেরতের হার পাশাপাশি রাখুন। আপসেল করা অর্ডার যদি বেশি ফেরত আসে, তাহলে কোথাও চাপ দেওয়া হচ্ছে। হয়তো টিমের কেউ না শোনা পর্যন্ত বলেই যাচ্ছেন, বা দামটা দরজায় গিয়ে অবাক করছে। গড় অর্ডারের টাকা বাড়লেও এই হার খারাপ হলে লাভ আসলে কমছে।
আজ কোথা থেকে শুরু করবেন
আজই সব কিছু করতে হবে না। আপনার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া প্রোডাক্টটা নিন। ওপরের চার প্রশ্ন ধরে তার সাথে মানায় এমন একটা ছোট জিনিস বাছুন, আর কনফার্ম কলের জন্য এক লাইনের অফারটা লিখে ফেলুন। আজকের কনফার্ম কলগুলোতে অর্ডার কনফার্ম হওয়ার পরে শুধু সেই লাইনটা বলুন, আর খাতায় দুইটা দাগ রাখুন, কতজনকে বললেন আর কতজন নিলেন।
এক সপ্তাহ পরে দুই বোতল বা দুই পিসের প্যাকের দামটা ওপরের নিয়মে বসান। এক মাস পরে চারটা সংখ্যা মিলিয়ে দেখুন। আপনি একটাও নতুন অ্যাড চালাননি, অথচ একই অর্ডারগুলো থেকে মাস শেষে হাতে বেশি টাকা থাকছে কি না, সেটাই হবে আসল উত্তর। যেদিন খাতায় দেখবেন অ্যাডের সেই একই টাকায় আগের চেয়ে বেশি লাভ রইল, সেদিন রাতে Ads Manager খুলতে আর ততটা ভয় লাগবে না।
সাধারণ প্রশ্ন
আপসেলিং আর ক্রস সেলিং এর মধ্যে পার্থক্য কী?
আপসেলিং মানে কাস্টমার যা কিনছেন তারই বড় প্যাক বা একটু ভালো মডেল নিতে বলা, যেমন এক বোতলের জায়গায় দুই বোতল। ক্রস সেলিং মানে সাথে কাজে লাগে এমন আলাদা একটা জিনিস যোগ করতে বলা, যেমন ঘড়ির সাথে একটা বাড়তি স্ট্র্যাপ। দুটোর লক্ষ্য একই, যে অর্ডার এসে গেছে সেটাকে একই পার্সেলে বড় করা।
কম্বো অফার মানে কি?
কম্বো অফার মানে দুই বা তার বেশি জিনিস একসাথে, আগে থেকে ঠিক করা এক দামে বিক্রি করা। এটা আসলে ক্রস সেলিং, শুধু কাস্টমারকে আলাদা করে ভাবতে হয় না। কম্বোতে যে ছাড় দেবেন, সেটা রাখবেন অ্যাড আর প্যাকেটের যে খরচ বাঁচে তার চেয়ে কম, না হলে লাভ বাড়ে না।
আপসেল করা কি কাস্টমারকে ঠকানো?
না, যদি জিনিসটা সত্যিই তাঁর কাজে লাগে আর দামটা পরিষ্কার করে বলেন। ঠকানো হয় যখন কাস্টমারের হ্যাঁ ছাড়াই জিনিস যোগ করে দেন, বা যে জিনিস তাঁর দরকার নেই সেটা চাপিয়ে দেন। একবার বলুন, না বললে সেটা মেনে নিন।
কনফার্ম কলে আপসেল করলে কি অর্ডার বাতিল হয়ে যায়?
ভুল সময়ে বা চাপ দিয়ে বললে হতে পারে। তাই আগে অর্ডারটা পুরো কনফার্ম করুন, তারপর একবার মাত্র অফারটা বলুন। কাস্টমারের গলায় দ্বিধা শুনলে সেদিন অফারের কথা তুলবেন না।
পার্সেল কুরিয়ারে চলে গেলে কি নতুন জিনিস যোগ করা যায়?
যোগ করা কঠিন, কারণ বুক হওয়া পার্সেলের ভেতরের জিনিস আর COD-এর টাকা দুটোই বদলাতে হয়, আর তাতে ভুলের সুযোগ বাড়ে। তখন জিনিসটা আলাদা অর্ডারে পাঠান, অথবা পার্সেল পৌঁছানোর পরের ফোনে বলুন। এজন্যই অফারের কথা কনফার্ম কলে, কুরিয়ারে এন্ট্রি দেওয়ার আগে বলা ভালো।
ফ্রি ডেলিভারির সীমা কত টাকা রাখা উচিত?
আপনার বেশিরভাগ অর্ডার যে অঙ্কের আশেপাশে থাকে, তার চেয়ে আপনার সবচেয়ে বেশি চলা ছোট জিনিসটার দাম পরিমাণ ওপরে রাখুন। তারপর মিলিয়ে দেখুন, ওই ছোট জিনিসের লাভ যেন আপনার নিজের পকেট থেকে দেওয়া ডেলিভারি চার্জের চেয়ে বেশি হয়। সবার জন্য একটা অঙ্ক নেই, নিজের গত মাসের অর্ডার দেখে বের করতে হয়।
আরও পড়ুন
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল না গ্রুপ? পুরনো কাস্টমারকে নতুন মালের খবর দিন
নতুন কালেকশনের খবর পুরনো কাস্টমারকে দিতে চান, কিন্তু চ্যানেল খুলবেন, গ্রুপ, না স্ট্যাটাস? কে কার নম্বর দেখে, কে উত্তর দিতে পারে, চ্যানেল খোলার ধাপ, কী পোস্ট দেবেন, গ্রুপের নিয়ম আর ঝুঁকি, আর এক মাসে কোনটায় কত সময় যায়, হিসাবসহ।
শার্ট, প্যান্ট আর টি-শার্টের সাইজ চার্ট বানাবেন যেভাবে, ফেরত কমবে
সাপ্লায়ারের ট্যাগে M লেখা, অথচ কাস্টমার বলেন টাইট। টি-শার্ট, শার্ট আর প্যান্ট টেবিলে বিছিয়ে ফিতা দিয়ে মাপার নিয়ম, ইঞ্চিতে নিজের সাইজ চার্ট বানানো, কাস্টমারকে নিজের শার্ট মেপে সাইজ বাছতে শেখানো, আর একটা ভুল সাইজে কত টাকা যায়, হিসাবসহ।
প্রোডাক্ট ক্যাটালগ ও প্রাইস লিস্ট বানানোর নিয়ম, পাইকার আর অফিসের জন্য
পাইকার, রিসেলার বা অফিসের লোক বলছেন "ক্যাটালগ আর রেট দেন"? প্রতিটা প্রোডাক্টে কী লিখবেন, খুচরা আর পাইকারি দাম কেন আলাদা ফাইলে, পরিমাণ ধরে দামের ধাপ টাকায়, PDF না লিংক, আর দাম বদলালে পুরনো কপি থামাবেন কীভাবে।


